সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি
অনার্সে ২.৯৩, গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল না চীনে শুরু করে এখন বিশ্বের ৭ম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি

অনার্সে সিজিপিএ ২.৯৩, মাস্টার্সে ২.৮৮। ছিল না আইইএলটিএস স্কোর, ছিল না গবেষণার অভিজ্ঞতা কিংবা কোনো প্রকাশিত গবেষণাপত্র। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সেই শিক্ষার্থীই এখন চীনের ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করছেন। মাঝের এই পথ তৈরি হয়েছে চীনে দ্বিতীয়বার মাস্টার্স, গবেষণা এবং কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে।   শামীম নামের ওই শিক্ষার্থীর এই যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন তাকবীর হোসাইন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শামীম নিজেকে ব্যাচের পিছনের দিকের শিক্ষার্থীদের একজন মনে করতেন। মাস্টার্সও করেছিলেন অ-গবেষণাভিত্তিক ধারায়। সে সময় তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশনা ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন ও কোচিংয়ে বেশি সময় দেওয়ায় সহপাঠীদের মধ্যে তিনি মজা করে ‘টিউশন ব্যবসায়ী’ নামেও পরিচিত ছিলেন।   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন বছর চাকরি করেন শামীম। এরপর চীনের সাংহাইয়ের ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তি নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে দ্বিতীয় মাস্টার্স শুরু করেন। চীনে যাওয়ার আগে তাঁর কোনো গবেষণার অভিজ্ঞতা বা প্রকাশিত গবেষণাপত্র ছিল না। সেখানে গিয়ে তিনি নাইট্রেট হ্রাস বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় যুক্ত হন।   মাস্টার্স চলাকালেই কিউ ওয়ান জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। অর্থাৎ একেবারে শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে চীনে গিয়ে ধীরে ধীরে নিজের গবেষণার পরিচিতি তৈরি করেন। এরপর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসে পিএইচডির সুযোগ পান। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পিএইচডির জন্য আগের বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট চায়না ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকেও তিনি চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের বৃত্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্যাস-আনসো বৃত্তি নিয়ে ইউসিএএসে পিএইচডি শুরু করেন।   ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাস-আনসো বৃত্তি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে অর্থায়নের সুযোগ দেয়। ২০২৬ সালের কর্মসূচিতে পিএইচডির জন্য প্রতি বছর ৩০০ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইউসিএএসের বিভিন্ন স্কুল এবং চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থী গবেষণা ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।   গবেষণার দিক থেকেও ইউসিএএসের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। নেচার ইনডেক্সের ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় ইউসিএএস বিশ্বের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। একই বছরের রসায়নভিত্তিক তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান তৃতীয়। নেচার ইনডেক্সের এই তালিকা মূলত নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। অন্যদিকে কিউএস বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং ২০২৭-এ ইউসিএএসের অবস্থান ৩৬০তম।   দুটি র‍্যাংকিংয়ের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি এক নয়। কিউএস একটি সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং, যেখানে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে নেচার ইনডেক্স নির্দিষ্ট উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে ইউসিএএসের সামগ্রিক র‍্যাংকিং এবং গবেষণাভিত্তিক অবস্থানকে একই মাপকাঠিতে দেখা যায় না। তবে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান যে গুরুত্বপূর্ণ, নেচার ইনডেক্সের তথ্য তা তুলে ধরে।   শামীমের গল্পের আরেকটি দিকও সামনে এসেছে। তাকবীর হোসাইনের বর্ণনা অনুযায়ী, কিছুদিন আগে শামীম যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান অ্যান আরবারের একজন অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন এবং সেখানে পরিচিত কেউ আছেন কি না জানতে চেয়েছিলেন। পরে সেই সম্ভাব্য সুযোগ কতদূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চীনে স্থিরভাবে আছেন বলে জানানো হয়েছে।   এই অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো প্রথম ডিগ্রির ফলাফল পরবর্তী উচ্চশিক্ষার পুরো পথ নির্ধারণ করে দেয় না। কম সিজিপিএ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাক্রমে সুযোগ সীমিত করতে পারে। আইইএলটিএস, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনাও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরবর্তী পর্যায়ে ভালো গবেষণা, প্রকাশনা, শিক্ষকদের সঙ্গে একাডেমিক যোগাযোগ এবং উপযুক্ত বৃত্তির সুযোগ তৈরি করতে পারলে নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাগত অবস্থান বদলানোর পথও তৈরি হতে পারে।   চীনের উচ্চশিক্ষা নিয়েও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে চীনের ৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে রয়েছে। একই র‍্যাংকিংয়ে চীনের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ ৪০-এ জায়গা পেয়েছে।   তাই উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে নিজের একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার আগ্রহ, অর্থায়নের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তির সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। শামীমের যাত্রা অন্তত এটুকু দেখায়, দুর্বল একাডেমিক ফলাফল দিয়ে পথ শুরু হলেও পরবর্তী ধাপে গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। তাঁর ক্ষেত্রে চীনে পাওয়া সেই সুযোগই শূন্য গবেষণা অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৩:৫০
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’: মার্কিন অধ্যাপক ড. শারিফা

ইসলাম গ্রহণের আগে নারীর অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের শারিফা কার্লো। নিজের লেখা ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কিশোর বয়সে এমন একটি গোষ্ঠীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যারা তাঁকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়িয়ে মুসলিম নারীদের মধ্যে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে গিয়ে তাঁর নিজের বিশ্বাসই বদলে যায়। ১৯৮৫ সালে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।    শারিফা কার্লোর নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি যখন কিশোরী ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পড়ার পরামর্শ দেন। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মিশরে দূতাবাসে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম নারীদের সঙ্গে কাজ করা এবং তাঁদের তৎকালীন নারী অধিকার আন্দোলনের দিকে উৎসাহিত করা।   এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে গিয়ে শুরুতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ধর্মটির দুর্বলতা খুঁজে বের করা। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পড়াশোনা যত এগোয়, ইসলামের বার্তা তাঁকে তত বেশি আকৃষ্ট করতে থাকে। ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন বক্তব্য তাঁর কাছে যুক্তিসংগত মনে হতে শুরু করে।   ইসলাম সম্পর্কে নিজের ধারণা যাচাই করতে তিনি খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্ব নিয়েও পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রকাশিত বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অধ্যাপকের কাছ থেকে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস ও বাইবেলের বিভিন্ন ভাষার উৎস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান। প্রায় তিন বছর ধরে ধর্ম ও বিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনার পর এক মুসলিম ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে তাঁর নিজের লেখায় উল্লেখ রয়েছে।    ইসলাম গ্রহণের পর পরিবারের প্রতিক্রিয়াও ছিল কঠিন বলে জানিয়েছেন শারিফা। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, সে সময় তাঁর বাবা জার্মানিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের খবর জানালে বাবা তাঁকে জার্মানিতে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেন এবং ফিরে না এলে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এই বক্তব্যের অনুরূপ বিবরণ তাঁর ২০০৭ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক লেখাতেও রয়েছে।    হিজাব পরার বিষয়টিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিরোধের কারণ হয়ে ওঠে বলে শারিফা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা তাঁকে একটি ফেরারি গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত ছিল তাঁকে হিজাব খুলতে হবে। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার বিবরণ পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে প্রকাশিত লেখাতেও এসেছে।    ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর পড়াশোনার পথও সহজ ছিল না বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে শারিফা দাবি করেন, হিজাব পরার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয় এবং তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে এসব ঘটনার স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক নথি সহজে পাওয়া যায় না, তাই বিষয়গুলো তাঁর নিজের বর্ণনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।   পরবর্তী সময়ে শারিফা কার্লো আল আন্দালুসিয়া নামে তিনি ইসলাম নিয়ে লেখালেখি ও বক্তৃতার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নামে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখায় ইসলামি বিশ্বাস, হিজাব, রমজান ও মুসলিম জীবনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২৫ সালে কুয়েত টাইমসেও তাঁর নামে রমজানের বিভিন্ন ঐতিহ্য নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে।   তাঁর ইসলাম গ্রহণের গল্পের মূল অংশটি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে বিভিন্ন ইসলামি প্রকাশনা ও বক্তৃতার মাধ্যমে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে গোষ্ঠীটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল, সেটির সরকারি পরিচয় বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে শারিফা কার্লোর নিজের বক্তব্যকেই প্রধান উৎস হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৩:৪৪
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের
গৃহহীন থেকে বাধা পেরিয়ে হার্ভার্ডে মোনে থমাস, স্বপ্ন এখন পরিবর্তনের

দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বেড়ে ওঠা মোনে থমাস একসময় পরিবারের সঙ্গে দুই বছর অস্থায়ী বাসস্থানে ছিলেন। সেই মোনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন।   ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী ২০২৫ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে আইন ও নৃবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। হার্ভার্ডের নিজস্ব তথ্যেও তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।    মোনে তাঁর বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বড় হয়েছেন। পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর শৈশবে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর পরিবারটি অস্থায়ী বাসস্থানে থেকেছে। তিনি বিগ ইস্যুকে জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতি তাঁর শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলেছিল।   ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোনে। কিশোর বয়সে নাটকের কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সমস্যাগুলোকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ পান। পরে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি আর্টস প্রকল্পে যুক্ত হন। এসব উদ্যোগে তরুণদের নিজেদের এলাকার পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো।   শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও তরুণদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান তিনি। বিগ ইস্যুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ১০টি সরকারি স্কুলের ৩০০টির বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছেন মোনে। বিভিন্ন দেশে ১০০ জনের বেশি তরুণের শেখার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ৬০ জনের বেশি তরুণকে মেন্টরিং করেছেন। তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে শিক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে।   হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগটি আসে ২০২৬ সালের মার্চে। এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হার্ভার্ডের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজ নেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিটিকে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন। ভর্তির খবর পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। পরে বাবা যে বক্সিং জিমে ছিলেন, সেখানেও মেয়ের হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার খবর জানান।   তবে হার্ভার্ডে ভর্তি হলেও আর্থিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিগ ইস্যুর হিসাবে, টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ সেখানে পড়তে আনুমানিক ৮০ হাজার পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। মোনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন এবং বাকি অর্থের জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করছেন। তাঁর নিজের তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সংগ্রহ করা বাকি।    মোনের অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আর্থসামাজিক বৈষম্যের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত। বিগ ইস্যু ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা স্কুলজীবনে বিনামূল্যে স্কুল খাবারের জন্য যোগ্য ছিল, তাদের অংশ ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে সাটন ট্রাস্টের গবেষণার উল্লেখ করে স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের র‍্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার হারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।    আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মোনে হার্ভার্ডে ক্লাস শুরু করেন। হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ে এডমাস্টার ডিগ্রি করছেন এবং তরুণদের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া, বিকাশ ও নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান।    হার্ভার্ডের পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনার সংযোগস্থলে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মোনের। তাঁর লক্ষ্য, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সেবাকে কাজে লাগিয়ে এমন তরুণ ও কমিউনিটির জন্য সুযোগ তৈরি করা, যারা সবসময় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ পায় না। তাঁর নিজের ভাষায়, নিজের শৈশবের পরিস্থিতি যেন কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সামনে এগোতে চান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২:৫৯
মামদানির মন্তব্যের মধ্যেই নিউ জার্সিতে নামল নেতানিয়াহুর বিমান
মামদানির মন্তব্যের মধ্যেই নিউ জার্সিতে নামল নেতানিয়াহুর বিমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিমান নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বদলে নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবতরণ করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুকে ঘিরে প্রকাশ্য বিরোধের মধ্যেই এই পরিবর্তন এসেছে। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা, বিমান পার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়সহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।   নেতানিয়াহুর সরকারি বিমান ‘উইং অব জিওন’ সাধারণত নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর ব্যবহার করলেও এবারের সফরে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা কাছের কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। পরে নিউয়ার্কে অবতরণের তথ্য সামনে আসে।   এই পরিবর্তনের সঙ্গে মামদানির মন্তব্যের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্কের মেয়র আগে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়টি সম্মান করা উচিত। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নিজস্বভাবে ওই পরোয়ানা কার্যকর করে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেএফকে বিমানবন্দরে নেতানিয়াহুর বিমান দীর্ঘ সময় পার্ক করে রাখার বিষয়টি নিয়েও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়সংক্রান্ত উদ্বেগ ছিল। নিউ জার্সিতে বিমান রাখার ব্যবস্থা করলে সফরের পুরো সময় বিমানটি নিরাপদে রাখা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে শুধু মামদানির কারণে বিমানবন্দর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।   নেতানিয়াহুর এবারের নিউইয়র্ক সফরও আগের পরিকল্পনার তুলনায় অনেক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন এবং একই দিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সফর সংক্ষিপ্ত করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের ভূমিকা বাড়ানোর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিরাপত্তায় মার্কিন ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করছে।   নেতানিয়াহুর সফরের আগে নিউইয়র্কে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের প্রস্তুতির খবরও এসেছে। একই সময়ে নেতানিয়াহু তাঁর জাতিসংঘের ভাষণে ইসরায়েলের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। ফলে এবারের সফরে জাতিসংঘে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি নিউইয়র্কে অবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য মতবিরোধও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২:৫২
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা

ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার ৮ কোটি কানাডীয় ডলার গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২ কোটি কানাডীয় ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার অর্থ খাদ্য ও পুষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে। আর শান্তি ও নিরাপত্তা খাতের অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে। কানাডা বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে।   কার্নি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে গাজাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করবে কানাডা। দেশটি বহু বছর ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। নতুন অর্থায়নের ২ কোটি কানাডীয় ডলারের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বক্তব্যে কার্নি ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কানাডার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।   নতুন অর্থায়নের ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মানবিক ও সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে কানাডার মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি হয়েছে। কানাডা সরকারের হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা।   এর আগে চলতি বছরের জুনে কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। সেই অর্থের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা উদ্যোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।   এদিকে নতুন সহায়তা ঘোষণার সময় গাজা ও পশ্চিম তীরে কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কানাডার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিতে দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সহায়তা প্রকল্প ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কানাডা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে কানাডার নতুন সহায়তার ঘোষণা ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে। কানাডা বলছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে একদিকে জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো হবে, অন্যদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগেও সহায়তা করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ২:৪
বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই
বাবা-দাদার নামে থাকা জমির তথ্য মিলবে মোবাইলেই, যেভাবে খুঁজবেন জানুন

বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য সদস্যের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার প্রাথমিক তথ্য এখন স্মার্টফোন থেকেই খুঁজে দেখা যায়। ভূমি সেবা ডিজিটাল হওয়ায় ঘরে বসে অনলাইনে খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। তবে শুধু কারও নাম লিখে দেশের সব এলাকায় তাঁর নামে থাকা জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট এলাকা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আরটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   জমির তথ্য খুঁজতে প্রথমে স্মার্টফোনের ক্রোম ব্রাউজারে গিয়ে ই-পর্চা সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা সেবায় প্রবেশ করে খতিয়ান অনুসন্ধানের অপশন নির্বাচন করতে হবে। সেখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য নির্বাচন করার পর খতিয়ানের ধরন নির্ধারণ করতে হবে।   রেকর্ড অনুযায়ী বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট জমির তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়।   অনুসন্ধানের পর পাওয়া রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফলে জমির অবস্থান বা রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।   খতিয়ানের কপি প্রয়োজন হলে অনলাইনেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হতে পারে। নির্ধারিত সরকারি ফি থাকলে অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, খতিয়ানের অনলাইন কপি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা।   তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যকে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্য পরিবর্তিত থাকতে পারে।   ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবার আওতায় খতিয়ান ও অন্যান্য ভূমি-সংক্রান্ত সেবা অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে পাওয়া কিউআর কোডযুক্ত খতিয়ানও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাবা-দাদা বা পরিবারের কারও জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে অনলাইন অনুসন্ধানকে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।   সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:৫৮
বিবাহবার্ষিকীতে ক্রুজ থেকে ৩ সন্তানের বাবার ঝাঁপ, সামনে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিবাহবার্ষিকীতে ক্রুজ থেকে ৩ সন্তানের বাবার ঝাঁপ, সামনে এলো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়ার রেডল্যান্ডসের ৫৬ বছর বয়সী থমাস গিগলার একটি ক্রুজে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্ত্রী মিশেল ও পরিবারের সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপনের সফরে থাকা গিগলার গত শনিবার কার্নিভাল প্যানোরামা থেকে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন বলে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভালার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ড, মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের বাণিজ্যিক নৌযানগুলোকে নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিগলার ও তার স্ত্রী মিশেল যে কেবিনে ছিলেন সেটি ছিল জাহাজের দ্বিতীয় ডেকে। পাশের একটি কেবিনে থাকা এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গিগলারকে শেষ পর্যন্ত জাহাজের ১১তম ডেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থান থেকে তিনি সাগরে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।   ঘটনার সময় জাহাজে থাকা যাত্রী লরি ফ্রিড-সিলভা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রীদের কেবিনে ফিরে যেতে বলা হয়। প্রথমে ঘোষণায় শুধু জানানো হয়েছিল, ক্রু সদস্যদের যাত্রীদের সংখ্যা যাচাই করতে হবে। একই ঘোষণা কয়েকবার দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি, যাদের তিনি জাহাজের কর্মকর্তা বলে মনে করেছিলেন, তার কেবিনে এসে সেখানে থাকা যাত্রীদের নাম জানতে চান।   প্রায় ৪৫ মিনিট পর জাহাজের লাউডস্পিকারে জানানো হয়, একজন যাত্রী নিখোঁজ। এর আনুমানিক ১৫ মিনিট পর যাত্রীদের জানানো হয়, একজন পুরুষ সাগরে পড়ে গেছেন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে আশপাশের পানিতে তল্লাশি চালানো হয়।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, একজন যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়। তল্লাশিতে মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের কয়েকটি বাণিজ্যিক নৌযানও যুক্ত হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে জাহাজটি আবার লং বিচের পথে যাত্রা শুরু করে।   গিগলার দীর্ঘ ২৪ বছর এসরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী মিশেল ও তাদের তিন ছেলের সঙ্গে রেডল্যান্ডসে বসবাস করতেন। পরিবারের জন্য বিবাহবার্ষিকী উদ্‌যাপনের এই সফরটি পরে নিখোঁজের ঘটনায় পরিণত হয়।   এদিকে গিগলারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক যাত্রীর করা কিছু দাবিও সামনে এসেছে। ওই যাত্রী দাবি করেছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে জাহাজের একটি বারে গিগলার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে তার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গিগলারের বোন ওয়েন্ডি ডাউডেন ডেইলি মেইলকে বলেছেন, গিগলার ও তার স্ত্রী ভালো সম্পর্কেই ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবার বা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়নি।   ঘটনার পর জাহাজের কয়েকজন যাত্রী গিগলারের স্মরণে একটি ছোট স্মৃতিফলকও তৈরি করেন। সেখানে যাত্রীরা হাতে লেখা বার্তা, প্রার্থনা, খেলনা ও অন্যান্য স্মারক রেখে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে কর্তৃপক্ষের তল্লাশি ও তদন্তের বিস্তারিত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:৪৪
কমিউনিজমের মধ্যেও আমার শৈশব ছিল সুন্দর, বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প
কমিউনিজমের মধ্যেও আমার শৈশব ছিল সুন্দর, বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প

কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরেছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ার অংশ স্লোভেনিয়ায় বেড়ে ওঠার সময় তিনি কোনো কিছুর অভাব অনুভব করেননি এবং তার শৈশব ছিল ‘খুবই সুন্দর’।    মেলানিয়া বলেন, তার বাবা-মা পরিবারের জন্য সুন্দর একটি জীবন নিশ্চিত করেছিলেন। ছোটবেলায় তিনি রাজনীতি বা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা সচেতন ছিলেন না। তার ভাষায়, শিশু হিসেবে তখন যা ছিল, সেটাকেই স্বাভাবিক জীবন হিসেবে দেখেছেন তিনি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সেই সময়ের জীবন যুক্তরাষ্ট্রের মতো স্বাধীন ছিল না।    ১৯৭০ সালে তৎকালীন যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মেলানিয়া বর্তমান স্লোভেনিয়ায় বেড়ে ওঠেন। ১৯৯১ সালে স্লোভেনিয়া স্বাধীন হওয়ার আগে দেশটি সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল রিপাবলিক অব যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল। হোয়াইট হাউসের জীবনী অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে মেলানিয়া নিউইয়র্কে চলে আসেন এবং ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান।    সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া বলেন, ছোটবেলায় তিনি স্কুলে যেতেন, খেলাধুলা করতেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং গান শুনতেন। বিশেষ করে পিঙ্ক ফ্লয়েডসহ বিভিন্ন ব্যান্ডের সংগীত তার পছন্দ ছিল। তিনি বলেন, সে বয়সে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার মতো বয়স তার ছিল না। পরে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সে সময়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারেন।    পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেও নিজের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন মেলানিয়া। তার বাবা-মা তাকে ও তার বোনকে ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন। ইতালি, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও ডালমেশিয়ান উপকূলের মতো জায়গায় ভ্রমণ তার দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।    মেলানিয়ার মতে, একটি শিশুর বেড়ে ওঠায় পরিবার, সমাজ ও শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম, খাবার, স্থাপত্য ও শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়াও শিশুর চিন্তার জগৎকে বিস্তৃত করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।    সাক্ষাৎকারে নিজের পরিবার ও মায়ের প্রভাবের কথাও বলেন মেলানিয়া। তার মা পোশাক তৈরি ও ডিজাইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই মেলানিয়ার ফ্যাশনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। মেলানিয়া জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে তার প্রথম রানওয়ে শো হয় এবং পরবর্তী সময়ে মায়ের কাছ থেকেই পোশাক ও ডিজাইনের বিষয়ে অনেক কিছু শেখেন।    কমিউনিজম নিয়ে মেলানিয়ার এই বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ তার স্বামী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়মিতভাবে ‘কমিউনিজম’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনায় শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। মেলানিয়ার বক্তব্যে অবশ্য নিজের শৈশবের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাই উঠে এসেছে।    সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া আরও বলেন, বর্তমানে তার নিজের পরিবারই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানান, ছোটবেলার অভিজ্ঞতা, পরিবার, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় তার পরবর্তী জীবনের চিন্তাভাবনা ও আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:৩৭
