সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
পানামায় আঞ্চলিক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ার ভেতরে মার্কিন সামরিক অভিযানের অনুমতি, জানালেন হেগসেথ

কলম্বিয়ার ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মাদক পাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার পানামায় এক আঞ্চলিক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সময়ের টানাপোড়েনের পর ওয়াশিংটন ও বোগোতার নিরাপত্তা সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যাচ্ছে।   পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনের বৈঠকে হেগসেথ বলেন, নতুন কলম্বিয়ান সরকার মাদক পাচার ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যৌথ সামরিক অভিযানেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা।   তবে যৌথ অভিযানের ধরন, কোথায় অভিযান চালানো হবে কিংবা মার্কিন সেনাদের সরাসরি কী ভূমিকা থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি বা ইএলএন এবং সাবেক ফার্ক গেরিলাদের বিভিন্ন ভিন্নমতাবলম্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এসব গোষ্ঠীর কয়েকটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে।   একই বৈঠকে কলম্বিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশনে স্বাগত জানান হেগসেথ। মাদক কার্টেল ও আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গড়ে তোলা হয়েছে।   কলম্বিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস উদ্যোগে যোগ দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি এই উদ্যোগের ১৯তম সদস্য হচ্ছে। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের নেতাদের বৈঠক থেকে এই নিরাপত্তা উদ্যোগের সূচনা হয়। তৎকালীন কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সেই বৈঠকে অংশ নেননি।   কলম্বিয়ায় গত ৭ আগস্ট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বামপন্থী প্রার্থী ইভান সেপেদাকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।   এর আগে পেত্রো সরকারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি নিয়ে একাধিকবার মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। নতুন সরকারের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে সম্মতি সেই অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কলম্বিয়ার জন্য ১ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং অন্যান্য যৌথ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারের কথা রয়েছে।   পানামার বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি নিয়েও কথা বলেন হেগসেথ। ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা নিয়ে আইসিসি তদন্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে এবং কিছু সংগঠন ঘটনাগুলোকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য তাদের সামরিক পদক্ষেপকে মাদক পাচারকারী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান হিসেবে তুলে ধরছে।   হেগসেথ বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতি আইসিসির কর্তৃত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ার আহ্বানও জানান। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ আগে থেকেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রোম সংবিধির সদস্য নয়, তবে কলম্বিয়াসহ লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ আইসিসির সদস্য।   কলম্বিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশক ধরেই ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী সহযোগিতা রয়েছে। তবে নতুন সরকারের অধীনে কলম্বিয়ার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের অনুমোদন সেই সহযোগিতাকে আরও সরাসরি সামরিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই অনুমোদনের ভিত্তিতে দুই দেশ কী ধরনের অভিযান শুরু করে এবং কলম্বিয়ার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতে তার কী প্রভাব পড়ে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:২৩
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিপ্রার্থী ও পেশাদারদের জন্য বিভিন্ন সরকারি ফ্রি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি, স্কিল কোনোটিই নেই? যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রি চাকরির ট্রেনিং, সাথে মিলবে ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন কিংবা নতুন স্কিল শিখে ক্যারিয়ার পরিবর্তন করতে চান এমন মানুষের জন্য ২০২৬ সালেও বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-সমর্থিত ফ্রি জব ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা চালু রয়েছে। এসব সুযোগের কিছুতে যোগ্য বাংলাদেশি অভিবাসীরাও অংশ নিতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই সবাই ফ্রি ট্রেনিং ও ১,৮০০ ডলার পাবেন” এমন দাবি সঠিক নয়। প্রোগ্রামভেদে বয়স, আয়, বসবাসের এলাকা ও ইমিগ্রেশন বা ওয়ার্ক অথরাইজেশনসহ আলাদা যোগ্যতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইউএসএগভের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্টেটেই সরকারি জব ট্রেনিং প্রোগ্রাম রয়েছে। চাকরি খোঁজা, রেজুমে তৈরি, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শনাক্ত করা এবং ট্রেনিংয়ের খরচ মেটানোর সম্ভাব্য সহায়তা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে।   দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অর্থায়নে পরিচালিত এসব সেন্টারে চাকরিপ্রার্থীরা বিনা খরচে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পান। এর মধ্যে রয়েছে চাকরি খোঁজার সহায়তা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, স্কিল যাচাই, জব সার্চ ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ এবং স্থানীয় ট্রেনিংয়ের তথ্য।   ওয়ার্কফোর্স ইনোভেশন অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট বা ডব্লিউআইওএ ব্যবস্থার অধীনেও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ট্রেনিং ও কর্মসংস্থান সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব আবেদনকারী একই ধরনের অর্থায়ন বা ট্রেনিং পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। কোন ট্রেনিংয়ের খরচ দেওয়া হবে এবং একজন আবেদনকারী যোগ্য কি না, সেটি স্থানীয় ওয়ার্কফোর্স সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   তরুণদের জন্য বড় সুযোগগুলোর একটি জব কর্পস। ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের এই ফেডারেল প্রোগ্রামে যোগ্য শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে ক্যারিয়ার ট্রেনিং ও শিক্ষা নিতে পারেন। বর্তমানে দেশজুড়ে ১২০টির বেশি জব কর্পস ক্যাম্পাস রয়েছে এবং ১০টি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ইন্ডাস্ট্রির শতাধিক ট্রেনিং এরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।   জব কর্পসের সাধারণ যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়স এবং নিম্ন আয়ের শর্ত। পাশাপাশি নাগরিকত্ব, বৈধ রেসিডেন্সি বা অনুমোদিত অন্য স্ট্যাটাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। কিছু ওয়ার্ক অথরাইজড ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ডসহ অন্যান্য শর্তও যাচাই করা হয়। ফলে শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জব কর্পসে ভর্তি হওয়া যায় না।   যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্পসের ট্রেনিং সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রোগ্রামটিতে ফ্রি হাউজিং, খাবার, মৌলিক চিকিৎসাসেবা এবং লিভিং অ্যালাউয়েন্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে না থেকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   অভিবাসী তরুণদের জন্য বোস্টনে আলাদা একটি পেইড সুযোগও রয়েছে। নো ওয়ার্কার লেফট বিহাইন্ডের ২০২৬ ইমিগ্র্যান্ট ইয়ুথ ক্যারিয়ার রেডিনেস বা লার্ন অ্যান্ড আর্ন প্রোগ্রাম ৭ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ছয় সপ্তাহের হাইব্রিড ট্রেনিং হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।   এই প্রোগ্রামে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা অংশ নিতে হয় এবং সফলভাবে শেষ করলে সর্বোচ্চ ১,৮০০ ডলার স্টাইপেন্ড পাওয়া যেতে পারে। ক্যারিয়ার রেডিনেস, এআই ও ডিজিটাল স্কিল, রেজুমে তৈরি, মক ইন্টারভিউ, মেন্টরশিপ এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এর অন্তর্ভুক্ত।   তবে ১,৮০০ ডলারের সুযোগটি দেশব্যাপী কোনো ফেডারেল বোনাস নয়। এটি বোস্টনের নির্দিষ্ট একটি প্রোগ্রামের স্টাইপেন্ড। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং বোস্টনের বাসিন্দা হতে হবে। প্রোগ্রামটি বিশেষভাবে অভিবাসী তরুণ, ইংলিশ লার্নার এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাধার মুখে থাকা তরুণদের জন্য তৈরি।   নিউইয়র্কে অভিবাসীদের জন্য রয়েছে অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের কর্মসংস্থান কর্মসূচি। এর প্রফেশনাল পাথওয়েজ ফর হাই স্কিলড ইমিগ্র্যান্টস প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকা নতুন আমেরিকানদের এমপ্লয়মেন্ট কোচিং, স্কিল ট্রেনিং এবং জব প্লেসমেন্টে সহায়তা করা হয়।   নিউইয়র্ক সিটিতে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দাদের জন্যও প্রফেশনাল পাথওয়েজের সেবা রয়েছে। অতীতে প্রকাশিত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উচ্চশিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি এবং নির্ধারিত আয়সীমার শর্ত পূরণ করতে হয়েছে।   নিউইয়র্কের অফিস ফর নিউ আমেরিকানসের আরেক উদ্যোগ নিউ আমেরিকানস ক্যান কোড। এতে অভিবাসীদের বেসিক কম্পিউটার ব্যবহারের মতো ডিজিটাল লিটারেসি থেকে শুরু করে উন্নত সফটওয়্যার কোডিং ট্রেনিংয়ের সুযোগ রয়েছে।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও জাতীয়তার কারণে এসব প্রোগ্রামে আলাদা নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের বয়স, আয়, বাসস্থান, কাজের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। নতুন ইমিগ্র্যান্ট হলেই যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হওয়া যায় না, তেমনি সব প্রোগ্রামে গ্রিন কার্ড থাকা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   চাকরি বা ট্রেনিং খুঁজতে প্রথমে নিজের এলাকার আমেরিকান জব সেন্টারে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যারিয়ারওয়ানস্টপের মাধ্যমে কাছাকাছি সেন্টার ও ট্রেনিং খুঁজে পাওয়া যায়। ইউএসএগভও নিজ নিজ স্টেটের লেবার ডিপার্টমেন্ট এবং সরকারি ট্রেনিং রিসোর্স ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন হলো হেল্পলাইন নম্বর। আমেরিকান জব সেন্টার ও চাকরি-ট্রেনিং সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ক্যারিয়ারওয়ানস্টপ বর্তমানে ১-৮৭৭-৮৭২-৫৬২৭ নম্বরটি উল্লেখ করছে।   সরকারি বা সরকার-সমর্থিত ফ্রি ট্রেনিংয়ের নামে অর্থ চাওয়া হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে “সব ইমিগ্র্যান্ট ১,৮০০ ডলার পাবেন” বা “ওয়ার্ক পারমিট থাকলেই নিশ্চিত ফ্রি ট্রেনিং” ধরনের প্রচারণায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা প্রোগ্রামের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত যাচাই করাই নিরাপদ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১০:৬
মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবির জন্য হিজাব খুলতে বাধ্য হওয়া হেলানা বোয়ে। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ হিজাব খুলতে বাধ্য করায় আড়াই লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন মুসলিম নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবি তোলার জন্য এক মুসলিম নারীকে হিজাব খুলতে বাধ্য করার ঘটনা নতুন নয়, বরং ২০২১ সালের। ওই ঘটনায় হেলানা বোয়ে নামের নারী প্রথমে ফের্নডেল শহরের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং পরে ফেডারেল মামলা করেন। মামলাটি ২০২২ সালে সমঝোতায় নিষ্পত্তি হয় এবং এরপর ফের্নডেল পুলিশ বুকিং ছবিতে মুসলিম নারীদের হিজাব রাখার অনুমতি দিয়ে নীতিও পরিবর্তন করে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২১ জুন মিশিগানের এইট মাইল রোডে একটি ট্রাফিক স্টপ থেকে। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের মিশিগান শাখা বা কেয়ার মিশিগানের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ হেলানা বোয়ের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ট্যাগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে থামায়।   ট্রাফিক স্টপের সময় বোয়ে নিজেই পুলিশকে জানান, তার কাছে আত্মরক্ষার জন্য একটি টেজার রয়েছে। এর আগে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য ডিভাইসটি সঙ্গে রাখতেন বলে তার আইনজীবীরা জানান। প্রয়োজনীয় পারমিট ছাড়া টেজার রাখার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ফের্নডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যায়।   মূল বিরোধের শুরু হয় পুলিশ স্টেশনে বুকিং প্রক্রিয়ার সময়। কেয়ার মিশিগানের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একজন পুরুষ অফিসার বোয়ের দেহ তল্লাশি করেন, যদিও একজন নারী পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এরপর বুকিং ছবি তোলার সময় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাকে হিজাব খুলতে বলা হয়।   বোয়ের দাবি ছিল, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্য ছাড়া অপরিচিত পুরুষদের সামনে তিনি চুল প্রকাশ করেন না। হিজাব ছাড়া বুকিং ছবি তোলা এবং সেই ছবি স্থায়ী সরকারি রেকর্ডে থাকার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বলে তিনি জানান।   ঘটনার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কেয়ার মিশিগান ফের্নডেল কর্তৃপক্ষের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। সে সময় বিষয়টি সরাসরি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মামলা ছিল না। এটি ছিল ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক দাবি। পরে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় একই বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলা করা হয়।   ফের্নডেল পুলিশ তখন বলেছিল, কর্মকর্তারা প্রচলিত ডিপার্টমেন্ট পলিসি অনুসরণ করেছিলেন। সে সময়কার পুলিশ প্রধান ডেনিস এমি স্বীকার করেন, বুকিংয়ের সময় চুলসহ পরিচয় শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ধারণ করার নীতির অংশ হিসেবেই হিজাব খুলতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার পর নীতি পর্যালোচনা করে কমিউনিটির প্রয়োজনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে।   কেয়ার মিশিগানের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ড্রাইভার লাইসেন্স ও পাসপোর্টের ছবিসহ বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্রে ধর্মীয় কারণে হিজাব রাখার সুযোগ রয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন থাকলেও এমন বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব, যাতে ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়।   শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের মে মাসে বোয়ে ও ফের্নডেল শহরের মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতার আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন এমন দাবি করার পক্ষে প্রকাশ্য তথ্য নেই।   তবে সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফের্নডেল কর্তৃপক্ষ তাদের নীতি পরিবর্তন করে। নতুন নীতিতে মুসলিম নারীদের বুকিং ছবি তোলার সময় হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নারী বন্দিকে পুরুষ অফিসারের মাধ্যমে তল্লাশি না করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   ঘটনাটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। হিজাব খুলে বুকিং ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের শুরু ২০২১ সালে এবং মামলাটি ২০২২ সালেই সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তবে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেই আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য নজির হয়ে আছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:৫৫
এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে তিন ব্রিটিশ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
এসেক্সের সৈকতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে তলিয়ে ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, সর্বশেষ প্রাণ হারাল ৭ বছরের মুসাও

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে বেড়াতে গিয়ে একই ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত বছরের মুসা আহমেদ পানিতে ডুবে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। ঘটনার ছয় দিন পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় প্রাণ হারান তার খালা ৪১ বছর বয়সী শেলিনা রহমান ও ১৫ বছর বয়সী কাজিন সামিহা রহমান।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে চলমান ইনকোয়েস্টে মুসার মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। গত ২২ জুলাই এসেক্সের কোলচেস্টারের কাছে ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতে পরিবারটির ছয় সদস্য পানিতে বিপদের মুখে পড়েন। পরিবারটি পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড এলাকায় বসবাস করত এবং ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশ।   শুনানিতে জানানো হয়, মুসাকে পানি থেকে উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলেই জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে ছয় দিন পর তার মৃত্যু হয়।   মুসার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি হাইপক্সিক ইস্কেমিক ব্রেইন ইনজুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পানিতে ডুবে থাকার সময় মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেলে এ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।   