সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনার আগে মর্টগেজের পাশাপাশি অন্যান্য খরচও হিসাব করা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
প্রথমবার বাড়ি কিনছেন? মর্টগেজের বাইরেও বাসার কিস্তিতে যেসব খরচ যোগ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট আর মর্টগেজের মূল কিস্তি হিসাব করলেই পুরো খরচ বোঝা যায় না। মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ যুক্ত হতে পারে। এর বাইরে হোমওনার এসোসিয়েশন ফি, ইউটিলিটিজ, মেইনটেন্যান্স ও বাড়ি মেরামতের খরচও নতুন হোমওনারের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মার্কিন কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, একটি বাড়ির প্রকৃত মাসিক খরচ হিসাব করার সময় শুধু প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্ট নয়, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সও বিবেচনা করা উচিত। অনেক মর্টগেজে এসব খরচ এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মাসিক পেমেন্টের সঙ্গে সংগ্রহ করা হয়।   প্রথমবার বাড়ি কিনছেন এমন ক্রেতাদের জন্য তাই শুধু “আমার মর্টগেজ পেমেন্ট কত হবে?” প্রশ্নটি যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, “প্রতি মাসে বাড়ির জন্য আমাকে মোট কত টাকা দিতে হবে?”   প্রথম যে অতিরিক্ত খরচটি সামনে আসে, সেটি হলো প্রপার্টি ট্যাক্স। বাড়ির লোকেশন ও স্থানীয় ট্যাক্স রেটের ওপর এই খরচ নির্ভর করে। অনেক লেন্ডার মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্সের অর্থ এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখে এবং নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দিয়ে ট্যাক্স পরিশোধ করে। তবে সব লোনের কাঠামো একই নয়। কিছু ক্ষেত্রে হোমওনারকে সরাসরি স্থানীয় ট্যাক্স অথরিটিকে প্রপার্টি ট্যাক্স দিতে হতে পারে।   এর সঙ্গে যোগ হতে পারে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স। বাড়ির লোকেশন, বাড়ির ধরন, কভারেজ এবং বিভিন্ন ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের খরচ পরিবর্তিত হয়। এটিও অনেক সময় এসক্রোর মাধ্যমে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।   কম ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাড়ি কিনলে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচও যুক্ত হতে পারে। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, কনভেনশনাল লোনে সাধারণভাবে ২০ শতাংশের কম ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স বা পিএমআই লাগতে পারে। এফএইচএ ও অন্যান্য কিছু লোন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের আলাদা নিয়ম রয়েছে।   আরেকটি বিষয় হলো হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি। কোনো কনডো, টাউনহোম বা এইচওএ কমিউনিটিতে বাড়ি কিনলে এই ফি দিতে হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এইচওএ ফি সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের মধ্যে থাকে না। এটি সাধারণত এইচওএকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়।   তাই কোনো বাড়ির লিস্টিংয়ে যদি মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট কম দেখানো হয়, সেটি দেখে পুরো মাসিক হাউজিং কস্ট ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এইচওএ ফি থাকলে সেটিও মাসিক বাজেটে যোগ করতে হবে।   মাসিক খরচের বাইরে বাড়ি কেনার সময়ও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ক্লোজিং কস্টস। সিএফপিবির তথ্য অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্টের বাইরে ক্লোজিং কস্টস সাধারণত বাড়ির বিক্রয় মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে প্রকৃত খরচ নির্ভর করে বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, লেন্ডারের চার্জেস, লোন টাইপ, বাড়ির ধরন এবং লোকেশনের ওপর।   ক্লোজিং কস্টসের মধ্যে লেন্ডার চার্জেস, অ্যাপ্রেইজাল, টাইটেল-রিলেটেড ফি, কিছু গভর্নমেন্ট ফি, প্রিপেইড ইন্টারেস্ট, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ইনিশিয়াল প্রিমিয়াম এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের ইনিশিয়াল ডিপোজিটের মতো খরচ থাকতে পারে। হোম ইন্সপেকশনের খরচও আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয় ফার্স্ট-টাইম হোমবায়ারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লেন্ডার ক্লোজিং কস্টসের কিছু অংশ বহনের জন্য লেন্ডার ক্রেডিট দিলে সেটিকে সব সময় “ফ্রি মানি” হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে বেশি ইন্টারেস্ট রেট হতে পারে। ফলে শুরুতে আপফ্রন্ট কস্ট কম মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।   বাড়ি কেনার পর শুরু হয় আরেক ধরনের খরচ। নতুন হোমওনারকে ইলেকট্রিসিটি, গ্যাস, ওয়াটার, স্যুয়ার, ট্র্যাশ এবং ইন্টারনেটের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল দিতে হয়। এগুলো সাধারণত মর্টগেজ পেমেন্টের অংশ নয়।   এর পাশাপাশি বাড়ির মেইনটেন্যান্স ও রিপেয়ারের খরচও মাথায় রাখতে হবে। রুফ, এইচভিএসি সিস্টেম, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার হিটার কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ্লায়েন্সে সমস্যা হলে হোমওনারকেই খরচ বহন করতে হয়। তাই বাড়ি কেনার বাজেট করার সময় মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার, মুভিং কস্টস, ফার্নিচার এবং হোম ইমপ্রুভমেন্টের জন্যও আলাদা অর্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   কোনো বাড়ি ফ্লাড-রিস্ক এলাকায় হলে অ্যাডিশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। আবার বাড়ির বয়স, এনার্জি এফিশিয়েন্সি এবং লোকেশনের মতো বিষয় ভবিষ্যতের ইউটিলিটি কস্ট এবং ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   তাই প্রথমবার বাড়ি কেনার সময় একটি সহজ হিসাব হলো, প্রিন্সিপাল ও ইন্টারেস্টের সঙ্গে প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স যোগ করে আগে টোটাল মান্থলি মর্টগেজ পেমেন্ট দেখতে হবে। এরপর এইচওএ ফি, ইউটিলিটিজ এবং ফিউচার মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।   মর্টগেজ নেওয়ার সময় লোন এস্টিমেট এবং ক্লোজিং ডিসক্লোজারও ভালোভাবে দেখা জরুরি। এসব ডকুমেন্টে মান্থলি পেমেন্ট, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রোর মাধ্যমে পরিশোধ করা প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। ক্লোজিংয়ের আগে ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর সেটি আগের লোন এস্টিমেটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।   বিশেষ করে বায়ারদের খেয়াল রাখা উচিত, কোনো প্রপার্টি ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স বা এইচওএ ফি এসক্রোর বাইরে আছে কি না। থাকলে সেই অর্থ মর্টগেজ কোম্পানিকে দেওয়া মান্থলি পেমেন্টের মধ্যে নাও থাকতে পারে এবং হোমওনারকে আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেন্ডার আপনাকে যত টাকার মর্টগেজের জন্য কোয়ালিফাই করাচ্ছে, সেটি আপনার পরিবারের জন্য আরামদায়কভাবে বহনযোগ্য মান্থলি হাউজিং কস্টের সমান নয়। বাড়ি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণের সময় পরিবারের ইনকাম, অন্যান্য ডেট, সেভিংস এবং দৈনন্দিন খরচও বিবেচনা করা জরুরি।   অর্থাৎ, প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে শুধু “মর্টগেজ পেমেন্ট কত?” এই প্রশ্নের উত্তর জানলেই হবে না। বরং “মর্টগেজসহ প্রতি মাসে মোট হাউজিং কস্ট কত হবে এবং বাড়ি কেনার পর হঠাৎ কোনো বড় খরচ এলে সেটি সামলানোর মতো সেভিংস থাকবে কি না”—এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   বাড়ি কেনা জীবনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তাই বাড়ির দাম ও মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স, মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্স, এইচওএ ফি, ক্লোজিং কস্টস, ইউটিলিটিজ এবং মেইনটেন্যান্সের সম্ভাব্য খরচ আগে থেকে হিসাব করে এগোলে নতুন হোমওনারদের জন্য মাসিক বাজেট অনেক বেশি বাস্তবসম্মতভাবে তৈরি করা সম্ভব।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:২৫
হামলার পর কেন্দ্রটি পরিষ্কার এবং মেরামতের কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন আশপাশের অমুসলিম প্রতিবেশীরা। (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সেন্টারে হামলার পর মেরামতে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবীরা কেন্দ্রটিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিষ্কার করতে এবং মেরামতের কাজে সহায়তা শুরু করেন।   কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি ট্রুরোর কাছে কার্নন ডাউনস এলাকায় কুয়েঞ্চওয়েল রোডে অবস্থিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে কেন্দ্রটির প্রবেশপথের লোহার ফটকে একটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে তেলসদৃশ একটি পদার্থ কেন্দ্রের চত্বর ও ভবনের বাইরের দেয়ালে ছড়িয়ে দেন বলে পুলিশ ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। অবস্থান ও ঘটনার ধরন বিবেচনায় পুলিশ এটিকে আপাতত জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধমূলক ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তদন্তের তথ্য অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ঘটনার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করা হতে পারে। সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।   হামলার পর কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত ফটক মেরামতে এগিয়ে আসেন পাশের পেরানওয়েল স্টেশন এলাকার দুই বাসিন্দা রব ও জেমস। তারা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফটকটি মেরামত করেন। কেন্দ্রটির ট্রাস্টি ও পরিচালক টিপু চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবেন তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। স্থানীয় দুই বাসিন্দার এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়েছে।   কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিক জানান, হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে যে সহায়তা এসেছে, তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেউ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী নিয়ে এসেছেন, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিষ্কার করেছেন, আবার কেউ আর্থিক সহায়তা ও ফুল পাঠিয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ভয়েস নিউজপেপার্সকে হাসান কিলিক বলেন, ঘটনার পর কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও স্থানীয় মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল অসাধারণ। শনিবার কয়েকজন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে সহযোগিতা করেন এবং পরদিন দুই ব্যক্তি এসে ফটকটি মেরামত করে দেন।   কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পর কর্নওয়ালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপক সমর্থন ও সহমর্মিতার বার্তা এসেছে। স্থানীয় রাজনীতিকরাও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রটির পাশে থাকার কথা বলেছেন।   কার্নন ডাউনসের এই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং শিক্ষা, দাতব্য কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন কমিউনিটি সেবারও কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৭ সালে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে কর্নওয়ালের একমাত্র মসজিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়।   হামলার ঘটনায় কেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রটির তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, প্রায় ১৮ বছর ধরে এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর এবার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা জোরদার করাও তাদের লক্ষ্য।   পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় আশপাশে কোনো সন্দেহজনক গাড়ি বা ব্যক্তিকে দেখে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দারা তথ্য দিতে পারেন। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেছেন, তদন্ত চলাকালে এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেওয়া হবে।   এর আগে ২০০৮ সালেও একই ইসলামিক কেন্দ্রকে ঘিরে জাতিগত বিদ্বেষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ভবনটির দরজায় একটি শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকানো এবং বর্ণবাদী লেখা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সর্বশেষ ঘটনার পর কেন্দ্রটির ইমাম হাসান কিলিক বলেন, হামলার ঘটনায় কমিউনিটি উদ্বিগ্ন হলেও তারা ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চান।   স্থানীয় মানুষের এই সহায়তাকে কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে শুধু ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহযোগিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং হামলার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে বৃহত্তর স্থানীয় সমাজের অবস্থানেরও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওয়া সহায়তা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে আস্থা জোগাচ্ছে।   সূত্র: ভয়েস নিউজপেপার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:১৫
জন্ম পর্যটন ঠেকাতে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছেন মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ‘জন্ম পর্যটন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেন, তাদের ভিসা দেওয়া সীমিত করা হবে।   রুবিওর ঘোষণার আওতায় শুধু যারা নিজেরা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তারাই নন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তিরাও পড়বেন। এর মধ্যে এমন মধ্যস্থতাকারী বা ‘ভিসা ফিক্সার’ও রয়েছেন, যারা ভিসা আবেদনকারীদের তথ্য গোপন বা মিথ্যা বলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরামর্শ দেন।   এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত এবং এ থেকে লাভবান ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। তাঁর ভাষ্য, বিদেশিরা যেন মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন, সেটিই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।   জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যখন কোনো বিদেশি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন এবং শিশুটি জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে এমন প্রত্যাশা থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পর্যটন ভিসায় অনুমোদিত নয়।   নতুন নীতির আওতায় যারা জেনেশুনে জন্ম পর্যটনে যুক্ত হয়েছেন বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেছেন, তাদের ভিসা সীমিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করবে পররাষ্ট্র দপ্তর। বাণিজ্যিকভাবে জন্ম পর্যটন পরিচালনা, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে প্রশাসন জন্ম পর্যটন ঠেকাতে আরও দুটি নির্বাহী আদেশ জারি করে। এসব পদক্ষেপের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনি সিদ্ধান্তের পর প্রশাসন বিকল্প আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা খুঁজতে থাকে।   এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৭৫০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানান, বিভিন্ন দেশের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগও যুক্ত থাকে। কোনো কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারেন। এ ধরনের তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।   চীনও এই নীতির আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আগের বিভিন্ন তদন্তে চীনা নাগরিকদের জন্য পরিচালিত জন্ম পর্যটনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। তবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সবাই চীনা নাগরিক এমন কোনো দাবি মার্কিন কর্তৃপক্ষ করেনি।   নতুন ঘোষণাটি এমন সময় এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, সফরের আগে রুবিওর ঘোষণাটি আসে। তবে ঘোষণার সঙ্গে চীন সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা, নির্বাহী আদেশের সীমা এবং কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নিয়ে এ বিতর্কের বিভিন্ন দিক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে চাইছে, কিন্তু এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর আইনি ভিত্তি নিয়ে আদালতে বিতর্কও হয়েছে।   আগস্টে জন্ম পর্যটন ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করার সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন বিদ্যমান অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করেই নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এর ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আদালত ও কংগ্রেসের আলোচনারও অংশ হয়েছে।   রুবিওর সর্বশেষ ঘোষণায় মূল লক্ষ্য হিসেবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও এর বাণিজ্যিক সহায়তাকারীদের ভিসা প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২২:০
বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। (ছবি: সংগৃহীত)
জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই

জাতিসংঘের তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সংস্থাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।   ২৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার দায়িত্ব পূরণ করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক কাঠামোরও কঠোর সমালোচনা করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সংস্থাটি এমন এক আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে নিজেদেরকে মানবিক মূল্যবোধের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা একদল কর্মকর্তা কার্যত নিজেদের স্বার্থকে এগিয়ে নিচ্ছেন। মিলেই জাতিসংঘকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করেন, যার বর্তমান কাঠামো সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।   তবে তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধ। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। মিলেই বলেন, তাঁর দেশের কাছে মালভিনাস একটি ‘জাতীয় বিষয়’ এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা যথেষ্ট নয়।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন একটি স্বশাসিত বিদেশি ভূখণ্ড। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। ১৯৮২ সালে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধের পর দ্বীপগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণেই থেকে যায়।   মিলেই বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপটির কাছে একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।   ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাঞ্চলের সমুদ্র এলাকায় ‘সি লায়ন’ নামে একটি বড় তেল প্রকল্প নিয়ে বর্তমানে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরায়েলভিত্তিক নাভিটাস পেট্রোলিয়াম প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। আর্জেন্টিনা এই তেল অনুসন্ধানকে অবৈধ বলে মনে করছে।   এ প্রসঙ্গে মিলেই বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলা দেশগুলো যদি কোনো সুবিধা না পায় এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, ফকল্যান্ড ইস্যুতে জাতিসংঘ কার্যকরভাবে নিজেদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারছে না।   তবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ভিন্ন। ব্রিটিশ সরকার দ্বীপের বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ব্রিটিশ বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে থাকার পক্ষে মত দেন। মিলেই অবশ্য এই আত্মনিয়ন্ত্রণের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   মিলেই তাঁর ভাষণে বলেন, আর্জেন্টিনা এই বিরোধের সমাধানে শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যকে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর আহ্বান জানান। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও জানিয়েছে, দেশটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর উপায়ে মালভিনাসের দাবি এগিয়ে নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।   জাতিসংঘ নিয়ে মিলেইয়ের এই বক্তব্য তাঁর আগের অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক আমলাতন্ত্রের সমালোচনা করে আসছেন। এবারের ভাষণে সেই সমালোচনাকে আরও সরাসরি করে তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।   এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর মেয়াদের শেষ সাধারণ পরিষদে আন্তর্জাতিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। ফলে এবারের সাধারণ পরিষদে জাতিসংঘের সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের ভিন্নমতও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   মিলেইয়ের বক্তব্যের মাধ্যমে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের পুরোনো সার্বভৌমত্ব বিরোধও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা ঘিরে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বিষয়টি আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স ও জাতিসংঘ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২১:৩৯
যারা যুক্তরাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে চান, তাদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক জুডি। ছবি: সংগৃহীত
যারা আমেরিকাকে বদলাতে চান তাদের অন্য দেশে যাওয়ার পরামর্শ বিচারক জুডির

যুক্তরাষ্ট্রকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে চান এমন ব্যক্তিদের দেশটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব জুডিথ শেইন্ডলিন, যিনি ‘জাজ জুডি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। ৮৩ বছর বয়সী এই সাবেক পারিবারিক আদালতের বিচারক বলেছেন, আমেরিকাকে তিনি নিজের ঘর মনে করেন এবং দেশটি তাঁর জন্য অনেক কিছু করেছে।   সম্প্রতি ইউএসএ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শেইন্ডলিন। তিনি বলেন, ‘আমার একটি বাড়ি আছে, আর একটি ঘরও আছে। আমি আমেরিকাকে আমার ঘর মনে করি। আমেরিকা আমার জন্য ভালো ছিল। আমি মনে করি, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ।’   এরপর তিনি বলেন, ‘আপনি যদি এই দেশকে পছন্দ না করেন, তাহলে অন্য কোথাও যান।’ তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের সবচেয়ে সফল দেশগুলোর একটিতে এসে কেউ যদি বলেন যে তিনি দেশটির মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে চান, তাহলে তার জন্য অন্য দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   শেইন্ডলিন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি পুঁজিবাদী দেশ এবং এখানে উৎকর্ষ, উদ্যোক্তা ও সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এসব মূল্যবোধই দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর এই বক্তব্য ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামত হিসেবে এসেছে।   জাজ জুডির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তাঁর জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘জাজ জুডি’র সম্প্রচারের ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছে সিবিএস। এ উপলক্ষে ২২ সেপ্টেম্বর সিবিএসে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জাজ জুডি: আনফিল্টার্ড, আনফরগেটেবল’। প্রায় ৯০ মিনিটের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁর দীর্ঘ টেলিভিশন ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, রু-পল, অ্যামি পোহলার ও স্টিভেন স্পিলবার্গসহ বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিও অংশ নিয়েছেন।   সাক্ষাৎকারে শেইন্ডলিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামাজিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তাঁর মতে, দেশটির অনেক মানুষ অতীতের এমন একটি সময়ের কথা মনে করেন, যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবারে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এতটাই বেড়েছে যে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে কথা বলা কঠিন হয়ে উঠছে।   শেইন্ডলিন সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ইহুদিবিদ্বেষ ও বর্ণবাদের মতো বিষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক বিভাজনও বাড়ছে।   টেলিভিশনে বিচারকের ভূমিকায় তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনেও একই ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ কাজ করেছে বলে মনে করেন শেইন্ডলিন। এর আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দর্শকেরা নিয়ম, আইন, শৃঙ্খলা ও ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেন বলেই তাঁর আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান এত জনপ্রিয় হয়েছে।   ১৯৯৬ সালে ‘জাজ জুডি’ অনুষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি টানা ২৫ মৌসুম সম্প্রচারিত হওয়ার পর ২০২১ সালে শেষ হয়। এরপর শেইন্ডলিন ‘জুডি জাস্টিস’ নামে আরেকটি আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান শুরু করেন। সেটিও চলতি বছরের অক্টোবরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   টেলিভিশনে তাঁর দীর্ঘ উপস্থিতির অবসান ঘটলেও পুরোপুরি কাজ থেকে সরে যাচ্ছেন না শেইন্ডলিন। তিনি ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে পর্দার পেছনে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এর মধ্যে ‘জুডিভার্স’ নামে একটি অ্যানিমেটেড প্রকল্পও রয়েছে। তাঁর ছেলে অ্যাডাম লেভিও আদালতভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘অ্যাডামস ল’ নিয়ে পারিবারিক টেলিভিশন ঐতিহ্য ধরে রাখছেন।   তিন দশক ধরে টেলিভিশনে বিচারকের ভূমিকায় পরিচিতি পাওয়া শেইন্ডলিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই তাঁর বিনোদনজগতের ক্যারিয়ারের বাইরেও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আমেরিকার সামাজিক মূল্যবোধ, পুঁজিবাদ, ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ, ইউএসএ টুডে ও সিবিএস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২১:১৬
জর্জিয়ার আলফারেটা শহরে গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় এক আরব কমিউনিটি। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ার আলফারেটায় গড়ে উঠেছে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ আরব কমিউনিটি

কিছু শহর তাদের সেরা গল্পগুলো লুকিয়ে রাখে সাধারণ বিপণিবিতানের আড়ালে। আমি হয়তো এটি পুরোপুরি এড়িয়েই যেতাম। গাড়িতে গ্যাস নেওয়ার জন্য থেমেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা সেখানেই কাটিয়ে দিলাম। জর্জিয়ার আর দশটা সাধারণ পার্কিং লটের মতোই দেখতে একটি জায়গা থেকে ভেসে আসছিল গ্রিল করা মাংসের সুবাস। সাইনবোর্ডগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার মিশ্রণ চোখে পড়ার মতো।   বেকারিগুলোতে ওভেন থেকে বের করা গরম রুটি বিক্রি হচ্ছিল। পাশের টেবিলে নানা ভাষায় চলছিল আড্ডা। দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত সাবলীল, যেন এটি অন্য যেকোনো সাধারণ দিনের মতোই। জর্জিয়ার একটি শান্ত রাস্তার পাশে এমন কিছু খুঁজে পাব, তা আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দুপুরের খাবার অর্ডার করে শেষ পর্যন্ত তিন ঘণ্টা পর এক ব্যাগ পেস্ট্রি এবং মনে একগাদা নতুন প্রশ্ন নিয়ে সেখান থেকে ফিরলাম। বাইরে থেকে জায়গাটি যেমনই লাগুক না কেন, এর ভেতরের ব্যাপ্তি ও খাবারের স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।   এই শহরের পরিসংখ্যানগুলো বেশ চমকপ্রদ। এখানকার প্রায় ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের আরব হিসেবে পরিচয় দেন, যেখানে পুরো অঙ্গরাজ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। এই পার্থক্য মোটেও ছোট নয়। এর অর্থ হলো, জর্জিয়ার গড়ের চেয়ে এখানে আরবদের ঘনত্ব প্রায় সাত গুণ বেশি। ৩০০০৯ জিপ কোডের দিকে তাকালে এই সংখ্যা আরও বাড়ে। সেখানকার প্রায় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষ আরব ঐতিহ্যের অনুসারী বলে জানিয়েছেন, যা এই অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু সংখ্যা দিয়ে কোনো জায়গার আসল অনুভূতি বোঝানো যায় না, তবে মুদির দোকানে কেন তিন ধরনের তাহিনি পাওয়া যায়, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট হয়।   সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে প্রায় ৬৬ হাজার ৮৫৫ জন মানুষের বসবাস। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, এখানকার প্রায় ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাসিন্দার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে। বৈচিত্র্যের দিক দিয়েও শহরটি পিছিয়ে নেই। এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ২০ দশমিক ৪ শতাংশ এশিয়ান, ১১ দশমিক ২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্পানিক। সব মিলিয়ে এই শহরতলি পুরোনো কোনো ধ্যানধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি উত্তর ফুলটন কাউন্টিতে অবস্থিত, যা মেট্রো আটলান্টার অংশ এবং শহরটির নাম আলফারেটা।   জর্জিয়ায় প্রায় ৮০ হাজার আরব আমেরিকানের বসবাস। পীচ ও চিনাবাদামের জন্য পরিচিত একটি অঙ্গরাজ্যের জন্য এটি বেশ বড় একটি সংখ্যা। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার আরব আটলান্টা এবং এর আশপাশের শহরতলিতে বসবাস করেন। বিশেষ করে উত্তরের শহরতলিগুলোতে এদের বড় একটি অংশ থাকেন। মেট্রো এলাকার অংশ হওয়ার কারণে এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আরব আমেরিকান জনসংখ্যার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।   প্রযুক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এই অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদাররা এখানে আসছেন। এর ফলে এখানে কেবল জনসংখ্যাই বাড়েনি, বরং বেকারির দোকান, বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এবং সপ্তাহান্তের আড্ডার জায়গাও গড়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের কথা উঠলে প্রথমেই আসে লেবানন ও মিসরের নাম। ঐতিহাসিকভাবে জর্জিয়ার আরব আমেরিকান কমিউনিটির বড় অংশই এসেছেন এই দুই দেশ থেকে। এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনুতে লেবানিজ মেজে এবং মিসরীয় ঘরোয়া খাবারের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তবে জর্জিয়ার এই কমিউনিটিতে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও রয়েছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব রান্নার ধরন এবং উৎসবগুলো এখানে নিয়ে এসেছেন। ভাষার ক্ষেত্রেও একই বৈচিত্র্য দেখা যায়। কায়রো, বৈরুত এবং রামাল্লার উপভাষাগুলো একই দোকানে শোনা যায়। নতুন প্রজন্ম এই সবগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। শিশুরা স্কুলে ইংরেজিতে এবং বাড়িতে আরবিতে কথা বলে।   হামজাহ ইসলামিক সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নীরবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করে। এখানে আরবি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের মাতৃভাষা ধরে রাখতে পারে।   গ্রিন অ্যাপল একাডেমি এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ ফুলটনের সঙ্গে যুক্ত। একাডেমিটি ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য শিশু যত্ন এবং শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রদান করে। এর কার্যক্রমে সাধারণ এবং ধর্মীয় শিক্ষার একটি চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। শিশুরা স্কুলের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক শিক্ষাও গ্রহণ করে।   প্রার্থনার জায়গাগুলো কেবল উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সাউথইস্ট ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার পার্শ্ববর্তী মিল্টন এলাকায় অবস্থিত হলেও এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সেবা করে। দৈনন্দিন প্রার্থনার পাশাপাশি বিয়ে, ছুটির দিন এবং সামাজিক আহারের মতো বড় আয়োজনগুলোও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানে মানুষের ভিড় অনেক বেড়ে যায়। নতুন বাসিন্দারা সাধারণত এখানেই তাদের প্রাথমিক সংযোগ গড়ে তোলেন।   খাবারের কথায় এলে প্রথমেই আসে ডেলবার মিডল ইস্টার্নের নাম। ৪১২০ ওল্ড মিল্টন পার্কওয়েতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটি ইরানি রান্নার স্বাদ দিয়ে থাকে। পারস্যের রান্না অত্যন্ত নিখুঁত হয়, যা অনেকেরই ধারণার বাইরে। বিশেষ করে তাদের ভাত রান্নার কৌশল একটি ভালো রান্নাঘরকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করে। জেরুজালেম বেকারি অ্যান্ড গ্রিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাজা মধ্যপ্রাচ্যের রুটি এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া বাকলাভার মতো নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় এখানে।   বিজোরিয়া হাউস অব হামাস নামের আরেকটি রেস্তোরাঁ আলফারেটার মধ্যপ্রাচ্যের খাবারের চাহিদা মেটায়। এটি সাধারণ দিনগুলোতে খাবার খাওয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয়। হামাস, ফালাফেল এবং বিভিন্ন র‍্যাপ বা বাটি খাবার দুপুরের জন্য দারুণ মানানসই। দামও বেশ হাতের নাগালে থাকে।   খাবার সবসময় সংস্কৃতির মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। একসঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়া অনেক বড় ব্যাখ্যার চেয়েও বেশি কাজ করে। আলফারেটার এই আরব কমিউনিটি কেবল তাদের খাবারই নয়, তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাধ্যমে জর্জিয়ার বুকে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২০:৫৮
মার্কিন নৌবাহিনীর এই রণতরিতে নাবিকদের মানসিক অবসাদের বিষয়টি সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ৮ নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, তোপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা এই রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভিযানের শুরু থেকে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এসব ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি।   মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের তারিখ দেওয়া ওই চিঠিটি বুধবার প্রকাশ্যে আসে। গিলিব্র্যান্ড ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।   হাং কাওয়ের চিঠি অনুযায়ী, আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার হিসাব শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মূল ক্রুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে ক্যারিয়ারের বিমান শাখা, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের কর্মী, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে অবস্থানরত বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।   চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কোনো নাবিক আত্মহত্যা করে মারা যাননি। এর আগে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বাড়তি সংকট দেখা যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।   কাও জানান, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য জাহাজে পাঁচজন ধর্মীয় পরামর্শদাতা, একজন মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিরোধবিষয়ক সমন্বয়কারী, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী, তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী এবং একটি প্রশিক্ষিত সহায়ক কুকুর ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য জাহাজেও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা ছিল।   নতুন এই তথ্যের সঙ্গে জাহাজটির দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর অভিযান ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজটির দায়িত্বের ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর আগে জাহাজটি প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল।   মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের সময় জাহাজটির স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালনের কারণে নাবিকদের কর্মপরিবেশ, বিশ্রাম, খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে নাবিকদের পরিবার ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগস্টে মার্কিন সিনেটের কয়েকজন সদস্য নৌবাহিনীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে জবাবও দাবি করেন।   আগস্টে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযান মিশনের প্রয়োজনেই বাড়ানো হয়েছিল। তিনি তখন জানান, নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ওই বিবৃতিতে ২৬৬ দিনের মোতায়েন ও ২০০ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছিল, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।   এদিকে জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ অভিযানের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এমন বক্তব্যকে খাটো করে দেখেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন করে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশাসন যে উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি, সেগুলো এখন গুরুতর পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে এবং এটি গিলিব্র্যান্ডের নিজস্ব মূল্যায়ন।   তবে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যা পুরো নৌবাহিনীর তুলনায় কী অবস্থানে রয়েছে, সে বিষয়েও প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছিল। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে মোতায়েন ছিলেন। তবে একটি নির্দিষ্ট অভিযানের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বার্ষিক পরিসংখ্যানের সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সময়কাল ও জনসংখ্যার পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে ক্যারিয়ার এয়ার উইংয়ের একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মার্চে আরেক নাবিক পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।   দীর্ঘ অভিযানের অবসানে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ থাইল্যান্ডে নির্ধারিত বন্দর সফরে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, লায়েম চাবাংয়ে অবস্থানটি ছিল দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম নেওয়ার একটি সুযোগ। ৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাইক গ্রুপটি থাইল্যান্ড ত্যাগ করে।   আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, সিএনএন ও মার্কিন নৌবাহিনী

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২০:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়েও চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা থেকে বাদ ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়েও চিকিৎসা না নেওয়ায় স্বাস্থ্যবিমা থেকে বাদ ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ) মার্কেটপ্লেস থেকে ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব গ্রাহক কখনো বিমা দাবি করেননি এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের (সিএমএস) প্রশাসক মেহমেত ওজ মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন।   তারা জানান, জালিয়াতি রোধের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহককে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে করদাতাদের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে। প্রশাসন মনে করছে, এই গ্রাহকদের অনেকেই হয় জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন অথবা বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্বই নেই।   একটি সংবাদ সম্মেলনে মেহমেত ওজ এই গ্রাহকদের ‘ফ্যান্টম’ বা অস্তিত্বহীন বলে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, সরকার চিঠি, ফেডেক্সসহ নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো সাড়া পায়নি। সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গ্রাহকরা কখনোই কোনো চিকিৎসা খরচ বা বিমা দাবি করেননি।   তবে ওজের এই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষজ্ঞরা এবং সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সুস্থ থাকায় চিকিৎসাসেবা না নেওয়াটাই বিমার মূল ভিত্তি; এটি কোনোভাবেই জালিয়াতির প্রমাণ হতে পারে না।   ইন্টারনেটে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের এই অদ্ভুত যুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। এক ব্যবহারকারী ব্যঙ্গ করে লেখেন, “আপনি বিমার প্রিমিয়াম দিচ্ছেন, সুস্থ থাকায় তা ব্যবহার করছেন না, আর এতেই আপনার বিমা সন্দেহজনক হয়ে গেল?” কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট না করলে বা না মারা গেলে কি যথাক্রমে গাড়ির বা জীবনের বিমাও বাতিল হয়ে যাবে?   