সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ছবি: ট্রাম্প ও মোদি
গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ লাইনে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়, অপেক্ষা করতে হতে পারে ১৭৯ বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। নতুন নির্দেশনার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিসহ ভিসা আবেদন যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত অনেক ইন্টারভিউ বাতিল করে নতুন তারিখে রিশিডিউল করা হচ্ছে।    মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগস্টে শুরু হওয়া এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদন আরও বিস্তারিত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার প্রস্তুতি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।  ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় একজন আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, সম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ইমিগ্রেশন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান রয়েছে।    এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব আবেদনকারীর ইন্টারভিউ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাদের অনেককেই নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কবে থেকে স্বাভাবিকভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফলে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।  বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুতে আলাদা স্থগিতাদেশ দিয়েছিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত এবং স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিওর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে বাতিল করেন।    বিচারকের ওই রায়ের পরই বিশ্বজুড়ে নতুন এই প্রশিক্ষণভিত্তিক বিরতি সামনে এসেছে। তবে এটিকে সরাসরি আদালতের রায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের আরও প্রশিক্ষিত করা এবং ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা একইভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা।  অভিবাসন অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের কেউ কেউ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ইন্টারভিউ স্থগিত ও পুনর্নির্ধারণের কারণে আগে থেকেই দীর্ঘ ভিসা প্রসেসিংয়ের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন।   বর্তমান বিরতি শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য ননইমিগ্র্যান্ট ভিসার নিয়মিত কার্যক্রম এর আওতায় পড়ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৮:৪৮
প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা
মায়ের রাখা বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে টেক্সাসে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের রাখা বন্দুক হাতে পেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হ্যারিস কাউন্টির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, রাত ১১টার দিকে চ্যাম্পিয়নস এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে গুলির খবর পেয়ে প্রিসিনক্ট ৪-এর ডেপুটিরা সেখানে যান। তারা গিয়ে দেখতে পান, একটি ক্লোজেটের ভেতরে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি খুঁজে পায় এবং গুলিবিদ্ধ হয়।   গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় শিশুটির মা ও ১০ বছরের এক ভাই বা বোনও বাড়িতে ছিলেন বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস। তদন্তকারীদের মতে, বন্দুকটি শিশুটির মায়ের মালিকানাধীন ছিল এবং ক্লোজেটেই রাখা হয়েছিল। হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের অফিসের সার্জেন্ট জেসন ব্রাউন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বন্দুকটি নিরাপদভাবে লক বা সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল না। কীভাবে শিশুটি ক্লোজেটে ঢুকে বন্দুকটি হাতে পেল, তা জানতে মায়ের ও ১০ বছর বয়সী শিশুটির সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা।    কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আপাতত দুর্ঘটনাজনিত গুলিবর্ষণ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে শেরিফের অফিস।    এই ঘটনায় আবারও শিশুদের নাগালের বাইরে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৭:৩৮
দলের কোচ কেভিন লোমন
খেলোয়াড়দের বাঁচাতে ছুরি হাতে  হামলাকারী ব্যক্তির সামনে দাঁড়ালেন কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় হোটেলে থাকা হাইস্কুল বেসবল দলের খেলোয়াড়দের রক্ষা করতে ছুরি হাতে এক ব্যক্তির মুখোমুখি হয়েছেন দলের কোচ কেভিন লোমন। ১৬ আগস্ট রাতে শাওনির একটি হোটেলে ঘটনাটি ঘটে। এক খেলোয়াড় কোচকে জানান, এক ব্যক্তি করিডরে ছুরি বের করে তার দিকে এগিয়ে আসছেন। পরিস্থিতি বুঝে লোমন খেলোয়াড়দের নিজ নিজ কক্ষে ফিরে গিয়ে পুলিশে ফোন করতে বলেন। এরপর তিনি নিজেই ওই ব্যক্তির সামনে দাঁড়ান।    পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্রিস্টোফার স্টিভেন্স। কোচ তাকে ছুরি ফেলে দিতে বললেও তিনি এগিয়ে আসতে থাকেন। একপর্যায়ে লোমন তাকে শারীরিকভাবে কাবু করে মাটিতে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।পুলিশের কাছে স্টিভেন্সের কাছ থেকে দুটি ছুরি পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ এবং জনসমক্ষে মাতাল থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।    লোমন অবশ্য নিজেকে নায়ক মনে করছেন না। তিনি বলেন, নিজের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য আবারও একই কাজ করবেন। লোমন সাবেক মেজর লিগ বেসবল খেলোয়াড়। নিউইয়র্ক মেটস ও আটলান্টা ব্রেভসের হয়ে খেলেছেন তিনি। বর্তমানে ওকলাহোমার ক্যামেরন হাইস্কুলের বেসবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।     

