- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ভারতের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। অনন্তের প্রতিষ্ঠিত বন্য প্রাণী কেন্দ্র ভানতারার কার্যক্রম এবং তাঁর পরিবারের তেল ও গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের এই স্বীকৃতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্তকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভানতারাকে আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসংক্রান্ত উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় এটি একটি ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ স্বীকৃতি; তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়নি। সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল। এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ভানতারায় প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আগে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনা বা তদন্তে ওঠা প্রশ্নকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্তে ভানতারার পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। অনন্তের পরিবার ও ভানতারাও প্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের বক্তব্য, ভানতারার কাজ এবং রিলায়েন্সের জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অনন্তের ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন কেবল একজনকে অধ্যাপকের পদবি দেওয়া নিয়ে নয়; পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেই প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে একই পরিবারের বাবা ও তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার প্রায় ৪০ দিন পরও তাদের খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। পুলিশের দাবি, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু পরিবার বলছে, তারা ভারতীয় নাগরিক। সংবাদমাধ্যম স্ক্রলও বিএসএফ সত্যিই তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়েছে কি না স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। নিখোঁজ চারজন হলেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার বালিয়াঘাটি গ্রামের ৬০ বছর বয়সী দাবলু শেখ এবং তার তিন ছেলে—২৯ বছর বয়সী কায়েম শেখ, ২০ বছর বয়সী রাজাউল শেখ ও ১৬ বছর বয়সী আসমাউল শেখ। দাবলুর স্ত্রী জাহানারা বিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ অথবা ১৪ আগস্ট সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে তার স্বামীকে নিয়ে যান। পরে তিন ছেলেকেও আটক করা হয়। এরপর থেকে স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটার তালিকার তথ্য। স্ক্রল জানিয়েছে, দাবলু শেখ এবং তার ছেলে কায়েম শেখ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পরও তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। স্ক্রল তাদের নাম ভোটার তালিকায় স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে। আরও পুরোনো নথিতে দাবলুর বাবা শেখ সামজানির নাম ১৯৬৬ ও ১৯৯৫ সালে সুতি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংগঠন বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ বা মাসুমের দাবি, চারজনের কাছে আধার কার্ড, রেশন কার্ডসহ ভারতে বসবাসের বিভিন্ন নথিও রয়েছে। সংগঠনটি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে তাদের আটক, ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করা এবং কথিতভাবে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাসুম বলছে, পরিবারের দীর্ঘদিনের ভারতে বসবাস ও ভোটার তালিকার তথ্য থাকার পরও তাদের বিদেশি ঘোষণার আগে স্বচ্ছ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে সুতি থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অভিজিৎ বসু মল্লিক স্ক্রলকে বলেছেন, চারজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের বাংলাদেশে ‘ডিপোর্ট’ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরেনার্স আইনের অধীনে মামলার প্রয়োজন ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনার আওতায় তাদের আটক করে জঙ্গিপুরের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। পরিবার পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। জাহানারা বিবি বলেন, পুলিশ তাদের কাছে বাংলাদেশের কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চেয়েছিল। পরিবারের দাবি, তাদের বাংলাদেশের কোনো নথি নেই এবং তারা কখনো বাংলাদেশেও যাননি। তবে ভোটার কার্ড, আধার বা রেশন কার্ড থাকা একাই কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না; এই চারজনের নাগরিকত্বের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। মুর্শিদাবাদে একই ধরনের আরও অভিযোগ দাবলু শেখের পরিবারের ঘটনাটি সামনে আসার আগেও মুর্শিদাবাদে একই ধরনের বেশ কয়েকটি আটক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্ক্রলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অন্তত ১০ মুসলিম পুরুষ ও দুই শিশুকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করেছিল। দাবলু ও তার তিন ছেলের ঘটনা যুক্ত হলে এমন আটকের সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছায়। কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে বা বাড়ি থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাদের স্বজনদের নিয়ে গেছেন এবং নাগরিকত্বের পক্ষে নথি উপস্থাপনের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্তত চারজন বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাচাই পেরিয়েছিলেন বলে স্ক্রলের অনুসন্ধানে উঠে আসে। কয়েকজন সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। আবার অন্তত একটি ঘটনায় বিএসএফ এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা গ্রহণ না করে পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ নথির বরাতে জানানো হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্টও এ ধরনের আটকের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের ৩৯ বছর বয়সী সাহিদুল শেখকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার আরেক ঘটনায় পুলিশকে হলফনামা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। কেন তাকে আটক করা হয়েছিল এবং ৮ আগস্ট আটকের পর রাজ্য কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ সুপারের কাছেও প্রতিবেদন চাওয়া হয়। স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শুনানিতে আদালত মানবাধিকারের প্রশ্নও তোলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশি সন্দেহ করার ভিত্তি কী এবং নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি রায়ের প্রসঙ্গও আইনজীবীরা তুলেছেন। ২০২৪ সালের রহিম আলী মামলার রায়ে আদালত বলেছিল, কাউকে বিদেশি বলে অভিযোগ করার ভিত্তি যে তথ্য বা উপাদান, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে—যাতে তিনি অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সীমান্তে ‘পুশব্যাক’ নিয়েও বিতর্ক শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক ও সীমান্তের দিকে পাঠানোর অভিযোগ এসেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জুনে অভিযোগ করেছিল, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কিছু বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি একাধিক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে আসা সন্দেহভাজন অনথিভুক্ত অভিবাসীদের পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলতি বছরের মে মাসে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কথিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে স্ক্রল জানিয়েছে। দাবলু শেখ ও তার তিন ছেলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের বর্তমান অবস্থান। পুলিশ বলছে, তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বিএসএফের কাছ থেকে সেই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং পরিবার বলছে, প্রায় ৪০ দিন ধরে তারা জানেই না চারজন কোথায় আছেন। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও মন্তব্য চেয়েছে স্ক্রল; সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্কে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে, তবে সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল, নিয়োগ মেলা, বিনামূল্যের ক্যারিয়ার সহায়তা ও প্রশিক্ষণের মতো বেশ কিছু পথ রয়েছে। তবে কোথাও অংশ নিলেই সরাসরি চাকরি মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি পদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা করে দেখে আবেদন করতে হবে। চাকরি খোঁজার প্রথম জায়গা হতে পারে নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির পোর্টাল। সেখানে প্রতিটি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের ধরন, অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদন করার নিয়ম দেওয়া থাকে। শুধু চাকরির নাম দেখে আবেদন না করে ‘মিনিমাম কোয়ালিফিকেশনস’ বা ন্যূনতম যোগ্যতার অংশটি আগে ভালোভাবে পড়ে নেওয়া জরুরি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর নিয়মিত দেখা। নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস প্রতিবছর বিভিন্ন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথমবার পরীক্ষায় আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ চালু হয়েছে। তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় নয়, তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম দেখে নিতে হবে। তৃতীয় পথ হলো জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। কিছু ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানস্থলেই ইন্টারভিউ নেওয়া হতে পারে। তবে ইন্টারভিউ বা চাকরি কোনোটিই নিশ্চিত নয়। সিটির তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত একটি হায়ারিং হলের তথ্য রয়েছে। তবে ওই সরকারি পাতায় অনুষ্ঠানের শিরোনামে কুইন্স উল্লেখ থাকলেও ঠিকানায় স্টেটেন আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই যাওয়ার আগে সিটির সর্বশেষ ঘোষণায় অনুষ্ঠানস্থল নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। চতুর্থ পথ হলো ওয়ার্কফোর্স ওয়ান ক্যারিয়ার সেন্টার। চাকরি খোঁজা, রিজিউমে তৈরি বা ঠিকঠাক করা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতিতে এখানে বিনামূল্যে সহায়তা পাওয়া যায়। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ করে রিজিউমে কীভাবে সাজাতে হবে বা ইন্টারভিউতে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে এই সেবা কাজে আসতে পারে। পঞ্চম পথ ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্ট। যোগ্য প্রার্থীরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের টিউশন, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার ফি এবং বইয়ের খরচে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গ্রান্টের সংখ্যা সীমিত এবং আবেদন করলেই অনুমোদন নিশ্চিত নয়। কোথাও ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ ডলারের ভাউচারের কথা বলা হলেও, এই পরিমাণ সবার জন্য নির্ধারিত—এমন তথ্য সিটির নির্দেশনায় নেই। একইভাবে কোনো কোর্স শেষ করলেই সেটিকে চাকরির অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা হবে, এমনও কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। ষষ্ঠত, এমটিএ ও ডিপার্টমেন্ট অব স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সিটি ও পাবলিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরির বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা যেতে পারে। পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন বা অফিসের মতো বিভিন্ন ধরনের পদে সুযোগ আসতে পারে। তবে প্রতিটি চাকরির যোগ্যতা আলাদা। সব এন্ট্রি-লেভেল পদে অভিজ্ঞতা লাগবে না, আবার শুধু একটি সেফটি সার্টিফিকেট থাকলেই সব পদে আবেদন করা যাবে—এমন ধারণাও ঠিক নয়। সপ্তম পথ হলো প্রতিবন্ধী যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সিটির ৫৫-এ কর্মসূচি। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কিছু সিভিল সার্ভিস পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ থাকতে পারে। তবে শুধু এই কর্মসূচির আওতায় পড়লেই চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রার্থীর প্রতিবন্ধিতার যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার শর্তও পূরণ করতে হয়। চাকরি খোঁজার আগে নিজের একটি হালনাগাদ রিজিউমে তৈরি করে রাখা সবচেয়ে ভালো। এরপর নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মেলে এমন কয়েকটি পদ বেছে নিয়ে নিয়মিত আবেদন করা যেতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন বা আগের নিয়োগ মেলার তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ চাকরির সংখ্যা, আবেদনের সময়সীমা, যোগ্যতা এবং নিয়োগের নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি চাকরি’, ‘নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি’ কিংবা ‘মেলায় গেলেই নিয়োগ’—এ ধরনের দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না ধরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ। নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য চাকরি পাওয়া সহজ নাও হতে পারে, কিন্তু সঠিক জায়গায় খোঁজ করলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব। সরকারি চাকরির পোর্টাল নিয়মিত দেখা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার খবর রাখা, ক্যারিয়ার সেন্টারের সহায়তা নেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ কাজে লাগানো—চাকরি খোঁজার শুরুতে এসব পদক্ষেপই সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে।
২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট কুয়েতের জাহরা এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নারীদের তাঁবুতে আগুন লেগে ৫৭ জন নারী ও শিশু নি হ ত হন। বর দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর প্রথম স্ত্রী নাসরা ইউসুফ মোহাম্মদ আল এনেজি তাঁবুতে আগুন দিয়েছিলেন বলে পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁকে দো ষী সাব্যস্ত করে। কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়া এবং তাঁবু থেকে বের হওয়ার পথ একটি হওয়ায় প্রা ণ হা নি এত বেশি হয়েছিল। দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানটি চলছিল নারী ও পুরুষ অতিথিদের জন্য আলাদা আয়োজনে। আগুন লাগে নারীদের অংশে, যেখানে শিশুদেরও অনেকে ছিলেন। তদন্ত ও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, নাসরা তাঁবুর কাছে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রায় ২০০ জনের বসার উপযোগী তাঁবুটিতে বের হওয়ার জন্য ছিল একটি পথ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে অতিথিরা সেই পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পরদিন নাসরাকে গ্রে প্তার করা হয়। ২০১০ সালের মার্চে কুয়েতের একটি আদালত তাঁকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা এবং হ ত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের দায়ে মৃ ত্যু দণ্ড দেয়। পরে আপিল আদালতও সেই সাজা বহাল রাখে। বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য থাকলেও ২০১০ সালের রায়ের সংবাদে ৫৭ জনের মৃ ত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়। দণ্ডাদেশের প্রায় সাত বছর পর, ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি কুয়েতে আরও ছয়জনের সঙ্গে নাসরার মৃ ত্যু দণ্ড কার্যকর করা হয়। যে বিয়েকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছিল, সেদিনের আগুনে প্রা ণ হারিয়েছিলেন এমন বহু নারী ও শিশু, যাঁদের সঙ্গে ওই দাম্পত্য বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে সাজানো বিয়ের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা আন্তোনিয়া বিট্রিস মিরচা। রোমানিয়ার ৩৩ বছর বয়সী এই নাগরিক বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। তাঁর সাজা ঘোষণা করা হয়নি; আগামী ২৫ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে সেই শুনানি নির্ধারণ করেছেন বিচারক। নিউ জার্সির ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, মিরচা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে বিয়ে করেন। আদালতে দেওয়া বক্তব্য ও মামলার নথিতে বিয়েটিকে সাজানো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যের কথাও বলা হয়েছে, তবে বিয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। এই মামলায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টিই সরাসরি উঠে এসেছে। প্রসিকিউটররা জানান, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসে জমা দেওয়া ফর্মে মিরচা দাবি করেছিলেন, তিনি ও পুরিলা আটলান্টিক সিটিতে একসঙ্গে থাকেন। কিন্তু মামলার নথি অনুযায়ী, পুরিলা কখনো তাঁর সঙ্গে থাকেননি; তিনি নিউ জার্সির অ্যাবসিকনে নিজের বাসায় থাকতেন। বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণার ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগে মিরচা দোষ স্বীকার করেছেন, তাতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, আড়াই লাখ ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। এগুলো সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দণ্ড; আদালত এখনো তাঁর সাজা নির্ধারণ করেননি।
বাংলাদেশের গল্প ও চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ নিয়ে পোস্ট করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন। শুক্রবার নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ছবিটির সিডনি ও মেলবোর্নের দুই গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের কথা তুলে ধরে হাইকমিশন লিখেছে—“Bangladeshi voices. Australian screens”, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’। পোস্টে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন জানায়, সুমিতের ‘মাস্টার’ সম্প্রতি সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দর্শকদের কাছে জানতে চেয়েছে—চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার মানুষ বাংলাদেশের কোন বিষয়টি জানুক, সেটি তারা দেখতে চান? অস্ট্রেলিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ‘মাস্টার’-এর প্রদর্শনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২৬ মিনিটের বাংলা ভাষার ছবিটি ৭৩তম সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান প্রিমিয়ার করে। উৎসব কর্তৃপক্ষ ছবিটিকে বাংলাদেশের ছোট একটি শহরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সংঘাত নিয়ে নির্মিত রাজনৈতিক ড্রামা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। সিডনির পর আগস্টে ছবিটি জায়গা করে নেয় মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। সেখানে এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগে ছবিটি প্রদর্শিত হয় এবং এটি ছিল ছবিটির ভিক্টোরিয়ান প্রিমিয়ার। মেলবোর্ন উৎসবের বর্ণনায় ‘মাস্টার’-কে একজন আদর্শবাদী গ্রামীণ শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশের পর ক্ষমতা, প্রভাব ও দুর্নীতির চাপে কীভাবে বদলে যান—সেই গল্প হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহির। তিনি একজন শিক্ষক, যিনি স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হন। কিন্তু রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী, স্থানীয় সন্ত্রাসী, পুলিশ ও আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে থাকেন। জাহির চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আরও রয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবুসহ অন্যরা। অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বড় স্বীকৃতি পেয়েছে ‘মাস্টার’। চলতি বছরের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডামের বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে ‘বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড’ জেতে ছবিটি। রটারডাম উৎসবের অফিসিয়াল তথ্যেও ২০২৬ সালের বিজয়ী হিসেবে ‘মাস্টার’-এর নাম রয়েছে। সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির নির্বাচনের সময় সুমিত বলেছিলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতির গভীরে থাকা একটি ছোট গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা হোক কিংবা বড় আন্তর্জাতিক শহর—ক্ষমতার প্রভাব, নৈতিকতা ধরে রাখার সংগ্রাম এবং এর মানবিক মূল্য সর্বজনীন বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার এসবিএস বাংলাও সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সময় সুমিত ও ‘মাস্টার’ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা, ক্ষমতা, প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো ছবিটিতে উঠে আসার কথা বলা হয়। এবার অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রা তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে হাইকমিশনের ‘বাংলাদেশের কণ্ঠ, অস্ট্রেলিয়ার পর্দায়’ বার্তাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ানোর দিকটিও সামনে এনেছে। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন, বাংলাদেশ; সিডনি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; মেলবোর্ন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল; ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারডাম; এসবিএস অস্ট্রেলিয়া
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আনন্দ ও স্বাগত মিছিল করেছেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকে ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে তারা জড়ো হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার হাতে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডা থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া, বোস্টন, ওয়াশিংটন ডিসি, নিউজার্সি, শিকাগো, কানেকটিকাট, পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির সমন্বয় করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য এবং নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেলিম রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেওয়ায় তারা গর্বিত ও আনন্দিত। অন্যদিকে ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলুও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। তিনি তারেক রহমানের জাতিসংঘে বক্তব্যকে বিএনপির রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার নিজস্ব মতামত হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছালে বিএনপি নেতাকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। বিমানবন্দর এবং হোটেলের কাছেও স্বাগত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেন তারেক রহমান। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। প্রায় ২১ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিএনপির এই কর্মসূচি মূলত প্রবাসী নেতাকর্মীদের স্বাগত ও আনন্দ প্রকাশের আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সময়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্বাগত কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়।
বিচারক হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ চাইতে গিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উদাস গোস্বামীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল চৈতি বিশ্বাসের। সেই পরিচয় থেকে বিয়ে। এবার ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন চৈতি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর জীবনে যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়। উদাস গোস্বামী নিজেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চৈতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় অবশ্য ক্যাম্পাসে পড়ার সময় হয়নি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদাস জানান, তিনি চৈতির চার ব্যাচ সিনিয়র। বিচারক হওয়ার পর প্রস্তুতি নিয়ে যাঁরা তাঁর কাছে পরামর্শ চাইতেন, চৈতি ছিলেন তাঁদের একজন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। উদাসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দেখাতেই চৈতিকে তাঁর ভালো লাগে। এরপর দুই পরিবারের আলোচনায় তাঁদের বিয়ে হয়। চৈতি যখন বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন উদাস। কীভাবে বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়তে হবে, উত্তর লেখার ধরন কেমন হতে পারে, এসব নিয়ে তাঁদের নিয়মিত আলোচনা হতো। তবে চৈতির সাফল্যের মূল কৃতিত্ব তাঁর নিজের অধ্যবসায়কেই দিয়েছেন উদাস। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চৈতি নিয়ম মেনে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করেছেন। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে তা লিখে রাখতেন, পরে আলোচনা করে সমাধান খুঁজতেন। পড়ার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি। ফল জানার মুহূর্তটির কথা বলতে গিয়ে উদাস জানান, প্রথমে তিনি কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেননি। পরে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের উচ্ছ্বাস দেখে আনন্দ আরও বেড়ে যায়। পঞ্চগড়ে কর্মরত উদাসের গ্রামের বাড়ি রংপুরে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চৈতির সাফল্যের খবর পেয়ে গ্রামের মানুষও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। চৈতি আপাতত বিচারক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত। নিয়োগ ও যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। সূত্র : দি ডেইলি ক্যাম্পাস
নিউইয়র্কে নতুন এসেছেন, পরিবার নিয়ে বাসা বদলাতে চান কিংবা একটু কম ভাড়ায় ভালো অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছেন—বাংলাদেশিদের জন্য শুরুতেই বাসা পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোন ওয়েবসাইটে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন আসে, ব্রোকার ফি কে দেবে, কত টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট নেওয়া যাবে কিংবা অনলাইনে দেওয়া বিজ্ঞাপনটি আসল কি না—এসব জানা না থাকলে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার জন্য কয়েকটি পরিচিত রেন্টাল ওয়েবসাইট রয়েছে। পাশাপাশি কম ও মাঝারি আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিজে থেকে হাউজিং কানেক্টে আবেদন করার বাধা নয়। তবে প্রতিটি বাসার জন্য আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা। ১. স্ট্রিটইজি নিউইয়র্কে বাসা খোঁজার সবচেয়ে পরিচিত ওয়েবসাইটগুলোর একটি স্ট্রিটইজি। এখানে কোন বরো বা এলাকায় বাসা চান, কত ভাড়া দিতে পারবেন, কয়টি বেডরুম বা বাথরুম দরকার, পোষা প্রাণী আছে কি না—এসব অনুযায়ী সহজেই খোঁজ করা যায়। ২৫ সেপ্টেম্বর স্ট্রিটইজির সার্চে নিউইয়র্ক সিটিতে ১৬ হাজারের বেশি রেন্টাল লিস্টিং দেখা যাচ্ছিল। তবে এই সংখ্যা প্রতিদিনই বদলাতে পারে। পছন্দের এলাকার সার্চ সেভ করে রাখলে নতুন বাসার বিজ্ঞাপন দ্রুত দেখা যায়। ২. জিলো জিলো শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাসা ভাড়া ও কেনার জন্য ব্যবহৃত বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজের বাজেট ও পছন্দের এলাকা দিয়ে সহজেই বাসা খুঁজে দেখা যায়। কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কসের পাশাপাশি নিউইয়র্কের আশপাশের এলাকাও দেখতে চাইলে জিলোর ম্যাপ ফিচার বেশ কাজে আসতে পারে। এতে একাধিক এলাকার ভাড়া পাশাপাশি তুলনা করা সহজ হয়। ৩. অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম অ্যাপার্টমেন্টস ডটকম-এও নিউইয়র্কের অনেক রেন্টাল লিস্টিং পাওয়া যায়। এখানে বাসার ছবি, ভাড়া, বেডরুম, সুযোগ-সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল ট্যুরও দেখা যায়। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু একটি ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর না করে একই ঠিকানা অন্য সাইটেও খুঁজে দেখা ভালো। এতে ভাড়া, এজেন্টের তথ্য এবং বাসার বিজ্ঞাপন মিলিয়ে দেখা যায়। ৪. হটপ্যাডস হটপ্যাডসও বাসা ভাড়ার একটি পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি জিলো গ্রুপের অংশ। তাই জিলো গ্রুপের অন্য ওয়েবসাইটে দেখা কিছু বিজ্ঞাপন এখানেও পাওয়া যেতে পারে। ৫. ট্রুলিয়া ট্রুলিয়াতেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকার ভাড়া বাসা খুঁজে পাওয়া যায়। এটিও জিলো গ্রুপের প্ল্যাটফর্ম। ফলে জিলো, হটপ্যাডস বা অন্য প্ল্যাটফর্মে থাকা কিছু একই বিজ্ঞাপন এখানে আবার দেখা যেতে পারে। তাই পাঁচটি ওয়েবসাইটে খুঁজলেই পাঁচ রকম আলাদা বাসার বাজার পাওয়া যাবে—এমন নয়। একই অ্যাপার্টমেন্ট একাধিক সাইটে দেখলে ঠিকানা, ভাড়া, এজেন্টের নাম এবং অতিরিক্ত ফি মিলিয়ে দেখুন। কম ভাড়ার বাসার জন্য হাউজিং কানেক্ট সাধারণ রেন্টাল ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল। এখানে পাঁচ বরোতে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট এবং কিছু বাড়ি কেনার সুযোগে আবেদন করা যায়। তবে হাউজিং লটারিতে আবেদন করলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবাসনের জন্য পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যার আলাদা শর্ত থাকে। যোগ্যদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় এবং অনেক সময় কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের কারণে কেউ নিজে থেকেই হাউজিং কানেক্টের লটারি বা রি-রেন্টালে আবেদন থেকে বাদ পড়েন না। তবে নির্বাচিত হলে আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য আইডিএনওয়াইসি নিউইয়র্ক স্টেটের ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকলে আইডিএনওয়াইসি পরিচয়পত্র হিসেবে কাজে লাগতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী সিটির বাসিন্দারা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে আইডিএনওয়াইসির জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি হাউজিং-সংক্রান্ত কাজেও পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রোকার ফি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিউইয়র্কে বাসা নেওয়ার সময় বড় অঙ্কের ব্রোকার ফি দিতে হবে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। ফেয়ারনেস ইন অ্যাপার্টমেন্ট রেন্টাল এক্সপেন্সেস বা ফেয়ার অ্যাক্ট ১১ জুন ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের অধীনে বাড়িওয়ালা যে ব্রোকার বা লিস্টিং এজেন্ট নিয়োগ করেছেন, তার ফি ভাড়াটিয়ার ওপর চাপানো যাবে না। বাড়িওয়ালা বা তার এজেন্টকে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া অন্যান্য ফিও আগে জানাতে হয়। তবে ভাড়াটিয়া নিজে যদি নিজের প্রয়োজনের জন্য আলাদা ব্রোকার নিয়োগ করেন, তাহলে সেই ব্রোকারের ফি তাকে দিতে হতে পারে। তাই টাকা দেওয়ার আগে জেনে নিন—ব্রোকারকে নিয়োগ করেছেন কে। আইনবহির্ভূত ব্রোকার ফি দাবি করা হলে নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করা যায় বা ৩১১-এ যোগাযোগ করা যায়। সিকিউরিটি ডিপোজিট কত? নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে বাড়িওয়ালা এক মাসের ভাড়ার বেশি সিকিউরিটি ডিপোজিট নিতে পারেন না। তাই কেউ যদি দুই বা তিন মাসের ভাড়ার সমান বড় ডিপোজিট দাবি করেন, টাকা দেওয়ার আগে নিয়মটি যাচাই করে নিন। অ্যাপ্লিকেশন ফি কত? লিজ সই করার আগে ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ ২০ ডলার নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট ইনভয়েসের কপি আবেদনকারীকে দিতে হয়। গত ৩০ দিনের মধ্যে করা গ্রহণযোগ্য ক্রেডিট বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক থাকলে সেটি ব্যবহার করার সুযোগও থাকতে পারে। এতে একই পরীক্ষার জন্য আবার টাকা দিতে নাও হতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই যাচাই করুন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, কমিউনিটি গ্রুপ বা পরিচিতদের মাধ্যমে নিউইয়র্কে বাসার বিজ্ঞাপন পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেখান থেকেও ভালো বাসা পাওয়া যেতে পারে। তবে পরিচিত কেউ বিজ্ঞাপন দিয়েছে বলেই যাচাই না করে টাকা পাঠানো ঠিক নয়। কেউ যদি বলেন, ‘অনেক মানুষ বাসাটি নিতে চাইছে, এখনই ডিপোজিট পাঠান’—তাহলে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। প্রথমে বাসার সঠিক ঠিকানা নিন। সম্ভব হলে নিজে গিয়ে বাসাটি দেখে আসুন। বাড়িওয়ালা বা এজেন্টের পরিচয় যাচাই করুন। একই ঠিকানা অন্য কোথাও অন্য নাম বা অন্য ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও দেখুন। লিজ না পড়ে এবং টাকা কার কাছে যাচ্ছে তা নিশ্চিত না হয়ে নগদ টাকা, ওয়্যার ট্রান্সফার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাবেন না। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি লিজের সব শর্ত বুঝে নেওয়া খুব জরুরি। কোনো বিষয় পরিষ্কার না হলে পরিচিত কাউকে দিয়ে পড়ে নিন বা প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিন। আয় কম হলে সহায়তাও পাওয়া যায় হাউজিং কানেক্টের আবেদন বুঝতে সমস্যা হলে নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং অ্যাম্বাসেডরস কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাওয়া যায়। এ ছাড়া রেডি টু রেন্ট কর্মসূচির মাধ্যমে বিনামূল্যে আর্থিক কাউন্সেলিং এবং হাউজিং আবেদন প্রস্তুত করার সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। বাসা হারানোর ঝুঁকিতে থাকা বা গুরুতর আবাসন সমস্যায় থাকা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য আরও কিছু রেন্টাল সহায়তা ও হোমলেসনেস প্রিভেনশন কর্মসূচি রয়েছে। বাসা খোঁজার সহজ কৌশল প্রথমে ঠিক করুন, প্রতি মাসে সর্বোচ্চ কত ভাড়া দিতে পারবেন। এরপর কাজ, স্কুল, মসজিদ, গ্রোসারি, সাবওয়ে বা পরিবারের কাছে যাতায়াতের জন্য কোন এলাকা সুবিধাজনক হবে, সেটি ঠিক করুন। তারপর স্ট্রিটইজি, জিলো ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সেই বাজেট ও এলাকার ভিত্তিতে সার্চ সেভ করে রাখুন। নতুন লিস্টিং এলে দ্রুত যোগাযোগ করুন। একই সঙ্গে হাউজিং কানেক্টে প্রোফাইল তৈরি করে আপনার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার সঙ্গে মেলে এমন লটারিতে আবেদন করতে থাকুন। কোনো বাসা পছন্দ হলে শুধু মাসিক ভাড়া দেখলেই হবে না। মোট কত টাকা দিতে হবে, অতিরিক্ত কোনো মাসিক ফি আছে কি না, ইউটিলিটি কে দেবে, লিজ কত দিনের এবং বাসাটি রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড কি না—এসবও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে ভালো বাসা খুঁজে পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে নিয়মিত খোঁজ করা, সরকারি সুযোগ কাজে লাগানো এবং টাকা দেওয়ার আগে সবকিছু যাচাই করা গেলে অনেক ঝুঁকি ও অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সম্ভব। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এনওয়াইসি ৩১১, ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, আইডিএনওয়াইসি, স্ট্রিটইজি
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে আদালতে এক নারী আইনজীবীর হাতাকাটা পোশাক নিয়ে বিচারকের আপত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সান অ্যান্টোনিওর ক্রিমিনাল ডিফেন্স আইনজীবী মারিয়া মেডিনার দাবি, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অংশ নিতে গেলে বিচারক তার পোশাককে আদালতের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ বলে প্রশ্ন তোলেন এবং সঙ্গে ব্লেজার আছে কি না জানতে চান। ঘটনাটি ২১ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের বেক্সার কাউন্টির একটি আদালতে ঘটে। ৩২ বছর বয়সী মেডিনা আগে সান অ্যান্টোনিওতে টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ওই দিন তিনি ধূসর রঙের হাতাকাটা জে.ক্রু শিফট ড্রেস পরে আদালতে গিয়েছিলেন। পোশাকটি হাঁটুর কাছাকাছি দৈর্ঘ্যের ছিল। মেডিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারক তাকে বেঞ্চের কাছে ডেকে পোশাকটি দেখতে চান। অন্য আইনজীবী ও আসামিদের সামনেই তাকে পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বিচারক জানতে চান, তিনি সত্যিই মনে করেন কি না যে এই পোশাক পরে জুরি ট্রায়ালে অংশ নেওয়া উপযুক্ত। এরপর তার গাড়িতে কোনো ব্লেজার আছে কি না জানতে চাওয়া হয়। ঘটনার পর নিজের পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেডিনা। তিনি জানান, একই পোশাক টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের সময় বহুবার পরেছেন এবং এর আগেও বিভিন্ন আদালতে এটি পরে গেছেন। কোথাও আপত্তির মুখে পড়েননি। তাই বিচারকের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানান। মেডিনা আরও দাবি করেন, আদালতের বাইরে পোশাকসংক্রান্ত যেসব নিষেধাজ্ঞা লেখা রয়েছে, তার পোশাক সেগুলোর কোনোটি লঙ্ঘন করেনি। বেক্সার কাউন্টির ক্রিমিনাল কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, আইনজীবী ও আদালতের কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক বা পেশাদার পোশাক পরতে হয়। তবে নির্দিষ্ট আদালতে তুলনামূলক কম আনুষ্ঠানিক পোশাক গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে বিচারকের কিছু বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। মেডিনা জানিয়েছেন, ওই দিন তার মামলাটি জুরি ট্রায়ালে যাচ্ছিল না; এটি ছিল সংক্ষিপ্ত শুনানি। তারপরও ভবিষ্যতে ওই বিচারকের আদালতে গেলে তিনি ব্লেজার পরবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালতের কর্তৃত্বের প্রতি তার সম্মান রয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের প্রতি অসম্মান দেখানোর কোনো উদ্দেশ্য তার নেই। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ মেডিনার পোশাককে পেশাদার ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, আদালতের মতো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে আইনজীবীদের কাঁধ ঢাকা পোশাক বা ব্লেজার পরাই উচিত। তবে বিচারক ঠিক কী কারণে পোশাকটিকে অনুপযুক্ত মনে করেছিলেন, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির বর্ণনা মূলত মেডিনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য ও পরবর্তী সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস-নিউজ, এনডিটিভি, ইকোনমিক টাইমস
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ২৭ তলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদান নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিশ্বশান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বের কথা বলেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া বিশ্বনেতাদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজ ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল পুনর্গঠনের জন্য ঋণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক অনুদান চেয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত আন্তর্জাতিক ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর কাছে জরুরি ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। প্রাথমিক হিসাবে সাম্প্রতিক দুর্যোগে নেপালের সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, আর পুনর্গঠনে প্রয়োজন হতে পারে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই সহায়তার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ঋণের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা করা প্রয়োজন। আগস্টের শেষ দিকে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, হাজারো মানুষ নিখোঁজ হন এবং সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাবে দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির প্রাথমিক হিসাবে শুধু সম্পদ, আবাসন ও অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বা ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। তবে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক পুনর্গঠনে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে—যা নেপালের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশের সমান। এই বিপুল ক্ষতির মধ্যে নেপালের অর্থ ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদন করেছে। বর্তমানে একটি দেশের একক আবেদনের সর্বোচ্চ সীমাই ২ কোটি ডলার। ফলে নেপাল সর্বোচ্চ অনুমোদিত অর্থ চেয়েছে। তবে ২ কোটি ডলার নেপালের সামগ্রিক ক্ষতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির এক শতাংশেরও কম। আর প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য পুনর্গঠন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও বড়। নেপাল এই সহায়তাকে প্রচলিত অর্থে দাতব্য সাহায্য হিসেবে দেখতে চায় না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, এটি ‘ক্লাইমেট জাস্টিস’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। তার বক্তব্য, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০ দশমিক ১ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় মূল্য দেশটির মানুষকে দিতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও জাতিসংঘে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি সাম্প্রতিক বন্যাকে শুধু নেপালের স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং বিশ্বের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বক্তব্য, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীর আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়েও নতুন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এসেছে। বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল জানিয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। উষ্ণতা বৃদ্ধি, হিমবাহ গলন এবং পারমাফ্রস্ট দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে নেপালের ২ কোটি ডলারের জরুরি আবেদন এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়নি। লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের বোর্ড নেপালের অনুরোধ পাওয়ার পর জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব সহায়তার উপায় খুঁজতে আলোচনা ও সমন্বয় চলছে। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নেপাল এর আগে আলাদা প্রস্তাবের ভিত্তিতে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলারের অর্থায়নের অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর করা নতুন জরুরি ২ কোটি ডলারের আবেদনটি আলাদা, এবং সেটির সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষমাণ। এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্গঠনের জন্য নেপাল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রায় ৯ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বন্যা পুনরুদ্ধার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে হিমালয় অঞ্চলের জন্য একটি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে নেপাল, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব রয়েছে। বন্যাবিধ্বস্ত নেপালের সামনে এখন তাই শুধু ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নয়; বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই পুনর্গঠনের অর্থ কোথা থেকে আসবে। কাঠমান্ডুর অবস্থান হলো—জলবায়ু সংকট তৈরিতে যেসব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ভূমিকা সামান্য, তাদের নতুন ঋণের বোঝায় না ফেলে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে ক্ষতি সামাল দিতে সহায়তা করা উচিত। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, ডয়চে ভেলে, দ্য গার্ডিয়ান, কাঠমান্ডু পোস্ট, কার্বন ব্রিফ
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের চাপ এখনো কাটেনি। উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে আগস্টে নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমেছে। একই সময়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকটও রয়ে গেছে বলে সাম্প্রতিক আবাসন বাজারের তথ্য ও গবেষণায় উঠে এসেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। আরও বড় পতন হয়েছে নির্মাণ শেষ হওয়া বাড়ির সংখ্যায়—এক বছরের ব্যবধানে তা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। তবে সব ধরনের নির্মাণে একই চিত্র দেখা যায়নি। একক পরিবারের বাড়ির নির্মাণ শুরু জুলাইয়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে একাধিক পরিবারের জন্য নির্মিত ভবনের কাজ শুরু আগের মাসের তুলনায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। নির্মাতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমের উচ্চ ব্যয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন আবাসন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণের দাম ৪২ শতাংশ এবং নির্মাণশ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যয় ২৪ শতাংশ বেড়েছে। বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য মর্টগেজ সুদও বড় চাপ হয়ে আছে। ফ্রেডি ম্যাকের ২৪ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদ ৭ দশমিক ০৩ শতাংশে উঠেছে। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং এক বছর আগে ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে ভাড়ার বাজার কিছুটা ঠান্ডা হলেও সাশ্রয়ী বাসার সংকট কাটেনি। হার্ভার্ডের জুন ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মাণ কার্যক্রম দুর্বল হচ্ছে এবং ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিক—উভয়ের আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। আর মার্চের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে পেশাদারভাবে পরিচালিত অ্যাপার্টমেন্টের চাওয়া ভাড়া এক বছরের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমলেও বহু পরিবারের জন্য বাসা এখনো নাগালের বাইরে। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঘাটতির বিষয়টিও এই বাজারের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ প্রকাশিত জাতীয় ঘাটতির হিসাবে, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় ৩৭ লাখ হাউজিং ইউনিট কম ছিল। এটি ২০২৬ সালের বর্তমান ঘাটতির হিসাব নয়; তবে প্রতিষ্ঠানটির ওই গবেষণা দেখায়, কয়েক বছর ধরে নতুন বাড়ি যুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি বড় রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক চিত্রে একদিকে কিছু রেন্টাল মার্কেটে ভাড়া স্থিতিশীল বা কমছে, অন্যদিকে উচ্চ মর্টগেজ সুদ, নির্মাণ ব্যয় এবং নতুন বাড়ি সম্পন্ন হওয়ার ধীরগতি আবাসন বাজারের ওপর চাপ ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট এখন শুধু কত বাড়ি আছে সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়—মানুষের নাগালের মধ্যে কত বাসা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। সূত্র: ফ্রেডি ম্যাক, হার্ভার্ড জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজ, রিয়েলটর ডটকম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ব্যর্থ হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির চার সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। শেষ পর্যন্ত ৫০-৪৯ ভোটে প্রস্তাবটি আটকে যায়। প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, কেন্টাকির র্যান্ড পল এবং নর্থ ক্যারোলাইনার থম টিলিস। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান একমাত্র সদস্য হিসেবে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাঞ্জেলা আলসোব্রুকস ভোট দেননি। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা। এতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা বা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না দিলে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সরকার বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধ বা দখলদারির জন্য ব্যবহৃত বাহিনীও এর আওতায় থাকত। ভোটটি মূলত দলীয় বিভাজনের মধ্যেই হয়েছে। অধিকাংশ রিপাবলিকান প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেন এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট সমর্থন দেন। তবে চার রিপাবলিকানের দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে থম টিলিস এবার প্রথমবারের মতো এই প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একই ধরনের ভোটে তিনি এই অবস্থান নেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের মেয়াদ ও এটি শেষ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা অবশ্য নতুন নয়। গত কয়েক মাসে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে একাধিকবার ওয়ার পাওয়ার্স প্রস্তাব আনা হয়েছে। জুনে সিনেট একটি হাউস-পাসড সমান্তরাল প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল, যেখানে চার রিপাবলিকান—সুসান কলিন্স, বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাউস্কি ও র্যান্ড পল—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ভোটে অবশ্য ক্যাসিডি প্রস্তাবটির পক্ষে ছিলেন না, আর নতুন করে সমর্থন দেন টিলিস। ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যে কারা ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভূমিকা বাড়াতে চান, সেই সমীকরণেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দীর্ঘায়িত সংঘাত এবং জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চ মূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিছু রিপাবলিকানও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বৃহস্পতিবারের ভোটে রিপাবলিকানদের বড় অংশ ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পক্ষেই ছিলেন। সিনেটের ভোটটি এমন দিনেই হয়েছে, যেদিন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে যুদ্ধ পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ, এবিসি নিউজ
এইচআইভি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এক ধরনের ওষুধে পরিবর্তন এনে তৈরি করা নতুন একটি ওষুধ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা এমএসের কারণে তৈরি হওয়া কিছু গুরুতর সমস্যা কমাতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর অর্থায়নে করা গবেষণায় প্রাণীর ক্ষেত্রে আগে থেকেই তৈরি হওয়া দৃষ্টিশক্তি হারানো ও চলাফেরার সমস্যায় উন্নতির দেখা মিলেছে। তবে এখনো মানুষের ওপর এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। গবেষণায় **কামুভুডিন-৯ বা কে-৯** নামের পরীক্ষামূলক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এটি এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই শ্রেণির অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ থেকে তৈরি একটি পরিবর্তিত সংস্করণ। গবেষকদের ধারণা, কে-৯ মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে থাকা **ইনফ্ল্যামাসোম** নামের একটি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে বাধা দেয়, যা অতিরিক্ত সক্রিয় হলে স্নায়ুকোষের ক্ষতি ও মৃ ত্যু ঘটাতে পারে। গবেষণায় এমএসের মতো উপসর্গ তৈরি করা ইঁদুরকে কয়েক দিন পর কে-৯ দেওয়া হয়। তখন তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে স্নায়বিক সমস্যা, চলাফেরার দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি দেখা দিয়েছিল। চিকিৎসার পর গবেষকরা দেখতে পান, কে-৯ দেওয়া প্রাণীগুলো শুধু নতুন স্নায়বিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষিতই থাকেনি, বরং আগের কিছু চলাফেরার সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, কে-৯ স্নায়ুর প্রধান অংশ **অ্যাক্সন** এবং তাকে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক আবরণ **মাইলিন শিথ**কে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে। এই