সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল,
৩ মাস ধরে ধর্ষণের শিকার, মাদরাসাছাত্রের কল, "মা আমাকে নিয়ে যাও"

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে প্রায় তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।   স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মারকাজুল উম্মাহ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান। প্রায় তিন বছর আগে সেখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আল আমিন।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকার ১০ বছর বয়সী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়ে আবাসিকভাবে থাকতে শুরু করে। পরিবারের অভিযোগ, এরপর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করেন শিক্ষক আল আমিন।   পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর শিশুটির পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পড়াসহ শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।   বাড়িতে যাওয়ার পর এক সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি প্রথমে নির্যাতনের কথা পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি।   পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক আল আমিন ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করে।   অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।  সূত্র: বার্তা বাজার

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৯:৪১
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৫০ ফুট সোভিয়েত যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে জাপানের ক্ষোভ

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে নির্মিত একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গ্রানাইটের তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে দেখা যায়, এক সোভিয়েত সেনা তার রাইফেলের বাট দিয়ে একটি সীমান্তচিহ্ন ভেঙে ফেলছেন। ওই সীমান্তচিহ্নে জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্যান্থেমাম বা সম্রাটের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্কে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এতে যে সীমান্তচিহ্ন দেখানো হয়েছে, সেটি প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপটির দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো সাখালিন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাশিয়া স্মৃতিস্তম্ভটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দেখছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাপানের ক্রিস্যান্থেমাম প্রতীক ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে এমন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, টোকিও কূটনৈতিক চ্যানেলে রাশিয়ার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা চাপ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া অবশ্য জাপানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বিষয়টি মস্কো ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপানের উচিত এ নিয়ে ‘চিরকাল অনুতপ্ত থাকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির আরেকটি প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক পল রিচার্ডসন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় ‘আক্রমণাত্মক ও বিজয়োল্লাসের’ আবহ রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করার ক্ষেত্রে মস্কোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টোকিও মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে জাপান ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে পারে। দেশটির কিছু রক্ষণশীল মহল ইতোমধ্যে কিয়েভকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টিও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলেও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৯:৩৯
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে, সমর্থকদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মিডটার্ম কনভেনশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট না দিলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। ১০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের ডালাসে আমেরিকান এয়ারলাইন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের শেষ দিনে ট্রাম্পের বক্তব্যে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।    ট্রাম্প সমর্থকদের হাত তুলে নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলেন। এরপর রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ভোট না দিলে কী হবে, তা তারা জানেন এবং ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে।    রিপাবলিকান পার্টির এই নজিরবিহীন মিডটার্ম কনভেনশন ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের বড় জাতীয় রাজনৈতিক কনভেনশন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরেই অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের এমন জাতীয় কনভেনশন আয়োজন তাই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের জনপ্রিয় সমর্থকগোষ্ঠীকে সক্রিয় করা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা।   সমাপনী বক্তব্যে ট্রাম্প শুধু ভোটের আহ্বানেই থামেননি। অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি আবারও প্রতিশ্রুতি দেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের একটি চেক দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে বিতরণ করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি।    স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও নতুন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বড় হেলথ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থ সরাসরি আমেরিকানদের দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের হেলথ কেয়ার খরচ মেটাতে পারেন। পাশাপাশি ট্যাক্স কাট স্থায়ী করা এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর প্রচেষ্টার কথাও বলেন তিনি।    ডালাসের এই কনভেনশনকে ঘিরে রিপাবলিকানদের মূল লক্ষ্য ছিল নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের আরও সক্রিয় করা। তবে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে পুরো নির্বাচনী কৌশল সাজানো নিয়ে দলের ভেতরেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে আনতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বতন্ত্র ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা নির্বাচনী ফলাফলে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই ডালাসের কনভেনশনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে দলীয় ভোটারদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নিজের প্রেসিডেন্সিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে একটি গণভোটের রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৯:১৮
ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর। তবে দুর্ঘটনার কারণে বিয়ে পিছিয়ে না দিয়ে হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বর-কনে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকেলে। কাপরি ডিরামাস ফ্লোরিডার আলটামন্টে স্প্রিংসে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। বিয়ের ভেন্যুতে পৌঁছানোর মাত্র ১৫ মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে তার গাড়ি থামানো ছিল। এ সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ি মিডিয়ান অতিক্রম করে তার গাড়িকে সামনাসামনি ধাক্কা দেয় বলে জানান কনের ভাই মরিস ম্যাথিস। দুর্ঘটনায় ডিরামাসের দুই হাত ও চোয়াল ভেঙে যায়। তার পাঁজরেও আঘাত লাগে এবং হাঁটুতে গুরুতর ক্ষত হয়। পরে তাকে অরল্যান্ডো রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে কনে টায়াসিয়া থমাস জানতে পারেন যে তার হবু স্বামী দুর্ঘটনায় পড়েছেন। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসার পর ডিরামাসের অবস্থা স্থিতিশীল হলে তারা বিয়ে স্থগিত না করার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা। ডিরামাসের দাদা বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। পরে তিনি দুজনকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং পরিবারের সদস্যরা করতালি ও উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানান। কনে থমাস বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আহত হবু স্বামীকে দেখে তিনি গভীরভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ডিরামাসকে হারানো। অন্যদিকে ডিরামাস বলেন, দুর্ঘটনার পর তিনি এতটাই বিভ্রান্ত ছিলেন যে তখন কী ঘটছে, তা বুঝতেই পারছিলেন না। হাসপাতাল থেকে বুধবার বিকেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তাদের সামনে এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জ। হানিমুনে যাওয়ার পরিবর্তে তাদের চিকিৎসা ব্যয়, আয় হারানোর ক্ষতি, দুর্ঘটনায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে হচ্ছে। এসব ব্যয়ে সহায়তার জন্য কনের ভাই একটি GoFundMe তহবিল চালু করেছেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার জমা পড়েছে।    

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৯:১
চট্টগ্রামের খুলশী-জালালাবাদে যৌথ অভিযানে আটক বিদেশি নাগরিকরা
চট্টগ্রামে গোপন আস্তানায় অভিযান, চীনা-পাকিস্তানিসহ ৬৩ বিদেশি আটক

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে চীনা ও পাকিস্তানিসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানে ৭০টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন ও অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কথিত জুয়া কার্যক্রমের সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব ও অনলাইন মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৫৩
ছেলে ইঝান মির্জা মালিকের সঙ্গে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক
শোয়েব মালিকের একান্ত ইচ্ছা, ছেলে ইঝান বড় হয়ে কোরআনের হাফেজ হবে

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিক জানিয়েছেন, ছেলে ইঝান মির্জা মালিককে ভবিষ্যতে কোরআনের হাফেজ হিসেবে দেখতে চান তিনি। তবে ইঝানের পেশা বা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো ধরনের চাপ দিতে চান না শোয়েব। বরং নিজের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী জীবনের পথ বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ছেলেকে দিতে চান তিনি। শোয়েবের কাছে সন্তানের সাফল্য শুধু পেশাগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভালো চরিত্র, সততা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মতো বিষয়গুলোকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাই ইঝান ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হবে কি না, সেটিও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত হিসেবে চাপিয়ে দিতে চান না। ইঝান শোয়েব মালিক ও ভারতের সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার একমাত্র সন্তান। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাঁদের ছেলে জন্ম নেয়। ২০১০ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে পরবর্তী সময়ে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিচ্ছেদের পরও ছেলের জীবনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন শোয়েব। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, দুবাইয়ে থাকলে ইঝানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান। স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও নিয়ে আসার পাশাপাশি ছেলের সঙ্গে পার্কে ফুটবলও খেলেন তিনি। ইঝানের খেলাধুলার প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। ২০২৩ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের একটি প্রতিবন্ধকতা দৌড়ের ভিডিও প্রকাশ করে তার শারীরিক দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন শোয়েব। তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পেশাগত স্বপ্ন চাপিয়ে দিতে চান না তিনি। শোয়েবের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ইঝান যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে, মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপন করে এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভবিষ্যতের পথ বেছে নিতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৪০
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ টাকার বাজেট, ৩৫-৪০ কোটি টাকার কাজের দাবি ডাকসুর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ছাত্রশিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম ও এসএম ফরহাদ নেতৃত্বাধীন ডাকসুর মেয়াদ। এক বছরের দায়িত্ব পালনের পর তাদের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। ডাকসু নেতাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে সীমিত অর্থ বরাদ্দ পেলেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পন্সরের সহযোগিতায় তারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তাদের হিসাবে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ৩৫ লাখ টাকার তুলনায় এই কাজের পরিমাণ প্রায় ১০০ গুণ বেশি। নির্বাচনের ফলাফল: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নির্বাচিতরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন ১৪ সেপ্টেম্বর। আবাসন ও অবকাঠামো: দায়িত্ব নেওয়ার পর আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, প্রযুক্তি ও ক্যারিয়ার খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় ডাকসু। আবাসিক হলের রিডিংরুমে এসি স্থাপন, কম্পিউটার ল্যাব, কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি, ছাত্রীদের জিমনেসিয়াম এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বড় প্রকল্প: ডাকসুর দাবি, পাঁচটি হল নির্মাণে ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে সম্মতি আদায় এবং চীনের সহযোগিতায় ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট নতুন ছাত্রী হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আবাসিক হলে প্রায় ৬ কোটি টাকার এসি স্থাপনের কাজও চলছে। বিভিন্ন খাতে ব্যয়: কেন্দ্রীয় মাঠের উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে ৩ কোটি এবং মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের উন্নয়নে ৬৫ লাখ এবং হলগুলোর কম্পিউটার ও অন্যান্য ল্যাব স্থাপনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবহন: শিক্ষার্থীদের পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে বলে দাবি ডাকসুর। নতুন রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা চালুর কথাও জানিয়েছে তারা। মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৩ কোটি এবং তুরস্কের সহযোগিতায় আরও প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সেবা: ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্প, একাধিক মেডিকেল ক্যাম্পে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা, হলগুলোতে ছারপোকা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৭০-এর বেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়ন: বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানে জব ফেয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্যোগ: কলাভবনে ব্রেস্টফিডিং কর্নার, ছাত্রীদের কমনরুমে এসি, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি সংস্কার, প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করেছে ডাকসু। শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া: ডাকসুর কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার, হলের সিটের ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন ও ছাত্রীদের জিমনেসিয়ামের মতো উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তবে হলের খাবার, আবাসন ও পরিবহনসহ কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা। সমালোচনাও আছে: ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ই-লাইব্রেরি চালু, লিফট সংস্কার, জব ফেয়ার, বিজনেস কেস কম্পিটিশন, সেমিনার এবং ক্লাসরুম সংকট সমাধানের মতো বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও পরিবহন, কমনরুম ও জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন: ডাকসুর কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকার কথা বলা হলেও কয়েকজন নেতাকে পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনের দলীয় প্রচারে দেখা গেছে। ১৯৭১-সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ভিপির দাবি: ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া অর্থের তুলনায় তারা প্রায় ১০০ গুণ বেশি কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে ২৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ টাকার বিপরীতে ডাকসু প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ করেছে বলে তাদের হিসাব। দায়িত্ব শেষের হিসাব: ডাকসু নেতারা জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে পুরো বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। সেখানে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, ইশতেহারের বাইরে কী কী কাজ করা হয়েছে এবং পুরো বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হবে। জিএসের বক্তব্য: ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, আগের ডাকসুগুলোর মতো রাজনৈতিক আধিপত্যের কেন্দ্র না বানিয়ে বর্তমান ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ছাত্র সংসদ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন মত ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ডাকসুকে কোনো দলের কার্যালয়ে পরিণত না করার কথাও জানান তিনি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৩১
গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বাড়ি কেনার সেরা ৫ শহর
গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও গৃহঋণের খরচ বাড়লেও কিছু কলেজ শহরে তরুণ স্নাতক ও নতুন পেশাজীবীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ২৩১টি আবাসন বাজারের মধ্যে ডেট্রয়েট, জ্যাকসন, পাইন ব্লাফ, ম্যাকম্ব ও পিওরিয়াকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের অর্থনীতিবিদেরা ২০২৫ সালে এসব এলাকার বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেন। যেসব বাজারে ১৫টির কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ থাকা ২৩১টি বাজারকে বাড়ির দামের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়। তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের কলেজ শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ২০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ১২ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় জমি ও নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ধীর এবং আগে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় আয়ের সঙ্গে বাড়ির দামের সামঞ্জস্য তুলনামূলক ভালো। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই শহরটি তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় আবাসন বাজার। ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মার্সি শহরটির শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ডেট্রয়েট। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পর ২০১৩ সালে শহরটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। এরপর ডাউনটাউন পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন। ২০২৫ সালে শহরটির বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কম। জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি শহরের একমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও ব্যবসায়িক খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শহরটির সংস্কৃতি, সংগীত ও শিল্পচর্চাও বাসিন্দাদের আকর্ষণ করে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরকানসাসের পাইন ব্লাফ। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম। ২০২৫ সালে সেখানে বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ এবং তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাড়ির দাম এখনো জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় কম। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ম্যাকম্ব। পিওরিয়া থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট এই শহরের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ম্যাকম্বে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, খেলাধুলা এবং ছোট শহরের জীবনযাত্রা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের পিওরিয়া। ব্র্যাডলি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শহরটিতে তরুণদের উপস্থিতি ও শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশ রয়েছে। ক্যাফে, ছোট দোকান, সংগীতের আয়োজন এবং হাঁটার উপযোগী বিভিন্ন এলাকা শহরটিকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচও এর অন্যতম সুবিধা। ২০২৫ সালে পিওরিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ ডলার। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, পিওরিয়ায় স্থানীয় কলেজ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের নিয়োগদাতাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার আগেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষে একই এলাকায় চাকরি নিয়ে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন বাজারে বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রাথমিক বাড়ির সরবরাহ কম। বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদের খরচ অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের কলেজ শহরগুলো তরুণ স্নাতক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পরিবার, সাবেক শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী কলেজ শহরগুলোর সুবিধা শুধু কম দামের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় চাকরির বাজার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে থাকায় এসব শহর নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসেরও সুযোগ তৈরি করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:১৬
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকায় দেশটির আবাসন খাতে ঋণের ব্যয়ও বেড়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদহারের গৃহঋণের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ সুদহার ২০২৫ সালের জুনের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের গৃহঋণের হার ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের দীর্ঘমেয়াদি সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা সাধারণত গৃহঋণের সুদহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চ সুদহারের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারে দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনের পর এটি সবচেয়ে কম বার্ষিক বিক্রির হার। তবে বাড়ির দাম কমেনি। আগস্টে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ৩৮ মাসে বাড়ির দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ১৬ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। NAR-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন বলেন, সাধারণত গৃহঋণের সুদহার ও বাড়ি বিক্রির মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি রয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ সুদহারের মধ্যেও মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ায় বাড়ি কেনার চাহিদা কিছুটা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগস্টে মজুরি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে এবং বছরের শুরু থেকে ৬ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাজারে বাড়ির মজুত বাড়ায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান বিক্রির গতিতে বাজারে থাকা বাড়ির মজুত শেষ হতে ৪ দশমিক ৯ মাস লাগবে, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক বাজারে বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি গৃহঋণের সুদহারকে আরও চাপের মধ্যে রেখেছে। সামনে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও আবাসন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুদহার আরও বাড়লে বাড়ি কেনার সক্ষমতা ও চাহিদার ওপর চাপ বাড়তে পারে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:১৪
মৃত্যুর পর ফিরে আসার আশায় ক্রায়োনিক্সে সংরক্ষিত হচ্ছে মরদেহ
মৃত্যুর পর ফের জীবিত হওয়ার আশায় ২ লাখ ডলারে অস্ট্রেলিয়ায় হিমায়িত ৭ মরদেহ

মৃত্যুর পর একদিন আবার জীবিত হয়ে ফিরবেন, এই আশায় অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রায়োনিক্স কেন্দ্রে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ করে নিজেদের মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন কয়েকজন। নিউ সাউথ ওয়েলসের হলব্রুকের একটি শেডে বর্তমানে সাতজনের মরদেহ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষিত রয়েছে। ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে মৃত্যুর পর শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে বিশেষ রাসায়নিকের মাধ্যমে কোষে বরফ জমে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর মরদেহগুলো তরল নাইট্রোজেনভর্তি বিশেষ ধাতব পাত্রে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। হলব্রুকে এই সেবা পরিচালনা করছে সাউদার্ন ক্রায়োনিক্স। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পিটার সলাকিডেস জানিয়েছেন, একজনকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। সংরক্ষণ চালু রাখতে নিয়মিত তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ করাও প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ফিলিপ রোডস নিজেও মৃত্যুর পর সেখানে সংরক্ষিত হতে চান। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমানে অসম্ভব মনে হওয়া কাজ সম্ভব হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান মৃত মানুষের পুরো শরীরকে এমনভাবে সংরক্ষণ করে পরে জীবিত করে তোলার প্রযুক্তি এখনো তৈরি করতে পারেনি। কোষ, টিস্যু বা কিছু জৈব উপাদান সংরক্ষণে ক্রায়োপ্রিজারভেশন ব্যবহৃত হলেও পুরো মানবদেহ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি জটিল। মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রায়োপ্রিজারভেশন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুরো শরীরে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক সমানভাবে পৌঁছানো এবং পরবর্তী সময়ে কোষ ও অঙ্গের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। মৃত্যুর কারণ দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের গঠন ও ব্যক্তির স্মৃতি বা চেতনা অক্ষত রাখা যাবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ক্রায়োনিক্সের সমর্থকেরা অবশ্য মনে করেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আজকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কখনো কোনো ক্রায়োনিক্স রোগীকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়েছে, এমন প্রমাণ এখনো নেই। হলব্রুকের কেন্দ্রটি ২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর সেখানে ধীরে ধীরে সংরক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে সাতজনের মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন প্রযুক্তির ওপর, যা এখনো পরীক্ষামূলক ধারণার পর্যায়েই রয়েছে। মৃত্যুর পর শরীর সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে জীবনে ফেরার এই ধারণা তাই একদিকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের কৌতূহল তৈরি করছে, অন্যদিকে এর বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:৭
কসমেটিক ইনজেকশনের পর মুখে স্থায়ী পরিবর্তনের শিকার মেক্সিকোর অভিনেত্রী লিন মে
কোলাজেনের বদলে মুখে তেল, ভয়াবহ কসমেটিক প্রতারণায় স্থায়ী ক্ষতি মেক্সিকান অভিনেত্রীর

মেক্সিকোর জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ভেদেত্তে লিন মে তরুণ বয়সে সৌন্দর্য ধরে রাখতে মুখে কসমেটিক ইনজেকশন নিয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, এতে গালের হাড় ও চোয়ালের আকৃতি আরও সুন্দর হবে। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, কোলাজেনের বদলে তাঁর মুখে রান্নার তেলসহ বিভিন্ন তেলজাতীয় পদার্থ ইনজেক্ট করা হয়েছিল। এর পরিণতিতে তাঁর মুখে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী ক্ষতি হয়।  লিন মে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে মেক্সিকোর বিনোদন জগতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। নাচ ও অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ভেদেত্তে হিসেবে পরিচিতি পান। সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টায় প্রায় ২৫ বছর বয়সে তিনি মুখে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের দিকে যান বলে পরবর্তী এক সাক্ষাৎকারে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারী তাঁকে আরও সুন্দর দেখানোর আশ্বাস দিয়ে ওই চিকিৎসায় রাজি করান।  প্রথম দিকে বড় কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু কিছু সময় পর মুখের ত্বকে চুলকানি ও অস্বস্তি শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে ত্বকের নিচে শক্ত গুটি তৈরি হতে থাকে এবং মুখের আকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। লিন মে পরে জানতে পারেন, তাঁকে কোলাজেন দেওয়ার কথা বলা হলেও আসলে রান্নার তেল ইনজেক্ট করা হয়েছিল।  সমস্যা কাটাতে তাঁকে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। চিকিৎসকেরা মুখ থেকে তেল ও ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু অপসারণের চেষ্টা করলেও পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসার পরও তাঁর মুখে স্থায়ী পরিবর্তন থেকে যায়।  এই ঘটনার প্রভাব শুধু শারীরিক ছিল না, মানসিকভাবেও গভীরভাবে আঘাত পেয়েছিলেন লিন মে। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিজের চেহারার পরিবর্তন তাঁকে দীর্ঘদিন কষ্ট দিয়েছে এবং এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।  ঘটনাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লিন মে প্রকাশ্যে কথা বলে আসছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তাঁর পুরোনো ও বর্তমান চেহারার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা কসমেটিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে অননুমোদিত বা অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার ঝুঁকিও সামনে এনেছে।  লিন মে এখনো সৌন্দর্যবিষয়ক চিকিৎসা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন। তাঁর নিজের অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা হলো, মুখে কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কসমেটিক প্রক্রিয়া নেওয়ার আগে চিকিৎসক, ব্যবহৃত উপাদান এবং চিকিৎসা পদ্ধতির নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৫২
মাকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জমজ দুই বোন
মাকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত, ১২ বছর পর ছাড়া পেল কুখ্যাত ‘জমজদের’ একজন

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কিশোর বয়সে যমজ বোনের সঙ্গে মিলে মাকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তাসমিয়াহ হোয়াইটহেড কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৩০ বছরের সাজা হলেও প্রায় ১২ বছর পর গত ৫ আগস্ট প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাসমিয়াহ ও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ হোয়াইটহেড ২০১০ সালের ১৩ জানুয়ারি তাঁদের মা জারমেকা ‘নিকি’ হোয়াইটহেডকে হত্যা করেন। রকডেল কাউন্টির বাড়িতে ওই ঘটনার সময় মাকে ৫০ থেকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। এ ঘটনার পর দুই বোনকে ‘টুইস্টেড টুইনস’ নামে ডাকা শুরু হয়। তাসমিয়াহর বয়স এখন ৩৩ বছর। তিনি ‘টাস’ নামে পরিচিত। জর্জিয়ার সংশোধন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজা পান। সমঝোতার আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলা স্বেচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে নামিয়ে আনা হয়। তাঁকে ওই অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর সঙ্গে অপরাধের সময় ছুরি রাখার জন্য আরও পাঁচ বছর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর সাজা দাঁড়ায় ৩০ বছর। তাসমিয়াহ কারাগারে যাওয়ার আগে বিচারপূর্ব আটকসহ মোট ১৬ বছর সাজা ভোগ করেছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি প্যারোলের জন্য যোগ্য ছিলেন। তবে প্যারোল বোর্ড তাঁর মুক্তির অনুমোদন দেওয়ার আগে আরও প্রায় নয় বছর কারাগারে থাকতে হয়। ২০১০ সালের ওই ঘটনার সময় যমজ দুই বোনের বয়স ছিল কিশোরী। তাঁদের মা কিছুদিন আগে তাঁদের আবার নিজের সঙ্গে থাকতে দিয়েছিলেন। এর আগে দুই বোনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় তাঁরা অন্য জায়গায় ছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। ঘটনার দিন স্কুলে যেতে দেরি হওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে দুই বোনের ঝগড়া হয়। পরে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। দুই বোনের দাবি ছিল, তাঁদের মা রান্নার পাত্র দিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা মাকে ধরে ফেলেন এবং মারামারি শুরু হয়। তাসমিয়াহ তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, প্রথমে তিনি একটি পাত্র দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে মাকে আঘাত করেন। জাসমিয়াহর ভাষ্য অনুযায়ী, মারামারির সময় তাঁদের মা তাঁর বুকে কামড় দিয়েছিলেন। এরপর তাসমিয়াহ ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। মাকে গুরুতর আহত করার পর দুই বোন তাঁর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে গিয়ে পানিভর্তি বাথটাবে রাখেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ধারণা করেছিল, বাথটাবে নেওয়ার সময়ও তাঁদের মা জীবিত ছিলেন। এরপর দুই বোন স্কুলে চলে যান। স্কুল থেকে ফিরে তাঁরা পুলিশকে ফোন করেন এবং প্রথমে নিজেদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। পুলিশও শুরুতে তাঁদের হত্যার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিল। তদন্তকারীরা পরে তাঁদের শরীরে থাকা কামড় ও আঁচড়ের চিহ্ন নিয়ে সন্দেহ করেন। দুই বোন এসব চিহ্ন লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তদন্তকারীরা গাড়িতে একটি গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। সেখানে দুই বোনকে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ এবং খুনের অস্ত্র না পাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় বলে তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার প্রায় চার মাস পর দুই বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুরুতে তাঁরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও ২০১৪ সালে দুজনই সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগ স্বীকার করে সাজা নেন। তাসমিয়াহ মুক্তি পেলেও তাঁর যমজ বোন জাসমিয়াহ এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ধরনের সমঝোতায় সাজা পাওয়া জাসমিয়াহ ২০২৮ সালের মে মাসের আগে প্যারোলের জন্য যোগ্য হবেন না। তাসমিয়াহর মুক্তিতে তাঁদের দাদি লিন্ডা হোয়াইটহেড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, একজনকে ৩০ বছরের সাজা দিয়ে এত দ্রুত প্যারোলের সুযোগ দেওয়া হলে নিহত নিকি হোয়াইটহেডের ন্যায়বিচার কোথায়?

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৪৫
ছবি: সংগৃহীত
বিমানে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, ডাক্ট টেপে সিটে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানে সহযাত্রীকে শ্বাসরোধের চেষ্টা, এক নারীকে আঘাত এবং বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে ৬৭ বছর বয়সী এক রিয়েল এস্টেট এজেন্টের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই যাত্রীকে জিপ টাই ও ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটে বেঁধে রাখেন কয়েকজন সহযাত্রী। পরে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করেছে তার প্রতিষ্ঠান। ঘটনাটি ঘটে গত ৩ সেপ্টেম্বর ডালাস-ফোর্ট ওর্থ থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অ্যারিজোনার টাকসনের বাসিন্দা লেইন আর্থার লুন্ডিন। ফ্লাইটে প্রায় দুই ঘণ্টা যাওয়ার পর তিনি হঠাৎ এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে উদ্দেশ করে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এরপর পাশের আসনে থাকা এক যাত্রীর গলা চেপে ধরেন তিনি। তাকে থামাতে এগিয়ে আসা এক নারী যাত্রীকেও আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রিচার্ড ওলেনিক এবং তার সহকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া ওই বিমানে ছিলেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা দুজন হস্তক্ষেপ করেন। মেহিয়া আক্রান্ত যাত্রীকে সরিয়ে নেন এবং ওলেনিক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তবে লুন্ডিন পাল্টা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মেহিয়াকে কামড়ে দেন, যার ফলে তার শরীরে কামড়ের দাগ দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানের কর্মীরা তাদের জিপ টাই ও ডাক্ট টেপ দেন। একপর্যায়ে লুন্ডিনকে সিটের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। তার মুখও টেপ দিয়ে বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মেহিয়া। তবে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবর্তে লুন্ডিনের বুক, হাত, বাহু ও মাথার চারপাশে ডাক্ট টেপ পেঁচিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। রিচার্ড ওলেনিক পরে বলেন, বিমানের ভেতরের পরিস্থিতি মাটির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে পালিয়ে যাওয়ার বা দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। সংঘর্ষের সময় লুন্ডিনের শরীরের আগের আঘাত থেকে বের হওয়া রক্ত ওলেনিকের গায়েও লেগে যায়। তবে পরিস্থিতি নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরে তিনি সন্তুষ্ট বলে জানান এবং ওই ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। ঘটনার কারণে বিমানটি গন্তব্যে যাওয়ার পথে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে জরুরি অবতরণ করে। অবতরণের পর মেরিল্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি পুলিশ লুন্ডিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার নিয়োগদাতা রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান লং রিয়েলটি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তার আচরণ তাদের প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব, সততা, সহমর্মিতা ও অন্যের প্রতি সম্মানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমেরিকান এয়ারলাইন্স দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা বিমানকর্মী ও যাত্রীদের প্রশংসা করেছে। এদিকে এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং অঙ্গরাজ্যভিত্তিক অভিযোগের পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়েও কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৪৫
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রায় ২০ শতাংশ শৈশবে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি
প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন মুসলিমদের ২০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণের আগে অন্য ধর্মে ছিলেন অথবা কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের হার বিশ্বের ১৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি। তাঁদের মধ্যে ১৭ শতাংশ অন্য ধর্মের পরিবারে এবং ৩ শতাংশ কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন।  তবে একই সময়ে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পিউর আগের গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা মোটামুটি সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যার সঙ্গে। ফলে ধর্মান্তর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধিতে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে।  ২০১৭ সালের পিউ জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। তখন ২১ শতাংশ মার্কিন মুসলিম জানিয়েছিলেন, তাঁরা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আগে প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন, ২০ শতাংশ ক্যাথলিক এবং ১৯ শতাংশ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।  যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বরং অভিবাসন ও প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রাখছে। পিউর জনমিতিক বিশ্লেষণে মুসলিমদের তুলনামূলক বেশি জন্মহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসনের ধারাবাহিকতাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বছরে আনুমানিক এক লাখ করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মুসলিমদের অভিবাসন এবং তুলনামূলক বেশি জন্মহার দুটিই ভূমিকা রেখেছে।  এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন বলে যে দাবি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের পর্যালোচিত গবেষণায় তার সমর্থনে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই এই সংখ্যাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হলেও মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধির প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে শুধু ধর্মান্তরকে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৩০
ছবি: সংগৃহীত
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, শিল্প, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প সহযোগিতা, রেল ও টানেল নির্মাণ, ইস্পাত খাত, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সার এবং রাশিয়ায় দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। বৈঠকের আগে মোদি পুতিনকে প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্ম ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষার অনুবাদ উপহার দেন। কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভারের লেখা এই গ্রন্থে নৈতিকতা, শাসন, সম্পদ, ভালোবাসা ও মানবিক আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ১ হাজার ৩৩০টি দ্বিপদী রয়েছে। এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নাইজেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশিম শেত্তিমাও ভারতে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়েরও সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মোদির সঙ্গে শির পৃথক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার সংকট, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও শুল্কনীতির মতো বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সম্মেলনের আলোচনায় প্রভাব ফেলবে। রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক এসবারব্যাংকও ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (CBDC) ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। ব্যাংকটির প্রধান জার্মান গ্রেফের মতে, ডিজিটাল মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য নিষ্পত্তি আরও কার্যকর হতে পারে।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:২০
রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত নান্দাইলের আল মামুন
ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, যুদ্ধে প্রাণ হারালেন মামুন

ময়মনসিংহের নান্দাইলের আল মামুন রাশিয়ায় ইলেকট্রনিক শ্রমিকের কাজের আশায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ৮ সেপ্টেম্বর সকালে রাশিয়ায় থাকা এক সহকর্মীর ফোনে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান। পরিবারের দাবি, চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়ার পর মামুনকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল। আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ২৪ থেকে ৩০ বছর বলা হয়েছে। তিনি দেশে ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী এক মেয়েকে রেখে চলতি বছরের ৭ মে রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।  পরিবারের ভাষ্য, ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য মামুন রাশিয়ায় যান। এ জন্য তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। এই টাকা জোগাড় করতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি চড়া সুদে ধার করতে হয়েছিল পরিবারকে।  পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুন ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে কাজ না দিয়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের সামরিক পোশাক পরিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, রাশিয়ায় যাওয়ার পর মামুনদের কাছ থেকে রুশ ভাষায় একটি চুক্তিতে সই নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে স্বজনেরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানো হবে না। পরে পরিবারটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে।  সহকর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় মামুনের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী আহত হয়েছেন বলে পরিবারের কাছে খবর এসেছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁর ছবি বা ভিডিও এখনো পরিবারের হাতে আসেনি।  মামুনের মৃত্যুর খবরে স্ত্রী মহিমা আক্তার ও মা রোকেয়া আক্তার ভেঙে পড়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। স্বজনদের প্রধান দাবি, মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত জানিয়েছেন, মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবার মৌখিকভাবে জানিয়েছে। পরিবারকে লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:১৭
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে ঋণের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭ শতাংশের পথে মর্টগেজের হার

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের বাড়ির ঋণের গড় সুদের হার বেড়ে ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে বেঞ্চমার্ক ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। ৩০ বছরের মর্টগেজের এই হার ২০২৫ সালের জুনের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ, তখন হার ছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সুদের হার ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন ৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদের হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। এরপর থেকে হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরে একবারই এই হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছিল—২০২৫ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে, যখন তা ৭ দশমিক ০৪ শতাংশে উঠেছিল। মর্টগেজের সুদের হার বাড়ার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি বন্ডের সুদ বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার মর্টগেজের হারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে। বৃহস্পতিবার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠে ২০০৭ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে ১০ বছরের এই বন্ডের সুদ ছিল ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা জাতীয় ঋণ—সব মিলিয়ে বন্ডের সুদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ৩০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদও বৃহস্পতিবার ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশের বেশি হয়েছে। এটি ২০০২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বন্ডের সুদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঋণের সুদও সাধারণত বাড়তে থাকে। এদিকে মর্টগেজের সুদ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। আগস্টে আগে থেকে মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ২ শতাংশ কমে বছরে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটের সমপরিমাণে নেমে এসেছে। এটি এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রি না হওয়া বাড়ির মজুত জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ ঋণের সুদ বাড়ায় অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিক্রির গতি কমছে এবং বাজারে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে ১৫ বছরের মর্টগেজের সুদের হারও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ১৫ বছরের মর্টগেজের হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে। সাধারণত যারা বাড়ির ঋণ পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্স করতে চান, তাদের অনেকে ১৫ বছরের মর্টগেজ বেছে নেন। এতে ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা গেলেও ৩০ বছরের ঋণের তুলনায় মাসিক কিস্তি তুলনামূলক বেশি হয়। ফলে সুদের হার বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির ক্রেতা ও মালিক—দুই পক্ষের ওপরই আর্থিক চাপ বাড়ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৫
ছবি: সংগৃহীত
কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর বুকাভুতে দুটি স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট পদদলনে অন্তত ২৪ শিশু নিহত হয়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছুটে বের হওয়ার সময় এ পদদলনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ৩০০টিরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা ও পদদলনের সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিশু হতাহত হয়। পূর্ব ডিআর কঙ্গোর এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত ও অস্থিরতায় রয়েছে। বুকাভু বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৩
কারাগারে থাকার পর ২৫ পাউন্ডের বেশি ওজন কমেছে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের
কারাগারে গিয়ে আরও অসুস্থ মাদুরোর স্ত্রী হৃদরোগের চিকিৎসায় চাইলেন মুক্তি

ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের কারাগার থেকে মুক্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার আইনজীবীরা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, কারাগারে থাকার পর থেকে তার হৃদরোগের সমস্যা আরও বেড়েছে। তাই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত। ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস ও তার স্বামী ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি। মাদক পাচারের অভিযোগে তাদের বিচার আগামী বছরের জুনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাড়িতে গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেছেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাড়িতে থাকলেও ফ্লোরেসকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদন ছাড়া তিনি কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তবে ফ্লোরেসের এই আবেদনের বিষয়ে এখনো ফেডারেল প্রসিকিউটররা কোনো জবাব দেননি এবং বিচারকও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফ্লোরেস দীর্ঘদিন ধরে মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপ্স নামের হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনও তিনি পাননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে অ্যাসপিরিন, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে থাকার সময়ে তার আরও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নিয়মিত অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রাইটিসে ভুগছেন, দুটি দাঁতের মোলার হারিয়েছেন এবং ২৫ পাউন্ডেরও বেশি ওজন কমেছে। চিকিৎসকেরা তাকে হৃদযন্ত্রের ক্যাথেটারাইজেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন, যার পর আরও কিছু হৃদযন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, হৃদযন্ত্রের কোনো প্রক্রিয়া বা অস্ত্রোপচার হলে সুস্থ হয়ে উঠতে তার পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তাদের মতে, কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হলেও সেখানে অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের পরিবেশ পাওয়া কঠিন। তবে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা কারাগারের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তারা আদালতে জানিয়েছেন, কারাগারের কর্মীরা ফ্লোরেস ও তার স্বামীর সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং সেখানে ও হাসপাতালে তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভালো চিকিৎসাও পেয়েছেন। কিন্তু তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ নয়। মাদুরো ও ফ্লোরেসকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাড়ি থেকে মার্কিন বাহিনী অভিযানের মাধ্যমে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। দুজনেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। এর আগে মাদুরো ও ফ্লোরেস তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিলের আবেদনও করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে তাদের আইনি দায়মুক্তি রয়েছে। তবে সেই আবেদনেরও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের এআই পোস্টকে ‘ব্রেইন রট’ বললেন সাবেক সহযোগী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক এআই নির্মিত পোস্টকে তাঁর ‘ব্রেইন রট’ বা মানসিক অবক্ষয়ের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা সারাহ ম্যাথিউজ। তাঁর দাবি, ট্রাম্প এত বেশি মিম ও এআই-নির্মিত কনটেন্ট পোস্ট করছেন যে মানুষ তাঁর এসব অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। সাবেক হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ম্যাথিউজ বলেন, ট্রাম্প ‘এত বেশি পোস্ট করছেন যে তাঁর কর্মকাণ্ড কতটা অদ্ভুত, তা নিয়ে মানুষের সংবেদনশীলতা কমে গেছে। তাঁর মতে, ৮০ বছর বয়সী একজন প্রেসিডেন্টকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে তৈরি করা অসংখ্য এআই কনটেন্ট দেখা ও পুনরায় পোস্ট করতে এতটা সময় ব্যয় করতে দেখা উদ্বেগজনক।‘ শ্রম দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে ট্রাম্প মাত্র ১০ ঘণ্টায় অন্তত ৬০টি পোস্ট করেন। এসবের অনেকগুলোই ছিল এআই-নির্মিত মিম। কোনো পোস্টে তাঁকে রোবটের সঙ্গে দেখা গেছে, কোনোটি ছিল শেয়ারবাজারে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে; আবার একটি পোস্টে মেক্সিকো, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো মানচিত্রও ছিল। আরেকটি এআই ছবিতে ট্রাম্পকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আইস হকি খেলতে দেখা যায়। ইরান প্রসঙ্গেও কয়েকটি পোস্টে ট্রাম্পকে যুদ্ধজাহাজ থেকে বিমান হামলা পর্যবেক্ষণ কিংবা মহাকাশ থেকে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী এক যুদ্ধনেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। একটি পোস্টে তাঁকে ওভাল অফিসে বসে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এসব পোস্ট নিয়ে অন্য রাজনৈতিক সমালোচকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য চেলি পিংরি এগুলোকে ‘স্বাভাবিক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে রিপাবলিকানদের আরও কঠোরভাবে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ট্রুথ সোশ্যাল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে ট্রাম্প কোনো পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যমের ব্যাখ্যা ছাড়াই সরাসরি মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ট্রাম্পের সাবেক সহযোগী ম্যাথিউজ প্রথম প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসে কাজ করেছিলেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার পর তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে ওই হামলা তদন্তকারী প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:৫১