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৭:৬
ছবি: তারেক আম্বিয়া, বাংলা প্রেস
গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল, শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি তারেক আম্বিয়া গ্রেপ্তার

কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে গাড়িচাপায় চার বছর বয়সী আকারি কর্টেসের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গাড়িচালক তারেকুল আম্বিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ জুন ভোরে ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনার তদন্ত শেষে ২৮ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।   ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী তারেকুল আম্বিয়া ওই সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোটরযানের মাধ্যমে অসদাচরণজনিত মৃত্যু, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং সঠিক লেনে গাড়ি না চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো এসেছে।  পুলিশ জানায়, ১০ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে একটি গাড়ির ধাক্কায় আকারি গুরুতর আহত হয়। জরুরি চিকিৎসা দিয়ে তাকে কানেকটিকাট চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। স্টেট অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভোঁতা আঘাতজনিত জখম উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনার তদন্তে আকারির বাবা-মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী টেইলর বিরন ও ২৬ বছর বয়সী নাথায়েল কর্টেসের বিরুদ্ধে শিশুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও কানেকটিকাট ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের তথ্য অনুযায়ী, আকারির মৃত্যুর আগে শিশুটির যথাযথ তত্ত্বাবধান না করার অভিযোগে ১ জুন ও ৫ জুন দুটি রিপোর্ট পেয়েছিল ডিএফসি। দুটিই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে জমা পড়েছিল।  ডিএফসি জানিয়েছে, আকারির মৃত্যুর সময় পরিবারটির বিষয়ে তাদের তদন্ত চলছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে শিশুটি যাতে একা বাড়ি থেকে বের হতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত দরজার লকও বসানো হয়েছিল। তবে পরে আবারও যথাযথ তত্ত্বাবধানের ঘাটতি দেখা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আকারির মৃত্যুর ঘটনায় ডিএফসি তাদের তদন্ত শেষ করেছে এবং পরিবারের অন্য শিশুদের একজন আত্মীয়ের কাছে নিরাপদে রাখা হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর তারেকুল আম্বিয়া ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি ৫০ হাজার ডলারের সিওরিটি বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। তার ম্যানচেস্টার সুপিরিয়র কোর্টে হাজিরার তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। আকারির বাবা-মা প্রত্যেকে ২৫ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন এবং তাদের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।  তবে গ্রেপ্তার বা ফৌজদারি অভিযোগের অর্থ এই নয় যে অভিযুক্তরা অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তদন্তের পর পুলিশ গাড়িচালক ও শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ এনেছে। মামলাগুলো এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।  সূত্র: বাংলা প্রেস

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৬:৫০
মার্কিন নাগরিকত্ব
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই।   এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন।   অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৬:১৯
ছবি: মহিলা রিক্সা, কালবেলা
ঢাকার সড়কে পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ ফিরে এলো যেন সেকালের ঢাকা

ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে আয়োজিত বর্ণিল শোভাযাত্রায় বিশেষ নজর কেড়েছে পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’। দেখতে অনেকটা পুরোনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই বাহনের মতো এই রিকশার পাশাপাশি শোভাযাত্রায় উঠে এসেছে স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকির মতো হারিয়ে যেতে বসা নানা যাতায়াতের মাধ্যম। ‘ঢাকা দিবস ২০২৬, হৃদয়ে ঢাকা’ ও ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শুক্রবার ২৮ আগস্ট বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের করা হয়। লক্ষ্মীবাজার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি নগর ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এতে হাজারো মানুষ অংশ নেন।   শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ সময় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। শোভাযাত্রায় ট্রাকে করে তুলে ধরা হয় ঢাকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার প্রতিকৃতি। এর মধ্যে ছিল আহসান মঞ্জিল, ঢাকেশ্বরী মন্দির, তারা মসজিদ, আর্মেনিয়ান গির্জা, জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও লালবাগ কেল্লা। বড় ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, লালকুঠি, বৌদ্ধ মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী ঢাকা গেটের চিত্রও। শুধু স্থাপনা নয়, ঢাকার পত্তন ও বিকাশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদেরও প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কেউ রানী ভিক্টোরিয়া, কেউ নবাব খাজা আহসানউল্লাহ, লীলা নাগ, নিকোলাস পোগোজ, জিন্নাবাই ও পরিবিবির আদলে সেজে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।   পুরান ঢাকার খাবারের ঐতিহ্যও ছিল আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। বাকরখানি, নান্না বিরিয়ানি ও বিউটি লাচ্ছির প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয় শোভাযাত্রায়। পাশাপাশি স্টিমার, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি ও পর্দাঘেরা ‘মহিলা রিকশা’ যেন পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগর ভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পথের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নগরবাসী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এসব প্রতীকী উপস্থাপনা উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনেই পুরোনো ঢাকার জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বর্তমান নগরজীবনের সঙ্গে মিলিয়ে ধরার চেষ্টা ছিল।   ৪১৬ বছরের ঢাকা দিবসের এই আয়োজন তাই শুধু শহরের বয়স উদ্‌যাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পুরোনো ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা বাহন, স্থাপনা, খাবার ও সাংস্কৃতিক স্মৃতিগুলোও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে এই বর্ণিল শোভাযাত্রা। সূত্র: কালবেলা   

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৫:৫৩
শুভেন্দু অধিকারী
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আজাদি’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এইট বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক সমাবেশে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্লোগানের বদলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি তোলা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত একদিন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর পুনর্দখল করবে।  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাংশের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের সঙ্গে ‘আজাদি’ এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, এসব স্লোগান তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক। তাঁর প্রশ্ন, ভারত স্বাধীন হওয়ার পর আবার কীসের স্বাধীনতা চাওয়া হচ্ছে?   স্বাধীনতা আন্দোলনে বাঙালি বিপ্লবীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, প্রফুল্ল চাকী, বিনয়-বাদল-দীনেশসহ বিভিন্ন বিপ্লবীর নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও জাতীয় প্রতীকের বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শুভেন্দু। ক্যাম্পাসের দেয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান লেখার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর সমালোচনা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব দেয়াললিখন নিয়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।    পহেলগাঁও হামলা ও ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযানের সময় যারা প্রতিবাদ করেননি, তারা পরে শান্তির দাবিতে মিছিল করেছেন। একই সঙ্গে যাদবপুরে কথিত ‘হুমকির সংস্কৃতি’ বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি।  ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। প্রয়োজন হলে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।   তবে শুভেন্দু অধিকারীর এসব অভিযোগ ও বক্তব্যের বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন কিংবা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস    

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৫:৩৯
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার হুমকির কারণে মেক্সিকোর মেক্সিকালি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মেক্সিকালিতে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমও পুনরায় চালু হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শুক্রবার এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।   মেক্সিকালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় ‘লস রুসোস’ নামে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।   মার্কিন দূতাবাস ওই সময় মেক্সিকালিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সরকারি ভবন এড়িয়ে চলা, কোনো ঘটনা ঘটলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেয়।   তবে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও মেক্সিকালি ও আশপাশের বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের জন্য তৃতীয় স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রয়েছে। অপরাধ, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে মেক্সিকালিতে একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল জব্দ করে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ফেন্টানিল জব্দ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ ডোজের সমপরিমাণ। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার হুমকির তথ্য সামনে আসে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মেক্সিকালিতে সরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী এই শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   মেক্সিকালির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্যালেক্সিকোর ঠিক বিপরীতে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খুব পরিচিত না হলেও সীমান্ত বাণিজ্য ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় শহরটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৪:৪১
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণমূলক কাজের অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই - এমন প্রশিক্ষণ বা ইন্টার্নশিপের অনুমোদন দিলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে।   ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, অর্থাৎ আইসিইর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি অবশ্যই শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে।   আইসিই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু সিপিটি অনুমোদন তাদের নজরে এসেছে, যেগুলো বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব নিয়ম মেনে না চললে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন হারাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   নতুন নির্দেশনার পর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট ধরনের সিপিটি অনুমোদনের আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি।   ইউসিএলএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ফেডারেল নির্দেশনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সিপিটি অনুমোদন স্থগিত রাখা হয়েছে।   ইউসি বার্কলির আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তর বলেছে, ২৪ আগস্টের নির্দেশনাটি আগের নির্দেশনার তুলনায় আরও নির্দিষ্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি কঠোর। তাই নির্দিষ্ট কিছু কর্ম-অনুমোদনের আবেদন আপাতত স্থগিত থাকবে।   তবে ডিগ্রি অর্জনের জন্য বাধ্যতামূলক সিপিটি স্বাভাবিকভাবেই প্রক্রিয়া করা হবে। পাশাপাশি ডক্টরাল গবেষণা ও মাস্টার্স থিসিস গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত সিপিটিও চালু রাখার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন ফেডারেল নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবেদন প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তা নির্ধারণে আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে।   এদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এসব নিয়মে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বরং বিদ্যমান নিয়মের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার আর সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেছে বিভাগটি।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ওপর নতুন কড়াকড়ি ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্ববিদ্যালয় ও অভিবাসননীতি কঠোর করার বৃহত্তর পদক্ষেপের অংশ। এর আগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়ন এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   তবে নতুন নির্দেশনার অর্থ সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ বা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মূলত শিক্ষার্থীর নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন বা নিয়মবহির্ভূত সিপিটি অনুমোদনের ওপরই নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও, অনুমোদনের আগে তাদের প্রশিক্ষণটি শিক্ষাক্রমের সঙ্গে কতটা সরাসরি সম্পর্কিত - সেটি আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৪:৩৩
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা রাশিয়ার

