সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
অর্থপাচারের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানার মুখে ব্যাংক অব আমেরিকা
অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ব্যাংক অব আমেরিকাকে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। এই জরিমানাকে মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আরও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেনের অভিযোগ, ব্যাংকটি চীনা অর্থপাচার নেটওয়ার্ক এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে জানাতে না পারার কারণেই বড় অঙ্কের এই জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক অব আমেরিকা পাঁচশ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে ফিনসেনকে জানাতে পারেনি। এসব লেনদেনের একটি অংশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির গ্রাহক যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ঘাটতি পাওয়া গেছে। ফিনসেনের পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরও ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ ও ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণের কর্মসূচি যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। এই জরিমানাকে সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৭৫ কোটি ডলারের জরিমানা ১২০ কোটি ডলারের ফিনসেন জরিমানার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তাই দুটি অঙ্ক যোগ করে আলাদা মোট জরিমানা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরও ব্যাংকটির সঙ্গে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের একটি সমঝোতা করেছে। ইরান, রাশিয়া, মাদক পাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের অভিযোগ এই সমঝোতার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকা ১৯৭০ সালের ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা ঠেকানো। আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফিনসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি এসব দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে পারেনি। ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচি নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটিকে তার অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচির ঘাটতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তের জন্য যথাযথভাবে সামনে আনা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো বড় ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দায়িত্বে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ব্যাংক অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর একটি এবং দেশটির আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা শুধু একটি ব্যাংকের জরিমানার ঘটনা নয়; বরং বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পর্যবেক্ষণ, গ্রাহক যাচাই এবং সন্দেহজনক অর্থের উৎস শনাক্ত করার দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবার সামনে এনেছে। তবে জরিমানার অঙ্ক ও অভিযোগের পাশাপাশি বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকটির নজরদারি ব্যবস্থা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যর্থতা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৬:১১
সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সৌদি আরবগামী ৮৬ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চলায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৩৬টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইট বাতিলের ফলে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। অর্থাৎ সরাসরি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ফ্লাইট। এয়ারলাইনসটির মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, সালামএয়ারের চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা সর্বাধিক। আর ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিগো। সব মিলিয়ে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের যাত্রাপথে অন্য বিমানবন্দরে সংযোগ ফ্লাইট ধরার কথা ছিল, তাঁদেরও নতুন করে সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেক যাত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত কার্যক্রমের কারণেই ফ্লাইট পরিচালনায় এই বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিও বদলে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ অবস্থায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইটে যাত্রা করা এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য বাতিলের এই পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনার সূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৫৯
চাঁদে হাঁটা সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক
ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর

চিহ্নিত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন নাসার সাবেক নভোচারী চার্লস ডিউক। তাঁর দাবি, ইউএফও ভিনগ্রহীদের যান নয়; বরং এগুলো শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা হতে পারে। নিজের খ্রিষ্টীয় ধর্মবিশ্বাস এবং বাইবেলের একটি বাণীর ভিত্তিতে এমন ধারণা পোষণ করেন চাঁদে হেঁটে আসা এই সাবেক নভোচারী। তবে তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিফলন, এর পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।   চার্লস ডিউকের বয়স এখন ৯১ বছর। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৬ অভিযানে অংশ নিয়ে চাঁদের বুকে হাঁটেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। চাঁদে পা রাখা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে পরিচিত ডিউক এখন ইউএফও সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে নিজের ধর্মীয় ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন। ডিউকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএফও নিয়ে তাঁর এই বিশ্বাসের সঙ্গে বাইবেলের একটি অংশের সম্পর্ক রয়েছে। বাইবেলের দ্বিতীয় করিন্থীয় পুস্তকের ১১ অধ্যায়ের ১৪ নম্বর পদে বলা হয়েছে, শয়তানও নিজেকে আলোর দূত হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করায়। ডিউক মনে করেন, এই বাণী ইউএফও সম্পর্কে তাঁর ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের কাছে অজানা বা রহস্যময় বলে মনে হওয়া এসব ঘটনার পেছনে অশুভ কোনো শক্তি কাজ করতে পারে। তবে ইউএফও সম্পর্কে এমন ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। আকাশে দেখা কোনো অজ্ঞাত বস্তুকে ইউএফও বলা হয়; এর অর্থ এই নয় যে সেটি ভিনগ্রহের যান বা অতিপ্রাকৃত কোনো সত্তা। পর্যবেক্ষণের তথ্য অপর্যাপ্ত থাকলে কিংবা বস্তুটির পরিচয় নিশ্চিত করা না গেলে সেটিকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই ডিউকের ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ডিউক জানান, মহাকাশ অভিযানের সময় তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ঘটনার মুখোমুখি হননি, যাকে ইউএফওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাক্ষাৎ বলা যায়। অর্থাৎ চাঁদে যাওয়া বা মহাকাশে থাকার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ইউএফও সম্পর্কে এই দাবি করছেন না; বরং তাঁর বক্তব্যের মূল ভিত্তি ধর্মীয় বিশ্বাস। ডিউক আরও জানান, একবার তিনি ঈশ্বরের কাছে কোনো সংকেত চেয়েছিলেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিনই এক বন্ধু ইউএফও নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ঘটনাটিকে তিনি নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যক্তিগত