সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান

অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।   অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই।   তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না।   ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:৩৬
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন।   অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।   তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন।   পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস।   একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:১১
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও নতুন অস্ত্র দেখে বিশ্ব চমকে যাবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি স্পষ্ট জানান, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে তেহরান, যা আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোর চেয়ে ভিন্ন এবং নতুন স্থানে আঘাত হানবে।   সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি মার্কিন ব্যর্থতার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এছাড়াও পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাতের কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের পূর্ণ নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে আইআরজিসির এসব সামরিক দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন মধ্যস্থতাকারীরা। উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে এনে একটি গঠনমূলক সমঝোতার পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে একাধিক প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৩:৪৯
বৃদ্ধের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্লোরিডার জয় ইয়ভেট হোল্ডার। ছবি: সংগৃহীত
অসহায় বৃদ্ধের সাড়ে ৩ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, ফ্লোরিডায় নারী গ্রেপ্তার!

ফ্লোরিডার টামারাকের ৫৭ বছর বয়সী জয় ইয়ভেট হোল্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি একটি বৃদ্ধের পম্পানো বিচের বাড়ি ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারে বিক্রি করে বিক্রির অর্থের ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার নিজের ও অন্যদের ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নিয়েছেন। ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নিজের বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও হোল্ডার তার সম্পত্তির ওপর ক্ষমতা নেওয়ার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে হোল্ডারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের প্রবীণ ব্যক্তি বা প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কের আর্থিক শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগটি ফ্লোরিডা আইনে প্রথম শ্রেণির গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোল্ডারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের গোয়েন্দা জনাথন আর. মাসরির সম্ভাব্য কারণসংক্রান্ত হলফনামা অনুযায়ী, হোল্ডার ২০২২ সালের ২৪ মার্চ ওই বৃদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি প্রাপ্তবয়স্ক সুরক্ষা-সংক্রান্ত শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। ওই শুনানির নথি অনুযায়ী, বৃদ্ধ নিজের বিষয় পরিচালনা এবং সেবার বিষয়ে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দার অভিযোগ, বিষয়টি জানা সত্ত্বেও হোল্ডার ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বরের দিকে একটি স্থায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেন।   এরপর ওই ক্ষমতাপত্র ব্যবহার করে হোল্ডার পম্পানো বিচের সাউথ সাইপ্রেস রোডে থাকা বৃদ্ধের বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, বাড়িটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলার। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডা টাইটেল অ্যান্ড এসক্রো সার্ভিসেস এলএলসি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৭ ডলার একটি সিটিব্যাংক হিসাবে পাঠায়। ওই হিসাবটি হোল্ডার ও বৃদ্ধের যৌথ নামে ছিল।   গোয়েন্দার অভিযোগ, জয় হোল্ডার ও রে হোল্ডার ওই অর্থ নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধায় ব্যবহার করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জয় হোল্ডার তার পরিচ্ছন্নতা ব্যবসার মাধ্যমে অর্থের একটি অংশ ঘোরান। ওই ব্যবসার নাম ‘জয়’স ক্লিনিং’। ফ্লোরিডার করপোরেট নথি অনুযায়ী, জয় হোল্ডার প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ও নিবন্ধিত এজেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি রাজ্যে নিবন্ধিত হয় এবং বর্তমানে সক্রিয় হিসেবে তালিকাভুক্ত।   মামলার নথিতে আরও একটি গাড়ি হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে বৃদ্ধ নিজের অর্থে ৩১ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৯২ ডলারে একটি ২০১৭ সালের নিসান ম্যাক্সিমা কিনেছিলেন। গোয়েন্দার অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৬ জুনের দিকে রে হোল্ডার ওই বৃদ্ধকে গাড়িটি তার নামে হস্তান্তরের একটি বিক্রয় দলিলে স্বাক্ষর করান। তদন্তকারীর দাবি, রে হোল্ডার জানতেন বা জানা উচিত ছিল যে ওই ব্যক্তি লেনদেনে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা রাখতেন না।   এরপর ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক দপ্তরের একজন তদন্তকারী বৃদ্ধের খোঁজ নিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। হলফনামা অনুযায়ী, রে হোল্ডার ও রিয়ানা অ্যাশলিন মারিয়া হোল্ডারকে ওই পরিদর্শনের কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গোয়েন্দার অভিযোগ, তারা সেদিন বৃদ্ধকে অরল্যান্ডো নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাকে বলা হয়, তিনি তার বোনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আদালতের কর্মী, তদন্তকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৃদ্ধের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় রিয়ানা বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।   প্রসিকিউটরদের ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ সালের অভিযোগপত্রে অভিযোগিত কর্মকাণ্ডের সময়কাল ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর তা কার্যকর করা হয়। মামলাটি আদালতে সক্রিয় রয়েছে।   স্থানীয় প্রতিবেদনে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হোল্ডারের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগের মধ্যে বাড়ি বিক্রির অর্থ ব্যবহার, গাড়ি হস্তান্তর এবং বৃদ্ধের সঙ্গে সুরক্ষা সংস্থার যোগাযোগে বাধা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।   সূত্র: ওয়েলথ অব গিকস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৩:২৬
বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির
বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক ফেরাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে ২০২১ সালে সরিয়ে নেওয়া ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামের সম্মানসূচক সড়ক নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপি। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি আবারও উপস্থাপন করা হবে।   ২০২১ সালের ২০ জুন বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ লেখা একটি সম্মানসূচক সড়ক নামফলক উন্মোচন করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে কয়েক শ বাংলাদেশি-আমেরিকান উপস্থিত ছিলেন।   অনুষ্ঠানে মেরিল্যান্ড স্টেট ডেলিগেট রবিন টি. লুইস নামফলকটি উন্মোচন করেন। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও এতে অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদ কাজলকে ধন্যবাদ জানান।    তবে নামফলক উন্মোচনের কয়েক মাসের মধ্যেই এর নামকরণ নিয়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিসহ কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে নামটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।   আপত্তিকারীদের বক্তব্য ছিল, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের একজন সামরিক শাসক ছিলেন এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার প্রক্রিয়া নিয়ে গণতান্ত্রিক বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষ সম্মানসূচক নামফলকটি সরিয়ে নেয়।    অন্যদিকে, মেরিল্যান্ড বিএনপির নেতারা নামফলক অপসারণের উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে নামটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   নামফলক অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের প্রত্যেকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সমসাময়িক প্রতিবেদনে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানানো এবং নামফলক সরানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।    নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খাজা মোহাম্মদ কাজল জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে বাল্টিমোর কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।   তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান তারা। অর্থাৎ নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে মেরিল্যান্ড বিএনপির।   তবে সড়কটির সম্মানসূচক নাম পুনরায় স্থাপন করা হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বাল্টিমোর নগর কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য আইন, নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের ওপর। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার এককভাবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৩:২২
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, আটকে গেল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫ প্রকল্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫টি ডেটা সেন্টার প্রকল্প আটকে গেছে বা বিলম্বিত হয়েছে বলে গবেষণা সংস্থা ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অনুমতির আবেদন করার আগেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেটা সেন্টারের অবস্থান নির্ধারণ, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন নিয়ম প্রস্তাব বা গ্রহণ করা হয়েছে।   ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে ডেটা সেন্টারবিরোধী ৮৪৩টি গোষ্ঠী রয়েছে। একমাত্র হাওয়াইয়ে এমন কোনো গোষ্ঠীর তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির প্রধান বিশ্লেষক মিগুয়েল ভিলা বলেন, নতুন নতুন বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় এলাকায় এই বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়ছে। অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরের সংখ্যাও বাড়ছে।   গবেষণা সংস্থাটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতিফলন হচ্ছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। নতুন কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং বিদ্যুৎ ও পানির মতো সম্পদের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ডেটা সেন্টারের বিরোধিতায় প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এসব অবকাঠামো প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ডেটা সেন্টার পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে।   চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ দেখা যায়। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫টি প্রকল্প, যার আনুমানিক মূল্য ১৩০ বিলিয়ন ডলার, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫টি প্রকল্প ছিল ওই সময়ে ডেটা সেন্টার ওয়াচের নজরদারিতে আসা নতুন বড় প্রকল্পগুলোর অর্ধেকেরও বেশি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও এসব বিরোধিতাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। টেনেসির একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনলাইনে করা একটি আবেদনে পাঁচ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে। ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, ওই স্বাক্ষরের সংখ্যা চলতি প্রান্তিকে অনলাইন আন্দোলনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত মোট স্বাক্ষরের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।   এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টি নিজেদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ডেটা সেন্টার ওয়াচ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্প, সরকারি অনুমোদন এবং সম্পদ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছে।   ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রধান বিশ্লেষক ভিলা বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে এই প্রবণতা এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের বিরোধিতাও আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।   সূত্র: ব্লুমবার্গ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:৫৫
অস্ট্রেলিয়ায় ক্যারিয়ার গড়তে শুরুতে পিজা ডেলিভারির কাজ বেছে নেন এক ভারতীয় তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
