সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি যাত্রীবাহী বাসে এসইউভি (SUV) গাড়ির ধাক্কা এবং এর জেরে এনবিসি (NBC) নিউজের একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটা এই জোড়া দুর্ঘটনার মূল অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী নারী চালক বেইলি লিন রিওসকে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি হত্যা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি হাড়হিম করা ভিডিওতে দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ঘোরের মধ্যে থাকা অভিযুক্ত চালক বেইলি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে বসে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার অবস্থা জানতে চাইলে তাকে হতভম্ব ও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়ি থেকেও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার বেপরোয়া এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় বাসের দুই যাত্রী নিহত হন।   তবে এই ট্র্যাজেডি এখানেই থেমে থাকেনি। বাস দুর্ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়, যার জেরে এনবিসি নিউজের একটি সংবাদবাহী হেলিকপ্টার মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের পাইলট, একজন সাংবাদিক এবং নিচে থাকা এক পথচারী প্রাণ হারান। একটি বেপরোয়া ড্রাইভিং কীভাবে এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:৩২
রাশেদ খাঁন ছবি:সংগৃহীত
জামায়াতের আন্দোলনেই আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে: রাশেদ খাঁন

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের লংমার্চ আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরার সুযোগ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন রাশেদ খাঁন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত ভালো ফল বয়ে আনবে না।   শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটকের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের স্মরণে নির্মিত ‘স্ট্রিট মেমোরি স্টাম্প’ পরিদর্শন করেন।   রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত রাজনৈতিকভাবে একটি ‘হঠকারী দল’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর অভিযোগ, দলটির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচি আওয়ামী লীগকে আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।   তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র সাত মাসে প্রবেশ করেছে এবং ছয় মাসের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ করেছে। এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচির যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে—এমন দাবিও করেন রাশেদ খাঁন। এটি তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়।   রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ করছে। একই সঙ্গে এসব কর্মসূচির ফলে আওয়ামী লীগ আবার রাজনৈতিক মাঠে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।   বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, সহযোগিতার পরিবর্তে লংমার্চের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হলে সেটি ভালো ফল বয়ে আনবে না।   রাশেদ খাঁন জামায়াতের আমিরের ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন। একই সময়কে ঘিরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সমন্বয় বা প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।   তিনি ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও সামনে আনেন। সে সময় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও বুঝে বা না বুঝে একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না। এটিও রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক তুলনা ও বক্তব্য।   এদিকে লংমার্চের ধরন নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি গাড়িতে করে লংমার্চ করার সমালোচনা করেন এবং কর্মসূচির কারণে সড়কে জনদুর্ভোগ, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে বলে দাবি করেন।তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকার পরও সরকার ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করে বলে জানান তিনি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।   রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য মূলত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুরমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেওয়া। এই কর্মসূচিকে ঘিরেই সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে আসছে।   তবে রাশেদ খাঁনের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্ট নেতাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া উল্লিখিত মূল প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে ‘আওয়ামী লীগকে ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি’ বা ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের’ বক্তব্যগুলোকে রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত, প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:২৯
সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন
সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন: নাহিদ ইসলাম

দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করা হোক। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এনসিপির আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।    মানববন্ধনটি আয়োজন করা হয় বিএনপি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন প্রণয়ন, বিরোধী মত দমন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে। বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের নামে এনসিপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের যদি দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে আগ্রহ থাকে, তাহলে অতীতের সময়ের অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।    জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের প্রসঙ্গও টেনে আনেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। তাঁর মতে, এমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জাতীয় ঐক্যের চিত্র তুলে ধরা হলে তা ইতিবাচক হতো।    দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছিল, সেগুলো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।    মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম সরকারের কাছে তাঁর অবস্থান জানতে চান। তিনি দাবি করেন, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ মাস পার হলেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নাহিদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবার প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি এবং পরে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলাদা বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    সাবেক এনসিপি নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তানভীরের বক্তব্যকে দল সমর্থন করেনি এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে একই আইনে মামলা হওয়ার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন নাহিদ।    মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধের দাবিও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।    নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। তাঁর দাবি, সরকারে এসে তারা জাতীয় পর্যায়েও একই ধরনের তদন্তের সুযোগ দিচ্ছে না। পুলিশ সংস্কারের পরিবর্তে পুলিশকে বিরোধী দল দমনে প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকেও দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।    এ ছাড়া সরকারের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও তোলেন।    মানববন্ধনে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য মূলত দুর্নীতি তদন্ত, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদনে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।   সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:১১
শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক/চুক্তি ছবি:সংগৃহীত
শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, স্বার্থ রক্ষার কথা জানাল ভারত

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে ঢাকা থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পায়নি বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।    গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে সরকার। তিনি বলেন, পর্যালোচনার ফল শিগগিরই জানা যাবে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।    বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত এ-সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখেছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তিনি আরও বলেন, ভারত তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।    চুক্তিগুলো পর্যালোচনার আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি অতীতের কিছু ব্যবস্থার সমালোচনা করে দাবি করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সরকার এখন পর্যন্ত সব ১০১টি চুক্তি বাতিল করার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি; এখন যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটি পর্যালোচনা।    দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বন্দর ব্যবহার, অবকাঠামো ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল। ফলে পর্যালোচনার পর কোন চুক্তি অপরিবর্তিত থাকবে, কোনটির শর্ত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিংবা কোনোটি বাতিলের পথে যাবে কি না—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।    এদিকে একই ব্রিফিংয়ে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। বর্তমান চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।    ফলে ১০১টি চুক্তির পর্যালোচনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত বা সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিস্তারিত ভারতকে জানায়নি। 

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১২:৪
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ভেনেজুয়েলার ৪০০ কোটি ডলারের স্বর্ণের মজুত যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, দীর্ঘ বিরোধের অবসান

ভেনেজুয়েলার প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ মেট্রিক টন স্বর্ণ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে নেওয়া হতে পারে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কিছু আইনি ও কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত চারজনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনভাবে এর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারেন। তবে তাঁর সরকার চাইলেই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না। বরং এই স্বর্ণকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জুনে হওয়া দুটি বড় ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনকাজে অর্থায়নের জন্য ওই অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    এই স্বর্ণ নিয়ে বিরোধের ইতিহাস প্রায় সাত বছরের। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ তৎকালীন বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এরপর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষ। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালত পর্যন্ত গড়ায়।    ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের আদালত নতুন কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা স্বর্ণের হিসাব নিয়ে কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ব্যাংকটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বর্ণের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব কার, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান মামলায় যুক্তরাজ্য সরকার পক্ষ নয় এবং দেশটির আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে।    ভেনেজুয়েলা ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা স্বর্ণ ব্যবহারের পথ খুলতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছিল। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ তখন বিদেশে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানান। প্রস্তাবিত চুক্তিতে স্বর্ণ সরাসরি বিক্রি না করে ঋণের জামানত হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় থাকায় এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা নতুন অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে।    এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তরের আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক সম্পর্কও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ফলে স্বর্ণের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সম্ভাব্য সমাধানটি দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।   তবে প্রস্তাবিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। স্বর্ণ স্থানান্তরের আগে আইনি কর্তৃত্ব, তদারকি এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। ফলে ৪০০ কোটি ডলারের এই স্বর্ণ কবে এবং কীভাবে লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:৫১
এটিএম আজহারুল
‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল

প্রশাসনে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপি বিগত আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এটি আজহারুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন; অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। বিশেষ করে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, বিএনপিও একই ধরনের পথে এগোচ্ছে।    এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংবিধান সংস্কার নিয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।    জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত। কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।    এটি অবশ্য বিএনপির বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের সাম্প্রতিক প্রথম এমন বক্তব্য নয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আরেক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে। তাঁর দাবি ছিল, বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সংসদেও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে।    পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনেও বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর বক্তব্য দেন আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করা অব্যাহত থাকলে বিএনপির পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে বলেও তখন মন্তব্য করেন তিনি।    শুক্রবার রংপুরের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের দাবিগুলোও তুলে ধরেন আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, কর্মসূচিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নয়; বরং এগুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে লংমার্চে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাধা দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে রংপুরের দিকে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়া হবে।    সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান সার সংকট নিয়েও কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। একই সঙ্গে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সারের ডিলার নিয়োগ ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কী বলেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।    তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের নায়েবে আমির। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয় রাখা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মামুনুল হকসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    আজহারুল ইসলামের বক্তব্য মূলত বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সমালোচনা ও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। তাঁর উত্থাপিত দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, জামায়াত নেতার অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। অনুসন্ধানে পাওয়া আজকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:৪৫
রুমিন ফারহানা
যে কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে ও ফিরতে পারেন: রুমিন ফারহানা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন এবং আবার যে কোনো সময় দেশে ফিরতেও পারেন। এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তবে দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি সরকারের এখতিয়ার।   শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের একই মূল বিষয় উঠে এসেছে।সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাইলে রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকের দেশ ত্যাগ এবং দেশে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে পারে আবার যে কোনো সময় দেশে ঢুকতেও পারে। এটা সংবিধানে পরিষ্কার বলে দেওয়া আছে।”   তবে দেশে ফিরে আসার অধিকার এবং দেশে ফেরার পর সরকারের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপকে আলাদা বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর সরকার তার বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে।   রুমিন ফারহানার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মূলত নাগরিকের দেশে প্রবেশ ও দেশত্যাগের সাংবিধানিক অধিকারের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার করেন, দেশে ফেরার পর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি আলাদা বিষয় এবং সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।   শুক্রবারের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আশুগঞ্জের আব্দুল কাদির শাহ পাঠাগার। ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে ‘ভাষাসৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক’ দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমিন ফারহানা।   অনুষ্ঠানে নিজের বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদের অবদান নিয়েও কথা বলেন রুমিন। তার বক্তব্য ছিল, ভাষা আন্দোলনে অলি আহাদের ভূমিকা থাকলেও ইতিহাসে সেই অবদান যথাযথভাবে উঠে আসেনি। বাংলাদেশের ইতিহাস অনেক সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।   তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গও তোলেন। রুমিনের মতে, নতুন প্রজন্মের সামনে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন ও অবদান আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।   এদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্য ঘিরে তার নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার বক্তব্যের প্রতিবাদে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল করেন। এমনকি বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   শুক্রবার সাংবাদিকরা এই বিরোধের বিষয়েও রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবেই দেখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, মিছিল-মিটিং হবে এবং রাজনৈতিক বিরোধিতাও থাকবে। এসব ঘটনাকে তিনি অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না।   রুমিন আরও বলেন, রাজনীতিবিদদের বক্তব্যের জবাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই দেয়। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতিকেও তিনি তার প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে দেশ টিভি ও স্টার নিউজ জানিয়েছে।   অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল।   স্টার নিউজের প্রতিবেদনে সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।   শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার প্রশ্নে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের মূল কথা ছিল—একজন নাগরিকের দেশে ফেরার অধিকার এবং দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে সরকারের সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ দুটি পৃথক বিষয়। তিনি নাগরিকের দেশে আসা-যাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারের কথা তুলে ধরলেও শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সরকার ঠিক কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলেননি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:২৬
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি

কল্পবিজ্ঞানের দৃশ্য এবার বাস্তব কারখানায়। চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌয়ে ইউবিটেক রোবোটিকসের নতুন শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট কারখানায় রোবটই অন্য রোবট তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কারখানাটি উৎপাদনে যায়। পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতি ১০ মিনিটে একটি শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন করা সম্ভব হবে এবং বছরে ১০ হাজারের বেশি রোবট তৈরির সক্ষমতা রাখা হয়েছে।    লিউঝৌয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ইকোলজিক্যাল নিউ ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত এই কারখানার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার এবং ভবনটির উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে মূলত ইউবিটেকের ওয়াকার এস এবং ক্রুজার সিরিজের শিল্প হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি ১০ হাজার ইউনিট বা তার বেশি বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতার জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট স্মার্ট কারখানা।    কারখানাটির বিশেষত্ব শুধু দ্রুত উৎপাদন নয়, বরং উৎপাদন প্রক্রিয়াতেই হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার। ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ মডেলের রোবটগুলো যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ নামানো, স্তূপ করা, তোলা এবং উৎপাদন লাইনে সরবরাহের মতো কাজে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন পরিবহন যান এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় সরঞ্জামও চূড়ান্ত সংযোজনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।    পুরো উৎপাদন ব্যবস্থা পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে একটি ডিজিটাল ‘স্মার্ট ব্রেইন’। এর মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয়, যন্ত্রাংশের চলাচল এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ইউবিটেকের সঙ্গে সিমেন্সও এই হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য বিশেষ ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করেছে। শিল্প কারখানার ভার্চুয়াল মডেল ব্যবহার করে উৎপাদন প্রক্রিয়া আগে থেকেই পরীক্ষা ও পরিকল্পনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।    এই ধরনের ব্যবস্থা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিকে পরীক্ষামূলক বা ছোট পরিসরের উৎপাদন থেকে বড় পরিসরের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে হিউম্যানয়েড রোবটের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের সংখ্যা বেশি, সংযোজনের কাজ তুলনামূলক জটিল এবং মডেল দ্রুত পরিবর্তিত হয়। তাই একই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মডেল তৈরি করতে সক্ষম নমনীয় কারখানা প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।    চীনে রোবট উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চীনে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শিল্প রোবটের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।    আগস্টের পরিসংখ্যানেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, আগস্টে চীনে ৯৬ হাজার ১৭৪টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৫২টি, যা বার্ষিক হিসাবে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি।    ফলে লিউঝৌয়ের নতুন কারখানাটি শুধু একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র নয়, রোবট শিল্পের উৎপাদন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের একটি উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। যেখানে একসময় মানুষের হাতে তৈরি রোবটই ছিল স্বাভাবিক চিত্র, সেখানে এখন রোবটকে উৎপাদন লাইনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের রোবট তৈরি করার দিকে এগোচ্ছে শিল্পখাত।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:১৯
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ছবি:সংগৃহীত
সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, ১৭ দিনে ৭৯ মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনবি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনের মৃত্যুর সংখ্যাই চলতি বছরের যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ।    চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ৭৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির চিত্র তুলে ধরছে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে।    রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের পুরো আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২২ হাজার ৫৩৬ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই আগস্টের পুরো মাসের রোগীসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিসংখ্যান থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কত দ্রুত বেড়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।    শুধু মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা নয়, দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই নয়জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দিনে নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর খবরও এসেছে।    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হন। পাঁচজন মৃতের মধ্যে চারজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে এবং একজন রংপুর বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।    এই পাঁচজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬। আর বছরের শুরু থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ৫৮ হাজার ৪০০ জনে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তখনও ৪ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।    বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সর্বশেষ পাঁচ মৃত্যুর একটি রংপুর বিভাগে হওয়ার তথ্যও দেখায় যে ডেঙ্গুর গুরুতর প্রভাব ঢাকার বাইরেও রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ মৃত্যুর চারটিই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হওয়ায় রাজধানীতে পরিস্থিতির গুরুত্বও স্পষ্ট।    ডেঙ্গু মূলত এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার প্রজননের জন্য বাসাবাড়ি বা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানির ছোট ছোট উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শুধু বড় জলাশয় পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ শেষ হয় না। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ কিংবা পানি জমে থাকতে পারে—এমন জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বরকে অবহেলা না করাও জরুরি। বিশেষ করে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।   ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়।   সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর দ্রুত বৃদ্ধি। আগস্টের পুরো মাসে ২২ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ২২ হাজার ৫৫৪ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বছরের মোট ১৭৬ মৃত্যুর মধ্যে ৭৯টিই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে।    পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে নতুন সংক্রমণের প্রবণতা, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, আবহাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা কত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ের ওপর। আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে যে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে চলতি বছরের ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুতর মাস হয়ে উঠেছে।   বিশেষ করে একদিকে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাসাবাড়িতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা—সবগুলো বিষয়ই এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।   চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তাই সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্কবার্তা। সেপ্টেম্বরের বাকি দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা কমে আসে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে প্রথম ১৭ দিনের তথ্য বলছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১১:০
'আইভি লিগের যোগ্য নন’ বলা সেই ১৭ বছরের সেই কিশোরী মিশেল ওবামাই হলেন ফার্স্ট লেডি
'আইভি লিগের যোগ্য নন’ বলা সেই ১৭ বছরের সেই কিশোরী মিশেল ওবামাই হলেন ফার্স্ট লেডি

১৯৮১ সালে শিকাগোর সাউথ সাইডের এক মেধাবী তরুণী স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। ভালো ফলাফল, মেধার স্বীকৃতি এবং সিনিয়র ক্লাসের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সেই শিক্ষার্থী ছিলেন মিশেল রবিনসন। পরবর্তী সময়ে তিনিই বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন মিশেল ওবামা নামে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে পরামর্শ নিতে গিয়ে এক শিক্ষকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শুনেছিলেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারত।   মিশেল তখন শিকাগোর হুইটনি এম. ইয়ং ম্যাগনেট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর বড় ভাই ক্রেইগ রবিনসন তখন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন। ভাইয়ের পথ অনুসরণ করে মিশেলও প্রিন্সটনে পড়ার স্বপ্ন দেখেন। মিশেল পরে জানিয়েছেন, পরিবারের কেউ তাঁকে বিশেষভাবে প্রিন্সটনে আবেদন করতে বলেননি। তবে ভাই সেখানে পড়ছেন, এটিই তাঁকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর জন্যও সম্ভব।   হাইস্কুলের এক পরামর্শদাতার সঙ্গে দেখা করে মিশেল যখন প্রিন্সটনে পড়ার ইচ্ছার কথা জানান, তখন তিনি উৎসাহের বদলে সংশয় শুনেছিলেন। মিশেলের স্মৃতিকথা অনুযায়ী, পরামর্শদাতা তাঁর প্রিন্সটনে পড়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এমন মন্তব্য একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিতে পারত। কিন্তু মিশেল সেই মন্তব্যকে নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি।   প্রিন্সটনে ভর্তি হওয়ার পথটিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিশেল জানিয়েছেন, তাঁর স্কুলে শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজ পরামর্শদাতার সংখ্যা ছিল কম। কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ব্যক্তিগত সহায়তাও সবার জন্য সহজলভ্য ছিল না। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত ছিল। তবু তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি এবং প্রিন্সটনে ভর্তির জন্য আবেদন করেন।   শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালে মিশেল রবিনসন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সেখানে তিনি সমাজবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং আফ্রিকান আমেরিকান শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। চার বছরের পড়াশোনা শেষে ১৯৮৫ সালে তিনি প্রিন্সটন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।   প্রিন্সটনের পর তাঁর শিক্ষাজীবন আরও এগিয়ে যায়। মিশেল হার্ভার্ড আইন স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তাঁর পেশাগত জীবন তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ের পরিচিতির দিকে নিয়ে যায়।   ২০০৯ সালে তাঁর স্বামী বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মিশেল ওবামা দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান ফার্স্ট লেডি। হোয়াইট হাউসে থাকাকালে শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।   যে তরুণীকে একসময় প্রিন্সটনের জন্য যথেষ্ট যোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তিনিই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে স্নাতক হন। তাঁর গল্পটি দেখায়, একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অন্য কারও সন্দেহই শেষ কথা নয়। মিশেল ওবামার নিজের জীবনেই সেই সন্দেহকে অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:৫৫
আল-আজহারে দশ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি রায়হান মাহমুদ
আল-আজহারে দশ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি রায়হান মাহমুদ

ঢাকার সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার রাজাঘাট গ্রামের সন্তান হাফেজ মাওলানা মুফতি কারী রায়হান মাহমুদ আজহারী পবিত্র কোরআনের ১০ ধরনের কেরাতে সনদ অর্জন করেছেন। সম্প্রতি মিশরে তিনি এই সনদ অর্জন করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক সাফল্য এবং আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি।   রায়হান মাহমুদের পিতা হাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দেওয়া রায়হান সাভারের বড় মাদ্রাসায় পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকার বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ পরিচালিত মাদ্রাসাতুল মাদীনা এবং মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন তিনি। পরে কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম থেকে মুফতি কোর্স সম্পন্ন করেন। এসব শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি ‘মুমতাজ’ ফল অর্জন করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এরপর ক্বিরাত শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে লালবাগের মা’হাদুল ক্বিরাত থেকে উচ্চতর তাজবিদ ও ক্বিরাতের শিক্ষা নেন রায়হান। উচ্চশিক্ষার জন্য পরে মিশরে পাড়ি জমান তিনি। কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও ভাষাবিজ্ঞানে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির তানতা শাখায় ‘উলুমুল কোরআন ও ক্বিরাত’ বিভাগে পড়াশোনা করছেন।    আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাতেও রায়হান মাহমুদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। মিশরের ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৫৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। এছাড়া ‘ওফাউল আজয়াল’ ও ‘সুফারাউল হিদায়া’ আয়োজিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে তার।    কোরআনের তিলাওয়াত, তাজবিদ ও ক্বিরাতে দক্ষতার পাশাপাশি রায়হান আরবি ও বাংলা ভাষায় পারদর্শী এবং ফিকহ বিষয়ে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। ২০২৬ সালে তারাবির নামাজ পড়ানোর জন্য তিনি জাপান সফর করেন। একই বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্যও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    সাভারের একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে মিশরের আল আজহারে উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনের এই ধারাবাহিকতা রায়হান মাহমুদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। তার এই অর্জনে শিক্ষক, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দিত। কোরআন, ক্বিরাত ও ইসলামী শিক্ষায় ভবিষ্যতে তিনি আরও উচ্চতর পর্যায়ে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:৪৮
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ছবি:সংগৃহীত
জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা

জার্মানি যাওয়ার পথে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) এ তথ্য জানিয়েছে।    ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেরিং তোবগের জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।    ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রায় ৪৫ মিনিটের হওয়ার কথা। এরপর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁর জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই তথ্য প্রকাশ করেছে।    ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রাবিরতিকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। বাংলাদেশ সরকারের সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরকালীন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।    ফলে এটি কেবল একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ট্রানজিট ছিল না; একজন সরকারপ্রধানের যাত্রাবিরতি হিসেবে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিও সেই আনুষ্ঠানিকতার অংশ।শেরিং তোবগে ভুটানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা এবং বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের সম্পর্কেরও দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে।   বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসেও ভুটানের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুটান প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি। সেই সময় থেকে ঢাকা ও থিম্পুর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পরবর্তী দশকগুলোতে বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ বিস্তৃত হয়েছে।   দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব রয়েছে। স্থলবেষ্টিত ভুটানের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভুটানের জলবিদ্যুৎ খাতের সম্ভাবনার দিকে নজর রেখে আসছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মাধ্যমে ভুটান থেকে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র।   শেরিং তোবগের এবারের ঢাকায় অবস্থান অবশ্য পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যে বিমানবন্দরে অবস্থানকালে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা জানানো হয়নি। তাই এই যাত্রাবিরতিকে নতুন কোনো চুক্তি বা রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অবস্থানের সময় নিয়ে সামান্য পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। ইউএনবি ও যমুনা টেলিভিশন প্রায় ৪৫ মিনিটের যাত্রাবিরতির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলা ট্রিবিউন এটিকে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ইউএনবি যে তথ্য দিয়েছে, তাতে প্রায় ৪৫ মিনিটের কথাই বলা হয়েছে।    আজকের ঘটনাটি আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় যাত্রাবিরতি বলে একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২৬ আগস্ট ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন।    সেই যাত্রাবিরতির সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে ভুটানের রাজার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের ঢাকা হয়ে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা দুই প্রতিবেশী দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আরেকটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে শুক্রবারের যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মূল বিষয় ছিল জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকার বিমানবন্দর ব্যবহার এবং সেখানে স্বল্প সময় অবস্থান।   বাংলাদেশ ও ভুটান উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর সদস্য। দুই দেশ সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও ঢাকা ও থিম্পুর স্বার্থের মিল রয়েছে।   বিশেষ করে ভুটানের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে জ্বালানি সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বিষয়টি এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য ভুটানের বাজারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে ভুটান থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আসে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হলে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   পর্যটনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ রয়েছে। পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ভুটান বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের নাগরিক পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে।   এই বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শেরিং তোবগের শুক্রবারের সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ছোট ঘটনা হলেও কূটনৈতিকভাবে দৃশ্যমান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো এবং আগের দিন তাঁকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা এর আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব তুলে ধরে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:৩৯
আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা
আইফোন ১৮ প্রো বাজারে আসার দিনই ইতালিতে ধর্মঘট ডাকলো অ্যাপল কর্মীরা

ইতালিতে নতুন আইফোন ১৮ প্রো বিক্রি শুরুর দিন শুক্রবার ধর্মঘটে গেছেন অ্যাপলের রিটেইল স্টোরের কর্মীরা। কর্মপরিবেশ ও কর্মীদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে অসন্তোষের জেরে দেশটির ১৭টি অ্যাপল স্টোরের ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি কর্মী এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইউনিয়নগুলো।   ফিলক্যামস সিজিআইএল, ফিসাসক্যাট সিআইএসএল এবং ইউইলটিইউসিএস ইউনিয়নের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মিলানের কেন্দ্রীয় এলাকায় অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ কিউব স্টোরের সামনে কয়েক ডজন কর্মী জড়ো হয়ে পতাকা ওড়ান এবং বাঁশি ও অন্যান্য শব্দযন্ত্র ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান। একই সময়ে নতুন আইফোন কিনতে ক্রেতাদের দোকানের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।   ইউনিয়নগুলোর দাবি, নতুন আইফোনসহ অ্যাপলের নতুন পণ্য বাজারে আসার সময় রিটেইল কর্মীদের ওপর কাজের চাপ বাড়লেও তাদের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি নিয়ে যথেষ্ট স্পষ্টতা নেই। কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় কর্মপরিবেশের অবনতি এবং কর্মীদের কল্যাণের বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ না দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ফিলক্যামস সিজিআইএল।   ইউনিয়নগুলো আরও কর্মী নিয়োগ, নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিতে থাকা কর্মীদের স্থায়ী চাকরিতে নেওয়া এবং পার্টটাইম কর্মীদের ইচ্ছা অনুযায়ী অতিরিক্ত ঘণ্টা কাজের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নতুন পণ্য লঞ্চের সময় অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে পর্যাপ্ত জনবল ও পরিষ্কার দায়িত্ব কাঠামো প্রয়োজন।   তবে ধর্মঘটের কারণে ইতালিতে অ্যাপলের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অ্যাপলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের রিটেইল ও অনলাইন স্টোর স্বাভাবিকভাবেই খোলা রয়েছে এবং গ্রাহকদের যথারীতি সেবা দেওয়া হচ্ছে। কোম্পানিটি কর্মীদের বেতন ও সুবিধাকে শিল্পখাতে প্রতিযোগিতামূলক উল্লেখ করে জানিয়েছে, কর্মীদের জন্য প্রাইভেট মেডিকেল, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সাপোর্ট প্রোগ্রাম রয়েছে।   ধর্মঘটের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার বিশ্বজুড়ে আইফোন ১৮ প্রো বিক্রি শুরু হয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে নতুন আইফোন উন্মোচন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ডুও উন্মোচন করে, যার বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর।   ইতালিতে আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৪৮৯ ইউরো থেকে। নতুন মডেলের বৈশ্বিক লঞ্চের দিনেই কর্মীদের ধর্মঘট হওয়ায় বিষয়টি অ্যাপলের রিটেইল অপারেশন ও কর্মপরিবেশ নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে সামনে এনেছে। তবে ধর্মঘটের কারণে ইতালিতে আইফোন ১৮ প্রোর বিক্রি বা অ্যাপলের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে, এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়নগুলোর মতে অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন পণ্য লঞ্চের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই দিনটিকেই তারা কর্মীদের দাবি তুলে ধরার জন্য বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে অ্যাপল জানিয়েছে, তাদের স্টোরগুলো স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:৩৫
মালিবাগে শপিং মল ছবি:সংগৃহীত
মালিবাগে শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জুমার পর আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়

রাজধানীর মালিবাগে ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর এ ঘটনায় ব্যস্ত এলাকাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান করছে।   প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে মালিবাগ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফরচুন শপিং মলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। অন্যদিকে ঢাকা টাইমস পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালিবাগ ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দুটি ককটেল নিচের সড়কে নিক্ষেপ করে। তবে এসব বর্ণনা একই ঘটনার ভিন্ন বিবরণ কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ঘটনার পর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে জনবহুল এলাকায় এ ধরনের বিস্ফোরণ স্বাভাবিকভাবেই পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।কারা ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   মালিবাগের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। জগন্নাথ হলের সামনের বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটানো হয়েছিল, সে বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেলেও তদন্তের আগে কোনো একটি বর্ণনাকে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। টিএসসি এলাকার বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলে এসে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।   এর আগে একই দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের কাছেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে বিস্ফোরণটি ঘটে বলে সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণার পর। তবে রায়ের সঙ্গে বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ; শুধু সময়ের নৈকট্য থেকে কোনো উদ্দেশ্য বা দায় নির্ধারণ করা যায় না।   ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মালিবাগের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সাংগঠনিক বা অন্য ধরনের যোগসূত্র রয়েছে—এমন তথ্য এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।   মালিবাগের সর্বশেষ ঘটনায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাকারীদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকেই ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও জড়িতদের সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালিবাগের বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর নেই। কারা ককটেল নিক্ষেপ করেছে এবং কেন করেছে—এখন তদন্তের প্রধান প্রশ্ন সেটিই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:২৪
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার, মিলছে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের যোগ্য পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন ১ ডলার বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ছাড় চালু করছে কোম্পানিটি। অ্যামাজন জানিয়েছে, বেতন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে।   নতুন বেতন কাঠামো মূলত অ্যামাজনের পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এসব পদের অনেকগুলোর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলারে পৌঁছাবে। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মী সুবিধার আর্থিক মূল্য হিসাব করলে গড় মোট পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩২ ডলারের বেশি হবে।   বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ‘ডে ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করছে অ্যামাজন। এর মাধ্যমে যোগ্য কর্মী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরা ফার্স্ট টেক ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, যোগ্য কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যামাজনে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই ব্যাংকিং সুবিধা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন।   নতুন সুবিধার আওতায় সাধারণ হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে কোনো মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনজনিত ফি থাকবে না। হিসাব খোলার জন্য আগের ঋণ বা ক্রেডিট ব্যবহারের ইতিহাসও প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো অতিরিক্ত ফি ছাড়া এটিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের ফিও ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং, সরাসরি বেতন জমা এবং ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি ও উন্নত করার বিভিন্ন সুবিধাও থাকবে।   অ্যামাজন কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ও চালু করছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অ্যামাজন কর্মী অ্যামাজন ডটকম ও হোল ফুডস মার্কেটের অনলাইন কেনাকাটায় যোগ্য খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াই ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। হোল ফুডসের দোকানে সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে ২০ শতাংশ। গরম খাবারের কাউন্টার ও সালাদ কাউন্টারও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে।   কোম্পানির নিজস্ব অ্যামাজন হিসাবে কেনাকাটা করলেই কর্মীরা এই ছাড় ব্যবহার করতে পারবেন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যামাজনের প্রাইম সদস্য, তাঁরা নির্দিষ্ট বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে নতুন কর্মী ছাড়ও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।   নতুন সুবিধাগুলো অ্যামাজনের বিদ্যমান কর্মী সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানির নিয়মিত পূর্ণকালীন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় কর্মীদের নিজস্ব খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। কিছু পরিকল্পনায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৫ ডলারের সহভাগী অর্থও রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে প্রাইম সদস্যপদ এবং ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আগাম শিক্ষাব্যয়ের সুবিধা পেতে পারেন।   ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ অর্জনের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচিতে কোম্পানির অবদান, বেতনসহ সন্তানের জন্ম বা দেখাশোনার ছুটি, নমনীয় ছুটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মী সুবিধাও রয়েছে।   অ্যামাজনের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট উডিট মাদান জানিয়েছেন, কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন নয়, পুরো সুবিধা প্যাকেজকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কোম্পানির ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবারের নতুন বেতন বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১৪ ডলার এবং টার্গেটে ১৫ ডলার। অন্যদিকে কস্টকো গত বছর প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২০ ডলারে উন্নীত করেছিল।   অ্যামাজনের নতুন সিদ্ধান্তে পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২০ ডলারে পৌঁছাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় যুক্ত হওয়ায় কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে। তবে কোন পদে কত বেতন এবং কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা কর্মীর পদ, যোগ্যতা ও কোম্পানির নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:১১
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ছবি:সংগৃহীত
কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী

পবিত্র কোরআনের মূল্যবোধ ও নির্দেশনার আলোকে একটি দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হলেও কোরআনকে সরাসরি রাষ্ট্রের সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সংবিধান সমাজ ও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন ও সংশোধন করা যায়, কিন্তু ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তনের সুযোগ নেই।    শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।   আইনমন্ত্রী জানান, ছাত্রজীবনে প্রচলিত ‘কোরআন আমাদের সংবিধান’ স্লোগান নিয়েও তাঁর ভিন্নমত ছিল। তাঁর বক্তব্যের মূল যুক্তি হলো—কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু কোরআনকে সরাসরি সংবিধান বলা যথাযথ নয়। কারণ একটি রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত হতে পারে, অন্যদিকে কোরআনের কোনো আয়াত পরিবর্তন করা যায় না।    অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের রাষ্ট্র ও সমাজবিষয়ক চিন্তাধারা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক ওপর থেকে কোনো ইসলামী শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়াকে সঠিক পন্থা হিসেবে দেখতেন না। বরং সমাজের ভেতর থেকে ইসলামী মূল্যবোধ বিকশিত করে সেই মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনাকে তিনি ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যথাযথ পথ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আইনমন্ত্রীর মতে, প্রকাশিত বইটিতেও আবদুর রাজ্জাকের এই রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে।    আইনমন্ত্রী বইটিকে শুধু সাহিত্য বা প্রচলিত গবেষণাধর্মী রচনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বইটি আবদুর রাজ্জাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সমাজকে দেখার অভিজ্ঞতা, চিন্তাচেতনা ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছিল বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সময়ে রাজ্জাকের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন।    আলোচনায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, একটি সমাজকে সামনে এগিয়ে যেতে হলে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। তাঁর মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নতুন প্রজন্মের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছে। আবদুর রাজ্জাকের বইয়েও পরিবর্তন ও রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশ্নটিও আলোচনায় আসে। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে আবদুর রাজ্জাক ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়ে জাতির সামনে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া বিবৃতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতে, সে সময় ওই বিবৃতিটি দলীয়ভাবে গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত। এটি আইনমন্ত্রীর নিজস্ব মূল্যায়ন; বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অংশ।    প্রসঙ্গত, আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। তাঁর মরণোত্তর প্রকাশিত স্মৃতিকথায় ১৯৭১ সালে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ের আলোচনা ও মতপার্থক্যের বিবরণ রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।    আইনমন্ত্রী বর্তমান সংসদীয় প্রক্রিয়ার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-সংক্রান্ত আইনে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রসঙ্গে জামায়াতের নাম থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশোধিত আইন সংসদে তোলা হলে জামায়াতের কোনো সংসদ সদস্য এর বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট দেননি। এই ঘটনাকে তিনি ১৯৭১ সালের ভূমিকার বিষয়ে দলটির একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এটি আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা; সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।    গণতন্ত্রে ভিন্নমত ও সমালোচনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হওয়া যেমন জরুরি নয়, তেমনি কোনো সমালোচনা পছন্দ না হওয়ার কারণে তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য ও সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীদের কেউ কেউ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে বইয়ে তুলে ধরা বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করবেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি গণতান্ত্রিক পরিসরে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ থাকা যেমন দরকার, তেমনি সমালোচনাকে আলোচনার বাইরে রাখাও উচিত নয়।    অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করলেও নিজের কাজ, চিন্তা ও দর্শনের কারণে আবদুর রাজ্জাক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি।    বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আলী রীয়াজ, দ্য ডেইলি স্টারের কনসালটিং এডিটর কামাল আহমেদ এবং সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচসহ দেশি-বিদেশি শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   অনুষ্ঠানের শেষ দিকে আইনমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের শেষ জীবনের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশে সমাহিত হওয়ার ইচ্ছার কথা তাঁকে জানিয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রয়াত এই আইনজীবী ও রাজনীতিকের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের তাঁর প্রকাশিত বইটি পড়ার আহ্বান জানান।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১০:১২
দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা
স্কুলের চিমনিতে পচা মরদেহ, দুই মাস পর নিখোঁজ ছেলেকে শনাক্ত করলেন মা

নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি সরকারি স্কুলের চিমনিতে জুনে পাওয়া পচনধরা মরদেহের পরিচয় প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকা ২৯ বছর বয়সী ম্যাথিউ কোলাডো হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে তিনি স্কুলের ভেতরে ঢুকলেন, কীভাবে চিমনিতে পৌঁছালেন এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, তার কোনো উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর কারণ, সময় ও ধরন এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।    কোলাডো কুইন্সের একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী র‌্যাপার ছিলেন এবং A.K. Nash নামে গান করতেন। তাঁর মা সোফিয়া উডের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ মে ভোর ৩টা ২২ মিনিটের দিকে তাকে জামাইকার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার আগে মাকে তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন পর পরিবারের সঙ্গে মাদার্স ডে উদযাপন করবেন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তিনি আর উপস্থিত হননি।    ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উড পুলিশে নিখোঁজের রিপোর্ট করেন। পাশাপাশি নিজেও বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে ও অনলাইনে তথ্য ছড়িয়ে ছেলের সন্ধান চালান। কোলাডোর অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তিনি তাঁর ফোন ও ওয়ালেট পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। দরজাটিও ডেডবোল্ট দিয়ে এমনভাবে খোলা ছিল, যা দেখে তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর কোলাডোর একটি নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল বলেও তাঁর মা জানিয়েছেন।    এরপর ৩০ জুন সকালে কুইন্সের গ্লেনডেল এলাকার P.S./I.S. 113 Anthony Pranzo School-এ দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক এক্সটারমিনেটর চিমনির ভেতর মরদেহটি দেখতে পান। তখন স্কুলটি গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে বন্ধ ছিল এবং ভবনে সংস্কারকাজ চলছিল। এক্সটারমিনেটর চিমনির ছাই বের করার অংশ খুলে প্রথমে একটি জুতা দেখতে পান। পরে ভেতরে হাত দিয়ে তিনি একটি পায়ের অংশ অনুভব করেন।    মরদেহ উদ্ধারের খবর প্রকাশের পর কোলাডোর মা বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর ছেলে নিখোঁজ থাকায় তিনি তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমদিকে তাঁকে জানানো হয়েছিল, চিমনি থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি তাঁর ছেলের বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর তদন্তকারীরা উডের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে মরদেহটি কোলাডোর বলে নিশ্চিত করে বলে তাঁর মা জানিয়েছেন।    পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও রহস্যের সমাধান হয়নি। তদন্তকারীদের হাতে কোলাডো কীভাবে স্কুলে ঢুকেছিলেন বা কীভাবে চিমনির ভেতরে পৌঁছেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো নজরদারি ভিডিও নেই বলে তাঁর মা জানিয়েছেন। স্কুলটির সঙ্গে কোলাডোর কোনো পরিচিত সম্পর্কও পরিবারের জানা ছিল না। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে এখনো একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।    কোলাডোর মা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে উচ্চতার ভয় পেতেন এবং আগুন ও ধোঁয়াও অপছন্দ করতেন। তাই কীভাবে তিনি একটি চিমনির ভেতরে গেলেন, সেটি তাঁর কাছে আরও বিস্ময়কর। তবে তিনি কোনো অনুমান বা অভিযোগ করতে চান না। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু ঘটনার সত্যতা ও নির্ভুল ব্যাখ্যা চান।    কোলাডো পূর্ব এলমহার্স্টে বেড়ে ওঠেন এবং সংগীত তৈরি করতেন। তাঁর মা জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন গান ও বিট তৈরি করতেন এবং অনলাইনে তাঁর কিছু গানও রয়েছে। এখন ছেলের কণ্ঠ শোনার জন্য সেই গানগুলোর কাছেই ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁকে।    কোলাডোর পরিবার এখনো তাঁর মৃত্যুর কারণ ও স্কুলের চিমনিতে পৌঁছানোর ঘটনাটি জানতে চাইছে। তাঁর মা এ ঘটনার সত্য উদঘাটনে একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। অন্যদিকে মেডিকেল এক্সামিনারের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ ও ধরন সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৯:৪৫
নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার পর ইউরোপে মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে চলছে বিতর্ক
নারীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার পর ইউরোপে মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ে চলছে বিতর্ক

ফ্রান্সে স্মার্ট গ্লাসের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্যারিসের প্রসিকিউটররা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন। একই সময়ে দেশটির ডেটা সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্মক্ষেত্রে এসব ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছে। প্রযুক্তিটির গোপনে ভিডিও ধারণের সক্ষমতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে তদন্তের সূত্রপাত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি প্রবণতা নিয়ে, যেখানে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে রাস্তায় নারীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে পরে তা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, সাইবারক্রাইম ইউনিট প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এসব ডিভাইস পরীক্ষা করেছে, যাতে এগুলো ব্যবহার করে কী ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তা বোঝা যায়।    বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্মার্ট গ্লাস থাকলেও মেটা ও ফ্রাঙ্কো-ইতালীয় চশমা নির্মাতা EssilorLuxottica-এর যৌথভাবে তৈরি গ্লাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। রয়টার্সের হিসাবে, বিশ্ববাজারে এ ধরনের গ্লাসের প্রায় ৭৬ শতাংশ বাজার অংশীদারিত্ব তাদের। মেটার এআই-সক্ষম স্মার্ট গ্লাসে ছোট ক্যামেরা রয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেন। গত বছর এসব গ্লাসের প্রায় ৭০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে।    গোপনে রেকর্ড করার সুযোগ থাকলেও মেটার স্মার্ট গ্লাসে একটি ছোট এলইডি লাইট থাকে, যা ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় জ্বলে ওঠে। কোম্পানির বক্তব্য অনুযায়ী, এই ক্যাপচার লাইট বন্ধ করা যায় না। তবে গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, দূর থেকে এই আলো দেখে বোঝা সবসময় সম্ভব কি না যে কাউকে রেকর্ড করা হচ্ছে।    ফ্রান্সের ডেটা সুরক্ষা সংস্থা CNIL জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের বিষয়ে তারা ১০টিরও কম অভিযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু কোম্পানি জানতে চাইছে, কর্মীদের কর্মস্থলে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইনগত সুযোগ তাদের রয়েছে কি না। কোন ব্র্যান্ডের গ্লাস নিয়ে এসব অভিযোগ এসেছে, তা সংস্থাটি প্রকাশ করেনি।    শুধু ফ্রান্স নয়, অন্য দেশেও স্মার্ট গ্লাস নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের কিছু সিনেমা হল এসব ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানির একটি ভোক্তা অধিকার সংগঠনও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনের অভিযোগ তুলে মেটাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে।    মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্মার্ট গ্লাস তৈরির সময় থেকেই গোপনীয়তা সুরক্ষাকে নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং গ্লাসের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে। EssilorLuxottica রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।    স্মার্ট গ্লাসে ক্যামেরা, এআই এবং অন্যান্য প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে সাধারণ চশমা ও ক্যামেরার মাঝামাঝি একটি নতুন ধরনের ডিভাইস তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারী নিজের চারপাশের ঘটনা সহজে ধারণ করতে পারলেও আশপাশের মানুষ সবসময় বুঝতে পারেন না যে তারা ক্যামেরার আওতায় রয়েছেন। ফলে প্রযুক্তিটির ব্যবহার কোথায় গ্রহণযোগ্য এবং কোথায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমা লঙ্ঘন হতে পারে, তা নিয়ে আইন ও নীতিমালার নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।   ফ্রান্সের সাম্প্রতিক তদন্ত সেই বিতর্ককেই আরও সামনে এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন প্রয়োগের সুযোগ এবং নতুন কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটিই নিয়ন্ত্রকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৯:৩১
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা

যুক্তরাষ্ট্রের ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী যেসব কর্মীর কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের বেকারত্বের হার গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিপরীতে একই বয়সী কলেজ গ্র্যাজুয়েটরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় কঠিন সময় পার করছেন। শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের নতুন বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছে এন্টারপ্রেনার।   দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ডিগ্রিধারী ও ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্বের প্রবণতা মোটামুটি একই দিকে চলেছে। অর্থনীতি ভালো থাকলে দুই পক্ষেরই বেকারত্ব কমেছে, আর অর্থনৈতিক দুর্বলতার সময়ে বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডিগ্রি না থাকা তরুণদের চাকরির বাজার শক্তিশালী হলেও কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভানন মনে করেন, এই পরিবর্তনকে শুধু সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, শ্রমবাজারে সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তন এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   এর একটি কারণ দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি। নির্মাণ, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন হাতে-কলমে দক্ষতা নির্ভর কাজে অভিজ্ঞ কর্মীদের বড় একটি অংশ অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছেন। ফলে এসব পেশায় নতুন কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। একই সময়ে অভিবাসন কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কলেজ গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা বাড়ছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এমন কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের অফিসের কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে, যেগুলো আগে নতুন কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগের মাধ্যমে করানো হতো। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কিছু সাদা কলারের চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন গ্র্যাজুয়েটরা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে কলেজ ডিগ্রিধারীরা সংখ্যাগতভাবে ডিগ্রিবিহীন কর্মীদের চেয়ে বেশি বেকার। এন্টারপ্রেনারের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হিসাবে কলেজ ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে শুধু হাইস্কুল ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক বেকারত্বের দিক থেকে উচ্চশিক্ষিত কর্মীরা এখনও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।   মূল পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে ঐতিহাসিক তুলনায়। অতীতে কলেজ ডিগ্রি থাকা ও না থাকা দুই শ্রেণির তরুণের চাকরির বাজারের গতিপথ অনেকটা কাছাকাছি ছিল। এখন ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্ব যেখানে দীর্ঘ সময়ের তুলনায় নিচের দিকে, সেখানে কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করা তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের আগের গবেষণাতেও তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি নিয়ে চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, টার্মিনাল ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের ৫২ শতাংশ গ্র্যাজুয়েশনের এক বছর পর এমন কাজে ছিলেন, যেখানে তাদের ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল না। ১০ বছর পরও ৪৫ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট আন্ডারএমপ্লয়েড ছিলেন। অর্থাৎ ডিগ্রি অর্জন করলেই প্রত্যাশিত মাত্রার চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না।    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেজ শিক্ষার আর্থিক সুবিধা এখনও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ৫৭৮ ডলার। একই তথ্য দেখায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ার সঙ্গে সাধারণত বেকারত্ব কমে এবং আয় বাড়ে।    তাই বর্তমান প্রবণতাকে কলেজ ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে এবং কোন ধরনের এন্ট্রি লেভেল কাজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তার এবং দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি একই সময়ে শ্রমবাজারের দুই ভিন্ন অংশে ভিন্ন ধরনের প্রভাব তৈরি করছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ তাই যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কলেজ ডিগ্রি এখনও উচ্চ আয় ও কম বেকারত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। একই সময়ে ডিগ্রিবিহীন তরুণদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক কিছু পেশায় সুযোগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে শিক্ষা, দক্ষতা এবং চাকরির চাহিদার সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৯:১৯
কোহাটে পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদের কাছে বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৬
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বো মা হা ম লা, নি হত অন্তত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের একটি মসজিদের কাছে আ ত্ম ঘা তী গাড়ি বো মা হা মলায় অন্তত ১৬ জন নি হত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চালানো এই হা মলায় নি হতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আ হ ত হয়েছেন অন্তত ৫৭ জন। পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হা মলার পর ঘটনাস্থলে গু লি বি নি ময়ও হয়েছে।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বি স্ফো র ক বোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার পর বি স্ফো র ণ ঘটে। ওই সময় কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদে পুলিশ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। বি স্ফো র ণের পর কয়েকজন স শ স্ত্র হা ম লা কারী কমপ্লেক্সে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে গু লি বি নি ময় শুরু হয়।   খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ জানিয়েছেন, এটি একটি আ ত্ম ঘা তী হা ম লা ছিল। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আরও এক আ ত্ম ঘা তী হা ম লা কারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বি স্ফো র ণ ঘটায়। হা মলায় জড়িত সাতজন হা ম লা কারী নি হত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী তাৎক্ষণিকভাবে হা ম লার দায় স্বীকার করেনি।   বি স্ফো র ণে মসজিদ ও আশপাশের স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে ভবনের দেয়াল ও মসজিদের অংশবিশেষ ধসে পড়তে দেখা গেছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আ হ তদের বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়। আ হ তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   হা ম লার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। উদ্ধারকাজ চলতে থাকায় হ তা হ তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে নি হ তের সংখ্যা কম ছিল, পরে কর্মকর্তারা তা ১৬ জনে উন্নীত করেন। ফলে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল।   আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স শ স্ত্র হা ম লার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হা ম লা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে শুক্রবারের হা ম লার দায় কোনো গোষ্ঠী নিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এই হা ম লার এক দিন আগেই একই প্রদেশের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে রাস্তার পাশে বো মা হা মলায় ছয় সেনা নি হত হন। এরপর পাকিস্তানি বাহিনী হাঙ্গু ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ১০ জন সন্দেহভাজন জ ঙ্গিকে হ ত্যার করার কথা জানিয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   কোহাটের এই হা ম লা পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা স্থাপনার সঙ্গে থাকা মসজিদগুলো কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। ২০২৩ সালে খাইবার পাখতুনখাওয়ার রাজধানী পেশোয়ারের একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের মসজিদে আ ত্ম ঘা তী হা ম লায় শতাধিক মানুষ নি হত হয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্য।   পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার মধ্যে শুক্রবারের হা ম লাটি সর্বশেষ বড় প্রাণঘাতী ঘটনা। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান ও তল্লাশি চালাচ্ছে এবং হা ম লার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:৫৯