- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে, যার লক্ষ্য গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা এবং চীন ও রাশিয়ার মতো ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি বা সংবেদনশীল বিনিয়োগ ঠেকানো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ সেপ্টেম্বর চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যেন দ্বীপটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা এমন বিনিয়োগ করতে না পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যবর্তী কৌশলগত এলাকায় রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক স্পেস বেস রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা, মহাকাশ পর্যবেক্ষণ এবং স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের বাজেট নথিতেও পিটুফিককে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব শুধু সামরিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্কটিকে বরফ গলার সঙ্গে নতুন নৌপথ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। চীন ও রাশিয়াও এই অঞ্চলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি সীমিত রাখতে চাইছে। তবে চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে। ডেনিশ কর্মকর্তারা এটিকে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন এবং ন্যাটোরও এতে ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লেকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিকের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের দায়িত্ব নয়, ন্যাটোরও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তিটি বিদ্যমান ১৯৫১ সালের মার্কিন ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল হিসেবে রয়েছে এবং সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলে আসছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান চুক্তি অবশ্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করে দিচ্ছে না; বরং মূল বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত সহযোগিতা। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ ও বিতর্কের পর নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, সেটিই এখন নজরে থাকবে।
দেশে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, যা তাদের প্রাপ্য নয়। তিশার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারীদের নিরাপদে চলাফেরার সুযোগ। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষ অন্যায়ের শিকার হলেও অনেক সময় প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পায় না। নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তাঁর মতে, একজন নারী যেন যেকোনো পরিস্থিতিতে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। আলোচনায় সোনার গয়না পরে বাইরে চলাফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিশা প্রশ্ন তোলেন, নিরাপত্তার আশঙ্কায় একজন নারীকে কেন গয়না ব্যাগে লুকিয়ে নিয়ে চলতে হবে? তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল—নারীরা নিজেদের জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে বা পরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, এমন নিরাপদ পরিবেশ থাকা উচিত। তানজিন তিশা দীর্ঘদিন ধরে দেশের টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ। র্যাম্প মডেলিং দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু করার পর বিজ্ঞাপন ও সংগীতচিত্রের মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। পরে নিয়মিত নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বর্তমানে বড় পর্দাতেও কাজ করছেন তিশা। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর অভিনীত ‘সোলজার’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এবং এতে শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিশার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আপনার দেওয়া “সবসময় একটা ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাকে” বাক্যটি আমি যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোতে হুবহু পাইনি। তাই সেটিকে সরাসরি তিশার উদ্ধৃতি হিসেবে না দিয়ে তাঁর যাচাইকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদটি লেখা হলো।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো। হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেস পরিচয়পত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তিন সংবাদমাধ্যম। সোমবার তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর একদিন পর শনিবার সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টাররা সেখানে প্রবেশ করতে গেলে তাদের প্রেস ব্যাজ অকার্যকর করে দেওয়া হয়। সিএনএনের বেটসি ক্লেইন এবং এমএস নাওয়ের আকায়লা গার্ডনারকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে পলিটিকোর হোয়াইট হাউস রিপোর্টার শেয়েন হাসলেটের ব্যাজও জব্দ করা হয়। তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছে। মামলার প্রস্তুতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, সরকার কোনো সংবাদমাধ্যম কী প্রকাশ করবে বা কীভাবে প্রশাসনের কার্যক্রম কভার করবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। এই আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে বৈষম্যের বিষয়টিও রয়েছে। অর্থাৎ কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য বা প্রতিবেদনের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদাভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে কি না, সেটিই আদালতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। এদিকে সোমবার সকালে সিএনএন ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে প্রতিবেদন করেন। একই দিনে সিএনএনকে প্রেস পুলের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রেস পুলে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সফর কভার করে। ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফর কভার করার দায়িত্ব সিএনএনের ছিল। তবে হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের পর সেই দায়িত্বে বিকল্প কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়নি বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, তিনি মুক্ত সংবাদমাধ্যমকে সমর্থন করেন। তবে যেসব সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে মনে করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, এ ধরনের সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকুই হাইনরিশ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কারণে তাকে হোয়াইট হাউস থেকে বাদ দেওয়ার যে মানদণ্ড তৈরি হবে, ভবিষ্যতে সেটি অন্য সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার ও কভারেজ নিয়ে বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের একাধিক বিরোধ হয়েছে। গত বছর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকদেরও ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আদালতে মামলা করে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর নতুন আইনি পদক্ষেপের পর বিষয়টি ফেডারেল আদালতে গড়াবে। সেখানে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। মামলার মাধ্যমে তিন সংবাদমাধ্যম তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চাইবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্দরে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের নামিয়ে দেওয়ার পর তাদের বহনকারী নৌকা নিয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করা একদল অভিবাসীকে একটি নৌকায় করে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে আনা হয়। পরে তাদের একটি বন্দরে নামিয়ে দিয়ে নৌকাটি সেখান থেকে চলে যায়। ঘটনাটিকে কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসী আনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা হিসেবে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল দিয়ে নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা নতুন নয়। চলতি বছরও ইউএস কোস্ট গার্ড দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূল থেকে একাধিক সন্দেহভাজন অভিবাসীকে আটক করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগোর প্রায় ২১ মাইল পশ্চিমে একটি পাঙ্গা-ধরনের নৌকা থেকে ১৬ জনকে আটক করে কোস্ট গার্ড। তাদের পরে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সান্তা বারবারা আইল্যান্ডের প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে ২৪ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে একটি নৌকা থেকে আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের নিউপোর্ট হারবারে নিয়ে যায় এবং সেখানে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করে। কোস্ট গার্ডের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ছোট নৌকা ব্যবহার করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর চ্যানেল আইল্যান্ডস হারবার থেকে প্রায় ৮৮ মাইল দূরে একটি ৩০ ফুটের নৌকা থেকে ৩৭ জন সন্দেহভাজন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। নৌকাটিতে জ্বালানি, খাবার ও পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং সেটি দুই দিন ধরে ভাসছিল। পরে ৩৭ জনকেই বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নতুন ঘটনাটির ক্ষেত্রে ঠিক কতজনকে বন্দরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জাতীয়তা কী এবং নৌকাটি কোথা থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে সন্দেহজনক নৌযান শনাক্ত হলে তারা ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অভিবাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দেওয়া ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল জুলাইয়ের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইমসহ টহল চালিয়ে যাওয়ার খরচ নিউইয়র্ক সিটিকে বহন করতে হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তহবিল শেষ হলেও পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বন্ধ হয়নি। এই তহবিল গত বছরের ডিসেম্বরে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ঘোষণা করেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কের পাতালরেল ব্যবস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়ানো। হোকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব ও টহল কার্যক্রমে সহায়তা করার কথা ছিল। তবে রাজ্য ও শহরের মধ্যে আগে থেকেই থাকা অর্থায়ন ব্যবস্থায় বছরের এক অংশের খরচ রাজ্য এবং অন্য অংশের খরচ শহরের বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, পাতালরেলে পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েনের মোট ব্যয় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল এবং রাজ্য ও শহরের মধ্যে তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। হোকুলের কার্যালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ উপস্থিতির জন্য ৭৭ মিলিয়ন ডলার করে দিয়েছে এবং শহর অপর অংশের জন্য সমপরিমাণ অর্থ দিয়েছে। ফলে রাজ্যের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অতিরিক্ত পুলিশ টহল চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। শহর ও রাজ্য উভয় পক্ষই জানিয়েছে, এই অর্থায়ন ব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে। মেয়র জোরান মামদানির প্রশাসন তাই পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যয় বহন করছে। মেয়রের মুখপাত্র স্যাম রাসকিন বলেছেন, বিদ্যমান অর্থায়ন ব্যবস্থার আওতায় শহর ও রাজ্য পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রাখবে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগও জানিয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন চালু থাকবে। তহবিল শেষ হওয়ার খবরটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পাতালরেলে কিছু ধরনের হামলার ঘটনা বেড়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পাতালরেলে গুরুতর হামলার ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে। তুলনামূলক কম গুরুতর হামলার ঘটনাও প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০টিতে পৌঁছেছে। তবে সামগ্রিকভাবে পাতালরেলে অপরাধ প্রায় ১ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গুরুতর হামলার ঘটনায় ২৬৩ জনকে অন্তত তিনবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৮ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ২০৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, শহরজুড়ে গুরুতর হামলার অভিযোগের প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশের হিসাবে, পাতালরেলের ৭১ শতাংশ যাত্রী এখনো ব্যবস্থাটিকে নিরাপদ মনে করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণার সময় হোকুল বলেছিলেন, এই অর্থ দিয়ে প্রতিদিন ৬০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে পাতালরেলে মোতায়েন রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টহল বাড়ানো সম্ভব হবে। পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ওভারটাইম খরচও এই উদ্যোগের আওতায় ছিল। পাতালরেলের নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের উপস্থিতি বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ক্যামেরা স্থাপন এবং গৃহহীন ব্যক্তিদের সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাতালরেলে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত রাখতে আরও ৭৭ মিলিয়ন ডলারের অর্থ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে হোকুল তৎকালীন মেয়র এরিক অ্যাডামসের সঙ্গে পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বাড়ানোর জন্য ১৫৪ মিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ অর্থায়ন ব্যবস্থায় গিয়েছিলেন। সেই ব্যবস্থায় রাজ্য ও শহর সমানভাবে ব্যয় বহন করার কথা ছিল। নিউইয়র্ক সিটির বাজেট নথিতেও এই অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সাম্প্রতিক বাজেট বিশ্লেষণেও পাতালরেল নিরাপত্তা উদ্যোগের জন্য রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই অর্থ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অতিরিক্ত সময়ের ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, রাজ্যের ৭৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল শেষ হয়ে গেলেও নিউইয়র্কের পাতালরেলে অতিরিক্ত পুলিশ টহল বন্ধ হচ্ছে না। আগে থেকে থাকা অর্থায়ন চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের অংশের ব্যয় নিউইয়র্ক সিটি বহন করছে। সেই ব্যবস্থার অধীনেই মামদানি প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের খরচ দিচ্ছে এবং পাতালরেলে টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
রাজস্থানের বারমের জেলার জালিপা গ্রামের দীপু কংওয়ার বিয়ের পরও থামাননি পড়াশোনা। বিয়ের সময় তিনি জামনগরে এলএলবি পড়ছিলেন। এরপর সংসার, সন্তান এবং পারিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি চালিয়ে যান আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি। সাত বছর পর গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করে সিভিল জজ হয়েছেন তিনি। দীপুর এই সাফল্যের পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি বড় ভূমিকা ছিল পরিবারের সহযোগিতার। বিশেষ করে তার শ্বশুর থান সিং এবং স্বামী লোকেন্দ্র সিং তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। বাড়ির কাজ করার বদলে বই নিয়ে পড়তে বলতেন শ্বশুর। ফলে বিয়ের পরও আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। বিয়ের সময় দীপু ছিলেন এলএলবির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পরও তিনি পড়াশোনা বন্ধ করেননি। ২০২১ সালে আইন পেশায় প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং একই সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। গুজরাট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আইন পেশার অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকেও তিনি এগিয়ে যান। তবে সফলতা প্রথমবারেই আসেনি। ২০২২ সালের পরীক্ষায় দীপু প্রিলিমিনারি ও মেইনস পাস করেছিলেন। কিন্তু ইন্টারভিউ ধাপে গিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে পারেননি। এরপর ২০২৩ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নিলেও মেইনস পাস করতে পারেননি। টানা দুইবার ব্যর্থতার পরও তিনি প্রস্তুতি বন্ধ করেননি। এরপর তৃতীয় প্রচেষ্টায় আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ২০২৫ সালের গুজরাট স্টেট জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় ৭৯তম স্থান অর্জন করেন দীপু কংওয়ার। এর মাধ্যমে সিভিল জজ হওয়ার পথ খুলে যায় তার সামনে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তার এই সাফল্যের কথা উঠে এসেছে। দীপুর গল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিয়ের পর এবং মা হওয়ার পরও নিজের পেশাগত লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। পারিবারিক দায়িত্বের সঙ্গে পড়াশোনা ও আইন পেশা চালিয়ে যেতে তার শ্বশুরবাড়ির সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবেশ তাকে বারবার ব্যর্থতার পরও প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। দীপুর সাফল্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার পরিবারের সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তার যাত্রা দেখিয়েছে, বিয়ের পর শিক্ষা বা পেশাগত লক্ষ্য চালিয়ে যেতে পারিবারিক সমর্থন একজন নারীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তার সাফল্যের পেছনে দীর্ঘ সময়ের পড়াশোনা, আইন পেশার অভিজ্ঞতা এবং একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে বাস মালিক, শ্রমিক ও পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মূলত জ্বালানি তেলের নতুন দামের কারণে বাস পরিচালন ব্যয় কতটা বেড়েছে এবং সেই ব্যয় যাত্রীভাড়ার সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকন জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে তুলে ধরেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মালিকপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বর্তমানে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবহন মালিকদের যুক্তি হচ্ছে, জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে এক টাকা বাড়লে বাসভাড়া কিলোমিটারে এক পয়সা বাড়ানোর একটি হিসাব তারা প্রস্তাব করেছেন। সেই হিসাবে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় বাসভাড়া কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি ভাড়া নয়, বরং মালিকপক্ষের প্রস্তাব। সরকার রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। দেশের বিপুলসংখ্যক বাস ও অন্যান্য গণপরিবহন ডিজেলচালিত হওয়ায় লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন মালিকদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। মালিকপক্ষ বলছে, শুধু জ্বালানি নয়, পরিবহন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এর আগে গত এপ্রিলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছিল। তখন আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসভাড়াও কিলোমিটারপ্রতি ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৩ পয়সা। এদিকে নতুন সরকারি ভাড়া ঘোষণার আগেই কিছু পরিবহনে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানীর অধিকাংশ গণপরিবহন পুরোনো ভাড়ায় চললেও কিছু বাসে স্টপেজপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে অনেক চালক ও পরিবহনকর্মী জানিয়েছেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আগের ভাড়াই নিচ্ছেন। পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। ফলে বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাবকে চূড়ান্ত ভাড়া হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এখন বিআরটিএর সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন যাত্রী ও পরিবহন মালিকরা। নতুন ভাড়া অনুমোদিত হলে কোন শ্রেণির বাসে কিলোমিটারপ্রতি কত টাকা দিতে হবে এবং সর্বনিম্ন ভাড়ায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—সেটিও সরকারি ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
তুরস্কের এজিয়ান উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি বিরল রোমান মোজাইক আবিষ্কৃত হয়েছে। মোজাইকটিতে বিভিন্ন প্রাণী ও পৌরাণিক চরিত্রের পাশাপাশি একটি বিড়াল ও একটি কুকুরের নামও লেখা রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, প্রাণী দুটি ওই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোজাইকটি প্রাচীন বন্দরনগরী আদ্রামিত্তেয়নের নিচে থাকা একটি রোমান ভিলার ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ অথবা তৃতীয় শতাব্দীর সময়কার। ভিলাটির কেন্দ্রস্থলে থাকা মোজাইকটির আকার প্রায় ১৬ দশমিক ৪ ফুট বাই ১১ দশমিক ৮ ফুট। মোজাইকটি মোট ১৫টি পৃথক দৃশ্য নিয়ে তৈরি। এতে পাখি, মাছ, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী এবং পৌরাণিক চরিত্রের ছবি রয়েছে। এর কেন্দ্রীয় অংশে সাপের মতো চুলওয়ালা পৌরাণিক চরিত্র গর্গন মেডুসার ছবিও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মোজাইকের অসংখ্য প্রাণীর মধ্যে মাত্র দুটি প্রাণীর নাম লেখা হয়েছে। একটি বিড়ালের নাম ‘এমেরাল্ড’ এবং একটি কুকুরের নাম ‘ওশান’। বিড়ালটিকে নীল-সবুজ রঙের একটি কুশনের ওপর আরাম করে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার ওপরে গ্রিক ভাষায় ‘এমেরাল্ড’ নামটি লেখা রয়েছে। মিমার সিনান ফাইন আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আদ্রামিত্তেয়ন গবেষণা দলের প্রধান হুসেইন ওজগেনের গবেষণা অনুযায়ী, নামটি ইঙ্গিত করে যে এমেরাল্ড শুধু মোজাইকের অলংকার হিসেবে দেখানো হয়নি। বরং প্রাণীটি ওই বাড়ির মানুষের কাছে পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মতে, বিড়ালটিকে পথের কোনো বেওয়ারিশ প্রাণী হিসেবে দেখানোর চেয়ে পরিবারের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় এমেরাল্ড নামটির সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন রোমান যুগে রোমান মিসরের মরুভূমি