সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বাড়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকেরা। ২০০০ সালের পর থেকে দেশটিতে ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বয়সের পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্যানসার শনাক্তের হার ৮৩ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনের সারাংশে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে স্তন, থাইরয়েড ও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রবণতা নিয়ে গবেষকেরা অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। তবে নারী ও পুরুষের মধ্যে ৮৩ শতাংশ পার্থক্যের হিসাবটি মূল তথ্যসারণি থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অনুসন্ধানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যানসারের পরিবর্তিত প্রবণতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন গবেষণা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিলেনিয়াল এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রজন্মের মধ্যে কিছু ধরনের ক্যানসার আগের তুলনায় বেশি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করছেন, কেন আগের প্রজন্মের তুলনায় কিছু মানুষের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ক্যানসার শনাক্ত হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশদূষণ, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, ঘুমের অনিয়ম এবং আধুনিক জীবনযাত্রার বিভিন্ন পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের সবগুলোর সঙ্গে ক্যানসার বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসার নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সাধারণভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে বয়স্কদের তুলনায় তরুণদের সামগ্রিক ক্যানসার ঝুঁকি এখনো অনেক কম। কিন্তু কম বয়সীদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতা চিকিৎসক ও গবেষকদের নতুন করে ভাবাচ্ছে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, ৩৪ ধরনের প্রচলিত ক্যানসারের মধ্যে ১৭টির ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত পরবর্তী জন্মপ্রজন্মগুলোতে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে। বিশেষ করে কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।   গবেষণায় জন্মপ্রজন্মভিত্তিক পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একই বয়সে বিভিন্ন সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষের ক্যানসার শনাক্তের প্রবণতা তুলনা করেছেন গবেষকেরা। এতে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের মানুষেরা আগের প্রজন্মের তুলনায় ভিন্ন ধরনের পরিবেশগত বা জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন কি না।   নারীদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্তের হার বেশি হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে স্তন ও থাইরয়েড ক্যানসার এই পার্থক্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব ধরনের ক্যানসারে নারীদের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় বেশি, এমন নয়। ক্যানসারের ধরন, বয়স এবং অন্যান্য ঝুঁকির ওপর নারী ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার হার ভিন্ন হতে পারে।   স্তন ক্যানসার নারীদের মধ্যে বহুল শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর একটি। অন্যদিকে থাইরয়েড ক্যানসারও নারীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি শনাক্ত হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে উন্নত পরীক্ষা ও রোগ শনাক্তের পদ্ধতির কারণে বেশি ক্যানসার ধরা পড়তে পারে। ফলে শনাক্তের হার বৃদ্ধির পেছনে প্রকৃত রোগ বৃদ্ধি এবং পরীক্ষার প্রভাব আলাদাভাবে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই ক্যানসারের হার বৃদ্ধির প্রবণতা আগের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষকেরা এর পেছনে খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, অন্ত্রের জীবাণুর পরিবেশ এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করছেন।   আধুনিক খাদ্যাভ্যাসকে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আল্ট্রা-প্রসেসড বা অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।   এ ধরনের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, বিপাকীয় পরিবর্তন এবং অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এসব পরিবর্তন কিছু ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত কি না, তা গবেষণার বিষয়। তবে শুধু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বাড়ছে, এমন সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা কৃত্রিম রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও গবেষণা চলছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য, প্লাস্টিক এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ মানবদেহে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।   বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে। অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই কণাগুলো সরাসরি তরুণদের ক্যানসার বৃদ্ধির কারণ, এমন বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।   ঘুমের অনিয়ম এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির পরিবর্তনও গবেষণার আওতায় রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ, অনিয়মিত ঘুম এবং দীর্ঘ সময় কৃত্রিম আলোয় থাকার ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসতে পারে।   গবেষকেরা এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ক্যানসারের সম্ভাব্য সম্পর্ক পরীক্ষা করছেন। তবে সাধারণ ঘুমের অনিয়ম এবং নির্দিষ্ট ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফটে কাজের ঝুঁকিকে একইভাবে বিবেচনা করা যায় না।   এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন পদার্থের সংস্পর্শ এবং শৈশবের পরিবেশগত পরিস্থিতি ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।   ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের আলোচনায় গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত কিছু পুরোনো ওষুধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে সব ধরনের মাতৃকালীন ওষুধকে ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করারও ভিত্তি নেই।   গবেষকেরা মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবেশগত সংস্পর্শের সম্মিলিত প্রভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। গবেষণার ভাষায় এই ধারণাকে বলা হয় এক্সপোজোম। এর মধ্যে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শৈশব, কৈশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এই পদ্ধতির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে চান, দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যাভ্যাস, রাসায়নিক পদার্থ, দূষণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন মানুষের শরীরে কী ধরনের প্রভাব তৈরি করে। তবে এসব উপাদানের কোনটি কতটা দায়ী, তা নির্ধারণ করা জটিল।   এদিকে চিকিৎসকেরা তরুণদের ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন, মলে রক্ত, অকারণ ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত কিংবা শরীরে নতুন কোনো চাকা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন সাধারণ রোগের কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ ঝুঁকির নারীদের জন্য ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম পরীক্ষার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ঝুঁকির প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪৫ বছর বয়স থেকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের সুপারিশ করা হয়।   তবে যাঁদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে কিংবা বিশেষ ঝুঁকির কারণ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও আগে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। একইভাবে সবার জন্য একই ধরনের পরীক্ষা উপযুক্ত নয়।   গবেষকেরা জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে কিছু ক্যানসারের হার বাড়লেও সব ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। কিছু ক্যানসারের হার কমেছে। আবার উন্নত চিকিৎসা, আগাম শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুহারও কমেছে।   ফলে ক্যানসার শনাক্তের হার বৃদ্ধি এবং ক্যানসারে মৃত্যুর হার বৃদ্ধিকে এক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানুষের মধ্যে বেশি ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই সেই বয়সের মানুষের মৃত্যুঝুঁকি একই হারে বেড়েছে, এমন নয়।   ওয়াশিংটন পোস্টের আলোচিত অনুসন্ধানটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল। তাই এটিকে ২০২৬ সালের নতুন গবেষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ২০০০ সালের পর থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দীর্ঘ সময়ের পরিবর্তন নির্দেশ করে, সাম্প্রতিক এক বছরের বৃদ্ধি নয়।   গবেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিছু ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশগত সংস্পর্শ, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।   তবে এখন পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। বিজ্ঞানীরা এই পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:১৮
মৃত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে আইওয়ার ক্রেডিট ইউনিয়নের কর্মী আমান্ডা এন টিনচারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মারা গেছেন ছয় গ্রাহক, তবু অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলার উধাও! গ্রেপ্তার ব্যাংককর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে মৃত ছয় গ্রাহকসহ মোট সাতজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ডলারের বেশি চুরির অভিযোগে একটি ক্রেডিট ইউনিয়নের নারী কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩৮ বছর বয়সী আমান্ডা এন টিনচারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নিজের নামে চেক তৈরি, ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপে অর্থ স্থানান্তর এবং নগদ অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন এবং অন্য একজন জীবিত ছিলেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসির ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্ডা টিনচার আইওয়ার আইএইচ মিসিসিপি ভ্যালি ক্রেডিট ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন। তিনি ডেভেনপোর্ট শহরের বাসিন্দা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেটেনডর্ফ পুলিশ তাঁকে চুরি, প্রতারণা এবং ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই দিন বিকেলেই জামিনে মুক্তি পান তিনি।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয় গত ২ জুলাই। ওই দিন ক্রেডিট ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বেটেনডর্ফ পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে একাধিক সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা শুরু করে।   তদন্তকারীদের দাবি, আমান্ডা মৃত ওই গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ উত্তোলন করেন। পাশাপাশি নিজের নামে একাধিক ক্যাশিয়ার্স চেক তৈরি এবং ব্যক্তিগত ক্যাশঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করেন। ক্যাশিয়ার্স চেক হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা বিশেষ ধরনের চেক, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়।   পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ওই একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ২১ হাজার ২৭৯ ডলার ৫১ সেন্ট সরানো হয়েছিল। অ্যাকাউন্টটির মালিক মারা যাওয়ার পর এসব সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   এরপর ৩ জুলাই ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যালয়ে আমান্ডার সঙ্গে কথা বলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাঁকে সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই সময় তিনি মন্তব্য করেন, কী করা হয়েছে, তা বেশ পরিষ্কার।   তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া এই বক্তব্যকে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমান্ডা অন্য কোনো গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় আরও ছয়টি অ্যাকাউন্টে একই ধরনের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সাতটি অ্যাকাউন্টে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছয়টি অ্যাকাউন্টের মালিক মারা গিয়েছিলেন। অন্য অ্যাকাউন্টটির মালিক জীবিত ছিলেন। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৮ হাজার ৩২৬ ডলার ২৮ সেন্ট সরানোর অভিযোগ রয়েছে আমান্ডার বিরুদ্ধে।   তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযোগ, মৃত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হারানোর বিষয়টি তাঁর উত্তরাধিকারীরা বুঝতে পারার পর আমান্ডা সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন।   এ জন্য তিনি জীবিত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, আগের লেনদেনের কারণে তৈরি হওয়া অর্থের ঘাটতি আড়াল করতেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।   অর্থাৎ শুধু মৃত ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগই নয়, অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আগের লেনদেন ঢাকার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, একাধিক অ্যাকাউন্টে একই ধরনের লেনদেন হওয়ার কারণে ঘটনাটি ধারাবাহিক আর্থিক অপরাধের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ঠিক কত দিন ধরে এসব লেনদেন চলেছিল, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   তদন্ত শেষে আমান্ডার বিরুদ্ধে প্রথম মাত্রার চুরি, ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রথম মাত্রার প্রতারণামূলক কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইওয়ার আইনে এসব অভিযোগ গুরুতর অপরাধ বা ফেলনি হিসেবে বিবেচিত।   এ ছাড়া দ্বিতীয় মাত্রার চুরি এবং দ্বিতীয় মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় মাত্রার চুরির চারটি এবং তৃতীয় মাত্রার প্রতারণার চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো গুরুতর মিসডিমিনার অপরাধের আওতায় পড়ে।   তাঁর বিরুদ্ধে পঞ্চম মাত্রার চুরি এবং পঞ্চম মাত্রার প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মাত্রার চুরি ও প্রতারণাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।   শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ওই দিন বিকেলে জামিনে মুক্তি পান আমান্ডা। আদালতের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   তবে আমান্ডা আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছেন কিংবা তাঁর আইনজীবী কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে ক্রেডিট ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তবে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা মৃত গ্রাহকদের উত্তরাধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   একইভাবে অভিযুক্ত কর্মী কীভাবে এসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   আইওয়ার এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের আর্থিক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগের পাশাপাশি জীবিত গ্রাহকের অর্থ ব্যবহার করে আগের লেনদেন আড়াল করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তে সাতটি অ্যাকাউন্টে মোট ২৮ হাজার ডলারের বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।   বর্তমানে আমান্ডা টিনচার জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১২:১
কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রস্তাব ফিরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়

কঠোর ভিসা নীতির কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের দেওয়া ভর্তি প্রস্তাব প্রত্যাহার করছে যুক্তরাজ্যের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো এ পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ১২ অক্টোবর দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট দেশ থেকে শিক্ষার্থী নেওয়া কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে।    যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের তথ্য নিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে তা ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। নাইজেরিয়ার আবেদনকারীদের প্রত্যাহারের হার ছিল ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।    তবে আবেদন প্রত্যাহার ও ভিসা প্রত্যাখ্যান আলাদা বিষয়। ভিসা প্রত্যাখ্যান হলে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। অন্যদিকে আবেদন প্রত্যাহার হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যায়। আবেদনকারী নিজে আবেদন তুলে নিতে পারেন, আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তাব বা প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ প্রত্যাহার করলেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে বাংলাদেশিদের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহারের অর্থ এই নয় যে, তাঁদের সবার ভিসা প্রত্যাখ্যান হয়েছে।    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার নতুন শর্ত। হোম অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুন বা তার পরে করা বার্ষিক কমপ্লায়েন্স মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। আগে এই সীমা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সীমা অতিক্রম করলেই তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয় না।    স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএস প্রয়োজন হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিএএস প্রত্যাহার করলে সেটি প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই ব্যবস্থার কারণে সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় আগেই স্পনসরশিপ তুলে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।    নতুন নিয়মে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ৯৫ শতাংশকে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তি হতে হবে। বর্তমানে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৮৫ শতাংশ। ২০২৭ সালের ১ জুন বা তার পরে করা মূল্যায়নে সেটি বেড়ে ৯০ শতাংশ হবে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর শুধু ভিসা আবেদন যাচাই নয়, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও পড়াশোনা শেষ করার বিষয়েও বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সতর্ক করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে বাংলাদেশসহ উল্লিখিত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের ওপর যুক্তরাজ্যজুড়ে সামগ্রিক ভর্তি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়নি। বিধিনিষেধগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তারা সরকারি শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।    আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়েও চাপ বাড়তে পারে। ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করেছেন, এই চাপ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, চাকরি কমানো এবং কোর্স বা ক্যাম্পাস বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে হোম অফিস বলেছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে ইতিবাচক অবদান রাখেন, তবে অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দায়িত্বশীলভাবে শিক্ষার্থী নিতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:৩০
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করেছেন ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
ঋণ শোধে অক্ষম, এমন ২০ হাজারের বেশি বন্দীকে মুক্তিতে সহায়তা দুবাইয়ের ভারতীয় ব্যবসায়ীর

ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি মানুষের মুক্তিতে সহায়তা করেছেন দুবাইভিত্তিক ভারতীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ মার্চেন্ট। ২০০৮ সালে শুরু করা এই উদ্যোগে তিনি বন্দীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি অনেকের দেশে ফেরার বিমানভাড়াও দিয়েছেন। খালিজ টাইমসের ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি।    ফিরোজ মার্চেন্ট স্বর্ণালংকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ‘ফরগটেন সোসাইটি’ উদ্যোগের লক্ষ্য আর্থিক সংকটে পড়া বন্দীদের সহায়তা করা। ২০২৪ সালে তাঁর কার্যালয়ের বিবৃতি উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইও জানিয়েছিল, বিভিন্ন জাতীয়তা ও ধর্মের ২০ হাজারের বেশি বন্দীর মুক্তিতে ভূমিকা রেখেছে এই উদ্যোগ।   খালিজ টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিরোজ জানান, ২০২৫ সালে ৫০টির বেশি দেশের ২ হাজার ৯৭২ জন বন্দীর মুক্তিতে সহায়তা করা হয়েছে। তাঁদের ঋণ পরিশোধে দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ দিরহাম। আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান ও রাস আল খাইমাহর কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা এই সহায়তা পেয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অনেকের দেশে ফেরার বিমান টিকিটের খরচও তিনি বহন করেছেন।    এই কার্যক্রমের বড় অংশ পরিচালিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এবং খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়। ফিরোজের বক্তব্য, আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে দায় পরিশোধ করতে না পারা মানুষদের আবার পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।    কারামুক্তির পর বাড়ি ফেরার সহায়তার নির্দিষ্ট উদাহরণও রয়েছে। গালফ নিউজের ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুজাইরাহর একটি সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ৫০ জন অসচ্ছল ব্যক্তির বিমান টিকিটের খরচ দিয়েছিলেন ফিরোজ। পিওর গোল্ড জুয়েলার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের দেশে ফেরাতে ব্যয় হয়েছিল ৯০ হাজার দিরহাম।    সেই সময় ফুজাইরাহর সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ হামদান আল জেয়ুদি এই সহায়তাকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বন্দীদের দেশে ফেরাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের অংশীদারত্বের বিষয়টিও উঠে আসে।    বন্দীদের সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ বহনেও অর্থ দিয়েছেন ফিরোজ। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুবাই চ্যারিটি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ১১ জন রোগীর ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ে ১০ লাখ দিরহাম অনুদান দেন তিনি।    ফিরোজের কাছে এই কাজের সাফল্য মানুষের জীবনে তার ফলাফলে। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঋণ পরিশোধের কারণে কেউ পরিবারের কাছে ফিরতে পারলে কিংবা আর্থিক সহায়তায় কারও চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে সেটিই তাঁর জন্য যথেষ্ট।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:২১
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর দাবির বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের বিষয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার, ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পৃথক দুটি রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির অনাদায়ী কর আদায়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।    পাঁচ করবর্ষের আয়কর পুনর্নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। প্রতিষ্ঠানটির করা পৃথক দুটি রিটের শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল খারিজ করেন। সোমবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় দুটি যথাক্রমে ৩২ ও ১৫ পৃষ্ঠার।    কর বিরোধটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০১২ থেকে ২০১৩ করবর্ষ এবং পরবর্তী চার করবর্ষ মিলিয়ে ২০১৬ থেকে ২০১৭ করবর্ষ পর্যন্ত সময়ের। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে দাবিকৃত করের পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই অর্থ প্রতিষ্ঠানটির করদায় হিসেবে দাবি করা হয়েছে।    দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেছেন, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কর পরিশোধের আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল গ্রামীণ কল্যাণের। গ্রামীণ টেলিকমের পরিশোধ করা উৎসে করকে নিজেদের পরিশোধ করা কর হিসেবে গণ্য করার সুযোগ প্রতিষ্ঠানটির নেই বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।    রায়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তে আদালতের হস্তক্ষেপের মতো আইনগত ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগের স্থগিতাদেশ বাতিল করে অনাদায়ী কর আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দাবিনামা অবিলম্বে জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশের বিধান অনুযায়ী কর কমিশনারের নিজের উদ্যোগে ভুল সংশোধনের ক্ষমতা রয়েছে বলেও আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।    পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি যত দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবে। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, আপিল বিভাগ রায় স্থগিত করলে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আপাতত কার্যকর থাকবে না।    এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিল গ্রামীণ কল্যাণ। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেননি। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়েছিলেন। ফলে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল ছিল।    মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে আগেও রায় প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ একই রিট দুটি খারিজ করেছিলেন। পরে ওই বেঞ্চের একজন বিচারপতি আগে মামলাগুলোতে সরকারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। সে কারণে ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন বেঞ্চে আবার শুনানির মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত আসে।    সূত্র: আরটিভি

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১১:১০
নিউইয়র্কের ভেস্টালে আইসিই কর্তৃক এক বাংলাদেশি আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগ, বিংহ্যামটন বাংলাদেশিকে আটক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তর বিংহ্যামটন এলাকার ভেস্টালে এক বাংলাদেশিকে আইসিইর হাতে আটকের খবর পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে তাঁর পরিচয়, আটকের কারণ ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।    সূত্রটির দাবি, জরুরি কাজে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ভেস্টালে গিয়েছিলেন ওই বাংলাদেশি। সেখানে তাঁর এক বন্ধুর গাড়ি থামিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থা উল্লেখ করা হয়নি। আটকের বিষয়ে আইসিইর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিবরণ আপাতত ওই সূত্রের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে।    বৃহত্তর বিংহ্যামটন এলাকায় অভিবাসন অভিযান নিয়ে কয়েক মাস ধরেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন স্থানীয় অধিকারকর্মীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউবিএনজির ৯ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিউম্যানস অব আইসিই প্রকল্প ও কনসার্নড রেসিডেন্টস অব গ্রেটার বিংহ্যামটন সংগঠন আগের ৭২ ঘণ্টায় ব্রুম কাউন্টিতে ১৯ জনকে আটকের তথ্য জানিয়েছিল। এটি সংগঠনগুলোর দেওয়া হিসাব, আইসিইর প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক সংখ্যা নয়।    ওই সময় আইসিই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিল, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যজুড়ে সংস্থাটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। বৃহত্তর বিংহ্যামটন এলাকাও সেই কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই বক্তব্য ভেস্টালে বাংলাদেশিকে আটকের সাম্প্রতিক খবরের পৃথক কোনো নিশ্চিতকরণ নয়।    নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশেও অভিবাসনসংক্রান্ত আটকের সংখ্যা বেড়েছে। শহর প্রশাসনের একটি নিরীক্ষার তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স গত ২২ মে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি এলাকায় আইসিই ৫ হাজার ৫৬৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। আগের প্রশাসনের শেষ দিকের সমানসংখ্যক দিনের তুলনায় এই সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেশি।    ভেস্টালের ঘটনাটিতে ওই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না, তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে কিংবা তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি,  তাই তাঁর অভিবাসনগত অবস্থা বা আটকের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:৫৯
চাকরি হারানোর পর ম্যানহাটনে গড়ে তোলা ‘নিশান’ রেস্তোরাঁয় এক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার বিক্রির রেকর্ড গড়েছেন জিশান বাখরানি। ছবি: সংগৃহীত
দুইবার চাকরি হারানো জিশানের রেস্তোরাঁয় এখন মাসে বিক্রি প্রায় দেড় লাখ ডলার

দুইবার করপোরেট চাকরি হারানোর পর রান্নার প্রতি ভালোবাসাকেই পেশায় রূপ দিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা জিশান বাখরানি। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে তাঁর গড়ে তোলা ‘নিশান’ রেস্তোরাঁয় এক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের বিক্রি হয়েছে। তবে এই অর্থ রেস্তোরাঁর মোট বিক্রি, তাঁর ব্যক্তিগত আয় বা নিট মুনাফা নয়।    সিএনবিসি মেক ইটের ১০ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী জিশান প্রায় এক দশক প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে ছিলেন। ২০২৫ সালের আগস্টে নিজের সঞ্চয় থেকে ৭০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে ম্যানহাটনে রেস্তোরাঁটি চালু করেন তিনি। জায়গার রেন্ট, সরঞ্জাম ও সাজসজ্জায় এই অর্থ ব্যয় হয়।    তাঁর খাবারের ব্যবসার শুরু অবশ্য স্থায়ী রেস্তোরাঁ খোলার আগেই। ২০২৩ সালে প্রথমবার চাকরি হারানোর পর ডালাস ও শিকাগোতে অস্থায়ী খাবারের স্টল চালু করেন জিশান। পরে আবার চাকরি পেলেও রান্না ও খাবার বিক্রির উদ্যোগটি চালিয়ে যান। এভাবেই করপোরেট কাজের পাশাপাশি নিজের ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করতে থাকেন।    শিকাগোর ডেভন এলাকায় বেড়ে ওঠা জিশানের রান্নায় বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে। ছোটবেলা থেকে ভারতীয়, পাকিস্তানি, মেক্সিকান ও পূর্ব ইউরোপীয় খাবারের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। মায়ের রান্নায় নতুন স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা করার অভ্যাসও তাঁকে প্রভাবিত করে। কৈশোরে টেলিভিশনের রান্নার অনুষ্ঠান দেখে খাবার বানানোর সময় তাতে জিরা, ধনে ও মরিচের মতো পরিচিত মসলা যোগ করতেন।    নিশানের খাবারেও সেই মিশ্রণ দেখা যায়। পাকিস্তানি স্বাদের সঙ্গে আমেরিকান স্ট্রিট ফুড মিলিয়ে সাজানো হয়েছে মেনু। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি চপড চিজ স্যান্ডউইচ, বিহারি ধাঁচের বারবাকোয়া টাকোস এবং বাফেলো তন্দুরি চিকেন স্যান্ডউইচ।    ব্যবসার পথে বড় উৎসাহ আসে ফুড নেটওয়ার্কের ‘দ্য গ্রেট ফুড ট্রাক রেস’ প্রতিযোগিতা থেকে। অনুষ্ঠানটির ১৮তম আসরে নিশান দল জয়ী হয়ে ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার পায়। এই সাফল্য জিশানকে স্থায়ী রেস্তোরাঁ গড়ার আত্মবিশ্বাস দেয়।    ২০২৫ সালের নভেম্বরে রেস্তোরাঁটির বিক্রি প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে দ্বিতীয়বার করপোরেট চাকরি হারান জিশান। এরপর খাবারের ব্যবসায় পুরো মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রেস্তোরাঁ লাভে চললেও তখনো ব্যবসা থেকে নিজের বেতন নিচ্ছিলেন না। ব্যক্তিগত খরচ চালাচ্ছিলেন আগের সঞ্চয় এবং চাকরি ছাড়ার সময় পাওয়া অর্থ দিয়ে।    এখন নিশানের মেনু আরও বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে শিকাগোসহ অন্য জায়গায় শাখা খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে এগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আপাতত ম্যানহাটনের রেস্তোরাঁটি ঘিরেই নিজের উদ্যোক্তা জীবন এগিয়ে নিচ্ছেন জিশান।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:৩৬
প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের নতুন বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার। ছবি: সংগৃহীত
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি

প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের নতুন বিয়েতে আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন ‘স্পাইডার ম্যান’খ্যাত হলিউড অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার। শনিবার, ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ের লানাই দ্বীপে ফোর সিজনস রিসোর্টে সংগীত ব্যবসার নির্বাহী জিওফ্রি ওগুনলেসিকে বিয়ে করেন এই অলংকার ডিজাইনার। টোবি ও জেনিফারের আইনি বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই এই অনুষ্ঠান হলো।    পিপল ম্যাগাজিনের হাতে আসা বিয়ের ছবির বরাতে ইউএস উইকলি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি নবদম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন টোবি। প্রকাশিত ছবিতে নবদম্পতির পাশে তাঁকে কাগজ হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। জেনিফারের পরনে ছিল সাদা বিয়ের পোশাক, আর ওগুনলেসি পরেছিলেন কালো টাক্সেডো।    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলিউড ও ব্যবসাজগতের কয়েকজন পরিচিত মুখ। তাঁদের মধ্যে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, কেট হাডসন, কোর্টনি কক্স, র‍্যাচেল জো, জেফ বেজোস ও তাঁর স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোসের নাম জানিয়েছে এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি।    টোবি ও জেনিফার ২০০৭ সালে বিয়ে করেন। নয় বছরের দাম্পত্যের পর ২০১৬ সালে তাঁরা আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর জেনিফার ২০২০ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। তবে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের আইনি অবসান হয় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে। ফলে আলাদা থাকার শুরু এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার মধ্যে প্রায় এক দশকের ব্যবধান ছিল।    এই সাবেক দম্পতির দুই সন্তান রুবি ও ওটিস। আলাদা হওয়ার পরও সন্তানদের বড় করার দায়িত্বে দুজনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় ছিল। ইউএস উইকলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বাবা দিবসের এক পোস্টেও সন্তানদের বাবা হিসেবে টোবির প্রশংসা করেছিলেন জেনিফার।    জেনিফারের নতুন স্বামী জিওফ্রি ওগুনলেসি দ্য ওগুনলেসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। তিনি নাইজেরীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী ও বিনিয়োগ ব্যাংকার আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে। জেনিফার ও জিওফ্রি ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি অনুষ্ঠানের লালগালিচায় একসঙ্গে উপস্থিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে তাঁদের বাগদান হয়। চলতি বছর তাঁদের একটি মেয়েসন্তানও জন্মেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:২৯
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে শিশু অধিকার ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াতের অন্যরকম পথচলা

নিউইয়র্ক থেকে জাতিসংঘের সভাকক্ষ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, শৈশবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী ফাতিহা আয়াত। শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী অধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনী ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফাতিহার পথচলার বিশেষ দিক হলো, অল্প বয়স থেকেই বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর অংশগ্রহণের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও রয়েছে। সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের সভাকক্ষে:  ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় শৈশবেই। তাঁর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সভাকক্ষে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষার মতো বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে তাঁর এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য ও পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় নিয়েও আন্তর্জাতিক আয়োজনে বক্তব্য দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব সমস্যা শিশু ও নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসব বিষয় তুলে ধরার মধ্য দিয়ে ফাতিহা অল্প বয়সেই সামাজিক সমস্যা নিয়ে নিজের আগ্রহের পরিচয় দেন। হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ: জাতিসংঘের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও ফাতিহার অংশগ্রহণের তথ্য রয়েছে। ২০২০ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ইউনিসেফ ক্লাবের একটি সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশগত অভিযোজন নিয়ে বক্তব্য দেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। কনকর্ডিয়া সম্মেলনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাঁর অংশগ্রহণের কথাও প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। শিশু অধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ:  ফাতিহার কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো শিশু ও নারীর অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য এবং পারিবারিক সহিংসতার মতো বিষয় তাঁর প্রকাশিত পরিচিতি ও বক্তব্যের আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।   বাংলাদেশের মতো দেশে এসব বিষয় সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষার সুযোগ এবং নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক পরিসরে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ফাতিহা তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের একটি উদাহরণ তৈরি করেছেন।   জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও সম্পৃক্ততা: জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও ফাতিহার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংস্থা পিওর আর্থের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যে বাংলাদেশে শিশুদের সিসার বিষক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে।   সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি বাংলাদেশের শিশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফাতিহার এই সম্পৃক্ততা তাঁর কাজের সঙ্গে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যার একটি নির্দিষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে। নিজস্ব উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা: ফাতিহা আয়াতের আরেকটি পরিচয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত উদ্যোগ সিএইচআইএলঅ্যান্ডডি (CHIL&D)। এর পূর্ণরূপ ক্লাইমেট, হেলথ, ইনফরমেশন, লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। জলবায়ু, স্বাস্থ্য, তথ্য, শিক্ষা ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ গড়ে তোলা হয়েছে বলে তাঁর প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ জিরো অলিম্পিয়াড (Zero Olympiad)। এর লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও কার্বন নিঃসরণের মতো বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান নিয়ে চিন্তা ও কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা। আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত জিরো অলিম্পিয়াডের সমাপনী পর্বে আট হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ১৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অর্জন:  ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার যুব সম্মেলনে ফাতিহা আয়াত ‘হিউম্যান রাইটস হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ অর্জন করেন বলে জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্টের সম্মেলনসংক্রান্ত বক্তা পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাঁকে শিশু অধিকারকর্মী ও জলবায়ু প্রচারক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিক শিক্ষা বিভাগের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মানবাধিকার ও লিঙ্গসমতাবিষয়ক কোর্স সম্পন্ন করার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরে নতুন অধ্যায়: ফাতিহার জীবনযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যায় আগা খান একাডেমি ঢাকার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠার পর তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ফিরে ঢাকার আগা খান একাডেমিতে ভর্তি হন। ওই প্রতিবেদনে তাঁকে তখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে তাঁর আগ্রহ তৈরির পেছনে বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে বিবিসির বিশ্বসংবাদ শোনার অভ্যাসের কথাও উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানার এই অভ্যাস তাঁর বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।    এক কিশোরীর পথচলায় নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা: ফাতিহা আয়াতের আন্তর্জাতিক পথচলা, শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো বিষয় নিয়ে অল্প বয়স থেকেই আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া সম্ভব। জাতিসংঘের সভাকক্ষে বক্তব্য দেওয়া থেকে তরুণদের নিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ পরিচালনা, তাঁর কর্মকাণ্ডে বৈশ্বিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই কিশোরীর গল্প তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের বিবরণ নয়; এটি শিশু ও তরুণদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে কথা বলা, প্রশ্ন তোলা এবং সমাধানের সন্ধানে যুক্ত হওয়ার একটি উদাহরণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১০:৬
ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
ইলহান ওমরের বাড়িতে ট্রাম্পের ফেডারেল তল্লাশি, অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। সোমবার ১২ অক্টোবর ভোরে চলমান একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে তদন্তের বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করেনি বিচার বিভাগ।    বিচার বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের অনুমোদিত সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। বিভাগটি একে চলমান ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে ওমরের নাম বা তদন্তের নির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি।    ফক্স নিউজ ডিজিটালের প্রতিবেদনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে সম্ভাব্য জালিয়াতি নিয়ে তদন্তের সূত্র ধরে এই তল্লাশি চালানো হয়। ওই কাগজপত্র তিনি শিশু থাকাকালে তাঁর প্রয়াত বাবা পূরণ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিবাসন নথি নিয়ে তদন্তের এই তথ্য সংবাদমাধ্যমের সূত্রভিত্তিক দাবি; বিচার বিভাগের প্রকাশিত বক্তব্যে তা বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।    দ্য ইনডিপেনডেন্টও ফক্স নিউজ ডিজিটালের বরাতে ওমরের বাড়িতে তল্লাশির খবর প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, অভিযানের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে বিচার বিভাগ ও ওমরের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।   ওমর মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের শহরতলি রয়েছে। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন তিনি।    সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর আট বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে যান। কেনিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে চার বছর থাকার পর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ১৯৯৭ সালে পরিবারসহ মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন তিনি। তাঁর কংগ্রেশনাল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান।    অভিবাসন নীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর। এর আগে ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি মিনেসোটার রিচফিল্ডে তাঁর একটি জনসভাস্থলের বাইরে ছদ্মবেশী এইচএসআই কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নজরদারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে সোমবারের তল্লাশির কোনো সম্পর্ক প্রকাশিত তথ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:৪৮
সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটার পর সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মায়ের দেখাশোনা করার এবং সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন সাগর।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা মুন্নি খাতুনকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা। সেখানে মা ও ছেলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। সাগর জানান, আগের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং মায়ের দায়িত্ব পালন করতে চান।   নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর ৮ অক্টোবর ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির সময় মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ইউএনও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১২ অক্টোবর আবার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সময় দেন। এর মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আদালতের নজরে আসে।    রোববার ১১ অক্টোবর পাবনার আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটানোর পর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। নিজের আচরণের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলেও আশ্বাস দেন। এরপর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ।    ছেলের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুন্নি খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের প্রতি তাঁর আর রাগ বা অভিমান নেই। ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জীবনের বাকি সময় তাঁর কাছেই থাকতে চান। তাঁর ভাষ্য, তিনি ছেলের সান্নিধ্যই চেয়েছিলেন, এখন সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।   সাগরও জানিয়েছেন, আগের বক্তব্য আবেগের বশে দিয়েছিলেন। আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন মাকে কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। মায়ের সঙ্গে আগের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাগর।    সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধ মেটার পর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ।  সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:২৫
তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে
তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের রাতে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ। তবে যাত্রার সময় যাত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হতে পারে ভেবে তিনি সেই উদ্বেগের কথা জানাননি। ৭ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে রওনা হওয়া ১৫ বছরের তাজমিন আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আবদুল্লাহর এই বক্তব্য উঠে এসেছে। তিনি জানান, তাজমিন রাতে কুমিল্লায় পৌঁছাবে বুঝতে পেরে তাকে ও সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে বিষয়টি বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু বলেননি। তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে সে কোথায় এবং কার কাছে থাকছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি মা-বাবা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কক্সবাজারে আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের বাসের টিকিট কাটেন। দুপুর ১২টার বাসের জন্য টিকিট নেওয়া হলেও সেটি ছাড়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর। তাজমিন একা কুমিল্লায় ফিরবে বলে তার জন্য একটি একক আসনের টিকিট নেওয়া হয়েছিল। আবদুল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দিনের বেলায় রওনা হলেও বাসটি কুমিল্লায় পৌঁছাতে রাত হবে, বিষয়টি তাঁর মনে ছিল। একজন কিশোরীর তখন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। তবে তাজমিন বা রাজুকে যাত্রার সময় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, এমন তথ্য তাঁর বক্তব্যে নেই। রাজু দাবি করেছেন, তাজমিন যাতে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য যাত্রাপথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। কক্সবাজারে থাকার সময় তাজমিনের বাবা ফোন করে মেয়েকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছিলেন বলেও দাবি করেন রাজু। এসব বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছে পুলিশ। তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন বলেছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বান্ধবীর নাম কিংবা তাঁর পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন তা জানায়নি বলে মায়ের ভাষ্য। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছায় তাজমিন। সেখান থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। কিন্তু চালক তাকে বাড়ির পথে না নিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ১০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পুলিশের অভিযোগ, সেখানে তাকে ধ র্ষ ণের পর হ ত্যা করা হয়। ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানখেত থেকে ম র দে হ উদ্ধারের পর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রে প্তা র করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হ ত্যার দায় স্বীকার করেছেন সুমন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে ১১ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে রাজুকে আ ট ক করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ও সেখানে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে হ ত্যা কাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বান্ধবীর বিরুদ্ধেও হ ত্যা য় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার কারণ নিয়ে রাজু ও পরিবারের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এসব বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না ধরে তার বাড়ি থেকে বের হওয়া, কক্সবাজারে অবস্থান, ফেরার যাত্রা এবং শেষ সময়ের যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হ ত্যা কাণ্ডে সুমনের ভূমিকা উঠে এলেও তাজমিনের কয়েক দিনের চলাফেরার ঘটনাক্রম যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:৫৮
দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা অলিভিয়া
ফ্লোরিডায় বাবার কাস্টেডি থেকে সন্তানদের আনতে গিয়ে দুই শিশুর ম র দেহ খুঁজে পেলেন মা

ফ্লোরিডায় বাবার বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে আনতে গিয়ে তাদের ও তাদের বাবার ম র দে হ খুঁজে পেয়েছেন অলিভিয়া পিকোলো নামে এক মা। গত বুধবার, ৭ অক্টোবর, ব্রেভার্ড কাউন্টির কোকো শহরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৩৭ বছর বয়সী জোসেফ ডিংওয়াল তাঁর সাত বছরের ছেলে রেমি ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরিয়াকে গু লি করে হ ত্যা করার পর নিজেও আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। কোকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিজের কাছে নেওয়ার নির্ধারিত দিনে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন অলিভিয়া। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সরেন্টো ড্রাইভে জোসেফের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দরজাটি কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে দুই সন্তান ও তাদের বাবাকে মৃ ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপর দুপুরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন অলিভিয়া। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্তানদের হারানোর শোক এবং তাদের বাবার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অলিভিয়া। তাঁর পোস্ট উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তানদের নিরাপত্তা ও দেখভালের দায়িত্ব যাঁর ওপর ছিল, তাঁর কাছ থেকেই এমন পরিণতি আসবে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়েও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা তাঁর কাছে বড় বলে জানিয়েছেন তিনি। অলিভিয়া আরও বলেছেন, রেমি ও আরিয়ার মা হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সন্তানদের জীবনের পরিচয় যেন শুধু তাদের মৃ ত্যুর ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই তাঁর চাওয়া। বরং তারা কেমন ছিল, তাদের ভালোবাসা, স্বভাব ও একসঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোই মানুষের মনে বেঁচে থাকুক—এমনটাই চান তিনি। আরেকটি পোস্টে সন্তানদের কাপড় ধোয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অলিভিয়া। ওয়াশিং মেশিনে পড়ে থাকা ছোট ছোট মোজা ও জামাকাপড় দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ব্যবহৃত এসব ছোট জিনিস তাঁর কাছে তাদের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময় পার করতে সন্তানদের স্মৃতিই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিবেশীরাও হতবাক হয়ে পড়েছেন। রাস্তার বিপরীতে বসবাসকারী মার্কোস গার্সিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে, মধ্যরাতের দিকে তিনি দুটি জোরালো শব্দ শুনেছিলেন। তাঁর কাছে শব্দগুলো গু লির শব্দ বলে মনে হয়েছিল। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ওই সময় বাড়ির বাইরে একজনকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে শুধু শব্দ শোনার সময়ের ভিত্তিতে মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা যায়নি। কোকো পুলিশপ্রধান ইভ্যান্ডার কলিয়ার জানিয়েছেন, ওই সময়ে গু লির শব্দের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো জরুরি ফোন আসেনি। তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে বাড়িটিতে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ১১ বার পুলিশ ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ছিল। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কেন দুই শিশুর জীবন এমনভাবে শেষ হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে শিশুদের শেষকৃত্যের খরচ বহন এবং অলিভিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিবারের বন্ধুদের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:৫০
এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার পদে আবেদনের সুযোগ
নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরির সম্পূর্ন গাইড, জেনে নিন যোগ্যতা ও পরীক্ষার নিয়ম

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগ এনওয়াইপিডিতে পুলিশ অফিসার হওয়ার পরীক্ষায় আবেদন চলছে। ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ৭৩১৪ নম্বর পরীক্ষায় আবেদনের শেষ দিন ১৪ অক্টোবর ২০২৬। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ থেকে ৭ নভেম্বর। আবেদন ফি নেই। তবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরি পেতে স্বাস্থ্য, মানসিক সক্ষমতা, শারীরিক যোগ্যতা ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের ধাপগুলো পেরোতে হবে।   আবেদন করতে হবে ডিসিএএসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম ওএসিসে। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলে পুলিশ অফিসার পরীক্ষাটি নির্বাচন করে নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। ফি দেওয়ার পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে ‘নো ফি’।   বয়সের শর্তে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরীক্ষার দিনে বয়স অন্তত ১৭ বছর হতে হবে। নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বয়স ২০ বছর ছয় মাস। আবেদন জমা দেওয়ার দিনে বয়স ৪৩ বছরের নিচে থাকতে হবে। যোগ্য সামরিক সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত বয়স থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   শিক্ষাগত যোগ্যতায় হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের সনদের পাশাপাশি স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত ২৪ সেমিস্টার ক্রেডিট এবং ন্যূনতম ২.০ জিপিএ প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দুই বছরের পূর্ণকালীন সেবা গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে পড়াশোনা করলে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান মূল্যায়ন করাতে হবে।   নিয়োগের সময় ইউএস সিটিজেন হতে হবে এবং বৈধ, বিধিনিষেধমুক্ত নিউইয়র্ক স্টেট ড্রাইভার লাইসেন্স থাকতে হবে। বাসস্থান হতে হবে নিউইয়র্ক সিটির পাঁচ বরোর কোনো একটিতে অথবা নাসাউ, সাফোক, রকল্যান্ড, ওয়েস্টচেস্টার, পুটনাম কিংবা অরেঞ্জ কাউন্টিতে।   চাকরির প্রক্রিয়া শুরু হয় লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে। এরপর মেডিকেল পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন, ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্ত, শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা এবং ড্রাগ ও অ্যালকোহল স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে হয়। এনওয়াইপিডির নিয়োগ নির্দেশনায় এসব ধাপ সফলভাবে শেষ করার শর্ত রয়েছে।   মেডিকেল ও সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়নে পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালনের উপযোগিতা পরীক্ষা করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড তদন্তে প্রার্থীর চরিত্র ও পূর্ববর্তী আচরণ বিবেচনায় আসে। ফেলনি বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সসংক্রান্ত মিসডিমিনরে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং সামরিক বাহিনী থেকে ডিসঅনারেবল ডিসচার্জ অযোগ্যতার কারণ। খারাপ আচরণের জন্য চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া, সহিংসতার প্রবণতা কিংবা আইন অমান্যের ইতিহাসও অযোগ্য বিবেচিত হওয়ার কারণ হতে পারে।   শারীরিক পরীক্ষাটির নাম জব স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বা জেএসটি। এনওয়াইপিডির প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটানা পরীক্ষাটি চার মিনিট ২৮ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ করতে হয়। এতে ৫০ ফুট স্প্রিন্ট করে বেড়া পার হওয়া, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, কাউকে শারীরিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মহড়া এবং ধাওয়ার দৌড় রয়েছে। পাশাপাশি ১৭৬ পাউন্ড ওজনের ম্যানিকুইন ৩৫ ফুট টেনে নেওয়া ও গুলিবিহীন আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার একাধিকবার টানার কাজ করতে হয়।   নিয়োগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ক্যান্ডিডেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারে ৭১৮ ৩১২ ৪২২৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।   নিয়োগের পর পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সেখানে আইন, অপরাধ তদন্ত, সাংবিধানিক অধিকার ও সংকট মোকাবিলার মতো বিষয় শেখানো হয়। কলেজ ক্রেডিটের শর্ত ৬০ থেকে ২৪ করার সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে। একই ঘোষণায় একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য এক দশমিক পাঁচ মাইল দৌড় ১৪ মিনিট ২১ সেকেন্ডের কম সময়ে শেষ করার শর্ত পুনর্বহালের কথা জানানো হয়।   বেতন সম্পর্কে এনওয়াইপিডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুরুর বার্ষিক বেতন ৫৮ হাজার ৫৮০ ডলার এবং সাড়ে পাঁচ বছর পর ১ লাখ ২১ হাজার ৫৮৯ ডলার। এই অঙ্কে ওভারটাইম ও রাতের ডিউটির অতিরিক্ত পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত নেই। একাডেমির প্রশিক্ষণের প্রথম দিন থেকেই পূর্ণ বেতন ও সুবিধা পাওয়া যায়।   সুবিধার মধ্যে রয়েছে হেলথ বেনিফিটের বিভিন্ন প্যাকেজ, প্রেসক্রিপশন, ডেন্টাল ও ভিশন কভারেজ, বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটি এবং অবসর সঞ্চয়ের ব্যবস্থা। ছয় বছর চাকরির পর বছরে ২৭ দিন বেতনসহ ভ্যাকেশন পাওয়া যায়। পদোন্নতির মাধ্যমে সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:৩২
১৯ বছরের অভিজ্ঞতার পরও আট মাস ধরে চাকরিহীন থমাস রোমান
১৯ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়েও আট মাস বেকার প্রিন্সটনের সাবেক কর্মী, হতাশায় পরিবার

প্রায় ১৯ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়েও চাকরি হারানোর আট মাস পর নতুন কাজ পাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির সাবেক কর্মী থমাস রোমান। লিংকডইনে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, অসংখ্য আবেদন, রিক্রুটারদের সঙ্গে আলোচনা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতির পরও তাঁর চাকরির সন্ধান চলছে।   রোমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেট কমানোর কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তাঁর পদটি বাতিল হয়। আকস্মিকভাবে কাজ হারানোর পর থেকেই আবার কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে আট মাসের চেষ্টাতেও নতুন চাকরি নিশ্চিত করতে পারেননি।   নিজের পরিস্থিতি প্রকাশ করা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন রোমান। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পোস্টগুলোর একটি। তবু নিজের সংকোচ সরিয়ে চাকরি খোঁজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি সহানুভূতি চাইছি না।’   রোমান জানিয়েছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু একটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পণ্য ও সেবা কেনার প্রক্রিয়া, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ভবন ও স্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন।   নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের মজুত সামলেছেন, প্রতিষ্ঠানের খরচ কমাতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কর্মীদের দল পরিচালনা করেছেন। দক্ষ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এরপরও নতুন চাকরি খোঁজার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।   রোমানের বক্তব্যে চাকরি হারানোর পর একজন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানে কাজের পটভূমি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান হয়নি। চাকরি খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সেই বাস্তবতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:২২
রামপুরে পারিবারিক বিরোধের জেরে তরুণের বিরুদ্ধে হ ত্যার অভিযোগ
৪৯ বছর বয়সী মায়ের ২৫ বছরের স্বামীকে হ ত্যার অভিযোগ, নিউজিল্যান্ডফেরত ছেলে গ্রে প্তার

ভারতের উত্তর প্রদেশে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ বাবাকে গু লি করে হ ত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ের নতুন সংসার মেনে নিতে না পেরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের রামপুরে আসেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি সার্ভিস সেন্টারের সামনে ওই তরুণের সৎ বাবা নভজোত সিংকে গু লি করে হ ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার অভিযুক্ত তরুণ এবং তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রে প্তার হওয়া তরুণের নাম অবদীপ সিং। তিনি নিউজিল্যান্ডের একটি ডেইরি ফার্মে কাজ করেন। এ ঘটনায় গ্রে প্তার অপর ব্যক্তি রাজনদীপ সিং রামপুরের বাসিন্দা এবং অবদীপের আত্মীয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নভজোত সিংয়ের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর স্ত্রী কমল কৌরের বয়স ৪৯ বছর। প্রথম স্ত্রীর মৃ ত্যুর পর প্রায় নয় মাস আগে বিধবা কমলকে বিয়ে করেন নভজোত। তাঁদের বসবাসের জায়গাও ছিল কাছাকাছি। তবে কমলের দুই ছেলে অবদীপ ও যোগনপ্রীত সিং মায়ের এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়ার পর দুই ভাই নিউজিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। নিহতের এক আত্মীয়ের দাবি, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সমস্যা মেটাতে স্থানীয়ভাবে একটি পঞ্চায়েতও বসানো হয়। ওই আত্মীয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও দুই ভাই নভজোতকে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। নভজোত রামপুরের তাহ কালান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষক নিশান সিংয়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর চাচা জগদীপ গিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নভজোতের প্রথম স্ত্রী বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় নভজোতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি মুক্তি পান। পরে কুমহারিয়া কালান মোড়ে একটি গাড়ি সার্ভিস সেন্টার চালু করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওই সার্ভিস সেন্টারেই ছিলেন নভজোত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় একটি গাড়িতে করে কয়েকজন সেখানে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা নভজোতকে লক্ষ্য করে একাধিক গু লি ছোড়েন। এতে তাঁর বুকের কয়েকটি স্থানে গু লি লাগে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সার্ভিস সেন্টারের সামনে লোকজন জড়ো হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নভজোতকে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে নেওয়ার পরপরই তাঁর মৃ ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের শান্ত করে। এরপর নভজোতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রামপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, অবদীপ ও রাজনদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবদীপ ঠিক কবে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেছেন, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। নভজোতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মিলক খানাম থানায় আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কমল কৌরের দুই ছেলে এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। তবে মামলায় নাম থাকা সবার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:১১
নিউইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল ও স্থানীয় বিরোধ
অভিবাসী আটক নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধ, আইসিইর ১৬ হাজার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৪৫
মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করে ১০ হাজার ডলার পেলেন মায়া
এক বছর ধরে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা, ৩৬৫তম দিনে পেলেন ১০ হাজার ডলার

