সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতে এখন রয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।   মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ২০২৩ সালে রেকর্ড হওয়া ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলের আগের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এবার দেশটির কৌশলগত তেল মজুত আরও নিচে নেমেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতে ছিল ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাসে সেখান থেকে ১২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।   যুদ্ধের শুরুতেই তেলের সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের তেল ও তরল জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহ উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   গত ১১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি বিভাগকে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমতি দেন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, প্রায় ১২০ দিনের মধ্যে এই তেল সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২ সদস্য দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ। ওই সময় সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট সামাল দেওয়া এবং জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করা।   যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত মূলত বড় ধরনের জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সময়ে এই মজুত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এসব অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বড় আকারে এই মজুত ব্যবহার করেছিল ২০২২ সালে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন। ওই সময় মজুত নেমে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা সে সময় প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।   এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল থেকে মজুত কমে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে নেমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি তেলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, মজুত পুনরায় পূরণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্চে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি ব্যারেল তেল যোগ করে মজুত পুনর্গঠন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, যে পরিমাণ তেল বের করা হবে, তার চেয়েও বেশি তেল পরবর্তীতে মজুতে ফিরিয়ে আনা হবে।   তবে কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল বের করা গেলেও তা একই গতিতে আবার পূরণ করা সহজ নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা এখনো বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ মজুত পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: কেসিআরএ

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:৩৯
নেপালে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ১০৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।   গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন।   অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।   সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:২৩
গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত চুলের ক্লিপ মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে

গাড়িতে ওঠার সময় চুল বাঁধার জনপ্রিয় ক্লিপ ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করেছেন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের মতে, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা পেছনের দিকে জোরে ধাক্কা খেলে শক্ত ধরনের দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে গুরুতর আঘাতের কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ক্লিপটি মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজনও হতে পারে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে একটি আলোচনায় দৈনন্দিন জীবনের কোন কোন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ তারা নিজেরা এড়িয়ে চলেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে মোটরসাইকেল চালানো, নিরাপত্তা জাল ছাড়া ট্রাম্পোলিন ব্যবহার এবং দ্রুতগতিতে বৈদ্যুতিক স্কুটার চালানোর মতো বিষয় উঠে আসে। এর পাশাপাশি গাড়িতে চুলের ক্লিপ পরে থাকার বিষয়টিও চিকিৎসকদের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পেছনের দিকে বড় দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ পরে গাড়িতে বসার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন তারা। এসব ক্লিপ সাধারণত মাথার পেছনে এমন জায়গায় থাকে, যেখানে গাড়ি দুর্ঘটনার সময় মাথা সিট বা হেডরেস্টের দিকে জোরে ধাক্কা খেতে পারে।   চিকিৎসক ডোরিয়ান ও'লিয়ারি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর বর্ণনায় বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে পেছনের দিকে চলে গেলে ধাতব চুলের ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে আঘাত করতে পারে। তার মতে, ক্লিপ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে, কেটে যাওয়ার মতো ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি বের করতে হতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের নার্সও একই ধরনের সতর্কতা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, গাড়ি দুর্ঘটনার সময় শক্ত ক্লিপ মাথার ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। একজন মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানকারীও জানান, তিনি গাড়ি চালানোর সময় কখনো এ ধরনের ক্লিপ পরবেন না।   চুলের এই ক্লিপের জনপ্রিয়তা অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকেই চুল দ্রুত গুছিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরোনো ফ্যাশনের পুনরুত্থান এবং ওয়াই-টু-কে ধাঁচের পোশাক ও সাজসজ্জার জনপ্রিয়তার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। অভিনেত্রী ও মডেল হেইলি বিবার এবং কেন্ডাল জেনারকেও এ ধরনের ক্লিপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে গাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ দুর্ঘটনার সময় শরীরের সঙ্গে গাড়ির ভেতরের শক্ত কোনো বস্তু আটকে গেলে সেটি অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে।   এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী জিনা পানেসার গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। ডার্বিশায়ারে গাড়ি চালানোর সময় তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। তখন তার চুলে একটি দাঁতযুক্ত ক্লিপ লাগানো ছিল। সংঘর্ষের সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে ঢুকে যায়। পরে হাসপাতালে সেটি অপসারণ করা হয়। দুর্ঘটনায় তার মাথা থেকে ভ্রু পর্যন্ত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ ক্ষত তৈরি হয়েছিল। পানেসার পরে অন্য গাড়িচালকদেরও গাড়িতে ওঠার আগে এ ধরনের ক্লিপ খুলে ফেলার পরামর্শ দেন। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তিনি রাবারের ব্যান্ড ব্যবহারের কথা বলেন। তার নিজের অভিজ্ঞতা ছিল, দুর্ঘটনার সময় ক্লিপটি মাথার পেছনে আটকে যাওয়ার পর তিনি গুরুতর বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন।   চীনের সিচুয়ান প্রদেশেও এ ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক নারী গাড়ি দুর্ঘটনার পর মাথার ত্বকে দাঁতযুক্ত চুলের ক্লিপ আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকেরা প্রায় ১০ মিনিটের চেষ্টায় সেটি বের করেন। চিকিৎসক তিয়ান ফেংমিং জানিয়েছিলেন, ক্লিপটি মাথার খুলিতে পৌঁছে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা অন্য জটিলতা ঠেকাতে নিউরোসার্জারির প্রয়োজন হতে পারত। তবে এ বিষয়ে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। চুলের ক্লিপ ব্যবহার করলেই গুরুতর আঘাত হবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের সতর্কতার মূল বিষয় হলো গাড়ি দুর্ঘটনার মতো উচ্চঝুঁকির পরিস্থিতিতে মাথার পেছনে শক্ত কোনো বস্তু থাকা। জরুরি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের আঘাত সম্ভব হলেও তা তুলনামূলকভাবে বিরল এবং গাড়ির দুর্ঘটনায় আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে অন্য কারণগুলো, যেমন নিরাপত্তাহীন বস্তু বা মনোযোগের ঘাটতি।   তাই গাড়ি চালানোর সময় বা যাত্রার ক্ষেত্রে চুলের পেছনে শক্ত ও বড় ক্লিপ ব্যবহার না করাই নিরাপদ বলে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চুল বাঁধার প্রয়োজন হলে তুলনামূলক নরম রাবার ব্যান্ড বা এমন কোনো উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মাথার পেছনে শক্তভাবে বেরিয়ে থাকে না। দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি সাধারণ ফ্যাশন সামগ্রী কীভাবে দুর্ঘটনার সময় অতিরিক্ত আঘাতের কারণ হতে পারে, সাম্প্রতিক এই আলোচনা সেটিই সামনে এনেছে। বিশেষ করে গাড়িতে দীর্ঘ সময় যাতায়াত করা ব্যক্তিদের জন্য চুলের সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, চ্যানেল নিউজএশিয়া, ৭নিউজ ও দ্য স্ট্যান্ডার্ড।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২২:৪৯
স্কুল গাইডে ওসামা বিন লাদেনের লেখা অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৯/১১ হামলার দায় ইসরায়েলের, বিন লাদেনের লেখা পড়ার পরামর্শ: সেই স্কুল গাইড সরাল মার্কিন মুসলিম সংগঠন কেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর তাদের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ‘ব্যাক-টু-স্কুল’ গাইড প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। গাইডের সঙ্গে যুক্ত একটি ৯/১১ বিষয়ক পাঠ্যক্রমে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া এবং আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনের লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পাঠ্য হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ উঠেছে।   ২৮ আগস্ট নিউইয়র্ক পোস্ট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, গাইডে যুক্ত বিতর্কিত ৯/১১ বিষয়ক উপকরণটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএআইআর লিংক সরানোর বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেনি। তবে সংগঠনটি নিউইয়র্ক পোস্টকে আগের একটি নথিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একটি নোটের দিকে নির্দেশ করেছে।   অন্যদিকে সিএআইআর তাদের ২৪ আগস্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তারা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য একটি ‘ব্যাক-টু-স্কুল রিসোর্স গাইড’ প্রকাশ করেছে। এতে স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার, হয়রানি ও বৈষম্য, ৯/১১ ও গাজা নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনা এবং নামাজ, পোশাক ও খাবারসংক্রান্ত ধর্মীয় সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে তথ্য ও ব্যবহারিক নির্দেশনা রয়েছে।   তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘মুসলিম স্টাডিজ কারিকুলাম’ মূলত একটি পুরোনো শিক্ষাসামগ্রী, যা সিএআইআর-এনজে ও ‘টিচিং হোয়াইল মুসলিম’ যৌথভাবে তৈরি করেছিল। ২০২২ সালে সিএআইআর-এনজে জানিয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ওপর বৈষম্য ও হয়রানি কমানো এবং ঘটনাটির পরবর্তী প্রভাব বোঝাতে এই পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে।   পাঠ্যক্রমটির একটি অনলাইন কপিতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সেখানে হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে একই সঙ্গে হামলার পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ এবং নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।   নথিতে ৯/১১ হামলার জন্য আল-কায়েদার ভূমিকা উল্লেখ করা হলেও, সমালোচকদের অভিযোগ, সেখানে হামলাকারীদের সরাসরি ‘ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা না করে ঘটনাটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি পাঠ্যক্রম স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ভারসাম্যপূর্ণ।   বিতর্ক আরও বাড়ে ‘লেটার টু আমেরিকা’কে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ করা পাঠ্যের তালিকায় রাখার বিষয়টি সামনে আসার পর। এটি ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালের একটি চিঠি, যেখানে তিনি ৯/১১ হামলার পক্ষে নিজের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। পাঠ্যক্রমের অনলাইন সংস্করণে দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত ওই লেখার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের দিকে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করা হয়েছিল।   পাঠ্যক্রমে ওসামা বিন লাদেনকে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল এবং ওই সময় বিন লাদেনও সেখানে ছিলেন। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা তার পরবর্তী ভূমিকা ও ৯/১১ হামলার সঙ্গে তার সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না।   পাঠ্যক্রমের সুপারিশের তালিকায় ‘ভি ফর ভেনডেটা’ চলচ্চিত্রের নামও রয়েছে। এ ছাড়া ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিমদের ওপর হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন বই, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রীর উল্লেখ রয়েছে।   তবে সিএআইআরের বক্তব্যে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ৯/১১ নিয়ে স্কুলে আলোচনা হলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেক সময় হয়রানি ও বিদ্বেষের ঘটনা বাড়ে। তাদের ২০২৬ সালের ব্যাক-টু-স্কুল প্রচারণায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও অধিকার লঙ্ঘনের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ তারা নথিভুক্ত করেছে, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর এক বছরে সর্বোচ্চ।   সিএআইআরের জাতীয় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক কোরি সেলর বলেন, শিক্ষার্থীদের ধর্ম পালনের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষা সম্পর্কে জানানো জরুরি। সংগঠনটি বিশেষ করে ৯/১১ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার সময় মুসলিম শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   অন্যদিকে, ৯/১১ হামলায় স্বজন হারানো পরিবার এবং ইহুদি কমিউনিটির কিছু নেতা পাঠ্যক্রমটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ৯/১১ হামলায় মাকে হারানো নিকোলাস হারোস জুনিয়র বলেন, ইসরায়েলের ৯/১১ হামলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি পাঠ্যসামগ্রীটির ব্যাখ্যাকে ‘প্রচারমূলক’ বলে সমালোচনা করেন।   