সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
সন্তান পালনে খরচ বাড়ছে, এক অভিভাবকের বাড়িতে থাকা নিয়ে নতুন গবেষণা
সন্তান পালনে এক অভিভাবক ঘরে থাকলে যেসব রাজ্যে খরচ কম

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান লালন-পালনের খরচ বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার ভাবছে, দুজনই চাকরি করবেন নাকি একজন বাড়িতে থেকে সন্তানের দেখাশোনা করবেন। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে বাড়িতে থাকলেও পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচ তুলনামূলক কম আয়ে সামলানো সম্ভব। আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে ৫০টি রাজ্যে তিন সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয় তুলনা করা হয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে এমন একটি পরিবার ধরে, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু রয়েছে এবং একজন অভিভাবক চাকরি না করে বাড়িতে থেকে শিশুর যত্ন নিচ্ছেন। গবেষণাটি ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে কম আয়ে এমন পরিবার চালানো সম্ভব আরকানসাসে। সেখানে একজন কর্মজীবী অভিভাবকের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ৬৮ হাজার ৮৬৯ ডলার। এরপর রয়েছে মিসিসিপি, কেনটাকি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও নর্থ ডাকোটা। এসব রাজ্যে একজন অভিভাবক বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় তুলনামূলকভাবে কম। কেনটাকিতে এই পরিবারের জন্য একজন কর্মজীবী অভিভাবকের প্রয়োজনীয় বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ হাজার ১৭৯ ডলার। অন্যদিকে টেনেসিতে প্রয়োজন প্রায় ৭২ হাজার ৯৪৬ ডলার। টেনেসির ক্ষেত্রে দুজন অভিভাবক কাজ করলে পরিবারের মোট প্রয়োজনীয় আয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩ হাজার ৭৫ ডলার। তবে সব রাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। হাওয়াইয়ে একজন অভিভাবককে বাড়িতে রেখে পরিবার চালাতে সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন—প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৪৯৬ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ২১৩ ডলার এবং ম্যাসাচুসেটসে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৬৫ ডলার। অর্থাৎ বসবাসের রাজ্য অনুযায়ী একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনের আর্থিক বাস্তবতায় বড় পার্থক্য রয়েছে। স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, একজন অভিভাবক বাড়িতে থাকলে পরিবারের বড় একটি ব্যয়—শিশুর দেখাশোনার খরচ—কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে একজনের বেতন, অবসরকালীন সঞ্চয়ে অবদান, সোশ্যাল সিকিউরিটির উপার্জনভিত্তিক সুবিধা এবং নিয়োগকর্তার দেওয়া স্বাস্থ্যসুবিধার মতো বিষয় হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই শুধু আয় নয়, পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনাও এ ধরনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব হিসাব রাজ্যভিত্তিক গড় মডেলের ওপর তৈরি। বসবাসের কাউন্টি, সন্তানের বয়স, কর ও সরকারি সুবিধার পার্থক্যের কারণে একটি পরিবারের প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় এর চেয়ে কম-বেশি হতে পারে। গবেষণার তথ্যের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন, স্মার্টঅ্যাসেট, এমআইটি লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:৪৩
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ঋণ ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে ক্রেডিট কার্ডের নির্ভরতা
খরচ বাড়ছে, সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারগুলোর ঋণ এখন ১৮ ট্রিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখন দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের টেড রসম্যান বলেন, ঋণসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২১ সালের শুরুর তুলনায় আর্থিক পরামর্শ নেওয়ার সেশনও বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ। রসম্যানের মতে, এই আর্থিক চাপের বড় কারণ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া। তিনি বলেন, মানুষ এখন প্রায় সবকিছুর জন্য আগের চেয়ে বেশি অর্থ দিচ্ছে। ২০১৯ সালের তুলনায় খাদ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। শুধু খাবার নয়, গাড়ি, জ্বালানি, চিকিৎসা, বাসস্থান ও শিশুদের দেখাশোনার খরচও মহামারির আগের সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান রসম্যান। ফলে অনেক পরিবারকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে এবং কোন বিল আগে পরিশোধ করা হবে, তা নিয়েও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তবে ঋণের কারণে অনেকে লজ্জায় সাহায্য চাইতে চান না। রসম্যান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক সংকোচ কাজ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতাদের কাছে অনেকেই জানতে চান, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ কি না। রসম্যানের মতে, এই লজ্জা দূরে রাখা দরকার, কারণ একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন লাখো মানুষ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রায় অর্ধেকই প্রতি মাসে পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না এবং এক মাসের ঋণ পরের মাসে বহন করেন। মানি ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের একজন গড় গ্রাহক প্রায় ৪০ হাজার ডলারের অনিরাপদ ঋণ নিয়ে সাহায্য চাইতে আসেন। এই ঋণ সাধারণত বিলাসী কেনাকাটা থেকে তৈরি হয় না; বরং গাড়ি মেরামত, চিকিৎসার বিল ও বাজার-সদাইয়ের মতো দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ থেকেই এর বড় অংশ তৈরি হয়। রসম্যান বলেন, তুলনামূলক কম ঋণের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ সুদের ব্যালান্স ট্রান্সফার সুবিধা কাজে লাগতে পারে। তবে বড় অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে অলাভজনক ঋণ পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:২২
যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১(কে) সঞ্চয়ে নতুন রেকর্ড
৪০১(কে)-তে আমেরিকানদের গড় সঞ্চয় বেড়ে রেকর্ড, এক বছরে বাড়ল ১৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরের জন্য সঞ্চয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টে আমেরিকানদের গড় ব্যালান্স নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ ডলারে। ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘কিউ২ ২০২৬ বিল্ডিং ফাইন্যান্সিয়াল ফিউচারস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সামান্য কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪০১(কে) ও ৪০৩(বি) অ্যাকাউন্টের গড় ব্যালান্স আবার রেকর্ড পর্যায়ে উঠে এসেছে। ‘দ্য রামসে শো’-এর সহ-উপস্থাপক জেড ওয়ারশর মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স, তরুণ কর্মীদের বিনিয়োগে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগ্রহ। তিনি বলেন, বিশেষ করে জেন জেড প্রজন্মের মধ্যে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেক মানুষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছে। ওয়ারশ বলেন, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের ক্ষেত্রে সঞ্চয় বাড়ানোর কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে বর্তমানে অনেকের মধ্যেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারাও অনেকের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বাজার পরিস্থিতিও কর্মীদের বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন ওয়ারশ। তাঁর মতে, অনেক মানুষ বাজারের এই প্রবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে অবসরের জন্য বিনিয়োগের আগে একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রামসে সলিউশনের ‘৭ বেবি স্টেপস’ অনুসরণ করে প্রথমে ১ হাজার ডলারের জরুরি তহবিল গড়া, এরপর ভোক্তা ঋণ পরিশোধ এবং তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাপনের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পর অবসর তহবিলে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রেকর্ড ব্যালান্সে পৌঁছানো ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টধারীদের সবচেয়ে বড় ভুল কী হতে পারে—এমন প্রশ্নে ওয়ারশ বলেন, বাজারকে নিজের চেয়ে বেশি বোঝার চেষ্টা করাই বড় ভুল। তাঁর পরামর্শ, বাজারের ওঠানামা দেখে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া। তিনি বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে নিয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ‘ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং’ নামে পরিচিত। তাঁর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষা করাই সম্পদ গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৭:৬
ডেভিড জে. রাশের বাড়িতে মিলেছিল ৩০০ সোনার বার, ২০ লাখ ডলার ও বিলাসবহুল ঘড়ি
৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!

