সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
টেসলার সাইবারট্রাক পেছাতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের ছেলেকেই পিষে মেরেছেন মিস্টার অলিম্পিয়া বিচারক টেরেক এল গিন্ডি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: বাবার গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির সামনে টেসলা সাইবারট্রাক পেছনে নেওয়ার সময় নিজের ছেলেকে গাড়ির নিচে চাপা দেওয়ার ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুটির বয়স ছিল ছয় বছর। দুর্ঘটনায় জড়িত তার বাবা টেরিক এল গুয়িন্ডি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ শরীরচর্চা প্রতিযোগিতার একজন বিচারক।   ঘটনাটি শনিবার রাত ৯টার কিছু আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমেকুলা শহরের ব্রুকহেভেন কোর্ট এলাকায় ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেরিক এল গুয়িন্ডি গাড়িটি পেছনে নেওয়ার সময় তার ছয় বছর বয়সী ছেলে প্রেস্টন গাড়িটির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরিবার দ্রুত জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে। পরে শিশুটিকে উইলডোমারের ইনল্যান্ড ভ্যালি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তবে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।   পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্টেফানি চেসব্রো শিশুটির জন্য একটি অনুদান সংগ্রহের পেজ খুলেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় প্রেস্টন বাইরে খেলছিল। একটি চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে মায়ের পাশে থাকা অবস্থায় মারা যায়। পরিবার জানিয়েছে, প্রেস্টন মাত্র গত মাসে প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা শুরু করেছিল।   দুর্ঘটনার পর ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা এল গুয়িন্ডিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সাইবারট্রাকটি স্বয়ংক্রিয় চালনা বা অটোপাইলট ব্যবস্থায় চলছিল না। একই সঙ্গে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   তবে দুর্ঘটনার আগে গাড়ির ভেতরের কোনো সতর্কতা ব্যবস্থা চালককে গাড়ির পেছনে শিশুটির উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে তদন্তকারীদের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল।   টেরিক এল গুয়িন্ডি শরীরচর্চা জগতের পরিচিত মুখ। তিনি ‘মিস্টার অলিম্পিয়া’ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে কাজ করেন। প্রতিযোগিতাটিতে বিশ্বের শীর্ষ পেশাদার বডিবিল্ডারদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বিচারকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি অলিম্পিয়া টিভির সঙ্গেও যুক্ত এবং ‘প্রাইম টাইম মাসল’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিং নিয়ে আলোচনা করেন।   বডিবিল্ডিং অঙ্গনে এল গুয়িন্ডি নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। ছয়বারের মিস্টার অলিম্পিয়া বিজয়ী ক্রিস বামস্টেড সম্পর্কেও তিনি আগে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। বামস্টেড ২০২৪ সালে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এল গুয়িন্ডি তাকে বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এদিকে, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেস্টন সবসময় হাসিখুশি থাকত এবং তার আশপাশের মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিত। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন।   ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এল গুয়িন্ডির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা বা তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার দায় বা কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল, ওয়ার্ল্ড বডিবিল্ডিং নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:৫৬
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের হাতে আটক মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান। ছবি: সংগৃহীত
আটক মার্কিন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নকল করবে ইরান

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আটক করা মার্কিন চালকবিহীন ডুবো ড্রোনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ড্রোনটির প্রযুক্তি ও কাঠামো পরীক্ষা করে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করা হবে।   মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সামরিক প্রযুক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির কিছু অংশ এখন ইরানের হাতে এসেছে।   মোহেবি বিশেষভাবে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমানে উন্নত ধাতব কাঠামো, রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করার প্রযুক্তি, উচ্চ উচ্চতায় উড্ডয়ন এবং অস্ত্র বহনের সক্ষমতার মতো প্রযুক্তি রয়েছে। আইআরজিসির এ কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫কে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম হয়েছে।   ডুবো ড্রোনটি নিয়ে ইরানের বক্তব্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আইআরজিসি জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবো যান আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভ-এলডি মডেলের ডুবো যান হিসেবে শনাক্ত করে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান। এটি সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা ও নজরদারি কার্যক্রম, পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন এবং সমুদ্রপথে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যানটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি।   তবে ড্রোনটি আটকের গুরুত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইরানের দাবির চেয়ে ভিন্ন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোনটি আটকের আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এটি পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন এবং এতে সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।   এ কারণে ড্রোনটি ইরানের হাতে যাওয়ার পর দেশটি এর মাধ্যমে কতটা সামরিক সুবিধা নিতে পারবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান ক্লার্ক বলেছেন, ইরানি প্রকৌশলীরা ড্রোনটির যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হতে পারেন। তবে এর সফটওয়্যার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা একইভাবে অনুকরণ করা অনেক বেশি কঠিন হতে পারে।   তবে ইরানের জন্য এমন প্রযুক্তি বিশ্লেষণের ঘটনা নতুন নয়। ২০১১ সালে দেশটি মার্কিন আরকিউ-১৭০ সেনটিনেল চালকবিহীন গোয়েন্দা বিমান আটক করার পর সেটির নকশা বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সংস্করণ তৈরির দাবি করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে আটক করা মার্কিন প্রযুক্তি ইরানের নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়ে আসছে।   এবারের ডুবো ড্রোন আটকের ঘটনাটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। ফলে একটি উন্নত চালকবিহীন ডুবো যান ইরানের হাতে চলে যাওয়ার ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   আইআরজিসির মুখপাত্র মোহেবি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান, সহায়ক ও পরিবহন বিমান, নজরদারি উড়োজাহাজ, ডুবো যান এবং চালকবিহীন যান রয়েছে। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনটির যান্ত্রিক প্রযুক্তি ইরান কিছুটা কাজে লাগাতে পারলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বড় কোনো অংশ হুবহু অনুকরণ করা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত চালকবিহীন সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রচারিত সক্ষমতার ভাবমূর্তির ওপর প্রতীকী প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, প্রেস টিভি, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:৩৯
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিন সপ্তাহে চার ধর্ষণ, আতঙ্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোসে (সিএসইউএসএম) চলতি শরৎ সেমিস্টার শুরুর পর তিন সপ্তাহের মধ্যে ধর্ষণের চারটি অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিকের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ঘটনা ঘটেছে ৫, ৬, ১৩ ও ১৮ সেপ্টেম্বর। ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবন দ্য কোয়াড, ইউনিভার্সিটি ভিলেজ অ্যাপার্টমেন্টস এবং ব্ল্যাক ওক হলে ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। চারটি ঘটনাই আলাদা এবং তদন্তাধীন রয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন বা তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছে না বিশ্ববিদ্যালয়। গোপনীয়তার কারণে তদন্ত চলাকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।   ঘটনাগুলোর পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর এক শিক্ষার্থী চেঞ্জ ডট অর্গে একটি আবেদন শুরু করেন। এতে ক্যাম্পাসের পার্কিং এলাকা, দ্য কোয়াড এবং পর্যাপ্ত আলো নেই এমন জায়গায় নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।   আবেদনে ওই শিক্ষার্থী বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার অধিকার রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা যথেষ্ট সাড়া পাননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ দাবির বিষয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্ট এলেন নিউফেল্টও শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস কমিউনিটির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে শিক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলেছেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র জেরি ম্যাককরমিক বলেন, যৌন সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনার জন্য ভুক্তভোগীকে দায়ী করা উচিত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মতি হতে হবে স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় দেওয়া এবং চলমান। শুধু পরিচিতি বা সম্পর্ক থাকার কারণে কারও সম্মতি ধরে নেওয়া যায় না।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রতিরোধমূলক শিক্ষা ও সম্মতি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা ও গোপনীয় পরামর্শের ব্যবস্থাও রয়েছে।   সেমিস্টারের শুরুতে কলেজ ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম কয়েক সপ্তাহকে অনেক সময় ‘রেড জোন’ বলা হয়। সিএসইউএসএমও জানিয়েছে, শরৎ সেমিস্টারের প্রথম ছয় সপ্তাহকে এ ধরনের ঝুঁকির সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে ওই সময়ের প্রতিটি ঘটনায় একই কারণ বা প্যাটার্ন রয়েছে।   চারটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের তথ্য জানানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সিএসইউএসএমের পুলিশ বিভাগও ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি ৭ সান দিয়েগো

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:১৯
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন মারাইয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত
দোলনা ভেবে সন্তানকে ওভেনে রেখেছিলেন মা, দোষ স্বীকারের পর ১৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির কানসাস সিটিতে এক মাস বয়সী মেয়েশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন ২৮ বছর বয়সী মারাইয়া থমাস। আদালতে করা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা মামলা বাদ দেওয়া হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজা থেকে বাদ যাবে। ফলে তার আরও প্রায় ১১ বছর কারাভোগ করার কথা রয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কানসাস সিটির একটি বাড়িতে। সেদিন স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়, একটি শিশু শ্বাস নিচ্ছে না। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এক মাস বয়সী শিশুটিকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির নাম ছিল জা'রিয়াহ মে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটিকে ঘুম পাড়ানোর সময় ভুল করে খাটের বদলে ওভেনে রেখে দিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানান থমাস। তার এই বক্তব্যই পরে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তবে কীভাবে এমন ভুল হয়েছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতের নথিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   ঘটনার সময় শিশুটির শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীদের নথিতে তার পোশাক ও ডায়াপার শরীরের সঙ্গে লেগে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর এক স্বজনকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসতে বলা হয়েছিল, কারণ শিশুটির সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি ধোঁয়ার গন্ধ পান এবং শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   ঘটনার পর থমাসের বিরুদ্ধে প্রথমে শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছিল এবং বিচার শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।   তবে মঙ্গলবার আদালতে করা সমঝোতার মাধ্যমে মামলার মোড় ঘুরে যায়। থমাস প্রথম-ডিগ্রির শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর বিনিময়ে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা অভিযোগ বাদ দেওয়া হয়। আদালত তাকে মিসৌরি সংশোধনাগার বিভাগে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং প্রবেশন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   কানসাস সিটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএইচবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থমাস ইতোমধ্যে যে সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, তা তার সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কার্যত প্রায় ১১ বছর কারাভোগের কথা বলা হয়েছে।   ঘটনার পর জ্যাকসন কাউন্টির প্রসিকিউটর জ্যঁ পিটার্স বেকার শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ঘটনায় একটি মূল্যবান প্রাণ হারানোর বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিচারব্যবস্থা যথাযথভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।   ২০২৪ সালে মামলাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এখন দোষ স্বীকারের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। হত্যা মামলার পরিবর্তে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন থমাস এবং তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: কেএসএইচবি, জ্যাকসন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২০:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় লাভবান হবেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলেও বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনে চলে যাবেন কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করেন, তাদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর খরচ বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। কিন্তু এই খরচ বেশি হলেও অনেক অভিভাবকের পক্ষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। কারণ চাকরির বেতন ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য কর্মসংস্থান সুবিধা পরিবারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের আওতায় যোগ্য পরিবারকে প্রতি সন্তান বছরে ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি দম্পতির একজনকে নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে হবে এবং অন্যজনকে সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদদের একজন রেবেকা গ্রুন ফন ইয়োল্ক নিউজউইককে বলেন, এই ধরনের সহায়তা জার্মানিতে আগে চালু থাকা একটি ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের অর্থ অনেক সময় এমন পরিবারই বেশি পায়, যারা কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার ব্যবহার করত না। অর্থাৎ যারা আগে থেকেই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন বা ইতোমধ্যে তা করছিলেন, তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারেন।   মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর পরিশোধের পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।   অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধু একজন কর্মজীবী অভিভাবকের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে সব পরিবারের জন্য লাভজনক হবে না। কারণ ৯ হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার পরও চাকরি থেকে পাওয়া আয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।   তবে একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।   তিনি উদাহরণ হিসেবে মিসিসিপির একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা ব্যয় হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার ক্ষেত্রে কর সাশ্রয় এবং তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা মিলিয়ে পরিবারের হাতে থাকা অর্থ বাড়তে পারে।   বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও শিশু পরিচর্যার পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭.৬৮ ইউরো এবং অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩.০৭ ইউরো দেওয়া হয়।   হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে অভিভাবকেরা সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট দেওয়া হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।   তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অর্থ আরও বাড়ানো উচিত এবং যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদেরও বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।   অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকানই প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো বলেছেন, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।   প্রস্তাবটি নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে শিশু পরিচর্যার বিদ্যমান সরকারি তহবিল নিয়ে। সমালোচকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার ব্যয়ে সহায়তা করে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তবে একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। আবার সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসাও সবসময় সহজ হয় না।   স্বাস্থ্যবিমাও অনেক পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারে একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, সেটি নির্ধারণ করতে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।   ট্রাম্প প্রশাসন মে ২০২৬-এ পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছিল।   তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কতসংখ্যক পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২১:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৬০ হাজার ওবামাকেয়ার গ্রাহকের সুবিধা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে ৭ লাখ ৬০ হাজার ওবামাকেয়ার গ্রাহকের সুবিধা বাতিল করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ (এসিএ) বা ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি থেকে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহককে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়া কিংবা বাস্তবে অস্তিত্ব নেই—এমন গ্রাহকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।   সরকারি জালিয়াতি দমন টাস্কফোর্সের প্রধান জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই গ্রাহকদের ভর্তুকি বাতিল করার মাধ্যমে ২২০ কোটি (২.২ বিলিয়ন) ডলার সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেট ওজসহ প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।   ভ্যান্স জানান, প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধনের আওতায় থাকা এই ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের যোগ্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি বলেই তাদের সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়া আরও ৪ লাখ ১৯ হাজার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে তারা এই সরকারি সুবিধার যোগ্য কি না, তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হবে।   পাশাপাশি যেসব এজেন্ট বা ব্রোকার স্বাস্থ্যবিমার জন্য গ্রাহকদের নিবন্ধন করান, নতুনদের ক্ষেত্রে তাদের ওপর ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে প্রশাসন। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ব্রোকারই স্বাস্থ্যবিমা খাতের বেশিরভাগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত।   ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মার্কিন নাগরিক এসিএ মার্কেটপ্লেস স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন। বাইডেন আমলে এই কর্মসূচির আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যসেবা নীতি বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনথিয়া কক্স বলেন, যারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন তাদের বিমা বাতিল হওয়া উচিত ঠিকই, কিন্তু গ্রাহকদের শনাক্ত করার এই প্রক্রিয়াটি সঠিক কি না এবং বাতিল হওয়া সবাই আসলেই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।   বাইডেন আমলের সিএমএস কর্মকর্তা এলেন মন্টজও প্রশাসনের স্বচ্ছতার অভাবের সমালোচনা করে বলেছেন, ঠিক কীসের ভিত্তিতে এই গ্রাহকদের বাতিল করা হলো, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারাও এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচার্ড ই. নিল বলেন, রিপাবলিকানরা এমনিতেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে চরম সংকট তৈরি করেছে, আর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৯:৩৯
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদির প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্যের ভয়েজার বিমান মোতায়েন

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। রিয়াদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ‘ভয়েজার’ সামরিক বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড।   বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং এটি কয়েক সপ্তাহের মতো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরিচালিত হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিরা দফায় দফায় হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এল।   লন্ডনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরএএফ ভয়েজার বিমানের মাধ্যমে আকাশে জ্বালানি ভরার এই ব্যবস্থার ফলে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারবে। এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।   বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক রুট লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ সম্প্রতি হুথিরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মিত্রদেশকে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সৌদি আরবকে ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্রিটিশ বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রতীকী অর্থে একটিমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের গভীরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাজ্য।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৯:১৬
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি কার্যত কঠোর ও সীমিত রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ১৭ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ ‘আফ্রিকানার’কে আগামী এক বছরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।   কংগ্রেসের কাছে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নোটিশের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত এই বিশেষ শরণার্থী কোটার সিংহভাগই দেওয়া হবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে, যাদের ওপর বর্ণবাদী কারণে নির্যাতন চলছে বলে দাবি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই আফ্রিকানাররা তীব্র বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা ও চাকরিতে সমান সুযোগ বিনষ্টকারী সরকারি নীতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার মুখে পড়ছে এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।   এমনকি আফ্রিকানারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, এই আফ্রিকানাররা মার্কিন সমাজের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হবে না।   যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে বলে দাবি করে আসছেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ওভাল অফিসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে ট্রাম্প দেশটির খামারগুলোতে কৃষক হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।   তবে স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার খামারগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেশটির সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতারই একটি অংশ, যা সব বর্ণের নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; একে শুধু শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্দিষ্ট 'গণহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবিকে চরম বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৮:৫৪
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা

নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি কেনা অনেকের কাছেই অধরা স্বপ্ন মনে হলেও, প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া যোগ্য ক্রেতাদের জন্য বেশ কয়েকটি বিশেষ সরকারি সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংরক্ষণ ও উন্নয়ন বিভাগের ‘হোমফার্স্ট’ কর্মসূচি।   এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডাউন পেমেন্ট এবং বাড়ি কেনার আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাওয়া সম্ভব। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে ১ থেকে ৪ ইউনিটের বাড়ি, কনডোমিনিয়াম বা সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে এই সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, বাড়িটি অবশ্যই ক্রেতার প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং কেনার আগে নির্ধারিত আবাসন মানের পরিদর্শনে তা উত্তীর্ণ হতে হবে।   এই ১ লাখ ডলারের সহায়তাটি কোনো সরাসরি নগদ অনুদান নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়। ৪০ হাজার ডলার বা তার কম সহায়তা নিলে ওই বাড়িতে ক্রেতাকে অন্তত ১০ বছর এবং ৪০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা নিলে অন্তত ১৫ বছর প্রধান বাসস্থান হিসেবে বসবাস করতে হবে। এর পাশাপাশি আবেদনকারীর আয়ের নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।   ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী, এক সদস্যের পরিবারের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৬০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে তা ২ লাখ ৩ হাজার ৫২০ ডলার হতে পারবে। এছাড়াও, এক ইউনিটের বাড়ির ক্ষেত্রে ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে সর্বোচ্চ মূল্যসীমা ৬ লাখ ৬১ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   হোমফার্স্টের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ (Housing Connect) ব্যবস্থায় সাশ্রয়ী মূল্যে কনডোমিনিয়াম ও সমবায়ী মালিকানার বাড়ি কেনারও সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যম ও মাঝারি আয়ের পরিবারের জন্য ‘মিচেল-লামা’ কর্মসূচির আওতায় সমবায়ী মালিকানার বাড়ি পাওয়ার বিকল্পও রয়েছে, যার জন্য আলাদা অপেক্ষমাণ তালিকা অনুসরণ করা হয়।   আর যারা নিউইয়র্ক সিটির বাইরে বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিউইয়র্ক স্টেট মর্টগেজ এজেন্সির (SONYMA) অধীনেও বিভিন্ন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে এই ধরনের যেকোনো সরকারি সুবিধার আওতায় বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়মাবলি যাচাই করে অনুমোদিত হাউজিং কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৮:৩৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ, খরচ বাড়ছে কোটি কোটি ডলার
ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসন প্রকল্পে ৬ বছরেও শেষ হয়নি কাজ, খরচ বাড়ছে কোটি কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীনদের আবাসনের জন্য নেওয়া একটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে শেষ না হওয়ায় তা এক বিশাল অর্থের গর্তে পরিণত হয়েছে। গভর্নর গ্যাভিন নিওসমের ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের 'হোমকি' (Homekey) কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালে এল মন্টে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকা 'এম মোটেল'-এর সম্পত্তিটি অধিগ্রহণ করা হয়।   উদ্দেশ্য ছিল এটিকে গৃহহীনদের জন্য আবাসনে রূপান্তর করা। এই ৯৩-কক্ষের মোটেল অধিগ্রহণ ও সংস্কারের জন্য শুরুতে ১০.৩৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও কয়েক মিলিয়ন ডলারের রাজ্য ও ফেডারেল তহবিল যুক্ত হয়েও প্রায় ৬ বছর পর প্রকল্পটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রভাবশালী সুপারভাইজার হিলডা সোলিসের নামে প্রকল্পটির নতুন নাম দেওয়া হয় ‘হিলডা সোলিস রোজ কোর্ট’। তবে নামের চমকের চেয়ে এই দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণকাজ প্রতিবেশীদের জন্য এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী বাল্ডউইন ভ্যালি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ধুলাবালির কারণে তাদের সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়।   এর চেয়েও বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার হওয়া গ্যাস লিকেজ। চলতি বছরে অন্তত দুবার গ্যাস লাইনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়, যার কারণে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। এক গর্ভবতী নারী জানান, গ্যাস লিকেজের কারণে তিনি ও তার অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।   সিটি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মোটেলটি কেনার পর এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংস্কারকাজে প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে, যা বাজেটের সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ওয়েন ওয়াইনগার্টেন এই প্রকল্পটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থের অপচয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলে সমালোচনা করেছেন।   এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার হাউজিং অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (HCD) বিভাগ জানিয়েছে, পরিবেশগত অনুমোদন ও অ্যাসবেস্টস অপসারণে জটিলতার কারণে এই বিলম্ব ঘটেছে এবং রোজ কোর্টের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এল মন্টে শহরকে আর কোনো তহবিল দেওয়া হবে না। কবে নাগাদ এই অন্তহীন ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে এখনো অন্ধকারে স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৮:৮
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নি হত, পলাতক চালক
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ল্যাম্বরগিনির ধাক্কায় ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নি হত, পলাতক চালক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক দ্রুতগামী গাড়ির ধাক্কায় ইসমায়েল রদ্রিগেজ নামে ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৬টার ঠিক আগে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ট্রেমন্ট অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এই মর্মান্তিক 'হিট-অ্যান্ড-রান' বা ধাক্কা দিয়ে পালানোর ঘটনা ঘটে।   পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, ঘাতক গাড়িটি সাদা রঙের এবং এটি সম্ভাব্য একটি বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়ি হতে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ইসমায়েল রদ্রিগেজ তার বাড়ি থেকে মাত্র তিন ব্লক দূরে ট্রেমন্ট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন।   এ সময় গাড়িটি তাকে প্রবল বেগে ধাক্কা দিয়ে না থেমেই দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায়। ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ঘাতক চালককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, গাড়িটির সন্ধানে তল্লাশি চলছে।   নিউইয়র্ক শহরে সম্প্রতি এ ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত শুক্রবার রাতেই লোয়ার ইস্ট সাইডে ডারিয়া সেরকভ নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী সিটি বাইক চালানোর সময় খননকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের চাপায় নিহত হয়।   এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে ডাউনটাউন ব্রুকলিনে থমাস বাকাস নামে ৭৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ই-স্কুটার চালানোর সময় সাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান। একের পর এক এমন সড়ক দুর্ঘটনায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৭:৪১
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।   এই বিশেষ কোর্সটি মূলত অর্থনীতি, অর্থসংস্থান, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে।   এছাড়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সেখানে তারা স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাংবাদিককে সনদপত্র প্রদান করা হবে।   ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াতের বিমানভাড়া, প্রশিক্ষণ ফি, আবাসন ও দৈনন্দিন ভাতাসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার বহন করবে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।   তবে প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৭:১৩
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো  লা শ উদ্ধার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়।   নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।   নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।   গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন।   নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব।   তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৬:৫২
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর থেকেই প্রকাশ্য দূরত্বের মুখে পড়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বড় পরাজয় এবং জো বাইডেন প্রশাসনের নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা একাধিক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নির্বাচনী মঞ্চে তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।   আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস ও অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে পাশে চান না। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর পদপ্রার্থী রব স্যান্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই এবং এখন দলটির নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।   একইভাবে কানসাসের সিনেট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনও জানিয়েছেন, সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হলে তাদের কমলা হ্যারিসের চেয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই মাঠে নামতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির কট্টর সমর্থকদের একাংশের কাছে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিসের কিছুটা আবেদন থাকলেও ট্রাম্পের কাছে সাম্প্রতিক পরাজয় তাঁর অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে।   ইউসি বার্কলে সিট্রিন সেন্টার ও পলিটিকোর সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, এমনকি তাঁর নিজ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেও ২০২৮ সালে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের উদ্দীপনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের ৫৫ শতাংশই তাঁর পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হ্যারিস প্রার্থী হলে তিনি হয়তো পথ ছেড়ে দেবেন, তবে তিনি মনে করেন না কমলা আবার নির্বাচন করবেন। দলের এমন নানামুখী সমীকরণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠে হ্যারিসকে এক জটিল বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।   তবে এই বিরোধিতার উল্টো চিত্র দেখা গেছে মিশিগানে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হওয়া জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে হ্যারিসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ।   তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আরব-আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচাতে হ্যারিসের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেট্রয়েটে কৃষ্ণাঙ্গ মাতৃস্বাস্থ্য এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির (NAACP) ভোটাধিকার ফোরামে তাঁদের যৌথভাবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   দলীয় নেতাদের একাংশের এমন অনাগ্রহ বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে জিততে যা প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাতে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।   সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাপিয়ে নেভাডা, জর্জিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ২০২৮ সালের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করে এই মুহূর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেই নিজের পূর্ণ মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখছেন বলে জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৬:২৬
নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস আটকের অভিযোগ, ডোরড্যাশকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস আটকের অভিযোগ, ডোরড্যাশকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ (টিপস) আটকে রাখার অভিযোগে জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১০ লাখ (১৩১ মিলিয়ন) ডলারের ঐতিহাসিক আপস-মীমাংসা বা সেটেলমেন্ট করেছে নিউইয়র্ক শহর।   এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা দিতে গিয়ে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি শু-এর ‘লোভী অ্যালগরিদম’ ব্যবহারের ব্যবসায়িক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পৌরসভার ইতিহাসে ফুড ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার আদায়ে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সেটেলমেন্ট।   মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি গত জুলাই মাসে প্রচারিত একটি পডকাস্টে টনি শু-এর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাত্র দুই মাস আগে টনি শু ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, একজন সিইওকে সব সময় 'লোভী অ্যালগরিদম' গ্রহণ করে দেখতে হবে যেখান থেকে আরও বেশি কিছু বের করা যায় কি না।   এর কড়া সমালোচনা করে মেয়র বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ‘লোভী অ্যালগরিদম’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির কথা একেবারেই চিন্তা না করে প্রতি পদক্ষেপে শুধু তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ লাভের পথটি বেছে নেয়।   মুনাফালোভী এই ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নিউইয়র্ক শহরের ডেলিভারি কর্মীদের দীর্ঘকাল ধরে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ ডোরড্যাশে পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন এবং তাদের সবাই কোম্পানির এই অমানবিক নীতির প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। শহরের কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ঐতিহাসিক জরিমানা ও সেটেলমেন্ট একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৫:৫৯
এনওয়াইপিডি ট্রাফিক কোর্সে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি আল মোর্শেদ
এনওয়াইপিডি ট্রাফিক কোর্সে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি আল মোর্শেদ

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এনওয়াইপিডি (NYPD) ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করায় পিটিইএ-টু (PTEAII) মোহাম্মদ আল মোর্শেদকে অভিনন্দন জানিয়েছে।   শুধু কোর্স সম্পন্ন করাই নয়, অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে তিনি তার ব্যাচের 'ক্লাস ভ্যালেডিক্টোরিয়ান' বা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।   পুরো ব্যাচের মধ্যে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একটি অত্যন্ত বিরল ও উল্লেখযোগ্য অর্জন। এটি মূলধারার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তার অসামান্য নিষ্ঠা, কঠোর শৃঙ্খলা, একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং পেশার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।   বাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করে যে পুরো প্রশিক্ষণ চলাকালীন আল মোর্শেদ কতটা কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তার এই অনন্য অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৫:৪৪
লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের
লং আইল্যান্ডে প্রেমিকার সাবেক সঙ্গীকে হ ত্যা, ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রেমিকের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি অভিজাত ইয়ট ক্লাবে 'ত্রিভুজ প্রেমের' জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ভিক্টর প্যানেবিয়াঙ্কো (৩২) নামের এক যুবককে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ফার্স্ট-ডিগ্রি ম্যানস্লটার বা হত্যার দায়ে তাকে এই সর্বোচ্চ সাজা শোনানো হয়। গত ১০ নভেম্বর ক্রিস্টোফার মিলওয়াটার (৫২) নামের ওই ব্যক্তিকে স্টনি ব্রুক ইয়ট ক্লাবের পার্কিং লটে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি মাছ ধরতে যেতেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হত্যাকারী ভিক্টর এবং তার প্রেমিকা ক্যাসি কর্সো (৩৩) নর্থ ক্যারোলিনা থেকে গাড়ি চালিয়ে লং আইল্যান্ডে এসেছিলেন ক্রিস্টোফারকে হত্যা করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে। উল্লেখ্য, ক্রিস্টোফার একসময় ক্যাসির প্রেমিক ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ক্যাসি তার প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করেন।   ঘটনার দিন ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ক্রিস্টোফার যখন ইয়ট ক্লাবে পৌঁছান, তখন আগে থেকেই পার্কিং লটে ওত পেতে ছিলেন ভিক্টর ও ক্যাসি। বিপদের আঁচ পেয়ে ক্রিস্টোফার নিজের গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তার গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পথ আটকে দেন। এরপর ক্রিস্টোফার গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ভিক্টর তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন এবং বুকে দুবার মারাত্মকভাবে ছুরিকাঘাত করেন।   সিসিটিভি ফুটেজে এই রোমহর্ষক দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগে ক্রিস্টোফারের শেষ কথা ছিল, "তুমি আমাকে ছুরি মারছ?"   হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভিক্টর এবং ক্যাসি গাড়ি চালিয়ে নর্থ ক্যারোলিনায় তাদের অ্যাপার্টমেন্টে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্টোকস কাউন্টির শেরিফ তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করেন। সাফোক কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রে টিয়ার্নি এই রায়কে ন্যায়বিচারের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা আশা করেন এই সর্বোচ্চ সাজার মাধ্যমে নিহতের পরিবার কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবে।   অন্যদিকে, নিহতের সাবেক প্রেমিকা ও এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ইন্ধনদাতা ক্যাসি কর্সোও দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে ক্রিস্টোফার তার ফেসবুক পেজে নিজের অতীত ও জীবন নিয়ে বেশ কিছু রহস্যময় পোস্ট করেছিলেন। একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমি মারা গেলে বিশ্রামের জন্য প্রচুর সময় পাব, তাই এখন দ্রুত গোসল সেরে জিমে যাওয়ার সময়।" অন্য একটি পোস্টে তিনি তার অতীত নিয়ে মানুষকে গসিপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি সবকিছুর সাথেই আপস করে শান্তিতে রয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৫:৩৪
পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে, টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ ২০ বছরে
পার্টির আনন্দ মুহূর্তেই আতঙ্কে, টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ ২০ বছরে

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি বাড়ির পেছনের উঠানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টা ২৭ মিনিটে উত্তর ১৮তম সড়কের ২০০০ নম্বর এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ তরুণের চিবুক, বুক ও পায়ে গুলি লাগে। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, বাড়িটিতে তখন কোনো ধরনের পার্টি বা জমায়েত চলছিল। তবে সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, কী নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল কিংবা কে গুলি চালিয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পর টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বার্তা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ তরুণ টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে ঘটেছে এবং তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফিলাডেলফিয়া পুলিশ।    পুলিশ এখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং গুলি চালানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৫:৯
ব্রিটেনে নার্স সংকটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হাড় ভাঙার মতো ঘটনা, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটেনে নার্স সংকটে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও হাড় ভাঙার মতো ঘটনা, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে তীব্র নার্স সংকটের কারণে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন রোগীরা। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (আরসিএন)-এর ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে নিবন্ধিত নার্সের বিপুল ঘাটতি রোগীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ না পাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডে প্রায় ২৩ হাজার নার্সের পদ শূন্য রয়েছে। তবে অর্থের অভাবে বন্ধ থাকা বা নিয়োগের অনুমোদন না থাকা পদগুলো হিসাব করলে প্রকৃত ঘাটতির আকার আরও অনেক বড় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।   নার্স স্বল্পতার ভয়াবহতা বোঝাতে আরসিএন বিভিন্ন হাসপাতালের বোর্ড নথিতে থাকা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, কর্মী সংকটের কারণে রোগীদের ব্যথার ওষুধ দিতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যত্ন বাদ পড়ার মতো ঘটনা বিভিন্ন হাসপাতাল ট্রাস্টে মাসে শত শতবার ঘটছে।   উদাহরণস্বরূপ, পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি হাসপাতালে রাতের পালায় পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় এক বয়স্ক রোগী বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের শিকার হন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিলেন না এবং সাত দিন পর তার নিতম্বের হাড় ভাঙার বিষয়টিও ধরা পড়ে। ওই হাসপাতালের নার্সরা জানিয়েছেন, চরম কর্মী সংকটের কারণে প্রতিটি শিফটেই রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   চিকিৎসকদের তুলনায় নার্স নিয়োগের ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আরসিএনের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর ইংল্যান্ডে চিকিৎসকের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বাড়লেও, নার্সের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতো একই হারে নার্স নিয়োগ দেওয়া হলে বর্তমানে অন্তত আরও ৭৭ হাজার নার্স বেশি থাকতেন।   এছাড়া কাজের পরিমাণের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রায় ৫৫ হাজার অতিরিক্ত নার্সের প্রয়োজন ছিল। আরসিএনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার জানান, নার্স সংকটের কারণে রোগীর নিরাপত্তার ঘাটতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:৪৬
৫ বছর সানস্ক্রিন না ব্যবহারে নারীর মুখে দেখা গেল ত্বকের বড় পরিবর্তন
৫ বছর সানস্ক্রিন না ব্যবহারে নারীর মুখে দেখা গেল ত্বকের বড় পরিবর্তন

সানস্ক্রিন বা এসপিএফ ব্যবহার বন্ধ রাখলে কয়েক বছরের মধ্যে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, তা বোঝাতে একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল সিমুলেশন সামনে এসেছে। এতে একজন নারীর বর্তমান মুখের সঙ্গে পাঁচ বছর পরের সম্ভাব্য চেহারার তুলনা করা হয়েছে।   সিমুলেশনে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ চেহারায় মুখে বেশি দাগ, অসম পিগমেন্টেশন, সূক্ষ্ম রেখা এবং ফটোএজিংয়ের বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায়। তবে এটি ওই নারীর পাঁচ বছর পরের নিশ্চিত চেহারা নয়। ত্বকের বর্তমান অবস্থা এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ভিত্তিতে তৈরি একটি সম্ভাব্য সিমুলেশন মাত্র।   ত্বকের ওপর সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব সাধারণত একদিনে চোখে পড়ে না। নিয়মিত ইউভি এক্সপোজার সময়ের সঙ্গে ত্বকের কোষ ও কোলাজেনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে বয়সের আগেই বলিরেখা, ত্বকের রঙে অসমতা এবং বয়সের দাগের মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।   ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, ইউভি রশ্মির প্রভাব শুধু সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ও অতিরিক্ত ইউভি এক্সপোজার ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। এ কারণেই ডার্মাটোলজি বিশেষজ্ঞরা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষায় নিয়মিত সান প্রটেকশন ব্যবহারের পরামর্শ দেন।   সানস্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় না থাকা, ছায়ায় থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সান প্রটেক্টিভ পোশাক ব্যবহার করাও ত্বক সুরক্ষার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে বাইরে দীর্ঘ সময় কাটালে ত্বককে ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে পাঁচ বছরের এই সিমুলেশন দেখে সবার ত্বকে একই ধরনের পরিবর্তন হবে এমনটা বলা যায় না। বয়স, জেনেটিক বৈশিষ্ট্য, ত্বকের ধরন, সূর্যের সংস্পর্শের মাত্রা এবং ব্যক্তিগত ত্বকের যত্নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ত্বকের পরিবর্তন নির্ভর করে।   ছবিটির মূল উদ্দেশ্য তাই ভবিষ্যৎ চেহারা নির্দিষ্ট করে দেখানো নয়, বরং নিয়মিত সূর্যের সংস্পর্শে ত্বকে জমতে থাকা ক্ষতির বিষয়টি দৃশ্যমান করা। কারণ ইউভি রশ্মির ক্ষতি অনেক সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট হওয়ার আগেই ত্বকের ভেতরে জমা হতে শুরু করতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:২৮