ইউনাইটেড জিউইশ টিচার্সের সভাপতি মোশে স্পার্নও সিএআইআরের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, পাঠ্যক্রমে ৯/১১ হামলাকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং বিন লাদেনের লেখা শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে শিক্ষামূলক অন্তর্ভুক্তির বদলে ক্ষতিকর প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন।   ৯/১১ হামলার পেছনে আল-কায়েদার ভূমিকা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সদস্যরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার এবং পেন্টাগন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রায় ৩ হাজার মানুষ এতে নিহত হন।   তবে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত প্রতিক্রিয়া, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আলাদা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সিএআইআরের পাঠ্যক্রমে মূলত সেই পরবর্তী প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির ২০২২ সালের বক্তব্যেও বলা হয়েছিল, ৯/১১ নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শেখানো দরকার, যাতে ঘটনাটির পাশাপাশি মুসলিমদের ওপর পরবর্তী বৈষম্য ও নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলোও বোঝা যায়।   এই বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ৯/১১-এর মতো একটি সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে ইতিহাস, সন্ত্রাসবাদের কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মুসলিমদের ওপর পরবর্তী প্রভাব একসঙ্গে শেখানো হবে। একটি পক্ষ মনে করছে, শুধু হামলার ঘটনা বললে পরবর্তী বৈষম্যের ইতিহাস বাদ পড়ে যায়। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হামলার দায় ও সন্ত্রাসীদের ভূমিকা অস্পষ্ট করা হলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হতে পারে।   সিএআইআরের ২০২৬-২৭ সালের গাইড নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু একটি লিংক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ৯/১১, ইসলামবিদ্বেষ, মুসলিম পরিচয়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদ কীভাবে পড়ানো হবে, সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, সিএআইআর-নিউ জার্সি ও টিচিং হোয়াইল মুসলিম।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২২:২৫
নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ আল-রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ।   নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।   তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২২:১২
বাবার এমন অভিনব কৌশলের পরও ছেলের গেম খেলার সময় খুব একটা কমেনি। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা

সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি।   চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন।   তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা।   ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে।   তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন।   বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন।   তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২১:৪০
প্রসূতি মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় কাজ করেন ডুলা বা প্রসূতি সহায়করা। ছবি: সংগৃহীত
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা

নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নতুন বাবা ও মা হতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য প্রসূতি সহায়তা বা ডুলা সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে খোদ নগর প্রশাসনের কর্মীদের জন্যই এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ডুলা মূলত এমন এক ধরনের পেশাদার সেবা, যেখানে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় এবং প্রসবের পর একজন প্রসূতি মাকে শারীরিক ও মানসিক সমর্থন দেওয়া হয়।   নিউইয়র্ক সিটির কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেট্রোপ্লাসহেলথ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে তাদের বিমা পরিকল্পনায় ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিমা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধার আওতায় সন্তান জন্মদানের আগে বা পরে মোট আটবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সন্তান প্রসবের সময় সরাসরি একজন প্রসূতি সহায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শহরের পরিচালিত ছয়টি হাসপাতাল সন্তান প্রসবের সময় ডুলা সেবা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোতে এই সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয় বছরে হাসপাতালগুলো থেকে ডুলা বা প্রসূতি সহায়কের কাছে রেফার করার হার আগের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ডা. হেলেন আর্তেয়াগা এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে পরিচালিত ডুলা বা প্রসূতি সহায়তা কর্মসূচিগুলো সন্তান প্রত্যাশী পরিবারগুলোর মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে গভীর বৈষম্য এবং উদ্বেগজনক হারে মাতৃমৃত্যুর শিকার, তাদের জন্য এই সেবাটি অত্যন্ত জরুরি।   ন্যাশনাল হেলথ ল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মাতৃমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের যুক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয় এবং মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুটি অঙ্গরাজ্যে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ডুলা সেবা অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২১:২৩
ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি করছেন সিবিপি কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ হাজার ডলারের নিষিদ্ধ মাদক, গ্রেপ্তার দুই

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন বা সিবিপি সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক 'খাট' জব্দ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই নিজেদের লাগেজে করে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   গত ২৮ আগস্ট সিবিপি জানায়, ২০ আগস্টের এক তল্লাশিতে ৭৬৪ পাউন্ড খাট জব্দ করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা থেকে আসা জর্জিয়ার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী ডোরিয়ান ল্যামিন চাম এবং ফ্রান্সের প্যারিস থেকে আসা নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী দামা জাওয়ারা এই মাদক পাচারের চেষ্টা করছিলেন। সিবিপির তথ্যমতে, তাদের দুজনের কাছেই সাতটি করে চেকড ব্যাগ এবং একটি করে ক্যারি অন ব্যাগ ছিল। প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যাগগুলোতে থাকা পদার্থগুলো খাট বা ক্যাথিনন হিসেবে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ভার্জিনিয়া স্টেট পুলিশ ওই দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পরিবহন এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।   