এক বছর ধরে ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সফল হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তরুণী মায়া গুপ্তা। টানা ৩৬৫ দিনের প্রচেষ্টার শেষ দিনে জনপ্রিয় এই কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে দেখা হয় তার। এ সময় নিজের কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ করতে মিস্টার বিস্টের কাছ থেকে ১০ হাজার ডলার সহায়তা পান মায়া।   মায়া গুপ্তার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল গুজরাটের সুরাট শহর থেকে। লক্ষ্য ছিল একটাই—বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্টের নজরে আসা এবং সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করা। প্রথমে এটি ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচেষ্টা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ তার এই ব্যতিক্রমী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@mayaforbeast’-এ নিয়মিত অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরতেন মায়া। প্রতিদিনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি কত দিন বাকি রয়েছে, সেটিও অনুসারীদের জানাতেন তিনি। এভাবে এক দিনের পর আরেক দিন পার করে এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। তার পোস্টগুলো ঘিরে অনলাইনে আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন এবং শেষ পর্যন্ত মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তা জানার অপেক্ষায় থাকেন। চ্যালেঞ্জের ৩৬১তম দিনে মায়া জানান, আর মাত্র চার দিন বাকি। এক বছর আগে একা শুরু করা এই উদ্যোগ যে এত মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে, সেটিও তখন তার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছে তিনি নিজের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তবে মায়ার এই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু একজন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকার সঙ্গে দেখা করা ছিল না। পুরো বছরজুড়ে তিনি নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ফলে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার ব্যক্তিগত লক্ষ্যটির সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যও। মিস্টার বিস্টের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় মায়া জানান, মিস্টার বিস্ট তার কাছে ইমেইল ঠিকানা ও হোয়াটসঅ্যাপের যোগাযোগের তথ্য চেয়েছেন। এই খবর প্রকাশের পর তার অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। এরপরও মায়া নিয়মিত নিজের উদ্যোগের খবর জানাতে থাকেন এবং নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার অপেক্ষা করেন। অবশেষে চ্যালেঞ্জের ৩৬৫তম দিনে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তিনি। এক বছরের প্রচেষ্টার পর এই সাক্ষাৎ মায়ার জন্য বড় সাফল্য হয়ে আসে। সাক্ষাতের সময় মিস্টার বিস্ট তাকে ১০ হাজার ডলার দেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় নয়, ভারতীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৫৭ হাজার রুপি। অর্থটি নিজের কমিউনিটির মানুষের জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। মায়ার এই সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানান। কেউ তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন, আবার কেউ মানুষের জন্য কাজ করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। মন্তব্যে একজন লেখেন, অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আরেকজন মায়ার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানান। অন্য একজন মন্তব্য করেন, তার কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। মিস্টার বিস্ট বড় পরিসরের চ্যালেঞ্জ, ব্যতিক্রমী আয়োজন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ভিডিওর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার ভিডিওতে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগও উঠে আসে। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য মায়ার এক বছরের প্রচেষ্টা এবং শেষ দিনে পাওয়া অর্থসহায়তা সেই পরিচিতির সঙ্গে নতুন একটি ঘটনা যুক্ত করেছে। মায়ার এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেননি; একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। এক বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে তার যাত্রাটি অনলাইনে মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে। মিস্টার বিস্টের কাছ থেকে পাওয়া ১০ হাজার ডলার এখন তার কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৩১
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:১৬
কফি ও অন্ত্রের জীবাণু নিয়ে নতুন গবেষণা
দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা

নিয়মিত কফি পান করা হঠাৎ বন্ধ রাখলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের গবেষকেরা ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে, কফি পানকারীদের অন্ত্রের জীবাণু ও সেগুলোর তৈরি রাসায়নিক উপাদানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। কফি আবার পান শুরু করার পর মেজাজ, মানসিক চাপ এবং কিছু জ্ঞানীয় কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কফির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা কফি পান, অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ফলাফলগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কফি পান এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেই একটি অন্যটির সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন নিয়মিত কফি পান করতেন না। অন্য ৩১ জন সাধারণত প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করতেন। প্রথমে দুই দলের অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকজাত রাসায়নিক উপাদান, মেজাজ, মানসিক চাপ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি মূল্যায়ন করা হয়। এরপর নিয়মিত কফি পানকারীদের টানা দুই সপ্তাহ কফি পান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। দুই সপ্তাহ পর অংশগ্রহণকারীদের আবার কফি পান করতে দেওয়া হয়। তাঁদের এক দল ক্যাফেইনযুক্ত এবং অন্য দল ক্যাফেইনমুক্ত কফি পান করেন। এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা জানতেন না, তাঁদের কোন ধরনের কফি দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় কফি পান করার এই পর্যায় চলে তিন সপ্তাহ। কফি বন্ধ করায় অন্ত্রে কী পরিবর্তন দেখা গেল   গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি পাওয়া যায় অন্ত্রের বিপাকজাত উপাদানে। এসব উপাদান হলো শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের জীবাণুর কার্যক্রমের ফলে তৈরি বা পরিবর্তিত হওয়া ক্ষুদ্র রাসায়নিক পদার্থ। নিয়মিত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ কফি বন্ধ রাখার পর এসব উপাদানের কয়েকটির মাত্রা বদলে যায়। গবেষকেরা অন্ত্রের জীবাণুর গঠনেও পার্থক্য শনাক্ত করেন। নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রে ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম এবং এগারথেলা গোত্রের কিছু জীবাণু তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহ কফি পান বন্ধ রাখার সময় ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম–এর উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কফি পুনরায় পান শুরু করলে অন্ত্রের জীবাণুর গঠনে আবার পরিবর্তন আসে। ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—উভয় ধরনের কফির ক্ষেত্রেই কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানেই তা শরীরের জন্য উপকারী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। জীবাণুর প্রভাব নির্ভর করে তার ধরন, কার্যক্রম এবং অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কফির সঙ্গে সম্পর্কিত এসব পরিবর্তন কীভাবে হজম, প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, তা আরও বিশদভাবে বোঝা প্রয়োজন। ক্যাফেইনমুক্ত কফিতেও মিলেছে কিছু পরিবর্তন কফি পুনরায় পান করার পর দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই নিজেদের অনুভূত মানসিক চাপ, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং আবেগপ্রবণ আচরণের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। যেহেতু ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—দুই ধরনের কফি পানকারীদের মধ্যেই এ পরিবর্তন পাওয়া গেছে, তাই এর পেছনে ক্যাফেইন ছাড়াও কফির অন্য উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুই দলের মধ্যে শেখা ও স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায়ও পার্থক্য দেখা যায়। ক্যাফেইনমুক্ত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে শেখা ও স্মৃতির কিছু সূচকে উন্নতি পাওয়া যায়, যা ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারীদের মধ্যে একইভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ক্যাফেইনযুক্ত কফির সঙ্গে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়া এবং উদ্বেগ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে ক্যাফেইন ছাড়াও পলিফেনলসহ নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এর মধ্যে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য। এসব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্ত্রের জীবাণু এগুলোকে ভেঙে আরও কিছু সক্রিয় উপাদানে রূপান্তর করতে পারে। কফির দ্রবণীয় আঁশ ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদানও অন্ত্রের জীবাণুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। ফলে কফির প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গবেষকেরা কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন   গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের অধ্যাপক জন ক্রায়ান বলেছেন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কফি কীভাবে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, তার সব প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। গবেষণাটি এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এতে কেবল সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই ফলাফল সব বয়সী মানুষ কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই রকম হবে, তা বলা যায় না। গবেষকেরা আরও বলেছেন, ব্যক্তিভেদে অন্ত্রের জীবাণুর গঠন এবং ক্যাফেইন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আলাদা হতে পারে। গবেষণার প্রধান বার্তা হলো, কফি পান ও শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কফি অন্ত্রের অসুস্থতা, বিষণ্নতা কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার চিকিৎসা—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই গবেষণা সমর্থন করে না। কফি খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, ঘুম ও ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৪