সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
আন্দিজ থেকে আটাকামা পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে তুষারের সাদা চাদর
মরুভূমিতে বিরল তুষারপাত, স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল সাদা চাদরের দৃশ্য

দক্ষিণ আমেরিকার চিলির আটাকামা মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা বিরল তুষারপাতে সাদা হয়ে গেছে। আগস্টজুড়ে পরপর কয়েকটি শীতকালীন ঝড়ের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা সাধারণত অত্যন্ত শুষ্ক এই অঞ্চলের জন্য অস্বাভাবিক।   নাসার স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, আন্দিজ পর্বতমালা থেকে আটাকামার শুষ্ক কেন্দ্র পেরিয়ে তুষার প্রায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। নাসার ল্যান্ডস্যাট ৮ ও ৯ এবং টেরা স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে মরুভূমির স্বাভাবিক বাদামি ও কমলা রঙের ভূদৃশ্য তুষারে ঢেকে যেতে দেখা যায়। বিশেষ করে চাজনান্তর মালভূমিতে ভারী তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের কারণে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রেডিও টেলিস্কোপ আলমা সাময়িকভাবে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর অ্যান্টেনাগুলোও নিরাপদ অবস্থায় নেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন নিম্নচাপ ব্যবস্থা ও অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত একটি নিম্নচাপ বলয়ের সঙ্গে উপকূলীয় আর্দ্রতার সংযোগেই এই বিরল আবহাওয়া তৈরি হয়। এর প্রভাবে শুধু তুষারপাতই নয়, মরুভূমির কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। উত্তর চিলির উপকূলীয় শহর তালতালে তিন দিনে প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা শহরটির গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ১০ গুণ। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০১১ সালেও আটাকামায় তুষারপাত হয়েছিল, তবে ২০২৬ সালের ঘটনাটি বিস্তৃতির দিক থেকে বিশেষভাবে অস্বাভাবিক।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:৪৩
মিনিয়াপোলিসের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত
মিনিয়াপোলিসে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলা, সন্দেহভাজনসহ নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।   স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে শহরের কেন্দ্রস্থলের ১৫ ইস্ট গ্র্যান্ট স্ট্রিটের একটি উঁচু ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিনিয়াপোলিস পুলিশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিল পিটারসন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিকেল ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে ভবনটিতে একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে একাধিক ব্যক্তি ফোন করে গুলির শব্দ শোনার কথা জানালে ঘটনাটিকে দ্রুত সক্রিয় বন্দুকধারীর হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।   পুলিশ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে দেখতে পান এবং গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে কর্মকর্তারা গুলির শব্দ অনুসরণ করে ভবনের ওপরের একটি তলায় পৌঁছান। সেখানে ঘন কুয়াশার মতো একটি আবরণ থাকায় তাদের দৃষ্টিসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে ওই আবরণটি কী কারণে সৃষ্টি হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের সঙ্গে সন্দেহভাজন হামলাকারীর গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি নিহত হন। তবে তিনি কীভাবে নিহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পুলিশ। পুলিশ প্রধান বিল পিটারসন ঘটনাটিকে ‘একজন সহিংস বন্দুকধারীর কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   হামলায় গুলিবিদ্ধ পাঁচজনের মধ্যে দুইজন মিনিয়াপোলিস পুলিশের কর্মকর্তা। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ না হলেও অন্যভাবে আহত হয়েছেন। তিন পুলিশ কর্মকর্তার অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হেনেপিন কাউন্টি মেডিকেল সেন্টার। নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় বুধবার পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি পুলিশের অপরিচিত ছিলেন না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই তাকে চিনত। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:২৮
ট্রাম্প ও সহযোগীদের ইরানকেন্দ্রিক নতুন কৌশল
নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ ‘নিয়ন্ত্রণে’ রাখতে চান ট্রাম্পের সহযোগীরা, এরপর বাড়তে পারে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আপাতত আর বড় আকারে বাড়াতে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন। অন্তত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন হোয়াইট হাউসের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবারও জোরালো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন চারজন ব্যক্তি বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে না জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলা বা অন্য কোনো ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দিলে এই পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে।   এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে, তবে নভেম্বরের নির্বাচনও এখন প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।   এর পেছনে রাজনৈতিক হিসাবও রয়েছে। কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই অল্প ব্যবধানে। ফলে নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ আরও বড় আকার নিলে সেটি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।   এরই মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও বাড়ছে। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের শেষের দিকের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানির বাড়তি দাম, যা সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করছে।   যুদ্ধের গতি কিছুটা কমানোর পেছনে সামরিক কারণও রয়েছে। কয়েক মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য সময় দেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।   কিন্তু সমস্যা হলো, যুদ্ধকে চাইলেই নভেম্বর পর্যন্ত শান্ত রাখা নাও যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা করে। এর জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।   এরপর মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আরও কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ের পর এটিকে সবচেয়ে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব হামলায় ইরানে সামরিক সদস্যের পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও নিহত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ছাড়াও মার্কিন ও উপসাগরীয় মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে তেহরান।   এতে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পাল্টা জবাব দেওয়ার চাপ বাড়বে। এক পক্ষের হামলার জবাবে অন্য পক্ষের হামলা—এভাবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বাড়াতে না চাইলেও ঘটনাপ্রবাহ তাদের আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দিকে ঠেলে দিতে পারে।   এর মধ্যে ট্রাম্প নিজেও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে দেশটির ওপর আরও কঠিন ও বড় মাত্রার হামলা চালানো হবে।   