এই ঘটনার ঠিক কয়েকদিন আগে ১৪ আগস্ট একই বিমানবন্দরে আরেকটি বড় ধরনের চালান ধরা পড়ে। সিবিপির ২০ আগস্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্যারিস থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী নিউইয়র্কের বাসিন্দা মোহাম্মদ দিয়াওয়ারা তার আটটি চেকড ব্যাগে করে প্রায় ৩৬৮ পাউন্ড খাট পাচারের চেষ্টা করেন। যার বাজারমূল্য ছিল ৪৪ হাজার ডলার। তল্লাশিতে ধরা পড়ার পর মেট্রোপলিটন ওয়াশিংটন এয়ারপোর্টস অথরিটি বা এমডব্লিউএএ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার সিবিপির পোর্ট ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ওয়াফ মাদক পাচারকারীদের সতর্ক করে একটি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মাদক পাচারকারী চক্রগুলো এই অবৈধ জিনিসগুলো বহনের জন্য যে সামান্য পরিমাণ অর্থ দেয়, ধরা পড়ার পর তার চেয়ে অনেক কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে। তিনি এই সাহসী অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগী সংস্থাগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান।   যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ডিইএ জানিয়েছে, খাট মূলত পূর্ব আফ্রিকা এবং আরব উপদ্বীপে জন্মায় এমন এক ধরনের উদ্ভিদের পাতা। এটি তামাকের মতো চিবিয়ে খাওয়া হয়, যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এটি থেকে পেস্ট বা চা তৈরি করে এবং ধূমপানের মাধ্যমেও সেবন করা যায়। এর প্রভাবে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, অমূলক ভয়, দুঃস্বপ্ন এবং অতিসক্রিয়তার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ১৯৯৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এটিকে 'শিডিউল ওয়ান' বা সর্বোচ্চ মাত্রার নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।   চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে খাট জব্দের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত যে পরিমাণ খাট জব্দ করা হয়েছে, তা পুরো ২০২৪ অর্থবছরের মোট জব্দের চেয়েও অনেক বেশি। শুধুমাত্র আগস্ট মাসেই সিবিপি সাড়ে তিন হাজার পাউন্ডের বেশি খাট জব্দ করেছে, যা আগের বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এ ধরনের কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   আফ্রিকার কয়েকটি দেশে এটি বৈধ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রবেশ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর জন্য অপরাধীদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।   সূত্র: দ্য ট্রাভেল

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২০:৫৯
ম্যাডেলিন ডেলি ও তার ১১ মাস বয়সী শিশু বাসিল স্টোনার। ছবি: সংগৃহীত
বাবার হেফাজতে সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি, ১১ মাসের ছেলেকে গুলি করে হত্যা করলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নিজের ১১ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে গুলি করে হত্যা করেছেন ৩৬ বছর বয়সী এক নারী। শিশুটির বাবার কাছে যেন কোনোভাবেই তার সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত না যায়, তা নিশ্চিত করতেই তিনি এই ভয়ংকর পথ বেছে নেন। সম্প্রতি আদালতে দোষ স্বীকার করার পর ওই নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুলিশি জেরার মুখে ওই পাষণ্ড মা জানিয়েছেন, তার কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সার্থক মনে হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাউবয় স্টেট ডেইলি ও পুলিশের একটি এফিডেভিট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই মায়ের নাম ম্যাডেলিন ভেরোনিক ডেলি। তার ১১ মাস বয়সী সন্তানের নাম ছিল বাসিল স্টোনার। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর। তবে সম্প্রতি ম্যাডেলিন আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের দায় স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে ওয়াইওমিং থেকে অপহরণ করে নিউ মেক্সিকোতে নিয়ে এসেছিলেন ম্যাডেলিন। আদালত এর আগে শিশুটির বাবা জেক স্টোনারকে জরুরি ভিত্তিতে সন্তানকে নিজের কাছে রাখার অধিকার দিয়েছিলেন। জেক পুলিশকে জানান, তিনি সবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর তার ছেলেকে দেখেছিলেন।   অপহরণের পর থেকেই ম্যাডেলিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। অবশেষে নিউ মেক্সিকোর সিলভার সিটির কাছে একটি চাকরির জন্য আবেদন করলে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে তার নামে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি সামনে আসে। এর সূত্র ধরেই গ্রান্ট কাউন্টি শেরিফ অফিস ২৩ ডিসেম্বর একটি আরভি বা রিক্রিয়েশনাল ভেহিকেল পার্কের সন্ধান পায়, যেখানে ম্যাডেলিন আত্মগোপন করে ছিলেন।   পুলিশ সেখানে পৌঁছালে ম্যাডেলিনকে দৌড়ে একটি আরভির ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। ভেতরে প্রবেশের জন্য পরোয়ানার অপেক্ষায় থাকার সময় পুলিশ পুরো আরভিটি ঘিরে ফেলে। ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। কর্মকর্তারা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, ম্যাডেলিন একটি নাইন এমএম হ্যান্ডগান দিয়ে শিশু বাসিলকে গুলি করে হত্যা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, সন্তানকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়।   পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ম্যাডেলিন জানান, তিনি তার ছেলেকে নিরাপদ রাখতেই এমনটি করেছেন। শিশুটির বাবা ও তার পরিবার যেন কখনোই শিশুটিকে দেখতে না পায়, সে জন্য এই হত্যা তার কাছে সার্থক মনে হয়েছে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই চাইছিলেন না তার শিশু সন্তান মাসে দুবার নেব্রাস্কা ও ওয়াইওমিংয়ের মধ্যে টানাটানির শিকার হোক।   পুলিশ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এগিয়ে আসতে দেখে তার মনে কী চলছিল, তখন তিনি সোজাসাপ্টা উত্তর দেন, জেক যেন বাসিলকে না পায়। ম্যাডেলিন আরও কিছু ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তিনি শিশুটিকে নিয়ে ট্রেইলার থেকে বের হলে শিশুটি বিপদে পড়ত। তার দাবি, শিশুটির বাবা আর্থিকভাবে, শারীরিকভাবে বা মানসিকভাবে কখনোই ছেলের কোনো দায়িত্ব নিতে চাননি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার এসব দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   বর্তমানে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রসিকিউটররা আশা করছেন, নিজ সন্তানকে হত্যার দায়ে ম্যাডেলিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২০:৪৫
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮১ লাখ ডলারের ট্যাক্স রিফান্ড ও সামাজিক সুরক্ষার চেক জালিয়াতি, গ্রেপ্তার র‍্যাপার