বাড়ি থেকে ৪ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোনার বার উদ্ধারের পর চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা ডেভিড জে. রাশ একটি সমঝোতামূলক রফার দিকে এগিয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তাঁর আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলিরা একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন। এর ফলে মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচার পর্যন্ত না-ও গড়াতে পারে। শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক রাশকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সময়সীমা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলি ও রাশের আইনজীবী চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলো ঠিক করার জন্য আরও সময় চেয়েছিলেন। আদালতে জমা দেওয়া যৌথ আবেদনে সম্ভাব্য সমঝোতার বিস্তারিত জানানো হয়নি। রাশের বিরুদ্ধে গত মে মাসে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগ আনা হয়। এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তার আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে নৌবাহিনী থেকে সম্মানের সঙ্গে অবসর নেওয়ার পরও রাশ তাঁর সময়ের হিসাবপত্রে ৭৪৪ ঘণ্টা সামরিক ছুটি নেওয়ার কথা দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও রেনসেলার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি অর্জনের মিথ্যা দাবি করে তিনি নিজের বেতন বাড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় রাশের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করে এফবিআই। এর মধ্যে ছিল প্রায় ৩০০টি সোনার বার, যার মোট মূল্য ৪ কোটি ডলারের বেশি। এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং প্রায় ৩৫টি বিলাসবহুল ঘড়িও উদ্ধার করা হয়। এফবিআইয়ের হলফনামায় বলা হয়েছে, রাশ মার্কিন সরকারের কাছ থেকে ‘কাজ-সংক্রান্ত খরচের’ জন্য ওই সোনার বারগুলো পেয়েছিলেন। তবে তাঁর আইনজীবী দাবি করেছেন, রাশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে সোনার বারগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি সোনার বিষয়টিকে মামলার একটি ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে জুনে আদালতে এক বিচার বিভাগের আইনজীবী জানান, রাশের বাড়িতে ওই সোনার বার রাখার কথা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে আলাদা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। রাশের আইনজীবীর কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি বিচার পর্যন্ত গড়ালে গোপনীয় বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য নিয়ে বড় ধরনের আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৪৬
ভোটে হারলেও প্রতিশ্রুতি রাখলেন আরিফ, প্রথম ধাপে দিলেন ৭২৫টি গাছ
নির্বাচনে হেরেও রাখলেন প্রতিশ্রুতি, রাবিতে ৭২৫টি গাছ দিলেন আরিফ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে যত ভোট পাবেন, ততটি গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ আলভী। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাননি তিনি। নিজের উপার্জনের অর্থে প্রথম ধাপে ৭২৫টি গাছ দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন এই শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত এক কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ প্রজাতির এসব গাছ বিতরণ ও রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু গাছ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ গাছ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে সেগুলো যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করা যায়। এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাকসু নির্বাচনের আগে আরিফ আলভী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যত ভোট পাবেন, জিতুন বা হারুন, ততগুলো গাছ ক্যাম্পাসে দেবেন। তাঁর এমন পরিবেশবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।” রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম সুলতানা ঐশি বলেন, “প্রতিটি ভোটের বিনিময়ে একটি করে গাছ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখানে একাধিক গাছ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও আমার একটি গাছ ভালো লেগেছে, তাই একটি নিয়েছি।” জানতে চাইলে আরিফ আলভী বলেন, “রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। আমি ১ হাজার ৭২৫ ভোট পেয়েছিলাম। তখন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জিতি বা হারি, যত ভোট পাব, ততগুলো গাছ দেব। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ১১ প্রজাতির ৭২৫টি গাছ দিয়েছি। এগুলো নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় ১ হাজার ৭২৫টি করে গাছ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৩০
AI আমাদের ভবিষ্যৎ বদলাবে—তবে নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপদও ডেকে আনতে পারে
এআই নজরদারি ছাড়া বিপজ্জনক হতে পারে, সতর্ক করলেন বারাক ওবামা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং যথাযথ নজরদারি না থাকলে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এআইকে রাজনৈতিক এজেন্ডার অন্যতম প্রধান বিষয় করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   ১০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেশনাল ক্যাম্পেইন কমিটির একটি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসের সঙ্গে আলোচনায় এসব কথা বলেন ওবামা। তার বক্তব্যের আংশিক প্রতিলিপি পরে তার কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হয় এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস তা প্রকাশ করে।   ওবামার মূল উদ্বেগ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং এর বড় একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকা। তিনি বলেন, প্রযুক্তিটি খুব দ্রুত এগোচ্ছে এবং এর ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে যথাযথভাবে পরিচালনা করা গেলে এআই মানুষের জন্য বড় ধরনের সুফলও বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন তিনি।   এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রযুক্তিটি ওষুধ তৈরির গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে দিতে পারে এবং রোগ নিরাময়ের নতুন পথ তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   তবে ওবামার উদ্বেগ শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নয়। এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর সম্ভাবনা, শিশুদের ওপর এর প্রভাব, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগকেও রাজনৈতিক আলোচনার অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের এআই নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন ওবামা।   ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পায়, তাহলে এআই নিয়ে একটি বিস্তৃত ও প্রকাশ্য নীতিগত আলোচনা শুরু করার জন্য জেফরিসকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন ওবামা। তবে জেফরিস এখনো হাউসের স্পিকার নন; তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই তিনি সেই পদে যেতে পারেন।   এআই ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। ভোটারদের মধ্যে চাকরি, বিদ্যুৎ খরচ, গোপনীয়তা এবং এআইয়ের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এআই নিয়ে নীতিগত অবস্থান তৈরির চাপ বাড়ছে। এর আগে দলটির কয়েকজন সাবেক নির্বাচনী কৌশলবিদ ও এআই নিরাপত্তা সমর্থক মিলে ‘টুমরো টুগেদার’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছেন, যার লক্ষ্য এআই নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের নীতিগত অবস্থান আরও স্পষ্ট করা।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৩