উপলব্ধি; এটি ইউএফওর প্রকৃতি বা উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ নয়। ইউএফও নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা শুধু ডিউকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চলতি বছরের মার্চে বেনি জনসনের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইউএফওকে ভিনগ্রহীদের উপস্থিতির চেয়ে শয়তান বা অশুভ সত্তার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করেন। তাঁর বক্তব্যও এ বিষয়ে ব্যক্তিগত ধর্মীয় ধারণার প্রতিফলন। এদিকে, ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য আনা পাউলিনা লুনাও আলোচনায় আসেন। ৮ মে ইউএফও-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের প্রসঙ্গের সময় তিনি ডানাওয়ালা ‘ওফানিম’ নামের এক স্বর্গীয় সত্তার ছবি প্রকাশ করেন। বাইবেল ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে এ ধরনের সত্তার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি ইউএফও নিয়ে চলমান ধর্মীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়। ইউএফও নিয়ে রহস্য, সরকারি নথি প্রকাশ এবং ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে। তবে অজ্ঞাত কোনো উড়ন্ত বস্তুর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে ভিনগ্রহী যান কিংবা শয়তানের পাঠানো সত্তা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। চার্লস ডিউকের বক্তব্য তাই ইউএফও নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন একটি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এনেছে, যদিও তাঁর দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৪৭
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে আসছে ইতিহাসের নতুন বর্ণনা
২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা বদলাচ্ছে, থাকছে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনায় পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বিবরণ যুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং ২০২৪ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও পাঠ্যবইয়ে এ ইতিহাসের বর্ণনা বদলানো হয়েছিল। ফলে তিন সরকারের আমলে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে তিন ধরনের উপস্থাপন দেখা যাচ্ছে।   আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই ছাপানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যও বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিমার্জনের কাজ শেষ করে বর্তমানে বই ছাপানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বইয়ের মুদ্রণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এই অধ্যায়ে দেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার বিবরণ রয়েছে। নতুন বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা শুরু করে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার পর সেখান থেকে আক্রমণের খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর পেয়ে জিয়াউর রহমান ‘উই রিভল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেন। এরপর ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে ব্যাটালিয়নের বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে স্বাধীনতা ঘোষণা এবং যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন বলে নতুন পাঠ্যবইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জিয়াউর রহমান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বলে বইটিতে উল্লেখ রয়েছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি আরেকটি ঘোষণা দেন বলেও বিবরণে বলা হয়েছে। নতুন বইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের খবর দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুক্তিকামী মানুষ উজ্জীবিত হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে বর্ণনা ছিল ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারও পাঠ্যবই ও শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এনেছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে পড়ানো সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সম্পর্কে তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে। ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে হামলার খবর তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করা হয়। এরপর বইটিতে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরদিন ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এবার জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহের ঘটনা, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঘোষণা দেওয়ার বিবরণ এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭ মার্চের ঘোষণার বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে লেখা ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণ ছিল আরও আলাদা। এনসিটিবির ওয়েবসাইটে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বই পাওয়া না গেলেও ২০২২ সালের বইয়ে এ বিষয়ে বর্ণনা রয়েছে। সেই বইয়ে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বইটিতে আরও বলা হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানের ২৪ বছরের শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটায়। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অর্থাৎ, ২০২২ সালের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা সরাসরি তুলে ধরা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের বইয়ে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা এবং পরদিন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তাঁর আরেকটি ঘোষণার উল্লেখ করা হয়। আর ২০২৭ সালের বইয়ে জিয়াউর রহমানের বিদ্রোহ, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া ঘোষণাগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা নিয়ে এ পরিবর্তন সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গবেষক আফসান চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রের ইতিহাসের বর্ণনা সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় এবং ভবিষ্যতেও বদলাতে পারে। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে অনেক সময় ইতিহাসের চেয়ে রাজনীতির চর্চাই বেশি প্রাধান্য পায়। পাঠ্যবইয়ে আরও যেসব পরিবর্তন আসছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে আরও কয়েকটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্সের বিবরণ, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা। এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি নিবন্ধও পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ইতিহাসের বাইরে বাংলা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েও নতুন পাঠ্যবস্তু যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই চালু করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামের দুটি বই। সব মিলিয়ে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বর্ণনা, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতাদের ভূমিকা এবং নতুন শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণে বিভিন্ন সরকারের সময়ে পরিবর্তন আসায় একই ঐতিহাসিক ঘটনা শিক্ষার্থীদের কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হওয়ার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:৩৬
হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোতেই ট্রাম্পের মনোযোগ, বলছে নতুন জনমত জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিনি। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের আর্থিক সুবিধা অর্জনে অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন এমন উপায়ে, যা বেআইনি অথবা নৈতিকতার পরিপন্থী।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। নরকের আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং দেশের স্বার্থে তাঁর মনোযোগ নিয়ে মানুষের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প বেআইনি কিছু করছেন। আরও ২০ শতাংশের ধারণা, তাঁর কর্মকাণ্ড অনৈতিক হলেও তা বেআইনি নয়। অন্যদিকে, ২০ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কোনো অন্যায় করছেন না। বাকি অংশের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোন বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। উত্তরে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বলেছেন, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থকে একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজেদের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থে ট্রাম্পের যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের তালিকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়েও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসাকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে, ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তিনি নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে খুব সামান্য গুরুত্ব দিয়েছেন অথবা একেবারেই দেননি। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও অর্ধেকের কম। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ট্রাম্প আইন ভেঙেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ।   ট্রাম্পের আচরণকে অনৈতিক কিন্তু বেআইনি নয় বলে মনে করেন প্রায় ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ও রিপাবলিকান। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে আইন ভাঙার অভিযোগ করছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অভিযোগে বিশ্বাস করার প্রবণতা অনেক কম। তবে জরিপে উঠে আসা এসব মতামতকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এগুলো মূলত প্রেসিডেন্টের আচরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মার্কিনিদের ধারণা তুলে ধরে। ক্রিপ্টো ব্যবসা ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে তাঁর বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবসাগুলোর প্রসার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো আয়কে সরাসরি নিট মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এই বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা চীনের এক ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে। ওই ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্প পরিবারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের স্বার্থের তুলনায় নিজের ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনমতের আলোচনায় রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৫:১৭
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু
চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠানো, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনই নিহত

চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি। মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে বাহিনীটি। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যান এবং পরে যুদ্ধে পাঠান। তবে প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয়, মৃত্যুর সময় কিংবা বাকি আটজনের অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্যটি বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই উঠে এসেছে।  চাকরির নামে বাংলাদেশিদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার অভিযোগ আগেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ৩ মার্চ মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ প্রতিবেদনে প্রতারণা, জবরদস্তি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়।    সংস্থা দুটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, দালালরা বেসামরিক চাকরির মিথ্যা প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করতেন। অনেককে রুশ ভাষায় লেখা এমন চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যা তাঁরা পড়তে বা বুঝতে পারেননি। পরে তাঁদের সামরিক স্থাপনায় নিয়ে যুদ্ধের কাজে যুক্ত করা হয়।  ওই অনুসন্ধানের জন্য ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রুশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশি, পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসা ব্যক্তি, নিহতদের স্বজন এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এই গবেষণা চাকরির নামে যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগের পটভূমি তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক ২০ জনের মৃত্যুর হিসাবটি নিশ্চিত করে না।    ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস বাংলাদেশ সরকারকে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার, প্রতারণামূলক নিয়োগ বন্ধ এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:৫৯
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খান
আমেরিকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারা সেই সাদি আজ ২২০ কোটি ডলারের মালিক

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাদি খানের সহপ্রতিষ্ঠিত মার্কিন ফিনটেক কোম্পানি এভেন বাড়ির ইক্যুইটিকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটি ১১ কোটি ডলারের সিরিজ ই বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। ওই বিনিয়োগের পর এভেনের মূল্যায়ন দাঁড়ায় ২২০ কোটি ডলারে।  সাদির এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর শুরুর দিকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতার যোগ রয়েছে। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর তিনি মাইক্রোসফটে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকায় প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে আর্থিক সেবা পেতে সমস্যায় পড়েছিলেন বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের চাকরির চিঠির ভিত্তিতে ফার্স্ট টেক ক্রেডিট ইউনিয়নে তাঁর প্রথম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।    ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, সাদি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন এবং টরন্টো ও পরে ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা ও মা দুজনই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। ওয়াটারলুতে তিনি প্রথমে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহী ছিলেন, পরে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেন। মাইক্রোসফটের পর ২০১৩ সালে ফেসবুকে যোগ দিয়ে সার্চ, ম্যাপ এবং ইন্টারনেট ডট অর্গ প্রকল্পে কাজ করেন।  ২০১৯ সালে কলিন উইকম্যান ও মুর্তাদা শাহকে সঙ্গে নিয়ে এভেন প্রতিষ্ঠা করেন সাদি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পদের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া সহজ করা। কোম্পানির অন্যতম প্রধান পণ্য এভেন হোম ইক্যুইটি কার্ড মূলত একটি হোম ইক্যুইটি লাইন অব ক্রেডিট বা হেলক, যা কার্ডের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।    বাড়ির বাজারমূল্য থেকে মর্টগেজ ও বাড়ির বিপরীতে থাকা অন্যান্য ঋণ বাদ দিলে যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে, সেটিই হোম ইক্যুইটি। সেই ইক্যুইটির বিপরীতে ঋণ দেওয়ায় জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় কম সুদে অর্থ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ফোরক্লোজারের মাধ্যমে বাড়ি হারানোর ঝুঁকি থাকে। এভেনের নিজস্ব ব্যাখ্যাতেও এই ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই এভেন ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের সিরিজ ডি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ইউনিকর্ন মর্যাদা অর্জন করে। ওই রাউন্ডে যৌথ নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স ও জেনারেল ক্যাটালিস্ট। পরের বছরের সিরিজ ই রাউন্ডে নেতৃত্ব দেয় খোসলা ভেঞ্চার্স; জেনারেল ক্যাটালিস্টসহ আগের কয়েকটি বিনিয়োগকারীও অংশ নেয়। এই দুই রাউন্ড মিলিয়ে বিনিয়োগের অঙ্ক ২৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মোট বিনিয়োগের হিসাব হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।  ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এভেন দাবি করে, তখন পর্যন্ত তারা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রেডিট লাইন অনুমোদন করেছে এবং গ্রাহকদের ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি সুদ সাশ্রয়ে সহায়তা করেছে। এগুলো কোম্পানির প্রকাশিত হিসাব। অনুমোদিত ক্রেডিট লাইন এবং গ্রাহকদের বাস্তবে নেওয়া ঋণের পরিমাণও এক বিষয় নয়।    এর পাশাপাশি হেভেন ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্ত হন সাদি। ফোর্বসের ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে তিনি জানান, স্বাধীন এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ও এভেন কয়েক মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্রেডিট ইউনিয়ন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, হেভেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফেডারেল চার্টার পায়। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে ফোর্বস জানিয়েছে।  ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এভেন বিটকয়েনকে জামানত রেখে ব্যবহারযোগ্য ভিসা কার্ডও চালু করে। কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, যোগ্য গ্রাহকেরা বিটকয়েন বিক্রি না করে এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলারের ক্রেডিট লাইন পেতে পারেন। তবে বিটকয়েনের দাম কমলে জামানত বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সুদ, ফি ও ঋণের সীমা সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করে।   সাদি খানের প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পদভিত্তিক ঋণ সহজলভ্য করা। কিন্তু কম সুদের সুবিধার সঙ্গে বাড়ি বা বিটকয়েনকে জামানত রাখার দায়ও যুক্ত থাকে। ফলে এভেনের পণ্যকে সাধারণ জামানতবিহীন ক্রেডিট কার্ডের সমতুল্য হিসেবে দেখলে ঋণের প্রকৃতি ও ঝুঁকির গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আড়ালে পড়ে যায়।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:৪৬
আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং ২০’
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রতিরক্ষা জাদুঘরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর পাল্লার আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘হোয়াসং ২০’ প্রদর্শন করা হয়েছে। দেশটির নেতা কিম জং উন রোববার, ১১ অক্টোবর জাদুঘরের উদ্বোধনে অংশ নেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বলার মধ্যেই এই প্রদর্শন সামনে এল।  কেসিএনএর তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স রেভল্যুশন মিউজিয়াম’ পরিদর্শনের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রি সল জু এবং মেয়ে জু এ ছিলেন। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে কিমের শাসনামলে তৈরি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।    দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠিন জ্বালানিচালিত হোয়াসং ২০ এবং এর বহন ও উৎক্ষেপণযান জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে সামরিক কুচকাওয়াজে। ফলে এবারের ঘটনাটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম উন্মোচন নয়, আগে প্রদর্শিত অস্ত্রকে স্থায়ী জাদুঘরে তুলে ধরার আয়োজন।  হোয়াসং ২০-এর সামনে থাকা প্রদর্শনী বোর্ডে একাধিক ওয়ারহেডের নকশা এবং পাল্লা বোঝাতে বিশ্বমানচিত্র দেখা গেছে। কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং উ রয়টার্সকে বলেন, মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছানোর পাল্লা দেখানো হয়েছে। তবে প্রদর্শনীতে দেখানো নকশা নিজে থেকে একাধিক ওয়ারহেডের কার্যক্ষমতা প্রমাণ করে না।    জাদুঘরে হোয়াসং ২০ ছাড়াও তরল জ্বালানিচালিত হোয়াসং ১৭, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০ মিলিমিটারের বড় মাল্টিপল রকেট লঞ্চার প্রদর্শিত হয়েছে বলে ইয়োনহাপ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন, এই আয়োজনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রতিরক্ষা খাতের অর্জন তুলে ধরতে চাইছে।  এদিকে সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, আসন্ন এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা অ্যাপেক সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠক নিশ্চিত হয়েছে, এমন ঘোষণা আসেনি।    পৃথক ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সোমবার একটি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীও দেশটির পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য দিয়েছে। এই পরীক্ষাকে জাদুঘরে প্রদর্শিত হোয়াসং ২০-এর পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।   

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:৩০
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা দ্য ওশান ক্লিনআপ
সমুদ্রকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে ডাচদের বিশাল অভিযান ইতিমধ্যেই সরিয়েছে ৬ কোটি কেজির বেশি বর্জ্য

সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং নদী দিয়ে নতুন বর্জ্য পৌঁছানো ঠেকাতে দুই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা দ্য ওশান ক্লিনআপ। সংস্থাটির ১২ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জলজ পরিবেশ থেকে তারা ৬ কোটি ২০ লাখ কেজির বেশি বর্জ্য অপসারণ করেছে। এই হিসাব নদী ও সমুদ্রসহ তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্মিলিত সংগ্রহ, শুধু সমুদ্র থেকে সরানো প্লাস্টিকের পরিমাণ নয়।    সমুদ্রে সংস্থাটি ব্যবহার করছে ‘সিস্টেম ০৩’ নামে বিশাল ভাসমান সংগ্রহব্যবস্থা। এটি হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে প্লাস্টিক জমে থাকা অঞ্চল ‘গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচে’ কাজ করছে। সমুদ্রের স্রোতে প্লাস্টিক কোথায় বেশি জমছে, তা শনাক্ত করে সেখানে সংগ্রহব্যবস্থা পরিচালনা করা হয়।  সিস্টেমটি শুধু পানিতে স্থিরভাবে ভেসে থাকে না। সহায়ক জাহাজ এর গতি, দিক ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করে। প্লাস্টিকের সঙ্গে গতির পার্থক্য তৈরি করে বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট সংগ্রহস্থলে জড়ো করা হয়। সেটি পূর্ণ হলে বর্জ্য জাহাজে তুলে নেওয়া হয়। পরে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক তীরে এনে পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়।    নদীতে ব্যবহার করা হয় ‘ইন্টারসেপ্টর’ প্রযুক্তি। এর উদ্দেশ্য পানিতে ভেসে আসা প্লাস্টিক সমুদ্রে পৌঁছানোর আগেই আটকে সংগ্রহ করা। তবে সব নদীতে একই যন্ত্র বসানো হয় না। নদীর প্রস্থ, গভীরতা, স্রোতের গতি, বর্জ্যের ধরন ও মৌসুমি পরিস্থিতি বিবেচনায় আলাদা ব্যবস্থা বেছে নেওয়া হয়। ইন্টারসেপ্টরের একটি সংস্করণে সৌরবিদ্যুৎচালিত যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় সংগ্রহপ্রযুক্তি রয়েছে।  দ্য ওশান ক্লিনআপের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ অপসারণ করা। এটি সংস্থাটির ঘোষিত লক্ষ্য, অর্জিত ফল নয়। লক্ষ্যটিও সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক নিয়ে; সমুদ্রের তলদেশ বা পানির সব স্তরে থাকা সব ধরনের প্লাস্টিক পরিষ্কারের দাবি নয়।    সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তায় সিস্টেম ০৩-এ বিশেষ বের হওয়ার পথ রাখা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। সংগ্রহস্থলে কোনো প্রাণী শনাক্ত হলে এই ব্যবস্থা চালু করে নতুন প্রবেশ বন্ধ করা এবং প্রাণীটিকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া যায়। কার্যক্রমের সময় প্রাণীর উপস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়।  প্রযুক্তির পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। ১২ অক্টোবর তারা জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নদী ও উপকূলে প্লাস্টিক সংগ্রহের পাশাপাশি নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সরকারি নীতি এবং বিনিয়োগকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, পানিতে পৌঁছানো বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে স্থলভাগ থেকে নতুন বর্জ্য প্রবেশ বন্ধের কাজও এগিয়ে নিতে হবে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৩:১৪
ছবি: sciencebee
৫ বছরে দেশের চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩ শতাংশ! বদলেছে ভোগের ধরন

বাংলাদেশে চিনির ব্যবহার কমার পেছনে স্বাস্থ্যসচেতনতার পাশাপাশি উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার চাপও ভূমিকা রাখছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ বিপণন মৌসুমের হিসাবে চিনির ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমার চিত্র রয়েছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার কমাকে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।    ডিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে ইউএসডিএর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে দেশে চিনির ব্যবহার ছিল ২৭ লাখ ৬৭ হাজার টন। অন্য প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য তা ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টনে নামার প্রাক্কলন উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই অঙ্কের ব্যবধান প্রায় ৩৩ শতাংশ। শেষের অঙ্কটি পূর্বাভাস হিসেবে প্রকাশিত হওয়ায় একে চূড়ান্ত ভোগের হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।  চিনির উচ্চমূল্য এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবহার কমার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ে উদ্বেগ, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং কম চিনিযুক্ত পণ্যের প্রতি আগ্রহও পরিবর্তনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন কারণ কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার পৃথক পরিমাপ এসব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    অন্যদিকে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের বোঝা বড়ই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখের এই হিসাব নির্দিষ্ট বয়সসীমার মানুষের জন্য প্রাক্কলন, সব বয়সের রোগীর সরাসরি গণনা নয়।  জাতীয় পর্যায়ে চিনির ব্যবহার এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুটি আলাদা সূচক। চিনির ব্যবহার কমলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা রোগীর সংখ্যা একই হারে কমবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা এবং তামাক পরিহার টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা এর শুরু বিলম্বিত করতে সহায়তা করে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা খাবার ও পানীয়তে যোগ করা চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা মুক্ত শর্করা দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেয়। অতিরিক্ত উপকারের জন্য তা ৫ শতাংশের নিচে নামানোর কথাও বলা হয়েছে। তাই শুধু চায়ের চিনি কমানো নয়, মিষ্টি, কেক, বিস্কুট ও চিনিযুক্ত পানীয়সহ পুরো খাদ্যতালিকায় শর্করার পরিমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। সূত্র: sciencebee  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২:৩৮
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন
টেক্সাসের ইউটি অস্টিনে ফুল ফান্ডে পিএইচডি, আবেদন ১৫ নভেম্বরের মধ্যে

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের ল্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ল্যাবে টিউশন ফি ও স্টাইপেন্ডসহ একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে গবেষণা শুরু করবেন। পূর্ণ বিবেচনার জন্য আগ্রহীদের আবেদন ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পৌঁছাতে হবে বলে ল্যাবের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. ফা লির নেতৃত্বাধীন এই ল্যাব বন ও জলাভূমির মতো স্থলভাগের বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু ও পানিসংক্রান্ত বিপদের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় দাবানল এবং কার্বন, পানি ও শক্তির চক্রে। গবেষণার লক্ষ্য মানুষ ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য এসব ঝুঁকি আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস ও কমানোর উপায় তৈরি করা।  এ কাজে মেশিন লার্নিং, স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, মাঠপর্যায়ের পরিমাপ এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার মডেল ব্যবহার করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশভিত্তিক ডেটা সায়েন্স এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় আগ্রহীদের জন্য সুযোগটি প্রাসঙ্গিক।    বিজ্ঞপ্তিতে শক্তিশালী গাণিতিক বিশ্লেষণ ও প্রোগ্রামিং দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেশিন লার্নিং, কার্যকারণ বিশ্লেষণ, ফাউন্ডেশন মডেল, রিমোট সেন্সিং, ভূস্থানিক ও পরিবেশগত ডেটা বিশ্লেষণ এবং দাবানল বা জলবায়ুসংশ্লিষ্ট ঝুঁকির মডেলিং। ল্যাবের সামগ্রিক গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলে তালিকার বাইরের বিষয়েও গবেষণার প্রস্তাব দেওয়া যাবে।  আবেদনের জন্য কভার লেটার, সিভি, তিনজন রেফারেন্স প্রদানকারীর যোগাযোগের তথ্য এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট একসঙ্গে একটি পিডিএফে জমা দিতে হবে। সেটি ড. ফা লির কাছে পাঠাতে হবে। ইমেইলের বিষয় হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে “PhD Application – Land Intelligence Lab” ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ভর্তির শর্তও পূরণ করতে হবে।    ১৫ নভেম্বর পূর্ণ বিবেচনার জন্য নির্ধারিত তারিখ হলেও পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আবেদন পর্যালোচনা চলবে। শুধু সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য যোগাযোগ করা হবে। অর্থায়নে টিউশন ফি ও স্টাইপেন্ডের কথা উল্লেখ থাকলেও স্টাইপেন্ডের পরিমাণ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২:২১
চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরে ইউনগাং গ্রোটোস পর্যটনকেন্দ্রের নারীদের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার বসানো
চীনের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার, কতক্ষণ ভেতরে আছেন দেখা যায় বাইরে থেকেই

চীনের শানসি প্রদেশের দাতং শহরে ইউনগাং গ্রোটোস পর্যটনকেন্দ্রের নারীদের টয়লেটে ডিজিটাল টাইমার বসানো নিয়ে ২০২৪ সালে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রতিটি কিউবিকলের দরজার ওপরে থাকা ডিসপ্লেতে কতক্ষণ ধরে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের দাবি, দর্শনার্থীদের চাপ সামলানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু দর্শনার্থী এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন।    সিএনএনের ২০২৪ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি কিউবিকল খালি থাকলে ডিসপ্লেতে সবুজ রঙে খালি থাকার বার্তা দেখা যায়। কেউ ভেতরে গিয়ে দরজা লক করলে লাল রঙে ব্যবহারের সময় গণনা শুরু হয়। সেখানে মিনিট ও সেকেন্ড দেখানো হয়। এটি নির্দিষ্ট সময় থেকে উল্টো গণনা করা কাউন্টডাউন নয়; দরজা কতক্ষণ ধরে বন্ধ রয়েছে, সেই সময় বাড়তে থাকে।  এক দর্শনার্থীর ধারণ করা ভিডিও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানোর পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই দর্শনার্থী জানান, প্রযুক্তিটি দেখে প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এতে কোন টয়লেট খালি আছে তা বুঝতে সুবিধা হবে এবং দরজায় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। কিন্তু ব্যবহারের সময় অন্যদের সামনে দেখা যাওয়ায় তাঁর অস্বস্তিও হয়েছিল।    পর্যটনকেন্দ্রের এক কর্মী স্থানীয় সংবাদপত্র শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ডকে জানিয়েছিলেন, টয়লেট ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নয়। পাঁচ বা দশ মিনিটের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি এবং কাউকে ব্যবহার শেষ হওয়ার আগে বের করে দেওয়া হবে না।  নানচাং ইভনিং নিউজকে আরেক কর্মী জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১ মে থেকে টাইমারগুলো চালু হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ ভেতরে থাকলে এবং জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা নজরে আনতে এই ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।    ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত ইউনগাং গ্রোটোস প্রাচীন বৌদ্ধ গুহাশিল্পের জন্য পরিচিত। সেখানে টয়লেটের টাইমার নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কেউ ব্যবহার ব্যবস্থাপনায় এর সুবিধা দেখেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন ব্যক্তিগত পরিসরে সময় প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তবে দর্শনার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সময়সীমা আরোপের কথা সে সময় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছিল।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১:৫৮
লন্ডনের রেস্তোরাঁ মালিক হারমান সিং কাপুর
গাজাকে বিদ্রূপ করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রেস্তোরাঁ মালিক ব্যবসা ক্ষতির মুখে, চাইলেন সকলের সাহায্য

গাজায় একটি ভবন কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে, এমন মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়া লন্ডনের রেস্তোরাঁ মালিক হারমান সিং কাপুর এবার নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন। সোমবার, ১২ অক্টোবর এক্সে দেওয়া পোস্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্যবসায়ী তাঁর ‘সিংস ডাইনিং’ রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করার আহ্বান জানান। বকেয়া রেন্ট ও নেতিবাচক অনলাইন রিভিউয়ের কারণে ব্যবসা চাপে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।    কাপুরের অভিযোগ, গুগল তাঁর রেস্তোরাঁ সম্পর্কে ভুয়া এক তারকার রিভিউ গ্রহণ করছে, অথচ প্রকৃত গ্রাহকদের পাঁচ তারকার রিভিউ প্রকাশ করছে না। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে রিভিউ কারসাজি এবং গুগলের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।  সহায়তার আবেদনে কাপুর বলেন, রেস্তোরাঁটি তাঁর জীবিকা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান। রেন্ট বকেয়া থাকায় বাড়িওয়ালা আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। গ্রাহকদের রেস্তোরাঁয় আসার পাশাপাশি তাঁর আবেদন পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করার অনুরোধ জানান। একই পোস্টে তিনি রেস্তোরাঁয় হালাল খাবার পরিবেশন না করার নীতিও পুনর্ব্যক্ত করেন।    তাঁর এই আবেদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা নিয়ে আগের ভিডিওটি আবার আলোচনায় আসে। দ্য কারেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কাপুর একটি ভবনের আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, গাজায় ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে আরও ধ্বংসের আহ্বান হিসেবে দেখেছেন।  তবে গাজা নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই রেস্তোরাঁটির আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ব্যবসার সংকট ও অনলাইন রিভিউ নিয়ে অভিযোগগুলো মূলত কাপুরের নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল।    ১৩ অক্টোবর আরেক পোস্টে কাপুর জানান, সিংস ডাইনিং এখনো চালু রয়েছে। ইন্ডিয়াটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নিজে বন্ধের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন এবং গ্রাহকদের সরাসরি এসে খাবার খাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১:২৫
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের ওপর গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের অর্থনৈতিক বোঝা পড়েছে বলে হিসাব দিয়েছেন মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় আট মাসে জ্বালানির বাড়তি দাম, ঋণের সুদ এবং সামরিক ব্যয় মিলিয়ে এই অঙ্ক দাঁড়িয়েছে। তাঁর হিসাবে, দেশজুড়ে মোট অর্থনৈতিক বোঝা প্রায় ২৬৫ বিলিয়ন ডলার।  সোমবার, ১২ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা বিশ্লেষণে জান্ডি এসব হিসাব তুলে ধরেন। এটি যুদ্ধের কারণে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক ব্যয়ের একটি অনুমান। প্রতিটি পরিবার সরাসরি একই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, এমন দাবি এই হিসাবের অর্থ নয়।    জান্ডির বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় অংশ জ্বালানির বাড়তি খরচ। গ্যাসোলিন, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং ঘর গরম রাখার জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলারের বোঝা তৈরি হয়েছে। সরাসরি জ্বালানি কেনার পাশাপাশি ট্রাক বা বিমানে পরিবহন করা পণ্যের বাড়তি খরচও এতে ধরা হয়েছে। তাঁর হিসাবে, বিশ্লেষণের সময়কার জ্বালানির দাম বজায় থাকলে এই বোঝা সপ্তাহে প্রায় ৫০ ডলার করে বাড়ছে।  দ্বিতীয় বড় খাত ঋণের বাড়তি সুদ। জান্ডির মতে, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের সুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। উচ্চ সুদের কারণে মর্টগেজসহ ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। এই খাতে পরিবারপ্রতি গড় অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৫৪০ ডলার বলে হিসাব করেছেন তিনি।    এর সঙ্গে যুদ্ধের সরাসরি সামরিক ব্যয় যুক্ত হয়েছে পরিবারপ্রতি প্রায় ৩৬০ ডলার। সিএনএনের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জ্বালানি, ঋণের সুদ ও সামরিক ব্যয়ের এই তিনটি খাত আলাদা করে তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে পরিবারপ্রতি আনুমানিক বোঝা দাঁড়ায় ২ হাজার ডলার।    জান্ডির মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের এসব খরচ গত প্রায় আট মাসে গড় মার্কিন পরিবারের আয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক শুষে নিয়েছে। তাঁর এই বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু সরকারের সামরিক ব্যয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; জ্বালানি ও ঋণের বাড়তি খরচের মাধ্যমেও পরিবারের বাজেটে চাপ ফেলছে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১:৭
