সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস শহরের হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে চার মাসের এক অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে কিয়েরান অ্যান্সলি (৪৩) নামের এক নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার পর শিশুটির যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তার আগেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।   শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ ও পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করেন তার মা, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকদের কাছে ‘পেডিয়াট্রিক ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ’ বা শারীরিক শিশু নির্যাতন হিসেবে প্রমাণিত হয়।   পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মাত্র ২৩ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ পাউন্ড ১ আউন্স ওজন নিয়ে জন্ম নেয় শিশুটি। টানা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর এপ্রিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।   কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান তার মা এবং পরের দিন ভোরে ফিরে এসে দেখেন, তার মেয়ের জিভ নীলচে-কালো হয়ে আছে এবং শরীরে বেশ কয়েকটি কালশিটে দাগ রয়েছে।   এ সময় অভিযুক্ত নার্স অ্যান্সলি তড়িঘড়ি করে শিশুটির মাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মায়ের সন্দেহের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে।   হাসপাতালের লগবুক থেকে জানা যায়, ওই রাতে শিশুটির কক্ষে মোট ৩২ বার প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২৭ বারই প্রবেশ করেছিলেন অ্যান্সলি। অন্য নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে অ্যান্সলি তার দায়িত্ব নিয়ে বেশ হতাশ ও বিভ্রান্ত ছিলেন।   চিকিৎসকদের বিস্তারিত পরীক্ষায় শিশুটির হাত, পা, পেট, নিতম্ব ও জিভে মারাত্মক আঘাতের পাশাপাশি পায়ের হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলে।   শিশু নির্যাতনের চার দফা অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্সলিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। আগামী নভেম্বরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এদিকে, হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পরপরই ওই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চরম এই ট্রমা পেরিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ক্যালিডোনিয়ায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা রবার্ট স্টিভেন্স।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:৪১
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজারে মাসিক খরচ সামাল দিতে সাশ্রয়ী সুপারশপ নির্বাচন এখন মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কনজিউমার রিপোর্টস ও কনজিউমার চেকবুর্কসহ একাধিক নিরপেক্ষ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে নিত্যদিনের বাজার খরচে এখনও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যালডি, লিডল, ওয়ালমার্ট, উইনকো এবং সেভ-আ-লট।   দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস ও মাংসের মতো সাধারণ নিত্যপণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচলিত বড় সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় ডিসকাউন্ট চেইনগুলো ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে।   গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যয়ের দিক থেকে সামগ্রিকভাবে শীর্ষে রয়েছে জার্মান ডিসকাউন্ট চেইন ‘অ্যালডি’। নিজস্ব ব্র্যান্ড বা প্রাইভেট-লেবেল পণ্যের ওপর জোর দেওয়া এবং সীমিত পরিসরে অপরিহার্য পণ্য বিক্রির কারণে পরিচালন ব্যয় কম রেখে গ্রাহকদের বিপুল মূল্যছাড় দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।   সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যালডির পণ্যের ঝুড়ির মূল্য ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১৪ শতাংশ কম এবং ক্রোগারের মতো প্রচলিত সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী। আরেক ইউরোপীয় চেইন ‘লিডল’ টাটকা ফলমূল ও বেকারি পণ্যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ওয়ালমার্টের চেয়ে গড়ে সাড়ে আট শতাংশ কম খরচে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে।   অন্যদিকে, খুচরা বাণিজ্যের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’ নিজস্ব স্কেলের সুবিধা ও দেশব্যাপী ‘এভরিডে লো প্রাইস’ কৌশলের মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ও হিমায়িত পণ্যের দামে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কোনো মেম্বারশিপ ফি ছাড়াই খোলা খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্য বিক্রির জন্য পরিচিত আঞ্চলিক চেইন ‘উইনকো ফুডস’ ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ কম মূল্যে পণ্য দিচ্ছে।   এছাড়া কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের মতো পাইকারি স্টোরগুলো প্রতি ইউনিট হিসেবে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সাশ্রয়ী হলেও বার্ষিক মেম্বারশিপ ফি এবং বাধ্যতামূলকভাবে পাইকারি পরিমাণে কেনার শর্তের কারণে এটি একক বা ছোট পরিবারের চেয়ে বড় পরিবারের জন্যই বেশি উপযোগী।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলভেদে পরিবহণ ব্যয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের মূল্যে তারতম্য ঘটে থাকে। তবে বাজার খরচের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের বদলে স্টোর-ব্র্যান্ড বা সুপারশপের নিজস্ব পণ্য কেনা, সাপ্তাহিক বিশেষ ছাড়ের ওপর নজর রেখে খাবারের মেন্যু নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কুপন অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে করে যেকোনো সুপারশপ থেকেই সাধারণ কেনাকাটায় প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৬:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে ৫৭ বছরের কাছাকাছি সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।   বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, গ্রীষ্মের ধীরগতির পর মার্কিন শ্রমবাজার আবারও তার পুরোনো গতি ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল শ্রমবাজারের কারণে চলতি মাসে বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।   তবে শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিশেষত ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।   এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদ বৃদ্ধির ঘটনা।   এফডব্লিউডি বন্ডস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রাপকির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি আপাতত পুরোদমে সচল রয়েছে।   অন্যদিকে, বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭.০৩ শতাংশে পৌঁছালেও আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে।   মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা প্রণোদনা দেওয়ায় গত মাসে বার্ষিক হিসেবে ৬ লাখ ৮৪ হাজার নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজারে অবিক্রীত বাড়ির বিশাল মজুত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৫:৫৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে স্বয়ংক্রিয় ৭৫ ডলার ছাড়, নিউসমের ঘোষণায় স্বস্তিতে লাখো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ বিলে মোট ৮৮৬ মিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সুবিধা বা ‘ক্লাইমেট ক্রেডিট’ ঘোষণা করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গ্রীষ্মের চরম গরমে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার ও বিল সবচেয়ে বেশি থাকে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি ‘ক্লাইমেট উইক এনওয়াইসি’ চলাকালীন গভর্নর এই ঘোষণা দেন। এর আওতায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিলে গড়ে ৭৫ ডলার করে স্বয়ংক্রিয় ছাড় দেওয়া হচ্ছে।   প্রশাসন জানিয়েছে, প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক (পিজিঅ্যান্ডই), সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন এবং সান দিয়েগো গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিকের আবাসিক গ্রাহকরা এই সুবিধা পাবেন। এই অর্থ পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না; বরং এটি সরাসরি তাদের বিদ্যুৎ বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হবে।   মূলত পরিবেশ দূষণকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ দিয়েই সাধারণ নাগরিকদের এই আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।   গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে আমেরিকানদের জীবনযাত্রা যখন মুদি দোকান থেকে শুরু করে জ্বালানি তেলের পাম্পসহ সর্বত্র ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া সরকার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা ফেরত দিচ্ছে।   পরিবেশ দূষণকারীদের আর্থিকভাবে জবাবদিহির আওতায় এনে সেই অর্থ রাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৫:৪৫
ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ‘সত্যের জন্য যুদ্ধ’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকে শুধু ইসরায়েল নয়, বরং আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে প্রভাবিত করা হচ্ছে।   নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, বিদেশি কয়েকটি রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, যার সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে কোন দেশগুলো এই প্রচারণায় জড়িত বা তারা ঠিক কত অর্থ ব্যয় করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। গত ২২ সেপ্টেম্বর এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নিজের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল যখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা তথাকথিত ভুল তথ্যের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।   এদিকে নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য বিরোধ বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে এর আগে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন মেয়র মামদানি।   এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করছেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে মামদানি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গাজায় চলমান সংঘাত এবং নিউইয়র্কের মেয়রের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৫:১০
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি এই আদেশ জারি করেন।   আদেশে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১৪ দিনের জন্য তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হন এবং পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।   আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক টিম কেলি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেন। আদেশে তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বা পাস ফিরিয়ে দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে— এমন কোনো বাস্তব প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর আগে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখা ছড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।   ওই সময় ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর নাম উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:৫০
জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা
জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা

ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজেদের মাতৃভূমি কোনোভাবেই ছাড়বে না এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিও মেনে নেবে না বলে সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। একই সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে যোগ দিতে পারেননি আব্বাস। তবে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সামনে ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে এই জোরালো বার্তা তুলে ধরেন তিনি।   ভাষণে আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে আরব ও ইসলামি দেশগুলোর নেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্তিকরণ রোধ এবং ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   ইসরায়েলের অব্যাহত ভূমি দখলের তীব্র সমালোচনা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করা এবং নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার সক্ষমতা ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে।   গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনকে ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মাহমুদ আব্বাস বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবিচারের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিরা হত্যা, ধ্বংস ও অনাহারের শিকার হচ্ছে। গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানকার আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল থেকে শুরু করে মসজিদ-গির্জাসহ সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যা একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।   গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ, পশ্চিম তীরকে খণ্ডিতকরণ এবং দখলদার বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মাহমুদ আব্বাসের এই ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রদানের অনুমোদনের পক্ষে ১৫২টি দেশ ভোট দেয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩টি এবং ৪টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:২৩
তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য
তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য

তাইওয়ানের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী হয়েছে, যা বিশ্বের বহু মানুষের মন ছুঁয়ে গেছে। ৬১ বছর বয়সী টিং সু-চি তার ৮৫ বছর বয়সী অসুস্থ মাকে পরম মমতায় নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন।   পায়ে চোট পাওয়ার কারণে ওই বৃদ্ধা মা আরাম করে বসতে পারছিলেন না। তাই ছেলেই হয়ে ওঠেন মায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি ও নিরাপদ আশ্রয়।   মায়ের প্রতি এই সন্তানের ভালোবাসা ও ত্যাগ অবশ্য এক দিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে মায়ের যত্ন নিয়ে আসছেন।   এমনকি কর্মজীবনে বড় পদোন্নতির সুযোগ পেয়েও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ পদোন্নতি গ্রহণ করলে তাকে মায়ের কাছ থেকে দূরে অন্য শহরে চলে যেতে হতো।   যে মা সারা জীবন তাকে আগলে রেখেছেন, শেষ বয়সে তিনি শুধু সেই মায়ের পাশেই থাকতে চেয়েছেন।   শৈশবে এই মা-ই তাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন, খাইয়ে দিয়েছেন এবং সব বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন।   কয়েক দশক পর সময়ের আবর্তনে আজ তাদের ভূমিকা বদলে গেছে, কিন্তু ভালোবাসার গভীরতা রয়ে গেছে একেবারেই অপরিবর্তিত।   জীবন চক্রের এই অপূর্ব সমীকরণ যেন আবারও প্রমাণ করে— নিঃস্বার্থভাবে দেওয়া ভালোবাসা সবসময় ঠিক এভাবেই সবচেয়ে সুন্দর রূপে আমাদের কাছে ফিরে আসে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:৭
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।   বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।   দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তারা।   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের মধ্যে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৩:৩৪
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল
নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা পরিচয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিককে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের এভারেট শহরে দুই নির্মাণ শ্রমিককে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি আটক করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও ধারণকারী বাড়ির মালিক জেনিফার গর্ডনের দাবি, ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।   ঘটনাটি সোমবার সকালে নর্থ এভারেটের একটি আবাসিক এলাকায় ঘটে। গর্ডনের বাড়িতে কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি নির্মাণকাজ চলছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের হয়ে সেখানে কাজ করছিলেন। প্রয়োজনীয় কিছু মাপ নেওয়ার পর তারা নির্মাণসামগ্রী আনতে বাইরে যান। পরে ফিরে আসার সময় কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাদের আটক করেন।   গর্ডনের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দুই শ্রমিককে আটক করার চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে এবং একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। গর্ডন তাদের পরিচয় জানতে চান এবং বিচারকের স্বাক্ষর করা ওয়ারেন্ট আছে কি না, সেটিও জানতে চান। ভিডিওতে একজন আটককারীকে ওয়ারেন্ট দেখানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দিতে শোনা যায়।   গর্ডনের দাবি, মুখোশধারী ব্যক্তিরা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের নিজ দেশে অপরাধের অভিযোগ থাকার কথা জানান। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। আইসিইও কেআইআরও ৭-কে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।   