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮.১ মিলিয়ন বা ৮১ লাখ ডলারের এক বিশাল চেক জালিয়াতির অভিযোগে অ্যাডা উইলিয়াম ওবায়ুয়ানা নামের এক উদীয়মান র‍্যাপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। "কোল্ডহার্টেডএসি" (ColdheartedAC) এবং "এসি" (AC) নামে পরিচিত এই র‍্যাপারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ২৫টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই চক্রটি আট মিলিয়নেরও বেশি মূল্যের অন্তত ৫০টি চুরি যাওয়া ইউএস ট্রেজারি চেক নিজেদের দখলে রেখেছিল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করেছিল।   অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওবায়ুয়ানা এবং তার দুই সহযোগী—ওয়েস্টমিনস্টারের অ্যালবার্ট টাই ভু (২৮) এবং সান দিয়েগোর ক্যাসান্দ্রা মারি মুরিলো (৩১)—চুরি করা চেকগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোতে নকল স্বাক্ষর, নাম এবং ঠিকানা বসিয়ে জালিয়াতি করত।   এই চক্রটি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল এবং ভুক্তভোগীদের নাম ও তথ্যের আদলে নকল ব্যবসায়িক নথিপত্র তৈরি করত। পরবর্তীতে চুরি করা সেই অর্থ লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ এবং সান দিয়েগো কাউন্টির বিভিন্ন ব্যাংক ও ক্রেডিট ইউনিয়নে জমা করা হতো।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ওবায়ুয়ানা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১০৯ ডলার মূল্যের অন্তত তিনটি ট্রেজারি ট্যাক্স রিফান্ডের চেক ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এর মধ্যে তিনি একটি চেক সফলভাবে ভাঙিয়ে ২ লাখ ২৯ হাজার ১০৯ ডলার তুলেও নেন।   বিচার বিভাগ আরও জানায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওশানসাইডে ওবায়ুয়ানার গাড়ি থেকে ৬.১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০০টিরও বেশি চুরি করা ও জাল চেক উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ট্যাক্স রিফান্ড, প্রবীণ ভাতা এবং সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা সংক্রান্ত ২.৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ৪৮টি চুরি করা ইউএস ট্রেজারি চেক ছিল। তার দখলে থাকা এই চেকগুলোর মধ্যে ৮টি সফলভাবে ভাঙিয়ে মোট ১.৭ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছিল।   গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে ওবায়ুয়ানাকে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ফেডারেল কাস্টডিতে রয়েছেন এবং শুক্রবার তার রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই র‍্যাপারের বিরুদ্ধে নয়টি ব্যাংক জালিয়াতি, তিনটি চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ এবং একটি গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।   এছাড়া তার সহযোগী ভু-এর বিরুদ্ধে চুরি করা ট্রেজারি চেক সরবরাহ, অর্থ পাচার এবং পরিচয় চুরির মোট ১১টি এবং মুরিলোর বিরুদ্ধে একটি চেক চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৯:৫৬
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার
যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণসামগ্রীর দাম ৬.৭% বৃদ্ধি, চাপে আবাসন খাত ও নতুন বাড়ির বাজার

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি তৈরির প্রধান সামগ্রীগুলোর দাম গত এক বছরে গড়ে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম্বিল্ডার্স বা এনএএইচবি/ওয়েলস ফার্গো হাউজিং মার্কেট ইনডেক্স (HMI)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এই আশঙ্কাজনক তথ্য।   জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৭২.৯ শতাংশ নির্মাতা জানিয়েছেন যে, গত এক বছরে তাদের নির্মাণসামগ্রীর খরচ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ২৮.৪ শতাংশের খরচ বেড়েছে ৫ থেকে ৯.৯৯ শতাংশ পর্যন্ত, এবং ২২.১ শতাংশের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১০ থেকে ১৪.৯৯ শতাংশ।   এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন ছোট ও স্বাধীন নির্মাতারা। এইচএমআই জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে যারা পাঁচটি বা তার কম বাড়ি নির্মাণ শুরু করেছিলেন, তাদের নির্মাণসামগ্রীর খরচ গড়ে ৯.১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, যারা ১০০টি বা তার বেশি বাড়ি তৈরি করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১.৮ শতাংশ।   এনএএইচবি-এর ‘আই অন হাউজিং’ ব্লগের পল এমরথের মতে, বড় নির্মাতারা দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগে থেকেই বিশাল পরিমাণ সামগ্রী মজুত করে রাখতে পারেন বলে তারা এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে অনেকটাই বেঁচে যান।   তবে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ওয়েস্ট এন্ড কনস্ট্রাকশনের সিইও ক্ল্যাট মনে করেন, ছোট নির্মাতারাও সরবরাহকারীদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক গড়ে তুলে আগে থেকেই দাম নির্ধারণ করে এই সংকট কিছুটা হলেও মোকাবিলা করতে পারেন।   আবাসন খাতে একদিকে যেমন নির্মাণ ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বাড়ির বিক্রিও ক্রমশ কমছে। ইউএস সেন্সাস ব্যুরো এবং হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে নতুন বাড়ির মধ্যম বিক্রি মূল্য (Median Sales Price) ২.৩ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।   একই সাথে জুলাই মাসে নতুন বাড়ির চুক্তি স্বাক্ষরের হারও আগের মাসের তুলনায় ১০.৫ শতাংশ কমেছে। এর ফলে একক পরিবারের জন্য নতুন বাড়ি তৈরির হারও (Single-family housing starts) জুন মাসের তুলনায় ৯.৯ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫.৭ শতাংশ কমেছে।   রিয়েলটর ডট কমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার বলেন, "ক্রেতাদের জন্য এটি নতুন বাড়ি কেনার একটি দারুণ সুযোগ হলেও, নির্মাতাদের জন্য বাড়ি তৈরি করে বিক্রি করাটা এখন বেশ কঠিন। একদিকে শুল্ক, শ্রমিক সংকট এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেতারাও ছাড়ের দাবি করছেন।   এর ফলে নির্মাতাদের মুনাফার হার উভয় দিক থেকেই সংকুচিত হচ্ছে।" বিক্রি কমে যাওয়ায় অনেক নির্মাতা এখন ক্রেতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি নির্মাণ শেষ করতে চাইছেন না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৯:২৭
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে  নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প
৯/১১ হা মলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিউইয়র্কের বদলে পেন্টাগনে নি হতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন ট্রাম্প

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজ শহর নিউইয়র্কে যাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরিবর্তে তিনি পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।   শুক্রবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি জানান, "কারণ আমি পেন্টাগনে যাচ্ছি।" তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ম্যানহাটন, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার শ্যাংকসভিল—এই তিনটি ঘটনাস্থলেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।   কুইন্সের বাসিন্দা ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সাথে গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণসভায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর তিনি মূল অনুষ্ঠানে না গেলেও নিউইয়র্কে ইয়াঙ্কিস বনাম টাইগার্সের একটি বেসবল ম্যাচে উপস্থিত থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, "একজন গর্বিত নিউইয়র্কার হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৯/১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বারবার কথা বলেছেন। ২৫তম বার্ষিকীর এই শোকাবহ দিনে প্রেসিডেন্ট সেইসব নিহতদের স্মরণ করবেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাবেন এবং উদ্ধারকর্মীদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।"   নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম ট্রাম্পের ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প ম্যানহাটনের অনুষ্ঠানে যাননি; বরং পেন্টাগন বা পেনসিলভেনিয়ার ফ্লাইট ৯৩ ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।   ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে দেখা করেছিলেন। তবে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ম্যানহাটনের স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন।   আগামী মাসের ম্যানহাটনের স্মরণসভায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ও সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৯:৬
ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার
ক্যালিফোর্নিয়ায় রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় তরুণী, সিক্স ফ্ল্যাগসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিখ্যাত থিম পার্ক 'সিক্স ফ্ল্যাগস'-এর একটি কুখ্যাত রোলারকোস্টারে চড়ে কোমায় চলে গেছেন নাওমি গ্রিয়ার-উইলকিনসন নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণী। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার।   গত জুলাইয়ে ভ্যালেন্সিয়ার সিক্স ফ্ল্যাগস ম্যাজিক মাউন্টেনে যমজ ভাই ও ছোট বোনের সাথে 'এক্স২' (X2) নামের ওই রোলারকোস্টারে চড়ার সময় নাওমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।   ঘটনার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তিনি গুরুতর 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগছেন।   বর্তমানে ভেন্টিলেটর এবং ফিডিং টিউবের সাহায্যে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাওমির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাওমির মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কোনো অবস্থাতেই নাওমির এই রাইডে ওঠার সুযোগ থাকা উচিত ছিল না।" তার বাবার মতে, গত মাসে যারা এই রাইডটি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের এর জবাব দিতে হবে।   এই প্রথম নয়, গত ২৪ বছরে 'এক্স২' রোলারকোস্টারকে কেন্দ্র করে অন্তত দুটি মৃত্যু এবং অসংখ্য আহতের খবর পাওয়া গেছে। নাওমির দুর্ঘটনার মাত্র ছয় দিন আগে, হাওয়াইয়ের এক বাসিন্দা এই রাইডে চড়ার সময় তার মাথা বারবার হেডরেস্টে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। প্রায় ৮০ মাইল বেগে চলা এবং ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরা এই রাইডে তিনি বমি করে জ্ঞান হারান।   পরে মস্তিষ্কের ফোলা কমানোর জন্য তার মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল এবং জ্ঞান ফিরতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এর আগে ২০২২ সালের জুনে ক্রিস্টোফার হাওলে (২২) নামের এক তরুণ এবং ২০১০ সালে হিল্ডা ফারিয়াস নামের এক নারীও এই রাইডে চড়ে মস্তিষ্কে আঘাত পেয়ে মারা যান।   ধারাবাহিক দুর্ঘটনার জেরে গত ১২ জুলাই থেকে বিতর্কিত এই রোলারকোস্টারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অতীতের দুটি মৃত্যুর বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৮:৪৪
নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ
নাবালকদের যৌ ন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, নাইজেরিয়া থেকে দুইজনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ

নাবালকদের যৌন ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নাইজেরিয়া থেকে দুই নাইজেরিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে নাবালকদের যৌন শোষণ, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে।   প্রত্যর্পণ করা দুইজন হলেন ২৬ বছর বয়সী আদেবোলা ফেস্টাস আদেকুনলে এবং ২৪ বছর বয়সী মুদাসিরু আফিজ ওলাওয়ালে। দুজনকেই ২০২৩ সালে নাইজেরিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৭ আগস্ট তাদের যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেওয়া হয়। এফবিআই কর্মকর্তারা নাইজেরিয়ায় গিয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টডিতে নেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আদেকুনলের বিরুদ্ধে মিসিসিপির এক নাবালককে লক্ষ্য করে আর্থিক উদ্দেশ্যে যৌন ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী ওয়াকার মন্টগোমারি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে আত্মহত্যা করে।   আদেকুনলের বিরুদ্ধে নাবালকের যৌন শোষণের ফলে মৃত্যু, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণ তৈরি, নাবালককে যৌন কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে আন্তঃরাজ্য হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।   অন্যদিকে, ওলাওয়ালের বিরুদ্ধে দুই ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে যৌন ব্ল্যাকমেইল, নাবালকদের যৌন শোষণ, প্ররোচনা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপকরণ বিতরণ এবং আন্তঃরাজ্য হুমকির অভিযোগ রয়েছে। তার মামলাটিও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দুটি মামলাই এফবিআই ‘অপারেশন আর্টেমিস’ এর অংশ। নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত আর্থিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যৌন ব্ল্যাকমেইল চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নাবালকদের ব্যক্তিগত বা যৌন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। এ ধরনের অপরাধকে ‘সেক্সটরশন’ বলা হয়।   দুই অভিযুক্তই এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৮:৩০
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র I ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা-মেয়ে, সেখান থেকেই আইসিইর গ্রেপ্তার; ছাড়তে হলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ইকুয়েডরীয় মা ও মেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ৩৯ বছর বয়সী গ্রেস ক্যালোরো এবং তার ১৯ বছর বয়সী মেয়ে জিউলিয়ানা ক্যারিয়েল গত শুক্রবার ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোর মারিসকাল সুক্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।   নিজ দেশে প্রাণনাশের হুমকি ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু গত ২০ আগস্ট ফ্লোরিডার ওসেওলা কাউন্টির এইচসিএ ফ্লোরিডা পয়েনসিয়ানা হাসপাতালে আইসিই (ICE) এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ‘স্বেচ্ছায় নির্বাসন’ বা সেলফ-ডিপোর্টের পথ বেছে নেন।   ঘটনার দিন মেয়েকে নিয়ে কাজে যাওয়ার পথে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির ধাক্কায় বেশ কয়েকবার উল্টে যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাতে স্যালাইনের সুচ লাগানো অবস্থাতেই মা ও মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন এবং আইসিই এজেন্ট ও পোল্ক কাউন্টির শেরিফরা তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি তাদের পোল্ক কাউন্টি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।   তাদের আইনি অবস্থান নিয়ে অবশ্য দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গ্রেসের একটি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ও বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং তার মেয়ের ভিসার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৈধ।   অন্যদিকে, পোল্ক কাউন্টি শেরিফ অফিস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (DHS) জানিয়েছে, তারা দুজনেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।   এই অমানবিক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার এইচসিএ পয়েনসিয়ানা হাসপাতালের বাইরে ‘হোপ কমিউনিটি সেন্টার’ এবং অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।   বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ভীতি সৃষ্টির তীব্র নিন্দা জানান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভেরিফায়েড সদস্যদের সাথে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই তারা কাজ করেছে এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৮:১৭
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের
‘ট্রাম্প প্রশাসন আমাকে মেরে ফেলতে চায়’, বিস্ফোরক দাবি সাবেক সীমান্ত কমান্ডারের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার-অ্যাট-লার্জ গ্রেগরি বোভিনো দাবি করেছেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তাকে হত্যা করতে চায়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইতোমধ্যেই ২০ লাখেরও বেশি বার দেখা ওই সাক্ষাৎকারে বোভিনো বলেন, “তারা কি আমাকে মেরে ফেলতে চায়? অবশ্যই।” তবে হোয়াইট হাউস তার এই দাবিকে পুরোপুরি ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   ৫৬ বছর বয়সী বোভিনো ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের অন্যতম বিতর্কিত মুখ ছিলেন। মিনেসোটায় পরিচালিত অভিযানের সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপসহ বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কারণে তীব্র আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়েন।   গত জানুয়ারিতে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং কয়েক মাস পর অবসরে যান।   এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে তাকে ‘একটু বেশিই চরমপন্থী স্বভাবের’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিবাসনে তুলনামূলক ‘নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের আহ্বান জানান।   সাক্ষাৎকারে বোভিনো অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পরপরই তার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও তিনি প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তার দাবি, তাকে ‘চিরতরে স্তব্ধ’ করে দেওয়ার অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তা বাতিল করা হয়েছে।   তবে এই চক্রান্তের পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জড়িত নন উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের, বিশেষ করে ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যানকে দায়ী করেন।   এর জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস জানান, বোভিনোর বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং টম হোম্যান একজন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যার সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই।   বোভিনো আরও দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক হারে অভিবাসী বিতাড়নের বিরোধী এবং বাস্তবে এমন কোনো বড় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।   এছাড়া কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসী বাস করছেন—যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে মার্কিন আদমশুমারি ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি এবং এর মধ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৭:৫৪
বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর
বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে আয়োজিত 'বন্দে মাতরম' কর্মসূচি থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পুনর্দখলের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাঁর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে গীত হয় ‘বন্দে মাতরম’ গান।   এই বিশাল জনসভা থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।   মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর ক্যাম্পাসে বর্তমানে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ বা থ্রেট কালচার চলছে এবং রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে আবাসিক ভবন থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা আসলে কীসের স্বাধীনতা চায়, মাদক গ্রহণের স্বাধীনতা কি না।   এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলার মাটিতে ক্ষুদিরাম বসু হাতে গীতা নিয়ে এবং মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা ও অন্য হাতে শাঁখ নিয়ে ব্রিটিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্যসেনের মতো অগণিত বিপ্লবীর রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই এই দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করেছে।   যাদবপুরের একাংশের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলে তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ধর্ম ও পোশাক দেখে বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী এবং বেহালার সমীর গুহকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু যাদবপুরে তার প্রতিবাদে কোনো মিছিল হয়নি।   একইভাবে অবন্তীপুরায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শাহাদাতের পরও সেখানে কোনো শোকপ্রকাশ করা হয়নি। উল্টো পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতিবাদে যাদবপুরে যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   আন্দোলনকারীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।’ জনসভা থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করার পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাদবপুরের এই সভায় জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই কড়া বক্তব্যের জেরে সেখানকার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৭:২৮
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির
ইরানের ক্ষে পণাস্ত্র ঠেকানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেই, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

ইরানের নিজস্ব ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরোপুরি ব্যর্থ ও অক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   তিনি দাবি করেছেন, এই পরাশক্তিগুলোর কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ প্রতিহত করার মতো কোনো কার্যকর উপায় নেই। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর (IRNA) বরাত দিয়ে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এটি নিছক কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা ফাঁকা বুলি নয়, বরং এটি একটি প্রমাণিত ও দৃশ্যমান বাস্তবতা।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের (অধিকৃত অঞ্চল) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার চিত্রগুলোই বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছে যে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ প্রতিহত করতে কতটা অক্ষম।   নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তৈরি এই মিসাইলগুলোর নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা এবং গতির সামনে পশ্চিমা দেশগুলোর বর্তমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা যে কার্যত অকার্যকর, সেটাই আরাগচি এই বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:৫৮
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা?
