চলন্ত মেট্রোরেলে অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে বিপত্তি, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল
রাজধানীর উত্তরা–মতিঝিল রুটে চলন্ত মেট্রোরেলের অপারেটর কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় ২৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাময়িকভাবে সেবা বন্ধ রাখার পর ত্রুটি ঠিক করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করা হয়।
এমআরটি পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশনস) মো. মহসিন শেখের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, মতিঝিলগামী একটি ট্রেন শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে থাকার সময় ঘটনাটি ঘটে। প্রথম কোচসংলগ্ন নারী যাত্রীদের অংশে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
ট্রেনটি সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটের দিকে আগারগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দরজার সমস্যাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
প্রায় ২৬ মিনিট পর, সকাল ৮টা ৩ মিনিটে আবার মেট্রোরেল চলাচল শুরু হয়। ঘটনার পর উত্তরা–মতিঝিল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে শুধু চলন্ত ট্রেনের দরজা খুলে যাওয়ার কথা বলা হলেও, দ্য ডেইলি স্টারের বিস্তারিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এটি যাত্রী ওঠানামার সাধারণ দরজা নয়; ট্রেন অপারেটরের কেবিনের দরজার তালা খুলে যাওয়ার ঘটনা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বাংলাদেশ
View moreফরিদপুরের বাড়িতে স্বামীর মরদেহ সামনে রেখে বারবার আহাজারি করছিলেন সুমাইয়া আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর আকুতি, ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব!’ কিছুদিন পরই স্বামীকে কাছে পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক মর্মান্তিক সংবাদে। টেকনাফে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য তিতাস শেখ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাসের মরদেহ পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের কান্না, স্ত্রীর আহাজারি আর পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরিবারের সদস্যদের বরাতে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাসের। তাঁদের সংসারে কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। নতুন করে একসঙ্গে থাকার সেই অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন সুমাইয়া। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর খবরে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে তাঁর সাজানো স্বপ্ন। তিতাস শেখ ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা আফজাল শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। ছোট ভাই আকরাম হোসেনও সেনাবাহিনীতে কর্মরত। বাবার পথ অনুসরণ করে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন তিতাস। কর্মসূত্রে তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে রঙ্গীখালী এলাকার পাহাড়ি অঞ্চলে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিতাস। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে লেদা আইআরসি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছেন মা রেখা বেগম। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিতাস। তিনি মাকে বলেছিলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছেন, যেন তাঁর জন্য দোয়া করা হয়। সেটিই যে মায়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথন হয়ে থাকবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। শুক্রবার বিকেলে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তিতাসের মরদেহ ফরিদপুরে নেওয়া হয়। পরে লস্করদিয়া গ্রামের বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়। একজন দায়িত্বশীল সেনাসদস্য হিসেবে দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন তিতাস। তাঁর মৃত্যুতে একটি পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয় সন্তানকে, একজন মা হারিয়েছেন ছেলেকে, আর একজন স্ত্রী হারিয়েছেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে। ডিসেম্বর মাসে একসঙ্গে থাকার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সুমাইয়া, সেই স্বপ্ন এখন কেবল স্মৃতি। স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ‘আমাকেও নিয়ে যাও’ আহাজারি যেন বলে দিচ্ছিল, প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শূন্যতা কতটা গভীর হতে পারে।
সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি
বিদেশে কর্মরত ও বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেন সহজ করা, সরকারি সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এই উদ্যোগের আওতায় আসতে পারেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কার্ডটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দুই লাখ কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার কথাও জানানো হয়েছে। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে অন্তত ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমত, দেশে ও বিদেশের নির্দিষ্ট বিমানবন্দরে কার্ডধারীরা বিনা মূল্যে বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা এবং বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা বা ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সেবার আওতায় গাড়ি বুকিংয়ে সুবিধা এবং বিশেষ শ্রেণির কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরে যাতায়াতের ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে। তৃতীয়ত, চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চতুর্থত, বিদেশে কোনো কার্ডধারী প্রবাসীর মৃত্যু হলে তাঁর মরদেহ বিনা খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার সুবিধার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য বীমা ও জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পঞ্চমত, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা যাতে দেশে ফিরে ব্যবসা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন, সে জন্য ঋণ ও অন্যান্য সহায়তার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ষষ্ঠত, দেশে জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ এবং বিভিন্ন লাইসেন্সসংক্রান্ত কাজে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সপ্তমত, কার্ডের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সহজ করা, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সুবিধা এবং রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অষ্টমত, প্রবাসীদের আর্থিক লেনদেনের ইতিহাস বিবেচনায় ক্রেডিট স্কোরিং এবং ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এতে দেশে পরিবার বা ব্যবসার প্রয়োজনে অর্থায়ন পাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। নবমত, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং কনস্যুলার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সেবা গ্রহণেও এটি সহায়ক হতে পারে। দশমত, ব্যাংক ও সরকারের অন্যান্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের জন্য সমন্বিত সুবিধা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন কমতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে কারা কার্ড পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিবন্ধন নির্দেশনা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে সংবাদমাধ্যমে বিএমইটি নিবন্ধিত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রকাশিত হয়েছিল। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সব বাংলাদেশি প্রবাসীকে কার্ডের আওতায় আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও সরকারি বৈঠকের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। এদিকে, ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য ও প্রকাশিত ঘোষণায় সবার জন্য আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদন ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন করার ওয়েবসাইট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো অননুমোদিত আবেদন লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ দেওয়া থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকা উচিত। প্রবাসী কার্ড চালু হলে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এটি একটি সমন্বিত সেবা পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে। তবে ঘোষিত সুবিধাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ, কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশের পরই বিষয়গুলো পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।
সরকারি দপ্তরে টাকা না দিলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৫০ হাজার বেতন দিতাম: মাসুদুজ্জামান
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, ৫৭ জিম্মি উদ্ধার
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাবে পর্বতারোহণ: ইকরামুল হাসান শাকিল
দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ শুধু ‘স্যরি’ লিখে একটি পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সংক্ষিপ্ত এই পোস্ট ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। কেউ ধারণা করেন পেজটি হ্যাক হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন এটি বিশেষ কোনো প্রচারণার অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, প্রথম আলোর এমন রহস্যময় পোস্টের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ আয়োজন। পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারণা চালানো হয়। পোস্টটি প্রকাশের পর ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। অনেকে জানতে চান, প্রথম আলোর মতো একটি সংবাদমাধ্যম হঠাৎ কেন ক্ষমা চাইছে। কেউ আবার বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেন। ফেসবুক ব্যবহারকারী মির্জা হাসিব মন্তব্য করেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন প্রথম আলোর পেজ হ্যাক হয়েছে। পরে সম্পাদক মতিউর রহমানের পেজেও একই পোস্ট দেখে এবং রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে এটিকে প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন। সংবাদমাধ্যম জনবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার মূল বিষয় ছিল ‘আইডিয়া সংকট’। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে মিল রেখে রম্য লেখার নতুন ভাবনার সংকটকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের জানানো হয়, উপযুক্ত আইডিয়ার অভাবে এবারের সংখ্যায় প্রত্যাশিত আনন্দ দিতে না পারায় তারা দুঃখিত। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই ফেসবুকে প্রকাশ করা হয় এক শব্দের ‘স্যরি’ পোস্ট। অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই পোস্ট কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয়। রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার প্রচারণার অংশ হিসেবেই অভিনব কৌশলটি ব্যবহার করা হয়েছে।
১ জানুয়ারি বর্ধিত মজুরি পাবেন পোশাক শ্রমিকরা, মালিক-শ্রমিকপক্ষের ঐকমত্য
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে ফ্লোরিডায় ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া ডান্ডিয়া