ঘটনার সময় সেখানে থাকা এক প্রতিবেশী কেআইআরও ৭-কে জানান, তিনি প্রায় ছয় থেকে আটজন এজেন্টকে ওই শ্রমিককে আটক করতে দেখেছেন। ওই প্রতিবেশীর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একজন এজেন্ট তাকে জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজ দেশে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসিই এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এভারেট পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা ওই অভিযানে জড়িত ছিলেন না। কেআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পোশাকে ‘পুলিশ’ লেখা ভেস্ট ছিল। একইসঙ্গে গর্ডন জানিয়েছেন, তারা নিজেদের আইসিই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় বা অভিযানের পুরো আইনি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   দ্য হেরাল্ডের প্রতিবেদনেও নর্থ এভারেটে একজনকে মুখোশধারী ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা আটক করার দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি ভিডিও করেন এবং আটকের পদ্ধতি ও কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   গর্ডনের ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের একজনকে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। পরে একজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন বলে গর্ডন জানিয়েছেন। অন্য ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গর্ডন বলেন, তিনি একজন স্বাস্থ্যকর্মী ও নেভি ভেটেরান হিসেবে ঘটনাটি ভিডিও করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখে তিনি এ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন।   এদিকে কেআইআরও ৭ জানিয়েছে, তারা আইসিইর কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। সংস্থাটি আটক ব্যক্তিদের নাম ছাড়া অতিরিক্ত তথ্য দিতে রাজি হয়নি এবং গোপনীয়তার কারণ দেখিয়েছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টমি বিল্ডার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   ফলে ভিডিওতে আটকের দৃশ্য স্পষ্ট হলেও, আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি অবস্থা এবং অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সরকারি পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। এ কারণে ঘটনাটিকে আইসিইর অভিযান হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৩:২৫
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার নির্দেশ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজতে ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের নির্দেশ হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রে ননসিটিজেন ভোটার খুঁজে বের করতে অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজে যুক্ত করা হয়েছে।   ১ সেপ্টেম্বরের ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) এক কর্মকর্তা। এতে ভোটার তালিকা পর্যালোচনার অগ্রগতি ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কর্মকর্তাদের সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ই-মেইলটি আরও দেখায়, পুরো প্রক্রিয়াটিতে হোয়াইট হাউসের সরাসরি তদারকি রয়েছে। একপর্যায়ে অগ্রগতি না হলে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সঙ্গে বিষয়টি তোলার কথাও উল্লেখ করা হয়।   ডিএইচএসের ‘আনলফুল ভোটার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এই যাচাই চলছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশটির নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন শাখা থেকে শত শত কর্মকর্তাকে ভোটার তালিকায় সম্ভাব্য অনিয়ম খুঁজতে কাজে লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএইচএসের কাছে পাওয়া ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা দ্রুত যাচাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   তবে এই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ডিএইচএসের কাছে থাকা ভোটার তালিকার কিছু সংস্করণে জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকায় বিভিন্ন সরকারি তথ্যভান্ডারের সঙ্গে নাম মিলিয়ে দেখা কঠিন হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের যাচাইয়ে একই নামের অভিবাসীদের সঙ্গে মিল থাকার কারণে মার্কিন নাগরিকদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন হিসেবে চিহ্নিত করার ঘটনা ঘটেছে। বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরাও ভুলভাবে এই তালিকায় চলে এসেছেন বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন।   ভোটার তালিকার ঘাটতি পূরণ করতে ডিএইচএস বেসরকারি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকুরিন্টের কাছ থেকেও তথ্য নিচ্ছে। সরকারি তদন্তকারীরা এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, পররাষ্ট্র দপ্তর এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকায় থাকা সম্ভাব্য ননসিটিজেনদের শনাক্ত করা।   ডিএইচএসের সচিব মার্কওয়েন মুলিন সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে ১ সেপ্টেম্বরের ই-মেইল অনুযায়ী, যাচাইয়ে চিহ্নিত ব্যক্তিরা সত্যিই ননসিটিজেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত বা ভোট দিয়েছেন—এ বিষয়ে ডিএইচএসের কর্মকর্তাদের ‘কিছুটা নিশ্চিততা’ রয়েছে। অর্থাৎ সব চিহ্নিত ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   এই উদ্যোগের জন্য ইউএসসিআইএসের জালিয়াতি শনাক্তকরণ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের শত শত কর্মকর্তাকেও সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য তাদের এই কাজে যুক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের প্রতি ঘণ্টায় পাঁচটি নাম যাচাইয়ের লক্ষ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে সেই লক্ষ্যমাত্রা খুব কমই পূরণ হয়েছে বলে জানা গেছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তাদেরও সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো প্রমাণ আছে কি না, তা যাচাই করতে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে একটি ফোনালাপের পর ডিএইচএস কর্মকর্তাদের বৈঠকে আইসিইর সংশ্লিষ্ট দলটি কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিল বলেও ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য ডিএইচএসকে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে রাজি হয়নি। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৬টি অঙ্গরাজ্য কোনো তথ্য বাদ না দিয়ে পূর্ণ ভোটার তালিকা দিতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্য এ ধরনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ডিএইচএসকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দেওয়া প্রকাশ্য ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।   নেভাদার ঘটনা এই যাচাই প্রক্রিয়ার জটিলতাও তুলে ধরেছে। জুলাইয়ে ডিএইচএস দাবি করেছিল, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় প্রায় ১৬ হাজার সম্ভাব্য ননসিটিজেন রয়েছে। পরে নেভাদা কর্তৃপক্ষ প্রমাণ চাইলে ডিএইচএস জানায়, ওই সংখ্যা প্রাথমিক এবং মাত্র ১৮৫টি ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। নেভাদার সেক্রেটারি অব স্টেটের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক দাবিগুলো যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য চাওয়া হলেও ডিএইচএস তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে সফটওয়্যার ত্রুটি ও প্রশাসনিক ভুলের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকায় ৩০ হাজারের বেশি ননসিটিজেন যুক্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের কতজন ভোট দিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, ১৯৯৬ সালে ‘ভোটিং বাই এলিয়েনস’ আইন কার্যকর হওয়ার পর এ আইনে মাত্র ১২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে রয়টার্সের জুলাইয়ের পর্যালোচনায় উঠে আসে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এ আইনে আরও অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ননসিটিজেন ভোটের সব ঘটনাই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে। ডিএইচএসও বলেছে, তাদের তদন্ত আইন অনুযায়ী পেশাদারভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলভাবে মার্কিন নাগরিকদের চিহ্নিত করার ঝুঁকি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৩:৮
যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা।নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজলসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   সাক্ষাৎকালে তাঁরা আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সৌজন্যপূর্ণ কথাবার্তা বলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎটি ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মেরিল্যান্ডে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামকরণের উদ্যোগের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে।   এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে তাঁর প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে। এই দলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।   ফলে নিউইয়র্কে মেরিল্যান্ড বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই সাক্ষাৎটি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময় অনুষ্ঠিত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১২:৫২
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে সাবওয়ে ট্রেনে ঘুরলেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে শহরের সাবওয়েতে ভ্রমণ করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহল মার্টিন। বুধবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টার পরিদর্শনের পর তারা একসঙ্গে সাবওয়েতে ওঠেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন মার্টিন।   নিউইয়র্ক আইরিশ সেন্টারে গিয়ে দুই নেতা আইরিশ-আমেরিকান প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটান এবং সাপ্তাহিক বিঙ্গো খেলায় অংশ নেন। পরে কয়েক ব্লক হেঁটে তারা সাবওয়ে স্টেশনে যান। সেখানে সাতটি স্টেশন পর্যন্ত একসঙ্গে ট্রেনে ভ্রমণ করেন মামদানি ও মার্টিন। এ সময় কয়েকজন নিউইয়র্কবাসী তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।   সাবওয়ে যাত্রার সময় নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের আবাসন সংকট নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। মার্টিন জানান, আয়ারল্যান্ডে আবাসন সংকট তাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। মামদানিও বলেন, নিউইয়র্কে আবাসন সংকট তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিউইয়র্কে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নতুন আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়েও তিনি কথা বলেন।   আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবিত মেট্রোলিংক প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। মার্টিন জানান, প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউরোর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টানেল নির্মাণের বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। অন্যদিকে মামদানিকে আয়ারল্যান্ডে অল-আয়ারল্যান্ড ফাইনাল দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান মার্টিন।   সাবওয়ে যাত্রায় আইরিশ ঐতিহ্য ও নিউইয়র্কের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘ সম্পর্কও উঠে আসে। মার্টিন মামদানিকে গ্যালিক অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশন বা জিএএ-এর ইতিহাস সম্পর্কে জানান। এই সফরকে নিউইয়র্ক ও আয়ারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেও তুলে ধরেছে আইরিশ সংবাদমাধ্যম।   এ সময় আয়ারল্যান্ডের ঐক্য নিয়েও মামদানিকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আইরিশ জনগণের এবং তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতিতে বিশ্বাস করেন। তবে তাদের নিউইয়র্কের সাক্ষাতের মূল আলোচনায় ছিল আবাসন, পরিবহন, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং নিউইয়র্কে আইরিশ কমিউনিটির ভূমিকা।   সূত্র: দ্য জার্নাল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১২:২৮
নিরাপত্তা সতর্কবার্তার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নিরাপত্তা সতর্কতার পর তারাহুরোয় নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা সতর্কবার্তার পর নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর একই দিন ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান কয়েক ঘণ্টায় সীমিত থাকছে।    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩-এর বরাত দিয়ে ডন ও আনাদোলু জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিরাপত্তা বৈঠকে নেতানিয়াহুর কাছে গোয়েন্দা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান দীর্ঘায়িত না করার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।    পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং পরে রাতযাপন না করেই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান প্রায় ছয় ঘণ্টা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভেরও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েল সরকারের নীতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভই সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণ—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তাকেই সফর সংক্ষিপ্ত করার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও নেই। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আগ্রহ থাকলেও বর্তমানে এমন কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। একই সফরে টেক্সাসে ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি বৈঠকের পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে।    নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিবর্তে নিউ জার্সির কোনো বিমানবন্দর বা সামরিক ঘাঁটিতে নামতে পারে—এমন খবরও এর আগে প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এর পেছনে নিরাপত্তা, লজিস্টিকস ও সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছিল।    সূত্র: আনাদোলু

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১২:৩
জাইমা রহমান
জাতিসংঘে জাইমা রহমানের পেশাগত যাত্রা, দায়িত্ব পেলেন ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা।   প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন।   বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়।   জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন।   জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি।   ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।   জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১১:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতা জেমস ফার্থিং। ছবি: সংগৃহীত
১৬৭ মিলিয়ন ডলার লটারি জিতেও বদলাল না ভাগ্য, পঞ্চমবারের মতো ঘুমন্ত অবস্থায় জয়ী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতা জেমস ফার্থিং আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০ সেপ্টেম্বর জর্জটাউনের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে চালু গাড়ির ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে পাওয়ার পর প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে জ্যাকপট জেতার পর এটি ফার্থিংয়ের পঞ্চম গ্রেপ্তার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আদালতের নথির তথ্যের সঙ্গে এই তথ্য মিলেছে।   পিপল ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে একটি সাদা ফোর্ড মুস্ত্যাংকে জর্জটাউনের একটি মোড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একজন ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। পরে গাড়িটি কাছের ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গিয়ে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের পাশে থামে। পুলিশ সেখানে গিয়ে গাড়িটির ইঞ্জিন চালু অবস্থায় দেখতে পায়।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফার্থিং গাড়িটির যাত্রীর আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ জানায়, জানালায় কয়েকবার ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি জেগে ওঠেন। তখন তার চোখ লাল ও পানিতে ভেজা ছিল, কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন। পুলিশ তার কাছ থেকে অ্যালকোহল ও গাঁজার গন্ধ পাওয়ার কথাও জানিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় থাকার মামলা করা হয়।   ফার্থিং পুলিশকে বলেছিলেন, এক নারী তাকে ওই পার্কিংয়ে নিয়ে এসে সেখানে রেখে চলে গেছেন। তবে তদন্তকারীরা পার্কিং এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফুটেজে ফার্থিংয়ের মুস্ত্যাংকে পার্কিংয়ে ঢুকতে দেখা গেলেও তার গাড়ি থেকে অন্য কাউকে বের হতে দেখা যায়নি।   সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর ফার্থিংকে স্কট কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় থাকার অভিযোগটি একটি অভিযোগ মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওই অভিযোগে দোষী বলা যায় না।   ফার্থিং ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতেন। কেনটাকি লটারি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এটি ছিল কেনটাকিতে পাওয়া সবচেয়ে বড় পাওয়ারবল জ্যাকপট। তিনি ২ ডলারে কেনা টিকিট দিয়ে ২৬ এপ্রিলের ড্রয়ে জ্যাকপটটি জেতেন এবং পুরস্কারের অর্থ তার মা লিন্ডা গ্রিজলের সঙ্গে ভাগ করার কথা জানিয়েছিলেন।   তবে জ্যাকপট জেতার কয়েক দিনের মধ্যেই ফার্থিং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসেন। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে একটি হোটেলে সংঘর্ষের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ ছিল, সংঘর্ষ থামাতে গেলে তিনি একজন ডেপুটিকে লাথি মেরেছিলেন এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেনটাকিতে আইনি প্রক্রিয়ার একজন অংশগ্রহণকারীকে ভয় দেখানোর অভিযোগে ফার্থিং গ্রেপ্তার হন। মার্চে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার চুরি ও গাঁজা রাখার অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। পুলিশ তখন অভিযোগ করেছিল, তিনি লেক্সিংটনের একটি বাড়িতে ঢু প্রায় ১২ হাজার ডলার নিয়ে গেছেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলকেওয়াই জানিয়েছে, ওই চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলো মে মাসে বাতিল হয়ে যায়।   ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ফার্থিং আবার গ্রেপ্তার হন। এবার স্কট কাউন্টিতে কথিত পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার শ্বাসরোধ ও চতুর্থ মাত্রার হামলাসহ অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী দাবি করেন, তর্কের একপর্যায়ে ফার্থিং তার গলায় দুই হাত দিয়ে চাপ দেন এবং শ্বাস নিতে বাধা দেন। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফার্থিং ওই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   এ ছাড়া ২০২৫ সালের নভেম্বরের একটি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘিরে ফার্থিংয়ের বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগও রয়েছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, লেক্সিংটনে ওই দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি এবং ঘটনাস্থল ত্যাগসংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি তার পাঁচটি গ্রেপ্তারের হিসাবের বাইরে একটি আলাদা আইনি মামলা হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে কেনটাকির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতার পর ফার্থিংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক আইনগত অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় তাকে ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ির ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়ার পর প্রকাশ্যে মদ্যপ অবস্থায় থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এটিকে জ্যাকপট জয়ের পর তার পঞ্চম গ্রেপ্তার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১১:৩২
দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ
সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ নিহত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন মো. আলমগীর ও মো. ফরহাদ। তাদের দুজনের বাড়িই গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকায়।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ঠিক কোন স্থানে, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এবং এতে অন্য কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   দুর্ঘটনার পর আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ রিয়াদের সুমাইসি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে তাদের স্বজনদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   এদিকে চলতি সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক বাংলাদেশির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে আল-খুরমা এলাকায় প্রবাসীদের বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ওই ঘটনায় চালকসহ চার বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।   তাদের মধ্যে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের লামার তালুক গ্রামের আব্দুল করিম (করিম উদ্দিন নামেও উল্লেখ করা হয়েছে) ও খালিদ আহমদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে জেদ্দা বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।   সর্বশেষ রিয়াদের দুর্ঘটনায় নিহত আলমগীর ও ফরহাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া বা জানাজার বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার কারণ ও মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১১:২২
নিউইয়র্কের ফুটপাতে গৃহহীনদের গড়ে তোলা শিবিরের বিষয়ে নতুন পদ্ধতি ঘোষণা করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে গৃহহীন শিবির নিয়ে মমদানির নতুন নীতি, পুলিশের ভূমিকা বদল

নিউইয়র্কে ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে গড়ে ওঠা গৃহহীনদের শিবির নিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব শিবির নিয়ে ৩১১ নম্বরে অভিযোগ এলে সরাসরি পুলিশ পাঠানোর পরিবর্তে বিষয়টি সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসের কাছে পাঠানো হবে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এই পরিবর্তনের সমালোচনা করা হয়েছে।    নতুন ব্যবস্থায় কোনো পুলিশ অফিসার গৃহহীনদের শিবিরের মুখোমুখি হলে সেটি নিয়ে রিপোর্ট করে হোমলেস সার্ভিসেসকে জানাবেন। এরপর শহরের আউটরিচ কর্মীরা সেখানে গিয়ে গৃহহীন ব্যক্তিদের আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রমে লক্ষ্য হচ্ছে শুধু শিবির সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সেখানে থাকা মানুষদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করা।   মামদানির প্রশাসন এর আগে জানিয়েছিল, গৃহহীনদের শিবির সরানোর ক্ষেত্রে আগের প্রশাসনের পদ্ধতির পরিবর্তে আউটরিচ ও সহায়তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। জুলাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি জানিয়েছিলেন, কোনো শিবির নোটিশ পাওয়ার পর সেটি সরানোর আগে সাত দিন পর্যন্ত সময় থাকবে এবং ওই সময়ে সিটির কর্মীরা সেখানে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করবেন।    তবে নতুন পুলিশ নির্দেশনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের মতামতধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সরাসরি ভূমিকা কমে যাওয়ায় কিছু গৃহহীন শিবির দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একই প্রতিবেদনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিবিরের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব বক্তব্য মূলত প্রতিবেদনের মতামত ও সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে এসেছে, প্রশাসনের স্বীকৃত মূল্যায়ন হিসেবে নয়।    নিউইয়র্কে গৃহহীনতার সমস্যা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির ২০২৬ সালের ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে গৃহহীনদের জন্য আবাসন ও সেবা সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামদানি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২ হাজার ৪৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন তৈরির বা সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ২ হাজারের বেশি ইউনিট আগে গৃহহীন থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। একই সময়ে ৯ হাজার ৯৭০ জনকে সাশ্রয়ী আবাসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ হাজার ৩৭০ জন আগে গৃহহীন ছিলেন।    