এপস্টিন-ট্রল নিয়ে কাশ প্যাটেলের বার্তালাপ ফাঁস
এপস্টিন-সম্পর্কিত ট্রল অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ করে পোস্ট করা একটি অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য এফবিআইয়ের যোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির সাফল্য ও অর্জনের তথ্য তুলে ধরতে বলেছিলেন প্যাটেল। তবে এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক বেন উইলিয়ামসন এতে রাজি হননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনটি করলে ‘আপনার জন্য ভালো দেখাবে না’। সরকারের সদ্য প্রকাশ করা নথিতে থাকা ৫ ফেব্রুয়ারির একটি টেক্সট বার্তায় প্যাটেল ও উইলিয়ামসনের এই কথোপকথন সামনে এসেছে। জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত বার্তা অনুযায়ী, এক্সে একটি অ্যাকাউন্ট প্যাটেলের সরকারি ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট দেয়। উইলিয়ামসন ওই অ্যাকাউন্টকে এমন একটি বট অ্যাকাউন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন, যেটি ‘এপস্টিন নিজে আত্মহত্যা করেননি’—এমন বক্তব্য প্রচার করে। তবে ওই পোস্ট উপেক্ষা করতে চাননি প্যাটেল। তিনি এফবিআইয়ের যোগাযোগ কর্মকর্তাদের ওই অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে সংস্থাটির গত বছরের সাফল্য ও রেকর্ড তুলে ধরতে বলেন। পরে প্যাটেল জানতে চান, তাঁর দলের পক্ষ থেকে এমনটি করা হচ্ছে কি না। উইলিয়ামসন জানান, তারা তা করছে না। এরপর উইলিয়ামসন স্পষ্টভাবে প্যাটেলকে জানান, ওই অ্যাকাউন্টের জবাব দেওয়া হবে না। কারণ, এটি করলে প্যাটেলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্যাটেল অবশ্য বিষয়টিকে ওই অ্যাকাউন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্ন হিসেবে দেখেননি। তাঁর যুক্তি ছিল, পোস্টটি কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এত মানুষ পোস্টটি দেখছে, তাই তাদের সামনে এফবিআইয়ের সাফল্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা দরকার বলে মনে করেন তিনি। তবে উইলিয়ামসন জানান, আলোচনায় যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত পোস্টের ভিউয়ের সংখ্যা, প্রতিক্রিয়ার নয়। জনসংযোগ ও কৌশলগত যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডিন বলেন, প্যাটেলকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে উইলিয়ামসন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তাঁর মতে, শীর্ষ কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অজ্ঞাতনামা অনলাইন ট্রলকে জবাব দেওয়ার লাভ খুব কম। বরং একবার জবাব দিলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্কে বারবার জড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এফবিআইয়ের জনসংযোগবিষয়ক সহকারী পরিচালক হিসেবে বেন উইলিয়ামসন সংস্থাটির জনসমক্ষে যোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো দেখভাল করেন। তাঁর সঙ্গে প্যাটেলের এই কথোপকথনকে সংস্থাটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পরিচালকের প্রস্তাবে সরাসরি আপত্তি জানানোর বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এই কথোপকথন সামনে আসায় এফবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন এবং সিনেটের অনুমোদনের পর এফবিআই পরিচালক হন কাশ প্যাটেল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কথিত অনিয়মের সমালোচনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর আগের ভূমিকার কারণে বেশ আলোচিত ও বিতর্কিত হয়ে আছেন। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির মে মাসের এক জরিপে ৩০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার প্যাটেলের কাজের প্রতি সন্তোষ জানিয়েছেন। অন্যদিকে ৫৬ শতাংশ তাঁর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ১৪ শতাংশ কোনো মত দেননি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:৬
ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার অভিযোগ
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাঁধনের বার্তা, ‘দলকানা না হয়ে পরিবারের কথা ভাবুন’

ইতালির ভেনিসে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগের পর দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়, জুলাই আন্দোলনে নিজের অবস্থান, পরিবারের সদস্যদের হয়রানি এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের আচরণ নিয়েও কথা বলেছেন।   বাঁধনের অভিযোগ, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার দাবি, তারা তার দিকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়েছিলেন। একপর্যায়ে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের কাছেও আঘাত করা হয় বলে জানান তিনি।   বাঁধন আরও বলেন, তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ পরিচয় দিয়ে তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাগুলোর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশ করা হচ্ছিল বলেও তিনি জানান।   নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নিজের সেই ভূমিকা নিয়ে তিনি গর্বিত। তার অভিযোগ, ওই আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই ইতালিতে তাকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।   তবে নিজের ওপর হামলার চেয়েও ভাই, ভাবি ও ছোট শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণ তাকে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানান বাঁধন। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের পরিবারও তার সঙ্গে ছিল। ছোট শিশুটিকে ঘিরে হামলাকারীদের আচরণকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।   ঘটনার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও দৃঢ় অবস্থান জানান বাঁধন। তিনি ইতালির পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং আট বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছেন। ইতালির পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে।   বাঁধন জানান, ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট তাকে সহযোগিতা করেছে। স্থানীয় পুলিশও তাকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কনস্যুলেট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত শুনেছেন এবং ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।   ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের টিমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন বাঁধন। দেশে ফিরে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার টিমের পক্ষ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। বরং তাকে টিম থেকে দূরে রাখার এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে তার সহশিল্পীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।   বাঁধন আরও জানান, ইতালিতে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সহায়তা দিয়েছে এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষও তাকে নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বলে তিনি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে, বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ইতালির স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সূত্র: প্রথম আলো, নিউজ২৪

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৬:১৭
বুধের বুকে জয়নুল আবেদিনের নাম— ‘আবেদিন’ ক্রেটার