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে আয়োজিত নারী নেতাদের একটি সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন তিনি। তাঁর এই অংশগ্রহণ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব হিসেবে সামনে এসেছে।   ডা. জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে যান। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের স্বাগত প্রাতরাশেও তিনি অংশ নেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি তাঁদের জীবনসঙ্গীরাও অংশ নিচ্ছেন। নারী নেতৃত্ব, শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় এসব অনুষ্ঠানে আলোচনায় এসেছে।   এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন ও ইউএনওপিএস বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘শি লিডস টুমরো’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জুবাইদা রহমান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি তরুণী ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগে এক হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব ও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হয়।   এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ। তাঁর সফরসূচিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অবস্থান করছেন। এর মধ্যেই ডা. জুবাইদা রহমানের নারী নেতাদের সভায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক বিষয়ক আলোচনায় তাঁর অংশগ্রহণকেও সামনে এনেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:২৬
শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর বিরল ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে গিয়ে ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প শি ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শুরুতেই এমন অভ্যর্থনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের জন্য তুলনামূলকভাবে বিরল।    শির এই সফর এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ও শির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ানের নিরাপত্তা, বিরল খনিজসহ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে।    শিকে স্বাগত জানাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল সফরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিদেশি নেতাদের বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানানোর ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। এবার ট্রাম্প সরাসরি শির বিমানের কাছে গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।    হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শির সম্মানে আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনা আয়োজন করা হবে। এরপর দুই নেতা বৈঠক করবেন এবং রাতে থাকবে রাষ্ট্রীয় ভোজ। সফরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মেলানিয়া শি ও পেং লিয়ুয়ানের সঙ্গে ব্যক্তিগত চা বৈঠক করবেন এবং জাতীয় আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। পাশাপাশি বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও মতপার্থক্য রয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তি ও শিল্প উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের প্রতিযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই আসন্ন বৈঠকে এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    তাইওয়ানও আলোচনার সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ফলে দুই নেতার বৈঠকে এ ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।    শি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন যুগে সম্পর্ক পরিচালনার সঠিক পথ খুঁজে পেতে পারে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন।    শির সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির সম্পর্ক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অভ্যর্থনা দুই দেশের সম্পর্কের কূটনৈতিক গুরুত্বকে সামনে আনলেও, আগামী দিনের বাস্তব সম্পর্ক নির্ভর করবে বৈঠকে বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা হয় তার ওপর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১:৩
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে মোট সম্পদের দিক থেকে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকতে হলে বর্তমানে অন্তত ১৮ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থ প্রয়োজন। ভিসার নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্য বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের এই সীমাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে।    ভিসার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মার্কিন পরিবারকে এই স্তরের সম্পদশালী পরিবারের মধ্যে ধরা যায়। শুধু নেট ওয়ার্থ নয়, বার্ষিক পারিবারিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হলেও ভিসার সংজ্ঞায় একটি পরিবার শীর্ষ ১০ শতাংশের সম্পদশালী শ্রেণিতে পড়ে।    নেট ওয়ার্থ বলতে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ থাকে, সেটিকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে বাড়ির মূল্য, গাড়ি, রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও নগদ অর্থের মতো সম্পদ থাকতে পারে। বিপরীতে মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন, গাড়ির লোন ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের মধ্যে পড়ে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা একই নয়। ভিসার বিশ্লেষণে পশ্চিমাঞ্চলে নেট ওয়ার্থের সীমা প্রায় ২০ লাখ ডলার, নর্থইস্টে ১৯ লাখ ডলার, সাউথে ১৮ লাখ ডলার এবং মিডওয়েস্টে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার খরচ ও সম্পদের মূল্যের পার্থক্য এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।    সম্পদের এই ব্যবধান বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি। ইউবিএসের ২০২৬ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ ডলার। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ডলার মিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছে।    ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেসে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০০ ডলার। একই সময়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ ডলার।    এখানে আয় ও নেট ওয়ার্থের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারও বার্ষিক আয় বেশি হলেও তার যদি বড় মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন বা অন্য ঋণ থাকে, তাহলে নেট ওয়ার্থ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার তুলনামূলক মাঝারি আয় থাকলেও বাড়ির মূল্য, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস ও বিনিয়োগের কারণে কারও নেট ওয়ার্থ অনেক বেশি হতে পারে।   ভিসার বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনী’ হওয়ার প্রচলিত ধারণাটিও বদলাচ্ছে। একসময় ১০ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থকে বড় আর্থিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন সেটি দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়।    তবে এসব হিসাব কোনো পরিবারের জীবনযাত্রার সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্য নির্ধারণ করে না। কোথায় বসবাস করছেন, বাড়ির দাম, মর্টগেজের পরিমাণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচের ওপর একই পরিমাণ নেট ওয়ার্থের বাস্তব মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:৫৮
আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী
আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী

নিউ জার্সির ডেলানি হল আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে দুই মাসের বেশি সময় আটক থাকার কারণে নিজের প্রম, হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মুহূর্ত মিস করেছেন ১৮ বছর বয়সী স্পেনের নাগরিক আদ্রিয়ানা জুম্বা। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ডিটেনশনে থাকার পর মুক্তি পেয়ে গ্রীষ্মকালীন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত হাইস্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরে তার স্কুল আলাদাভাবে তার জন্য গ্র্যাজুয়েশন আয়োজন করে।   স্পেন থেকে ৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জুম্বার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। তার স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল স্ট্যাটাসও অনুমোদিত ছিল। এই স্ট্যাটাস নির্যাতন, অবহেলা বা পরিত্যাগের শিকার নির্দিষ্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা। তবুও চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে ডেলানি হলে রাখা হয়।   ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে জুম্বা জানান, ৯ এপ্রিল তাকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি নিজের হাইস্কুলের শেষ বছর শেষ করছিলেন। ২৮ মে তার সহপাঠীদের সঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিটেনশনে থাকায় সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত মুক্তির পর পড়াশোনার ঘাটতি পূরণ করতে সামার স্কুলে ভর্তি হন।   ডেলানি হলে থাকার সময় খাবার ও পানির মান, অতিরিক্ত ভিড় এবং কমিসারি পণ্যের দাম নিয়ে জুম্বা অভিযোগ করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কিছু কর্মীর আচরণও ছিল দুর্ব্যবহারপূর্ণ। তিনি বলেন, কখনো কখনো পাহারাদাররা চিৎকার করে আটক ব্যক্তিদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং এমন খাবার সামনে খেতেন, যা আটক ব্যক্তিদের দেওয়া হতো না।   ডিটেনশনে থাকা অবস্থায় অন্য আটক ব্যক্তিদের জন্য অনুবাদ করেও সময় কাটিয়েছেন জুম্বা। অনেক আটক ব্যক্তি ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় বিভিন্ন নথি বুঝতে তাদের সহায়তা করতেন তিনি। ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে তাকে ডেলানি হলের ভেতরে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক অনুবাদক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   ডেলানি হলে আটক ব্যক্তিদের একটি হাঙ্গার স্ট্রাইকেও অংশ নিয়েছিলেন জুম্বা। ডিটেনশন সেন্টারের পরিস্থিতির প্রতিবাদে আটক ব্যক্তিদের এই কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। তবে জুম্বার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চার্জ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে তিনি হাঙ্গার স্ট্রাইক থেকে সরে আসেন।   ডেলানি হলের পরিস্থিতি নিয়ে সে সময় বাইরে থেকেও প্রতিবাদ হয়। মে মাসে শত শত আটক ব্যক্তি খাবার ও কাজ বর্জনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে ডেমোক্রেসি নাও জানিয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ডিটেনশনের পরিবেশ এবং তাদের মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। ডেলানি হল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ পরিচালিত একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টার।   জুম্বার ঘটনা সামনে আসার পর তার পরিবার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরাও তার মুক্তির জন্য কাজ করেন। ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মা, মুভিমিয়েন্তো কোসেচা এবং নিউ জার্সির কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। স্পেনের নিউইয়র্ক কনস্যুলেটও তার বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল।   ১ জুন ডিটেনশন থেকে মুক্তি পান জুম্বা। তবে মুক্তির পরও স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার কাজ বাকি ছিল। সামার স্কুলে গিয়ে তিনি সেই ঘাটতি পূরণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরে তার স্কুল শুধু তার জন্য একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   ডিটেনশনের অভিজ্ঞতা জুম্বার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে। এখন তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। বিশেষ করে নিজের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষদের আইনি সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।   জুম্বা বলেন, তার অভিজ্ঞতা তাকে নিজের শক্তি সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। জীবনে কিছু করার সুযোগ পাওয়ায় এবং নিজের মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য মানুষদের সাহায্য করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:৪২
টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি
টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ২০২৬ সালের ‘টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার’ হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে prediction market বা পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারগুলোতে এগিয়ে রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, পলিমার্কেট ও কালশি দুটিতেই মামদানিকে সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় শীর্ষে দেখা যাচ্ছে। তবে এসব বাজারের হিসাব টাইম ম্যাগাজিনের সিদ্ধান্ত নয় এবং বছরের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।   কালশির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মামদানির জন্য বাজারের ইঙ্গিত করা সম্ভাবনা প্রায় ৩৩ শতাংশ। পোপ লিও চতুর্দশের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২১ শতাংশ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ শতাংশ। পলিমার্কেটেও মামদানি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন, যেখানে সাম্প্রতিক হিসাবে তার সম্ভাবনা প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি।    মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার শপথ গ্রহণ হয় ম্যানহাটনের পুরোনো সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনে।    এর আগে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পান এবং পরে মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। তার প্রচারে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, ফ্রি বাস ও শিশুদের জন্য চাইল্ডকেয়ারের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। এই প্রচারণা তাকে স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে আসে। টাইমও তাকে ২০২৬ সালের TIME100 তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।    টাইমের প্রোফাইলে মামদানিকে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে নতুন গতি তৈরি করা একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে তার হাউজিং এজেন্ডা, ব্যবসা ও শহরের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচকদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেছে ম্যাগাজিনটি। টাইম আরও জানিয়েছে, মামদানি গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে চাইল্ডকেয়ার পরিকল্পনায় কাজ করেছেন এবং ফেডারেল হাউজিং ফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে।    মামদানিকে ঘিরে জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কও তার দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। তবে সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ দেখা যায়। গ্রেসি ম্যানশনে ওই বৈঠকে নিউইয়র্কের হাউজিং, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।    ‘টাইম পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচন অবশ্য prediction market-এর হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না। টাইম নিজস্ব সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করে। ফলে বর্তমানে মামদানি বাজারের হিসাবে এগিয়ে থাকলেও সেটিকে তার বিজয় নিশ্চিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। বছরের শেষ মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বজুড়ে বড় কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা আন্তর্জাতিক ঘটনা ঘটলে সম্ভাব্য তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।   ২০২৬ সালের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা ডিসেম্বরেই হওয়ার কথা। ফলে এখনকার prediction market মূলত ব্যবসায়ীদের বর্তমান ধারণা বা বাজারের প্রত্যাশা প্রকাশ করছে, টাইমের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:১৬
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা হ্যাক করেছে এআই এজেন্ট

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে।   অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল।   অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে।   ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়।   অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না।   ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই।   এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।   অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।   সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ০:৯
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গোলান মালভূমি নয়, ইসরায়েলকে বরং নিজেদের নিউজার্সি দিয়ে দিন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