প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গৃহহীনদের জন্য কম বাধাসম্পন্ন আশ্রয়ব্যবস্থা, বিশেষায়িত সহায়তা এবং স্থায়ী আবাসনের সুযোগ বাড়ানোর কথাও রয়েছে। শহরের নথি অনুযায়ী, জটিল মানসিক স্বাস্থ্য, মাদক ব্যবহার বা অন্যান্য গুরুতর প্রয়োজন থাকা গৃহহীনদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।    এদিকে নিউইয়র্কে নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, লোয়ার ম্যানহাটনের ১০০ গোল্ড স্ট্রিট এলাকায় প্রায় ৪ হাজার নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার স্থায়ীভাবে সাশ্রয়ী ও রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড ইউনিট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।    গৃহহীন শিবির ব্যবস্থাপনায় পুলিশের ভূমিকা কমিয়ে সামাজিক সেবা ও আউটরিচ কর্মীদের দায়িত্ব বাড়ানোর এই পদ্ধতি নিউইয়র্কের চলমান হোমলেসনেস নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সিটির আউটরিচ কার্যক্রম, আশ্রয়ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার অগ্রগতির ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১১:৮
ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে মা হওয়া সেই নারী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বন্ধ্যা, ওজেম্পিক নেওয়ার পর দুই বছরে তৃতীয় সন্তানের মা

দুই বছর আগেও চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু এরপর ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভধারণ করেন এক নারী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারীর দীর্ঘদিন ধরে সন্তান ধারণে সমস্যা ছিল। চিকিৎসকেরা তাকে বন্ধ্যাত্বের কথা জানিয়েছিলেন। পরে ওজন কমানোর জন্য তিনি ওজেম্পিক ব্যবহার শুরু করেন। এর পরপরই তার গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার গর্ভধারণের সরাসরি কারণ ওজেম্পিক ছিল, এমন প্রমাণ এই ব্যক্তিগত ঘটনার মাধ্যমে পাওয়া যায় না।   ওজেম্পিকের মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড। এটি মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় এবং ওজন কমাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। শরীরের ওজন কমার পাশাপাশি কিছু নারীর হরমোন ও মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে স্থূলতা ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গে সন্তান ধারণের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।   সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় সেমাগ্লুটাইড ও উর্বরতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় পিসিওএস ও অতিরিক্ত ওজন থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ও মেটফরমিনের সমন্বিত ব্যবহারে ওজন কমার পাশাপাশি মাসিক চক্র ও স্বাভাবিক গর্ভধারণের কিছু উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল থেকে সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব হবে বলা যায় না।    অন্যদিকে, ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি বড় বাস্তবভিত্তিক গবেষণায় বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেওয়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের সঙ্গে গর্ভধারণ ও জীবিত সন্তান জন্মের হার কম এবং গর্ভধারণে বেশি সময় লাগার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।    তাই ওই নারীর অভিজ্ঞতাকে ওজেম্পিকের প্রমাণিত উর্বরতা বৃদ্ধির ফল হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ওজন কমার ফলে কারও মাসিক চক্র বা ডিম্বস্ফোটনে পরিবর্তন এলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বদলাতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিভেদে এর কারণ আলাদা হতে পারে।   গর্ভাবস্থায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের বিষয়েও সতর্কতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওজেম্পিকের অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত তথ্য নেই এবং প্রাণীর ওপর গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা গেছে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভাবস্থায় এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫৪
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় রিজভী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।   রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে রিজভীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করায় তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। রিজভী দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে না থাকার কারণেই গাজীকে রিমান্ড ও কারাগারে থাকতে হয়েছিল। এগুলো রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।   বিগত সরকারের সময়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কে সরকারের পক্ষে আর কে বিপক্ষে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, সরকারের বিরোধিতা করলেই অনেককে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতো। একই প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।   রুহুল আমিন গাজীর মৃত্যু নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, কারাবাস ও পরবর্তী সময়ে গাজী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। এসব বক্তব্যও রিজভীর দাবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিপরীতে রুহুল আমিন গাজী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে ভিন্নমতের কারণে কাউকে নিপীড়নের শিকার হতে হয়। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ বা রাজনৈতিক নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।   বক্তব্যের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিপীড়নের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য রাজনৈতিক পরিণতি ডেকে আনে। তাঁর পুরো বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক দলের রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার না করে জাতীয় ইতিহাস ও জনগণের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে দেখার বিষয়টিই সামনে আসে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫০