সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে মা হওয়া সেই নারী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন বন্ধ্যা, ওজেম্পিক নেওয়ার পর দুই বছরে তৃতীয় সন্তানের মা

দুই বছর আগেও চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, সন্তান ধারণের সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু এরপর ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক ব্যবহারের পর অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভধারণ করেন এক নারী। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারীর দীর্ঘদিন ধরে সন্তান ধারণে সমস্যা ছিল। চিকিৎসকেরা তাকে বন্ধ্যাত্বের কথা জানিয়েছিলেন। পরে ওজন কমানোর জন্য তিনি ওজেম্পিক ব্যবহার শুরু করেন। এর পরপরই তার গর্ভধারণের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তার গর্ভধারণের সরাসরি কারণ ওজেম্পিক ছিল, এমন প্রমাণ এই ব্যক্তিগত ঘটনার মাধ্যমে পাওয়া যায় না।   ওজেম্পিকের মূল উপাদান সেমাগ্লুটাইড। এটি মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় এবং ওজন কমাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। শরীরের ওজন কমার পাশাপাশি কিছু নারীর হরমোন ও মাসিক চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে স্থূলতা ও পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএসের সঙ্গে সন্তান ধারণের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।   সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় সেমাগ্লুটাইড ও উর্বরতার মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় পিসিওএস ও অতিরিক্ত ওজন থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ও মেটফরমিনের সমন্বিত ব্যবহারে ওজন কমার পাশাপাশি মাসিক চক্র ও স্বাভাবিক গর্ভধারণের কিছু উন্নতি দেখা যায়। তবে গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফল থেকে সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব হবে বলা যায় না।    অন্যদিকে, ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি বড় বাস্তবভিত্তিক গবেষণায় বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নেওয়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকা নারীদের মধ্যে সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের সঙ্গে গর্ভধারণ ও জীবিত সন্তান জন্মের হার কম এবং গর্ভধারণে বেশি সময় লাগার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।    তাই ওই নারীর অভিজ্ঞতাকে ওজেম্পিকের প্রমাণিত উর্বরতা বৃদ্ধির ফল হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ওজন কমার ফলে কারও মাসিক চক্র বা ডিম্বস্ফোটনে পরিবর্তন এলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বদলাতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিভেদে এর কারণ আলাদা হতে পারে।   গর্ভাবস্থায় সেমাগ্লুটাইড ব্যবহারের বিষয়েও সতর্কতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ওজেম্পিকের অনুমোদিত তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষের ওপর পর্যাপ্ত তথ্য নেই এবং প্রাণীর ওপর গবেষণায় ভ্রূণের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা গেছে। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনা বা গর্ভাবস্থায় এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫৪
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন শেখ হাসিনা: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আড়াল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে ‘আলু-পটোলের’ মতো পণ্য হিসেবে বিক্রি করেছেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় রিজভী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে।   রুহুল আমিন গাজীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তবে রিজভীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করায় তাঁর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ও তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের কাছে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। রিজভী দাবি করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে না থাকার কারণেই গাজীকে রিমান্ড ও কারাগারে থাকতে হয়েছিল। এগুলো রিজভীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পাল্টা বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।   বিগত সরকারের সময়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কে সরকারের পক্ষে আর কে বিপক্ষে—সেটিই গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, সরকারের বিরোধিতা করলেই অনেককে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হতো। একই প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘিরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।   রুহুল আমিন গাজীর মৃত্যু নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর দাবি, কারাবাস ও পরবর্তী সময়ে গাজী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলেন। এসব বক্তব্যও রিজভীর দাবি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।   জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় কিছু সাংবাদিক তৎকালীন সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিপরীতে রুহুল আমিন গাজী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে ভিন্নমতের কারণে কাউকে নিপীড়নের শিকার হতে হয়। ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদ বা রাজনৈতিক নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।   বক্তব্যের শেষ দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিপীড়নের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য রাজনৈতিক পরিণতি ডেকে আনে। তাঁর পুরো বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধকে কোনো একক দলের রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহার না করে জাতীয় ইতিহাস ও জনগণের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে দেখার বিষয়টিই সামনে আসে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৫০
নাটোরের লালপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল আল-আমিন। ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে ১০৬ পিস ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

নাটোরের লালপুরে ১০৬ পিস ইয়াবাসহ এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।   গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যের নাম আল আমিন, বয়স ২৩ বছর। তিনি রাজশাহী রেঞ্জের রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত এবং লালপুর উপজেলার পানসিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্য দুজন হলেন মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুল মোল্লা, ৩২, এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের মুক্তার আলী, ৩৪।   লালপুর থানা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুল মোল্লার টিনশেড বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালিয়ে ১০৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।   অভিযানে মাদক বিক্রি ও পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল এবং নগদ ৩২ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে উদ্ধার করা এসব সামগ্রীর সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।   লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ এখন এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং উদ্ধার করা ইয়াবা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।    সূত্র: বাংলা টিভি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:৩৬
স্পেনের লানজারোতে যাওয়ার পথে সমুদ্রের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসতে থাকা একটি অভিবাসীবাহী নৌকা। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসীবাহী নৌকায় নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