বুধ গ্রহের গায়ে বাংলাদেশের জয়নুল আবেদিনের নাম, মহাকাশে লেখা এক শিল্পীর পরিচয়

পৃথিবী থেকে বহু দূরে থাকা বুধ গ্রহের একটি গর্তের নাম রাখা হয়েছে বাংলাদেশের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা (আইএইউ) ২০০৯ সালে বুধের ওই গর্তটির নাম দেয় ‘আবেদিন’। ফলে মহাকাশের মানচিত্রেও স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের এই মহান শিল্পীর নাম। বুধ গ্রহে এখন পর্যন্ত ৭৬৩টি গর্ত বা ক্রেটার শনাক্ত করা হয়েছে। এসব গর্তের অনেকগুলোর নাম রাখা হয়েছে বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পী, সংগীতজ্ঞ ও লেখকদের সম্মানে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়েটস, বাখ, বালজাক, বিটোফেন ও পাবলো নেরুদার মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নাম। সেই তালিকায় বাংলাদেশের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নামও যুক্ত হয়েছে। জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ। বিশেষ করে ১৯৪০-এর দশকের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা নিয়ে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মগুলো তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে তাঁকে ‘বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলার জনক’ বলা হয়। ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের কাছাকাছি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবেদিন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় তৎকালীন সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত। তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘সংগ্রাম’ ও ‘দুর্ভিক্ষ ১৯৪৩’। বুধের ‘আবেদিন’ নামের এই গর্তটি নাসার মেসেঞ্জার মহাকাশযানের অভিযানে শনাক্ত ও ছবি তোলা হয়। নাসার তথ্য অনুযায়ী, বুধের উত্তরাঞ্চলের উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত এই গর্তটির নাম বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের সম্মানে রাখা হয়েছে। গর্তটিতে মসৃণ তলদেশ, দেয়ালের ধাপ এবং মাঝখানে শৃঙ্গের মতো একটি কাঠামো রয়েছে। নাসার ফটোজার্নাল অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ অক্টোবর মার্কারি ডুয়াল ইমেজিং সিস্টেমের (এমডিআইএস) ন্যারো অ্যাঙ্গেল ক্যামেরা দিয়ে ‘আবেদিন’ ক্রেটারের ছবি তোলা হয়। গর্তটির ব্যাস প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং ছবি তোলার সময় মহাকাশযানটি বুধের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার উচ্চতায় ছিল। নাসা জানিয়েছে, বুধের পুরো গ্রহের একটি মোজাইক ছবিতে ‘আবেদিন’ ক্রেটারটি ওপরের দিকে দেখা যায়। এর কাছেই রয়েছে একটি দর্শনীয় রশ্মিযুক্ত গর্ত। এভাবেই পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নাম পৌঁছে গেছে সৌরজগতের একটি গ্রহের বুকে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৫:১৮
অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়
মৃত্যুর আগে ১ হাজার প্রতিষ্ঠানে ছুটলেন বাবা, অটিজম ছেলের জন্য খুঁজলেন নিরাপদ আশ্রয়

মৃত্যু যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখনও নিজের জন্য নয়—ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চেওল। লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে মাত্র ছয় মাসের আয়ুর কথা শোনার পর তার একমাত্র চিন্তা হয়ে ওঠে, তিনি না থাকলে গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলে জেওন কীভাবে বাঁচবে।   জিওন দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ছেলেকে একাই বড় করেছেন। ২৬ বছর বয়সী জেওনের ২০০৭ সালে গুরুতর অটিজমের শনাক্তকরণ হয়। ছেলের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়—তাই নিজের মৃত্যুর পর তার জন্য এমন একটি জায়গা খুঁজতে শুরু করেন, যেখানে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে থাকা ও প্রয়োজনীয় যত্ন পাওয়া সম্ভব।   এই খোঁজ সহজ ছিল না। জিওন দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে প্রায় ১ হাজার আবাসিক ও সেবাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অনেক জায়গা নিজেও ঘুরে দেখেন। কিন্তু গুরুতর প্রতিবন্ধকতা, প্রয়োজনীয় কর্মী ও যত্নের সীমাবদ্ধতার কারণে তার ছেলেকে গ্রহণ করতে রাজি হয়নি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। কোথাও ভর্তি হওয়ার পরও পরে তাকে বের হয়ে আসতে হয়েছে।   তবু থামেননি জিওন। নিজের অভিজ্ঞতা ও ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াইয়ের গল্প তিনি অনলাইন লেখালেখির প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরে তার গল্প বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উঠে আসে। প্রকাশিত হয় তার লেখা বই ‘হ্যালো, পিটার প্যান’। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থনও আসে; প্রায় ২ হাজারটি সমর্থনমূলক মন্তব্যের পাশাপাশি প্রায় ৮ কোটি কোরিয়ান ওন অনুদান দেওয়া হয় বলে ইয়নহাপ জানিয়েছে।   শেষ পর্যন্ত জেওনের জন্য ৩৬৫ দিন যত্ন নেওয়ার সুবিধা থাকা একটি কমিউনিটি আবাসনের ব্যবস্থা হয়। গুরুতর বিকাশগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তৈরি ওই আবাসনেই জেওন থাকতে শুরু করেন। ছেলের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত হওয়ার পর জিওনের নিজের চিকিৎসাজীবনও শেষের দিকে এগিয়ে যায়।   জিওনকে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে প্রায় ছয় মাসের আয়ুর কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি সেই সময়ের চেয়ে প্রায় এক বছর বেশি বেঁচে ছিলেন। ২০২৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান বলে ইয়নহাপ জানিয়েছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তিনি শুধু নিজের ছেলের কথা ভাবেননি; গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত অন্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি কল্যাণ ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।   তার এই গল্প এখন দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর বিকাশগত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একজন বাবা নিজের জীবনের শেষ সময়টুকু ব্যবহার করেছেন এমন একটি নিশ্চয়তা তৈরি করতে, যাতে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে একা হয়ে না পড়ে।   সূত্র: ইয়নহাপ, কোরিয়া হেরাল্ড, চোসুনবিজ, এসবিএস, এমবিসি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:৪২
নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ

নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ চলছে। ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging, Administration for Children’s Services এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হসপিটালিটি খাতেও নতুন চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি চাকরির অনেক পদে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য।    নিউইয়র্ক সিটির Department for the Aging বা NYC Aging-এ Community Coordinator পদে Job Developer নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। পদটির বেতন ৬২ হাজার ৮৬৮ ডলার থেকে ৭২ হাজার ২৯৮ ডলার পর্যন্ত। কর্মস্থল ২ লাফায়েট স্ট্রিট, ম্যানহাটন। সরকারি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।    NYC Aging-এর বর্তমান ক্যারিয়ার পেজেও একাধিক পদে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে Community Coordinator, City Research Scientist II, Principal Administrative Associate III, Administrative Staff Analyst এবং Aging Specialist ধরনের পদ রয়েছে। ফলে যারা সিটি সরকারের চাকরিতে আগ্রহী, তাদের জন্য একাধিক বিভাগে সুযোগ খোলা রয়েছে।    এদিকে নিউইয়র্ক সিটির Administration for Children’s Services বা ACS আজ ১৪ সেপ্টেম্বর একটি সরাসরি Hiring Event আয়োজন করছে। ২ লাফায়েট স্ট্রিটে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আয়োজিত এই ইভেন্টে Case Manager পদে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পদগুলো Division of Youth and Family Justice-এর অধীনে Crossroads বা Horizon Juvenile Detention Facility-তে কাজের জন্য। যোগ্য প্রার্থীদের ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ এবং শর্তসাপেক্ষে চাকরির অফার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।    Case Manager পদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার যোগ্যতা রয়েছে। চার বছরের কলেজ ডিগ্রির সঙ্গে কমিউনিটি ওয়ার্ক, কাউন্সেলিং, সোশ্যাল ওয়ার্ক, যুব উন্নয়ন বা রিহ্যাবিলিটেশন ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পূর্ণকালীন অভিজ্ঞতা থাকলে একটি পথে আবেদন করা যায়। হাইস্কুল ডিপ্লোমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ছয় বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও যোগ্যতার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার সমন্বিত যোগ্যতার পথও রাখা হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে Residency Requirement-ও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে নিয়োগের পর ৯০ দিনের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কিছু নির্দিষ্ট পদ ও কর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে residency requirement কীভাবে প্রযোজ্য, তা দেখে নেওয়া জরুরি।    বেসরকারি খাতেও নিউইয়র্কে নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। হসপিটালিটি খাতে OysterLink-এর বর্তমান তালিকায় নিউইয়র্ক সিটিতে Private Chef-এর ৬২টি চাকরির সুযোগ দেখা যাচ্ছে। এসব পদের মধ্যে কিছু চাকরিতে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বার্ষিক বেতনের সুযোগ রয়েছে। তবে পদ, নিয়োগকর্তা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরন অনুযায়ী বেতন ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে।    বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু সরকারি চাকরিই নয়, রেস্টুরেন্ট, হোটেল, প্রাইভেট হাউসহোল্ড এবং অন্যান্য হসপিটালিটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে OysterLink-এর তালিকায় নিউইয়র্কে Private Chef ছাড়াও Sous Chef, Executive Chef এবং অন্যান্য কুলিনারি পদের বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদে হেলথ ইন্স্যুরেন্স, পেইড টাইম অফ, রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানসহ বিভিন্ন সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।    চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করা। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে City of New York-এর Jobs পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট সিটি এজেন্সির ক্যারিয়ার পেজে যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ ও residency requirement দেখে আবেদন করা উচিত। কারণ চাকরির সংখ্যা, বেতন এবং আবেদন শেষ হওয়ার সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:৩০
মেরিল্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন দিয়ে পেটালো আইসিই
মেরিল্যান্ডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ব্যাটন দিয়ে পেটালো আইসিই, তদন্তের দাবি

মেরিল্যান্ডের ফ্রেডেরিক শহরের টাসকার্স চান্স এলাকায় প্রায় ৪০ ঘণ্টার আইসিই অভিযান ঘিরে বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টদের সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বরের ৩ ও ৪ তারিখে চলা অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়া এবং ব্যাটন ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযানের শেষে কাউকে গ্রেপ্তার না করেই আইসিই এলাকা ছেড়ে যায়।    আইসিই এজেন্টরা ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ফ্রেডেরিকের টাসকার্স চান্স এলাকায় যায়। সংস্থাটির দাবি, একটি গাড়ি থামানোর সময় পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল তারা। এরপর এজেন্টরা প্রায় ৪০ ঘণ্টা ওই এলাকায় অবস্থান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং অনেকে বাড়ি থেকে বের হওয়া বা কাজে যাওয়াও এড়িয়ে চলেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    আইসিইর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটি পর্যবেক্ষকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ডজন মানুষ একটি বাড়ির সামনে হাত ধরে মানববন্ধন তৈরি করে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিক্ষোভকারীরা সহিংস ছিলেন না।    হ্যাগারস্টাউন র‍্যাপিড রেসপন্সের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিইর গাড়ি ফুটপাথে উঠে বিক্ষোভকারী ও পর্যবেক্ষকদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এজেন্টদের কয়েকজনকে ব্যাটন ব্যবহার করে লোকজনকে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আহত হন। ফ্রেডেরিক সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সিজার দিয়াজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কেটি ন্যাশ ঘটনাস্থলে ছিলেন। ন্যাশকে একটি আইসিই গাড়ির কাছ থেকে সরে যেতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।    ঘটনার বিষয়ে সিজার দিয়াজ ও কেটি ন্যাশ দুজনই বিক্ষোভকারীদের আচরণকে শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। মেরিল্যান্ডের ডেলিগেট ক্রিস ফেয়ারও প্রকাশিত ভিডিও দেখে আইসিই এজেন্টদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, অভিযানে কারও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।    এদিকে ফ্রেডেরিক পুলিশের প্রধান কেভিন মেয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ আইসিই এজেন্টদের কাছে ওই বাড়িতে প্রবেশের জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না জানতে চেয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেডারেল এজেন্টরা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওয়ারেন্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী সাধারণভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বাড়িতে অযৌক্তিক তল্লাশি ও প্রবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে ফেডারেল ওয়ারেন্ট, প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট, বাড়ির মালিকের সম্মতি এবং জরুরি পরিস্থিতির মতো বিষয় অনুযায়ী আইনি অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। ফলে টাসকার্স চান্সের নির্দিষ্ট বাড়িতে আইসিইর প্রবেশের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ঘটনার পর মেরিল্যান্ডের একাধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ফ্রেডেরিকের স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসিইর ব্যবহৃত শক্তির বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মেরিল্যান্ড অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেয়নি।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রায় দুই দিন ধরে চলা এই অভিযানের পরও লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আইসিই কাউকে গ্রেপ্তার না করেই এলাকা ছেড়ে যায়। ফলে অভিযানের উদ্দেশ্য, বাড়িতে প্রবেশের আইনগত ভিত্তি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:১৪
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী
এআই চাকরি কেড়ে নিতে পারে, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়েতে রিজেক্ট করলেন নারী

ভারতে এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এক নারী, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির চাকরি কেড়ে নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ম্যাচমেকার ও ডেটিং কোচ ওএন্দ্রিলা কাপুরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও ঘিরে ঘটনাটি আলোচনায় এসেছে। কাপুরের দাবি, ওই নারী তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে এআইয়ের কারণে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। বিষয়টি ভারতের বিয়ের বাজারে পেশা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   কাপুর জানান, ভারতীয় ম্যাচমেকিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা পছন্দের পাত্রদের তালিকায় ওপরের দিকে ছিলেন। ভালো বেতন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ বা ভিসার সম্ভাবনার কারণে অনেক পরিবার এই পেশার পাত্রদের বাড়তি গুরুত্ব দিত। কিন্তু প্রযুক্তি খাতে একের পর এক ছাঁটাই এবং এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের খবরের মধ্যে কিছু মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এবার সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ হিসেবে ওই নারীর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।   কাপুরের ৫ সেপ্টেম্বরের পোস্টে বলা হয়, ওই নারী তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করবেন না, কারণ এআই তার চাকরি নিয়ে নিতে পারে। কাপুর বলেন, ম্যাচমেকার হিসেবে তিনি নানা ধরনের পছন্দ ও শর্ত শুনেছেন, তবে এই কারণটি তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। তার প্রশ্ন, এআইয়ের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে আসলে কোন পেশা পুরোপুরি নিরাপদ?   কাপুরের মতে, এআইয়ের প্রভাব এখন শুধু প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। ফাইন্যান্স, ডিজাইন, কনসাল্টিং, আইন, হেলথকেয়ারসহ বিভিন্ন পেশায় প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শুধু বর্তমান পেশার নাম দেখে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা বিচার করলে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তার বক্তব্য, একজন মানুষকে বিয়ের ক্ষেত্রে আগামী ৪০ বছরের জন্য একটি নির্দিষ্ট চাকরি বেছে নেওয়া হচ্ছে না, বরং এমন একজন সঙ্গী বেছে নেওয়া হচ্ছে, যিনি সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন।   কাপুর আরও বলেন, চাকরির পদবি বা পেশা সময়ের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। কোনো কোম্পানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, কোনো শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে, আবার নতুন প্রযুক্তির কারণে কাজের ধরনও পাল্টে যেতে পারে। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু পেশার স্থায়িত্বকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখলে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ভুল নিরাপত্তাবোধ তৈরি হতে পারে। তার মতে, কঠোর পরিশ্রম, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা, আর্থিক দায়িত্বশীলতা এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা একজন জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   কাপুরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ওই নারীর উদ্বেগ পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, একটি নির্দিষ্ট পেশাকে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যৎ অনিরাপদ ধরে নিয়ে পুরো পেশার মানুষকে বিয়ের জন্য অযোগ্য ভাবা ঠিক নয়। আলোচনায় উঠে এসেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন যখন প্রায় সব খাতেই প্রভাব ফেলছে, তখন জীবনসঙ্গী নির্বাচনে বর্তমান চাকরির পাশাপাশি ব্যক্তির দক্ষতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক দায়িত্বশীলতাও বিবেচনা করা উচিত।   তবে ঘটনাটি কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা বড় পরিসরের জরিপের ফল নয়। এটি কাপুরের সঙ্গে কথা বলা এক নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বর্ণনা, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এআই ভবিষ্যতে বিভিন্ন পেশার কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চললেও এই একটি ঘটনার ভিত্তিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির নিরাপত্তা সম্পর্কে কোনো সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৪:৪
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী
নেটওয়ার্ক ঠিকমতো না পাওয়ায় টেকনিশিয়ানকে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী

ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলার হারদৌলি গ্রামে দীর্ঘদিনের ৫জি নেটওয়ার্ক সমস্যার জেরে এক টেলিকম টেকনিশিয়ানকে মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় টেকনিশিয়ান আদিত্য ভান সিংকে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেটওয়ার্ক সমস্যার অভিযোগ দেখতে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সিং। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এবং ৫জি সংযোগের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। একপর্যায়ে তাকে টাওয়ারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় প্রায় দুই বছর ধরে মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা চলছে। সেখানে একটি বেসরকারি টেলিকম টাওয়ার স্থাপিত থাকলেও ৫জি সেবা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও নেটওয়ার্ক কাজ করত না বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে ফোন কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছিলেন বাসিন্দারা।    পুলিশ জানিয়েছে, বাসিন্দাদের একটি অংশ ৫জি প্যাকেজের জন্য অর্থ দিলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি ছিল, টেলিকম কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত টেকনিশিয়ানকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য সিংকে ছেড়ে দেওয়া হয়।    পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, সিং প্রায় তিন মাস আগে ওই টেলিকম কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই টাওয়ারে সেটিই ছিল তার প্রথম সফর। স্থানীয়দের দাবি, এর আগে কয়েক মাস ধরে সেখানে কোম্পানির কোনো কর্মী আসেননি। ফতেহপুরের পুলিশ সুপার অভিমন্যু মাঙ্গলিকের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই স্থানীয়রা তাকে আটকে রেখেছিলেন।    ঘটনার পর সিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে। ঘটনাস্থলে থাকা সাতজনকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের মধ্যে ছয়জনকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:২৪
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প

চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্রুতগতিতে এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সতর্কতার মধ্যেই তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা কম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে হবে।    আয়ারল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু গার্ডরেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে প্রযুক্তিটির দ্রুত বিকাশ ধীর করার পক্ষে তিনি অবস্থান নেননি। বরং এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরির জন্য কিছু ‘নেতিবাচক শক্তিকে’ দায়ী করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ জয়ী হবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতরেই নতুন উদ্বেগ তৈরির সময়। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও অ্যামোডেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রযুক্তির সক্ষমতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে। তার এই অবস্থানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছেন এক্সএআইয়ের ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এআই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধরে রাখার বিষয়টিকেও তিনি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিসও দ্রুত এআই উন্নয়নের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এআই নিয়ে উদ্বেগ শুধু নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে কৃষিজমি, পানি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে চাকরির ধরন বদলে যাওয়া বা কিছু কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এআইয়ের নিরাপত্তা, শিশুদের ওপর প্রভাব এবং সম্ভাব্য চাকরি হারানোর বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।    বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যদি পরস্পরকে টেক্কা দিতে গিয়ে এআই উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে থাকে, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সক্ষমতার ব্যবধান তৈরি হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দুই দেশ একই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকলে ঝুঁকিও বাড়তে পারে।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এআই নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি, সাইবার হামলা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনা এআই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রযুক্তি অনুকরণের অভিযোগ তুলেছে, যা দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব ধরে রাখা যায়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:১০
বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও  ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি
বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি, স্মরণানুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলেন তিনি

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার নিহতের নাম পাঠ শেষ হওয়া পর্যন্ত গ্রাউন্ড জিরোতে অবস্থান করেছেন। অনুষ্ঠানটিতে তার উপস্থিতি ঠেকাতে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষরসংবলিত একটি পিটিশন এবং সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানিসহ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার আপত্তি সত্ত্বেও তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।    ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়ালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরা ২০০১ সালের হামলায় নিহতদের নাম পাঠ করেন। মামদানির উপস্থিতি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও, তার কার্যালয় আগেই জানিয়েছিল যে তিনি নাম পাঠ শেষ হওয়া পর্যন্ত অনুষ্ঠানে থাকবেন। পরে তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো নাম পাঠের পরও সেখানে অবস্থান করেন।    অনুষ্ঠানের আগে মামদানিকে গ্রাউন্ড জিরোতে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। ৮ সেপ্টেম্বর একটি অনলাইন পিটিশনে ১ লাখের বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে। পিটিশনটি ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো কয়েকজনের পক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছিল। সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র রুডি জুলিয়ানি এবং সাবেক গভর্নর জর্জ পাটাকিও মামদানির অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।    এর মধ্যেই অনুষ্ঠানে মামদানি ও কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজকে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে হাসতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ৯/১১-এর স্মরণানুষ্ঠানে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ ওঠে। তবে ওই মুহূর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে পরে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।   সাবেক মেয়র রুডি জুলিয়ানির সাবেক নিরাপত্তা সহযোগী মাইকেল রাগুসা জানান, তিনি মামদানি ও ওকাসিও-কর্টেজের কাছেই ছিলেন। তার দাবি, ক্যামেরায় ধরা পড়া মুহূর্তটি আসলে ওকাসিও-কর্টেজের মামদানিকে অভিবাদন জানানোর সময়ের দৃশ্য। রাগুসা বলেন, অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আরও অনেক রাজনীতিককে হাসতে ও কথা বলতে দেখা যাচ্ছিল।    মামদানির পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অবস্থান করাও বিতর্কটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে। কংগ্রেসওম্যান ওকাসিও-কর্টেজও অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন। মামদানি পরে ৯/১১-এর নিহতদের পরিবার ও ফার্স্ট রেসপন্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্মরণানুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদের প্রতি সম্মান জানানো।    অন্যদিকে, গভর্নর ক্যাথি হকুল নাম পাঠ শেষ হওয়ার আগেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে সিএনএনের উলফ ব্লিটজারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। তার কার্যালয় জানায়, তার অনুষ্ঠানসূচি অন্য কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথির সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।    ৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকীর এই স্মরণানুষ্ঠানে প্রায় ৩ হাজার নিহতের নাম পাঠ করা হয়। এ বছর প্রথমবারের মতো ৯/১১-পরবর্তী বিষাক্ত ধুলার সংস্পর্শে এসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণেও আলাদা এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করা হয়।    অনুষ্ঠানের আগে মামদানি ৯/১১ নিয়ে একাধিক সরকারি কার্যক্রমেও অংশ নেন। ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ১১ সেপ্টেম্বরকে নিউইয়র্ক সিটিতে বার্ষিক স্মরণ ও সেবার দিন হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য একটি এক্সিকিউটিভ অর্ডারে স্বাক্ষর করেন। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি এনওয়াইপিডির ৯/১১ স্মারক দেয়াল উদ্বোধনেও অংশ নেন এবং হামলার পর উদ্ধার ও পুনর্গঠন কাজে প্রাণ হারানো পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করেন।    স্মরণানুষ্ঠানে মামদানি ও জুলিয়ানিরও মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়। দুই মেয়র করমর্দন করেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। পরে মামদানি বলেন, ওই দিনের মূল বিষয় ছিল ৯/১১-এর পরিবার, ফার্স্ট রেসপন্ডার এবং নিহতদের স্মরণ করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ৩:৩
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জড়িত একটি বড় কোকেন পাচার চক্রের অভিযোগ সামনে আসার পর কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবহারের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুইটি অফ ক্যাম্পাস ফ্র্যাটারনিটি হাউসকে কেন্দ্র করে কোকেন কেনাবেচার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ওই সময় পেন স্টেটের শিক্ষার্থী ছিলেন।    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ডেল্টা আপসিলন ও সিগমা চি ফ্র্যাটারনিটি হাউসে কোকেন এনে তা ভাগ করে প্যাকেট করা হতো। পরে মূলত পেন স্টেটের শিক্ষার্থীদের কাছেই এসব মাদক বিক্রি করা হতো। তদন্তে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই মূল সরবরাহকারী ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কে নিয়মিত যাতায়াত করে বড় পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করতেন।    পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডের কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন ফ্র্যাটারনিটির নতুন সদস্য বা pledges ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তাদের কেউ কেউ ফ্র্যাটারনিটিতে অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে কোকেন কাটিং ও প্যাকেজিংয়ের কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং সব আসামিই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন, যতক্ষণ না আদালতে তাদের দোষ প্রমাণিত হয়।    মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অ্যাগোস্টিনো অ্যাবাতিয়েলোকে তদন্তকারীরা চক্রটির প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ ও ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আগস্টে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তার প্রাথমিক কোর্ট হিয়ারিংয়ে জামিন নাকচ করা হয়। পরে সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো কাউন্টি কোর্টে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।    তদন্তে উঠে এসেছে আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্তের নাম, থমাস রবিনসন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গোপন তথ্যদাতার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ডেল্টা আপসিলন হাউস থেকে কোকেন বিক্রি করতেন এবং বিভিন্ন লেনদেনে পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।    এই মামলায় রবিনসনের বাবার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি মাদক ও নগদ অর্থ থাকা একটি সেফ লুকিয়ে প্রমাণ গোপন এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    পেন স্টেটের ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক পাচারের বৃহত্তর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে মাদক পাচারের পৃথক তদন্তে শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে পেন স্টেটের এই মামলাকে কেন্দ্র করে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের হার বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো জাতীয় পর্যায়ের প্রমাণ এই তদন্ত একাই দেয় না।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অবশ্য সতর্ক করছেন, কলেজ বয়সী তরুণদের মধ্যে কোকেনের পাশাপাশি অন্যান্য স্টিমুল্যান্ট ও ভেজাল মাদকের ব্যবহারও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অবৈধ মাদকে অন্য ক্ষতিকর উপাদান মিশে থাকার ঝুঁকি থাকায় ব্যবহারকারীরা কী গ্রহণ করছেন, তা অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানেন না।   পেন স্টেটের ঘটনাটি এখনো চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে কয়েকজন অভিযুক্তের মামলা কাউন্টি কোর্টে পাঠানো হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের প্রাথমিক শুনানি অক্টোবরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। ফলে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর পূর্ণ সত্যতা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ২:৪৮
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।   বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।   স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১:৫
৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন
৪.০ জিপিএতে ১২৬ কলেজে আবেদন, সবগুলোতেই চান্স; বৃত্তি ৯০ লাখ ডলারের বেশি

ইন্ডিয়ানার গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী আরাসেলি কুয়েভাস ১২৬টি কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি পেয়েছেন মোট ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব। ৪.০ জিপিএ নিয়ে নিজের গ্র্যাজুয়েটিং ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এই শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য প্রায় ৩০টি রচনা লিখেছেন।    ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, কুয়েভাস গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের সিনিয়র শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজে আবেদনের সময় তিনি নিজেকে আরও চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন এবং যত বেশি সম্ভব কলেজে ভর্তির সুযোগ তৈরি করতে আবেদন করেন। তার সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ১২৬টি কলেজের গ্রহণযোগ্যতায় পরিণত হয়।    কুয়েভাসের একাডেমিক ফলও ছিল অসাধারণ। তার জিপিএ ছিল ৪.০ এবং তিনি নিজের ক্লাসে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। এতগুলো কলেজে আবেদন করার পাশাপাশি তাকে প্রায় ৩০টি রচনা লিখতে হয়েছে। প্রতিটি আবেদনের শর্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রচনা প্রস্তুত করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আবেদনের কৌশল হিসেবেও কুয়েভাস Common App ব্যবহার করে এমন কলেজগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব কলেজে অ্যাপ্লিকেশন ফি ছিল না অথবা ফি মওকুফের সুযোগ ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করেছেন। এতে বিপুলসংখ্যক কলেজে আবেদন করার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।    তার এই সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো বৃত্তির প্রস্তাব। বিভিন্ন কলেজ থেকে পাওয়া অফারের মোট মূল্য ৯ মিলিয়ন ডলার। কুয়েভাসের পরিবারের জন্য এই বৃত্তি বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারে। তার মা প্যাট্রিসিয়া গনজালেজও জানিয়েছেন, পরিবারের আরেক সন্তান ইতোমধ্যে কলেজে পড়ায় এই বৃত্তির সুযোগ ভবিষ্যৎ শিক্ষার খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।    কুয়েভাস এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীদের কলেজে যাওয়ার জন্য শুরু থেকেই প্রস্তুত করা হয়। গ্যারি লাইটহাউস কলেজ প্রিপারেটরি ক্যাম্পাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৯ থেকে ১২ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের কলেজ প্রস্তুতির পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ ক্রেডিট অর্জনের সুযোগও দেয় এবং তাদের প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়।    এখন কুয়েভাসের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোন কলেজে ভর্তি হবেন। তিনি ইন্ডিয়ানার কোনো কলেজে থেকেই উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার দিকে ঝুঁকেছিলেন এবং সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনার পরিকল্পনা করেছিলেন। ২০২৬ সালের মে মাসের কলেজ সিদ্ধান্তের সময়সীমার আগে তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছিল।    ১২৬টি কলেজে ভর্তির সুযোগ এবং ৯ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তির প্রস্তাব তার সামনে উচ্চশিক্ষার একাধিক পথ খুলে দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একটি কলেজই বেছে নিতে হবে তাকে। সেই সিদ্ধান্তের চেয়েও বড় বিষয়, একাডেমিক ফল, পরিকল্পিত আবেদন এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির মাধ্যমে ইন্ডিয়ানার এই শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে কলেজ ভর্তির প্রতিযোগিতায় ব্যতিক্রমী একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ০:৫৮