একই ঘটনায় মুসার খালা শেলিনা রহমান ও তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমানও মারা যান। মা ও মেয়ে পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ড এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে পরিবারটিকে ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মুসা পানিতে বিপদে পড়ার পর তাকে বাঁচাতে গিয়ে শেলিনা ও সামিহা পানিতে নেমেছিলেন। তবে মুসার বাবা শাহিন আহমেদ পরে ঘটনার এই বর্ণনা নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা পানির কাছে অবস্থান করার সময় শক্তিশালী জোয়ারের কারণে হঠাৎ বিপদের মুখে পড়েন এবং পানিতে ভেসে যান। ফলে কে কাকে উদ্ধার করতে প্রথমে পানিতে নেমেছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   এসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, ২২ জুলাই বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে সিভিউ অ্যাভিনিউয়ের কাছে কয়েকজন পানিতে বিপদে পড়েছেন বলে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পায় তারা। এরপর পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য ইমার্জেন্সি সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা একটি স্যান্ডব্যাংকের কাছে ছিলেন। জোয়ার দ্রুত এগিয়ে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি সৈকতে থাকা সাধারণ মানুষও তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   শেলিনা ও সামিহাকে পানি থেকে উদ্ধারের পর সৈকতেই সিপিআর দেওয়া হয়। পরে ইমার্জেন্সি সার্ভিসের কর্মীরাও তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। মুসাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তার অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন।   মুসার মৃত্যুর পর পরিবারটি রয়্যাল লন্ডন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সবার সহায়তা ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।   ঘটনার পর মুসার বাবা ওয়েস্ট মার্সিয়া সৈকতের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার আহ্বান জানান। বিশেষ করে বিপজ্জনক জোয়ার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট সতর্কতামূলক সাইন এবং অতিরিক্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।   একই ব্রিটিশ বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের সৃষ্টি করে। একটি পারিবারিক ভ্রমণ মুহূর্তের মধ্যে তিনজনের প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত হওয়ায় সৈকতের জোয়ার এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় আসে।   তিনজনের মৃত্যুর পরিস্থিতি নির্ধারণে ইনকোয়েস্ট প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ শুনানি ২০২৭ সালের ১৯ জানুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:৪৩
২. ম্যানহাটনে চার সদস্যের পরিবারের আবাসন খরচ মেটানো কঠিন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয়েও কেন বাংলাদেশীদের সঞ্চয় করা কঠিন!

নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় শুনতে বড় অঙ্ক মনে হলেও চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য এই অর্থে সব খরচ সামলে নিয়মিত সঞ্চয় করা কঠিন হতে পারে। বাসাভাড়া, ট্যাক্স, খাবার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চাইল্ড কেয়ার ও যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন যে, ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কিছু এলাকায় চার সদস্যের পরিবারের শুধু মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটরের ২০২৬ সালের তথ্য এই বাস্তবতার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন মাত্র কর্মজীবী হলে মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঘণ্টায় প্রায় ৫৮ ডলার আয় প্রয়োজন বলে হিসাব করা হয়েছে। ফুলটাইম কাজের হিসাবে এটি বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার।   একই পরিবারের দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে ম্যানহাটনে প্রত্যেকের ঘণ্টায় প্রায় ৪০.৬১ ডলার আয় প্রয়োজন। দুজনের সম্মিলিত বার্ষিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ডলার। অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ডলারের পারিবারিক আয় অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের আগেই মৌলিক ব্যয় মেটাতে চাপে পড়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্সেও পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারে একজন কর্মজীবী হলে ঘণ্টায় প্রায় ৫২.৮৪ ডলার আয় প্রয়োজন। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার। দুই প্রাপ্তবয়স্কই কাজ করলে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় আয় ঘণ্টায় প্রায় ৩৭.৬১ ডলার, অর্থাৎ পরিবারের সম্মিলিত আয় বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ডলার।   এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এমআইটির লিভিং ওয়েজ হিসাব কোনো বিলাসবহুল জীবনযাত্রার বাজেট নয়। খাবার, বাসস্থান, পরিবহন, চিকিৎসা, চাইল্ড কেয়ার, ট্যাক্সসহ পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কত আয় দরকার, তার একটি আনুমানিক হিসাব এটি। ফলে বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্ট, বড় অঙ্কের সঞ্চয়, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এই হিসাবের মূল লক্ষ্য নয়।   বছরে ১ লাখ ডলার বেতন মানে মাসে গ্রস ইনকাম প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। কিন্তু এই পুরো অর্থ পরিবারের হাতে আসে না। ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের আবার আলাদা সিটি ইনকাম ট্যাক্সও রয়েছে। এর সঙ্গে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার পেরোল ট্যাক্স কেটে নেওয়া হয়। পরিবারের ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তান, বিভিন্ন ডিডাকশন ও ক্রেডিটের কারণে প্রত্যেকের প্রকৃত টেক হোম পে আলাদা হয়।   নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব ইনকাম ট্যাক্স ব্যবস্থাও পরিবারের হাতে থাকা অর্থের ওপর প্রভাব ফেলে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্সের হার আয়ের স্তর ও ফাইলিং স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রায় ৩ শতাংশের কিছু বেশি থেকে ৩.৮৭৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   এরপর আসে হাউজিং। এমআইটির ২০২৬ সালের হিসাবে ম্যানহাটনে দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের পরিবারের জন্য বার্ষিক হাউজিং ব্যয় প্রায় ৪০ হাজার ৮৭৭ ডলার ধরা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ ডলার। কেবল বাসস্থানের খরচই ১ লাখ ডলার গ্রস আয়ের বড় একটি অংশ নিয়ে নিতে পারে।   সন্তান ছোট হলে সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি চাইল্ড কেয়ার। দুই অভিভাবকই কাজ করেন এমন দুই সন্তানের পরিবারের জন্য ম্যানহাটনে এমআইটির হিসাবে বার্ষিক চাইল্ড কেয়ার ব্যয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার। এর সঙ্গে বছরে খাবারের জন্য প্রায় ২০ হাজার ৮০০ ডলার, চিকিৎসা ব্যয়ে প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ডলার এবং পরিবহনে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ ডলারের হিসাব রয়েছে।   এই কারণেই একই ১ লাখ ডলার বেতনের আর্থিক মূল্য পরিবারভেদে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। সন্তানহীন একজন সিঙ্গেল ব্যক্তির জন্য যে আয় তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যের হতে পারে, দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের ক্ষেত্রে একই অর্থ যথেষ্ট নাও হতে পারে। আবার পরিবারের দুজন আয় করছেন কি না, চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না, কোথায় বাসা নেওয়া হয়েছে এবং চাকরির মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স কতটা কভার হচ্ছে, তার ওপর মাসিক বাজেট ব্যাপকভাবে বদলে যায়।   এমনকি নিউইয়র্কের মধ্যেও পার্থক্য বড়। ম্যানহাটন ও কুইন্সের জীবনযাত্রার ব্যয় এক নয়, আবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরের অনেক কাউন্টিতে একই পরিবারের প্রয়োজনীয় আয় আরও কম হতে পারে। ফলে শুধু বার্ষিক বেতন দিয়ে একজন পরিবার কতটা স্বচ্ছল, তা নির্ধারণ করা কঠিন।   বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের ক্ষেত্রে আরও কিছু আলাদা আর্থিক অগ্রাধিকার থাকতে পারে। দেশে পরিবারকে অর্থ পাঠানো, সন্তানের শিক্ষা, ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট জমানো কিংবা আত্মীয়স্বজনের বিভিন্ন দায়িত্ব বহনের কারণে মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এসব ব্যয় পরিবারভেদে আলাদা এবং সব বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে বছরে ১ লাখ ডলার আয় কম নয়, কিন্তু চার সদস্যের পরিবারের জন্য এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ আয়ের নিশ্চিন্ত জীবন হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। ২০২৬ সালের লিভিং ওয়েজ হিসাব বলছে, কুইন্স বা ম্যানহাটনের মতো এলাকায় দুই সন্তানসহ একটি পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্যই পরিস্থিতিভেদে ১ লাখ ডলারের উল্লেখযোগ্য বেশি পারিবারিক আয় প্রয়োজন হতে পারে।   তাই নিউইয়র্কে ১ লাখ ডলার বেতনের আসল হিসাব শুধু পেচেকের অঙ্কে নয়। পরিবারে কয়জন সদস্য, কয়জন আয় করেন, কোথায় থাকেন, সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার প্রয়োজন কি না এবং হাউজিং ও হেলথ কেয়ারে কত খরচ হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত সঞ্চয় থাকবে কি না সেটি নির্ধারণ করে মূলত এসব বিষয়ই।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৯:২৩
স্মার্টফোনে মগ্ন একদল শিশু ও কিশোর-কিশোরী।ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি অঙ্গরাজ্যে স্কুলে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প সুবিধার দাবিতে সরব শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল।   তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।   চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।   এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।   পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে।   স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে।   ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।   পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৪৯
ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রিঅ্যাকশন মিমে (Reaction Meme) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে চশমা পরা একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলছেন। ছবি:সংগৃহীত
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী সাধারণ একটি লেখা পড়তে ও ছোট একটি বাক্য লিখতে হিমশিম খাওয়ায় ক্লাসরুমেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। হিউস্টনের হুইটলি হাইস্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় দিনের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তার প্রকাশ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন উইলিয়ামস। স্কুলের স্টাফ ডিরেক্টরিতে তাকে ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন শিক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ও ফক্স ২৬ হিউস্টন তার বক্তব্য এবং স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই লেখার ভিত্তিতে একটি ছোট বাক্য সম্পন্ন করার কাজ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লেখাটি ব্যাখ্যাও করেন এবং কীভাবে উত্তর দিতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করেন।   কিন্তু এরপরও কয়েকজন শিক্ষার্থী কাজটি শেষ করতে পারেনি বলে জানান উইলিয়ামস। তার দাবি, এমন শিক্ষার্থীও তার ক্লাসে রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে কিংবা লিখতে পারছে না। পরিস্থিতি দেখে তিনি এতটাই বিচলিত হন যে পরে লাঞ্চের সময় একটি ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।   উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং উত্তর দেওয়ার জন্য সহায়তা দেওয়ার পরও তারা কয়েকটি শব্দ বসিয়ে একটি বাক্য সম্পন্ন করতে পারেনি। দ্বাদশ শ্রেণিতে পৌঁছানোর পরও শিক্ষার্থীদের এমন মৌলিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   তবে উইলিয়ামসের অভিজ্ঞতা তার নিজের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে এবং এটি হুইটলি হাইস্কুলের সব দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর পড়া ও লেখার সক্ষমতার প্রতিনিধিত্ব করে না। কতজন শিক্ষার্থী ওই কাজটি করতে পারেনি, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, হুইটলি হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক অগ্রগতি করেছে। শক্তিশালী পাঠদান, উচ্চ প্রত্যাশা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার মাধ্যমে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য।   একই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, কিছু শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা প্রয়োজন। শিক্ষক ও স্কুলের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে হিউস্টন আইএসডি।   হুইটলি হাইস্কুল দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমিক পারফরম্যান্সের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্কুলটির সামগ্রিক রেটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। হিউস্টন ক্রনিকলের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যর্থতার পর্যায়ের রেটিং পাওয়া স্কুলটি পরে বি রেটিংয়ে উন্নীত হয়েছে। যদিও স্টেট অব টেক্সাস অ্যাসেসমেন্টস অব অ্যাকাডেমিক রেডিনেস বা স্টার পরীক্ষার ফলাফলে এখনও দুর্বলতার জায়গা রয়েছে।   ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর উইলিয়ামসের শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি জানান, তার ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে, তিনি মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ছেন এবং টেক্সাসে একাধিক টিচিং সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন।   একটি ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা দিয়ে পুরো টেক্সাস বা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থার অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তবে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মৌলিক পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন প্রকাশ্য উদ্বেগ দেশটির স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের লিটারেসি, শেখার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের দ্বারা এক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
জুলাইয়ে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, গ্রেফতার ৫১ হাজার অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। জুলাই মাসে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে। এক মাসে আইসিইর গ্রেফতারের হিসাবে এটি নতুন রেকর্ড। জুনে প্রায় ৪৩ হাজার গ্রেফতারের আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে জুলাইয়ের সংখ্যা।   দ্য ইনডিপেনডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলাইয়ে প্রায় ৫১ হাজার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একাধিক ফেডারেল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইসিই।   ট্রাম্প প্রশাসনের বড় পরিসরের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর মধ্যেই এই রেকর্ড হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইসিইকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আগে বলেছে, আইসিইর কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেফতার কোটা নেই।   জুলাইয়ের অভিযান শুধু বাসাবাড়ি বা কর্মস্থলে সীমাবদ্ধ ছিল না। এয়ারপোর্ট, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিভিন্ন অফিস এবং ট্রাফিক স্টপেও গ্রেফতার চালিয়েছে ফেডারেল এজেন্টরা। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এয়ারপোর্টে নজরদারি বাড়ানোর তথ্য সামনে এসেছে।   ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এয়ারপোর্টে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ জন অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, মায়ামি ও মিসৌরির কানসাস সিটির এয়ারপোর্টে গেট ও টিকিট কাউন্টারের কাছেও ফেডারেল এজেন্টদের গ্রেফতার অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে।   তবে রেকর্ড গ্রেফতারের পাশাপাশি কাদের আটক করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য অপরাধের রেকর্ড থাকা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জুলাইয়ের শুরুর দিকের ডিটেনশন তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টেটলাইন জানিয়েছিল, আইসিই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের এক-তৃতীয়াংশেরও কমের ক্রিমিনাল কনভিকশন ছিল। দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, তারা ওই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।   জুলাইয়ের অভিযানকে ঘিরে ট্রাফিক স্টপও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হিউস্টনে ৫২ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো এবং মেইনে ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক জোয়ান সেবাস্তিয়ান গেরেরো এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই ট্রাফিক স্টপের সময় ঘটে।   গেরেরোর ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, জননিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কারণে একজন আইসিই অফিসার গুলি চালান। সালগাদো আরাউহোর ঘটনায় সংস্থাটির দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ট্রাফিক স্টপ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন গ্রেফতার নিয়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ বাড়ে।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাণহানির পর ট্রাফিক স্টপ সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তিনি ট্রাফিক স্টপকে আইসিইর গুরুত্বপূর্ণ এনফোর্সমেন্ট টুল হিসেবে উল্লেখ করে এটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।   চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে আইসিইর অভিযান কিছুটা ধীর হয়েছিল। পরবর্তী মাসগুলোতে আবার গ্রেফতার বাড়তে শুরু করে। জুনে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষকে আইসিই ডিটেনশনে নেওয়ার পর জুলাইয়ে সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায়।   রেকর্ড গ্রেফতারের পেছনে আইসিইর জনবল ও অর্থায়ন বৃদ্ধিকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেডারেল সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন হাজারো এজেন্ট নিয়োগ এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে দেশজুড়ে অভিযান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।   জুলাইয়ের ৫১ হাজার গ্রেফতার দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এখন আরও বড় পরিসরে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এয়ারপোর্ট ও ট্রাফিক স্টপের মতো জায়গায় অভিযান বিস্তৃত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য আইসিইর এনফোর্সমেন্টের পরিধিও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:২৫
তুরস্কের ইস্তানবুলে আয়োজিত গ্রেট প্যালেস্টাইন র‍্যালি'তে ফিলিস্তিনের কুফিয়া বা স্কার্ফ গলায় জড়িয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। ছবি:সংগৃহীত
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা সমগ্র মানবজাতির যৌথ দায়িত্ব: প্রেসিডেন্ট এরদোগান

ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো কেবল মুসলিম বিশ্ব নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির এক যৌথ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। আঙ্কারার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।   বুধবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক সব প্ল্যাটফর্মে তুরস্ক তার জোরালো অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে এরদোগান দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।   ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার দখলীকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে লাগাতার অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে চিরতরে নষ্ট করে দেওয়া।   সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের চরম সহিংসতা, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অন্তত ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পুরো পরিস্থিতিকে একটি 'পদ্ধতিগত দখলদারিত্ব' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এরদোগান অভিযোগ করেন যে, নেতানিয়াহু সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিন ইস্যুর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা কখনোই সফল হবে না।   ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথরেখা তুলে ধরে এরদোগান ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তুরস্কের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।   একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করার ওপর তিনি জোর দেন। পবিত্র আল-আকসা মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলোর বর্তমান ঐতিহাসিক স্থিতি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আসন্ন আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিদ্ধান্তকেও তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:১৫
পারমাণবিক শক্তিচালিত নিমিৎজ-শ্রেণির সুপারক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২)-কে সমুদ্রে। ছবি:সংগৃহীত
সাগরে দীর্ঘ ২৫০ দিনের বন্দিদশা: তীব্র মানসিক অবসাদে রণতরীতে একের পর এক মার্কিন সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-এর ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা এক নজিরবিহীন মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে টানা নয় মাস ধরে সাগরে অবস্থান করছে এই রণতরী। আধুনিক সামরিক ইতিহাসে কোনো রণতরীর টানা ২৫০ দিন ডাঙা স্পর্শ না করার এটি একটি নতুন রেকর্ড। এই দীর্ঘ সমুদ্রবাস ও জাহাজের ভেতরের চরম প্রতিকূল পরিবেশের কারণে নাবিকদের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। সামরিক বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম 'নেভি টাইমস' এবং 'স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি সইতে না পেরে একাধিক নাবিক সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।   সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক আবেগঘন টাউন হল মিটিংয়ে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী মন্ত্রী হাং কাও এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় ২০০ পরিবারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ওই সভায় এক নারী জানান, তার স্বামী তাকে মেসেজ করে বলেছেন যে তিনি "আগামীকাল আর ঘুম থেকে উঠতে চান না।" সভায় উপস্থিত আরেকজন অভিযোগ করেন, নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। নেভি টাইমসের প্রতিবেদনেও রণতরী থেকে লাফ দেওয়ার একাধিক চেষ্টার কথা উঠে এসেছে। অ্যানাবেল লোমা নামের এক নারী জানান, সাগরে অবস্থানের মেয়াদ বারবার বাড়ানোয় ক্যারিয়ার ধ্বংসের আশঙ্কায় তার স্বামী জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য একটি ঘটনায় এক নাবিককে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার আগমুহূর্তে তার সহকর্মী টেনে এনে রক্ষা করেন বলেও জানা গেছে।   জাহাজের ভেতরের মানবেতর পরিবেশ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সদস্য মাইক লেভিন উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, নাবিকদের শৌচাগার ও গোসলখানাগুলো ভাঙা ও স্যাঁতস্যাঁতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে লন্ড্রি বন্ধ, গরম পানি নেই এবং খাবার হিসেবে সামান্য ভাত ও দুটি রুটি (টরটিলা) দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাবান, ডিওডোরেন্ট বা টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও তাদের কাছে নেই। কলোরাডোর আরেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো সতর্ক করে বলেছেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর মানসিক এই চাপ প্রতি সপ্তাহে বেড়েই চলেছে।   মূলত গত ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল এই রণতরীটি। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এটিকে সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মে মাসে এই মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে এর মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছে। এই সুদীর্ঘ সময়ে মাত্র দুইবার—ডিসেম্বরে গুয়াম এবং জুলাইয়ে ওমানে নাবিকরা ডাঙায় নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। গত এপ্রিলে জাহাজের নিম্নমানের খাবার ও মানবেতর পরিবেশের ছবি প্রকাশ্যে এলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে 'ভুয়া খবর' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সদস্য লেভিন।   টানা এই মানসিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করলেও নৌবাহিনীর একজন দাপ্তরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের কাছে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কোনো তথ্য নেই। তিনি দাবি করেন, নাবিকদের পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজে মনোবিজ্ঞানী ও ধর্মযাজকদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নৌবাহিনীর প্রায় অর্ধেক নাবিকই সাগরে অবস্থানকালে মানসিক চাপ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত সহায়তা পান না। এই পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৮:৩
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর লোগো সম্বলিত একটি কোলাজ ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার হলে পুলিশের করণীয় নির্ধারণ করলো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দেশটির মাটিতে কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।   নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নিয়ম সব বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—তিনি বৈধ ভিসাধারী, স্থায়ী বাসিন্দা কিংবা অনিবন্ধিত অভিবাসী যাই হোন না কেন।   প্রথমেই জাতীয়তা যাচাই   কোনো বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের প্রথমে তার জাতীয়তা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির দেশের নাম যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাধ্যতামূলক কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তি’ তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।   যদি সংশ্লিষ্ট দেশ ওই তালিকায় না থাকে, তাহলে আটক ব্যক্তিকে জানাতে হবে যে তিনি চাইলে নিজের দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করতে পারেন। তবে তিনি অনুরোধ না করলে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক নয়।   অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির দেশ যদি বাধ্যতামূলক বিজ্ঞপ্তির তালিকায় থাকে, তাহলে তার অনুমতি নেওয়ার অপেক্ষা না করেই নিকটস্থ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ওই বিদেশি নাগরিককেও জানাতে হবে যে তার দেশের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।   প্রতিটি পদক্ষেপের রেকর্ড রাখতে হবে   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের পুরো প্রক্রিয়ার লিখিত রেকর্ড সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।   এর মধ্যে আটক ব্যক্তিকে কী তথ্য জানানো হয়েছে, তিনি কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন কি না, দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কখন এবং কীভাবে জানানো হয়েছে—এসব তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে।   কনস্যুলার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তার কল্যাণ, চিকিৎসা কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সহায়তা করতে পারেন।   তবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির হয়ে আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন না।   অভিবাসনগত অবস্থায় ছাড় নেই   পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এসব নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থাকে আলাদা কোনো মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় না।   অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে অবস্থান করছেন নাকি তার অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান অনিয়মিত—এটি কনস্যুলার বিজ্ঞপ্তির মৌলিক নিয়ম পরিবর্তন করে না।   এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে আটক বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করা। একই ধরনের কনস্যুলার অধিকার বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:৫২
নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কয়েকটি দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
ফ্লোরিডাসহ ৫ অঙ্গরাজ্যে কবরস্থান থেকে স্বজনদের গয়না-স্মারক চুরি, চক্রের ৩ সদস্যকে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাসহ অন্তত পাঁচ অঙ্গরাজ্যে সমাধিসৌধে ঢুকে মৃত স্বজনদের সঙ্গে রাখা গয়না ও পারিবারিক স্মারক চুরির অভিযোগে তিনজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তিনজনই ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা। তারা ফ্লোরিডা, ওকলাহোমা, নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও জর্জিয়ার বিভিন্ন কবরস্থানকে লক্ষ্য করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় সন্দেহভাজন হিসেবে ড্রেক মিলাম, পরশে ব্যাংক্রফট ও অ্যাঞ্জেলা গ্যারেটের নাম প্রকাশ করেছে।   তদন্তকারীদের হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডার অরেঞ্জ, সেমিনোল ও হিলসবরো কাউন্টি এবং উইন্টার পার্ক শহরে প্রায় ২০টি চুরির ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৩৫ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, সন্দেহভাজনরা মূলত সমাধিসৌধের এমন কুঠুরি বা স্থানকে লক্ষ্য করত, যেখানে মৃত ব্যক্তিদের দাহ করা দেহাবশেষ রাখা হয়। এসব কুঠুরির ভেতরে থাকা গয়না ও প্রয়াত স্বজনের স্মৃতি হিসেবে পরিবারের সদস্যদের রাখা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।   কিছু ঘটনার সময়ের দৃশ্য নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এসব ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাদের এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।   অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ঘটনাটিকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, মৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চুরি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।   তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক পরিবার এই চুরির শিকার হয়ে থাকতে পারে, যারা এখনো বিষয়টি জানতে পারেনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্বজনের সমাধিস্থল পরিদর্শন না করা পরিবারগুলোকে সেখানে গিয়ে কোনো জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও সমাধিস্থল থেকে গয়না বা অন্য কোনো পারিবারিক স্মারক চুরি হয়ে থাকলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাতে হবে।   তিন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডার কবর বা সমাধি থেকে সামগ্রী অপসারণ এবং বড় ধরনের চুরির অভিযোগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তথ্য দিতে ক্রাইমলাইন নম্বরে ৮০০-৪২৩-টিপস (৮৪৭৭) যোগাযোগ করা যাবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:৩৭
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কমান্ডারদের মধ্যকার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
ইরাকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারে ১ অক্টোবরকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বললেন প্রধানমন্ত্রী

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা; নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর বাগদাদের   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, আগামী ১ অক্টোবর দেশটির জন্য নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হবে। ওই সময়ের মধ্যে ইরাক থেকে সব বিদেশি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার সম্পন্ন হলে দেশটি তার ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।    আল-জাইদি বলেন, বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর ইরাক নিজের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্ব নেবে। এ লক্ষ্যেই দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।    ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশন শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার ধরনও পরিবর্তিত হওয়ার কথা রয়েছে।    তবে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরাকের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করা। একই সময়সীমার মধ্যে এসব গোষ্ঠীকে অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে।    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষ তারিখকে ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’ সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের পর দেশের ভেতরে রাষ্ট্রের বাইরে কোনো পক্ষের অস্ত্রধারণের সুযোগ না রাখার লক্ষ্য নিয়েছে বাগদাদ।    এদিকে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরাক থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরাকি কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান কমিয়ে আনার কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।    তবে এই প্রত্যাহারকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক সম্পর্কের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না ওয়াশিংটন। সামরিক মিশনের পরিবর্তে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা চলছে।    ইরাকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন হলো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর দেশটির নিজস্ব বাহিনী কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে পারে এবং একই সঙ্গে শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় কি না। সেপ্টেম্বরের শেষ সময়সীমাকে ঘিরে তাই ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:২৭
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। ছবি:সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা রাখার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরায়েলি সেনাদের অনির্দিষ্টকাল রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর এর সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে চুক্তিতে থাকা কাঠামো অনুযায়ী সব পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। ওয়াশিংটনের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ওই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি ইসরায়েল ও লেবাননের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।   ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে লেবাননের ভূখণ্ড নিয়ে তাদের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে পুরোপুরি সমর্থন করে বলেও জানান তিনি।   এর আগে দক্ষিণ লেবানন সফরের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দেন, দেশটির সেনারা সেখানে থাকা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সরে যাবে না। তিনি বলেন, ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিজেদের নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে সেনা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   কাটজের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন যে ইসরায়েল ওই নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় জুনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়, তাতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে পুনর্বিন্যাস বা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনীকে ওই এলাকায় মোতায়েনের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।   সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি যাচাই করা। শর্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে অবস্থান পরিবর্তনের কথা রয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কয়েকটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।   এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে লেবাননের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন।   বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশে অবস্থান করছে, যেটিকে ইসরায়েল ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করছে। এই অঞ্চল লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফলে কাটজের দীর্ঘমেয়াদি সেনা অবস্থানের ঘোষণা শুধু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি সাম্প্রতিক সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট—হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের সেনা মোতায়েনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলকে ধাপে ধাপে সেনা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার অবস্থানে অনড়।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৭:০
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই -এর একটি "ওয়ান্টেড"। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রায় তিন দশক ধরে পলাতক রয়েছেন জাহিদুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশি চিকিৎসক। ১৯৯৬ সালের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মামলা এবং পরবর্তীতে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও আজও তাকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   এমনকি ২০২৬ সালেও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম জ্বলজ্বল করছে। তাকে সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করে সতর্কতা জারি করেছে সংস্থাটি। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তার সন্ধানে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়ে নতুন করে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।   এফবিআইয়ের তথ্যমতে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবর। সে সময় জাহিদুল ইসলাম পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের কক্ষে চিকিৎসাধীন ওই রোগীকে তিনি এমন একটি ওষুধ প্রয়োগ করেন যাতে ওই নারী অচেতন অবস্থার কাছাকাছি চলে যান। এরপরই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এই চিকিৎসক।   এই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে স্টেট পর্যায়ে অভিযোগ আনা হলে বিচার এড়াতে তিনি গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে তার বিরুদ্ধে বিচার এড়ানোর উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে পলায়ন এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড পোস্টার অনুযায়ী, ১৯৫৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা জাহিদুল ইসলামের উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৬০ পাউন্ড এবং চোখ বাদামি রঙের। তদন্তকারীদের ধারণা, নিউইয়র্ক স্টেট এবং কানাডার মন্ট্রিয়লের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।   তবে বর্তমানে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য সংস্থাটির কাছে নেই। পলাতক এই চিকিৎসক তার স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ করে থাকতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে, যিনি নিজেও পেশায় একজন চিকিৎসক। তবে তার স্ত্রীর পরিচয় বা বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   দীর্ঘ তিন দশক পার হলেও জাহিদুলকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা থেকে সরে আসেনি এফবিআই। সংস্থাটি তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস অথবা যুক্তরাষ্ট্রের নিকটবর্তী দূতাবাসে বা কনস্যুলেটে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ফিল্ড অফিসের অধীনে থাকা এই মামলাটি ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আজও অমীমাংসিত।   তবে এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড নোটিশে তিনি কেবল অভিযুক্ত হিসেবেই তালিকাভুক্ত রয়েছেন, আদালতে তার বিরুদ্ধে এখনও দোষ প্রমাণিত হয়নি। দীর্ঘদিন পার হওয়ার পরও তাকে ধরতে কর্তৃপক্ষের এই অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, এই স্পর্শকাতর মামলাটির সুরাহা করতে তারা বদ্ধপরিকর।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৬:৪৭
ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার শহরের অফিসিয়াল সিল, যা ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ছবি:সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় সম্পত্তি কর কমানোর প্রস্তাব পাস হলে ক্লিয়ারওয়াটারে বিলুপ্ত হতে পারে প্রায় ১৪০ চাকরি

ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত সম্পত্তি কর সংশোধনী পাস হলে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে ক্লিয়ারওয়াটার শহর। শহর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮ ও ২০২৯ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে প্রায় ১৪০টি পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।   প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীটি আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ ফ্লোরিডার সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে যাবে। প্রস্তাবটি পাস করতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। এতে ২০২৭ সালে বসতবাড়ির মালিকদের করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৮ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে।    ক্লিয়ারওয়াটার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে শহরের সাধারণ তহবিলে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব কমে যেতে পারে। ফলে ২০২৮ সালে প্রায় ৭৫টি পূর্ণকালীন পদ এবং ২০২৯ সালে আরও ৬৪টি পদ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।   এই পদগুলো বিভিন্ন শহর বিভাগে ছড়িয়ে রয়েছে। সম্পত্তি কর থেকে পাওয়া অর্থ পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ, জনসেবা, পার্ক ও বিনোদনসহ শহরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।   রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ বিভাগের কিছু প্রযুক্তি ও তদন্ত-সহায়ক সরঞ্জামের বাজেট কমানো এবং পার্ক ও বিনোদনমূলক সেবায় কাটছাঁটের মতো পদক্ষেপও নিতে হতে পারে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় শহর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম বাজেট পরিকল্পনা করছে।   ঘাটতি সামাল দিতে বিকল্প আয়ের পথও খুঁজছে ক্লিয়ারওয়াটার। এর মধ্যে রয়েছে বিনোদনমূলক সেবার ফি বাড়ানো, শহরের বিভিন্ন স্থাপনার চুক্তি পুনর্বিন্যাস এবং বেকেয়ার সাউন্ডের টিকিট বিক্রির রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি পুনরায় আলোচনা। পিয়ার ৬০ বেইট হাউসের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।   ফ্লোরিডার সম্পত্তি কর সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন, এতে বাড়ির মালিকদের করের বোঝা কমবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকারগুলো আশঙ্কা করছে, কর রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ, অবকাঠামো, পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় চাপ তৈরি হবে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৬:১৮
বাংলাদেশি ও আমেরিকান সংস্কৃতির মিলন—বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধন ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশি ও আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক যোগাযোগ জোরদারে নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম আয়োজন করা হচ্ছে।   ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত ‘আমেরিকা সপ্তাহ’ ছিল এমন একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীতে আয়োজিত কর্মসূচিতে আমেরিকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সংগীত ও মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।    ঢাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করতে যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাস ও মূল্যবোধ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়।    এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় শুধু বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দুই সংস্কৃতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকানরা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, সংগীত, সাহিত্য, খাবার ও কমিউনিটি কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে এসব আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিচিতিও বাড়ছে।   শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, ব্যবসা ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী করতে পারে। চলতি বছরের মার্কিন উদ্যোগগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও জনগণভিত্তিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৬:৪
মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আমানউল্লাহ আমান। ছবি:সংগৃহীত
“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ

পোস্টের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্‌ক্তি—“যেতে নাহি দিব! হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়”—উল্লেখ করে মির্জা ফখরুলকে বিদায় জানানোর অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি।   আমান লেখেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণের মতোই এই বিদায়ের মুহূর্তেও কান্না আসে। কারণ, এটি শুধু একটি নতুন দায়িত্বে যাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের অসংখ্য স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও রাজনৈতিক পথচলার নানা অধ্যায়।   মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “বিগত দুঃসহ দিনগুলোতে আপনার বিরতিহীন পথচলা আর কর্মীদের প্রতি নিখাঁদ দরদ যেমন আমাদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি আপনি আমাদের মায়ার ডোরে বেঁধেছেন।”   সভা-সমাবেশে মির্জা ফখরুলের গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ ও বক্তব্যের ধরনও স্মরণ করেন আমান। তিনি লেখেন, “সভা-সমাবেশে আপনার সেই চিরচেনা গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ আর দারুণ বাচনভঙ্গির বক্তব্য আর শুনতে পাবো না।”   মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে আমান আরও লেখেন, “আপনি ক্রমান্বয়ে বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে গিয়েছেন স্যার।”   রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদ হিসেবে দেখা হলেও এবার দেশের মানুষ এই পদকে নতুন গুরুত্বে অনুধাবন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।   রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলকে হারানোর অনুভূতি তুলে ধরে আমান লেখেন, “রাজনীতির মাঠে আপনাকে অনেক বেশি মিস করবো স্যার।”   পোস্টের শেষদিকে মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি লেখেন, দলের হাইকমান্ড, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মির্জা ফখরুল সফল হবেন—এমন প্রার্থনা করেন তিনি।   সবশেষে আমান লেখেন, “আমরা মিস করবো কর্মীদের প্রতি একজন নিখাঁদ দরদীকে, আমরা মিস করবো বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।”   এরপর জিয়া পরিবারের প্রতি মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, “আমরা মিস করবো সংগ্রাম-সংকটে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং খালেদা জিয়ার লগের স্যারকে। অনেক বেশি মিস করবো স্যার…”

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৫:৪২
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করতে এসে রুশ নৌবাহিনীর পোশাকে ‘ভারিয়াগ’ মিসাইল ক্রুজার পরিদর্শন করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্
রাশিয়া-জাপান বিরোধের কেন্দ্র কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রথমবার পুতিন, তীব্র প্রতিবাদ টোকিওর

জাপানের দাবি করা বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ দ্বীপে প্রথমবারের মতো সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবারের এই সফরের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টোকিও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই দ্বীপগুলোর মালিকানা নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে।    রাশিয়ায় দ্বীপটির নাম ইতুরুপ, আর জাপানে এটি এতোরোফু নামে পরিচিত। জাপানের উত্তরের প্রধান দ্বীপ হোক্কাইডোর কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটি কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ অংশে পড়ে। টোকিও যে চারটি দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটোরিজ’ বলে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে, ইতুরুপ তার অন্যতম।   জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি এক বিবৃতিতে বলেন, এতোরোফুসহ নর্দার্ন টেরিটোরিজ ঐতিহাসিকভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জাপানের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড। পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে জাপান ‘তীব্র প্রতিবাদ’ জানিয়েছে।    রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরে পুতিন ইতুরুপের ইয়াসনি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ঘুরে দেখেন। সেখানে মাছ ধরার শিল্প ও মাছের চলাচল নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় মাছের ডিমও স্বাদ নেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি একটি হাসপাতাল ও স্কুলও পরিদর্শন করেন এবং সাখালিন অঞ্চলের গভর্নর ভ্যালেরি লিমারেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেন।    রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এই সফরকে পুতিনের কুরিল দ্বীপপুঞ্জে প্রথম সরাসরি সফর হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে ২০১০ সালে তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কুনাশির দ্বীপে গিয়েছিলেন। ২০২১ সালে তৎকালীন রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ইতুরুপ সফর করলেও তখনও জাপান কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল।    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছ থেকে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ দখল করে। জাপান এখনো এতোরোফু, কুনাশিরি, শিকোতান ও হাবোমাই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। এই বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আট দশকেরও বেশি সময় পরও রাশিয়া ও জাপান আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি।    পুতিনের সফরটি এমন সময় হলো, যখন পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। ইতুরুপ যাওয়ার আগে তিনি রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের সাখালিন অঞ্চলে প্যাসিফিক ফ্লিটের বড় সামরিক মহড়ার চূড়ান্ত পর্ব পর্যবেক্ষণ করেন। এর এক দিন আগে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়াও কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব দিকের জলসীমার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।    কুরিল দ্বীপপুঞ্জে কয়েক দশক ধরেই রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো সেখানে সামরিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে পুতিনের এই সফর শুধু প্রতীকী নয়, দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।    এদিকে জাপানও তার দাবি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে পুতিনের প্রথম সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধকে নতুন করে সামনে আনল এবং মস্কো-টোকিও সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৫:২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি মোড়ে স্থাপিত এই বিশাল দেয়ালচিত্র বা বিলবোর্ড। ছবি:সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অচলাবস্থা, হরমুজ নিয়ে আরও কঠোর ট্রাম্প, ছাড় দিচ্ছে না ইরানও

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফিরে যাওয়া এবং দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র।   জুনের ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের পাশাপাশি ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সমঝোতাটি দ্রুত ভেঙে পড়ে। ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন। এক সপ্তাহ পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সমঝোতাটি স্থগিত রয়েছে।   সমঝোতা ভেঙে পড়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়নি। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।   এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি দাবি করেন, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধকে তিনি ‘ইস্পাতের দেয়াল’ বলেও উল্লেখ করেন। তবে সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো অত্যন্ত সীমিত।   ইরানি সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফিরিয়ে আনা এবং দুই পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।   তেহরান অন্তর্বর্তী সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর খবরও প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের বক্তব্য, তাদের দৃষ্টিতে ওই সময়সীমা কার্যকরভাবে শুরুই হয়নি। কারণ সমঝোতায় পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সেটি লঙ্ঘন করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি থেকে সরে যায় বলে অভিযোগ তেহরানের।   গত কয়েক দিনে দুই দেশের বক্তব্যও আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন এবং দেশটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ‘বুলি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   যুদ্ধবিরতি আলোচনার অচলাবস্থার মধ্যেই নৌপথে নতুন হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। মঙ্গলবার বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় একটি ছোট কার্গো জাহাজের চার ক্রু নিহত হন। যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের জাহাজে হামলায় এটিই প্রথম প্রাণঘাতী ঘটনা বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অমান্য করার অভিযোগে পানামার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজকে থামাতে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সামুদ্রিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের উপকূলের কাছে ওমান উপসাগরে যাওয়ার পথে জাহাজটি আক্রান্ত হয়।   ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল শনাক্ত হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক সাধারণত ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরে দাম কমলেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার অনিশ্চয়তায় বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।   সব মিলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জুনের অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ফেরার পথ তৈরি না হলে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন নৌ অবরোধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ও নিষেধাজ্ঞা—এই চার ইস্যুই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ের প্রধান বিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ১৩, ২০২৬ ৫:১৩