- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
মার্কিন অভিবাসন আইনের অপব্যবহার রোধে এবং 'বার্থ ট্যুরিজম' বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ ঠেকাতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বা ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট। ইতিমধ্যেই এই টাস্কফোর্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী শত শত বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ অভিবাসী বা অস্থায়ী দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি উদ্যোগ খারিজ করে দেওয়ার পরপরই এই নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা এল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক মাধ্যম এক্সে ভিসা অপব্যবহারের এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সুসংগঠিত কিছু চক্র মার্কিন আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা লুটছে। তারা বিদেশিদের মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় প্রতারণা করতে শেখাচ্ছে, ভ্রমণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে এবং এমনকি জাল নথিপত্র তৈরি করছে; যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো ওই বিদেশিদের সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়া। বিশ্বজুড়ে ভিসা প্রাপ্তদের কার্যক্রম এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটিসহ অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার তথ্য কাজে লাগিয়ে এই টাস্কফোর্স মাত্র এক মাসের মধ্যে ৬০০টিরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। দপ্তরের লক্ষ্য হলো এই ধরনের অপব্যবহারের সাথে জড়িত যেকোনো নেটওয়ার্ককে ধ্বংস করা এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা আবেদনে প্রতারণার ব্যাপক দৃষ্টান্ত বিশ্বজুড়েই মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, এক বিদেশি দম্পতি ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও ছুটি কাটানোর কথা বলে দুইবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং আলাদা সময়ে সেখানে দুই সন্তানের জন্ম দেয়; পরবর্তীতে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়। অন্য এক ঘটনায় এক নারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা বলে ভিসা নিলেও তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ দিন পর সেখানে সন্তানের জন্ম দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫–২০২৬ মেয়াদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬–৩ ভোটে ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দেন, যার উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ অভিবাসী ও অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত করা। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার মাটিতে এবং মার্কিন আইনের অধীনে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু একজন মার্কিন নাগরিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন বলে জানালেও গত ২৭ জুলাই সেই নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যায়। এরপর গত ৬ আগস্ট তিনি দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি স্টিফেন মিলারের মতে, এই আদেশগুলোর লক্ষ্য হলো 'বার্থ ট্যুরিজম' নিষিদ্ধ করা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানো। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) ও অন্যান্য মানবাধিকার গোষ্ঠী গত ১১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারকের কাছে ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশের প্রয়োগ স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছে।
কোভিড মহামারির সময় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পাওয়া 'আউটডোর ডাইনিং' বা খোলা আকাশের নিচে বসে খাওয়ার সুবিধা আবারও নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় ফিরতে পারে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে একটি নতুন বিলের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য বছরব্যাপী আউটডোর ডাইনিংয়ের পথ সুগম হবে। কাউন্সিল মেম্বার লিংকন রেস্টলারের উত্থাপিত এই বিলটি পাস হলে শীতকালেও রেস্তোরাঁগুলোকে তাদের আউটডোর ডাইনিং কাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে না, বরং তারা শীতের উপযোগী করে কাঠামো তৈরি করতে পারবে। নতুন প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, রেস্তোরাঁর সামনের কার্ব বা পার্কিং লেনে পরিচালিত খোলা ক্যাফেগুলো এখন থেকে শীতের মাসগুলোতেও (৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত) আচ্ছাদিত করে ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। তবে শর্ত হলো, সেখানকার টেবিল, চেয়ার এবং অন্যান্য সাজসজ্জা খুব সহজেই সরানো যায় এমন হতে হবে। যেসব ব্যবসায়ী সারা বছর এই সুবিধা নিতে আগ্রহী, তাদের সাধারণ মৌসুমী রোডওয়ে ক্যাফের বাইরে আলাদা লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে এবং এর জন্য পৃথক ফি প্রদান করতে হবে। মহামারির সময় এই আউটডোর ডাইনিং সুবিধাটি রেস্তোরাঁগুলোর টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছিল এবং লকডাউন-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও বড় ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যানজট এবং ইঁদুরের উপদ্রবের মতো বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে সিটি কাউন্সিল এতে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপর থেকে কেবল ১ এপ্রিল থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যেই আউটডোর ডাইনিংয়ের অনুমতি দেওয়া হতো। তবে প্রতি বছর এসব কাঠামো তৈরি এবং ভেঙে ফেলার অতিরিক্ত খরচ ও কাঠখড় পোড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ছোট রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি ছিল, এই নিয়মকানুন ও খরচের কারণে অনেকেই এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছিলেন না। বৃহস্পতিবার সিটি কাউন্সিলে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে এবং আইনে পরিণত হওয়ার ১২০ দিন পর বছরব্যাপী আউটডোর ডাইনিং ব্যবস্থাটি সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী রূপ পাবে। এর ফলে শহরের রেস্তোরাঁ ব্যবসার দীর্ঘদিনের একটি বড় বাধা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন একিউআইএসের আঞ্চলিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি আরও তীব্র হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসআইএলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল। জাতিসংঘের ৩৮তম পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট—একিউআইএস দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশেও সংগঠনটির উপস্থিতি ও কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রচেষ্টার বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক হুমকি মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একিউআইএসের কার্যক্রম এখন আরও বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সংগঠনটি ছোট ছোট সেল এবং আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে চাপে থাকলেও তাদের আঞ্চলিক সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো সক্রিয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এসব সংগঠনের কার্যক্রম, সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়ন এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে আইএসআইএলসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের বিস্তার, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণ দল আল-কায়েদা, আইএসআইএল এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সন্ত্রাসী হুমকি, অর্থায়ন, বিদেশি যোদ্ধাদের চলাচল এবং নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে এসব বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদকে তথ্য ও সুপারিশ দেয়। তবে বাংলাদেশে একিউআইএসের ঘাঁটি রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যে উদ্বেগ ও কার্যক্রম বিস্তারের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে, সেটিকেই প্রতিবেদনের বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা নিরাপদ। দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার এবং আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবহন মাধ্যম 'সিটি বাইক'-এর ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকেই এখন এই সেবাটি ব্যবহার করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রানজিট অধিকারকর্মী ও সাইক্লিস্টরা সিটি বাইকের প্রতিটি রাইডের জন্য সর্বোচ্চ ৩ ডলার নির্ধারণ করার দাবিতে একটি নতুন বিল পাশের জন্য জোর দিচ্ছেন। গত বুধবার ব্রুকলিনের ইস্ট উইলিয়ামসবার্গে সিটি বাইকের ডকিং স্টেশনগুলো বাইকে পূর্ণ থাকতে দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে বাইকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে যাত্রীদের মধ্যে রাইড নেওয়ার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ভুক্তভোগী সাইক্লিস্টরা বর্তমান ভাড়াকে 'অত্যধিক ব্যয়বহুল' বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিজের সাইকেল থাকা সত্ত্বেও অ্যালেক্স নামের এক আরোহী জানান, এই আকাশছোঁয়া খরচ শ্রমজীবী মানুষের জন্য বহন করা প্রায় অসম্ভব; এটি এখন একটি বিলাসবহুল সেবায় পরিণত হয়েছে। ট্রানজিট অধিকারকর্মীদের মতে, একটি বৈদ্যুতিক সিটি বাইকে ৪৫ মিনিটের রাইডের জন্য বর্তমানে যে খরচ হয়, তা সাবওয়ে বা বাসের ভাড়ার চেয়ে চারগুণ এবং ফেরি ভাড়ার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। ট্রান্সপোর্টেশন অল্টারনেটিভস নামের একটি সংস্থার তথ্যমতে, ২০২০ সালে নিউইয়র্কে যে রাইডের ভাড়া ছিল ৪.৫০ ডলার, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.১৫ ডলারে। এর ফলে এটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাইক-শেয়ারিং প্রোগ্রামে পরিণত হয়েছে। একই দূরত্বের জন্য যেখানে বোস্টনে ৪.৫০ ডলার, প্যারিসে ২.৩০ ডলার, লন্ডনে ১.৩৫ ডলার এবং টোকিওতে মাত্র ১.০৫ ডলার খরচ হয়, সেখানে নিউইয়র্কের এমন লাগামহীন ভাড়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাইক-শেয়ারিং সিস্টেমগুলো মূলত করের টাকা এবং ব্যবহারকারীদের ফি-এর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। ট্রান্সপোর্টেশন অল্টারনেটিভস-এর প্রতিনিধি বেন ফার্নেস জানান, নিউইয়র্কের চিত্র একেবারেই ভিন্ন; এখানে পুরো খরচটাই ব্যবহারকারীদের পকেট থেকে মেটানো হয়। সিটি বাইক বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের সাথে একটি বিশেষ চুক্তির আওতায় কাজ করছে, যা তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত একচেটিয়া ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বিলটি পাস হলে সিটি বাইকের ৩ ডলারের অতিরিক্ত যে খরচ থাকবে, তা শহর কর্তৃপক্ষকে ভর্তুকি হিসেবে বহন করতে হবে। বিলটির অন্যতম সহ-পৃষ্ঠপোষক ও সিটি কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টোফার মার্টে জানিয়েছেন, আগামী চুক্তির আলোচনায় শহর কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে হবে। যদি সিটি বাইক কর্তৃপক্ষ সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থে ৩ ডলারের নির্দিষ্ট ভাড়ার প্রস্তাব মেনে না নেয়, তবে একচেটিয়া বাজার ভেঙে অন্য প্রতিযোগীদের সুযোগ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সাধারণ যাত্রীদের জন্য যাতায়াত আরও সাশ্রয়ী করতে অধিকারকর্মীদের এই জোরালো দাবির মুখে বিলটি বর্তমানে সিটি কাউন্সিলে বিবেচনাধীন রয়েছে।
নিউইয়র্ক শহরের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিখ্যাত ব্রডওয়ের জাদুকরী দুনিয়া উপভোগ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার শহরের মেয়র জোহরান মামদানি শিক্ষার্থীদের মাঝে দুই হাজার একশটি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট বিতরণের জন্য একটি বিশেষ লটারির ঘোষণা দিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত চলা সাতটি জনপ্রিয় ব্রডওয়ে শো এই টিকিটগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করবে বলে জানা গেছে। এই লটারিতে অংশগ্রহণকারী ব্রডওয়ে শোগুলোর মধ্যে রয়েছে বুয়েনা ভিস্তা সোশ্যাল ক্লাব, নিউইয়র্ক সিটি সেন্টারের ইন দ্য হাইটস, স্কুল গার্লস; অর, দ্য আফ্রিকান মিন গার্লস প্লে, স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য ফার্স্ট শ্যাডো, দ্য লস্ট বয়েজ, দ্য গ্রেট গ্যাটসবি এবং টু স্ট্রেঞ্জারস (ক্যারি আ কেক অ্যাক্রস নিউইয়র্ক)। লটারিতে বিজয়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের শোর জন্য সর্বোচ্চ দুটি করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে। অলাভজনক থিয়েটার গ্রুপ 'টিডিএফ' (TDF) এই লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যারা মূলত শহরের জনপ্রিয় টিকিটিএস (TKTS) বুথগুলোও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, শুধু বিজয়ীরাই নয়, লটারিতে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থী ব্রডওয়ে এবং অফ-ব্রডওয়ে শোর পাশাপাশি মিউজিক, জাদুঘর ও নাচের অনুষ্ঠানে ছাড় পেতে টিডিএফ-এর দুই মাসের বিনামূল্যের মেম্বারশিপ লাভ করবে। শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশে এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র মামদানি বলেন, অসাধারণ শিল্প ও সংস্কৃতিতে ভরপুর এই শহরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে তা বিবেচনা না করেই প্রতিটি তরুণের এসব মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, তারা চান প্রতিটি হাইস্কুল শিক্ষার্থী এই শহরকে নতুন করে জানুক, দুর্দান্ত শিল্পের স্বাদ নিক এবং এমন কিছু আবিষ্কার করুক যা শো শেষ হওয়ার অনেক পরও তাদের মনে গেঁথে থাকবে। লটারিতে অংশ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি ইতিমধ্যেই সকাল ১০টায় চালু হয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্ট সকাল ১০টা পর্যন্ত সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এরপর আগামী ১ সেপ্টেম্বর টিকিটের চূড়ান্ত ড্র অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের হেম্পস্টেডে নিজেদের বাড়ির বেজমেন্ট থেকে দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ১৬ অ্যাঞ্জিভাইন অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ি থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহতদের বোন গণমাধ্যমকে জানান, ওই বাড়ির বেজমেন্টে তাদের বাবা-মায়ের ক্লিনিং ব্যবসার একটি হোম অফিস রয়েছে। বুধবার সকালে তাঁর মা ওই অফিসে ঢুকতে না পেরে তাঁকে ফোন করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং দরজা খোলার পর মেঝেতে দুই ভাইয়ের প্রাণহীন দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে মৃত ঘোষণা করে। পারিবারিক সূত্র জানায়, নিহত দুই ভাই মধ্যবয়সী ছিলেন এবং তাদের নিজেদেরও সন্তান ও পরিবার রয়েছে। তারা মূলত বাবা-মায়ের সঙ্গেই ওই বাড়িতে থাকতেন; তাদের মধ্যে একজন বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতেন এবং অন্যজন বাইরে কাজ করতেন। নিহতদের বোন আক্ষেপ করে বলেন, ভাইদের মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সুসম্পর্ক ছিল এবং আগে কখনোই কোনো ধরনের ঝগড়া বা বিবাদের ঘটনা ঘটেনি। মার্জরি লিন্ডসে নামের এক পারিবারিক বন্ধু জানান, নিহতদের একজন ছিলেন অত্যন্ত শান্তিকামী মানুষ। এমন মর্মান্তিক পরিণতি তাদের কারও প্রাপ্য ছিল না উল্লেখ করে পরিবারটি দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। হেম্পস্টেড পুলিশ এবং নাসাউ কাউন্টি পুলিশ হোমিসাইড ব্যুরো যৌথভাবে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে কি না বা এটি কোনো পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তবে এই ঘটনা থেকে সাধারণ জনগণের জন্য নতুন কোনো হুমকির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দারা। এখন পর্যন্ত নিহত দুই ভাইয়ের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি এবং ঘটনার পেছনের মোটিভ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লুইগি ম্যাঞ্জিওন ফেডারেল আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করতে যাচ্ছেন। মূলত সম্ভাব্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাঁচতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২৮ বছর বয়সী এই অভিযুক্তের শুক্রবার সকালে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যানহাটনের এক ফুটপাতে ক্ষমতাধর এই নির্বাহীকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মৃত্যু ঘটানোর মতো পিছু নেওয়া বা স্টকিংয়ের দুটি অভিযোগ আনা হয়। ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করলেও ম্যাঞ্জিওনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দোষ স্বীকারের মাধ্যমে তিনি হয়তো আশা করছেন মার্কিন জেলা বিচারক মার্গারেট গার্নেট তার সাজার মেয়াদ কিছুটা কমিয়ে দেবেন। যদিও শুক্রবার আদালতে হাজির হওয়ার আগে বা শুনানিকালে যেকোনো সময় ম্যাঞ্জিওন এই চুক্তি বা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারেন বলেও সূত্রগুলো সতর্ক করেছে। যদি এই দোষ স্বীকারের চুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তবে তা রাজ্য পর্যায়ে চলা অন্য একটি মামলার বিচারকাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সেই রাজ্য মামলার বিচারকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই অপরাধের জন্য দুবার বিচার না করার (ডাবল জেপার্ডি) বিষয়ে নিউইয়র্কের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় এই জটিলতা তৈরি হতে পারে। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস দাবি করেছে যে, তারাই প্রথম ম্যাঞ্জিওনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছিল, তাই এই মামলার 'প্রাথমিক এখতিয়ার' তাদের হাতেই। ফলে, প্রস্তাবিত চুক্তির শর্তে তারা অসন্তুষ্ট হলে ম্যাঞ্জিওনকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তারা এখনও চাপ অব্যাহত রাখতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার প্রাক্তন ছাত্র এবং মেরিল্যান্ডের এক অভিজাত পরিবারের সন্তান ম্যাঞ্জিওনকে গ্রেফতারের আগে টানা পাঁচ দিন ধরে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। অবশেষে পেনসিলভানিয়ার অল্টুনার একটি ম্যাকডোনাল্ডস-এ সকালের নাশতা করার সময় স্থানীয় পুলিশ তাকে আটক করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার মতো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য আরও দুটি অভিযোগ আনা হলেও ‘আইনি ত্রুটি’র কথা উল্লেখ করে একজন বিচারক তা বাতিল করে দেন। কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ম্যাঞ্জিওনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি সহিংস রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া। অপরাধের স্থলে ফেলে যাওয়া বুলেটের খোসায় 'ডিলে' (দেরি করা) এবং 'ডিনাই' (প্রত্যাখ্যান করা) শব্দগুলো খোদাই করা ছিল, যা মূলত বীমা সংস্থাগুলোর গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ না করার প্রচলিত কৌশলকে ইঙ্গিত করে। শেষ পর্যন্ত যদি দোষ স্বীকারের কোনো চুক্তি না হয়, তবে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ফেডারেল বিচারকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঞ্চলে ২০১৯ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রিপাবলিকান অধ্যুষিত টেক্সাসের শহরতলিগুলোতে। 'লেঅফহেজ' (LayoffHedge)-এর কেন্দ্রীয় শ্রম তথ্যের একটি নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ছয় বছরে দেশজুড়ে এইচ-১বি ভিসার চাহিদা বৃদ্ধির শীর্ষ আটটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টই টেক্সাসে অবস্থিত। আর এই সবগুলো এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা। প্রায় ৬৯ লাখ লেবার কন্ডিশন অ্যাপ্লিকেশনের (এলসিএ) ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই এলসিএ সম্পন্ন করতে হয়, যা মূলত বিদেশি দক্ষ শ্রমিকের প্রতি কর্পোরেট চাহিদাকে নির্দেশ করে। সারাদেশের হিসাবের সাথে টেক্সাসের এই পরিসংখ্যানের বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ২৪৩টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের অর্ধেকেরও বেশিতে আবেদন কমেছে। ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত এলাকায় এইচ-১বি ফাইলিংয়ের পরিমাণ দেশব্যাপী সবচেয়ে বেশি হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে আবেদন কমার মধ্যম হার ৩০ শতাংশ। অন্যদিকে রিপাবলিকান ডিস্ট্রিক্টগুলোতে এই হার ১৮ শতাংশ। কিন্তু এর ব্যতিক্রম কেবল টেক্সাসের শহরতলিগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২০টি দ্রুত বর্ধনশীল ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে ১০টিই টেক্সাসে এবং ওই ২০টির মধ্যে ১৫টিতেই রিপাবলিকানরা জয়ী হয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের থার্ড কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি কিথ সেলফ) অনুমোদিত আবেদন ২৪২ শতাংশ এবং পাশ্ববর্তী ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে (প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল) ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ৩১তম, ১০তম, ২২তম, ৮ম, ২১তম এবং ৪র্থ ডিস্ট্রিক্টেও যথাক্রমে ১৪৫ থেকে ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত আবেদন বৃদ্ধির রেকর্ড পাওয়া গেছে। নিউজউইক এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে কংগ্রেস সদস্যদের সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করেছে। এইচ-১বি মূলত একটি অস্থায়ী মার্কিন ওয়ার্ক ভিসা, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থায়ন, প্রকৌশল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বিশেষায়িত পেশায় স্নাতক ডিগ্রিধারী বা সমমানের বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকেন। টেক্সাসে এই ভিসার চাহিদা এমন এক সময়ে বাড়ল, যখন ফেডারেল পর্যায়ে নতুন করে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে উচ্চ আয়ের কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে প্রথাগত এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এছাড়া মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েক হাজার ডলারের বায়োমেট্রিক স্ক্রিনিং ফি যুক্ত করা এবং চাকরি হারানো অভিবাসীদের নতুন কাজ খোঁজার ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিলেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন বিদেশি কর্মীদের ওপর এক লাখ ডলার ফি বসানোর একটি প্রস্তাব বিচারকরা ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছেন। এরই মাঝে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এক নির্দেশনায় রাজ্যের সকল সরকারি সংস্থা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টেক্সাস ওয়ার্কফোর্স কমিশনের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাজ্যের ১১ বছর বয়সী শিশু আরমাই বোরোজ-পিটের শরীরে চিকিৎসকেরা প্রথমে টনসিলাইটিসের লক্ষণ হিসেবে দেখলেও পরে তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার পর পরিবারের জোর দাবিতে রক্ত পরীক্ষা করা হলে তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সামনে আসে। বর্তমানে শিশুটি ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে। ঘটনার শুরু মে মাসের শেষ দিকে। ইংল্যান্ডের ডেভনে পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে থাকা অবস্থায় আরমাইয়ের প্রচণ্ড ক্লান্তি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত সক্রিয় ও প্রাণবন্ত এই শিশু তখন খেলতে চাইত না এবং একা একা বসে থাকত। পরে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে পরিবার চিকিৎসকের কাছে যায়। মে মাসের ৩১ তারিখে তাকে ওয়ারউইক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রথমে ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কথা জানান। এরপর ২ জুন তাকে সাধারণ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা টনসিলাইটিস হয়েছে বলে জানান এবং অ্যান্টিবায়োটিক দেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও আরমাইয়ের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং সে হাঁটা, কথা বলা ও খাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজ থেকেও অনেকটাই দূরে চলে যায়। এরপর ১০ জুন আরমাইকে আবার ওয়ারউইক হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা নিকি। এবার তিনি রক্ত পরীক্ষা না করা পর্যন্ত হাসপাতাল ছাড়বেন না বলে জানান। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকেরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সে সময় চিকিৎসকেরা তার অসুস্থতার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ, যক্ষ্মা কিংবা মিসরে পরিবারের ছুটির সময় পাওয়া কোনো সংক্রমণের বিষয় বিবেচনা করছিলেন। ওয়ারউইক হাসপাতালে আরমাই ১৫ দিন চিকিৎসাধীন ছিল। পরে তাকে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩ জুলাই তার স্টেজ-৪ বার্কিট লিম্ফোমা শনাক্ত হয়। এটি বিরল ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের শৈশবকালীন ক্যানসার। রোগটি শনাক্ত হওয়ার সময় তার প্লীহা, যকৃত ও অস্থিমজ্জায় ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল। আরমাইয়ের মা নিকি জানান, মেয়েকে বারবার সুস্থ বলা হলেও তিনি বুঝতে পারছিলেন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। শিশুটির ঘাড়ে ব্যথা, পায়ের নিচের অংশ ও কুঁচকিতে ব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। প্রথমদিকে এসব লক্ষণের সঙ্গে তার জিমন্যাস্টিকসের কোনো আঘাতের সম্পর্ক থাকতে পারে বলেও পরিবার মনে করেছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আরমাইয়ের অসুস্থতার বিষয়টি বুঝতে তাদের জন্য সময়টি অত্যন্ত কঠিন ছিল। হাসপাতালে থাকার সময়ও তার সঠিক অসুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যায়। তার মা বলেন, সাধারণভাবে সুস্থ ও সক্রিয় একটি শিশুর হঠাৎ করে হাঁটতে, খেতে বা পান করতে না চাওয়াকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। বার্কিট লিম্ফোমা সাদা রক্তকণিকার বি-কোষ থেকে শুরু হওয়া দ্রুতগতির এক ধরনের ক্যানসার। শিশুদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে এবং এটি শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আরমাইয়ের ক্ষেত্রে রোগটি স্টেজ-৪ পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এখন তাকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্তমানে আরমাই ছয় মাসের কেমোথেরাপি নিচ্ছে। চিকিৎসার পাশাপাশি তার পরিবার অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে পরিবারের। তার ইচ্ছার মধ্যে ফ্লোরিডার ডিজনি ওয়ার্ল্ড এবং ল্যাপল্যান্ড ভ্রমণের বিষয় রয়েছে। পরিবার একই সঙ্গে বার্মিংহাম শিশু হাসপাতাল ও রোনাল্ড ম্যাকডোনাল্ড হাউসকে সহায়তা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। চিকিৎসার সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তারা। পরিবার অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ৬৭৫ ডলার, তবে পরে সংগৃহীত অর্থ প্রায় ১২ হাজার ১৫০ ডলারে পৌঁছায়। আরমাইয়ের অসুস্থতার ঘটনা পরিবারের জন্য কঠিন সময় তৈরি করলেও তার স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে তাদের মূল লক্ষ্য শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং কেমোথেরাপির এই কঠিন সময় পার করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।
কলম্বিয়ায় আঘাত হানা এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির বাসিন্দা ম্যাগনোলিয়া গার্সিয়া লুগো। ধসে পড়া বাড়ি থেকে তিনি প্রথমে নিরাপদে বের হতে পেরেছিলেন। কিন্তু মেয়ে নাতালিয়া ভেতরে রয়ে গেছে বুঝতে পেরে তাকে উদ্ধারের জন্য আবারও সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে ছুটে যান তিনি। দুর্ভাগ্যবশত, তখনই একটি ভারী দেয়াল ধসে পড়ে তাঁর ওপর, কেড়ে নেয় এই সাহসী মায়ের প্রাণ। মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ম্যাগনোলিয়ার পরিবার ও তাঁর স্থানীয় চার্চ কমিউনিটিতে। 'মার্সি চার্চ অব গড'-এর মিডিয়া লিড আনা কাস্ত্রো জানান, ভূমিকম্পের পরপরই ম্যাগনোলিয়ার স্বামী এই দুঃসংবাদ পান। ফোনে তাঁকে জানানো হয় যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে মা ও মেয়ে দুজনেই চাপা পড়েছেন এবং তাঁদের খোঁজ মিলছে না। চার্চের সহকারী যাজক অস্কার ফার্নান্দো কাস্ত্রো জানান, কলম্বিয়ায় বসবাসরত ম্যাগনোলিয়ার ভাই (যিনি নিজেও একজন যাজক) উদ্ধারকাজে সরাসরি সহায়তা করেন। দীর্ঘ তল্লাশির পর যখন ম্যাগনোলিয়াকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। গার্সিয়া লুগো পরিবার গত ২২ বছর ধরে নিউজার্সির ওই চার্চের নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। মেয়ে নাতালিয়াকে নিয়ে ম্যাগনোলিয়া এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চার্চের বিভিন্ন কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণকে কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ও অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন চার্চের নেতারা। এদিকে, নিউজার্সির বার্গেনফিল্ডের মেয়র আরভিন আমাতোরিও জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে ও সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। জানা গেছে, বুধবার কলম্বিয়ার নিজ শহরেই ম্যাগনোলিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এক বুক শূন্যতা আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়েই পরিবারটিকে এখন তাদের মাতৃভূমি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার কঠিন লড়াই শুরু করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীন মানুষের তাঁবু ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অস্থায়ী বসতি। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি তাঁবুতে বসবাস করছেন কয়েক ডজন মানুষ। তবে রাস্তার পাবলিক রাইট অব ওয়ে বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী দিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবার সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্টের মধ্যে নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নিতে সেখানে বসবাসকারীদের ৭২ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিটির ভাষ্য, রাস্তার জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা উন্মুক্ত ও চলাচলের উপযোগী রাখা তাদের দায়িত্ব। কালামাজু সিটির কমিউনিকেশনস ম্যানেজার মাইকেল স্মিথ বলেন, তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাস্তার রাইট অব ওয়ে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি সিটি কোডের লঙ্ঘন। তাই বাধা দূর করতে সেখানে বসবাসকারীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমকে ‘রিমুভাল’ এবং ‘রাইট অব ওয়ে এনফোর্সমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটিকে গৃহহীনদের শিবির ‘ক্লিয়ার’ বা ‘সুইপ’ করার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের হিসাবে, ওই এলাকায় প্রায় ৩৪টি তাঁবু রয়েছে। সেখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক তাঁবুতে একাধিক মানুষ থাকেন। তাঁবুর বাইরে সাইকেল, কুলার, পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে পোষা প্রাণীও রয়েছে। শিবিরের একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশ এসে তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। না সরালে সিটি কর্তৃপক্ষ ডাম্পস্টার নিয়ে এসে সেগুলো সরিয়ে দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মালিন্ডা ডগলাস বলেন, অনেক মানুষ তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার পর আবার এমন জায়গায় ফিরে যেতে পারেন, যেখান থেকে তাদের আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শিবির সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে সিটির সার্ভিস কর্মীরা ওই এলাকায় গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজও করেন। তবে শিবিরে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর তাঁদের কোথায় যাওয়ার ব্যবস্থা হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা তাঁদের হাতে নেই। গত ১০ আগস্ট কালামাজু সিটি কমিশনের এক সভায় নর্থসাইড এলাকার এক বাসিন্দাও রাস্তাজুড়ে গড়ে ওঠা তাঁবুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এলাকাটিকে ‘একটি ছোট শহর’ হিসেবে বর্ণনা করে সিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের এই তাঁবু শিবিরটি মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটির কাছাকাছি। ৫০০ নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি গৃহহীন মানুষের জন্য ডে শেল্টার হিসেবে কাজ করে। সেখানে গোসল ও বিশ্রামাগারের সুবিধাও রয়েছে। তাঁবু সরানোর পাশাপাশি গৃহহীন মানুষদের সহায়তার জন্যও কাজ করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কালামাজু ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির কমিউনিটি সার্ভিসেস টিম শিবিরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস অব কালামাজু, কালামাজু গসপেল মিনিস্ট্রিজ, মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটি এবং কালামাজু কাউন্টি হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য শেল্টার স্পেস খোঁজা এবং বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। তবে তাঁবু সরানোর সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এসব মানুষের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে। একদিকে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রাখার দায়িত্বের কথা বলছে সিটি কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে শিবিরে থাকা অনেক মানুষ নতুন করে আশ্রয় পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আজ ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহায়তা ও সংহতি জানাতে একটি কমিউনিটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন আদালত, আটক, বহিষ্কার এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তাও দেবেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও প্রয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলা চলছে, তাদের অনেকেই আইনি প্রক্রিয়া, আদালতে হাজিরা এবং সম্ভাব্য আটকের বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন। কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের কারণে অনেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী ও অনুমোদিত অভিবাসন সহায়তাকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেল প্লাজার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসীদের মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, লাতিন আমেরিকান, দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা আইন প্রয়োগের পরিবর্তন স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা। কোনো সরকারি নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে অনুমোদিত আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিউইয়র্কের কমিউনিটি সংগঠনগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে মূলত একটি বার্তাই দিতে চায়—আইনি প্রক্রিয়ার কঠিন সময়ে তারা যেন একা না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এবারের র্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য। আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব। চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা দেব যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে ডিফিল ইন মেডিকেল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া তার ডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি অক্সফোর্ডের এমআরসি আইকেস স্টুডেন্টশিপের আওতায় পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। নন্দিতা দেব বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল, বায়োমেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এমআরআই। অক্সফোর্ডের ২০২৬ সালের এমআরসি আইকেস কর্মসূচি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্সেস ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভিন্ন বিভাগের ৩১টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র আটটি এমআরসি এন্টারপ্রাইজ আইকেস ডিফিল স্টুডেন্টশিপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ফি, চার বছরের স্টাইপেন্ড, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ট্রাভেল অ্যালাউন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নন্দিতার গবেষণায় বায়োমেডিকেল সায়েন্সের সঙ্গে যোগসূত্র আগে থেকেই ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ম্যাগনেটিক হাইপারথার্মিয়া। ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল তৈরি এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তার একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি হেমাটাইট ও কাইটোসানভিত্তিক ন্যানোহাইব্রিডের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। একই বছর এআইপি অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বায়োমেডিকেল ব্যবহারের সম্ভাবনাসম্পন্ন ম্যাগনেটাইট ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে কাজ করেন। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায়ও তিনি সহলেখক ছিলেন। অক্সফোর্ডে তার গবেষণার ক্ষেত্র কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডে বর্তমানে কার্ডিওভাসকুলার এমআর নিয়ে একাধিক উন্নত গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রের গঠন, কার্যকারিতা ও টিস্যুর বৈশিষ্ট্য আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ এবং রোগ নির্ণয়ে কার্ডিওভাসকুলার এমআর প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত করার গবেষণাও রয়েছে। নন্দিতা দেবের উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল ইমেজিংয়ে তার গবেষণার বিস্তার। এমআরআই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই রয়েছে শক্তিশালী পদার্থবিজ্ঞান। ফলে পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এই আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও মেডিকেল ইমেজিংকে নন্দিতার গবেষণার আগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এমআরআইয়ের পাশাপাশি এক্স-রে ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল আল্ট্রাসাউন্ডের প্রতিও তার গবেষণার আগ্রহের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে গবেষণাকে তিনি তার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নন্দিতা দেবের অক্সফোর্ড যাত্রা বাংলাদেশের একজন পদার্থবিজ্ঞান গবেষকের মেডিকেল সায়েন্সের অত্যাধুনিক গবেষণায় প্রবেশেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পদার্থবিজ্ঞান, মেডিকেল ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল গবেষণার সমন্বয়ে তার নতুন গবেষণার অধ্যায় শুরু হবে আগামী অক্টোবরে।
ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের একটি শিশু হাসপাতালে জন্মের পর থেকেই পরিবারহীন অবস্থায় থাকা শিশু লুসিয়ানা অবশেষে তার মাতৃকুলের দাদা-দাদির জিম্মায় যাচ্ছে। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের যত্নে থাকা শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর স্থানীয় শিশু অধিকার কর্তৃপক্ষ তাকে দাদা-দাদির কাছে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। লুসিয়ানাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের অনেকটিতেই বলা হচ্ছিল, চার মাস বয়সে তাকে হাসপাতালে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রিমিসিয়াসের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শিশুটি ২০২৬ সালের ১০ মার্চ জন্মের একদিন পর থেকেই গুয়ায়াকিলের ড. ফ্রান্সিসকো দে ইকাসা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে ছিল। অর্থাৎ সে চার মাস বয়সে পরিত্যক্ত হয়নি, বরং জীবনের প্রথম কয়েক মাসই হাসপাতালকে ঘর হিসেবে কাটিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুসিয়ানার পরিবারকে খুঁজে বের করতে ক্যান্টোনাল বোর্ড ফর দ্য প্রোটেকশন অব রাইটস অনুসন্ধান চালায়। পরে তার মাতৃকুলের দাদা-দাদির সন্ধান পাওয়া যায়। তারা শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার পর লুসিয়ানাকে হাসপাতালের বাইরে পারিবারিক পরিবেশে নেওয়ার পথ তৈরি হয়। লুসিয়ানার ঘটনা ইকুয়েডরে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। শিশুটির জন্য সাধারণ মানুষ পোশাক, খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠান। হাসপাতালের কর্মীরাও মাসের পর মাস তাকে দেখাশোনা করেন। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলেও আইনি ও পারিবারিক জটিলতা মেটার আগ পর্যন্ত হাসপাতালই তার থাকার জায়গা হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শিশু পরিত্যাগের অভিযোগে লুসিয়ানার মায়ের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া হতে পারে। ইকুয়েডরের ফৌজদারি আইনে কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে পরিত্যাগ করা অপরাধ। এমন ঘটনায় কর্তৃপক্ষকে প্রথমে শিশুটির বাবা-মা এবং বিস্তৃত পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হয়। পরিবারে নিরাপদভাবে হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলে তবেই বিকল্প আশ্রয় বা দত্তক প্রক্রিয়ার দিকে যাওয়া হয়। এই আইনি প্রক্রিয়ার কারণেই হাসপাতাল থেকে কোনো শিশুকে সরাসরি দত্তক দেওয়া যায় না। লুসিয়ানার ক্ষেত্রেও প্রথম লক্ষ্য ছিল তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া। দাদা-দাদির সন্ধান পাওয়ায় এখন তার জন্য আলাদা দত্তক পরিবারের প্রয়োজন হচ্ছে না, বরং পরিবারের সদস্যদের তত্ত্বাবধানেই সে বড় হবে। প্রিমিসিয়াসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গুয়ায়াকিলের ড. ফ্রান্সিসকো দে ইকাসা বুস্তামান্তে শিশু হাসপাতালে গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ শিশুকে দীর্ঘ সময় পরিবার ছাড়া থাকতে হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও আইনি জটিলতা বা অভিভাবক না পাওয়ায় হাসপাতালেই মাসের পর মাস থাকতে হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, একটি সুস্থ শিশুর দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকা আদর্শ নয়। এতে হাসপাতালজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন থাকে, তেমনি পরিবারভিত্তিক স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এই কারণেই লুসিয়ানার জন্য পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া তার ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার মাসের বেশি সময় হাসপাতালের কক্ষ, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যেই বেড়ে ওঠা লুসিয়ানার জীবনে এখন নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। তাকে ঘিরে দেশজুড়ে যে সহানুভূতি ও সহায়তার ঢল নেমেছিল, তার পর এবার নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে শিশুটি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ২৬টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করেছে ইসরায়েল। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে খালি করে দেওয়া গানিম ও কাদিম ইসরায়েলি বসতি এলাকায় আবার বসতি স্থাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। বুধবার শুরু হওয়া অভিযানের বিষয়ে স্মোট্রিচ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জেনিনের গানিম ও কাদিম এলাকায় ২৬টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং সেখানে পুনরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পথ তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেঙে ফেলার জন্য চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য ভবন রয়েছে। জেনিনের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এসব স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করে। গানিম ও কাদিমের ইতিহাস এই পদক্ষেপকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০০৫ সালে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল শ্যারনের ডিসএনগেজমেন্ট পরিকল্পনার আওতায় গাজা উপত্যকার সব ইসরায়েলি বসতির পাশাপাশি উত্তর পশ্চিম তীরের চারটি বসতি খালি করা হয়েছিল। সেগুলো ছিল গানিম, কাদিম, হোমেশ ও সা নুর। দুই দশক পর সেই সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে পাল্টাতে শুরু করে ইসরায়েল। ২০২৩ সালে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেট ২০০৫ সালের ডিসএনগেজমেন্ট আইনের কিছু বিধিনিষেধ বাতিল করে। এর ফলে উত্তর পশ্চিম তীরের আগে খালি করা বসতিগুলোতে ইসরায়েলিদের ফিরে যাওয়ার আইনি বাধার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গানিম ও কাদিম পুনঃপ্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। একই সময় পশ্চিম তীরে নতুন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত একাধিক বসতি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে উত্তর পশ্চিম তীরে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। গানিম ও কাদিমের আশপাশের ফিলিস্তিনি স্থাপনা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা বাড়ছিল। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছিল, গত ১৯ জুলাই কাদিমের কাছাকাছি পূর্ব জেনিনে কয়েকটি ফিলিস্তিনি ভবন ও সম্পত্তির বিরুদ্ধে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং ভেঙে ফেলার নোটিশ দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। বুধবারের অভিযান সেই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে সামনে এসেছে। স্মোট্রিচের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্দেশ্য কেবল স্থাপনা অপসারণ নয়, বরং গানিম ও কাদিম এলাকায় ইসরায়েলি বসতি পুনরায় চালু করার জন্য জায়গা প্রস্তুত করা। একদিন পর বৃহস্পতিবার গানিম এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ফিরে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে এলাকা ছাড়ার প্রায় ২১ বছর পর সেখানে আবার বসতি স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের অধীনে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বেড়েছে। স্মোট্রিচ নিজেও বসতি সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান সমর্থক। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন বসতি স্থাপন এবং আগে সরিয়ে নেওয়া কয়েকটি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বিবেচনা করে। ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে থাকে। গানিম ও কাদিমে পুনরায় বসতি স্থাপনের উদ্যোগের ফলে উত্তর পশ্চিম তীরের জেনিনে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি স্থাপনা ভেঙে সরাসরি বসতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির কথা ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রকাশ্যে জানানোর পর বিষয়টি পশ্চিম তীরে চলমান বসতি সম্প্রসারণের নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে।
ইতালির রাজধানী রোমে কিপ্পা পরা ২২ বছর বয়সী এক ফরাসি ইহুদি পর্যটককে পরপর দুই দিনে দুবার হামলা করা হয়েছে বলে দাবি সামনে এসেছে। প্রথম ঘটনায় তাকে পেপার স্প্রে করা এবং পরদিন চারজন ঘিরে ধরে লাথি মারার অভিযোগ করা হয়েছে। দুই ঘটনার সময়ই হামলাকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলে চিৎকার করেছে বলেও ওই পর্যটকের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, গত শুক্রবার রোমের কেন্দ্রস্থলে কিপ্পা পরে চলাচলের সময় প্রথম হামলার শিকার হন ওই পর্যটক। একজন ব্যক্তি তার দিকে পেপার স্প্রে করেন বলে অভিযোগ। হামলার সময় ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। পরদিন সন্ধ্যায় প্রথম ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে আবারও তার ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এবার চারজন তাকে ঘিরে ধরে লাথি মারেন এবং এ সময়ও একই স্লোগান দেওয়া হয় বলে তার দাবি। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঘটনার পর ৩১ বছর বয়সী এক আলজেরীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ এবং আরও তিনজনকে খোঁজা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইতালির প্রধান সংবাদ সংস্থা আনসা কিংবা রোম পুলিশের সহজলভ্য প্রকাশিত তথ্যে এই নির্দিষ্ট দুই দিনের ঘটনার সব বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে পর্যটকের বয়স, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং দুই হামলার মধ্যে একই ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন কি না, এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। রোমে কিপ্পা পরা ব্যক্তিকে হামলার ঘটনা অবশ্য এর আগেও ঘটেছে। গত এপ্রিলে রোমের মারকোনি এলাকার ভিয়া জেরোলামো কারদানোতে কিপ্পা পরা এক ব্যক্তিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে হামলা করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল ইতালীয় পুলিশ। ওই ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছিল। ইতালির অন্য শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে কিপ্পা পরা ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত মার্চে মিলানে কিপ্পা পরা দুই আর্জেন্টাইন ইহুদি পর্যটককে প্রায় ১০ জন ঘিরে ধরে মারধর করার ঘটনায় একজনের নাক ভেঙে যায়। ওই ঘটনায় ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। রোমের সর্বশেষ অভিযোগটি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়ে থাকলে তা সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের প্রশ্ন তুলবে। তবে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়া এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ফিলিস্তিনের পক্ষে রাজনৈতিক অবস্থান বা স্লোগান নিজে থেকে ইহুদিবিদ্বেষের প্রমাণ নয়, তবে কোনো ব্যক্তিকে তার ইহুদি পরিচয় বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হলে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং ইতালীয় আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে তদন্ত হতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ১২ আগস্ট এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন। ২৮ বছর বয়সী লিভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি দায়িত্ব নেন। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তর্কবিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্যই লিভিট প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১ মে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে জুলাইয়ে তিনি আবার কাজে ফিরেছিলেন। নিজের বিদায়ের ঘোষণার পর লিভিট জানিয়েছেন, গত দেড় বছর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রেসিডেন্টের হয়ে হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পও লিভিটের কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টিতেও তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকা থাকবে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে লিভিট রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবেন বলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের কাজের সম্পর্ক নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় লিভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হন। লিভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। তবে আগস্টের শেষ নাগাদ লিভিটের বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইংল্যান্ডে নিজেদের বিয়ের দিন এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন নবদম্পতি নিকি ও জেমস রোডনাইট। যে হলিউড তারকাকে হোটেলের বারে দেখে নিছক সৌজন্যবশত বিয়ের অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বর, কিছুক্ষণ পর সত্যিই সেই অনুষ্ঠানে হাজির হন ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ও ‘জন উইক’ খ্যাত অভিনেতা কিয়ানু রিভস। ঘটনাটি ২০২২ সালের আগস্টের। নর্থ্যাম্পটনশায়ারের ফসলি হল হোটেল অ্যান্ড স্পায় বিয়ে করেন নিকি ও জেমস। একই হোটেলে তখন অবস্থান করছিলেন কিয়ানু রিভস। বিয়ের পর হোটেলের বারের কাছে তাকে দেখতে পান জেমস। আইটিভিকে জেমস জানান, তিনি রিভসের কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন এবং বলেন, সেদিনই তার বিয়ে হয়েছে। এরপর অভিনেতাকে তাদের উদযাপনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রিভস তখন জানান, তিনি ও তার বন্ধু ডিনার করতে যাচ্ছেন, তবে পরে সময় হলে আসবেন। নবদম্পতি অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন না, এত বড় একজন তারকা সত্যিই তাদের অনুষ্ঠানে ফিরে আসবেন কি না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হোটেলের এক কর্মী নিকিকে জানান, বাইরে একজন ‘বিশেষ অতিথি’ তার সঙ্গে দেখা করতে চান। বাইরে গিয়ে নিকি দেখেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আছেন কিয়ানু রিভস। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অভিনেতাকে দেখে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে কী বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। রিভসকে পানীয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা নেননি। দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে ক্লান্ত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দ্রুত চলে না গিয়ে নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানান, অতিথিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন। বিয়ের ফটোগ্রাফারও রিভসের সঙ্গে নবদম্পতির কয়েকটি ছবি ধারণ করেন। নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, রিভস ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও আন্তরিক। তিনি শুধু নবদম্পতির সঙ্গেই নয়, অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকজন অতিথির সঙ্গেও কথা বলেন এবং ছবি তুলতে সময় দেন। ঘটনার ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিকি নিজেই সেই সময় বিয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে কিয়ানু রিভসকে নবদম্পতি ও অতিথিদের সঙ্গে দেখা যায়। ঘটনাটি দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে। রিভস তখন নর্থ্যাম্পটনশায়ারে একটি ডকুমেন্টারি প্রকল্পের কাজে ছিলেন। আইটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ব্রন জিপি ফর্মুলা ওয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারির কাজের কারণেই তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনাটি নতুন নয়, তবে সম্প্রতি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সেটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে শেয়ার করছেন। বাস্তবে নিকি ও জেমসের বিয়েতে কিয়ানু রিভসের এই আকস্মিক উপস্থিতি ঘটেছিল ২০২২ সালের আগস্টে। নবদম্পতির জন্য সেটি ছিল এমন এক মুহূর্ত, যা তারা আগে থেকে পরিকল্পনাও করেননি। একটি সাধারণ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত চলচ্চিত্র তারকার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া এবং অতিথিদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর সেই ঘটনাই চার বছর পরও নতুন করে মানুষের আগ্রহ কাড়ছে।
কলম্বিয়ার ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার পানামায় এক আঞ্চলিক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সময়ের টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটন ও বোগোতার নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে। পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনের বৈঠকে হেগসেথ বলেন, নতুন কলম্বিয়ান সরকার মাদক পাচার ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যৌথ সামরিক অভিযানেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা। তবে যৌথ অভিযানের ধরন, কোথায় অভিযান চালানো হবে কিংবা মার্কিন সেনাদের সরাসরি কী ভূমিকা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন এবং সাবেক ফার্ক গেরিলাদের বিভিন্ন ভিন্নমতাবলম্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এসব গোষ্ঠীর কয়েকটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে। একই বৈঠকে কলম্বিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনে স্বাগত জানান হেগসেথ। মাদক কার্টেল ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গড়ে তোলা হয়েছে। কলম্বিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এই উদ্যোগের ১৯তম সদস্য হচ্ছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের নেতাদের বৈঠক থেকে এই নিরাপত্তা উদ্যোগের সূচনা হয়। তৎকালীন কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সেই বৈঠকে অংশ নেননি। কলম্বিয়ায় গত ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদাকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট। এর আগে পেত্রো সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। নতুন সরকারের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে সম্মতি সেই অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কলম্বিয়ার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য যৌথ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারের কথা রয়েছে। পানামার বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নিয়েও কথা বলেন হেগসেথ। ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে আইসিসি তদন্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে এবং কিছু সংগঠন ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য তাদের সামরিক পদক্ষেপকে মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান হিসেবে তুলে ধরছে। হেগসেথ বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতি আইসিসির কর্তৃত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বানও জানান। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ আগে থেকেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয়, তবে কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ আইসিসির সদস্য। কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী সহযোগিতা রয়েছে। তবে নতুন সরকারের অধীনে কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের অনুমোদন সেই সহযোগিতাকে আরও সরাসরি সামরিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই অনুমোদনের ভিত্তিতে দুই দেশ কী ধরনের অভিযান শুরু করে এবং কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতে তার কী প্রভাব পড়ে।