সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আর্থিক ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ তথ্য জানিয়েছে। কস্টকোর ভাষ্য, ফেরত পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে ইতিমধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানো হয়েছে।

 

কস্টকোর কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার শুল্কের টাকা এবং ১ কোটি ডলার সুদ। প্রতিষ্ঠানটি আরও অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করছে। ভবিষ্যতে পাওয়া অর্থের বেশির ভাগও সদস্য ক্রেতাদের জন্য পণ্যের দাম কমানোসহ অন্যান্য সুবিধায় ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তারা জানান।

 

কস্টকোর প্রধান নির্বাহী রন ভ্যাকরিস বলেন, গত প্রান্তিকের শেষ ভাগে ফলমূল ও শাকসবজি, মাংস এবং পানীয়সহ দৈনন্দিন কেনাকাটার বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানো হয়েছে। ঘরের আসবাব ও হার্ডওয়্যারের কিছু পণ্যের দামও কমেছে। তবে শুল্ক ফেরতের অর্থ থেকে কোনো ক্রেতাকে সরাসরি টাকা দেওয়ার ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটি দেয়নি।

 

২০২৫ সালে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে এভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এরপর আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

 

কস্টকোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া ১৬ সপ্তাহের প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার ৩৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের অর্থের একটি অংশ ক্রেতাদের সুবিধায় ব্যয় করার পরও তা প্রান্তিকের মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

কস্টকোর সদস্যদের জন্য এর বাস্তব অর্থ হলো নির্বাচিত পণ্যে কম দাম। কোন পণ্যের দাম কতটা কমবে, তা পণ্যভেদে নির্ভর করবে; সব কেনাকাটায় সমান ছাড় বা আগের কেনাকাটার বিপরীতে নগদ ফেরত দেওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটি জানায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢোকার অভিযোগে দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহোলে ঢুকে সোনা-দামি জিনিস খোঁজার অভিযোগ, নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার কুইন্সের দুই ব্যক্তি

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে ম্যানহোল দিয়ে শহরের ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র খোঁজার অভিযোগে কুইন্সের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানায়, কেভিন রদ্রিগেজ ও স্যামুয়েল রেভেরনের বিরুদ্ধে ট্রেসপাসিং ও কনস্পিরেসির অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৬১ স্ট্রিটের কাছে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে ছয়জনের একটি দল ভূগর্ভস্থ স্যুয়ার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে। নজরদারি ক্যামেরায় তাদের ম্যানহোলে নামতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর কয়েকজনকে একই ম্যানহোল দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা যায়।   পরে তারা দুটি গাড়িতে করে এলাকা ছেড়ে যায়। কুইন্সবরো ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়িগুলোর লাইসেন্স প্লেট ও ভেহিকল শনাক্তকারী তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গাড়ির মালিক হিসেবে রদ্রিগেজ ও রেভেরনকে শনাক্ত করা হয়।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুজন পুলিশকে জানান, তারা স্যুয়ার ও স্টর্ম ড্রেনে ভেসে আসা মূল্যবান জিনিস খুঁজতে ম্যানহোলে ঢুকেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী খোঁজার কথাও বলেছেন বলে আদালতের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে। যে এলাকায় ম্যানহোলটি রয়েছে, সেটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু অবস্থান করা একটি হোটেলের কাছাকাছি হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ও ফেডারেল এজেন্টরা এলাকায় অতিরিক্ত তল্লাশি চালালেও কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি।   শুক্রবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হয়ে রদ্রিগেজ ও রেভেরন নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে দোষী নন বলে জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাদের অভিযোগগুলো জামিনযোগ্য না হওয়ায় দুজনকেই জামিন ছাড়াই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রেভেরনকে সুপারভাইজড রিলিজ এবং রদ্রিগেজকে নিজের দায়িত্বে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্কে ম্যানহোল ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় অনুমতি ছাড়া মানুষের প্রবেশের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার কয়েকটিতে মানুষ স্টর্ম ড্রেন ও স্যুয়ার ব্যবস্থায় ভেসে আসা স্ক্র্যাপ মেটাল ও মূল্যবান জিনিস খুঁজতে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপার ইস্ট সাইডের ঘটনাটিও একই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১১:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে একটি নতুন বিল এনেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়ম সীমিত ও ডিভি লটারিতে বড় পরিবর্তন চেয়ে সিনেটে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রে আরোপিত আমদানি শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেয়েছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কস্টকো। ছবি: সংগৃহীত

শুল্কের ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ফেরত পেল কস্টকো, কমাচ্ছে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

'বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত' ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের আহ্বান তারেক রহমানের

আসক্ত করার অভিযোগে মামলা নিষ্পত্তিতে আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক। ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের আসক্তির অভিযোগে আলাবামায় টিকটকের ১০ কোটি ডলারের সমঝোতা

শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত আসক্ত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দৈনিক দুই ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা, রাতের সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, কসমেটিক ফিল্টার বন্ধ এবং বয়স যাচাইসহ একাধিক নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। সমঝোতার ফলে সোমবার শুরু হওয়ার কথা থাকা বিচারও আর হচ্ছে না।   আলাবামা ২০২৫ সালে টিকটক ও বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখার মতো নকশা ও সুপারিশব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটি আরও দাবি করেছিল, টিকটকের কিছু বৈশিষ্ট্য তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হলেও টিকটক কোনো অনিয়মের দায় স্বীকার করেনি।   সমঝোতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্তগুলোর একটি হলো কিশোরদের দৈনিক ব্যবহারসীমা। আলাবামায় কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য দিনে দুই ঘণ্টার একটি নির্ধারিত সীমা থাকবে। অভিভাবকেরা চাইলে এই সময় আরও কমিয়ে দিতে পারবেন। পাশাপাশি টিকটক ব্যবহারের সময় শিশুদের নিয়মিত বিরতি নিতে উৎসাহিত করতে নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যবহার বন্ধের বার্তাও দেখাবে। টানা ব্যবহারের ১৫, ৬০ ও ৯০ মিনিটের পর্যায়ে এ ধরনের বিরতির ব্যবস্থা থাকবে।   রাতের ব্যবহারেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আলাবামায় কিশোরদের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। অভিভাবকের অনুমতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা গেলেও তখন বার্তা আদান-প্রদান ও বিজ্ঞপ্তির মতো কিছু সুবিধা সীমিত থাকবে। স্কুল চলাকালীন সময়েও বিজ্ঞপ্তি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগে প্রভাব কমানো যায়।   শিশু ও কিশোরদের জন্য কসমেটিক বা সৌন্দর্যবর্ধক ফিল্টার ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। একই সঙ্গে বয়স অনুযায়ী উপযোগী বিষয়বস্তু দেখানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কিশোরদের জন্য ব্যক্তিগত পছন্দভিত্তিক সুপারিশের পরিবর্তে অ-ব্যক্তিগতকৃত বিষয়বস্তু দেখার সুযোগও রাখা হবে। এর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অনুপযুক্ত যোগাযোগ ঠেকাতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করবে টিকটক।   অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণও বাড়ানো হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় তারা সন্তানদের অ্যাকাউন্টে কী ধরনের বিষয়বস্তু দেখা যাবে, কতক্ষণ অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে এবং কোন সময়ে ব্যবহার বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন। সন্তানদের টিকটক ব্যবহারের সারসংক্ষেপ দেখার সুযোগও থাকবে। কোনো কিশোরের সঙ্গে বয়সের দিক থেকে অনুপযুক্ত কোনো অ্যাকাউন্টের যোগাযোগ শনাক্ত হলে অভিভাবকদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও থাকবে।   বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করার শর্ত রয়েছে। টিকটককে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু ব্যবহারসীমা নির্ধারণ নয়, ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।   অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রেও সমঝোতায় একাধিক ধাপ রয়েছে। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, রাজ্যটি অন্তত ১০ কোটি ডলার পাবে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে পুরো চুক্তির আর্থিক কাঠামো শুধু এই ১০ কোটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিকটকের সঙ্গে একই ধরনের সমঝোতায় গেলে আলাবামা অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে। বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   আলাবামার মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল কারণ এটি টিকটকের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে বিচার পর্যন্ত গড়ানো প্রথম মামলাগুলোর একটি ছিল। সোমবার থেকে মন্টগোমারি অঙ্গরাজ্য আদালতে বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারত। বিচার শুরু হওয়ার ঠিক আগে মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে টিকটকের অভ্যন্তরীণ নকশা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি আদালতে প্রকাশের সম্ভাবনাও আপাতত এড়ানো হলো।   আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, মামলার মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল টিকটকের আসক্তিমূলক বৈশিষ্ট্য, তরুণদের ওপর সম্ভাব্য মানসিক ক্ষতি এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগেই সমঝোতার মাধ্যমে মামলা শেষ হয়েছে। টিকটকও কোনো দায় স্বীকার না করেই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।   টিকটকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিশোরদের নিরাপত্তা বাড়াতে তাদের বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা তাদের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।   আলাবামার সঙ্গে এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের বিরুদ্ধে তরুণদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মামলা চলছে। ফলে আলাবামার চুক্তিতে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো ভবিষ্যতে অন্য অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে টিকটকের আলোচনাতেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১০:০
ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরের সাংবাদিকদল থেকে সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়েছে

ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ান সফরে সিএনএনকে জায়গা দিল না হোয়াইট হাউস

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্রের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের চিহ্নিত করল ইরান

স্বামীকে ফেন্টানিল মিশিয়ে হ ত্যার দায়ে কৌরি রিচিনসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বামীকে বি ষ মিশিয়ে হ ত্যা! শিশুদের সঙ্গে শোক সামলানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছিলেন বই

বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর নিয়ম স্টেটভেদে ভিন্ন।
বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানো যাবে? স্টেটভেদে জেনে নিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে আসা বাংলাদেশিরা বৈধ বাংলাদেশি ড্রাইভার লাইসেন্স দিয়ে কিছু স্টেটে গাড়ি চালাতে পারেন। তবে সারা দেশে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। ভিজিটর হিসেবে এসেছেন, নাকি ওই স্টেটের বাসিন্দা হয়েছেন, তার ওপরও নিয়ম বদলায়।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিএমভি জানিয়েছে, অন্য দেশের বৈধ লাইসেন্সধারী ভিজিটর নিউইয়র্কে গাড়ি চালাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভিজিটরদের জন্য নির্দিষ্ট ‘১২ মাসের’ সীমা ডিএমভির নির্দেশনায় নেই। তবে নিউইয়র্কের বাসিন্দা হলে ৩০ দিনের মধ্যে সেখানকার ড্রাইভার লাইসেন্স নিতে হবে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ভিজিটর নিজ দেশের বৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালাতে পারেন। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা হলে ১০ দিনের মধ্যে স্টেটের লাইসেন্স নিতে হয়। টেক্সাসের নির্দেশনায় বিদেশি লাইসেন্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর অথবা টেক্সাসের বাসিন্দা হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে ঘটে। নতুন বাসিন্দাকে সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে টেক্সাসের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।   ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং পারমিট বা আইডিপি নিয়েও বিভ্রান্তি আছে। নিউইয়র্কে বিদেশি লাইসেন্সের সঙ্গে আইডিপি বাধ্যতামূলক নয়, তবে লাইসেন্সের তথ্য বুঝতে এটি সহায়ক বলে জানিয়েছে ডিএমভি। আইডিপি মূল ড্রাইভার লাইসেন্সের বিকল্প নয়। বাংলাদেশে আইডিপি ইস্যুর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।   তাই ‘বাংলাদেশি লাইসেন্সে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১২ মাস গাড়ি চালানো যায়’ কিংবা ‘আইডিপি না থাকলে কোনো ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যায় না’—এমন একক নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। গাড়ি চালানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেটের ডিএমভির নিয়ম এবং গাড়ি ভাড়া নিলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসংক্রান্ত শর্ত দেখে নেওয়াই নিরাপদ।   সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৭:৩৭
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস

‘ট্রাম্পের আনুগত্যের পরীক্ষা থেকে বের হতে হবে’, হোয়াইট হাউসকে রিপাবলিকান সিনেটরের বার্তা

ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়

‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি

আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

0 Comments