গোলান মালভূমির বদলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে রসিকতার আড়ালেও গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। শারা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার জনগণের ভূখণ্ড এবং সেটি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির নেই।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শারা এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।   শারা জানান, ওই বৈঠকে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলের। জবাবে তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমির পরিবর্তে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ গোলান মালভূমি দেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই, কিন্তু নিউ জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড।   শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার থাকেন এবং তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার ছলে তিনি বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যটি ইসরায়েলকে দিয়ে দিলে অন্তত এমন একটি জায়গা দেওয়া হবে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব রয়েছে।   তবে নিজের বক্তব্যের পরই শারা স্পষ্ট করেন, গোলান মালভূমির বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের ভূখণ্ড এবং এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কারও পক্ষে অন্য কোনো পক্ষকে দিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়।   ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমির বড় অংশ দখল করে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই এলাকায় নিজেদের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন সম্প্রসারণ করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে ‘অকার্যকর’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবেও গোলানকে ‘অধিকৃত সিরীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের মতো গোলানকে সিরিয়ার অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করত। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।   গোলান ইস্যুতে শারার বক্তব্য আসে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময়। সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করে। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবিষয়ক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।   আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যায়ে তা আর এগোয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এসব আলোচনায় যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।   ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শারা বলেন, প্রথমে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি সমাধান করতে হবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।   গোলান মালভূমির বিষয়ে অবশ্য শারার অবস্থান ছিল অনড়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত অবস্থান অনুযায়ী এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলোতেও গোলানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।   অনুষ্ঠানে শারা আরও জানান, ২০১২ সালে সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়েও সিরীয় কর্তৃপক্ষ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শারা বলেন, টাইসের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।   তিনি জানান, বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনামলে নিখোঁজ হওয়া বিপুলসংখ্যক সিরীয় নাগরিকের বিষয়েও নতুন সরকার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হয়েছে এবং মরদেহ শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শারার এই বক্তব্য সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয় গোলান মালভূমি নিয়ে দামেস্কের অবস্থান আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রসিকতার মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: দ্য নিউ আরব, আটলান্টিক কাউন্সিল, জাতিসংঘ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২৩:৪৯
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন পেদ্রো সানচেজ। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যার’ তীব্র নিন্দা স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে স্পেনের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।   সানচেজ বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজায় যে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, স্পেন তার ‘গণহত্যা’কে কোনো ধরনের রাখঢাক ছাড়াই নিন্দা করছে। জাতিসংঘের মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেন, লেবানন ও ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।   স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে স্পেন বিভিন্ন ধরনের আগ্রাসী যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধের সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   গাজা প্রসঙ্গে সানচেজের অবস্থান নতুন নয়। স্পেন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্পেন সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী জাহাজ ও বিমানকে স্পেনের বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেয়।   স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার জন্য আইনি কাঠামো আরও শক্ত করার পদক্ষেপও নিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানিয়েছে মাদ্রিদ।   জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে সানচেজ শুধু গাজার পরিস্থিতি নয়, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্পেনের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের আগে সানচেজ জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।   এদিকে, গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘গণহত্যা’ শব্দটির ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলোর কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘে তার বক্তব্যে দেশটির সামরিক অভিযানকে সমর্থন করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসরায়েলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সামরিক অভিযান হামাসের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।   গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়েও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ২২ সেপ্টেম্বর বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরকে একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে সংযুক্ত রাখা এবং ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখার ভিত্তিতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি দুটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ।   গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থান ইউরোপের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। দেশটি ২০২৪ সালের মে মাসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়ে আসছে।   জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সানচেজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গাজা নিয়ে স্পেনের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক আইন, কূটনীতি এবং মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার বিষয়ে স্পেনের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   সূত্র: স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতিসংঘ, রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২৩:৩৫
ঘানার ইস্টার্ন অঞ্চলে মিস্টারবিস্টের উদ্যোগে নির্মিত আবনা ডাকওয়া ভিলেজ। ছবি: সংগৃহীত
শিশুশ্রম ঠেকাতে ঘানায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারে গ্রাম বানালেন মিস্টারবিস্ট

শিশুশ্রম থেকে শিশুদের দূরে রেখে স্কুলমুখী করতে ঘানার ইস্টার্ন অঞ্চলে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি নতুন কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার জিমি ডোনাল্ডসন, যিনি মিস্টারবিস্ট নামে পরিচিত। আবনা ডাকওয়া ভিলেজ নামের এই প্রকল্পে রয়েছে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল, শিক্ষকদের জন্য ১০টি বাড়ি, চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ, বাজার এবং কৃষিভিত্তিক নানা সুযোগ।   মিস্টারবিস্টের দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিস্ট ফিলানথ্রপি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। ঘানার কোকো উৎপাদনকারী এলাকায় শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার পেছনে থাকা শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সংকট কমানোই প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর পরিকল্পনার পর আট মাস ধরে নির্মাণকাজ চালিয়ে নতুন কমিউনিটিটি গড়ে তোলা হয়।   আবনা ডাকওয়া ভিলেজটি আগে অনুন্নত জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ৩০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারবে এমন একটি স্কুল রয়েছে। শিক্ষকদের থাকার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১০টি বাড়ি। পাশাপাশি রয়েছে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র, কমিউনিটি বাজার এবং শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ ও বিনোদনের জায়গা।   কমিউনিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। বড় পানির ট্যাংক ও সৌরশক্তিনির্ভর পানির ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসিন্দাদের কাছে পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুতের জন্য প্রচলিত অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমে।   শুধু স্কুল ও মৌলিক সেবা নয়, পরিবারগুলোর আয় ও খাদ্যনিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পে রাখা হয়েছে। কৃষি অবকাঠামো, মাছ চাষের ব্যবস্থা এবং মুরগি পালনের সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো স্থানীয় পরিবারগুলোকে নিজেদের খাদ্য ও আয়ের কিছু উৎস গড়ে তুলতে সহায়তা করা।   শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। নতুন স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বিনা মূল্যে স্কুলের খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মিস্টারবিস্টের বিস্ট ফিলানথ্রপির সঙ্গে দ্য রকফেলার ফাউন্ডেশন অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। দুই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ঘানার ইস্টার্ন অঞ্চলে স্কুলের খাবারের কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি, স্কুলে উপস্থিতি ও শেখার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিশুশ্রম থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হবে।   