স্বাস্থ্যবিমার সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের দেওয়া মাসিক প্রিমিয়াম দিয়েই মূলত অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো হয়। সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ডিন বেকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন মানুষ কতটা বোকা হলে এমন কথা বলতে পারেন! তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে বাড়ি ও গাড়ির বিমা ব্যবহার না করেও তিনি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিয়ে যাচ্ছেন এবং এটিই বিমার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।   সাবেক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এই পদক্ষেপকে ‘নিষ্ঠুর’ উল্লেখ করে বলেছেন, জালিয়াতি দমনের মিথ্যা অজুহাতে হাজার হাজার কর্মজীবী পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ক্যাম্পেইন ফর নিউইয়র্ক হেলথের নির্বাহী পরিচালক মেলানি ডি'অ্যারিগো মনে করিয়ে দেন যে, বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানিগুলো প্রতি বছর করদাতাদের অন্তত ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রতারণা করে, অথচ তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয় না।   যদিও সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের (জিএও) প্রতিবেদনে এসিএ মার্কেটপ্লেসে কিছু জালিয়াতির ঝুঁকি থাকার কথা বলা হয়েছে, যেখানে দালালরা গ্রাহকদের অজান্তেই ভুয়া নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকি হাতিয়ে নেয়। তারপরও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত জালিয়াতি শনাক্তের প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। কংগ্রেস গত বছর মহামারি-কালীন ভর্তুকির মেয়াদ বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। গ্যালাপের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো অর্ধেকেরও কম মার্কিন নাগরিক নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে সক্ষম হচ্ছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৯:৩৬
গাজায় খাবারের বিনিময়ে ১৪ বছরের মেয়েকে বিক্রি, ধ র্ষকের সঙ্গেও জোরপূর্বক বিয়ে
গাজায় খাবারের বিনিময়ে ১৪ বছরের মেয়েকে বিক্রি, ধ র্ষকের সঙ্গেও জোরপূর্বক বিয়ে

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় খাদ্যের বিনিময়ে নারীদের বিক্রি করা হচ্ছে এবং ধর্ষণের শিকার নারীদের জোরপূর্বক তাদের ধর্ষকদের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক দুটি প্রতিবেদনে গাজার নারীদের চরম অমানবিক এই করুণ চিত্র উঠে এসেছে। এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার গুরুত্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।   জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে গাজাজুড়ে বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপত্যকাটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (জিবিভি) ৬৮ শতাংশেরই শিকার হচ্ছেন ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরা।   গবেষকরা জানিয়েছেন, গাদাগাদি করে থাকা অপর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র এবং খাদ্য, সুপেয় পানি ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর চরম অভাব মানুষের মধ্যে যে মাত্রার মানসিক চাপ তৈরি করেছে, তারই সরাসরি প্রভাব পড়ছে নারীদের ওপর। মানসিক ও আবেগীয় নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক ও যৌন সহিংসতা এবং জোরপূর্বক বাল্যবিয়ের ঘটনা সেখানে নিত্যদিনের স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   গাজা সিটি ও খান ইউনিসের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থানরত ২৩০ জন নারীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি দ্বিতীয় প্রতিবেদনে আরও লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। স্কুল থেকে রূপান্তরিত এক আশ্রয়কেন্দ্রের এক নারী জানান, সামাজিক কলঙ্ক ও লজ্জা এড়াতে অনেক ধর্ষণের শিকার মেয়েকে তাদের ধর্ষকের সাথেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।   এমনকি স্কুলে কোনো ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলে পরদিনই সেখানে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন দেখা যায়। আরেক নারী জানান, এক পিতা কেবল দুই বস্তা আটার বিনিময়ে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছেন, যাতে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারে।   এছাড়া অনেক পরিবার তাদের মেয়েদের অল্প বয়সেই বিয়ে দিচ্ছে এই আশায় যে, স্বামীরা হয়তো জনাকীর্ণ ক্যাম্পে থাকা ধর্ষকদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে। যুদ্ধক্ষেত্রে এতিম হওয়া অনেক কিশোরীকে তাদের অভিভাবকরা নিজেদের খরচের হাত থেকে বাঁচতে খুব অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন।   গাজার প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবারের প্রধান এখন নারীরা, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে বিধবা ও সিঙ্গেল মাদাররা যৌন নিপীড়ন ও শোষণের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে ইউএনএফপিএ জানিয়েছে। গাজা সিটির এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এক বিধবা নারী মাথা গোঁজার জন্য একটি তাঁবুর খোঁজ করতে গেলে ক্যাম্পের এক প্রতিনিধি তাকে রাতে তার সাথে থাকার বিনিময়ে তাঁবু দেওয়ার কুপ্রস্তাব দেয়।   ইসরায়েল ও হামাসের চলমান সংঘাতের কারণে গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ এখনও বাস্তুচ্যুত এবং উপত্যকাটির প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমি বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   এই চরম মানবিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বুধবার ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে গাজা উপত্যকার জন্য একটি বহুমুখী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিস'। এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আগামী ছয় মাসে প্রায় ২৪৫ কোটি (২.৪৫ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হবে।   অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের লক্ষ্যে ৬৬টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরো গাজার এই পুনর্গঠন কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে মোট ৭১০০ কোটি (৭১ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৯:১
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাইবারট্রাক ব্যাক করতে গিয়ে নিজের ৬ বছরের ছেলেকে চাপা দিলেন বাবা, প্রাণ গেল শিশুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাইবারট্রাক ব্যাক করতে গিয়ে নিজের ৬ বছরের ছেলেকে চাপা দিলেন বাবা, প্রাণ গেল শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে নিজের টেসলা সাইবারট্রাক ব্যাক করার সময় দুর্ঘটনাবশত ৬ বছর বয়সী শিশুপুত্রকে চাপা দিয়েছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি (৪৮)। গত শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমিকুলায় তাদের বাসভবনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।   গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু প্রেস্টনকে দ্রুত ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সেদিন রাতেই হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।   নিজ হাতে সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি হৃদয়বিদারক স্টোরি শেয়ার করেছেন শোকস্তব্ধ পিতা টেরেক।   ছেলে প্রেস্টনকে জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবির ওপর তিনি লিখেছেন, “আমরা এক। আমরা চিরকাল একই থাকব। আমরা অনন্তকাল একসাথে থাকব। প্রেস্টন এবং টেরেক।”   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) দুর্ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে টেরেক এল গিন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   এছাড়া দুর্ঘটনার সময় তার টেসলা সাইবারট্রাকটি অটোপাইলট মোডে ছিল না বলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৮:৪৪
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী
নিউইয়র্কে গ্র্যাসি ম্যানশনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে স্বাগত জানালেন মামদানী

দুর্নীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচিত স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে বুধবার গ্র্যাসি ম্যানশনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী। ম্যানহাটনে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রাতঃরাশে সানচেজের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।   স্পেনে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উদারনৈতিক নীতির প্রশংসা করে মামদানী সানচেজকে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষাকারী এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ওপর আস্থা ফেরানোর অন্যতম কারিগর হিসেবে উল্লেখ করেন।   তবে স্প্যানিশ সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সানচেজের এমন উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরার সময় মামদানী এটা এড়িয়ে গেছেন যে, স্পেনের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই বামপন্থি নেতার প্রতি অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে চলতি বছর ৪৮ ঘণ্টার একটি অভিবাসী সংকট সামলাতে তার প্রশাসনের ব্যর্থতার পর এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে, যখন প্রায় ৬০ হাজার মরোক্কান অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনের সেউতায় প্রবেশ করে।   এছাড়া সানচেজের পরিবার এবং তার দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। আইরিশ টাইমসের মতে, প্রভাব খাটানো এবং সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে তার স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিচার হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সানচেজের ছোট ভাই ডেভিড সানচেজকে সম্প্রতি সরকারি সংগীত বিদ্যালয়ের সমন্বয়ক পদে দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় তাকে নয় বছরের জন্য সরকারি যেকোনো পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।   পাশাপাশি, ইসরায়েল থেকে স্প্যানিশ রাষ্ট্রদূতদের নিষিদ্ধ করার পর সানচেজ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন, যাকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় "প্রকাশ্য ইহুদিবিদ্বেষ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দ্য জুইশ টেলিগ্রাফিক এজেন্সির তথ্যমতে, সানচেজের শাসনামলে ২০২৫ সালে স্পেনে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ১৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যান্টি-ডিফেমেশন লিগ (এডিএল) এক প্রতিবেদনে জানায়, স্পেনের ২৬ শতাংশ নাগরিক ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করেন, যা পশ্চিম ইউরোপের যেকোনো দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।   এমন এক বিতর্কিত নেতাকে মামদানীর এই উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ম্যানহাটনে বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।   গাজায় চলমান যুদ্ধের জন্য নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে মামদানী নিউইয়র্কবাসীদের তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু সম্প্রতি একটি কড়া ভাষায় দেওয়া ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর মামদানীর বিষয়ে ‘সত্য প্রকাশ’ করার হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মামদানীর একজন মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৮:১০
