সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৮:১
১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’
১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গণ্ডার দিবস। একসময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণ্ডারের বিচরণ ছিল। ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ছিল জাভান গণ্ডার আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিচরণ করত সুমাত্রান গণ্ডার। তবে শিকার, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যায় এই বিশাল আকৃতির বন্যপ্রাণী। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত গণ্ডার ‘বেগম’, যাকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর কাছ থেকে ধরার পর শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়েছিল লন্ডন চিড়িয়াখানায়।

 

ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, বেগমকে ১৮৬৭ সালের শেষ দিকে অথবা ১৮৬৮ সালের শুরুর দিকে চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর আশপাশের এলাকা থেকে স্থানীয়রা ধরে। পরে ব্রিটিশ কর্মকর্তা এফ এইচ হুডের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে চট্টগ্রামে রাখা হয়। বেগমের শরীরে থাকা অস্বাভাবিক লোমশ কানসহ বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সে সময় ইউরোপীয় প্রাণীবিদদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে সুমাত্রান গণ্ডারের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য প্রাণীবিজ্ঞানীদের কাছে ছিল বেশ আগ্রহের বিষয়।

 

এরপর বেগমকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটি প্রাণীটিকে সংগ্রহ করতে আগ্রহী ছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণী ব্যবসায়ী উইলিয়াম জ্যামরাখের মাধ্যমে ১৮৭১ সালের নভেম্বরে বেগমকে কেনাবেচার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সমুদ্রপথে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় এবং ১৮৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বেগম পৌঁছায় লন্ডন চিড়িয়াখানায়।

 

লন্ডন চিড়িয়াখানার নথি অনুযায়ী, বেগম সেখানে ১৮৭২ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮ বছর বেঁচে ছিল। ১৯০০ সালের ৩১ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স অন্তত ৩২ বছর এবং সম্ভবত প্রায় ৩৫ বছর ছিল। দীর্ঘ সময় বন্দি অবস্থায় বেঁচে থাকার কারণে বেগমকে দীর্ঘজীবী গণ্ডারগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরে তার দেহাবশেষের কিছু অংশ লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়।

 

তবে বেগমকে বাংলাদেশের একেবারে শেষ গণ্ডার হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ঐতিহাসিক নথিতে তার পরেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। ১৮৮০ সালে কক্সবাজারের কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও একটি স্ত্রী সুমাত্রান গণ্ডার ধরা পড়েছিল। পরে সেটিকে কলকাতা চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয় বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।

 

এমনকি চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও পরে গণ্ডারের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। গবেষকদের সংকলিত ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি পূর্ব চট্টগ্রাম এলাকায় একটি গণ্ডার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এটিকেই ওই অঞ্চলে গণ্ডারের সর্বশেষ পরিচিত রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ১৮৬৮ সালে ধরা পড়া বেগম ছিল আলোচিত ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি গণ্ডার, তবে তাকে বাংলাদেশের শেষ গণ্ডার বলা পুরোপুরি নির্ভুল নয়।

 

সুন্দরবনের গণ্ডারের ইতিহাসও ছিল আলাদা। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের সুন্দরবনে যে গণ্ডার বিচরণ করত, সেটি সুমাত্রান গণ্ডার নয়, বরং জাভান গণ্ডার। উনিশ শতক পর্যন্ত সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জাভান গণ্ডারের উপস্থিতির একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড রয়েছে। এমনকি ১৮৬০ সালের দিকে পূর্ব সুন্দরবনে একাধিক গণ্ডার দেখার বর্ণনাও পাওয়া যায়। পরে শিকার ও আবাসস্থলের পরিবর্তনসহ নানা কারণে এসব প্রাণীর সংখ্যা কমতে থাকে এবং বিশ শতকের শুরুর দিকেই সুন্দরবন থেকে গণ্ডার কার্যত হারিয়ে যায়।

 

বাংলাদেশ থেকে গণ্ডারের হারিয়ে যাওয়ার এই ইতিহাস তাই শুধু ‘বেগম’ নামের একটি প্রাণীর গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই ভূখণ্ডে একসময় বিচরণ করা একাধিক প্রজাতির গণ্ডারের বিলুপ্তির ইতিহাস। বর্তমানে বাংলাদেশের বন্য পরিবেশে কোনো গণ্ডারের অস্তিত্ব নেই। একসময় যে প্রাণী দেশের বনাঞ্চল ও নদীঘেরা এলাকায় বিচরণ করত, এখন তার অস্তিত্ব টিকে আছে মূলত ইতিহাস, গবেষণার নথি ও সংরক্ষিত দেহাবশেষে।

 

প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব গণ্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি এবং তাদের সংরক্ষণ নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের জন্য দিনটি একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেয়, একসময় এ দেশের বনভূমিতেও গণ্ডারের বিচরণ ছিল এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে সেই বন্যপ্রাণী আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
বাংলাদেশে স্ত্রীর মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘু ষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার আওলাদ হোসাইন
খু নের ঘটনায় পুলিশের নথি থেকে নাম কাটাতে ৯০ হাজার ডলার ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় গ্রে প্তার

