সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
একের পর এক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প
বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র এখন নিউইয়র্ক, একের পর এক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে রয়েছে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় ও দলীয় বৈঠক মিলিয়ে অন্তত ১১ জন বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।   ট্রাম্পের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জেলেনস্কি ইতোমধ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি বার্নহামের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয় নিউইয়র্কে বার্নহামের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।   জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গেও ট্রাম্প বৈঠক করবেন। যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের আগে এই আলোচনা হচ্ছে। জাপান টাইমস জানিয়েছে, চীন নিয়ে টোকিওর অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোটের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন তাকাইচি।   তবে নিউইয়র্কের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও ট্রাম্পের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে প্রকাশিত সূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহও বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। এপি জানিয়েছে, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কূটনীতিকেরা হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সংকটে অচলাবস্থা কাটানোর সুযোগ খুঁজছেন।   জাতিসংঘের এই সপ্তাহে কূটনৈতিক ব্যস্ততার মাত্রাও ব্যাপক। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের বরাত দিয়ে দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সদস্যদেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় এক হাজার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের অনুরোধ এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকট সমাধানের প্রচেষ্টা এসব বৈঠকের বড় অংশজুড়ে থাকবে।   ফলে এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন শুধু বিশ্বনেতাদের আনুষ্ঠানিক ভাষণের মঞ্চ নয়; ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—একাধিক বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পর্দার আড়ালের কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে নিউইয়র্ক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১০:৫৭
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে বিশ্বনেতা ও তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে এই আয়োজন করা হয়। ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রাতরাশের শুরুতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা তাদের জীবনসঙ্গীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও তার স্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ফটোসেশনে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।    প্রাতরাশ শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেন। চলতি অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।    জাতিসংঘে এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর এবং সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।    সফরসূচি অনুযায়ী, জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফর দেশের নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রথম বড় কূটনৈতিক কর্মসূচিগুলোর একটি। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১০:১১
বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে
বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে: জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

শুরু হয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণের এই আয়োজনে আজকের সবচেয়ে আলোচিত বক্তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য—“আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।”    ট্রাম্প এমন এক সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চে উঠছেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ প্রায় সাত মাসে গড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে এবং জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বজায় রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরোধিতা করছে।   গত বছরের জাতিসংঘ ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এবার তাঁর ভাষণের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে জড়িত এবং সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট সমাধান এখনও সামনে আসেনি।    মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নিউইয়র্কে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা শুধু যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    ট্রাম্পের আজকের কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা। বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পথ এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে এপি।    অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আলোচনার অভিজ্ঞতার কারণে তেহরানে নতুন সংলাপ নিয়ে অবিশ্বাস রয়েছে। ফলে একই সময়ে নিউইয়র্কে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও সরাসরি আলোচনায় বড় অগ্রগতি হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।    শুধু ইরান নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশও এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এপি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামাজিক প্রভাব এবং এর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জলবায়ুসহ একাধিক বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় রাখা হয়েছে।    জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান বিশেষভাবে নজরে থাকবে। তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা কমিয়েছে এবং ট্রাম্প অতীতে সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বিশ্বব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বদলাতে হবে।    ভাষণের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও নিউইয়র্কের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে।    এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে বিশ্বনেতাদের সামনে রয়েছে। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:৫৮
গ্রাহকের পিৎজা হাতে দরজায় হাজির দুই পুলিশ কর্মকর্তা
পিৎজা নিয়ে যাওয়ার আগেই হেফাজতে ডেলিভারি চালক, অর্ডার পৌঁছে দিল পুলিশ

বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে এক ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর তার গাড়িতে থাকা গ্রাহকের পিৎজার অর্ডারটি নিজেরাই পৌঁছে দিলেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টেম্পি শহরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঘটে এই অদ্ভুত ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও রেসিংয়ের অভিযোগে ট্রাফিক স্টপের সময় এক গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে চালককে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গাড়িতে একজন গ্রাহকের পিৎজার অর্ডার পড়ে ছিল।   চালককে হেফাজতে নেওয়ার পর পিৎজাটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে, তা নিয়ে ভাবেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই অর্ডারটি পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দুই কর্মকর্তা পিৎজার বাক্স হাতে ওই নারীর বাড়ির দরজায় গিয়ে হাজির হন।   দরজা খুলে সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখে বিস্মিত হয়ে যান গ্রাহক। তখন এক কর্মকর্তা তাকে জানান, তার গ্রাবহাব ডেলিভারি চালককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তাই তারা পিৎজাটি পৌঁছে দিতে এসেছেন। পাশে থাকা আরেক কর্মকর্তা মজা করে বলেন, পিৎজাটি এখনো গরম থাকার কথা।   অপ্রত্যাশিত এই ডেলিভারিতে অবাক হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ওই নারী। পরে টেম্পি পুলিশ বিভাগের প্রকাশ করা বডিক্যাম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ঘটনাটি দেখা যায়।   ঘটনাটি নিয়ে টেম্পি পুলিশও রসিকতা করে জানায়, ডেলিভারি চালককে হেফাজতে নেওয়া হলেও পিৎজার ডেলিভারি শেষ পর্যন্ত ঠিকই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে একটি সাধারণ ট্রাফিক স্টপই পরিণত হয় অস্বাভাবিক এক পিৎজা ডেলিভারির ঘটনায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:৩৪
বাংলাদেশে স্ত্রীর মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘু ষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার আওলাদ হোসাইন
খু নের ঘটনায় পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্ত্রী রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করে বাংলাদেশি পুলিশের নথি থেকে নিজের নাম সরানোর চেষ্টা এবং এ জন্য ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অ ভি যুক্ত ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক রেহানা পারভিনের বিচ্ছিন্ন স্বামী আওলাদ হোসাইন। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ আনা হয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে আওলাদ হোসাইন বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে মোট ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। পুলিশের দাবি, ওই অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশের তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশি নথি থেকে তার নাম সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা সফল হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি।   রেহানা পারভিন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং পাঁচ সন্তানের মা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বাংলাদেশ পুলিশ তার মৃ ত দে হ উদ্ধারের কথা অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার মৃ ত্যুকে সন্দেহজনক বলে জানায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত করছে।   অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, রেহানার দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ২০২৪ সালেই তারা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হয়। পরে কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইনস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।   রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ আওলাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রে প্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে। তবে তার মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় এখনো তার বিরুদ্ধে হ ত্যার অ ভি যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন হয়নি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিরুদ্ধে যে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, সেটি বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ।   অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অ ভি যোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে এই অ প রা ধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে অস্ট্রেলিয়ায় আদালতে আনা এটি এএফপির প্রথম মা ম লা বলে পুলিশ জানিয়েছে।   এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অ প রা ধ। তিনি জানান, রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের তদন্তই এখনো চলমান এবং রেহানার পরিবারের সদস্যরা তার মৃ ত্যুর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:২৩
২০২৭ সালের সেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এমআইটি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে শীর্ষস্থান নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে ১ নম্বরে উঠে এসেছে এমআইটি। প্রিন্সটন এবার দ্বিতীয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ন্যাশনাল লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উইলিয়ামস কলেজ। ২০২৭ সালের এই র‌্যাংকিংয়ের ৪২তম সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   র‌্যাংকিং তৈরিতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পড়াশোনা শেষে আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক পর্যায়ে সহকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সম্পদও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইউএস নিউজ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে র‌্যাংকের একটি পরিসীমা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু র‌্যাংকিং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে না নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে অবস্থান, মোট খরচ, আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাস জীবন এবং পছন্দের একাডেমিক প্রোগ্রামের মতো বিষয়ও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কলেজের খরচ ও শিক্ষাঋণের চাপ   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পাশাপাশি শিক্ষাঋণও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি বেড়েছে। মহামারির সময় স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ২০২৪ সালে আবার চালু হওয়ার পর অনেক ঋণগ্রহীতা আর নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি।   এদিকে আরও কয়েক লাখ ঋণগ্রহীতা কয়েক মাস ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছেন। সরকারের তুলনামূলক কম খরচের আয়ভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা ‘সেভ প্ল্যান’ বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় অনেকের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ঋণের কিস্তি টানা নয় মাস পরিশোধ না করলে একজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।   খেলাপি শিক্ষাঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঋণ আদায়ের জন্য তা কালেকশন সংস্থার কাছে পাঠানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার খেলাপি ঋণগ্রহীতার বেতন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকেও অর্থ কেটে নিতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র‌্যাংকিং নয়, শিক্ষার মোট খরচ ও ভবিষ্যতের ঋণের বোঝাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:১১
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে।   বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে।   হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত।   তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক।   অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৫৯
২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট বাড়ার নতুন পূর্বাভাস
২০২৭ সালে বাড়বে সোশ্যাল সিকিউরিটি! মিলছে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির আভাস

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক পেমেন্ট ২০২৭ সালে ২০২৬ সালের তুলনায় কিছুটা বেশি বাড়তে পারে। আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বিভিন্ন সংস্থার নতুন হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের কস্ট অব লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা কোলা ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের মধ্যে হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবর মাসে ২০২৭ সালের চূড়ান্ত কোলা ঘোষণা করা হবে।   ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির কোলা ছিল ২.৮ শতাংশ। আইন অনুযায়ী, প্রতি বছর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কোলা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ব্যবহৃত হয় ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স বা সিপিআই-ডব্লিউ।   আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কোলা নির্ধারণে ব্যবহৃত সিপিআই-ডব্লিউ বেড়েছে ৩.৫ শতাংশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থা ২০২৭ সালের কোলার নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেট ৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। এএআরপি তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।   সিনিয়র সিটিজেনস লিগও ৩.৫ শতাংশ কোলা হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, এই হারে বৃদ্ধি হলে গড়ে মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট প্রায় ৬৭.৯০ ডলার বাড়তে পারে। গড় পেমেন্ট ১ হাজার ৯৪০.০৮ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭.৯৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই হিসাব গড় সুবিধাভোগীর জন্য এবং প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত পেমেন্ট একই হারে বাড়বে এমন নয়।   এএআরপির আর্থিক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচ জনসন বলেছেন, অনেক বয়স্ক মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশের জন্য সোশ্যাল সিকিউটির ওপর নির্ভর করেন। তাই কোলা কত হতে পারে, তার আগাম ধারণা তাদের আগামী বছরের বাজেট পরিকল্পনায় সহায়তা করতে পারে। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এখনো বাকি থাকায় বর্তমান পূর্বাভাস চূড়ান্ত নয়।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের কোলা ২০২৬ সালের অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে। সেপ্টেম্বরের সিপিআই তথ্য প্রকাশের পর ১৪ অক্টোবর চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণের কথা রয়েছে। ফলে এখন যে ৩.৪ থেকে ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত হার কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।   তবে কোলা বাড়লেই যে বয়স্ক আমেরিকানদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। সিনিয়র সিটিজেনস লিগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টন উল্লেখ করেছেন, বয়স্ক মানুষের খরচের ধরন কর্মজীবীদের তুলনায় আলাদা। বিশেষ করে হেলথ কেয়ারসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যয়ের চাপ সিপিআই-ডব্লিউ সূচকে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৪৯
Ota Benga was put on display at the Bronx Zoo in 1906.
১৯০৬ সালে চিড়িয়াখানার বানরের খাঁচায় বন্দী করা হয়েছিল যে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে

আজ থেকে ১২০ বছর আগে, ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে মানুষের মতো নয়, বরং প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা মবুটি জনগোষ্ঠীর এই তরুণের নাম ছিল ওটা বেঙ্গা। তাকে চিড়িয়াখানার মাঙ্কি হাউসে ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছিল। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।   ওটা বেঙ্গার জন্ম আনুমানিক ১৮৮৩ সালের দিকে কঙ্গো অঞ্চলে। ১৯০৪ সালে মার্কিন অভিযাত্রী ও মিশনারি স্যামুয়েল ফিলিপস ভার্নার তাকে কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারে তাকে আরও কয়েকজন আফ্রিকান মানুষের সঙ্গে একটি নৃতাত্ত্বিক প্রদর্শনীতে রাখা হয়। পরে তিনি আফ্রিকায় ফিরে গেলেও ১৯০৬ সালে ভার্নারের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।   নিউইয়র্কে ফিরে প্রথমে তাকে আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। এরপর ১৯০৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাকে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। শুরুতে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন জায়গায় তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে মাঙ্কি হাউসে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।   ওটা বেঙ্গাকে একটি খাঁচায় ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। খাঁচার ভেতরে তার জন্য ধনুক ও তীরও রাখা হয়। বাইরে একটি সাইনবোর্ডে তার বয়স, উচ্চতা ও ওজনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন বিকেলে তাকে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের কথা জানানো হয়।   ঘটনাটি দ্রুতই বিপুল দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় প্রায় ৪০ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন। তাদের বড় একটি অংশ মাঙ্কি হাউসে ওটা বেঙ্গাকে দেখতে ভিড় করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দর্শনার্থীদের কেউ তাকে অনুসরণ করছিলেন, কেউ উপহাস করছিলেন এবং কেউ তাকে উত্যক্তও করছিলেন।   তবে এই প্রদর্শনী নিয়ে দ্রুতই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। আফ্রিকান আমেরিকান ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সংগঠন একজন মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে প্রদর্শন করার প্রতিবাদ জানান। তাদের আপত্তি ছিল, একজন মানুষকে প্রাণীর পাশে রেখে প্রদর্শন করা শুধু অপমানজনকই নয়, বরং তৎকালীন বর্ণবাদী চিন্তাধারা ও মানুষের তথাকথিত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসেরও প্রতিফলন।   সমালোচনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১৯০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা থেকে ওটা বেঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি একটি অনাথ আশ্রমে এবং পরে ভার্জিনিয়ার লিঞ্চবার্গের একটি সেমিনারিতে থাকেন। তার ইচ্ছা ছিল আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার, কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই সুযোগ আর হয়নি।   ১৯১৬ সালে ভার্জিনিয়ায় ওটা বেঙ্গার মৃত্যু হয়। তার বয়স তখন আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৩ বছর। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার আশা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ পাওয়া যায়।   ওটা বেঙ্গার ঘটনা এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বর্ণবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং মানুষের মর্যাদা অস্বীকারের এক বেদনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। ২০২০ সালে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, যার সঙ্গে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা যুক্ত, ওটা বেঙ্গাকে প্রদর্শনীতে রাখার ঘটনা এবং তার প্রতি অমানবিক আচরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৪৪
গৃহঋণের সুদ ও ফি তুলনা না করায় বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ
একটু খোঁজ নিলেই বাঁচত হাজার হাজার ডলার, গৃহঋণে বাড়ছে বাড়ির মালিকদের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাড়ির মালিক গৃহঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় প্রতি বছর হাজার হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করছেন। ব্যাংরেটের নতুন এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ঋণদাতার সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ বাড়ির মালিক বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ করতে পারেন। এই বাড়তি ব্যয়কে বিশ্লেষণে ‘লুকানো বাড়ির মালিকানা কর’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।   ব্যাংরেটের অ্যালেক্স গেইলি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ৯ জন বাড়ির মালিক তাদের গৃহঋণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছেন। এর কারণ সবসময় ভালো সুযোগ না থাকা নয়; বরং অনেকেই বিভিন্ন ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও অন্যান্য খরচের হিসাব নিয়ে তুলনা করেন না। ফলে একই ধরনের ঋণের জন্যও তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।   গেইলির মতে, সুদের হার ও ফি তুলনা না করার কারণে একজন সাধারণ মার্কিন বাড়ির ক্রেতার বছরে ৩ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। এই অর্থ পরিবারগুলো অবসর সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনার খরচ কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করতে পারত। দীর্ঘমেয়াদে এই বাড়তি খরচ পরিবারের সম্পদ গড়ে তোলার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।   ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের হারের গৃহঋণের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও বড় হয়ে উঠতে পারে। ব্যাংরেটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পুরো ঋণের মেয়াদে এড়ানো সম্ভব এমন বাড়তি খরচ ৭৮ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুরুতে কয়েক হাজার ডলারের পার্থক্য মনে হলেও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে সেটি বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে।   এ কারণে বাড়ি কেনার সময় একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে সুদের হার ও খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গেইলি। তার মতে, একই দিনে একাধিক ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব নেওয়া ভালো। এতে একই সময়ের বাজার পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলনা করা সহজ হয় এবং কোন ঋণদাতা তুলনামূলক ভালো শর্ত দিচ্ছে, তা বোঝা যায়।   তবে শুধু সুদের হার দেখলেই হবে না, ঋণের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ফি ও অতিরিক্ত খরচও হিসাব করতে হবে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট, ঋণ প্রক্রিয়াকরণের ফি এবং অন্যান্য প্রাথমিক খরচ যোগ করলে একটি গৃহঋণের প্রকৃত ব্যয় কত হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। তাই প্রতিটি ঋণদাতার কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত, লাইন-বাই-লাইন হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঋণ নেওয়ার আগে নিজের জন্য একটি সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সুদের হার ঠিক করে রাখাও কাজে আসতে পারে। কোনো ঋণদাতার প্রস্তাব সেই সীমার বাইরে গেলে অন্য বিকল্প খোঁজা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গৃহঋণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে নিজের ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সুদের হার এবং মাসিক কিস্তির ধারণাও নেওয়া যায়।   বিশ্লেষণটি মূলত দেখিয়েছে, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির দাম নয়, গৃহঋণের শর্তও দীর্ঘমেয়াদি খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই ঋণ নেওয়ার আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুদের হার, ফি ও অন্যান্য শর্ত তুলনা করলে সম্ভাব্য বাড়তি খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:৩০
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোর লুইস ওচোয়া
আইসিই অভিযানের ভিডিও করা মার্কিন কিশোরের মা মেক্সিকোতে ফেরত

টেক্সাসের আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে ১৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ছেলে আটকের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার মা তেরেসা ওচোয়া ব্রিসেনোকে আটক করে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হয়। পরে একই দিন তাকে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশের আওতায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে।   তেরেসার ছেলে লুইস ওচোয়া ১৭ বছর বয়সী একজন মার্কিন নাগরিক। ১১ সেপ্টেম্বর আলামোতে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখার সময় তিনি ও তার এক বন্ধু সেটি ভিডিও করছিলেন। পরে দুই কিশোরকেই আটক করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে তাদের আইনজীবী জানিয়েছেন।   লুইসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও তার বন্ধু ইউএস মেরিন কোরে যোগদানের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে আইসিই কর্মকর্তাদের একটি অভিযান দেখতে পেয়ে তারা গাড়ি থামিয়ে ভিডিও করতে শুরু করেন। ভিডিওতে কর্মকর্তাদের একজনকে একটি গাড়ির কাছে যেতে এবং পরে কিশোরদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াতে দেখা যায়। লুইসের দাবি, তাকে পেপার স্প্রে করা হয় এবং আটকের সময় তার কবজিতে আঘাত লাগে।   তবে ঘটনাটি নিয়ে ফেডারেল সরকারের বক্তব্য ভিন্ন। ডিএইচএস দুই কিশোরকে ‘অ্যান্টি-আইসিই অ্যাজিটেটর’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, তারা কর্মকর্তাদের গাড়ির কাছে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করেছিল। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন কিশোর সরকারি গাড়ির জানালায় বারবার আঘাত করার পর তাকে আটক করতে গেলে সে প্রতিরোধ করে। ঘটনাটিতে দুই আইসিই কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা নেন বলেও ডিএইচএস দাবি করেছে।   পরে দুই কিশোর আলামো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি ডিএইচএসের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোরদের আইনজীবী জানিয়েছেন, কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   এরপর তেরেসা ছেলের আটকের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে আলামোর কাছে একটি রেস্টুরেন্টে কাজে যাওয়ার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার আইনজীবী কার্লোস গার্সিয়ার বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, সকাল প্রায় ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার গাড়ির জানালার কাচ ভাঙা হয়েছিল বলেও আইনজীবী দাবি করেছেন।   তেরেসার গ্রেপ্তার ও দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় তার পরিবার ও অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তার ছেলে লুইস দাবি করেছে, আটকের পর তার মা তাকে জানিয়েছিলেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। তবে আইসিই এ দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি।   অন্যদিকে, ডিএইচএস বলেছে, তেরেসাকে একটি ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, তেরেসা ২০০৫ সালে অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ২০২৫ সালে তাকে মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি আবার অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ কার্যকর করে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়।   তেরেসার গ্রেপ্তারের ফলে তার চার সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। এদিকে, কয়েক দিন আগে আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে লুইসের আটকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন কিশোরদের আটকের ঘটনা, তাদের পরিবারের ওপর এর প্রভাব এবং তেরেসাকে দ্রুত মেক্সিকোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:২০
নতুন কেনা আইফোন ১৮ প্রো ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ
‘এটা কি আইফোন ১৮?’, জিজ্ঞেস করেই নতুন কেনা ফোন নিয়ে পালালো ছিনতাইকারী

ভারতের গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টে অফিসে যাওয়ার পথে এক নারীর কাছ থেকে নতুন আইফোন ১৮ প্রো ছিনিয়ে নিয়েছে দুই মোটরসাইকেল আরোহী। ২২ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার আগে ছিনতাইকারীরা ওই নারীকে জিজ্ঞেস করে, এটি নতুন আইফোন কি না। তিনি হ্যাঁ বলার পরই তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। ঘটনাটি ঘটেছে বিসরখ থানার আওতাধীন এক মূর্তি গোলচত্বর এলাকায়।   ভুক্তভোগী শুভি ভান্ডারি গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের সেঞ্চুরিয়ান পার্ক সোসাইটির বাসিন্দা। সকালে ই-রিকশায় করে অফিসে যাওয়ার সময় ভাড়া পরিশোধের জন্য তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি বের করেন। এ সময় পেছন থেকে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে তার কাছে আসে। প্রথমে তারা শুভির কাছে একটি ঠিকানা জানতে চায়। এরপর তাদের নজর যায় তার হাতে থাকা নতুন ফোনটির দিকে।   শুভির বর্ণনা অনুযায়ী, ছিনতাইকারীরা জানতে চায়, তার হাতে থাকা ফোনটি নতুন আইফোন কি না। তিনি হ্যাঁ বলার পর মুহূর্তের মধ্যেই তার হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। দুই ব্যক্তিই হেলমেট পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করছে।   ঘটনার আরেকটি দিক হলো, আইফোন ১৮ প্রোটি শুভি মাত্র তিন দিন আগে কিনেছিলেন। তার স্বামী সাকেত গুপ্ত এ তথ্য জানিয়েছেন। ফোন কেনার পর স্বামীর সঙ্গে সেটির আনবক্সিংও করেছিলেন শুভি। নতুন ফোন কেনার আনন্দের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সেটি ছিনতাই হওয়ায় পরিবারটি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।   ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। বিসরখ থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।   এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবার গ্রেটার নয়ডা ওয়েস্টের ব্যস্ত সড়কগুলোতে সকালের সময় পুলিশের উপস্থিতি ও টহল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ওই সময়ে সড়কে দৃশ্যমান পুলিশ উপস্থিতি কম থাকায় এ ধরনের ছিনতাই নিয়ে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ ও উদ্বেগ। পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর ভিত্তিতে এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   পুলিশ এখন সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্তের চেষ্টা করছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং ছিনতাই হওয়া আইফোন ১৮ প্রো উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:১৪
১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’
বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস। একসময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণ্ডারের বিচরণ ছিল। ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ছিল জাভান গণ্ডার আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিচরণ করত সুমাত্রান গণ্ডার। তবে শিকার, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যায় এই বিশাল আকৃতির বন্যপ্রাণী। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত গণ্ডার ‘বেগম’, যাকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর কাছ থেকে ধরার পর শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল লন্ডন চিড়িয়াখানায়।   ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, বেগমকে ১৮৬৭ সালের শেষ দিকে অথবা ১৮৬৮ সালের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর আশপাশের এলাকা থেকে স্থানীয়রা ধরে। পরে ব্রিটিশ কর্মকর্তা এফ এইচ হুডের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে চট্টগ্রামে রাখা হয়। বেগমের শরীরে থাকা অস্বাভাবিক লোমশ কানসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সে সময় ইউরোপীয় প্রাণীবিদদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডারের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রাণীবিজ্ঞানীদের কাছে ছিল বেশ আগ্রহের বিষয়।   এরপর বেগমকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটি প্রাণীটিকে সংগ্রহ করতে আগ্রহী ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণী ব্যবসায়ী উইলিয়াম জ্যামরাখের মাধ্যমে ১৮৭১ সালের নভেম্বরে বেগমকে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সমুদ্রপথে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় এবং ১৮৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেগম পৌঁছায় লন্ডন চিড়িয়াখানায়।   লন্ডন চিড়িয়াখানার নথি অনুযায়ী, বেগম সেখানে ১৮৭২ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর বেঁচে ছিল। ১৯০০ সালের ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স অন্তত ৩২ বছর এবং সম্ভবত প্রায় ৩৫ বছর ছিল। দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় বেঁচে থাকার কারণে বেগমকে দীর্ঘজীবী গণ্ডারগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তার দেহাবশেষের কিছু অংশ লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়।   তবে বেগমকে বাংলাদেশের একেবারে শেষ গণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ঐতিহাসিক নথিতে তার পরেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। ১৮৮০ সালে কক্সবাজারের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও একটি স্ত্রী সুমাত্রান গণ্ডার ধরা পড়েছিল। পরে সেটিকে কলকাতা চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।   এমনকি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও পরে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকদের সংকলিত ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পূর্ব চট্টগ্রাম এলাকায় একটি গণ্ডার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এটিকেই ওই অঞ্চলে গণ্ডারের সর্বশেষ পরিচিত রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ১৮৬৮ সালে ধরা পড়া বেগম ছিল আলোচিত ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গণ্ডার, তবে তাকে বাংলাদেশের শেষ গণ্ডার বলা পুরোপুরি নির্ভুল নয়।   সুন্দরবনের গণ্ডারের ইতিহাসও ছিল আলাদা। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনে যে গণ্ডার বিচরণ করত, সেটি সুমাত্রান গণ্ডার নয়, বরং জাভান গণ্ডার। উনিশ শতক পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জাভান গণ্ডারের উপস্থিতির একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে। এমনকি ১৮৬০ সালের দিকে পূর্ব সুন্দরবনে একাধিক গণ্ডার দেখার বর্ণনাও পাওয়া যায়। পরে শিকার ও আবাসস্থলের পরিবর্তনসহ নানা কারণে এসব প্রাণীর সংখ্যা কমতে থাকে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকেই সুন্দরবন থেকে গণ্ডার কার্যত হারিয়ে যায়।   বাংলাদেশ থেকে গণ্ডারের হারিয়ে যাওয়ার এই ইতিহাস তাই শুধু ‘বেগম’ নামের একটি প্রাণীর গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ভূখণ্ডে একসময় বিচরণ করা একাধিক প্রজাতির গণ্ডারের বিলুপ্তির ইতিহাস। বর্তমানে বাংলাদেশের বন্য পরিবেশে কোনো গণ্ডারের অস্তিত্ব নেই। একসময় যে প্রাণী দেশের বনাঞ্চল ও নদীঘেরা এলাকায় বিচরণ করত, এখন তার অস্তিত্ব টিকে আছে মূলত ইতিহাস, গবেষণার নথি ও সংরক্ষিত দেহাবশেষে।   প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব গণ্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি এবং তাদের সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য দিনটি একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেয়, একসময় এ দেশের বনভূমিতেও গণ্ডারের বিচরণ ছিল এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সেই বন্যপ্রাণী আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:১
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের সুযোগ
বিদেশিদের জন্য গ্রিন কার্ডের সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে যেসব যোগ্যতা দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য রয়েছে একাধিক পথ। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রধানত তিনটি অগ্রাধিকার ক্যাটাগরি রয়েছে—ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩। এসব ক্যাটাগরিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা থাকা পেশাজীবী থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   প্রথম ক্যাটাগরি ইবি-১ মূলত নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী ব্যক্তিদের জন্য। বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব থাকা ব্যক্তিরা এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। পাশাপাশি অসামান্য অধ্যাপক ও গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট পর্যায়ের ব্যবস্থাপক ও নির্বাহীরাও এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়তে পারেন।   দ্বিতীয় ক্যাটাগরি ইবি-২-এর আওতায় রয়েছে উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্প বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা। এই শ্রেণিতে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারা কিছু আবেদনকারী ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর জন্যও বিবেচিত হতে পারেন। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রচলিত নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপের প্রয়োজনীয়তা থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তৃতীয় ক্যাটাগরি ইবি-৩ তুলনামূলকভাবে আরও বিস্তৃত। এতে অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা থাকা দক্ষ কর্মীরা যেমন অন্তর্ভুক্ত, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরাও আবেদন করতে পারেন। দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা থাকা কিছু কর্মীকেও এই ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। তবে এই শ্রেণির ক্ষেত্রে ভিসার বার্ষিক সীমার কারণে অনেক সময় অপেক্ষার মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে।   তবে এসব ক্যাটাগরির কোনো একটির আওতায় পড়লেই সরাসরি গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও প্রমাণের প্রয়োজন হয়। কোথাও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, আবার কোথাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জন ও আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতির প্রমাণ দিতে হয়।   বিশেষ করে ইবি-৩ ক্যাটাগরির অনেক আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির অফার এবং নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় শ্রমসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ও থাকতে পারে। ফলে শুধু কোনো নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়।   কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সুযোগ তাই শুধু উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক বা বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী এবং কিছু ক্ষেত্রে কম অভিজ্ঞতার কর্মীরাও এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। তবে আবেদনকারীর যোগ্যতা, চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং ভিসা প্রাপ্যতার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের জন্য তাই ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩—এই তিন ক্যাটাগরির পার্থক্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জনের সঙ্গে কোন ক্যাটাগরির শর্ত মেলে, তা যাচাই করেই আবেদন প্রক্রিয়ায় এগোতে হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:৪৭
রিহ্যানন উড একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার, যিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রুপ ট্রাভেল পরিচালনা করেন। ছবি: রিহ্যানন উড। (Courtesy of Rhiannon Wood)
চাকরি ছেড়ে ঘুরে বেড়ান বিশ্ব, ভ্রমণ করেই এখন লাখ টাকা আয় ২৬ বছরের তরুণীর

২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন রিহ্যানন উড। সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার শুরু করার আগে কিছুদিন বিশ্ব ঘুরে দেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই ইচ্ছা থেকেই বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ শুরু করেন তিনি। তবে ধীরে ধীরে ভ্রমণ আর সেটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজে লাগিয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।   এখন ভ্রমণই তাঁর পূর্ণকালীন কাজ। গ্রিস, পেরু ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন দেশে গ্রুপ ট্যুর পরিচালনা করেন তিনি। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে নিজের ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে তৈরি করেছেন প্রায় ৬০ হাজার অনুসারীর একটি কমিউনিটি। এই সংখ্যার কারণে তাঁকে ‘মাইক্রো ইনফ্লুয়েন্সার’ বলা হয়—সাধারণত ১০ হাজার থেকে ১ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন নির্মাতাদের এই শ্রেণিতে রাখা হয়।   রিহ্যাননের ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনার অংশ হিসেবে ফ্রান্সের লিয়নে থাকার সময় বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে শুরু করেন তিনি। আল্পসে স্কিইং করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করে যে পড়াশোনা শেষ করেই কানাডার লেক লুইজে চলে যান।   কানাডায় স্কিইংয়ের পাশাপাশি নৌকা ও ক্যানো ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠান, জিপলাইন কোম্পানি এবং স্কি রিসোর্টে কাজ করেন রিহ্যানন। এসব কাজে ন্যূনতম মজুরি পেলেও নতুন জায়গায় থাকার আনন্দ ছিল তাঁর কাছে বড় বিষয়। কিন্তু একসময় কম বেতনের চাকরিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তখনই ভ্রমণের ছবি ও ভিডিও থেকে অনলাইনে আয় করার চিন্তা মাথায় আসে।   ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইনস্টাগ্রামে ভ্রমণ নিয়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে পোস্ট করা শুরু করেন রিহ্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৌশল শেখার জন্য বিভিন্ন ওয়েবিনারে অংশ নেন এবং একজন ইনস্টাগ্রাম কোচও নিয়োগ করেন। প্ল্যাটফর্মটির অ্যালগরিদম কীভাবে কাজ করে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দর্শকদের কাছে বেশি পৌঁছায়, সেসব বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।   নিয়মিত পোস্ট শুরু করার মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রথম ব্র্যান্ড চুক্তি পান রিহ্যানন। অনলাইন গ্রুপ-ট্রিপ প্রতিষ্ঠান ম্যাপো টাপো তাঁকে সুইজারল্যান্ডে একটি ভ্রমণ দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেয়। ওই সফর থেকে তিনি ৩৩০ পাউন্ড বা প্রায় ৪৪৬ ডলার আয় করেন। এর আগে সরাসরি কোনো ট্যুর পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকলেও পাহাড়ে হাঁটা, পর্বতারোহণ ও রক ক্লাইম্বিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সফলভাবে সফর পরিচালনা করেন।   প্রথম চুক্তির পর ধীরে ধীরে আরও বড় সুযোগ আসতে থাকে। স্কাইস্ক্যানার, সিরোকো, রোমলেসসহ বিভিন্ন ভ্রমণ ও ক্রীড়া-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ও গ্রুপ ভ্রমণের কারণে পেরু, স্কটল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরেছেন। একই সঙ্গে এখন নিজের একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।   রিহ্যাননের আয়ের বড় দুটি উৎস হলো ব্র্যান্ড চুক্তি ও গ্রুপ ট্যুর। সফরভেদে তাঁর কমিশনের পরিমাণও বদলে যায়। কোনো কোনো ট্রিপে তিনি ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত কমিশন পেয়েছেন। সাধারণত তাঁর পরিচালিত সফরগুলো অন্তত এক সপ্তাহের হয়। ইনস্টাগ্রামে স্পনসরড রিলসের জন্যও এখন তিনি কয়েকশ ডলার থেকে শুরু করে ১ হাজার ডলারের বেশি পারিশ্রমিক নেন।   গ্রুপ ট্যুর থেকে পাওয়া অর্থ সাধারণত সঞ্চয় করেন রিহ্যানন। আর ইনস্টাগ্রামের স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যবহার করেন নিজের পছন্দের খরচে। তিনি জানান, ট্যুরের কমিশন এমনভাবে নির্ধারণ করার চেষ্টা করেন, যাতে প্রতিটি সফর থেকে তাঁর জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় অর্থ উঠে আসে।   বর্তমানে তাঁর আয় বছরে পাঁচ অঙ্কের ডলারের ঘরে। তবে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগও বাড়ছে। ভ্রমণের কারণে অনেক সময় থাকা ও যাতায়াতের খরচ কমে যায় বা বিনামূল্যে হয়। বাজেট আবাসনে থাকা এবং খুব কম নতুন জিনিস কেনার কারণে খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে ব্যাকপ্যাক নিয়েই জীবন কাটাচ্ছেন রিহ্যানন।   তবে নিজের ব্যবসা পরিচালনার কারণে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা অনেকটাই ঝাপসা হয়ে গেছে। প্রতিদিনই ইমেইলের উত্তর দেওয়া, কনটেন্ট পোস্ট করা, ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা এবং পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হয় তাঁকে। এমনকি ভ্রমণে থাকলেও কাজ থেমে থাকে না। ফলে নিয়মিত ছুটি নেওয়ার সুযোগ খুব কম।   শুরুর দিকে স্পনসরশিপ নিয়ে আলোচনা করাও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। কোন পারিশ্রমিক দাবি করবেন বা ব্র্যান্ডগুলো সত্যিই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চায় কি না—এসব নিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই দ্বিধা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। এখন নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রিহ্যানন।   ভিসা ও পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা বোঝা, একাই পুরো ব্যবসা সামলানো, নতুন দেশে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অনুসারী ও এনগেজমেন্টের প্রত্যাশা সামলানো—সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছেন তিনি। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও দক্ষ করে তুলছে। ভ্রমণকে শুধু শখ হিসেবে না রেখে সেটিকে ব্যবসায় পরিণত করার পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন ২৬ বছরের এই তরুণী।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:২৮
এনবিআর ছবি সংগৃহীত।
বিমানের শৌচাগারে গুপ্তধন! চার ঘণ্টা তল্লাশিতে মিলল ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা।    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে। গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, উড়োজাহাজটিতে শতাধিক স্বর্ণের বার পাচার করা হতে পারে।    ফ্লাইট অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন কর্মকর্তারা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশির একপর্যায়ে শৌচাগারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০ তোলা; সব মিলিয়ে ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগ বা লাগেজ থেকে উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উড়োজাহাজের শৌচাগারের ভেতরে লুকানো ছিল। ফলে কে বা কারা সেখানে স্বর্ণ রেখেছিল এবং বিমানবন্দর থেকে সেগুলো কীভাবে বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে পাচারকারী হিসেবে শনাক্ত করেনি। শুল্ক গোয়েন্দারা সংগঠিত কোনো স্বর্ণ চোরাচালান চক্র এর সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখবেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১৯
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘে আজ ট্রাম্পের ভাষণে ইরান-ইউক্রেন যুদ্ধসহ জ্বালানি সংকট, থাকছে যেসব বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। একই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের।   গত বছর জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। এবার ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রায় সাত মাসের মাথায় তিনি একই ধরনের বার্তা দিতে পারেন। সোমবার ট্রাম্পও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং দেশটি ভালো অবস্থায় নেই।   ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এখনো পরিবহন হচ্ছে। তবে যুদ্ধের আগের তুলনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কম থাকায় জ্বালানি বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘে সমুদ্রপথের স্বাধীনতা ও নিরাপদ বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হতে পারে।   ট্রাম্পের ভাষণে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখনো তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধটি সমাধান করা কঠিন হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে অগ্রগতির চেষ্টা চালিয়ে যাবে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সূচি রয়েছে।   এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সমাজ ও মানবজীবনে এর প্রভাব নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ, জ্বালানি, বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান জাতিসংঘের মঞ্চে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১২
চাকরি প্রার্থীদের ছবি:সংগৃহীত।
উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা পাওয়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ এই শ্রেণির চাকরিপ্রত্যাশী প্রতি ১০০ তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কাজ পাচ্ছেন না।    আইএমএফের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যার Finance & Development সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এশিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ।    পরিস্থিতির পেছনে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন।    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত।    চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবধানও সমস্যাটিকে জটিল করছে। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুরের হিসাবে, বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। কিন্তু নতুন শিল্প ও উচ্চদক্ষতার চাকরি একই গতিতে তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।    আইএমএফের পৃথক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি। ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষিত ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা ভিন্ন বয়সসীমা ও শিক্ষার সংজ্ঞার কারণে ১৫–২৪ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত এগোলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    আঞ্চলিক তুলনায় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়। আইএমএফের হিসাবে একই শ্রেণির শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ, আর ভারতেও হার ৪০ শতাংশের ওপরে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হার বেশি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১
শেহবাজের সঙ্গে লং মার্চ নিয়ে হাফিজ নাঈমের আলোচনা
পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের, আলোচনার প্রস্তাব

পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিত রাখার জন্য পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।   পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাঁকে ফোন করেন শেহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আগ্রহের কথা জানান।   জবাবে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, সরকারকে সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে ঠেলে দেওয়া জামায়াতের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবাদ করার অধিকারকে সরকারের সম্মান করতে হবে। মার্চ স্থগিতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।   জামায়াতের আমির আরও বলেন, সরকারের অনুরোধে লং মার্চ স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদের অধিকার থেকে তারা সরে আসবে না। পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে থাকা কথিত ‘চাঁদাবাজির কর’ প্রত্যাহার এবং জ্বালানির বাড়তি ব্যয় থেকে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।   এর আগে গত রোববার করাচি থেকে জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চ শুরু হয়। ট্রেন ও সড়কপথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা ইসলামাবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। মুলতান থেকে লাহোর হয়ে ইসলামাবাদের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে লং মার্চের বহরের।   সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবের পর এখন লং মার্চের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর শুরা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৭:১
অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন
আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে।   তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না।   যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন।   অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন।   তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়।   সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৬:৪৫