সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৮:৫৮
তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে
তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের রাতে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাস কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ। তবে যাত্রার সময় যাত্রীর ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হতে পারে ভেবে তিনি সেই উদ্বেগের কথা জানাননি। ৭ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে রওনা হওয়া ১৫ বছরের তাজমিন আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তার ম র দে হ উদ্ধার করে পুলিশ।


সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আবদুল্লাহর এই বক্তব্য উঠে এসেছে। তিনি জানান, তাজমিন রাতে কুমিল্লায় পৌঁছাবে বুঝতে পেরে তাকে ও সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন রাজুকে বিষয়টি বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু বলেননি।


তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হওয়ার পর তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। তবে সে কোথায় এবং কার কাছে থাকছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি মা-বাবা।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কক্সবাজারে আইকনিক এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের বাসের টিকিট কাটেন। দুপুর ১২টার বাসের জন্য টিকিট নেওয়া হলেও সেটি ছাড়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর। তাজমিন একা কুমিল্লায় ফিরবে বলে তার জন্য একটি একক আসনের টিকিট নেওয়া হয়েছিল।


আবদুল্লাহর বক্তব্যে উঠে এসেছে, দিনের বেলায় রওনা হলেও বাসটি কুমিল্লায় পৌঁছাতে রাত হবে, বিষয়টি তাঁর মনে ছিল। একজন কিশোরীর তখন বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার যাত্রা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। তবে তাজমিন বা রাজুকে যাত্রার সময় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন, এমন তথ্য তাঁর বক্তব্যে নেই।


রাজু দাবি করেছেন, তাজমিন যাতে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছাতে পারে, সে জন্য যাত্রাপথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি। কক্সবাজারে থাকার সময় তাজমিনের বাবা ফোন করে মেয়েকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছিলেন বলেও দাবি করেন রাজু। এসব বক্তব্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছে পুলিশ।


তাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন বলেছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বান্ধবীর নাম কিংবা তাঁর পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন তা জানায়নি বলে মায়ের ভাষ্য।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছায় তাজমিন। সেখান থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে। কিন্তু চালক তাকে বাড়ির পথে না নিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।


১০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পুলিশের অভিযোগ, সেখানে তাকে ধ র্ষ ণের পর হ ত্যা করা হয়। ৮ অক্টোবর সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ধানখেত থেকে ম র দে হ উদ্ধারের পর থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।


পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রে প্তা র করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাজমিনকে হ ত্যার দায় স্বীকার করেছেন সুমন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


এদিকে ১১ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে রাজুকে আ ট ক করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ও সেখানে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে হ ত্যা কাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বান্ধবীর বিরুদ্ধেও হ ত্যা য় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়নি।


তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার কারণ নিয়ে রাজু ও পরিবারের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। এসব বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে না ধরে তার বাড়ি থেকে বের হওয়া, কক্সবাজারে অবস্থান, ফেরার যাত্রা এবং শেষ সময়ের যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হ ত্যা কাণ্ডে সুমনের ভূমিকা উঠে এলেও তাজমিনের কয়েক দিনের চলাফেরার ঘটনাক্রম যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
সাঁথিয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’

পাবনার সাঁথিয়ায় মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর হোসেন সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটার পর সোমবার ১২ অক্টোবর দুপুরে মাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সামনে মায়ের দেখাশোনা করার এবং সারাজীবন নিজের কাছে রাখার অঙ্গীকার করেন সাগর।   প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা মুন্নি খাতুনকে নিয়ে সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে হাজির হন সাগর। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মামা জাকির হোসেন ও খালু মাসুদ রানা। সেখানে মা ও ছেলে একে অপরকে মিষ্টি খাওয়ান। সাগর জানান, আগের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং মায়ের দায়িত্ব পালন করতে চান।   নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য সাগর ৮ অক্টোবর ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির সময় মাকে মাসিক খরচ দিতে রাজি হলেও সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। ইউএনও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং ১২ অক্টোবর আবার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার সময় দেন। এর মধ্যেই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আদালতের নজরে আসে।    রোববার ১১ অক্টোবর পাবনার আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনা হয়। আদালতের উদ্যোগে বিরোধ মেটানোর পর মায়ের ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে রাজি হন সাগর। নিজের আচরণের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলেও আশ্বাস দেন। এরপর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ।    ছেলের সিদ্ধান্ত বদলানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মুন্নি খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, ছেলের প্রতি তাঁর আর রাগ বা অভিমান নেই। ছেলেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং জীবনের বাকি সময় তাঁর কাছেই থাকতে চান। তাঁর ভাষ্য, তিনি ছেলের সান্নিধ্যই চেয়েছিলেন, এখন সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।   সাগরও জানিয়েছেন, আগের বক্তব্য আবেগের বশে দিয়েছিলেন। আদালতে গিয়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন মাকে কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। মায়ের সঙ্গে আগের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন সাগর।    সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বিরোধ মেটার পর মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবরও নিচ্ছে পুলিশ।  সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৯:২৫
তাজমিনের শেষ যাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে

তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ

হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরা

মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ১৪ বছরের হাফেজ হীরা

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া

নতুন করে অন্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার আবেদন যাচাইয়ের নির্দেশ

ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি
ট্রাম্পের স্যুটের পর চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের প্যান্টও বাংলাদেশে তৈরি দাবি অনন্ত গার্মেন্টসের

নাসার আর্টেমিস টু অভিযানে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা নভোচারীদের পরনে থাকা কার্গো প্যান্ট বাংলাদেশের আশুলিয়ার কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযানের ভিডিওতে দেখা প্যান্টের নকশা ও তাদের রপ্তানি করা পণ্যের তথ্য মিলিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্টগুলো ওই কারখানায় তৈরি হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত প্যান্টটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের ‘স্ট্রাইক’ কার্গো প্যান্ট। অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই ব্র্যান্ডে একই ধরনের প্যান্ট রপ্তানি করে। নভোচারীদের পরনের প্যান্টের সঙ্গে তাদের তৈরি পণ্যের মিল পাওয়ায় কারখানার কর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।   অনন্ত কোম্পানিজ লিমিটেডের পরিচালক রিদওয়ান জাহির খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের মনে হয়েছে, নভোচারীদের ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে স্ট্রাইক প্যান্ট তাঁদের কারখানা থেকে রপ্তানি করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দুটি চালানে ফাইভ ইলেভেন ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য পাঠিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, আর্টেমিস টু অভিযানের ভিডিওতে স্ট্রাইক কার্গো প্যান্টের ৭৪৩৬৯ নম্বর স্টাইলটি দেখে তাঁদের প্রধান কার্যালয় ও আশুলিয়ার কারখানার কর্মীরা আনন্দিত হন। নিয়মিত যে প্যান্ট তাঁরা তৈরি করেন, সেই নকশার পোশাক নভোচারীদের পরনে দেখতে পাওয়াকে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের মানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।   অনন্ত কোম্পানিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের কর্মীরা ২০২১ সাল থেকে স্ট্রাইক প্যান্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে এই নির্দিষ্ট স্টাইলের প্যান্টের প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১টি স্ট্রাইক প্যান্ট তৈরি করেছে। চলতি অক্টোবরেও কারখানায় এই পণ্যের উৎপাদন চলছে। কারখানার কর্মকর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্টাইলের প্যান্ট বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে তৈরি হয়। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম থেকে ব্র্যান্ডটিতে নারীদের প্যান্ট সরবরাহ করা হয়, আর অনন্ত গার্মেন্টস তৈরি করে পুরুষদের সংস্করণ। এই তথ্যও নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্ট নিজেদের কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণার একটি ভিত্তি। তবে এই সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপণ্য সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতা গ্রেইঞ্জারের ওয়েবসাইটে ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের স্ট্রাইক প্যান্টের উৎপত্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। কিন্তু কোনো পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেই নভোচারীদের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল নিশ্চিত হয় না। ফাইভ ইলেভেন কর্তৃপক্ষও প্যান্টগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ঠিকানায় ইমেইল পাঠালেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পায়নি।   ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের এক জোড়া স্ট্রাইক প্যান্টের খুচরা দাম ৯৫ ডলার। তবে অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পণ্যটির রপ্তানিমূল্য প্রকাশ করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রয়মূল্যের কত অংশ বাংলাদেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান পায়, সেই তথ্য জানা যায়নি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আর্টেমিস টু অভিযান শুরু হয় চলতি বছরের ১ এপ্রিল। এতে অংশ নেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। চাঁদের চারপাশে ঘুরে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফেরেন। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় পর এটি ছিল মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেননি।    বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে তুলনামূলক বেশি মূল্যের পণ্য তৈরির প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, পাঁচ বছর আগে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে মাঝারি ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ ছিল। তাঁর হিসাবে, তা এখন প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিছু ক্রেতা সাধারণ পোশাকের অর্ডার কমিয়ে বেশি মূল্যের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি।   এই পরিবর্তনের মধ্যে অনন্ত গার্মেন্টসের দাবি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আর্টেমিস টু অভিযানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের নিশ্চিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আপাতত আশুলিয়ায় প্যান্ট তৈরির বিষয়টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দাবি হিসেবেই থাকছে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১:৩৮
ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্য। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৪ জন

রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি

রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি, বান্দরবানের পর্যটনে নতুন এক মানবিক গল্প

মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মতিন উল্লাহর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: প্রথম আলো

'প্রয়োজনে বেঁধে রাখেন, তবু অপমান করবেন না' ডাকাতদের বললেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা

উড্ডয়নের পর বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ
উড্ডয়নের পর বিমানের চাকা বিচ্ছিন্ন, শাহজালালে জরুরি অবতরণ

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের পেছনের একটি চাকা উড্ডয়নের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি বার্তা দেওয়ার পর উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। বিমান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন।   বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাভিশন জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-একেই। কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পেয়ে ঢাকার টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান পাইলট।   জরুরি অবতরণের আগে জ্বালানি কমিয়ে উড়োজাহাজের ওজন হ্রাস এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য পাইলটকে আকাশে চক্কর দিতে হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে কয়েকবার চক্কর দেয়। এ সময় এটি প্রায় ৬ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ১৮৮ নট গতিতে উড়ছিল।   ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়। ওই সময়ে সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।   সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রানওয়েতে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধার ও জরুরি সেবার দল প্রস্তুত রাখা হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে পাইলট উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করান।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৬:৫৪
খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

খুলনায় পুলিশ সদস্যদের রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলায় পড়ে আল আমিন এবার যোগ দিলেন যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে

১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট

১৩ বছরে বাবা-মাকে হারানো নাজমুস সোহান এখন অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট

0 Comments