- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
গাজা উপত্যকায় হামাসবিরোধী কয়েকটি সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও শিন বেতের কার্যক্রমের কার্যত সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের ওই অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য এবং ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, গাজার বিভিন্ন এলাকায় এসব গোষ্ঠীকে ইসরায়েলি বাহিনী সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মধ্যে আর্টিলারি ও ড্রোন সহায়তা এবং অভিযানের সময় নিরাপত্তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে হামাসকে মোকাবিলায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সক্রিয় করার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, হামাসের বিরুদ্ধে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বার্থের মিল রয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক সদস্যদের বক্তব্যের বরাতে হারেৎজ জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে ইসরায়েলি বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়াদের কর্মকাণ্ডের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিছু এলাকায় এসব সশস্ত্র সদস্যকে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি অবাধে চলাফেরা করতে এবং শক্তি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্যের বরাতে প্রতিবেদনে একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় একটি গোষ্ঠীর বিরোধের সময় এক বন্দুকধারী অন্য এক ব্যক্তির পায়ে গুলি করেন। ওই সেনার দাবি, ঘটনাটি সেখানে শাস্তির একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল এবং ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাটি দেখে হতবাক হয়ে যান। আরেক ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু মিলিশিয়া সদস্য পিকআপ ট্রাকে করে আবাসিক এলাকায় ঢুকে গুলি চালানো, বাড়িঘরে লুটপাট এবং স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের নিরাপত্তা দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। হারেৎজের অনুসন্ধানে গাজার বেইত হানুন, শুজাইয়া, দেইর আল বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় অন্তত পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটির অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার অন্যান্য এলাকায় পুনর্গঠন কার্যক্রম থমকে থাকলেও এসব ঘাঁটির কিছু সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতি, কংক্রিটের প্রতিরক্ষা দেয়াল এবং মোবাইল আবাসন স্থাপন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পপুলার ফোর্সেস’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম স্ট্রাইক ফোর্স’ নামে পরিচিত কয়েকটি গোষ্ঠী ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজনরেখার কাছে মোতায়েন রয়েছে। তারা হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার কাজে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। হারেৎজের সঙ্গে কথা বলা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এসব গোষ্ঠীর নেতাদের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত নেতা হিসেবে দেখছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক গ্যাং সদস্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা হামাসের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও তাদের কর্মকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করেন। ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের দৃষ্টিতে এসব গোষ্ঠী নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সাময়িক ব্যবস্থা। তবে ইসরায়েলি সামরিক সুরক্ষা ও সহায়তা ছাড়া এসব গোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার সক্ষমতা সীমিত বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, হামাসবিরোধী এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, এসব ইসরায়েল-সমর্থিত গোষ্ঠীর বিলুপ্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে হামাসও জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েল-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকা অবস্থায় তারা অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি নয়। ফলে এসব স্থানীয় মিলিশিয়াকে ঘিরে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান শান্তি আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যার মধ্যে নিহত এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়ার অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৬ আগস্ট নেপালে আকস্মিক বন্যার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মৃত বন্যাকবলিত নারীদের মরদেহের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। ভিডিওটির সঙ্গে থাকা পোস্টে দাবি করা হয়, নিহতদের শরীরে থাকা স্বর্ণের কানের দুল ও নাকের অলংকার খুলে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দুর্যোগের মধ্যে যখন স্বজনরা নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন এবং উদ্ধারকাজ চলছে, তখন মৃতদেহ থেকেও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রতিটি দৃশ্যের স্থান, সময় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ভিডিওতে দেখা ঘটনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কারা এতে জড়িত এবং সত্যিই নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার সরানো হয়েছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপালে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করা এবং পরিবারের কাছে যথাযথ মর্যাদায় হস্তান্তর করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো ব্যক্তির মরদেহ থেকে মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে, সেটি প্রমাণিত হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে। এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দুর্যোগের মধ্যেও মানবিকতা ও মৃতদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্ত শেষ হলে ভাইরাল ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে সব ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রসেসিং সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ভিসা বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ভিসা আবেদন যাচাই ও প্রসেসিংয়ের পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন এমন আবেদনকারীদের বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই প্রশিক্ষণের অন্যতম বিষয়। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এই স্থগিতাদেশ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন তারিখে নিয়মিত প্রসেসিং পুরোপুরি শুরু হবে, তা স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়নি। যেসব আবেদনকারীর চলতি মাসে ভিসা ইন্টারভিউ নির্ধারিত ছিল এবং এই সিদ্ধান্তের কারণে তা বাতিল বা পিছিয়ে গেছে, তাদের ইন্টারভিউ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসে পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কেউ সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা ভিসা যাচাইয়ের সময় আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করার একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে গত সপ্তাহে ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস রায় দেন, ওই নির্দেশনার মাধ্যমে রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। বিচারকের মতে, আইনসম্মত যোগ্যতা থাকা আবেদনকারীদের শুধু সরকারি সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনার কারণে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়। এর পরও ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন অন্যান্য দেশের এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের B-1 ও B-2 বিজনেস ও ট্যুরিস্ট ভিসা বাতিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণা আসতে পারে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য। অন্যদিকে ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সাময়িক স্থগিতাদেশের আওতায় নয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্তে ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে। তবে যাদের ইন্টারভিউ স্থগিত হয়েছে, তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে এমন নয়; বরং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ইন্টারভিউ পরবর্তী মাসগুলোতে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধসহ চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ পাঠাতে হচ্ছে। এতে চীনের মোকাবিলায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও সক্ষমতা কিছুটা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল। বুধবার ভার্জিনিয়ার নরফোক নেভাল স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে কাজ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলও বজায় রাখতে হচ্ছে। অ্যাডমিরাল কডলের ভাষায়, সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তাকে নিয়মিত সমন্বয় করতে হচ্ছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত থাকে। এই প্রয়োজন মেটাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যারিয়ারের সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে যাবে। কডল স্বীকার করেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রয়োজনের তুলনায় কম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থাকা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রয়োজন মেটাতে নৌবাহিনীর জাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ কোথাও না কোথাও থেকে সরিয়ে আনতেই হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে প্রায় ২০০টি জাহাজ ও ১ হাজার ৫০০টি বিমান রয়েছে। এসব সামরিক সক্ষমতার মূল লক্ষ্য হলো ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকা। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান চীনের সামরিক শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে এই ভারসাম্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কডল জানান, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অগ্রাধিকারের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এবং বাকি ৪০ শতাংশ অন্যান্য অঞ্চলে রাখার একটি ভারসাম্য অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোও এই ঝুঁকির বিষয়টি মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরেছেন বলে জানান কডল। তবে নৌবাহিনীর প্রধানের দাবি, প্রশান্ত মহাসাগরে সামরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অন্যান্য উপায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ রক্ষা এবং একই সময়ে চীনের ওপর নজর রাখা, এই দুই লক্ষ্যই এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কৌশলে কতটা প্রভাব পড়বে, তা এখন ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর কার্যক্রম শুরু হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন কেন্দ্র চালুর পর সাধারণ ভিসার আবেদন জমা দেওয়া এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের সব কার্যক্রম কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে এসব সেবার জন্য আবেদনকারীদের আর সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে যেতে হবে না। নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রটির ঠিকানা ২ এফ, বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট ৮০, ব্লক বি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৩। সাধারণ ভিসার আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার তারিখ, পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ২৭ আগস্ট পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে দূতাবাস। তবে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এসব ভিসার আবেদন, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম আগের মতোই কূটনৈতিক নোটের ভিত্তিতে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসংক্রান্ত সেবাও আগের নিয়মে দূতাবাস থেকেই দেওয়া হবে। নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রমের সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসা ফি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের আশা, নতুন কেন্দ্র চালুর ফলে ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং আবেদন জমা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে সাবেক প্রেমিকাকে নজরদারি ও গতিবিধি অনুসরণ করতে ফ্লক ক্যামেরা ২ হাজারের বেশি বার ব্যবহার করার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তা আসাদ জাহির ২০২২ সাল থেকে পেট্রোল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল মিসকনডাক্ট এবং কম্পিউটারে বেআইনি প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাহির ফ্লক সেফটির ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহার করে তার সাবেক প্রেমিকার অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছেন এবং তাকে ট্র্যাক করেছেন। এভাবে তিনি ২ হাজারের বেশি বার ক্যামেরা সিস্টেমে অনুসন্ধান চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ফ্লক সেফটির ক্যামেরাগুলো মূলত বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের চলাচল শনাক্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে ব্যবহৃত হয়। সিস্টেমটির অপব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম শনাক্ত করতে কোম্পানিটি এআই-চালিত অডিটিং ব্যবস্থা চালু করে। এই অডিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই জাহিরের অস্বাভাবিক অনুসন্ধান নজরে আসে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানেও উঠেছে। এ ধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ যানবাহন ও মানুষের চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হওয়ায় এর অপব্যবহার নিয়ে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা ১৫টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এসব মামলার রায় দেন। মামলাগুলোতে অভিযোগ ছিল, সরকারি বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। ২০০৭ সালে এসব অভিযোগে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত তাকে সবগুলো মামলায় খালাস দেন। মির্জা আব্বাস বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি এর আগে সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়ে তার বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা একটি মামলায় মির্জা আব্বাসকে খালাস দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। ওই মামলাটি ২০০৭ সালে করা হয়েছিল এবং বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২৪ জন সাক্ষ্য দেন। আদালত তখন বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এদিকে ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার তথ্যও উঠে এসেছিল। তবে আজকের ১৫ মামলার রায়ে তিনি এসব দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন। আজকের রায়ের ফলে ২০০৭ সালে দায়ের হওয়া সরকারি বাড়ি বিক্রির অভিযোগসংক্রান্ত এই ১৫ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া মির্জা আব্বাসের পক্ষে নিষ্পত্তি হলো। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাসের কারণ ও মামলাগুলোর পৃথক অভিযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
অবসর কাটাতে উষ্ণ আবহাওয়া, তুলনামূলক কম খরচ ও শান্ত পরিবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ফ্লোরিডা ছিল বয়স্ক আমেরিকানদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। তবে এখন সেই প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক বেবি বুমার ফ্লোরিডার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ডেলাওয়্যারের সমুদ্রঘেঁষা এলাকাগুলোতে বসতি গড়ছেন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে ডেলাওয়্যারের সাসেক্স কাউন্টিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে বসতি গড়েছেন। এতে কাউন্টিটির জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় পাঁচ গুণ। বয়স্কদের আগমনেও ডেলাওয়্যার এগিয়ে আছে। ২০২০ সালের পর রাজ্যটিতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর পেছনে সাসেক্স কাউন্টিতে বিপুলসংখ্যক বেবি বুমারের স্থানান্তর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ কর ও জীবনযাত্রার খরচ। ডেলাওয়্যারে ইনকাম ট্যাক্স থাকলেও কোনো সেলস ট্যাক্স নেই। পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে প্রপার্টি ট্যাক্সও কম। ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানার ব্র্যাড ট্রাভিস জুনিয়র ব্লুমবার্গকে বলেন, নিউ জার্সি থেকে ডেলাওয়্যারে যাওয়া কোনো কোনো বাড়ির মালিক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের প্রপার্টি ট্যাক্সের পরিবর্তে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি দিতে পারেন। ডেলাওয়্যারের লুইস ও রেহোবোথ বিচ এখন অবসরপ্রাপ্তদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। সমুদ্রসৈকত, তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ এবং বড় শহরের তুলনায় কম খরচ অনেককে আকৃষ্ট করছে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী অ্যানেট বাবিচও তাদের একজন। অবসর কাটানোর জন্য অনলাইনে বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের লুইসের সন্ধান পান। ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে এক রিয়েলটরের পরামর্শে তিনি সমুদ্র থেকে কিছুটা ভেতরের মিল্টন এলাকায় বাড়ি কেনেন। বাবিচের ভাষায়, নিউইয়র্কের তুলনায় ডেলাওয়্যারে তার নতুন বাড়িটির দাম ছিল অবিশ্বাস্য রকম কম। পরে তিনি নিউইয়র্কের প্রায় এক ডজন বন্ধুকেও ডেলাওয়্যারে চলে আসতে উৎসাহিত করেছেন। তবে বয়স্কদের এই ঢল ডেলাওয়্যারের জন্য নতুন কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়ার সড়কগুলোতে যানজট বাড়ছে। চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে এবং বাড়তে থাকা আয় ও সম্পত্তির দাম স্থানীয় শিক্ষক ও হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্যও বসবাসের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। সাসেক্স কাউন্টির গড় বয়সও দ্রুত বাড়ছে। গত বছর কাউন্টিটির মধ্যম বয়স দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ২ বছর, যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় পাঁচ বছর বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর বেশি। সাসেক্সে বসবাসকারী ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যার অধ্যাপক জো পিকা বলেন, এলাকায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যানজট, দৈনন্দিন নানা ঝামেলা ও মানসিক চাপও বেড়েছে। তিনি জানান, কোলনোস্কপির জন্য তাকে নয় মাস এবং ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। ত্বকের চিকিৎসকের কাছে যেতে তাকে প্রায় ৪০ মাইল দূরে যেতে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডেভেলপাররাও এখন উপকূলের বাইরে কৃষিজমি এলাকায় নতুন আবাসিক কমিউনিটি তৈরি করছেন। এর মধ্যে অনেকগুলো বিশেষভাবে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের আশঙ্কা, অতিরিক্ত উন্নয়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি ডেলাওয়্যারের ছোট শহরের স্বতন্ত্র পরিবেশ নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটির ধীরগতির জীবনযাত্রার কারণে যে ‘লোয়ার, স্লোয়ার ডেলাওয়্যার’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেটিও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ফলে অবসরপ্রাপ্তদের কাছে ডেলাওয়্যার যতই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, নতুন বাসিন্দাদের এই ঢল রাজ্যটির জন্য একই সঙ্গে সুযোগ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১৩ বছরের এক ব্রিটিশ কিশোরীসহ যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনেও অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকশ মানুষ। নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও পানি নদীতে নেমে আসার পর মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, ধাতব সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়িঘর ও যানবাহন কাদা ও পানির নিচে চাপা পড়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ৪০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দুর্গম এলাকা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকের ভাষায়, যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, সেদিকেই ধ্বংসযজ্ঞ। নদীর পাশে থাকা অনেক বসতি পুরোপুরি ভেসে গেছে। তার নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যও নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের দিকেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনা কর্মকর্তারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত আছড়ে পড়ার আগে মানুষজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে পালানোর চেষ্টা করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়ও উঠে এসেছে ভয়াবহতার চিত্র। ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল জানান, হঠাৎ করে বিশাল কাদার স্রোত তাদের দিকে ধেয়ে আসে। পানি ও কাদা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ার পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্রোতে তার স্ত্রী ভেসে যান। কয়েক ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হলেও স্ত্রী এখনো নিখোঁজ। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে তুষার ও বরফ ধসে পড়ার কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পানি নেমে এসে নদীর পানি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এদিকে নেপাল থেকে নেমে আসা পানির কারণে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিহারে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন। একটি পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নেপাল ও তিব্বতের এই অঞ্চলটি মাউন্ট কৈলাসে তীর্থযাত্রার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সেখানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী জড়ো হন। এবারের দুর্যোগে মাউন্ট কৈলাসগামী ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রীও আটকা পড়েছেন বলে জানানো হয়েছে। দুর্যোগের পর নেপাল ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি দুর্গত মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ায় র্যাটক্লিফের এই সফরকে ‘আধা-রুটিন’ বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, এই সফর থেকে ‘কিছু একটা হতে পারে’। মঙ্গলবার র্যাটক্লিফ গোপনে মস্কো সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে রাশিয়ার ক্রেমলিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সিআইএ প্রধান রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে এবং বৈঠকের ফলাফল পুতিনকে দ্রুত জানানো হয়েছে। তবে আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। পেসকভ বলেন, এমন যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়, যদিও এর মাধ্যমে দুই দেশের গভীর সংকট কতটা কমবে, তা বলার সময় এখনো আসেনি। র্যাটক্লিফের সফরটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ ২০২১ সালের পর এই প্রথম কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইএ পরিচালক মস্কো সফর করলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম বার্নস মস্কো সফর করে পুতিনকে ইউক্রেনে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কয়েক মাস পরই রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু করে। র্যাটক্লিফের এবারের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা তৈরি হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেন কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ওপর হামলা না চালায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই র্যাটক্লিফ মস্কো গিয়েছিলেন। সিবিএস নিউজও একাধিক সূত্রের বরাতে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এই ব্যাখ্যা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, র্যাটক্লিফ ‘অসাধারণ একজন ব্যক্তি’ এবং তিনি মস্কো গিয়েছেন এমন কোনো কারণে নয়, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের দাবি, সফরটি আধা-রুটিন ধরনের হলেও এর মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে ‘খুব কঠোরভাবে কাজ করছে’। তার ভাষ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের অবসান চায়। তবে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছায়নি। এদিকে র্যাটক্লিফের সফরের আগে ইউক্রেনকে মস্কোয় একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে জানানো হয়েছিল এবং সফর চলাকালে রাশিয়ার ওপর দূরপাল্লার হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে। র্যাটক্লিফের সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত। একই সময়ে ন্যাটোকে ঘিরে রাশিয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলেও উদ্বেগ রয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটোর ঐক্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে সাইবার হামলা বা সীমিত ধরনের সামরিক ও অন্যান্য ‘হাইব্রিড’ পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। তবে র্যাটক্লিফ ও রুশ কর্মকর্তাদের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ, ন্যাটো, ইরান কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের কথায় ‘কিছু একটা’ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও সফরটির প্রকৃত ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জীবিত আছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি গুরুতর আহত বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মোজতবা খামেনির শরীরের বাম পাশ, বিশেষ করে হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না তিনি মারা গেছেন। তিনি খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।” মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও তার প্রকাশ্যে অনুপস্থিতি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই নানা জল্পনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা ও ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হন। ওই হামলায় মোজতবাও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আগস্টের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছিল। এদিকে ২৪ আগস্ট ইরানি গণমাধ্যম মোজতবা খামেনির একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক উপস্থিতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলেও পরে জানা যায়, এটি তার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগের সময়ের আর্কাইভ ফুটেজ। ফলে ভিডিওটি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার প্রমাণ নয়। মোজতবা খামেনির দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তিনি আদৌ সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের কর্মকর্তারা তাকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গুরুতর আহত হলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি মারা গিয়ে থাকলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কর্মকর্তারা এখনো এমনভাবে কথা বলছেন যেন তারা নিয়মিত মোজতবার সঙ্গে পরামর্শ করছেন। মোজতবা খামেনির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে নেই। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে চলমান জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের উত্তরে আল-রাম এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোরী হুর আবদিন একটানা এক বসায় সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ থেকে তেলাওয়াত করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফিলিস্তিনে অনুষ্ঠিত এই তেলাওয়াতে তার নির্ভুলতা, মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অনলাইনের দর্শকদেরও নজর কেড়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে একটানা তেলাওয়াত করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। এর জন্য দীর্ঘদিনের অনুশীলন, শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি, গভীর মনোযোগ এবং কোরআনের আয়াত ও সূরাগুলোর ওপর ব্যাপক দখল প্রয়োজন। ইসলামি পরিভাষায়, যিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন তাকে হাফেজ বা হাফেজা বলা হয়। আর এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করা হিফজ করা ব্যক্তির জন্যও বিশেষ ধরনের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। হুর আবদিনের এই তেলাওয়াতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার অধ্যবসায় ও কোরআন মুখস্থ করার দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। ফিলিস্তিনে চলমান নানা সংকটের মধ্যে কিশোরী হুরের এই অর্জন স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এক বসায় পুরো কোরআন তেলাওয়াতের নির্দিষ্ট সময় বা আনুষ্ঠানিক কোনো রেকর্ডের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্বে প্রথমবারের মতো অস্ত্রোপচারের সময় লাইভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় একজন রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। যুক্তরাজ্যের ৪৮ বছর বয়সী রাইস হিবার্টের পিটুইটারি গ্রন্থির ১১ মিলিমিটার আকারের টিউমার অপসারণ করা হয় লন্ডনের ন্যাশনাল হসপিটাল ফর নিউরোলজি অ্যান্ড নিউরোসার্জারিতে। অস্ত্রোপচারের আগে টিউমারটি তার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় এআই সিস্টেমটি সরাসরি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। এসব কাঠামো টিউমারের খুব কাছাকাছি থাকায় অস্ত্রোপচারের সময় সামান্য ভুলও গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালসের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এআই কোনোভাবেই নিজে অস্ত্রোপচার করেনি। পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ ছিল সার্জনদের হাতে। এআই মূলত লাইভ ভিডিও বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করার জন্য সার্জনদের একটি অতিরিক্ত সহায়ক নজর হিসেবে কাজ করেছে। হিবার্ট বেডফোর্ডশায়ারের দুই সন্তানের বাবা। প্রায় ১৮ মাস আগেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিন দুপুরের বিরতিতে প্রায় দুই মাইল হাঁটতেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এমনই এক হাঁটার সময় হঠাৎ রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে খিঁচুনি শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় তার পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার ধরা পড়ে। পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের নিচের অংশে থাকা মার্বেলের মতো ছোট একটি অঙ্গ, যা শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, রক্তচাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করে। গ্রন্থিটির কাছেই থাকে ক্যারোটিড ধমনি এবং দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক নার্ভ। ফলে টিউমার বড় হয়ে এসব কাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হিবার্টের ক্ষেত্রে টিউমারটি তার অপটিক নার্ভে চাপ দিতে শুরু করলে ধীরে ধীরে পার্শ্বীয় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। তিনি বারবার হোঁচট খেতে শুরু করেন এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়। একপর্যায়ে হাঁটার সময় নিচের দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় তাকে ওয়াকিং স্টিক ব্যবহার করতে হয়। এ অবস্থায় তাকে এআই সহায়তায় পরীক্ষামূলক অস্ত্রোপচারে প্রথম রোগী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে তিনি সম্মতি দেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অস্ত্রোপচারটি করা হয়। নাক দিয়ে এন্ডোস্কোপ প্রবেশ করিয়ে মাথার খুলির নিচের অংশে পৌঁছে টিউমার অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর হিবার্ট জানান, চোখ খোলার পর তার মনে হয়েছিল যেন একসঙ্গে চারপাশের পুরো দৃষ্টিক্ষেত্র দেখতে পাচ্ছেন। পরবর্তী আট সপ্তাহে তার দৃষ্টিশক্তি ও শারীরিক শক্তি আরও উন্নত হয়েছে এবং আগের সমস্যাগুলোও চলে গেছে। তিনি আবার কাজেও ফিরেছেন। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত এআই প্রযুক্তিটি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা তৈরি করেছেন। শত শত মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাঠামো শনাক্ত করতে পারে। গবেষণাটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য এখন আরও বড় পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা। ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারে এমন একটি এআই সহকারী তৈরির সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। তবে চিকিৎসকেরাই স্পষ্ট করেছেন, এই প্রযুক্তি এখনো পরীক্ষামূলক এবং রোগীর নিরাপত্তার জন্য সার্জনের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার ইটসের এক নারী ডেলিভারি ড্রাইভারের অভিনব এক কৌশল সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেড ফিনিক্স নামের ওই তরুণী খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর গ্রাহকের কাছে যে কনফার্মেশন ছবি পাঠাতে হয়, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের স্যান্ডেল পরা পা ও নতুন করা পেডিকিউর প্রদর্শন করেন। আর এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কৌশলের কারণেই নাকি গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি আকাশচুম্বী টিপ বা বকশিশ পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। ফিনিক্স জানান, অ্যাপে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণস্বরূপ যখন ছবি আপলোড করতে হয়, তখন তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ফ্রেমে নিজের পা দৃশ্যমান রাখেন। পেডিকিউর করা সুন্দর পা ছবিতে দেখার পরই অনেক গ্রাহক তাদের টিপের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে তিনি লক্ষ্য করেন। নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা অনলাইনে শেয়ার করার পরপরই তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অন্যান্য অনেক ডেলিভারি ড্রাইভারও কৌতূহলবশত একই কৌশল অবলম্বন করার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছবিতে নিজেদের পা রাখার পর আয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসার দাবি করেছেন। তবে এই কৌশলটি যে সব সময় জাদুর মতো কাজ করে, এমনটাও নয়। ফিনিক্স নিজেই স্বীকার করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন ছবি দেওয়ার পরও তিনি কোনো বাড়তি টিপ পাননি। তবুও একটি সাধারণ ডেলিভারি কনফার্মেশন ছবিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা গিগ ইকোনমিতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং টিপ সংস্কৃতির অনিশ্চয়তা নিয়ে অনলাইনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে গ্রাহকের মনোযোগ আকর্ষণের একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে টিপিং সংস্কৃতির এক অপ্রত্যাশিত দিক বলে মনে করছেন। সামগ্রিকভাবে, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ডেলিভারি দুনিয়ায় আয়ের পরিমাণ বাড়াতে এমন ছোট ও ব্যতিক্রমী কৌশলও যে কত বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, ফিনিক্সের এই অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।