পিজা ডেলিভারি থেকে ৩ রেস্টুরেন্টের মালিক! ভারতীয় যুবকের ১১ বছরের যাত্রা

ভারতে পড়াশোনা শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন এক ভারতীয় তরুণ। নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রে চাকরি না পেয়ে শুরু করেছিলেন পিজা শপে ফুলটাইম কাজ, পাশাপাশি পিজা ডেলিভারি। প্রায় তিন বছর পর ব্যবসায়িক অংশীদার ও সঞ্চিত অর্থ নিয়ে একটি পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বিনিয়োগ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করে বর্তমানে তিনটি রেস্টুরেন্টের মালিক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার শ্যালক ও উদ্যোক্তা ভিনিথ কে।   ১১ বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ওই ব্যক্তির এই যাত্রার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তুলে ধরেন ভিনিথ। তার পোস্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ওই ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় একটি বাড়ি ও বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের হায়দরাবাদে একটি বাড়ি তৈরি করেছেন এবং তার বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে গেছেন।   ভিনিথের বর্ণনা অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের পড়াশোনার ক্ষেত্রের চাকরি না পাওয়ায় তিনি পিজা শপে ফুলটাইম চাকরি নেন। সেখানে পিজা তৈরি ও অর্ডার সরবরাহের কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর কাজ করার পর একজন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে মিলে এবং কিছু অর্থ বিনিয়োগ করে প্রথম পিজা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় যুক্ত হন।   প্রথম ব্যবসা চালুর পর ধীরে ধীরে সেটি সম্প্রসারিত হয়। পরে আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় তার ব্যবসার পরিধি তিনটি রেস্টুরেন্টে পৌঁছায় বলে ভিনিথ জানিয়েছেন। তবে কোন ব্র্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি, কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল বা ওই ব্যক্তির পড়াশোনার বিষয় কী ছিল, এসব বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।   ব্যক্তিগত জীবনেও এ সময়ে বড় পরিবর্তন আসে। ভিনিথের পোস্ট অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওই ব্যক্তি ভারতে ফিরে বিয়ে করেন। পরে স্ত্রীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যান। ২০২৬ সালে এসে তাদের পরিবারে দুই সন্তানও রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিনিথ আরও জানান, ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ায় নিজের বাড়ি করেছেন, বিএমডব্লিউ কিনেছেন এবং হায়দরাবাদে পরিবারের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করেছেন। পরে বাবা-মাকেও অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যান তিনি। চলতি সপ্তাহে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলেও ভিনিথের পোস্টে জানানো হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিথের পোস্ট প্রকাশের পর ঘটনাটি বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। পোস্টটিতে মূলত একজন শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া, নিজের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়া, পিজা ডেলিভারির কাজ শুরু করা এবং পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসায় প্রবেশের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে।   তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার ব্যবসার আয়, সম্পদের মূল্য, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অবস্থান কিংবা নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বাড়ি, গাড়ি, তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নাগরিকত্বসহ এসব তথ্য ভিনিথ কে-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:২৭
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্কের সঙ্গে বড় নিরাপত্তা চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ডে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা চুক্তি, বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে, যার লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা এবং চীন ও রাশিয়ার মতো ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকানো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন।    চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যেন দ্বীপটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা এমন বিনিয়োগ করতে না পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।    গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেট নথিতেও পিটুফিককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্কটিকে বরফ গলার সঙ্গে নতুন নৌপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চীন ও রাশিয়াও এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি সীমিত রাখতে চাইছে।    তবে চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। ডেনিশ কর্মকর্তারা এটিকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন এবং ন্যাটোরও এতে ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন।    ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লেকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দায়িত্ব নয়, ন্যাটোরও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তিটি বিদ্যমান ১৯৫১ সালের মার্কিন ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।    গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে রয়েছে এবং সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান চুক্তি অবশ্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না; বরং মূল বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত সহযোগিতা।    চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও বিতর্কের পর নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:০
তানজিন তিশা
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা

দেশে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা তাদের প্রাপ্য নয়।    তিশার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও অনেক সময় প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পায় না।    নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, একজন নারী যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।    আলোচনায় সোনার গয়না পরে বাইরে চলাফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিশা প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন নারীকে কেন গয়না ব্যাগে লুকিয়ে নিয়ে চলতে হবে? তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—নারীরা নিজেদের জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে বা পরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, এমন নিরাপদ পরিবেশ থাকা উচিত।   তানজিন তিশা দীর্ঘদিন ধরে দেশের টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ। র‍্যাম্প মডেলিং দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করার পর বিজ্ঞাপন ও সংগীতচিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। পরে নিয়মিত নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।   বর্তমানে বড় পর্দাতেও কাজ করছেন তিশা। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর অভিনীত ‘সোলজার’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি।   নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিশার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আপনার দেওয়া “সবসময় একটা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাকে” বাক্যটি আমি যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোতে হুবহু পাইনি। তাই সেটিকে সরাসরি তিশার উদ্ধৃতি হিসেবে না দিয়ে তাঁর যাচাইকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদটি লেখা হলো।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:৫১
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করছে সিএনএন সহ দুই সংবাদমাধ্যম

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তিন সংবাদমাধ্যম। সোমবার তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।   ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর একদিন পর শনিবার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টাররা সেখানে প্রবেশ করতে গেলে তাদের প্রেস ব্যাজ অকার্যকর করে দেওয়া হয়। সিএনএনের বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাওয়ের আকায়লা গার্ডনারকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে পলিটিকোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টার শেয়েন হাসলেটের ব্যাজও জব্দ করা হয়।   তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলার প্রস্তুতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে প্রশাসনের কার্যক্রম কভার করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না।   এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্যের বিষয়টিও রয়েছে। অর্থাৎ কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য বা প্রতিবেদনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদাভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কি না, সেটিই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।   এদিকে সোমবার সকালে সিএনএন ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে প্রতিবেদন করেন। একই দিনে সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রেস পুলে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফর কভার করে। ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফর কভার করার দায়িত্ব সিএনএনের ছিল। তবে হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের পর সেই দায়িত্বে বিকল্প কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়নি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   ট্রাম্প অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, তিনি মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। তবে যেসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, এ ধরনের সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।   হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকুই হাইনরিশ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কারণে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে বাদ দেওয়ার যে মানদণ্ড তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটি অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার ও কভারেজ নিয়ে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিক বিরোধ হয়েছে। গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদেরও ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আদালতে মামলা করে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।   সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর নতুন আইনি পদক্ষেপের পর বিষয়টি ফেডারেল আদালতে গড়াবে। সেখানে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মামলার মাধ্যমে তিন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাইবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:৫০
ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্দরে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের বহনকারী নৌকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা একদল অভিবাসীকে একটি নৌকায় করে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আনা হয়। পরে তাদের একটি বন্দরে নামিয়ে দিয়ে নৌকাটি সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনাটিকে কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসী আনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল দিয়ে নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়। চলতি বছরও ইউএস কোস্ট গার্ড দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে একাধিক সন্দেহভাজন অভিবাসীকে আটক করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগোর প্রায় ২১ মাইল পশ্চিমে একটি পাঙ্গা-ধরনের নৌকা থেকে ১৬ জনকে আটক করে কোস্ট গার্ড। তাদের পরে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সান্তা বারবারা আইল্যান্ডের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে ২৪ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের নিউপোর্ট হারবারে নিয়ে যায় এবং সেখানে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করে।    কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ছোট নৌকা ব্যবহার করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর চ্যানেল আইল্যান্ডস হারবার থেকে প্রায় ৮৮ মাইল দূরে একটি ৩০ ফুটের নৌকা থেকে ৩৭ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নৌকাটিতে জ্বালানি, খাবার ও পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সেটি দুই দিন ধরে ভাসছিল। পরে ৩৭ জনকেই বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নতুন ঘটনাটির ক্ষেত্রে ঠিক কতজনকে বন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জাতীয়তা কী এবং নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   তবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত হলে তারা ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অভিবাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:২৭
নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও এর খরচ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পাতালরেলে পুলিশের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ, বাড়তি খরচ দিচ্ছে মামদানি প্রশাসন

নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দেওয়া ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইমসহ টহল চালিয়ে যাওয়ার খরচ নিউইয়র্ক সিটিকে বহন করতে হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিল শেষ হলেও পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বন্ধ হয়নি।   এই তহবিল গত বছরের ডিসেম্বরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কের পাতালরেল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানো। হোকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও টহল কার্যক্রমে সহায়তা করার কথা ছিল।   তবে রাজ্য ও শহরের মধ্যে আগে থেকেই থাকা অর্থায়ন ব্যবস্থায় বছরের এক অংশের খরচ রাজ্য এবং অন্য অংশের খরচ শহরের বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পাতালরেলে পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েনের মোট ব্যয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং রাজ্য ও শহরের মধ্যে তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।   হোকুলের কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিতির জন্য ৭৭ মিলিয়ন ডলার করে দিয়েছে এবং শহর অপর অংশের জন্য সমপরিমাণ অর্থ দিয়েছে। ফলে রাজ্যের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত পুলিশ টহল চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। শহর ও রাজ্য উভয় পক্ষই জানিয়েছে, এই অর্থায়ন ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।   মেয়র জোরান মামদানির প্রশাসন তাই পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যয় বহন করছে। মেয়রের মুখপাত্র স্যাম রাসকিন বলেছেন, বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় শহর ও রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রাখবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন চালু থাকবে।   তহবিল শেষ হওয়ার খবরটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাতালরেলে কিছু ধরনের হামলার ঘটনা বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পাতালরেলে গুরুতর হামলার ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম গুরুতর হামলার ঘটনাও প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পাতালরেলে অপরাধ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গুরুতর হামলার ঘটনায় ২৬৩ জনকে অন্তত তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ২০৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরজুড়ে গুরুতর হামলার অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের হিসাবে, পাতালরেলের ৭১ শতাংশ যাত্রী এখনো ব্যবস্থাটিকে নিরাপদ মনে করেন।   গত বছরের ডিসেম্বরে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণার সময় হোকুল বলেছিলেন, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে পাতালরেলে মোতায়েন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টহল বাড়ানো সম্ভব হবে। পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ওভারটাইম খরচও এই উদ্যোগের আওতায় ছিল।   পাতালরেলের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ক্যামেরা স্থাপন এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাতালরেলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখতে আরও ৭৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে হোকুল তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বাড়ানোর জন্য ১৫৪ মিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ অর্থায়ন ব্যবস্থায় গিয়েছিলেন। সেই ব্যবস্থায় রাজ্য ও শহর সমানভাবে ব্যয় বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির বাজেট নথিতেও এই অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণেও পাতালরেল নিরাপত্তা উদ্যোগের জন্য রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই অর্থ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত সময়ের ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।   অর্থাৎ, রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ হয়ে গেলেও নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বন্ধ হচ্ছে না। আগে থেকে থাকা অর্থায়ন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের অংশের ব্যয় নিউইয়র্ক সিটি বহন করছে। সেই ব্যবস্থার অধীনেই মামদানি প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের খরচ দিচ্ছে এবং পাতালরেলে টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:১৩
গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হয়েছেন দীপু কংওয়ার। ছবি: সংগৃহীত
ঘরের কাজ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলতেন শ্বশুর, গৃহবধূ আজ সিভিল জজ

রাজস্থানের বারমের জেলার জালিপা গ্রামের দীপু কংওয়ার বিয়ের পরও থামাননি পড়াশোনা। বিয়ের সময় তিনি জামনগরে এলএলবি পড়ছিলেন। এরপর সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি চালিয়ে যান আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি। সাত বছর পর গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হয়েছেন তিনি।   দীপুর এই সাফল্যের পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি বড় ভূমিকা ছিল পরিবারের সহযোগিতার। বিশেষ করে তার শ্বশুর থান সিং এবং স্বামী লোকেন্দ্র সিং তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। বাড়ির কাজ করার বদলে বই নিয়ে পড়তে বলতেন শ্বশুর। ফলে বিয়ের পরও আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।   বিয়ের সময় দীপু ছিলেন এলএলবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পরও তিনি পড়াশোনা বন্ধ করেননি। ২০২১ সালে আইন পেশায় প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। গুজরাট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আইন পেশার অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকেও তিনি এগিয়ে যান।   