তবে পরদিন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচন ইরানবিষয়ক তার নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন।   ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে লড়ছেন না, তার দল লড়ছে এবং তিনি দলকে সহায়তা করবেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।   যুদ্ধের সপ্তম মাসে এসে অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এক জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, পরিস্থিতির ‘সময়সূচি বদলে গেছে’। আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ক্যালেন্ডারই ইরানকে পরিচালিত করছে।’ অর্থাৎ নভেম্বরের নির্বাচন এখন ইরান নীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে।   সামরিক অভিযান কিছুটা সীমিত রাখার পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধও অব্যাহত আছে।   তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। বরং চাপ আরও বাড়লে ইরান সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।   তার ওপর চীনের মতো বড় শক্তিগুলো ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় পুরোপুরি সহযোগিতা করছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।   সব মিলিয়ে, নভেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধকে যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ফলে নির্বাচন পর্যন্ত সংঘাত সীমিত থাকবে, নাকি তার আগেই আবারও বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৬:২৫
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাচ্ছে বিভিন্ন দেশ, এবার ৮৬ টন সোনা সরাল নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত নিজেদের সোনার মজুতের প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত।   ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর করা হয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ কানাডার অটোয়ায় ছিল। স্থানান্তরের পর দুই জায়গাতেই রয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে সঞ্চিত সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ।   ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সোনা রাখলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত তা লেনদেন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সোনা ছড়িয়ে রাখায় ঝুঁকিও কমে।    তবে নেদারল্যান্ডসই প্রথম নয়। ফ্রান্স ও জার্মানিও অতীতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে নিজেদের সোনা সরিয়েছে। ফ্রান্স ২০২৫-২৬ সময়ে নিউইয়র্কে থাকা ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে ইউরোপে সমপরিমাণ নতুন সোনা কিনেছে। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ওই সোনা আন্তর্জাতিক মানে না থাকায় বিক্রি করে ইউরোপে নতুন সোনা কেনা হয়েছিল।    জার্মানি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন এবং প্যারিস থেকে ৩৭৪ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে স্থানান্তর করে। ২০১৭ সালের আগস্টে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দেশটির মোট সোনার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ তখন জার্মানিতেই সংরক্ষিত ছিল।    তবে এসব স্থানান্তরকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থার প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। দেশগুলো মূলত সোনার নিরাপত্তা, ঝুঁকি বণ্টন এবং সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৪:৩৩
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ
জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি থাকা বিশেষ ১ ডলারের কয়েন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ, কয়েক ঘণ্টাতেই বিক্রি শেষ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নতুন নজির তৈরি করে দেশটির মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট বুধবার ট্রাম্পের ছবি থাকা ১ ডলারের কয়েন বিক্রি শুরু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর মজুত শেষ হয়ে যায়।   কয়েনটি যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, সঙ্গে রয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ লেখা। অন্য পাশে রয়েছে প্রেসিডেনশিয়াল সিল ও ‘২৫০’ লেখা।   মিন্টের ওয়েবসাইটে ২৫টি কয়েনের একটি রোলের দাম রাখা হয়েছে ৬১ ডলার, আর ১০০টি কয়েনের ব্যাগের দাম ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট। বর্তমানে এগুলো পুনরায় সরবরাহের জন্য অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।   তবে দেখতে সোনালি হলেও কয়েনটি সোনার তৈরি নয়। এতে মূলত তামা, দস্তা, ম্যাঙ্গানিজ ও নিকেলের মিশ্রণ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মিন্ট জানিয়েছে, কয়েনটি ২০২৬ সালের জন্য অনুমোদিত বিশেষ ১ ডলার মুদ্রা কর্মসূচির অংশ। মিন্টের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে এক বছরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৪:১২
টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন
টেক্সাসের হাসপাতালে বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে।   তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।   টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন।   এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত।   কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:৫৩
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি
নিউইয়র্কের স্কুলে এক বছর এআই নিষিদ্ধের কঠোর নীতি, প্রভাবিত হবে ৬ লাখ শিক্ষার্থী

নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহারে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিতে একই সঙ্গে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন টাইম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   মেয়র জোহরান মামদানি ও স্কুল চ্যান্সেলর মেলিসা সামুয়েলসের ঘোষিত নীতিটি নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থীকে প্রভাবিত করবে, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।   নীতির আওতায় ২-কে থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের কাজে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে না। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমিয়ে পড়াশোনা, চিন্তাশক্তি ও শ্রেণিকক্ষের সরাসরি শেখার পরিবেশে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।   তবে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এআই পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের এআই সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা বা এআই লিটারেসি শেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই কীভাবে কাজ করে, এর সম্ভাবনা ও ঝুঁকি এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।   নতুন নীতিতে ছোট শিক্ষার্থীদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু এআই নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়েও স্কুলগুলোতে নতুন করে নীতিমালা কার্যকর হবে।   কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে শেখার মৌলিক দক্ষতা শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় এআই দক্ষতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।   নীতিটি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কার্যকর হবে। ফলে নিউইয়র্কের সরকারি স্কুলে ছোট শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি বড় শিক্ষার্থীদের জন্য এআই শেখার সুযোগ - দুই ধরনের নীতিই একসঙ্গে চালু হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:৩২
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার নির্বাহী আদেশ আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন আটকে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ বোর্ডম্যান। বুধবার মেরিল্যান্ডের এই বিচারক আদেশটির বিরুদ্ধে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।    ট্রাম্প গত ৬ আগস্ট নতুন নির্বাহী আদেশটি জারি করেন। এতে তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর পাশাপাশি বিদেশি সরকারের কর্মী, ‘বিদেশি শত্রু’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার কথা বলা হয়।    এর আগে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বা সাময়িক ভিসায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে সেই উদ্যোগ অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যাত হয়। আদালত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিক।    নতুন আদেশের ক্ষেত্রেও বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে যেসব শিশুকে জন্মের সময় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নতুন আদেশ “প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক”।    বোর্ডম্যানের আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওই শ্রেণির শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার বা স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তবে প্রশাসন কীভাবে আদেশটি বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে নির্দেশনা তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।    ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, নতুন আদেশটি আগেরটির তুলনায় অনেক সীমিত এবং বাস্তবায়নের বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই মামলাটি এখনই বিবেচনা করা উচিত নয়। বিচারক অবশ্য সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে একটি খসড়া নির্দেশনা তৈরি করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের আবেদনের সময় বাবা-মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন স্টাটাস-এর প্রমাণ চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন নির্বাহী আদেশটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন পরবর্তী আদালতীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:১৬
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নাকচ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।   বুধবার ফক্স নিউজ রেডিওর দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ভারত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি মনে করেন না। তার মন্তব্য আসে মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠক নিয়ে আলোচনার সময়।    বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পেজেশকিয়ান বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মোদি জানান, ভারত ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যময় করতে চায়।    তবে রুবিও বলেন, প্রতিটি দেশ নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং বিশ্বের অনেক দেশই ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন সময়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।    একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনো দেশ সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন রুবিও। তার ভাষ্য, কোনো দেশ যদি ইরানকে অর্থ উপার্জনের এমন ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়, যা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে, তাহলে সেই দেশও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।    রুবিওর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিচ্ছে।    অর্থাৎ, ভারত-ইরান সম্পর্ক জোরদার এবং বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ দিল্লি প্রকাশ করলেও নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে - এমন দাবিকে এখনই স্বীকৃতি দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।  

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৩:৫
ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা
ব্রাজিল ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা, দিন-রাতই সহিংস অপরাধের ঝুঁকি

ব্রাজিল ভ্রমণে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অপরাধ ও অপহরণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে পানীয়ের দিকে নজর রাখা, এটিএম ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ৩১ আগস্ট ব্রাজিলের জন্য ‘লেভেল ২ - বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন’ ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে দেশটির সামগ্রিক সতর্কতার মাত্রা পরিবর্তন করা হয়নি। সতর্কতা হালনাগাদের প্রধান কারণ হিসেবে অপরাধ ও অপহরণের ঝুঁকি উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রাজিলের শহরাঞ্চলে দিন-রাত যেকোনো সময় সহিংস অপরাধ ঘটতে পারে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র ডাকাতি ও গাড়ি ছিনতাই রয়েছে।   বিদেশিদের লক্ষ্য করেও অপরাধীরা নানা কৌশল ব্যবহার করে বলে সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। বিশেষ করে ডেটিং অ্যাপ বা বার থেকে পরিচয়ের পর অপরাধীদের কেউ কেউ বিদেশিদের মাদক প্রয়োগ করে অচেতন বা দুর্বল করে তাদের কাছ থেকে অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে পারে।   রিও ডি জেনেইরোতে পানীয়তে ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোনো মাদক মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তাই অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার বা পানীয় না নেওয়া এবং নিজের পানীয় সবসময় নজরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এটিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘এক্সপ্রেস কিডন্যাপিং’-এর ঘটনায় অপরাধীরা অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীকে একাধিক এটিএম থেকে টাকা তুলতে বা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করতে বাধ্য করতে পারে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিরাও এমন ঘটনার শিকার হতে পারেন।   ভ্রমণকারীদের আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা, মূল্যবান জিনিস প্রদর্শন না করা এবং রাতে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সমুদ্রসৈকত, বার, পরিবহনকেন্দ্র ও গণপরিবহনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথাও বলা হয়েছে।   বিশেষ করে রাতে পাবলিক বাস ব্যবহারের সময় ডাকাতি বা হামলার ঝুঁকি বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   এদিকে ব্রাজিলের কিছু এলাকায় ‘লেভেল ৪ - ভ্রমণ করবেন না’ সতর্কতা বহাল রয়েছে। এর মধ্যে কিছু আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত, অনানুষ্ঠানিক বসতি এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার আশপাশের নির্দিষ্ট এলাকা রয়েছে।   মার্কিন নাগরিকদের মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও মাঝেমধ্যে ঘটে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তাই ব্রাজিল ভ্রমণকারীদের সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২:৫৫
অবসর নেওয়ার পর বেসরকারি বিমান সংস্থায় যোগ দিলেন অভিনন্দন বর্তমান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে আটক ভারতের সেই পাইলট এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে চালাবেন যাত্রীবাহী বিমান

২০১৯ সালে পাকিস্তানে আটক হওয়া ভারতের সেই যুদ্ধবিমান পাইলট অভিনন্দন বর্তমান এবার যুদ্ধবিমান ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন। ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি গোয়াভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই৯১-এ পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত আগস্টে তিনি সংস্থাটিতে যোগ দেন।   অভিনন্দন বর্তমান ভারতীয় বিমানবাহিনীর সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে আকাশযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ওই সময় পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। আকাশযুদ্ধের সময় তার মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   এরপর অভিনন্দনকে যুদ্ধবিমান থেকে বের হয়ে পাকিস্তান-অধিকৃত এলাকায় অবতরণ করতে হয়। পরে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে আটক করে। তিন দিন আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান। ওই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং অভিনন্দন ভারতের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।   ২০১৯ সালের ওই আকাশযুদ্ধে সাহসিকতার জন্য অভিনন্দনকে পরে বীরচক্র পদকে সম্মানিত করা হয়। তিনি ২০২১ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্ব পদক বীরচক্র লাভ করেন। সে সময় তিনি উইং কমান্ডার পদে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে তার পদমর্যাদা গ্রুপ ক্যাপ্টেন পর্যন্ত উন্নীত হয়।   দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারের পর চলতি বছরের মার্চে ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন অভিনন্দন। অবসরের কয়েক মাস পরই তিনি বেসামরিক বিমান চলাচলে যোগ দিলেন। এখন থেকে তিনি গোয়াভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাই৯১-এর পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   ফ্লাই৯১ একটি গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক বিমান সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। অভিনন্দন গত আগস্টে এই সংস্থায় পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি ঠিক কোন ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিনন্দনের নতুন দায়িত্ব নিয়ে ফ্লাই৯১-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে তার নতুন দায়িত্বের নির্দিষ্ট ধরন এবং কোন উড়োজাহাজ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   অভিনন্দনের পেশাগত জীবনের এই পরিবর্তন এসেছে ২০১৯ সালের আলোচিত আকাশযুদ্ধের কয়েক বছর পর। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের হাতে আটক হওয়ার পর তিনি ভারতের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বীরচক্র পদকও পান। ভারতীয় বিমানবাহিনীতে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নিয়ে এবার তিনি বেসামরিক বিমান চলাচলে যুক্ত হলেন।   অভিনন্দনের নতুন কর্মজীবন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, তিনি এখন ফ্লাই৯১-এর পাইলট। সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার মাধ্যমে তার পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাটিতে তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২:৩২
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক
সরকারে দুর্নীতি ব্যাপক মনে করেন ৮৯% মার্কিন নাগরিক, গ্যালাপের জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গ্যালাপের নতুন জরিপে ৮৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, দেশটির সরকারে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আছে।   গত বছরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১০ শতাংশ পয়েন্ট। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একই প্রশ্নে এই হার সাধারণত ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।   দলীয় বিভাজনেও এবার বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ২০২৪ সালে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্টের শেষ বছরে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এমনটা মনে করলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৭৬ শতাংশ এবং চলতি বছরে ৯১ শতাংশে পৌঁছেছে।   স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই হার ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক বলে মনে করেন।   গ্যালাপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের দুর্নীতি নিয়ে ধারণা হোয়াইট হাউস কোন দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মতামত তুলনামূলকভাবে স্থির থাকায় তাদের উদ্বেগ ক্ষমতাসীন দলের ওপর কম নির্ভরশীল হতে পারে।   শুধু সরকার নয়, ব্যবসায়িক খাত নিয়েও দুর্নীতির উদ্বেগ বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ব্যবসায়িক খাতেও দুর্নীতি ব্যাপক। গত বছরের তুলনায় এই হার বেড়েছে ৮ শতাংশ পয়েন্ট। তবে সরকার ও ব্যবসার মধ্যে দুর্নীতির ধারণাগত ব্যবধান এখন ১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।   গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দুর্নীতিকে ব্যাপক মনে করার হার ব্যবসায়িক দুর্নীতির তুলনায় গড়ে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি ছিল। চলতি বছরে এই ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ফলে সরকারে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের অসন্তোষ এখন দলীয় সীমারেখাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৫৬
৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার
ব্যবসা ঢেলে সাজাতে ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার

ব্যবসার কাঠামো ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করছে উবার। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশকে এই ছাঁটাইয়ের আওতায় আনা হচ্ছে, যা কোভিড-১৯ মহামারির পর কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচন।    উবারের প্রধান নির্বাহী দারা খোসরোশাহি কর্মীদের পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, কোম্পানির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত স্তর, কাজের সমন্বয়ে জটিলতা এবং দায়িত্ব বণ্টনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য এসব জটিলতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করা।   পুনর্গঠনের ফলে উবারে ব্যবস্থাপনা স্তরও কমানো হচ্ছে। সাত বা তার বেশি স্তর নিচে থাকা কর্মীর সংখ্যা ২০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে এক বা দুইজন কর্মী নিয়ে গঠিত ছোট ‘মাইক্রো-টিম’-এর সংখ্যাও প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হচ্ছে।    কোম্পানির বিভিন্ন দলও একীভূত করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্ট, খুচরা ব্যবসা ও অন্যান্য ডেলিভারি কার্যক্রমের পৃথক দলগুলোকে আরও সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। উবার বলছে, এতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি কমবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বাড়বে।   কর্মীদের অফিসে ফেরানোর ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনছে উবার। এখন থেকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ কর্মী দূর থেকে কাজ করতে পারবেন। অধিকাংশ কর্মীকে অফিসে ফিরতে হবে এবং আগের মতো সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিসে কাজের নীতি বহাল থাকবে।   উবারের দাবি, কর্মী কমিয়ে যে অর্থ সাশ্রয় হবে তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা হবে। বিশেষ করে চালক, ডেলিভারি কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সেবার উন্নয়ন এবং স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বা রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।    স্বয়ংক্রিয় পরিবহন খাতে উবারের বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরগুলোতে রোবোট্যাক্সি অংশীদারিত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। একই সময়ে ওয়েমো ও টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।   নতুন ছাঁটাইয়ের ফলে উবারের মোট কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজারের নিচে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ২০২১ সালের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার সমান। তবে এই ছাঁটাই উবারের চালক ও ডেলিভারি কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তারা সাধারণত স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।   উবার জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য শুধু খরচ কমানো নয় - বরং প্রতিষ্ঠানের কাঠামো সরল করে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ও স্বয়ংক্রিয় পরিবহন প্রযুক্তিতে আরও বেশি সম্পদ কেন্দ্রীভূত করা।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে, আরও ব্যয়বহুল হতে পারে বাড়ি-গাড়ির ঋণ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড দ্রুত বাড়ায় সাধারণ আমেরিকানদের ঋণের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাড়ি ও গাড়ির ঋণে, এমনকি শেয়ারবাজারেও।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড বেড়ে ৪ দশমিক ৭৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এর এক দিন আগেই ১০ বছরের ইয়িল্ড ৪ দশমিক ৭৯৬ শতাংশে উঠেছিল। একই সময়ে ৩০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড ৫ দশমিক ২৮৬ শতাংশে পৌঁছে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যায়।     বন্ড বাজারে এই বিক্রির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে হতে পারে।   ট্রেজারি বন্ডের দাম ও ইয়িল্ড পরস্পর বিপরীতমুখী। বিনিয়োগকারীরা বন্ড বিক্রি করলে এর দাম কমে এবং ইয়িল্ড বেড়ে যায়। এখন সেই ইয়িল্ডের দ্রুত উত্থান শুধু ওয়াল স্ট্রিটের বিষয় হয়ে থাকছে না, এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও।   বিশেষ করে মর্টগেজের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে ট্রেজারি ইয়িল্ড আরও বাড়লে বাড়ি কেনার জন্য নতুন করে ঋণ নিতে যাওয়া মানুষের মাসিক কিস্তি ও মোট সুদের খরচ বাড়তে পারে।   এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে চাপ রয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়ির সরবরাহ কম এবং দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতারা উচ্চ ঋণখরচের কারণে বাজার থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।   গত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক বেশি সুদের হারও আবাসন বাজারকে অনেকটা স্থবির করে রেখেছে। কম সুদের সময়ে মর্টগেজ নেওয়া বাড়ির মালিকদের অনেকে বাড়ি বদলাতে চাইছেন না, কারণ নতুন বাড়ি কিনলে তাদের পুরোনো কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদের ঋণ নিতে হবে।   প্রভাব পড়তে পারে অটো লোন ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণেও। ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়ার সঙ্গে অর্থনীতিজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে গাড়ি কেনা বা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বহন করাও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে উচ্চ ইয়িল্ড শেয়ারবাজারের জন্যও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ ১০ বছরের ট্রেজারি থেকে যখন বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি রিটার্ন পেতে পারেন, তখন ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের তুলনায় নিরাপদ সরকারি বন্ড আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।   বিশেষ করে বেশি মূল্যায়নে থাকা টেকনোলজি ও এআই কোম্পানির শেয়ারে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ সুদের হার বাড়লে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয়কে বর্তমান মূল্যে হিসাব করার সময় সেই কোম্পানিগুলোর মূল্যায়নে চাপ পড়ে।   বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অর্থাৎ তেলের দাম বাড়া থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ, সেখান থেকে সুদের হার ও ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়া - শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ এবং বিনিয়োগে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১:৩
ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা
শিক্ষার্থীর ওপর আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর, ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়ায় লজ্জায় আত্যহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে আইসিইর অ্যাঙ্কল মনিটর পরার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ২০ বছর বয়সী হাইতিয়ান শিক্ষার্থী পিয়ের দামাস বেল। পরিবারের দাবি, মনিটরটি পরার কারণে তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ ও ‘লজ্জিত’ বোধ করছিলেন।   সোমবার সকালে আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টা আগে বাবাকে ফোন করেছিলেন বেল। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে ইন্টারস্টেট-৭০ মহাসড়কের পাশে গাড়িতে বসে বাবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় মানসিক ও আবেগগতভাবে ভেঙে পড়ার কথা জানান।   বেলের বাবা তাকে বাড়ি ফিরে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে জানায়, বেল একটি চলন্ত ট্রাকের সামনে ঝাঁপ দিয়েছেন। ওহাইও স্টেট হাইওয়ে প্যাট্রোল জানিয়েছে, গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   বেলের পরিবার ও স্থানীয় অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, জুলাই থেকে পায়ে থাকা অ্যাঙ্কল মনিটর নিয়ে তিনি গভীরভাবে মানসিক চাপে ছিলেন। স্থানীয় যাজক ও অভিবাসন অধিকারকর্মী কার্ল রুবি বলেন, পরিবারটি চায় ঘটনাটিকে অভিবাসন নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত আত্মহত্যা হিসেবে দেখা হোক।   ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বেল। তিনি তখনকার সিবিপি ওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে স্প্রিংফিল্ডে বাবা-মা ও দুই ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।   পড়াশোনা ও খেলাধুলায়ও ভালো ছিলেন বেল। স্প্রিংফিল্ড হাইস্কুলে তিনি সম্মান তালিকায় ছিলেন এবং জেআরওটিসিতে যুক্ত ছিলেন। পরে উইটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির ফুটবল দলে খেলার সুযোগ পান। ভবিষ্যতে মেডিকেল স্কুলে পড়ারও পরিকল্পনা ছিল তার।   তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিবাসন প্রক্রিয়া চলার সময় আইসিই তাকে ‘অলটারনেটিভস টু ডিটেনশন’ কর্মসূচির আওতায় এনে পায়ে জিপিএস অ্যাঙ্কল মনিটর পরিয়ে দেয়।   এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান বেল। তিনি লিখেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে এসেছিলেন, কোনো অপরাধ করতে বা কাউকে আঘাত করতে নয়। কিন্তু এখন পায়ে জিপিএস মনিটর নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে এবং এতে তিনি এমন লজ্জা ও অপমানবোধ করছেন, যা কখনো কল্পনাও করেননি।   বেল ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রায় তিন লাখ হাইতিয়ান নাগরিকের একজন, যারা সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারিয়েছেন। এরপর স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।   বেলের টিপিএস হারানোর পর তিনি উইটেনবার্গের ফুটবল দলেও খেলতে পারছিলেন না বলে জানিয়েছে দলটি। পরে কাছের রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে যাওয়ার পর তাকে কটূক্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়।   ওহাইওর রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন অভিবাসীদের এভাবে আটক করে নির্বাসনের মুখে ঠেলে দেওয়া সত্যিই কাঙ্ক্ষিত নীতি কি না।   তবে বেলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলায় আইসিই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে যাচাই না হওয়া কোনো দাবির বিষয়ে তারা অনুমান করবে না।   স্প্রিংফিল্ডের হাইতিয়ান সাপোর্ট সেন্টারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিলেস ডোরসেইনভিল বলেন, টিপিএস বাতিলের পর অনেক হাইতিয়ান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বেলের ঘটনা অভিবাসন নীতির কারণে তৈরি হওয়া সেই উদ্বেগের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ০:৪৩
বন্যায় ধ্বংস হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নেপাল সীমান্তে সড়ক পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
বন্যায় ধ্বংস হওয়া নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহে পুনর্নির্মাণ করল চীন

ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। নেপাল ও চীনের মধ্যকার অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম জিরং বা গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের এই সড়কটি বুধবার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সড়কটি দ্রুত মেরামত করার ফলে এখন দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো অনেক সহজ হবে।   গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সঙ্গে যুক্ত এই বিস্তীর্ণ সড়কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ওই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি এসেছে।   এদিকে নেপালে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের বাধা পেরিয়ে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক এই বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে।   হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলেই এমন আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:৫৬
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে লন্ডনে সরানো হয়েছে নেদারল্যান্ডসের ৮৬ টন সোনা। ছবি: সংগৃহীত
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে যুক্তরাজ্যে নিল নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (ডিএনবি) যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের সোনার মজুতের ৮৬ টন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট দেখা দিলে যাতে দ্রুত সোনা ব্যবহার বা বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।   ডিএনবির ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা প্রায় ৩১৩ টন সোনার মধ্যে প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভৌত সোনার বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে সংরক্ষিত সোনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মান পূরণ করে এবং তুলনামূলকভাবে সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে কোনো সংকট পরিস্থিতিতে এই সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে।   ডিএনবির গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুত কখনো ব্যবহার করতে হবে না বলেই তারা আশা করেন। তবে দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থা সোনার মজুতকে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করেছে বলেও জানান তিনি। নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ ৬১২ দশমিক ৪ টন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এর মূল্য ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি কমাতে দেশটির সোনা বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে।   নতুন স্থানান্তরের আগে ডিএনবির মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার অটোয়ায়। লন্ডনে ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানান্তরের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া, দুই জায়গাতেই ডাচ সোনার অংশ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে থাকা সোনার অংশ ৩০ দশমিক ৮ শতাংশই রয়েছে।   তবে পুরো ৮৬ টন সোনা শারীরিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়নি। ডিএনবি জানিয়েছে, প্রায় ৫৯ টন সোনা নিউইয়র্কে বিক্রি করে লন্ডনে আন্তর্জাতিক বাজারের মানসম্পন্ন সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা শারীরিকভাবে নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। একই পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরোনো সোনার বার গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।   ব্যাংকটির মতে, সোনা কেনাবেচা এবং সীমিত পরিমাণ শারীরিক স্থানান্তর একসঙ্গে করার ফলে বিপুল পরিমাণ সোনা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিও কমানো গেছে। ভবিষ্যতে কোনো সংকটের সময় সোনা সরানোর প্রয়োজন হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও জানিয়েছে ডিএনবি। ডিএনবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সোনা সংরক্ষণের বিষয় নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। ডিএনবি নিজেও ২০২৬ সালে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   ফ্রান্সের ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরাঁ শোয়ার্টজ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সোনার মজুত পুনর্বিন্যাস করছে। তার মতে, লন্ডনের সোনার বাজার গভীর ও বেশি তারল্যপূর্ণ হওয়ায় সংকটের সময় সেখানে রাখা সোনা তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে সিটি জেসশন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার মনে করেন, ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো সংকট দেখা দিলে সোনাকে আরও দ্রুত কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও যদি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাতে শুরু করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   এদিকে জার্মানিতেও নিউইয়র্কে সংরক্ষিত দেশটির সোনার নিরাপত্তা নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে আলোচনা হয়েছিল। তবে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের সোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে এখনও বহাল রয়েছে।   বিশ্ব অর্থনীতিতে সোনা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংকটের সময় এর মূল্য ও বাজারজাত করার সক্ষমতা থাকায় অনেক দেশই ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে নিজেদের সোনা একাধিক দেশে সংরক্ষণ করে। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশলকেই আরও জোরদার করেছে বলে ডিএনবির বক্তব্যে উঠে এসেছে।   সূত্র: ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (DNB), দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:৩৪
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান রবার্ট ডুবয়েস। ছবি: সংগৃহীত
বিনা অপরাধে ৩৭ বছর কারাগারে, নির্দোষ প্রমাণের পর পেলেন ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার

ফ্লোরিডার টাম্পার বাসিন্দা রবার্ট ডুবোইসের জীবনের প্রায় চার দশক কেটে গেছে কারাগারের পেছনে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এমন এক হত্যা ও যৌন নিপীড়নের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যে অপরাধ তিনি করেননি। প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয়, তিনি ওই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়ার চার বছর পর ২০২৪ সালে টাম্পা শহর থেকে তিনি ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অর্থ পান।   ঘটনার শুরু ১৯৮৩ সালে। ফ্লোরিডার টাম্পায় ১৯ বছর বয়সী বারবারা গ্রামসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে তার ওপর যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় তদন্তকারীরা ডুবোইসকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি তখন মাত্র ১৮ বছরের তরুণ।   মামলায় ডুবোইসের বিরুদ্ধে প্রধান প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ভুক্তভোগীর শরীরে থাকা একটি দাঁতের কামড়ের মতো দাগ। একজন ফরেনসিক দন্তবিশেষজ্ঞ দাবি করেন, ওই দাগের সঙ্গে ডুবোইসের দাঁতের গঠনের মিল রয়েছে। তার দাঁতের ছাঁচও নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় কামড়ের দাগ বিশ্লেষণকে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ ধরনের বিশ্লেষণের বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।   মামলায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল কারাগারের এক তথ্যদাতার সাক্ষ্য। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নিজেরও একাধিক ফৌজদারি মামলা চলছিল এবং ডুবোইসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তিনি সুবিধা পেয়েছিলেন বলে তথ্য উঠে আসে। এসব প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই ডুবোইসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   ১৯৮৫ সালে তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে সেই সাজা বাতিল হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি কারাগারে কাটাতে বাধ্য হন। এমনকি প্রায় তিন বছর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবেও তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল।   এরপর কেটে যায় কয়েক দশক। ২০১৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তিদের ভুল সাজা পুনর্বিবেচনায় কাজ করা সংগঠন ইনোসেন্স প্রজেক্ট ডুবোইসের মামলাটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তদন্তকারীরা এমন কিছু অপরাধস্থলের আলামত পুনরায় পরীক্ষা করার সুযোগ পান, যেগুলো আগে নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।   নতুন ডিএনএ পরীক্ষার ফলই বদলে দেয় পুরো মামলার চিত্র। পরীক্ষায় পাওয়া জেনেটিক তথ্য ডুবোইসকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করেনি। বরং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে আমোস রবিনসন ও অ্যাব্রন স্কট নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের হত্যাকাণ্ডে অভিযোগ আনা হয়।   ২০২০ সালের ২৭ আগস্ট প্রায় ৩৭ বছর কারাগারে থাকার পর ডুবোইস মুক্তি পান। ওই সময় তার বয়স ছিল ৫৫ বছর। একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ওই মামলা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করে।   কারাগার থেকে বেরিয়ে ডুবোইসকে এমন একটি জীবন নতুন করে শুরু করতে হয়, যার প্রায় চার দশক ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। পরিবার, সমাজ ও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে আবার মানিয়ে নেওয়া তার জন্য সহজ ছিল না। ইনোসেন্স প্রজেক্টের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও তার হারানো সময় বা সেই সময়ের অভিজ্ঞতা ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।   মুক্তির পর আরেকটি সমস্যা সামনে আসে। ফ্লোরিডার তৎকালীন ক্ষতিপূরণ আইনের কঠোর শর্তের কারণে ডুবোইস সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। কিশোর বয়সে তার বিরুদ্ধে থাকা কিছু ছোটখাটো, অহিংস অপরাধের পুরোনো রেকর্ড এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ৩৭ বছর অন্যায়ভাবে কারাগারে কাটানোর পরও স্বাভাবিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ তার জন্য বন্ধ ছিল।   শেষ পর্যন্ত ডুবোইস টাম্পা শহর, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাম্পা সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা অনুমোদন করে। এই অর্থ ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার ক্ষতির আর্থিক স্বীকৃতি হলেও তার হারানো ৩৭ বছর ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই।   ডুবোইসের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় ভুল ফরেনসিক প্রমাণ ও অনির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। তার মামলায় ব্যবহৃত কামড়ের দাগ বিশ্লেষণ পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়। ইনোসেন্স প্রজেক্ট জানিয়েছে, তার মামলা পুনর্বিবেচনার পর একই ধরনের প্রমাণের ওপর নির্ভর করে হওয়া আরও কিছু পুরোনো মামলা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   অর্থ ও আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পরও ডুবোইসের জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময় আর ফেরার নয়। ১৮ বছর বয়সে যে তরুণ কারাগারে ঢুকেছিলেন, তিনি ৫৫ বছর বয়সে মুক্ত মানুষ হিসেবে বাইরে বের হন। মাঝের প্রায় চার দশক তার জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যা কোনো ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়েই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইনোসেন্স প্রজেক্ট, ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টার।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২৩:১৯
নিউইয়র্কে যোগ্য স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্য ১২০ ডলারের সামার ইবিটি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে যোগ্য শিশুদের জন্য ১২০ ডলারের খাদ্য সহায়তা, আবেদন শেষ ৮ সেপ্টেম্বর

নিউইয়র্কে নিম্নআয়ের পরিবারের যোগ্য স্কুলপড়ুয়া শিশুদের জন্য ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রতি শিশুর জন্য এককালীন ১২০ ডলারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যেসব পরিবারকে আবেদন করতে হবে, তাদের ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।   এই সহায়তা নগদ টাকা নয়। ইলেকট্রনিক সুবিধা স্থানান্তর বা ইবিটি কার্ডের মাধ্যমে খাবার কেনার জন্য অর্থ দেওয়া হবে। অনুমোদিত খাবারের দোকান ও অন্যান্য নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে যোগ্য খাদ্যসামগ্রী কেনায় এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।   নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুলের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পেতে পারে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলে এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে শিশুরা সুবিধাটি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবার জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। যারা ইতোমধ্যে সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি, নগদ সহায়তা বা মেডিকেইডের মতো নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাচ্ছে, কিংবা স্কুলের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা কম দামের খাবারের জন্য যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত, তাদের অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পেয়ে যায়।   যেসব পরিবারকে আবেদন করতে হবে, তারা একটি আবেদনেই পরিবারের যোগ্য সব শিশুর তথ্য দিতে পারবে। আবেদন করার আগে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ২০২৬ সালের জন্য আবেদনের শেষ সময় ৮ সেপ্টেম্বর। এই সময়ের পর করা আবেদন ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৭ সালের কর্মসূচির জন্য বিবেচিত হবে। তাই যোগ্য পরিবারগুলোকে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে দ্রুত আবেদন বা যোগ্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষ করে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মনে রাখা জরুরি, ১২০ ডলারের এই সুবিধা সব শিশুর জন্য নয় এবং এটি নগদ অর্থও নয়। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী শিশুদের খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৪৯
কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের গ্যালাক্সির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে নাসার নতুন মহাজাগতিক ছবি। ছবি: নাসা
মহাবিশ্বের অপরূপ সৌন্দর্য 'কসমিক জেমস' এর দুর্লভ ছবি প্রকাশ করেছে নাসা

মহাবিশ্বের নানা প্রান্তের ১৬টি গ্যালাক্সির চোখধাঁধানো ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিভিন্ন শক্তিশালী দূরবীক্ষণযন্ত্রের তথ্য একত্র করে তৈরি করা এসব ছবিতে ধরা পড়েছে গ্যালাক্সিগুলোর বৈচিত্র্য, উত্তপ্ত গ্যাস, নক্ষত্রের জন্ম এবং মহাকর্ষীয় নানা ঘটনাপ্রবাহ।   নাসার চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের নতুন গ্যালারি ‘গ্যালাকটিক জেমস’ বা ‘মহাজাগতিক রত্ন’ নামে প্রকাশ করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট প্রকাশিত এই সংগ্রহে থাকা প্রতিটি ছবিতে চন্দ্রের কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া এক্স-রে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সেই তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্রসহ আরও বেশ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য।   নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্যালাক্সিগুলোকে সাধারণত তিনটি বড় শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সর্পিল গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে বাহুর মতো কাঠামো ছড়িয়ে থাকে, যেমন আমাদের মিল্কিওয়ে। উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিগুলো তুলনামূলকভাবে পুরোনো এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যালাক্সির সংঘর্ষ ও একীভবনের ফল হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হয়। আর অনিয়মিত গ্যালাক্সির নির্দিষ্ট কোনো একক আকৃতি নেই এবং এতে নানা ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা দেখা যেতে পারে। নতুন প্রকাশিত ১৬টি ছবির সংগ্রহে এই তিন ধরনের গ্যালাক্সিই রয়েছে।   ছবিগুলো তৈরিতে শুধু দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়নি। চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের তথ্যের সঙ্গে নাসার জেমস ওয়েব ও হাবল মহাকাশ দূরবীক্ষণযন্ত্র, আইএক্সপিই, নিল গেহরেলস সুইফট মানমন্দির এবং নিউস্টারের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর মাটিতে থাকা পর্যবেক্ষণকেন্দ্রসহ মহাকাশে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রের তথ্যও এই সমন্বিত ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে।   এ ধরনের একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে গ্যালাক্সির এমন অনেক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যা শুধু সাধারণ দৃশ্যমান আলোতে ধরা পড়ে না। বিশেষ করে এক্স-রে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যালাক্সির অত্যন্ত উত্তপ্ত ও শক্তিশালী অঞ্চল শনাক্ত করা সম্ভব হয়।   চন্দ্রের পর্যবেক্ষণে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত গ্যাস, বিশাল নক্ষত্র থেকে বেরিয়ে আসা প্রবাহ, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত পদার্থ এবং বিস্ফোরিত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষের মতো ঘটনা দেখা যায়। এসব প্রক্রিয়া গ্যালাক্সির বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হওয়া এবং মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মৌল কীভাবে গ্যালাক্সিতে ছড়িয়ে পড়ে, তারও ধারণা পাওয়া যায়।   চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দিরের বিজ্ঞানবিষয়ক যোগাযোগ কর্মকর্তা মেগান ওয়াটজকে গ্যালাক্সিগুলোকে মহাজাগতিক রত্নের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি গ্যালাক্সির আকার ও গঠনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।   পৃথিবীর বিভিন্ন রত্ন কীভাবে কোটি কোটি বছর ধরে গঠিত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একইভাবে দূরের গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণ করেও আমাদের নিজেদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে নাসা।   নতুন গ্যালারির ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনজিসি ১৬৭২, আইআই জেডডব্লিউ ০৯৬, এম৩৩, এনজিসি ৪২৫৮, এনজিসি ১৫৬৯ এবং এনজিসি ৪৬৩১সহ বিভিন্ন গ্যালাক্সি। প্রতিটির বৈশিষ্ট্যও আলাদা। কোথাও দেখা যায় নক্ষত্র তৈরির সক্রিয় অঞ্চল, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরের কার্যকলাপ বা উত্তপ্ত গ্যাসের বিস্তৃত অঞ্চল।   উদাহরণ হিসেবে এনজিসি ৪৬৩১ গ্যালাক্সিটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। এর পর্যবেক্ষণে এক্স-রে তথ্যের পাশাপাশি দৃশ্যমান আলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে গ্যালাক্সিটির ডিস্কের ওপর ও নিচে ছড়িয়ে থাকা উত্তপ্ত গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। নতুন গ্যালারিতে থাকা গ্যালাক্সিগুলোর দূরত্বও বিস্তৃত। নাসার চন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সংগ্রহের বিভিন্ন গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৪৯ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। অর্থাৎ একই গ্যালারিতে এমন সব মহাজাগতিক বস্তু রয়েছে, যাদের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে।   জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এ ধরনের ছবি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়। একটি গ্যালাক্সি কীভাবে জন্ম নেয়, কীভাবে নক্ষত্র তৈরি হয়, কৃষ্ণগহ্বর কীভাবে আশপাশের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এবং সময়ের সঙ্গে গ্যালাক্সির কাঠামো কীভাবে বদলে যায়, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেও এসব পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।   নাসার মতে, এক্স-রে তথ্য অন্য ধরনের আলোর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে গ্যালাক্সিগুলো কীভাবে গড়ে ওঠে, একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তিত হয়, সে সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। দূরের গ্যালাক্সিগুলোকে এভাবে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আমাদের নিজেদের মিল্কিওয়ের বর্তমান অবস্থা, অতীতের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আরও ভালোভাবে জানতে পারেন।   নাসার এই নতুন গ্যালারি তাই একই সঙ্গে মহাবিশ্বের বৈচিত্র্যকে চোখের সামনে তুলে ধরেছে এবং গ্যালাক্সি সম্পর্কে মানুষের বৈজ্ঞানিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।   সংবাদসূত্র: নাসা

প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৪২