সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৪৪
২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি
২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি

২৮ বছর ধরে হেঁটে চার মহাদেশের ২৯টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। পাড়ি দিয়েছেন ৩০ হাজার মাইলেরও বেশি পথ। কখনো দুর্গম জঙ্গল, কখনো বরফে ঢাকা প্রণালি, আবার কখনো বিস্তীর্ণ সাগর পেরিয়ে এগিয়েছেন নিজের লক্ষ্যের দিকে। অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্যারাট্রুপার কার্ল বুশবি। কিন্তু দীর্ঘ এই বিশ্বভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টি এখনো বাকি। ১১ বছর ধরে মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি তাঁর। সেই মায়ের কাছে ফিরতে এখনো প্রায় ২৫০ মাইল পথ হাঁটতে হবে ৫৭ বছর বয়সী এই অভিযাত্রীকে।


গত ৫ অক্টোবর ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে ইংল্যান্ডের ডোভারের কাছে শেকসপিয়ার সৈকতে পৌঁছান বুশবি। তিন দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পানিতে থেকে এই কঠিন পথ পাড়ি দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৯৮ সালে শুরু করা বিশ্বভ্রমণের আরেকটি বড় বাধা অতিক্রম করেন। তবে নিজ শহর হালে পৌঁছে মায়ের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত তাঁর অভিযান শেষ হচ্ছে না।


বুশবির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর, দক্ষিণ আমেরিকার চিলি থেকে। তখনই নিজের জন্য দুটি কঠোর নিয়ম ঠিক করেছিলেন তিনি। প্রথমত, যাত্রাপথ এগিয়ে নিতে বিমান, ট্রেন, নৌযান কিংবা গাড়ির মতো কোনো পরিবহন ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, বিশ্বভ্রমণ শেষ না করে নিজ শহর হালে ফিরবেন না। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই বছরের পর বছর ধরে এগিয়ে গেছেন তিনি।


দক্ষিণ আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে শুরু করে উত্তর আমেরিকা পেরিয়ে তাঁর যাত্রা পৌঁছেছে এশিয়া ও ইউরোপে। পথে অতিক্রম করেছেন পানামা ও কলম্বিয়ার মধ্যবর্তী দুর্গম দারিয়েন গ্যাপ। ঘন জঙ্গল, প্রতিকূল ভূপ্রকৃতি এবং নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৬ সালে ফরাসি-আমেরিকান অভিযাত্রী দিমিত্রি কিফারের সঙ্গে বরফে ঢাকা বেরিং প্রণালিও পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেন তিনি। এই প্রণালি আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।


সাম্প্রতিক সময়ে কাস্পিয়ান সাগরের প্রায় ১৮৪ মাইল জলপথ সাঁতরে পার হওয়াও তাঁর অভিযানের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ এই যাত্রায় একের পর এক দেশ ও ভৌগোলিক সীমা পেরিয়ে এগিয়েছেন বুশবি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফেরার পথটুকুও সহজ ছিল না।


ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি চ্যানেল টানেলের সার্ভিস টানেল দিয়ে পায়ে হেঁটে ইংল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। এই টানেলটি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে সংযুক্ত করেছে। তবে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে তাঁর সেই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাঁতার কেটেই ইংল্যান্ডে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।


পানিতে নামার পর শারীরিক কষ্টও কম পোহাতে হয়নি তাঁকে। বুশবি জানিয়েছেন, সাঁতার শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পেশিতে টান ধরতে শুরু করে। তখন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবু মনোবল ধরে রেখে এগিয়ে যান। রাতে পানিতে ভেসে থাকার সময় আকাশের তারা তাঁকে ব্যথা থেকে মনোযোগ সরাতে সাহায্য করে। আলোদূষণ থেকে দূরে থাকায় রাতের আকাশের বিশাল দৃশ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছিল বলেও জানান তিনি।


প্রায় তিন দশকের এই বিশ্বভ্রমণে নানা কারণে বারবার থমকে যেতে হয়েছে বুশবিকে। বিভিন্ন দেশের ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তাঁর যাত্রায় বাধা তৈরি করেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে পৃষ্ঠপোষকদের সহায়তা কমে যায়। পরে করোনাভাইরাস মহামারির বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতাও তাঁর পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলে। যে অভিযান প্রায় ১২ বছরে শেষ করার আশা করেছিলেন, তা শেষ করতে লেগেছে প্রায় ২৮ বছর।


অভিযানের শুরুতে বুশবির হাতে ছিল মাত্র ৫০০ ডলার। কোনো পৃষ্ঠপোষকও ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে বই বিক্রি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া, মানুষের অনুদান এবং করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে যাত্রার খরচ জুগিয়েছেন তিনি। একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানও গত ১৬ বছর ধরে তাঁকে সহায়তা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এত দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে থাকার পর অবশেষে ইংল্যান্ডে ফিরে আসা বুশবির জন্য বড় অর্জন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু বিশ্বভ্রমণ শেষ করা নয়, বরং ১১ বছর পর মায়ের সঙ্গে দেখা করা। সেই পুনর্মিলনের জন্য এখনো প্রায় ২৫০ মাইল হাঁটতে হবে তাঁকে।