তবে সফলতা প্রথমবারেই আসেনি। ২০২২ সালের পরীক্ষায় দীপু প্রিলিমিনারি ও মেইনস পাস করেছিলেন। কিন্তু ইন্টারভিউ ধাপে গিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। এরপর ২০২৩ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেইনস পাস করতে পারেননি। টানা দুইবার ব্যর্থতার পরও তিনি প্রস্তুতি বন্ধ করেননি।   এরপর তৃতীয় প্রচেষ্টায় আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ২০২৫ সালের গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করেন দীপু কংওয়ার। এর মাধ্যমে সিভিল জজ হওয়ার পথ খুলে যায় তার সামনে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার এই সাফল্যের কথা উঠে এসেছে।   দীপুর গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিয়ের পর এবং মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে পড়াশোনা ও আইন পেশা চালিয়ে যেতে তার শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবেশ তাকে বারবার ব্যর্থতার পরও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।   দীপুর সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার পরিবারের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তার যাত্রা দেখিয়েছে, বিয়ের পর শিক্ষা বা পেশাগত লক্ষ্য চালিয়ে যেতে পারিবারিক সমর্থন একজন নারীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তার সাফল্যের পেছনে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা, আইন পেশার অভিজ্ঞতা এবং একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৫৬
বাস ছবি:সংগৃহীত
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।    বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।    মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।   পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব।   সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।    গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা।    এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।    পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।    এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৪২
তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে উদ্ধার হওয়া ২ হাজার বছরের পুরোনো রোমান মোজাইক। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে মিলল বিরল রোমান মোজাইক, লেখা ২ হাজার বছর আগের পোষা প্রাণীর নাম

তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট।   মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে।   মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন।   অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে।   ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।   তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে।   হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:৩৬
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার

যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অনেকেই জানেন না, কখন এয়ারলাইনকে খাবার, হোটেল বা বিকল্প ফ্লাইট দিতে হবে এবং কখন টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীদের জন্য এসব অধিকার আইনেই নির্ধারিত রয়েছে।   যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা অনেক ফ্লাইট এবং নির্দিষ্ট ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় এয়ারলাইনের ফ্লাইট এসব যাত্রী অধিকার আইনের আওতায় পড়ে। ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রী সাধারণত পুরো টাকা ফেরত নেওয়া অথবা বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাতিলের পর বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হলে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও এয়ারলাইনকে দিতে হতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, রিফান্ড সাধারণত সাত দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা।   ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে যাত্রী আর ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অব্যবহৃত যাত্রার টিকিটের টাকা ফেরত চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শুধু ভাউচার দেওয়ার পরিবর্তে টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকে, যদি না যাত্রী নিজে ভাউচার গ্রহণে সম্মত হন। তবে যাত্রী যদি পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরির পরও ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।   দীর্ঘ সময় ফ্লাইট আটকে থাকলে এয়ারলাইনের দায়িত্ব শুধু টিকিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দেরি হলে যাত্রীকে খাবার ও পানীয় দিতে হয়। দেরির কারণে রাত কাটানোর প্রয়োজন হলে হোটেল এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতে হতে পারে। সাধারণত ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে দুই ঘণ্টা, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে তিন ঘণ্টা এবং এর বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে চার ঘণ্টা দেরির পর এই সহায়তার অধিকার কার্যকর হয়।   ফ্লাইটের দেরি যদি যাত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বাড়িয়ে দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণও পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে ক্ষতিপূরণ ২২০ পাউন্ড, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে ৩৫০ পাউন্ড এবং ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে ৫২০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানোর দেরি তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২৬০ পাউন্ড হতে পারে।   তবে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলেই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত নয়। এয়ারলাইনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কিছু ঘটনাকে আইনে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনার অনুপযোগী আবহাওয়া, বিমানবন্দর বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মীদের ধর্মঘট, নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক বা বেসামরিক অস্থিরতা এবং কিছু ধরনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। এসব কারণে সরাসরি দেরি বা বাতিল হলে নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও বিকল্প ফ্লাইট, খাবার, হোটেলসহ যাত্রীর অন্যান্য অধিকার সাধারণত বহাল থাকে।   সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস বা ন্যাটসের একটি সিস্টেম সমস্যার কারণে ব্যাপক ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার পর দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছিল, ওই ঘটনার কারণে সৃষ্ট দেরি ও বাতিলকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পেতে পারেন। তবে তাদের খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও বিকল্প যাত্রার মতো অন্যান্য অধিকার আলাদা বিষয়।   ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীকে নিজের খরচে খাবার বা হোটেলের ব্যবস্থা করতে হলে সব রসিদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এয়ারলাইন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত খরচ পরে ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিলাসবহুল হোটেল, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল খাবার বা অ্যালকোহলের মতো খরচ সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়।   ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পর ক্ষতিপূরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে না। যাত্রীকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাছে দাবি করতে হয়। এয়ারলাইন দাবি প্রত্যাখ্যান করলে কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা জানানোর কথা। যাত্রী সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারেন। তাই ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের নোটিশ, বোর্ডিং তথ্য, অতিরিক্ত খরচের রসিদ এবং এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:১৬
একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম
মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়ায় ক্ষোভ, একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে চারজন গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে একই পরিবারের মোট ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তী প্রতিবেদনে হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুই পরিবারের সদস্য আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ৬০০ টাকা মজুরি নিয়ে। আহত জহিরুলের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল মৃধার জমিতে কাজ করার পর তাঁর ৬০০ টাকা মজুরি পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারও পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং রাসেলও আহত হন।   পরদিন সোমবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল বৈঠক ছেড়ে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ।   অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে জহিরুলকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে মা মনোয়ারা বেগম এবং দুই ভাই রেজাউল ও খাইরুল এগিয়ে এলে তাঁরাও হামলার শিকার হন। পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের আরও দুই নারী সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।   বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আনা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী হামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।   বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১০:১১
গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে বড় হীরা ব্যবসায়ী হয়েছেন সাভজি ধোলাকিয়া। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরেই স্কুল ছাড়েন, কর্মীদের ১,২৬০ গাড়ি ও ৪০০ ফ্ল্যাট উপহার দিয়ে আলোচনায় ভারতীয় ব্যবসায়ী

গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল ভারতের হীরা ব্যবসায়ী সাভজি ধোলাকিয়াকে। কিশোর বয়সেই তিনি চাচার হীরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। পরে ভাইদের সঙ্গে গড়ে তোলেন হীরা রপ্তানি প্রতিষ্ঠান হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারের ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন তিনি।    ধোলাকিয়ার জন্ম গুজরাটের আমরেলি জেলার দুধালা গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে। ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে তিনি সুরাটে চাচার হীরা ব্যবসায় যোগ দেন। কয়েক বছর কাজ শেখার পর ভাই হিম্মত ও তুলসীর সঙ্গে ১৯৮৪ সালে নিজেদের হীরা ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ছোট ভাই ঘনশ্যামও ব্যবসায় যুক্ত হন এবং মুম্বাইয়ে অফিস স্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি শুরু হয়।    ধোলাকিয়ার ব্যবসায়িক দর্শনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো কর্মীদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার নীতি। ২০১৪ সালে হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীকে গাড়ি, ফ্ল্যাট কেনার অর্থ এবং স্বর্ণ ও হীরার গয়না দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ কোটি রুপির সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৪৯১ জন কর্মী গাড়ি এবং প্রায় ২০০ জন বাড়ি কেনার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।    এর পরের বছরগুলোতেও এমন পুরস্কারের ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২৬০টি গাড়ি এবং ৪০০টি ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে কর্মীদের গয়না দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ওই পুরস্কার সবার জন্য ছিল না। কর্মীদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হতো।    কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির পদ্ধতি ছিল কিছুটা ভিন্ন। সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীদের বিভিন্ন পারফরম্যান্স প্যারামিটার মূল্যায়ন করা হতো। কাজের মানের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ ছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।    ধোলাকিয়া বারবার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের অবদান রয়েছে এবং তাদের সেই সাফল্যের অংশীদার করা উচিত। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, কর্মীদের উৎসাহিত করতেই তিনি এই ধরনের লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। তার কাছে বিষয়টি শুধু দান বা কর্মীদের ব্যবস্থাপনার কৌশল নয়, বরং মানবিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।    তার ব্যবসার পরিধিও সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস হীরা কাটা, পালিশ ও রপ্তানির পাশাপাশি হীরা ও জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও চীনের মতো বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    ধোলাকিয়ার কর্মী পুরস্কারের গল্প আলোচনায় এলেও এর মূল বিষয় শুধু গাড়ি বা ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘটনা নয়। বরং কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অবদানকে ব্যবসার সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখার একটি করপোরেট সংস্কৃতি এখানে সামনে আসে। অবশ্য এই ধরনের বড় পুরস্কার দেওয়ার মডেল সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তবে কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সাফল্যের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার ধারণাটি ব্যবসা পরিচালনায় আলাদা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
