- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
গাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে। এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে। পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া। কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়। দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে। যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি। ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে। থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন। প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই। পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে। বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র। একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য। ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়। ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন। বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে। অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন। ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে। মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা। এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে। ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন। পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন। পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব। মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়। রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়। দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন। মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হ ত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার আশা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, রামিসা হ ত্যা কাণ্ডের মতো অপ্রতিম হ ত্যা মামলার বিচারও দ্রুততম সময়ে শেষ করার চেষ্টা করা হবে। মন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নি খোঁ জ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে আগে এবং একজনকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের সঙ্গে অপ্রতিমের বন্ধুত্ব ও নিয়মিত ওঠাবসা ছিল। তদন্তে তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বয়সে বড় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন তুহিনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রয়োজনীয় আলামতও জব্দ করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। পুলিশ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার অপ্রতিমের দা ফ ন সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পরদিন তার ম র দে হ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে; তবে বিচার করবে আদালত। এখন তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, জবানবন্দি এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়াই মামলার পরবর্তী ধাপ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানি সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএএনএতে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এটিকে ইরানের চলমান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এটি ইরানের আনুষ্ঠানিক আলোচনার শর্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। জোলঘাদরের বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রণালি বন্ধ রাখাকে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের মতো শর্তের কথা বলেছিলেন। নতুন বক্তব্যে দুই নেতার ক্ষমতা ছাড়ার দাবি যুক্ত হয়েছে। হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৭টি জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে, ফলে প্রকাশ্য তথ্য প্রকৃত চলাচলের পুরো চিত্র নাও দেখাতে পারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি ঘোষণা হয়নি। তাই জোলঘাদরের বক্তব্যকে আপাতত একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পুরো ইরানি সরকারের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত আলোচনার শর্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও সরকারি বক্তব্য বা চুক্তির তথ্য প্রয়োজন। Source: ডব্লিউএএনএ, রয়টার্স
মালির মধ্যাঞ্চলের দিয়োরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৯৩ সেনাকে আটক এবং ১৫০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মালির সেনাবাহিনীও হতাহতের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যম আজ-জালাকায় জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ সেনা নিহত এবং ৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আটক সেনাদের কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দিয়োরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে কয়েক ডজন হামলাকারী নিহত এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও পিকআপ ধ্বংসের কথা বলা হয়। তবে সেনাবাহিনী নিজেদের হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেনি। হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয়, নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, দিয়োরায় অন্তত ১০০ মালিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের পাঁচ সদস্যও নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ৮০ জনের বেশি সেনাকে আটকের দাবির কথাও উঠে আসে। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৫০ মালিয়ান সেনা ও পাঁচ রুশ আফ্রিকা কর্পস সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র তখন নিহতের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জেএনআইএম ২০১৭ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। গোষ্ঠীটি মালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় একাধিক বড় হামলা চালিয়েছে। মালি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাও অব্যাহত রয়েছে। দিয়োরা হামলার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং কতজন সেনা আটক হয়েছেন, তা মালির সরকার বা স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেএনআইএমের দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মালির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হতে পারে। Source: আরব নিউজ
আইইএলটিএসে সর্বোচ্চ ৯ ব্যান্ড অর্জন করেছেন রাইসা শাম্মা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগে পড়াশোনা শেষে বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামে পড়ছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আইইএলটিএস পরীক্ষার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে ছোটবেলা থেকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, বই পড়া, ইংরেজি কনটেন্ট দেখা এবং ভাষা শেখার অভ্যাসই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্কোর পেতে সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে। আইইএলটিএসের চারটি অংশ হলো লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং। রাইসার মতে, পরীক্ষার কৌশল জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কেবল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দিয়ে ভাষায় শক্ত ভিত্তি তৈরি করা কঠিন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, দীর্ঘদিনের চর্চার ফলে ইংরেজি শোনা, পড়া, লেখা ও বলার দক্ষতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয়েছে। লিসেনিংয়ের ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি অনুষ্ঠান, খবর, সিনেমা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট শোনার অভ্যাস ছিল রাইসার। শুরুতে সবকিছু বুঝতে না পারলেও নিয়মিত শোনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শব্দ, উচ্চারণ ও বাক্যের ধরন বুঝতে শেখেন। বিভিন্ন দেশের মানুষের উচ্চারণ বুঝতে শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও প্রথমে সাবটাইটেল ব্যবহার করে এবং পরে সাবটাইটেল ছাড়া কনটেন্ট দেখার চেষ্টা করেছেন তিনি। রাইসার পরামর্শ, যারা ইংরেজি শেখা শুরু করছেন তারা সহজ কনটেন্ট দিয়ে শুরু করতে পারেন। অ্যানিমেটেড সিনেমা, সহজ গল্প, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনা যেতে পারে। শুরুতেই প্রতিটি শব্দ বুঝতে না পারলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত শোনার অভ্যাস তৈরি হলে ধীরে ধীরে ভাষার সঙ্গে কান পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে আইইএলটিএসের লিসেনিং অংশে শুধু ইংরেজি বুঝতে পারলেই হবে না, পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কেও ধারণা থাকা প্রয়োজন। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর বা নির্দিষ্ট তথ্য শোনার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতায় ভুল হতে পারে। তাই মক টেস্ট দিয়ে প্রশ্নের ধরন ও সময় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রিডিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় সহায় ছিল দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বই পড়েছেন তিনি। সহজ বই দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কঠিন বই পড়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ভোকাবুলারি বাড়ানোর জন্য শুধু শব্দের অর্থ মুখস্থ করার চেয়ে বাস্তব বাক্যে শব্দটির ব্যবহার বোঝা বেশি কার্যকর। একটি শব্দ কোনো বাক্য বা গল্পের মধ্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি বুঝে পড়লে শব্দটি মনে রাখা সহজ হয়। তাই আইইএলটিএসের আগে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শব্দ মুখস্থ করার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাইসা। রিডিং পরীক্ষায় তাঁর কৌশল ছিল প্রথমে পুরো লেখাটির মূল বিষয় বোঝার চেষ্টা করা। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, নাম, সংখ্যা ও নির্দিষ্ট তথ্যের দিকে নজর দেওয়া। একই লেখা বারবার পুরোপুরি পড়ার পরিবর্তে প্রথমে সামগ্রিক ধারণা তৈরি করে পরে প্রশ্ন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করলে সময় বাঁচানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। রাইটিং অংশকে অনেক পরীক্ষার্থী কঠিন মনে করেন। রাইসার মতে, এখানে শুধু ইংরেজি জানা যথেষ্ট নয়, নিজের চিন্তাকে পরিষ্কার ও যুক্তিসংগতভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করার দক্ষতাও প্রয়োজন। ছোটবেলা থেকে কোনো কিছু পড়ে তার সারাংশ লেখা, নতুন শব্দ লিখে রাখা এবং নিজের চিন্তা লিখে রাখার অভ্যাস তাঁর রাইটিং দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করেছে। রাইটিং ভালো করার জন্য গ্রামারের ভিত্তি পরিষ্কার থাকা জরুরি বলে মনে করেন রাইসা। বিশেষ করে বাক্যের গঠন, টেন্স এবং কর্তা ও ক্রিয়ার সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কঠিন শব্দ ব্যবহার করলেই ভালো লেখা হয় না। বরং সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় যুক্তিগুলো সঠিকভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএস রাইটিংয়ে জটিল বাক্য গঠনের দক্ষতাও প্রয়োজন। একই ভাবকে কয়েকটি ছোট বাক্যে আলাদা করে না লিখে প্রয়োজন অনুযায়ী কীভাবে সেগুলোকে সুন্দরভাবে একসঙ্গে প্রকাশ করা যায়, সেটি অনুশীলন করা দরকার। আবার কোনো গ্রাফ বা চার্ট দেওয়া হলে শুধু সংখ্যাগুলো উল্লেখ না করে তথ্যের পরিবর্তন ও প্রবণতাগুলো বিশ্লেষণ করে তুলে ধরতে হয়। স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রে রাইসার সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো ভয় কাটিয়ে নিয়মিত কথা বলা। অনেকেই ইংরেজি বুঝতে ও লিখতে পারলেও কথা বলার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা কাটাতে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজিতে কথা বলার চেষ্টা করেছেন তিনি। আশপাশের ভালো ইংরেজি বক্তাদের কথা শুনে তাদের বাক্য গঠন ও উচ্চারণও লক্ষ্য করতেন। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা এবং নিজের চিন্তা ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস স্পিকিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন রাইসা। তাঁর মতে, আইইএলটিএস স্পিকিংয়ে মুখস্থ উত্তর দিয়ে ভালো করা কঠিন। কারণ পরীক্ষায় প্রার্থীকে নিজের অভিজ্ঞতা, পছন্দ, মতামত ও চিন্তা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে হয়। কোথায় থাকেন, কী ধরনের বই পড়েন, কী পছন্দ করেন বা কী ধরনের কনটেন্ট দেখেন, এমন সাধারণ বিষয় পরীক্ষায় আসতে পারে। এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ না করে নিজের জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বলার অভ্যাস করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাইসা শাম্মার মতে, একজন ভালো বক্তা হওয়ার জন্য শুধু ইংরেজি শেখাই যথেষ্ট নয়। ভালো শ্রোতা হওয়া, বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনা রাখা এবং নিজের চিন্তা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাসও জরুরি। তাঁর আইইএলটিএস প্রস্তুতির অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, কোনো দক্ষতাই রাতারাতি তৈরি হয় না। ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত চর্চা এবং শেখার আগ্রহ দীর্ঘমেয়াদে বড় ফল এনে দিতে পারে। রাইসা শাম্মা বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর মাস্টার অব ম্যানেজমেন্ট অ্যানালিটিকস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। আইইএলটিএসে তাঁর ৯ ব্যান্ড অর্জনের অভিজ্ঞতা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজি শেখার দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের গুরুত্বও তুলে ধরে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে। পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এ তথ্য জানিয়েছেন। পররাষ্ট্র সচিব জানান, ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ও সমতামূলক ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হয়েছে। এবারের অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হলো ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে উঠে এসেছে। এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক যাওয়ার কথা রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালন। তিনি ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোন কোন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে বা সেসব বৈঠকের নির্দিষ্ট এজেন্ডা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি ঘোষণা ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রতিবছর বিশ্বনেতাদের জন্য বৈশ্বিক সংকট, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, জলবায়ু এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামে আক্রান্ত এক ব্যক্তির যাতায়াতের কারণে সম্ভাব্য সংক্রমণের সতর্কতা জারি করেছে শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগ। ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের কয়েকটি টার্মিনাল ও সংযোগ এলাকায় ওই ব্যক্তি অবস্থান করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্প্রতি ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালে শনাক্ত হওয়া হামের সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফিলাডেলফিয়ার জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সংস্পর্শের সময় ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় ওই ব্যক্তি বি ও এফ টার্মিনাল এবং সি, ডি ও ই টার্মিনালের সংযোগ এলাকায় ছিলেন। তিনি বিমানবন্দর থেকে বাইরে যাননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সময়ে বিমানবন্দরে থাকা যাত্রী ও অন্যদের নিজেদের হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং টিকা নেওয়ার তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত নয় বা যারা হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত নন, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ১২ মাসের কম বয়সী শিশু, হামের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই এমন গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের। যারা মাত্র এক ডোজ হামের টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োজন কি না তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এবং চোখ লাল ও পানি পড়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা কেউ ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব উপসর্গে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য হামের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি জানাতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ছেড়ে যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাতাসে ভাইরাস কিছু সময় থাকতে পারে। ফিলাডেলফিয়ার স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. পালাক রাভাল-নেলসন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামের সংস্পর্শের ঘটনাগুলো সবার টিকাদান হালনাগাদ রাখার গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। পূর্ণ টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে বিমানবন্দরের এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে ৭৬৭টি হাম শনাক্ত এবং হামের সঙ্গে সম্পর্কিত চারটি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই সম্ভাব্য সংস্পর্শের ঘটনা শিশু হাসপাতালের সাম্প্রতিক ঘটনার থেকে আলাদা। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাকে একই সংক্রমণ হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই। বিমানবন্দরে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের নিজেদের টিকাদানের তথ্য যাচাই এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়। ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান। ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপি চিকিৎসায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ক্যান্সার রোগী রেডিওথেরাপির অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন। তাদের অনেকের চিকিৎসার সিরিয়াল গিয়ে ঠেকেছে ২০২৮ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে। ফলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্র ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, রেডিওথেরাপির জন্য থাকা একাধিক মেশিনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সচল রয়েছে। এই দুটি মেশিনে তিন শিফটে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর তুলনায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রতিদিনই অপেক্ষমাণ তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা কেমোথেরাপির পর রেডিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। আবার কিছু রোগীর জন্য এটি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রোগীর চিকিৎসায় একাধিক সেশন প্রয়োজন হওয়ায় একই মেশিনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে সীমিত সংখ্যক মেশিনের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহাখালীর এই সরকারি হাসপাতালে আসেন। সরকারি ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে রেডিওথেরাপির খরচ অনেক বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে সেখানে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সরকারি হাসপাতালটির ওপর রোগীর চাপ আরও বাড়ছে। পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নতুন রেডিওথেরাপি রোগীদের সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ রেখেছে। সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, অপেক্ষমাণ তারিখ ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলে যাওয়ায় রোগীদের এত দীর্ঘ সময়ের সিরিয়াল দেওয়া অর্থবহ নয়। নতুন রোগীদের বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ থাকলে তা বিবেচনা করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এর আগে জুলাই মাসের এক প্রতিবেদনে একই হাসপাতালে রেডিওথেরাপির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে আসে। তখনও কিছু রোগীকে এক বছরের বেশি সময় পরের তারিখ দেওয়া হচ্ছিল। চলতি বছরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাসপাতালের রেডিওথেরাপি যন্ত্রের সংকট এবং বিপুল রোগীর চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালেও হাসপাতালের একাধিক রেডিওথেরাপি মেশিন অচল হয়ে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংকট কাটাতে নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন সংগ্রহ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক জানান, সরকারের অর্থায়নে নতুন একটি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছে এবং সেটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের আট বিভাগীয় শহরে ক্যান্সারসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকামুখী রোগীর চাপ কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রেডিওথেরাপির দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। মাত্র দুটি সচল মেশিন দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সূত্র: দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস
করোনাভাইরাসের টিকা কেনার জন্য ভারতকে দেওয়া ১২০০ কোটি টাকা পাঁচ বছর পরও বাংলাদেশ ফেরত পায়নি বলে সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দৈনিক আমার দেশ। একই সঙ্গে করোনাকালীন টিকা কার্যক্রমে বরাদ্দ ও ব্যয়ের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করছে। আমার দেশের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কেনার জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ দুই দফায় ১২০০ কোটি টাকা অগ্রিম দেয়। টিকা আমদানিতে বাংলাদেশি এজেন্ট হিসেবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দায়িত্ব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথম চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসার পর ভারত নিজস্ব করোনা পরিস্থিতির কারণে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর অগ্রিম অর্থ ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ১২০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ফেরত পেয়েছে এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো নিশ্চিত করতে পারেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাকালীন টিকা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে টিকা কেনা, সংরক্ষণ, পরিবহন ও টিকাদানসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে এই অর্থের ব্যয় নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। ২০২৫ সালের মার্চে করোনা টিকা কেনায় ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন সালমান এফ রহমান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক জানিয়েছিলেন, সরকারি হিসাবে টিকা বিতরণে ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও অভিযোগ অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয় ছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তবে ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। এটি আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। এ বিষয়ে দুদক বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের কাছে নথি, সিদ্ধান্তপত্র, আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আমার দেশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, করোনার টিকা কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র না পাওয়ার বিষয়টিও দুদকের অনুসন্ধানে বাধা তৈরি করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব অনুসন্ধানে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। দুদক চেয়ারম্যানও জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত জানানো যাবে। ভারতের কাছে থাকা ১২০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়টি তাই এখনো অমীমাংসিত। একই সঙ্গে করোনাকালীন বিপুল সরকারি ব্যয়ের নথি, টিকা কেনাকাটার প্রক্রিয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
ভারতে রাত ১০টার পরও অসুস্থ স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে পারার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক এনএইচএস চিকিৎসক দীপাঞ্জলি শর্মা। তার স্বামীও একজন চিকিৎসক। হঠাৎ মাথাব্যথা ও বারবার বমি শুরু হলে দ্রুত ওষুধের প্রয়োজন হয়। তখন রাতে বাইরে বেরিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দীপাঞ্জলি শর্মা জানান, স্বামীর প্রথমে মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি একাধিকবার বমি করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত প্রায় ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে বাইরে যান তিনি। ভারতের রাতেও ওষুধ পাওয়ার এই সুযোগকে তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিজের যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনাও করেন শর্মা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রক্রিয়াটিও তুলনামূলক জটিল হতে পারে। বিশেষ করে রাতের সময়ে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা ভারতের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি জানান। শর্মার বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। এটিকে ভারত বা যুক্তরাজ্যের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ চিকিৎসা পাওয়ার সময় ও সুযোগ নির্ভর করে রোগের ধরন, অবস্থান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং জরুরি সেবার প্রাপ্যতার ওপর। তবে তার মন্তব্য নতুন করে একটি বিষয় সামনে এনেছে। বিদেশে বসবাসের সময় নিজের দেশের কিছু দৈনন্দিন সুবিধার মূল্য অনেক বেশি করে উপলব্ধি হতে পারে। দেশে থাকাকালে যে বিষয়গুলো স্বাভাবিক বলে মনে হয়, বিদেশে গিয়ে সেগুলোই কখনো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে মনে হতে পারে বলে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শর্মা। দীপাঞ্জলি শর্মার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৃহত্তর তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
নিজের পূর্বপুরুষদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলেন এক মা। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তার পরিবার সেটি প্রকাশ্যেও আনে। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই নারীর পরিবার ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও অনলাইনে থাকা অনেক মানুষের সন্দেহ দূর হয়নি। বরং ছবিটি যেসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেই তার বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ঘটনাটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল সামনে আনা হয়েছিল। বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের উৎস সম্পর্কে জানতে ডিএনএ টেস্ট বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এ ধরনের পরীক্ষায় জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎস ও আত্মীয়তার কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলকে ঘিরেও মানুষের প্রত্যাশা ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ের ancestry DNA test সাধারণত কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য অঞ্চল বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক তথ্য দেয়। এটি সবসময় পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিটি প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আলোচিত ঘটনাটিতে পরিবারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও অনলাইনের সন্দেহ থামেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে একবার ধারণা তৈরি হয়ে গেলে প্রমাণ সামনে আসার পরও সেই ধারণা কীভাবে টিকে থাকতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে ওই নারী বা তার পরিবারের পরিচয়, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দিষ্ট ফল এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। পরিবারের প্রকাশ করা পরীক্ষার ফল থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য বা সন্দেহকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায়, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেসে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জনে পৌঁছেছে। ১০ মার্চের এক রাতের গণনায় এই সংখ্যা পাওয়া যায়, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিউইয়র্ক সিটির বার্ষিক হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট বা হোপ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ জরিপে স্বেচ্ছাসেবকেরা এক রাত ধরে শহরের পাঁচ বরোর বিভিন্ন রাস্তা, সাবওয়ে স্টেশন ও অন্যান্য পাবলিক স্পেস ঘুরে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষকে গণনা করেন। ২০২৬ সালের জরিপে ১ হাজার ১৫৭ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। হোপ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৩৯ জন। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২ জন এবং ২০২৪ সালে ৪ হাজার ১৪০ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫০৪ জন। চলতি বছরের হিসাবে তা আরও বেড়ে ৪ হাজার ৯৯১ জন হয়েছে। তবে এই সংখ্যা নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা নয়। হোপ জরিপ মূলত নির্দিষ্ট একটি রাতে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে দৃশ্যমানভাবে থাকা মানুষকে গণনা করে। ফলে বিভিন্ন অস্থায়ী জায়গায় বা অন্যভাবে অবস্থানরত অনেক মানুষ এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারেন। নিউইয়র্ক স্টেটের কম্পট্রোলার কার্যালয়ের এক বিশ্লেষণেও শহরের আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা এবং তাদের জন্য পরিচালিত সেবা নিয়ে আলাদা করে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এবারের জরিপ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পরে অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতের আবহাওয়ার কারণে আগের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ১০ মার্চ রাতে হোপ জরিপ পরিচালনা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবকেরা মধ্যরাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। নিউইয়র্ক সিটিতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহহীন মানুষের সংখ্যা রাস্তায় থাকা মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। শহরের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডারে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৮৪ হাজার মানুষ শহরের আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থায় ছিলেন। এর মধ্যে একক প্রাপ্তবয়স্ক, শিশুসম্বলিত পরিবার এবং প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। রাস্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য আউটরিচ ও সহায়তা কার্যক্রমও চালু রয়েছে। নিউইয়র্কের হোমলেস সার্ভিসেস বিভাগ বিভিন্ন এলাকায় আউটরিচ টিমের মাধ্যমে রাস্তায় থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে। হোপ জরিপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের সংখ্যা ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে শহরের বিভিন্ন সেবা ও সম্পদ পরিকল্পনায় সহায়তা করা। তবে হোপের এক রাতের গণনা দিয়ে নিউইয়র্কের গৃহহীনতার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। শহরের গৃহহীনতার মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ ছাড়াও অনিরাপদ বা অস্থায়ী বাসস্থানে থাকা ব্যক্তিরা রয়েছেন। ফলে রাস্তায় থাকা প্রায় ৫ হাজার মানুষের হিসাবটি সমস্যাটির একটি নির্দিষ্ট অংশের চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬ সালের হোপ জরিপের ফল তাই নিউইয়র্কে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে শহরের আশ্রয় ব্যবস্থা, আউটরিচ কার্যক্রম এবং স্থায়ী আবাসনে স্থানান্তরের উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিও গৃহহীনতার সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ছোটবেলা থেকেই বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন সামিয়া ইসলাম আনিকা। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একাধিকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও অর্থনীতি পড়ার আগ্রহ থেকে এক বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় বদলে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখানকার পড়াশোনা, গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপের পূর্ণ অর্থায়ন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন সামিয়া। স্নাতকে ৩.৯২ সিজিপিএ নিয়ে বিভাগ ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে প্রথম হন তিনি। পরে স্নাতকোত্তরে অর্জন করেন ৩.৯১ সিজিপিএ। তাঁর একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতাও ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি গবেষণাপত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি জার্নালে প্রকাশিত হয়। আরেকটি গবেষণাপত্র দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের একটি সম্মেলনে উপস্থাপন করেন তিনি। সামিয়ার অর্থনীতি বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল নিজের আগ্রহ। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে গণিতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। একই সঙ্গে সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কৌতূহল ছিল। সেই দুই আগ্রহকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে অর্থনীতিকে বেছে নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরও নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হয়ে শুরু করেন নতুন একাডেমিক যাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি সামিয়া। বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এসব কাজের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি গবেষণা, আইসিটি বিভাগের হের পাওয়ার প্রকল্প এবং সমবায় অধিদপ্তরের নারীদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশীয় অর্থনৈতিক মডেলিং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন গবেষণাতেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে গবেষণামুখী একাডেমিক প্রোফাইল গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সময়ে বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশনে সহসাধারণ সম্পাদক এবং অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের কমিটিতেও সদস্য ছিলেন। ফলে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়জীবন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে এগিয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে সামিয়ার আরেকটি বড় অর্জন ছিল জিআরই ও আইইএলটিএসের ফল। জিআরইতে ৩৩১ স্কোর করেন তিনি, যার মধ্যে কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ছিল পূর্ণ ১৭০। আইইএলটিএসে তাঁর স্কোর ৮.৫। জিআরইয়ের ফল পাওয়ার পর শিক্ষকেরা তাঁকে পিএইচডি পর্যায়ের প্রোগ্রামে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। নিজের স্কোর অক্সফোর্ডের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। অক্সফোর্ডে আবেদন করার প্রস্তুতিও ছিল তুলনামূলকভাবে দ্রুত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামিয়া মাত্র দুই দিনে তাঁর স্টেটমেন্ট অব পারপাস তৈরি করেছিলেন। তিনি একসঙ্গে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ইয়েল, ওয়ারউইক ও ভ্যান্ডারবিল্ট থেকেও সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত তাত্ত্বিক অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ এবং গবেষণার পরিবেশ বিবেচনায় অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। অক্সফোর্ডের এমফিল ও ডিফিল প্রোগ্রামটি সাধারণ অর্থে শুধু একটি মাস্টার্স প্রোগ্রাম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি সমন্বিত গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রাম, যেখানে প্রথমে দুই বছরের এমফিল সম্পন্ন করতে হয়। এরপর সন্তোষজনক ফলাফল থাকলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আবেদন ছাড়াই তিন থেকে চার বছরের ডিফিল পর্যায়ে অগ্রসর হতে পারেন। অক্সফোর্ডের ডিফিল অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির সমতুল্য। পুরো প্রোগ্রামটি মূলত প্রায় পাঁচ বছরের সমন্বিত ডক্টরাল শিক্ষার পথ হিসেবে তৈরি। এই প্রোগ্রামেই সামিয়ার জন্য রয়েছে ক্ল্যারেনডন ফান্ড স্কলারশিপ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের জন্য তাঁর টিউশন ফি ও জীবনযাপনের খরচের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এই অর্থায়নের পরিমাণ বছরে প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অক্সফোর্ডের ক্ল্যারেনডন স্কলার তালিকাতেও বাংলাদেশ থেকে সামিয়া ইসলামের নাম এমফিল ইন ইকোনমিকসের সঙ্গে রয়েছে। তবে সামিয়ার এই পথচলার পেছনে শুধু পরীক্ষার ভালো ফল বা একটি স্কলারশিপ নয়, ছিল নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলায় কোচিং বা প্রাইভেটের ওপর নির্ভর না করে বাবার কাছেই পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় বদলানো থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিষয় বেছে নেওয়া পর্যন্ত পরিবার তাঁর পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া বক্তব্যে সামিয়া পরিবারের সমর্থনকে তাঁর পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সিদ্ধান্ত, অর্থনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ভালো ফল, গবেষণায় সম্পৃক্ততা, জিআরই ও আইইএলটিএসে সাফল্য এবং শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডের সমন্বিত এমফিল-ডিফিল প্রোগ্রামে সুযোগ পাওয়া, সব মিলিয়ে সামিয়া ইসলাম আনিকার শিক্ষাজীবন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের গল্প। এখন তাঁর সামনে অর্থনীতিতে উচ্চতর গবেষণা এবং একাডেমিয়ায় নিজের অবস্থান তৈরি করার নতুন অধ্যায়। সূত্র: প্রথম আলো
চীন এমন একটি বিশাল জাহাজ নির্মাণ করছে, যা বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন নৌ ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণাধীন জাহাজটির ছবি স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটির নকশা বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহন, সমুদ্রে নামানো এবং পুনরায় জাহাজে তোলার উপযোগী। নৌবিষয়ক বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের নেতৃত্বে একাধিক স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে ধারণা করা হয়েছে, জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার বড় চালকবিহীন ডুবোযানের জন্য একটি বিশেষ মাদারশিপ হিসেবে কাজ করা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ থেকে ২০৫ মিটার, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ ফুটের কাছাকাছি বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। জাহাজটির পেছনের অংশে এমন একটি ব্যবস্থা দেখা গেছে, যা পানির নিচে থাকা যান নামানো ও তুলে আনার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঙ্গে একটি বড় অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারও রয়েছে বলে স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে। নকশার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, জাহাজটি একই সঙ্গে কয়েকটি বড় চালকবিহীন ডুবোযান বহন করতে পারবে। চীনের তৈরি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে ‘এক্সএক্সএলইউইউভি’ বা অতিবৃহৎ চালকবিহীন ডুবোযান বলা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্তত দুটি নকশা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ ও ৪৫ মিটার। অর্থাৎ এগুলো সাধারণ ছোট আকারের পানির নিচের ড্রোনের তুলনায় অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বোয়িং অরকার মতো চালকবিহীন ডুবোযানের তুলনায়ও এগুলোর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির ভেতরের হ্যাঙ্গারে চারটি পর্যন্ত বড় ডুবোযান রাখা সম্ভব হতে পারে। প্রয়োজনে এর চেয়ে বেশি সংখ্যক ছোট আকারের চালকবিহীন ডুবোযানও বহন করা যেতে পারে। জাহাজটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করে এগুলো পানিতে নামানো ও আবার জাহাজে তোলা সম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন জাহাজ নির্মাণ করা হলে চীনের চালকবিহীন ডুবোযানগুলোকে উপকূলীয় ঘাঁটি বা স্থির ভাসমান প্ল্যাটফর্মের ওপর কম নির্ভরশীল করে তুলতে পারে। মাদারশিপ সমুদ্রে ডুবোযানগুলো নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় নামাতে এবং প্রয়োজনে পরে তুলে আনতে পারবে। একই সঙ্গে জাহাজটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের ঘাঁটি হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। চালকবিহীন ডুবোযানের অন্যতম সুবিধা হলো, এতে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করা সম্ভব। এগুলো অগভীর পানিতে প্রবেশ, অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ বা শব্দগত বৈশিষ্ট্য সংগ্রহ এবং সমুদ্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো কাজ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। ভারতের তাকশশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথনের মতে, এ ধরনের ডুবোযান অন্য জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দের তথ্য সংগ্রহ করে ভবিষ্যতের জন্য বড় তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারে। এতে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ শনাক্ত হলে সেটি কোন ধরনের জাহাজ বা ডুবোযানের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা দ্রুত বোঝা সহজ হতে পারে। তবে সামরিক ব্যবহারও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। রামানাথনের মতে, চালকবিহীন ডুবোযান তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানে ব্যবহারের সক্ষমতাও রাখতে পারে। তবে বর্তমানে চীনের নির্মাণাধীন জাহাজ বা সংশ্লিষ্ট ডুবোযানগুলো ঠিক কী ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করবে, তা নিশ্চিত নয়। চীনের সামরিক বাহিনী এখনো নির্মাণাধীন জাহাজটির অস্তিত্ব বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কিংবা অস্বীকার করেনি। ফলে স্যাটেলাইট ছবির ভিত্তিতে করা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নকে সম্ভাব্য বিশ্লেষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়। এই উন্নয়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দক্ষিণ চীন সাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির সঙ্গে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের দাবির বিরোধ রয়েছে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত সমুদ্রসীমার দাবির আইনগত ভিত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। বেইজিং ওই রায় মেনে নেয়নি। এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নৌ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতাও চলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের নৌযুদ্ধে চালকবিহীন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পানির নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে সক্ষম বড় ডুবোযান সেই সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নতুন জাহাজটি যদি সত্যিই বড় চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হয়, তাহলে এটি চীনের এসব ডুবোযানের কার্যক্রমের পরিসর বাড়াতে পারে। তবে একই সঙ্গে বড় মাদারশিপটি নিজে তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্তযোগ্য হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি থাকবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জাহাজটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সমুদ্র পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। এরপরই এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ব্যবহার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, নেভাল নিউজ, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
জার্মানির পূর্বাঞ্চলে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত অলটারনেটিভ ফর জার্মানি বা এএফডির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় দেশটিতে বসবাসরত অনেক অভিবাসী নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস, কাজ এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ আচরণ বেড়েছে। জার্মানির বাল্টিক উপকূলীয় শহর রস্টকে বসবাসকারী শাহদ নাজিব এমনই একজন। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের হাত থেকে পালিয়ে এক দশকেরও বেশি আগে জার্মানিতে আশ্রয় নেন তিনি। স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ ও দুই সন্তানকে নিয়ে সেখানে নতুন জীবন গড়ে তুলেছেন। স্বামী একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন এবং নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন। রয়টার্সকে নাজিব বলেন, সিরিয়া ছাড়ার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো তার মনে রয়েছে। কিন্তু জার্মানিতে এক দশকের বেশি সময় কাটানোর পরও বর্তমানে তিনি ভাবছেন, এই দেশটিতে তিনি ও তার পরিবার আগের মতো স্বাগত কি না। রয়টার্স রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশিদের নিয়ে কটূক্তি ও বিরূপ আচরণের ঘটনা বেড়েছে। এসব আচরণের মধ্যে প্রকাশ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা বলা থেকে শুরু করে অপমানজনক মন্তব্য পর্যন্ত রয়েছে। এক নারী জানিয়েছেন, তার প্রতিবেশী বারান্দা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি তার ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন। নাজিবের নিজের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার পথে একটি দোকানের কাছে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাকে জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে কটূক্তি করেন বলে তিনি জানান। ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘এই দেশ জার্মানদের জন্য।’ নাজিব বলেন, রস্টকে যে ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি তার জীবনে নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, নিজের জীবন গড়ে তোলার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পরও কেউ তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখলে সেটি অন্যায়ের অনুভূতি তৈরি করে। এ ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির রাজনৈতিক সমর্থন বাড়ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন রাজ্যে ২০ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপগুলোতে দলটিকে সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে দেখা হয়েছিল। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আরেক রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে এএফডি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায়। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী অবস্থান নিয়ে এএফডির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেলের সরকারের অভিবাসন নীতির পর দলটির অভিবাসনবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। ওই সময়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী জার্মানিতে প্রবেশ করেন, যাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন সিরীয়। এএফডির প্রধান প্রার্থী লাইফ-এরিক হোম অবশ্য বলেছেন, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অভিবাসনের ব্যাপারে তার দলের আপত্তি নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের জার্মানিতে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদেরই দেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তবে সমালোচকদের মতে, অভিবাসন ও ‘রিমিগ্রেশন’ নিয়ে দলের বক্তব্যের কারণে বিদেশিদের মধ্যে সামগ্রিকভাবে অনিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের সামাজিক গণতন্ত্রী রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এক টেলিভিশন বিতর্কে এএফডির বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যারা জার্মানিতে কাজ করছেন, কর ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন, তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। একই বিতর্কে মরক্কোর এক নকশাবিদকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওই কর্মী নিয়মিত বর্ণবাদী কটূক্তির শিকার হচ্ছেন এবং এ কারণে তাকে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে একজন প্রকৌশলী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হোম বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করলেও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অভিবাসন নিয়ে এই রাজনৈতিক বিতর্কের অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কর্মরত। দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মতো এই অঞ্চলও কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি এমন প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক দেশটিতে কাজ করছেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরিতে নিয়োজিত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবদান রাখছেন। সিরীয় নাগরিকদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি হলেও জার্মানিতে দীর্ঘদিন অবস্থানকারীদের কর্মসংস্থানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে থাকা সিরীয়দের ৬০ শতাংশের বেশি কর্মরত ছিলেন। জার্মানির পূর্বাঞ্চলে এএফডির উত্থানের পেছনে অভিবাসন ছাড়াও অর্থনৈতিক