সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কী আপডেট, জেনে নিন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:৩১
বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল
বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর জানুয়ারি ২০২৬ থেকে চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ গত ২১ আগস্ট থেকে আর কার্যকর নেই। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের বাধা আর থাকছে না।


তবে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় জামানতের নিয়ম এখনো বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত জামানতের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।


অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ায় কী বদলেছে - চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এর আওতায় পরিবারভিত্তিক এবং চাকরিভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের ভিসাও পড়েছিল।


পরে আদালতের আদেশের পর ২১ আগস্ট থেকে ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার কারণে অভিবাসী ভিসা ইস্যু আটকে থাকার পরিস্থিতি শেষ হয়েছে।


এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার জন্য যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণি অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য অভিবাসন আইনের শর্ত পূরণ করতে হবে।


পরিবারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা - যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দার পরিবারের সদস্য হিসেবে যারা বাংলাদেশ থেকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ এখন আর বাধা নয়।


তবে পরিবারের মাধ্যমে অভিবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা অগ্রাধিকার তারিখ অনুযায়ী ভিসা পাওয়ার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন অনুমোদিত হলেই সঙ্গে সঙ্গে ভিসা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে ভিসা নম্বর খালি থাকতে হবে এবং আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের মাসিক ভিসা বুলেটিনের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে থাকতে হবে।


বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজপত্র যাচাই, আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া এবং কনস্যুলার সাক্ষাৎকারের ধাপ রয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাওয়া হতে পারে।


চাকরির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চাকরিভিত্তিক অভিবাসী ভিসার ওপরও আগের ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ওই স্থগিতাদেশের কারণে ভিসা ইস্যু আটকে থাকার বাধা নেই।


তবে এ ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরির ধরন, আবেদন অনুমোদন, অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতা এবং অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হবে।


অর্থাৎ কোনো কোম্পানি আবেদনকারীর পক্ষে আবেদন করলেই স্থায়ী ভিসা নিশ্চিত হবে না। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হবে।


বাংলাদেশিদের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা এখন কী অবস্থায়: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন বন্ধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ভিসা জামানত বা ভিসা বন্ডের নিয়ম।


বাংলাদেশ এই ভিসা বন্ডের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ফলে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে বলতে পারেন।


কত টাকা জামানত দিতে হবে, তা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। তবে জামানত দিলেই ভিসা নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে প্রথমে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ পাওয়ার আগে নিজের উদ্যোগে এই জামানতের টাকা জমা দেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই টাকা জমা দিতে হবে।


নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে না গেলে জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা চালু, তবে যাচাই কঠোর: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ভিসার আবেদন চালু রয়েছে। তবে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হতে পারে। এ ধরনের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল প্রকাশ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তাই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি নিশ্চিত হওয়া, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিরাপত্তা যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ।


কর্মসংস্থানের ভিসায় কী অবস্থা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন অস্থায়ী কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদন পুরোপুরি বন্ধ নেই। তবে কোন ভিসায় কী শর্ত থাকবে, তা ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা।বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি এবং তাদের নির্ভরশীলদের এইচ-৪ ভিসার ক্ষেত্রে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই জোরদার করা হয়েছে।


অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর চাকরি, নিয়োগকর্তা, আবেদন অনুমোদন এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।


অভিবাসী ভিসায় আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন নিয়ম: অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ উঠে গেলেও আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম শিথিল হয়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জনকল্যাণের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে। এটি বাংলাদেশি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে এ ধরনের জামানত চাইতে পারেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ : ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন উপস্থিতির তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।


এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেই কারও ভিসা বাতিল হবে। তবে আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, নিরাপত্তা এবং ভিসার যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় সরকারি কর্মকর্তারা আইন অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য বিবেচনা করতে পারেন। তাই ভিসা আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্রে সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বাংলাদেশিদের ভিসা সাক্ষাৎকার কোথায় হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীদের নিজেদের নাগরিকত্ব বা বৈধ বসবাসের দেশ থেকেই ভিসার আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসই স্বাভাবিক ভিসা প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকার পাওয়ার আশায় অন্য দেশে গিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতা তৈরি হতে পারে।


সব মিলিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান চিত্র: বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হলো, ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর চালু থাকা অভিবাসী ভিসা ইস্যুর স্থগিতাদেশ উঠে গেছে। এর ফলে পরিবার বা চাকরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ওই নির্দিষ্ট বাধা আর নেই।


অন্যদিকে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার আবেদন চালু থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের ভিসা জামানতের নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনও করা যাচ্ছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক জামানত চাওয়া হতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত। ছবি: সংগৃহীত
নাগরিক নন, এমন অবৈধ ভোটারের সন্দেহে হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে হাজারো ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চলছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য হাজারো ব্যক্তির অবৈধ ভোট দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই। বিচার বিভাগের তৎপরতা নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরির উদ্দেশ্যে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যমান উদ্বেগের মধ্যেই অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে।    এই তৎপরতার মধ্যেই গত ১৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। সরকারি বিবৃতিতেও এই শনাক্তকরণকে প্রাথমিক বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করে পর্যালোচনা চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে।    বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে পাওয়া ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ডের সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়মে প্রত্যেক নিবন্ধিত ভোটারকে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ডাকব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আদেশ চেয়েছে ফেডারেল সরকার।    তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা, ব্যালট পাওয়া এবং বাস্তবে ভোট দেওয়া পৃথক বিষয়। একইভাবে তথ্যের অমিলের ভিত্তিতে কাউকে সম্ভাব্য অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা তাঁর নাগরিকত্ব বা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিচার বিভাগের অভিযোগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য নাগরিক নন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট ঠেকাতে অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে, পুরোনো অভিবাসন তথ্যের কারণে পরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ভুলভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একাধিক গবেষণায় নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে।    পৃথকভাবে গত ১৬ অক্টোবর বিচার বিভাগ নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোতে নাগরিক নন এমন ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ ভোট, মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধে অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ফৌজদারি মামলা এবং হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে চলমান পর্যালোচনা একই বিষয় নয়। অভিযোগ আনা মানেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে আইসিই এজেন্ট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কোনো নাগরিক নন এমন ব্যক্তির অবৈধ ভোট শনাক্ত হলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোট চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে, পুরো নির্বাচন চ্যালেঞ্জের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:২৮
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটির রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে ৪০টি কাজের ক্রেডিট অর্জন প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি পেতে ১০ বছর কাজই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ যোগ্যতা, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবরের অর্থপ্রদান

যুক্তরাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ, জন্মতারিখ অনুযায়ী পাবেন সুবিধাভোগীরা

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমার নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নিট অনুমোদন আট পয়েন্ট কমে ঋণাত্মক ১৯-এ নেমেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে একই ধরনের পাঁচটি জরিপের ফলাফলের মধ্যে এটিই তাঁর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।   ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ৫৯ শতাংশ ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান হিসাব করে নিট অনুমোদন নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে ট্রাম্পের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৯ পয়েন্টে। এর আগের ২ থেকে ৫ অক্টোবরের জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। সে সময় তাঁর নিট অনুমোদন ছিল ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ব্যবধান আরও আট পয়েন্ট বেড়েছে। সর্বশেষ জরিপে ১ হাজার ৪০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। এতে সামগ্রিক নমুনার সমন্বিত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। আগের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ৩৮১ জন নিবন্ধিত ভোটার। ওই জরিপে ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। তবে পরপর কয়েকটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে পুরুষদের মধ্যে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ৫৫ শতাংশ। ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের জরিপে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশ। আর ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সন্তুষ্টির হার কমে ৪২ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের জরিপগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ জরিপে বড় পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। পুরুষ ভোটারদের তথ্য জাতীয় জরিপের একটি অংশ থেকে নেওয়া হয় বলে এই উপগোষ্ঠীর ফলাফলে অনিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জোটে পুরুষ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ এবং চার বছর মেয়াদি কলেজ ডিগ্রিবিহীন ভোটারদের, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সমর্থন দুর্বল হলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস ড্রাকম্যানের মতে, সর্বশেষ পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য জরিপেও যদি একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিয়ারবর্ন ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মাইকেল মন্টগোমেরিও মনে করেন, পাঁচটি জরিপের ধারাবাহিকতা পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ তৈরি করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেছেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রধান নেতা এবং সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরুষ ভোটারদের সমর্থন কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী ও পুরুষ ভোটারের পছন্দের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প অতীতে এই ব্যবধান থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন। ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে গেলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারেন বেকউইথের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা যদি নিজেদের দলের পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বা ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্বাচনে ভালো ফল করা কঠিন হবে। তাঁর মতে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে, তা তুলে ধরে প্রার্থীরা ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করে উপস্থাপন করা আরও কঠিন হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের সম্ভাব্য বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং করের চাপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গাড়িতে জ্বালানি ভরার সময় বাড়তি খরচ অনেক ভোটারের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করেন মন্টগোমেরি। ড্রাকম্যানের মতে, তরুণ, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং কলেজ ডিগ্রিবিহীন পুরুষ ভোটারদের মনোভাব বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যদি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর অর্থনীতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পররাষ্ট্রনীতিও এই সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। ড্রাকম্যানের মতে, এই ভোটারগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করে। মন্টগোমেরি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দ্রুত কমতে পারে। তবে জনমত জরিপে প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা মানেই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেবেন, এমন নয়। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্স্টেন ইংল্যান্ডের মতে, অসন্তুষ্ট ভোটাররা তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—দল পরিবর্তন করতে পারেন, অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন, অথবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই পার্থক্য রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট কিছু ভোটার কংগ্রেসের নির্বাচনে দল পরিবর্তন না করলেও ভোট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন। আবার যেসব প্রার্থী ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে রাখবেন, তাঁরা নিরপেক্ষ ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেন, কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের উৎসাহ হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। সুতরাং, সর্বশেষ জরিপ রিপাবলিকানদের সমর্থনভিত্তিতে সম্ভাব্য দুর্বলতার একটি সতর্কসংকেত দিলেও এটি এখনই বড় ধরনের দলবদলের প্রমাণ নয়। শেষ পর্যন্ত এই অসন্তোষ ভোটের বাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ৭:৫৮
নতুন ঠিকানায় উঠেই অভিবাসন ও সরকারি নথি হালনাগাদ করুন

বাসা বদলালেই সাত জায়গায় ঠিকানা আপডেট করুন, নয়তো গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হারানোর ঝুঁকি

আইসিইর অভিবাসন কেন্দ্রে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে বিক্ষোভ

আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে আ টক হলে মার্কিন নাগরিকেরা পেতে পারেন অন্তত ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ

ইলন মাস্কের পরিকল্পনায় আমেরিকার প্রতিটি শিশুর জন্য স্পেসএক্সের শেয়ার

আগামী বছর আমেরিকার সব শিশুর হাতে স্পেসএক্সের শেয়ার তুলে দেওয়ার ঘোষণা ইলন মাস্কের

নৃত্যশিল্পী ও নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক তাসিন ফেরদৌস
নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক ও নৃত্যশিল্পী বাংলাদেশি তাসিন ফেরদৌসের অকাল মৃত্যু

নৃত্যশিল্পী ও নিউইয়র্ক বোর্ড অব এডুকেশনের শিক্ষক তাসিন ফেরদৌস মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। তিনি বিপার কর্ণধার এ্যানি ফেরদৌসের একমাত্র কন্যা।   প্রদত্ত শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আজ সকালে তাসিন ফেরদৌসের মৃত্যু হয়। তবে বার্তায় মৃত্যুর কারণ ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি।   শোকবার্তায় তাঁর অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মা এ্যানি ফেরদৌসসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই বেদনা সইবার শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ০:২৪
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, জোরালো হচ্ছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল বোর্ডের আলোচ্যসূচি পর্যবেক্ষণে এআই ব্যবস্থা চালু করেছে মমস ফর লিবার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ হাজার স্কুল বোর্ডের কার্যক্রম এআই দিয়ে নজরদারি করবে অভিভাবক সংগঠন ‘মমস ফর লিবার্টি’

মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

0 Comments