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত
১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর

১৪ দিনের সাংগঠনিক ও দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন ইসলামী, আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন। সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।    দলের সহকারী মহাসচিব ও প্রচার বিভাগীয় প্রধান শেখ ফজলুল করীম মারুফের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সফরের তথ্য জানানো হয়েছে বলে ইনসাফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানাতে দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরকালে রেজাউল করীম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত ধর্মীয় ও দাওয়াতি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।    সফরের কর্মসূচিতে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময়ও রয়েছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ০:৪৪
আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম
ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ  গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে পড়ে মারা গেছেন আটলান্টার শিক্ষাকর্মী হাসান জিহাদ ইবন কারিম। সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেলে ‘গোলায়াথ’ রাইডে এ ঘটনা ঘটে। ৪২ বছর বয়সী কারিম এর আগে ক্যানসার, গুরুতর কোভিড এবং মেয়েকে নিয়ে গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের এক বন্ধু। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে।    কব কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, বিকেল প্রায় ৩টা ৫৮ মিনিটে পার্কে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসাররা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা রাইডের নিচে কারিমকে অচেতন ও শ্বাসপ্রশ্বাসহীন অবস্থায় পান। প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মীদের সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাইড থেকে ছিটকে পড়ে অন্য কয়েকজন যাত্রীর গায়ে আঘাত করেন। এরপর রাইডের নিচে পড়ে যান।  স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসবি টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় আহত আরও চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর রাইডটি থামিয়ে অন্য যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কী কারণে কারিম ছিটকে পড়েছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন।    পরিবারের বন্ধু এলিসিয়া ডে ডব্লিউএসবি টিভিকে বলেন, কারিম জীবনে একাধিক কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়েছিলেন এবং গুরুতর কোভিড থেকেও সেরে উঠেছিলেন। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে কারিম ও তাঁর মেয়ে গাড়িতে আগুন লাগার একটি ঘটনা থেকে বেঁচে যান। তাঁর আগের অসুস্থতা ও দুর্ঘটনার এসব তথ্য পরিবারের বন্ধুর বক্তব্য থেকে জানা গেছে।  ডে জানান, এমনভাবে কারিমকে হারিয়ে পরিবার ও বন্ধুরা গভীরভাবে শোকাহত। কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং স্পষ্ট উত্তর চান তাঁরা। আটলান্টা পাবলিক স্কুলসও তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। কারিম ওয়েসলি ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।    কব কাউন্টি পুলিশের মেজর ক্রাইমস ইউনিটের পাশাপাশি জর্জিয়ার ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড সেফটি ফায়ার কমিশনারের দপ্তরও ঘটনাটি তদন্ত করছে। সিক্স ফ্ল্যাগস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অতিথি ও কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ০:২০
জিপ কোড দিয়ে অনলাইনে যাচাই করা যাবে ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদানের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা যোগ্য কি না। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আপনার সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে ২৫০ ডলার, জিপ কোড দিয়ে যাচাই করুন যোগ্যতা

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার করে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল। তাঁদের ৬২৫ কোটি ডলারের অনুদানে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এই অর্থ পাবে না। পরিবারের বসবাসের এলাকার জিপ কোড, ওই এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকেরা অনলাইনে জিপ কোড দিয়ে তাঁদের এলাকা এই অনুদানের আওতায় পড়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।   শিশুদের জন্য তৈরি এই বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টগুলো ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। মাইকেল ও সুসান ডেলের অর্থায়নে পরিচালিত অনুদান কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলারের জমা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো শিশুর নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই সেখানে ডেল দম্পতির অনুদান জমা হয়েছে, এমন নয়।   এই অনুদানের জন্য যোগ্য হতে হলে শিশুর জন্ম ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের বসবাসের জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার। এই আয়সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইনভেস্ট আমেরিকা জানিয়েছে। এখানে পরিবারের নিজস্ব আয় নয়, সংশ্লিষ্ট জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো পরিবারের আয় ওই সীমার বেশি বা কম হলেই সরাসরি অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও স্থানীয় জিপ কোডের আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদানের আওতায় রয়েছে। ইনভেস্ট আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়। তাই শুধু জিপ কোড দিয়ে এলাকা যোগ্য কি না জানা গেলেও, নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে হবে।   যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইনভেস্ট আমেরিকার নির্ধারিত ওয়েবপেজে যেতে হবে: https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেল দম্পতির অনুদানের আওতায় রয়েছে কি না। এরপর সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ জমা হয়েছে কি না দেখতে হবে। অ্যাকাউন্টের তথ্য ও দাবি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সরকারি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা, অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।   ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থের থেকে আলাদা। সরকারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুর বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে এবং অভিভাবক বা যোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, এই ১ হাজার ডলারও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মসীমা ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা, তাই একটি অনুদানের যোগ্যতা দিয়ে অন্যটির যোগ্যতা ধরে নেওয়া যাবে না।   ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার। অ্যাকাউন্টের অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়, তাই এর মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। ভবিষ্যতে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। ফলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্যকে নিশ্চিত আর্থিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো যোগ্য খাতে অর্থ ব্যবহারের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন। তাই অনুদানের অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, ব্যবহারবিধি ও সম্ভাব্য করের বিষয়গুলোও অভিভাবকদের বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।   সূত্র: ইনভেস্ট আমেরিকার ডেল অনুদান ও যোগ্যতা যাচাই পেজ; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা (আইআরএস)।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ০:৪