অঞ্চলে পান্না উত্তোলন করা হতো। এ কারণে ভিলাটির মালিকের উত্তর আফ্রিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ থাকা কোনো ব্যবসায়ী হতে পারেন বলে ওজগেন ধারণা করেছেন। অন্যদিকে কুকুর ‘ওশান’-কে মোজাইকে আরও প্রাণবন্ত ভঙ্গিতে দেখানো হয়েছে। ছবিতে কুকুরটিকে দৌড়ানো বা লাফানোর মাঝামাঝি অবস্থায় দেখা যায়। তার পাশে গ্রিক ভাষায় ‘ওশান’ নামটি লেখা রয়েছে। ওজগেনের ধারণা, কুকুরটির নামও বিশেষ কোনো কারণে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। আদ্রামিত্তেয়ন শহরটি সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ‘ওশান’ নামটি শহরটির ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এমেরাল্ড ও ওশানকে আধুনিক অর্থে পোষা প্রাণী হিসেবে পালন করা হতো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। গবেষকের মতে, প্রাণী দুটি ওই ভিলার আশপাশে নিয়মিত দেখা যেত এবং সেখানকার মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। সেই কারণেই তাদের মোজাইকে আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকতে পারে। হুসেইন ওজগেন ২০১২ সাল থেকে আদ্রামিত্তেয়নে খননকাজ পরিচালনা করছেন। তবে রোমান ভিলাটি সম্প্রতি শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সেখানে খননকাজ চালিয়ে এই মোজাইকসহ গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন শহরটিতে এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ চলছে। ফলে মাটির নিচে আরও নিদর্শন ও প্রাচীন জীবনযাত্রার নানা তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সমস্যার কারণে আবারও ফ্লাইট দেরি ও বাতিলের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অনেকেই জানেন না, কখন এয়ারলাইনকে খাবার, হোটেল বা বিকল্প ফ্লাইট দিতে হবে এবং কখন টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীদের জন্য এসব অধিকার আইনেই নির্ধারিত রয়েছে। যুক্তরাজ্য বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা অনেক ফ্লাইট এবং নির্দিষ্ট ব্রিটিশ বা ইউরোপীয় এয়ারলাইনের ফ্লাইট এসব যাত্রী অধিকার আইনের আওতায় পড়ে। ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রী সাধারণত পুরো টাকা ফেরত নেওয়া অথবা বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাতিলের পর বিকল্প ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে হলে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও এয়ারলাইনকে দিতে হতে পারে। যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, রিফান্ড সাধারণত সাত দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা। ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা বা তার বেশি দেরি হলে যাত্রী আর ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অব্যবহৃত যাত্রার টিকিটের টাকা ফেরত চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে শুধু ভাউচার দেওয়ার পরিবর্তে টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকে, যদি না যাত্রী নিজে ভাউচার গ্রহণে সম্মত হন। তবে যাত্রী যদি পাঁচ ঘণ্টার বেশি দেরির পরও ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। দীর্ঘ সময় ফ্লাইট আটকে থাকলে এয়ারলাইনের দায়িত্ব শুধু টিকিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি দেরি হলে যাত্রীকে খাবার ও পানীয় দিতে হয়। দেরির কারণে রাত কাটানোর প্রয়োজন হলে হোটেল এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতে হতে পারে। সাধারণত ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে দুই ঘণ্টা, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে তিন ঘণ্টা এবং এর বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে চার ঘণ্টা দেরির পর এই সহায়তার অধিকার কার্যকর হয়। ফ্লাইটের দেরি যদি যাত্রীর চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বাড়িয়ে দেয়, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণও পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে ক্ষতিপূরণ ২২০ পাউন্ড, ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের ফ্লাইটে ৩৫০ পাউন্ড এবং ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে ৫২০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছানোর দেরি তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ২৬০ পাউন্ড হতে পারে। তবে ফ্লাইট দেরি বা বাতিল হলেই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত নয়। এয়ারলাইনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কিছু ঘটনাকে আইনে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনার অনুপযোগী আবহাওয়া, বিমানবন্দর বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মীদের ধর্মঘট, নিরাপত্তা ঝুঁকি, রাজনৈতিক বা বেসামরিক অস্থিরতা এবং কিছু ধরনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। এসব কারণে সরাসরি দেরি বা বাতিল হলে নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও বিকল্প ফ্লাইট, খাবার, হোটেলসহ যাত্রীর অন্যান্য অধিকার সাধারণত বহাল থাকে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস বা ন্যাটসের একটি সিস্টেম সমস্যার কারণে ব্যাপক ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার পর দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছিল, ওই ঘটনার কারণে সৃষ্ট দেরি ও বাতিলকে ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি সারকামস্ট্যান্সেস’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ নাও পেতে পারেন। তবে তাদের খাবার, থাকার ব্যবস্থা ও বিকল্প যাত্রার মতো অন্যান্য অধিকার আলাদা বিষয়। ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীকে নিজের খরচে খাবার বা হোটেলের ব্যবস্থা করতে হলে সব রসিদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এয়ারলাইন প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত খরচ পরে ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বিলাসবহুল হোটেল, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল খাবার বা অ্যালকোহলের মতো খরচ সাধারণত ফেরতযোগ্য নয়। ফ্লাইট দেরি বা বাতিলের পর ক্ষতিপূরণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে না। যাত্রীকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের কাছে দাবি করতে হয়। এয়ারলাইন দাবি প্রত্যাখ্যান করলে কেন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তা জানানোর কথা। যাত্রী সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারেন। তাই ফ্লাইটের সময়সূচি, বাতিলের নোটিশ, বোর্ডিং তথ্য, অতিরিক্ত খরচের রসিদ এবং এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে চারজন গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে একই পরিবারের মোট ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তী প্রতিবেদনে হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুই পরিবারের সদস্য আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ৬০০ টাকা মজুরি নিয়ে। আহত জহিরুলের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল মৃধার জমিতে কাজ করার পর তাঁর ৬০০ টাকা মজুরি পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারও পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং রাসেলও আহত হন। পরদিন সোমবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল বৈঠক ছেড়ে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে জহিরুলকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে মা মনোয়ারা বেগম এবং দুই ভাই রেজাউল ও খাইরুল এগিয়ে এলে তাঁরাও হামলার শিকার হন। পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের আরও দুই নারী সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আনা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী হামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
গুজরাটের প্রত্যন্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল ভারতের হীরা ব্যবসায়ী সাভজি ধোলাকিয়াকে। কিশোর বয়সেই তিনি চাচার হীরা ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। পরে ভাইদের সঙ্গে গড়ে তোলেন হীরা রপ্তানি প্রতিষ্ঠান হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস। তবে ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারের ব্যবস্থা করে আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচনায় আসেন তিনি। ধোলাকিয়ার জন্ম গুজরাটের আমরেলি জেলার দুধালা গ্রামের একটি কৃষক পরিবারে। ১৩ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে তিনি সুরাটে চাচার হীরা ব্যবসায় যোগ দেন। কয়েক বছর কাজ শেখার পর ভাই হিম্মত ও তুলসীর সঙ্গে ১৯৮৪ সালে নিজেদের হীরা ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ছোট ভাই ঘনশ্যামও ব্যবসায় যুক্ত হন এবং মুম্বাইয়ে অফিস স্থাপনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি শুরু হয়। ধোলাকিয়ার ব্যবসায়িক দর্শনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো কর্মীদের সঙ্গে সাফল্য ভাগ করে নেওয়ার নীতি। ২০১৪ সালে হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টসের প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীকে গাড়ি, ফ্ল্যাট কেনার অর্থ এবং স্বর্ণ ও হীরার গয়না দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ কোটি রুপির সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৪৯১ জন কর্মী গাড়ি এবং প্রায় ২০০ জন বাড়ি কেনার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। এর পরের বছরগুলোতেও এমন পুরস্কারের ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ২৬০টি গাড়ি এবং ৪০০টি ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে কর্মীদের গয়না দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ওই পুরস্কার সবার জন্য ছিল না। কর্মীদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা ও নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে নির্বাচিত করা হতো। কর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির পদ্ধতি ছিল কিছুটা ভিন্ন। সে সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীদের বিভিন্ন পারফরম্যান্স প্যারামিটার মূল্যায়ন করা হতো। কাজের মানের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ ছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ধোলাকিয়া বারবার বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে কর্মীদের অবদান রয়েছে এবং তাদের সেই সাফল্যের অংশীদার করা উচিত। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, কর্মীদের উৎসাহিত করতেই তিনি এই ধরনের লয়্যালটি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন। তার কাছে বিষয়টি শুধু দান বা কর্মীদের ব্যবস্থাপনার কৌশল নয়, বরং মানবিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। তার ব্যবসার পরিধিও সময়ের সঙ্গে বড় হয়েছে। হরি কৃষ্ণ এক্সপোর্টস হীরা কাটা, পালিশ ও রপ্তানির পাশাপাশি হীরা ও জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও চীনের মতো বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধোলাকিয়ার কর্মী পুরস্কারের গল্প আলোচনায় এলেও এর মূল বিষয় শুধু গাড়ি বা ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘটনা নয়। বরং কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অবদানকে ব্যবসার সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখার একটি করপোরেট সংস্কৃতি এখানে সামনে আসে। অবশ্য এই ধরনের বড় পুরস্কার দেওয়ার মডেল সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তবে কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, সাফল্যের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি করার ধারণাটি ব্যবসা পরিচালনায় আলাদা একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর ঘরে এসেছিল যমজ কন্যাসন্তান। পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ থাকার কথা থাকলেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। স্ত্রী ও সদ্য জন্ম নেওয়া দুই সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি ফেরার পর আলাল উদ্দিন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং নবজাতকদের চিকিৎসার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালবাথান এলাকায়। আলাল উদ্দিনের স্ত্রী হাসপাতালে যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের ঘরে সন্তান আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটিতে নেমে আসে শোক। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সন্তান জন্মের পর স্ত্রী ও দুই নবজাতক হাসপাতালে থাকলেও আলাল রাতে বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনে সাড়া না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানানো হয়। প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। নিহতের ভাই জামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থতার কারণে প্রায় এক বছর ধরে কর্মহীন ছিলেন আলাল। ফলে পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ঋণের চাপ এবং সদ্য জন্ম নেওয়া দুই শিশুর চিকিৎসার ব্যয় যোগ হওয়ায় তাঁর দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। এসব চাপের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছে। তবে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়, পরিবারের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি একই সঙ্গে নিম্নআয়ের পরিবারের চিকিৎসাব্যয় ও ঋণের চাপের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সন্তান জন্ম ও চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হয়। একদিকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর দুই সন্তানের জন্ম, অন্যদিকে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—দুই বিপরীত ঘটনার মধ্যে পড়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মুখে। হাসপাতালে থাকা মা ও দুই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্বজনদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষার পথ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছেন ড. নিয়াজ লতিফ। বর্তমানে তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক বিষয়ক সহযোগী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং কমার্শিয়ালাইজেশন অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং এক্সিলেন্স সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের বর্তমান গবেষণা বোর্ডের তথ্যেও এসব দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে। ড. নিয়াজ লতিফের শিক্ষাজীবনের শুরু বাংলাদেশে। তাঁর একাডেমিক নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে যুক্তরাষ্ট্রে। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি ১৯৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং ১৯৮৫ সালে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দুটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি থেকে অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর পেশাগত জীবনের শুরু হয় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউনিজে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে। ১৯৯০ সালে তিনি নর্দার্ন কেনটাকি ইউনিভার্সিটিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সহযোগী অধ্যাপক ও ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রামের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি টেকনিক্যাল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৯৯ সালে তাঁর একাডেমিক নেতৃত্বের পরিধি আরও বাড়ে। সে বছর তিনি পারডু ইউনিভার্সিটি ওয়েস্ট লাফায়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার সঙ্গেও যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত নথিতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি বিভাগের প্রধান এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উইকেন্ড মাস্টার্স ডিগ্রি প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য রয়েছে। ২০০৭ সালে ড. নিয়াজ লতিফ পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে যোগ দেন এবং কলেজ অব টেকনোলজির ডিন হন। দীর্ঘ সময় এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে একাডেমিক প্রোগ্রাম উন্নয়ন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ, অ্যাক্রেডিটেশন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়গুলোও ছিল। সাউথ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি প্রোগ্রাম চালু এবং বিভিন্ন গবেষণা ও ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও ড. লতিফের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর পেশাগত নথি অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন ফেডারেল ও বেসরকারি উৎস থেকে গবেষণা ও প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সংগ্রহে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের মতো প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন পাওয়া প্রকল্পেও তিনি যুক্ত ছিলেন। পারডু নর্থওয়েস্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উৎস মিলিয়ে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের অনুদান সংগ্রহ করা হয়। একাডেমিক প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকৌশল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পেশাজীবী সংগঠনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। তিনি অ্যাক্রেডিটেশন প্রতিষ্ঠান এবিইটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নির্বাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের এবিইটি ইমপ্যাক্ট রিপোর্টে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টে তাঁর দায়িত্বও সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারিম প্রভোস্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ফর একাডেমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি গবেষণা ও গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ইন্টারিম অ্যাসোসিয়েট ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৩ সালে কলেজ অব টেকনোলজির ডিনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে গবেষণা, স্পনসর্ড প্রোগ্রাম এবং কমার্শিয়ালাইজেশন কার্যক্রমে আরও সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও ড. লতিফ গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ তৈরির কাজে যুক্ত। পারডু নর্থওয়েস্টের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কমার্শিয়ালাইজেশন নিয়েও তাঁর ভূমিকার কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট এক প্রকাশনায় রবার্টস ইমপ্যাক্ট ল্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর গবেষণা উদ্যোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে দীর্ঘ এই পথ ড. নিয়াজ লতিফের পেশাগত যাত্রার বিস্তৃতি তুলে ধরে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, ডিন এবং একাডেমিক প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি এখন পারডু ইউনিভার্সিটি নর্থওয়েস্টের একাডেমিক ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে রয়েছেন। সূত্র: পাবলিকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বরের মাসিক পেমেন্ট পেতে যাচ্ছেন। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্সের সেই সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট যাবে, যাদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। এ সপ্তাহের পেমেন্ট নিয়ে আলোচনায় থাকা ৫,১৮১ ডলার হলো ২০২৬ সালে ৭০ বছর বয়সে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট শুরু করা নির্দিষ্ট যোগ্য কর্মীর সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা, সবার জন্য প্রযোজ্য অঙ্ক নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটির নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ অবসর, সারভাইভার ও সোশ্যাল সিকিউরিটি ডিসঅ্যাবিলিটি ইন্স্যুরেন্স সুবিধাভোগীর পেমেন্ট জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাসের তিনটি বুধবারে ভাগ করে দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাসে ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট গেছে ৯ সেপ্টেম্বর, ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পেমেন্ট গেছে ১৬ সেপ্টেম্বর। ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের অফিসিয়াল পেমেন্ট ক্যালেন্ডারেও এই সময়সূচি রয়েছে। তবে সবাই এই জন্মতারিখভিত্তিক সূচি অনুসরণ করেন না। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাদের জন্য আলাদা পেমেন্ট সূচি রয়েছে। একইভাবে যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই দুটিই পান, তাদের পেমেন্টের তারিখও আলাদা হতে পারে। সেপ্টেম্বর মাসে এসএসআই পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর এবং নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর পেমেন্ট গেছে ৩ সেপ্টেম্বর। ৫,১৮১ ডলারের অঙ্কটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সাধারণ মাসিক পেমেন্ট নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কেউ যদি ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের সীমা পর্যন্ত আয় করেন এবং ৭০ বছর বয়সে অবসর সুবিধা শুরু করেন, তাহলে তার সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা হতে পারে ৫,১৮১ ডলার। একই ধরনের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড থাকা কেউ ৬২ বছর বয়সে সুবিধা শুরু করলে সর্বোচ্চ ২,৯৬৯ ডলার এবং পূর্ণ অবসর বয়সে শুরু করলে সর্বোচ্চ ৪,১৫২ ডলার পেতে পারেন। অর্থাৎ ৫,১৮১ ডলার পেতে হলে দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের পর্যায়ে থাকা এবং ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত সুবিধা নেওয়া পিছিয়ে দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটির জন্য সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার। তবে শুধু কোনো এক বছরে এই পরিমাণ আয় করলেই সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায় না। একজনের আজীবনের আয়ের রেকর্ড এবং সুবিধা নেওয়ার বয়সসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত পেমেন্ট নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। বাস্তবে বেশিরভাগ অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ৫,১৮১ ডলার পান না। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গড়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী মাসে প্রায় ২,০৭১ ডলার পাওয়ার কথা ছিল। জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা ছিল ২,০৮৫ দশমিক ৯৮ ডলার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সুবিধা ও গড় সুবিধার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। চলতি বছরে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালে পূর্ণ অবসর বয়সে অবসর নেওয়া ব্যক্তির সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪,১৫২ ডলার হয়েছে। তবে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর প্রকৃত পেমেন্ট তার নিজের আয়ের ইতিহাস, কখন সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং কোন ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে। নিজের সম্ভাব্য পেমেন্ট জানতে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তিগত সুবিধার হিসাব দেখা যায়। এদিকে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখের পর নিয়মিত জন্মতারিখভিত্তিক পেমেন্ট চক্র শেষ হবে। এরপর অক্টোবরের পেমেন্ট সূচি শুরু হবে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত পেমেন্টের দিন ছুটির দিন বা সপ্তাহান্তে পড়লে সাধারণত আগের কর্মদিবসে পেমেন্ট দেওয়া হয়। কোনো সুবিধাভোগীর নির্ধারিত দিনে টাকা না এলে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা হয়েছে ধরে না নিয়ে প্রথমে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তবে তার সফরসঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ও সংবাদকর্মী দলের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নজিরবিহীন ও বৈরী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে ইরনা। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসির বরাতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা না দেওয়া হলেও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর খবর জনসাধারণের কাছে ঠিকই পৌঁছে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ানই প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ভিসা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারা কোনো বিলাসবহুল পণ্য বা নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী কিনতে পারবেন না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার বাধ্য। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা বৈদেশিক নীতির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রশাসন বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি ও তাদের সফরসঙ্গীদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বৈরিতার কারণে প্রায়ই ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এর আগেও বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা প্রদানে বিলম্ব বা সরাসরি অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি নতুন রূপ এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক দেশের ভূমিকা এবং ভিসা নীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। সূত্র: ইরনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
রংপুরের পীরগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়দরগাহ ইউনিয়নের গুজিপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটির মা স্থানীয় বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির উত্তর-পশ্চিম দিকে একটি ইউক্যালিপটাস বাগানের কাছে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামকে দেখতে পান তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যরা একটি কক্ষের দরজা বন্ধ অবস্থায় শিশুটিকে কান্নারত দেখতে পান। তাকে বাইরে আনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, তার মেয়ে জানিয়েছে—নুরুল ইসলাম তাকে বাড়ির পাশের একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ৩৩। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজমুল হক জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে প্রেমিকাকে গুলি করার পর এক তরুণেরও মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, ২২ বছর বয়সী ল্যান্ডন লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে খেলছিলেন। একপর্যায়ে সেটি তাঁর ২১ বছর বয়সী প্রেমিকা ক্লোইরে ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করে ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে তাঁকে আঘাত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বাগদানের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে তরুণীর পরিবার। ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আলাস্কার ফেয়ারব্যাঙ্কস শহরের বেন্টলি ড্রাইভের একটি বাড়িতে। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রাত প্রায় ৯টা ১২ মিনিটে জরুরি সেবা ৯১১-এ ফোন করেন লোরেন্সের এক বন্ধু। তিনি জানান, লোরেন্স দুর্ঘটনাবশত তাঁর প্রেমিকাকে গুলি করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লোরেন্স একটি রিভলবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন এবং একপর্যায়ে সেটি ম্যাকব্রেয়ারের দিকে তাক করেন। এরপর ট্রিগার চাপলে গুলি বেরিয়ে যায়। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের ধারণা রিভলবারটির চেম্বারে একটি গুলি ছিল। তবে অস্ত্রটিতে গুলি থাকার বিষয়টি লোরেন্স জানতেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সময় ম্যাকব্রেয়ার অন্য একজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গুলির ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোরেন্সের বন্ধু দ্রুত ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লাইনে ছিলেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। পুলিশ জানায়, লোরেন্স আরেকটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিলে তাঁর বন্ধু তাঁকে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৯১১-এর ফোন সংযোগ তখনও চালু ছিল এবং অপর প্রান্ত থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ শোনা যায়। বন্ধুর চেষ্টা সত্ত্বেও লোরেন্স নিজেকে গুলি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ম্যাকব্রেয়ারকে মৃত অবস্থায় পায়। গুরুতর আহত লোরেন্সকে ফায়ার বিভাগের চিকিৎসাকর্মীরা ফেয়ারব্যাঙ্কস মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত এবং ৯১১-এ ফোন করা বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বন্ধুর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তারা মনে করছে না। ৯১১ কলের রেকর্ডের কারণে প্রথম গুলির পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন। তবে অঙ্গরাজ্যের মেডিকেল পরীক্ষকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তদন্তটি খোলা রাখা হয়েছে। ঘটনার পর ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ একে ‘মর্মান্তিক ও প্রতিরোধযোগ্য প্রাণহানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশ সবাইকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের উপপ্রধান রিচার্ড সুইট বলেছেন, প্রতিটি আগ্নেয়াস্ত্র সব সময় গুলিভর্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং আত্মরক্ষার প্রয়োজন ছাড়া কখনোই কারও দিকে অস্ত্র তাক করা উচিত নয়। এদিকে ম্যাকব্রেয়ারের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই লোরেন্সের সঙ্গে তাঁর বাগদানের পরিকল্পনা ছিল। আলাবামায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যাকব্রেয়ার সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কসে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ম্যাকব্রেয়ারের মা আমান্ডা হুপার মেয়েকে পরিবারের প্রাণবন্ত একজন সদস্য হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, ম্যাকব্রেয়ার পরিবার ও বন্ধুদের গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং অন্যদের সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। ছোটবেলায় তিনি খেলাধুলা, চিয়ারলিডিং ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বন্ধুর মাধ্যমে লোরেন্সের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল ম্যাকব্রেয়ারের। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ম্যাকব্রেয়ারের বড় বোন লরি হান্ট জানান, পরিবার তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছিল। মেয়ের মৃত্যুর পর লোরেন্সের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ম্যাকব্রেয়ারের মা। তিনি বলেছেন, লোরেন্সের বাবা-মায়ের ওপর তিনি ক্ষুব্ধ নন এবং তাঁদের পক্ষেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না। তবে ঠিক কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে চান তিনি। ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বলছে, ঘটনাটি আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বন্দুক নিয়ে কোনো ধরনের খেলা বা এমন কর্মকাণ্ডে অংশ না নিতে সতর্ক করেছে পুলিশ, যেখানে নিজের বা অন্য কারও জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সূত্র: ফেয়ারব্যাঙ্কস পুলিশ বিভাগ, Alaska’s News Source
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়ও গুরুত্ব পায়। দুই পক্ষ এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, আগামী অক্টোবরের শুরুতে বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপর তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। এ সময় তিনি চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া চীনের জননিরাপত্তাবিষয়ক একটি ফোরামে অংশ নেওয়া এবং দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের লক্ষ্যে সালাহউদ্দিন আহমদকে চীন সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন ইয়াও ওয়েন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলা। রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের একশর বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, যানবাহন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম রয়েছে। চীনের এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হবে। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ইউনিট ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের মাধ্যমে বর্তমানে যেসব সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোকে আরও স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে ডিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ৫৪ বছর বয়সী খান ১৯৯৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বিচারবহির্ভূত ছিল না। ইতালির আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিকভাবে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন। পরদিন বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালত সেই ডিপোর্টের নির্দেশ অনুমোদনও করে। ইতালির অভিবাসন আইনের ১৩ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিদেশি নাগরিককে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন, এমনকি তিনি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করলেও। এই ধারাটিই খানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর তাকে ডিপোর্ট করা হয়নি। বরং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত দিক পরে আদালতে যাচাই হয়। সরকারের ডিপোর্টের নির্দেশে খানের বক্তব্য, ধর্মীয় বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকে তার মধ্যে উগ্রপন্থী অবস্থানের প্রকাশ বাড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবিরোধী, ইহুদিবিদ্বেষী, সমকামিতাবিরোধী এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তোলে। এছাড়া কিছু বক্তব্যে হামাসের প্রতি সমর্থন, জিহাদের একটি উগ্র ব্যাখ্যা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের শহীদ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ অবশ্য খানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ডের সমান নয়। ইতালীয় কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, খানের সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উগ্র ইসলামপন্থী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করেছিল। বোলোনিয়ার একটি মসজিদে তার ধর্মীয় বক্তব্য এবং ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও তদন্তের আওতায় আসে। ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উসকানির অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছিল। তবে খানের আইনজীবী ফ্রান্সেস্কো মুরু সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য ছিল, খানকে তার মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপকে তিনি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ ডিপোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল কারণগুলো নিয়ে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালত বা টার লাৎসিওতে আপিল করবে। ৯ অক্টোবর ২০২৪ বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালতের অভিবাসন বিষয়ক শাখা ডিপোর্টের নির্দেশটি অনুমোদন করে। আদালতের ওই পর্যায়ের পর্যালোচনার পর খানকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তার আইনজীবী তখন টার লাৎসিওতে আপিল করার কথা জানান। ফলে ‘বিচার ছাড়াই ডিপোর্ট’ কথাটি সরলীকৃতভাবে বলা হলেও, বাস্তবে প্রক্রিয়াটিতে প্রশাসনিক ডিপোর্টের নির্দেশের পর বিচারিক অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল। খানের ঘটনাটি ইতালিতে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে সরকার বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধে দণ্ডিত না হয়েও বক্তব্য ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দাকে ডিপোর্ট করা কতটা যুক্তিসংগত। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই মামলাটি ইতালিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৩ বছর আগে সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রায় এলো। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন—সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা, মো. আজাদ ও শাহজাহান। আদালত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামিই পলাতক। এ ছাড়া মো. সুজন, ছানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রুজবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। বাদী ওই অভিযোগপত্রে নারাজি দিলে আদালতের নির্দেশে পরে সিআইডি পুনঃতদন্ত করে। ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল সিআইডি আটজনের বিরুদ্ধেই পুনরায় অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করেন।