সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে ফেরার নতুন সুযোগ পেয়েছেন অনায়া বাঙ্গার। ছবি: সংগৃহীত
ট্রান্সজেন্ডার অনায়া ভারতে সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেন

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি।   ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।   তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে।   তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।   অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই।   আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে।   অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি।   সূত্র: ডেইলি মেইল

প্রকাশ : আগস্ট ২৭, ২০২৬ ০:৭
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিল গেটস। ছবি: সংগৃহীত
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে।   ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে।   তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে।   শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে।   তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন।   হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন।   তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত।   গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত।   এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২৩:৪৮
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রবার্ট কিয়োসাকি। দুজন মিলে দুটি বইও লিখেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানুষকে ধনী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক নিজেই ১২০ কোটি ডলার ঋণে

‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের কথা জানিয়েছেন। অর্থ নিয়ে পরামর্শ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের বিপুল ঋণের খবর সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ঋণের পরও কীভাবে তিনি নিজেকে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।   তবে বিষয়টি যতটা সরলভাবে শোনা যাচ্ছে, বাস্তবতা ততটা নয়। কিয়োসাকি নিজে এবং তার সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১২০ কোটি ডলারের পুরো অর্থ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়। এর বড় অংশ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে করা আবাসন বিনিয়োগের ঋণ। অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে রয়েছে সম্পদ ও আয় তৈরি করা সম্পত্তি। সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত ক্রিস্টোফার কক্সের দীর্ঘ প্রতিবেদনে কিয়োসাকির অর্থনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিজীবন এবং ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের পেছনের গল্প উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের জন্য অ্যারিজোনায় কিয়োসাকির সঙ্গে দেখা করেন কক্স। সেখানে ৭৯ বছর বয়সী এই লেখক তার বিপুল ঋণ, বিনিয়োগ এবং জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন।   ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ কিয়োসাকিকে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত লেখকে পরিণত করে। বইটি ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ভ্যানিটি ফেয়ার ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে। বইটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত অর্থ ও বিনিয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বইটির মূল ধারণা ছিল, শুধু চাকরি করে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভর না করে সম্পদ তৈরি করা এবং আয় সৃষ্টি করতে পারে এমন সম্পদে বিনিয়োগ করা। কিয়োসাকি বিশেষ করে আবাসন, ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে ঋণকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি ঋণকে ভালো ও খারাপ, এই দুই ভাগে দেখেন। তার মতে, যে ঋণ আয় তৈরি করা সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেটি সম্পদ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।   এই দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কিয়োসাকি নিজের বিনিয়োগে বড় অঙ্কের ঋণ ব্যবহার করেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রী কিম জানান, তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। এসব সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ মিলিয়েই ১২০ কোটি ডলারের অঙ্কটি দাঁড়িয়েছে। কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর বড় অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   কিয়োসাকি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিপুল ঋণ থাকা তার কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০২৪ সালেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তার ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি নগদ অর্থ জমিয়ে রাখার বদলে ঋণ ব্যবহার করে সম্পদ কেনার কৌশলে বিশ্বাস করেন। তার যুক্তি হলো, কোনো সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই সম্পত্তির বিপরীতে আরও ঋণ নেওয়া যায়। সেই অর্থ আবার নতুন সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তার ভাষায়, ধনীরা ঋণকে সম্পদ তৈরির জন্য ব্যবহার করেন। তবে এই কৌশল একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে, কারণ সম্পত্তির মূল্য কমে গেলে বা আয় কমে গেলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।   কিয়োসাকির নিজের দাবি অনুযায়ী, তার মাসিক আয় একসময় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে অবশ্য তিনি বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ঋণের অংশ মোট ১২০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। কিমের হিসাব অনুযায়ী, তা আনুমানিক ৩ কোটি থেকে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে কিয়োসাকির আর্থিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১২ সালে ‘রিচ ড্যাড’ নামের সেমিনারভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রিচ গ্লোবাল এলএলসি দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। এর আগে এক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধে আদালত ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও মামলা হয়েছে।   তারপরও ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের জনপ্রিয়তা কমেনি। প্রথম দিকে বইটি নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে এটি বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা করে নেয় এবং ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে কিয়োসাকির উপস্থিতির পর বইটির বিক্রি আরও বেড়ে যায়। কিয়োসাকির নিজের জীবনও বইটির দর্শনের মতোই নানা বাঁকে ভরা। ১৯৪৭ সালে হাওয়াইয়ের হিলোতে জন্ম নেওয়া কিয়োসাকি জাপানি-আমেরিকান পরিবারের সন্তান। তার বাবা রালফ কিয়োসাকি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং হাওয়াইয়ের শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিয়োসাকি বইটিতে নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদিও বাস্তব জীবনে বাবার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ছিল।   অন্যদিকে বইয়ের ‘রিচ ড্যাড’ চরিত্রটি পুরোপুরি তার নিজের বাবার বিপরীত এক অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতীক। ২০১৮ সালে কিয়োসাকি জানান, এই চরিত্রের পেছনে হাওয়াইয়ের হোটেল ব্যবসায়ী রিচার্ড কিমির প্রভাব ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বইয়ে তার বাবাকে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে রালফই একসময় ছেলের ব্যবসায়িক উদ্যোগে ১ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছিলেন। বাবার সঙ্গে এই জটিল সম্পর্কই সম্ভবত কিয়োসাকির আর্থিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। তার বোন তেনজিনও মনে করেন, বাবার শিক্ষা ও মূল্যবোধ তার ভাইয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কিয়োসাকি নিজেও স্বীকার করেছেন, তার বাবা তাকে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছিলেন।   কিয়োসাকির জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ। তিনি মার্কিন মেরিন বাহিনীতে যোগ দিয়ে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার জীবন ও চিন্তাভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে। পরে তিনি ব্যক্তিগত উন্নয়ন, দর্শন ও আর্থিক শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ভবিষ্যৎচিন্তক ও স্থপতি বাকমিনস্টার ফুলারের সঙ্গে পরিচিত হন। ফুলারের চিন্তাধারা কিয়োসাকির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিয়োসাকি পরে উপলব্ধি করেন, তার লক্ষ্য শুধু নিজে ধনী হওয়া নয়, বরং অন্যদের অর্থনৈতিক শিক্ষা দেওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘ক্যাশফ্লো’ নামের বোর্ড গেম এবং পরে সেই গেমকে বোঝাতে গিয়ে জন্ম নেয় ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের ধারণা।   কিয়োসাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। দুজন মিলে ‘হোয়াই উই ওয়ান্ট ইউ টু বি রিচ’ এবং ‘মিডাস টাচ’ নামে দুটি বই লিখেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে কিয়োসাকির ট্রাম্পের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠতার কথাও উঠে এসেছে। তবে কিয়োসাকির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও কম নয়। বাজার ধস, স্বর্ণের দাম ও অর্থনীতি নিয়ে তার বিভিন্ন পূর্বাভাস অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি। তার উচ্চমূল্যের আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে রিচ ড্যাড এডুকেশনের বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি-আদালত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ও ব্যয়বহুল কোর্স ও পরামর্শ সেবায় যুক্ত করাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মামলাটি অবশ্য কারিগরি কারণে খারিজ হয়ে যায়।   সব মিলিয়ে ১২০ কোটি ডলারের ঋণের খবর কিয়োসাকির ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে দেউলিয়াত্বের গল্প নয়। বরং এটি তার দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ দর্শনেরই একটি চরম উদাহরণ। তিনি যে ধরনের ঋণকে সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে দেখান, তার নিজের ব্যবসায়ও সেই কৌশলের প্রয়োগ রয়েছে। তবে বিপুল ঋণের সঙ্গে বিপুল সম্পদ থাকলেও ঝুঁকি যে থাকে, সেটিও এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ভ্যানিটি ফেয়ার, ফরচুন

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২৩:২৬
প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৪ অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। বুধবারের এই দুর্যোগে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ১৫ জন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্সের একটি দলে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সাগর পান্ডে জানিয়েছেন, দলটির সঙ্গে বুধবার সকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। সবচেয়ে কম বয়সী দুইজনের বয়স ১১ ও ১৪ বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী নিখোঁজ নারীটির বয়স ৬৪ বছর। তারা কাঠমান্ডু থেকে কৈলাস পর্বত পর্যন্ত ১৪ দিনের একটি তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলেন।   ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কার্যালয়ের সঙ্গে সফরের দলনেতাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর দলটির কোনো সদস্য বা অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দেখতে এবং সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী একটি ছোট দল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের সেখানে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আকস্মিক বন্যার পর ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন।   বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এর সঙ্গে কাদা, পাথর ও বরফ মিশে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে যেতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং বিশাল জল ও কাদার স্রোত বসতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা বরফধস সৃষ্টি হয়ে এই বন্যা হয়েছে। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের ভূমিধস বা বরফ ও পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রধান কারণ। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর নদীতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নেমে এসে এই আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্যার সময় নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত দ্রুত পানির উচ্চতা বাড়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকদের সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও খুব কম ছিল। দুর্যোগের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে নেপালের রাসুয়া জেলায়। জেলার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকায় প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও বন্যার পানি ও কাদার স্রোত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম ও বাজার এলাকা বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।   উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ১৪টি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। তবে রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি থাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পানি কমে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে গিরং এলাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয়দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং বরফ ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা, হিমবাহধস ও বরফ-পাথরের ধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।   উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে স্থল ও আকাশপথে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   সূত্র: এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়া, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২২:৫২
হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার আগে অর্থকষ্টের সময় থেকে মস্তিষ্কের টিউমারের কঠিন দিন, মার্ক রাফালোর পাশে ছিলেন স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ছবি: সংগৃহীত
হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী

হলিউডে পরিচিতি পাওয়ার বহু আগের কথা। অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন মার্ক রাফালো। বয়স তখন প্রায় ৩০, অভিনয়ে বড় সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই অভিনেতা একটি গ্যারেজকে বাসস্থানে রূপান্তর করে সেখানে থাকতেন। স্থায়ী আয় বা আর্থিক নিশ্চয়তা কোনোটিই ছিল না। এমন অবস্থায় তার মনে ভয় ছিল, স্ত্রী হয়তো একদিন তাকে ছেড়ে চলে যাবেন।   কিন্তু বাস্তবতা হয়েছিল ঠিক উল্টো। মার্ক রাফালোর প্রতিভার ওপর আস্থা রেখেছিলেন তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি। ২০০০ সালে তারা বিয়ে করেন। এরপর রাফালোর অভিনয়জীবন যখন ধীরে ধীরে গতি পেতে শুরু করেছে, তখনই তাদের জীবনে আসে আরও বড় এক পরীক্ষা। রাফালো জানতে পারেন, তার মস্তিষ্কে একটি টিউমার রয়েছে।   রাফালো ২০২৪ সালে ‘স্মার্টলেস’ পডকাস্টে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে জানান, ৩৩ বছর বয়সে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখার পর তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। স্বপ্নে তিনি যেন নিশ্চিতভাবেই জানতে পেরেছিলেন, তার মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে। বাস্তবে অবশ্য তখন তার বড় কোনো উপসর্গ ছিল না, শুধু কানে সংক্রমণ হয়েছিল।   চিকিৎসকের পরামর্শে করা পরীক্ষায় বাম কানের পেছনে গলফ বলের মতো বড় একটি অংশ দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় সেটি মস্তিষ্কের একটি নিরীহ টিউমার, অর্থাৎ ভেস্টিবুলার শোয়ানোমা হিসেবে শনাক্ত হয়।   তখন রাফালোর স্ত্রী সানরাইজ তাদের প্রথম সন্তানকে জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি প্রায় সাড়ে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্ত্রীকে বাড়তি দুশ্চিন্তায় ফেলতে চাননি রাফালো। তাই টিউমারের কথা সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানাননি। সন্তান জন্মের এক সপ্তাহ পর, চিকিৎসকের সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে আলোচনার আগের রাতে স্ত্রীকে বিষয়টি জানান তিনি।   খবরটি শুনে সানরাইজ প্রথমে ভেবেছিলেন রাফালো হয়তো মজা করছেন। পরে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তিনি কেঁদে ফেলেন। রাফালোর ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী তাকে বলেছিলেন, তিনি সবসময়ই ভাবতেন রাফালো হয়তো অল্প বয়সে মারা যাবেন।   এরপর শুরু হয় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। টিউমারটি নিরীহ হলেও সেটি অপসারণের জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। রাফালো পরে জানান, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তাকে জানিয়েছিলেন, মুখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এবং এক কানের শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি ছিল।   অস্ত্রোপচারের পর আশঙ্কার একটি দিক সত্যি হয়। রাফালো বাম কানের শ্রবণশক্তি পুরোপুরি হারান। একই সঙ্গে মুখের বাম পাশে সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দেয়। এমনকি কিছু সময় তিনি চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারতেন না এবং কথা বলার সময় মুখের এক পাশ ঠিকভাবে নড়ত না। মুখের পক্ষাঘাত অবশ্য ধীরে ধীরে সেরে যায়। প্রায় এক বছর পর সেই সমস্যা অনেকটাই কেটে যায়। তবে বাম কানের শ্রবণশক্তি আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘ পুনর্বাসনের কারণে অভিনয় থেকেও বেশ কিছু সময় দূরে থাকতে হয়েছিল তাকে।   এই কঠিন সময়েও রাফালোর পাশে ছিলেন সানরাইজ। পরে এক সাক্ষাৎকারে রাফালো জানান, অসুস্থতার সময় তার স্ত্রী ছিলেন অসাধারণ একজন সঙ্গী এবং দুজন মিলে কঠিন সময়টি পার করেছেন। অসুস্থতা কাটিয়ে রাফালো আবার অভিনয়ে ফেরেন। এরপর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় সাফল্য। ‘দ্য কিডস আর অল রাইট’, ‘ফক্সক্যাচার’ ও ‘স্পটলাইট’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিকবার অস্কারের মনোনয়ন পান। মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজে ব্রুস ব্যানার বা হাল্ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে আরও পরিচিতি পান।   ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হলিউড ওয়াক অব ফেমে মার্ক রাফালোকে তারকা দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে তার স্ত্রী সানরাইজ কইগনি এবং সন্তানদেরও দেখা যায়। রাফালো ও সানরাইজের দাম্পত্য জীবনও দীর্ঘ হয়েছে। ২০০০ সালে বিয়ের পর তাদের তিন সন্তান, ছেলে কিন এবং দুই মেয়ে বেলা ও ওডেট। আর্থিক অনিশ্চয়তার সেই শুরুর দিন থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের টিউমারের কঠিন সময়, এরপর আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি, দীর্ঘ এই পথচলায় সানরাইজ ছিলেন রাফালোর পাশে।   রাফালোর জীবনের এই অধ্যায় তাই শুধু একজন অভিনেতার অসুস্থতা কাটিয়ে ফিরে আসার গল্প নয়। বরং তার ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার আগের অনিশ্চিত সময় থেকে শুরু করে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকা একজন জীবনসঙ্গীর গল্পও। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২২:২৪
বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরও জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কর্মস্থলের তালিকায়। ছবি: সংগৃহীত
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ

চাকরি খোঁজা কিংবা ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা শহর হিসেবে উঠে এসেছে ম্যাসাচুসেটসের বোস্টন। চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইট ইনডিডের ২০২৬ সালের নতুন এক তালিকায় ২৩৩টি মার্কিন মহানগর এলাকা বিশ্লেষণ করে বোস্টনকে প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছে।   ইনডিডের এই প্রথমবারের মতো প্রকাশিত ‘বেস্ট সিটিজ ফর ওয়ার্ক ২০২৬’ তালিকায় শহরগুলোকে শুধু বেতন বা চাকরির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয়নি। চাকরির সুযোগ, পারিশ্রমিক, চাকরির মান ও নিরাপত্তা, ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সুযোগ, এই ছয়টি দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইনডিড ২ লাখ বা তার বেশি জনসংখ্যার মহানগর এলাকাগুলোকে এই বিশ্লেষণের আওতায় নেয়। বিভিন্ন সরকারি ও নিজস্ব তথ্য মিলিয়ে ৪০টির বেশি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকার কর্মসংস্থান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। চাকরির সুযোগ ও পারিশ্রমিককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, আর বাকি চারটি বিষয়ও সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   বোস্টনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো কোনো একটি সূচকে শুধু এগিয়ে থাকা নয়, বরং সবগুলো ক্ষেত্রেই তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা। ইনডিডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগে বিশেষভাবে শক্তিশালী। বড় নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকরি পরিবর্তনের সুযোগের ঘনত্ব কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।   বোস্টন মহানগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা, পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক কাজের সুযোগও এখানে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগ থাকায় কর্মীদের জন্য নমনীয়তার ক্ষেত্রটিও তুলনামূলক ভালো।   তবে বোস্টনের শীর্ষে থাকার অর্থ এই নয় যে শহরটি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সবার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে বাসস্থান ও শিশুসেবার খরচ, তুলনামূলক বেশি। ফলে বেশি বেতনের চাকরি থাকলেও বাসস্থান ও অন্যান্য ব্যয় হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। ইনডিডের বিশ্লেষণেও বোস্টনের সামগ্রিক শক্তির পাশাপাশি এসব ব্যয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।   তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। ক্যারিয়ারে অগ্রগতির সুযোগের দিক থেকে শহরটি প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বড় নিয়োগদাতা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পেশাজীবী খাতের ঘনত্বের কারণে কর্মীদের জন্য চাকরি পরিবর্তন ও ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখানে বেশি।   তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটন। বড় শহরের মতো উচ্চ বেতন না থাকলেও চাকরির সুযোগের দিক থেকে শহরটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তুলনামূলক ছোট শ্রমবাজারে চাকরিপ্রার্থীর চাহিদা বেশি থাকায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও শক্তিশালী বলে ইনডিড জানিয়েছে।   চতুর্থ স্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে। পারিশ্রমিকের দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় মহানগর এলাকা। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চ বেতনের চাকরির আধিক্য এর অন্যতম কারণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো, যেখানে দূরবর্তী ও আংশিক অফিসভিত্তিক কাজের সুযোগও উল্লেখযোগ্য।   তালিকার পরের দিকে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাঝারি আকারের শহর। ষষ্ঠ স্থানে উইসকনসিনের ম্যাডিসন এবং সপ্তম স্থানে মিনেসোটার রচেস্টার। রচেস্টার অর্থনৈতিক সুযোগের সূচকে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের মহানগর এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে। শহরটি মায়ো ক্লিনিকের জন্যও পরিচিত, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানে বড় ভূমিকা রাখে।   অষ্টম স্থানে রয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটল, নবমে টেক্সাসের অস্টিন এবং দশমে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিল। শার্লটসভিল চাকরির মান ও নিরাপত্তার সূচকে দেশটির মধ্যে প্রথম হয়েছে। অস্টিন কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও ক্যারিয়ার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে রয়েছে।   ইনডিডের তালিকায় আরও দেখা যায়, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া বা ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরই এগিয়ে নেই। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, নেব্রাস্কার ওমাহা, আইওয়ার সিডার র‌্যাপিডস এবং সাউথ ডাকোটার সিওক্স ফলসের মতো তুলনামূলক ছোট মহানগর এলাকাও সেরা ২৫-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।   এতে বোঝা যাচ্ছে, চাকরির বাজারে বড় শহরের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে। ছোট শহরগুলোর কিছু এলাকায় চাকরির সুযোগের সঙ্গে তুলনামূলক কম যাতায়াতের চাপ, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য এবং স্থানীয়ভাবে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুবিধা রয়েছে।   ইনডিডের অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো একটি শহর সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয়। একজন তরুণ চাকরিপ্রার্থীর জন্য যেখানে দ্রুত ক্যারিয়ার পরিবর্তন ও বেতন বৃদ্ধির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কারও কাছে কাজের সময়ের নমনীয়তা, যাতায়াত, জীবনযাত্রার ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই তালিকাটি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাব্য কর্মস্থল বাছাইয়ের একটি নির্দেশনা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।   ইনডিডের ২০২৬ সালের সেরা ২৫ শহরের পূর্ণ তালিকায় রয়েছে:   ১. বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস ২. ওয়াশিংটন ডিসি ৩. বার্লিংটন, ভারমন্ট ৪. সান হোসে, ক্যালিফোর্নিয়া ৫. সান ফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া ৬. ম্যাডিসন, উইসকনসিন ৭. রচেস্টার, মিনেসোটা ৮. সিয়াটল, ওয়াশিংটন ৯. অস্টিন, টেক্সাস ১০. শার্লটসভিল, ভার্জিনিয়া ১১. ফার্গো, নর্থ ডাকোটা ১২. ওমাহা, নেব্রাস্কা ১৩. অ্যালবানি, নিউইয়র্ক ১৪. সিডার র‌্যাপিডস, আইওয়া ১৫. মিনিয়াপোলিস, মিনেসোটা ১৬. অ্যান আরবার, মিশিগান ১৭. ডেনভার, কলোরাডো ১৮. হনোলুলু, হাওয়াই ১৯. বোল্ডার, কলোরাডো ২০. সিরাকিউজ, নিউইয়র্ক ২১. বাল্টিমোর, মেরিল্যান্ড ২২. ডারহাম, নর্থ ক্যারোলাইনা ২৩. ম্যানচেস্টার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪. কলম্বাস, ওহাইও ২৫. সিওক্স ফলস, সাউথ ডাকোটা।   তবে মূল তালিকায় ১৭ নম্বরে ডেনভার, কলোরাডো থাকার কথা। প্রকাশিত কপিতে এটিকে ভুল করে ‘ডেনভার, মিশিগান’ লেখা হয়েছিল। একইভাবে তালিকাটি মূলত শহরের চেয়ে মহানগর এলাকা বা মেট্রো এলাকা বিবেচনা করে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইনডিড, ট্রাভেল + লেজার ও ফোর্বস।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২১:৫৭
উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার ও যাত্রীদের বিরক্ত করার ঘটনায় দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। ছবি: সংগৃহীত
‘যিশুকে বিশ্বাস না করলে নরকে যাবেন’, ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার, দুই যাজকের শাস্তি

দক্ষিণ কোরিয়ায় উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার এবং যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন আদালত। দুজনকেই ১০ লাখ কোরিয়ান ওন করে জরিমানা করা হয়েছে।   ১৮ আগস্ট দেওয়া রায়ে সিউল সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক সিও জি-ওন ৬৪ ও ৬৮ বছর বয়সী দুই ধর্মযাজককে বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জেজু থেকে গিমপোগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিমানটি জেজু বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গিমপোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর ৬৪ বছর বয়সী এক ধর্মযাজক আসন ছেড়ে বিমানের মাঝের পথ বা আইলে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে ধর্মীয় বক্তব্য দিতে শুরু করেন।   কেবিনকর্মীরা তাকে বারবার আসনে ফিরে যেতে এবং বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু তিনি তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, যিশুকে বিশ্বাস না করলে তারা নরকে যাবেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা ৬৮ বছর বয়সী আরেক ধর্মযাজকও একইভাবে বিমানের আইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে উচ্চস্বরে ধর্মীয় কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ‘হ্যালেলুজাহ’ বলে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তারাও নরকে যাবেন।   বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যাত্রী আপত্তি জানান। কেবিনকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই ধর্মযাজক তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। একজন কেবিনকর্মী সতর্ক করতে এগিয়ে গেলে তিনি পাল্টা তাকে উপদেশ না দিতে বলেন। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের আপত্তি ও বারবার সতর্কতার পরও প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের এই আচরণ চলতে থাকে। পরে আদালতে দুই ধর্মযাজক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি ছিল, বিমানে তাদের আচরণ আইন অনুযায়ী ‘বিশৃঙ্খল আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো ছিল না। একই সঙ্গে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাননি বলেও দাবি করেন।   তবে আদালত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, আইনসম্মতভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামির বিশৃঙ্খল আচরণ এবং তা করার অভিপ্রায় দুটিই প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান নিরাপত্তা আইনে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন আচরণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে কেবিনে উচ্চস্বরে চিৎকার, নির্দেশ অমান্য করা, অন্য যাত্রীদের বিরক্ত বা বিপদে ফেলা এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ অন্তর্ভুক্ত।   আইন অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানের ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেলে পাইলট ও কেবিনকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা বাঁধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও আলাদা করা যায়। বিমান অবতরণের পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তদন্তও করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা, আইসিএওর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজে নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে না চললে কিংবা বিমানবন্দরকর্মী বা কেবিনকর্মীদের নির্দেশ উপেক্ষা করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ব্যাহত করলে তাকে বিশৃঙ্খল যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণ যে এখনো বৈশ্বিকভাবে বড় সমস্যা, তারও ইঙ্গিত মিলেছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, আইএটিএর পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থার কাছ থেকে ৯৩ হাজার ১০৭টি বিশৃঙ্খল যাত্রী আচরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই হিসাবে প্রতি ৩৫৫টি ফ্লাইটে প্রায় একটি এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের কেবিনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও চলন্ত বিমানে অন্য যাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে বা কেবিনের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন আচরণ আইনগত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘটনায় আদালতের জরিমানা তাই শুধু দুই ধর্মযাজকের আচরণের বিচার নয়, উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আচরণ ও কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানার বিষয়টিকেও আবার সামনে এনেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২১:৩২
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটের মধ্যে আমদানি বাড়িয়ে ভোক্তাদের জন্য দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ, ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের বাড়তি দাম কমাতে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির সুযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার, ২৬ আগস্ট নতুন এক ঘোষণায় গরুর মাংসের নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের টুকরার জন্য শুল্ক-সুবিধাপ্রাপ্ত আমদানির পরিমাণ অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়ানো এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিমা করা গরুর মাংসের দাম কমানো। নতুন এই সুবিধা ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং তিন ধাপে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানির সুযোগ থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় ধাপে ৩১ অক্টোবর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাকি ১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করা যাবে। বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগেই আমদানি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে।   এই অতিরিক্ত আমদানি সুবিধা মূলত ‘লিন বিফ ট্রিমিংস’ বা তুলনামূলক চর্বিহীন মাংসের টুকরার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব মাংস সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কিমা করা গরুর মাংস তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের বরাদ্দটি নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের জন্য নয়, বরং ‘অন্যান্য দেশ বা অঞ্চল’-এর জন্য রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহ সংকটকে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। যদিও জুলাইয়ে গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে, খরা, দাবানল এবং খাদ্য ও চারণের সংকটের কারণে খামারিদের ওপর চাপ এখনো রয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশটির খামারগুলোতে গরু ও বাছুরের মোট সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে মাংস উৎপাদনকারী গাভীর সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৮৫ লাখ, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ শতাংশ কম। ২০২৬ সালের বাছুর উৎপাদনের হিসাবও আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ২৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্ধৃত কৃষি বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার আরও বাড়তে পারে। একই সময়ে চলতি বছর দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ কমতে পারে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান মাংসের দামকে উঁচুতে রাখছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও গরুর মাংসের দাম কমাতে আমদানির সুযোগ বাড়িয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সে সময় আর্জেন্টিনা থেকে চর্বিহীন গরুর মাংসের টুকরা আমদানির জন্য ২০২৬ সালের কোটা ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাড়ানো হয়। তবে বুধবার ঘোষিত নতুন ৩ লাখ মেট্রিক টনের সুবিধা ওই আর্জেন্টিনা-নির্দিষ্ট বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে দাম কমানোর একটি শর্তও যুক্ত করেছে প্রশাসন। কৃষিমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমদানিকৃত চর্বিহীন মাংস বাজারদরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত কোটার আওতায় আসা মাংস ওই হারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পকে জানাতে হবে। এরপর অবশিষ্ট আমদানি সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আমদানির মাধ্যমে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পান, আবার যুক্তরাষ্ট্রের গরু পালনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপও না পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন আমদানি ব্যবস্থা সাময়িকভাবে গরুর মাংসের সরবরাহ বাড়াবে এবং দেশীয় খামারিরা নিজেদের গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন। তবে আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের গরু খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি করেছে। গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদেশি মাংসের প্রবেশ বাড়লে দেশীয় খামারিরা দামের দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, বর্তমান সরবরাহ দিয়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও যুক্তিসংগত দামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।   