সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১:২১
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ
ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় ইরান ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের নিষেধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভার্চুয়াল দূতাবাস। ২০ সেপ্টেম্বর জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতায় সম্ভাব্য বিমান চলাচল বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। 

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ভ্রমণ সতর্কতায় ইরানকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা সতর্কতায় আবারও বলা হয়েছে, কোনো কারণেই ইরানে ভ্রমণ না করতে এবং দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের এখনই চলে যেতে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাস নেই, ফলে সেখানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সরাসরি কনস্যুলার সহায়তার সুযোগও সীমিত। 

 

সতর্কতায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং পরিস্থিতি কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই দ্রুত অবনতি হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে ইরান থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা দ্রুত পরিবর্তন করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। 

 

ইরান থেকে স্থলপথে বের হতে চাওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানের স্থলসীমান্তে প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়ম অল্প সময়ের নোটিশে পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে যে দেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেই দেশের প্রবেশের শর্ত আগে থেকে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। 

 

নতুন সতর্কতার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক বিমানবন্দরও অতীতে তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে সতর্কতায় বলা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে। 

 

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও হামলার পর আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। 

 

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাও নতুন করে বেড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। 

 

ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ, বড় জমায়েত ও পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্কিত স্থানগুলোতে কম দৃশ্যমান থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফোন সচল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পেতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে নিবন্ধনের কথাও জানানো হয়েছে। 

 

ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা বলছে। ফলে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা
সন্দেহে ডিএনএ পরীক্ষা! ৪০ বছর পর জানা গেল, যমজ দুই বোনের বাবা আলাদা

ব্রিটেনের দুই বোন মিশেল ও ল্যাভিনিয়া অসবর্নের জীবনে ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর এক ডিএনএ পরীক্ষা বদলে দিয়েছে পরিবার সম্পর্কে তাদের ধারণা। একই মায়ের গর্ভে একই সময়ে বেড়ে ওঠা এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া এই দুই বোন জানতে পারেন, তাদের জৈবিক বাবা একই ব্যক্তি নন। অর্থাৎ তারা যমজ হলেও জেনেটিকভাবে তারা সৎবোন। ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক প্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।    মিশেল ও ল্যাভিনিয়া ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন। তাদের মা জানিয়েছিলেন, তাদের বাবার নাম জেমস। তবে কৈশোরে জেমসের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলেও মিশেলের মনে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল, তিনি আসলেই তার জৈবিক বাবা কি না।    এই সন্দেহ থেকেই ২০২১ সালের শেষ দিকে মিশেল বাড়িতে করার জন্য একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট কিনেছিলেন। পরীক্ষার ফল ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি হাতে আসে। ফলাফলে দেখা যায়, জেমস তার জৈবিক বাবা নন। এরপর নিজের পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে মিশেল জানতে পারেন, তার জৈবিক বাবা অ্যালেক্স নামে একজন ব্যক্তি, যিনি তাদের মায়ের পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য ছিলেন।    এরপর ল্যাভিনিয়াও নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি প্রথমে ধারণা করেছিলেন, পরীক্ষার ফল মিশেলের ফলের সঙ্গে মিলবে। কিন্তু ফলাফল পাওয়ার পর সামনে আসে আরও বড় সত্য। দেখা যায়, মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার বাবা একই ব্যক্তি নন। ল্যাভিনিয়ার জৈবিক বাবা হিসেবে আরেক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আর্থার।    চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল ঘটনাকে বলা হয় হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন। সাধারণভাবে একজন নারীর একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু বের হলে এবং সেগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। পরে দুই ভ্রূণ একই গর্ভে বেড়ে উঠে একই সময়ে জন্ম নিলে তাদের যমজ হিসেবে দেখা যায়, কিন্তু তাদের জৈবিক বাবা আলাদা হয়।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রায় ২০টি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এমন ঘটনা অনেক সময় ধরা পড়ে না, কারণ পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ না থাকলে যমজ সন্তানদের আলাদাভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। যুক্তরাজ্যে মিশেল ও ল্যাভিনিয়ার ঘটনাটিকে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ডিএনএ পরীক্ষার ফল শুধু তাদের পারিবারিক পরিচয়ই বদলে দেয়নি, দুই বোনের সম্পর্কেও গভীর আবেগ তৈরি করে। ল্যাভিনিয়া জানান, সত্যটি জানার পর তিনি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশেল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাভাবিক হলেও পরীক্ষার ফল তার দীর্ঘদিনের সন্দেহের সঙ্গে মিলে যায়। পরে ল্যাভিনিয়া তার জৈবিক বাবা আর্থারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন।    দুই বোনের এই ঘটনা বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘দ্য গিফট’ অনুষ্ঠানের নতুন মৌসুমেও উঠে এসেছে। সেখানে তারা জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তাদের জৈবিক পরিচয় সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এলেও তারা একে অপরের জীবনে যমজ বোন হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ। চার দশকের বেশি সময় পর পাওয়া এই তথ্য তাদের পরিবারের অতীত সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করলেও, একই গর্ভে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে জীবন কাটানোর সম্পর্কটি তাদের কাছে আলাদা বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:২১
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭

কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭, যাতায়াত ও ফুল ফান্ডসহ রয়েছে আকর্ষণীয় সুবিধা

ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

ইরান ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশ

“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি

“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি

হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি

স্পেনের বার্সেলোনায় হানিমুনে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে একটি নার্সারি থেকে প্রায় ২০ শিশু উদ্ধার করে আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নবদম্পতি ডোরান স্মিথ ও ডেভিড স্কুইলান্তে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় আগুনের খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের অপেক্ষা না করে ভবনের ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুদের নিরাপদে বের করে আনতে সহায়তা করেন তারা। ঘটনাটি নিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।   ডোরান ও ডেভিড রোড আইল্যান্ডের ব্রিস্টলের বাসিন্দা। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিয়ের পর তাদের হানিমুনের পরিকল্পনা দুই বছরের বেশি সময় পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় সেই ভ্রমণে গিয়ে তারা এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যা তাদের পুরো সফরের অভিজ্ঞতাই বদলে দেয়।   বার্সেলোনায় একটি পার্কের দিকে হাঁটার সময় ডোরান দেখতে পান, একটি ভবন থেকে আতঙ্কিত কয়েকজন নারী দৌড়ে বের হয়ে আসছেন। প্রথমে ঠিক কী ঘটেছে তা বুঝতে না পারলেও পরে তিনি ভবনের দরজার কাছ থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখেন। তখনই তারা বুঝতে পারেন, ভবনটিতে আগুন লেগেছে।   ডেভিড পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবনটি যে একটি শিশুদের নার্সারি, তা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, প্রায় ১৫ থেকে ২০টি শিশু ঘুমিয়ে আছে। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য তিনি একে একে তাদের ক্রিবে বা শিশুদের ছোট শয্যায় তুলে বের করার ব্যবস্থা করতে শুরু করেন।   নার্সারির কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভাষাগত বাধা তৈরি হয়েছিল। ডেভিড ও ডোরান স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারতেন না। তারপরও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সবাই শিশুদের উদ্ধারে একসঙ্গে কাজ শুরু করেন। ডেভিড শিশুদের ক্রিবে তুলে এগিয়ে দিচ্ছিলেন, আর ডোরান সেগুলো বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।   শুধু এই দম্পতিই নয়, ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পথচারীরাও উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। বাইরে থাকা লোকজন শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। ডোরানের বর্ণনা অনুযায়ী, কেউ কারও ভাষা বুঝতে না পারলেও সবাই জানতেন তাদের লক্ষ্য একটাই, শিশুদের দ্রুত আগুনের এলাকা থেকে বের করে আনা।   ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শিশুদের বের করে আনার কাজ শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত নার্সারিতে থাকা শিশুদের সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।   পরে দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করেন। শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর ডোরান ও ডেভিডও ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। তারা কোনো বিশেষ স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিলেন না; বরং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বার্সেলোনার সফর চালিয়ে যান।   ডেভিড পরে বলেন, পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে পরবর্তীতে ফিরে তাকালেও তার কাছে বিষয়টি বাস্তব বলে মনে হয়নি। অন্যদিকে ডোরানও জানান, তারা তখন পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ সময় চিন্তা করার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের প্রয়োজনেই সবাই শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন।   ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অপ্রত্যাশিত সেই হানিমুনের ঘটনা ডোরান ও ডেভিডের জন্য শুধু একটি ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে থাকেনি; আগুনের মধ্যে আটকে থাকা শিশুদের নিরাপদে বের করে আনার ঘটনায় তাদের সাহসিকতার গল্পও হয়ে ওঠে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১:৭
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে  মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার

ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক

ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ

ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ, মেক্সিকো উপকূলে তল্লাশি

গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী

মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মালির মধ্যাঞ্চলের দিয়োরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৯৩ সেনাকে আটক এবং ১৫০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মালির সেনাবাহিনীও হতাহতের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।   জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যম আজ-জালাকায় জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ সেনা নিহত এবং ৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আটক সেনাদের কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    হামলার পর মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দিয়োরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে কয়েক ডজন হামলাকারী নিহত এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও পিকআপ ধ্বংসের কথা বলা হয়। তবে সেনাবাহিনী নিজেদের হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয়, নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, দিয়োরায় অন্তত ১০০ মালিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের পাঁচ সদস্যও নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ৮০ জনের বেশি সেনাকে আটকের দাবির কথাও উঠে আসে।   এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৫০ মালিয়ান সেনা ও পাঁচ রুশ আফ্রিকা কর্পস সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র তখন নিহতের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জেএনআইএম ২০১৭ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। গোষ্ঠীটি মালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় একাধিক বড় হামলা চালিয়েছে।   মালি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাও অব্যাহত রয়েছে।   দিয়োরা হামলার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং কতজন সেনা আটক হয়েছেন, তা মালির সরকার বা স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেএনআইএমের দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মালির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হতে পারে।   Source: আরব নিউজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:৩৮
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী

মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী

গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ

গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত

করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

0 Comments