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা? জানুন ৩টি দৃশ্যপট

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে, যা তাদের অভিবাসন নীতির ওপর চলমান কড়াকড়িরই একটি অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে পৌঁছানো ভিসা আবেদনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কর্মকর্তাদের দিয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ।   বিশেষ করে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে কি না, সেটি যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন, ভিসা বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা।   তবে প্রশাসনের এসব কঠোর নীতি ও অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ ক্রমাগত আইনি বাধার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন জেলা জজ জ্যানেট ভারগাস রাশিয়া ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি সরকারি নীতি বাতিল করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে তিনি 'আইন পরিপন্থী এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের বর্তমান সিদ্ধান্তটিও ভবিষ্যতে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে।   চলমান এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতাদেশ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে। প্রথমত, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ হলেই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই অবস্থাকে সাময়িক এবং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি নিছকই একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলে, নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হলো আদালতের হস্তক্ষেপ।   এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে এবং বিচারক পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফের ভিসা সাক্ষাৎকার শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। কারণ, প্রশাসন এটিকে সাময়িক বললেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে।   এর আগে ৭৫টি দেশের ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিচারক ভারগাস এবং বিচারক অমিত মেহতার রায় প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ যোগ্য আবেদনকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।   তৃতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত কংগ্রেসের তৈরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিলে কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইন পাসের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭২ সালের 'ক্লাইনডিনস্ট বনাম ম্যান্ডেল', ২০১৫ সালের 'কেরি বনাম ডিন' এবং ২০১৮ সালের 'ট্রাম্প বনাম হাওয়াই' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কী সমাধান আসে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:৩১
স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা
স্ত্রী এবং ৫ মাসের সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে আফ্রিকায় ডিপোর্ট, আইসিইর সিদ্ধান্তে অসহায় বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসরত ৩৫ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার এক নাগরিককে প্রায় ৬ হাজার মাইল দূরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ায় নির্বাসন দিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।   কার্লোস টেলেজ সানচেজ নামের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন যে তাকে সিয়েরা লিওন এবং আইভরি কোস্টের মধ্যবর্তী দেশ লাইবেরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এর আগে তিনি কখনো এই দেশটির নামও শোনেননি।   হাতকড়া পরা অবস্থায় আটলান্টিকের ওপর দিয়ে ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে বর্তমানে তিনি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আটকা পড়েছেন।   স্ত্রী এবং পাঁচ মাস বয়সী মার্কিন নাগরিক সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ে তিনি সিবিএস নিউজকে এক ভিডিও কলে বলেন, "আমি বুঝতে পারি না, যে দেশ নিজেকে 'গ্লোবাল হিরো' বা বিশ্বনেতা বলে দাবি করে, তারা একজন মানুষের সাথে কীভাবে এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে।"   ২০২১ সালে নিজ দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন সানচেজ। এরপর থেকে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য দিনের বেলা ডালাসের একটি গাড়ির শোরুমে এবং রাতে উবার ইটসের চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে এক ইমিগ্রেশন বিচারক সানচেজকে ভেনেজুয়েলায় ফেরত পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন, কারণ সেখানে তার নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।   কিন্তু সেই আইনি আদেশ আইসিই-কে তাকে অন্য কোনো তৃতীয় দেশে নির্বাসন দেওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি নিয়মিত ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে আইসিই-এর হাতে আটক হন সানচেজ। আট মাস ডিটেনশন সেন্টারে থাকার পর শেষমেশ তাকে আফ্রিকায় নির্বাসন দেওয়া হয়।   গত দেড় বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের কয়েক ডজন দেশের সাথে তথাকথিত "তৃতীয় দেশ" বা থার্ড কান্ট্রি নির্বাসন চুক্তি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো বিপজ্জনক দেশও রয়েছে।   লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরত্বের একটি অস্থায়ী হোটেলে সানচেজ এখন সময় কাটাচ্ছেন, যেখানে তার মতো ব্রাজিল, কলম্বিয়া এবং হন্ডুরাস থেকে নির্বাসিত অন্যান্যরাও রয়েছেন। ডালাসে বসবাসরত সানচেজের ভাই হুয়ান টেলেজ জানান, তার ভাইকে কেন লাইবেরিয়ায় পাঠানো হলো তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি।   তিনি তার ভাইকে একজন ভালো ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই তার প্রাপ্য নয়। এই ঘটনায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে লাইবেরিয়ায় থাকা সানচেজ আক্ষেপ করে বলেন, "এটি এমন একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি, যা আমি আমার শত্রুর জন্যও কামনা করি না।"

প্রকাশ : আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:১১