হাসপাতাল
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা

দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘরে এসেছিল যমজ কন্যাসন্তান। পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি।   স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পর আলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং নবজাতকদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।   ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালবাথান এলাকায়। আলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের ঘরে সন্তান আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোক।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও দুই নবজাতক হাসপাতালে থাকলেও আলাল রাতে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়।   প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।   নিহতের ভাই জামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। ফলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঋণের চাপ এবং সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় যোগ হওয়ায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এসব চাপের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের চিকিৎসাব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সন্তান জন্ম ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হয়।   একদিকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর দুই সন্তানের জন্ম, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—দুই বিপরীত ঘটনার মধ্যে পড়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মুখে। হাসপাতালে থাকা মা ও দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৫১
পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ লতিফ। ছবি: সংগৃহীত
চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ

বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. নিয়াজ লতিফ। বর্তমানে তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং কমার্শিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সিলেন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের বর্তমান গবেষণা বোর্ডের তথ্যেও এসব দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।    ড. নিয়াজ লতিফের শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশে। তাঁর একাডেমিক নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে যুক্তরাষ্ট্রে। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ১৯৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং ১৯৮৫ সালে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।    তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু হয় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউনিজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। ১৯৯০ সালে তিনি নর্দার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক ও ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন।    ১৯৯৯ সালে তাঁর একাডেমিক নেতৃত্বের পরিধি আরও বাড়ে। সে বছর তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি ওয়েস্ট লাফায়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত নথিতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের প্রধান এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উইকেন্ড মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে।    ২০০৭ সালে ড. নিয়াজ লতিফ পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে যোগ দেন এবং কলেজ অব টেকনোলজির ডিন হন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে একাডেমিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ, অ্যাক্রেডিটেশন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলোও ছিল। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রাম চালু এবং বিভিন্ন গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।    গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ড. লতিফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর পেশাগত নথি অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ফেডারেল ও বেসরকারি উৎস থেকে গবেষণা ও প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পেও তিনি যুক্ত ছিলেন। পারডু নর্থওয়েস্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস মিলিয়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সংগ্রহ করা হয়।    একাডেমিক প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান এবিইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের এবিইটি ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।    পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে তাঁর দায়িত্বও সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারিম প্রভোস্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ফর একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ইন্টারিম অ্যাসোসিয়েট ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৩ সালে কলেজ অব টেকনোলজির ডিনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে গবেষণা, স্পনসর্ড প্রোগ্রাম এবং কমার্শিয়ালাইজেশন কার্যক্রমে আরও সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নেন।    বর্তমানে রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও ড. লতিফ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ তৈরির কাজে যুক্ত। পারডু নর্থওয়েস্টের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কমার্শিয়ালাইজেশন নিয়েও তাঁর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট এক প্রকাশনায় রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।    বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে দীর্ঘ এই পথ ড. নিয়াজ লতিফের পেশাগত যাত্রার বিস্তৃতি তুলে ধরে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, ডিন এবং একাডেমিক প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি এখন পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৯:৩৬