ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’।
প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।
১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’
নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে।
নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।
ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত।
ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন।
নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে।
সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreমোবাইল ফোনে খামার তৈরি, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করে আয় করার সুযোগ। এমন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে তুরস্কের হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিলেন মেহমেত আইদিন নামের এক যুবক। ‘চিফতলিক ব্যাংক’ নামের একটি অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিনিয়োগ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রতারণায় পরিণত হয়। বিপুল অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন আইদিন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আলোচিত এই মামলায় ২০২৫ সালে তাঁকে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন তুরস্কের একটি আদালত। তুরস্কে ২০১৬ সালে ‘চিফতলিক ব্যাংক’ বা ‘ফার্ম ব্যাংক’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন মেহমেত আইদিন। জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক গেম ফার্মভিলের আদলে তৈরি এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল জমি, গরু, ছাগল ও মুরগি কিনতে পারতেন। তবে সাধারণ গেমের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য ছিল বাস্তব অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ। ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছিল, গেমে বিনিয়োগ করা অর্থ দিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তব খামার পরিচালনা করা হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফার একটি অংশ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে। শুরুর দিকে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত অর্থ ফেরত পাওয়ায় প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। নতুন বিনিয়োগকারীরাও লাভের আশায় এতে অর্থ জমা দিতে শুরু করেন। তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে খামার, মাংস, দুধ, মধু ও ডিম উৎপাদনসংক্রান্ত ব্যবসার কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে অনেক গ্রাহক নিজেদের জমা দেওয়া অর্থ তুলতে সমস্যায় পড়েন। একপর্যায়ে নতুন সদস্য নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রকল্পটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ২০১৮ সালের মার্চে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রতারণার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রকল্পটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ মাসে আনুমানিক ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়া হয়। তবে সব বিনিয়োগকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেননি। তদন্তের সময় আইদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। দেশ ছাড়ার পর আইদিন উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আত্মগোপনে থাকার সময় বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের খবরও সামনে আসে। তবে কয়েক বছর পর ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে তুরস্কের কনস্যুলেটে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন আইদিন। এরপর তাঁকে তুরস্কে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মসমর্পণের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আইদিন দাবি করেছিলেন, কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রকল্পটি চালু করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যবহারকারীরা যেন গেম খেলার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারেন, সেটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ব্যবসার পরিধি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়েছেন এবং তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলেন। তবে আদালতে এসব বক্তব্য তাঁকে দায়মুক্তি দেয়নি। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলের আনাদোলু ষষ্ঠ গুরুতর অপরাধ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার এবং অপরাধী সংগঠন পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে মেহমেত আইদিন ও তাঁর ভাই ফাতিহ আইদিনকে পৃথকভাবে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২০ জন আসামির নাম ছিল এবং হাজার হাজার মানুষের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। অনলাইন গেমের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার নামে পরিচালিত এই প্রতারণা তুরস্কের অন্যতম আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বাস্তব ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কীভাবে একটি সাধারণ গেমকেও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইদিনের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ন্যাশনাল।
ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
অসুস্থ মায়ের সেবা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের আনহুই প্রদেশের এক শিক্ষার্থী। তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর পাশে দাঁড়িয়েছে সহপাঠীরা। নিজেদের প্রিয় সংগ্রহের জিনিসপত্র দান করে তারা আয়োজন করেছে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ। এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিজের প্রিয় অনলাইন গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে পাওয়া খুচরা টাকা তুলে দিয়েছে তার হাতে। সহপাঠীদের এমন ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের লাখো মানুষ আবেগাপ্লুত হয়েছেন। শিক্ষার্থীর নাম ছাও ফেং। তিনি চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের ইউওয়াং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর ৪৭ বছর বয়সী মা ছুইপিং দীর্ঘদিন ধরে জেনারালাইজড মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তাঁর থাইমাস গ্রন্থিতে টিউমার রয়েছে। সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাঁকে সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও বেশ কঠিন। ছাও ফেংয়ের বাবা নিজেও টিউমারে আক্রান্ত। তারপরও তিনি প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা স্ত্রীর পাশে সময় কাটিয়ে বাকি সময় অনলাইনভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে গাড়ি চালান। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমান, খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছাও ফেং মনে করেছেন, পরিবারের এই সংকটে তাঁরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অন্য সদস্যরা আয় করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর পক্ষে তখনই অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মায়ের পাশে থেকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বড় বোন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনিও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নিজের সিদ্ধান্তের কথা শিক্ষককে জানালে তিনি ছাও ফেংকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, ছাত্রী হিসেবে তিনি বরাবরই ভালো ফল করেছেন এবং প্রতিবছর বৃত্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের পাশে থাকার বিষয়ে ছাও ফেং ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরে শিক্ষক লি এবং ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন ব্যক্তিত্ব লিয়াংতিয়ানের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে তাঁর জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহপাঠীরাও তাঁর পরিস্থিতি জেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রিয় জিনিসপত্র দান করতে শুরু করে। বিদায় অনুষ্ঠানে ছাও ফেংয়ের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাঁর হাতে একটি ব্যাগভর্তি খুচরা টাকা তুলে দেয়। জানায়, নিজের প্রিয় ‘অনার অব কিংস’ গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে সে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। অন্য সহপাঠীরাও নিজেদের পছন্দের আলট্রাম্যান কার্ড, প্রিয় নাটকের স্মারক, হাতে তৈরি সামগ্রী, ব্যাজ, পছন্দের গায়কের গানের রেকর্ড এবং প্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জার্সি দান করে। এসব জিনিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ছাও ফেংয়ের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয় থেকে বিদায়ের সময় কয়েক শ সহপাঠী করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁকে হাত নেড়ে শুভকামনা জানায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। লিয়াংতিয়ান ভিডিওটি প্রকাশ করার পর তাতে প্রায় এক কোটি পছন্দের প্রতিক্রিয়া এবং দুই লাখের বেশি মন্তব্য আসে। অনেকে ছাও ফেংয়ের মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন, পাশাপাশি সহপাঠীদের ত্যাগ ও বন্ধুত্বেরও প্রশংসা করেন। একজন মন্তব্য করেন, বড়দের কাছে এসব জিনিসের আর্থিক মূল্য কম হতে পারে, কিন্তু শিশু-কিশোরদের কাছে সেগুলোই তাদের প্রিয় সম্পদ, যা বন্ধুকে সাহায্য করতে তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাও ফেংয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেন অনেকে। তাঁর শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে একটি লাল খামে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাও ফেংয়ের পড়াশোনা যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য শিক্ষকেরা প্রতিদিন দূর থেকে তাঁকে পড়াশোনায় সহায়তা করবেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থারও খোঁজ রাখবেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ছাও ফেংকে ভবিষ্যতের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ‘গাওকাও’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরলে তাঁর বেতনও মওকুফ করা হবে। বর্তমানে মায়ের পাশে সাংহাইয়ে থাকা ছাও ফেং শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পড়াশোনা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য পেপার।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত