সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, এনবিসি ও ফক্স নিউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেটওয়ার্কগুলো প্রতিযোগিতাবিরোধী আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

রয়টার্সের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের অ্যান্টিট্রাস্ট বিভাগ তদন্ত করছে, সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিতভাবে সংবাদ কাভারেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেরম্যান আইনের আওতায় অবৈধ গোষ্ঠীগত বর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না।

 

বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৯ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতিপত্র বাতিল করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এসব সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো এ সিদ্ধান্তকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে আদালতের শরণাপন্ন হয়।

 

এরপর হোয়াইট হাউসের নিয়মিত টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া পাঁচটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিতভাবে কাভারেজ স্থগিত করে। এই ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমগুলো পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে এবং ভিডিও ফুটেজ পরস্পরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। ফলে একটি নেটওয়ার্কের সংগ্রহ করা দৃশ্য অন্য সংবাদমাধ্যমও ব্যবহার করতে পারে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুমতিপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের বিরোধ অব্যাহত থাকে।

 

বিচার বিভাগের বক্তব্য, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বর্জন কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শেরম্যান আইন লঙ্ঘন করতে পারে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো আইন ভঙ্গ করেছে, এমন নয়। তদন্তে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না এবং পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয় কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

 

এ ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি পৃথক বিষয়। প্রথমত, প্রতিযোগী সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার আইন লঙ্ঘন করেছে কি না। দ্বিতীয়ত, সরকার সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করার সময় সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করছে কি না। আইনি দৃষ্টিতে বিষয় দুটি সম্পর্কিত হলেও এক নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগকে নির্বাচনে অননুমোদিত ভোট ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ
ভোটার তালিকা যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদ্ধতি বেআইনি ঘোষণা করলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক

ট্রাম্প প্রশাসন ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগকে নির্বাচনে অননুমোদিত ভোট ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা পরিচালনা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর দায়িত্ব এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, বিচার বিভাগ প্রায় সব অঙ্গরাজ্যের কাছে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা চেয়েছিল। এসব তালিকায় সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ও জন্মতারিখের মতো সংবেদনশীল তথ্যও থাকতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্য তথ্য দিয়েছে, অন্যরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আইনি লড়াইয়ে গেছে।   রায়ের তাৎপর্য শুধু নির্বাচনী প্রশাসনে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা যাবে এবং সরকারি তথ্যভান্ডারের ভুলের কারণে যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন কি না—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তবে এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার যাচাইয়ের সব পদ্ধতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না; এটি নির্দিষ্ট সরকারি উদ্যোগ ও তার আইনি ভিত্তি নিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৫:৪০
যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হা মলায় সন্তান জন্মের চার দিন আগে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা নারীর

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হা মলায় সন্তান জন্মের চার দিন আগে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা নারীর

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন

ট্রাম্পের পদক্ষেপে মাইক্রোসফটসহ সাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আ/টকে গেল কর্মীদের গ্রিন কার্ডের পথ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশটির পাঁচটি প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক

হোয়াইট হাউস ঘিরে গণমাধ্যমে তোলপাড়, পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে বিচার বিভাগ

মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া
মার্কিন হু মকির মুখেও দমছে না ইরান, গোপনে ক্ষে পণাস্ত্র দিচ্ছে রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সামরিক হামলার হুমকির মুখে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে জোরালো কাজ শুরু করেছে ইরান। এই প্রক্রিয়ায় তেহরানকে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে মস্কো। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক মাসের টানা বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এখনো সচল রয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতাও তেহরানের হাতে আছে। পাশাপাশি দেশটির ভাণ্ডারে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে।   পশ্চিমা এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়া ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে—যা গত জুনের একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নেও উঠে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, হোয়াইট হাউস কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্রগুলোর এই নতুন মূল্যায়ন ওয়াশিংটনের আগের দাবির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, টানা আট মাসের বিমান হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করলে পাল্টা আঘাত হানার যথেষ্ট সক্ষমতা এখনো তেহরানের রয়েছে। এদিকে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বাড়িয়েছে ইরান; কেবল গত সপ্তাহেই অন্তত ১০টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।   ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে ইরানের হাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ৪ হাজারের বেশি শাহেদ ড্রোন এবং অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে গত জুনের পশ্চিমা গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগের মজুতের প্রায় ৭৫ শতাংশই ধরে রাখতে পেরেছে দেশটি।   সিআইএর সাবেক বিশ্লেষক এবং কিংস কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো জিম ল্যামসন মনে করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগের প্রধান বেকা ওয়াসার জানান, মার্কিন হামলা আপাতত বন্ধ থাকায় ইরান পরবর্তী সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার মূল্যবান সময় পাচ্ছে। কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারায় এই সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এদিকে, ইরানকে রুশ সামরিক সহায়তার খবরের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে একটি নতুন সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।   সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রুশ জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপের নীতিতে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছিল যে, ২০২৩ সাল থেকেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানতে সক্ষম এমন সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও র‍্যামজেট প্রপালশন প্রযুক্তি তৈরিতে ইরানকে গোপনে সহায়তা করে আসছে রুশ প্রকৌশলীরা।

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:২০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজনি ওয়ার্ল্ডে টিকিটের দাম বাড়িয়ে ৩০১ ডলার, ক্ষুব্ধ সাধারণ দর্শনার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় ইসাইয়াসের তাণ্ডবে নি হত ৪, বিদ্যুৎহীন প্রায় ৪ লাখ গ্রাহক

লাস ভেগাসে একাধিক বিয়ে ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় জিয়াইং চেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত
জুয়ার টাকা জোগাতে একের পর এক বিয়ে, প্রতারণার দায়ে লাস ভেগাসে নারীর সাজা

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জিয়াইং চেন নামে এক নারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ক্লার্ক কাউন্টির বিচারক ক্রিস্টাল এলার তাঁকে মোট এক বছর স্থানীয় কারাগারে থাকার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময় এই সাজার মধ্যে গণনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার ফেরত দিতে হবে তাঁকে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসএনভি জানিয়েছে, জুলাইয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে চেন আগের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে করা এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্তত এক লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালত তাঁর আট থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড স্থগিত রেখে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সময়ে তাঁকে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে এবং জুয়ার আসক্তির চিকিৎসা নিতে হবে।    পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষদের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাঁদের বিয়ের প্রস্তাব দিতেন চেন। বিয়ের পর কখনো চীনে অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসা, কখনো একসঙ্গে বাড়ি কেনার কথা বলে অর্থ চাইতেন। টাকা পাওয়ার পর অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতেন তিনি।   লাস ভেগাস রিভিউ জার্নালের প্রতিবেদনে পুলিশি নথির বরাতে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার জন্য তাঁকে ৪০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। আরেকজন বিয়ের পরপরই দেন ২৩ হাজার ডলার। টাকা পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পর চেন তাঁকে জানান, তিনি আর দাম্পত্য সম্পর্ক রাখতে চান না। অন্য এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার বাড়ি কেনার জন্য প্রায় ৩০ হাজার ডলার সংগ্রহ করে চেনকে দেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হারান।    তদন্তকারীরা জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চেনের নামে ১৪টি বিয়ের আবেদন জমা পড়েছিল, যেগুলো থেকে সাতটি বিয়ের সনদ দেওয়া হয়। পরে ‘ভিকি লিয়াং’ নামেও বিয়ের নথি পাওয়া যায়। কেএসএনভির সংগ্রহ করা নথি অনুযায়ী, ওই নামে তাঁর ছবি ব্যবহার করে জাল নেভাডা ড্রাইভার লাইসেন্স ও মার্কিন পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। চলতি বছরও পাঁচজনকে বিয়ে করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে তাঁর বিরুদ্ধে।    পুলিশের ভাষ্য, চেন লাস ভেগাসের উইন ক্যাসিনোতে এক বছরে তিন লাখ ডলারের বেশি হারিয়েছেন। স্বজনদের সহায়তার কথা বলে সংগ্রহ করা অর্থ জুয়ায় খরচ হয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।    কোর্ট টিভির আদালতসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাজা ঘোষণার সময় নয়জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অর্থ ফেরত চেয়েছেন। তাঁদের দাবির পরিমাণ ছিল পৃথকভাবে প্রায় আট হাজার থেকে ৮১ হাজার ডলার। চেনকে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৬২ ডলার ৮৬ সেন্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   চেনের আইনজীবী আদালতকে বলেন, তাঁর মক্কেল ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দিতে চান এবং সে জন্য কাজ করার সুযোগ প্রয়োজন। চেন দোভাষীর মাধ্যমে জানান, মুক্তির পর ফ্লোরিডায় এক বন্ধুর সুশি রেস্টুরেন্টে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। তবে বিচারক কারাবাসের পাশাপাশি আসক্তির চিকিৎসা ও নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের শর্তও বহাল রাখেন। 

প্রকাশ: অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১২:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকেরা অনলাইনে বাংলাদেশ সরকারের এনআইডি করার আবেদন করতে পারছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এনআইডি করবেন যেভাবে: আবেদন, কাগজপত্র ও কার্ড সংগ্রহের ধাপে ধাপে নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শিগেলা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধির সতর্কতা দিয়েছে সিডিসি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিপজ্জনক ডায়রিয়ার জীবাণু, পাঁচ অ্যান্টিবায়োটিকেও মিলছে না প্রতিকার

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংবাদে পুল কাভারেজ স্থগিত করায় টিভি নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের সংবাদ সংগ্রহ ঘিরে বিরোধে পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্ত

0 Comments