- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট কিছু আইফোনের ক্রেতাদের জন্য অ্যাপলের সঙ্গে ২৫ কোটি ডলারের মামলার মীমাংসা থেকে অর্থ পাওয়ার আবেদন শুরু হয়েছে। সিরির কিছু ঘোষিত সুবিধা সময়মতো না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাটির মীমাংসা অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা প্রতি ফোনের জন্য সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পেতে পারেন। ক্লেইম জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ ডিসেম্বর ২০২৬। মীমাংসার আনুষ্ঠানিক নোটিশ অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৪ থেকে ২৯ মার্চ ২০২৫-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কিনেছেন, এমন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা যোগ্য হতে পারেন। ফোনটি পুনরায় বিক্রির উদ্দেশ্যে কেনা হলে এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। তবে নির্দিষ্ট মডেলের ফোন কেনাই ক্লেইম পাওয়ার একমাত্র শর্ত নয়। আবেদনপত্রে ক্রেতাকে নিশ্চিত করতে হবে যে ফোন কেনার সময় তিনি সিরির নির্দিষ্ট অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু তা পাননি। ফোন কেনা ও মালিকানা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও দিতে হবে। বৈধ ক্লেইমের জন্য প্রাথমিক হিসাবে প্রতি যোগ্য ফোনে ২৫ ডলার ধরা হয়েছে। মোট কতগুলো ক্লেইম জমা পড়ে এবং আদালত অনুমোদিত খরচের পর কত অর্থ থাকে, তার ভিত্তিতে এই অঙ্ক বাড়তে বা কমতে পারে। তবে প্রতি ফোনে সর্বোচ্চ অর্থের সীমা ৯৫ ডলার। সব ক্লেইম যাচাই না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে না। মামলায় ক্রেতাদের অভিযোগ, অ্যাপল নির্দিষ্ট কিছু সিরি ও অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, সেগুলো সময়মতো দেয়নি। অ্যাপল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মীমাংসায় সম্মত হওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম স্বীকার করা নয়; আদালতও কোনো পক্ষের অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেননি। যোগ্য ক্রেতাকে অর্থ পেতে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে মীমাংসা প্রশাসকের নির্ধারিত ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। আদালতে মীমাংসার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে শুনানি নির্ধারিত আছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অর্থ দেওয়া হবে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে শহরের ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোঁজার অভিযোগে কুইন্সের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানায়, কেভিন রদ্রিগেজ ও স্যামুয়েল রেভেরনের বিরুদ্ধে ট্রেসপাসিং ও কনস্পিরেসির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৬১ স্ট্রিটের কাছে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে ছয়জনের একটি দল ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। নজরদারি ক্যামেরায় তাদের ম্যানহোলে নামতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কয়েকজনকে একই ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরে তারা দুটি গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে যায়। কুইন্সবরো ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেট ও ভেহিকল শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিক হিসেবে রদ্রিগেজ ও রেভেরনকে শনাক্ত করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুজন পুলিশকে জানান, তারা স্যুয়ার ও স্টর্ম ড্রেনে ভেসে আসা মূল্যবান জিনিস খুঁজতে ম্যানহোলে ঢুকেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খোঁজার কথাও বলেছেন বলে আদালতের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে। যে এলাকায় ম্যানহোলটি রয়েছে, সেটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবস্থান করা একটি হোটেলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও ফেডারেল এজেন্টরা এলাকায় অতিরিক্ত তল্লাশি চালালেও কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। শুক্রবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হয়ে রদ্রিগেজ ও রেভেরন নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষী নন বলে জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় দুজনকেই জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রেভেরনকে সুপারভাইজড রিলিজ এবং রদ্রিগেজকে নিজের দায়িত্বে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ম্যানহোল ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া মানুষের প্রবেশের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কয়েকটিতে মানুষ স্টর্ম ড্রেন ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় ভেসে আসা স্ক্র্যাপ মেটাল ও মূল্যবান জিনিস খুঁজতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপার ইস্ট সাইডের ঘটনাটিও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্লাকা এলাকায় বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিস্ফোরণের পর শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনটিতে অবস্থান করা দুই মার্কিন দম্পতির সদস্যরাও হতাহত ও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। উদ্ধার অভিযান চলছে। এথেন্সের পর্যটনকেন্দ্র অ্যাক্রোপলিসের কাছে দুই তলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রিসের ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার প্রথমে এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবার পরিচয় তখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ভবনটির একটি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে দুই মার্কিন দম্পতি ছিলেন। অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন এক ব্রিটিশ পুরুষ ও এক গ্রিক নারী। শুক্রবার বিকেলে এথেন্স থেকে ফ্লাইট ধরার কথা ছিল মার্কিন পর্যটকদের, কিন্তু তাঁরা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাননি বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরও দুজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়ি, দোকান ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন তিনজন। পাশের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় উদ্ধারকাজ সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এথেন্সের মেয়র হারিস দোকাস প্রাথমিকভাবে গ্যাসসংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ কারণ অনুসন্ধান করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি বিল এনেছেন আলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি পাস হলে ডিভি লটারি বন্ধ হবে, মার্কিন নাগরিকদের মা-বাবাসহ কয়েকটি পারিবারিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের সুযোগ শেষ হবে এবং চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড দেওয়ার নিয়ম বদলে পয়েন্ট পদ্ধতি চালু হবে। বিলটি এখনো আইন হয়নি; বর্তমান আবেদনকারীদের নিয়মেও এ কারণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকের মা-বাবাকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্য ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক তাঁর মা-বাবার জন্য আবেদন করতে পারেন। বিলটি কয়েকটি পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিও বাতিল করতে চায়। তবে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানের জন্য আবেদনের পথ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবটি শুধু ভবিষ্যতের আবেদনেই সীমিত নয়। নিউজউইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাতিলের প্রস্তাব থাকা ক্যাটাগরিগুলোতে বিচারাধীন আবেদন অনুমোদন করা যাবে না। বিল কার্যকর হওয়ার আগে অনুমোদিত আবেদন থেকে কতজন ভিসা পাবেন, তার ওপরও একটি অন্তর্বর্তী সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে আইন হলে ইতিমধ্যে আবেদন করা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। চাকরির ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের প্রচলিত ক্যাটাগরিগুলোর জায়গায় পয়েন্ট পদ্ধতি আনার প্রস্তাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির প্রস্তাব, বয়স, ইংরেজিতে দক্ষতা, বেতন ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে এবং তাঁকে অন্তত ১৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। প্রস্তাবিত বেতনের শর্তও পূরণ করতে হবে। বিলে চাকরির ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসার বার্ষিক প্রাথমিক সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে বিলের নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমতে পারে। ডিভি লটারির মাধ্যমে ভিসা দেওয়াও বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। টিউবারভিলের সিনেট বিলের আগে এপ্রিলে প্রতিনিধি পরিষদে একই উদ্দেশ্যে একটি বিল এনেছিলেন আলাবামার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ব্যারি মুর। সিনেটের প্রস্তাবে কিছু শর্ত ও কার্যকরের সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া পেরোতে হবে। তত দিন গ্রিন কার্ড বা ডিভি লটারির নিয়ম বদলে গেছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় ইরান, তবে হুমকি বা শক্তি প্রয়োগের মুখে কোনো সমঝোতা করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কূটনৈতিক আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু চাপ প্রয়োগ করে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে আলোচনার আগ্রহের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আস্থার সংকটও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পেজেশকিয়ান এর আগে অভিযোগ করেছেন, আলোচনা চলার সময়ও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলে তাঁর দাবি। এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ইরানি প্রতিনিধিদলের কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আগ্রহ স্পষ্ট করতে হবে বলে তিনি জানান। পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে সংলাপের সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সরাসরি আলোচনার ঘোষণা আসেনি। কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে উভয় পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। কস্টকোর ভাষ্য, ফেরত পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। কস্টকোর কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্কের টাকা এবং ১ কোটি ডলার সুদ। প্রতিষ্ঠানটি আরও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে। ভবিষ্যতে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগও সদস্য ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম কমানোসহ অন্যান্য সুবিধায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান। কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাকরিস বলেন, গত প্রান্তিকের শেষ ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস এবং পানীয়সহ দৈনন্দিন কেনাকাটার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। ঘরের আসবাব ও হার্ডওয়্যারের কিছু পণ্যের দামও কমেছে। তবে শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে কোনো ক্রেতাকে সরাসরি টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি। ২০২৫ সালে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এরপর আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কস্টকোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া ১৬ সপ্তাহের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের অর্থের একটি অংশ ক্রেতাদের সুবিধায় ব্যয় করার পরও তা প্রান্তিকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কস্টকোর সদস্যদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হলো নির্বাচিত পণ্যে কম দাম। কোন পণ্যের দাম কতটা কমবে, তা পণ্যভেদে নির্ভর করবে; সব কেনাকাটায় সমান ছাড় বা আগের কেনাকাটার বিপরীতে নগদ ফেরত দেওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জেপি মর্গান চেজের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রাতরাশ বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা সহজ: বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের অংশ হিসেবে ওই বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণে আস্থা ও নীতির পূর্বানুমেয়তা প্রয়োজন। তাঁর সরকার বাংলাদেশে সেই পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে। বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার ও ভৌগোলিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতের বাইরেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো, পণ্য পরিবহন, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাকে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশকে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবার আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, নিয়মকানুন কতটা স্থিতিশীল থাকবে, বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে কি না এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়া যাবে কি না, এসব প্রশ্নের জবাব নীতি ও তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগের বাধা দূর করতে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আনাস আহমেদ জিসান নামের ১২ বছর বয়সী এক শিশু গত দুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্তানের কোনো সন্ধান না পেয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও হতাশায় দিন পার করছেন তার বাবা-মা। জানা যায়, নিখোঁজ শিশু আনাস রূপগঞ্জ থানার অন্তর্গত বরপা এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিখোঁজ হওয়ার দিন আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সে হারিয়ে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটির পরনে ছিল লাল রঙের গেঞ্জি এবং জিন্সের প্যান্ট। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু কোথাও তার কোনো হদিস মেলেনি। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটিতে এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই কঠিন ও অসহায় পরিস্থিতিতে শিশুটির বাবা আমির হোসেন তার সন্তানের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি শিশু আনাসের সন্ধান পেয়ে থাকেন বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তবে জরুরি ভিত্তিতে তার বাবার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৮৪৬৯১৭২১৬) যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্ত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা, রাতের সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, কসমেটিক ফিল্টার বন্ধ এবং বয়স যাচাইসহ একাধিক নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। সমঝোতার ফলে সোমবার শুরু হওয়ার কথা থাকা বিচারও আর হচ্ছে না। আলাবামা ২০২৫ সালে টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখার মতো নকশা ও সুপারিশব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটি আরও দাবি করেছিল, টিকটকের কিছু বৈশিষ্ট্য তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হলেও টিকটক কোনো অনিয়মের দায় স্বীকার করেনি। সমঝোতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর একটি হলো কিশোরদের দৈনিক ব্যবহারসীমা। আলাবামায় কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টার একটি নির্ধারিত সীমা থাকবে। অভিভাবকেরা চাইলে এই সময় আরও কমিয়ে দিতে পারবেন। পাশাপাশি টিকটক ব্যবহারের সময় শিশুদের নিয়মিত বিরতি নিতে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যবহার বন্ধের বার্তাও দেখাবে। টানা ব্যবহারের ১৫, ৬০ ও ৯০ মিনিটের পর্যায়ে এ ধরনের বিরতির ব্যবস্থা থাকবে। রাতের ব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আলাবামায় কিশোরদের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা গেলেও তখন বার্তা আদান-প্রদান ও বিজ্ঞপ্তির মতো কিছু সুবিধা সীমিত থাকবে। স্কুল চলাকালীন সময়েও বিজ্ঞপ্তি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে প্রভাব কমানো যায়। শিশু ও কিশোরদের জন্য কসমেটিক বা সৌন্দর্যবর্ধক ফিল্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একই সঙ্গে বয়স অনুযায়ী উপযোগী বিষয়বস্তু দেখানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কিশোরদের জন্য ব্যক্তিগত পছন্দভিত্তিক সুপারিশের পরিবর্তে অ-ব্যক্তিগতকৃত বিষয়বস্তু দেখার সুযোগও রাখা হবে। এর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনুপযুক্ত যোগাযোগ ঠেকাতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করবে টিকটক। অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় তারা সন্তানদের অ্যাকাউন্টে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখা যাবে, কতক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে এবং কোন সময়ে ব্যবহার বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। সন্তানদের টিকটক ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেখার সুযোগও থাকবে। কোনো কিশোরের সঙ্গে বয়সের দিক থেকে অনুপযুক্ত কোনো অ্যাকাউন্টের যোগাযোগ শনাক্ত হলে অভিভাবকদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও থাকবে। বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার শর্ত রয়েছে। টিকটককে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু ব্যবহারসীমা নির্ধারণ নয়, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও সমঝোতায় একাধিক ধাপ রয়েছে। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, রাজ্যটি অন্তত ১০ কোটি ডলার পাবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে পুরো চুক্তির আর্থিক কাঠামো শুধু এই ১০ কোটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকটকের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতায় গেলে আলাবামা অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে। বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আলাবামার মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল কারণ এটি টিকটকের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বিচার পর্যন্ত গড়ানো প্রথম মামলাগুলোর একটি ছিল। সোমবার থেকে মন্টগোমারি অঙ্গরাজ্য আদালতে বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারত। বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে টিকটকের অভ্যন্তরীণ নকশা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি আদালতে প্রকাশের সম্ভাবনাও আপাতত এড়ানো হলো। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, মামলার মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল টিকটকের আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য, তরুণদের ওপর সম্ভাব্য মানসিক ক্ষতি এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগেই সমঝোতার মাধ্যমে মামলা শেষ হয়েছে। টিকটকও কোনো দায় স্বীকার না করেই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। টিকটকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোরদের নিরাপত্তা বাড়াতে তাদের বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা তাদের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। আলাবামার সঙ্গে এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের বিরুদ্ধে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মামলা চলছে। ফলে আলাবামার চুক্তিতে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো ভবিষ্যতে অন্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে টিকটকের আলোচনাতেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
ত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার ভয়াবহ বি প র্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসি টেলিভিশনের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেছেন, এআই এতটাই শক্তিশালী যে এটি এমন ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে শতকোটি মানুষের মৃ ত্যু হয়। গেটসের বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পূর্বাভাস বা প্রা ণ হা নির হিসাব নয়। তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বোঝাতে সংখ্যাটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্ষ তি কর উদ্দেশ্যের মানুষের হাতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পৌঁছানোর আশঙ্কা। আগস্টে নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক লেখায় গেটস এআই দিয়ে সাইবার হা ম লা, প্র তা র ণা ও জী বা ণু অ স্ত্র তৈরির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রযুক্তিটি দ্রুত উন্নত হতে থাকায় এর ক্ষ তি কর ব্যবহার মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। তবে এআইয়ের সুফলের সম্ভাবনাও দেখছেন গেটস। তাঁর মতে, যথাযথ সুরক্ষা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গবেষণায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনই সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শনিবারের টেনেসি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ানের নির্ধারিত সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর যৌথ টেলিভিশন কাভারেজের দায়িত্বে এবার সিএনএনের থাকার কথা ছিল। তার জায়গায় রাখা হয়েছে রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজকে। ট্রাম্প টেনেসির নক্সভিলে একটি কলেজ ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের বিমানে জায়গা সীমিত থাকায় নির্ধারিত সাংবাদিকেরা পালা করে সফরে যান এবং তাঁদের সংগ্রহ করা সংবাদ ও ভিডিও অন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করেন। সিএনএন সেই ব্যবস্থার অংশ হলেও রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস নিউজ যৌথ টেলিভিশন সাংবাদিকদলের সদস্য নয়। এর আগে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি সংবাদমাধ্যম আদালতে গেলে এক ফেডারেল বিচারক সাময়িক আদেশে তাঁদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ ফিরিয়ে দেন। তবে ওই আদেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফর বা যৌথ সাংবাদিকদলের দায়িত্বের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাদের প্রতিবেদনের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে। হোয়াইট হাউসের অবস্থান, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই সিএনএনকে শনিবারের বিমান সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল।