বৈষম্য, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় রয়েছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে দুই জার্মানি এক হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলে কর্মসংস্থান ও আয় পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও সম্পদের ব্যবধান এখনো উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালে পূর্বাঞ্চলে, বার্লিনসহ, গড় নিট সম্পদের পরিমাণ পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৪৯ শতাংশ ছিল। এদিকে অনেক সিরীয় নাগরিক নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ফিরে যাওয়ার আশা করছেন। আবার নাজিব ও হমুয়েশের মতো কেউ কেউ জার্মানিকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন সেই সিদ্ধান্তকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানরা যে সমাজকে নিজেদের ঘর মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক। তার কাছে পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে নদীতে টিউবিং করার সময় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ক্লার্কস ফর্ক নদীতে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর বৃহস্পতিবার উদ্ধারকারীরা নদীর পানির নিচ থেকে কিশোরটির মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত কিশোরের নাম এফ্রাইম ডেলি। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মন্টানার ফ্রমবার্গের কাছে ক্লার্কস ফর্ক নদীতে বোনের সঙ্গে টিউবিং করার সময় তারা সমস্যায় পড়েছিল। একপর্যায়ে এফ্রাইম তার বোনকে নিরাপদে তীরে উঠতে সহায়তা করলেও নিজে পানিতে তলিয়ে যান। কার্বন কাউন্টির শেরিফ জশ ম্যাককুইলামের বরাত দিয়ে এমটিএন নিউজ জানিয়েছে, এফ্রাইম ও তার বোন নদীতে টিউবের ওপর ভেসে যাচ্ছিল। কোনো একপর্যায়ে তার বোন টিউব থেকে পড়ে যান অথবা টিউব থেকে নামার চেষ্টা করেন। তখন তিনি পানিতে সমস্যায় পড়লে এফ্রাইম তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। শেরিফ ম্যাককুইলাম বলেন, এফ্রাইম শেষ পর্যন্ত তার বোনকে টিউবে উঠতে সহায়তা করতে সক্ষম হন। তবে বোনটি এফ্রাইমকে একইভাবে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে মেয়েটি তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাকে খুঁজতে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ক্লার্কস ফর্ক নদীর যে অংশে এফ্রাইম পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৬ থেকে ১০ ফুট। উদ্ধারকারী দলের ডুবুরিরা নদীর ওই অংশে ব্যাপক তল্লাশি চালান। অভিযানে ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও সহায়তা করে। একটি জরুরি ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নদীর আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে বিশেষ পানির নিচের অনুসন্ধান প্রযুক্তির সাহায্যে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এফ্রাইমের সন্ধান পাওয়া যায়। কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, পানির নিচ থেকে এফ্রাইমকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এফ্রাইম ছিলেন নয় ভাইবোনের একজন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। পরিবারের সহায়তার জন্য খোলা একটি তহবিলের পাতায় এক ব্যক্তি এফ্রাইমকে ‘অসাধারণ নায়ক’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। সেখানে তার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এবং হাসির গল্প বলে অন্যদের আনন্দ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নদীতে টিউবিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে পানির স্রোত, গভীরতা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ক্লার্কস ফর্ক নদীর দুর্ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান চলছে। সূত্র: কার্বন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, MTN News
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান। এটি ছিল র্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন। তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না। ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না। এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে। তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস
তুরস্কে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষের দাবি, তুরস্ক থেকে পরিচালিত এই চক্রটি ভুয়া ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযানে ৯ ইসরায়েলি নাগরিকসহ ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের চারটি পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার ইস্তাম্বুল ও মুগলা প্রদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ৪২টি কল সেন্টারসহ ২৮৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বড় অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন চক্রের কর্মীরা। পরে তাদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম লাভের হিসাব দেখানো হতো। এতে অনেকেই আরও বেশি অর্থ জমা দিতেন। কিন্তু টাকা তোলার চেষ্টা করলে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হতো। এরপর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা কর পরিশোধের নামে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হতো। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এসব অর্থ কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে চক্রটির কোম্পানিগুলোর মালিকানা এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইসরায়েল-সংযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী গুরলেক। তদন্তে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া শত শত অভিযোগ এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কোম্পানি নিবন্ধন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর লক্ষ্য করা দেশের বাইরে কল সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের কর্মীদের নির্দিষ্ট পরিচয় ও ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বলা হতো। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় যোগাযোগ করে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভুয়া লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, চক্রটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই বছরে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন তুর্কি লিরায় পৌঁছেছিল, যা প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। এই অর্থের একটি বড় অংশ অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযানে সন্দেহভাজনদের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও ক্রিপ্টো সম্পদের হিসাব রয়েছে বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানের পরও চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি, পুলিশ, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট, আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড এবং ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। সূত্র: তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স