স্পেনের লানজারোতে যাওয়ার পথে একটি অভিবাসীবাহী নৌকায় এক নারীকে দলবদ্ধভাবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ২১, ২৫ ও ৩০ বছর বয়সী ওই তিন সন্দেহভাজনকে নৌকাটি উদ্ধারের পর আটক করা হয়। ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর সমুদ্রে, যেটি আন্তর্জাতিক জলসীমা বলে ধারণা করা হচ্ছে।    স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, নৌকাটি লানজারোতের আরেসিফে বন্দরে পৌঁছানোর পর ওই নারী উদ্ধারকারী দলের কাছে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। শারীরিকভাবে গুরুতর অবস্থায় থাকায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরে বিশেষায়িত সহায়তা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে একই নৌকায় থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শীকেও শনাক্ত করা হয়, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।    ঘটনার তদন্ত করছে ন্যাশনাল পুলিশের ফ্যামিলি অ্যান্ড উইমেনস অ্যাসিস্ট্যান্স ইউনিট। আদালতে হাজির করার পর তিন সন্দেহভাজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে এবং বিচারিক তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।    এরই মধ্যে একই নৌযানে থাকা অভিবাসীদের উদ্ধারের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির তথ্যও সামনে এসেছে। স্প্যানিশ মেরিটাইম রেসকিউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরেসিফে থেকে প্রায় ৭৭ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি রাবারের নৌকা থেকে মোট ৬৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এবং তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়। উদ্ধারকারীদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ একজনকে হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।    কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত হিসাবে, একটি উদ্ধারকারী নৌযান থেকে ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও চারজন নারী ছিলেন এবং তিনটি মরদেহ পাওয়া যায়। আরেকটি উদ্ধারকারী নৌযান থেকে আরও ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৬৮ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়।    উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি মরক্কোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তান-তান এলাকা থেকে যাত্রা করেছিল। প্রায় পাঁচ দিন সমুদ্রে থাকার পর তাদের পানির সংকট দেখা দেয়। যাত্রাপথে আরও কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে।    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন। ফলে গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অভিযোগের প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য যাচাই করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:১৮
মীর শাহে আলম
নাহিদ-হাসানাত-পাটওয়ারীকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নামের প্রসঙ্গ টানলেন মীর শাহে আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে সামাজিক পরিসরে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক নামের প্রসঙ্গ তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। সরকারি ওয়েবসাইটেও মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এনসিপির নেতাদের সমালোচনা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, লংমার্চে নাহিদ, হাসনাত ও পাটওয়ারীকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এ সময় কয়েকটি অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যাই হোক আমি বলছি না, সাধারণ মানুষ বলে।” এরপর তিনি এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা ও শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।   বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে তারা শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছেন। বিএনপির নেতাদের সমালোচনা করা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই বললেও তারেক রহমানকে নিয়ে এমন বক্তব্য দলটির নেতাকর্মীদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।   মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল জামায়াত, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই লংমার্চের মাধ্যমে সরকার পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিএনপি এ ধরনের রাজনৈতিক হুমকিকে ভয় পায় না এবং আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলটির রয়েছে।   ১১ দলীয় জোট গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছিল। ছয় দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও অংশ নেন। ফেনীর মহিপালে পথসভায় তিনি বলেছিলেন, ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন এক দফা তথা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিতে পারে।   এদিকে জামায়াত ও এনসিপির চলমান আন্দোলন আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে বলেও দাবি করেন মীর শাহে আলম। দল দুটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সম্পর্ক’ থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এটি প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে ওই যোগাযোগের স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। গত নির্বাচনে যারা বিএনপির সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছেন বলে তিনি মনে করেন, তাদের দলে জায়গা হবে না বলে জানান। পাশাপাশি আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   বন্যাদুর্গতদের সহায়তার ওই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশখালীর ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য পরিবারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়। গত জুলাইয়ের বন্যায় বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১০:০
নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আয়োজিত জব ফেয়ার বা নিয়োগ মেলা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নতুনদের জন্য ৭ চাকরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই আবেদন

নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও বিভিন্ন খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী, হোম হেলথ এইড, খুচরা বিক্রি ও গ্রাহকসেবা, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন, রেস্টুরেন্ট এবং দাপ্তরিক কাজের মতো ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে আবেদন করা যায়। তবে এসব চাকরি নিশ্চিত নয় এবং পদভেদে কাজের অনুমতি, প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও নিয়োগকর্তার শর্ত পূরণ করতে হয়।   নতুন অভিবাসীদের জন্য নিরাপত্তাকর্মীর কাজ একটি সম্ভাব্য প্রবেশপর্যায়ের পেশা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিবন্ধনের আগে ৮ ঘণ্টার প্রি-অ্যাসাইনমেন্ট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিতে হয়। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে আরও ১৬ ঘণ্টার অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমেও কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।   হোম কেয়ার খাতেও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হোম হেলথ এইড হিসেবে কাজ করতে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে কমপক্ষে ৭৫ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। পার্সোনাল কেয়ার এইডের জন্যও অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বয়স্ক, অসুস্থ বা দৈনন্দিন কাজে সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের বাড়িতে গিয়ে এসব কর্মী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন।   দোকান, সুপারমার্কেট, রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে খুচরা বিক্রি এবং গ্রাহকসেবার কাজেও চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি সবসময় প্রয়োজন হয় না। এসব পদের যোগ্যতা সাধারণত নিয়োগকর্তা নির্ধারণ করেন। বাংলাভাষী গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এমন কিছু কর্মক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ভাষা জানলেই চাকরি নিশ্চিত হবে, এমন কোনো সরকারি নিশ্চয়তা নেই।   নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতেও বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের মূলধনী পরিকল্পনার আকার প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার। এতে রেললাইন, স্টেশন, সংকেত ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অবকাঠামো আধুনিকায়নের জন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ থাকলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি পদের জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নিয়োগের শর্ত থাকে।   ট্যাক্সি ও ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজেও ডিগ্রির বদলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির ট্যাক্সি অ্যান্ড লিমুজিন কমিশনের লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ড্রাইভার শিক্ষা কোর্স, যাত্রী সহায়তা ও হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ড্রাগ টেস্টসহ আরও কিছু যাচাই প্রক্রিয়াও রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না করলে শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্যাক্সি বা ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে যোগ দেওয়া যায় না।   রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও হোটেলেও রান্নাঘর, খাবার প্রস্তুত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও হাউসকিপিংসহ বিভিন্ন প্রবেশপর্যায়ের পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। তবে টিপস পাওয়া কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে মজুরি হিসাবের আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। খাদ্যসেবা খাতে কাজের ধরন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সনদের প্রয়োজনীয়তাও থাকতে পারে।   অফিস সহকারী, দাপ্তরিক কাজ এবং কিছু সরকারি চাকরিও ডিগ্রিবিহীন প্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটি পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। নিউইয়র্ক সিটির ৫৫-এ কর্মসূচিকেও নতুন অভিবাসীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এই কর্মসূচি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য।   নিউইয়র্ক সিটির জবস্ এনওয়াইসি কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে চাকরি মেলা ও নিয়োগ আয়োজনও করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগও দেওয়া হয়। তবে কোনো চাকরি মেলা বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে সরকারি তথ্য থেকে সময়, স্থান, যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   চাকরি খোঁজার সময় প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলে কেউ বড় অঙ্কের টাকা চাইলে আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। বিশেষ করে লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ বা সরকারি চাকরির নামে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি না থাকলেও একাধিক খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, অভিজ্ঞতা, ভাষাগত দক্ষতা এবং নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগ্যতার ওপর। তাই নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পদের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম দেখে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:৫৯
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার চুক্তিতে ঢাকাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
আরও ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরও ১১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে বুধবার বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।    বোয়িংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ক্রয়াদেশে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দাঁড়াল ২৫টিতে।    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।    বোয়িং জানিয়েছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ আগের প্রজন্মের সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের তুলনায় জ্বালানি ব্যবহারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি দক্ষ।    এর আগে ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। ওই ক্রয়াদেশে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটিই ছিল বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়াদেশ।    নতুন চুক্তির ফলে বিমানের দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা আরও এগিয়ে গেল। বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমানের বিদ্যমান বহরে ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন ৭৮৭-১০ বড় যাত্রী ধারণক্ষমতার দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজ হিসেবে এবং ৭৩৭-৮ একক-আইল উড়োজাহাজ হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।    চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, বোয়িংয়ের আরও ১১টি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তিনি নিউইয়র্কে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় থাকার কথাও জানিয়েছিলেন।    বিমানের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, নতুন চুক্তিটি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং দেশের সাধারণ যাত্রীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ বহর ও রুট নেটওয়ার্ক উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।    নতুন ১১টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাতের সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে নতুন উড়োজাহাজগুলোর নির্দিষ্ট সরবরাহ সময়সূচি ও ক্রয়মূল্য সম্পর্কে বোয়িংয়ের প্রকাশিত ঘোষণায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:৪০
ভারতের বাবরি মসজিদ
ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে

ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের আদলে এবং একই নামে বাংলাদেশের ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে একটি বড় মসজিদ।ধলেশ্বরী নদীর তীরবর্তী কলাতিয়া এলাকায় জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদটি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।   তবে এটি একেবারে নতুন কোনো প্রকল্প নয়। মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছিল ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এর উদ্বোধন করেন। মাওলানা মামুনুল হক পরিচালিত জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার ক্যাম্পাসে মসজিদটির নাম রাখা হয় ভারতের অযোধ্যার ঐতিহাসিক ‘বাবরি মসজিদ’-এর নামে।   সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদটির নির্মাণকাজ দৃশ্যমান হওয়ায় বিষয়টি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরানীগঞ্জের কলাতিয়ায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে মসজিদটির নির্মাণকাজ চলছিল। স্থাপত্যে অযোধ্যার পুরোনো বাবরি মসজিদের বৈশিষ্ট্য অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। গম্বুজ, খিলান ও দেয়ালের অলংকরণে মোগল স্থাপত্যরীতির ছাপ রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   মসজিদটি কতটুকু জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যের কিছু পার্থক্য রয়েছে। একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রায় ছয় বিঘা জমির কথা বলা হলেও একই প্রতিবেদনে কিছু সূত্রে তিন বিঘার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জমির সুনির্দিষ্ট আয়তন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   প্রকল্পটির অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ অর্থ, কেউ নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছেন। তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় বা এখন পর্যন্ত কত টাকা সংগ্রহ হয়েছে—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য হিসাব পাওয়া যায়নি।   মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, এই স্থাপনার মাধ্যমে বাবরি মসজিদের ইতিহাস ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চান তারা। ২০২৫ সালের এপ্রিলেও জামিয়াতুত তারবিয়া আল ইসলামিয়ার একটি অনুষ্ঠান ‘ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে’ অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।   ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকদের হাতে ধ্বংস হয়। দীর্ঘ আইনি বিরোধের পর ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিটি রামমন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়ার রায় দেয় এবং মুসলিম পক্ষকে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অযোধ্যায় নির্মিত রামমন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   কেরানীগঞ্জের নির্মাণাধীন মসজিদটি অযোধ্যার মূল বাবরি মসজিদের পুনর্নির্মাণ নয়; এটি সেই ঐতিহাসিক স্থাপনার নাম ও স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে নেওয়া একটি পৃথক উদ্যোগ। প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপনের ছয় বছরের বেশি সময় পরও নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজার আগে যে ৫টি বিষয় যাচাই করবেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ খোঁজার সময় শুধু বড় অঙ্কের অর্থ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দেখে আবেদন শুরু করলে পরে আর্থিক ও একাডেমিক জটিলতায় পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। কারণ কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ থাকলেই সেটি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সব ডিগ্রি বা সব বিভাগের জন্য প্রযোজ্য হয় না। তাই আবেদন করার আগে স্কলারশিপের যোগ্যতা, মোট খরচ, ফান্ডিংয়ের ধরন এবং নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে এর মিল যাচাই করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ-সমর্থিত এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার খরচ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ আগে থেকেই গবেষণা করার পরামর্শ দেয়।    প্রথমেই দেখতে হবে, স্কলারশিপটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ‘স্কলারশিপ’ বা ‘ফিন্যান্সিয়াল এইড’ লেখা থাকলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সেটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সহায়তা নির্দিষ্ট নাগরিকত্ব, ডিগ্রি, বিভাগ, মেজর বা শিক্ষার্থীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আবার কিছু স্কলারশিপ নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য, কিছু বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য। এডুকেশনইউএসএর ফিন্যান্সিয়াল এইড তালিকাতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা সুযোগ, যোগ্যতা ও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।    ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড সাধারণত মার্কিন নাগরিক বা নির্দিষ্ট শ্রেণির যোগ্য ননসিটিজেনদের জন্য উন্মুক্ত। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্কলারশিপ, ফেলোশিপ বা অন্যান্য ফান্ডিংয়ের সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।    দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কলারশিপের অঙ্ক নয়, পুরো পড়াশোনার খরচ। ধরুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ২০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ দিচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারসহ মোট খরচ যদি অনেক বেশি হয়, তাহলে বাকি অর্থের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে নিজেকেই করতে হতে পারে। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফান্ডিং পরিকল্পনায় টিউশন ও ফি ছাড়াও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করতে বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাসস্থান ও খাবারের খরচও এক নয়।    তাই আবেদন করার আগে বার্ষিক টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, বাসস্থান ও খাবারের আনুমানিক খরচ লিখে মোট হিসাব করা উচিত। পাশাপাশি দেখতে হবে স্কলারশিপটি শুধু এক বছরের জন্য নাকি পুরো ডিগ্রি মেয়াদে দেওয়া হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে এটি নবায়নযোগ্য কি না এবং নবায়নের জন্য ন্যূনতম জিপিএ বা অন্য কোনো শর্ত আছে কি না, সেটিও জানা দরকার।   তৃতীয় বিষয় হলো ফান্ডিং পাওয়ার প্রক্রিয়া। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি আবেদন জমা দিলেই শিক্ষার্থী মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচিত হতে পারেন। আবার কোনো কোনো স্কলারশিপের জন্য আলাদা আবেদন, প্রবন্ধ, সুপারিশপত্র বা অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম পেজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফিন্যান্সিয়াল এইড পেজ এবং বিভাগের নির্দেশনাও দেখা জরুরি।   মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এডুকেশনইউএসএ বলছে, গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে গবেষণা, শিক্ষাদান বা প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে টিউশন ওয়েভার ও স্টাইপেন্ড দেওয়া হতে পারে। তবে এসব সুযোগ প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে এবং ফান্ডিংয়ের ধরন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা।    চতুর্থ বিষয় হলো নিজের প্রোফাইলের সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মিল। মেধাভিত্তিক স্কলারশিপে একাডেমিক ফলাফল, নেতৃত্ব, কমিউনিটি সার্ভিস, প্রতিভা বা সামগ্রিক অর্জন বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে গবেষণাভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের ক্ষেত্রে গবেষণার আগ্রহ, আগের প্রকল্প, থিসিস, পদ্ধতিগত দক্ষতা বা ডেটা বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষাদানভিত্তিক অ্যাসিস্ট্যান্টশিপে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   তাই শুধু ‘আমার জিপিএ কত’ এই প্রশ্নের মধ্যে নিজের আবেদনকে সীমাবদ্ধ না রেখে দেখতে হবে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটি। গবেষণা, শিক্ষাদান, নেতৃত্ব, পেশাগত অভিজ্ঞতা বা কমিউনিটি কাজের কোন অংশটি নির্দিষ্ট ফান্ডিংয়ের যোগ্যতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মেলে, সেটি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।   পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তথ্যের উৎস। ফেসবুক গ্রুপ, ইউটিউব ভিডিও বা অন্য শিক্ষার্থীর তৈরি তালিকা প্রাথমিক ধারণার জন্য কাজে লাগতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট বিভাগের পেজ, গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং পেজ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের তথ্য এবং অফিসিয়াল কস্ট অব অ্যাটেনডেন্স দেখে তথ্য যাচাই করা উচিত। এডুকেশনইউএসএও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল এইডের সুযোগ খুঁজে দেখার ব্যবস্থা রেখেছে।    সবশেষে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপ খোঁজা মানে শুধু ‘ফুলি ফান্ডেড’ লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় তালিকা তৈরি করা নয়। কার্যকর স্কলারশিপ সার্চের জন্য নিজের প্রোফাইল, নির্দিষ্ট ডিগ্রি ও বিভাগের ফান্ডিং ব্যবস্থা, স্কলারশিপের যোগ্যতা এবং পুরো ডিগ্রির সম্ভাব্য খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। আবেদন করার আগে এসব তথ্য যাচাই করলে অপ্রাসঙ্গিক অ্যাপ্লিকেশন ফি ও সময় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পড়াশোনার পুরো সময়ের আর্থিক পরিকল্পনাও আরও বাস্তবসম্মতভাবে করা সম্ভব।   সূত্র: আসিফ মুক্তাদির

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:১৫
গাড়িচাপা ছবি:সংগৃহীত
গাড়িচাপায় বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু, ৯ লাখ টাকায় আপস করল বাদীপক্ষ

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। আপসনামায় সই করে আসামিদের জামিন বা খালাসে আপত্তি না থাকার কথাও জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সড়ক পরিবহন আইনের এ ধরনের মামলা আপসযোগ্য নয় এবং দুই পক্ষের সমঝোতা আদালত গ্রহণ করতে বাধ্য নয়।   ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। মেহেদী ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়িটির চালকের আসন থেকে বের হওয়া ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা-পুলিশ।   মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলার এজাহারে গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক নামে একজনকে আসামি করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার পর গাড়ির ড্রাইভিং সিটের দরজা দিয়ে ওই কিশোরকে বের হতে দেখা গেছে এবং তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কিশোরকে ঢাকার শিশু আদালত-৮-এ হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আরেফিন ইসলাম তাকে সংশোধনাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে কিশোরের পক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির জামিন না দিয়ে তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   আসামিপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই পরিবারের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোট ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য এক লাখ এবং মেহেদীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আরও আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।   আপসনামায় মামলাটি প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং কিশোর ও মামলায় নাম থাকা গাড়িচালক আকাশ মারকের জামিনের বিষয়ে বাদীপক্ষের অনাপত্তির কথা রয়েছে। নিহত মেহেদীর ভাই ও মামলার বাদী মোক্তাদীর ইসলামও আপস হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, যদিও টাকার পরিমাণ সম্পর্কে তিনি তার মামার কাছে জানতে বলেন।   তবে এই আপসের পরও মামলার তদন্ত থেমে যাচ্ছে না। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফিন ইসলাম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমঝোতা তদন্তে প্রভাব ফেলবে না এবং পুলিশ তাদের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যাবে।   রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা এ মামলা আপসযোগ্য নয়। ফলে বাদী ও আসামিপক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছালেও আদালত সেই সমঝোতা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। মামলার তদন্ত শেষে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:১০
ফ্রান্সের গ্র্যাভলিন থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিবাসীরা
একদিনেই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি প্রায় ৮০০ অভিবাসীর, ২০২৬ সালে নতুন রেকর্ড

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে ৭৮১ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। বুধবারের এই সংখ্যা চলতি ২০২৬ সালে একদিনে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর মোট সংখ্যা এখন ১৮ হাজার ৫৬৫ জন।   তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৫ সালের একই সময়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন ৩২ হাজার ১৮৮ জন। অর্থাৎ চলতি বছর এখন পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় অভিবাসী আগমনের সংখ্যা ৪২ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায়ও এ বছরের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কম।   বুধবার মোট ১০টি নৌকায় করে অভিবাসীরা ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি নৌকায় গড়ে প্রায় ৭৮ জন করে ছিলেন। এদিকে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাজ্যে।   বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। এর আগে টানা দুই দিনে দুটি অভিবাসীবাহী নৌকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কেন্ট উপকূলে পৌঁছে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে ডোভারের স্যামফায়ার হো এলাকায় একটি নৌকা পৌঁছানোর পর ২১ জনকে আটক করা হয়।   এর একদিন আগে ফোকস্টোন উপকূলে একটি ছোট নৌকা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই তীরে পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল এমন প্রথম ঘটনা। নৌকাগুলোকে আটকাতে না পারার ঘটনাকে শাবানা মাহমুদ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   তবে দেশটির শিক্ষা সচিব লুসি পাওয়েল বলেন, সব নৌকা সব সময় আটকানো সম্ভব নয়। বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই উদ্বেগের। এ কারণেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে ছোট নৌকায় অভিবাসী পারাপারের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।   পাওয়েল বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশের পাশাপাশি ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ছোট নৌকায় পারাপার ঠেকাতে নিয়মিত কাজ চলছে। পরে তিনি জানান, তার বক্তব্যের একটি অংশ প্রেক্ষাপটের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে।   তিনি আরও বলেন, ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে সরকার প্রতিদিন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে রাতারাতি এ ধরনের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে নিয়মিত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৯:০
ফেডারেল বিচারকের আদেশে হোয়াইট হাউসে ফিরছে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো
ট্রাম্পের মিডিয়া নিষে ধাজ্ঞা স্থগিত করল বিচারক, সিএনএনসহ তিন মিডিয়ার প্রবেশাধিকার ফিরছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি। বৃহস্পতিবার দেওয়া আদেশে তিনি তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রেস পাস অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই অন্তর্বর্তী আদেশ ১৪ দিন কার্যকর থাকবে।   ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে তিন সংবাদমাধ্যমের করা মা মলার পর এই আদেশ দেওয়া হয়। মা মলায় তারা অভিযোগ করে, তাদের সংবাদ কভারেজের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তাদের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছিল।   বিচারক কেলি তার আদেশে বলেন, প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিলের আগে সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত অধিকার সীমিত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দিতে হয়।   এর আগে ট্রাম্প তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নি ষি দ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি তাদের কভারেজকে মি থ্যা ও বা নো য়াট বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে নিষে ধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নি রা পত্তা এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তবে বিচারক কেলি ওই জাতীয় নি রা পত্তার যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নিষে ধাজ্ঞার আগে থাকা তথ্যপ্রমাণে পাস বাতিলের সিদ্ধান্তটি জাতীয় নি রা পত্তার কারণে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।   সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ২১ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মা মলা করে। তাদের আবেদনে নিষে ধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়। পরদিন বিচার বিভাগকে এ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয় এবং বুধবার মা মলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর বৃহস্পতিবার বিচারক কেলি লিখিত আদেশে তিন সংবাদমাধ্যমের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।   আদালতের আদেশটি মূল মা মলার চূড়ান্ত রায় নয়। এটি মা মলা চলার সময় তিন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে বহাল রাখার জন্য দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশ। ১৪ দিনের মধ্যে মা মলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে এবং আদালত পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারেন।   ফলে আপাতত সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের প্রেস কাভারেজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নিষে ধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও তিন সংবাদমাধ্যমের আইনি বি রো ধ এখনো চলমান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:৪০
ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ ড্রোন হা মলা নিয়ে নতুন সতর্কতার তথ্য সামনে এসেছে
ইউরোপে রুশ ড্রোন হা মলার শঙ্কা, স্পেন-ফ্রান্স-ইতালিকে সিআইএর সতর্কবার্তা

স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সমুদ্রপথ থেকে ড্রোন হা মলার সম্ভাবনা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল মুন্দো’-র বরাত দিয়ে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, কথিত এই সতর্কবার্তায় রাশিয়ার সম্ভাব্য হা মলার বিষয়ে তথ্য রয়েছে। তবে ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ জানিয়েছে, তারা ওই সিআইএ প্রতিবেদনের অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এবং এ বিষয়ে সিআইএর মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া সমুদ্র থেকে বিস্ফো রক বহনে সক্ষম ‘গেরবেরা’ ড্রোন ব্যবহার করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হা মলার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বন্দর, বিমানবন্দর কিংবা বাইরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের হা মলায় বড় ধরনের ধ্বং সযজ্ঞের বদলে আগুন লাগানো, সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা বা কোনো স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গেরবেরা ড্রোনটি তুলনামূলক ছোট এবং কয়েক কেজি বিস্ফো রক বহন করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনটির পাল্লা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় এসব ড্রোন বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কনটেইনারের মধ্যে লুকিয়ে সমুদ্র থেকে উৎ ক্ষেপণের কথা বলা হয়েছে।   স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করার পেছনে দেশগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশেই ২০২৭ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যু দ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্লান্তি ও রাজনৈতিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের সীমিত হা মলা ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিশ্লেষণ ও আশঙ্কা, কোনো নিশ্চিত হা মলার তথ্য নয়।   এদিকে ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য ‘হাইব্রিড’ তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেসতুতিস বুদরিস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রয়টার্সকে বলেছেন, মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অন্যান্য হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।   ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক মূল্যায়নে আগামী কয়েক মাসে রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মতে, পশ্চিমা ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও ঘন ঘন হা মলা এবং আগের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।   জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরকে ঘিরে ড্রোনের একটি ঘটনা এবং পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাগুলোও ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পোল্যান্ডের কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক কিছু অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফো রণ ও ড্রোন প্রবেশের ঘটনাকে সম্ভাব্য হাইব্রিড হা মলার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে এসব ঘটনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার দায় সবক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি।   ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেছেন, রাশিয়া ইউরোপকে ইউক্রেনকে সমর্থন করা থেকে বিরত রাখতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন হতে পারে।   তবে এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গুস সাখনা বলেছেন, ন্যাটোর ওপর আসন্ন রুশ হা মলা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক হবে না। ফলে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালিতে সম্ভাব্য ড্রোন হা মলার যে তথ্য সামনে এসেছে, সেটিকে বর্তমানে একটি গোয়েন্দা সতর্কতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদিত সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্দিষ্ট হা মলার সময়, লক্ষ্য বা ব্যবহৃত জাহাজের বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:২৩
আটককৃতরা ছবি:সংগৃহীত।
লিবিয়ায় প্রবাসীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আদায়, গ্রেপ্তার ২জন

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও কলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী (৫৪) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জীবিকার জন্য লিবিয়ার ত্রিপোলিতে থাকতেন। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ত্রিপোলির আনজারা এলাকায় বাসার সামনে থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত একটি ভবনে আটকে রাখা হয় এবং তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন, অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।    পিবিআই জানায়, অপহরণের দুই দিন পর ইদ্রিসকে মারধর করে সেই দৃশ্য ইমো ভিডিও কলের মাধ্যমে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে দেখানো হয়। তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথমে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ওই অর্থ পাঠান ফাতেমা।    অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা পাওয়ার পরও ইদ্রিসকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরে আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পিবিআই বলছে, এ সময় লোহার রড দিয়ে মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। বন্দি অবস্থায় তাকে দিনে মাত্র একটি রুটি ও এক বোতল পানি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।   পরিবার পরে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে আরও অর্থ পাঠায়। পিবিআইয়ের হিসাবে, সব মিলিয়ে পরিবারটির কাছ থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। প্রায় এক মাস ১৪ দিন আটকে রাখার পর ইদ্রিসকে ত্রিপোলির মদিনা এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় তিনি ২০২৫ সালের ২২ জুলাই দেশে ফেরেন।    দেশে ফিরে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন ইদ্রিস। তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে উত্তম সরকার ওরফে সুমন (৪৪) ও মর্জিনা বেগম (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পিবিআই জানিয়েছে, মর্জিনা বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।   পিবিআইয়ের ভাষ্য, তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যারা লিবিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও নির্যাতন করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত। চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান চলছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:২০
ইরান যু দ্ধে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে নতুন করে এক সেনা কর্মকর্তার মৃ ত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধে নি হ ত আরও এক মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ, মৃ ত্যুর সংখ্যা ১৯

সৌদি আরবে একটি অ-যু দ্ধসংক্রান্ত ফ্লাইটে গত সপ্তাহে নি হ ত হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিয়াঙ্কা সি. উইলকারসন। ভার্জিনিয়ার নরফোকের বাসিন্দা উইলকারসন ১৮ সেপ্টেম্বর মৃ ত্যু বরণ করেন। মৃ ত্যুর পর তাকে মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী।   মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ক্যাজুয়েলটি ডেটাবেস অনুযায়ী, তার মৃ ত্যুর পর অপারেশন এপিক ফিউরি এবং ওভারসিজ অপারেশনসের আওতায় মোট ১৯ জন মার্কিন সামরিক সদস্যের মৃ ত্যুর তথ্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব হ তাহতকে দুটি পৃথক শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।   উইলকারসন কাতারের দোহায় ওভারসিজ অপারেশনসের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনায় শ’ এয়ার ফোর্স বেসে অবস্থিত ইউএস আর্মি সেন্ট্রাল ও থার্ড আর্মির হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উইলকারসনের মৃ ত্যু কোনো যু দ্ধসংক্রান্ত ঘটনার কারণে হয়নি। সৌদি আরবের উদ্দেশে পরিচালিত একটি অ-যু দ্ধ ফ্লাইটের সময় ঘটনাটি ঘটে। তবে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে বা তার মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে ত দন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। ত দন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃ ত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   উইলকারসনের মৃ ত্যুর তথ্য বিদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত কার্যক্রমে সাম্প্রতিক হ তাহতের হিসাবের অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। পেন্টাগন অপারেশন এপিক ফিউরি এবং অন্যান্য ওভারসিজ অপারেশনের মৃ ত্যুর তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:১০
নিউইয়র্কে নতুন সরকারি ও স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ
নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির একাধিক পদের নতুন বিজ্ঞপ্তি, জেনে নিন বিস্তারিত

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর একাধিক নতুন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল স্টেটজবসএনওয়াইয়ের তালিকায় একই দিনে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি পদে এখনো আবেদন করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকাতেও নতুন স্কুলভিত্তিক পদ যুক্ত হয়েছে।   স্টেটজবসএনওয়াইয়ের পাবলিক তালিকা অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পদগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মেডিকেইড ফ্রড কন্ট্রোল ইউনিটের দুটি আইটি সাপোর্ট স্পেশালিস্ট পদ রয়েছে। একটি পদ মনরো কাউন্টিতে, যার ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৮৬ এবং আবেদনের শেষ তারিখ ২৩ অক্টোবর। আরেকটি নিউইয়র্ক কাউন্টিতে, ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৬৪ এবং এর শেষ তারিখও ২৩ অক্টোবর।   নিউইয়র্ক সিটির পদটির ক্ষেত্রে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৮৬ হাজার ৬৮৬ ডলার এবং লোকেশন পে হিসেবে আরও ৪ হাজার ১৫০ ডলারের কথা উল্লেখ রয়েছে। এটি ফুলটাইম পদ এবং কর্মস্থল নিউইয়র্ক সিটির ২৮ লিবার্টি স্ট্রিট। পদটির দায়িত্বের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ, নেটওয়ার্ক সংযোগ সমস্যা সমাধান এবং সিকিউরিটি আপডেটসহ বিভিন্ন কাজ রয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো হিয়ারিং অফিসার ১, প্যারোল রিভোকেশন, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ল জাজ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস অ্যান্ড কমিউনিটি সুপারভিশনের অধীনে থাকা এই পদটির ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৪৭৫। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর এবং বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৬৭১ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। পদটি ফুলটাইম এবং নিউইয়র্ক কাউন্টিতে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের সিনিয়র অ্যাটর্নি, এসজি-২৫ পদটিও ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। ভ্যাকেন্সি আইডি ২২৫৫১৯-এর এই পদে আবেদনের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক বেতন ৬৯ হাজার ৯৬৪ ডলার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ ডলার পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে এবং পদটি ফুলটাইম।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ২৩ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকটি নতুন স্কুলভিত্তিক পদ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি ওয়ার্কার এবং স্কুল এইডের একাধিক পদ রয়েছে। একই দিনে ডিউইট ক্লিনটন হাইস্কুলে কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের আবেদনের শেষ তারিখ ৫ অক্টোবর, ব্রুকলিন কলেজ একাডেমিতে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর এবং পি১৮৬এক্স ওয়াল্টার জে. ড্যামরশ স্কুলে প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটর পদের শেষ তারিখ ৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই পদের যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং আবেদনের নিয়ম পদভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের চাকরির সাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে স্টেটজবসএনওয়াই এবং নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করা উচিত। বিশেষ করে আইনি, পেশাগত বা লাইসেন্সনির্ভর পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।   ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এসব বিজ্ঞপ্তির বেশ কয়েকটির আবেদনের সময়সীমা অক্টোবরের প্রথম বা তৃতীয় সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। ফলে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনের আগে শেষ তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট পদের বিস্তারিত শর্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরির আবেদন করার ক্ষেত্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি এবং পদভেদে নির্ধারিত শিক্ষাগত, পেশাগত বা লাইসেন্স সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:১
বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে। দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ড পাবেন। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। সেখানে তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রথমে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এরপর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোকে এর আওতায় আনা হবে।   মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তবে তা সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে হবে।   অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে পরিবর্তন আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদ শেষে জনগণের কাছে কর্মকাণ্ডের হিসাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।   সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় এসব এলাকার মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তায় কোনো ঘাটতি হয়ে থাকলে তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চান।   বন্যার সময় ত্রাণের সংকট দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি বাঁশখালীতে এসেছেন এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন।   বাঁশখালীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি জানান, আনোয়ারা-বাঁশখালী-চকরিয়া সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে। কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া বাঁশখালীর অন্য সড়কগুলো সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজন হলে সেগুলোর তালিকা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   অনুষ্ঠানে দলের নেতাকর্মীদেরও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং দলের দুঃসময়ে যারা কাজ করেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। আইন ও বিধি মেনে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপসহ বিভিন্ন সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৫১
সপ্তাহান্তে নর’ইস্টারের প্রভাবে নিউইয়র্ক ও পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা
পূর্ণিমার জোয়ারে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি, নিউইয়র্কবাসীকে সতর্ক করল আবহাওয়া বিভাগ

পূর্ণিমার জোয়ারের সঙ্গে শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাব মিলিয়ে নিউইয়র্কের উপকূলীয় এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সপ্তাহান্তে পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তবে ঝড়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব নিউইয়র্ক সিটির পূর্বদিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নগরীতে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।   আবহাওয়াবিদদের মতে, জার্সি শোর, লং আইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং নিউ ইংল্যান্ড উপকূলে ঝড়ের প্রভাব বেশি হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ উপকূলীয় বন্যা। বিশেষ করে স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডের নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ঢুকে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।   শনিবার পূর্ণিমার কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের উচ্চতা বাড়বে। এর সঙ্গে উপকূলের দিকে প্রবাহিত শক্তিশালী বাতাস যুক্ত হওয়ায় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও লং আইল্যান্ডে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১ থেকে ২ ফুট বেশি উঠতে পারে। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও শক্তিশালী রিপ কারেন্টের আশঙ্কা রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটিতে বড় ধরনের নগর বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় ছোট থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা হতে পারে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়ের মূল অংশ মেট্রোপলিটন এলাকার কাছাকাছি থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর পূর্বদিকে, বিশেষ করে সাফোক কাউন্টির দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়াবিদরা ঝড়ের আগে বাসাবাড়ির বাইরে থাকা হালকা আসবাব, ময়লার পাত্র ও অন্যান্য ঢিলা জিনিস নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি জোয়ারের সময় স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূল এবং লং আইল্যান্ডের উত্তর উপকূলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।   আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার নিউইয়র্কে বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়া থাকতে পারে। রোববারও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। সোমবার নাগাদ আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে উষ্ণ গালফ স্ট্রিমের ওপর দিয়ে কয়েক দিন ধরে ঝড়টি চলাচল করায় এর মধ্যে ক্রান্তীয় ঝড়ের কিছু বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এমন পরিস্থিতিতে ঝড়টি সাবট্রপিক্যাল ঝড়ের মতো আচরণ করতে পারে। তবে এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন নিয়ে পূর্বাভাস আগামী দিনে আরও স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪৩
প্রতীকী ডিজাইন আমেরিকা বাংলা।
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি

শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়া-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক পরিবেশ তৈরির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।    তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংক্ষিপ্ত বার্তায় কমিটিতে কারা থাকবেন, কমিটির সদস্যসংখ্যা কত হবে, ঠিক কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে কিংবা কমিটির বিস্তারিত দায়িত্ব কী হবে—এসব জানানো হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়ন কাঠামোর বিস্তারিত আসতে পারে।    শিক্ষাঙ্গনে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আলোচনায় রয়েছে। মাত্র চার দিন আগে, ২০ সেপ্টেম্বর, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাজ থেকে মাদকের সমস্যা দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজসেবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।   এর আগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী তথ্যচিত্র ও থিম সং প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিল। ওই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং সামাজিক প্রতিরোধ শক্তিশালী করা।    শিক্ষাঙ্গনে মাদক নিয়ে উদ্বেগের একটি সাম্প্রতিক ঘটনাও সামনে এসেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাদক সেবনের অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর আবাসিক সিট বাতিল করে হল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়টি পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতেও পাঠানো হয়েছে।   এদিকে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে বিভাগীয় পরীক্ষাগার এবং মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসংক্রান্ত প্রকল্পও সরকারের কার্যক্রমে রয়েছে।   সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে স্কুল, কলেজসহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরির পথ তৈরি হলো। তবে কমিটির গঠন, দায়িত্ব, নজরদারি পদ্ধতি এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ হলে উদ্যোগটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৪২
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের সুযোগ-সুবিধা বিশ্লেষণ করা হয়েছে গবেষণায়
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য সেরা শহরের তালিকা প্রকাশ

প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য উপযুক্ত শহর বেছে নেওয়া অনেক সময় অন্যদের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামগ্রিক জীবনমান—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০টির বেশি বড় শহর বিশ্লেষণ করে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ও কম সুবিধাজনক শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব।   গবেষণায় মিসৌরির সেন্ট লুইসকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাজনক শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস এবং ওহাইওর কলম্বাস। এসব শহরে সহজে ব্যবহারযোগ্য জনপরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে কম জীবনযাত্রার খরচকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধিতা থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ২৮ শতাংশের বেশি নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি চলাচলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবার সহজলভ্যতাও শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।   গবেষণায় এগিয়ে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে সেন্ট লুইস, মিনিয়াপোলিস, কলম্বাস, ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচ, মিনেসোটার সেন্ট পল, মিশিগানের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস, অ্যারিজোনার স্কটসডেল, পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ, মিসৌরির কানসাস সিটি এবং মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া।   এছাড়া তালিকায় রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার ও পিওরিয়া, মেইনের পোর্টল্যান্ড, কলোরাডোর ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ও গ্লেনডেল, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ এবং অ্যারিজোনার মেসা। মূল প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ শহরের কথা বলা হলেও প্রকাশিত তালিকায় ১৮টি শহরের নাম দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে আলাস্কার জুনোসহ তালিকার নিচের দিকে থাকা কিছু শহরকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়া, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জনসেবা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকার মতো বিষয়গুলো সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।   ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে মূলত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনমানের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে শহরগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য কোনো শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে তালিকাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৭:৩৩