সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
নিউইয়র্কে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল ও স্থানীয় বিরোধ
অভিবাসী আটক নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধ, আইসিইর ১৬ হাজার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৪৫
মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করে ১০ হাজার ডলার পেলেন মায়া
এক বছর ধরে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা, ৩৬৫তম দিনে পেলেন ১০ হাজার ডলার

এক বছর ধরে ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে সফল হয়েছেন ভারতের গুজরাটের তরুণী মায়া গুপ্তা। টানা ৩৬৫ দিনের প্রচেষ্টার শেষ দিনে জনপ্রিয় এই কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে দেখা হয় তার। এ সময় নিজের কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ করতে মিস্টার বিস্টের কাছ থেকে ১০ হাজার ডলার সহায়তা পান মায়া।   মায়া গুপ্তার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল গুজরাটের সুরাট শহর থেকে। লক্ষ্য ছিল একটাই—বিশ্বজুড়ে পরিচিত ইউটিউব তারকা মিস্টার বিস্টের নজরে আসা এবং সরাসরি তার সঙ্গে দেখা করা। প্রথমে এটি ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচেষ্টা ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ তার এই ব্যতিক্রমী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ‘@mayaforbeast’-এ নিয়মিত অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরতেন মায়া। প্রতিদিনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি কত দিন বাকি রয়েছে, সেটিও অনুসারীদের জানাতেন তিনি। এভাবে এক দিনের পর আরেক দিন পার করে এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। তার পোস্টগুলো ঘিরে অনলাইনে আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন এবং শেষ পর্যন্ত মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তা জানার অপেক্ষায় থাকেন। চ্যালেঞ্জের ৩৬১তম দিনে মায়া জানান, আর মাত্র চার দিন বাকি। এক বছর আগে একা শুরু করা এই উদ্যোগ যে এত মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে, সেটিও তখন তার কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। নির্ধারিত সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছে তিনি নিজের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। তবে মায়ার এই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু একজন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকার সঙ্গে দেখা করা ছিল না। পুরো বছরজুড়ে তিনি নিজের এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। ফলে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার ব্যক্তিগত লক্ষ্যটির সঙ্গে যুক্ত হয় সমাজের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যও। মিস্টার বিস্টের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময় মায়া জানান, মিস্টার বিস্ট তার কাছে ইমেইল ঠিকানা ও হোয়াটসঅ্যাপের যোগাযোগের তথ্য চেয়েছেন। এই খবর প্রকাশের পর তার অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। এরপরও মায়া নিয়মিত নিজের উদ্যোগের খবর জানাতে থাকেন এবং নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার অপেক্ষা করেন। অবশেষে চ্যালেঞ্জের ৩৬৫তম দিনে মিস্টার বিস্টের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তিনি। এক বছরের প্রচেষ্টার পর এই সাক্ষাৎ মায়ার জন্য বড় সাফল্য হয়ে আসে। সাক্ষাতের সময় মিস্টার বিস্ট তাকে ১০ হাজার ডলার দেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় নয়, ভারতীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৫৭ হাজার রুপি। অর্থটি নিজের কমিউনিটির মানুষের জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। মায়ার এই সাফল্যের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানান। কেউ তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন, আবার কেউ মানুষের জন্য কাজ করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। মন্তব্যে একজন লেখেন, অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আরেকজন মায়ার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানান। অন্য একজন মন্তব্য করেন, তার কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। মিস্টার বিস্ট বড় পরিসরের চ্যালেঞ্জ, ব্যতিক্রমী আয়োজন এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ভিডিওর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তার ভিডিওতে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগও উঠে আসে। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য মায়ার এক বছরের প্রচেষ্টা এবং শেষ দিনে পাওয়া অর্থসহায়তা সেই পরিচিতির সঙ্গে নতুন একটি ঘটনা যুক্ত করেছে। মায়ার এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেননি; একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জন্য কাজ করার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। এক বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎ—সব মিলিয়ে তার যাত্রাটি অনলাইনে মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে। মিস্টার বিস্টের কাছ থেকে পাওয়া ১০ হাজার ডলার এখন তার কমিউনিটির মানুষের জন্য কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৩১
অস্ট্রেলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সামিয়া মালিক
অস্ট্রেলিয়ায় সড়কে নামাজ পড়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু, চালকের সাজা স্থগিত

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে প্রার্থনার ভঙ্গিতে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় নি হ ত হন পাকিস্তানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সামিয়া মালিক। এ ঘটনায় গাড়িচালক অ্যাশটন জ্যাকব ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে সাজাটি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১০ বছর গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৬ মে। অ্যাডিলেডের হিলক্রেস্ট এলাকার নর্থ ইস্ট রোডে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী সামিয়া। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার আগে তিনি প্রায় চার মিনিট ধরে সড়কের ওপর হাঁটু গেড়ে ছিলেন। তার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি প্রার্থনা করছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি সড়কের ওপর অবস্থান করছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের বাসিন্দা সামিয়া উন্নত ভবিষ্যতের আশায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের জীবনেও পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অল্প বয়সেই তার আকস্মিক মৃ ত্যুতে পাকিস্তানে থাকা স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। স্বজন হারানোর মানসিক কষ্টের পাশাপাশি তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং শেষকৃত্যের খরচ নিয়েও পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। আদালতে জানানো হয়, দুর্ঘটনার সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন অ্যাশটন ফ্রেন্ড। ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১৯ বছর। তিনি নির্ধারিত গতিসীমার নিচে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মদ বা মাদক গ্রহণের প্রভাবে ছিলেন না। তবে সংঘর্ষের আগে গাড়ির পেছনের দৃশ্য দেখার আয়নায় তাকিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সামিয়াকে দেখতে পেলে বা পরিস্থিতি বুঝতে পারলে দুর্ঘটনা এড়ানোর সুযোগ থাকতে পারত। ফ্রেন্ড আদালতে স্বীকার করেন, সামিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনি গাড়ি থামাননি। তার দাবি, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, গাড়ির ধাক্কায় হয়তো একটি ক্যাঙ্গারু আঘাত পেয়েছে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর দেখার পর তিনি বুঝতে পারেন, সড়কে একজন মানুষকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছিল। তবে সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে না থামার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে অসতর্কভাবে গাড়ি চালিয়ে একজনের মৃ ত্যু ঘটানো এবং দুর্ঘটনায় মৃ ত্যুর পর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি উভয় অভিযোগেই দোষ স্বীকার করেন। বিচারক অ্যান বার্নেট ফ্রেন্ডকে এক বছর তিন মাস ২৯ দিনের কারাদণ্ড দেন। এর মধ্যে আট মাসের আগে প্যারোলের সুযোগ না থাকার বিধান রাখা হয়। তবে সাজা কার্যকর না করে দুই বছরের জন্য ভালো আচরণের শর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের জন্য তাকে ৫০০ ডলারের বন্ডে থাকতে হবে। একই সঙ্গে ১০ বছরের জন্য গাড়ি চালানোর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারক ফ্রেন্ডের বয়স, অনুশোচনা, ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের সম্ভাবনা এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হলো, তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও নির্ধারিত শর্ত মেনে চললে আপাতত কারাগারে যেতে হবে না। এর আগে আদালতে সামিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ফ্রেন্ড। নিজের কাজ এবং দুর্ঘটনার পর গাড়ি না থামানোর দায়ও তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা একদিকে সামিয়ার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সড়কে চালকের মনোযোগ ও দুর্ঘটনার পর দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সামনে এনেছে। আদালতের রায়ে চালকের কারাদণ্ড স্থগিত হলেও সামিয়ার পরিবারকে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:১৬
কফি ও অন্ত্রের জীবাণু নিয়ে নতুন গবেষণা
দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা

নিয়মিত কফি পান করা হঠাৎ বন্ধ রাখলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের গবেষকেরা ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখা গেছে, কফি পানকারীদের অন্ত্রের জীবাণু ও সেগুলোর তৈরি রাসায়নিক উপাদানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। কফি আবার পান শুরু করার পর মেজাজ, মানসিক চাপ এবং কিছু জ্ঞানীয় কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, কফির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল নাও হতে পারে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা কফি পান, অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকপ্রক্রিয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমের মধ্যকার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করেছেন। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ফলাফলগুলোকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। কফি পান এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেলেই একটি অন্যটির সরাসরি কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ৩১ জন নিয়মিত কফি পান করতেন না। অন্য ৩১ জন সাধারণত প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করতেন। প্রথমে দুই দলের অন্ত্রের জীবাণু, বিপাকজাত রাসায়নিক উপাদান, মেজাজ, মানসিক চাপ, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি মূল্যায়ন করা হয়। এরপর নিয়মিত কফি পানকারীদের টানা দুই সপ্তাহ কফি পান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এ সময় তাঁদের শারীরিক ও আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। দুই সপ্তাহ পর অংশগ্রহণকারীদের আবার কফি পান করতে দেওয়া হয়। তাঁদের এক দল ক্যাফেইনযুক্ত এবং অন্য দল ক্যাফেইনমুক্ত কফি পান করেন। এই পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা জানতেন না, তাঁদের কোন ধরনের কফি দেওয়া হচ্ছে। পুনরায় কফি পান করার এই পর্যায় চলে তিন সপ্তাহ। কফি বন্ধ করায় অন্ত্রে কী পরিবর্তন দেখা গেল   গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি পাওয়া যায় অন্ত্রের বিপাকজাত উপাদানে। এসব উপাদান হলো শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের জীবাণুর কার্যক্রমের ফলে তৈরি বা পরিবর্তিত হওয়া ক্ষুদ্র রাসায়নিক পদার্থ। নিয়মিত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ কফি বন্ধ রাখার পর এসব উপাদানের কয়েকটির মাত্রা বদলে যায়। গবেষকেরা অন্ত্রের জীবাণুর গঠনেও পার্থক্য শনাক্ত করেন। নিয়মিত কফি পানকারীদের অন্ত্রে ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম এবং এগারথেলা গোত্রের কিছু জীবাণু তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহ কফি পান বন্ধ রাখার সময় ক্রিপটোব্যাকটেরিয়াম কার্টাম–এর উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। কফি পুনরায় পান শুরু করলে অন্ত্রের জীবাণুর গঠনে আবার পরিবর্তন আসে। ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—উভয় ধরনের কফির ক্ষেত্রেই কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া মানেই তা শরীরের জন্য উপকারী, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। জীবাণুর প্রভাব নির্ভর করে তার ধরন, কার্যক্রম এবং অন্ত্রের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কফির সঙ্গে সম্পর্কিত এসব পরিবর্তন কীভাবে হজম, প্রদাহ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, তা আরও বিশদভাবে বোঝা প্রয়োজন। ক্যাফেইনমুক্ত কফিতেও মিলেছে কিছু পরিবর্তন কফি পুনরায় পান করার পর দুই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেই নিজেদের অনুভূত মানসিক চাপ, বিষণ্নতার উপসর্গ এবং আবেগপ্রবণ আচরণের কিছু সূচকে উন্নতি দেখা যায়। যেহেতু ক্যাফেইনযুক্ত ও ক্যাফেইনমুক্ত—দুই ধরনের কফি পানকারীদের মধ্যেই এ পরিবর্তন পাওয়া গেছে, তাই এর পেছনে ক্যাফেইন ছাড়াও কফির অন্য উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। দুই দলের মধ্যে শেখা ও স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায়ও পার্থক্য দেখা যায়। ক্যাফেইনমুক্ত কফি পানকারীদের ক্ষেত্রে শেখা ও স্মৃতির কিছু সূচকে উন্নতি পাওয়া যায়, যা ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারীদের মধ্যে একইভাবে দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ক্যাফেইনযুক্ত কফির সঙ্গে মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়া এবং উদ্বেগ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কফিতে ক্যাফেইন ছাড়াও পলিফেনলসহ নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এর মধ্যে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য। এসব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্ত্রের জীবাণু এগুলোকে ভেঙে আরও কিছু সক্রিয় উপাদানে রূপান্তর করতে পারে। কফির দ্রবণীয় আঁশ ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদানও অন্ত্রের জীবাণুর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। ফলে কফির প্রভাব শুধু ক্যাফেইনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। গবেষকেরা কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন   গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্কের অধ্যাপক জন ক্রায়ান বলেছেন, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তবে কফি কীভাবে অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, তার সব প্রক্রিয়া এখনো পরিষ্কার নয়। গবেষণাটি এ বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এতে কেবল সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই ফলাফল সব বয়সী মানুষ কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই রকম হবে, তা বলা যায় না। গবেষকেরা আরও বলেছেন, ব্যক্তিভেদে অন্ত্রের জীবাণুর গঠন এবং ক্যাফেইন প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা আলাদা হতে পারে। গবেষণার প্রধান বার্তা হলো, কফি পান ও শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু কফি অন্ত্রের অসুস্থতা, বিষণ্নতা কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার চিকিৎসা—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এই গবেষণা সমর্থন করে না। কফি খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, ঘুম ও ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৭:৪
পেনসিলভানিয়ায় গুলির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোক
গর্ভবতী মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ আটজনকে গু লি, পেনসিলভানিয়ায় মর্মান্তিক পারিবারিক ট্র্যাজেডি

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে এক ভয়াবহ পারিবারিক গুলির ঘটনায় গর্ভবতী মেয়ে, দুই নাতি-নাতনি ও অন্য স্বজনসহ আটজন নি হ ত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও মারা গেছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিকেলে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ছিলেন নিহতদের মধ্যে সাতজনের স্বজন এবং এক নারীর বন্ধু ছিলেন অষ্টম ভুক্তভোগী। সব মিলিয়ে হামলাকারীসহ মৃ ত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।   নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিনা স্টোন নামে এক তরুণী, যিনি তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁর অনাগত সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল কাইরি। এ ছাড়া তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ইসাইয়া এবং এক বছর বয়সী মেয়ে আমারিয়ানাও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনাগত শিশুটির জন্ম হওয়ার কথা ছিল ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই। নিহতদের পরিচয় নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উদ্যোগে চালু করা অনুদান সংগ্রহের পাতায় কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লোরা রবার্টস ও টুইলা ট্যানারের নামও রয়েছে। তাঁদের দুজনই শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে গিয়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এরি শহরের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার কিছু আগে শহরের পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়ির কাছে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থা থেকে সতর্কবার্তা পায় পুলিশ। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কর্মকর্তারা। সেখানে বাড়ির বাইরে দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতরেও একাধিক ব্যক্তিকে নি হ ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানান, তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতর থেকে গুলির শব্দ শোনার প্রমাণ পেয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর দুই নারী বাড়িটির সামনে এসে দরজায় জোরে আঘাত করতে থাকেন। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং ভেতরে কী ঘটছে, তা নিয়ে সাহায্য চাইছিলেন। তদন্তকারীদের হাতে থাকা ভিডিও ও অডিও ফুটেজে ঘটনার এই অংশ উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরে এসে দুই নারীর দিকে গুলি চালান। এরপর তিনি আবার বাড়ির ভেতরে চলে যান। পরে পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করে একাধিক মরদেহ উদ্ধার করে। নিরাপত্তার কারণে কর্মকর্তারা ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব ভুক্তভোগীর মৃ ত্যু হয়েছিল বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিশুদের বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিলেন দুই নারী অনুদান সংগ্রহের পাতায় টুইলা ট্যানারকে স্মরণ করে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর তিনি এক বন্ধুকে তাঁর পরিবারকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই সময় তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের সাহায্যে এগিয়ে যান। তাঁর বয়স ছিল ৫১ বছর। অন্যদিকে, ৩৭ বছর বয়সী লোরা রবার্টসকেও সাহসী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন স্বজনেরা। তাঁর স্মরণে তৈরি অনুদান সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, অন্য একজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। লোরা পাঁচ সন্তানের মা ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের সঙ্গী জেরেমির সঙ্গে তাঁর বাগদান হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে ওই দুই নারীর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কারণ এবং বাড়ির ভেতরে কী ঘটছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ফোনসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বজনদের শোক ও তদন্ত নিহত ছোট্ট আমারিয়ানার বাবা জুলিয়াস উইন্ডহাম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁর মেয়েকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি মেয়েটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর শিশুগুলোর একজন হিসেবে বর্ণনা করেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক স্বজন বলেন, নিহত শিশুরা এমন পরিণতির যোগ্য ছিল না। পরিবারের সদস্যদের যথাযথ মর্যাদায় শেষ বিদায় জানাতে তাঁরা চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা দীর্ঘদিন এরি শহরের মানুষের স্মৃতিতে থেকে যাবে। এদিকে, হামলার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশপ্রধান জানিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় প্রকাশের আগে জীবিত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছিল। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ সম্পর্কে অনুমান না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। ঘটনার পর শহরটির বাসিন্দারা বাড়িটির বাইরে ফুল, মোমবাতি ও শিশুদের খেলনা রেখে নিহতদের স্মরণ করেন। স্থানীয় প্রশাসন শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, হামলার কারণ এবং ওই পরিবারের মধ্যে আগে কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:৪৮
অর্থনীতিতে ২০২৬ সালের নোবেলজয়ী রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড
মূল্যস্ফীতি ও মন্দা মোকাবিলার অর্থনৈতিক মডেলে অবদানে নোবেল পেলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ

অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনীতির ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি, মন্দা ও অন্যান্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সোমবার, ১২ অক্টোবর, সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। তাঁদের যে গবেষণার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার মূল বিষয় হলো সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার পেছনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত কীভাবে কাজ করে। অর্থনীতির ভাষায় বিষয়টি পরিচিত ‘মাইক্রোইকোনমিক ফাউন্ডেশনস অব ম্যাক্রোইকোনমিক স্ট্যাবিলাইজেশন’ নামে। সহজভাবে বললে, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত কীভাবে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করে, তা বিশ্লেষণের তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তুলতে তাঁদের কাজ সহায়তা করেছে। কেন নোবেল পেলেন হল ও উডফোর্ড   অর্থনীতি সব সময় একই গতিতে এগোয় না। কখনো উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ভোগ বাড়ে; আবার কখনো মানুষের ব্যয় কমে যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ পিছিয়ে দেয় এবং কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি হয়। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া কিংবা ভোক্তাদের চাহিদায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো ঘটনাও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে ঋণ নেওয়া, সঞ্চয় ও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে সরকার সরকারি ব্যয় ও করনীতিতে পরিবর্তন এনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে পরিবার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর। হল ও উডফোর্ডের গবেষণা অর্থনৈতিক মডেল তৈরিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে নীতিগত পরিবর্তন মানুষের ভোগব্যয়, ব্যবসার বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে তেলের সংকটের সময় অর্থনীতিবিদেরা দেখেছিলেন, প্রচলিত কিছু অর্থনৈতিক মডেল দিয়ে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের মতো সমস্যা যথাযথভাবে মোকাবিলা করা কঠিন। তখন প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, উচ্চ বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি একসঙ্গে পশ্চিমা অর্থনীতিগুলোকে চাপে ফেলে। এ প্রেক্ষাপটে সামষ্টিক অর্থনীতির মডেলকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। হল ও উডফোর্ডের গবেষণা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার নীতি বিশ্লেষণে নতুন তাত্ত্বিক কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। কে এই মাইকেল উডফোর্ড মাইকেল উডফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। মুদ্রানীতি, অর্থনৈতিক প্রত্যাশা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে পরিচিত। সুদের হার পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার মাধ্যমেও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে—উডফোর্ডের গবেষণায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ পদ্ধতিকে অর্থনীতিতে ‘ফরওয়ার্ড গাইড্যান্স’ বলা হয়। মানুষ ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি বা সুদের হার বাড়বে, নাকি কমবে—এমন প্রত্যাশার ভিত্তিতে বর্তমানের ব্যয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত বার্তা শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, বর্তমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আধুনিক মুদ্রানীতি বিশ্লেষণে উডফোর্ডের গবেষণা এ কারণেই ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। রবার্ট ই. হলের গবেষণার গুরুত্ব রবার্ট ই. হল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনীতি, মানুষের ভোগব্যয়, কর্মসংস্থান এবং শ্রমবাজারের কার্যক্রম। পরিবারগুলো কীভাবে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্ত কীভাবে সামগ্রিক চাহিদা, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে হলের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মানুষ যখন ব্যয় বাড়ায় বা কমায়, তখন তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি, উৎপাদন ও কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তেও তা প্রতিফলিত হতে পারে। উডফোর্ডের মুদ্রানীতিবিষয়ক তাত্ত্বিক কাজের সঙ্গে হলের গবেষণা অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক ফলাফলের সম্পর্ক বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলা এবং আকস্মিক সংকটের প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে। সুদের হার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিবেচনা করতে হয়, মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সেই পরিবর্তনে কীভাবে সাড়া দেবে। একইভাবে সরকারি ব্যয় বা করনীতির পরিবর্তন অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা বুঝতেও অর্থনৈতিক মডেল কাজে আসে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ যদি মনে করে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম আরও বাড়বে, তাহলে তারা বর্তমানেই কেনাকাটার ধরন বদলে ফেলতে পারে। আবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যদি ভবিষ্যতে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে, তাহলে নতুন বিনিয়োগ স্থগিত রাখতে পারে। এসব আচরণ আগে থেকে বিশ্লেষণ করতে পারলে নীতিনির্ধারকেরা সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পেতে পারেন। তবে এ গবেষণার অর্থ এই নয় যে অর্থনৈতিক মন্দা পুরোপুরি ঠেকানো কিংবা প্রতিটি সংকট নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব। বরং অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণের সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে এ ধরনের মডেল কার্যকর বিশ্লেষণী উপকরণ সরবরাহ করে। পুরস্কারের অর্থমূল্য কত ২০২৬ সালের অর্থনীতির পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। রবার্ট ই. হল ও মাইকেল উডফোর্ডের মধ্যে এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করা হবে। মার্কিন ডলারে মোট অর্থমূল্য প্রায় ১২ লাখ ডলার। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরস্কার’। সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯৬৮ সালে এ পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেয় এবং ১৯৬৯ সালে প্রথমবার এটি দেওয়া হয়। সাধারণভাবে একে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বলা হলেও, এটি আলফ্রেড নোবেলের মূল উইলে নির্ধারিত পাঁচটি পুরস্কারের অংশ নয়। তবে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার ঘোষণার ধারাবাহিকতার মধ্যেই অর্থনীতির এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। হল ও উডফোর্ডের এবারের স্বীকৃতি দেখিয়েছে, অর্থনীতির সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বুঝতে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক ভিত্তি জুগিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবরে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণের নির্ধারিত সময়সূচি
অক্টোবরের সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট শুরু, জন্মতারিখ অনুযায়ী জেনে নিন টাকা পাওয়ার নির্ধারিত দিন

