সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:১১
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অ্যালিস ওগলট্রি অসুস্থ নবজাতকদের সাহায্যে অবিশ্বাস্য পরিমাণ বুকের দুধ দান করে নতুন এক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন। শুধু তাই নয়, নিজের গড়া পুরোনো রেকর্ড নিজেই ভেঙে দিয়ে মানবতা ও মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই নারী। গিনেস কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ দান করে তিনি এই অনন্য রেকর্ডটি নিজের করে নেন।

 

অ্যালিসের এই মহৎ উদ্যোগের শুরুটা হয়েছিল ২০১০ সালে। সে সময় তার নিজের সন্তান মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে এক নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, দান করা বুকের দুধ অন্যান্য অসুস্থ ও অসহায় নবজাতকের জীবন বাঁচাতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে এ ধরনের অনুদান বা মিল্ক ব্যাংক সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

 

তবে নার্সের দেওয়া ওই একটি তথ্যই তার দৃষ্টিভঙ্গি পালটে দেয় এবং এরপর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত বুকের দুধ দান করতে শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রায় ১ হাজার ৫৬৯ লিটার বুকের দুধ দান করে প্রথমবারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েন অ্যালিস। তবে রেকর্ড গড়ার পরও থেমে যাননি তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং নিজের পূর্বের রেকর্ড অতিক্রম করে যান। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের বাইরেও বিভিন্ন মিল্ক ব্যাংক ও অনেক পরিবারকে সরাসরি আরও হাজার হাজার আউন্স দুধ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যালিস।

 

একজন নার্সের দেওয়া ছোট্ট একটি ধারণা থেকে শুরু হওয়া তার এই অসাধারণ উদারতা আজ হাজার হাজার নবজাতক ও তাদের পরিবারের জন্য পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক
হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে নতুন নির্মিত একটি গ্রানাইট হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রশাসন এবং সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মূলধারার কোনো মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেনি।   সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প একটি সোনালি কাঁচি দিয়ে লাল, সাদা ও নীল রঙের ফিতা কেটে হ্যালিপ্যাডটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটিকে প্রেসিডেন্ট 'একটি শিল্পকর্ম' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হ্যালিপ্যাডটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলমোহর খোদাই করা রয়েছে।   হোয়াইট হাউস তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রচার করলেও, পেছনে থাকা মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের বিকট শব্দের কারণে ট্রাম্পের কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠানে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের টিভি ক্যামেরা এবং শক্তিশালী বুম-মাইক থাকে, যা এবার অনুপস্থিত ছিল।   এর আগে সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস সিএনএন-কে (CNN) অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় টিভি নেটওয়ার্কগুলো প্রতিবাদস্বরূপ তাদের ‘টিভি পুল’ সম্প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এই পুল ক্যামেরার মাধ্যমেই সাধারণত প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফুটেজ সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।   এর জবাবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন কিছু নয়; তবে শুধু বন্ধুভাবাপন্ন বামপন্থীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মটিকে হঠাৎ পবিত্র বলে দাবি করাটাই নতুন।   উদ্বোধনের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হ্যালিপ্যাড নির্মাণে যুক্ত কর্মীদের সাথে করমর্দন করেন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান। এরপর তিনি আকারে বড় ও আধুনিক নতুন মেরিন ওয়ান (ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট) হেলিকপ্টারে চড়ে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির সাথেও বৈঠক করবেন।   উল্লেখ্য, ভারী ও আধুনিক হেলিকপ্টারের কারণে সাউথ লনের ঘাসের যেন ক্ষতি না হয়, মূলত সেজন্যই নতুন এই হ্যালিপ্যাডটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হাতে নেওয়া হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকটি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের অন্যতম।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৫:১
টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

টেক্সাসের মা দান করলেন ২ হাজার ৬৪৫ লিটারের বেশি বুকের দুধ, গড়লেন নতুন বিশ্ব রেকর্ড

বৃদ্ধের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ফ্লোরিডার জয় ইয়ভেট হোল্ডার। ছবি: সংগৃহীত

অসহায় বৃদ্ধের সাড়ে ৩ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ, ফ্লোরিডায় নারী গ্রেপ্তার!

বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ মেরিল্যান্ড বিএনপির

বাল্টিমোরে ‘জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামফলক ফেরাতে মেরিল্যান্ড বিএনপির উদ্যোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক ডেটা সেন্টার গড়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
এআইয়ের ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভ, আটকে গেল ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫ প্রকল্প

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধিতা বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত স্থানীয়দের বিরোধিতার কারণে প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের ৪৫টি ডেটা সেন্টার প্রকল্প আটকে গেছে বা বিলম্বিত হয়েছে বলে গবেষণা সংস্থা ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান অনুমতির আবেদন করার আগেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর প্রায় ৩০টি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ডেটা সেন্টারের অবস্থান নির্ধারণ, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন নিয়ম প্রস্তাব বা গ্রহণ করা হয়েছে।   ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে ডেটা সেন্টারবিরোধী ৮৪৩টি গোষ্ঠী রয়েছে। একমাত্র হাওয়াইয়ে এমন কোনো গোষ্ঠীর তথ্য পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির প্রধান বিশ্লেষক মিগুয়েল ভিলা বলেন, নতুন নতুন বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় এলাকায় এই বিরোধিতা ছড়িয়ে পড়ছে। অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষরের সংখ্যাও বাড়ছে।   গবেষণা সংস্থাটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রতিফলন হচ্ছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। নতুন কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ায় পরিবেশের ওপর প্রভাব এবং বিদ্যুৎ ও পানির মতো সম্পদের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ডেটা সেন্টারের বিরোধিতায় প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট ও অ্যালফাবেটের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এসব অবকাঠামো প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ডেটা সেন্টার পরিবেশের ওপর চাপ তৈরি করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে।   চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেও ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ দেখা যায়। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫টি প্রকল্প, যার আনুমানিক মূল্য ১৩০ বিলিয়ন ডলার, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে পড়েছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫টি প্রকল্প ছিল ওই সময়ে ডেটা সেন্টার ওয়াচের নজরদারিতে আসা নতুন বড় প্রকল্পগুলোর অর্ধেকেরও বেশি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও এসব বিরোধিতাকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। টেনেসির একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরুদ্ধে অনলাইনে করা একটি আবেদনে পাঁচ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে। ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, ওই স্বাক্ষরের সংখ্যা চলতি প্রান্তিকে অনলাইন আন্দোলনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে সংগৃহীত মোট স্বাক্ষরের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।   এবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ডেটা সেন্টার নিয়ে বিরোধিতার বিষয়টি নিজেদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ডেটা সেন্টার ওয়াচ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্প, সরকারি অনুমোদন এবং সম্পদ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করছে।   ডেটা সেন্টার ওয়াচের প্রধান বিশ্লেষক ভিলা বলেন, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে এই প্রবণতা এখন আর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের বিরোধিতাও আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।   সূত্র: ব্লুমবার্গ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১২:৫৫
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ডেনমার্কের সঙ্গে বড় নিরাপত্তা চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকাতে ট্রাম্পের নতুন নিরাপত্তা চুক্তি, বাড়ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষেধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করছে সিএনএন সহ দুই সংবাদমাধ্যম

ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে একটি নৌকা থেকে সন্দেহভাজনদের নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের ক্যালিফোর্নিয়ার বন্দরে নামিয়ে পালিয়ে গেল নৌকা

নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও এর খরচ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক পাতালরেলে পুলিশের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ, বাড়তি খরচ দিচ্ছে মামদানি প্রশাসন

নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দেওয়া ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইমসহ টহল চালিয়ে যাওয়ার খরচ নিউইয়র্ক সিটিকে বহন করতে হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিল শেষ হলেও পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বন্ধ হয়নি।   এই তহবিল গত বছরের ডিসেম্বরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কের পাতালরেল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানো। হোকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও টহল কার্যক্রমে সহায়তা করার কথা ছিল।   তবে রাজ্য ও শহরের মধ্যে আগে থেকেই থাকা অর্থায়ন ব্যবস্থায় বছরের এক অংশের খরচ রাজ্য এবং অন্য অংশের খরচ শহরের বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পাতালরেলে পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েনের মোট ব্যয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং রাজ্য ও শহরের মধ্যে তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।   হোকুলের কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিতির জন্য ৭৭ মিলিয়ন ডলার করে দিয়েছে এবং শহর অপর অংশের জন্য সমপরিমাণ অর্থ দিয়েছে। ফলে রাজ্যের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত পুলিশ টহল চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। শহর ও রাজ্য উভয় পক্ষই জানিয়েছে, এই অর্থায়ন ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।   মেয়র জোরান মামদানির প্রশাসন তাই পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যয় বহন করছে। মেয়রের মুখপাত্র স্যাম রাসকিন বলেছেন, বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় শহর ও রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রাখবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন চালু থাকবে।   তহবিল শেষ হওয়ার খবরটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাতালরেলে কিছু ধরনের হামলার ঘটনা বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পাতালরেলে গুরুতর হামলার ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম গুরুতর হামলার ঘটনাও প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পাতালরেলে অপরাধ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গুরুতর হামলার ঘটনায় ২৬৩ জনকে অন্তত তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ২০৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরজুড়ে গুরুতর হামলার অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের হিসাবে, পাতালরেলের ৭১ শতাংশ যাত্রী এখনো ব্যবস্থাটিকে নিরাপদ মনে করেন।   গত বছরের ডিসেম্বরে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণার সময় হোকুল বলেছিলেন, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে পাতালরেলে মোতায়েন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টহল বাড়ানো সম্ভব হবে। পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ওভারটাইম খরচও এই উদ্যোগের আওতায় ছিল।   পাতালরেলের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ক্যামেরা স্থাপন এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাতালরেলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখতে আরও ৭৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে হোকুল তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বাড়ানোর জন্য ১৫৪ মিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ অর্থায়ন ব্যবস্থায় গিয়েছিলেন। সেই ব্যবস্থায় রাজ্য ও শহর সমানভাবে ব্যয় বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির বাজেট নথিতেও এই অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণেও পাতালরেল নিরাপত্তা উদ্যোগের জন্য রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই অর্থ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত সময়ের ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।   অর্থাৎ, রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ হয়ে গেলেও নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বন্ধ হচ্ছে না। আগে থেকে থাকা অর্থায়ন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের অংশের ব্যয় নিউইয়র্ক সিটি বহন করছে। সেই ব্যবস্থার অধীনেই মামদানি প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের খরচ দিচ্ছে এবং পাতালরেলে টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১১:১৩
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট ব্যাহত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইন যে ক্ষতিপূরণ ও রিফান্ড দেয়, জানুন যাত্রী অধিকার

পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ লতিফ। ছবি: সংগৃহীত

চুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য ড. নিয়াজ

চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল সিকিউরিটিতে এ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার, কারা পাচ্ছেন! জেনে নিন

0 Comments