- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে। প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। .ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। .তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সহযোগিতা বৃদ্ধি, মানুষ শনাক্ত ও নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের ফলে এই অভিযান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে ব্যাপক অভিযান চললেও সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের দেশত্যাগের সংখ্যা বাড়েনি। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে আইনি ও বাস্তব নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আগস্টে আইসিইর আটক কার্যক্রমে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়। টানা তৃতীয় মাসের মতো এ সংখ্যা ছিল রেকর্ড। কিন্তু একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মে মাসের দৈনিক গড়ের কাছাকাছি। অথচ মে মাসে আইসিইর আটক কার্যক্রম আগস্টের তুলনায় প্রায় ১৯ হাজার কম ছিল। রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, আটক ও দেশত্যাগের সংখ্যার এই ব্যবধানের অন্যতম কারণ হলো আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমান ও সাবেক পাঁচজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা দণ্ড নেই এবং যাদের ক্ষেত্রে এখনো দেশত্যাগের চূড়ান্ত আদেশও দেওয়া হয়নি। আটক ব্যক্তিদের অনেকেরই আশ্রয়ের আবেদন বা অন্য কোনো আইনি দাবি বিচারাধীন রয়েছে। ফলে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেদের আইনি অধিকার ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে রাজি হলে দ্রুত দেশত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ফ্লাইটের অভাব এবং কিছু দেশ তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রাখায় ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি কমছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসা এই বিশ্লেষণ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র লরেন বিস এটিকে ‘ভুল বর্ণনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে ইতোমধ্যে ৩০ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন।
যুক্তরাজ্যের বেকি জোন্সের বয়স তখন মাত্র ২১ বছর। তীব্র মাইগ্রেনের চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, তিনি চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত এবং বেঁচে থাকার সময় হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক মাস। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর তাকে কেমোথেরাপির ওষুধ টেমোজোলোমাইড নিতে হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, তার মস্তিষ্কে ক্যানসারই ছিল না। তিনি আসলে এমন এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহে ভুগছিলেন, যার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী বেকি দুই সন্তানের মা। তার দাবি, ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় দীর্ঘ ও কষ্টকর চিকিৎসার মধ্যে কেটে গেছে। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বমি, তীব্র ক্লান্তি ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। সামাজিক জীবন, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়ে। বেকির চিকিৎসা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্টের অধীনে। তিনি এখন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ৪০ জনের বেশি রোগীর একজন। তাদের অভিযোগের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপি ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের বিষয়টি। বেকি জানিয়েছেন, চিকিৎসক প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন তাকে বারবার বলেছিলেন, কেমোথেরাপি বন্ধ করলে তিনি মারা যেতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাউন তাকে দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। অথচ একাধিক স্ক্যানে মস্তিষ্কে স্পষ্ট টিউমারের প্রমাণ না পাওয়ায় বেকি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল, তার ক্যানসার খালি চোখে দেখা যাবে না। ২০১২ সালে তীব্র মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেকির মস্তিষ্কে বায়োপসি করা হয়। তার দাবি, চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগেই তাকে চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তাকে আরও বলা হয়েছিল, তিনি ভবিষ্যতে মা হতে পারবেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি দুই সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসার সময় বেকির জীবন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে তিনি নিয়মিত অসুস্থ থাকতেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে তিনি ব্যায়াম করতেন, বাইরে খেতে যেতেন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবন কাটাতেন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর এসবের অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বেকিকে জানানো হয়, তার কেমোথেরাপি বন্ধ করা হচ্ছে। তাকে বলা হয়, প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন অবসর নিয়েছেন। তবে চিকিৎসা বন্ধের বিষয়ে সে সময় তিনি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা বা সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। ব্রাউন অবসরের পর তার রোগীদের চিকিৎসা নতুন চিকিৎসকদের অধীনে যায় এবং দীর্ঘদিনের টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে নজরে আসে। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে বেকির আইনজীবীদের উদ্যোগে স্বাধীন নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টরা তার পুরোনো চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করেন। সেই পর্যালোচনার পর তাকে জানানো হয়, তার মস্তিষ্কে কখনো ক্যানসার ছিল না। তার প্রকৃত সমস্যা ছিল ‘টিউমেফ্যাকটিভ ডিমাইলিনেশন’, যা এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং সাধারণত স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বেকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি একই চিকিৎসকের অধীনে থাকা আরও রোগীর অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, তাদেরও বছরের পর বছর টেমোজোলোমাইড দেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসা বহু বছর ধরে চলেছে, যদিও সাধারণ নির্দেশনায় এ ধরনের কেমোথেরাপি সাধারণত কয়েকটি সাইকেল বা সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্রাবনার্সের তথ্য অনুযায়ী, কিছু রোগী ১২ সাইকেলেরও বেশি চিকিৎসা পেয়েছেন। এই অভিযোগের পর ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্ট রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসকে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ২০টি রোগীর ঘটনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি ক্ষেত্রে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবাকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ঘটনাকেই ভালো চিকিৎসা চর্চার উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার যৌক্তিকতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথি ছিল না। রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশ্ন তোলা হয়নি বলেও পর্যালোচনায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রাবনার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং রোগীর সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বেকি মনে করেন, ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থারও বড় ব্যর্থতা। তার অভিযোগ, একজন চিকিৎসক কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলেন এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন না, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত। ইউএইচসিডব্লিউ এনএইচএস ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড নেওয়া রোগীদের চিকিৎসা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে, রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের স্বাধীন পর্যালোচনায় তারা সহযোগিতা করছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও রোগীর গোপনীয়তার কারণে নির্দিষ্ট রোগীর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তারা অনিচ্ছুক। অভিযুক্ত প্রফেসর ইয়ান ব্রাউনের সঙ্গেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এদিকে বেকি জোন্সসহ ৪০ জনের বেশি রোগীর আইনি পদক্ষেপ এবং রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের পর্যালোচনা এই চিকিৎসা ব্যবস্থার তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্কুলের প্রথম দিন কফির কাপ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করায় ইন-স্কুল সাসপেনশনের মুখে পড়েছেন এক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী। বাইরে থেকে খাবার ও পানীয় নিয়ে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন আচরণবিধি চালুর পর এই শাস্তি দেওয়া হয়। তবে নিয়মটি কার্যকর করার আগে যথাযথভাবে জনশুনানি ও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের প্রশ্নের পর বিষয়টি বড় বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ঘটনাটি নিউইয়র্কের ক্যাস্টরল্যান্ডের বিভার রিভার সেন্ট্রাল স্কুলে। জুলি কাপুটা নামের ওই শিক্ষার্থী স্কুলের সিনিয়র ও অনার্স শিক্ষার্থী। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনে তিনি হাতে কফি নিয়ে প্রথম পিরিয়ডের ক্লাসে যান। শিক্ষক তাকে কফি ফেলে দিতে, সঙ্গে সঙ্গে পান করে শেষ করতে অথবা অফিসে যেতে বলেন। কাপুটা অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাকে ইন-স্কুল সাসপেনশন দেওয়া হয়। কাপুটার সাসপেনশনের কারণ ছিল স্কুলের নতুন আচরণবিধিতে যুক্ত হওয়া বাইরে থেকে খাবার ও পানীয় আনার নিষেধাজ্ঞা। আগের নিয়মের তুলনায় এটি নতুন পরিবর্তন ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধের লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মনোযোগ ধরে রাখার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় ব্যাঘাত কমানো। কিন্তু কাপুটা ও তার মা মেরিঅ্যান কাপুটা নিয়মটির বৈধতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, নতুন আচরণবিধি কার্যকর করার আগে যে জনশুনানির প্রয়োজন ছিল, সেটি যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মটি নিয়ে মতামত জানানোর সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। জুলি কাপুটা জানিয়েছেন, তিনি স্কুল জেলার ওপর ক্ষুব্ধ নন। তার আপত্তির মূল জায়গা ছিল নিয়ম তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা। তার মতে, সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে যথাযথভাবে জানানো এবং মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সাসপেনশন তার স্থায়ী শিক্ষাগত রেকর্ডে প্রভাব ফেলবে না। বিষয়টি নিয়ে স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট টড গ্রিনও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগস্টের মাসিক স্কুল বোর্ডের সভাটিকে জেলা জনশুনানি হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তবে কাপুটার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি স্বীকার করেন, ওই সভাটি জনশুনানি হিসেবে যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেননি যে তারা সেখানে নতুন আচরণবিধি নিয়ে মতামত দিতে পারবেন। গ্রিন বলেন, স্কুল জেলা নিয়মকানুন তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছে। কোথাও সমস্যা বা ঘাটতি ধরা পড়লে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্বাস ও মতামতের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও এগোয় এবং কাপুটাকে শেষ পর্যন্ত ক্লাসে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে পরে কফি নিয়েই ক্লাসে ফেরার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিষয়টি শুধু একজন শিক্ষার্থীর শাস্তির ঘটনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং স্কুলের নতুন আচরণবিধি কীভাবে তৈরি ও কার্যকর করা হয়েছে, সেটিই আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে। কাপুটার মা মেরিঅ্যানও নিয়মটি নিয়ে আরও বিস্তৃত প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মটি আগের নীতির তুলনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। তবে এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এগুলো মূলত পরিবারের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন নতুন করে জনশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আচরণবিধি নিয়ে একটি নতুন জনশুনানি আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। সেখানে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আচরণবিধি এবং বাইরে থেকে খাবার ও পানীয় আনার নিয়ম নিয়ে আলোচনা ও মতামত গ্রহণের সুযোগ থাকার কথা। তবে এই জনশুনানির ফলাফল বা নতুন নিয়মের চূড়ান্ত পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অর্থাৎ নিয়মটি বাতিল হয়েছে, পুরোপুরি বহাল রয়েছে বা নতুন কোনো পরিবর্তন চূড়ান্ত হয়েছে, এমন দাবি এখনই করা ঠিক হবে না। মূল বিতর্কটি বর্তমানে নিয়মটি তৈরির প্রক্রিয়া, জনশুনানির স্বচ্ছতা এবং স্কুলের আচরণবিধি কীভাবে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল, তা ঘিরেই রয়েছে। একটি কফির কাপ দিয়ে শুরু হওয়া ঘটনাটি তাই শেষ পর্যন্ত স্কুলের নীতিমালা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জুলি কাপুটাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, তাকে ইন-স্কুল সাসপেনশন দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি ক্লাসে ফিরেছেন। অন্যদিকে, নতুন আচরণবিধির অনুমোদন ও জনশুনানি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে স্কুল জেলা নতুন করে জনশুনানির উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতা ও প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার পরিবেশন করাকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই মেনু নিয়ে সমালোচনা করে দাবি করেছেন, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। তাঁর মন্তব্যের পর বিজেপি পাল্টা কংগ্রেসকে খাবার নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগে আক্রমণ করেছে। শনিবার রাতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সম্মেলনের অংশ হিসেবে এই জমকালো নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের জন্য ভারতীয় খাবারের একটি দীর্ঘ তালিকা রাখা হয়েছিল। তবে পুরো মেনুতেই ছিল নিরামিষ পদ, কোনো আমিষ খাবার রাখা হয়নি। নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও ও বিটের রায়তার মতো বিভিন্ন পদ। মিষ্টান্নে ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি। মেনুটিতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নিরামিষ খাবারের বৈচিত্র্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই খাবারের তালিকা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান রাহুল গান্ধী। তিনি লিখেছেন, ‘রেকর্ডের জন্য’ ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। একই পোস্টে তিনি ভারতীয় আমিষ খাবারকে সুস্বাদু উল্লেখ করেন এবং নিজের বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর তৈরি ছোলে ভাটুরের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্যকে অনেকেই ব্রিকস নৈশভোজের নিরামিষ মেনু নিয়ে সরকারের প্রতি রাজনৈতিক খোঁচা হিসেবে দেখেছেন। তবে রাহুল গান্ধীর উল্লেখ করা ৮০ শতাংশের হিসাবকে সরাসরি সরকারি বা প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি তাঁর পোস্টে এই সংখ্যার কোনো সূত্র দেননি। ভারতের সর্বশেষ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্যেও পুরো দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ আমিষভোজী, এমন সরাসরি তথ্য পাওয়া যায় না। বরং এনএফএইচএস-৫ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষদের ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নারীদের ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ অন্তত কখনো মাছ, মুরগি বা মাংস খান। ফলে ৮০ শতাংশের বক্তব্যটি রাহুলের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাহুলের মন্তব্যের পর কংগ্রেসের আরও কয়েকজন নেতা নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি জানান। দলটির নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপির খাদ্যসংক্রান্ত পছন্দ এখন আন্তর্জাতিক অতিথিদের ক্ষেত্রেও চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে হলে নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি আমিষ খাবারও রাখা উচিত ছিল। কংগ্রেস নেতা ওয়ারিস পাঠানও একই ধরনের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, নিরামিষ খাবার পরিবেশনে আপত্তি নেই, কিন্তু ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধু নিরামিষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, মাংস, মুরগি ও মাছও ভারতের খাদ্যবৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে বিজেপি এই সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অথচ কংগ্রেস এসব বিষয় বাদ দিয়ে নৈশভোজের খাবারের তালিকাকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনেছে। বিজেপির নেতাদের বক্তব্য, নিরামিষ মেনু ভারতের নিজস্ব খাদ্য ও সংস্কৃতির একটি অংশকে তুলে ধরেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও কংগ্রেসের সমালোচনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি অতিথিরা ভারতীয় নিরামিষ খাবার উপভোগ করেছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের ফলাফল ও নয়াদিল্লি ঘোষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্ক করছে। দলটির নেতারা এটিকে ভারতের কূটনৈতিক অর্জনকে খাটো করার চেষ্টা হিসেবেও তুলে ধরেছেন। ব্রিকস সম্মেলনের নৈশভোজে নিরামিষ খাবার পরিবেশনের ঘটনা অবশ্য ভারতের আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোতে সম্পূর্ণ নতুন নয়। তবে এবার বিষয়টি বিশেষভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে রাহুল গান্ধীর ৮০ শতাংশ আমিষভোজীর দাবি এবং কংগ্রেসের খাদ্যবৈচিত্র্য নিয়ে সমালোচনার কারণে। ফলে ব্রিকসের মূল কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে নৈশভোজের মেনুও ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস বলছে, আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির পূর্ণ বৈচিত্র্য তুলে ধরা উচিত ছিল। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সম্মেলনের অর্জনকে পাশ কাটিয়ে খাবার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফেডারেল কারাগারে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আবাসন ও চিকিৎসা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিতে বন্দীদের কারাগারে রাখার ক্ষেত্রে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গকে ভিত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নারী কারাগারে থাকা কিছু ট্রান্সজেন্ডার নারী বন্দীকে পুরুষদের কারাগারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জারি করা নির্বাহী আদেশে ফেডারেল কারাগারে নারী বন্দীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে পুরুষদের আটক বা রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন। একই আদেশে ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসকে চিকিৎসা নীতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বন্দীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো চিকিৎসা, ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতিতে ফেডারেল অর্থ ব্যয় না করার কথা বলা হয়। ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনসের নীতিমালা অনুযায়ী, বন্দীদের কোনো কারাগারে স্থানান্তর বা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কারাগারের ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে তাদের বিভিন্ন নীতি পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর আগে ব্যুরো অব প্রিজনসের ২০২৩ সালের ক্লিনিক্যাল গাইডলাইনে ট্রান্সজেন্ডার ও জেন্ডার ননবাইনারি বন্দীদের জন্য জেন্ডার অ্যাফার্মিং কেয়ারের বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। ওই নীতিতে চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিপরীত লিঙ্গের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে রাখার বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ ছিল। নতুন প্রশাসনিক নীতির ফলে এসব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল কারাগারে বন্দীদের আবাসন ও অন্যান্য আলাদা স্থান নির্ধারণে জেন্ডার আইডেন্টিটির পরিবর্তে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গকে ভিত্তি করতে হবে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল সরকারের নীতিতে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি করা এবং নারী বন্দীদের জন্য নির্ধারিত কারাগার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পরিসরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, বন্দীদের জেন্ডার আইডেন্টিটি উপেক্ষা করে আবাসন নির্ধারণ করলে তাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কারাগারে নারী ও পুরুষদের আলাদা রাখার ক্ষেত্রে জৈবিক লিঙ্গভিত্তিক নীতি নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয়। ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস বর্তমানে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। ফলে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আবাসন, চিকিৎসা এবং কারাগারে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
যুক্তরাজ্য থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিতে একজোট হয়েছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক বৈঠকে তিন অঞ্চলের নেতারা যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকারকে সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নেন। তাদের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত ছিলেন। তবে নেতারা বৈঠকে মূলত নিজ নিজ রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে অংশ নেন, সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে নয়। যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিকভাবে নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। ঘোষণায় যুক্তরাজ্য সরকারকে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সাংবিধানিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতারা আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলোর একটি। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি গণভোটের দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৪ সালের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৫৫ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি আবারও স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোট আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম অবশ্য এখনই নতুন গণভোটের পক্ষে নন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, স্পষ্ট জনসমর্থন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ভোট আয়োজনের প্রশ্ন নেই। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলে ভবিষ্যতে সীমান্ত গণভোটের সুযোগ রয়েছে। সিন ফেইন মনে করে, এমন সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। ওয়েলসের স্বাধীনতার প্রশ্নেও প্লেইড কামরু সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ স্বাধীনতার গণভোটের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি। তিন অঞ্চলের নেতারা স্বাধীনতার প্রশ্নের পাশাপাশি অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। কার্ডিফের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেছেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে আগ্রহী। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। কার্ডিফের এই বৈঠক যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতাপন্থী নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো একই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার নিয়ে যৌথ অবস্থান নেওয়ায় ওয়েস্টমিনস্টার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়তে পারে।
ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্যও বড় একটি আয়ের প্ল্যাটফর্ম। নিয়মিত মানসম্মত রিলস, ভিডিও, ছবি, স্টোরি ও লিখিত পোস্ট তৈরি করে নিজের প্রোফাইল থেকেই আয়ের সুযোগ রয়েছে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। এর প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ এসেছে রিলস থেকে। ফেসবুকের কনটেন্ট আয় ব্যবস্থা মূলত কনটেন্টের কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে। দর্শনসংখ্যা, কতক্ষণ মানুষ কনটেন্ট দেখছে এবং দর্শকের সম্পৃক্ততার মতো বিষয় আয়ের পরিমাণে প্রভাব ফেলে। তবে কনটেন্ট তৈরি করলেই সবার আয় চালু হয় না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং ফেসবুকের নীতিমালা মেনে চলতে হয়। ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রফেশনাল মোড চালু করেও কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে কাজ শুরু করা যায়। নিয়মিত ভ্রমণ, রান্না, প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রবাসী জীবন, স্থানীয় খবর, বিনোদন বা নিজের দক্ষতা নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ধীরে ধীরে দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। রিলস ও অন্যান্য কনটেন্ট থেকে আয়, দর্শকদের তারকা চিহ্নের মাধ্যমে সমর্থন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারণামূলক কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফেসবুক থেকে আয় করার সুযোগ শুধু প্ল্যাটফর্মের সরাসরি অর্থ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন নির্মাতা নিজের তৈরি দর্শকগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রচারণামূলক কাজ করতে পারেন। পাশাপাশি নিজের ব্যবসা, পণ্য বা সেবা সম্পর্কে মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবেও ফেসবুককে ব্যবহার করা যায়। ফলে একটি ভালো দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হলে একাধিকভাবে আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। নতুনদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয় বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করা। শুরুতেই বড় সংখ্যক অনুসারী বা লাখ লাখ দর্শনসংখ্যার প্রত্যাশা না করে মানুষের কাজে লাগে এমন কনটেন্ট তৈরি করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান কিংবা দক্ষতাকে সহজভাবে তুলে ধরলে ধীরে ধীরে দর্শকদের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে অন্যের ভিডিও কপি করে বা সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করলে দীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়া কঠিন। মেটা এখন নিজস্বভাবে তৈরি কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং নিম্নমানের বা পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে দিচ্ছে। তাই কনটেন্ট নির্মাতাদের উচিত নিজের ধারণা, নিজের উপস্থাপনা এবং নতুন তথ্য বা বিশ্লেষণ যুক্ত করে দর্শকদের জন্য আলাদা মূল্য তৈরি করা। বড় ক্যামেরা বা স্টুডিও ছাড়াও একটি ভালো স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করা যায়। পরিষ্কার শব্দ, ভালো আলো, আকর্ষণীয় উপস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে একজন নতুন নির্মাতাও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে পারলে ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইলও ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য আয়ের মাধ্যমে পরিণত হতে পারে।
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তরে দলটির প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আর ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ ঘোষণা দেন। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে যোগ দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকার দুই সিটির প্রার্থীদের নাম জানান। দলীয় ঘোষণায় উত্তর সিটিতে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমের নাম উঠে আসে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে। অন্যদিকে আবু সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি বেড়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটের পরিবর্তে নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফলে ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের এই প্রার্থী ঘোষণা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দলগুলোর পৃথক নির্বাচনী প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞানসম্পর্কিত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে বসে থাকা ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ ও এক তরুণী ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশনের কাছে দক্ষিণমুখী ৪ নম্বর ট্রেন তাদের আঘাত করে। ঘটনাটির আগে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দুজনকে রেললাইনের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, কেন তারা ট্র্যাকে ছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ১৫ মিনিটের কিছু আগে। নিহত তরুণের বাড়ি নিউ জার্সির সেরভিলে এবং তরুণীর বাড়ি নিউইয়র্কের ডেটনে বলে জানা গেছে। তবে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রেনটি তাদের আঘাত করার পর দুজনকেই ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজনকে সাবওয়ে ট্র্যাকের ওপর পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। সামনে দিয়ে ট্রেন এগিয়ে আসার সময়ও তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের কেউ ধাক্কা দিয়ে ট্র্যাকে ফেলে দিয়েছিল বা তারা দুর্ঘটনাবশত সেখানে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীরা দুজনের ট্র্যাকে যাওয়ার পেছনে কী কারণ ছিল, সেটি খতিয়ে দেখছেন। তারা ঘটনার আগে দুজন অ্যালকোহল পান করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক কারণ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে তাদের উদ্দেশ্য বা মানসিক অবস্থা নিয়ে কোনো অনুমান করা হচ্ছে না। ঘটনার পর স্প্রিং স্ট্রিট স্টেশন এলাকায় পুলিশ ও তদন্তকারীরা কাজ করেন। দুর্ঘটনার কারণে ওই এলাকায় সাবওয়ে চলাচলেও প্রভাব পড়ে। নিউইয়র্কের সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য সময়ের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের সামনে থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতেও ১৬১ স্ট্রিট-ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম স্টেশনের কাছে কাজ করার সময় এমটিএর এক কর্মী ডি ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন। ম্যানহাটনে সাবওয়ে ট্র্যাকে মানুষের পড়ে যাওয়া বা ঠেলে ফেলার ঘটনাও অতীতে গুরুতর পরিণতি ডেকে এনেছে। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ফোর্থ স্ট্রিট-ওয়াশিংটন স্কয়ার স্টেশনে এক যাত্রীকে ট্র্যাকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পরে কারাদণ্ড পান। এসব ঘটনা সাবওয়ে ব্যবস্থায় ট্র্যাক এলাকার ঝুঁকি এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় কোনো অপরাধের অভিযোগ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাদের ট্র্যাকে যাওয়ার কারণ, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং ভিডিওতে ধারণ করা পরিস্থিতির সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার সম্পর্ক কী, সেসব বিষয় তদন্ত শেষে আরও পরিষ্কার হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধারাবাহিক পতন দেখা দিয়েছে। ইকোনমিস্ট ও ইউগভের সর্বশেষ তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিত আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন ৩৪ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে তার প্রতি অননুমোদনের হার ৬৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। এই প্রবণতা নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ২১ থেকে ২৪ আগস্ট পরিচালিত জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন এবং ৬৩ শতাংশ অননুমোদন করেছিলেন। ২৮ থেকে ৩১ আগস্টের জরিপে অনুমোদনের হার কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অননুমোদন বেড়ে হয় ৬৮ শতাংশ। এরপর ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ জরিপে অনুমোদন আরও এক শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৩০ শতাংশে নামে এবং অননুমোদন বেড়ে ৬৯ শতাংশে পৌঁছে। ফলে কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নেট অনুমোদন ঘাটতি তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশীয় পয়েন্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে এই শ্রেণির ৬১ শতাংশ নাগরিক ট্রাম্পের কাজকে দৃঢ়ভাবে অননুমোদন করেছেন। তবে ইউগভ কলেজ-শিক্ষিত উপগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভুলের সীমা প্রকাশ করেনি। ফলে একেক সপ্তাহের পরিবর্তনের কিছু অংশ স্বাভাবিক জরিপগত ওঠানামার ফল হতে পারে। ট্রাম্পের প্রতি উচ্চশিক্ষিতদের নেতিবাচক মনোভাব শুধু সামগ্রিক চাকরির অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সর্বশেষ জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মাত্র ২৮ শতাংশ তার অর্থনীতি পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছেন, যেখানে ৭২ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তার কার্যক্রমের পক্ষে ছিলেন মাত্র ২৫ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৭৩ শতাংশ। কর ও সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের মূল্যায়ন নেতিবাচক ছিল। শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ট্রাম্পের অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে। সর্বশেষ জরিপে কলেজ ডিগ্রিবিহীন আমেরিকানদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন এবং ৫৭ শতাংশ অননুমোদন করেছেন। অর্থাৎ কলেজ-শিক্ষিতদের তুলনায় ডিগ্রিবিহীনদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন ১১ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি ছিল। এতে তার রাজনৈতিক সমর্থনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের হিসাবেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটারদের অবস্থান রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে ৫৭ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, নিজ নিজ কংগ্রেসনাল আসনে তারা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশীয় পয়েন্টে। ভোট দেওয়ার আগ্রহের ক্ষেত্রেও কলেজ-শিক্ষিত ভোটাররা এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ৭৮ শতাংশ কলেজ-শিক্ষিত নাগরিক জানিয়েছেন, তারা নভেম্বরে নিশ্চিতভাবে ভোট দেবেন। কলেজ ডিগ্রি নেই এমন নাগরিকদের মধ্যে এই হার ৬৭ শতাংশ। ফলে যে শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমছে, তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জরিপে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনের বড় অংশ এসেছিল চার বছরের কলেজ ডিগ্রি না থাকা ভোটারদের কাছ থেকে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের যাচাইকৃত ভোটারদের বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভোটারদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি ছিল না। বিপরীতে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের সমর্থকদের মধ্যে কলেজ-শিক্ষিতদের অংশ ছিল ৪৮ শতাংশ। তবে জরিপের এই ফলাফলকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপ পৃথক কংগ্রেসনাল আসনে কোন দল জয়ী হবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না। স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, প্রচারণা এবং ভোটার উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থন জরিপে কম করে দেখানোর নজিরও রয়েছে। তবু টানা তিনটি জরিপে কলেজ-শিক্ষিতদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদন কমে একই দিকে যাওয়াকে রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের বড় ব্যবধান এবং তুলনামূলক বেশি ভোট দেওয়ার আগ্রহ রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক চিকিৎসককে মেডিকেয়ার জালিয়াতির মামলায় ৪২ মাস বা সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হেলেন বোরম্যান নামে ওই চিকিৎসক প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং এর মধ্যে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালত তাকে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসির ব্রেন্টউড এলাকায় নিজের চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে বোরম্যান এই জালিয়াতি করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এমন ক্ষত চিকিৎসার পণ্যের জন্য মেডিকেয়ারে অর্থ দাবি করেন, যেগুলো তিনি বাস্তবে কেনেননি বা ব্যবহার করেননি। একবার ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা পণ্য ভাগ করে একাধিক চিকিৎসায় ব্যবহারের পরও সেগুলো নতুন পণ্য হিসেবে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে দুইজন মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একাধিক তারিখে ক্ষত চিকিৎসার পণ্য ব্যবহারের দাবি জমা দেওয়া হয়েছিল। দাবিতে ২০, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে চিকিৎসা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎ ছিল শুধু ২০, ২৪ ও ২৭ মে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব দিনে রোগীদের কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল না, সেসব তারিখের দাবিকে সমর্থন করতে চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত নথি তৈরির নির্দেশ দেন বোরম্যান। এভাবে চিকিৎসার রেকর্ড ও মেডিকেয়ার দাবির মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়। পরে তিনি মামলায় দোষ স্বীকার করে স্বীকার করেন যে, পুরো সময়কালে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের মে মাসের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, বোরম্যানের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার ছাড়াও টেনেসির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি এবং ফেডারেল কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসুবিধা কর্মসূচিতে ভুয়া দাবি জমা দেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। এসব দাবির সময়কাল ছিল ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বোরম্যান ২০২৬ সালের মে মাসে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সে সময় তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর টেনেসির মধ্যাঞ্চলের ফেডারেল আদালতে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারক উইলিয়াম এল. ক্যাম্পবেল জুনিয়র তাকে ৪২ মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের সাজা ঘোষণার তথ্য অনুযায়ী, বোরম্যানকে সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়নি। তাকে বড়দিনের ছুটির পর কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে তার কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কথা। মামলার আর্থিক হিসাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বোরম্যান প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া দাবি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব দাবির বিপরীতে তিনি প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালতের নথিতেও প্রায় ৬.৯৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত ক্ষতির হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শিরোনামে ৬.৯ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির কথা বলা হলেও মামলায় জমা দেওয়া ভুয়া দাবির মোট অঙ্ক ছিল প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন
ক্যালিফোর্নিয়ায় হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছানো। জীবন-হুমকির পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বা আচরণগত সংকটে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যায়। বিষক্রিয়া বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের ক্ষেত্রে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরেও ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। জরুরি নম্বরগুলো এক নজরে ৯১১ — জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা ৯৮৮ — মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জরুরি সহায়তা ১-৮০০-২২২-১২২২ — বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়ায় হাসপাতালের সংখ্যা অনেক এবং হাসপাতালের ধরনও এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন ধরনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সাধারণ জরুরি চিকিৎসা হাসপাতাল এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালও রয়েছে। রাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা যায়। সেখানে হাসপাতালের লাইসেন্স, অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় পুরনো অনলাইন তালিকার তুলনায় সরকারি তথ্যভান্ডার বেশি নির্ভরযোগ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে কোন নম্বরে কল করতে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে, শ্বাসকষ্ট হলে, গুরুতর আঘাত পেলে বা জীবন ঝুঁকিতে থাকলে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আত্মহত্যার চিন্তা, তীব্র মানসিক অস্থিরতা বা আচরণগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠানো যায়। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সেবা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকে। কোনো ওষুধ, রাসায়নিক, পরিষ্কারক পণ্য, উদ্ভিদ বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এই সেবা বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, খিঁচুনি হলে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। হাসপাতাল খোঁজার সময় শুধু দূরত্ব নয়, হাসপাতালটি কী ধরনের চিকিৎসা দেয় সেটিও দেখা জরুরি। কোনো হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা নাও পাওয়া যেতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে তাই নিজের মতো করে দূরের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল খোঁজার পরিবর্তে ৯১১-এর জরুরি সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। স্বাস্থ্যবিমা থাকা রোগীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসপাতালটি তাদের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার আওতাভুক্ত কি না। জরুরি নয় এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন হাসপাতাল ও চিকিৎসক পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। এতে চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে আগে জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মেডি-ক্যাল আছে বা মেডি-ক্যালের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্যও জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া যায়। কিছু যোগ্য আবেদনকারী হাসপাতাল থেকেই সাময়িক মেডি-ক্যাল সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগ বা দাতব্য চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অনেক হাসপাতাল যোগ্য রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ কমানো বা পরিশোধে সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। এ বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আগে বা বিল পাওয়ার পর হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের বাসার কাছের হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা। একই সঙ্গে ৯১১, ৯৮৮ এবং বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নম্বরও ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। হাসপাতালের ঠিকানা, চিকিৎসাসেবা, লাইসেন্সের অবস্থা বা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরনো ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অননুমোদিত তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তালিকা খুঁজতে সময় নষ্ট না করে সরাসরি ৯১১ নম্বরে কল করুন।
চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের হেগাং শহরের একটি হাসপাতালে গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা করার সময় স্বামীর ছোট্ট একটি উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের নজর কেড়েছিল। ২০১৯ সালের ওই ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে স্ত্রী পায়ে অস্বস্তি ও অবশভাব অনুভব করলে বসার জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বসে পড়েন স্বামী। এরপর নিজের পিঠকেই স্ত্রীর জন্য সাময়িক ‘চেয়ার’ বানিয়ে দেন তিনি। হাসপাতালে অপেক্ষারত অন্যদের মতো ওই দম্পতিও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে গর্ভবতী স্ত্রীর পায়ে অস্বস্তি শুরু হয়। বসার মতো জায়গা না থাকায় তিনি কষ্ট পাচ্ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বামী কোনো দ্বিধা না করে মেঝেতে বসে নিজের পিঠ এগিয়ে দেন। স্ত্রী তখন স্বামীর পিঠে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। কিছু সময় পর স্বামী তাকে পানি এগিয়ে দেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাদের এই মুহূর্ত। পরে সেই সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়ের একটি দৃশ্য হলেও স্বামীর এই আচরণ অনেকের নজর কাড়ে। বিশেষ করে গর্ভবতী স্ত্রীর অস্বস্তি বুঝে দ্রুত তাকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা মানুষের কাছে ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তোলে। ঘটনাটি নতুন কোনো আয়োজন বা বড় কোনো ত্যাগের গল্প ছিল না। বরং দৈনন্দিন জীবনের একটি ছোট মুহূর্তেই দুজনের পারস্পরিক যত্নের বিষয়টি ফুটে উঠেছিল। স্ত্রীর প্রয়োজন বুঝে স্বামীর তাৎক্ষণিকভাবে নিজের শরীরকে বসার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করাই হয়ে ওঠে সেই দৃশ্যের মূল আকর্ষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন মুহূর্তগুলো প্রায়ই মানুষের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ছোট ছোট যত্নকে সামনে নিয়ে আসে। এই ঘটনাতেও বড় কোনো বক্তব্যের বদলে একটি সাধারণ আচরণই দম্পতির পারস্পরিক সহমর্মিতার ছবি তুলে ধরে। হাসপাতালের অপেক্ষারত জায়গায় ধারণ করা কয়েক মুহূর্তের সেই দৃশ্য শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা ও যত্নের একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় মানুষের কষ্ট কিছুটা কমিয়ে দিতে সবসময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না, কখনো কখনো ছোট্ট একটি উদ্যোগই হয়ে ওঠে সবচেয়ে অর্থবহ।
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার জামনারে গরুকে লাথি দেওয়ার অভিযোগে এক মুসলিম বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে অপমান ও গরুর সামনে সিজদা করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ওই বৃদ্ধকে গরুর সামনে নত হয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৃদ্ধের নাম জামিলউদ্দিন। তিনি গুনা ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দা এবং কাজের জন্য পিকআপে করে জামনারে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি বাড়িতে মালামাল নামানোর সময় রাস্তার ওপর থাকা একটি গরুকে সরানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি গরুটিকে পা দিয়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন কর্মীসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কিছু পরিবার ওই বৃদ্ধকে সাময়িকভাবে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পরে তাকে গরুর সামনে নিয়ে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ গরুর সামনে মাটির দিকে ঝুঁকে আছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাকে মাটিতে নাক ঘষতে, গরুর সামনে সিজদা করতে এবং গরুর পা স্পর্শ করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তার সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জামনার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ মেহরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গরুটিকে সরানোর উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ পা দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তিনি গরুর সামনে ক্ষমা চান। পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে জামিলউদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তার বক্তব্য নেওয়ার পরিবর্তে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার অভিযোগ, তাকে লিখে দিতে বলা হয়েছিল যে তিনি কোনো আইনি ব্যবস্থা চান না এবং স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করার কথা জানিয়েছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, প্রকাশ্যে কাউকে অপমান বা কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় গরুকে ঘিরে বিরোধ অতীতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণ হয়েছে। তবে জামনারের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তুরস্কের মেরসিনের একদল তরুণ হাফেজের ওমরাহ পালনের আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাবা শরিফের সামনে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলা এবং পরে তাওয়াফ শেষে কাবার দেয়াল স্পর্শ করতে পারার দৃশ্য দর্শকদেরও আবেগাপ্লুত করেছে। ঘটনাটি তুরস্কের মেরসিনে চালু হওয়া ‘হাফেজলার উমরেদে’ বা ‘হাফেজরা ওমরাহয়’ প্রকল্পের আওতায় পবিত্র ভূমিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের। মেরসিন প্রাদেশিক মুফতিশিপের সমন্বয়ে, তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগের সহযোগিতা ও দাতাদের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় অল্প সময়ের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করা ২০ জন সফল হাফেজ শিক্ষার্থীকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মাত্র ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। একই সফরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনভিত্তিক ‘ওমরাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব জ্ঞান প্রতিযোগিতা’য় ভালো ফল করা আরও চারজন শিক্ষার্থীও অংশ নেয়। মক্কায় পৌঁছে কাবা শরিফের সামনে দাঁড়ানোর পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় গভীর আবেগ। তুরস্কের ইমাম-হাতিপ শিক্ষক ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ দোগাচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও প্রকাশ করেন, সেখানে কয়েকজন ছোট হাফেজকে কাবা শরিফের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ভিডিওর সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটিতে দেখা যায়, কাবা শরিফের দেয়াল স্পর্শ করতে না পেরে এক শিশু হাফেজ কাঁদছে। পরে তাওয়াফ শেষ করার পর কাবার দেয়াল স্পর্শ করার সুযোগ পেলে তার আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শিশুটির চোখের পানি ও কাবা স্পর্শ করার মুহূর্তটি ভিডিওটি দেখেছেন এমন অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। মেরসিনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের কোরআন এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করা। একই সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে আত্মিক বিকাশে সহায়তা করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য। ওমরাহ সফরের সময় শিক্ষার্থীরা মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। মদিনায় মসজিদে নববীতেও তাদের শেষ পাঠ অনুষ্ঠিত হয় বলে তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। মেরসিনের মুফতি মুস্তাফা তোপাল এই উদ্যোগে সহযোগিতা করা তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর, হজ ও ওমরাহ সেবা বিভাগ, স্থানীয় মুফতিশিপ, দাতাদের এবং প্রকল্পের সমন্বয়ক মুহাম্মদ দোগাচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। কাবা শরিফের সামনে ছোট্ট হাফেজদের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিওটি ১২ সেপ্টেম্বর তুরস্কের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মীয় অনুভূতি, শিশুদের সরল আবেগ এবং দীর্ঘদিনের হিফজ সম্পন্ন করার পর পবিত্র কাবা দেখার সুযোগ একসঙ্গে মিলে ঘটনাটিকে বিশেষভাবে আলোচিত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড থেকে ফ্লোরিডাগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক নারী পোশাক খুলে অ শা লীন আচরণ করেছেন বলে অ ভি যোগ উঠেছে। ফ্লাইটটি মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারীকে হে ফা জতে নেয়। ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ। বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন ইন্টারন্যাশনাল থারগুড মার্শাল এয়ারপোর্ট থেকে মিয়ামির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বিমানটি ছিল এয়ারবাস এ৩১৯। আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা সামনের দিকে ৯ নম্বর সারিতে বসা এক নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে ককপিটকে অবহিত করেন। বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার এসিএআরএস রেকর্ডে কেবিন ক্রুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই নারী তার পোশাক খুলে ফেলেছিলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অ শা লীন আচরণ করছিলেন। পরে বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টারকে জানানো হয়। একই সঙ্গে বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। ঘটনার পর ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেই বিমানটি অবতরণ করে। পরে টার্মিনালের গেটে অপেক্ষায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা ওই নারীকে হে ফা জতে নেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অ ভি যোগ আনা হয়েছে কিংবা পরে কোনো ফৌজদারি মা মলা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস, আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও মিয়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে অতিরিক্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। বিমানে এ ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ অন্য যাত্রীদের স্বস্তি এবং কেবিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে কেবিন ক্রুরা প্রথমে যাত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এয়ারলাইন্সের অপারেশনস সেন্টার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে কাউকে আ টক বা হে ফা জতে নেওয়া হয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে অ প রাধ প্রমাণিত হয় না। তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা এবং ওই নারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারিত হবে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইস রায়েলের কারাগারে ৩৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আ টক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে মানবাধিকারবিষয়ক এই বেসরকারি সংগঠন জানায়, তাদের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো অ ভি যোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আ টকাদেশের আওতায় রাখা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যু দ্ধ শুরুর পর এসব সাংবাদিককে আ টক করা হয়। সাংবাদিকতার কাজ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রে প্তার, কা রাদণ্ড, একাকী ব ন্দিত্ব ও বিভিন্ন মা মলার মুখোমুখি করছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। সর্বশেষ আ টক হওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মুয়াথ আম্মারনা ও সাবরি জিবরিন। বৃহস্পতিবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেথলেহেমে তাদের বাড়িতে অ ভি যান চালিয়ে ইস রায়েলি বা হিনী তাদের গ্রে প্তার করে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, সাংবাদিকতার কাজের কারণে আম্মারনাকে এর আগেও ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার টার্গেট করেছে। এবার তৃতীয়বারের মতো তাকে আ টক করা হয়েছে। সাংবাদিক ও লেখক মাহমুদ ফাতাফতার মা মলার কথাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। ইস রায়েলের ভাষায় ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগে তাকে ৪৮ মাসের কা রাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের অ ভি যোগে দেওয়া কঠোর সাজাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘উ স কানি’ দেওয়ার অ ভি যোগ ক্রমেই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ‘গোপন নথি’র ভিত্তিতে সাংবাদিকদের প্রশাসনিক আ টকেও রাখা হচ্ছে বলে অ ভি যোগ করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ১৯ জন সাংবাদিক প্রশাসনিক আ টকাদেশে রয়েছেন। অর্থাৎ ইস রায়েলের কারাগারে থাকা মোট সাংবাদিকের প্রায় ৫১ শতাংশই কোনো মা মলা বা বিচার ছাড়াই এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বন্দি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওয়িলের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। ৩৩ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে উত্তর ইস রায়েলের ডেমন কারাগার থেকে মধ্যাঞ্চলের রামলা কারাগারে একাকী ব ন্দিত্বে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নারী ফিলিস্তিনি ব ন্দিদের ওপর ইস রায়েলি কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি আরও বেড়েছে বলেও অ ভি যোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, খাবারের ঘা টতি, চিকিৎসা না দেওয়া ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি নারী ব ন্দিদের একাকী রাখাসহ নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটির ভাষ্য, আ টক সাংবাদিকরাও অন্যান্য ফিলিস্তিনি ব ন্দির মতো ক্ষু ধা, চিকিৎসার অবহেলা, নি র্যাতন, নিপী ড়ন, একাকী ব ন্দিত্ব এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। সংগঠনটির আরও অ ভি যোগ, সাংবাদিকদের শুধু গ্রে প্তার বা কা রাবন্দি করেই নয়, হ ত্যা, নি খোঁজ করে দেওয়া এবং কাজের সময় সরাসরি হা মলার মাধ্যমেও টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি ও ইস রায়েলি কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশ সীমিত করার একটি ধারাবাহিক নীতির অংশ হিসেবেই এসব করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইস রায়েলি বা হিনীর অ ভি যান ও হা মলা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি। সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনায় হ ত্যা, গ্রে প্তার, বাড়িঘর ও যানবাহনে হা মলা, মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত করা, কৃষিজমি ধ্বংস, কৃষকদের ওপর বিধিনিষেধ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের মতো ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার সংগঠনটি জানায়, এর আগের এক সপ্তাহে পশ্চিম তীরজুড়ে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আ টক করেছে ইস রায়েলি বা হিনী। তাদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে আ টক ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর বাইরে গাজা থেকেও হাজারো ফিলিস্তিনিকে আ টক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। এর অংশ হিসেবে সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবির জন্য নির্ধারিত স্থানে যু দ্ধাপ রাধী গো লাম আযমকে জু তাপে টার একটি ছবি সাঁটিয়ে দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সোমবার বেলা ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ছবিটি সাঁটান। এ বিষয়ে অর্ক বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডাকসু কারও বাপের না। ইতিহাসকে একপাক্ষিকভাবে উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না।” ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মু ক্তিযু দ্ধের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক বয়ানকে প্রাধান্য দিয়ে সংগ্রহশালা সাজানো উচিত নয়। জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়ে এর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সংগ্রহশালায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে গো লাম আযমকে জু তাপে টার ছবিটি সাঁটানো হয়।
যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে মুখ ও পরিচয় ঢেকে রাখার অভিযোগে ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মা মলা করেছে পুলিশ। টিমোথি মিলার নামের ওই ব্যক্তি শনিবারের বিক্ষোভে বো রকা পরেছিলেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। বিক্ষোভস্থলে পরিচয় গোপন করার অভিযোগে তাকে অ ভি যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার পোর্টসমাউথ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। সাউদাম্পটনের হেজ এন্ড এলাকার বাসিন্দা মিলারের বিরুদ্ধে অ ভি যোগ, বিক্ষোভের সময় তিনি এমন পোশাক পরেছিলেন, যা তার পরিচয় আড়াল করছিল। একই বিক্ষোভ থেকে আরও কয়েকজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৩ বছর বয়সী ডেভিড ম্যাকন্যালির বিরুদ্ধে মহাসড়ক অবরোধ এবং ক্ষতিসাধনের চেষ্টার অ ভি যোগ আনা হয়েছে। পোর্টসমাউথে বিক্ষোভের সময় মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করার বিরুদ্ধে নতুন পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে শহরের ইস্টনি মেরিনায় অভিবাসনবিরোধী একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও পুলিশের সঙ্গে সং ঘ র্ষের পর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। পরবর্তী বিক্ষোভের আগে হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানায়, নির্ধারিত এলাকায় নতুন ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্যের নতুন ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্ট ২০২৬-এর আওতায় পুলিশ নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। কোনো এলাকায় বিক্ষোভ থেকে অ প রাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে একজন পরিদর্শক বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার জন্য ওই এলাকা নির্ধারণ করতে পারেন। এই বিধান লঙ্ঘনের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার পাউন্ড জ রি মানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত কারণ, কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন কিংবা ধর্মীয় পালনের উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নতুন আইনের উদ্দেশ্য ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করা নয়; বরং বিক্ষোভের সময় অ প রাধ করার উদ্দেশ্যে পরিচয় গোপনের সুযোগ বন্ধ করা। শনিবারের বিক্ষোভে পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী ও অভিবাসনপন্থী দুই পক্ষের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে এবং দুই পক্ষকে আলাদা রাখে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্টনি মেরিনায় প্রায় ২০০ জনের একটি বিক্ষোভে পুলিশের গাড়ি, কোস্টগার্ড ও বর্ডার ফোর্সের কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার তদন্তে ৪২ বছর বয়সী ডেল লিওন সোমারভিলকে সহিংস বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হা ম লার অভিযোগে অ ভি যুক্ত করা হয়েছে। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ বলেছে, নতুন ক্ষমতা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সীমিত করার জন্য নয়। অ প রাধ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর পোর্টসমাউথে বিক্ষোভে মুখ ঢেকে পরিচয় গোপনের অভিযোগে মা মলা দায়েরের ঘটনাটি এ ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।