যুক্তরাষ্ট্রে ভুলবশত ভোটার তালিকায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক, দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটি
যুক্তরাষ্ট্রে ভুলবশত ভোটার তালিকায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক, দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটি

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভুলবশত ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সরকারি নথিপত্র থেকে জানা গেছে, মূলত ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং স্টেট আইডি প্রক্রিয়াকরণের সময় এই মারাত্মক ভুলগুলো ঘটেছে।   ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের শাসিত প্রায় এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থায় এই দুর্বলতা ধরা পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৭ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটারের দেশে এই সংখ্যাটি এতটাই নগণ্য যে এর কারণে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। এই অ-নাগরিকদের মধ্যে ঠিক কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   এই অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে, অবৈধভাবে অভিবাসীদের ভোটার করার কোনো সংঘবদ্ধ অপচেষ্টার বদলে মূলত আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক ত্রুটিই এর পেছনে দায়ী। অথচ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদেশিদের দিয়ে ভোট দেওয়ানোর এক ব্যাপক জালিয়াতি চলছে।   এই তথাকথিত জালিয়াতি ঠেকাতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) পাসের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে ভোটার নিবন্ধনের জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার জন্য ছবিযুক্ত আইডি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, এই আইন পাস হলে পাসপোর্ট বা জন্মনিবন্ধন সংগ্রহে জটিলতার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও সংখ্যালঘুরা ব্যাপক হারে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, আর কাঠামোগত ত্রুটিগুলো রয়েই যাবে।   সম্প্রতি নিউজার্সিতে এমন একটি বড় ত্রুটির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। অঙ্গরাজ্যটি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যদিও তারা লাইসেন্সের আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা মার্কিন নাগরিক নন।   আইওয়া, টেক্সাস ও সাউথ ডাকোটার মতো রিপাবলিকান অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যসহ মোট ১১টি অঙ্গরাজ্যে এমন আমলাতান্ত্রিক ভুলের প্রমাণ মিলেছে। ১৯৯৩ সালের 'ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট'-এর অধীনে চালু হওয়া 'মোটর-ভোটার' সিস্টেমের মাধ্যমেই মূলত এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।   এই ব্যবস্থায় মানুষ যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা অন্যান্য সরকারি সেবার জন্য আবেদন করেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে যান। ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন থেকে শুরু করে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলসের (DMV) এমন ভুলে বহু বৈধ এবং অবৈধ অভিবাসী ভুলবশত ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হচ্ছেন, যা মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকেই সামনে আনছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৭:৪৬
নিউইয়র্কে এনওয়াইপিডির দায়িত্বে বগুড়ার রুশমী, সাবেক ছাত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কের রাস্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন বগুড়ার রুশমী, উচ্ছ্বসিত তাঁর শিক্ষক

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশমী রোজের এক আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই অপ্রত্যাশিত দেখা হয়।   এই খবর জানতে পেরে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন প্রায় দুই দশক আগে বগুড়ায় রুশমীকে পড়ানো শিক্ষক মামুনুর রশিদ। একজন শিক্ষকের কাছে নিজের ছাত্রীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে এমন দায়িত্বশীল পদে এবং দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে দেখতে পাওয়ার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছুই হতে পারে না।   বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও পেসডের নির্বাহী পরিচালক প্রয়াত মাহফুজ আরা মিভার বড় মেয়ে রুশমী রোজ প্রায় ২২–২৩ বছর আগে শিক্ষক মামুনুর রশিদের কাছে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর ছোট বোন রোশানাও এই শিক্ষকেরই ছাত্রী ছিলেন।   গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি শুরু হয়। ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বরেও জাতিসংঘকেন্দ্রিক নানা ব্যস্ততার ফাঁকে যখন তিনি সদর দপ্তরের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রুশমীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়।   বগুড়ার মেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন জেনে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর খোঁজখবর নেন। শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করা রুশমীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, যা নিউইয়র্কের মাটিতে পূরণ হওয়ায় তিনি দারুণভাবে আবেগাপ্লুত।   এই স্বাভাবিক ও আন্তরিক সাক্ষাৎটি প্রধানমন্ত্রীর ‘কম প্রটোকল’ নীতিরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের চলাচলকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিজের মোটরকেড ১৩-১৪টি গাড়ির বদলে চারটিতে নামিয়ে এনেছেন এবং রাস্তায় চলাচলের সময় সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।   জাতিসংঘের মতো একটি বিশাল আন্তর্জাতিক আয়োজনের ব্যস্ততার মাঝেও কঠোর প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে একজন প্রবাসী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর এই মানবিক কথোপকথন সেই অনাড়ম্বর জীবনযাত্রারই প্রমাণ দেয়।   একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীর অসামান্য সাফল্য—এই দুই ভিন্ন মাত্রার গল্প মিলেমিশে একাকার হয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনের ওই মুহূর্তটিতে।   আর এই পুরো ঘটনার পেছনের কারিগর হিসেবে নিজের শিকড় ও শিক্ষার গৌরব অনুভব করছেন শিক্ষক মামুনুর রশিদ, যা দেশ-বিদেশে থাকা সব বাঙালির জন্যই এক অনন্য অনুপ্রেরণার বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৮:২৫
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা আহ্বান, জলবায়ু অর্থায়নে জোর

বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।   জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাপমাত্রা কমানো। তিনি অন্তত এক ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই ডিগ্রি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   বন্যা ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে ব্যারাজ বা জল নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান।   পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।   তবে এসব উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে সব দেশের দায় ও সক্ষমতা এক নয়—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   বক্তব্যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।   তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে বেশি সুযোগ দিয়ে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। পঞ্চমত, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে তাতে অর্থ পুনর্ভরণের আহ্বান জানান।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন অংশীদারত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৬:৫৭
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন  নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত

বুধবার নিউইয়র্কের একটি আদালত হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৬ সালে এক সাবেক প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌন নিপীড়ন করার দায়ে গত বছর পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।   ৭৪ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মিরিয়ম হেইলিকে নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে ফার্স্ট-ডিগ্রি ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাক্টের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে ২০২০ সালে তাকে দেওয়া ২৩ বছরের কারাদণ্ডটি ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।   ওয়াইনস্টিন অবশ্য সবসময়ই কারও সাথে জোরপূর্বক বা অসম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এই বিচারের সময় সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ায় হেইলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ওয়াইনস্টিনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াইনস্টিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করছেন এবং বিচারক কার্টিস ফারবারের দেওয়া এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন।   এর আগে ২০২০ সালে নিউইয়র্কে হেইলিকে নিপীড়ন এবং উঠতি অভিনেত্রী জেসিকা মানকে ধর্ষণের দায়ে ওয়াইনস্টিনকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ন্যায্য বিচার পাননি—এমন যুক্তিতে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে ওই রায় বাতিল করে।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে হেইলির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, তবে সাবেক মডেল কাজা সোকোলাকে নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং জেসিকা মানের ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত মে মাসে মানের অভিযোগের ওপর তৃতীয় বিচারটিও কোনো রায় ছাড়াই শেষ হয়। এরপর মান আর চতুর্থবার সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় পরের মাসে প্রসিকিউটররা অভিযোগটি তুলে নেন।   মিরাম্যাক্স স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের আরেকটি আলাদা মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও তাকে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দেয়, কারণ বিচারক তার বাতিল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কের রায়টিকে একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।   ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম রায়টি ছিল '#মিটু' (MeToo) আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক, যা ক্ষমতাধর পুরুষদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের মুখ খুলতে উৎসাহিত করেছিল। এখন পর্যন্ত বিখ্যাত অনেক অভিনেত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারী ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৬:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ চিন্তিত, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় গ্রোসারি চেইন অ্যালডি। এই শরতে নিজেদের স্টোরগুলোতে থাকা মৌসুমী পণ্য ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   তাদের এই নতুন মূল্যছাড়ের ফলে মার্কিন ক্রেতারা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ (৮৬ মিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যালডি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের শেলফে থাকা দৈনন্দিন পণ্যগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় বেশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।   মূল্যছাড়ের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যকর ও তাজা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অটামক্রিস্প আঙুর, বার্টলেট নাশপাতি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, বাটারনাট ও স্প্যাগেটি স্কোয়াশ, তাজা ভেষজ এবং রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আপেল ও আলু। এর মধ্যে হানিক্রিস্প আপেলের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমিয়ে প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।   এছাড়া কার্কউড চিকেন ব্রেস্টের ফ্যামিলি প্যাকের দামও প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে কম দাম। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের কফি বিন, মিক্সড নাট, ড্রাই ফ্রুটস, পেপার টাওয়েল এবং প্রোটিন শেক ও চকলেটের মতো ক্রেতাদের পছন্দের শত শত পণ্যের দাম ২০২৫ সালের তুলনায় কমানো হয়েছে।   অ্যালডির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্কট প্যাটন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, তাদের কাছে পণ্যের সাশ্রয়ী মূল্য শুধু কোনো সাময়িক প্রমোশনাল অফার নয়, বরং এটি সারা বছরের একটি প্রতিশ্রুতি। ক্রেতারা যেন তাদের বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য তারা ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে সেই সাশ্রয়টুকু ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অ্যালডির ২ হাজার ৬০০টিরও বেশি স্টোর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের অন্য যেকোনো জাতীয় গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় তারাই সবচেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করে, যার মাধ্যমে মার্কিন ক্রেতাদের আনুমানিক ১ হাজার ২০ কোটি (১০.২ বিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৬:২১
কারাগারে তিলে তিলে মারা হচ্ছে ইমরান খানকে, দাবি ছেলের
কারাগারে তিলে তিলে মারা হচ্ছে ইমরান খানকে, দাবি ছেলের

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম হুমকির মুখে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে কাসিম খান। তার দাবি, ইমরান খানকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই স্কাই নিউজকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে কাসিম পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তার বাবার ওপর 'ব্যক্তিগত আক্রোশ' মেটানোর অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।   কাসিম জানান, তার তিন ফুফু—আলিমা খান, উজমা খান এবং নরিন নিয়াজিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীর মতে, জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে এক পরোয়ানাবলে তাদের ৩০ দিনের জন্য আটকে রাখা হয়েছে।   তবে কাসিমের অভিযোগ, সশস্ত্র ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা মধ্যরাতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বজনদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আনা হয়নি এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পুরো পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।   স্বজনদের ওপর এমন আচরণের বিষয়ে কাসিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি রীতিমতো ভয়ংকর। কর্তৃপক্ষের জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দাবির জবাবে তিনি বলেন, তারা মূলত তার বাবার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে। যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভকেই তারা ক্ষমতা হারানোর জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।   কাসিম আরও অভিযোগ করেন যে, তার ফুফু আলিমা খান প্রথম থেকেই সরব ছিলেন বলেই তাকে সবার আগে বন্দি করা হয়। এরপর বেছে বেছে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও তুলে নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও বাদ পড়েনি। তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে কাসিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "তারা তাকে হত্যা করতে চায়, বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। তারা এর আগে তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টাও করেছে। আর এখন একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রেখে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে।" বাবার চারপাশের সবাইকে চুপ করিয়ে দিতেই ইমরান খানের স্ত্রীকে আগেই জেলে ঢোকানো হয়েছে এবং এখন তার একটি প্রতিহিংসামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৫:৫৬
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী বিদ্বেষের নতুন ঢেউ, প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ভিনদেশিরা
যুক্তরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী বিদ্বেষের নতুন ঢেউ, প্রকাশ্যে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন ভিনদেশিরা

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বসবাসরত একজন কেয়ার ওয়ার্কার অ্যাগনেস পিটার্স। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে তার গায়ের রঙের কারণে চরম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়। রাস্তায় নিজের পেশাগত ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেই তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করা হয় এবং একটি ধীরগতির গাড়ি থেকে তার গায়ে বিভিন্ন জিনিস ছুঁড়ে মেরে তাকে ‘নিজের দেশে ফিরে যেতে’ বলা হয়।   আশেপাশের অনেকেই সেই দৃশ্য দেখছিলেন এবং ভিডিও করছিলেন, কিন্তু মাত্র একজন পথচারী ছাড়া কেউই এর প্রতিবাদ করেননি। গত বছর ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বর্তমান সমাজে বর্ণবাদ ও অভিবাসীবিরোধী ঘৃণার এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে। ব্রেক্সিটের পর থেকে দেশটিতে অনিয়মিত অভিবাসীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরও বৈষম্যের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে অক্সফাম ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১৫২টি মানবাধিকার সংগঠন সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এই বর্ণবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একসময় যেসব বর্ণবাদী সহিংসতা এবং ভীতি প্রদর্শনকে চরম পর্যায় বলে মনে করা হতো, তা এখন যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক সাধারণ ঘটনাতে পরিণত হয়েছে।   বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা বৈষম্য, জনসেবা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই ইসলামভীতি ও অভিবাসীবিরোধী এই ঘৃণাকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করেছে।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কট্টর ডানপন্থি কর্মীরা এই বিদ্বেষকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ভাষায় ‘কট্টর বর্ণবাদী’ ড্যানিয়েল থমাস সম্প্রতি ইংলিশ চ্যানেলে উদ্ধারকর্মীদের উপস্থিতিতেই একটি ভাসমান রেসকিউ বোট কেটে ফুটো করে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করেন।   তার নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম’ ডোভার ও পোর্টসমাউথ বন্দরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটন গ্রামেও এই কট্টরপন্থিরা সরকার-নির্ধারিত আশ্রয়প্রার্থীদের বাসস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে।   ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর ম্যানচেস্টার সংগঠক নাহেলা আশরাফ অভিযোগ করে বলেন, ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভের নামে মুখোশধারী ব্যক্তিরা কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা চালাচ্ছে।   