সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আইসক্রিমে ধাতব পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী
আইসক্রিমে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী পেলেন ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ

ফ্লোরিডায় বাটার পেকান আইসক্রিম খাওয়ার পর পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর স্বাস্থ্যজটিলতায় পড়া এক নারীকে ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জুরি। ব্র্যান্ডি বাকলি নামের ওই নারী ২০১৮ সালে পাম বে শহরের একটি ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনেছিলেন। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিচার শেষে ২০২৬ সালের মার্চে ব্রেভার্ড কাউন্টির ছয় সদস্যের জুরি তার পক্ষে রায় দেন।   ঘটনার দিন বাকলি তার ছেলেকে নিয়ে দোকান থেকে বাটার পেকান আইসক্রিম কিনেছিলেন। আইসক্রিম খাওয়ার পর তার গলায় কিছু আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। প্রথমে তিনি সেটিকে পেকানের টুকরো বলে মনে করেছিলেন। পরে আরও আইসক্রিম নেওয়ার সময় তিনি আইসক্রিমের মধ্যে একটি ধাতব পেরেক দেখতে পান। হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তিনি ধাতব একটি বস্তু গিলে ফেলেছেন।   বাকলির আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে একটি পেরেক ও একাধিক ধাতব টুকরো বের করেন। এরপরও তার চিকিৎসা চলতে থাকে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, তিনি পোর্টাল ভেইন থ্রম্বোসিস অর্থাৎ রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতায় আক্রান্ত হন এবং উল্লেখযোগ্য অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাকে আরও একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   বাকলির আইনজীবীদের দাবি, চিকিৎসার পর তিনি স্থায়ীভাবে সন্তান ধারণের সক্ষমতা হারান। এই স্বাস্থ্যজটিলতার পাশাপাশি আইসক্রিমে ধাতব বস্তু থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৯ সালে তিনি মালাবার ক্রিমারিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির ব্রাস্টার্স আইসক্রিমের পণ্যে ধাতব পেরেক ও অন্যান্য ধাতব টুকরো ছিল, যার কারণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।   মামলার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি ছিল, বাকলির নিজের অবহেলাও ঘটনার জন্য দায়ী বা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে তারা দাবি করে, বিক্রি করা আইসক্রিম ত্রুটিপূর্ণ ছিল না।   দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর জুরি স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজার—দুই পক্ষকেই দায়ী করেন। এরপর বাকলির জন্য মোট ১৪,১৪৭,৫২৫ দশমিক ৩৯ ডলার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়। মামলার আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা ব্যয়, শারীরিক ক্ষতি ও ভোগান্তিসহ বিভিন্ন ক্ষতির জন্য এই অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে জুরির রায়ের পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। বাকলির আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ওয়েশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জুরির নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ বাকলি কবে হাতে পাবেন, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সোর্স- ওয়েশ, কেসিসিআই, ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো, ব্রেভার্ড কাউন্টি আদালতের নথি, আলপিজার ল

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:৪৩
পাকিস্তান-ভারত ড্রোন উত্তেজনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সমীকরণ
ভারতের পর পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশেই একই অ্যান্টি-ড্রোন চুক্তি ট্রাম্প কোম্পানির

পাকিস্তান এমন একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, যার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। একই কোম্পানি এর আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির চুক্তি করেছে। বিষয়টি পাকিস্তান-ভারতের প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন-সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।   পাওয়ারাস জানিয়েছে, এমওইউটি কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতিও তৈরি হয়নি। চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রযুক্তি উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে।   এই চুক্তির সঙ্গে ভারতের সংযোগটিই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩০ জুন ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া নথিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, পাওয়ারাস তাদের গার্ডিয়ান-১ ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ একই মার্কিন কোম্পানি পাকিস্তানে ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারাস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের এমওইউতে প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত অর্ডারও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও চুক্তিতে কাঠামো রাখা হয়েছে।   পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি। কোম্পানিটি নাসডাক-তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক নথির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প আমেরিকান ভেঞ্চারস নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারাসে বিনিয়োগ করেছেন। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি একজন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির পরিচালনা বা চুক্তিতে তার কোনো ভূমিকা নেই।   পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে তুরস্ক ও চীনের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি ড্রোন রয়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাওয়ারাসের প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ভবিষ্যতে সরবরাহ, স্থানীয় উৎপাদন এবং পরবর্তী ক্রয়চুক্তি কীভাবে এগোয়, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে।   একই উৎসের প্রযুক্তি পাকিস্তান ও ভারতের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে যাওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির জন্য দুই পক্ষের চাহিদা ও তথ্যের নিরাপত্তা আলাদাভাবে পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সোর্স- আল জাজিরা, রয়টার্স, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:১৮
প্রবাসজীবনে বদলে যায় সম্পর্কের যোগাযোগ
বিদেশে গেলেই কি সম্পর্কের দায় শুধু প্রবাসীর - অভিজ্ঞতা জানালেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর দেশে থাকা স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্কের যোগাযোগ কীভাবে বদলে যেতে পারে, তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন শিকাগোপ্রবাসী ভারতীয় নারী কানিশকা জাসোরিয়া। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছর থাকার সময়ে নিকট পরিবারের সদস্যদের বাইরে মাত্র দুজন তাকে ফোন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—বিদেশে থাকা মানুষদেরই কেন প্রায়ই “সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া” বা “ডিট্যাচড” হিসেবে দেখা হয়?   সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কানিশকা। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর অনেক সময় দেশে থাকা মানুষজন অভিযোগ করেন যে প্রবাসীরা আর আগের মতো যোগাযোগ রাখেন না। কিন্তু তার নিজের অভিজ্ঞতায়, যোগাযোগের উদ্যোগ সবসময় একপক্ষ থেকে আসেনি। ভিডিওটির ওপর “রিয়েলিটি অব এনআরআই” লেখা ছিল এবং ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “বেইজড অন ট্রু ইভেন্টস”। বিষয়টি হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও টাইমস নাউও প্রতিবেদন করেছে।   কানিশকার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরে পরিবারের বাইরে যে দুজন তাকে ফোন করেছিলেন, তাদের কথোপকথনের ধরনও ছিল আলাদা। একজন জানতে চেয়েছিলেন, পরিবার ছাড়া তিনি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবন সামলাচ্ছেন এবং ঋণের মতো বাস্তব বিষয় কীভাবে মোকাবিলা করেছেন। অন্যজন প্রশ্ন করেছিলেন, কাউকে না জানিয়ে কেন তিনি বিদেশে চলে গেছেন। তার বক্তব্য, এই দুটো ফোনের বাইরে নিয়মিত যোগাযোগের অভিজ্ঞতা তার হয়নি।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই কানিশকা প্রশ্ন তুলেছেন, যখন যোগাযোগের চেষ্টা দুই পক্ষ থেকে সমানভাবে না আসে, তখন শুধু বিদেশে চলে যাওয়া ব্যক্তিকেই কেন “ডিট্যাচড” বলা হবে। তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—দূরত্ব তৈরি হলে সম্পর্ক ধরে রাখার দায়িত্ব শুধু বিদেশে থাকা ব্যক্তির ওপর থাকা উচিত নয়; যোগাযোগে দুই পক্ষেরই ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।   ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী নিজেদের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কানিশকার বক্তব্যের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কেউ বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার পর সম্পর্কের বাস্তবতা বদলে যায়; আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষেরই চেষ্টা প্রয়োজন।   তবে কানিশকার বক্তব্যকে তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট হিসেবেই দেখা উচিত। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা দাবিগুলো তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। কানিশকার লিংকডইন প্রোফাইলেও শিকাগো, ইলিনয়েসে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়।   উৎস: হিন্দুস্তান টাইমস, কানিশকা জাসোরিয়ার ইনস্টাগ্রাম

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৫:৮
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিইর কর্মকর্তারা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার পর চালক পালিয়ে যান। পরে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটি ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটে।   পুলিশের তথ্যমতে, সকাল প্রায় ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউয়ের কাছে আইসিই কর্মকর্তারা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। চালক দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেন্ড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। চালক ছাড়া গাড়িতে আর কেউ ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ প্রধান জো ট্রিগ জানিয়েছেন, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা ও দুর্ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে পুলিশের তদন্তকারীরা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। এ কারণে তিনি মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছেন।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর ওই কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহায়তা করছে।   পরবর্তী তদন্তে নিহত চালককে মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তিনি গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর ধরে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে বসবাস ও নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সন্তানরা গুয়াতেমালায় রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিলারি শোলটেন আইসিইর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো ট্রাফিক স্টপ যেন প্রাণহানিতে শেষ না হয় এবং ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; দুর্ঘটনার কারণ বা আইসিই কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।   এদিকে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগান স্টেট পুলিশকে ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে আইসিইর কার্যক্রম, গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে দুর্ঘটনা পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।   আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় আইসিইর থামানোর চেষ্টা ও চালকের মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি আইনগত বা কার্যকারণ সম্পর্ক স্থির হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নেই।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৪:২৭
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ

চাকরির ইন্টারভিউ ও নিয়োগ পরীক্ষাকেই সাইবার হামলার ফাঁদে পরিণত করেছে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট ‘ওয়াটারপ্লাম’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ভুয়া নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ইন্টারভিউ, কোডিং পরীক্ষা কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানের নামে ক্ষতিকর ফাইল ও কোড চালাতে প্রলুব্ধ করছে তারা। এতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে চুরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার, জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি, অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘ওয়াটারপ্লাম’কে ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নামেও শনাক্ত করা হয়।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই কার্যক্রমে ১০০টির বেশি দেশে অন্তত ৩০ হাজার ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭ হাজারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অন্তত ১.৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।   মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন ও ওয়েব৩ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, গিগ-ওয়ার্ক সেবা ও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এনএফটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।   ফাঁদের পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া ইন্টারভিউ বা টেকনিক্যাল অ্যাসাইনমেন্টের সময় প্রার্থীকে কোনো কোড চালানো, ফাইল ডাউনলোড করা, সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধান করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বলা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার আড়ালে থাকতে পারে ক্ষতিকর কোড। সেটি চালানোর পর ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং হ্যাকাররা লগইন তথ্য, সংবেদনশীল নথি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে পারে।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, মেধাস্বত্ব বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   এই ধরনের প্রতারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগে থেকেই এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট কিছু আইটি কর্মী ভিডিও ইন্টারভিউতে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে শুধু ভিডিও কলে প্রার্থীর চেহারা দেখেই পরিচয় নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ করে আইটি চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোড, ফাইল বা সফটওয়্যার নিজের মূল কম্পিউটারে চালানোর আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো চাকরির প্রস্তাবে অস্বাভাবিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে বাড়তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এফবিআইয়ের সাইবার সতর্কতা তালিকাতেও ‘ওয়াটারপ্লাম’ বা ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বরের যৌথ সতর্কবার্তাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, চাকরির স্বাভাবিক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের এই কৌশল আইটি পেশাজীবী ও নিয়োগদাতা—দুই পক্ষের জন্যই নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।   Source: এফবিআই, মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৪:২১
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী

ফ্রান্সের উপকূলরক্ষীদের সহায়তা না নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর পর ৫১ অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ডোভারে পৌঁছেছেন। ছোট নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন থাকার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৫১ জনকে ডোভারে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযান তাদের সমুদ্র থেকে নিয়ে আসে এবং পরে সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নৌকাটি সোমবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি উপকূলরক্ষী নৌকাটিকে অনুসরণ করছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ সমুদ্রে ছিলেন এবং ফ্রান্সের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নৌকাটি ইংলিশ চ্যানেল ধরে পূর্ব দিকে এগিয়ে ডোভারের দিকে যায়।    প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অভিবাসীদের হ্যাম্পশায়ারের গোসপোর্টে নামানো হবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সেখানে শত শত অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। স্থানীয় পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়। পরে নৌকাটি গোসপোর্টের পরিবর্তে ডোভারে নেওয়া হয়।    গোসপোর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি কর্মীর ওপর হামলা, অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।    অভিবাসীদের ডোভারে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেককে আটক, পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে গোসপোর্টে যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও পরিবহন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, অভিবাসীদের সেখানে না নেওয়ায় সেগুলো আর ব্যবহার করতে হয়নি।    ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অভিবাসী আসা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৮০ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম।    এ ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নৌকাটির দীর্ঘ পথযাত্রা। নরম্যান্ডি থেকে যাত্রা শুরু করে এটি চ্যানেলের পূর্বদিকে এগিয়ে ডোভারে পৌঁছায়। এর আগে চলতি মাসেও আরও পশ্চিম দিক থেকে একটি ছোট নৌকা যাত্রা করে আইল অব ওয়াইটের কাছে পৌঁছেছিল। কর্মকর্তারা তখন সেটিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন।    Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হ্যাম্পশায়ার অ্যান্ড আইল অব ওয়াইট পুলিশ  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৫১
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘে মামদানিকে প্রকাশ্যে জবাব দেওয়ার ঘোষণা
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘে মামদানিকে প্রকাশ্যে জবাব দেওয়ার ঘোষণা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসার আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থন এবং নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যে মামদানির সমালোচনারও জবাব দেবেন।    ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু মামদানিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি জাতিসংঘে ইসরায়েলি সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরবেন এবং একই সঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়রের সমালোচনার জবাব দেবেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগের বিষয়ে মামদানির পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি যে তিনি নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সমর্থন করেন। নেতানিয়াহুর অভিযোগকে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।    নেতানিয়াহু ও মামদানির মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। জুলাইয়ে মামদানি নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা তাঁর নেই।    মামদানির অবস্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সঙ্গেও যুক্ত। ২১ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, আইসিসি যদি কাউকে গ্রেপ্তারের জন্য দায়ী করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। একই সময়ে তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ তোলেন। ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।    মামদানি জুলাইয়ে নিউইয়র্কবাসীদের নেতানিয়াহুর সফরের সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সেই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নিউইয়র্ক মেয়রের কার্যালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ সম্মেলনের ট্রান্সক্রিপ্টে মামদানি বলেন, তিনি কাউকে বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করেননি; বরং নিউইয়র্কবাসীর সাংবিধানিকভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে বলে তিনি সবসময় বলেছেন।    এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। মেয়রের কার্যালয়ের এক নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সময় নিউইয়র্কে প্রতিবছরই বিক্ষোভের সংখ্যা বাড়ে এবং এবারও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহিংসতা ও আইনভঙ্গ ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে।    নেতানিয়াহু ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সফরে তিনি খুব অল্প সময় নিউইয়র্কে থাকবেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তবে সেই সংক্ষিপ্ত সফরেও মামদানির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধ জাতিসংঘের অধিবেশনের আলোচনায় উঠে আসতে পারে।    নেতানিয়াহু ও মামদানির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে ইসরায়েলবিরোধী এবং ইসরায়েলপন্থী বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছে। ফলে নেতানিয়াহুর সফর শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতির বিষয় নয়, নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতেও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৪৬
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন

আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না।   অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে।    এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে।    আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।    স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন।    ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে।    ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন।   আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়।    অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে।    সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে।    তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৩৬
দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী
বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে খরচ ৫০ লাখ টাকা, দেশেই বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন নারী

ঢাকার বনশ্রী এলাকার গৃহিণী জোসনা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন। ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা জানতে পেরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় পরিবারকে। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই অস্ত্রোপচারে জোসনার জন্য নিজের লিভারের একাংশ দান করেন তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ। তিনি এই হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর প্রথম রোগী।   জোসনার অস্ত্রোপচারের পর গত এক বছরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোট ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে নিয়মিতভাবে এই জটিল চিকিৎসা চালু করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএমইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে গড়ে দুটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে।   দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোসনার লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে ২০২২ সালে। এরপর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দেন। পরিবার তখন ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে এত বড় অর্থের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।   পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জোসনার পরিবার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রায় তিন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে তাঁর ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর জোসনা প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদ ছিলেন প্রায় ১৫ দিন। পরে দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জোসনা বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকদের ফলোআপে রয়েছেন।   জোসনার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের আওতায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসাসহ মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে বিএমইউ জানিয়েছে।   বিএমইউর ছয়টি ট্রান্সপ্লান্টে ১৯টি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল কাজ করেছে। হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এবং তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক মহসেন চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দলও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে।   বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০১০ সালের জুনে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে। এরপর আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেও নিয়মিতভাবে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমইউ প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে ২০১৯ সালে এবং পরবর্তী আরেকটি ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০২৩ সালে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সেবা হিসেবে কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল।   বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর লিভারজনিত রোগে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান, যাদের বড় একটি অংশ সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিএমইউই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   জোসনার জন্য এই চিকিৎসার অর্থ শুধু বিদেশে যাওয়ার বড় খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া নয়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও। অস্ত্রোপচারের পর নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন জানিয়ে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদও বলেছেন, দেশেই জটিল চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিএমইউর ধারাবাহিক ছয়টি সফল ট্রান্সপ্লান্ট এখন সেই সক্ষমতাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় রূপ দেওয়ার নতুন উদ্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।   সূত্র: ডেইলি স্টার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:২১
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।   গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।   ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।   গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।   তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।   ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।   গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।   এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ঢাকায় অফিস খোলতে চায় মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ঢাকায় একটি অফিস খুলে বাংলাদেশকে তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। মেটার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসার প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।    শামা ওবায়েদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মেটার অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও বৈঠকে থাকার কথা ছিল, তবে সময়ের কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। বৈঠকে ঢাকায় মেটার অফিস খোলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারীভিত্তি থাকায় মেটা ঢাকাকে তাদের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে মেটা কবে অফিস খুলবে বা প্রস্তাবিত অফিসের কাঠামো ও দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।    বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স এবং অনলাইন ব্যবসা বাণিজ্যের সম্প্রসারণে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে মেটার সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।    মেটার সঙ্গে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরের অর্থনৈতিক কূটনীতি কর্মসূচির অংশ। এর আগে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছিলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মেটা ও লাইটক্যাসল পার্টনার্সের আয়োজনে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে মেটা বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থানীয় পেমেন্ট সুবিধা চালুর ঘোষণা দেয়, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো বিকাশের মাধ্যমে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধ করতে পারে।    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনের উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে তিনি বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    ঢাকায় মেটার আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা মূলত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো বৈঠকের তথ্য। অফিস স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সময়সীমা বা বিনিয়োগের পরিমাণ সম্পর্কে মেটার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আলোচনার অগ্রগতির ওপরই বিষয়টির বাস্তব রূপ নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:৫৪
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট বেতনের স্ক্রিনশট ভাইরাল
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট বেতনের স্ক্রিনশট ভাইরাল, ডিজিট দেখে চোখ কপালে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এয়ারলাইন্স আমেরিকান এয়ারলাইন্সে পাইলটদের আয় নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞতা, পদ, উড়োজাহাজের ধরন এবং সিনিয়রিটির ওপর নির্ভর করে একজন পাইলটের বার্ষিক আয় কয়েক লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৩ সালে অনুমোদিত পাইলটদের নতুন চুক্তিতে বেতন ও অবসর সুবিধায় বড় ধরনের উন্নতি করা হয়।    নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলটদের বেতন কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। তবে পাইলটদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের বদলে সাধারণত চুক্তিভিত্তিক ঘণ্টাপ্রতি পে রেট, মাসিক ক্রেডিট ঘণ্টা, পদ এবং উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী মোট আয় নির্ধারিত হয়। ফলে একই এয়ারলাইন্সে কাজ করলেও সব পাইলটের আয় এক নয়।   ২০২৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রায় ১৫ হাজার পাইলটের জন্য চার বছরে ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চুক্তিতে বিভিন্ন ধাপে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইলটদের কোয়ালিটি অব লাইফ ও অবসর সুবিধার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।    বর্তমান পে স্কেলে প্রথম দিকে থাকা ফার্স্ট অফিসারদের ঘণ্টাপ্রতি আয় প্রায় ১১০ ডলারের বেশি হতে পারে। চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। উড়োজাহাজের ধরন অনুযায়ী সিনিয়র ফার্স্ট অফিসারদের ঘণ্টাপ্রতি রেট ২০০ ডলারের বেশি হতে পারে। আর অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজভেদে ঘণ্টাপ্রতি রেট ৩৬০ থেকে ৪০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের পে তথ্য অনুযায়ী ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের ১২ বছর মেয়াদি ক্যাপ্টেনের রেট ঘণ্টায় প্রায় ৪৬৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।    তবে ঘণ্টাপ্রতি রেটকে সরাসরি সাধারণ চাকরির বার্ষিক বেতনের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এয়ারলাইন্স পাইলটদের আয় নির্ধারণে ক্রেডিট ঘণ্টা, রিজার্ভ ডিউটি, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, বিভিন্ন প্রিমিয়াম এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক সুবিধা হিসাব করা হয়। এর বাইরে পাইলটরা পার ডায়েম এবং অবসর সুবিধাও পেয়ে থাকেন।   আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলটদের অবসর সুবিধাও মোট পারিশ্রমিকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোম্পানির পাইলট চুক্তিতে নিয়োগকর্তার অবসর তহবিলে অবদান রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট ইউনিয়ন অ্যালায়েড পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার পাইলটের প্রতিনিধিত্ব করছে।    বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পাইলটদের জন্য হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসর সঞ্চয়, পেইড ছুটি এবং ট্রাভেল সুবিধার মতো সুযোগও রয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের কর্মী সুবিধার নথিতেও পাইলটদের জন্য আলাদা অবসর ও ইন্স্যুরেন্স সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এয়ারলাইন পাইলটদের আয় সামগ্রিকভাবেই উচ্চ। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী এয়ারলাইন পাইলট, কো-পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারদের জাতীয় মধ্যম বার্ষিক মজুরি ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ ডলার। তবে বড় এয়ারলাইন্সে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ পাইলটদের আয় এই জাতীয় মধ্যমের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।   আমেরিকান এয়ারলাইন্সে পাইলটদের উচ্চ আয়ের পেছনে শুধু দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা নয়, সিনিয়রিটি ও উড়োজাহাজের ধরনও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের পে রেট সবচেয়ে বেশি পর্যায়ে পৌঁছায়। ফলে পাইলটিং পেশায় প্রবেশের পর ক্যারিয়ারের শুরু এবং পরবর্তী পর্যায়ের আয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:২১
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ আয়োজন করা হয়।    এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া স্বাগত ব্রেকফাস্টে ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সঙ্গে গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে ফটোসেশন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন।    প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক রয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।    এ ছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।    এ সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তার এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে।    প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, এবারের সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের নৈশভোজে অংশ নেওয়াটি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা, আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নয়।    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার যুক্তরাষ্ট্র সফর চলার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ধারাবাহিক এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ২:১৫
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়।   দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়।   মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   জুবাইদা রহমান এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল।   মার্চের ওই আয়োজনে জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানটি ছিল শিশুদের শিক্ষা, কল্যাণ, প্রযুক্তি এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ।   মার্চে ওয়াশিংটন এবং সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের দুটি আয়োজনে জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১:৩১
জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে বিশ্বনেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি। আলোচনায় বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে।    সফরের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে যোগ দেন তিনি। দিনভর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমের সঙ্গে বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।    এ ছাড়া ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।    ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাচ্ছে। সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিয়ে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি।    এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    তবে সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে। সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেবেন তিনি। ১৮ জন বক্তার মধ্যে ১১তম বক্তা হিসেবে তার জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে।    ভাষণের দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলা নিয়ে একটি বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। ভাষণ শেষে রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।    সফরের শেষ দিন ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জেপি মরগান আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। এরপর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় দুবাই হয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সূচি রয়েছে।  সূত্র: ডিবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১:২৭
নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হল খ্রিষ্টান যাজকে
গ্রিন কার্ড আবেদন রিজেক্ট, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হল খ্রিষ্টান যাজকে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদন নাকচ হওয়ার পর হাইতিতে ফেরত পাঠানোর মুখে পড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী খ্রিষ্টান যাজক মলিস অগাস্টাভে। পেনসিলভানিয়ায় গাড়ি থামিয়ে তাকে আটক করার পর থেকে তিনি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন অগাস্টাভেকে চলতি সপ্তাহেই হাইতিতে ডিপোর্ট করা হতে পারে বলে তার আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর পেনসিলভানিয়ার ইয়র্কে একটি গাড়ি থামানোর সময় ওয়েস্ট ম্যানচেস্টার পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বিত অভিযানে আইসিই অগাস্টাভেকে আটক করে। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়। হাইতিতে ডিপোর্টেশনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর তার একটি ফ্লাইট নির্ধারিত থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাকে সেই ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।    অগাস্টাভের স্ত্রী ওমারা নুনেজ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। আটক হওয়ার পর স্বামীকে মুক্ত করতে নুনেজ ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা প্রচারণা শুরু করেন। তাদের প্রচেষ্টার পর অগাস্টাভের আগের ডিপোর্টেশন সাময়িকভাবে ঠেকানো গেলেও এখন তার গ্রিন কার্ড আবেদন নাকচ হওয়ায় নতুন করে ডিপোর্টেশনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অগাস্টাভে এর আগে হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য চালু থাকা টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান নাগরিকের জন্য ওই সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।    ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অগাস্টাভের গ্রিন কার্ড আবেদন দ্রুত নাকচ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার পক্ষে থাকা অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো। ওয়্যার আর কাসা এবং আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের প্রতিনিধিরা বলছেন, অগাস্টাভে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একজন যাজক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের দাবি, গ্রিন কার্ড আবেদন নাকচের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।    অন্যদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অগাস্টাভের ইমিগ্রেশন ইতিহাসের ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছে। বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ইসিড্রো এলাকায় বর্ডার প্যাট্রোলের হাতে আটক হয়েছিলেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ২০১৮ সালের মার্চে একজন ইমিগ্রেশন জজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন।    হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অগাস্টাভে ডিপোর্টেশন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আইসিই হেফাজতেই থাকবেন। একই সঙ্গে বিভাগটি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার জন্য সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে এবং স্বেচ্ছায় ডিপোর্টেশনের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা ও বিনামূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে।    এদিকে অগাস্টাভের আইনজীবীরা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখনো ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে। তার পক্ষে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব লুইজিয়ানার ফেডারেল কোর্টেও হ্যাবিয়াস করপাস পিটিশন করা হয়েছে। তবে ওই আইনি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই তাকে ডিপোর্ট করা হতে পারে বলে তার সমর্থকেরা আশঙ্কা করছেন।    হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও অগাস্টাভে অন্য বন্দিদের সঙ্গে ধর্মীয় সেবা ও প্রার্থনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার স্ত্রী নুনেজ বলেছেন, স্বামীকে ছাড়া দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে অগাস্টাভের ডিপোর্টেশন ঠেকানোর আইনি প্রচেষ্টা এখনো চলমান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৪১
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র, বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। মঙ্গলবার কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত শরণার্থীদের বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ, বিশেষ করে আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের মানুষ হতে পারেন।   এই সংখ্যা গত বছরের নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ শরণার্থীর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে ১৭ হাজার ৫০০ সংখ্যাটি সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ এর বেশি শরণার্থী গ্রহণ করা হবে না। বাস্তবে এর পুরো সংখ্যাটি ভর্তি হবে কি না, তা আলাদা বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি অর্থবছরে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শের পর শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন।   প্রস্তাবিত নীতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানারদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকানদের একটি সম্প্রদায়। ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, সম্পত্তি অধিগ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চলছে এমন দাবিকে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকানার শরণার্থী গ্রহণের পেছনে প্রশাসনের দেওয়া কারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ফলে নতুন শরণার্থী নীতিটি মানবিক সুরক্ষা, অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে যখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বাসন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণ কর্মসূচি স্থগিত করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। পরে সীমিত পরিসরে কিছু শরণার্থী গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচিতে কোনো ব্যক্তি শরণার্থী হিসেবে গ্রহণের আগে একাধিক ধাপে যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যান। বিদেশে থাকা এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য, যারা নিজ দেশে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বা নিপীড়নের আশঙ্কায় দেশে ফিরতে পারেন না। শরণার্থী ও অ্যাসাইলামপ্রার্থীর মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। শরণার্থী সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করেন, আর অ্যাসাইলামপ্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সুরক্ষা চান।   ২০২৬ অর্থবছরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত শরণার্থীদের সংখ্যা অন্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। শরণার্থী প্রসেসিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছরের দেশভিত্তিক ভর্তি ও পুনর্বাসনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট প্রতি অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। এরপর প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সংখ্যা কার্যকর হয়। তাই কংগ্রেসে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ শরণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা কার্যকর হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানারদের জন্য বড় অংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাই এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৩৪
অভিবাসীদের নজরদারিতে নিয়োগ ১৪০ বিশ্লেষক
আইসিইর ১০০ মিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা, অভিবাসীদের নজরদারিতে নিয়োগ ১৪০ বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি নতুন ইউনিটে ১৪০ জনের বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব কর্মীর অনেকেরই ‘টপ সিক্রেট’ সরকারি সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হবে।    দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ইউনিটটির নাম ‘ওভারওয়াচ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এনফোর্সমেন্ট’। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে এই ইউনিটের সদস্যদের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তারা শ্রেণিবদ্ধ ও অশ্রেণিবদ্ধ বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করবেন।    প্রস্তাব অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ, সম্পর্ক, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করবেন। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান, ঘটনা ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করে আইসিইর তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহায়তা করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। তবে এসব বিশ্লেষকের নিজেরা কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা থাকবে না।    প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২৭টি শহরে তিন থেকে পাঁচজন করে বিশ্লেষক মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার থাকার কথাও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।    আইসিই বলছে, সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ‘ওভারওয়াচ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আইসিইর এক মুখপাত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অপরাধীদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়াতে হচ্ছে।    অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে আইসিই এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তথ্য, নজরদারি সফটওয়্যার, ফেসিয়াল রিকগনিশন, লাইসেন্স প্লেট রিডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া মানুষকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের ডেটা-ভিত্তিক সেবাও ব্যবহার করা হয়।    নতুন পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আইসিইর নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে মিনেসোটার একটি চার্চে আইসিইর নজরদারি কার্যক্রমের কিছু তথ্য প্রকাশ পায়। ওই নথি অনুযায়ী, এজেন্টরা চার্চের সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং তাদের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর যাচাই করেছিলেন।    আইসিইর জনবল নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সংস্থাটির সাবেক এক কর্মকর্তা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই কিছু প্রার্থীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযোগও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।    নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইসিইর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ১০ কোটি ডলারের পরিকল্পনাটি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে উল্লেখিত জনবল ও কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:১৯
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা, ৭১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।   মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন।   ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়।   দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।   বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে।   বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে।   অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান।   অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৮
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)।   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।   সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান।   সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২৩:৪৮