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে স্ত্রী রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করে বাংলাদেশি পুলিশের নথি থেকে নিজের নাম সরানোর চেষ্টা এবং এ জন্য ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রে প্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অ ভি যুক্ত ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক রেহানা পারভিনের বিচ্ছিন্ন স্বামী আওলাদ হোসাইন। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ আনা হয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছর ধরে আওলাদ হোসাইন বাংলাদেশে পরিচিত কয়েকজনের কাছে মোট ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। পুলিশের দাবি, ওই অর্থ ব্যবহার করে বাংলাদেশের তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশি নথি থেকে তার নাম সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঘুষ দেওয়ার এই চেষ্টা সফল হয়েছিল—এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি।   রেহানা পারভিন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং পাঁচ সন্তানের মা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরদিন বাংলাদেশ পুলিশ তার মৃ ত দে হ উদ্ধারের কথা অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তার মৃ ত্যুকে সন্দেহজনক বলে জানায়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ এবং অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত করছে।   অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, রেহানার দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর ২০২৪ সালেই তারা তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেন ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হয়। পরে কুইন্সল্যান্ডের গুডনা ও রেডব্যাংক প্লেইনস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।   রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশ আওলাদ হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রে প্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে। তবে তার মৃ ত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় এখনো তার বিরুদ্ধে হ ত্যার অ ভি যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন হয়নি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় তার বিরুদ্ধে যে অ ভি যোগ আনা হয়েছে, সেটি বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগ।   অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের অ ভি যোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অ ভি যোগ আনা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার আইনে এই অ প রা ধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অ ভি যোগে অস্ট্রেলিয়ায় আদালতে আনা এটি এএফপির প্রথম মা ম লা বলে পুলিশ জানিয়েছে।   এএফপির কমান্ডার স্টিফেন জে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অ প রা ধ। তিনি জানান, রেহানা পারভিনের মৃ ত্যুর তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের তদন্তই এখনো চলমান এবং রেহানার পরিবারের সদস্যরা তার মৃ ত্যুর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৯:২৩
১৮৬৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে ধরা পড়া ঐতিহাসিক গণ্ডার ‘বেগম’

বাংলাদেশে ১৮৬৮ সালে শেষবার ধরা পড়া গণ্ডার, এরপর চলে যায় লন্ডনের চিড়িয়াখানায়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ছবি- সংগৃহিত ও পরিমার্জিত)

বাবা-মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিশ্বে বিরল নজির!

বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস

বিষাক্ত বুড়িগঙ্গায় টিকে আছে মাত্র ২০ ডলফিন, বেঁচে থাকতে খাচ্ছে সাকার ফিস

হাসপাতাল
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘরে এসেছিল যমজ কন্যাসন্তান। পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।   স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পর আলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং নবজাতকদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালবাথান এলাকায়। আলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের ঘরে সন্তান আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোক।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও দুই নবজাতক হাসপাতালে থাকলেও আলাল রাতে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়।   প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   নিহতের ভাই জামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। ফলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঋণের চাপ এবং সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় যোগ হওয়ায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এসব চাপের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের চিকিৎসাব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সন্তান জন্ম ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হয়।   একদিকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর দুই সন্তানের জন্ম, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—দুই বিপরীত ঘটনার মধ্যে পড়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মুখে। হাসপাতালে থাকা মা ও দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রদূত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ

উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারানো সম্মানের, ভালোবাসা ভাগ করার বিষয় নয়’: চিঠিতে মরিয়ম

ছবি: ডিবিসি নিউজ
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। গত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার দুদু মিয়ার পাহাড় এলাকায় খামারি মো. মাসুদের গাভীটি বাছুরটির জন্ম দেয়। স্বাভাবিক চার পায়ের পাশাপাশি পিঠ ও পেছনের অংশে আরও তিনটি অতিরিক্ত পা থাকায় বাছুরটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    বাছুরটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারবাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে বিরল শারীরিক গঠনের বাছুরটিকে একনজর দেখছেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাছুরটির মালিক মো. মাসুদ স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। তবে মালিকপক্ষ বাছুরটি তাদের দেখাতে সম্মতি দেয়নি।   হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাবিল ফারাবী জানিয়েছেন, বাছুরটির এমন শারীরিক গঠনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া অতিরিক্ত পা তৈরির নির্দিষ্ট কারণ এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।    প্রাণিবিজ্ঞানে জন্মগতভাবে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অঙ্গ থাকার ঘটনাকে পলিমেলিয়া বলা হয়। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পা নিয়ে জন্মের নজির বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাত পা-ওয়ালা একটি বাছুরের শারীরিক গঠন পরীক্ষা করে এমন জন্মগত অস্বাভাবিকতার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাটহাজারীর বাছুরটির ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।    বাংলাদেশেও এর আগে সাত পা নিয়ে বাছুর জন্মের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে ফেনীর দাগনভূঞায় এমন একটি বাছুরের জন্মের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে ঘটনাতেও অতিরিক্ত তিনটি পা থাকার কথা জানানো হয় এবং স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এটিকে জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিলেন।    হাটহাজারীর বর্তমান ঘটনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বাছুরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলেও মালিকপক্ষের সম্মতি না পাওয়ায় এখনো বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অতিরিক্ত তিনটি পায়ের গঠন, ভেতরের অস্থি ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আপাতত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ থাকার তথ্যই পাওয়া গেছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৪৩
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সেলাই বিভাগে কাজ করছেন শ্রমিকেরা (সম্পাদিত ও সংগৃহিত)

বাংলাদেশের গার্মেন্টস ঠান্ডা রাখার খরচ চার বছরেই উঠে আসতে পারে, গবেষণা

এক লাফে পেট্রলের দাম ২০ টাকা বাড়ায় মাথায় হাত ভোক্তার (প্রতীকী ছবি)

বাংলাদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ২০ টাকা, ২০২২ সালের পর একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

0 Comments