অংশগুলো মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে স্নায়ুর সংকেত পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীদের রক্তে স্নায়ুর ক্ষতির একটি জৈবচিহ্নও কম পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসাটির সম্ভাব্য স্নায়ু-সুরক্ষাকারী প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মানুষের স্বাস্থ্য-তথ্য বিশ্লেষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য পর্যালোচনা করে গবেষকরা দেখতে পান, এইচআইভি বা হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় ব্যবহৃত এনআরটিআই ওষুধ গ্রহণকারীদের মধ্যে এমএস শনাক্ত হওয়ার হার কম ছিল। যাদের আগে থেকেই এমএস ছিল, তাদের মধ্যেও পরবর্তী সময়ে রোগের পুনরাবৃত্তির হার তুলনামূলক কম দেখা গেছে। তবে এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যায় না যে ওই ওষুধগুলো এমএস প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করে। এমএস হলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বাভাবিক তথ্য আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে সুস্থ স্নায়ু টিস্যুতে আক্রমণ করাই মূল সমস্যা। প্রচলিত চিকিৎসাগুলো সাধারণত এই রোগপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নতুন করে রোগের আক্রমণ বা রিল্যাপ্স কমানোর চেষ্টা করে, কিন্তু আগে থেকে তৈরি হওয়া স্নায়ুর ক্ষতি সাধারণত ঠিক করতে পারে না। নতুন গবেষণায় অবশ্য আরেকটি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ সরাসরি সবসময় স্নায়ুকোষ ধ্বংস করে না; বরং এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের ভেতরে থাকা
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পরাজিত হবে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ইসরায়েলের সামনে জয় ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। নেতানিয়াহু তার ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন কাজ হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তার জন্য সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তার ভাষ্য, হামলা না করলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠত। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ইরানের বর্তমান সরকার নিয়েও কঠোর বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন সময়ের ব্যাপার। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, একদিন তারা মুক্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের শক্তি ক্ষমতাসীনদের ওপর জয়ী হবে। তবে ইরানের সরকার কবে বা কীভাবে পরিবর্তিত হবে—এটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পূর্বাভাস, প্রতিষ্ঠিত কোনো ঘটনা নয়। ভাষণের একপর্যায়ে একটি স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট রিসিভার তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। ইরানের জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের জন্য সেটি রেখে যাওয়ার কথাও বলেন। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের চলমান সংঘাতকে একাধিক ফ্রন্টের যুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরেন। ইরান ছাড়াও হামাস, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এসব লড়াইয়ে ইসরায়েল শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে। তবে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বহু প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানিয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, কয়েক ডজন প্রতিনিধি তার বক্তব্যের শুরুতেই হল ত্যাগ করেন। নেতানিয়াহু তাদের সমালোচনা করে ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়েও ভাষণে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। গাজায় গণহত্যার অভিযোগকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইসরায়েল হামাসকে লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করছে বলে দাবি করেন। অন্যদিকে গাজার বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা নির্ধারণের দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের এবং তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না। জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর মূল বার্তা ছিল—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থান থেকে ইসরায়েল সরে আসবে না এবং শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ার লক্ষ্যেই অভিযান চালিয়ে যাবে। তবে তার ভাষণে ইরানের ভবিষ্যৎ, দেশটির সরকারের পতন এবং যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে দেওয়া বক্তব্যগুলো নেতানিয়াহুর নিজস্ব দাবি ও পূর্বাভাস। সূত্র: জাতিসংঘ, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রে ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করার সময় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৭ ধরনের আবেদনকারী এই ফি-মওকুফের আওতায় পড়তে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নিজে থেকেই কার্যকরও হয় না। প্রথমত, A, G, C-2, C-3, NATO ও কূটনৈতিক ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। এসব ভিসা মূলত কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি কাজে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়ত, J ভিসায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত নির্দিষ্ট শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন ফি মওকুফ করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই ছাড় নির্দিষ্ট সরকারি অর্থায়ন ও প্রোগ্রাম সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছেন এমন আবেদনকারীরা, যাদের মেশিন-রিডেবল ভিসা নতুন করে প্রতিস্থাপন বা পুনরায় ইস্যু করতে হচ্ছে আবেদনকারীর কোনো ভুল ছাড়াই। যেমন, আগের ভিসাটি সঠিকভাবে পাসপোর্টে সংযুক্ত না হলে নির্দিষ্ট শর্তে নতুন ভিসা ইস্যুর জন্য আবেদন ফি নেওয়া হয় না। চতুর্থত, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ফি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধা পেতে পারেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ স্বীকৃত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কোনো পর্যবেক্ষক মিশনের সদস্য ও কর্মী এবং তাদের নিকট পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। বিষয়টি ভিসা সার্ভিসেসের নির্ধারণের ওপর নির্ভর করে। পঞ্চম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন দাতব্য বা মানবিক সেবা দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী ব্যক্তিরা, তবে তাদের ক্ষেত্রে ফি ছাড় প্রযোজ্য হবে কি না, তা ভিসা সার্ভিসেস নির্ধারণ করে। ষষ্ঠত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মীরা সরকারি দায়িত্বে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করলে তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন প্রসেসিং ফি দিতে হয় না। সপ্তম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন কর্তব্যরত অবস্থায় নি হত বা গুরুতর আহ ত মার্কিন সরকারি কর্মীর নিকট পরিবারের সদস্যরা। কর্মস্থলে মৃ ত্যুবরণ করা সরকারি কর্মীর জানাজা বা দাফনে অংশ নিতে যাওয়া বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানরা নির্দিষ্ট শর্তে ফি ছাড় পেতে পারেন। একইভাবে দায়িত্ব পালনের সময় গুরুতর আহত সরকারি কর্মীকে জরুরি চিকিৎসা বা সুস্থ হওয়ার সময়ে দেখতে যাওয়া নিকট পরিবারের সদস্যরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়তে পারেন। তবে সাধারণ পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অধিকাংশ কর্মসংক্রান্ত ভিসার আবেদনকারীদের জন্য এই ফি-মওকুফ প্রযোজ্য নয়। উদাহরণ হিসেবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাধারণ নন-পিটিশনভিত্তিক ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন প্রসেসিং ফি ১৮৫ ডলার; আর কিছু পিটিশনভিত্তিক ভিসায় ফি আরও বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি মওকুফ আর ভিসা ইস্যু ফি এক বিষয় নয়। কোনো আবেদনকারী ফি-মওকুফের যোগ্য হলেও তার জাতীয়তা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা রেসিপ্রোসিটি বা ইস্যুয়েন্স ফি প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের ভিসার ধরন, ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও প্রযোজ্য ছাড়ের শর্ত যাচাই করা জরুরি।
