মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।
দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমালির মধ্যাঞ্চলের দিয়োরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৯৩ সেনাকে আটক এবং ১৫০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মালির সেনাবাহিনীও হতাহতের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যম আজ-জালাকায় জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ সেনা নিহত এবং ৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আটক সেনাদের কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দিয়োরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে কয়েক ডজন হামলাকারী নিহত এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও পিকআপ ধ্বংসের কথা বলা হয়। তবে সেনাবাহিনী নিজেদের হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেনি। হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয়, নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, দিয়োরায় অন্তত ১০০ মালিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের পাঁচ সদস্যও নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ৮০ জনের বেশি সেনাকে আটকের দাবির কথাও উঠে আসে। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৫০ মালিয়ান সেনা ও পাঁচ রুশ আফ্রিকা কর্পস সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র তখন নিহতের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জেএনআইএম ২০১৭ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। গোষ্ঠীটি মালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় একাধিক বড় হামলা চালিয়েছে। মালি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাও অব্যাহত রয়েছে। দিয়োরা হামলার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং কতজন সেনা আটক হয়েছেন, তা মালির সরকার বা স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেএনআইএমের দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মালির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হতে পারে। Source: আরব নিউজ
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত
করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত
ভারতে রাত ১০টার পরও অসুস্থ স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে পারার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক এনএইচএস চিকিৎসক দীপাঞ্জলি শর্মা। তার স্বামীও একজন চিকিৎসক। হঠাৎ মাথাব্যথা ও বারবার বমি শুরু হলে দ্রুত ওষুধের প্রয়োজন হয়। তখন রাতে বাইরে বেরিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দীপাঞ্জলি শর্মা জানান, স্বামীর প্রথমে মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি একাধিকবার বমি করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত প্রায় ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে বাইরে যান তিনি। ভারতের রাতেও ওষুধ পাওয়ার এই সুযোগকে তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিজের যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনাও করেন শর্মা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রক্রিয়াটিও তুলনামূলক জটিল হতে পারে। বিশেষ করে রাতের সময়ে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা ভারতের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি জানান। শর্মার বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। এটিকে ভারত বা যুক্তরাজ্যের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ চিকিৎসা পাওয়ার সময় ও সুযোগ নির্ভর করে রোগের ধরন, অবস্থান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং জরুরি সেবার প্রাপ্যতার ওপর। তবে তার মন্তব্য নতুন করে একটি বিষয় সামনে এনেছে। বিদেশে বসবাসের সময় নিজের দেশের কিছু দৈনন্দিন সুবিধার মূল্য অনেক বেশি করে উপলব্ধি হতে পারে। দেশে থাকাকালে যে বিষয়গুলো স্বাভাবিক বলে মনে হয়, বিদেশে গিয়ে সেগুলোই কখনো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে মনে হতে পারে বলে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শর্মা। দীপাঞ্জলি শর্মার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৃহত্তর তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো, দাবি শ্বেতাঙ্গ মায়ের! ডিএনএ টেস্টের পরও থামেনি বিতর্ক
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'
জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বিপর্যয়কর, অন্যায্য ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টে কথা বলার সময় গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। শনিবার রাতে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্টের শুরুতে এ বক্তব্য দেন শিরান। এটি ছিল র্যাপার ম্যাকলমোরকে নিজের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের প্রথম কনসার্ট। ম্যাকলমোর এর আগে মঞ্চে ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ায় বিতর্কে জড়ান। তাকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের বেশ কয়েকজন উদ্বোধনী শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। কনসার্টে নিজের বক্তব্যের শুরুতে শিরান বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে রাজনৈতিক সংগীতশিল্পী হিসেবে তুলে ধরতে চাননি। তার সংগীত ও পরিবেশনা যেন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য এবং রাজনীতির পরিবর্তে মানবিকতার কথা বলে, সেটিই তিনি চেয়েছেন। তবে গাজা পরিস্থিতিকে তিনি কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না বলে জানান। শিরান বলেন, এটি একটি মানবিক সংকট এবং এ বিষয়ে নিজের অনুভূতি আর গোপন করতে পারছেন না। ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং ওই দিনের একটি সংগীত উৎসবে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে শিরান বলেন, এর সঙ্গে ইহুদি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বেদনার বিষয়ও জড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেন শিরান। তিনি বলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার হৃদয় ভেঙে গেছে। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিতেও যে অবিচার চলছে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যে ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের প্রসঙ্গও তোলেন শিরান। তিনি বলেন, এই সংঘাত নিয়ে কথা বলা তার জন্য সহজ নয়। তবে মানবিক সংকটের কারণে তিনি এ বিষয়ে নীরব থাকতে পারছেন না। এর আগে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, গাজা ও ফিলিস্তিনের পক্ষে তার বক্তব্যের পর সফর থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের নয়, বরং সফরের আয়োজকদের সিদ্ধান্ত ছিল। ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের অন্য কয়েকজন শিল্পীও শিরানের সঙ্গে আর না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ছিলেন অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম, বেওগা এবং ফিনিয়াস। তাদের কেউ কেউ ম্যাকলমোরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সফর থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টের আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন কনসার্টস্থলের কাছে সমাবেশের আয়োজন করে। তবে বিতর্কের মধ্যেও শিরান সফর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টে তিনি বলেন, ভক্তদের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই তিনি মঞ্চে উঠেছেন। মঞ্চে তিনি আরও বলেন, কোনো শিল্পীর পরিবেশনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণ করার ধারণা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এমন পরিস্থিতি দেখা গেলেও মুক্ত সমাজে এটি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের পর দর্শকদের কাছ থেকে করতালি পান শিরান। এরপর তিনি নিয়মিত পরিবেশনায় ফিরে গিয়ে ‘ক্যাসল অন দ্য হিল’ গানটি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন দর্শক পরে তার বক্তব্যের প্রশংসা করেন এবং বলেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে তিনি যে অবস্থান তুলে ধরেছেন, তা ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ফিলিভয়েস
তুরস্কে ৩ বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার ৯ ইসরায়েলি
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি