- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
বাংলাদেশের প্রকৌশল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির সঙ্গে পরিচিত অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে উদ্ভাস এখন একটি পরিচিত নাম। তবে এই বড় শিক্ষা উদ্যোগের শুরুটা ছিল অত্যন্ত ছোট পরিসরে। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে বুয়েটে পড়ার সময় মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও তাঁর বন্ধু হামিদ ঢাকার মোহাম্মদপুরে মাত্র ৬ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে একটি ছোট কক্ষে উদ্ভাসের যাত্রা শুরু করেন। মাসিক ৮০০ টাকা ভাড়ার ওই কক্ষে ছিল তিনটি বেঞ্চ। শুরুতে পর্যাপ্ত অর্থ, অবকাঠামো বা বড় কোনো প্রচারব্যবস্থা—কিছুই ছিল না। উদ্ভাসের পেছনের গল্পটি মূলত সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তাঁর বেড়ে ওঠা। এসএসসি পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই কোনো বিষয় শুধু মুখস্থ করার বদলে তার কারণ ও মূল ধারণা বোঝার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। এ কারণে নিয়মিত প্রশ্ন করতেন। সরিষাবাড়ীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু জ্যোতিষ চন্দ্র সাহা এবং শিক্ষক প্রয়াত চন্দ্র নাথ তাঁর এই কৌতূহলকে উৎসাহ দিতেন। এমনকি তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষকেরা আলাদা সময় দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলেন। ঢাকায় কলেজজীবনে এসে অভিজ্ঞতাটি বদলে যায়। সোহাগের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্ন করার বিষয়ে তিনি সবসময় প্রত্যাশিত উৎসাহ পাননি। কখনো প্রশ্ন করার কারণে উপেক্ষা বা তিরস্কারের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এর প্রভাব তাঁর পড়াশোনায় পড়লেও সেই অভিজ্ঞতাই পরে একটি নতুন চিন্তার জন্ম দেয়। তিনি এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা ভাবতে শুরু করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারবে এবং কোনো বিষয় না বুঝলে আবার জিজ্ঞেস করার সুযোগ পাবে। পরে ঢাকা কলেজে পড়াশোনায় ঘুরে দাঁড়িয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন সোহাগ। এরপর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ১৪১তম হন। ২০০০ সালের নভেম্বরের মধ্যে তাঁর বুয়েটে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। সে সময় বুয়েটে দীর্ঘ সেশনজট চলছিল। হাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় থাকায় বন্ধু হামিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় উদ্ভাসের পথচলা। শুরুর দিকে মোহাম্মদপুরের ছোট কক্ষটিই ছিল পুরো প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র। তিনটি বেঞ্চ বসিয়ে ক্লাস নেওয়া হতো। কিছু লিফলেট ছাপিয়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে বিতরণ করা হয়। পরে প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বিখ্যাত ব্যক্তিদের বাণীও লেখা হতো। শুরুতে শিক্ষার্থীসংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল প্রচলিত কোচিং ব্যবস্থার মতো শুধু নোট, সাজেশন বা পরীক্ষার শর্টকাট দেওয়া নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বিষয় বুঝিয়ে শেখানো। এই অবস্থানটি শুরুতে ব্যবসায়িক দিক থেকে সহজ ছিল না। অভিভাবকেরা এসে যখন জানতে চাইতেন, হ্যান্ডনোট বা সাজেশন দেওয়া হবে কি না, তখন উদ্ভাসের পক্ষ থেকে উত্তর ছিল ‘না’। ফলে অনেক সম্ভাব্য শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিত। তবে একই উত্তর আবার এমন কিছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের কাছেও উদ্ভাসকে আলাদা করে তুলেছিল, যারা মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির বাইরে যেতে চেয়েছিলেন। প্রথম কয়েক বছর উদ্ভাসকে টিকে থাকতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদপুর থেকে ধানমন্ডি, পরে ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা চলে। সীমিত অর্থের কারণে ভাড়া, শিক্ষক, কর্মী ও দৈনন্দিন পরিচালনার খরচ সামলানো কঠিন ছিল। উদ্যোক্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, এমন সময়ও গেছে যখন কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবু শিক্ষকতা ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রতিষ্ঠানটিকে চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম শক্তি ছিল। উদ্ভাসের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হতে সময়ও লেগেছে দীর্ঘদিন। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় আট বছর পর্যন্ত এটি ব্রেক-ইভেনে পৌঁছাতে পারেনি। সেই সময় উদ্যোক্তা ও দলের সদস্যরা অনেক মাস পূর্ণ পারিশ্রমিকও পাননি। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন এই সময়ের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার পেছনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি দায়বদ্ধতা বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে সোহাগ জানিয়েছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভাসের শিক্ষক দলও বড় হতে থাকে। শিক্ষক নিয়োগে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, ধারণাগত সক্ষমতা ও মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সোহাগ। নতুন শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু পাঠদাতা নন; তাঁদের আচরণ ও মানসিকতাও শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব ফেলে। পরে উদ্ভাসের কার্যক্রম স্কুল ও কলেজের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতিতেও বিস্তৃত হয়। বিশেষ করে প্রকৌশল ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে উদ্ভাসের ৪২টি শাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা একাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়েছে। শুধু প্রচলিত পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতির মধ্যেই উদ্ভাসকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি উদ্যোক্তারা। নিয়মিত পরীক্ষা, অনুশীলন এবং বিষয় বোঝার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত বইভিত্তিক পরীক্ষার মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়। বিতর্কসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রকাশনার উদ্যোগও ছিল এর অংশ। উদ্ভাসের বিস্তারের পাশাপাশি সোহাগের উদ্যোক্তা জীবনও শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে। বুয়েটে পড়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে এসব উদ্যোগ থেকে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তবে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতির অন্যতম প্রধান জায়গা হয়ে থাকে শিক্ষা খাত। উদ্ভাসের পর শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় উন্মেষসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ। অন্যরকম গ্রুপের অধীনে এসব শিক্ষা কার্যক্রমকে সোহাগ প্রচলিত কোচিংয়ের পাশাপাশি একটি সমান্তরাল বা ছায়া শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর শিক্ষাদর্শের কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—শিক্ষার্থী যা শিখবে, তা যেন বুঝে শেখে। দুই দশকের বেশি সময়ের যাত্রায় উদ্ভাসের পরিসর সেই শুরুর ছোট কক্ষের তুলনায় অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু এর শুরুর গল্পটি এখনও বাংলাদেশের শিক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। মাত্র ৬ হাজার টাকার বিনিয়োগ, ৮০০ টাকা মাসিক ভাড়ার একটি কক্ষ, তিনটি বেঞ্চ এবং কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে যে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেটিই সময়ের সঙ্গে দেশের ভর্তি প্রস্তুতির পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাহমুদুল হাসান সোহাগের নিজের শিক্ষাজীবনের একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা থেকেই যে ভাবনার জন্ম হয়েছিল, তার মূল কথা ছিল—শিক্ষার্থী যেন প্রশ্ন করতে ভয় না পায়। সেই ধারণাই ধীরে ধীরে উদ্ভাসের শিক্ষা-দর্শনের অংশ হয়ে ওঠে। তাই উদ্ভাসের গল্প শুধু একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের বড় হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর কৌতূহল থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা উদ্যোগ তৈরির গল্পও। সূত্র: পাবলিকিয়ান
রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ নামের এক নারীকে শুক্রবার সকালে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের বের করে আনা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী ওই ফ্ল্যাটে অন্য এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে আন্নির করা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মাহবুব আলম ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমতি বা ছুটি না নিয়েই তিনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্নি আক্তার নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটে যান। তাঁর দাবি, তিনি জানতে পারেন মাহবুব আলম সেখানে অবস্থান করছেন এবং তাঁর সঙ্গে সানজিদা মৌ নামের আরেক নারী রয়েছেন। দীর্ঘ সময় দরজায় ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দরজা না খোলায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর মাহবুব ও সানজিদাকে থানায় নেওয়া হয়। নাদের হাজির মোড়ের ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাধারণত তাঁর পালিত মেয়ে ও জামাই থাকেন বলে জানা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌ অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন আন্নি। সানজিদা সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি। থানায় নেওয়ার পর মাহবুব আলম সানজিদা মৌকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুবের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব তাঁকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তিনি মাহবুবের ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আন্নির অভিযোগ, মাহবুব আলম বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকার সময় একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় মাহবুবের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এবং এর আগেও সেখানে সানজিদা মৌকে তাঁর সঙ্গে দেখেছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মাহবুব আলম দাবি করেছেন, তিনি আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। পুলিশকে তিনি তালাকের একটি কাগজ দিয়েছেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে আন্নির দাবি, তিনি কোনো তালাকের কাগজ পাননি এবং তালাকের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন না। ফলে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর আন্নি আক্তার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। চন্দ্রিমা থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাহবুব আলম ও সানজিদা মৌকে থানায় নেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল থেকে রাজশাহীতে যাওয়ার অভিযোগটিও আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে। সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট জানিয়েছেন, মাহবুব আলমের কোনো ছুটি ছিল না এবং তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই রাজশাহীতে যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহতে পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এক নারী ও এক পুরুষকে প্রকাশ্যে ১০০টি করে বেত্রা ঘাত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাদের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়। বেত্রা ঘাতের সময় ওই নারী ব্যথায় কাতর হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে কর্মকর্তারা তাকে ধরে দাঁড় করান। পুরুষটির ক্ষেত্রেও ৬০টি বেত্রা ঘাত দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে কিছু সময়ের জন্য শাস্তি স্থগিত রাখা হয়। পরে তাকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত দেওয়া হয়। এভাবে তার মোট ১০০টি বেত্রা ঘাতের সাজা সম্পন্ন করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুগলকে গত মাসে বান্দা আচেহ শরি য়া আদালত পর কীয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০০টি করে বেত্রা ঘাতের সাজা দেন। আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরি য়া আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর রয়েছে। বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্কসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের অধীনে বেত্রা ঘাতের মতো শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকরের সময় ওই নারীকে তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে দেখা যায়। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত ছবিতে একপর্যায়ে তাকে হাত তুলে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। পরে তিনি হাঁটু গেড়ে পড়ে গেলে কর্মকর্তারা তাকে ধরে উঠিয়ে নেন। তার সঙ্গে থাকা পুরুষটিকেও বেত্রা ঘাতের সময় ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম AJNN-এর বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানায়, পুরুষটির ৬০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগ তৈরি হয়। আচেহ জেলা অ্যাটর্নি অফিসের সাধারণ অপরাধ বিভাগের প্রধান দারমা মুস্তিকা বলেন, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়ে থাকতে পারে অথবা তিনি বেত্রা ঘাত সহ্য করতে পারছিলেন না। তাই তাকে কিছু সময় বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে শাস্তি আবার শুরু করে বাকি ৪০টি বেত্রা ঘাত সম্পন্ন করা হয়। ওই দিন মোট ১০ জনকে প্রকাশ্যে বেত্রা ঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়। বাকি আটজনকে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য নন—এমন নারী ও পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশার অভিযোগে ১৬ থেকে ২১টি পর্যন্ত বেত্রা ঘাত করা হয়। আচেহর শরি য়া আইনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নন এমন নারী ও পুরুষের নির্দিষ্ট ধরনের মেলামেশার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আচেহতে বেত্রা ঘাত সাধারণত জনসম্মুখে করা হয়। মসজিদের আশপাশ, পার্ক বা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এই শাস্তি কার্যকর হতে দেখা যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাতেও সেখানে মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে দেখা যায়। আচেহতে জুয়া, মদ্যপান, বিয়ে ছাড়া যৌ ন সম্পর্ক এবং শরি য়া আইনে নিষিদ্ধ বিভিন্ন আচরণের জন্য বেত্রা ঘাতের বিধান রয়েছে। প্রদেশটি ২০০১ সালে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা পাওয়ার পর শরি য়া আইন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। এরপর থেকে ধর্মীয় আইনভিত্তিক অপরাধের ক্ষেত্রে স্থানীয় আদালত ও কর্তৃপক্ষ এই বিধান প্রয়োগ করে আসছে। তবে এই ধরনের প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের সমালোচনা রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংগঠন এই শাস্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর বলে সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, শারীরিক শাস্তির পাশাপাশি প্রকাশ্যে অপমানের বিষয়টিও মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় কর্মকর্তারা এই শাস্তিকে আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন এবং অপরাধ ঠেকাতে এর প্রতিরোধমূলক ভূমিকার কথা বলে থাকেন। ফলে আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রা ঘাত এখনো স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি বিতর্কিত অংশ হিসেবে কার্যকর রয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি সেই ব্যবস্থারই সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের জোয়েল ওয়েগেনার চেয়েছিলেন, তাঁর দুই সন্তান মেরি ও জশ যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারে। ডাউন সিনড্রোম নিয়ে বেড়ে ওঠা সন্তানদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পাওয়া কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই তৈরি করেন একটি নতুন পথ। পুরোনো একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সন্তানদের নিয়ে শুরু করেন পারিবারিক ব্যবসা ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পেছনে শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল না। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর মেয়ে মেরি কেট কী ধরনের কাজ করতে পারবে, তা নিয়ে পরিবারে চিন্তা তৈরি হয়েছিল। প্রচলিত কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষের জন্য উপযুক্ত সুযোগ সীমিত হওয়ায় জোয়েল সিদ্ধান্ত নেন, অপেক্ষা না করে সন্তানদের জন্য নিজেরাই একটি কর্মক্ষেত্র তৈরি করবেন। এরপর ইন্ডিয়ানার একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি আইসক্রিম ট্রাক কিনে সেটি মেরামত করেন জোয়েল। সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আইসক্রিম বিক্রির কাজ। ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ হয়ে ওঠে মেরি ও জশের বাস্তব কর্মজীবনের প্রশিক্ষণের জায়গা। আইসক্রিম বিক্রির মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, টাকা সামলানো, প্রশ্ন করা, মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগ—এসব দক্ষতা কাজ করতে করতেই অনুশীলন করছেন মেরি ও জশ। জোয়েলের মতে, সন্তানদের জন্য এই উদ্যোগ শুধু একটি কাজের সুযোগ তৈরি করেনি, বরং তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাঁরা নিজেদের আরও স্বচ্ছন্দভাবে প্রকাশ করতে পারছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়া ও নিয়মিত কাজ করার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। ওহাইওর লোভল্যান্ড এলাকায় শুরু হওয়া ‘স্পেশাল নিট ট্রিটস’ পরে বৃহত্তর সিনসিনাটি অঞ্চলেও পরিচিত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল এবং কমিউনিটি আয়োজনে আইসক্রিম বিক্রি করতে দেখা যায় ওয়েগেনার পরিবারকে। ২০২১ সালের প্রথম কয়েক মাসেই তাঁদের বিক্রি প্রায় ৫ হাজার আইসক্রিমে পৌঁছেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এক প্রতিবেদনে মোট বিক্রি ১০ হাজারের বেশি ট্রিটে পৌঁছানোর কথা বলা হয়। তবে জোয়েলের কাছে এই ব্যবসার সাফল্য শুধু বিক্রির হিসাব দিয়ে মাপার বিষয় নয়। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সন্তানদের এমন একটি পরিবেশ দেওয়া, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবেন এবং অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিয়েও একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন জোয়েল। তাঁর বিশ্বাস, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে ভিন্ন সক্ষমতার মানুষও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মেরি ও জশের গল্প তাই শুধু একটি আইসক্রিম ব্যবসার গল্প নয়। এটি এমন এক বাবার গল্প, যিনি সন্তানদের জন্য সুযোগের অপেক্ষা না করে নিজেরাই সেই সুযোগ তৈরি করেছেন। একটি পুরোনো আইসক্রিম ট্রাক তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছে কাজ শেখা, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি নতুন দরজা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে। নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে। এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে। সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে। সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে। নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে। এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়। লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়। এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে। পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে। লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন। তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য মোট ১২০টি নির্বাচনী প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন তালিকায় বিভিন্ন পরিচিত প্রতীক রাখা হলেও বহুল আলোচিত ‘নৌকা’ প্রতীকটি স্থগিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। ফলে তালিকায় নৌকার নাম থাকলেও বর্তমান অবস্থায় কোনো প্রার্থীকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এ-সংক্রান্ত খবর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম আলো প্রকাশ করেছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিষয়টি জানায়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন প্রতীক তালিকা চূড়ান্ত করেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং পরে তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ খবরটি আজ প্রকাশিত হলেও প্রতীক তালিকা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন কয়েক দিন আগেই হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, Representation of the People Order, 1972-এর Article 94-এ নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১)-এ সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত থাকা প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে। চূড়ান্ত তালিকায় আনারস, আপেল, আম, কাঁঠাল, লিচু, ঈগল, উট, কবুতর, ঘোড়া, বাঘ, হাতি, সিংহ, চিংড়ি, ট্রাক, ট্র্যাক্টর, বাইসাইকেল, রিকশা, লাঙল, জাহাজ, হেলিকপ্টার, আলমিরা, বই, বটগাছ, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাস্তে, কাপ-পিরিচ, কাঁচি, চশমা, চাকা, চাবি, চেয়ার, ছাতা, টেলিভিশন, সেলাই মেশিন, হাতুড়ি, হারিকেন, হ্যান্ডশেক, উদীয়মান সূর্যসহ বিভিন্ন প্রতীক রয়েছে। ‘না’ নামের প্রতীকও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ১২০টি প্রতীকের তালিকায় নৌকার অবস্থান ৬৫ নম্বরে। তবে প্রতীকটির পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ নৌকা তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়নি; বরং সংরক্ষিত কিন্তু বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য প্রতীক বরাদ্দের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার ফলে নৌকা বর্তমান অবস্থায় কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। নৌকা প্রতীকের বর্তমান অবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বর্তমানে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (স্থগিত)’ হিসেবে দলটির নাম দেখানো হচ্ছে এবং সেখানে দলটির প্রতীক দেখানো হচ্ছে না। ২০২৫ সালের ১২ মে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। বাসসের সেই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর নৌকা প্রতীকের অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নৌকা প্রতীক ইসির ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে প্রতীকটি সংরক্ষিত থাকবে এবং অন্য কেউ সেটি ব্যবহার করতে পারবে না। বর্তমান সংশোধিত তালিকায় নৌকাকে ‘স্থগিত’ হিসেবে রাখার বিষয়টি সেই অবস্থানেরই আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ নৌকা অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। আবার প্রতীকটিকে সাধারণ বরাদ্দযোগ্য প্রতীকের মতোও রাখা হয়নি। বরং তালিকায় রেখে তার ব্যবহার স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতীক বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্ধারিত প্রতীক থাকে, আর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থী শনাক্ত করতে ব্যালটসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী উপকরণে প্রতীক ব্যবহৃত হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বর্তমানে নিবন্ধিত দলগুলোর নামের পাশাপাশি তাদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকও দেখানো হচ্ছে। যেমন বিএনপির পাশে ‘ধানের শীষ’, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির পাশে ‘ছাতা’, জাতীয় পার্টি-জেপির পাশে ‘বাইসাইকেল’ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পাশে ‘কাস্তে’ দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় আওয়ামী লীগকে ‘স্থগিত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতীক নিয়ে এর আগেও রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের কাছে নৌকা প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। দলটির প্রতিনিধিরা সে সময় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। একই বৈঠকে এনসিপি নিজেদের জন্য ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছিল। এটি ছিল এনসিপির রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে নৌকা নিয়ে সেই বিতর্কের একটি প্রশাসনিক অবস্থান এখন স্পষ্ট হয়েছে—প্রতীকটি তালিকায় রয়েছে, কিন্তু ‘স্থগিত’। ফলে এটি বর্তমানে অন্য কোনো প্রার্থী বা দলের জন্য বরাদ্দযোগ্য নয়। প্রতীক তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বর বাসস জানায়, নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পরিবর্তন সম্পর্কিত। একই সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামা-সংক্রান্ত বিধিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম চলছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করতে চায়। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন জাতীয় নির্বাচনের বিধি ও প্রতীকসংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের প্রস্তুতিও রয়েছে। নতুন প্রতীক তালিকার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে নৌকার অবস্থান। কমিশন মোট ১২০টি প্রতীক চূড়ান্ত করলেও নৌকাকে সাধারণভাবে বরাদ্দযোগ্য প্রতীক করা হয়নি। বর্তমান নিয়মে স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকার অন্য প্রতীকগুলো প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীদের দেওয়া যাবে। আর নৌকা থাকবে সংরক্ষিত ও স্থগিত অবস্থায়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন এখনো ‘স্থগিত’ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনটিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালা অনুসারেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই ১২০ প্রতীকের তালিকাই এখন নির্বাচন কমিশনের কার্যকর তালিকা, যেখানে ৬৫ নম্বরের নৌকা প্রতীকটি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
মালাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্রিটিশ নারীকে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের গু লি বি নি ময়ে চারজন নি হ ত হয়েছেন। এ সময় দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গু লি বি দ্ধ হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ৪৭ বছর বয়সী নুসরাত ওসমানকে বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ব্লানটায়ারের উপকণ্ঠে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের গু লি বি নি ময় হয়। পুলিশ বলছে, তাদের কাছে একটি এ কে-৪৭ রাইফেল ও একটি পি স্তল ছিল। মালাবি পুলিশ সার্ভিস এক বিবৃতিতে জানায়, গু লি বি দ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে আঘাতের কারণে তারা মা রা যান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি। অভিযানে ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নোয়েল কায়িরা গু লি বি দ্ধ হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল। উদ্ধারের পর নুসরাতকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়। পরে তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সেখানে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নুসরাতের ছোট ভাই শোবি জিওয়া ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান-কে দেওয়া বক্তব্যে মালাবি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অভিযানে গু লি বি দ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নোয়েল কায়িরাকে পরিবারের ‘হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নুসরাত যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে তিনি মালাবিতে বসবাস করছেন এবং একটি অডিট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ব্লানটায়ারের মাউন্ট প্লিজ্যান্ট এলাকায় নুসরাতকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। তিনি গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় চারজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার গাড়ির পথ রোধ করে তাকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর তাকে খুঁজে বের করতে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। নুসরাতকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রে প্তার ও দো ষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্যের জন্য ৩ কোটি মালাবিয়ান কোয়াচা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি তদন্তকারীদের কাছেও রহস্য তৈরি করেছিল। কারণ নুসরাত নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো মুক্তিপণের দাবি বা অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও নিরাপদে ফিরে আসার আশায় আবেগঘন আবেদন জানিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছিল, মালাবিতে এক ব্রিটিশ নাগরিক অপহরণের খবর তারা জানে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। নুসরাতকে উদ্ধারের পর পুরো ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে মালাবি পুলিশ। এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরে তাঁকে নয়াদিল্লিতে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা আবারও আলোচনা শুরু করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের সরকার সফরের নির্দিষ্ট তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তাই সফরটি নিশ্চিত না বলে সম্ভাব্য নভেম্বর সফর হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম ১৮ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। দুই দেশের কর্মকর্তারা নভেম্বরে সফরের জন্য সুবিধাজনক একটি সময় খুঁজছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অক্টোবর ও নভেম্বরেও তাঁর একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে নভেম্বরে নয়াদিল্লি সফরের জন্য সুবিধাজনক সময় নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে। এর মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। সম্ভাব্য সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সফর অনুষ্ঠিত হলে বাণিজ্য স্বাভাবিক করা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন। চুক্তিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে এর নবায়ন নিয়ে দুই দেশের আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচির মধ্যে গঙ্গার পানি চুক্তির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব বৈঠককে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ভারত সরকার তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ১৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে। তবে তখনও সফরের কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে তখনও কোনো তথ্য পায়নি দিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তারেক রহমান দুটি পৃথক আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস সম্মেলনের জন্য। ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের বক্তব্যে পার্থক্যও দেখা যায়। বাংলাদেশ জানিয়েছিল, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনের জন্যও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেননি। এর মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলাদা দ্বিপক্ষীয় সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ১৮ সেপ্টেম্বরের দ্য হিন্দু-ভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন নভেম্বরের একটি সুবিধাজনক সময়ে সফর আয়োজনের জন্য সরকারি পর্যায়ে আলোচনা আবার শুরু হয়েছে। এদিকে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান। এর জবাবে মোদিও তাঁকে ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য বিনিময়ের সময়েই ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে এই যোগাযোগকে সফর চূড়ান্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। সব মিলিয়ে, ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নভেম্বরে ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। বাণিজ্য, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় সম্ভাব্য সফরের আলোচ্য হতে পারে। তবে সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে কিছু অঙ্গরাজ্যে এই ফেরত না নেওয়া অর্থের পরিমাণ অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে। কর প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিগমা ট্যাক্স প্রোর করা বিশ্লেষণে ২০১৮ থেকে ২০২২ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আইআরএস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে কত ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি, তা হিসাব করা হয়েছে। ২০২২ সালকে বিশ্লেষণের শেষ বছর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই বছরের কর ফেরত পাওয়ার দাবির তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আইআরএসে ফেরত না নেওয়া অর্থের তথ্য পাওয়া যায়। আলাস্কায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৮ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে আনুমানিক ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৭২১ ডলার। পাঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার অনুপাতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণে আলাস্কা শীর্ষে ছিল। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক ৫৫৪ জনের সম্ভাব্য কর ফেরত পাওনা ছিল। আলাস্কার পর ছিল ওয়াশিংটন, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই ও নেভাদা। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল উইসকনসিনে। ২০২২ সালে সেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৪৮৭ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে এই পরিমাণ ছিল প্রতি এক লাখ বাসিন্দায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ ডলার। অঙ্গরাজ্যটিতে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৬৫৮ ডলার। উইসকনসিনের পর ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটা। প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৭ ও ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৭ ডলার। পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অবস্থানে বড় পরিবর্তনও দেখা গেছে। ২০১৮ সালে ৪০তম অবস্থানে থাকা মন্টানা ২০২২ সালে ২৩তম স্থানে উঠে আসে। অ্যারিজোনা ২৬তম থেকে ১১তম এবং মিসিসিপি ৪১তম থেকে ৩০তম অবস্থানে উঠে আসে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় কলোরাডোতে। ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটি ২০২২ সালে ৩৫তম স্থানে নেমে যায়। বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ান গার্ডনার বলেন, করব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব কিংবা আইআরএসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অডিট বা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে তাদের পাওনা কর ফেরত দাবি করেন না। তবে তার মতে, কয়েকশ ডলারের মধ্যম পরিমাণের এই সম্ভাব্য ফেরত অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হতে পারে।
স্তনের টিস্যু অতিরিক্ত ঘন হলে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে। এবার এই ঘন টিস্যু কীভাবে রোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে, তার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ফ্রান্সিসকোর (ইউসিএসএফ) গবেষকেরা। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া বোঝা গেলে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই ঝুঁকি কমানোর নতুন পথ তৈরি হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ঘন স্তন টিস্যু ম্যামোগ্রামে সাদা অংশ হিসেবে দেখা যায়। ফলে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে ঘন টিস্যুর সঙ্গে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্কও রয়েছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘন স্তন টিস্যু স্বাভাবিক টিস্যুর তুলনায় বেশি শক্ত বা দৃঢ় হয়। এই শক্ত পরিবেশ স্তনে থাকা ম্যাক্রোফেজ নামের এক ধরনের রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ বদলে দিতে পারে। এরপর এসব কোষ এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষের ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণাটির প্রধান গবেষক মেরি-কেট হেওয়ার্ড বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই জানা ছিল যে ঘন স্তন টিস্যুর সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর পেছনের কারণ এতদিন পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণায় টিস্যুর শক্তভাব কীভাবে রোগপ্রতিরোধী কোষের আচরণ পরিবর্তন করে, তার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সামনে এসেছে। গবেষকেরা স্তনের বিভিন্ন টিউমারের নমুনা বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি টিউমারের শক্তভাব এবং টিস্যু শক্ত করতে ভূমিকা রাখা কোলাজেন নামের প্রোটিনের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, বেশি শক্ত অংশগুলোতে কোলাজেন, দাগের মতো টিস্যু, ম্যাক্রোফেজ এবং ডিএনএ পরিবর্তনের মাত্রা বেশি ছিল। গবেষণায় আরও দেখা যায়, শক্ত টিস্যুতে এসটিএটি৩ নামের একটি সংকেত-প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই প্রক্রিয়া স্তনের কোষকে এমন সংকেত দিতে পারে, যার মাধ্যমে আরও বেশি ম্যাক্রোফেজ ওই এলাকায় চলে আসে। পরে এসব ম্যাক্রোফেজ এমন রাসায়নিক তৈরি করতে পারে, যা আশপাশের কোষে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন ধরনের জেল ব্যবহার করে শক্ত টিস্যুর মতো পরিবেশ তৈরি করেন এবং পরে ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালান। এতে দেখা যায়, শক্ত পরিবেশ স্তনের কোষে এসটিএটি৩ সক্রিয় করতে পারে এবং এর মাধ্যমে ম্যাক্রোফেজ আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। গবেষকেরা আরও একটি বিষয় শনাক্ত করেছেন। ম্যাক্রোফেজ থেকে তৈরি রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পিসিস বা আরওএস ম্যাক্রোফেজের ভেতরের চর্বিজাতীয় উপাদানে ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে অ্যালডিহাইড নামের কিছু রাসায়নিক তৈরি হয়, যা আশপাশের কোষে পৌঁছে ডিএনএতে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও ঘন ও শক্ত স্তন টিস্যুর সঙ্গে বেশি ম্যাক্রোফেজ, বেশি অ্যালডিহাইড, বেশি ডিএনএ পরিবর্তন এবং রোগের আরও অগ্রসর অবস্থার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকেরা এখন এমন ওষুধ নিয়ে গবেষণা করতে চান, যা ম্যাক্রোফেজের ভেতরে ক্ষতিকর অ্যালডিহাইড তৈরি হওয়া ঠেকাতে পারে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে উচ্চঝুঁকির স্তন টিস্যুতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার আগেই রোগের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা। মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি রোগ প্রতিরোধে কার্যকর হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। নতুন এই প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করতেও আরও পরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।আ
হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল। জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে। ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি। সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে। রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যেও ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীদের ঋণের বোঝা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, অর্থাৎ মাত্র একটি রাজ্যের ঋণের বোঝা ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম। ওয়ালেটহাবের করা এই বিশ্লেষণে বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষার্থী ঋণের পরিস্থিতি তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার চেয়ে কম শিক্ষার্থী ঋণের বোঝা রয়েছে শুধু হাওয়াই ও উটাহতে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল রাজ্য হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়া। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষার্থীদের ঋণ কম থাকার অন্যতম কারণ হলো সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি। রাজ্যের কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৩ শতাংশ পাবলিক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য বেছে নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি বা সিএসইউ এবং ক্যালিফোর্নিয়া কমিউনিটি কলেজেস বা সিসিসি—এই তিনটি বড় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে প্রায় ১৫০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য তুলনামূলকভাবে কম টিউশন ফি থাকায় বড় অঙ্কের শিক্ষার্থী ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও কম হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি নীতিরও এতে ভূমিকা রয়েছে। পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন কলেজ শিক্ষার্থীদের ঋণ নেওয়ার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ কম। রাজ্যের ইউসি ও সিএসইউ ব্যবস্থায় নতুন শিক্ষার্থীদের ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী ঋণ নেয়। বেসরকারি অলাভজনক কলেজে এই হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং বেসরকারি লাভজনক কলেজে প্রায় ৭০ শতাংশ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ক্যাল গ্র্যান্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এমন আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা পরে ফেরত দিতে হয় না। শিক্ষার্থী ঋণের ক্ষেত্রে পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি রাজ্য তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান ৪৮তম এবং ওরেগনের ৪১তম। অন্যদিকে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে অনেক রাজ্যে ঋণের বোঝা বেশি দেখা গেছে। বিশ্লেষণে মিসিসিপিকে শিক্ষার্থী ঋণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বোঝা বহনকারী রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থী ঋণের পরিমাণ রাজ্যের মধ্যম আয়ের ৫৪ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে রাজ্যটিতে শিক্ষার্থী ঋণ পরিশোধে খেলাপির হারও সবচেয়ে বেশি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরির সুযোগের দিক থেকেও এটি নিচের সারির রাজ্যগুলোর একটি। ওয়ালেটহাব তাদের র্যাংকিং তৈরিতে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের গড় ঋণের পরিমাণ, ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার এবং যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ বকেয়া রয়েছে তাদের অনুপাত। বিশ্লেষণে ইউএস সেন্সাস ব্যুরো, ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস, ইনস্টিটিউট ফর কলেজ অ্যাকসেস অ্যান্ড সাকসেস এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন। তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন। আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকলে কানাডায় ৯০ হাজারের কাছাকাছি চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির অর্থনীতির অধ্যাপক ট্রেভর টম্বে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুল্কের সরাসরি আওতায় থাকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তাদের সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও কর্মসংস্থান কমতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত চাকরি হারানোর সংখ্যা নয়; শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে এবং ব্যবসাগুলো কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তার ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে। টম্বের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মধ্যে ৫২ হাজারের বেশি সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারী খাতের আরও প্রায় ৩৫ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির সংখ্যা ৮৭ হাজারের কিছু বেশি, যাকে প্রায় ৯০ হাজার হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই হিসাব একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। টম্বে ধরে নিয়েছেন, শুল্ক দীর্ঘ সময় বহাল থাকবে এবং শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুল্কের হারের সমান অনুপাতে কমবে। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, বাস্তবে ব্যবসা ও ভোক্তাদের আচরণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে প্রকৃত চাকরি ক্ষতির পরিমাণ তার অনুমানের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে। শুল্কের প্রভাব সব খাতে সমান হবে না। টম্বের বিশ্লেষণে যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক ও রাবার, আসবাবপত্র, খেলনা, কাঠজাত পণ্য, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও পোশাক খাতকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরাসরি রপ্তানি কমে গেলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পাইকারি ব্যবসা এবং পেশাগত ও কারিগরি সেবার মতো খাতেও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান কমতে পারে। প্রদেশভেদেও সম্ভাব্য প্রভাবের পার্থক্য রয়েছে। টম্বের হিসাবে অন্টারিওতে প্রায় ৩৬ হাজার, কুইবেকে ১৮ হাজার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ১১ হাজার এবং আলবার্টায় প্রায় ৯ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আলবার্টার নিজস্ব রপ্তানি নতুন শুল্কে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হলেও অন্য প্রদেশের রপ্তানিকারকদের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেখানে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্সের আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট রক্সান ব্রাউন বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব উভয় দেশের শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। সংগঠনটি দুই দেশের সরকারকে দ্রুত বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। টম্বে বলেন, শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে সেটিই কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্পমেয়াদে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচ নিজেরা বহন করতে পারে বা কর্মীদের কাজের সময় কমাতে পারে। কিন্তু শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে চাকরি কমানোর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসাগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ ও নতুন পদ তৈরির গতিও কমিয়ে দিতে পারে। তবে সম্ভাব্য ৯০ হাজার চাকরি ক্ষতির হিসাবকে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না টম্বে। তার হিসাবে, এই শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তা দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে অথবা দুই দেশ দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছালেও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। কানাডার শ্রমবাজারে শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব তাই শুধু সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রপ্তানি কমে গেলে তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন, সরবরাহ ও বিভিন্ন সেবা খাতেও কর্মসংস্থানের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বাণিজ্য বিরোধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং দুই দেশের আলোচনায় কী ধরনের সমাধান আসে, তার ওপর সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে। সূত্র: দ্য হাব
বলিভিয়ার মেঘে ঢাকা পাহাড়ি বনাঞ্চলে সন্ধান মিলেছে ছোট আকারের এক বন্য বিড়ালের, যেটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘টিলকায়ো’ নামে পরিচিত এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাওয়া ‘টাইগার ক্যাট’ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর কোনো জীবিত বিড়াল প্রজাতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত ও বর্ণনা করা হলো। গবেষকদের মতে, প্রাণীটির আবাস বলিভিয়ার ইয়ুঙ্গাস বনাঞ্চলে। পাহাড়ি এই এলাকায় প্রায়ই মেঘে ঢাকা থাকে বন, পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতাও অনেক বেশি। নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে লেপার্ডাস টিলকায়ো। টিলকায়োর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১ দশমিক ৪ কেজি। অর্থাৎ এটি একটি সাধারণ পোষা বিড়ালের চেয়েও ছোট। এর শরীরের লোম হালকা বাদামি রঙের এবং পুরো শরীরে অনিয়মিত আকৃতির ছোপ বা রোসেট রয়েছে। প্রাণীটির জীবনযাপন সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। গবেষকদের সংগ্রহ করা মল নমুনায় ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এর খাদ্যের অংশ হতে পারে। ক্যামেরা ট্র্যাপের ছবিতেও ইঙ্গিত মিলেছে যে প্রাণীটি রাতে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘টাইগার ক্যাট’ গোত্রের প্রাণীগুলোকে ক্রিপটিক স্পিসিস বলা হয়। কারণ শুধু চেহারা দেখে এদের আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা বেশ কঠিন। বলিভিয়ার এই বিড়ালটির ক্ষেত্রেও এর বৈশিষ্ট্য প্রচলিত বর্ণনার সঙ্গে মিলছিল না। গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী জোনাস লেসক্রয়ার্ট জানান, তাদের ধারণা ছিল না যে বলিভিয়ার এই টাইগার ক্যাটটি আলাদা একটি প্রজাতি। এর আগে কেউ এটিকে পৃথক প্রাণী বা উপপ্রজাতি হিসেবেও প্রস্তাব করেননি। নতুন প্রজাতিটি শনাক্ত করতে গবেষক দল দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা ৩৮টি টাইগার ক্যাটের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে। এর মধ্যে আটটি ছিল জাদুঘরে সংরক্ষিত নমুনা। জেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার টাইগার ক্যাটগুলো আসলে পাঁচটি পৃথক প্রজাতিতে বিভক্ত। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, টিলকায়োর বংশধারা অন্য টাইগার ক্যাটগুলোর থেকে প্রায় ১৪ লাখ বছর আগে আলাদা হয়ে যায়। গবেষণাটি নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্যও সামনে এনেছে। এ গবেষণায় পেরুর ইয়ুঙ্গাস অঞ্চলে আরেকটি নতুন টাইগার ক্যাট উপপ্রজাতিরও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম লেপার্ডাস টাইগ্রিনাস অ্যান্টিসুয়ো। প্রাচীন ইনকা সাম্রাজ্যের যে অঞ্চলের মধ্যে প্রাণীটির আবাসস্থল পড়ত, সেই ‘অ্যান্টিসুয়ো’ নাম থেকেই উপপ্রজাতিটির নাম নেওয়া হয়েছে।