মিশিগানের মিস ইউএসএ ২০২৬ অ্যাম্বার উহলার মাত্র পাঁচ বছর আগেও প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজনের ছিলেন। তিন সন্তানের মা উহলারকে তখন এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ১৭০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন তিনি। এখন ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উহলার জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে স্থূলতা ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কথা জানান এবং সন্তানদের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর সন্তানদের সঙ্গে একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে গিয়ে আরও একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফোমের একটি গর্তে লাফ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি নিজে বের হতে পারছিলেন না। তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। উহলার বলেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন যেমন কঠিন, তেমনি ওজন কমানোর পথও কঠিন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করেন - সুস্থ হয়ে একদিন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তবে শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল না ১৭০ পাউন্ড ওজন কমানো। বরং তিনি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের পর ২০২৪ সালে তিনি মিসেস ফ্লোরিডা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। পরে ফ্লোরিডার প্রতিনিধিত্ব করে মিসেস ইউনিভার্স ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিসেস ইউনিভার্স খেতাবও অর্জন করেন। তবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ওপেন কাস্টিং কলের মাধ্যমে তাকে মিস মিশিগান ইউএসএ ২০২৬ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৭ আগস্ট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী উহলার এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক অংশগ্রহণকারী। শুরুতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবেন। কিন্তু মিয়ামিতে এসে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উহলার জানান, অন্য প্রতিযোগীরা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছেন। এমনকি তরুণ প্রতিযোগীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে নিজের বয়সকে এখন তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বয়সের সঙ্গে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ওজন কমানোর যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মিস ইউএসএ এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; একজন প্রতিযোগী সমাজ ও মানুষের জন্য কী নিয়ে আসতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উহলারের কাছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার স্বপ্ন পূরণ নয়। তার নিজের ভাষায়, এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নারী কয়েক বছর আগে নিজের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন দেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান।
মিনেসোটায় গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে টেক্সাস থেকে মিনেসোটায় হস্তান্তর ঠেকাতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ফেডারেল আদালত। বুধবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের ফেডারেল বিচারক ফার্নান্দো রদ্রিগেজ জুনিয়র এই সিদ্ধান্ত দেন। ফলে ৯০ দিনের আটকসীমা শেষ হওয়ায় কাস্ত্রোর টেক্সাসের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটায় সেকেন্ড-ডিগ্রি অ্যাসল্টের চারটি অভিযোগ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার একটি অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোর সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে একটি ইমিগ্রেশন অভিযান চলাকালে গুলির ঘটনায়। ওই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক হুলিও সিজার সোসা-সেলিস পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর গত ২৯ মে টেক্সাস রেঞ্জার্স তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি ক্যামেরন কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। তবে মিনেসোটার বারবার অনুরোধের পরও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে স্বাক্ষর করেননি। মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন আদালতের কাছে আবেদন করেছিলেন, কাস্ত্রোকে মুক্তি না দিয়ে তাকে মিনেসোটায় পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টেক্সাসকে বাধ্য করা হোক। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন, মুক্তি পেলে কাস্ত্রো পালিয়ে যেতে পারেন। তবে বিচারক রদ্রিগেজ বলেন, টেক্সাসের গভর্নর অ্যাবট এখনো কাস্ত্রোর প্রত্যর্পণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। ফলে এ পর্যায়ে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো চূড়ান্ত আইনি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিদ্যমান আইনে গভর্নরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতাও নেই বলে আদালত উল্লেখ করেন। অ্যাবটের অবস্থানের পেছনে মূল প্রশ্ন হলো, কাস্ত্রোকে আদৌ ‘ফিউজিটিভ’ বা আইন এড়িয়ে পালিয়ে থাকা আসামি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। অ্যাবটের পক্ষের যুক্তি, কাস্ত্রো নিজে মিনেসোটা থেকে পালিয়ে টেক্সাসে যাননি। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে টেক্সাসে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাই তাকে প্রচলিত অর্থে পলাতক আসামি বলা যায় কি না, তা নিয়ে টেক্সাসের প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে মিনেসোটার কর্মকর্তারা বলছেন, কথাটি অপ্রাসঙ্গিক। তাদের দাবি, কথিত অপরাধের সময় কাস্ত্রো মিনেসোটায় ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি টেক্সাসে আটক আছেন। তাই তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো উচিত। মিনেসোটার অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারির ওই ঘটনায় কাস্ত্রো একটি বন্ধ দরজার ভেতর দিয়ে গুলি চালান এবং পরে ঘটনাটির পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, কাছাকাছি একটি ক্যামেরার ফুটেজ তার দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অসঙ্গতি দেখিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং কাস্ত্রো দোষী সাব্যস্ত হননি। মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এর আগে জানিয়েছিল, কাস্ত্রোকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করাই তাদের লক্ষ্য। অন্যদিকে টেক্সাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণের বিষয়ে গভর্নরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে রাজ্যের তদন্ত শেষ করার সুযোগ থাকা উচিত। আদালতের বুধবারের সিদ্ধান্ত কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মিনেসোটার ফৌজদারি অভিযোগ বাতিল করেনি। তবে টেক্সাসে তার আটক থাকার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন কাস্ত্রো মুক্তি পাওয়ার পর মিনেসোটার অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম। পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, এসব পরিষদে এমনভাবে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ থাকে। জেলা পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবেরও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের অনেকে জেলা পরিষদে স্থান পাননি। পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর জন্য প্রতি বছর বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ আসে উল্লেখ করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, এত বরাদ্দের পরও কেন সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, এখন তারাই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংগঠনকে নিজ নিজ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপি জোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এ সময় আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে রূপ দিতে সক্ষম বিশেষভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকেরা। ‘মাইক্রোবাইটস’ নামে পরিচিত এই খাবারকে থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে কুকির আকার দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি ভবিষ্যতে মহাকাশযাত্রা, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও খাদ্যসংকটে থাকা অঞ্চলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে খাবার তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফল সম্মেলনে ২৪ আগস্ট গবেষণাটির নতুন ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষক দলটি নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের জন্য টেকসই খাবার তৈরির এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিক, ফেলে দেওয়া ভুট্টার কাণ্ড ও পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদবর্জ্য প্রথমে পানি, তাপ, চাপ ও অক্সিজেন ব্যবহার করে ভেঙে ছোট কার্বনসমৃদ্ধ অণুতে পরিণত করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় অক্সিডেটিভ হাইড্রোথার্মাল ডিসলিউশন। এরপর এসব উপাদান বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইস্টকে খাওয়ানো হয়। ইস্টগুলো ওই কার্বনসমৃদ্ধ উপাদানকে ব্যবহার করে প্রোটিন, চর্বি ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান তৈরি করে। পরে এসব উপাদানের সঙ্গে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় কুকির মিশ্রণ। থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে মিশ্রণটি স্তর ধরে নির্দিষ্ট আকৃতিতে তৈরি করা হয় ‘মাইক্রোবাইটস’ কুকি। গবেষণাটির নতুন দিক হলো কুকির স্বাদ ও পুষ্টিমান আরও উন্নত করতে ইস্টের মধ্যেই প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির ব্যবস্থা করা। গবেষকেরা এমন ইস্ট তৈরি করেছেন, যা উদ্ভিদবর্জ্য থেকে ভ্যানিলার স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী ভ্যানিলিন তৈরি করতে পারে। আরেক ধরনের ইস্ট পিইটি প্লাস্টিক থেকে পাওয়া ইথিলিন গ্লাইকোল ব্যবহার করে বিটা-ক্যারোটিন তৈরি করতে পারে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। তবে এই কুকি এখনো সাধারণ বাজারের খাবার নয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কুকিগুলো খাওয়ার উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। এ পর্যন্ত করা গন্ধের মূল্যায়নে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী সীমিত সম্পদের পরিস্থিতিতে এই খাবার খেতে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানো নয়, একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশন, সাবমেরিন, দুর্যোগকবলিত এলাকা বা কৃষির সুযোগ সীমিত এমন অঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টির নতুন উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, পুষ্টিমান এবং ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকও রয়েছেন। নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ভোতে কোশি নদীর আশপাশে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নেপাল পুলিশের হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাস-মানসসরোবর এলাকায় তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১৩৩। এছাড়া স্থানীয় পর্যটক, তীর্থযাত্রী, গাইড ও নিরাপত্তাকর্মীরাও নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নেপাল ও চীনের নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে একই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের পেছনে ভূমিকম্পের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হিমবাহের বরফ ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত থেকেই এই বন্যা তৈরি হয়েছে। উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বন্যার প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকার সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। বহু বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও এগোলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নদীর তীরবর্তী নেপালের কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি। ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি। সূত্র: ডেইলি মেইল