বুশবির গল্প তাই শুধু চার মহাদেশ পেরিয়ে দীর্ঘ পথচলার নয়; এটি প্রতিজ্ঞা ধরে রাখা, প্রতিকূলতার মুখে এগিয়ে যাওয়া এবং প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার অপেক্ষার গল্পও। বিশ্বভ্রমণের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে ব্যক্তিগত এক গন্তব্য—মায়ের কাছে ফেরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ফ্রান্সের আউবাগনে লাকানাল স্কুল
স্কুলে শটগান নিয়ে ১৪ বছরের শিক্ষার্থীর গু লি, আহত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে শটগান নিয়ে ঢুকে গু লি চালানোর অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। সোমবার, ১২ অক্টোবর সকালে মার্সেই শহরের কাছে আউবাগনে এলাকার লাকানাল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থী ১২-গেজের একটি শটগান নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেছিল। এরপর গু লির ঘটনা ঘটে। তবে কী কারণে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং স্কুলে কীভাবে সেটি নিয়ে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই কর্মী—একজন প্রধান শিক্ষক ও একজন নারী শিক্ষক—সকালে গু লিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্দেহভাজন হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি দেখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনার পরও শিক্ষা সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সমাজে লাগামহীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহিংসতা মোকাবিলায় শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমেও সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। ঘটনার পর স্কুলের নিরাপত্তা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আহত দুই শিক্ষকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে, গু লির সময় স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী বা কর্মী উপস্থিত ছিলেন, কিংবা অন্য কেউ ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে আউবাগনের স্কুলে গু লির ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই দুটি ঘটনাকে সরাসরি যুক্ত করে দেখার সুযোগ নেই। আউবাগনে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি শহর, যা মার্সেইয়ের কাছাকাছি। সেখানকার লাকানাল স্কুলে এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। স্কুলে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নির্ধারণ করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীকে গ্রে প্তারের পর তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছেন। তার উদ্দেশ্য কী ছিল, ঘটনার আগে কোনো বিরোধ বা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রটি কীভাবে তার হাতে এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় দুই শিক্ষক আহত হয়েছেন এবং ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রে প্তার করা হয়েছে। তদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ৫:৫৬
২৮ বছরের বিশ্বভ্রমণ শেষে ইংল্যান্ডে ফিরেছেন কার্ল বুশবি

২৮ বছর ধরে হেঁটে বিশ্বভ্রমণ, ১১ বছর পর মায়ের কাছে ফিরতে ব্যাকুল ব্রিটিশ অভিযাত্রী

সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে ব্যবহারযোগ্য মিঠাপানি

সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে বিশুদ্ধ করছে চীন, লক্ষ্য দৈনিক ৪৫ লাখ টন

সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলা

প্রতিবেশী দেশ সুদানে মিশরের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ৭২, বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা

প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ
"জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দিব", কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে রিয়াদে হামলায় নি হ ত শাহেদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ। শনিবার (১০ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রী কাকলি বেগমকে জানিয়েছিলেন, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তখন সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন।    পরিবারের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, রিয়াদে পৌঁছানোর পর শাহেদ স্ত্রীকে ফোন করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেদ্দায় পৌঁছে আবার যোগাযোগ করার কথা ছিল। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। শাহেদের স্বজন মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রাপথেই হামলার শিকার হন শাহেদ। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও স্বজনেরা।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহেদের বয়স ৩২ বছর। তিনি মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠু ও শাহেরা বেগমের ছেলে। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। প্রায় দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। তাঁর মা ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে রয়েছেন স্ত্রী এবং দুই ছেলে কাউছার ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।   শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মাদলা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও খোঁজ রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।  সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহেদের কর্মস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে সেই কর্মস্থলেই ফিরছিলেন। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী।   প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিমানবন্দরে হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরিও রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।   হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ০:৫৩
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় মার্কিন নাগরিক নিহত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা

‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা

পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে

জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৩৯, নিখোঁজ বহু মানুষ, চলছে উদ্ধার তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল জ্বালানি সংগ্রহের একটি চুক্তি করেছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলা এবং সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে এ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, সরবরাহের পরিমাণ এবং অর্থ পরিশোধের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার এই ঘোষণা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রশ্ন তুলেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির জ্বালানি আয় সীমিত করার প্রচেষ্টা পশ্চিমা দেশগুলোর নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।   ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও উৎপাদন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ভারী ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণ সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামেও পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে পারে।   তবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের খুচরা দাম দ্রুত কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, শোধনাগারের উৎপাদন, মজুত এবং আমদানির নিয়মসহ বিভিন্ন বিষয় জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক   ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা মস্কোর ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। রাশিয়ার জ্বালানি আয় কমানো এবং দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা ছিল এসব ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।   এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার নতুন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তবে ঘোষিত চুক্তিটি কী আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার কোন বিধান প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেনের নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন হতে পারে। একই সময়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আস্থা, ভূখণ্ড, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ব্যবস্থার প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে জ্বালানি কেনার চুক্তি ও যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা একই সময়ে সামনে এলেও দুটির মধ্যে সরাসরি সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।   কী কী তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়?   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন; তবে প্রকাশিত তথ্য থেকে চুক্তির মোট মূল্য, ডিজেলের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেবে, তা নিশ্চিত করা যায় না।   এ ছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং পরিবহনসংক্রান্ত শর্তও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ের আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটির অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন।   সামগ্রিকভাবে, রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা, ভোক্তাদের ব্যয় এবং ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত নীতির সংযোগকে সামনে এনেছে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয় কি না এবং বাজারে এর প্রভাব কী হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব সরবরাহের ওপর।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৫:২১
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ

জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে সাগরে নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকা থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসীর মৃত্যু, নিখোঁজ শতাধিক

0 Comments