মেক্সিকো থেকেও জীবন্ত গরু আমদানির ওপর সাম্প্রতিক বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংসের সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামে একটি পরজীবী রোগের বিস্তার ঠেকাতে মেক্সিকো থেকে জীবন্ত গবাদিপশু প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। একই সময়ে খরা ও দাবানলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গবাদিপশু উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ তাই একদিকে মার্কিন ভোক্তাদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দেশটির দীর্ঘদিনের গবাদিপশু সরবরাহ সংকট সাময়িকভাবে সামাল দেওয়ার উদ্যোগ। আগামী কয়েক মাসে আমদানি বাড়ার পর বাজারে কিমা করা গরুর মাংসের দাম কতটা কমে, সেটিই এখন এই নীতির সাফল্য পরিমাপের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।   সূত্র: হোয়াইট হাউস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) ও ফক্স বিজনেস।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২১:১১
ফ্লোরিডাকে পেছনে ফেলে অবসরজীবনের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে ডেলাওয়্যারের সমুদ্রতীরবর্তী শহরগুলো। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডা নয়, কম কর আর সমুদ্রসৈকতের টানে ডেলাওয়্যারে ছুটছেন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরজীবন কাটানোর জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ফ্লোরিডার নাম সবার আগে আসে। উষ্ণ আবহাওয়া, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ ও সমুদ্রসৈকতের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল বহু বছর ধরে অবসরপ্রাপ্তদের আকর্ষণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র কিছুটা বদলাচ্ছে। ফ্লোরিডার বাড়তি আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেক বয়স্ক মার্কিন নাগরিক এখন নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ডেলাওয়্যারকে।   বিশেষ করে ডেলাওয়্যারের দক্ষিণাঞ্চলের সাসেক্স কাউন্টি অবসরপ্রাপ্তদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে সাসেক্স কাউন্টিতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসতি গড়েছেন। এতে কাউন্টিটির জনসংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় পাঁচ গুণ।   এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাড়ছে বয়স্ক বাসিন্দাদের সংখ্যা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেলাওয়্যারে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়েছে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার। এর পেছনে সাসেক্স কাউন্টিতে অবসরপ্রাপ্তদের ব্যাপক আগমন অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সাসেক্স কাউন্টির জনপ্রিয় শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে লুইস ও রেহোবোথ বিচ। সমুদ্রের কাছাকাছি অবস্থান, ছোট শহরের পরিবেশ এবং তুলনামূলক কম করের কারণে এসব এলাকায় অবসরপ্রাপ্তদের আগ্রহ বাড়ছে। নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী অ্যানেট বাবিচও তাদের একজন। বহু বছর নিউইয়র্কে থাকার পর অবসরজীবনের জন্য নতুন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের দিকে নজর দেন। ফ্লোরিডার গরম আবহাওয়া তার পছন্দ নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।   ব্লুমবার্গকে বাবিচ বলেন, গ্রীষ্মকালে ফ্লোরিডায় থাকার অভিজ্ঞতা তার কাছে খুব একটা স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি। পরে অবসর কাটানোর জন্য ভালো জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনি ডেলাওয়্যারের উপকূলীয় শহর লুইসের সন্ধান পান। ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে বাড়ি খোঁজার সময় এক আবাসন এজেন্ট তাকে উপকূলের কাছের আরও সাশ্রয়ী এলাকা মিল্টনে নিয়ে যান। ঐতিহাসিক বাড়ি, সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি অবস্থান এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে জায়গাটি তার পছন্দ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি ও তার সঙ্গী সেখানে একটি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেন।   বাবিচের ভাষায়, নিউইয়র্কের তুলনায় ডেলাওয়্যারের বাড়িটির দাম ছিল অবিশ্বাস্যভাবে কম। ডেলাওয়্যারকে আকর্ষণীয় করে তুলছে করব্যবস্থাও। অঙ্গরাজ্যটিতে আয়কর রয়েছে, তবে রাজ্য বা স্থানীয় বিক্রয় কর নেই। ডেলাওয়্যার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক নিরাপত্তা ও রেলপথ অবসরভাতা থেকে পাওয়া আয় রাজ্য আয়করের আওতায় পড়ে না। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য নির্দিষ্ট অবসরকালীন আয় থেকেও সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়ের সুযোগ রয়েছে।   বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মতো উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাড়ির মালিকদের কাছে সম্পত্তি করের পার্থক্যটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আর্থিক পরিকল্পনাবিদ ব্র্যাড ট্রাভিস জুনিয়রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, নিউ জার্সি থেকে আসা কিছু বাড়ির মালিক বছরে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের সম্পত্তি করের পরিবর্তে ডেলাওয়্যারে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি কর দিতে পারেন।   তবে ডেলাওয়্যারেও এই দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কিছু নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। সমুদ্রসৈকতের দিকে যাওয়া সড়কে যানজট বাড়ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। নতুন বাসিন্দাদের কারণে আবাসন ও জমির চাহিদা বাড়ায় স্থানীয়ভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে।   জনসংখ্যার বয়সের চিত্রেও পরিবর্তন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে হিসাবে সাসেক্স কাউন্টির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে কাউন্টিটির মধ্যম বয়স বেড়ে ৫৩ দশমিক ২ বছরে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫ সালের তুলনায় এটি প্রায় পাঁচ বছর বেশি এবং জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর বেশি।   এই পরিবর্তনের প্রভাব স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবাতেও পড়ছে। ৭৯ বছর বয়সী জো পিকা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, এলাকায় বসবাসের সঙ্গে যানজট ও দৈনন্দিন নানা ঝামেলা বেড়েছে। তিনি কোলনোস্কপি করানোর জন্য নয় মাস অপেক্ষা করেছেন, দাঁতের চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৮ মাস এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে প্রায় ৪০ মাইল দূরে যেতে হয়েছে।   পিকা বর্তমানে সাসেক্স প্রিজারভেশন কোয়ালিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংগঠনটি এলাকায় অতিরিক্ত উন্নয়ন ও দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমানোর চেষ্টা করছে। তবে এর মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের বৈপরীত্য। কারণ পিকা ও তার স্ত্রী নিজেরাই মাত্র চার বছর আগে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।   নতুন বাসিন্দাদের আগমন শুধু স্বাস্থ্যসেবা বা যানজটের ওপরই চাপ তৈরি করছে না, বদলে দিচ্ছে স্থানীয় আবাসন ব্যবস্থাও। বয়স্ক বাসিন্দাদের বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে নির্মাতারা সমুদ্রতীরের বাইরে কৃষিজমির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে গড়ে উঠছে নতুন আবাসিক এলাকা, যার অনেকগুলোই ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হচ্ছে।   এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আরেকটি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত উন্নয়ন ও নতুন আবাসন প্রকল্পের কারণে ডেলাওয়্যারের ছোট শহরের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পুরোনো বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অবসরপ্রাপ্তদের কাছে জায়গাটির আকর্ষণ অবশ্য কমছে না। বাবিচের মতো অনেকেই নিউইয়র্কের বন্ধু ও পরিচিতদের ডেলাওয়্যারে আসতে উৎসাহিত করছেন। বাবিচ জানিয়েছেন, তার প্রায় এক ডজন নিউইয়র্কের বন্ধু পরে ডেলাওয়্যারে চলে এসেছেন।   তাদের একজন স্কট রিচার্ডসন, যিনি তার স্বামীকে নিয়ে ডেলাওয়্যারে বসতি গড়েছেন। ব্লুমবার্গকে তিনি বলেন, জায়গাটির পরিবেশ শান্ত, ধীরগতির এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। তার কাছে ডেলাওয়্যারকে কখনো কখনো মনে হয়, যেন স্থলভাগে ভেসে থাকা একটি প্রমোদতরী। তবে এই জনপ্রিয়তার মধ্যেই ডেলাওয়্যারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। কম কর, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন ও সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণে যে অবসরপ্রাপ্তরা এখানে আসছেন, তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক যোগাযোগ, আবাসন এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।   ডেলাওয়্যারের এই পরিবর্তন তাই শুধু অবসরপ্রাপ্তদের নতুন ঠিকানা খোঁজার গল্প নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরেরও একটি বড় উদাহরণ, যেখানে ফ্লোরিডার মতো দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অবসর গন্তব্যের বাইরে তুলনামূলক ছোট অঙ্গরাজ্য ও উপকূলীয় শহরগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।   সূত্র: ব্লুমবার্গ, যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো ও ডেলাওয়্যার রাজ্য সরকার।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২০:৫২
১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির
স্বপ্নের আমেরিকায় এসেও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন, ১৬ মাসে প্রাণ গেল অন্তত ৮ বাংলাদেশির

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন, জীবিকা কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো অন্তত আটজন বাংলাদেশি গত ১৬ মাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কেউ কর্মস্থলে, কেউ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, আবার কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।   নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে একের পর এক এমন মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এই প্রাণহানির শুরুটা হয়েছিল ফ্লোরিডায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাউন্ট ডোরায় ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাশুর শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া খুনের অভিযোগে তাদের সাবেক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, গত এপ্রিলে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মরত ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী নিলুফা ইয়াসমিন এক দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন।   নিউইয়র্কেও একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাহসী অফিসার দিদারুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান।   এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। একই ঘটনায় রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এর আগে জুলাই মাসে ব্রুকলিনেই ছোটখাটো এক সড়ক দুর্ঘটনার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ট্যাক্সিচালক রুহুল আমিন নাসির।   পেনসিলভানিয়া ও টেনেসিতেও বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় 'ডোরড্যাশ' অ্যাপে খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে নিহত হন মো. মাহফুজুল হক। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন।   অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট টেনেসির বেলস এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি ও হত্যার শিকার হন বাংলাদেশি অভিবাসী শাহেদ রানা মোহসিন।   এই আটটি মৃত্যুর পেছনে কোনো অভিন্ন কারণ নেই। পারিবারিক বিরোধ, কর্মস্থলে ডাকাতি বা আকস্মিক বন্দুক হামলার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাই একে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক হামলা বলার সুযোগ নেই।   তবে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন, খাবার ডেলিভারি বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই আটটি মৃত্যু শুধু আটটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই নয়, বরং স্বপ্নের দেশে নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ২০:৩
দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিচারের মুখোমুখি ৯/১১ হা মলার মাস্টারমাইন্ড  খালিদ শেখ মোহাম্মদ
দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিচারের মুখোমুখি ৯/১১ হা মলার মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মোহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ নাইন-ইলেভেন (৯/১১) হামলার স্বঘোষিত ‘মূল হোতা’ খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালের জুন মাসে।   বুধবার এক সামরিক বিচারকের দেওয়া আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর পর এই হামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারিত হলো।   সামরিক বিচারক এয়ারফোর্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী ২০২৮ সালের ৫ জুন, সোমবার থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে,।   এর আগে সরকারি কৌঁসুলিরা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর আবেদন জানালেও বিচারক তা নাকচ করে দেন এবং নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।   খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাকে কিউবার গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন সামরিক কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে,।   দীর্ঘদিন ধরে নানা আইনি জটিলতা এবং সিআইএ-র জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের অভিযোগের কারণে এই বিচার প্রক্রিয়া বারবার বিলম্বিত হয়েছে।   অবশেষে নতুন এই আদেশের মাধ্যমে হামলায় নিহতদের পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক আইনি সমাধানের পথ সুগম হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৯:১৫
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, পলাতক ঘাতকের খোঁজে পুলিশ
নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, পলাতক ঘাতকের খোঁজে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ঘাতক এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে সংঘটিত এই জোড়া খুনের সঙ্গে ৩১ বছর বয়সী যিশুস আকোস্তা নামের এক ব্যক্তি জড়িত বলে নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। ভয়ংকর এই বন্দুকধারী বর্তমানে পলাতক থাকায় শহরজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গত রবিবার ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে আকস্মিক সশস্ত্র হামলায় ৪৪ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান এবং অপর একজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।   এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার ভোরে ব্রঙ্কসের ইস্ট ১৪৯ স্ট্রিটের একটি বডেগায় (দোকান) ফের হামলা চালানো হয়। সেখানে এক বন্দুকধারী ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতাকে সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যার পর ক্যাশ কাউন্টার থেকে অর্থ লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ব্রুকলিনের রেস্তোরাঁ ও ব্রঙ্কসের বডেগায় সংঘটিত দুটি ঘটনাতেই একই ব্যক্তি জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন যিশুস আকোস্তা অত্যন্ত বিপজ্জনক।   সে এর আগেও অস্ত্র রাখা ও হামলার অভিযোগে দীর্ঘ ১০ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি গত এপ্রিলে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিল। তাকে ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য সাধারণ নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পলাতক এই ঘাতককে ধরতে ইউনাইটেড বডগেস অব আমেরিকা ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণাও করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৮:৪৯
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটে চীনা হ্যাকারদের হা মলা
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটে চীনা হ্যাকারদের হা মলা, পাল্টা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ এবং সিনেটসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল একাধিক সরকারি সংস্থায় চীনা হ্যাকারদের বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ও সাইবার হামলার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বুধবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা চীনা হ্যাকারদের একটি বিশাল সাইবার অভিযান সফলভাবে নস্যাৎ করেছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হ্যাকিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত 'কিউস্ক্যান' (QScan) এবং 'কিউটিরউটার' (QTRouter) নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের ডোমেইন তারা জব্দ করেছে।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি, ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল।   মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি অনুযায়ী, এই হ্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত চীনের নানজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'নানজিং শিনজিউওয়েই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি কোম্পানি' পরিচালনা করত। এই টেক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক তালিকায় চীনের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা 'মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি' এবং সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যুক্ত রয়েছে।   তবে চীনা কর্তৃপক্ষ সবসময়ই হ্যাকিংয়ের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।   তদন্ত নথির তথ্য অনুযায়ী, এই হ্যাকার চক্রটি অন্তত ২০১৮ সাল থেকে নিজস্ব প্রযুক্তির টুলস ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল নেটওয়ার্কে আঘাত হেনে আসছে। ২০১৯ সালের আগস্টে ভিপিএনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নাসার নেটওয়ার্কে প্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল তারা।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এনার্জি ডিপার্টমেন্টের তিনটি ল্যাবরেটরি, এনআইএইচ, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিকিউরিটি ডিভাইস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সংযোগ থাকা সাইবার হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষে অনেক বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে এই ধরনের উচ্চমাত্রার সাইবার অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সেন্টিনেলওয়ানের বিশ্লেষক ডাকোটা ক্যারি জানান, গত এক দশকে এই ধরনের আক্রমণাত্মক সেবা প্রদানকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর ওপর একের পর এক সাইবার হামলার এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৮:৩০
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের
ক্যালিফোর্নিয়ার শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের আহ্বান নিউসমের

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।   সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম।   সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা।   বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে।   গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৮:৩
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি প্রধান সরকারি হাসপাতালের নার্সারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই নার্সারিতে অন্তত ১৫ জন নবজাতক ছিল, যাদের মধ্যে কেবল একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।   উদ্ধারকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে গাইনোকোলজি ওয়ার্ডের নার্সারির ভেতরে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসার বিস্ফোরিত হয়ে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।   খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উদ্ধারকারী দল সেখানে শীতলীকরণ বা কুলিং প্রক্রিয়া শুরু করে। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য সম্পর্কে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স নরীন খান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ওয়ার্ডের ভেতরের দৃশ্য সহ্য করার মতো নয়। পৃথিবীতে মাত্র এক বা দুদিন আগে চোখ মেলা ১৪টি শিশু এভাবে মারা গেল।"   এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা পাকিস্তানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী একে 'অপূরণীয় ক্ষতি' আখ্যা দিয়ে ঘটনার তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এবং নবজাতক ওয়ার্ডগুলোতে কার্যকর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।   ঘটনার প্রকৃত কারণ, আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা এবং হাসপাতালের জরুরি প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একটি বহুমুখী তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছেন, যাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।   এদিকে, নিষ্পাপ সন্তানদের হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। সন্তানহারা মোহাম্মদ সামি নামের এক মা জানান, মাত্র তিন দিন আগে জন্ম নেওয়া তার শিশুটিকে ওই নার্সারিতে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছিল।   কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, "আমি কী বলব বা কাকে দোষ দেব জানি না, আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি।" আমির আব্বাসি নামের আরেক ব্যক্তি তার সদ্যোজাত ভাতিজাকে হারানোর শোক প্রকাশ করে বলেন, "গতকালই আমি তার নরম মুখ ও হাত ছুঁয়েছিলাম, আর আজ সে শুধুই ছাই।"   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত তদারকি করতে করাচি থেকে ইসলামাবাদে যাচ্ছেন।   হাসপাতালের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শিশুদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৭:৪২
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির
নিউইয়র্কে ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির আহ্বান মেয়র মামদানির

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটি এবং বিশ্বজুড়ে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মোবারকবাদ জানান।   নিজের আবেগঘন বার্তায় মেয়র বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো করুণা, বদান্যতা এবং ন্যায়বিচারের মহান আদর্শের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই নীতিগুলো গোটা বিশ্বের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে আসছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় শহরের নেতা হিসেবে বিভিন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে এমন শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া তাঁর দায়িত্বের একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও, মেয়র মামদানি এই উৎসবটিকে নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করেছেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজের নানা বৈচিত্র্যকে আপন করে নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের নিঃস্বার্থ সেবা করার মধ্য দিয়েই একটি শহর সাংস্কৃতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।   নিউইয়র্ক সিটি হলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক জায়গা থেকে নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের এমন প্রকাশ্য সম্মান ও স্বীকৃতি সেখানকার মুসলিম বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেয়রের এই আন্তরিক শুভেচ্ছা বার্তা শহরটিতে বসবাসরত মুসলিমদের মাঝে এক গভীর আত্মবিশ্বাস ও স্বস্তিদায়ক আপনত্বের অনুভূতি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৭:২৫
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের
নিউইয়র্কে ১৫ বছরের কিশোরকে মাথায় গু লি করে হ ত্যা, পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ১৬ বছরের কিশোরের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাইলি বিলিংসলিকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কালভিন ভেলোজ নামের ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর। মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ।   গত ১২ আগস্ট বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কিংসব্রিজ হাইটসের ওয়েস্ট ১৯৭ স্ট্রিটের কাছে ক্ল্যাফলিন অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কালভিন তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটি .৪৫ ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এবং "আমি কিছু ব্যথা দিতে যাচ্ছি" (I'm going to throw some pain) বলে হুংকার দিয়ে রাইলিকে মাথায় গুলি করে।   নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) চিফ অব ডিটেকটিভস জোসেফ কেনি জানান, ওই সময় রাইলিসহ একদল কিশোর একটি বেডরুমে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কালভিন তার বন্দুক বের করে ম্যাগাজিন লোড করে সরাসরি রাইলির মাথায় গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   রাইলির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না বলেও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই অ্যাপার্টমেন্টে থাকা ১৩ বছর বয়সী অপর এক কিশোরও আহত হয়। গুলি প্রথমে দেয়ালে লেগে ছিটকে তার বুকে আঘাত করে। বর্তমানে সে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং কালভিনের উদ্দেশ্যই ছিল কাউকে গুলি করা।   এদিকে, নিহত রাইলির শোকার্ত দাদি এলেইন রজার্স কালভিনের আত্মসমর্পণের খবর শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ওই তরুণ যে কারণেই আত্মসমর্পণ করুক না কেন, এটি অন্তত কিছুটা স্বস্তিদায়ক; তবে তিনি জানতে চান কেন তার নাতিকে এভাবে হত্যা করা হলো।   পুলিশ কালভিনকে 'বুলিং' প্রবণ ও বদমেজাজি হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে, সে এর আগেও এক কিশোরকে পুড়িয়ে আহত করেছিল, যদিও ওই ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি।   কালভিনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত রাইলির দাদি এখন তার নাতির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৭:৮
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কানাডীয় পর্যটকরা। ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে কানাডীয় পণ্য ও সেবার ওপর চড়া শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য বানানোর মতো বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   সম্প্রতি কানাডার মদ ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি স্টিল এবং অটো পার্টসের ওপর আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর কড়া জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।   দুই দেশের এই বাণিজ্য যুদ্ধের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে, যেখানে ২০২৫ সাল থেকে কানাডীয় পর্যটকদের স্থলপথে আগমন ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গেছে।   কানাডীয় পর্যটকদের এই বিশাল ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্যমতে, গত বছর কানাডীয়রা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রমোদভ্রমণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন।   সম্প্রতি ট্যুরিজম ইকোনমিকস নামের একটি সংস্থার গবেষণায় পর্যটক কমার কারণে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে কানাডীয় দর্শনার্থীদের ব্যয় হ্রাসের প্রাক্কলন এবং সেন্সাস ব্যুরোর জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখিয়েছে, এই পর্যটক খরার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মাথাপিছু সম্ভাব্য গড় আর্থিক ক্ষতি হবে ১১ ডলার।   তবে এর মধ্যে ১৪টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ মোট ১৫টি স্থানের ক্ষতি জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তাদের অর্থনীতিতে কানাডীয় পর্যটকদের ওপর প্রবল নির্ভরশীলতারই ইঙ্গিত দেয়।   ক্ষতির শিকার হওয়া এই ১৫টি স্থানের তালিকায় সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে আলাস্কা। কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে বড় (১,৫৩৮ মাইল) সীমান্ত থাকা এই অঙ্গরাজ্যটি মাথাপিছু ১১৪ ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেভাডার (৭৭ ডলার) ক্ষতির প্রায় দ্বিগুণ।   এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (ওয়াশিংটন ডিসি) এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে কানাডা থেকে প্রায় আড়াই হাজার মাইল দূরে অবস্থিত হাওয়াই (৪৫ ডলার)। অর্থাৎ, কেবল সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়, বরং কানাডীয় পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় অন্যান্য দূরবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোও এই বাণিজ্য উত্তেজনার চরম মূল্য চোকাচ্ছে।   তালিকায় থাকা অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে ভার্মন্ট (মাথাপিছু ক্ষতি ৩৭ ডলার), মেইন (৩২ ডলার), ক্যালিফোর্নিয়া (৩১ ডলার) ও ফ্লোরিডা (২৩ ডলার)।   ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যের শীর্ষ আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী আগে কানাডিয়ানরাই ছিলেন। এছাড়া অ্যারিজোনা (২২ ডলার), নর্থ ডাকোটা (১৮ ডলার), নিউইয়র্ক (১৫ ডলার), ওরেগন ও মন্টানা (উভয়ই ১৪ ডলার), নিউ হ্যাম্পশায়ার (১৩ ডলার) এবং ম্যাসাচুসেটস (১২ ডলার) অঙ্গরাজ্যও এই ক্ষতির তালিকায় স্থান পেয়েছে।   পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতেও বাড়তে থাকবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৬:৫১
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে ৪৭ মার্কিন পর্যটকসহ নিখোঁজ শত শত, প্রাণহানি ১৫৭ জনের

নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের পুলিশ ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া তাদের ভূখণ্ডে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, রসুয়াগড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে একটি বিশাল ভূমিধসের কারণে এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এটি ৫.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিধস ছিল, যা প্রাথমিকভাবে ভুলবশত ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।   ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে অন্তত ৪০৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে অন্তত ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটক রয়েছেন।   ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল নামের একটি নেপালি পর্যটন সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ তিন মার্কিন নাগরিক তাদের ব্যবস্থাপনায় ভ্রমণ করছিলেন। এছাড়াও নিখোঁজদের তালিকায় ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসের পর্যটকরা রয়েছেন।   নেপালের পর্যটন বোর্ড এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে থাকা পর্যটকদের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।   বিপর্যয়ের পরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে ইতোমধ্যে ৬৫৬ জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।   তবে নেপালের পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাঠমান্ডু ও বন্যাকবলিত এলাকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিনটি সামরিক হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে।   আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে আকাশপথে উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও কাঠমান্ডুস্থ মার্কিন দূতাবাস পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জরুরি প্রয়োজনে তাদের নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৬:২০
মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান
মার্কিন কর্মীদের চাকরি রক্ষায় এইচ-১বি ভিসা বাতিলের জোরালো দাবি তুললেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল প্রচলিত এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করার দাবি ফের জোরদার হয়েছে। ফক্স নিউজের উপস্থাপিকা লরা ইনগ্রাহাম এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্রেগ স্টিউবি সম্প্রতি এই ভিসা বাতিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।   তাদের অভিযোগ, এই ভিসা ব্যবস্থার কারণে আমেরিকান কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন এবং দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরই মাঝে মার্কিন প্রশাসন এইচ-ওয়ানবি ভিসাকে আরও ব্যয়বহুল করতে নতুন এক বিশাল ফি আরোপের পথে হাঁটছে।   ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গ্রেগ স্টিউবি জানান, তার প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে এইচ-ওয়ানবি প্রোগ্রামটি একেবারে বাতিল হয়ে যাবে।   প্রমাণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও বিনোদন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন। স্টিউবি উল্লেখ করেন, মাইক্রোসফট ১৬ হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করার পর এইচ-ওয়ানবি ভিসায় ৯ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে।   একইভাবে, ডিজনি ২৫০ জন আমেরিকানকে চাকরিচ্যুত করে উল্টো তাদের দিয়েই এইচ-ওয়ানবি ভিসায় আসা নতুন বিদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে বাধ্য করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   দেশীয় শ্রমিকদের এই শোষণের অবসান ঘটাতে স্টিউবি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘এক্সাইল অ্যাক্ট’ (EXILE Act) নামের একটি বিল উত্থাপন করেছেন। এদিকে লরা ইনগ্রাহাম স্মরণ করিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ২০১৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই ভিসা বাতিল করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রেখেছিলেন।   আইনপ্রণেতাদের এই ভিসা বাতিলের দাবির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য নতুন একটি বিশাল ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।   প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ক্যাপ-সাবজেক্ট অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোটার আওতাভুক্ত প্রতিটি এইচ-ওয়ানবি পিটিশনের জন্য আবেদনকারীকে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হবে। এই ফি বিদ্যমান অন্যান্য স্বাভাবিক চার্জের অতিরিক্ত হিসেবে ধার্য করা হবে।   ডিএইচএস-এর অনুমান, বার্ষিক ৮৫ হাজার ক্যাপ-সাবজেক্ট পিটিশনের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন ফি থেকে সরকারের প্রতি বছর প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হবে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জনসাধারণের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।   এই প্রস্তাবনা এইচ-ওয়ানবি ভিসা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ভিসা ব্যবস্থার সমর্থকরা মনে করেন, এই প্রোগ্রামটি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশেষায়িত দক্ষ কর্মী নিয়োগে সাহায্য করে।   অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, কোম্পানিগুলো সস্তায় কর্মী নিয়োগের জন্য এই ভিসার অপব্যবহার করছে এবং দেশীয় শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন করছে। প্রশাসনের এই বিপুল ফি আরোপের প্রস্তাব এবং কংগ্রেসের ভিসা বাতিলের প্রচেষ্টা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দুটি ভিন্ন রূপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৫:৫৮