অ্যাডলফ হিটলার নিজ হাতেই তার ভাতিজি অ্যাঞ্জেলা ‘গেলি’ রাউবালকে খু ন করেছিলেন—এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে নতুন কিছু ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে। এতদিন গেলির মৃ ত্যুকে আত্মহ ত্যা হিসেবে ধরা হলেও, নতুন নথি ঘিরে সেই পুরোনো ধারণা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে হিটলার ও গেলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন প্রচলিত রয়েছে। ১৯৩১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মিউনিখে হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে ২৩ বছর বয়সী গেলিকে গু লিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে হিটলারের নিজের পিস্তলও পাওয়া হয়েছিল। সে সময় তার মৃ ত্যুকে আত্মহ ত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল হিটলারের দাবি—ঘটনার সময় তিনি মিউনিখে ছিলেন না, বরং নুরেমবার্গে অবস্থান করছিলেন। তবে জার্মান ইতিহাসবিদ হারাল্ড স্যান্ডনার দাবি করেছেন, হিটলারের এই আলিবাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার মতো প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। তার গবেষণায় পাওয়া সরকারি নথিতে গেলির দেহ ১৯ সেপ্টেম্বর নয়, বরং ১৮ সেপ্টেম্বরই হিটলারের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া গিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। স্যান্ডনারের যুক্তি, যদি দেহটি ১৮ সেপ্টেম্বরই পাওয়া গিয়ে থাকে, তাহলে গেলির মৃ ত্যুও তার আগেই ঘটে থাকতে পারে। তার মতে, মৃ ত্যুর সময় ১৮ সেপ্টেম্বরের ভোররাত, এমনকি তার আগের রাতও হতে পারে। আর সেই সময় হিটলার মিউনিখেই ছিলেন বলে দাবি করছেন তিনি। গেলির মৃ ত্যুকে ঘিরে আরও কিছু বিষয় দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ তৈরি করেছে। তার দেহের পাশে হিটলারের পিস্তল পাওয়া গিয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে হিটলার ও গেলির মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উঠে এসেছে। এসব কারণেই ঘটনাটি আত্মহ ত্যা নাকি অন্য কোনো কিছুর ফল—এ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। হিটলার ও গেলির সম্পর্ক নিয়েও বহু বছর ধরে নানা গুঞ্জন ছিল। গেলি ছিলেন হিটলারের সৎবোনের মেয়ে। তাদের মধ্যে অনৈতিক বা যৌ ন সম্পর্ক ছিল বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এসব গুঞ্জন অতিরঞ্জিতও হতে পারে। স্যান্ডনারের তত্ত্ব সত্য হলে, গেলিই হতে পারেন একমাত্র ব্যক্তি যাকে হিটলার নিজ হাতে খু ন করেছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ করা সম্ভব। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়। ইতিহাসবিদ গাই ওয়াল্টার্স এই নতুন তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নথিতে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের তারিখের যে পার্থক্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটি সাধারণ কোনো নথিগত বা লিখনভুলের কারণেও হয়ে থাকতে পারে। ইতিহাসবিদ হাইকে বি. গোরটেমাকারও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ওয়াল্টার্স হিটলার ও গেলির মধ্যে সত্যিই যৌ ন সম্পর্ক ছিল কি না, সেই দাবিও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন। তার মতে, তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা কম। ফলে প্রায় এক শতাব্দী পরও গেলি রাউবালের মৃ ত্যু ঘিরে রহস্য পুরোপুরি কাটেনি। নতুন নথি পুরোনো ঘটনাটিকে আবার আলোচনায় আনলেও, হিটলারই তাকে নিজ হাতে খু ন করেছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে ইতিহাসবিদদের মধ্যে এখনো সর্বসম্মত মত গড়ে ওঠেনি।
সুপার শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। এর ফলে ২০২৬ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের শুরুর সময় পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপজনিত মৃ ত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে কোনো অঞ্চলে তীব্র খরা, আবার অন্য অঞ্চলে বন্যা ও চরম আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর সর্বোচ্চ শক্তি দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মের সময়ের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। তাই ওই অঞ্চলে তাপজনিত মৃ ত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সুদানে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃ ত্যুর সংখ্যা কয়েক দশ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যাপক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ৪ লাখ ৫১ হাজারের মতো বড় সংখ্যা অনেকের কাছে অসাড় করে দেওয়ার মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এই সংখ্যার পেছনে রয়েছে বাবা-মা, শিশু, দাদা-দাদি, প্রতিবেশী এবং প্রতিদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা অসংখ্য মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রেও এল নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ তাপজনিত মৃ ত্যু হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হতে পারে, কারণ রেকর্ড গরম গ্রীষ্মের পরও শরতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এল নিনোর সবচেয়ে বড় তাপের প্রভাব এখনও আসেনি। অতীতের আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী এল নিনোর পরের বছর অনেক সময় আরও বেশি গরম হতে পারে। কলাম্বিয়া ক্লাইমেট স্কুলের অধ্যাপক জেফরি শামান বলেছেন, এই প্রবণতা ২০২৭ সালেও তীব্র গরমের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তীব্র গরমের ঝুঁকি শহরের নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিশেষভাবে বেশি। জলবায়ু ও আইন বিষয়ে অধ্যাপক শিলা ফস্টারের মতে, ১৯৮২ সালের পর শহরাঞ্চলে চরম তাপের সংস্পর্শ প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে এবং এতে প্রায় ১৭০ কোটি মানুষ প্রভাবিত হচ্ছেন। তাপপ্রবাহে মৃ ত্যু হওয়া অনেক মানুষ ঘরের ভেতরেই থাকেন। অনেকের বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার থাকলেও দীর্ঘ সময় সেটি চালানোর খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একের পর এক তাপপ্রবাহের সময় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। এল নিনোর প্রভাব শুধু তাপমাত্রা বাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, বাড়তে পারে খাদ্যের দাম এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি ও খাদ্য সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃ ত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, এটি একটি মডেলভিত্তিক প্রক্ষেপণ। এল নিনোর প্রকৃত শক্তি, স্থানীয় আবহাওয়া এবং মানুষকে তীব্র গরম থেকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতার ওপর বাস্তব মৃ ত্যুর সংখ্যা অনেকটাই নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির জ্বালানি বিভাগ। এই অর্থ ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে দেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার সমান। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোথাও বিদ্যুতের লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন উপাদান উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইলজুড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রিড থেকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বের করে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ দেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩৩৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় অংশীদারদের অর্থায়নও থাকছে। অর্থ পাবে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ এবং কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা। এসব অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮১ কোটি ডলার পাবে। এর মধ্যে কলোরাডো ও ওকলাহোমার প্রকল্পগুলো বড় আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো আইনের অর্থ থেকে। আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় পাস হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগের অর্থের উৎস আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত অবকাঠামো তহবিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রশাসন দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধ কমানো এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় চালু রাখার মতো নীতির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের ইজারা পুনরায় কিনতেও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন গ্রিড প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো। ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরোনো গ্রিড থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হবে।