সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবের চ্যাম্পিয়নশিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গলফ খেলায় আবারও বিতর্কে ট্রাম্প, প্রতারণা করে ট্রফি জেতার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন নিউ জার্সির বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর খেলার স্কোর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ৭০ স্কোর করে প্রতিযোগিতায় জয় পেয়েছেন।   ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টারের কোর্সটির সমান স্কোর ৭২। ফলে ৭০ স্কোরের অর্থ হলো সমানের চেয়ে দুই শট কম। আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ট্রাম্পকে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয়ী হিসেবে পুরস্কার নেওয়ার ভিডিওও প্রকাশিত হয়। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ জয়ের কথা জানান।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি খুব বেশি অনুশীলনের সময় না পেয়েও ৭০ স্কোরে জিতেছেন। এ সাফল্যের কারণ হিসেবে তিনি নিজের প্রতিভার কথাও উল্লেখ করেন।   তবে ট্রাম্পের জয়ের ভিডিও প্রকাশের পর কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁর স্কোর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ভিডিওতে দেখা একটি শট এবং তাঁর সামগ্রিক স্কোরকে কেন্দ্র করে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন।   তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমন কোনো নিরপেক্ষ প্রমাণও পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তিনি প্রতারণা করে প্রতিযোগিতাটি জিতেছেন। ডেইলি বিস্টও ভিডিওটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা জানিয়েছে, তবে সেখানেও প্রতারণার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খেলার পদ্ধতি ও স্কোর নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়া লেখক রিক রেইলি তাঁর ২০১৯ সালের বই ‘Commander in Cheat’-এ ট্রাম্পের গলফ খেলা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন এবং প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। তবে এগুলো অতীতের অভিযোগ ও লেখকের মূল্যায়ন, বেডমিনস্টারের সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতায় প্রতারণার স্বাধীন প্রমাণ নয়। ইউএসএ টুডে ট্রাম্পের আগের কয়েকটি গলফ প্রতিযোগিতা নিয়েও বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছে।   এর মধ্যে ২০২৩ সালে ফ্লোরিডার ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব ওয়েস্ট পাম বিচে একটি সিনিয়র ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে না খেলেও ট্রাম্প আগের একটি রাউন্ডের স্কোর ব্যবহার করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্প অবশ্য নিজের সেই ফলাফলকে জয় হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।   ট্রাম্পের গলফ দক্ষতা নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। গলফের সাবেক তারকা আর্নি এলস অতীতে ট্রাম্পের খেলা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ২০২০ সালে গলফ কিংবদন্তি জ্যাক নিকলাউসও ট্রাম্পকে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। ফলে ট্রাম্পের প্রকৃত খেলার মান নিয়ে গলফ অঙ্গনে একেবারে একমত কোনো মূল্যায়ন নেই।   বেডমিনস্টার গলফ ক্লাবটি ট্রাম্পের মালিকানাধীন এবং সেখানে পেশাদার গলফের বড় আয়োজনও হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এলআইভি গলফ নিউইয়র্কও এই কোর্সে অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প ন্যাশনাল বেডমিনস্টারের কোর্সটি টম ফাজিও নকশা করেছেন এবং ২০২৬ সালের এলআইভি গলফ আয়োজনের সময় কোর্সটি ৭ হাজার ৬৫১ গজ পর্যন্ত দীর্ঘ করা হয়েছিল।   ট্রাম্পের বেডমিনস্টার ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপের জয়ের বিষয়ে মূল তথ্য হলো, তিনি ৭০ স্কোরে সিনিয়র ও সুপার সিনিয়র বিভাগে জয় পেয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন এবং সেই জয়ের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এরপর তাঁর স্কোর ও খেলার কয়েকটি মুহূর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও অনলাইন মন্তব্যের বাইরে বেডমিনস্টারের এই প্রতিযোগিতায় তিনি প্রতারণা করেছেন, এমন নিশ্চিত স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।   সূত্র: ইউএসএ টুডে, দ্য ডেইলি বিস্ট

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:৩৩
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩ - সীমান্তে ফের উত্তেজনা

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সোমবার ভোরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবানের মধ্যে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনজুড়ে সংঘর্ষও বেড়েছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক শান্ত অবস্থার পর নতুন করে দুই দেশের উত্তেজনা বাড়ায় আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৩টার দিকে হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। পাকতিকা প্রদেশের বারমাল এলাকাতেও দুটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    তবে হামলার লক্ষ্য ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিমান হামলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান লক্ষ্য করা হয় এবং ২৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি।    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপির সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। আফগান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করছে।    সোমবারের বিমান হামলার আগে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক হামলা হয়। কোহাটে একটি পুলিশ কমপ্লেক্সে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এর এক দিন পর হাঙ্গু এলাকায় বন্দুকধারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আরও ছয় পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এসব ঘটনার পর আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইসলামাবাদ।    নতুন হামলার ঘটনায় আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।    দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর একটি হলো ডুরান্ড লাইন ও সীমান্তপারের জঙ্গি তৎপরতা। ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। সোমবারের ঘটনাটি সেই উত্তেজনা আবারও বাড়িয়ে দিল, যা চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও জটিল করে তুলতে পারে।    Source: রয়টার্স, ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৫:১৫
আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে কমল তেলের দাম, ১০০ ডলারের নিচে নামল মার্কিন ক্রুড

আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধারের খবরে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে। ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয়ই ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।   রয়টার্সের সর্বশেষ বাজার তথ্যে, সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের আগের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে নেমে আসে। আগের সেশনের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৮ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে, যা আগের সেশনের তুলনায় ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।    তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও আগস্টের বড় ধাক্কার পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।   কেপলার-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলের ওপরে উঠেছে। আগস্টে দেশটির রপ্তানি নেমে গিয়েছিল দৈনিক প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ব্যারেলে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সরবরাহের পথ বদলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো হয়েছে।   তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের রিয়াদে হামলার দাবি করেছে এবং অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে তেলের বাজারে আবারও ঝুঁকি বাড়তে পারে।   এদিকে তেলের দামের সাম্প্রতিক ওঠানামার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। আজ থেকেই দেশে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, ৯৫ অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সরকার এই দাম বাড়িয়েছে।   অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে আজ তেলের দাম কিছুটা কমলেও ব্রেন্ট এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে। সামনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং সৌদি আরবের সরবরাহ - এই তিনটি বিষয়ই তেলের বাজারের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।   Source: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৪:২১
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের
ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, পাল্টা বড় হামলার প্রস্তুতির তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তিতে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তা না হলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে এবং ইরানের নেতৃত্বও নির্মূল হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতির মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প।   রোববার ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরানের নেতাদের সামনে চুক্তি করা অথবা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের ঝুঁকি নেওয়ার বিকল্প রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।   অন্যদিকে, ইরানের সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যেসব আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। কাতারে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে।    ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার কয়েকটি শর্তও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আগের চুক্তির বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে তেহরান।    ফলে একদিকে ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে তেহরানকে চুক্তিতে আনতে চাইছে, অন্যদিকে ইরান নতুন হামলার আশঙ্কা তুলে পাল্টা প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা একই শহরে অবস্থান করায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।    সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও গ্যাস পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।    Source: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:৫৩
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক
ডোরড্যাশ ডেলিভারি দিতে গিয়ে আইসিইর গুলিতে আহত ভেনেজুয়েলান যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ২৮ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করে আহত করেছেন এক আইসিই কর্মকর্তা। ২০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   আহত ব্যক্তির নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফার্ব জানিয়েছেন, গুলির সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে একটি ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ডোরড্যাশও নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় তিনি একটি ডেলিভারির কাজে ছিলেন।   অস্টিন পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনের অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকায় দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে একটি গাড়ি ধাওয়া ও পরে পায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পেরেজের শরীরে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় পুলিশ ওই গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না।   ঘটনার পর পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   পেরেজের অভিবাসন অবস্থান নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবী বলেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পেরেজ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটও ছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।   ঘটনার তদন্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে থাকবে এফবিআই। একই সঙ্গে অস্টিনের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হতে চান। মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের অংশগ্রহণ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।   ঘটনার সময় গুলির পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সব তথ্য প্রকাশ হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি তথ্য হাতে পায়নি। তাই গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ, ধাওয়া কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং পেরেজের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের ঠিক কী ঘটেছিল - এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।    আইসিইর চলমান অভিবাসন অভিযান নিয়ে অস্টিনে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেরেজের অভিবাসন মামলার পাশাপাশি গুলি চালানোর পরিস্থিতিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:২০
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি
দেশে লংমার্চ, বিদেশে জামায়াতের ৩৪ এমপি - সফর ঘিরে সমালোচনা

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি চলার মধ্যেই দলটির ৩৪ সংসদ সদস্যসহ মোট ৭১ জনের বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৭ দিনের এই সফরে এমপিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, দলের কয়েকজন নেতা ও একজন লেখকও রয়েছেন।   জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিক সম্পর্ক নেই। দলটির নেতারা এটিকে মূলত শিক্ষামূলক ও অভিজ্ঞতা অর্জনের কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সফরের পরিকল্পনা সংসদের অধিবেশনের কারণে আগে পিছিয়েছিল বলেও জানিয়েছেন সফরে থাকা নেতারা।   সফরকারী দলটি ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যায় এবং পরে ফিলিপাইনে পৌঁছেছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। সফর শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।   মালয়েশিয়ায় সফরকারীদের কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এর মধ্যে দেশটির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানা গেছে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ, জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংসদীয় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   সিঙ্গাপুরে জামায়াতের এমপিরা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন এবং একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন। এরপর ফিলিপাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে এই সফরের সময় নিয়েই মূলত আলোচনা বেশি তৈরি হয়েছে। কারণ ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়ই ৩৪ এমপির বড় একটি দল দেশের বাইরে অবস্থান করছে।   জামায়াতের সফরকারী এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, দলের আমিরের অনুমতি নিয়েই এমপিরা সফরে গেছেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক এমপি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং অনেকে আগে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাননি। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি, প্রশাসন ও উন্নয়ন সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।   জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি দলের আগে নেওয়া পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ আরও বিভিন্ন দেশে দলের সদস্যদের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   ফলে একদিকে দেশের ভেতরে জোটের ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক এমপির দীর্ঘ বিদেশ সফর - দুই ঘটনাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে সফরটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো বিরোধ নেই - জামায়াতের বক্তব্য এটাই।   Source: প্রথম আলো, ডেইলি সান  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ৩:১৫
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার
মার্কিন ডিপোর্টিদের জন্য আফ্রিকার হোটেল যেন দুঃস্বপ্নের কারাগার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো দুই ডিপোর্টিকে দেশটির পুলিশ মাথায় বস্তা পরিয়ে, হাত-পা বেঁধে এবং অস্ত্র দিয়ে মারধর করে সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তাদের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর মালাবোর কাছে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই হোটেলটিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ডিপোর্টিদের আটক রাখার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।   অভিযোগের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন মিশরের নাগরিক আহমেদ সোলিমান এবং ইরিত্রিয়ার নাগরিক স্যামসন বিরহানে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বহু বছর বসবাসের পর ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট কর্মসূচির আওতায় ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে মালাবোর লা লুনা পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পুলিশ স্টেশনে নেওয়ার পর তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না।   আইনজীবী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে সোলিমান ও বিরহানে আটককেন্দ্রে থাকা মানুষের জীবনযাপন এবং পুলিশের আচরণ নিয়ে বাইরে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। হোটেলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ এবং ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে হোটেলের একটি আয়না ভাঙার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে তাদের আইনজীবীরা বলছেন, গ্রেপ্তার ও পরবর্তী নির্যাতনের পেছনে মূল কারণ ছিল আটককেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কথা বলা।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, পুলিশ দুই ব্যক্তির মাথায় বস্তা পরিয়ে হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে। এরপর তাদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা এবং সিঁড়ি দিয়ে ঠেলে নামানোর ঘটনা ঘটে। অন্য আটক ডিপোর্টিরা ঘটনাটি দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় পুলিশ তাদের মোবাইল ফোনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও ওই হোটেলে মার্কিন ডিপোর্টিদের সঙ্গে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পুলিশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের অভিবাসীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করতে দেখা যায়। ঘটনাটি মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা ভিডিও দেখে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ইকুয়েটোরিয়াল গিনির মালাবো শহরের বামি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা অভিবাসীদের রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট সংক্রান্ত একটি চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থার আওতায় ৪০ জনের বেশি মানুষকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্যাতন বা নিপীড়নের ঝুঁকির কথা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে জানিয়েছিলেন।   এই ধরনের ব্যবস্থাকে তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট বলা হয়। এতে কোনো অভিবাসীকে সরাসরি তার নিজ দেশে না পাঠিয়ে অন্য একটি দেশে পাঠানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের ডিপোর্টের জন্য আইনসম্মত বিভিন্ন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, কোনো ব্যক্তি আইসিইর হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার দায়িত্বও আইসিইর ওপর থাকে না।   তবে মানবাধিকার সংগঠন ও ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করার এই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে পাঠানো হলে তাদের সুরক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সোলিমান ও বিরহানেকে আটক করার ঘটনাটি তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তারা মানবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত অবস্থায় রয়েছেন।   বামি হোটেলে থাকা ডিপোর্টিদের অভিযোগের মধ্যে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া, আইনি সহায়তায় বাধা এবং খাবার ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার ঘাটতির বিষয়ও রয়েছে। এর আগে সেখানে পুলিশের সহিংস আচরণের আরও অভিযোগ সামনে এসেছে। আইনজীবীদের একটি জোট জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে মুখোশধারী পুলিশ কয়েকটি কক্ষে ঢুকে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরায় এবং অস্ত্রের মুখে হুমকি দেয়।   এদিকে সোলিমান ও বিরহানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের লা লুনা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেলেও, আইনজীবীরা জানিয়েছেন তারা দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং আটক ডিপোর্টিদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৪৯
ছবি: ডিবিসি নিউজ
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে একটি বাছুরের জন্ম হয়েছে। গত শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার দুদু মিয়ার পাহাড় এলাকায় খামারি মো. মাসুদের গাভীটি বাছুরটির জন্ম দেয়। স্বাভাবিক চার পায়ের পাশাপাশি পিঠ ও পেছনের অংশে আরও তিনটি অতিরিক্ত পা থাকায় বাছুরটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    বাছুরটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ খামারবাড়িতে ভিড় করছেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে বিরল শারীরিক গঠনের বাছুরটিকে একনজর দেখছেন। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাছুরটির মালিক মো. মাসুদ স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে। খবর পেয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। তবে মালিকপক্ষ বাছুরটি তাদের দেখাতে সম্মতি দেয়নি।   হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাবিল ফারাবী জানিয়েছেন, বাছুরটির এমন শারীরিক গঠনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষকে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরীক্ষা ছাড়া অতিরিক্ত পা তৈরির নির্দিষ্ট কারণ এখনই নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।    প্রাণিবিজ্ঞানে জন্মগতভাবে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত অঙ্গ থাকার ঘটনাকে পলিমেলিয়া বলা হয়। গবাদিপশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পা নিয়ে জন্মের নজির বৈজ্ঞানিক গবেষণাতেও রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সাত পা-ওয়ালা একটি বাছুরের শারীরিক গঠন পরীক্ষা করে এমন জন্মগত অস্বাভাবিকতার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল। তবে হাটহাজারীর বাছুরটির ক্ষেত্রে ঠিক কোন ধরনের জন্মগত ত্রুটি রয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা যাচ্ছে না।    বাংলাদেশেও এর আগে সাত পা নিয়ে বাছুর জন্মের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে ফেনীর দাগনভূঞায় এমন একটি বাছুরের জন্মের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে ঘটনাতেও অতিরিক্ত তিনটি পা থাকার কথা জানানো হয় এবং স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এটিকে জন্মগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছিলেন।    হাটহাজারীর বর্তমান ঘটনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বাছুরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে চাইলেও মালিকপক্ষের সম্মতি না পাওয়ায় এখনো বিস্তারিত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে অতিরিক্ত তিনটি পায়ের গঠন, ভেতরের অস্থি ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। আপাতত বাছুরটি জীবিত ও সুস্থ থাকার তথ্যই পাওয়া গেছে। সূত্র: ডিবিসি নিউজ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৪৩
৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা
সন্দেহে ডিএনএ পরীক্ষা! ৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা

ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।    মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না।    এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন।    এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন।    দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:২১
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭, যাতায়াত ও ফুল ফান্ডসহ রয়েছে আকর্ষণীয় সুবিধা

কানাডার টরন্টোতে আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ান ফিউচার কনফারেন্স ২০২৭। ১২ থেকে ১৫ মে চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ নেতা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ৪৭ বছর বয়সী বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক এই সম্মেলনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   ২০২৭ সালের আয়োজনটি ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের তৃতীয় সংস্করণ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার টরন্টোর ডাউনটাউনে প্রায় ৩০০ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি পুরোপুরি অর্থায়িত এবং ২৫টি আংশিক অর্থায়িত আসন রাখা হয়েছে।   পুরোপুরি অর্থায়িত আসনে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার বিমান ভ্রমণের জন্য সহায়তা, তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, খাবার ও কফির বিরতি, কর্মশালা, আলোচনা সভা, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।   আংশিক অর্থায়িত আসনে নির্বাচিতদের জন্য তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনে পূর্ণ অংশগ্রহণ, কর্মশালা ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ, খাবার, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং ভিসার আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই ক্যাটাগরিতে বিমান ভ্রমণের খরচের জন্য সহায়তা থাকবে না।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের জন্য আবেদনকারীদের একবার আবেদন করলেই দুই ধরনের অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, আবেদনকারীর আগ্রহ ও প্রেরণা, অর্জন, আবেদনপত্রে দেওয়া উত্তর এবং সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক এবং জেন্ডার ডাইভারসিটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।   আবেদনকারীদের বয়সসীমা ১৭ থেকে ৪৭ বছর। নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং সামাজিক উদ্যোক্তারাও আবেদন করতে পারবেন।   সম্মেলনে নেতৃত্ব ও জননীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি, ডাইভারসিটি, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।   আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের আবেদনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন অর্থায়িত আসনের জন্য বিবেচনা করা হবে না।   অর্থায়িত আসনের পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আরও কয়েকটি সুযোগ রাখা হয়েছে। আবাসনসহ সম্মেলন পাসের মাধ্যমে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সম্মেলনে অংশ নেওয়া যাবে। আবাসন ছাড়া পাসের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীকে নিজের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা ভিসা আমন্ত্রণ প্যাকেজও রয়েছে। এর মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাওয়ার সুযোগ থাকছে।   তবে ভিসার আমন্ত্রণপত্র বা ভিসা সহায়তা পাওয়ার অর্থ কানাডার ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই সম্মেলনে নির্বাচিত হলেও কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হবে।   আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের প্রথম আয়োজন টরন্টোতে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৭ সালের আয়োজনটি আবার টরন্টোতে ফিরছে। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০০ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:১৬
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার আদালতের বিচারক বা প্রসিকিউটরদের ব্যক্তিগতভাবে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আইসিসির আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তি সেবা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে। তবে এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের গ্রেস পিরিয়ডের পর আইসিসির সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ লেনদেন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়সীমা ছয় থেকে সাত মাস হতে পারে। ফলে আদালতের অর্থ পরিশোধ, আইটি সেবা, ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    এই পদক্ষেপের পেছনে আইসিসির ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। আইসিসি বলেছে, তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকাণ্ডের সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত।    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওয়াশিংটন আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান হলো, আদালত এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে এখতিয়ার প্রয়োগ করছে, যেসব দেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমালোচনা করেন।    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। আইসিসি তখন এই পদক্ষেপকে আদালতের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে।    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ শুধু গাজা যুদ্ধের তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা অপরাধ নিয়েও আইসিসির একটি পুরোনো তদন্ত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চান আদালত ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীসংক্রান্ত সেই তদন্ত থেকেও সরে আসুক।    এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করার কথা জানান। তিনি অন্যান্য দেশকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সময়ে আদালটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।    আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যার কাজ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুটিই আদালটির সদস্য নয়। ফলে আইসিসির এখতিয়ার, বিশেষ করে সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্কের অংশ।    প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির মধ্যকার বিরোধকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। কারণ এবার নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নয়, সরাসরি পুরো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিধি, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কোন কোন লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৫
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় ইরান ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের নিষেধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভার্চুয়াল দূতাবাস। ২০ সেপ্টেম্বর জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতায় সম্ভাব্য বিমান চলাচল বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ভ্রমণ সতর্কতায় ইরানকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা সতর্কতায় আবারও বলা হয়েছে, কোনো কারণেই ইরানে ভ্রমণ না করতে এবং দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের এখনই চলে যেতে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাস নেই, ফলে সেখানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সরাসরি কনস্যুলার সহায়তার সুযোগও সীমিত।    সতর্কতায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং পরিস্থিতি কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই দ্রুত অবনতি হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে ইরান থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা দ্রুত পরিবর্তন করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।    ইরান থেকে স্থলপথে বের হতে চাওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানের স্থলসীমান্তে প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়ম অল্প সময়ের নোটিশে পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে যে দেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেই দেশের প্রবেশের শর্ত আগে থেকে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।    নতুন সতর্কতার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক বিমানবন্দরও অতীতে তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে সতর্কতায় বলা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে।    সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও হামলার পর আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।    এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাও নতুন করে বেড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।    ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ, বড় জমায়েত ও পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্কিত স্থানগুলোতে কম দৃশ্যমান থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফোন সচল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পেতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে নিবন্ধনের কথাও জানানো হয়েছে।    ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা বলছে। ফলে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১:২১
“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি
“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি

ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারির সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট ছেলে ক্যালানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে প্রার্থনা করেছিলেন বাবা প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। দুই বড় সন্তান কোরা ও ডসনকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা যখন ক্যালানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন প্যাট্রিকের একটাই আকুতি ছিল, অন্তত তার একটি সন্তান যেন বেঁচে থাকে। কিন্তু চার দিন হৃদস্পন্দন চলার পর ক্যালানও মারা যায়। সম্প্রতি সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ সময়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।    ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যাট্রিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে ফিরে সন্তানদের দেখতে পান এবং ক্যালানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যালানের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালান এবং তাকে বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়।    হাসপাতালে ক্যালানের হৃদস্পন্দন চার দিন চলেছিল। সেই সময়টুকু প্যাট্রিকের কাছে ছিল একদিকে আশার, অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তার। তিনি জানান, তখন তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন, অন্তত একজন সন্তান যেন তার কাছে ফিরে আসে। ক্যালানকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতের কথাও ভাবছিলেন এবং বড় দুই ভাইবোনের কথা তাকে একদিন বলবেন বলে আশা করেছিলেন।    কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। প্যাট্রিক জানান, ক্যালানের শেষ দিনগুলোতে তিনি তার পাশে ছিলেন, তাকে কোলে নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবার কোলে থাকা অবস্থাতেই মারা যায়। প্যাট্রিক বলেন, ওই কয়েকটি দিন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল, কারণ তিনি শেষ সময়টুকু সন্তানের সঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন।    সন্তানদের মৃত্যুর পর প্যাট্রিক তিন সন্তানের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের নিয়ে লিখতে শুরু করেন। ক্যালানের হাত ধরে এক হাতে লেখা এবং অন্য হাতে সন্তানের হাত ধরে থাকার সেই সময়ের কথাও তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে না লিখলে তাদের স্মৃতি হারিয়ে যাবে, এমন একটি ভয় তার মধ্যে কাজ করছিল।    এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্যাট্রিকের সাবেক স্ত্রী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার আইনজীবীরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থার কারণে তিনি অপরাধের জন্য আইনগতভাবে দায়ী ছিলেন না। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিচার শেষে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং মামলাটি মিস্ট্রায়ালে শেষ হয়। পুনর্বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে প্রসিকিউটররা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি।    মামলার বিচার চলাকালে প্যাট্রিক নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। ‘৬০ মিনিটস’-এর সাক্ষাৎকারে তিনি এসবকে নিজের ও সন্তানদের স্মৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, অনলাইনে ছড়ানো নানা দাবি মূল ঘটনার পরিবর্তে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে।    প্যাট্রিক জানান, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তার গুরুতর আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। এরপরও তিনি আদালতে ফিরে গিয়ে নিজের সাক্ষ্য শেষ করেন।    সন্তানদের হারানোর পর ডাক্সবারিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় প্যাট্রিক নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান। সেখানে তিনি নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে চিকিৎসক র‍্যাচেল ড্যানিসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা বিয়ে করেন। ড্যানিসও ‘৬০ মিনিটস’-এ প্যাট্রিকের সঙ্গে তাদের জীবন ও সন্তানদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন।    বর্তমানে প্যাট্রিক ও র‍্যাচেল নতুন করে পরিবার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাদের সন্তানকে কোরা, ডসন ও ক্যালানের কথা কীভাবে বলবেন, সে প্রশ্নের জবাবে প্যাট্রিক জানান, তিনি একদিন তাদের বড় ভাই ও বোনের গল্প অবশ্যই বলবেন। তার কাছে সন্তানদের স্মৃতি এখনো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১:১৩
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি

স্পেনের বার্সেলোনায় হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে একটি নার্সারি থেকে প্রায় ২০ শিশু উদ্ধার করে আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নবদম্পতি ডোরান স্মিথ ও ডেভিড স্কুইলান্তে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় আগুনের খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের অপেক্ষা না করে ভবনের ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুদের নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করেন তারা। ঘটনাটি নিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।   ডোরান ও ডেভিড রোড আইল্যান্ডের ব্রিস্টলের বাসিন্দা। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিয়ের পর তাদের হানিমুনের পরিকল্পনা দুই বছরের বেশি সময় পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় সেই ভ্রমণে গিয়ে তারা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা তাদের পুরো সফরের অভিজ্ঞতাই বদলে দেয়।   বার্সেলোনায় একটি পার্কের দিকে হাঁটার সময় ডোরান দেখতে পান, একটি ভবন থেকে আতঙ্কিত কয়েকজন নারী দৌড়ে বের হয়ে আসছেন। প্রথমে ঠিক কী ঘটেছে তা বুঝতে না পারলেও পরে তিনি ভবনের দরজার কাছ থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখেন। তখনই তারা বুঝতে পারেন, ভবনটিতে আগুন লেগেছে।   ডেভিড পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবনটি যে একটি শিশুদের নার্সারি, তা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রায় ১৫ থেকে ২০টি শিশু ঘুমিয়ে আছে। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য তিনি একে একে তাদের ক্রিবে বা শিশুদের ছোট শয্যায় তুলে বের করার ব্যবস্থা করতে শুরু করেন।   নার্সারির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভাষাগত বাধা তৈরি হয়েছিল। ডেভিড ও ডোরান স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারতেন না। তারপরও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সবাই শিশুদের উদ্ধারে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। ডেভিড শিশুদের ক্রিবে তুলে এগিয়ে দিচ্ছিলেন, আর ডোরান সেগুলো বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।   শুধু এই দম্পতিই নয়, ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পথচারীরাও উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। বাইরে থাকা লোকজন শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। ডোরানের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ কারও ভাষা বুঝতে না পারলেও সবাই জানতেন তাদের লক্ষ্য একটাই, শিশুদের দ্রুত আগুনের এলাকা থেকে বের করে আনা।   ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিশুদের বের করে আনার কাজ শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত নার্সারিতে থাকা শিশুদের সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।   পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করেন। শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ডোরান ও ডেভিডও ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। তারা কোনো বিশেষ স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন না; বরং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বার্সেলোনার সফর চালিয়ে যান।   ডেভিড পরে বলেন, পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে পরবর্তীতে ফিরে তাকালেও তার কাছে বিষয়টি বাস্তব বলে মনে হয়নি। অন্যদিকে ডোরানও জানান, তারা তখন পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তা করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের প্রয়োজনেই সবাই শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন।   ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অপ্রত্যাশিত সেই হানিমুনের ঘটনা ডোরান ও ডেভিডের জন্য শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে থাকেনি; আগুনের মধ্যে আটকে থাকা শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার ঘটনায় তাদের সাহসিকতার গল্পও হয়ে ওঠে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১:৭
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে  মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক

ম্যাসাচুসেটসে সন্তান জন্মের পর নতুন মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠিয়ে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার স্ক্রিনিং করার কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গভর্নর মাউরা হিলি ১৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২০ লাখ ডলার এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর প্রশিক্ষিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নার্স পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। নার্সরা নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে পরিবারকে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়।    গভর্নর হিলির প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই সেবা পুরো ম্যাসাচুসেটসে আরও সহজলভ্য করা। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ বছরে প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে সেবা দেয়। অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার সন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারকে এই বাড়ি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নয়। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় এটিকে বিনামূল্যের স্বেচ্ছামূলক সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    বাড়িতে গিয়ে নার্সরা শুধু শিশুর স্বাস্থ্য নয়, মায়ের প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবস্থাও মূল্যায়ন করতে পারেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদক ব্যবহারের মতো উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬২০টি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৮ জনের স্ক্রিনিংয়ে উদ্বেগের লক্ষণ পাওয়া যায় এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রেফার করা হয় বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে।    ম্যাসাচুসেটসে প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাকে ঘিরে। সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তাঁর তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। হিলির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার সময় এই মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে।    তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী বাড়িতে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ অভিভাবকদের বাড়িতে এ ধরনের পরিদর্শন গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনেছে।    অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস সরকার বলছে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিবারকে নজরদারি করা নয়, বরং সন্তান জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করা। রাজ্যের আইনে ইতোমধ্যে প্রসব-পরবর্তী বাড়ি পরিদর্শন সেবা স্বেচ্ছামূলক ও প্রমাণভিত্তিক সেবা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আইনে অন্তত একটি পরিদর্শন সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহের মধ্যে বাড়িতে অথবা পরিবার ও সেবাদাতার সম্মত অন্য কোনো স্থানে করার কথা বলা হয়েছে।    ফলে নতুন উদ্যোগটি ম্যাসাচুসেটসে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী মানসিক সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার কতটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাখবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রাজ্য সরকার এখন অর্থায়ন ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সেবা আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:৪৭
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাগত ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   এর আগে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফেস্টুনটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন না ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।   এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ‘ডিসেম্বরে আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   পরে দুই দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   তারেক রহমান সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল।   অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল।   জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে সামগ্রিকভাবেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহত বা গুরুতর সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:৩৪
ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ
ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ, মেক্সিকো উপকূলে তল্লাশি

মেক্সিকো উপকূলের কাছে কার্নিভাল প্যানোরামা ক্রুজ জাহাজ থেকে ৫৬ বছর বয়সী এক পুরুষ যাত্রী সাগরে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং ওই এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিখোঁজ যাত্রীকে উদ্ধারে তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আলামেডা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ঘটনাটির খবর পায়। এরপর নিখোঁজ যাত্রীকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করা হয়। তল্লাশিতে সহায়তার জন্য একটি আকাশযানও মোতায়েন করা হয়েছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা প্রথমে পুরো জাহাজে তল্লাশি চালান। পরে জাহাজের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তি জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে গেছেন। এরপর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।   ঘটনার সময় কার্নিভাল প্যানোরামা পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফিরছিল। এটি ছিল সাত রাতের মেক্সিকান রিভিয়েরা ক্রুজ ভ্রমণের শেষ পর্যায়। জাহাজটি ১৩ সেপ্টেম্বর লং বিচ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা ঘুরে এটি আবার ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ফিরছিল।   যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর জাহাজের ভেতরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করতে বলা হয়, যাতে ক্রুরা পুরো জাহাজে অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে নিখোঁজ ব্যক্তি জাহাজের অন্য কোথাও অবস্থান করছেন কি না। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি সাগরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।   নিখোঁজ হওয়ার পর কার্নিভাল প্যানোরামা কিছু সময়ের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে জাহাজটি আবার লং বিচের দিকে যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে মেক্সিকোর নৌবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে থাকে।   কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, নিখোঁজ যাত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কী কারণে সাগরে পড়ে গেলেন বা জাহাজ থেকে কীভাবে পানিতে গেলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বা ক্রুজ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   সমুদ্রের মাঝখানে কোনো ব্যক্তি জাহাজ থেকে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সাগরের স্রোত, বাতাস এবং জাহাজের গতিপথের কারণে দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একজন নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান অনেক দূরে সরে যেতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের ঘটনায় আকাশযান, নৌযান এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজকে একসঙ্গে তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়।   নিখোঁজ ৫৬ বছর বয়সী যাত্রীর সন্ধানে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:২৪
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে নির্ধারিত হোটেলে নেওয়া হবে। সফরকালে সেখানেই তাঁর অবস্থানের কথা রয়েছে।    এ সফর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেবেন। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।    সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।    সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবেও প্রধানমন্ত্রীর সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। তিনি মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।    প্রধানমন্ত্রীর এবারের জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:১২
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি
টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী এক ডোরড্যাশ চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ নামের ওই যুবক ভেনেজুয়েলার নাগরিক। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে অস্টিনের উত্তরাংশে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।   বুকে গুলিবিদ্ধ পেরেজকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন অস্টিন-ট্রাভিস কাউন্টির ইএমএস প্রধান ও শহরের মেয়র কার্ক ওয়াটসন। তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের কারণ বা পেছনের ঘটনা সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।   আহত পেরেজের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর সম্ভবত সরাসরি আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একটি আইনি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেরেজ একজন অনিবন্ধিত অভিবাসী এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগের চূড়ান্ত নির্দেশ ছিল।   তবে তাঁর পরিবারের দাবি, পেরেজের কাছে আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল এবং তিনি বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পেরেজের নীল রঙের টয়োটা করোলা গাড়ির দরজায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং জানালায় অন্তত দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আইসিই এজেন্ট হয়তো তাকে পায়ে হেঁটে ধাওয়া করেছিলেন; তবে স্থানীয় পুলিশ এই অভিযানে কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না।   এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ কাসার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি করেছেন। কাসার অবিলম্বে বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, আইসিই এজেন্টদের বারবার এমন বলপ্রয়োগ এবং সত্য গোপন করার প্রবণতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে, লাতিন আমেরিকানদের নাগরিক অধিকার রক্ষাকারী অন্যতম প্রধান সংগঠন লুলাক (LULAC) মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের ওপর স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি কড়া ভাষায় জানিয়েছে, কোনো এজেন্সিরই নিজের অপরাধের বিচারক নিজে হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়; সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি মানুষেরই আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২২:৫৬
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর বিতর্কিত নীতিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো জবাব দেননি বর্তমান প্রার্থী নিথিয়া রামন। আর তাঁর এই নীরবতার সুযোগেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রোটেকটিভ লিগ (এলএপিপিএল)। ৮ হাজার ৭০০ জন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়নের মুখপাত্র টম সাগাউ অভিযোগ করেছেন, নিথিয়া ও তাঁর উগ্র সমর্থকরা মূলত "ভেড়ার ছদ্মবেশে নেকড়ে"।   সাগাউয়ের মতে, তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। ডিএসএ-এর সাথে মিলে শহর পরিচালনার গোপন বোঝাপড়া থাকার কারণেই তারা নিথিয়াকে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ইউনিয়ন।   সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর পক্ষ থেকে নিথিয়া রামনের প্রচার শিবিরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি ডিএসএ-এলএ-এর ১৬টি নীতি প্রস্তাবের সাথে একমত কি না। এসব নীতির মধ্যে পুলিশের বাজেট কমানো, কারাগার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবহারকে অপরাধের আওতামুক্ত করার মতো বিতর্কিত বিষয় রয়েছে।   আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসের বিপক্ষে তিনি লড়ছেন, অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রামনের প্রচার শিবির এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ডিএসএ-এর অন্যান্য নীতিগুলোর মধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ডাকে সশস্ত্র পুলিশের বদলে নিরস্ত্র কর্মী পাঠানো, ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত করা, সর্বজনীন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং খালি পড়ে থাকা বাড়ির মালিকদের ওপর কর আরোপ করার মতো প্রস্তাবও রয়েছে। এছাড়া তারা স্থানীয় নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়ারও পক্ষে।   নিথিয়া রামনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ডিএসএ-এর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২০ সালে প্রথমবার সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হওয়ার সময় সংস্থাটি তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল এবং ২০২৬ সালের মেয়র নির্বাচনেও তারা তাঁর পাশে রয়েছে। যদিও মে মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে 'পুলিশের বাজেট কমানো'র আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিথিয়া।   কিন্তু সম্প্রতি তিনি এলএপিডি-এর সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধমূলক হুমকি দমনের একটি গোয়েন্দা কর্মসূচিতে ১ লাখ ডলারের অর্থায়নের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অবশ্য পুলিশের উত্তেজনা প্রশমন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য ৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের একটি তহবিলের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টারের ৫০০ ফুটের মধ্যে গৃহহীনদের তাঁবু খাটানো নিষিদ্ধ করার আইনের বিরোধিতা করায় তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   এদিকে পুলিশ ইউনিয়নের আয়োজিত বেশ কয়েকটি ফোকাস গ্রুপে ডিএসএ-এর নীতিগুলো সম্পর্কে জানার পর সাধারণ ভোটাররা চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে 'ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসন বাজেয়াপ্ত' করার প্রস্তাবটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করেছে।   সিটি কাউন্সিলের সদস্য ট্রেসি পার্ক ও স্থানীয় নেতা নিকো রুডারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের নীতি বাস্তবায়িত হলে শহরটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। অতীতে এ ধরনের নীতি প্রয়োগের ফলে শহরের ওয়েস্টসাইড এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। পুলিশ ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিএসএ-এর এসব নীতিকে প্রচারণার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   ইতোমধ্যেই তারা সাত পৃষ্ঠার একটি ভোটার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ তুলে ধরতে নতুন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিকল্পনা করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২২:২৮