- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
নাসার আর্টেমিস টু অভিযানে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসা নভোচারীদের পরনে থাকা কার্গো প্যান্ট বাংলাদেশের আশুলিয়ার কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযানের ভিডিওতে দেখা প্যান্টের নকশা ও তাদের রপ্তানি করা পণ্যের তথ্য মিলিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তবে নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্টগুলো ওই কারখানায় তৈরি হয়েছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচিত প্যান্টটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের ‘স্ট্রাইক’ কার্গো প্যান্ট। অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হংকংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এই ব্র্যান্ডে একই ধরনের প্যান্ট রপ্তানি করে। নভোচারীদের পরনের প্যান্টের সঙ্গে তাদের তৈরি পণ্যের মিল পাওয়ায় কারখানার কর্মী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। অনন্ত কোম্পানিজ লিমিটেডের পরিচালক রিদওয়ান জাহির খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের মনে হয়েছে, নভোচারীদের ব্যবহৃত পোশাকের মধ্যে বিশেষ করে স্ট্রাইক প্যান্ট তাঁদের কারখানা থেকে রপ্তানি করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দুটি চালানে ফাইভ ইলেভেন ব্র্যান্ডের জন্য পণ্য পাঠিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তিনি জানান, আর্টেমিস টু অভিযানের ভিডিওতে স্ট্রাইক কার্গো প্যান্টের ৭৪৩৬৯ নম্বর স্টাইলটি দেখে তাঁদের প্রধান কার্যালয় ও আশুলিয়ার কারখানার কর্মীরা আনন্দিত হন। নিয়মিত যে প্যান্ট তাঁরা তৈরি করেন, সেই নকশার পোশাক নভোচারীদের পরনে দেখতে পাওয়াকে কর্মীদের দক্ষতা ও কাজের মানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। অনন্ত কোম্পানিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের কর্মীরা ২০২১ সাল থেকে স্ট্রাইক প্যান্ট উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে এই নির্দিষ্ট স্টাইলের প্যান্টের প্রস্তুতকারক হিসেবে কাজ করছে অনন্ত গার্মেন্টস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তারা মোট ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬৮১টি স্ট্রাইক প্যান্ট তৈরি করেছে। চলতি অক্টোবরেও কারখানায় এই পণ্যের উৎপাদন চলছে। কারখানার কর্মকর্তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্টাইলের প্যান্ট বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে তৈরি হয়। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম থেকে ব্র্যান্ডটিতে নারীদের প্যান্ট সরবরাহ করা হয়, আর অনন্ত গার্মেন্টস তৈরি করে পুরুষদের সংস্করণ। এই তথ্যও নভোচারীদের ব্যবহৃত প্যান্ট নিজেদের কারখানায় তৈরি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণার একটি ভিত্তি। তবে এই সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে কর্মকর্তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপণ্য সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতা গ্রেইঞ্জারের ওয়েবসাইটে ফাইভ ইলেভেন ট্যাকটিক্যালের স্ট্রাইক প্যান্টের উৎপত্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। কিন্তু কোনো পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকলেই নভোচারীদের ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল নিশ্চিত হয় না। ফাইভ ইলেভেন কর্তৃপক্ষও প্যান্টগুলো বাংলাদেশে তৈরি হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। সংবাদমাধ্যমটি প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট ঠিকানায় ইমেইল পাঠালেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পায়নি। ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের এক জোড়া স্ট্রাইক প্যান্টের খুচরা দাম ৯৫ ডলার। তবে অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পণ্যটির রপ্তানিমূল্য প্রকাশ করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রয়মূল্যের কত অংশ বাংলাদেশের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান পায়, সেই তথ্য জানা যায়নি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, আর্টেমিস টু অভিযান শুরু হয় চলতি বছরের ১ এপ্রিল। এতে অংশ নেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। চাঁদের চারপাশে ঘুরে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফেরেন। পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় পর এটি ছিল মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান। এই অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করেননি। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে তুলনামূলক বেশি মূল্যের পণ্য তৈরির প্রবণতার কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, পাঁচ বছর আগে দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে মাঝারি ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ ছিল। তাঁর হিসাবে, তা এখন প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে। কিছু ক্রেতা সাধারণ পোশাকের অর্ডার কমিয়ে বেশি মূল্যের পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি। এই পরিবর্তনের মধ্যে অনন্ত গার্মেন্টসের দাবি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে আর্টেমিস টু অভিযানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট প্যান্টগুলোর উৎপাদনস্থল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের নিশ্চিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। আপাতত আশুলিয়ায় প্যান্ট তৈরির বিষয়টি উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দাবি হিসেবেই থাকছে।
সুদান ও মিশরের সীমান্তবর্তী একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামলাটি হয়। পরদিন সংগঠনটি হতাহতের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করে মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করে। তবে হামলাকারী পক্ষ ও নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিশরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। সংবাদ সংস্থা এএফপির বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, হামলার স্থানটি জাবাল আল উকাইদাতের স্বর্ণখনি এলাকা। সেখানে ছোট পরিসরে শ্রমিকেরা স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করেন। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা বেসামরিক খনিশ্রমিক। সংগঠনটি জানিয়েছে, হতাহতের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলমান। ফলে ৭২ জন নিহত হওয়ার হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। হামলার দায় নিয়ে সংগঠনটির অভিযোগও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এএফপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত উড়োজাহাজের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ। মিশরের বিমানবাহিনীকে দায়ী করার বিষয়টি তাই মানবাধিকার সংগঠনটির অভিযোগ হিসেবেই উঠে এসেছে। হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক প্রথমে অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংগঠনটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছিল, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। পরে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স ৭২ জন নিহত হওয়ার দাবি জানায়। দুই সংগঠনের হিসাবের এই পার্থক্যের মধ্যে মোট প্রাণহানির নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। হামলা থেকে বেঁচে ফেরা খনিশ্রমিক আবদেল আজিজ ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল প্রায় আটটার দিকে একটি যুদ্ধবিমান তাঁদের মাথার ওপর আসে। তাঁর বর্ণনায়, বিমানটি পাঁচ দফা হামলা চালায় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। আবার হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ও অন্য শ্রমিকেরা পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শরাফ আলী জানিয়েছেন, হামলার সময় দুর্গম ওই এলাকায় হাজারো মানুষ কাজ করছিলেন। হামলার পর শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিকে ছুটে যান। কেউ আল আনসারি স্বর্ণবাজারে আশ্রয় নেন, আবার কেউ অন্য দিকে চলে যান। সবাই ছড়িয়ে পড়ায় কতজন নিহত হয়েছেন, তা সঠিকভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান। দুই প্রত্যক্ষদর্শীই পালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলেও তাঁদের আশঙ্কা। তবে আটকে থাকা বা নিখোঁজ মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল শহরাঞ্চল থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন। হামলার স্থানটি কোন দেশের সীমানার মধ্যে পড়েছে, তা নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রয়েছে। ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের দাবি, হামলা হয়েছে সুদানের ভূখণ্ডে। অন্যদিকে প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল মিশরের দিকে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মিশরীয় কর্তৃপক্ষ খনিশ্রমিকদের ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বারবার সতর্ক করেছিল। এই তথ্য হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে না। অঞ্চলটির সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্পদসমৃদ্ধ হালায়েব ত্রিভুজের ওপর সুদান ও মিশর উভয় দেশই নিজেদের অধিকার দাবি করে। নীল নদের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বর্ণ উত্তোলন ও বাণিজ্য হয়। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের দূরবর্তী অবস্থানের কারণে হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনেও জাবাল আল উকাইদাতের খনি এলাকায় বিমান হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর এসেছিল। তখনও মিশরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। মিশরের সেনাবাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল। জুনের অভিযান সম্পর্কে মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। ওই এলাকায় অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে অভিযান চালানোর কথা বলা হয়। শনিবারের হামলা নিয়ে মিশরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় আগের অভিযানের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্কও নিশ্চিত করা যায়নি। সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘ সংঘাতে জীবিকা হারানো বহু মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে যুক্ত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্তের খনিতে নতুন এই হামলা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আহতদের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের সতর্কতা অনুযায়ী, গুরুতর আঘাত এবং চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা হতাহতের পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ। শনিবার (১০ অক্টোবর) কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তিনি। রিয়াদে পৌঁছে স্ত্রী কাকলি বেগমকে জানিয়েছিলেন, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর আবার ফোন করবেন। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি। পরদিন পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করে। তাঁদের একজন শাহেদ আহম্মেদ। অন্যজন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের নাসরুল্লাহ বদরপুরি। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তখন সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অপেক্ষা করছিলেন। পরিবারের বরাতে কালবেলা জানিয়েছে, রিয়াদে পৌঁছানোর পর শাহেদ স্ত্রীকে ফোন করে নিজের অবস্থানের কথা জানান। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। জেদ্দায় পৌঁছে আবার যোগাযোগ করার কথা ছিল। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি স্বজনেরা। শাহেদের স্বজন মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল। পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরে যাওয়ার এই যাত্রাপথেই হামলার শিকার হন শাহেদ। এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্ত্রী ও স্বজনেরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাহেদের বয়স ৩২ বছর। তিনি মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম মিঠু ও শাহেরা বেগমের ছেলে। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। প্রায় দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। তাঁর মা ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। দেশে রয়েছেন স্ত্রী এবং দুই ছেলে কাউছার ও আব্দুল্লাহ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর। শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর মাদলা গ্রামের বাড়িতে শোক নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চান। শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি নিজেও খোঁজ রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে শাহেদের কর্মস্থল সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায়। তিনি সাদ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে সেই কর্মস্থলেই ফিরছিলেন। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসাধারী। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বিমানবন্দরে হামলার পর আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি নাসরুল্লাহ বদরপুরিও রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ সরকার বহন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। হামলায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন আলেকজান্ডার ওয়াং। কিন্তু প্রথম বর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফিরে যাননি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সহপ্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশের কোঠাতেই বিলিয়নিয়ার হন তিনি। বর্তমানে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াং। তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের জুনে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা স্কেল এআইয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে এবং ওয়াংকে নিজেদের প্রযুক্তি কার্যক্রমে নিয়ে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য মেটার বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ওয়াংয়ের বয়স ছিল ২৮ বছর। ফলে মেটার এই বিনিয়োগের পর তিনি ২৪ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, এমন বর্ণনা সঠিক নয়। ওয়াংয়ের বিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস আরও আগের। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীরা স্কেল এআইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানার আনুমানিক মূল্য তখন তাঁকে বিলিয়নিয়ারদের কাতারে নিয়ে যায়। বয়স ছিল ২৪ বছর। ফোর্বস পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁকে সে সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী নিজের উদ্যোগে সম্পদ গড়া বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে। এই সম্পদের হিসাব মূলত প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়লে তাঁর সম্পদের হিসাবও বাড়ে। আবার মূল্যায়ন কমলে সেই হিসাব বদলে যায়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন কমে যাওয়ার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। পরে স্কেল এআইয়ের মূল্যায়ন বাড়লে আবার তালিকায় ফেরেন। ওয়াংয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে। তাঁর মা ও বাবা দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই গণিত ও প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পেশাগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোরায় ফুলটাইম কাজ শুরু করেন তিনি। কোরাতেই তাঁর পরিচয় হয় লুসি গুওয়ের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা দুজন মিলে স্কেল এআই গড়ে তোলেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ওয়াংয়ের পাশাপাশি গুওয়ের ভূমিকাও রয়েছে। এমআইটিতে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের ছুটিতে ব্যবসার কাজ শুরু করেছিলেন ওয়াং। ফোর্বসকে তিনি জানিয়েছিলেন, মা ও বাবাকে বলেছিলেন এটি শুধু গ্রীষ্মের ছুটির কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাননি। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা স্কেল এআইয়ের ব্যবসার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডেটা তৈরি ও প্রস্তুত করা। কোনো মডেলকে ছবি, লেখা বা অন্য তথ্য বুঝতে শেখানোর জন্য সঠিকভাবে চিহ্নিত ও যাচাই করা বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রয়োজন হয়। স্কেল সেই কাজের সেবা দিয়ে প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করে। মানুষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও চিহ্নিত করার কাজও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুরুর দিকে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তির জন্য ডেটা প্রস্তুতের কাজ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। গাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য থেকে বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করার মতো কাজে এমন ডেটা প্রয়োজন হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতেও কাজ শুরু করে স্কেল। ফোর্বসের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সহায়তার জন্য স্কেল তিনটি চুক্তি পেয়েছিল। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চুক্তির সর্বোচ্চ সম্মিলিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রস্তুত করার ব্যবসা থেকে সরকারি কাজেও প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার ঘটে। ২০২৫ সালের ১২ জুন নিজেদের ঘোষণায় স্কেল জানায়, মেটার নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। একই ঘোষণায় ওয়াংয়ের মেটায় যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পান জেসন ড্রোগ। ওয়াং স্কেলের পরিচালনা পর্ষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্কেল আরও জানায়, মেটা সংখ্যালঘু মালিকানা পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। চুক্তির অর্থের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডার ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা শেয়ারধারীদের দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ফলে লেনদেনটি স্কেলকে পুরোপুরি কিনে নেওয়ার ঘটনা ছিল না। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের ডেটাসংক্রান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ওয়াং মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাঁকে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উনিশ বছর বয়সে শুরু করা একটি ডেটাভিত্তিক ব্যবসা থেকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রায় তাঁর উদ্যোগ, সহপ্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতের বাড়তে থাকা চাহিদা একসঙ্গে কাজ করেছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহত দুজন হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরী। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। হামলার পর বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় রিয়াদে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীও আটকা পড়েছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হামলায় বিভিন্ন দেশের অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিহত শাহেদ আহমেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের সাদ আল-ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানির জেদ্দার একটি প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে এসেছিলেন শাহেদ। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরীর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় সেখান থেকে জেদ্দাগামী সংযোগ ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাসরুল্লাহ ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী উপপরিচালক বা সহকারী মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে। বাকি ১৩ জন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে রিয়াদে যাত্রাবিরতির সময় জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা, পরিচয় ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুর এলাকায়। তাঁর বাবা ইসহাক ও মা কামালা বেগম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামের কাজী নুরুল্লাহর বাবা কাজী জয়নাল মিয়া এবং মা শিউলি বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনে গিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় আহত হন। মো. ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের উদ্দেশ্যে জেদ্দা যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বদরপুর গ্রামের সাফফাত রহমান ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. দাউদুল ইসলাম রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাফফাতের বাবা মোখলেছার রহমান ও মা রোকেয়া বেগম। দাউদুলের বাবা মো. মহিব উল্লাহ এবং মা রোকেয়া বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। ঢাকার লালবাগের আমলিগোলা এলাকার মো. সাইদুল ইসলাম সোরভ এবং মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকার আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাইদুলের বাবা মো. আবদুল হাই এবং মা রহিমা বেগম। রিয়াজ উদ্দিনের বাবা মো. আবুল ফজল এবং মা তাজকেরা বেগম। দুজনই ওমরাহ পালনে গিয়ে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকার মো. আবদুল্লাহ প্রিন্স সুলতান সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর বাবা মো. মোখতার আহমেদ এবং মা ফজিলাতুন নেসা। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের ইব্রাহিমনগর এলাকার আরমান হোসেন এবং মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ আবদুল হক সুলাইমান আল-হাবিব হাসপাতালের তাখাসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন। আরমানের বাবা মজিবুল হক এবং মা শামসুন নাহার। সৌদি আরবে কর্মরত রফিক মিয়া কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে, ইসমাইল হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন হীরা ও রায়হানুল ইসলাম কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে চিকিৎসাধীন। ইসমাইল ও রায়হানুল সৌদি আরবে কর্মরত। মিসবাহ উদ্দিনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সালমা আক্তার, শাহাদাত হোসেন, মোশাদ আহমেদ সাইকাত, জাহিদ আহমেদ এবং সবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার। তাঁরা সবাই সৌদি আরবে কর্মরত এবং তাঁদের বৈধ আবাসন ও কাজের অনুমতিপত্র রয়েছে। এ ছাড়া আসাদুল ইসলাম ও জামাল অ্যাস্টার সানাদ হাসপাতালে, নাজমা আক্তার সুলাইমান ফাকিহ হাসপাতালে এবং উমাইর ও আবদুল্লাহ কামিল সুলাইমান আল-হাবিব হাসপাতালের আল সাহাফা শাখায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের কয়েকজনের পূর্ণ পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব যাওয়া যাত্রী, ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ব্যক্তি এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। তাঁদের দুর্ভোগ কমাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, সৌদি অভিবাসন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করে। দূতাবাসের উদ্যোগে টার্মিনাল-৩-এ থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য ম্যারিয়ট ও র্যাডিসন হোটেল এবং প্রিন্সেস নুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ইহরাম পরিহিত অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনে যাওয়া ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় পাঠানো হয়। রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি৮০৪ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ওই ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী সৌদি এয়ারলাইনসের দুই বাংলাদেশি কর্মীকেও সহায়তা করেছে দূতাবাস। তাঁদের আল খোবারের স্থলসীমান্ত দিয়ে বাহরাইনে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। দূতাবাস আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আটকে পড়া যাত্রীদের বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন ও বেসামরিক অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলে এমন হামলা অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশ সৌদি আরব ও দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশকের বেশি সময় প্রযুক্তি খাতে কাজ করেও নতুন ফুলটাইম চাকরি পাচ্ছেন না আইআইটি কানপুরের সাবেক শিক্ষার্থী গৌতম দেব। ৬১ বছর বয়সী এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার টেক্সাসের ডালাসে রেন্ট ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে এখন উবার চালানো এবং খাবার ও পণ্য ডেলিভারির কাজ করছেন। দীর্ঘদিন নিয়মিত চাকরি না থাকায় সঞ্চয় শেষ হয়েছে, জমেছে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। এই পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গৌতম। সেই বক্তব্যের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর এনডিটিভি ও দ্য ইকোনমিক টাইমস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাঁর সংকটের শুরু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। চাকরি ধরে রাখতে তাঁকে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ডালাস ছাড়তে রাজি না হয়ে তিনি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের পদ থেকে নিজেই ইস্তফা দেন। এরপর সেখানেই নতুন চাকরি খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন। গৌতমের ধারণা ছিল, আগের অভিজ্ঞতার মতো এবারও কয়েক মাসের মধ্যে নতুন কাজ পেয়ে যাবেন। প্রযুক্তি খাতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। অতীতেও এক চাকরি ছাড়ার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে আরেকটি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে আসেনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নতুন কোনো ফুলটাইম পদে যোগ দিতে পারেননি। প্রথম দিকে নিয়মিত চাকরির অ্যাপ্লিকেশন করতেন এবং ইন্টারভিউ দিতেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একাধিক ধাপের ইন্টারভিউও হয়েছে। কোনো কোনো ইন্টারভিউ ভালো হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরির প্রস্তাব পাননি। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও ফল না আসায় তাঁর সামনে তাৎক্ষণিক আয় নিশ্চিত করার প্রয়োজন বড় হয়ে ওঠে। ফলে চাকরি খোঁজায় আগের মতো সময় দেওয়া কমিয়ে দেন। বিকল্প আয়ের জন্য প্রথমে ডে ট্রেডিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন গৌতম। শুরুতে কিছুটা সাফল্যও পেয়েছিলেন। তবে সেই আয় ধরে রাখা যায়নি এবং তা দিয়ে নিয়মিত খরচ চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপর তিনি উবার, ডোরড্যাশ ও ওয়ালমার্ট স্পার্কের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। এসব প্ল্যাটফর্মে গাড়ি চালানো ও ডেলিভারি থেকে কিছু অর্থ এলেও তাঁর প্রয়োজনীয় খরচ পুরোপুরি মিটছে না। নিয়মিত বেতনের চাকরি না থাকায় সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে তাঁকে। নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সঞ্চয়ও এখন শেষ। খরচ সামলাতে গিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্রেডিট কার্ডের ঋণ হয়েছে। গৌতমের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ডালাসের রেন্ট। বর্তমান বাসার খরচ কমাতে তিনি সস্তা কোনো বাসায় উঠতে চান। কিন্তু নতুন বাসা পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও অনিশ্চয়তায় আছেন। তাঁর আশঙ্কা, নতুন বাসার জন্য আবেদন করলে বাড়িওয়ালা চাকরি ও নিয়মিত আয়ের প্রমাণ চাইতে পারেন। ফুলটাইম চাকরি না থাকায় সেই শর্ত পূরণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এটি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্বেগ। পাশাপাশি বাসা খোঁজা ও স্থানান্তরের কাজে সময় দিতে হলে ডেলিভারি কম করতে হবে। অর্থাৎ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে গিয়েও সাময়িকভাবে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখছেন তিনি। আর্থিক সহায়তার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে গৌতমের জন্য একটি গোফান্ডমি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, সেখান থেকে পাওয়া ৯ হাজার ডলারের বেশি অর্থ বিল পরিশোধে খরচ হয়েছে। অপরিচিত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল। তবে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গোফান্ডমির পৃষ্ঠায় দেখা যায়, গৌতমের পক্ষে কার্যক্রমটি পরিচালনা করছেন সঙ্গম দাশ। ১২ অক্টোবর দেখা তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৮১টি অনুদানে মোট ১০ হাজার ৫৫৭ ডলার উঠেছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ডলার। তহবিলের বিবরণে রেন্ট, খাবার, প্রয়োজনীয় গাড়ি মেরামত ও স্থানান্তরের খরচে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে আগে প্রকাশিত ৯ হাজার ডলারের হিসাবের তুলনায় সংগ্রহের পরিমাণ এখন বেড়েছে। গৌতম দুই দশকের বেশি আগে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে মার্কিন নাগরিক হন। এখন ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্থানান্তরের জন্য সময় ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ চালিয়ে যেতে চান। দেশে ফেরার সম্ভাবনাটি খোলা রাখলেও কবে যাবেন, তা নির্ধারণ করেননি। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বয়স ৬২ বছর হবে। তখন সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসরকালীন সুবিধা নেওয়ার যোগ্য হবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, সেই অর্থের সঙ্গে গাড়ি চালানো ও ডেলিভারির আয় যোগ হলে খরচ সামলানো কিছুটা সহজ হবে। তবে তিনি মাসে কত অর্থ পাবেন, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকে অবসরকালীন সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ১৯৬০ সাল বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার বয়স ৬৭ বছর। তাঁরা ৬২ বছরে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে পূর্ণ অবসর বয়সে প্রাপ্য অর্থের তুলনায় মাসিক পরিমাণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। গৌতম আপাতত এই সুবিধা ও নিজের আয় মিলিয়ে আর্থিক চাপ সামলানোর আশা করছেন।
গাজায় থাকলে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করতেন বলে বার্তা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এক নারী। তাঁর বিরুদ্ধে সংগঠনটিকে ৩০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। ক্যাথরিন বেথ ওয়াশবার্ন নামের ৩৭ বছর বয়সী ওই নারীকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দোষী বলা যায় না; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। ওয়াশবার্ন নিউইয়র্কের রচেস্টার শহরের কাছের আয়রনডেকয়েট এলাকার বাসিন্দা। মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ নামে পরিচিত সংগঠনটিকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সংগঠনটিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওয়াশবার্ন গাজায় থাকা এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করতেন, যিনি নিজেকে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংগঠনটির হামলায় অংশ নেওয়ার দাবি করেছিলেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে। এ সময় উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক বার্তা পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা ওয়াশবার্ন ও ওই ব্যক্তির কথোপকথনের তথ্য পান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ওয়াশবার্ন লিখেছিলেন, তিনি গাজায় থাকলে ‘প্রতিরোধের’ সঙ্গে লড়াই করতেন। একই কথোপকথনে তিনি ওই ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করেছিলেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কথোপকথন শুধু ব্যক্তিগত মতামত বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের কথিত হামলা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে আরও কয়েকটি বার্তার উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ওয়াশবার্ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বার্তার প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগের আইনি তাৎপর্য আদালতে পর্যালোচনার বিষয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেনের নথি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, ওয়াশবার্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত একটি হিসাবে অর্থ পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মোট প্রায় ৮০টি লেনদেনে ৩০ হাজার ১১৬ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ইউএসডিসি পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসডিসি হলো মার্কিন ডলারের সঙ্গে মূল্য ধরে রাখার জন্য তৈরি এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব লেনদেনের উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া। বিচার বিভাগের অভিযোগে ওয়াশবার্নের সঙ্গে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন মুভমেন্ট ফর প্যালেস্টিনিয়ান লিবারেশন’ নামের একটি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর সংগঠনটি গড়ে ওঠে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবর্তে নাশকতা ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে। তবে সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারের এই বর্ণনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের অংশ, যা সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। মার্কিন বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে অর্থ বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের দাবি, তদন্তে পাওয়া বার্তা ও আর্থিক নথি ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি তৈরি করেছে। এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্তের পর মামলাটি করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশবার্নের পক্ষের বক্তব্য বা আদালতে তাঁর চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। মামলাটির গুরুত্ব শুধু অর্থ লেনদেনের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইনে যোগাযোগ, ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর এবং বিদেশে সক্রিয় সংগঠনের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ কীভাবে তদন্তের আওতায় আসতে পারে, ঘটনাটি তার একটি উদাহরণ। তবে কোনো রাজনৈতিক মতামত বা বার্তা প্রকাশের বিষয় এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনকে জেনেশুনে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আইনগতভাবে এক নয়। ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও আইনি যুক্তির ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়াশবার্নের বিরুদ্ধে অভিযোগটি এখনো ফৌজদারি অভিযোগপত্রের পর্যায়ে রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান থাকা মানেই সেই শাস্তি নিশ্চিত নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই তাঁর দায় ও সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণ করবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইউপিআই।
২০৫০ সালের মধ্যে রোবট দিয়ে পুরো একটি সম্প্রদায় বা শহরের কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে চালকবিহীন গাড়ি এবং রোবটের সাহায্যে তৈরি টেকসই বহুতল ভবনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে শহরের আবাসন ব্যবস্থা। সম্প্রতি বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় স্থপতিরা। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। তাই আবাসন সংকট মেটাতে ভবিষ্যতের বাড়িঘরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য তৈরি আলাদা বাড়ির ধারণা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। স্থপতি জেমস সাইসাকর্ন জানান, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার এই চাপ সামলাতে ব্যক্তিগত জমিতে একক পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ মোটেও টেকসই কোনো সমাধান নয়। এর পরিবর্তে বহুতল ভবন এবং মিশ্র ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। জমির সীমাবদ্ধতা, নির্মাণ ব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের অভাবে একক বাড়ি নির্মাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন স্থপতি মাইলস স্মিথ। এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ছোট শহরতলী বা মিসিং মিডল ঘরানার আবাসন ব্যবস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। বড় ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে এই ব্যবস্থায় এমন ছোট ছোট বাড়ি বা টাউনহাউস তৈরি করা হবে, যা দেখতে বাড়ির মতোই মনে হবে তবে সেখানে ঘনত্ব বেশি থাকবে। এর ফলে বাড়তি জায়গাগুলো সবার ব্যবহারের জন্য সবুজ পার্ক বা সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত করা সম্ভব হবে। স্থপতি বেন ওয়ানও মনে করেন যে, সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে মাঝারি আকারের বহুতল ভবন নির্মাণের পথ সুগম হলে তা ভবিষ্যতে প্রাণবন্ত কমিউনিটি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ২০৫০ সালের বাড়িঘরগুলোতেও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যান জানান, ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত এবং বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার উপযোগী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এসব বাড়িতে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কমিয়ে আনতে হবে। স্থপতি স্কট স্পেক্ট মনে করেন, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বেশিরভাগ নিজেরাই উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। তারা বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর কেবল জরুরি ব্যাকআপ হিসেবে নির্ভর করবে। পরিবেশবান্ধব বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্থপতিরা কংক্রিটের চেয়ে কাঠ ও প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল হবেন। কংক্রিটের তুলনায় কাঠ কম তাপ ধরে রাখে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের চেয়ে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা বিশেষ ধরনের কাঠ ভবিষ্যতে প্রধান নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে বলে ধারণা করছেন জেমস সাইসাকর্ন। এই ধরনের কাঠের প্যানেলগুলো অত্যন্ত মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হয়। এছাড়া প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। ভবিষ্যতের শহরগুলো গাড়িকেন্দ্রিক না হয়ে মানুষকেন্দ্রিক হবে বলে জানিয়েছেন স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ। চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে। এর ফলে স্থপতিদের বাড়ির নকশায় বড় গ্যারেজ বা পার্কিংয়ের জন্য বাড়তি জায়গা রাখার প্রয়োজন পড়বে না। সেই খালি জায়গাগুলো রাস্তা, পার্ক এবং মানুষের আড্ডার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ট্রানজিট-ভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে আবাসন প্রকল্পগুলোকে যুক্ত করলে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি হাঁটার উপযোগী সুন্দর শহর গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু সাশ্রয়ী নয়, বরং উন্নত সামাজিক কাঠামো গড়ার দিকেও নজর দেবে। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার এবং ড্যানিয়েল বাউম্যান মনে করেন, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের বদলে ভবিষ্যতের পাড়াগুলো সমন্বিত ব্যবস্থায় গড়ে উঠবে। সেখানে ছাদের ওপর বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র এবং কাজের জায়গাগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মাইলস স্মিথ বিষয়টিকে আধুনিক যুগের কান্ট্রি ক্লাব স্টাইলের জীবনযাপন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেখানে একই ভবনের বাসিন্দারা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা একসঙ্গে উপভোগ করতে পারবেন এবং পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন। তথ্যসূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে প্রায় ৪৩ ঘণ্টা অবৈধভাবে আটক থাকার দাবি ঘিরে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা সুন্দরস ‘সানি’ নাকভির বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন ডলার বা ১০ লাখ ডলারের মানহানির মামলা করেছেন উইসকনসিনের ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট। শেরিফের অভিযোগ, নাকভি আটকের যে বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন, তা সত্য নয় এবং ওই বক্তব্য তাঁর ও তাঁর দপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের মার্চে নাকভি দাবি করেছিলেন, তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে ইলিনয়ের ব্রডভিউয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত উইসকনসিনের ডজ কাউন্টি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। ঘটনাটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং মার্কিন নাগরিকদের আটক করার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি করে। তবে ডজ কাউন্টির শেরিফ ডেল শ্মিট এসব দাবি অস্বীকার করেন। ১০ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নাকভিকে ডজ কাউন্টি শেরিফের দপ্তর কখনো আটক করেনি এবং কারাগারের নথিতেও তাঁর নাম নেই। শেরিফের দপ্তর জানায়, সংশ্লিষ্ট সময়ের কারাগারের নথি, বার্তা, হোটেলের তথ্য এবং নজরদারি ভিডিও পর্যালোচনা করে তারা নাকভির বর্ণনার সঙ্গে অসংগতি পেয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই শ্মিট দাবি করেন, আটকের ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। শেরিফের দায়ের করা মামলার নথিতে বলা হয়েছে, নাকভি ৫ মার্চ শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইলিনয়ের রোজমন্ট এলাকার হ্যাম্পটন ইন অ্যান্ড সুইটস হোটেলে ওঠেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ মার্চ ভোরে তাঁকে উইসকনসিনের বেভার ড্যাম এলাকার একটি হলিডে ইন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। শ্মিটের দাবি, এসব তথ্য এবং অন্যান্য নথি তাঁর আটকে থাকার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে হোটেলে অবস্থান বা যাতায়াতের তথ্য একাই পুরো ঘটনার সব দিক চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে না। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতে দায়ের করা মামলায় শ্মিট অভিযোগ করেন, নাকভি এবং তাঁর বক্তব্য প্রচারে ভূমিকা রাখা কয়েকজন ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। মামলায় কুক কাউন্টির কমিশনার ও সাবেক কংগ্রেস প্রার্থী কেভিন মরিসনের নামও রয়েছে। শেরিফের দাবি, নাকভির আটকের ঘটনা নিয়ে প্রচারিত বক্তব্য তাঁর দপ্তর সম্পর্কে জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। পরে মামলার সংশোধিত অভিযোগপত্রে নাকভির বোন সারাহ আফজালকেও বিবাদী হিসেবে যুক্ত করা হয় এবং অভিযোগে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, শ্মিটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও মুঠোফোনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়। ১৩ এপ্রিল আদালত নির্দিষ্ট কিছু তথ্য সংগ্রহের জন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে নথি চাওয়ার অনুমতি দেয়। এই আদেশ মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি, নাকভির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় নয়। পরবর্তী সময়ে বিবাদীপক্ষ মামলা খারিজের আবেদন করে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আদালতের নথিতে এসব আবেদনের বিষয়ে শুনানি ও জবাব দাখিলের সময়সূচি নির্ধারণের তথ্য রয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই সামনে আসে। নাকভির আটকের দাবি প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর সমর্থকেরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, শেরিফের দপ্তর বলেছে, তাদের কাছে থাকা নথি ও ভিডিওর সঙ্গে ওই দাবির মিল পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনা হলেও, কোনো পক্ষের বক্তব্যকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সমতুল্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমানে মামলার মূল প্রশ্ন হলো, নাকভির আটকের বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্য মিথ্যা ছিল কি না এবং তা শেরিফের সুনাম ক্ষুণ্ন করার মতো মানহানিকর ছিল কি না। এ ছাড়া অন্য বিবাদীরা কীভাবে ওই বক্তব্য প্রচারে যুক্ত ছিলেন, সেটিও মামলার অংশ। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ, বিবাদীপক্ষের জবাব এবং বিচারকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে। ফলে ঘটনাটিকে ইতিমধ্যে প্রমাণিত প্রতারণা বা সাজানো ঘটনা হিসেবে বর্ণনা না করে, শেরিফের অভিযোগ ও মামলার বর্তমান অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরা জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মোজোকের্তো শহরে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেওয়া শত শত খ্রিষ্টান উপাসকের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন মুসলিম যুবক রিয়ান্তো। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে একটি গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্দেহজনক একটি প্যাকেটে বোমা দেখতে পান তিনি। এরপর নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে বোমাটি গির্জা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি তাঁর হাতেই বিস্ফোরিত হয়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রাণ হারালেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাহস ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে আছেন রিয়ান্তো। রিয়ান্তো ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন নাহদলাতুল উলামার (এনইউ) যুব শাখা আনসরের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনী বানসারের সদস্য। ২০০০ সালের বড়দিনের প্রাক্সন্ধ্যায় তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে মোজোকের্তোর এবেন হেজার গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই রাতে গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা চলছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টান উপাসক। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বানসারের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে গির্জার প্রবেশপথের কাছে একটি কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যাকেটটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রিয়ান্তো সেটি পরীক্ষা করেন। ভেতরে বৈদ্যুতিক তার ও স্ফুলিঙ্গ তৈরি করা একটি যন্ত্রাংশ দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটিতে বোমা থাকতে পারে। তখন গির্জার ভেতরে বহু মানুষ প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে রিয়ান্তো দ্রুত উপাসকদের সতর্ক করেন, যাতে তাঁরা নিচু হয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে পারেন। এরপর তিনি বোমাটি হাতে নিয়ে গির্জা থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটলে যেন উপাসকদের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। বিভিন্ন বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি কাছের একটি নালা বা পানি নিষ্কাশনের স্থানে বোমাটি ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর আগেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে রিয়ান্তো ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের কংক্রিটের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তাঁর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গির্জার ভেতরে থাকা বহু মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। রিয়ান্তোর মৃত্যু ছিল ওই রাতের বৃহত্তর সহিংস ঘটনার অংশ। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার একাধিক শহরে খ্রিষ্টানদের গির্জা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎকালীন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে গির্জায় বা তার আশপাশে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৮৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে গির্জার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা মুসলিম ব্যক্তিরাও ছিলেন। এসব হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে সে সময় তদন্ত শুরু হয় এবং ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। রিয়ান্তোর আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মুসলিম হয়েও ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপাসনার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের জীবন দেওয়ার ঘটনা দেশটির নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মোজোকের্তো শহরে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, যা তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুররহমান ওয়াহিদ, যিনি গুস দুর নামেও পরিচিত, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে ছিলেন। রিয়ান্তোর ঘটনা সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। তাঁর আত্মত্যাগের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতারা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষও অতীতে রিয়ান্তোর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। রিয়ান্তোর গল্প শুধু একজন যুবকের সাহসিকতার কাহিনি নয়, বরং ভিন্ন ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় মানবিক দায়িত্বের একটি উদাহরণ। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও বিপদের মুহূর্তে অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও স্মরণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকে তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, যাঁর শেষ পদক্ষেপ ধর্মীয় বিভেদের চেয়ে মানবতার বন্ধনকে বড় করে তুলেছিল। সূত্র: মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষ, এনইউ অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাতে হবে। ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার লক্ষ্যে কংগ্রেসে একটি বিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হলেও সিনেটে সেটি আটকে আছে। ফলে আগামী ১ নভেম্বর, রোববার, স্থানীয় সময় রাত ২টায় অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। এতে ঘুমানোর জন্য অতিরিক্ত এক ঘণ্টা পাওয়া গেলেও সকাল ও সন্ধ্যায় সূর্য ওঠা-ডোয়ার সময় আগের তুলনায় এক ঘণ্টা এগিয়ে আসবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আইনটি পাসের জন্য সিনেটের প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিলটি নিয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইম হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়, যখন দিনের আলো সন্ধ্যায় বেশি সময় ধরে কাজে লাগানোর জন্য ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখা হয়। বসন্তে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, আর শরৎকালে আবার এক ঘণ্টা পেছানো হয়। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো দিনের আলোকে মানুষের দৈনন্দিন কাজের সময়ের সঙ্গে আরও ভালোভাবে মেলানো। তবে বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের কারণে ঘুমের রুটিন, কর্মজীবন ও দৈনন্দিন পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটে বলে অনেকে মনে করেন। এই পরিবর্তন বন্ধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে। ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাবটি ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত। চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৭ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর ফলে বিলটি সিনেটে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে অধিকাংশ এলাকায় শরৎকালে ঘড়ির কাঁটা আর এক ঘণ্টা পেছাতে হতো না। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোকে সারা বছর প্রচলিত মানসময়ের অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলেও সব অঙ্গরাজ্যকে একইভাবে নতুন সময়ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, এমন নয়। শুক্রবার ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটরদের বিলটি এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিশেষভাবে আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, কটনের বিরোধিতার কারণে বিলটি সিনেটে আটকে আছে। প্রেসিডেন্টের মতে, রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষ এই বিষয়ে একমত হতে পারেন। এর আগে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পরও ট্রাম্প এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত না হওয়ায় তাঁর উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নের পথে এগোয়নি। সিনেটর টম কটন অবশ্য স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের বিরোধিতা করছেন। তাঁর যুক্তি, শীতকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে থাকলে অনেক এলাকায় সূর্য উঠবে আরও দেরিতে। এতে সকালে অন্ধকারের মধ্যে স্কুলে যাওয়া শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও বলেছেন, বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে নভেম্বরের সময় পরিবর্তন ঠেকানোর সুযোগও প্রায় নেই। সিনেট ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অধিবেশন থেকে বিরত রয়েছে এবং বিলটি তাদের সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই নতুন কোনো অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত না এলে ১ নভেম্বর নির্ধারিত নিয়মেই ঘড়ির কাঁটা পেছানো হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে সময় পরিবর্তন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ এখনো আইন হয়ে কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য সব অঙ্গরাজ্য ডে-লাইট সেভিং টাইম অনুসরণ করে না। অ্যারিজোনা ও হাওয়াই সারা বছর মানসময়ে থাকে। ১৯৬৬ সালের ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট অঙ্গরাজ্যগুলোকে ডে-লাইট সেভিং টাইম থেকে বেরিয়ে সারা বছর মানসময়ে থাকার সুযোগ দেয়। তবে বিদ্যমান আইনে অঙ্গরাজ্যগুলো এককভাবে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করতে পারে না। সে জন্য ফেডারেল আইনে পরিবর্তন প্রয়োজন। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থায়ী সময়ব্যবস্থার পক্ষে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘড়ির সময় স্থায়ীভাবে এগিয়ে রাখার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সারা বছর ডে-লাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর ১৯৭৪ সালেও একই ধরনের ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। কিন্তু শীতকালে সকালে দীর্ঘ সময় অন্ধকার থাকায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং ওই বছরই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। পরে ২০০৫ সালের আইনে ডে-লাইট সেভিং টাইমের সময়সীমা বাড়ানো হয়, যা ২০০৭ সাল থেকে কার্যকর হয়। বর্তমানে মার্চের দ্বিতীয় রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয় এবং নভেম্বরের প্রথম রোববার আবার পেছানো হয়। স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের সমর্থকেরা বলছেন, এতে সন্ধ্যায় বেশি সময় দিনের আলো পাওয়া যাবে এবং ঘড়ির সময় বছরে দুবার বদলানোর ঝামেলা থাকবে না। তাঁদের মতে, এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন ও মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীদের আশঙ্কা, শীতকালে দেরিতে সূর্য ওঠার কারণে শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং ভোরে কাজে বের হওয়া মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে বিতর্কটি শুধু ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং দিনের আলো কোন সময়ে পাওয়া মানুষের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়েও। সূত্র: রয়টার্স, সিবিএস নিউজ ও রোল কল।
ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছিলেন দুই সাবেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, দূরত্ব পেরিয়ে যোগাযোগ এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের পর গত মাসে বিয়ে করেছেন ইউসরন আজ্জাহিদি ও জিয়াদাতুর রাহমাহ। তাঁদের এই গল্প সামনে এসেছে বিবিসি আইয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ক্যাচিং মাই টিচার’-এর মাধ্যমে। তবে এটি শুধু প্রেম ও বিয়ের গল্প নয়, বরং প্রভাবশালী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে পড়া এবং ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের ঘটনাও। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপের আবু বারোকাত ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক আহমাদ ইমানুদ্দিন সুমার শিক্ষার্থীদের কাছে ‘আবাহ’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সম্মানিত এই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। ইউসরন তখন জাকার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন, আর জিয়াদাতুর, যিনি বন্ধুদের কাছে জিয়া নামে পরিচিত, পড়াশোনা করছিলেন মিসরের কায়রোতে। এক রাতে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণের সময় জিয়া ইউসরনকে জানান, স্কুলে পড়ার সময় ওই শিক্ষক তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। জিয়ার বয়স তখন ১৬ বছর ছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি শোনার পর ইউসরন প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না কী করা উচিত। কারণ, যে শিক্ষককে তাঁরা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর বিরুদ্ধেই এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরে জিয়া, ইউসরন এবং তাঁদের আরও দুই সাবেক সহপাঠী ওয়ান্ডা হামিদাহ ও মাহিমা একা মিলে অন্য শিক্ষার্থীদের বক্তব্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা আরও কয়েকজনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারেন। ইউসরন সেসব তথ্য, অভিযোগের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য নিয়ে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করেন। এতে জিয়া, সুকমা রোহানা এবং আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিবরণ ছিল। তাঁদের সংগ্রহ করা তথ্যের মধ্যে সুকমা রোহানার বক্তব্যও ছিল। সুকমার দাবি, ১৭ বছর বয়সে ওই শিক্ষক তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজেকে রক্ষা করে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। অন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উঠে আসে। এসব বক্তব্য একত্র করে ইউসরন ও তাঁর বন্ধুরা ভেবেছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের সুযোগ পাবেন। কিন্তু অভিযোগের নথি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সংগঠন নাহদলাতুল ওয়াতান দিনিয়াহ ইসলামিয়াহর (এনডব্লিউডিআই) প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ইউসরনের অভিযোগ, নথির তথ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর তিনি ইউসরনকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। বিবিসির হাতে থাকা গোপনে ধারণ করা ফোনালাপে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার শিক্ষকের লজ্জা ঢেকে রাখো। সবাই ভুল করে, বাবা।’ ইউসরনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে অভিযোগের নথি প্রত্যাহার করার জন্যও চাপ দেন। জিয়াকেও একইভাবে নীরব থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন ইউসরনের পরিবারও এই ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। বিবিসি জানায়, ওই শিক্ষক ইউসরনের বাবা-মাকে জাকার্তায় গিয়ে ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পরিবারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হওয়ায় ইউসরন একপর্যায়ে তদন্তের কাজ থামিয়ে দেন। অন্যদিকে, জিয়াও নিজের অভিজ্ঞতার মানসিক প্রভাব নিয়ে লড়ছিলেন। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছিল। নিয়মিত ফোনালাপ ও দূর থেকে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তাঁরা একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় তাঁরা আবারও ন্যায়বিচারের চেষ্টা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আরও অভিযোগ সামনে এলে ইউসরন ও জিয়া আবার সক্রিয় হন। তাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে কাজ করা এক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর পরামর্শে একজন আইনজীবীর সহায়তা নেন তাঁরা। আইনজীবী জোকো জুমাদির পরামর্শে অভিযোগের প্রমাণ ও বক্তব্যগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। সুকমা পুলিশের কাছে অভিযোগও করেন। তবে বিবিসির মূল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অভিযোগ দায়েরের পরও তাঁকে দীর্ঘ সময় পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বিবিসির অনুসন্ধান প্রকাশের পর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ এবং তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তদন্তের পর নতুন করে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অতিরিক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য পুলিশ গ্রহণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোপনে ধারণ করা ফোনালাপকে স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী এনডব্লিউডিআইও অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। এই অনুসন্ধানের মধ্যেই ইউসরন ও জিয়ার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। তিন বছর ধরে কথা বলা ও দূর থেকে যোগাযোগের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইউসরন জিয়ার সঙ্গে থাকতে কায়রোতে চলে যান। তাঁদের বিয়ে হয় গত মাসে। জিয়া বিবিসিকে বলেছেন, নিজের অভিযোগের বিষয়ে ইউসরনের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা দেখে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে ইউসরন বলেছেন, কঠিন সময়েও জিয়া দৃঢ় ছিলেন এবং তাঁর প্রতি ইউসরনের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁদের কাছে সম্পর্কটি শুধু ব্যক্তিগত ভালোবাসার নয়, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও প্রতীক। বিবিসির অনুসন্ধান প্রকাশের পর ইন্দোনেশিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইউসরন ও জিয়ার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে আরও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওই আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। আইনজীবী জোকো জুমাদি বলেছেন, গোপনে ধারণ করা ফোনালাপগুলো অভিযোগের বিষয়ে চাপ প্রয়োগের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার নারী নির্যাতনবিরোধী জাতীয় কমিশন দেশটির ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নিপীড়নের বিষয়টিকে গুরুতর সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি কী হবে, তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: বিবিসি আই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিবিসি নিউজ ইন্দোনেশিয়া।
নিউইয়র্কে স্কুলে পড়ুয়া সন্তান সহপাঠীদের হাতে হয়রানি বা বুলিংয়ের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, তা অনেক অভিভাবকেরই জানা নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য স্কুলের নিয়ম, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। সন্তান হঠাৎ স্কুলে যেতে না চাইলে, টিফিন না খেলে, সহপাঠীদের ভয়ে চুপচাপ থাকলে কিংবা স্কুল থেকে ফেরার পর কান্নাকাটি করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এসব লক্ষণের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে, তবে বুলিংয়ের আশঙ্কা থাকলে সন্তানের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলে কী ঘটছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। বুলিং বলতে শুধু মারধর বা শারীরিক আক্রমণ বোঝায় না। কাউকে বারবার অপমান করা, নাম ধরে বিদ্রূপ করা, ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, গুজব ছড়ানো কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপদস্থ করাও এর মধ্যে পড়তে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের ‘রেসপেক্ট ফর অল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয় দেখানো, বৈষম্য ও বুলিং প্রতিরোধের নীতিমালা রয়েছে। জাতি, বর্ণ, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিচয়, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা বা ওজনের ভিত্তিতে কাউকে হেনস্তা করার বিষয়টিও এই নীতিমালার আওতায় আসতে পারে। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান সন্তান নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হলে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্কুলের অধ্যক্ষ, শ্রেণিশিক্ষক, কাউন্সেলর অথবা ‘রেসপেক্ট ফর অল লিয়াজোঁ’র সঙ্গে যোগাযোগ করুন। স্কুলের নির্ধারিত এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও বুলিংয়ের অভিযোগ গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপে সহায়তা করেন। সম্ভব হলে শুধু মৌখিকভাবে না জানিয়ে ইমেইল বা লিখিত অভিযোগ দিন। অভিযোগে ঘটনার তারিখ, সময়, স্থান, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা থাকলে তা এবং কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করুন। অভিযোগ জানানোর পর স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার তদন্তের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান। একই সঙ্গে অভিযোগের শনাক্তকরণ নম্বর বা ‘অনলাইন অকরেন্স রিপোর্টিং সিস্টেম’ (OORS) নম্বর চাইতে পারেন। এই নম্বর পরবর্তী সময়ে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে কাজে লাগবে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুলিং বা হয়রানির অভিযোগ তদন্ত করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা বা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্কুল ব্যবস্থা না নিলে কোথায় অভিযোগ করবেন স্কুলে জানানোর পরও যদি হয়রানি বন্ধ না হয়, অথবা স্কুলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের (NYCPS) কাছে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন। এ জন্য সরকারি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে: nycenet.edu/bullyingreporting। সেখানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বুলিং, ভয় দেখানো, হয়রানি ও বৈষম্যের ঘটনা জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ করার জন্য অভিভাবক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; ঘটনাটি সম্পর্কে জানা অন্য ব্যক্তিও রিপোর্ট করতে পারেন। ফোনে অভিযোগ বা সহায়তা পেতে (718) 935-2288 নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটি শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। এ ছাড়া RespectForAll@schools.nyc.gov ঠিকানায় ইমেইল করা যায়। চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জানানো সম্ভব, যদিও যোগাযোগের তথ্য দিলে কর্তৃপক্ষের পক্ষে অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো সহজ হতে পারে। অভিযোগ করার সময় যেসব প্রমাণ রাখবেন বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলে যত দ্রুত সম্ভব তারিখ, সময়, স্থান এবং কী ঘটেছিল, তা লিখে রাখুন। সন্তানের কাছে কী বলা হয়েছে বা কীভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তা নিজের ভাষায় নথিবদ্ধ করুন। অনলাইনে বার্তা, মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো হলে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন। প্রাসঙ্গিক ইমেইল বা স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগের কপিও রেখে দিন। অভিযোগ পাঠানোর সময় নিজের ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানাকে অনুলিপি প্রাপক হিসেবে রাখলে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগের রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। তবে প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে শিশুকে বারবার একই ঘটনা বলতে বাধ্য করবেন না কিংবা অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন না। সন্তানের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিকে অগ্রাধিকার দিন। স্কুলের কাছে জানতে চান, তদন্ত চলাকালে শিশুটিকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা অন্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না। শিক্ষা বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, অভিযোগকারী বা তদন্তে সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ নিষিদ্ধ। এমন কিছু ঘটলে স্কুলের কর্তৃপক্ষকে আবার জানানো উচিত। ৩১১, ৯৮৮ ও ৯১১ নম্বর কখন ব্যবহার করবেন নিউইয়র্ক সিটির ৩১১ নম্বর সাধারণ সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন পরিষেবা সম্পর্কে জানতে কাজে আসে। স্কুলে বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর পথ খুঁজে পেতে ৩১১-এ যোগাযোগ করতে পারেন। তবে সরাসরি বুলিংয়ের অভিযোগ জানানোর জন্য শিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত ফোন নম্বর ও অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করাই ভালো। সন্তান বুলিংয়ের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে বা তীব্র মানসিক সংকটে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ৯৮৮ নম্বরে ফোন বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে বিনা মূল্যে, গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেওয়া যায়। এটি জরুরি মানসিক সংকট মোকাবিলার সেবা, সাধারণ স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিকল্প নয়। অন্যদিকে, শিশুর ওপর তাৎক্ষণিক শারীরিক হামলা, গুরুতর হুমকি বা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করুন। নিউইয়র্কের আইন ও স্কুলের দায়িত্ব নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার জন্য ‘ডিগনিটি ফর অল স্টুডেন্টস অ্যাক্ট’ (DASA) নামে আইন রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষা বিভাগের নিজস্ব নীতিমালা ও অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কার্যকর। স্কুলের কর্মীরা বুলিং বা হয়রানির ঘটনা দেখলে কিংবা সে সম্পর্কে জানতে পারলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবেন, এমন নির্দেশনা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মীদের এ ধরনের ঘটনা এক স্কুল দিনের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে একই সময়সীমায় তদন্ত শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অভিভাবকদের মনে রাখা দরকার, নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুল, চার্টার স্কুল ও বেসরকারি স্কুলের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া এক নয়। সরকারি স্কুলের জন্য শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও নির্ধারিত নম্বর ব্যবহার করা যায়। চার্টার বা বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়া শিশুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের নিজস্ব অভিযোগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। তাই অভিযোগ করার আগে সন্তান কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে, তা নিশ্চিত করুন। বাংলাদেশি অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্তানকে দোষারোপ না করে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং দ্রুত যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো। প্রয়োজনে স্কুলের বাংলা ভাষায় সহায়তা পাওয়া যায় কি না, তা জানতে চান। অভিযোগের লিখিত কপি, শনাক্তকরণ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। স্কুলে সন্তান নিরাপদ বোধ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজ রাখুন। সমস্যা চলতে থাকলে শিক্ষা বিভাগের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে চান এবং প্রয়োজনে বিষয়টি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যান। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস, নিউইয়র্ক সিটি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি যুব ও কমিউনিটি উন্নয়ন বিভাগ।
আজারবাইজানের হিজাব পরা এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হিজাব পরা নিয়ে শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে হিজাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। শিক্ষক তাঁকে হারাতে চান না বলেও জানিয়েছেন। জবাবে ছাত্রী বলেন, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরেন এবং অন্য কারও অনুরোধে তা খুলতে রাজি নন। প্রয়োজনে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা নিয়ে শিক্ষক ও তাঁর মধ্যে আলোচনা হয়। শিক্ষক তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিলেও ছাত্রী নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যের মূল ভিডিও, শিক্ষার্থীর পরিচয় এবং ঘটনাটি কোন স্কুলে ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কথোপকথনের সব বিবরণ যাচাই করা জরুরি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। আল জাজিরার ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মন্ত্রিসভা ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলের পোশাকসংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন বিধিতে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত অতিরিক্ত পোশাক বা উপকরণ পরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা নিয়মে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। অভিভাবক ও সমালোচকদের একাংশের উদ্বেগ, পোশাকবিধির কারণে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির পোশাকবিধির সমর্থকেরা বলছেন, সরকারি স্কুলে নির্ধারিত নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও নতুন পোশাকবিধির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চললেও ভাইরাল হওয়া ওই ছাত্রীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন, নাকি হিজাবের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল জাজিরা, অবজারভার বিডি।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারী অ্যাঞ্জেলিনা স্টোনসহ আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তাঁর দুই শিশুসন্তানও রয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও মারা গেছেন। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলিনার সন্তান জন্ম দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। অনাগত সন্তানটির নামও রাখা হয়েছিল কাইরি। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরির পেরি স্ট্রিটের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পরিবারের আটজন সদস্য এবং তাঁদের একজন পারিবারিক বন্ধু ছিলেন। অ্যাঞ্জেলিনার দুই শিশুসন্তানের নাম ইসাইয়া ও আমারি’আনা। তাদের বয়স যথাক্রমে পাঁচ বছর ও এক বছর। এ ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দুই ভাই, মা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠজন। এ ঘটনায় একটি পরিবারের একাধিক প্রজন্মের সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ৪৫ বছর বয়সী ব্যক্তি পরিবারের সাতজন নিহতের আত্মীয় ছিলেন। পরিবারটির ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিসা সিমার্স সিবিএস নিউজকে জানান, অ্যাঞ্জেলিনা তাঁর অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর দুই শিশুসন্তানও পরিবারের সবার কাছে খুব প্রিয় ছিল। সিমার্স বলেন, শিশুরা নিষ্পাপ ছিল এবং তাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে থেকেও ভেতরে কী ঘটছিল, তা বুঝতে না পারা এবং কিছু করতে না পারার অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইরি নিউজ নাউকেও দেওয়া বক্তব্যে তিনি পরিবারটির প্রতি নিজের গভীর মমত্ববোধের কথা জানান। ইরি পুলিশের প্রধান রিচার্ড লোরাহ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে গুলির শব্দ শনাক্তকারী ব্যবস্থার মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাড়ির বাইরে ৫১ ও ৩৭ বছর বয়সী দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বাড়ির ভেতর থেকে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বাড়ির দোতলায় একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি নিজেই নিজের গুলিতে মারা গেছেন। পুলিশের প্রধান লোরাহ সংবাদ সম্মেলনে জানান, আশপাশের এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দুই নারীকে বাড়িটির দিকে আসতে দেখা গেছে। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল, তাঁরা বাড়ির ভেতরে কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পেরে সাহায্য চাইছিলেন। ভিডিওতে তাঁদের প্রতিবেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা এবং বাড়ির দরজায় আঘাত করার দৃশ্যও রয়েছে। তদন্তকারীদের পর্যালোচনা করা ভিডিও ও শব্দ ধারণ করা তথ্য অনুযায়ী, দুই নারী বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ভেতর থেকে চাপা গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বাইরে এসে তাঁদের গুলি করেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। ইরি শহর কর্তৃপক্ষের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ পৌঁছানোর পর সেখানে আর কোনো গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় পুলিশের সাড়া দিতে দেরি হয়েছিল, এমন তথ্যও নাকচ করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ নিহতদের স্বজন ও ঘটনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। এদিকে অ্যাঞ্জেলিনা ও তাঁর সন্তানদের শেষকৃত্যের ব্যয় মেটাতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গোফান্ডমিতে খোলা তহবিল সংগ্রহের পাতায় বলা হয়েছে, পরিবারের হাতে এই আকস্মিক ক্ষতির ব্যয় বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। শেষকৃত্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে স্থানীয় মানুষের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ওই তহবিল সংগ্রহের বিবরণে অ্যাঞ্জেলিনার ছেলে ইসাইয়া, মেয়ে আমারি’আনা এবং অনাগত সন্তান কাইরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের এই বিপর্যয়ে স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁদের পরিচিতজনেরা। পেনসিলভানিয়ার এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রধান লোরাহ বলেন, কিছু ঘটনাস্থলের স্মৃতি দায়িত্ব পালন শেষে চলে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। তাঁর মতে, এটি তেমনই একটি মর্মান্তিক ঘটনা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো অনুমানভিত্তিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না। সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক, ঘটনার আগে কী ঘটেছিল এবং কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার, ১০ অক্টোবর, টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কসভিলে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ধারণার কথা জানান। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা নির্বাহী আদেশের ঘোষণা আসেনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন এর আগে মেক্সিকো উপসাগর ও লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর প্রশাসন। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন করা একটি উপসাগর ও একটি সুন্দর হ্রদ রয়েছে। এবার কেউ একজন তাঁকে একটি নদীর নাম পরিবর্তনের কথাও বলেছেন। তবে হাডসন নদীর নাম পরিবর্তন করতে চান না বলে জানান তিনি। এরপর আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে যেকোনো একটির নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এর নাম ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ অথবা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ রাখা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্যে নতুন নামকরণের বিষয়টি উঠে এলেও কোন মহাসাগরকে বেছে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি তিনি। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও কথা বলেছেন। গত ২৭ আগস্ট একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সময় তিনি মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। শনিবারের সমাবেশে সেই প্রসঙ্গ আবার সামনে এনে তিনি বলেন, তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে একটি বড় নদীর নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে মিসিসিপি নদীর নাম পরিবর্তন করবেন না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই অঙ্গরাজ্যকে তিনি ভালোবাসেন। ট্রাম্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক স্থানের নাম নতুন করে নির্ধারণের ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন। এর আগে উপসাগরটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘গালফ অব মেক্সিকো’ নামেই পরিচিত ছিল। ট্রাম্প নতুন নামটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত বলে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নামটির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের আগস্টে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী পাঁচটি বৃহৎ হ্রদের একটি লেক অন্টারিও। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ আসে। ট্রাম্প একটি ভিডিওতে মানচিত্রে হ্রদটির পুরোনো নামের ওপর দাগ টেনে নতুন নাম লেখার দৃশ্য দেখিয়েছিলেন। পরে তাঁর প্রশাসনের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে নতুন নামটি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ডেনালির নাম পরিবর্তন করে মাউন্ট ম্যাককিনলি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন ২০১৫ সালে আলাস্কার আদিবাসীদের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে পর্বতটির নাম ডেনালি পুনর্বহাল করেছিল। ট্রাম্পের প্রশাসন আবার পুরোনো নামটি ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের আলোচিত নীতিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার নিজস্ব সরকারি নথি ও দেশীয় মানচিত্রে ভৌগোলিক নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে পারলেও অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে একই নাম গ্রহণে বাধ্য করতে পারে না। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশাল জলভাগের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে না। আন্তর্জাতিক মানচিত্র, ভৌগোলিক নামের স্বীকৃতি এবং অন্যান্য দেশের সরকারি ব্যবহারে নামটির গ্রহণযোগ্যতা আলাদা বিষয়। এখন পর্যন্ত আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্প কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেননি। ফলে ‘ট্রাম্প মহাসাগর’ বা ‘আমেরিকার মহাসাগর’ নাম দুটি আপাতত তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নাম ব্যবহারে কী প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার জন্য প্রতিবেশী ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিরা আগের কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ঘটনার পর সৌদি আরব তার মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সহায়তার জন্য আরও জোরালো আহ্বান জানাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার খরচ সামাল দিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রবীণ ও অন্যান্য যোগ্য গ্রাহক এককালীন ৯০ ডলারের ফেরত পাচ্ছেন। মার্কিন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে। তবে এই অর্থ সবার জন্য নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর প্রায় ২০.৮ মিলিয়ন গ্রাহক নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। যাঁদের মেডিকেড থেকে প্রিমিয়াম দেওয়া হয় অথবা যাঁরা আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন, তাঁরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা গ্রাহকেরাও এই নির্দিষ্ট ফেরতের যোগ্য নন। যোগ্য ব্যক্তিদের অধিকাংশের অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। যাঁদের সরাসরি জমার ব্যবস্থা নেই, তাঁদের নিবন্ধিত ঠিকানায় চেক পাঠানো হতে পারে। টাকা না পেলে বা নিজের যোগ্যতা যাচাই করতে চাইলে মেডিকেয়ারের সরকারি নম্বর ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭-এ যোগাযোগ করা যায়। অর্থের অবস্থা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সঙ্গে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকদের সতর্ক থাকতে হবে—এই অর্থ পাওয়ার নামে কেউ ফোন করে ব্যাংক পাসওয়ার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর বা অর্থ দাবি করলে তা দেবেন না। ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম ও সংসার চালানোর খরচের মধ্যে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো ইলেকট্রনিক সুবিধা কার্ডে অর্থ পায়, যা অনুমোদিত খাবার কেনার কাজে ব্যবহার করা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন আয়সীমা ও সুবিধার নিয়ম কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়মে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি, গুয়াম ও ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সাধারণ আয়সীমা অনুযায়ী একজনের পরিবারের মাসিক মোট আয় ১ হাজার ৭২৯ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের ৩ হাজার ৫৭৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিট আয়ের সীমা যথাক্রমে ১ হাজার ৩৩০ ও ২ হাজার ৭৫০ ডলার। আলাস্কা ও হাওয়াইয়ে আয়ের সীমা আলাদা। তবে এই সীমার মধ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না; অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আয়ের সীমা ১.একজন: মোট আয় ১,৭২৯ ডলার; নিট আয় ১,৩৩০ ডলার। ২.দুজন: মোট আয় ২,৩৪৫ ডলার; নিট আয় ১,৮০৪ ডলার। ৩.তিনজন: মোট আয় ২,৯৬০ ডলার; নিট আয় ২,২৭৭ ডলার। ৪.চারজন: মোট আয় ৩,৫৭৫ ডলার; নিট আয় ২,৭৫০ ডলার। ৫.পাঁচজন: মোট আয় ৪,১৯১ ডলার; নিট আয় ৩,২২৪ ডলার। এখানে মোট আয় বলতে অনুমোদিত কর্তন বাদ দেওয়ার আগের আয় বোঝায়। নিট আয় হিসাব করার সময় কর্মসংস্থান, নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্ন, চিকিৎসা ও বাসস্থানের কিছু অনুমোদিত ব্যয় বিবেচনা করা হতে পারে। কোন কর্তন প্রযোজ্য হবে, তা পরিবারের পরিস্থিতি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। ২০২৫ সালে পাস হওয়া ফেডারেল আইনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্ক এসএনএপি গ্রাহকের কাজসংক্রান্ত শর্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, স্বেচ্ছাসেবা বা অনুমোদিত প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে। শর্ত পূরণ না করলে নির্দিষ্ট তিন বছরের সময়কালে সাধারণত তিন মাসের বেশি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এসএনএপি সুবিধার ক্ষেত্রে অভিবাসন-অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই প্রত্যেক বিদেশি নাগরিক এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হন না। নাগরিকত্ব, নির্দিষ্ট অভিবাসন-শ্রেণি, বসবাসের সময় এবং অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হয়। পরিবারের কোনো সদস্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যদের আবেদন বিবেচনা করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১১ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে দেশটিতে ৫২টি প্রসূতি বিভাগ বন্ধ হয়েছে এবং আরও আটটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে মেডিকেইড কর্মসূচির সম্ভাব্য অর্থায়ন সংকোচন, যোগ্যতা যাচাইয়ের কঠোর নিয়ম এবং নতুন কর্মশর্তকে হাসপাতালগুলোর উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় হাসপাতাল বন্ধ হলে গর্ভবতী নারীদের সন্তান জন্মদানের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ পরিচালনা করা অনেক হাসপাতালের জন্য ব্যয়বহুল। চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, অস্ত্রোপচারের সুবিধা, নবজাতকের জরুরি পরিচর্যা এবং সার্বক্ষণিক কর্মী প্রস্তুত রাখার প্রয়োজন হয়। অথচ গ্রামীণ হাসপাতালগুলোতে প্রসবের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব সেবা পরিচালনার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ। দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআর-১ আইনের আওতায় মেডিকেইডের অর্থায়নে পরিবর্তন, যোগ্যতা যাচাই আরও ঘন ঘন করা এবং কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সুবিধাভোগীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরকারি অর্থায়ন কমে গেলে আগে থেকেই আর্থিক চাপে থাকা হাসপাতালগুলো প্রসূতিসেবা চালু রাখতে আরও সমস্যায় পড়বে। তবে সব প্রসূতি বিভাগ বন্ধের পেছনে মেডিকেইডই একমাত্র কারণ নয়; চিকিৎসক সংকট, কম রোগী, পরিচালন ব্যয় এবং হাসপাতালের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।