ফ্রান্সের আরল শহরের জেন কালমাঁ বেঁচে ছিলেন ১২২ বছর ১৬৪ দিন। ১৮৭৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই নারী মৃ ত্যু বরণ করেন ১৯৯৭ সালের ৪ আগস্ট। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, নির্ভরযোগ্য নথিতে যাচাই হওয়া মানুষের বয়সের রেকর্ডে তিনি এখনো সবার ওপরে। কালমাঁর বয়স শুধু তাঁর নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে স্বীকৃতি পায়নি। গবেষকেরা তাঁর জন্ম ও বিয়ের নথি, বিভিন্ন সময়ের জনশুমারির তথ্য এবং পরিবারের সদস্যদের নথি মিলিয়ে দীর্ঘ জীবনকালটি যাচাই করেছেন। তাঁর খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন জীবন নিয়েও বহু গল্প প্রচলিত। গিনেসের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি কখনো সপ্তাহে প্রায় এক কিলোগ্রাম চকলেট খেতেন, খাবারের পর অল্প পরিমাণ পোর্ট ওয়াইন পান করতেন এবং জলপাই তেল খাবারে ও ত্বকে ব্যবহার করতেন। ধূমপান ছেড়েছিলেন ১১৭ বছর বয়সে। তবে এসব অভ্যাস তাঁকে এত দীর্ঘ জীবন দিয়েছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই তথ্য থেকে টানা যায় না। কৈশোরে চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের সঙ্গে দেখা হয়েছিল বলেও কালমাঁ দাবি করেছিলেন। ঘটনাটির বিবরণ এসেছে তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে; তাই এটিকে স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া সাক্ষাৎ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। দীর্ঘ জীবনে স্বামী, মেয়ে ও নাতির মৃ ত্যুও দেখেছেন কালমাঁ। তাঁর জীবন নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি বয়সের রেকর্ডটি গবেষণার বিষয় হয়ে আছে। সেই রেকর্ডের ভিত্তি তাঁর চকলেট বা ওয়াইনের গল্প নয়, বরং জন্ম থেকে মৃ ত্যু পর্যন্ত সংরক্ষিত নথির ধারাবাহিকতা।
মুখজুড়ে লিপস্টিকের চু মু র দাগ নিয়ে রিচার্ড র্যামসির একটি পুরোনো ছবি আজও নজর কাড়ে। ১৯৬০ সালে তোলা ছবিটির মানুষটি একটি কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী ছিলেন। তবে তাঁর মুখে দাগ ফেলার উদ্দেশ্য লিপস্টিক কতক্ষণ টিকে থাকে, তা দেখা ছিল না। ছবিটির সংরক্ষিত বিবরণ অনুযায়ী, পরীক্ষাটি ছিল লিপস্টিকে ব্যবহৃত রঙের উপাদান ক্ষ তি কর কি না, তা দেখানোর জন্য। ছবিটি তুলেছিলেন লাইফ সাময়িকীর আলোকচিত্রী ইয়েল জোয়েল। লাইফের সংগ্রহে র্যামসিকে কসমেটিকস কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। একই বিবরণে বলা হয়েছে, লিপস্টিকের রঙের উপাদান নি রা প দ কি না, সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবেই তাঁর মুখে চু মু র দাগ পড়েছিল। ছবিটি ঘিরে প্রচলিত বর্ণনায় র্যামসিকে কখনো ‘পেশাদার লিপস্টিক পরীক্ষক’ বলা হয়, আবার কখনো দাবি করা হয়, তাঁর মুখে দাগ দেখে লিপস্টিকের স্থায়িত্ব মাপা হতো। লাইফের ছবির বিবরণে এসব দাবির সমর্থন নেই। তাঁর নিয়মিত কাজই ছিল এভাবে লিপস্টিক পরীক্ষা করা, এমন তথ্যও সেখানে দেওয়া হয়নি। দেখতে মজার এই ছবিটির সঙ্গে তাই একটি পার্থক্য মনে রাখা জরুরি: ছবিটি একটি কসমেটিকস পরীক্ষার দৃশ্য তুলে ধরে, কিন্তু চু মু র দাগ কতক্ষণ থাকে, সে পরীক্ষা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করে না।
হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট করা মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করে পাল্টা মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইরানের একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ওই পোস্টে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়। ১৮ আগস্ট ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। ছবিতে প্রণালিটির ওপর ‘NEW U.S. Territory’ লেখা ছিল। পরে হোয়াইট হাউসের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এর জবাবে ‘Iran in Hyderabad’ নামে ইরানের সরকারি অ্যাকাউন্ট যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে আলাদা করে দেখানো হয়। ছবির ওপর লেখা ছিল, ‘NEW TERRITORY OF ISLAMIC REPUBLIC OF IRAN’। পোস্টটির ভাষা ও সময় বিবেচনায় এটি ট্রাম্পের হরমুজ-সংক্রান্ত মানচিত্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছিল; ক্যালিফোর্নিয়া নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক ভূখণ্ড দাবি হিসেবে এটিকে উপস্থাপন করা হয়নি। এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ১৮ আগস্ট তিনি ওই বক্তব্যের পরই মানচিত্রটি প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেখানে নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মানচিত্র প্রকাশের ঘটনা ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে স্বামী এরিক রিচিনসকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি তাঁকে গুরুতর হ ত্যা, হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-সংক্রান্ত দুটি প্র তারণাসহ মোট পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ১৩ মে আদালত তাঁর সাজার ঘোষণা দেয়। ৩৫ বছর বয়সী কৌরি রিচিনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০২২ সালের ৪ মার্চ পার্ক সিটির কাছে তাঁদের বাড়িতে স্বামী এরিকের পানীয় মস্কো মিউলে প্রাণঘাতী মাত্রার ফেন্টানিল মিশিয়ে দেন তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এরিককে পরে বিছানায় মৃ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে ফেন্টানিলের মাত্রা প্রাণঘাতী মাত্রার প্রায় পাঁচ গুণ ছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়। বিচারে আরও উঠে আসে, স্বামীর মৃ ত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে হ ত্যার আরেকটি চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রসিকিউটরদের দাবি, ভ্যালেন্টাইনস ডের সময় এরিককে ফেন্টানিল মেশানো একটি স্যান্ডউইচ দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায়ও কৌরিকে হ ত্যা চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জুরি। প্রসিকিউটররা দাবি করেন, আর্থিক লাভই ছিল হ ত্যার অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, কৌরি আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং স্বামীর জীবনবীমা ও সম্পত্তি থেকে অর্থ পাওয়ার প্রত্যাশা করছিলেন। বিচারে স্বামীর নামে বীমা পলিসি এবং তাঁর মৃ ত্যুর পর বীমার অর্থ পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত প্র তারণার বিষয়ও উঠে আসে। তবে কৌরি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। সাজা ঘোষণার দিন আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্বামীকে হ ত্যা করেননি। তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। এই মামলাটি আলোচনায় আসে আরেকটি কারণে। এরিকের মৃ ত্যুর পর কৌরি ‘Are You With Me?’ নামে শিশুদের একটি বই প্রকাশ করেন। বইটিতে প্রিয়জনকে হারানোর পর শোক সামলানোর বিষয় তুলে ধরা হয়। বইটির প্রচারের সময় কৌরি তাঁর তিন সন্তান কীভাবে বাবাকে হারানোর শোক সামলাচ্ছিল, সে বিষয়েও কথা বলেছিলেন। ২০২৩ সালে কৌরিকে গ্রে প্তার করা হয়। এরপর বইটি এবং তাঁর পারিবারিক পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। মামলার বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন তাঁর প্রকাশিত বই এবং স্বামীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করে। ১৩ মে সাজা ঘোষণার শুনানিতে এরিকের পরিবারের সদস্যরা আদালতে বক্তব্য দেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। কৌরির তিন সন্তানের পক্ষ থেকেও আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের বক্তব্যে মাকে হারানোর পাশাপাশি বাবাকে হারানোর পর পরিবারের ওপর পড়া প্রভাবের কথা উঠে আসে। সব বক্তব্য শোনার পর বিচারক রিচার্ড ম্রাজিক কৌরিকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। হ ত্যা চেষ্টা, জা লিয়া তি ও বীমা-প্র তারণার অভিযোগে পাওয়া অন্যান্য সাজাগুলোও ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কৌরির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবেন।
নয়জনের মধ্যে রয়েছেন সুনীতা গুপ্ত ও তাঁর ছেলে শশাঙ্ক গুপ্ত। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আ গু ন ছড়িয়ে পড়ার সময় অসুস্থ মাকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শশাঙ্ক। মাকে রেখে একা বাস থেকে নেমে যাননি তিনি। বুধবার গভীর রাতে দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার পথে থাকা বাসটিতে আ গু ন লাগে। শশাঙ্ক গুরুগ্রামে ইন্ডিগোর প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। হাঁটুর চি কি ৎসার জন্য সুনীতা ছেলের কাছে ছিলেন। মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় তাঁরা এই দু র্ঘ ট নার শি কা র হন। বাসে ধোঁয়া ও আ গু ন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীরা দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাঁটুর সমস্যার কারণে সুনীতা দ্রুত চলতে পারছিলেন না। তাঁকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে শশাঙ্কও বাসের ভেতর আ ট কে পড়েন। দুজনের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ পাওয়া গেছে। শুক্রবার পরিবারের সদস্যরা সুনীতা ও শশাঙ্কের ম র দে হ শনাক্ত করেন। দু র্ঘ ট নাটি কীভাবে ঘটল, বাসে আ গু ন কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে ত দ ন্ত চলছে।
নভেম্বর মাস অনেকের কাছেই ভ্রমণের আদর্শ সময়। ইউরোপের উঁচু পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয় স্কি মৌসুম, আবার বিশ্বের অন্য প্রান্তে তখন থাকে আরামদায়ক উষ্ণ আবহাওয়া। কেউ যদি বরফে স্কি করতে চান, কেউ হয়তো সমুদ্রসৈকতে বসে সূর্য উপভোগ করতে চান, আবার কেউ চাইতে পারেন উৎসবের আমেজে ঘুরে বেড়াতে। নভেম্বরের ছুটির জন্য তাই একাধিক ধরনের গন্তব্য বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফ্রান্সের তিঁন ও ভাল ক্লারে নভেম্বরের শেষ দিকে স্কি মৌসুম শুরুর অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে। তিঁনের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম ভাল ক্লারে আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে স্কি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। উঁচু অবস্থানের কারণে এখানে বরফ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং গ্রঁদ মত হিমবাহের কাছেও সহজে যাওয়া যায়। স্কি করার পাশাপাশি পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করতে চান এমন ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি বিশেষ আকর্ষণীয়। ভাল ক্লারের চার তারকা ইয়ন্সিও আবাসনে এক সপ্তাহের জন্য দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে চারজন থাকার ভাড়া ২৮ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ৪০৪ পাউন্ড থেকে শুরু হচ্ছে। এতে একটি গাড়ির জন্য লে শাটল ক্রসিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আবাসনটিতে রয়েছে উত্তপ্ত ইনডোর সুইমিংপুল, যা পাহাড়ে সময় কাটানোর পর আরাম করার সুযোগ দেবে। যারা বরফের বদলে উষ্ণ আবহাওয়া পছন্দ করেন, তাদের জন্য মরক্কোর মারাকেশ হতে পারে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। নভেম্বরেও সেখানে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকতে পারে। মারাকেশের ক্লাব মেড লা পালমেরিতে থাকলে শান্ত ও সবুজ পরিবেশের পাশাপাশি শহরের প্রাণবন্ত জীবন এবং ঐতিহাসিক মদিনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। ২৮ নভেম্বরের যাত্রার জন্য সাত রাতের সর্বসমেত প্যাকেজের দাম শুরু হচ্ছে জনপ্রতি ১ হাজার ২২ পাউন্ড থেকে। তবে ফ্লাইট ও বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের খরচ আলাদা। ভারতের গোয়াও নভেম্বরের ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় একটি বিকল্প। সমুদ্রসৈকত, নরম বালু আর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে চাইলে বেনাউলিম বিচের কাছে অর্কিড পাসারোস নামের প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি বিলাসবহুল হোটেলে থাকা যেতে পারে। ১১ নভেম্বরের যাত্রায় ১০ রাতের প্যাকেজের দাম জনপ্রতি ১ হাজার ৪৮৭ পাউন্ড থেকে শুরু। এতে ফ্লাইট, যাতায়াত ও সকালের নাশতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমুদ্রপথে ভ্রমণ করতে চাইলে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জও আকর্ষণীয় হতে পারে। ২৬ নভেম্বর তেনেরিফ থেকে শুরু হওয়া ১১ রাতের একটি ক্রুজে ফুয়ের্তেভেনতুরা, মাদেইরা, লা পালমা, এল হিয়েরো ও লা গোমেরা ঘুরে আবার তেনেরিফে ফেরা যাবে। ১৪৮ যাত্রী ধারণক্ষমতার চার মাস্তুলের উইন্ড স্পিরিট ইয়টে এই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। জনপ্রতি ১ হাজার ৭৭৯ পাউন্ড থেকে শুরু হওয়া প্যাকেজে ফ্লাইট, এক রাতের হোটেল, ১০ রাতের পূর্ণ খাবার, যাতায়াত ও বন্দর ফি অন্তর্ভুক্ত। যারা একটু বেশি বিলাসী অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য সেশেলস কিংবা ভেনিস হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। সেশেলসের বালুকাবেলায় আরামদায়ক সময় কাটানোর পাশাপাশি ভেনিসে খাল, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশ উপভোগ করা যায়। এমনকি ভেনিস থেকে বিখ্যাত ভেনিস সিম্পলন-ওরিয়েন্ট-এক্সপ্রেসে ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। নভেম্বরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাই এক ধরনের গন্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। পাহাড়ে বরফ, মরক্কোয় উষ্ণ আবহাওয়া, গোয়ার সমুদ্রসৈকত কিংবা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের ক্রুজ—ভ্রমণের ধরন অনুযায়ী বেছে নেওয়া যেতে পারে পছন্দের জায়গা। তবে যাত্রার আগে আবাসন, ফ্লাইট, আবহাওয়া এবং ভিসাসহ প্রয়োজনীয় শর্তগুলো যাচাই করে পরিকল্পনা করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে আসা বাংলাদেশিরা বৈধ বাংলাদেশি ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে কিছু স্টেটে গাড়ি চালাতে পারেন। তবে সারা দেশে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। ভিজিটর হিসেবে এসেছেন, নাকি ওই স্টেটের বাসিন্দা হয়েছেন, তার ওপরও নিয়ম বদলায়। নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভি জানিয়েছে, অন্য দেশের বৈধ লাইসেন্সধারী ভিজিটর নিউইয়র্কে গাড়ি চালাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভিজিটরদের জন্য নির্দিষ্ট ‘১২ মাসের’ সীমা ডিএমভির নির্দেশনায় নেই। তবে নিউইয়র্কের বাসিন্দা হলে ৩০ দিনের মধ্যে সেখানকার ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ভিজিটর নিজ দেশের বৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হলে ১০ দিনের মধ্যে স্টেটের লাইসেন্স নিতে হয়। টেক্সাসের নির্দেশনায় বিদেশি লাইসেন্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর অথবা টেক্সাসের বাসিন্দা হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে। নতুন বাসিন্দাকে সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে টেক্সাসের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট বা আইডিপি নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। নিউইয়র্কে বিদেশি লাইসেন্সের সঙ্গে আইডিপি বাধ্যতামূলক নয়, তবে লাইসেন্সের তথ্য বুঝতে এটি সহায়ক বলে জানিয়েছে ডিএমভি। আইডিপি মূল ড্রাইভার লাইসেন্সের বিকল্প নয়। বাংলাদেশে আইডিপি ইস্যুর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাই ‘বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১২ মাস গাড়ি চালানো যায়’ কিংবা ‘আইডিপি না থাকলে কোনো ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায় না’—এমন একক নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গাড়ি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের ডিএমভির নিয়ম এবং গাড়ি ভাড়া নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ। সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহযোগিতা জোরদার করা। দুই দেশই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মান অনুসরণের বিষয়ে একমত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি দুই দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে দুটি ১২০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াতে চাইছে ঢাকা। নতুন সমঝোতায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সেফগার্ড ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা NPT-এর সদস্য এবং উভয়েরই IAEA safeguards agreement ও Additional Protocol কার্যকর রয়েছে বলে সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটিকে সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সমঝোতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ‘123 Agreement’ হলে সেটি পারমাণবিক উপকরণ, জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারে; কিন্তু MoU নিজে সেই ধরনের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও সমঝোতা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎস বহুমুখীকরণ নিয়ে একটি কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা সই করে। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে। নতুন এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সরবরাহ কাঠামো এবং নতুন মার্কিন সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংক্রান্ত একটি বিধান রাখা হয়েছে। নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশ কী ধরনের প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ওপর।
একসময় মুরগি তো দূরের কথা, প্রায় সব ধরনের পাখিকেই ভয় পেতেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার অ্যাশলি উডস। অথচ সেই ভয়ই একসময় এমন ভালোবাসায় পরিণত হবে যে নিজের শরীরে একে একে ৪৩টি মুরগির ট্যাটু করাবেন—তা তিনি নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। এখন মুরগিই তার জীবনের অন্যতম বড় অংশ, আর শরীরজুড়ে থাকা এসব ট্যাটু হয়ে উঠেছে তার স্মৃতি, রসবোধ ও প্রিয় প্রাণীগুলোর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। অ্যারিজোনার প্রেসকট ভ্যালির বাসিন্দা অ্যাশলির জীবনে পরিবর্তন শুরু হয় যখন তিনি ফ্লাফি বা তুলতুলে পালকের জন্য পরিচিত স্যালমন ফাভেরোলস জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। প্রথমদিকে মুরগি পালনের বিষয়টি ছিল একেবারেই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পাখিগুলোর অদ্ভুত স্বভাব, মজার শব্দ এবং ছোটাছুটির ধরন অ্যাশলিকে আকৃষ্ট করতে শুরু করে। যেসব প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, ধীরে ধীরে সেগুলোর সঙ্গেই তার তৈরি হয় গভীর এক সম্পর্ক। মুরগির প্রতি অ্যাশলি ও তার পরিবারের ভালোবাসা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তারা ১০০টিরও বেশি মুরগির যত্ন নেন। ফলে মুরগিগুলো শুধু বাড়ির পোষা প্রাণী বা খামারের অংশ হয়ে থাকেনি, বরং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রতিটি মুরগির আলাদা স্বভাব ও আচরণ অ্যাশলির কাছে আলাদা কোনো গল্পের মতো মনে হতে থাকে। অন্যদিকে অ্যাশলির আগে থেকেই ট্যাটুর প্রতি আগ্রহ ছিল। মুরগির প্রতি নতুন এই ভালোবাসা এবং ট্যাটুর শখ—দুই বিষয়কে একসঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার প্রথম মুরগির ট্যাটুটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। সেখানে দেখা যায়, অ্যারিজোনার মরুভূমির পটভূমিতে একটি মুরগিকে এলিয়েনরা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মজার ও কল্পনাপ্রবণ সেই নকশা থেকেই শুরু হয় তার মুরগির ট্যাটুর দীর্ঘ যাত্রা। এরপর একে একে শরীরে জায়গা পেতে থাকে আরও নানা ধরনের মুরগির নকশা। কোনো ট্যাটুতে দেখা যায় জনপ্রিয় চরিত্র চিকেন লিটলকে, আবার কোনো নকশায় রয়েছে কার্টুন চরিত্র ফগহর্ন লেঘর্ন। এমনকি সানগ্লাস পরা মুরগির মতো হাস্যরসাত্মক নকশাও রয়েছে তার শরীরে। প্রতিটি ট্যাটুর নকশায় মুরগিকে ঘিরে অ্যাশলির নিজস্ব রসবোধ এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ রয়েছে। মুরগির ট্যাটুর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত তা একটি বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে অ্যাশলি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পান একজন নারীর শরীরে সবচেয়ে বেশি মুরগির ট্যাটু থাকার জন্য। তার শরীরে তখন মোট ৪৩টি মুরগির ট্যাটু ছিল। এই স্বীকৃতি তাকে মুরগিপ্রেমী হিসেবে যেমন আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি তার অস্বাভাবিক শখকেও বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। তবে অ্যাশলির কাছে এসব ট্যাটু শুধু রেকর্ড গড়ার বিষয় নয়। প্রতিটি নকশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোনো না কোনো স্মৃতি, মজার ঘটনা কিংবা তার জীবনে মুরগিগুলোর বিশেষ ভূমিকা। যে প্রাণীকে একসময় ভয় পেতেন, সেই মুরগিই এখন তার জীবনের এমন এক অংশ হয়ে উঠেছে, যাকে তিনি শরীরে স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে চেয়েছেন। অ্যাশলির গল্প তাই শুধু অদ্ভুত একটি ট্যাটু রেকর্ডের গল্প নয়। এটি বরং কীভাবে ভয় ধীরে ধীরে পরিচয়, পরিচয় থেকে ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত জীবনের একটি বিশেষ অংশে পরিণত হতে পারে—তারই এক মজার উদাহরণ। একসময় পাখি দেখলেই আতঙ্কিত হওয়া সেই নারী এখন ৪৩টি মুরগির ট্যাটু নিয়ে নিজের এই অদ্ভুত ভালোবাসার গল্পই বহন করছেন।