সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউ জার্সিতে লাইসেন্সবিহীন তরুণীর গাড়িচাপায় নিভে গেল ৯ মাসের শিশুর জীবন
নিউ জার্সিতে লাইসেন্সবিহীন তরুণীর গাড়িচাপায় নিভে গেল ৯ মাসের শিশুর জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মুদি দোকানের পার্কিং লটে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী বড় বোন।   শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে জ্যাকসন টাউনশিপের কোশার মুদি দোকান এনপিজিএস (NPGS)-এর পার্কিং লটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ওশান কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস।   জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী মারিয়া কোবনগুজমান নামের ওই তরুণী একটি ফোর্ড ফিউশন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার কখনোই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। পার্কিং লট দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্ট্রলারে করে সন্তান নিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন।   দুর্ঘটনার পরপরই মা এবং তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে জার্সি শোর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ৯ মাসের শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   এই ঘটনায় মারিয়া কোবনগুজমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটানো এবং গাড়ি দিয়ে হামলার দুটি পৃথক অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   অন্যদিকে, লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি জেনেও মারিয়াকে গাড়ি চালাতে দেওয়ায় আরিয়াদনা লাজারো-ফ্লোরেস (২২) নামের আরেক তরুণীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।   অন্যের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকেই বর্তমানে ওশান কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:৮
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাবার জন্মদিনেই জন্ম নিল ১৯ পাউন্ডের তিন ছেলে, আলোচনায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাবার জন্মদিনেই জন্ম নিল ১৯ পাউন্ডের তিন ছেলে, আলোচনায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে নাইলা বার্নাল নামের এক নারী একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যাদের সম্মিলিত ওজন ১৯ পাউন্ড। এই ওজন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি। নবজাতকদের মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ (আইডেন্টিক্যাল টুইন) এবং প্রত্যেকের ওজন প্রায় ছয় পাউন্ড করে।   কাকতালীয়ভাবে, শিশুদের বাবা মার্কো বার্নালের জন্মদিনের দিনেই পৃথিবীতে এসেছে এই তিন সন্তান। ঘরে আগে থেকেই দুই সন্তান থাকায় নতুন এই তিন অতিথিকে নিয়ে বার্নাল পরিবারের সদস্য সংখ্যা এখন সাতে দাঁড়াল।   সিবিএস এলএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের এই অনন্য অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বার্নাল দম্পতি। মা নাইলা বলেন, "প্রথম বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনেই আমি কেঁদে ফেলি।   এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জনের কান্না যখন একসঙ্গে শুনলাম, তখন ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছি।" কায়সার পারমানেন্ট সাউথ বে মেডিকেল সেন্টারের নিওনাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. রোহিত পাসি এই ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, সুস্থ শিশুদের পরিবারের সঙ্গে হাসিমুখে দেখতে পাওয়াই তাদের চিকিৎসা পেশার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।   জন্মের ওজনের তুলনামূলক পরিসংখ্যান খেয়াল করলে দেখা যায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের বার্নাল পরিবারের সদ্যোজাত এই ত্রিপ্লেটের মোট ওজন ১৯ পাউন্ড। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত জন্ম নেওয়া সবচেয়ে ভারী ত্রিপ্লেটের রেকর্ডটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের এঙ্গেলউডের ইভান, এইডেন এবং লিলির দখলে।   ২০০৩ সালের জুলাই মাসে জন্ম নেওয়া ওই তিন শিশুর সম্মিলিত ওজন ছিল ২২ পাউন্ড ১২.০৬ আউন্স। অন্যদিকে, সবচেয়ে ভারী একক শিশু জন্মের বিশ্ব রেকর্ডটি হয়েছিল ১৮৭৯ সালে।   ৭ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘকায় নারী আনা হাইনিং সোয়ান সেসময় ২২ পাউন্ড ওজনের একটি একক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন। জানা যায়, সন্তান প্রসবের সময় তার শরীর থেকে প্রায় ছয় গ্যালন ফ্লুইড বেরিয়ে গিয়েছিল।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৩:৪৯
সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের পুরো টিউশন ফি বহনের ঘোষণা দিয়েছে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকার। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক শিক্ষার পুরো খরচ দেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকার

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় সরকারের নেতৃত্বাধীন সরকার সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের পুরো টিউশন ফি বহনের ঘোষণা দিয়েছে। এই সুবিধার আওতায় বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষা খরচে সরকারি সহায়তা পাবেন।   সরকারি, অনুদানপ্রাপ্ত এবং স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সুবিধা কার্যকর হবে। কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করা মুসলিম নারী শিক্ষার্থীরা এই সহায়তার আওতায় থাকবেন।   এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি বহনের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।   শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি স্কুলছাত্রীদের জন্য বৃত্তির পরিধি বাড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছে সরকার। মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চেন্নাইয়ে একটি নতুন নারী কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়নের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদ উন্নয়নে এই অর্থায়ন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।   তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে যুবকদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের পুরো টিউশন ফি বহনের বিষয়টি অন্যতম। সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই সহায়তা দেওয়া হবে।   প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দের পাশাপাশি স্কুলছাত্রীদের বৃত্তি সম্প্রসারণ, চেন্নাইয়ে নতুন নারী কলেজ স্থাপন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পদের জন্য সুদমুক্ত অর্থায়ন এবং তরুণদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৩:১৮
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনজিৎ কৌর I ছবি: সংগৃহীত
পাঞ্জাবে গাছে বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে আ গুনে পুড়িয়ে হ ত্যা

পাঞ্জাবে মনজিৎ কৌর নামের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে অপহরণের পর বনাঞ্চলে নিয়ে গাছে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ২৬ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।   নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও নিহতের জবানবন্দি নিতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   মামলার এজাহার ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, গত ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে মনজিতের পরিচিত দুই ব্যক্তি—শুভি ও পিন্ডা—তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪-এ ডেকে পাঠায়।   সেখানে তাকে মারধরের পর জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে পাঞ্জাবের মোরিন্ডার কাছের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়।   অভিযুক্তরা তাকে একটি গাছে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য এক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ও পরে মোহালির ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।   অবস্থার অবনতি হলে তাকে চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআর (PGIMER)-এ স্থানান্তর করা হয়, সেখানেই দীর্ঘ দুই মাস পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   এই ঘটনায় পুলিশের চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ যখন কথা বলার মতো সচেতন ছিলেন এবং জবানবন্দি দিতে চেয়েছিলেন, তখন পুলিশ তার বক্তব্য রেকর্ড করতে ব্যর্থ হয়।   গত ২৬ আগস্ট তার মৃত্যুর পর পিজিআই পুলিশ পোস্ট থেকে খারার সদর থানায় পুনরায় বার্তা পাঠানো হলে তবেই তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতালে যান।   পরবর্তীতে নিহতের মাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ থানায় নিয়ে বুধবার রাতে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে তরুণীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   এদিকে, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তাদের দাবি, অপহরণের মূল ঘটনাটি চণ্ডীগড়ে ঘটায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব চণ্ডীগড় পুলিশেরই ছিল।   তবে খারার পুলিশ নিহতের মাকে এফআইআর দায়েরসহ সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলে তারা জানিয়েছে। পুরো ঘটনার পুনঃনির্মাণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জবানবন্দি নিতে না পারার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৩:১৪
লুইজিয়ানায় নবজাতক সন্তান হত্যার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
নবজাতক সন্তান হত্যায় ১৫ বছরের কিশোরীকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লিভিংস্টন প্যারিশে নবজাতক সন্তান হত্যার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোর অপরাধীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সাজা।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই কিশোরী নিজের শয়নকক্ষে পূর্ণ মেয়াদের একটি সন্তান প্রসব করে। এরপর নবজাতকটির প্রাণ নেওয়া হয় বলে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে কিশোরীর শয়নকক্ষে একটি ব্যাগের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাটিকে জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   লুইজিয়ানার ২১তম জুডিশিয়াল ডিস্ট্রিক্টের কিশোর বিভাগে সহকারী জেলা অ্যাটর্নি কিনচেন-গ্রস মামলাটিতে প্রমাণ উপস্থাপন করেন। জেলা অ্যাটর্নি স্কট পেরিলু বলেন, নিরপরাধ শিশুটির জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলায় কাজ করা দলের প্রচেষ্টার তিনি প্রশংসা করেন।   ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ কিশোরীটিকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচারের জন্য আবেদন করেছিল। কর্মকর্তারা জানান, তার বয়সের কারণে কিশোর আদালত থেকে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে স্থানান্তরের জন্য আলাদা শুনানির প্রয়োজন ছিল।   তবে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদন নাকচ করে দেয়। ফলে কিশোরীটির বিরুদ্ধে কিশোর আদালতের আওতায়ই ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে রাখার আদেশ দেওয়া হয়।   বিচারক ম্যাথিউ বেলসার সোমবার এই সাজা ঘোষণা করেন। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে তাকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে থাকতে হবে।   মামলার প্রমাণ উপস্থাপনের সময় ২০২৫ সালে নবজাতকটির জন্ম এবং পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মরদেহ পরে কিশোরীর শয়নকক্ষের একটি ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।   জেলা অ্যাটর্নি স্কট পেরিলু ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সহকারী জেলা অ্যাটর্নি এবং মামলায় যুক্ত সংশ্লিষ্ট দলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।   প্রথম-ডিগ্রি হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগের কারণে রাষ্ট্রপক্ষ কিশোরীটির বিচার প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে চেয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদন অনুমোদন না করায় মামলাটি কিশোর আদালতের আওতাতেই থাকে।   সোমবারের আদালতের আদেশের পর কিশোরীটিকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত হেফাজতে থাকতে হবে। জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, কিশোর অপরাধীর ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ সাজা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৩:৫
বাকপ্রতিবন্ধী অটিস্টিক ছেলে হান্টারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের হাতে কীবোর্ডের ট্যাটু করিয়েছেন মা জেসিকা ফ্লেচার। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় বাকপ্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে কথা বলার জন্য মায়ের হাতে কীবোর্ডের ট্যাটু

কানাডার এক মা তার বাকপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ১১ বছরের ছেলে হান্টারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজের হাতে কীবোর্ডের ট্যাটু করিয়েছেন। ছেলের যোগাযোগের বিশেষ ট্যাবলেটের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রযুক্তি ছাড়াই যাতে তার সঙ্গে কথা বলা যায়, সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেন মা জেসিকা ফ্লেচার।   হান্টার যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরশীল। একদিন মায়ের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে হঠাৎ ট্যাবলেটটির ব্যাটারি শেষ হয়ে যায়। তখন হান্টার একটি টিস্যু পেপারে কীবোর্ড এঁকে আঙুল দিয়ে অক্ষর ও চিহ্ন দেখিয়ে মাকে নিজের কথা জানানোর চেষ্টা করে।   এই ঘটনাই জেসিকাকে নতুন একটি উপায় ভাবতে সাহায্য করে। তিনি বুঝতে পারেন, প্রযুক্তি সবসময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে। তাই প্রযুক্তি কাজ না করলেও ছেলের যোগাযোগ যেন বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য নিজের বাহুতে স্থায়ীভাবে একটি কীবোর্ডের ট্যাটু করানোর সিদ্ধান্ত নেন।   ট্যাটুটিতে অক্ষরের পাশাপাশি হাসিমুখ, বিষণ্ণ মুখ এবং ভালোবাসা বোঝানোর মতো কিছু চিহ্ন রাখা হয়েছে। ট্যাটু তৈরি হওয়ার পর হান্টার সেটি ব্যবহার করে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। মায়ের হাতে থাকা কীবোর্ড ব্যবহার করে সে প্রথম যে শব্দটি জানিয়েছিল, সেটি ছিল ‘মামা’।   এই পদ্ধতিটি শুধু প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবেই কাজ করছে না, মা ও ছেলের ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সুবিধা তৈরি করেছে। হান্টার সাধারণত ট্যাবলেটের মাধ্যমে কোনো শব্দ নির্বাচন করলে সেটি উচ্চারিত হয় এবং আশপাশের মানুষও তা শুনতে পায়। কিন্তু মায়ের হাতে থাকা কীবোর্ড ট্যাটুতে আঙুল দিয়ে অক্ষর দেখিয়ে সে নীরবে নিজের কথা জানাতে পারে।   জেসিকা পরে হান্টারের কীবোর্ড ট্যাটু ব্যবহারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত মানুষের নজর কাড়ে এবং দুই মিলিয়নেরও বেশি লাইক পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এই ধারণা হান্টারের পরিবারের বাইরেও মানুষের আগ্রহ তৈরি করে।   হান্টারের স্কুলের বন্ধুরাও এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জেসিকা জানান, কয়েকজন বন্ধু তার সঙ্গে খেলার সময় নীরবে যোগাযোগ করার জন্য হাতায় কীবোর্ড ছাপানো পোশাক পরতে চেয়েছে। পরে জেসিকা একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে হাতার পাশে কীবোর্ডযুক্ত পোশাক তৈরির উদ্যোগ নেন।   এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অভিভাবক, চিকিৎসক, নার্স এবং জরুরি সেবাকর্মীরা জেসিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্কুল, হাসপাতাল ও বাড়িতে কথা বলতে না পারা অটিস্টিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি ব্যবহারের বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেন।   কয়েকজন ট্যাটু শিল্পীও অভিভাবকদের জন্য একই ধরনের কীবোর্ড ট্যাটু বিনামূল্যে করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জেসিকার কাছে এই উদ্যোগের মূল বিষয় হলো, প্রযুক্তি ব্যর্থ হলেও তার ছেলে যেন নিজের কথা প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১২:৩২
তেলেঙ্গানার সূর্যাপেটে গাছ নিয়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কুড়ালের আঘাতে আহত মেল্লাচেরুভু থানার উপপরিদর্শক নবীন কুমার। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বাড়ির পাশে নিমগাছ নিয়ে ২৫ বছরের বিরোধে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ২ আহত পুলিশ সদস্য

ভারতের তেলেঙ্গানার সূর্যাপেট জেলার এররাগাড্ডা থান্ডায় বাড়ির পাশে থাকা একটি নিমগাছ নিয়ে দুই পরিবারের প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। শনিবারের ওই সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মেল্লাচেরুভু থানার উপপরিদর্শক নবীন কুমারও আহত হয়েছেন।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের বিরোধের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল বাড়ির সীমানার পাশে থাকা একটি নিমগাছ। শনিবার সকালে ৬২ বছর বয়সী মান্ধা ভেঙ্কটেশ্বরলু যাদব শ্রমিক নিয়ে গাছটি কাটতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ শুরু হয়।   একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি তীব্র আকার ধারণ করে এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কুঠারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের মধ্যে ভুকিয়া রামু কুঠার দিয়ে ভেঙ্কটেশ্বরলুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   গুরুতর আঘাতে ভেঙ্কটেশ্বরলু ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করতে গেলে রামু নিজের বাবা ভুকিয়া সাইদাকেও আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী সাইদা গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।   দুইজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের বাড়ির কাছে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে।   পুলিশি হস্তক্ষেপের সময় উপপরিদর্শক নবীন কুমারের মাথায় আঘাত লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হুজুরনগর এলাকার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত রামুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এররাগাড্ডা থান্ডায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ঠেকাতে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছিল এবং পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১২:১৭
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর রানওয়েতে রোবটসহ তদন্ত ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি জার্মানির

জার্মানি লিপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও দেশটি কাজ করছে বলে জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ভেল্ট আম সনটাগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তুত করা নতুন নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনায় জার্মানি সরাসরি রাশিয়ার সরকারকে দায়ী করবে, নাকি রুশ কোনো ব্যক্তিকে বা অপারেটিভকে দায়ী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তের ফলাফল পর্যালোচনার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হবে।   ভেল্ট আম সনটাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানি এর আগে রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার বা বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের মতো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করেছিল, নতুন পরিকল্পনা তার চেয়ে কঠোর হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে আরও নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ও থাকতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ গত সপ্তাহে লিপজিগের ঘটনার পেছনে যারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। মের্জ বলেছিলেন, জার্মান সরকার বিভিন্ন ধরনের গোপন হামলার জন্য দায়ীদের মূল্য দিতে বাধ্য করবে এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে এবং শিগগিরই সরকার এর ফলাফল প্রকাশ করবে।   এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে লিপজিগ বিমানবন্দরের ড্রোন হামলার চেষ্টাকে প্রথম দিকের ধারণার চেয়ে বেশি গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের একটি আন্তোনভ কার্গো বিমানে হামলার চেষ্টায় ব্যবহৃত ড্রোনে বিস্ফোরক সংযুক্ত ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনডিআর ও ডব্লিউডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে একটি নয়, একাধিক ড্রোন জড়িত থাকার ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।   লিপজিগের ঘটনার পাশাপাশি বার্লিনের কাছে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনাও জার্মান সরকারের অবস্থান আরও কঠোর করেছে বলে ভেল্ট আম সনটাগ জানিয়েছে। চলতি মাসে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজধানীর কাছের একটি জঙ্গলে মাটির নিচে পেশাদারভাবে তৈরি একটি গোপন স্থাপনা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটররা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন গুরুতর সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে বিষয়টি তদন্ত করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ধারণা করছে, এসব অস্ত্র রুশ গুপ্তচরদের জন্য মজুত করা হয়েছিল এবং মস্কোর নির্দেশে তাদের দিয়ে হত্যাকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা থাকতে পারে।   লিপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ নিয়ে বার্লিনের অবস্থান কঠোর হলেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোতে হত্যাকাণ্ড, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রুশবিরোধী আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১২:৩
গাজায় ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তার গুদাম ধ্বংস এবং তীব্র সংকটের মধ্যে শিশুদের খাবার পানি সংগ্রহের চেষ্টা। ছবি: সংগৃহীত
গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ শিশু নিহত, ধ্বংস ইউনিসেফ-সহযোগিতায় নির্মিত পানির স্থাপনা

গাজা উপত্যকায় গত পাঁচ দিনে বিভিন্ন হামলায় অন্তত চার শিশু নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। একই সময়ে একটি হামলায় ৭৭ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তা রাখা একটি গুদাম ধ্বংস হয়েছে। এতে শিশু ও পরিবারের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা আরও সংকটে পড়েছে।    ইউনিসেফের ২৮ আগস্টের বিবৃতি অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে পৃথক হামলায় নিহত ২ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে, তাঁবুর ভেতরে থাকা অবস্থায় গুলিতে আহত হয়ে নিহত ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং আগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরে মারা যাওয়া ১৬ বছর বয়সী এক ছেলে।   ২৫ আগস্ট আরও কয়েকজন শিশু হামলায় আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে ৮, ১০ ও ১৭ বছর বয়সী তিন শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। একই ঘটনায় ১১ বছর বয়সী আরও দুই শিশু শার্পনেলের আঘাতে আহত হয়। আহত শিশুদের কয়েকজনের গুরুতর ও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।   ওই দিনই কাছাকাছি একটি হামলায় ধ্বংস হয় ইউনিসেফের পুষ্টি সহায়তা রাখা একটি গুদাম। সেখানে ৭ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের পুষ্টি সামগ্রী ছিল। এসব সামগ্রী ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী ৪০ হাজার ৫০০-এর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শিশু এবং ৪ হাজার ৯০০ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য ব্যবহারের কথা ছিল।   এর এক দিন আগে, ২৪ আগস্ট, দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি পানির কূপ ও ডিস্যালিনেশন ফ্যাসিলিটিও কাছাকাছি হামলায় গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই স্থাপনা থেকে নিরাপদ পানি পেতেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার শিশু। স্থাপনাটি সচল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।    ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে উপত্যকার ৬৩ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন জনপ্রতি অন্তত ৬ লিটার পানীয় পানিও পাচ্ছেন না। গরমের সময়ে শিশুদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পানির সংকট বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।    এর আগে ২৪ আগস্ট প্রকাশিত ইউনিসেফের এক জরিপেও গাজার শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির ঝুঁকির কথা উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার পাচ্ছে। একই বয়সী ৭৩ শতাংশ শিশু জরিপের আগের দিন অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছিল।    ইউনিসেফ শিশুদের জীবন রক্ষা, বেসামরিক অবকাঠামো ও জরুরি সেবা সুরক্ষা এবং দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:৫১
কানেকটিকাটের বাসিন্দা ক্ল্যারেন্স জ্যাকসন ১৯৯৫ সালে লটারিতে ৫৮ লাখ ডলার জিতেও সময় পার হওয়ায় কোনো টাকা পাননি। ছবি: সংগৃহীত
লটারিতে জিতলেন ৫৮ লাখ ডলার! এক ভুলে পুরস্কারের সম্পূর্ণ অর্থই হারালেন ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা ক্ল্যারেন্স জ্যাকসন ১৯৯৫ সালে লটারিতে ৫৮ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতেও শেষ পর্যন্ত এক ডলারও হাতে পাননি। বিজয়ী টিকিটের খবর জানতে তাঁর প্রায় এক বছর লেগে যায়। ততক্ষণে পুরস্কার দাবি করার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়।   ১৯৯৫ সালের ১৩ অক্টোবর জ্যাকসন একটি কুইক পিক লটারি টিকিট কিনেছিলেন। ছয়টি নম্বরই মিলে যাওয়ায় তিনি জ্যাকপট জিতে যান। তবে সে সময় তিনি পূর্ণকালীন ক্লিনার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অসুস্থ বাবার দেখাশোনা করছিলেন। ফলে নিজের টিকিটটি বিজয়ী কি না, তা তিনি পরীক্ষা করেননি।   ঠিক এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের ১৩ অক্টোবর তাঁর বোন সংবাদে জানতে পারেন যে এলাকায় একটি লটারির টিকিটের মালিক এখনও পুরস্কার দাবি করেননি। এরপর জ্যাকসন নিজের টিকিট পরীক্ষা করে জানতে পারেন, সেটিই সেই বিজয়ী টিকিট।   কিন্তু সেদিনই ছিল পুরস্কার দাবি করার ৩৬৫ দিনের শেষ দিন এবং দিনটি ছিল রোববার। জ্যাকসনের ধারণা ছিল, টিকিট যাচাই করতে তাঁকে লটারি সদর দপ্তরে যেতে হবে এবং সপ্তাহান্তে সেটি বন্ধ থাকবে। পরদিন ছিল সরকারি ছুটি। শেষ পর্যন্ত বুধবার লটারি অফিসে পৌঁছালে তাঁকে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়সীমা তিন দিন আগেই শেষ হয়ে গেছে।   পুরস্কার পাওয়ার আশায় জ্যাকসন কানেকটিকাট লটারি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দেন, বাবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং তাঁর দেখাশোনার পাশাপাশি কাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি সময়মতো বিজয়ী টিকিটের বিষয়টি জানতে পারেননি।   তবে আদালত কানেকটিকাট লটারি করপোরেশনের পক্ষেই রায় দেন। লটারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, নির্ধারিত নিয়মে ব্যতিক্রম করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আরও দাবি সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।   ২০১৫ সালেও জ্যাকসন পুরস্কার ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান এবং নিয়ম পরিবর্তনের জন্য একটি বিল পাসের উদ্যোগ নেন। তবে পরের বছর গুড মর্নিং আমেরিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই সময় এত বিপুল অর্থ হাতে এলে হয়তো তাঁর জীবন আরও খারাপ পথে যেতে পারত।   জ্যাকসনের ঘটনা লটারির পুরস্কার দাবি করার সময়সীমা সম্পর্কে সতর্ক থাকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে আছে। লটারির টিকিট কেনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল যাচাই এবং বিজয়ী হলে সময়সীমার আগেই পুরস্কার দাবি করা জরুরি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:৪২
অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত, বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে আটক ব্রিটিশ ভাষ্যকার

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ভাষ্যকার মিলো ইয়ানোপুলোসকে আটক করেছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। গত মাসে নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপুলোস গত মাসের অভিবাসন শুনানিতে হাজির হননি। এরপর বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, ইয়ানোপুলোস যুক্তরাজ্যের নাগরিক এবং ২০১৯ সালের ১৪ মে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে অনুমোদিত সময়ের বেশি দেশটিতে অবস্থান করেন বলে বিভাগটি জানিয়েছে।   বিভাগটি আরও জানায়, শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক ইয়ানোপুলোসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। বর্তমানে তিনি আইসিইর হেফাজতে থাকবেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে।   ইয়ানোপুলোস ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টে কাজ করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে তখন সমালোচনা ও নিন্দা দেখা দেয়। ২০১৭ সালে তার পুরোনো কিছু মন্তব্য গণমাধ্যমে পুনরায় আলোচনায় আসার পর তিনি ব্রেইটবার্ট থেকে পদত্যাগ করেন।   এরপর বিভিন্ন ডানপন্থী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। মূলধারার রিপাবলিকানদের সঙ্গেও তার বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। পরে র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ২০২৪ সালের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনায় সহায়তা করেন।   আইসিইর তথ্যভান্ডারে ইয়ানোপুলোসকে বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের বহিষ্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।   বিভাগটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা যেন আর দেশের ভেতরে বিমান ভ্রমণ করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য একটি সরকারি আবেদনের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার এবং বিনামূল্যে বিমান ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবেন না, তাদের আটক করে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও বিভাগটি সতর্ক করেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:৩৪
নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে ৫৫ হাজার ডলারের বেশি বার্ষিক বেতনে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সিটি জবের সুযোগ, একাধিক পদে বেতন শুরু ৫৫ হাজার ডলার থেকে

নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে একাধিক পদে নিয়োগ চলছে। চাকরির ধরন অনুযায়ী এন্ট্রি-লেভেল থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদেও সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পদের বার্ষিক বেতন ৫৫ হাজার ডলারের বেশি। নগর সরকারের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় কুইন্স, ব্রুকলিন, ম্যানহাটনসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির চাকরির তালিকায় বর্তমানে কুইন্সে ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাইন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের সেফটি অডিটর পদে ৫৫ হাজার ৭৩ ডলার থেকে ৬৯ হাজার ৬৬৬ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। আবার ব্রুকলিনে এক্সটারমিনেটর পদে বার্ষিক বেতন ৫৭ হাজার ৯৯৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের আরও বেশ কিছু পদে এর চেয়ে বেশি বেতনের সুযোগ রয়েছে।   ডিপার্টমেন্ট অব সিটি-ওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএস জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির চাকরির জন্য অনেক ক্ষেত্রে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হয়। তবে কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি অ্যাপ্লাই করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিটি সরকারের চাকরির অফিসিয়াল তালিকায় প্রশাসন, পরিবহন, পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন, শিশু ও পরিবারসেবা, নির্মাণসহ বিভিন্ন বিভাগে পদ খোলা রয়েছে।   চলমান নিয়োগের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের বিভিন্ন পদও রয়েছে। সংস্থাটির তালিকায় অল বোরোস এলাকায় অটো মেকানিক, কুইন্সে পার্কিং ইঞ্জিনিয়ার ও ইভি চার্জারস অ্যান্ড পার্কিং অপারেশনস টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদ দেখা যাচ্ছে। কিছু পদের আবেদন শেষ হওয়ার তারিখ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে।   চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব পদে একই যোগ্যতা বা আবেদনের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো কোনো পদে নির্দিষ্ট শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, সেফটি অডিটর পদটির জন্য নির্দিষ্ট সিভিল সার্ভিস যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে নিয়োগের আগে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। যেসব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না, সেগুলোর জন্য সরাসরি নিউইয়র্ক সিটি জবসের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।   বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্যও এসব চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে শুধুমাত্র বাংলাদেশি হওয়া কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়। প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। ফলে প্রতিটি পদে আবেদন করার আগে যোগ্যতার শর্ত ও রেসিডেন্সি রিকোয়ারমেন্ট আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ডিসিএএসের অফিস অব সিটি-ওয়াইড রিক্রুটমেন্ট সেপ্টেম্বর মাসে সিভিল সার্ভিস ও সিটি সরকারের চাকরি নিয়ে একাধিক তথ্যবিষয়ক সেশনও আয়োজন করছে। এসব সেশনে সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হবে।   সিটি সরকারের চাকরিতে আবেদন করতে প্রার্থীদের অফিসিয়াল নিউইয়র্ক সিটি জবস প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পছন্দের পদ খুঁজে আবেদন করতে হবে। আর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিসিএএসের নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। চাকরির ধরনভেদে আবেদন প্রক্রিয়া ও শেষ তারিখ ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি জব পোস্টের বিস্তারিত শর্ত দেখে আবেদন করার পরামর্শ রয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটির চাকরির আবেদন ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত সহায়তার পাশাপাশি সিটি সেবার তথ্য পেতে ৩১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। অভিবাসীদের জন্য সিটি সরকারের বিভিন্ন সেবায় দোভাষী সুবিধাও রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:১৭
ইউরোপে একটি ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে যাচ্ছেন নিউইয়র্ক সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি রিট্রিটে যাচ্ছেন মামদানির স্ত্রী ও নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী ও সিটির ফার্স্ট লেডি রামা দুয়াজি আবারও ইউরোপে যাচ্ছেন একটি ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিতে। ‘দ্য উইমেন স্যাংচুয়ারি’ আয়োজিত এই রিট্রিটে তিনি ‘আর্টিস্ট-ইন-রেসিডেন্স’ হিসেবে থাকবেন।    ‘জার্নি থ্রু ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি’ নামের রিট্রিটটি পর্তুগালের পোর্তো অঞ্চলে আগামী ১৬ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ইসলামিক ঐতিহ্য ও পর্তুগালে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা, ইলাস্ট্রেশন ও ক্যালিগ্রাফি কর্মশালা, আধ্যাত্মিক অনুশীলন, প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন থাকবে।    রামা দুয়াজি এ বছর এই সংগঠনের আয়োজনে তৃতীয়বারের মতো রিট্রিটে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি স্পেনের মায়োর্কা এবং ফ্রান্সের কর্সিকায় আয়োজিত নারী-কেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক রিট্রিটে অংশ নিয়েছিলেন।    নতুন এই রিট্রিটের খরচও আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্তুগালের অনুষ্ঠানে শেয়ারড রুমের জন্য জনপ্রতি খরচ শুরু প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ডলার থেকে, আর ব্যক্তিগত বাথরুমসহ প্রাইভেট রুমের খরচ প্রায় ৫ হাজার ২৬০ ডলার পর্যন্ত।    রামা দুয়াজি একজন শিল্পী ও ইলাস্ট্রেটর। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার স্বামী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিটির ফার্স্ট লেডি হন।    তবে ইউরোপে তার নিয়মিত রিট্রিটে অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, নিউইয়র্কের ফার্স্ট লেডি হিসেবে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তার আরও সক্রিয় থাকা উচিত কি না। অন্যদিকে মামদানির দপ্তর আগের রিট্রিটগুলোর প্রসঙ্গে জানিয়েছিল, এসব সফরে সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১১:১
উইলমিংটনে পুলিশ কর্মকর্তার তৎপরতায় বড় ধরনের ক্রিপ্টো প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেলেন ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
মেসেজ পেয়ে বিটকয়েন বুথে ৯০ বছরের বৃদ্ধা, শেষ মুহূর্তে পুলিশ থামাল ১০ হাজার ডলারের প্রতারণা!

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার উইলমিংটনে ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা প্রায় ১০ হাজার ডলারের ক্রিপ্টো প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছিলেন। তবে বিটকয়েন বুথে টাকা জমা দেওয়ার আগেই এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পান ওই বৃদ্ধা।   মেরি অ্যান নানলি নামের ওই বৃদ্ধা জানান, গত ২৭ জুলাই তার ফোনে একটি বার্তা আসার পর প্রতারণার ঘটনাটি শুরু হয়। বার্তায় বলা হয়েছিল, তার গিক স্কোয়াডের হিসাবের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৯০ ডলার কেটে নেওয়া হবে।   টাকা কেটে নেওয়ার বিষয়টি বাতিল করে অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য নানলি বার্তায় দেওয়া নম্বরে ফোন করেন। এরপর এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথোপকথন হয়। ওই ব্যক্তি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললেও পরে নানলির কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেন।   প্রতারক তাকে প্রায় ১০ হাজার ডলার নিয়ে কাছের একটি বিটকয়েন বুথে যেতে বলেন। প্রতারকের নির্দেশ মেনে নানলি নগদ টাকা নিয়ে একটি গ্যাস স্টেশনে যান, যেখানে একটি বিটকয়েন মেশিন ছিল। তবে সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মেশিনটি নষ্ট ছিল।   এ সময় গ্যাস স্টেশনে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য থাকা উইলমিংটন পুলিশের কর্মকর্তা নিকোলাস মরিসনের নজরে পড়ে বিষয়টি। তিনি নানলিকে হাতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে ফোনে কথা বলতে দেখেন। পরিস্থিতির লক্ষণ দেখে তিনি বুঝতে পারেন, নানলি সম্ভবত ক্রিপ্টো প্রতারণার শিকার হয়েছেন।   মরিসন নানলির কাছে গিয়ে তাকে মেশিনে টাকা না দিতে সতর্ক করেন এবং জানান, তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এরপর তিনি নানলিকে প্রতারকের সঙ্গে ফোনের যোগাযোগ বন্ধ করতে সহায়তা করেন। পরে নিশ্চিত করা হয়, নানলি কোনো টাকা হারাননি।   পুলিশ কর্মকর্তা নানলিকে একটি দোকানে নিয়ে গিয়ে নিশ্চিত করেন, গিক স্কোয়াড তার অর্থ নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। এরপর তিনি নানলিকে ব্যাংকে নিয়ে যান এবং তার হাতে থাকা নগদ অর্থ পুনরায় ব্যাংকে জমা দিতে সহায়তা করেন।   ঘটনার প্রায় এক মাস পর বৃহস্পতিবার নানলি ও মরিসনের আবার দেখা হয়। পুনর্মিলনের সময় নানলি পুলিশ কর্মকর্তাকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি মরিসনকে নিজের নাতির মতো ভালোবাসেন বলেও জানান এবং শরতে অনুষ্ঠিতব্য তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানান।   পুলিশ জানিয়েছে, পরিচিত নন এমন কেউ ভয় দেখিয়ে বা নির্দেশ দিয়ে ক্রিপ্টো মেশিনে টাকা জমা দিতে বললে কখনোই তা করা উচিত নয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১০:৩৯
স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করেনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধের রায়ে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক

ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ে স্কুলে এক মুসলিম ছাত্রীর হিজাব পরার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। আদালতের যুক্তি ছিল, স্কুলগুলো অভিন্ন ও বৈষম্যহীন পোশাকবিধি নির্ধারণ করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেই নিয়ম কার্যকর করা যেতে পারে।   এই রায়কে ঘিরে হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পছন্দের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের মুসলিম নারী সাংবাদিক সামাহ কুন্দিল। তাঁর মতে, কোনো নারীকে জোর করে হিজাব পরানো যেমন তার স্বাধীনতার পরিপন্থী, তেমনি নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়াও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল।   সামাহ কুন্দিল লিখেছেন, হিজাবকে অনেক সময় নারীর ওপর পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তবে তাঁর মতে, এই ধারণার মাধ্যমে হিজাব পরা নারীদের নিজেদের জীবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাকে খাটো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনো নারী হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নিলে সেই সিদ্ধান্তকেও ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।   তিনি আরও বলেন, ইসলামী ঐতিহ্যে হিজাব শুধু মাথা ঢাকার কাপড়কে বোঝায় না। এর সঙ্গে শালীনতার একটি বিস্তৃত ধারণা যুক্ত রয়েছে। এই শালীনতার নির্দেশনা শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পুরুষদেরও শালীন পোশাক পরা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং আচরণে সংযম বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।   সামাহ কুন্দিলের মতে, হিজাব পরার বিষয়ে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি কোনো নারী নিজের ইচ্ছায় হিজাব পরতে চাইলে তাকে তা থেকে বিরত রাখাও একইভাবে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতাকে সীমিত করে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, নারীর পোশাকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীর নিজের থাকা উচিত।   এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একটি সাধারণ মাথার কাপড় স্কুলের কর্তৃত্ব, পোশাকের অভিন্নতা, শৃঙ্খলা বা শিক্ষার পরিবেশকে আসলে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাঁর মতে, স্কুলের পোশাকবিধির গুরুত্ব থাকলেও হিজাব পরাকে শুধু সেই নিয়মের আলোকে বিচার করার আগে বিষয়টির ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় দিকও বিবেচনা করা প্রয়োজন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ছাত্রী হিজাব পরার আবেদন করেছিলেন, তিনি এর আগে বহু বছর ধরে হিজাব পরে আসছিলেন। ফলে তার ধর্মীয় অনুশীলন এতদিন প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলার সঙ্গে সহাবস্থান করার পর নতুন করে সমস্যাটি কেন তৈরি হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিকটি।   সামাহ কুন্দিল আরও মনে করেন, হিজাব বর্তমানে শুধু ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ধর্ম, ধর্মনিরপেক্ষতা ও নারীর অধিকার নিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে। এসব বিতর্কের মধ্যে হিজাব পরা নারী ও মেয়েদের নিজেদের মতামত অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে।   তিনি বলেন, একটি উদার সমাজে নারীদের কী পরা উচিত বা কী পরা উচিত নয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নারীদের জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি তারা নিজেদের বিশ্বাস ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বেছে নিতে চাইলে সেই স্বাধীনতাকেও সম্মান করা প্রয়োজন।   সামাহ কুন্দিলের লেখার মূল বক্তব্য হলো, কোনো নারী হিজাব পরতে চাইলে তার সেই সিদ্ধান্তকে শুধু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার প্রশ্নে বিচার করা উচিত নয়। হিজাব পরা বা না পরা উভয় ক্ষেত্রেই নারীর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।   সূত্র: দ্য প্রিন্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১০:১৯
আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি: এএ ফটো
ইসরায়েলি হুমকি মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মতপার্থক্য দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।   শুক্রবার ইস্তাম্বুলের হালিচ কংগ্রেস সেন্টারে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এরদোয়ান। সেখানে তিনি বলেন, মুসলিমদের অন্যদের ওপর আশা রেখে কোনো অগ্রগতি হবে না। নিজেদের অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।   এরদোয়ান বলেন, মুসলিমদের নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় শক্তিশালী হতে হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ঐক্যের মধ্যেই শক্তি রয়েছে।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।   এরদোয়ান বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান সরকার যুদ্ধের প্রতি আসক্ত এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে সম্ভাব্য সব পথ অনুসরণ করছে। তার মতে, ইসরায়েলের নীতি শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নয়, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও হুমকি তৈরি করছে।   তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতির বিরোধিতা শুধু তুরস্কের জাতীয় স্বার্থের কারণে নয়। ধর্ম বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে পুরো অঞ্চলের মানুষের প্রতি উদ্বেগ থেকেই তুরস্ক এ অবস্থান নিয়েছে।   গাজার মানবিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, সেখানে ফিলিস্তিনিরা এখনো মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও প্রাণহানির বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, বিভক্ত অবস্থায় প্রতিক্রিয়া জানালে পুরো অঞ্চল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিম দেশগুলোকে সংহতি ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।   ইতিহাসের বিভিন্ন নৃশংসতার উদাহরণ টেনে এরদোয়ান বলেন, গুরুতর লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যথাসময়ে পদক্ষেপ না নিলে তার ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাডলফ হিটলার ও কম্বোডিয়ার খেমার রুজ নেতা পল পটের সময়কার নৃশংসতার কথা উল্লেখ করেন।   আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ব সম্প্রদায়েরও সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বৃহত্তর বিশ্ব সম্প্রদায় যথেষ্ট দৃঢ়তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কার্যকর প্রতিক্রিয়ার অভাবেই এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   শেষে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর আবারও জোর দেন এরদোয়ান। নিজেদের অধিকার রক্ষা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।   সূত্র: ডেইলি সাবাহ

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৯:৫২
নিউইয়র্ক সিটিতে নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করলে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ছাড়া ময়লা ফেললে ৫০ ডলার জরিমানা, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

নিউইয়র্ক সিটিতে এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনে ময়লা ফেলার জন্য সরকারি নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার না করলে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানা শুরু হবে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার জরিমানা করবে নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা সব সম্পত্তিতে ময়লা রাখার জন্য সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে। এসব ডাস্টবিনের ধারণক্ষমতা ৫৫ গ্যালন বা তার কম এবং নিরাপদ ঢাকনা থাকতে হবে।   সরকারি ডাস্টবিন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের প্রস্তুতির জন্য ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সতর্কতামূলক সময় রাখা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়মটির পূর্ণ প্রয়োগ শুরু হবে এবং নিয়ম না মানলে সমন জারি ও জরিমানা করা হবে।   জরিমানার পরিমাণ অপরাধের সংখ্যার সঙ্গে বাড়বে। প্রথমবার নিয়ম ভাঙলে ৫০ ডলার, দ্বিতীয়বার ১০০ ডলার এবং তৃতীয়বার ও পরবর্তী প্রতিটি অপরাধের জন্য ২০০ ডলার জরিমানা করা হবে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ময়লা নিরাপদে সংরক্ষণ এবং সংগ্রহের সুবিধার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এসব ডাস্টবিন নতুন ধরনের ময়লা সংগ্রহের সরঞ্জামের সঙ্গে ব্যবহারের উপযোগী। শহরের বিভিন্ন হোম ডিপোতে সরকারি ডাস্টবিন কেনার সুযোগ রয়েছে।   এ ছাড়া নির্ধারিত ডাস্টবিন অনলাইনে কেনার এবং বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। হোম ডিপোর বিভিন্ন সরবরাহ সহযোগীর মাধ্যমে ডাস্টবিন পৌঁছে নেওয়া যায়। তবে ডাস্টবিনের আকার ও প্রাপ্যতা স্থান ও মজুতের ওপর নির্ভর করবে।   নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনের মালিক ও ব্যবস্থাপকদের বাসিন্দাদের উৎপাদিত ময়লা রাখার জন্য পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ১০ বা তার বেশি ইউনিটের আবাসিক ভবনের জন্য ময়লা ব্যবস্থাপনার নিয়ম আলাদা।   নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের রাস্তায় খোলা কালো ময়লার ব্যাগ কমানো এবং ময়লা সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও পরিচ্ছন্ন ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে স্যানিটেশন বিভাগ। সরকারি ডাস্টবিনের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে কম ঘনত্বের আবাসিক ভবনগুলোতেও ময়লা নির্দিষ্ট পাত্রে রাখার ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে।   ফলে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক থেকে নয়টি আবাসিক ইউনিট থাকা ভবনের বাসিন্দা ও সম্পত্তির মালিকদের সরকারি নিউইয়র্ক সিটি ডাস্টবিন ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম না মানলে প্রথমবার ৫০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে হবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগ

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৯:৩৯
নেপালে বন্যায় ভেসে আসা ব্যাংকের সেফ ভেঙে টাকা লুটের অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার পানিতে ভেসে এলো সিন্দুক, ভেঙে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন আটক

নেপালে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে ভেসে আসা একটি ব্যাংকের সেফ ভেঙে ভেতরের নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধাদিং জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরে পাওয়া ওই সেফ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি।    পুলিশ জানিয়েছে, রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি এলাকায় বন্যার পানিতে সেফটি ভেসে যায়। পরে সেটি ত্রিশূলী নদীর স্রোতে ভেসে ধাদিং জেলার গালছি গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলখুখোলা এলাকায় গিয়ে আটকে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন সেখানে সেফটি দেখতে পেয়ে সেটি ভেঙে ভেতরের নগদ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ।   ঘটনার খবর পেয়ে নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে ২৯ জনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মোট ৯২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৫ নেপালি রুপি উদ্ধার করা হয়।    তবে সেফটিতে শুরুতে মোট কত টাকা ছিল, এর মালিক কে এবং টাকা কোন ব্যাংক থেকে এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অর্থের বাইরে আরও টাকা কেউ নিয়ে গেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ধাদিংয়ের গালছি এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৯:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দৃশ্যমান হচ্ছে ধর্মীয় বৈচিত্র্য। ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসনে বদলাচ্ছে আমেরিকার ধর্মীয় মানচিত্র, বাড়ছে মসজিদ, ইসলামিক স্কুল ও মন্দির

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। বিভিন্ন শহর ও শহরতলিতে নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির ও ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে পুরোনো চার্চ, বাড়ি, অফিস কিংবা বাণিজ্যিক ভবন কিনে সেগুলোকে উপাসনালয় ও কমিউনিটি ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে।   এই পরিবর্তনের পেছনে অভিবাসনের ভূমিকা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ বিস্তারিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৬২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি। অর্থাৎ এক দশকে বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যা ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের ধর্মীয় চিত্রবিষয়ক গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ১৪ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী। তাদের মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মুসলিম, ৪ শতাংশ হিন্দু এবং ৩ শতাংশ বৌদ্ধ।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের একই গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ৫৯ শতাংশ এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ফলে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে দেশটির ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সম্পর্কটি জনসংখ্যার পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   মসজিদের ক্ষেত্রেও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য বিস্তার দেখা গেছে। সর্বশেষ বড় আকারের জাতীয় মসজিদ জরিপের ২০২০ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৭৬৯টি মসজিদ শনাক্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১০৬টি। অর্থাৎ এক দশকে মসজিদের সংখ্যা ৩১ শতাংশ বেড়েছিল।   তবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এর চেয়ে নতুন কোনো সমমানের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় মসজিদ জরিপ প্রকাশিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ২ হাজার ৭৬৯ সংখ্যাটিকে বর্তমানের নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে নয়, সর্বশেষ বড় জাতীয় জরিপের সংখ্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মসজিদ এখন শুধু নামাজের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেক ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে শিশুদের ইসলামিক শিক্ষা, কোরআন শিক্ষা, ইসলামিক স্কুল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এসব প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ ও কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।   মন্দিরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরের কোনো একক সরকারি জাতীয় তালিকা নেই। তবে ২০২৬ সালের একটি হিন্দু মন্দিরভিত্তিক তথ্যভান্ডারে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ২৫৬টি মন্দিরের তালিকা রয়েছে। এটি সরকারি গণনা নয়, বরং একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডার। ফলে এই সংখ্যাকে বর্তমান মন্দিরের আনুষ্ঠানিক জাতীয় সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   হিন্দু মন্দিরগুলোও অনেক ক্ষেত্রে শুধু পূজার স্থান নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা, ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফলে মন্দিরগুলো অভিবাসী পরিবারগুলোর কাছে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার কেন্দ্র হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।   পুরোনো ভবনকে নতুন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার প্রবণতাও এই পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক। কোনো এলাকায় নতুন অভিবাসী কমিউনিটি গড়ে উঠলে তারা অনেক সময় নতুন করে জমি কিনে ভবন নির্মাণের পরিবর্তে আগে থেকেই থাকা চার্চ, বাড়ি, অফিস বা অন্য কোনো স্থাপনা কিনে সেটিকে মসজিদ, মন্দির কিংবা কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তর করে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেমন গড়ে ওঠে, তেমনি পুরোনো ভবনও নতুন কমিউনিটির সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আরেকটি বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে ৮৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ খ্রিস্টান। মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।   সামগ্রিক জনসংখ্যার চিত্রেও পরিবর্তনটি ধরা পড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩-২৪ সালের জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৭ দশমিক ১ শতাংশ খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের পরিচয় দিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। নতুন জরিপে মুসলিম ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং হিন্দু ০ দশমিক ৯ শতাংশ।   তবে এই পরিবর্তনকে শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজের বিকাশের সঙ্গে যুক্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নতুন প্রজন্মের অভিবাসী পরিবারগুলো যেমন আমেরিকান সমাজের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছে, তেমনি নিজেদের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়ও ধরে রাখছে।   ফলে আমেরিকার অনেক শহরের দৃশ্যপটে এখন পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পুরোনো চার্চ, নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটি সেন্টার। অভিবাসনের ধারাবাহিকতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের আরও দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠছে।   ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং অভিবাসনের ধারাবাহিক প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় মানচিত্র যে আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিস্তার তারই দৃশ্যমান প্রতিফলন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৮:৫৯
ছবি: ট্রাম্প ও মোদি
গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৭৯ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নতুন নির্দেশনার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিসহ ভিসা আবেদন যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত অনেক ইন্টারভিউ বাতিল করে নতুন তারিখে রিশিডিউল করা হচ্ছে।    মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগস্টে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদন আরও বিস্তারিত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় একজন আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান রয়েছে।    এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব আবেদনকারীর ইন্টারভিউ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাদের অনেককেই নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফলে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।  বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুতে আলাদা স্থগিতাদেশ দিয়েছিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত এবং স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে বাতিল করেন।    বিচারকের ওই রায়ের পরই বিশ্বজুড়ে নতুন এই প্রশিক্ষণভিত্তিক বিরতি সামনে এসেছে। তবে এটিকে সরাসরি আদালতের রায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের আরও প্রশিক্ষিত করা এবং ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা একইভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।  অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের কেউ কেউ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ইন্টারভিউ স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের কারণে আগে থেকেই দীর্ঘ ভিসা প্রসেসিংয়ের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।   বর্তমান বিরতি শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার নিয়মিত কার্যক্রম এর আওতায় পড়ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৮:৪৮