ঘানার কোকো উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে শিশুশ্রমের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। দারিদ্র্য, শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং পরিবারের অর্থনৈতিক চাপের কারণে কিছু শিশু কোকো খামারে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। মিস্টারবিস্টের প্রকল্পের মূল ধারণা হলো, শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারগুলোর মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ উন্নত করা গেলে শিশুশ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।   মিস্টারবিস্ট তার নতুন ভিডিওতে কোকো শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বড় চকোলেট কোম্পানিগুলোর প্রতিও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কোকো সরবরাহ ব্যবস্থায় শিশুদের শ্রমের সুযোগ বন্ধ করতে বড় কোম্পানিগুলোর আরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পটি তার চকোলেট ব্র্যান্ড ফিস্টেবলসের কোকো সরবরাহে নৈতিক উৎস নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিস্ট ফিলানথ্রপির ঘানা কর্মসূচি অবশ্য শুধু আবনা ডাকওয়া ভিলেজেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ঘানার কোকো উৎপাদনকারী আরও কয়েকটি কমিউনিটিতে শিক্ষা, পানি ও স্যানিটেশন, খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই আয় এবং শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, দ্য রকফেলার ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঘানা ও কেনিয়ায় স্কুলভিত্তিক পুষ্টিকর খাবারের কর্মসূচি নিয়ে বিস্ট ফিলানথ্রপির সঙ্গে তাদের অংশীদারত্ব হয়েছে। ঘানায় স্থানীয় কৃষক ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে স্কুলের খাবারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহারের পাশাপাশি কৃষকদের আয় ও কমিউনিটির স্থায়িত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে।   মিস্টারবিস্ট, যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন, বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউব নির্মাতা। বিপুলসংখ্যক অনুসারীর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্যও পরিচিত। ঘানার এই প্রকল্পকে তার সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে তৈরি আবনা ডাকওয়া ভিলেজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও জীবিকার সুযোগ একসঙ্গে তৈরির মাধ্যমে কোকো চাষনির্ভর পরিবারগুলোর শিশুদের স্কুলে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।   সূত্র: বিস্ট ফিলানথ্রপি, দ্য রকফেলার ফাউন্ডেশন, পালস ঘানা ও হিন্দুস্তান টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২৩:১৩
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অভিযান। (ছবি: সংগৃহীত)
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে প্রাণ গেল ৮ জনের, মোট গুলিবিদ্ধ ২১

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এ ছাড়া অন্তত ১৫টি ঘটনায় অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।   এবিসি নিউজের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব গুলির ঘটনা ঘটেছে। এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদন, আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য এবং সরকারি বিভিন্ন বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করেছে।   সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটে গত রোববার টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তা ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার নাগরিক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজকে গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তিনি ডোরড্যাশের হয়ে খাবার সরবরাহ করছিলেন বলে তার আইনজীবী এবং ডোরড্যাশ নিশ্চিত করেছে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।   ঘটনার পর গারসেস পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে আবার ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তার শরীরে এখনো একটি গুলি রয়েছে, যা মেরুদণ্ডের কাছাকাছি আটকে আছে। ২৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাস ট্রিবিউনও জানিয়েছে, গুলিটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   গারসেস পেরেজের আইনজীবীর বক্তব্য, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। অর্থাৎ, ঘটনাটি ঘিরে তার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।   অস্টিনের ঘটনার পর তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তা ঘটনার সময় শরীরে পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহার করছিলেন না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। অস্টিন পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো এক কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। তবে ওই ভিডিওতে গুলি চালানোর আগের পুরো ঘটনাটি স্পষ্ট হয়নি।   অস্টিন পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, তার বিভাগ এবং টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। তিনি বলেন, অস্টিন পুলিশের কর্মকর্তারা আইসিইর মূল অভিযানে অংশ নেননি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।   অস্টিনের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কিছু কংগ্রেস সদস্য আইসিইর কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। শতাধিক কংগ্রেস সদস্য গারসেস পেরেজকে চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিইর অভিযান বন্ধ করার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগটি বলেছে, কংগ্রেসের পাস করা আইন বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব এবং অস্টিনে আইসিইর অভিযান থামবে না। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েন মুলিনও আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   এদিকে, অস্টিনের ঘটনার আগে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাগুলো নিয়েও কংগ্রেসে শুনানি হয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সিনেটের পার্মানেন্ট সাবকমিটি অন ইনভেস্টিগেশনস এবং প্রতিনিধি পরিষদের কমিটি অন ওভারসাইট অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিফর্ম যৌথ শুনানির আয়োজন করে। সেখানে আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।   শুনানিতে রেনে গুডের মা ডোনা গ্রেঞ্জারও বক্তব্য দেন। ৩৭ বছর বয়সী গুডকে জানুয়ারিতে মিনেসোটায় এক আইসিই কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। গুড ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   শুনানিতে আরও বক্তব্য দেন টেক্সাসের হিউস্টনে জুলাইয়ে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদোর পরিবার। তার ছেলে লরেঞ্জো সালগাদো জুনিয়র আইনপ্রণেতাদের বলেন, বাবার মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পরিবার তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, যেমন মানিব্যাগ ও ফোন, ফেরত পায়নি এবং ঘটনার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকেও পর্যাপ্ত উত্তর পায়নি।   অস্টিনে গারসেস পেরেজকে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনসের প্রেসিডেন্ট রোমান পালোমারেস হিউস্টনের প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অস্টিনের ঘটনার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান।   এবিসি নিউজের হিসাবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২১ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আটটি ছিল প্রাণঘাতী এবং নিহতদের তিনজন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একই সময়ে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা গুলি চালালেও কেউ আহত হননি। এই হিসাব যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   সূত্র: এবিসি নিউজ, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে মর্টগেজের পাশাপাশি অন্যান্য খরচও হিসাব করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার বাড়ি কিনছেন? মর্টগেজের বাইরেও বাসার কিস্তিতে যেসব খরচ যোগ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট আর মর্টগেজের মূল কিস্তি হিসাব করলেই পুরো খরচ বোঝা যায় না। মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ যুক্ত হতে পারে। এর বাইরে হোমওনার এসোসিয়েশন ফি, ইউটিলিটিজ, মেইনটেন্যান্স ও বাড়ি মেরামতের খরচও নতুন হোমওনারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মার্কিন কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ হিসাব করার সময় শুধু প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্ট নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সও বিবেচনা করা উচিত। অনেক মর্টগেজে এসব খরচ এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক পেমেন্টের সঙ্গে সংগ্রহ করা হয়।   প্রথমবার বাড়ি কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য তাই শুধু “আমার মর্টগেজ পেমেন্ট কত হবে?” প্রশ্নটি যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, “প্রতি মাসে বাড়ির জন্য আমাকে মোট কত টাকা দিতে হবে?”   প্রথম যে অতিরিক্ত খরচটি সামনে আসে, সেটি হলো প্রপার্টি ট্যাক্স। বাড়ির লোকেশন ও স্থানীয় ট্যাক্স রেটের ওপর এই খরচ নির্ভর করে। অনেক লেন্ডার মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্সের অর্থ এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখে এবং নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দিয়ে ট্যাক্স পরিশোধ করে। তবে সব লোনের কাঠামো একই নয়। কিছু ক্ষেত্রে হোমওনারকে সরাসরি স্থানীয় ট্যাক্স অথরিটিকে প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হতে পারে।   