দুঃখজনকভাবে, এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যগুলো এখন রাজনীতির মাঠেও বৈধতা পাচ্ছে। রিফর্ম ইউকে দলের কট্টর ডানপন্থি এমপি সারাহ পোচিন এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, অভিবাসী ও শরণার্থীরা আদিবাসী শ্বেতাঙ্গ নারীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।   দলটির স্বঘোষিত ‘শ্যাডো হোম সেক্রেটারি’ জিয়া ইউসুফ সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী লেবার পার্টির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মন্তব্য করে বর্ণবাদের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যাকে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস 'সরাসরি বর্ণবাদ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে কনজারভেটিভ দলের সাবেক নেতা রবার্ট জেনরিক এবং নিক টিমোথিও বিভিন্ন সময়ে মুসলিম এবং অ-শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন।   ইউনিভার্সিটি অব নর্দাম্পটনের অধ্যাপক পল জ্যাকসন এবং বাথ ইউনিভার্সিটির গবেষক অরেলিয়েন মনডন মনে করেন, মূলধারার রাজনীতি ও গণমাধ্যম যখন ডানপন্থি কট্টর চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন চরমপন্থিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।   তবে এত নেতিবাচকতার মাঝেও আশার আলো দেখছেন সমাজকর্মীরা। ম্যানচেস্টারের সংগঠক নাহেলা আশরাফ জানান, কট্টর ডানপন্থিদের অর্থায়ন ও প্রচারণার জোর থাকলেও সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ এখনও অভিবাসী ও শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিশুদের নিজ উদ্যোগে শরণার্থীদের জন্য বই উপহার দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা টিকে আছে এবং ঘৃণা ছড়িয়ে বর্ণবাদীরা শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারবে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৫:২৪
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের নিয়োগ পোর্টালে সাইবার হামলা, প্রায় সব এজেন্টের তথ্য ফাঁসের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের নিয়োগ পোর্টালে সাইবার হামলা, প্রায় সব এজেন্টের তথ্য ফাঁসের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) নিয়োগ ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। 'শাইনিহান্টারস' নামের একটি পরিচিত হ্যাকার গ্রুপ এই সাইবার হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা প্রায় সব এফবিআই এজেন্ট এবং চাকরিপ্রার্থীদের "অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য" হাতিয়ে নিয়েছে।   এই ঘটনার পরপরই সম্ভাব্য কর্মীদের জন্য এফবিআই সম্পর্কে জানার এবং আবেদনের মূল পোর্টাল 'এফবিআইজবস ডট গভ' (FBIjobs.gov) অফলাইনে চলে যায়। এফবিআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই অননুমোদিত প্রবেশ ও সাইবার হামলার দাবির বিষয়ে অবগত আছে এবং বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চলছে।   হ্যাকার গ্রুপ শাইনিহান্টারস অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তার মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল এবং সাইবার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে লেখা ওই বার্তায় তারা দাবি করে যে, এফবিআইয়ের প্রায় সব বর্তমান এজেন্ট এবং যারা চাকরি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার অত্যন্ত গোপনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে।   যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং এফবিআইয়ের কোনো মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবুও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এই হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন।   এই সাইবার হামলার পেছনে মূলত আর্থিক কোনো কারণের চেয়ে এফবিআইয়ের ওপর ক্ষোভকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরেছে শাইনিহান্টারস। হ্যাকার গ্রুপটি তাদের বার্তায় এফবিআইকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছে, যেন তারা গত মে মাসে প্রকাশিত একটি পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট বা জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি থেকে শাইনিহান্টারস সম্পর্কে করা "মিথ্যা অভিযোগগুলো" সংশোধন বা প্রত্যাহার করে নেয়।   এফবিআইয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে শাইনিহান্টারসকে এমন এক সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যারা বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরি ও চাঁদাবাজিতে পারদর্শী। এফবিআই সতর্ক করেছিল যে, এই হ্যাকাররা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশের সত্য বা অতিরঞ্জিত দাবি ব্যবহার করে এবং প্রায়শই ভুক্তভোগীদের হেনস্তা বা হুমকি দেয়।   এমনকি তাদের কাছে ভুক্তভোগীদের বিব্রতকর ছবি বা ভিডিও থাকার মিথ্যা দাবি করারও অভিযোগ তোলা হয়েছিল। শাইনিহান্টারস জানিয়েছে, এফবিআইয়ের এই ধরনের বর্ণনায় তারা "অপমানিত" বোধ করেছে এবং অবিলম্বে এসব দাবি প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে।   এফবিআইয়ের মতো সুরক্ষিত সংস্থার জন্য সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মার্চ মাসে এফবিআই জানিয়েছিল যে, তাদের নজরদারি অভিযান এবং তদন্ত সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে এমন একটি অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে "সন্দেহজনক কার্যকলাপের" বিষয়টি তারা তদন্ত করছে।   একই মাসে একটি ইরানপন্থি হ্যাকার গ্রুপ দাবি করেছিল যে, তারা এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলের একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে এবং অনলাইনে তার বহু পুরোনো ছবি, জীবনবৃত্তান্ত এবং এক দশকেরও বেশি সময় আগের ব্যক্তিগত নথিপত্র ফাঁস করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:৫৮
যুক্তরাজ্যে মসজিদে হা মলা-বিদ্বেষের জবাব সম্প্রীতিতে, শতাধিক মসজিদে আমন্ত্রণ সব ধর্মের মানুষকে
যুক্তরাজ্যে মসজিদে হা মলা-বিদ্বেষের জবাব সম্প্রীতিতে, শতাধিক মসজিদে আমন্ত্রণ সব ধর্মের মানুষকে

উত্তর লন্ডনের একটি মসজিদে গাজার শিশুদের মতো সেখানকার শিশুদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে একবার চিৎকার করেছিলেন এক নারী। অন্য একটি ঘটনায়, মসজিদ ভবনের গ্যাসের পাইপ কেটে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে ভেতরে গ্যাস জমে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।   গত তিন বছরে লন্ডন ইসলামিক কালচারাল সোসাইটিকে এমন অসংখ্য বিদ্বেষমূলক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে বরং সাধারণ মানুষের জন্য নিজেদের দরজা আরও প্রসারিত করেছে মসজিদটি। শুধু এই একটি মসজিদই নয়, ইসলাম ও ব্রিটিশ মুসলমানদের সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে চলতি সপ্তাহে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, শেফিল্ড ও গ্লাসগোসহ যুক্তরাজ্যের শতাধিক মসজিদ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।   ‘ভিজিট মাই মস্ক’ নামের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষকে চা, ঐতিহ্যবাহী খাবার, আলোচনা চক্র, আন্তঃধর্মীয় কার্যক্রম এবং শিল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের আয়োজনে ১১তম বছরে পদার্পণ করা এই কর্মসূচিটি বর্তমানে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান ইসলামভীতির প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সংস্থাটির মহাসচিব ড. ওয়াজিদ আখতার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু মানুষ ব্রিটিশ মুসলিমদের সম্পর্কে নানা তথ্য অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে পাচ্ছে। এছাড়া বিদেশি অর্থায়নে পুষ্ট কিছু ধনকুবের বিষাক্ত প্রচারণার মাধ্যমে অনলাইন ও রাজপথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাকে উসকে দিচ্ছে।   ইস্ট লন্ডন মসজিদের মরিয়ম সেন্টারের প্রধান সুফিয়া আলম মনে করেন, ঘৃণার চেয়ে বন্ধুত্ব ও সংহতি যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা প্রমাণ করতেই তাদের এই অংশগ্রহণ। মানুষ যখন মসজিদে এসে মুসলিম পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনেক স্টেরিওটাইপ ও ভয় দূর হয়ে যাবে।   যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে যখন গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এই সম্প্রীতির উদ্যোগটি সামনে এলো। সরকারের অংশীদার হিসেবে কাজ করা ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্টের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি পাঁচ দিনে অন্তত একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে।   এর মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা, সম্পত্তি ধ্বংস, হয়রানি এবং অনলাইনে গালাগালির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। ফিঞ্চবেরি পার্ক মসজিদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কোজবার বলেন, ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষের সবচেয়ে ভালো জবাব হলো উন্মুক্ততা, সংলাপ এবং পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখা।   উত্তর লন্ডনের মসজিদটি পরিচালনা করছেন বিবি খান, যিনি যুক্তরাজ্যের কোনো মসজিদের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। শনিবার বিকেলে সব ধর্মের মানুষের জন্য মসজিদটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে সেখানে এক অভূতপূর্ব সম্প্রীতির দৃশ্য দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুসওয়েল হিল ইউনাইটেড সিনাগগের ডেপুটি এবং ব্রিটিশ ইহুদিদের একটি নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বিষয়ক বিভাগের ভাইস-চেয়ার জুডিথ প্রিন্সলি।   গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও, বিবি খান ও প্রিন্সলির মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির এক দারুণ উদাহরণ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবি খান জানান, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে, বিশেষ করে ইহুদিদের সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। মতানৈক্য থাকলেও কঠিন সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:৪৪