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৬ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম।   শুক্রবার রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরখানগেলস্ক অঞ্চল থেকে মোবাইল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা অঞ্চলের কুরা পরীক্ষাকেন্দ্রে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী একটি মোবাইল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চারকে দূরবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া, উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি এবং সফল উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া অনুশীলন করে।   রাশিয়ার এই পরীক্ষা এমন সময়ে হলো, যখন গত ২৫ আগস্ট সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। সেখানে তিনি রুশ গোয়েন্দাপ্রধান সের্গেই নারিশকিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে রাশিয়া সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার পরিণতি নিয়ে মস্কোকে সতর্ক করাই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।   তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সফরটিকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি দূরপাল্লার ড্রোন হামলার বদলে তা প্রতিদিন ১ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক তেল শোধনাগারে হামলার পর আগস্টের শেষ দিকে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে।   এদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী ওজোনের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে কিয়েভভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা পরিদর্শনের জন্য ওই কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে, রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ইউক্রেনের পাল্টা দূরপাল্লার হামলা—দুই পক্ষের সামরিক তৎপরতাই যে আরও তীব্র হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারই ইঙ্গিত মিলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৪:৮
যুক্তরাষ্ট্রে নেভি জাহাজে নারী ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ
যুক্তরাষ্ট্রে নেভি জাহাজে নারী ইঞ্জিনিয়ারকে ধর্ষণ! ‘কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা’ হিসেবে আদালতে বিবেচনা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেভি জাহাজে ধর্ষণের অভিযোগ করা এক বেসামরিক নারী ইঞ্জিনিয়ারের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন নিউ জার্সির এক ফেডারেল বিচারক। অভিযোগটি কর্মক্ষেত্রে সংঘটিত ‘ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বিষয়টি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়বে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।    মামলাটি করেছিলেন এলসি ডোমিঙ্গেজ। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ইতালির ব্রিনদিসিতে অবস্থানরত মার্কিন নেভির দ্রুতগতির পরিবহন জাহাজ ইউএসএনএস কারসন সিটিতে কাজ করার সময় জাহাজটির ক্যাপ্টেন তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডোমিঙ্গেজের দাবি, ঘটনাটি তার নিজ কেবিনে এবং কর্মঘণ্টার বাইরে ঘটেছিল।    ডোমিঙ্গেজ ২০২৩ সালে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিষয়টি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি। তার আইনজীবীরা যুক্তি দেন, জাহাজে থাকা তার চাকরির অংশ হলেও ব্যক্তিগত কেবিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কোনোভাবেই চাকরির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।    অন্যদিকে মার্কিন সরকার যুক্তি দেয়, ডোমিঙ্গেজের কর্মস্থল ছিল জাহাজটি এবং চাকরির কারণে তাকে সেখানে থাকতে হতো। ফলে জাহাজে অবস্থানকালে তার ওপর যে কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি ফেডারেল কর্মী ক্ষতিপূরণ আইনের আওতায় পড়তে পারে। এ কারণে দেওয়ানি আদালতের পরিবর্তে কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে সরকার দাবি করে।    শেষ পর্যন্ত শ্রম বিভাগের সিদ্ধান্তের পর আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। ডোমিঙ্গেজের আইনজীবীরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিজের কেবিনে ঘুমন্ত অবস্থায় যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াকে কোনোভাবেই একজন কর্মীর চাকরির দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।    ঘটনাটির বিষয়ে অপরাধমূলক তদন্তও হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউএস কোস্ট গার্ডের তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া যায় যে, ক্যাপ্টেন এমন এক যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যেখানে সংশ্লিষ্ট নারী সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না। তবে এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।   মার্কিন নেভির বর্তমান নীতিতে যৌন নির্যাতনকে স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস বা এনসিআইএস নেভি ও মেরিন কর্পসের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে।    ডোমিঙ্গেজের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ কীভাবে আইনি কাঠামোর মধ্যে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কর্মস্থলে সংঘটিত অপরাধ এবং কর্মী ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার সীমারেখা নিয়ে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও আইনি বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:৪৬
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৬২৬, আন্তর্জাতিক উদ্ধার সহায়তা ফিরিয়ে দিল সরকার

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার পর্যন্ত দুই দেশে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের চতুর্থ দিনে উদ্ধার অভিযান চললেও বৈরী আবহাওয়ায় তা ব্যাহত হচ্ছে।    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬২৬ জনে পৌঁছেছে এবং ২ হাজার ৪২৬ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ সাতজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে এবং আরও ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক, পর্যটক, শ্রমিক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন।    গত বুধবার হিমালয়ের উচ্চাঞ্চলে হিমবাহ, বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্তর ধসে নদীপথে নেমে আসার পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোত ও কাদামাটির ঢল নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, স্কুল, হাসপাতাল ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    নেপালের উদ্ধারকারীরা এখনো দুর্গত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছেন। বিশেষ করে রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদায় ভরা টানেলে শতাধিক মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কাদার স্তর ও হেলিকপ্টার অবতরণের উপযোগী জায়গার সংকটে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলছে।    দুর্যোগের পর পাহাড়ি এলাকায় নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। এ কারণে একপর্যায়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে পানির উচ্চতা কমতে থাকায় ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়। তবে পাহাড়ি হ্রদ ও নদীগুলোর পরিস্থিতি এখনো নজরদারিতে রাখা হয়েছে।    নেপাল সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি দল পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও বিশেষায়িত প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিসির খানাল জানিয়েছেন, প্লাবিত টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধার, মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা এবং মরদেহ সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা প্রয়োজন।    ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি ধ্বংস হয়ে যাওয়া যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে ভারত ও চীনের কাছে অস্থায়ী সেতু সরবরাহের অনুরোধ করেছে নেপাল।    এদিকে দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে বিপুল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারপর্ব শেষ হওয়ার পরও নেপালের সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।  

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:৩৫
ছবি: এনটিভি
মাইক্রোসফটের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেন নীলফামারীর সোহান

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে প্রায় চার বছর কাজের পর এবার মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আল নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী সোহান। ২৬ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।    সোহান ডোমার পৌর শহরের পল্টনপাড়া এলাকার হামিদার রহমান ও উম্মে আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে। নিজের পোস্টে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আনন্দের কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।    শিক্ষাজীবনে সোহান ২০১১ সালে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।    স্নাতক শেষ করে দেশে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সোহান। অরবিটেকস বাংলাদেশে প্রায় ১১ মাস এবং স্যামসাংয়ে প্রায় এক বছর কাজ করার পর ২০২০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডর্টমুন্ডে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকেন।    এরপর গুগলের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সফল হন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিকে গুগলের পোল্যান্ড অফিসে সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় তিন বছর নয় মাস গুগলে কাজ করার পর ২৪ আগস্ট মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    প্রযুক্তি খাতে সোহানের এই অগ্রযাত্রায় বড় ভাই শাহেদ শাহরিয়ারের দিকনির্দেশনার কথাও উঠে এসেছে। শাহেদ নিজেও গুগলের ডাবলিন অফিসে কর্মরত বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সোহানের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার সাফল্যে পরিবার, নিজ এলাকা এবং সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সূএ: এন টিভি

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:২৭
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

ফ্যাশনে জনপ্রিয় ক্ল’ ক্লিপ গাড়ি দুর্ঘটনার সময় গুরুতর মাথা ও ঘাড়ের আঘাতের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে চিকিৎসকদের এক আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে সিটের হেডরেস্টে আঘাত করলে মাথার পেছনে লাগানো ক্ল’ ক্লিপের দাঁত বা শক্ত অংশ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে।   জরুরি চিকিৎসক ডোরিয়ান ও’লিয়ারি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা জোরে পেছনের দিকে ছিটকে গেলে ধাতব ক্ল’ ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এমনকি ক্লিপ মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং সেটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   একজন অবসরপ্রাপ্ত আইসিইউ নার্সও একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্ল’ ক্লিপ মাথার খুলিতে ঢুকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আর একজন ডেথ ইনভেস্টিগেটর জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর সময় তিনি নিজে কখনো ক্ল’ ক্লিপ পরেন না।   এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিনা পানেসার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় মাথায় থাকা চুলের ক্লিপটি মাথায় ঢুকে যায়। এতে তার মাথার খুলি, মুখ ও চোখের চারপাশে গুরুতর আঘাত লাগে।   অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার এল্লা কার্টার গাড়ি দুর্ঘটনায় প্লাস্টিকের ক্ল’ ক্লিপ পরা অবস্থায় গুরুতর কনকাশনে আক্রান্ত হন। তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন।   ক্ল’ ক্লিপ মূলত দ্রুত চুল বাঁধার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ১৯৮০-এর দশক থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের ফ্যাশনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এটি আবারও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে।   তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা মূলত গাড়িতে ক্ল’ ক্লিপ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনার সময় মাথা ও হেডরেস্টের মাঝখানে শক্ত কোনো বস্তু থাকলে সেটি আঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই গাড়ি চালানো বা যাত্রার সময় এ ধরনের শক্ত ক্লিপের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ৩:১
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এই বাড়িটাই প্রাণ বাঁচাল বহু মানুষের, অলৌকিকভাবে রক্ষা

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মধ্যে একটি ভবনে আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২৬ আগস্ট, ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর চারদিকে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়লে তারা ওই ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের নিরাপদে বের করে আনেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির চারপাশে প্রবল স্রোতে পানি ও কাদা ছুটে যাচ্ছে। আশপাশের এলাকা ভয়াবহভাবে প্লাবিত হলেও ভবনটি টিকে থাকায় ভেতরে থাকা মানুষগুলো সাময়িকভাবে নিরাপদ আশ্রয় পান।   নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত নদী থেকে ৫৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।    রসুয়া জেলায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বন্যায় আটকে পড়া ১ হাজার ৫৪৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। এর মধ্যে রসুয়া থেকে ৬৪৪ জন, নুওয়াকোট থেকে ৮৯৮ জন এবং ধাদিং থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।    ভয়াবহ এই বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি স্থলপথে উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।    নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যার ঝুঁকি এখনো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফলে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও ওই ভবনে আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর নিরাপদে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি এখন স্বস্তির একটি খবর হয়ে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২:৪৫
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি ট্রাম্পের! ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদে এখন ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে

যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিশাল এক তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ট্রাম্প জানান, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে। ট্রাম্প এটিকে বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুদ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমতেও পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ আইনি ও বাণিজ্যিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে নতুন করে উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে।   ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সরকারের হিসাবে, তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে পারে। এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।   বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেল মজুদ রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ। বিপুল তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও পুরোনো অবকাঠামো, বিনিয়োগের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের সংকটের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়ে চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন এই চুক্তির ঘোষণা এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত তেল মজুদ পুনরায় পূরণের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদে দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশাধিকার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে চুক্তিটি বাস্তবায়নে ভেনেজুয়েলার আইন ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির তেল খাতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সংস্কারের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগ ও উৎপাদন অংশীদারত্বের সুযোগ বাড়ানো হলেও নতুন চুক্তির বাস্তবায়নে আরও আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে।   এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশটির অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ জোরদার করে।   তবে নতুন চুক্তির সুফল মার্কিন ভোক্তারা কত দ্রুত পাবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, অবকাঠামো সংস্কার এবং উৎপাদন বাড়াতে সময় লাগবে। ফলে চুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ এবং তেল উৎপাদন বাড়ানোর গতির ওপর।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:৩৭
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন

বিশ্ব ফুটবলের বহুল আলোচিত ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারি মামলায় আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন আর্জেন্টিনার স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ী হুগো জিনকিস ও তার ছেলে মারিয়ানো জিনকিস। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির হয়ে তারা মার্কিন প্রসিকিউটরদের সঙ্গে ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্টে পৌঁছান। সমঝোতার আওতায় তারা ৫ কোটি মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করতে রাজি হয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৬০০ কোটি টাকার বেশি।   হুগো ও মারিয়ানো জিনকিস আর্জেন্টিনাভিত্তিক স্পোর্টস মার্কেটিং প্রতিষ্ঠান ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক ছিলেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের লাভজনক মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।   সমঝোতার আওতায় জিনকিস বাবা-ছেলে স্বীকার করেছেন, তারা ফিফা, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করতে কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্যিক ঘুষ দিয়েছিলেন। এসব অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টের সম্প্রচার ও বিপণনস্বত্ব পাওয়ার সুবিধা নেওয়া হয়েছিল।   মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার মিডিয়া ও মার্কেটিং স্বত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফুল প্লের ব্যবসায়িক স্বার্থ এগিয়ে নিতে ফুটবল কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের লেনদেন চলেছিল বলে মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ।   তবে এবারের সমঝোতার ফলে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি সরাসরি বিচারে যাবে না। ডিফার্ড প্রসিকিউশন অ্যাগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চললে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে থাকা প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে। তারা বর্তমানে বন্ডে মুক্ত থাকবেন।   ফিফা কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৫ সালে। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভেতরে দীর্ঘদিনের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। এরপর ফিফা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা এবং স্পোর্টস মার্কেটিং ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা, গ্রেপ্তার, দোষ স্বীকার ও সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।   মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে হুগো ও মারিয়ানো জিনকিসকে ফুল প্লের নিয়ন্ত্রক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে র‍্যাকেটিয়ারিং ষড়যন্ত্র, তারের মাধ্যমে প্রতারণার ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়।   এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার সর্বশেষ সমঝোতায় জিনকিস বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তির পথ তৈরি হলো। একই সঙ্গে তাদের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে দীর্ঘদিনের ঘুষের নেটওয়ার্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:১১
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস
নিউইয়র্কে ফ্রিতে ইংলিশ ও সিটিজেনশিপ প্রস্তুতির ক্লাস, বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ

নিউইয়র্কে ইংরেজিতে কথা বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বিনামূল্যে বিভিন্ন ক্লাস করার সুযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে এসব ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। কিছু কর্মসূচিতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসীবিষয়ক দপ্তরের ‘উই স্পিক এনওয়াইসি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী নিউইয়র্কবাসী বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার সুযোগ পান। নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর বিভিন্ন স্থানে সরাসরি ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনেও শেখার সুযোগ রয়েছে।   নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতেও বিনামূল্যে ইংলিশ শেখার বিভিন্ন ক্লাস চালু রয়েছে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ক্লাস রয়েছে। কিছু ধারাবাহিক ক্লাসে ভর্তি হওয়ার আগে ইংলিশ দক্ষতার মূল্যায়ন করা হতে পারে। আবার কিছু ক্লাসে নির্দিষ্ট বয়স এবং নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বসবাস, কাজ বা পড়াশোনার সম্পর্কের শর্ত থাকতে পারে। তাই সব ক্লাসের যোগ্যতা এক নয়।   নাগরিকত্বের প্রস্তুতির জন্যও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির নাগরিকত্ব প্রস্তুতি ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিষয়ক ক্লাসে দেশটির ইতিহাস, সরকারব্যবস্থা, নাগরিকত্ব পরীক্ষার প্রশ্ন এবং নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় ইংলিশ অনুশীলন করানো হয়।   কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতেও বিভিন্ন পর্যায়ের ইংলিশ ভাষার ক্লাস রয়েছে। এসব ক্লাস সরাসরি এবং ভার্চুয়াল দুইভাবেই করা যায়। সাধারণভাবে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং ইংলিশ যাদের মাতৃভাষা নয়, তারা এসব ক্লাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট ক্লাসের যোগ্যতা আলাদা হতে পারে।   এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইংলিশ ও সাক্ষরতা শিক্ষার বিভিন্ন বিনামূল্যের কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বয়সের পাশাপাশি আয়, শিক্ষাগত অবস্থা বা অন্য কিছু যোগ্যতার শর্ত থাকতে পারে।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বা বয়সের ভিত্তিতে সব ক্লাসে ভর্তি হওয়া যাবে এমন নয়। কোন ক্লাসে কারা আবেদন করতে পারবেন, ক্লাসটি সরাসরি নাকি অনলাইনে হবে, কখন শুরু হবে এবং আসন খালি আছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি বা কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত।   ইংলিশ শেখার আগ্রহীরা নিজেদের কাছের পাবলিক লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বরেও বিনামূল্যের ইংলিশ ক্লাস, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি এবং অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।   ক্লাসের সময়সূচি, বয়সসীমা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১:০
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে কাউন্সিল ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ এগিয়ে নেয়। সম্ভাব্য নতুন নামের তালিকায় রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’ এবং ব্যতিক্রমীভাবে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’।   অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় থাকা আবাসিক সড়কটির নাম প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এলাকাটির অন্যান্য সড়কের নামও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান বা পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট।   কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সড়কটির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অটোয়ার কোনো সড়ক ট্রাম্পের নামে থাকা এখন বিব্রতকর।   অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নাম হিসেবে আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে বিউভার অ্যাভিনিউ, কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ, পেলোসি অ্যাভিনিউ, গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ এবং রোজি ও’ডনেল অ্যাভিনিউ। ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ নামটি মূলত ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধ ‘Trump Always Chickens Out’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ TACO থেকে এসেছে।   নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অবশ্য এখনই চূড়ান্ত হচ্ছে না। সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দাকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এরপর নতুন নাম নিয়ে আলাদা করে জনসম্পৃক্ততা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া হবে। অটোয়ার পৌর নির্বাচন অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, এর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।   ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে সড়কটির ৬২টি পরিবারের মধ্যে নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ২১টি পরিবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। আরও ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি। কাউন্সিলর টিয়ার্নির মতে, যারা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এমন নয়। ঠিকানা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের ঝামেলার কারণেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিলেন।   এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ২৭ আগস্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি গালফ অব মেক্সিকোর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।   কাউন্সিলর টিয়ার্নি অবশ্য বলেছেন, নাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চেয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের বিতর্ক যেন দুই দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়।

প্রকাশ : আগস্ট ২৯, ২০২৬ ০:১৯
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:৫৯