এর সঙ্গে যোগ হতে পারে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স। বাড়ির লোকেশন, বাড়ির ধরন, কভারেজ এবং বিভিন্ন ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচ পরিবর্তিত হয়। এটিও অনেক সময় এসক্রোর মাধ্যমে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।   কম ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাড়ি কিনলে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচও যুক্ত হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, কনভেনশনাল লোনে সাধারণভাবে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স বা পিএমআই লাগতে পারে। এফএইচএ ও অন্যান্য কিছু লোন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের আলাদা নিয়ম রয়েছে।   আরেকটি বিষয় হলো হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি। কোনো কনডো, টাউনহোম বা এইচওএ কমিউনিটিতে বাড়ি কিনলে এই ফি দিতে হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচওএ ফি সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের মধ্যে থাকে না। এটি সাধারণত এইচওএকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।   তাই কোনো বাড়ির লিস্টিংয়ে যদি মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট কম দেখানো হয়, সেটি দেখে পুরো মাসিক হাউজিং কস্ট ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এইচওএ ফি থাকলে সেটিও মাসিক বাজেটে যোগ করতে হবে।   মাসিক খরচের বাইরে বাড়ি কেনার সময়ও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোজিং কস্টস। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্টের বাইরে ক্লোজিং কস্টস সাধারণত বাড়ির বিক্রয় মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, লেন্ডারের চার্জেস, লোন টাইপ, বাড়ির ধরন এবং লোকেশনের ওপর।   ক্লোজিং কস্টসের মধ্যে লেন্ডার চার্জেস, অ্যাপ্রেইজাল, টাইটেল-রিলেটেড ফি, কিছু গভর্নমেন্ট ফি, প্রিপেইড ইন্টারেস্ট, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ইনিশিয়াল প্রিমিয়াম এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের ইনিশিয়াল ডিপোজিটের মতো খরচ থাকতে পারে। হোম ইন্সপেকশনের খরচও আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয় ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লেন্ডার ক্লোজিং কস্টসের কিছু অংশ বহনের জন্য লেন্ডার ক্রেডিট দিলে সেটিকে সব সময় “ফ্রি মানি” হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে বেশি ইন্টারেস্ট রেট হতে পারে। ফলে শুরুতে আপফ্রন্ট কস্ট কম মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।   বাড়ি কেনার পর শুরু হয় আরেক ধরনের খরচ। নতুন হোমওনারকে ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস, ওয়াটার, স্যুয়ার, ট্র্যাশ এবং ইন্টারনেটের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দিতে হয়। এগুলো সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ নয়।   এর পাশাপাশি বাড়ির মেইনটেন্যান্স ও রিপেয়ারের খরচও মাথায় রাখতে হবে। রুফ, এইচভিএসি সিস্টেম, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার হিটার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ্লায়েন্সে সমস্যা হলে হোমওনারকেই খরচ বহন করতে হয়। তাই বাড়ি কেনার বাজেট করার সময় মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার, মুভিং কস্টস, ফার্নিচার এবং হোম ইমপ্রুভমেন্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   কোনো বাড়ি ফ্লাড-রিস্ক এলাকায় হলে অ্যাডিশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। আবার বাড়ির বয়স, এনার্জি এফিশিয়েন্সি এবং লোকেশনের মতো বিষয় ভবিষ্যতের ইউটিলিটি কস্ট এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   তাই প্রথমবার বাড়ি কেনার সময় একটি সহজ হিসাব হলো, প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স যোগ করে আগে টোটাল মান্থলি মর্টগেজ পেমেন্ট দেখতে হবে। এরপর এইচওএ ফি, ইউটিলিটিজ এবং ফিউচার মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   মর্টগেজ নেওয়ার সময় লোন এস্টিমেট এবং ক্লোজিং ডিসক্লোজারও ভালোভাবে দেখা জরুরি। এসব ডকুমেন্টে মান্থলি পেমেন্ট, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রোর মাধ্যমে পরিশোধ করা প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। ক্লোজিংয়ের আগে ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর সেটি আগের লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।   বিশেষ করে বায়ারদের খেয়াল রাখা উচিত, কোনো প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স বা এইচওএ ফি এসক্রোর বাইরে আছে কি না। থাকলে সেই অর্থ মর্টগেজ কোম্পানিকে দেওয়া মান্থলি পেমেন্টের মধ্যে নাও থাকতে পারে এবং হোমওনারকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেন্ডার আপনাকে যত টাকার মর্টগেজের জন্য কোয়ালিফাই করাচ্ছে, সেটি আপনার পরিবারের জন্য আরামদায়কভাবে বহনযোগ্য মান্থলি হাউজিং কস্টের সমান নয়। বাড়ি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণের সময় পরিবারের ইনকাম, অন্যান্য ডেট, সেভিংস এবং দৈনন্দিন খরচও বিবেচনা করা জরুরি।   অর্থাৎ, প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু “মর্টগেজ পেমেন্ট কত?” এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই হবে না। বরং “মর্টগেজসহ প্রতি মাসে মোট হাউজিং কস্ট কত হবে এবং বাড়ি কেনার পর হঠাৎ কোনো বড় খরচ এলে সেটি সামলানোর মতো সেভিংস থাকবে কি না”—এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বাড়ি কেনা জীবনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তাই বাড়ির দাম ও মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স, এইচওএ ফি, ক্লোজিং কস্টস, ইউটিলিটিজ এবং মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আগে থেকে হিসাব করে এগোলে নতুন হোমওনারদের জন্য মাসিক বাজেট অনেক বেশি বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করা সম্ভব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:২৫
হামলার পর কেন্দ্রটি পরিষ্কার এবং মেরামতের কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আশপাশের অমুসলিম প্রতিবেশীরা। (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সেন্টারে হামলার পর মেরামতে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে এবং মেরামতের কাজে সহায়তা শুরু করেন।   কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি ট্রুরোর কাছে কার্নন ডাউনস এলাকায় কুয়েঞ্চওয়েল রোডে অবস্থিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটির প্রবেশপথের লোহার ফটকে একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তেলসদৃশ একটি পদার্থ কেন্দ্রের চত্বর ও ভবনের বাইরের দেয়ালে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। অবস্থান ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় পুলিশ এটিকে আপাতত জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধমূলক ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্তের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হতে পারে। সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।   হামলার পর কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামতে এগিয়ে আসেন পাশের পেরানওয়েল স্টেশন এলাকার দুই বাসিন্দা রব ও জেমস। তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফটকটি মেরামত করেন। কেন্দ্রটির ট্রাস্টি ও পরিচালক টিপু চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দার এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে।   কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিক জানান, হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা এসেছে, তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিষ্কার করেছেন, আবার কেউ আর্থিক সহায়তা ও ফুল পাঠিয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভয়েস নিউজপেপার্সকে হাসান কিলিক বলেন, ঘটনার পর কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। শনিবার কয়েকজন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করেন এবং পরদিন দুই ব্যক্তি এসে ফটকটি মেরামত করে দেন।   কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর কর্নওয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রটির পাশে থাকার কথা বলেছেন।   কার্নন ডাউনসের এই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সেবারও কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে কর্নওয়ালের একমাত্র মসজিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।   হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করাও তাদের লক্ষ্য।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি বা ব্যক্তিকে দেখে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তথ্য দিতে পারেন। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেছেন, তদন্ত চলাকালে এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হবে।   এর আগে ২০০৮ সালেও একই ইসলামিক কেন্দ্রকে ঘিরে জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ভবনটির দরজায় একটি শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকানো এবং বর্ণবাদী লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর কেন্দ্রটির ইমাম হাসান কিলিক বলেন, হামলার ঘটনায় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও তারা ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান।   স্থানীয় মানুষের এই সহায়তাকে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে শুধু ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে বৃহত্তর স্থানীয় সমাজের অবস্থানেরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওয়া সহায়তা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা জোগাচ্ছে।   সূত্র: ভয়েস নিউজপেপার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:১৫