এক্সো ইমেজিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মেশিন ছাড়াই ফোনে আল্ট্রাসনোগ্রাম নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউসুফ হক, লক্ষ্য গ্রামেও চিকিৎসাসেবা

স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।   ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না।   এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন।   এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে।   এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি।   এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়।   বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।   এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি।   ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে।   সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২৩:৪৮
ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবারের সদস্যরা ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জীবন তুলে ধরছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘অভিশপ্ত পরিবার’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, ইন্দোনেশিয়ার ‘টিকটিকি পরিবার’ এখন টিকটক তারকা

মুখের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও সামাজিক অবহেলার শিকার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবার। পরিবারের চার ভাইবোনের মুখমণ্ডলে জন্মগত পার্থক্য থাকায় স্থানীয়ভাবে তাদের নিয়ে নানা কুসংস্কার ছড়িয়েছিল। এমনকি পরিবারটিকে অভিশপ্ত বলেও মন্তব্য করতেন কেউ কেউ। তবে এই ধারণার পেছনে অলৌকিক কোনো কারণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম নামের একটি বিরল জিনগত অবস্থা।   ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কেদুংকাং গ্রামের এই পরিবারের জীবন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ভাইবোনের মধ্যে চারজনের মুখের গড়ন আলাদা। তাঁদের বাবা নিজেও একই জিনগত অবস্থার সঙ্গে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের চেহারা নিয়ে মানুষের বিদ্রূপ ও কুসংস্কার তাঁদের সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের আড়ালে না রেখে দৈনন্দিন জীবন, কাজকর্ম ও হাস্যরসের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু করেন।   ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম মূলত মুখমণ্ডলের হাড় ও অন্যান্য টিস্যুর বিকাশকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মেডলাইনপ্লাসের মতে, এ অবস্থায় গালের হাড় অপরিণত থাকতে পারে, চোয়াল ও থুতনি তুলনামূলক ছোট হতে পারে এবং কান বা চোখের আশপাশের গঠনে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। লক্ষণের তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবর্তন সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সাধারণত এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, যদিও কারও কারও শ্রবণশক্তি, শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্য শারীরিক বিষয়ে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।   সিনড্রোমটি জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় ছড়াতে পারে। মানুরুং পরিবারের বাবারও একই অবস্থা থাকার বিষয়টি সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসাগত ইতিহাস বা নির্দিষ্ট জিনগত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থার তীব্রতা কিংবা সংশ্লিষ্ট জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অবশ্য পরিষ্কার, মুখের গড়নে পার্থক্য থাকা কোনো অভিশাপের প্রমাণ নয়; এটি জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জিনগত অবস্থার অংশ হতে পারে।   পরিবারটির সদস্য সূর্য জানান, কাজ খোঁজার সময় তাঁর চেহারা অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত। যোগ্যতা বা কথা বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হতো তাঁকে। বারবার প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলেছিল। চেহারার কারণে কাউকে বিচার করা কিংবা সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা যে একজন মানুষের কাজের সুযোগ ও আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরে।   পরিস্থিতি বদলাতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন আড়াল না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। টিকটক ও ইউটিউবে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ, পারিবারিক মুহূর্ত এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ পেতে থাকে। ইউপিএসওসিএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের অনলাইন চ্যানেলগুলোতে এখন বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একসময় যে চেহারার কারণে তাঁরা বিদ্রূপের শিকার হতেন, সেটিই এখন তাঁদের পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে তাঁরা জীবিকা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের বাবা তাঁদের চেহারার পার্থক্য মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, তাঁদের মুখের গড়ন অন্যদের মতো না হলেও তাঁরা নিজেদের গ্রহণ করেন এবং নিজেদের মতো করেই জীবন কাটান। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং মানুষের বাহ্যিক চেহারা নিয়ে তৈরি ধারণা ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে।   ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন তাঁদের উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। কারও শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে শ্রবণসহায়ক যন্ত্র বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। মুখমণ্ডলের হাড়ের গঠনজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বিবেচনা করেন। তবে এই অবস্থার সঙ্গে বসবাস করা মানেই বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অযোগ্যতা নয়। পরিবারটির গল্পও দেখায়, যথাযথ সুযোগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।   মানুরুং পরিবারের অভিজ্ঞতা তাই কেবল একটি বিরল জিনগত অবস্থার পরিচয় নয়। এটি কুসংস্কার, বাহ্যিক চেহারা নিয়ে বিদ্রূপ এবং সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলার গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য যেখানে তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দেয়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ তাঁদের পরিচিতি ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করেছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মেডলাইনপ্লাস।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২৩:১৪
ইউএসসিআইএসের অনলাইন সেবায় রিসিট নম্বর ব্যবহার করে গ্রিন কার্ডের আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা যায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন

গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা।   কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি।   আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্‌সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে।   কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।   আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ২২:৫৬