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা বা সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবর মাসের অর্থ পেতে যাচ্ছেন লাখো উপকারভোগী। নির্ধারিত মাসিক সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বুধবার, ১৪ অক্টোবর, অর্থ পাবেন যেসব উপকারভোগীর জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে। এরপর জন্মতারিখ অনুযায়ী অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সুবিধাভোগীদের অর্থ পাঠানো হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রবীণ নাগরিকদের পাশাপাশি যোগ্য অন্যান্য ব্যক্তির জন্যও সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা। অনেকেই এই অর্থ দিয়ে বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিলসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটান। তাই প্রতি মাসে ঠিক কোন তারিখে অর্থ পাওয়া যাবে, তা জানা উপকারভোগীদের জন্য জরুরি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি ১৯৯৭ সালের ১ মে বা তার পরে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাওয়া শুরু করেছেন, তাঁদের অর্থ পাঠানোর তারিখ নির্ধারিত হয় জন্মতারিখের ভিত্তিতে। মাসের কোন তারিখে জন্ম, তার ওপর নির্ভর করে সাধারণত মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবারে অর্থ দেওয়া হয়। অক্টোবরের বাকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি হলো—   ১৪ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে।   ২১ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে।   ২৮ অক্টোবর, বুধবার: যাঁদের জন্ম মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে। অর্থাৎ, ১৪ অক্টোবর যাঁরা অর্থ পাবেন না, তাঁদের জন্যও মাসের পরবর্তী বুধবারগুলোতে নির্ধারিত কিস্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সময়সূচি মূলত জন্মতারিখভিত্তিক নিয়মের আওতায় থাকা উপকারভোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিছু সুবিধাভোগীর জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছেন, তাঁদের অনেকের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের ৩ তারিখে দেওয়া হয়। তবে ওই তারিখ সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনে পড়লে আগের কার্যদিবসে অর্থ পাঠানো হতে পারে। একইভাবে, যাঁরা সামাজিক নিরাপত্তার অর্থের পাশাপাশি সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও আলাদা সময়সূচি প্রযোজ্য হতে পারে। এসএসআই মূলত সীমিত আয় ও সম্পদসম্পন্ন যোগ্য প্রবীণ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেয়। সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম কার্যদিবসে এই অর্থ দেওয়া হয়। অক্টোবর মাসের এসএসআই অর্থ ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের বাকি সময়ের এসএসআই অর্থ বিতরণের সূচিতেও রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। নভেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার। কারণ, ১ নভেম্বর রবিবার হওয়ায় নির্ধারিত অর্থ আগের কার্যদিবসে পাঠানো হবে। ডিসেম্বর মাসের অর্থ দেওয়া হবে ১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার। আর ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ দেওয়া হবে ৩১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। ১ জানুয়ারি সরকারি ছুটি থাকায় জানুয়ারির এসএসআই অর্থ আগের দিন পাঠানোর কথা রয়েছে। এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: এসএসআইয়ের অর্থ পাওয়ার তারিখ এবং সাধারণ সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার তারিখ এক নয়। কেউ যদি দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাহলে তাঁর সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ সাধারণত মাসের ৩ তারিখে এবং এসএসআইয়ের অর্থ মাসের প্রথম দিনে দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ছুটি বা সপ্তাহান্তের কারণে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। উপকারভোগীদের নিজস্ব অর্থ পাওয়ার তারিখ নিশ্চিত করতে তাঁদের ব্যক্তিগত সামাজিক নিরাপত্তা অ্যাকাউন্টে থাকা পেমেন্টের তথ্য দেখা উচিত। নির্ধারিত তারিখে অর্থ না এলে ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নিজের সুবিধার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ বিতরণ চলবে জন্মতারিখ ও সুবিধার ধরন অনুযায়ী। ১৪, ২১ ও ২৮ অক্টোবর সাধারণ মাসিক কিস্তির গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। অন্যদিকে, এসএসআই সুবিধাভোগীদের জন্য নভেম্বরের অর্থ ৩০ অক্টোবরেই পাঠানো হবে। তাই সুবিধাভোগীদের নিজেদের পেমেন্টের ধরন বুঝে নির্ধারিত তারিখ জেনে রাখা প্রয়োজন।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:২৩
বিশাল ক্রেনে তোলা হচ্ছে দুই হাজার বছরের স্নানাগার
যিশুর সময়কার ২ হাজার বছরের পুরোনো স্নানাগার, বিশাল ক্রেনে অক্ষত অবস্থায় সরালেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা

ইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৬:১৫
ফ্রান্সের আউবাগনে লাকানাল স্কুল
স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে শটগান নিয়ে ঢুকে গু লি চালানোর অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে মার্সেই শহরের কাছে আউবাগনে এলাকার লাকানাল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী ১২-গেজের একটি শটগান নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেছিল। এরপর গু লির ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং স্কুলে কীভাবে সেটি নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মী—একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক—সকালে গু লিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও শিক্ষা সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজে লাগামহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আহত দুই শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে, গু লির সময় স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন, কিংবা অন্য কেউ ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে আউবাগনের স্কুলে গু লির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই দুটি ঘটনাকে সরাসরি যুক্ত করে দেখার সুযোগ নেই। আউবাগনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, যা মার্সেইয়ের কাছাকাছি। সেখানকার লাকানাল স্কুলে এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তারের পর তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তার উদ্দেশ্য কী ছিল, ঘটনার আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রটি কীভাবে তার হাতে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রে প্তার করা হয়েছে। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৫৬
২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি
২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী

২৮ বছর ধরে হেঁটে চার মহাদেশের ২৯টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। পাড়ি দিয়েছেন ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি পথ। কখনো দুর্গম জঙ্গল, কখনো বরফে ঢাকা প্রণালি, আবার কখনো বিস্তীর্ণ সাগর পেরিয়ে এগিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি। কিন্তু দীর্ঘ এই বিশ্বভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি এখনো বাকি। ১১ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর। সেই মায়ের কাছে ফিরতে এখনো প্রায় ২৫০ মাইল পথ হাঁটতে হবে ৫৭ বছর বয়সী এই অভিযাত্রীকে। গত ৫ অক্টোবর ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে ইংল্যান্ডের ডোভারের কাছে শেকসপিয়ার সৈকতে পৌঁছান বুশবি। তিন দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানিতে থেকে এই কঠিন পথ পাড়ি দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালে শুরু করা বিশ্বভ্রমণের আরেকটি বড় বাধা অতিক্রম করেন। তবে নিজ শহর হালে পৌঁছে মায়ের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তাঁর অভিযান শেষ হচ্ছে না। বুশবির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর, দক্ষিণ আমেরিকার চিলি থেকে। তখনই নিজের জন্য দুটি কঠোর নিয়ম ঠিক করেছিলেন তিনি। প্রথমত, যাত্রাপথ এগিয়ে নিতে বিমান, ট্রেন, নৌযান কিংবা গাড়ির মতো কোনো পরিবহন ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, বিশ্বভ্রমণ শেষ না করে নিজ শহর হালে ফিরবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে এগিয়ে গেছেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা পেরিয়ে তাঁর যাত্রা পৌঁছেছে এশিয়া ও ইউরোপে। পথে অতিক্রম করেছেন পানামা ও কলম্বিয়ার মধ্যবর্তী দুর্গম দারিয়েন গ্যাপ। ঘন জঙ্গল, প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি এবং নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৬ সালে ফরাসি-আমেরিকান অভিযাত্রী দিমিত্রি কিফারের সঙ্গে বরফে ঢাকা বেরিং প্রণালিও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন তিনি। এই প্রণালি আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে কাস্পিয়ান সাগরের প্রায় ১৮৪ মাইল জলপথ সাঁতরে পার হওয়াও তাঁর অভিযানের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ এই যাত্রায় একের পর এক দেশ ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে এগিয়েছেন বুশবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরার পথটুকুও সহজ ছিল না। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি চ্যানেল টানেলের সার্ভিস টানেল দিয়ে পায়ে হেঁটে ইংল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। এই টানেলটি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে সংযুক্ত করেছে। তবে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাঁর সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাঁতার কেটেই ইংল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পানিতে নামার পর শারীরিক কষ্টও কম পোহাতে হয়নি তাঁকে। বুশবি জানিয়েছেন, সাঁতার শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পেশিতে টান ধরতে শুরু করে। তখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবু মনোবল ধরে রেখে এগিয়ে যান। রাতে পানিতে ভেসে থাকার সময় আকাশের তারা তাঁকে ব্যথা থেকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করে। আলোদূষণ থেকে দূরে থাকায় রাতের আকাশের বিশাল দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছিল বলেও জানান তিনি। প্রায় তিন দশকের এই বিশ্বভ্রমণে নানা কারণে বারবার থমকে যেতে হয়েছে বুশবিকে। বিভিন্ন দেশের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তাঁর যাত্রায় বাধা তৈরি করেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তা কমে যায়। পরে করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতাও তাঁর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। যে অভিযান প্রায় ১২ বছরে শেষ করার আশা করেছিলেন, তা শেষ করতে লেগেছে প্রায় ২৮ বছর। অভিযানের শুরুতে বুশবির হাতে ছিল মাত্র ৫০০ ডলার। কোনো পৃষ্ঠপোষকও ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বই বিক্রি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া, মানুষের অনুদান এবং করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে যাত্রার খরচ জুগিয়েছেন তিনি। একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানও গত ১৬ বছর ধরে তাঁকে সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে থাকার পর অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরে আসা বুশবির জন্য বড় অর্জন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু বিশ্বভ্রমণ শেষ করা নয়, বরং ১১ বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করা। সেই পুনর্মিলনের জন্য এখনো প্রায় ২৫০ মাইল হাঁটতে হবে তাঁকে। বুশবির গল্প তাই শুধু চার মহাদেশ পেরিয়ে দীর্ঘ পথচলার নয়; এটি প্রতিজ্ঞা ধরে রাখা, প্রতিকূলতার মুখে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার অপেক্ষার গল্পও। বিশ্বভ্রমণের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এক গন্তব্য—মায়ের কাছে ফেরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বৃদ্ধির অপেক্ষা
অবসরভাতায় ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস, ২০২৭ সালে মাসিক চেক কত ডলার বাড়তে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন সিনিয়র সিটিজেনস লিগ। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে দেশটির অবসরভোগী ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধাভোগীদের মাসিক অর্থের পরিমাণ বাড়বে। বর্তমানে একজন গড় সুবিধাভোগী মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পান। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে এই অর্থ বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ২০২৭ সালের জন্য ভাতা বৃদ্ধির প্রকৃত হার নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন সাধারণত প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পরবর্তী বছরের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (সিওএলএ) ঘোষণা করে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেলে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এই সমন্বয় করা হয়। অবসরভাতা ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীরা এই পরিবর্তনের সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চলতি বছরের মূল্যস্ফীতির তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউ জুলাই মাসে আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। আগস্টে এই বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশিত হলে পরবর্তী বছরের ভাতা সমন্বয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তিন মাসের হিসাব সম্পূর্ণ হবে। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার বার্ষিক সমন্বয় নির্ধারণে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হিসাবের পরিবর্তে বিশেষভাবে সিপিআই-ডব্লিউ ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের এই সূচকের পরিবর্তন বিবেচনা করে পরবর্তী বছরের জন্য সমন্বয়ের হার নির্ধারণ করা হয়। ফলে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ভাতা বৃদ্ধির হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। সিনিয়র সিটিজেনস লিগ আগস্টের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, এই হারে বৃদ্ধি হলে বর্তমানে গড়ে মাসে ১ হাজার ৯৪০ ডলার ৮ সেন্ট পাওয়া একজন সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ বেড়ে ২ হাজার ৭ ডলার ৯৮ সেন্ট হতে পারে। অর্থাৎ, মাসে প্রায় ৬৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ আলাদা হতে পারে। প্রত্যেক সুবিধাভোগীর বর্তমান ভাতার পরিমাণ অনুযায়ী বৃদ্ধির অঙ্কও ভিন্ন হবে। ২০২৬ সালের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের জন্য ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে তা হবে আগের বছরের তুলনায় বেশি। তবে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সরকারি ঘোষণা প্রকাশের আগে এই হার নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যুক্তরাষ্ট্রের বহু অবসরপ্রাপ্ত মানুষের নিয়মিত আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে যাঁরা অবসরকালীন জীবনযাপনের জন্য এই অর্থের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের কাছে বার্ষিক বৃদ্ধির হার গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ ও যাতায়াতের মতো প্রয়োজনীয় খরচ বাড়লে মাসিক ভাতার প্রকৃত মূল্য কমে যেতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাই বার্ষিক সমন্বয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে ভাতা বাড়লেই সব সুবিধাভোগীর আর্থিক চাপ একইভাবে কমবে, এমন নয়। কারও চিকিৎসা ব্যয় বেশি হতে পারে, আবার কারও বাসাভাড়া ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। তাই ঘোষিত বৃদ্ধির হার এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ের পরিবর্তন এক বিষয় নয়। নতুন সমন্বয়ের হার ঘোষণা করা হলে সুবিধাভোগীরা সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে নিজেদের ব্যক্তিগত ভাতা বৃদ্ধির তথ্য দেখতে পারবেন। আগের বছরের ব্যবস্থায় অনলাইনে ব্যক্তিগত নোটিশ দেখার পাশাপাশি ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগেও নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ২০২৭ সালের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত সুবিধার সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন জানতে সরকারি ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট নোটিশের দিকে নজর রাখতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস অবসরভোগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। এই বৃদ্ধি কার্যকর হলে গড় সুবিধাভোগীর মাসিক অর্থ ২ হাজার ডলার ছাড়াতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির হিসাব এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:২৪
জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স
নেটফ্লিক্সে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ৮০০ কর্মী, বড় ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার খবর

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্স প্রায় ৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত বছরের শেষের কর্মীসংখ্যা ধরে এই হার কার্যকর হলে প্রায় ৮০০ জন চাকরি হারাতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো ছাঁটাইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পাক নিউজ জানায়, পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এই ছাঁটাই হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পরের সপ্তাহেই ঘোষণা আসতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য ঘোষণার সময় চলতি সপ্তাহ। নেটফ্লিক্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।    ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেটফ্লিক্সের পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন প্রায় ১৬ হাজার। সেই সংখ্যার ৫ শতাংশ হিসাবে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের পরিমাণ প্রায় ৮০০। এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। কোন বিভাগ বা দেশের কর্মীরা বেশি প্রভাবিত হবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৬৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৯০০ জন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় কর্মরত ছিলেন। তবে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের কত অংশ এই দুই দেশে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।    এর আগে ২০২২ সালে বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করেছিল নেটফ্লিক্স। সে সময় প্রায় ৪৫০ জনকে বাদ দেওয়া হয়। ওই বছরের প্রথম প্রান্তিকে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা কমেছিল। চলতি বছরের শুরুতেও পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বৈশ্বিক পণ্য উন্নয়ন দলের কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।  নতুন ছাঁটাইয়ের খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন নেটফ্লিক্সের ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্য জানাচ্ছে। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহপ্রধান নির্বাহী টেড সারানডোস সম্প্রতি বলেছেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সব ভৌগোলিক অঞ্চলে রাজস্বে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি হলেও প্রতিষ্ঠানটি আরও দ্রুত এগোতে চায়। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি নেটফ্লিক্স।    নেটফ্লিক্সের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল ও ব্যবসার পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে। একই দিনে ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকদের প্রশ্নের উত্তর দেবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে আলাদা ঘোষণা আসবে কি না, সে সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কিছু জানায়নি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৩:৫১
হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরা
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ১৪ বছরের হাফেজ হীরা

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরা। ১৪ বছর বয়সী এই প্রতিযোগী ৯৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।  হীরা ঢাকার মিরপুরের মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর শিক্ষার্থী। যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।   মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, পুরুষদের হিফজ বিভাগে হীরা ও সিরিয়ার আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম উভয়েই ৯৭ নম্বর পান। তবে তাজবিদের শুদ্ধতা ও দক্ষতার নম্বর বিবেচনায় হীরাকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। সিরিয়ার প্রতিযোগী দ্বিতীয় এবং ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর পাওয়া মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি তৃতীয় হন।    প্রতিযোগিতাটি ৬ থেকে ১০ অক্টোবর কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এবারের আয়োজনে ৩৮টি দেশের মোট ৫০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন তিলাওয়াত এবং ২৫ জন হিফজ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।  মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএমও হীরার প্রথম স্থান অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।  হিফজ বিভাগের চ্যাম্পিয়নের পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নগদ অর্থ ও একটি ট্রফি। পাশাপাশি রয়েছে ৫ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ অথবা মুসলিমবান্ধব ভ্রমণ প্যাকেজ এবং ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের স্বর্ণের বার।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৩:২৮
কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভ সু
১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী

দীর্ঘ ১৪ বছর ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পর গরুর মাংসের স্টেক খেয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর লাভ সু। প্রথমে ভয় ও দ্বিধায় থাকলেও কয়েকবার চিবানোর পর কাঁদতে কাঁদতে জানান, খাবারটি তাঁর খুব ভালো লেগেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর এই অভিজ্ঞতার ভিডিও আলোচনায় এসেছে। বিনোদন ও অনলাইন সংস্কৃতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডেক্সার্টোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে ভেগান খাদ্যাভ্যাস থেকে সরে আসেন লাভ সু। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে উদ্ভিদভিত্তিক খাবার ও জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছিলেন তিনি।   ভিডিওতে মাংস মুখে তোলার আগে তাঁকে উদ্বিগ্ন দেখা যায়। কাঁটাচামচে স্টেকের টুকরো তুলতে গিয়ে হাতও কাঁপছিল। পাশে থাকা স্বামী তাঁকে সাহস জোগাচ্ছিলেন। এ সময় লাভ সু জানান, ভেগান হওয়ার কারণে মানুষের বিরূপ মন্তব্যের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রথম কয়েকটি কামড়ের পর তাঁর প্রতিক্রিয়া বদলে যায়। চোখে পানি নিয়ে মাংসের স্বাদের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, স্বাদ খারাপ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন। খাওয়ার পর সেই ধারণা পাল্টে যায়।   ডেক্সার্টোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাভ সু পরে জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোতেও মাঝেমধ্যে ভেগান খাদ্যতালিকার বাইরের কিছু খাবার খেতে ইচ্ছা করত তাঁর। তবে দীর্ঘদিন সেই ইচ্ছা দমন করেছিলেন।খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ভিন্ন। কেউ তাঁকে অনুসরণ বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন, আবার অনেকে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করার পক্ষে মন্তব্য করেছেন।    

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৩:১০
সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি
সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে বিশুদ্ধ করছে চীন, লক্ষ্য দৈনিক ৪৫ লাখ টন

সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টনে পৌঁছেছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নিয়েছে। উপকূলীয় শহর, দ্বীপাঞ্চল ও শিল্পকারখানায় পানির সরবরাহ বাড়াতে লবণমুক্তকরণ প্রকল্প সম্প্রসারণ করছে চীন।  চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন মিঠাপানি তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এই পরিমাণ পানি প্রায় দেড় কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তবে এটি সরাসরি দেড় কোটি মানুষকে পানি সরবরাহ করার হিসাব নয়, উৎপাদনের পরিমাণ বোঝাতে দেওয়া একটি তুলনা।   সিজিটিএন আরও জানিয়েছে, দৈনিক ১০ লাখ টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার নতুন প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে। এসব কেন্দ্র চালু হলে সমুদ্রের পানি থেকে মিঠাপানি তৈরির সক্ষমতা আরও বাড়বে।  এই পরিসংখ্যানে উৎপাদন ও উৎপাদন সক্ষমতার পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। সিজিটিএনের জুনের একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিয়াং ওয়েনসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, চীনে ১৬৭টি লবণমুক্তকরণ প্রকল্পের মোট সক্ষমতা দৈনিক ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টন। অর্থাৎ সংখ্যাটি কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা নির্দেশ করে। প্রতিদিন বাস্তবে কত পানি উৎপাদিত হচ্ছে, তার পৃথক হিসাব ওই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।    চীনের জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে লবণমুক্তকরণ শিল্পের উন্নয়নে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট সক্ষমতা দৈনিক ৪৫ লাখ টনের বেশি এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত সক্ষমতা দৈনিক ১৫ লাখ টনের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনায় শহরের পানির নিরাপত্তা, দ্বীপ ও জাহাজে পানি সরবরাহ, শিল্পখাতে ব্যবহার এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব করা, জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।    সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার মাধ্যমে চীন উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত পানির উৎসের পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা বাড়াতে চাইছে। এই উদ্যোগে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে পরিশোধিত পানি ব্যবহারের পরিসর বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।  সূত্র: CGTN  

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২:৪৭
মাস্টার্স ছাড়াই ফুল ফান্ড পিএইচডির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রে
মাস্টার্স ছাড়াই ফুল ফান্ড পিএইচডির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে, জানুন বিস্তারিত

মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পারডু ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে এই পথ খোলা আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহায়তার মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।    সরাসরি পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। কোনো বিভাগ স্নাতক ডিগ্রিধারীদের আবেদন গ্রহণ করলেও ভর্তি নির্ভর করে আবেদনকারীর যোগ্যতা ও বিভাগের নির্বাচনের ওপর। আবার ফান্ডিংয়ের ধরন, মেয়াদ এবং কোন খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ও লিখিত অফারের শর্ত অনুযায়ী। পারডু ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হবে। পিএইচডি আবেদনকারীদের স্বাধীন গবেষণার সম্ভাবনাও দেখাতে হবে। বিভাগটি জানিয়েছে, পিএইচডিতে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীদের ফেলোশিপ, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। এই বিবেচনা প্রত্যেকের ফান্ডিং নিশ্চিত হওয়ার সমার্থক নয়।     জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। এর গ্র্যাজুয়েট ভর্তি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর ব্যাচেলর ডিগ্রি, সমমানের ডিগ্রি অথবা উচ্চতর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য। কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি নির্দেশনায় চূড়ান্ত লক্ষ্য পিএইচডি হলে সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামে আবেদন করতে বলা হয়েছে।  জর্জিয়া টেকের স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্স জানিয়েছে, গবেষণা অনুদানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পিএইচডি শিক্ষার্থীরা টিউশন ও স্টাইপেন্ড পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ফান্ডিং নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ সাধারণত প্রাথমিক ভর্তি অফারে উল্লেখ থাকে। অফারে ফান্ডিংয়ের তথ্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের কাছে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ সম্পর্কে জানতে হবে।    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটেশনাল ম্যাথমেটিকস, সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডিতে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক নয়। বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, ভর্তির জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন। আবেদনকারীদের অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ ও ফেলোশিপের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হয়। অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণত নির্ধারিত ক্রেডিট পর্যন্ত টিউশন মওকুফ, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা পান। এই তথ্য ওই বিভাগের জন্য প্রযোজ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য নয়।  ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার সায়েন্স পিএইচডির ভর্তি শর্তেও সমমানের ব্যাচেলর ডিগ্রির কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গ্রেইঞ্জার কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রথম পাঁচ বছরের ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে ফান্ডিংয়ের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এতে পূর্ণ টিউশন মওকুফ, আংশিক ফি মওকুফ ও স্টাইপেন্ড অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে এই সুবিধাকে সব ফি এবং বছরের প্রতিটি সময়ের খরচ বহনের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।    ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং পিএইচডিতে সরাসরি ভর্তির পথ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগে মাস্টার্স না করেই পিএইচডি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ডিরেক্ট পিএইচডি ট্র্যাকে আবেদন করতে পারেন। ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট অ্যাসোসিয়েটশিপ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, কোনো প্রোগ্রাম অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অর্থায়ন করলেও অন্য কোনো প্রোগ্রাম অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অথবা আংশিক সহায়তা দিতে পারে।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই প্রথম কাজ হলো নিজের বিষয় ও গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মানানসই প্রোগ্রাম নির্বাচন করা। ২০২৭ সালের ফল সেমিস্টারে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চলতি ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ডিগ্রির সমমান, ইংরেজি দক্ষতার শর্ত এবং আবেদনের শেষ সময় দেখতে হবে। ফান্ডিংয়ের অফার পেলে টিউশন, বাধ্যতামূলক ফি, স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, গ্রীষ্মকালীন সহায়তা ও নবায়নের শর্ত মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের তালিকা দিয়ে ভর্তি বা পূর্ণ অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায় না।

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২:২৫
ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া
নতুন করে অন্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশ

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। একাত্তর টেলিভিশনের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকদের কাছে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুরোনো লাইসেন্সের অস্ত্র জমা দেওয়া ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের উদ্বেগের মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  নতুন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী। একাত্তরকে তিনি বলেছেন, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অল্প কয়েকজনকে ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখার সুযোগ দিতে গিয়ে বৃহত্তর নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।   তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। লাইসেন্স দেওয়ার আগে প্রয়োজন নির্ধারণ এবং অনুমোদনের পর অপব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নতুন আবেদনের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা নিষ্পত্তির সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একাত্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।  অস্ত্র জমা না পড়ার যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়গত প্রেক্ষাপট রয়েছে। চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত লাইসেন্সের বিপরীতে থাকা ৪৮ হাজার ২৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়েছিল ২৭ হাজার ৯৯৫টি। জমা পড়েনি ২০ হাজার ২৮৮টি, যা মোট ব্যক্তিগত অস্ত্রের প্রায় ৪২ শতাংশ।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ করার অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র জমা দিতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নির্দেশ অমান্য করে জমা না দেওয়া অস্ত্র অবৈধ হিসেবে গণ্য করে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। ফলে ফেব্রুয়ারির এই হিসাবকে অক্টোবরের হালনাগাদ পরিস্থিতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।  একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশে ব্যক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৩ হাজার ৭০২টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৮ হাজার ২৮৩টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নামে ৪ হাজার ৮৫৪টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৬৫টি। তখন অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশটি ব্যক্তিগত লাইসেন্সের অস্ত্রের জন্য প্রযোজ্য ছিল।   লাইসেন্সের অস্ত্র জমা না পড়া এবং গণ-অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র দুটি পৃথক বিষয়। প্রথম আলোর ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা ও কারাগার থেকে ৫ হাজার ৭৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬২টি উদ্ধার হয়নি।    একাত্তর টেলিভিশন প্রতিবেদন

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:৫৮
ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি
ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি দাবি অনন্ত গার্মেন্টসের

নাসার আর্টেমিস টু অভিযানে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা নভোচারীদের পরনে থাকা কার্গো প্যান্ট বাংলাদেশের আশুলিয়ার কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযানের ভিডিওতে দেখা প্যান্টের নকশা ও তাদের রপ্তানি করা পণ্যের তথ্য মিলিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্টগুলো ওই কারখানায় তৈরি হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত প্যান্টটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের ‘স্ট্রাইক’ কার্গো প্যান্ট। অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই ব্র্যান্ডে একই ধরনের প্যান্ট রপ্তানি করে। নভোচারীদের পরনের প্যান্টের সঙ্গে তাদের তৈরি পণ্যের মিল পাওয়ায় কারখানার কর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।   অনন্ত কোম্পানিজ লিমিটেডের পরিচালক রিদওয়ান জাহির খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের মনে হয়েছে, নভোচারীদের ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে স্ট্রাইক প্যান্ট তাঁদের কারখানা থেকে রপ্তানি করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দুটি চালানে ফাইভ ইলেভেন ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য পাঠিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, আর্টেমিস টু অভিযানের ভিডিওতে স্ট্রাইক কার্গো প্যান্টের ৭৪৩৬৯ নম্বর স্টাইলটি দেখে তাঁদের প্রধান কার্যালয় ও আশুলিয়ার কারখানার কর্মীরা আনন্দিত হন। নিয়মিত যে প্যান্ট তাঁরা তৈরি করেন, সেই নকশার পোশাক নভোচারীদের পরনে দেখতে পাওয়াকে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের মানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।   অনন্ত কোম্পানিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের কর্মীরা ২০২১ সাল থেকে স্ট্রাইক প্যান্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে এই নির্দিষ্ট স্টাইলের প্যান্টের প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১টি স্ট্রাইক প্যান্ট তৈরি করেছে। চলতি অক্টোবরেও কারখানায় এই পণ্যের উৎপাদন চলছে। কারখানার কর্মকর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্টাইলের প্যান্ট বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে তৈরি হয়। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম থেকে ব্র্যান্ডটিতে নারীদের প্যান্ট সরবরাহ করা হয়, আর অনন্ত গার্মেন্টস তৈরি করে পুরুষদের সংস্করণ। এই তথ্যও নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্ট নিজেদের কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণার একটি ভিত্তি। তবে এই সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপণ্য সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতা গ্রেইঞ্জারের ওয়েবসাইটে ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের স্ট্রাইক প্যান্টের উৎপত্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। কিন্তু কোনো পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেই নভোচারীদের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল নিশ্চিত হয় না। ফাইভ ইলেভেন কর্তৃপক্ষও প্যান্টগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ঠিকানায় ইমেইল পাঠালেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পায়নি।   ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের এক জোড়া স্ট্রাইক প্যান্টের খুচরা দাম ৯৫ ডলার। তবে অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পণ্যটির রপ্তানিমূল্য প্রকাশ করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রয়মূল্যের কত অংশ বাংলাদেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান পায়, সেই তথ্য জানা যায়নি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আর্টেমিস টু অভিযান শুরু হয় চলতি বছরের ১ এপ্রিল। এতে অংশ নেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। চাঁদের চারপাশে ঘুরে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফেরেন। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় পর এটি ছিল মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেননি।    বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে তুলনামূলক বেশি মূল্যের পণ্য তৈরির প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, পাঁচ বছর আগে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে মাঝারি ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ ছিল। তাঁর হিসাবে, তা এখন প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিছু ক্রেতা সাধারণ পোশাকের অর্ডার কমিয়ে বেশি মূল্যের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি।   এই পরিবর্তনের মধ্যে অনন্ত গার্মেন্টসের দাবি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আর্টেমিস টু অভিযানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের নিশ্চিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আপাতত আশুলিয়ায় প্যান্ট তৈরির বিষয়টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দাবি হিসেবেই থাকছে।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:৩৮
সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলা
প্রতিবেশী দেশ সুদানে মিশরের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ৭২, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলাটি হয়। পরদিন সংগঠনটি হতাহতের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করে। তবে হামলাকারী পক্ষ ও নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।    সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, হামলার স্থানটি জাবাল আল উকাইদাতের স্বর্ণখনি এলাকা। সেখানে ছোট পরিসরে শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক খনিশ্রমিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলমান। ফলে ৭২ জন নিহত হওয়ার হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। হামলার দায় নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এএফপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করার বিষয়টি তাই মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে।   হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রথমে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংগঠনটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিল, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পরে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স ৭২ জন নিহত হওয়ার দাবি জানায়। দুই সংগঠনের হিসাবের এই পার্থক্যের মধ্যে মোট প্রাণহানির নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।  হামলা থেকে বেঁচে ফেরা খনিশ্রমিক আবদেল আজিজ ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল প্রায় আটটার দিকে একটি যুদ্ধবিমান তাঁদের মাথার ওপর আসে। তাঁর বর্ণনায়, বিমানটি পাঁচ দফা হামলা চালায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। আবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যান।   আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরাফ আলী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুর্গম ওই এলাকায় হাজারো মানুষ কাজ করছিলেন। হামলার পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে ছুটে যান। কেউ আল আনসারি স্বর্ণবাজারে আশ্রয় নেন, আবার কেউ অন্য দিকে চলে যান। সবাই ছড়িয়ে পড়ায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। দুই প্রত্যক্ষদর্শীই পালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তবে আটকে থাকা বা নিখোঁজ মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল শহরাঞ্চল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন।    হামলার স্থানটি কোন দেশের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের দাবি, হামলা হয়েছে সুদানের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল মিশরের দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ খনিশ্রমিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বারবার সতর্ক করেছিল। এই তথ্য হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে না। অঞ্চলটির সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিভুজের ওপর সুদান ও মিশর উভয় দেশই নিজেদের অধিকার দাবি করে। নীল নদের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বর্ণ উত্তোলন ও বাণিজ্য হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।  এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনেও জাবাল আল উকাইদাতের খনি এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তখনও মিশরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। মিশরের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল।   জুনের অভিযান সম্পর্কে মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়। শনিবারের হামলা নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আগের অভিযানের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কও নিশ্চিত করা যায়নি।  সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সংঘাতে জীবিকা হারানো বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের খনিতে নতুন এই হামলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের সতর্কতা অনুযায়ী, গুরুতর আঘাত এবং চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা হতাহতের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।    

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:১৩
প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ
"জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দিব", কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রিয়াদে হামলায় নি হ ত শাহেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ। শনিবার (১০ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রী কাকলি বেগমকে জানিয়েছিলেন, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তখন সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন।    পরিবারের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, রিয়াদে পৌঁছানোর পর শাহেদ স্ত্রীকে ফোন করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেদ্দায় পৌঁছে আবার যোগাযোগ করার কথা ছিল। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। শাহেদের স্বজন মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রাপথেই হামলার শিকার হন শাহেদ। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও স্বজনেরা।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহেদের বয়স ৩২ বছর। তিনি মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠু ও শাহেরা বেগমের ছেলে। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। প্রায় দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। তাঁর মা ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে রয়েছেন স্ত্রী এবং দুই ছেলে কাউছার ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।   শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মাদলা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও খোঁজ রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।  সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহেদের কর্মস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে সেই কর্মস্থলেই ফিরছিলেন। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী।   প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিমানবন্দরে হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরিও রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।   হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।  

প্রকাশ : অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:৫৩