সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর সংকটে জর্জরিত কিউবায় ফিরে নতুন জীবন শুরুর লড়াই
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হয়ে ধুঁকতে থাকা কিউবায় ফিরেই মুখোমুখি কঠিন বাস্তবতার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের পর নিজের দেশ কিউবায় ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন এক কিউবান নাগরিক। একসময় উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও বহিষ্কারের পর তাকে ফিরতে হয়েছে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবায়। কিউবায় ফিরে তার সামনে এখন একেবারে ভিন্ন বাস্তবতা। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দেশটিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন ছেড়ে হঠাৎ নিজ দেশে ফিরে আসা তার জন্য সহজ হয়নি। সেখানে আবারও শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে। কাজের সুযোগ সীমিত, আয় কম এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করাও অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়েছে। কিউবার অর্থনৈতিক সংকট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও গভীর হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহন, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কিউবান অভিবাসীদের জন্যও পরিস্থিতি বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নতুন জীবন গড়ার সুযোগের পাশাপাশি বহিষ্কারের আশঙ্কাও এখন অনেকের জন্য বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফিরে আসা ওই ব্যক্তির অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন মানুষের গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে অভিবাসন, অর্থনৈতিক সংকট এবং নিজের দেশে ফিরে নতুন করে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতার একটি চিত্র তুলে ধরছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:৩৭
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়
ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টসহ ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট এবং ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ডেনভার শহর। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়। এতে ভোটকেন্দ্র বা ভোট সংগ্রহের স্থানগুলোর আশপাশে সশস্ত্র ফেডারেল কর্মকর্তাদের মোতায়েন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ ধরনের যেকোনো পরিকল্পনাকে বেআইনি ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র কর্মকর্তাদের উপস্থিতির আশঙ্কা নির্বাচনের স্বাধীন পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে যে ভোট দিতে গেলে তাদের সশস্ত্র ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে। মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ও আইসিই-কে বিবাদী করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন এবং আইসিইর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড ভেনচুরেল্লাকেও বিবাদী করা হয়েছে। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে লীগ অব ইউনাইটেড লাতিন আমেরিকান সিটিজেনস (এলইউএলএসি), কমন কজ, ইউনিডসইউএস এবং ডেনভার শহর এই মামলা করেছে। বাদীপক্ষ ১৮৬৫ সালের একটি ফেডারেল আইনের বিধানের ওপরও জোর দিয়েছে। ওই আইনে সাধারণ বা বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এমন কোনো স্থানে ‘সশস্ত্র লোক’ বা সেনা মোতায়েন করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রয়োজন হলে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। এর আগে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা এমএজিএ শিবিরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভোটকেন্দ্র ঘিরে আইসিই মোতায়েনের আহ্বান জানালেও ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। তবে ভোটকেন্দ্রে কোনো পরিস্থিতিতেই আইসিই থাকবে না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ভোটকেন্দ্রে টহল দেওয়ার জন্য আইসিই মোতায়েন করা হবে না। তবে কোনো ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হলে কিংবা আগে থেকেই নজরদারিতে থাকা কাউকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে সেখানে আইসিই এজেন্ট যেতে পারে বলে জানান তিনি। মুলিন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরোয়ানা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসিই কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। আইসিইর ডিপোর্টেশন শাখার প্রধান কাজ যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের খুঁজে বের করা, গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কার করা। অন্যদিকে এর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বা এইচএসআই শাখা সাধারণত আন্তর্জাতিক যোগসূত্র থাকা অপরাধ দমনে কাজ করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই শাখাকেও অভিবাসন enforcement এবং কথিত ভোটার জালিয়াতির তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে। এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে সেনা বা ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা সামরিক বাহিনীর নেই।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:১৫
ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সিনেট জরিপে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের নতুন এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে ৪ শতাংশ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এএআরপি’র জরিপটি পরিচালনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী জরিপকারী হিসেবে পরিচিত টনি ফ্যাব্রিজিওর প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড। জরিপে টালারিকোর পক্ষে ৪৮ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপটি ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড ও ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট রিসার্চ যৌথভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতেও ফ্যাব্রিজিও জরিপকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে, টেক্সাসের ডালাসে এ সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতেই এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন কমেছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপটি প্রকাশ হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাক্সটনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে সমালোচনা করলেও তাঁকে ‘দেশের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেন। জরিপে টালারিকোর এগিয়ে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ টালারিকোকে এবং ৩৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ এ শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে টালারিকো ২২ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটন এখনো টালারিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৮৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৯৪ শতাংশ টালারিকোর পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৯ শতাংশ রিপাবলিকান টালারিকোকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে ডেমোক্র্যাট সমর্থন মাত্র ২ শতাংশ। টালারিকোর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতার হার ৭ পয়েন্ট। ৪২ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, বিপরীতে ৩৫ শতাংশ নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে নেট গ্রহণযোগ্যতা ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট ৪৬ শতাংশ তাঁকে নেতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আগস্ট ৩০ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:১২
৫০০ ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, অক্টোবর থেকে পেতে পারেন যোগ্য আমেরিকানরা
১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দিচ্ছেন ট্রাম্প! যারা পাবেন এই টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এই অর্থ পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এই ‘রিবেট চেক’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ পরিশ্রমী আমেরিকানকে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় ভুলভাবে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছিল। এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এমন বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে কোনো সরকারি ভর্তুকি পাননি এবং ফেডারেল ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করেছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেগুলো হলো—আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব মানুষকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, আগের প্রশাসন বিষয়টি জানত এবং এ নিয়ে পর্যালোচনাও করেছিল, কিন্তু অর্থ ফেরত দেয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পুরোটা বা বড় একটি অংশ পূরণ করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এমআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক ও ওবামাকেয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত জনাথন গ্রুবার। তিনি এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক খরচ থাকা স্বাভাবিক এবং ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ফিগুলো তুলনামূলকভাবে যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট আওয়ার কেয়ার এই ৫০০ ডলারের অর্থকে ‘লোক দেখানো উদ্যোগ’ বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচের তুলনায় ৫০০ ডলার খুবই কম। সংগঠনটি আরও বলেছে, আরবান ইনস্টিটিউটের হিসাবে একজন আমেরিকানের স্বাস্থ্যবিমার গড় মাসিক খরচ প্রায় ৬১১ ডলার। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেকের এক মাসের স্বাস্থ্যবিমার খরচও পুরোপুরি মেটাতে পারবে না। ট্রাম্পের ৫০০ ডলারের এই ঘোষণা এসেছে এর ঠিক একদিন পর, যখন তিনি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সঙ্গে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আইনগত বৈধতা, এত বড় অর্থ ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতা এবং এই অর্থের উৎস নিয়ে আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক গোল্ডওয়েইন হিসাব করে বলেছেন, ৫ হাজার ডলারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এত বিপুল অর্থ অর্থনীতিতে ঢোকানো হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৫১
ট্রাম্পের সঙ্গে সমর্থকদের শপথ, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার শপথ নিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতারণা করে হলেও জেতার শপথ নিয়েছেন। রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে (আরএনসি) হাজারো সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে হাত তুলে শপথ করানোর সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় পেতে প্রয়োজনে ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বৃহস্পতিবার ডালাসে অনুষ্ঠিত আরএনসির সম্মেলনে ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের ডান হাত তুলতে বলেন। এরপর তিনি নিজের ভাষায় একটি শপথ পাঠ করান। সেখানে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত না থাকলেও ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যেভাবে প্রতারণা করে, রিপাবলিকানদেরও সেভাবেই ‘ভীষণভাবে প্রতারণা’ করতে হবে। তবে পুরো বিষয়টি তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেন। শপথের শুরুতে ট্রাম্প নিজেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর সমর্থকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “৩ নভেম্বর আমরা ভোট দিতে যাব, অথবা তার আগেই ভোট দেব।” একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, কেউ চাইলে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিতে পারে। এ সময় উপস্থিত সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক দুয়োধ্বনি আসে। পরে তিনি ‘সো হেল্প মি গড’ বলে শপথ শেষ করেন। ভোট না দিলে ‘নরকে যেতে হবে’—এমন মন্তব্যও করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি ভোট দিতে ভুল না করার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার মন্তব্য এবং সমর্থকদের তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থনের শপথ করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্টে ভিডিওটি লাখের বেশি ভিউ পায়। এ নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরন নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাট ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ করে আসছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তিনি এখনও করে থাকেন। তবে বিভিন্ন পুনর্গণনা, অডিট ও আদালতের সিদ্ধান্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ওই নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করতে পারে। ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী আরএনসির এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল রিপাবলিকান পার্টির প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক জাতীয় সম্মেলন। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলের সমর্থকদের চাঙা করাই ছিল সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সম্মেলনে ট্রাম্পের পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ভ্যান্সের বক্তব্যের সময় সমর্থকদের ‘জেডি ৪৮’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে রক্ষণশীল কর্মী চার্লি কার্ককেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। সাবেক হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রসহ দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা এতে বক্তব্য দেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ওসামা বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পরও আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালে লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’ চিঠিটি ওই হামলার পেছনে সংগঠনটির তৎকালীন অবস্থান ও যুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। চিঠিতে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ইরাকের ওপর আরোপিত অবরোধসহ বিভিন্ন নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনি, আফগান ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বিন লাদেন ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি ছিল, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এর মূল্য দিতে হবে। একইভাবে আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে মুসলিমদের ওপর কথিত নিপীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে মার্কিন জনগণের করের অর্থ দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় এমন যুক্তি তুলে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ের অংশীদার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি মার্কিন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্য প্রমাণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। সৌদি আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান বিন লাদেন ১৯৮৮ সালে আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আল-কায়েদা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী হামলা ও বোমা হামলা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে হামলাকারীরা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে হামলা চালায়; আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে একটি কম্পাউন্ডে মার্কিন নেভি সিলের অভিযানে বিন লাদেন নিহত হন।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৩২
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও আমেরিকায় মুসলিমদের ঘিরে সন্দেহ ও ইসলামোফোবিয়ার অস্বস্তিকর ইতিহাস
‘কেউ যেন আমাদের ওপর নজর রাখছে’ - ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার অজানা ইতিহাস

ছোটবেলায় রোজিনা আলীর কাছে আমেরিকা ছিল স্বপ্নের মতো এক দেশ। ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট শহরে বেড়ে ওঠা রোজিনা ইতিহাসের বই পড়তেন, ‘বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার’-এর ডিভিডি দেখতেন। পাঁচ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রোজিনা ধীরে ধীরে নিজেকে এই দেশেরই একজন হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের দেশ। তাই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর বাবা-মা যখন তাকে ও ভাইবোনদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই দেশে এখন মুসলিমদের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে, তখন কথাগুলো তার কাছে বিশ্বাসই হয়নি। রোজিনা পরে স্মরণ করে বলেন, তিনি বারবার বাবা-মাকে বলতেন, ‘এটা আমেরিকা। এটা পাকিস্তান নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি।’ কিন্তু বাবা-মায়ের আশঙ্কা ছিল অন্যরকম। তাদের মনে হয়েছিল, দেশ যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং হামলাকারীরা মুসলিম হওয়ায় আমেরিকার মুসলিম পরিবারগুলোকেও এখন সন্দেহের মুখে পড়তে হবে। বহু বছর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা বুঝতে পারেন, তার বাবা-মায়ের ভয় অমূলক ছিল না। বরং ৯/১১-এর পর মুসলিমদের জীবনে যে সন্দেহ, ভয় ও নজরদারি নেমে এসেছিল, তার শিকড় আরও অনেক গভীরে। এই দীর্ঘ ইতিহাসই তুলে ধরেছেন রোজিনা আলী তার নতুন বই ‘সিজনস অব ফিউরি’-তে। বইটিতে তিনি ৯/১১-এর আগের কয়েক দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তা অনুসন্ধান করেছেন। রোজিনা সম্প্রতি গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে অনেকেরই মনে হতো, ‘দেয়ালেরও কান আছে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, এফবিআই, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, ক্যাফে এমনকি মসজিদেও নজরদারি চালাতেন। কোথাও গোপন তথ্যদাতা ব্যবহার করা হতো, আবার কোথাও মুসলিমদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য প্ররোচিত করা হতো, যা পরে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। অর্থাৎ কেউ অপরাধী কি না, সেটাই সবসময় মূল বিষয় ছিল না। অনেকের ক্ষেত্রেই আগে থেকেই সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল। তবে রোজিনার অনুসন্ধান বলছে, মুসলিমদের ঘিরে এই সন্দেহের ইতিহাস ৯/১১ দিয়ে শুরু হয়নি। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়, শরণার্থীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। আরব-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতাও বাড়তে থাকে। এরপর ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি অলিম্পিক অ্যাথলেটদের জিম্মি করে হত্যা করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরব জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি শুরু করে। প্রথমে নজরদারির লক্ষ্য ছিল আরব অভিবাসী ও ভিসাধারীরা। কিন্তু পরে এর আওতা বাড়তে থাকে এবং আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও এর মধ্যে চলে আসেন। তাদেরই একজন ছিলেন আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদিন জাবারা। রোজিনার বইয়ে তার গল্প গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। জাবারাকে শুধু কয়েক মাস নয়, বছরের পর বছর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নজরদারির আওতায় থাকা প্রথম স্বীকৃত মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত হন। রোজিনার মতে, এই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও পরে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারণা শক্তিশালী হতে থাকে—ফিলিস্তিন, আরব পরিচয় ও মুসলিম পরিচয়কে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে এক করে দেখা। নব্বইয়ের দশকে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ ক্রমেই বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে সামনে আসে। ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের একটি সরল যোগসূত্র তৈরি হতে থাকে। ১৯৯৫ সালের ওকলাহোমা সিটি বোমা হামলা এর একটি বড় উদাহরণ। হামলার পরপরই অনেকের সন্দেহ চলে যায় মুসলিমদের দিকে। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমও শুরুতে এটিকে আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসীদের কাজ বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু হামলাকারী ছিলেন টিমোথি ম্যাকভেই—একজন শ্বেতাঙ্গ সাবেক সেনাসদস্য। রোজিনার মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল—দেশে সন্ত্রাসী হামলা হলে তার পেছনে মুসলিমদের থাকার সম্ভাবনাই আগে ভাবা হবে। এর পেছনে আরও কিছু পরিবর্তন কাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন বাড়ছিল, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আরও প্রকাশ্যে তুলে ধরছিলেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তাদের প্রভাব বাড়ছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সক্রিয়তাও অব্যাহত ছিল। রোজিনার মতে, এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, মুসলিম পরিচয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা—সবকিছু ধীরে ধীরে একটি বড় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ঢুকে যায়। আজকের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেই ইতিহাস যেন নতুন করে সামনে এসেছে। রোজিনা বলেন, প্রায় এক দশক আগে যখন তিনি বইটির ভাবনা শুরু করেন, তখন তার ধারণা ছিল এটি হবে অতীতের একটি ইতিহাস। কিন্তু এখন তিনি এমন এক সময়ের মধ্যে বসবাস করছেন, যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ শুধু প্রকাশ্য নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা আরও আক্রমণাত্মক ও সহিংস হয়ে উঠেছে। তার মতে, ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষের বক্তব্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলিম রাজনীতিকদের ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যেও রোজিনা ৯/১১-পরবর্তী সময়ের পুরোনো সন্দেহের প্রতিধ্বনি দেখতে পান। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা মিশিগানের রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকে তিনি আগের দশকের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন। রোজিনার ভাষায়, ‘ইসলামবিদ্বেষ আমেরিকান রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’ তিনি মনে করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সরকারের দৃঢ় সমর্থনের বিপরীতে আমেরিকার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতামতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এবং জনমতের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দূরত্ব। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের সংখ্যাও বাড়ছে। রোজিনার মতে, এই দুই প্রবণতা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতের সঙ্গে লড়াই করার বদলে মুসলিম পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইসলামবিদ্বেষ এখন একটি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে। আর এখানেই রোজিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ৯/১১-এর পর মুসলিমদের লক্ষ্য করে যে নিরাপত্তা কাঠামো ও আইনগত ক্ষমতা তৈরি বা বিস্তৃত করা হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে লাতিনো অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন অভিযান ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। রোজিনার মতে, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবাদ’ কী—তার একটি পরিষ্কার ও সীমিত সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সরকারের হাতে এমন অনেক ক্ষমতা এসেছে, যা পরে ভিন্নমতাবলম্বী বা সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব। তার আশঙ্কা, যে ব্যবস্থা একসময় মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন আরও অনেক মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। রোজিনার কাছে তাই ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়, সন্দেহ, নজরদারি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গত ২৫ বছরের একটি দীর্ঘ গল্প। আর সেই গল্পের শুরু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকালেই নয়—তারও বহু আগে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:১০
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম প্রেজেন্টেশনেই স্টিভ জবসের কৌশল অনুসরণ করলেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন।   ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন।   নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য।   জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে।   এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে।   আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।   ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন।   সূত্র: ফোর্বস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:৭
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়াল

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির ডিজেলের গড় দাম ৬ ডলারের ওপরে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়ার পরিশোধনাগারে হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এই রেকর্ড দাম তৈরি হয়েছে।   ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ ও ভারী যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের কেনাকাটার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্যাসবাডির বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানও সতর্ক করেছেন, রেকর্ড ডিজেলের দাম সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।   ডিজেলের দাম চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের বৈশ্বিক সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।   রাশিয়া ডিজেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হলেও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চীনও নিজস্ব বাজারে ঘাটতি এড়াতে জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল মজুতও পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম রয়েছে বলে দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ডিজেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়। চলমান সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় জ্বালানি বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।   ডিজেলের বাড়তি দাম বিশেষ করে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ট্রাকিং কোম্পানি, কৃষক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কৃষি খাতেও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর গোলার্ধে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষি যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে শীত মৌসুম সামনে থাকায় ডিজেলের সঙ্গে সম্পর্কিত হিটিং অয়েলের চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের মধ্যে জ্বালানির বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ ডিজেলের দাম মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত জ্বালানি বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলো উচ্চ সক্ষমতায় কাজ করলেও আগামী কয়েক মাসে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ডিজেলের মজুত পুনর্গঠন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।   এদিকে শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের রেকর্ড দামের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় ডিজেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তাদের পণ্য কেনার খরচেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৪:৫৩
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুরোধ নিয়ে ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত
হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ জানিয়ে দুবার ফোন সৌদি যুবরাজের, ‘না’ করে দেন ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুবার ফোন করেছেন। তবে সৌদি যুবরাজের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক্সিওসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান হলো, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে না গিয়ে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানো।   এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার যোগাযোগ করেন। তিনি হুথিদের বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই মুহূর্তে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি সৌদি আরবের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার হুথিরা ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা দখলে নেয় এবং লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে এগিয়ে কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হয়। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বাব আল-মান্দাব প্রণালী লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই পথের নিরাপত্তা নিয়ে হুথিদের অগ্রগতির পর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও নৌপথে বাধার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক ফ্রন্ট খুলতে চাইছে না। এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় আলোচনার জন্য সৌদি আরব সফর করেছেন।   মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশনায় মার্কিন বাহিনীর প্রধান মনোযোগ এখন ইরানকে মোকাবিলা করা এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে। ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়ে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবস্থানও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে রিয়াদ জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুথিদের হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে। কিন্তু হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর পিছু হটার পরিস্থিতিতে এবার ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   এর আগে ইয়েমেনে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবও হুথিদের হামলার মুখে পড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের অস্ত্র ও সামরিক পরামর্শ হুথিদের মোখা দখলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ইয়েমেনি, ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। হুথিদের এই অগ্রগতি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সৌদি আরবকে সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এড়িয়ে চলার নীতি বজায় রাখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বর্তমান অগ্রাধিকার ইরান ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। ফলে সৌদি যুবরাজের অনুরোধের পরও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: রয়টার্স, এক্সিওস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৪:১৭
কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলি। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র শহরে তীর্থযাত্রার সময় ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও চুমু, বিশপ আটক

যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনের ক্যাথলিক বিশপ ডেভিড ওকলির বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ঘটনা। বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী ওকলি তখন মধ্য চল্লিশের একজন ক্যাথলিক যাজক ছিলেন। মামলাটি খারিজের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার লন্ডনের ওল্ড বেইলিতে হাজির হন তিনি।    আদালতের নথি অনুযায়ী, ওকলির বিরুদ্ধে একটি যৌন নিপীড়ন এবং দুটি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের লুর্দে ধর্মীয় তীর্থযাত্রার সময় তিনি ওই কিশোরীকে চুমু দেন। পরে একটি চার্চের আবাসিক ভবন এবং একটি খালের নৌকায় তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।    ওকলি বর্তমানে শর্তসাপেক্ষ জামিনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওল্ড বেইলিতে তার মামলায় অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও আদালতকে জানানো হয়, অভিযোগগুলো খারিজের আবেদন আগামী ৪ জানুয়ারি শুনানি হবে।    এর আগে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে শুনানিতে প্রসিকিউটর সারাহ ম্যাডেন জানিয়েছিলেন, লুর্দে তীর্থযাত্রায় যাওয়ার পর অভিযুক্ত ও কিশোরীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী দাবি করেছেন, অভিযুক্তের সঙ্গে অন্তত দুইবার যৌন সম্পর্ক হয়েছিল।    স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশের ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধ তদন্তকারী দল তদন্তের পর গত জুনে ওকলির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। পুলিশ তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর থেকে তিনি ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা অবস্থায় রয়েছেন।    ডেভিড ওকলি ১৯৮০ সালে ক্যাথলিক যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। ২০২০ সালে তিনি নর্থহ্যামটনের বিশপ হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ৪ জানুয়ারির শুনানিতে এগোবে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৩:১৩
যুক্তরাষ্ট্রের একটি কার ডিলারশিপ লটে বিক্রির জন্য সারি সারি সাজিয়ে রাখা ক্রাইসলার প্যাসিফিকা মডেলের গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ২০২৬ সালে কোন গাড়ির দাম কত, নতুন ও পুরাতন গাড়ির বাজারদর জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাজেট, পরিবারের আকার ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী রয়েছে নানা ধরনের বিকল্প। তবে গাড়ির বিজ্ঞাপনে যে দাম দেখা যায়, সেটিই সাধারণত চূড়ান্ত খরচ নয়। এর সঙ্গে কর, মালিকানা হস্তান্তর, নিবন্ধন, গাড়ি পরিবহনের খরচ এবং বীমার মতো অতিরিক্ত ব্যয় যোগ হতে পারে। তাই নতুন প্রবাসীদের গাড়ি কেনার আগে মোট খরচের হিসাব করা জরুরি।   ছোট আকারের সেডানের মধ্যে টয়োটা করোলা ও হোন্ডা সিভিক জনপ্রিয়। ২০২৬ সালের টয়োটা করোলার প্রাথমিক মূল্য ২৩ হাজার ১২৫ ডলার থেকে শুরু। করোলা হাইব্রিডের দাম শুরু ২৪ হাজার ৯৭৫ ডলার থেকে। হোন্ডা সিভিকের ২০২৬ সালের সেডান মডেলের প্রাথমিক মূল্য ২৪ হাজার ৬৯৫ ডলার। আর সিভিক হাইব্রিডের দাম শুরু ২৯ হাজার ৩৯৫ ডলার থেকে।   কম বাজেটের নতুন গাড়ির মধ্যে নিসান সেন্ট্রাও একটি বিকল্প। এর প্রাথমিক মূল্য ২২ হাজার ৮৯০ ডলার থেকে শুরু। তবে এই দাম মূলত প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত প্রাথমিক মূল্য। এর সঙ্গে গাড়ি সরবরাহের খরচ, কর, মালিকানা হস্তান্তর, লাইসেন্স, নিবন্ধন এবং অতিরিক্ত সুবিধার খরচ যোগ হতে পারে।   মাঝারি আকারের সেডানের মধ্যে ২০২৬ সালের হোন্ডা অ্যাকর্ডের প্রাথমিক মূল্য ২৮ হাজার ৩৯৫ ডলার। অ্যাকর্ড হাইব্রিডের দাম শুরু ৩৩ হাজার ৭৯৫ ডলার থেকে। যারা জ্বালানি খরচ কমাতে চান, তাদের কাছে হাইব্রিড মডেলটি আকর্ষণীয় হতে পারে।   পরিবারের সদস্য বেশি হলে অনেকেই এসইউভি বেছে নেন। ২০২৬ সালের টয়োটা আরএভি৪-এর প্রাথমিক মূল্য ৩১ হাজার ৯০০ ডলার। বিভিন্ন মডেল ও সুবিধা অনুযায়ী এর দাম ৪৩ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন আরএভি৪-এ হাইব্রিড ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণও রয়েছে।   পুরাতন গাড়ির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি দাম বলা কঠিন। একই বছরের একই মডেলের গাড়ির দামও মাইলেজ, দুর্ঘটনার ইতিহাস, রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ড, মালিকানার কাগজপত্র, মডেলের ধরন এবং গাড়ির সামগ্রিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে অনেকটা পরিবর্তিত হয়।   বিশেষ করে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের পুরাতন গাড়ি কেনার সময় শুধু বিক্রেতার দেওয়া দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। গাড়ির পরিচয় শনাক্তকারী নম্বর বা ভিআইএন যাচাই, গাড়ির ইতিহাসের প্রতিবেদন দেখা, দুর্ঘটনার রেকর্ড পরীক্ষা এবং কেনার আগে অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে গাড়িটি পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।   পুরাতন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কারখানা অনুমোদিত ব্যবহৃত গাড়িও বিবেচনা করা যায়। এসব গাড়ি সাধারণত নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওয়ারেন্টিও থাকে। তবে একই বয়সের সাধারণ পুরাতন গাড়ির তুলনায় এ ধরনের গাড়ির দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।   গাড়ি কেনার সময় বিজ্ঞাপনে দেওয়া প্রাথমিক দামকে চূড়ান্ত দাম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। গাড়ির মূল দামের সঙ্গে রাজ্যভেদে কর, মালিকানা হস্তান্তর, নিবন্ধন, লাইসেন্স, গাড়ি সরবরাহের খরচ এবং ডিলারের বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে। ফলে ২০ হাজার ডলারের একটি গাড়ি কিনতে শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার ডলারের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অর্থ খরচ হতে পারে।   এর বাইরে রয়েছে গাড়ির বীমা। চালকের বয়স, গাড়ি চালানোর ইতিহাস, বসবাসের এলাকার জিপ কোড, গাড়ির মডেল, বীমার ধরন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে মাসিক বীমার খরচ নির্ধারিত হয়। তাই গাড়ি কেনার আগে কয়েকটি বীমা কোম্পানির কাছ থেকে মূল্য জেনে নেওয়া ভালো।   নতুন প্রবাসীদের জন্য কম দামে পুরাতন গাড়ি কেনা শুরুতে সুবিধাজনক মনে হতে পারে। তবে গাড়ির বয়স বেশি হলে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে নতুন গাড়ির মাসিক কিস্তি তুলনামূলক বেশি হলেও সাধারণত নতুন গাড়িতে প্রস্তুতকারকের ওয়ারেন্টি থাকে এবং শুরুতে বড় ধরনের মেরামতের ঝুঁকি কম থাকে।   তাই ২০২৬ সালে আমেরিকায় গাড়ি কেনার সময় শুধু গাড়ির দাম নয়, মাসিক কিস্তি, কর, নিবন্ধন, বীমা, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য মেরামতের খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা উচিত। নিজের বাজেট অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য পুরাতন গাড়ি নাকি নতুন গাড়ি, কোনটি বেশি সুবিধাজনক হবে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৫০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুর পরকীয়া কেলেঙ্কারি, নীরবতা ভাঙলেন গোপন প্রেমিকা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ১৯৯৩ সালের আলোচিত সম্পর্কের ঘটনার তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলেছেন ড. রুথ বার। ওই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখ থেকে দূরে থাকা বার এবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং তার রাজনৈতিক উত্থানের শুরুর সময়ের পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছেন।   ১৯৯৩ সালের ১৪ জানুয়ারি ইসরায়েলের তৎকালীন একমাত্র টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল ওয়ানে সরাসরি সম্প্রচারে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর কথা স্বীকার করেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি লিকুদ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন এবং রুথ বার ছিলেন তার কৌশলগত উপদেষ্টা।   ঘটনাটি সামনে আসে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর। নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারাকে ফোন করে জানানো হয়, তার স্বামীর সঙ্গে রুথ বারের সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও টেপ রয়েছে এবং নেতানিয়াহু লিকুদ নেতৃত্বের দৌড় থেকে সরে না দাঁড়ালে সেটি প্রকাশ করা হবে।   নেতানিয়াহু সরে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি টেলিভিশনে তিনি সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন এবং দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। তবে সেই কথিত ভিডিও টেপ কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ঘটনার পর রুথ বার কার্যত জনজীবন থেকে আড়ালে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বর্তমান যুগ তখন ছিল না। ফলে কয়েক বছর পর তিনি আবার নিজের পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হন। মনোবিজ্ঞানী ও কৌশলগত পরামর্শক হিসেবে পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন।   ৩৩ বছর পর এবারই প্রথম তিনি বিস্তারিতভাবে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বললেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্ক, সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং লিকুদে নেতানিয়াহুর দ্রুত উত্থান নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।   বারের বক্তব্যের গুরুত্ব শুধু পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে নয়। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার কৌশলগত দলটির একজন সদস্য ছিলেন বার। ফলে সে সময় নেতানিয়াহু কীভাবে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন এবং ভোটারদের কাছে তার ভাবমূর্তি কীভাবে তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।   বার জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্থান তখনই শুরু হয়েছিল, যখন লিকুদে প্রতিষ্ঠিত নেতাদের একটি অংশ তাকে হুমকি হিসেবে দেখছিল। ১৯৯২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলে নেতানিয়াহু দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।   পরবর্তী সময়ে নেতানিয়াহু লিকুদের নেতৃত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই রাজনৈতিক উত্থানের প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল ও ভোটারদের আচরণ নিয়েও রুথ বার দীর্ঘদিন গবেষণা করেছেন।   বর্তমানে তার নতুন বই ‘ব্রেইন আন্ডার দ্য ইনফ্লুয়েন্স’ প্রকাশিত হচ্ছে। বইটিতে মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ব্র্যান্ডিং এবং রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের প্রভাব নিয়ে তার দীর্ঘ গবেষণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেই বই প্রকাশের সময়ই তিনি তিন দশকের নীরবতা ভেঙে পুরোনো সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বললেন।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৪৩
বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের আবেদন শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু

বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ অর্থায়নে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ এসেছে। কেনেডি-লুগার ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড স্টাডি বা ইয়েস প্রোগ্রামের স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। আবেদন করা যাবে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা পর্যন্ত।    ইয়েস প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিস্টার অবস্থান করে একটি আমেরিকান হাইস্কুলে পড়াশোনা করবেন। একই সময়ে তারা একটি মার্কিন পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।    প্রোগ্রামটির আওতায় শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন এবং শাসনব্যবস্থা, ব্যবসা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে। মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েস প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণ নেতৃত্বের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা।    এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। ফলে এটি শুধু বিদেশে পড়াশোনার কর্মসূচি নয়, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরির একটি বিনিময় কর্মসূচিও।   শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে মেধার ভিত্তিতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ইয়েস প্রোগ্রাম ২০০৪ সালে চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫৩০ জন শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছেন বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে।    আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৪টা। আবেদন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে আবেদন করতে হবে।    স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের এই কর্মসূচিতে সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন শিক্ষা পরিবেশে অভিজ্ঞতা অর্জন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন।  সূত্র: দি ডেইলি ক্যাম্পাস

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৩৪
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে যুদ্ধ শুরু করায় অনুতপ্ত নই! আবার সুযোগ পেলেও একই সিদ্ধান্ত নিতাম, ট্রাম্পের দাবি

ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা দখল করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনী। বৃহস্পতিবারের এই অগ্রযাত্রায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে মোকা বন্দর। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে থাকা এই প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এলাকাটিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   মোকা দখলের পর হুতি বাহিনী লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে এবং কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও এগিয়েছে বলে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী বাব আল-মান্দাবের কাছাকাছি ধুবাব এলাকার দিকে সরে যাচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জন্য উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পর সৌদি আরব তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই পথও যদি হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বা হামলার ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।   সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে তেলের বাজারে দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৮ ডলারের কাছাকাছি উঠেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। সরবরাহপথ নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।   এদিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অনুরোধ করেন। তবে ট্রাম্প সরাসরি হামলার নির্দেশ দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   এর পরিবর্তে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা ও টার্গেটিং সহায়তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সৌদি বাহিনীকে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও ভৌগোলিক টার্গেটিং সহায়তা দিতে সৌদি আরবে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা রয়েছেন। তবে তারা সরাসরি হামলা, সৌদি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সরবরাহ বা অন্যান্য সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছেন না বলে জানানো হয়েছে।   একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু করার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। বরং আবার একই পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি একই সিদ্ধান্ত নিতেন বলে জানান।   ট্রাম্প আরও বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কয়েকজন শীর্ষ উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন যে যুদ্ধ ট্রাম্পের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ পর্যন্তও চলতে পারে।   ইয়েমেনের পরিস্থিতিও ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ২০২২ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে হুতিদের সংঘাত অনেকটাই কমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক লড়াইয়ে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মোকা দখলের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে শহর ছেড়ে দক্ষিণের দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের কর্মকর্তারাও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। হুতিদের লোহিত সাগর উপকূলে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে একদিকে ইয়েমেনে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে সংকট বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:১৯
ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

ইউরোপে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশিদের আবেদন বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিরা প্রায় ২০ হাজার আশ্রয় আবেদন করেছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আবেদন করা নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম বা ইইউএএ ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউ প্লাসভুক্ত দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৭ শতাংশ কম। করোনা মহামারির সময় বাদ দিলে ২০১৯ সালের পর বছরের প্রথম ছয় মাসে এটিই সর্বনিম্ন আবেদন।   আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির নাগরিকরা প্রায় ৩৯ হাজার আবেদন করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ভেনেজুয়েলা, প্রায় ৩৩ হাজার আবেদন নিয়ে। বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ২০ হাজার, যা দেশটিকে তৃতীয় অবস্থানে রেখেছে। ইইউএএ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশিদের আবেদন প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে।   বাংলাদেশিদের আবেদনের বড় অংশই প্রথমবারের আবেদন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পুনরায় করা আবেদন মোট আবেদনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ ছিল। অর্থাৎ আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর একই ব্যক্তির পুনরায় আবেদন এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়।   বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের গন্তব্য হিসেবেও ইতালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর রয়েছে গ্রিস ও ফ্রান্স। ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের আবেদন, সীমান্তে শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং ইউরোপে অভিবাসনের সামগ্রিক চিত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।   তবে বাংলাদেশিদের আবেদন বাড়লেও অনুমোদনের হার খুবই কম। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়ার হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০টি আবেদনের মধ্যে গড়ে মাত্র কয়েকটি আবেদনেই শরণার্থী মর্যাদা বা অন্য কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইউরোপের নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আওতায় এসেছে। ১২ জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপদ উৎসদেশের প্রথম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যেসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন অনুমোদনের হার ২০ শতাংশ বা তার কম, তাদের আবেদন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দ্রুত যাচাইয়ের আওতায় আনার বিধানও কার্যকর হয়েছে।   ইইউএএ জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে এই দুই মানদণ্ডই প্রাসঙ্গিক। ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে বাংলাদেশি নাগরিকদের আবেদন দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে এর অর্থ আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা নয়। প্রতিটি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সুরক্ষার প্রয়োজন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার নিয়ম রয়েছে।   ইউরোপে সামগ্রিক আশ্রয় আবেদন কমার পেছনে সিরিয়ার পরিস্থিতির পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির নাগরিকদের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় সামগ্রিক প্রবাহেও পরিবর্তন এসেছে।   ইইউএএ-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় দেশগুলোতে প্রথম ধাপের নিষ্পত্তি হওয়া আশ্রয় আবেদনের মধ্যে ৩১ শতাংশে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা জুনের শেষে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।   বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নিয়মের প্রভাব আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে নিরাপদ উৎসদেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং কম অনুমোদনের হারের কারণে দ্রুততর আশ্রয় প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নতুন আবেদনকারীদের জন্য সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কারও আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২:৬
যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্ট বা এমডিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তিনজনের ডিএনএ নিয়ে জন্ম নিল যুক্তরাজ্যের প্রথম শিশু!

বংশগত গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতিকে বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের মানব নিষেক ও ভ্রূণবিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের জন্য ৩৫ জন রোগীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন প্রোনিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতির চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হলো মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকা ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো।    মাইটোকন্ড্রিয়া মানুষের প্রায় সব কোষে থাকা ক্ষুদ্র কাঠামো, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ার জিনে ক্ষতিকর পরিবর্তন থাকলে গুরুতর ও কখনও প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। এসব রোগ মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে বংশগতভাবে যেতে পারে।    মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টে মা ও বাবার মূল জিনগত উপাদানের সঙ্গে একজন সুস্থ নারী ডোনারের ডিম্বাণু থেকে নেওয়া সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী মায়ের পারমাণবিক জিনগত উপাদান এমন একটি ডোনার ডিম্বাণুতে স্থানান্তর করা হয়, যার নিজস্ব পারমাণবিক জিনগত উপাদান আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর শুক্রাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।    এ কারণেই এ ধরনের শিশুকে অনেক সময় গণমাধ্যমে ‘থ্রি-প্যারেন্ট বেবি’ বলা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ও আইনগত অর্থে ডোনারকে শিশুটির তৃতীয় অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ডোনারের অবদান মূলত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পর্যন্ত সীমিত এবং এটি শিশুর মোট জিনগত উপাদানের ১ শতাংশেরও কম।    এই চিকিৎসা বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁদের গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এটি সাধারণ আইভিএফ চিকিৎসার মতো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো পদ্ধতি নয়।    যুক্তরাজ্য ২০১৫ সালে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনকে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হয়। দেশটির আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত ক্লিনিকগুলোকে প্রতিটি চিকিৎসার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে নিউক্যাসল ফার্টিলিটি সেন্টার অ্যাট লাইফ এই চিকিৎসা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেন্দ্র।    তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনো এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। এইচএফইএ জানিয়েছে, পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় ঝুঁকি ও সফলতার হার সম্পর্কে প্রমাণ এখনো সীমিত। জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।    এই সাফল্য গুরুতর বংশগত মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব, নিরাপত্তা এবং জিনগত চিকিৎসার নৈতিক সীমা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১:৩৭
টেক্সাসের উচ্চবিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রমে ইসলাম ও মুসলিম ইতিহাস উপস্থাপনের ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের নতুন শিক্ষাক্রমে দাসপ্রথা ও জিহাদসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক, মুসলমানদের আপত্তি

টেক্সাসে উচ্চবিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রমে ইসলাম ও মুসলিম ইতিহাস উপস্থাপনের ধরন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশন ৪ সেপ্টেম্বর সংশোধিত সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম অনুমোদন করেছে। এতে ইসলাম, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), ইসলামের বিস্তার, দাসপ্রথা ও জিহাদসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মুসলিম অধিকার সংগঠন ও কয়েকজন শিক্ষাবিশেষজ্ঞ এসব বিষয়ের উপস্থাপনাকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং একপেশে বলে সমালোচনা করেছেন।   নতুন শিক্ষাক্রমটি টেক্সাসের পাবলিক স্কুলগুলোর সামাজিক বিজ্ঞান পড়ানোর পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। রাজ্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যক্রমে ইতিহাসকে আরও ধারাবাহিকভাবে পড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে প্রাথমিক ও মধ্যম স্তরের জন্য নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ড অনুমোদনের পর সেপ্টেম্বরে উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাস, সরকার, বিশ্ব ইতিহাস ও বিশ্ব ভূগোলের মানদণ্ডও চূড়ান্ত করা হয়।   তবে ইসলাম সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নতুন উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের খসড়ায় ইসলামের উৎপত্তি ও বিস্তার, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), কোরআন, হাদিস, ইসলামী খেলাফতের বিস্তারের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কারণসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জিহাদের শিক্ষা এবং ইসলামের বিস্তারের সঙ্গে সামরিক বিজয়ের সম্পর্ক নিয়েও শিক্ষার্থীদের পড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   প্রস্তাবিত মানদণ্ডে মুসলিম শাসকদের সঙ্গে দাসপ্রথার ইতিহাসও আলোচনায় আনা হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসলাম ও মুসলিম ইতিহাসকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে ধর্মটির একটি নেতিবাচক ও অসম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হতে পারে।   মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলো বিশেষ করে আপত্তি জানিয়েছে ইসলামকে সহিংসতা, যুদ্ধ ও দাসপ্রথার সঙ্গে যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সেই উপস্থাপনা নিয়ে। তাদের বক্তব্য, ইতিহাস পড়ানোর ক্ষেত্রে একই ধরনের ঐতিহাসিক বিষয় অন্যান্য সভ্যতা ও ধর্মের ক্ষেত্রেও তুলনামূলক ও নিরপেক্ষভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।   টেক্সাসের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ডের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইতিহাসের ধারাবাহিকতা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝানো। রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত কাঠামোতে ইসলাম ছাড়াও খ্রিস্টধর্ম, প্রাচীন সভ্যতা, দাসপ্রথা, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, নাগরিক অধিকারসহ বিস্তৃত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   নতুন শিক্ষাক্রমে খ্রিস্টধর্মের প্রভাবও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিকাশে এর প্রভাব সম্পর্কে পড়ানো এবং যিশুর শিক্ষা ও বাইবেলের কিছু অংশ পড়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, ধর্মীয় ইতিহাস পড়ানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি।   টেক্সাস স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের অনুমোদিত নতুন সামাজিক বিজ্ঞান মানদণ্ড ২০৩০-৩১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে প্রকাশক ও স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো নতুন মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যবই ও শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত করবে।   এই পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক শুধু ইসলামকে কীভাবে পড়ানো হবে, তা নিয়েই নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্মীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক ঘটনার নিরপেক্ষ উপস্থাপন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। টেক্সাসের মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন শিক্ষাক্রম কার্যকর হলে তাদের সন্তানরা স্কুলে ইসলাম ও মুসলিম ইতিহাস সম্পর্কে কোন ধরনের তথ্য ও ব্যাখ্যা পাবে, তা এই মানদণ্ডের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১:২২
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষায় নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ঠেকাতে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর ফিচার থেকে সুরক্ষায় নতুন আইন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম শিশুদের প্রযুক্তিগত ঝুঁকি থেকে সুরক্ষায় ১৩টি বিলে স্বাক্ষর করেন। নতুন আইনের আওতায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু আসক্তিকর ফিচার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।   নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য এমন কিছু ফিচার নিষিদ্ধ করা, যেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করে। এর মধ্যে রয়েছে অসীমভাবে স্ক্রল করার ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ধারাবাহিক কনটেন্ট দেখানোর মতো ফিচার। এসব ব্যবস্থাকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাধ্যতামূলক বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন পদক্ষেপের আরেকটি বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটকে ঘিরে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চ্যাটবট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি চালুর আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির মতো সংকটপূর্ণ বিষয়ে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল রাখার বিধানও রয়েছে। কোনো শিশু নিরাপত্তা সেটিংস বন্ধ করলে অভিভাবকদের জানানোর ব্যবস্থাও নতুন আইনের অংশ।   এ ছাড়া নতুন আইনের মাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণসংক্রান্ত আইনি সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। কোনো ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিকে যৌন কর্মকাণ্ডে দেখানো ডিজিটালি পরিবর্তিত বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও উপকরণও এর আওতায় আনা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা পরিবর্তিত এমন যৌন নিপীড়নমূলক উপকরণের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ল।   বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন আর্থিক দায় তৈরি করা হয়েছে। কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিশুদের ক্ষতির বিষয়ে অবহেলা করেছে বলে প্রমাণিত হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি তৈরিই এর অন্যতম লক্ষ্য।   নতুন আইনগুলোর মধ্যে স্কুল থেকে দেওয়া প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও একটি বিধান রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো স্কুল থেকে দেওয়া ল্যাপটপ গ্রহণ না করার সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের অনলাইন গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্যও কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বিস্তৃত আইনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যও শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্ব নিয়ে নতুন নিয়ম করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনে বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তিকর নকশা থেকে সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গভর্নর নিউসমের স্বাক্ষর করা ১৩টি বিলের মধ্যে শিশুদের ডিজিটাল গোপনীয়তা, সোশ্যাল মিডিয়ার নকশা, এআই চ্যাটবট, শিশু যৌন নিপীড়নের উপকরণ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।   তবে নতুন আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন, শিশুদের সুরক্ষার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তৈরি হলে অনলাইনে মতপ্রকাশ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও নতুন বিধানগুলোর কিছু অংশ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   গভর্নর নিউসমের প্রশাসনের বক্তব্য, শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা নয়, বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এসব আইনের লক্ষ্য। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার এমন নকশা এবং এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে, যেগুলো শিশুদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আইনপ্রণেতারা মনে করছেন। নতুন বিধানগুলোর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে শিশু সুরক্ষার মধ্যে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১:৪
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ রেট ৭% ছাড়াল, এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হার আবারও ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। ১০ সেপ্টেম্বর দৈনিক হিসাবে হার বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার ৭ শতাংশের সীমা অতিক্রম। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের চাপ আরও বাড়ছে।    মর্টগেজ নিউজ ডেইলির দৈনিক সূচক অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এক দিনের ব্যবধানে তা আরও ১০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে একই সূচকে হার ছিল ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে হার বেড়েছে প্রায় ৭৮ বেসিস পয়েন্ট।    তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় মর্টগেজ রেটের সংখ্যায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের সাপ্তাহিক হিসাবে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়েছে।    মর্টগেজ রেটের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ড ১০ সেপ্টেম্বর ৪ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি বা তার ওপরে ওঠে। এই ইয়েল্ড মর্টগেজ রেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার সূচক হিসেবে কাজ করে।    মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বন্ড মার্কেটেও। ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়েল্ডের ঊর্ধ্বগতি শেষ পর্যন্ত বাড়ির ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।    উচ্চ মর্টগেজ রেটের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২ শতাংশ কমে এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ বাড়লেও উচ্চ ঋণ খরচ অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষায় রাখছে।    বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এর অর্থ হলো একই দামের বাড়ির ক্ষেত্রেও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট আগের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ডাউন পেমেন্ট কম হলে সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে।   মর্টগেজ রেট আবার ৭ শতাংশের ওপরে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে চাপ আরও বাড়ল। চলতি বছরের শুরুতে সুদের হার কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি হলেও সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সেই সুবিধার বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ০:৫৩