- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। নির্বাচনের প্রায় চার সপ্তাহ আগে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের অবস্থানের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। ৫ অক্টোবর প্রকাশিত সিএনএনের এক বিশ্লেষণে সিনেটের ১০টি আসন চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলো এবারের নির্বাচনে দল পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তালিকায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে কানসাস, যেখানে গত ৯৪ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকানদের দখলে থাকা অন্তত চারটি আসন জিততে হবে এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ধরে রাখতে হবে। সিএনএনের বিশ্লেষণে উত্তর ক্যারোলাইনাকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে সাবেক ডেমোক্র্যাট গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত মাসে প্রকাশিত এলন ইউনিভার্সিটি ও ইউগভের এক জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে কুপার ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতেও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বেড়েছে। সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির এক জরিপে ব্রাউন ৪৯ শতাংশ এবং হাস্টেড ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা এবং রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এবারের নির্বাচনে বিশেষ নজর কাড়ছে। তবে এসব জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না। সিএনএনের বিশ্লেষণে মেইন, মিশিগান, আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি জয় করা কঠিন হলেও সাম্প্রতিক জরিপে প্রতিযোগিতা কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা বাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনে সিএনএনের জনমত জরিপগুলোর সমন্বিত হিসাবে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩৪ শতাংশে নেমে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন প্রচারে বেশি অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরু থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ১০টি সিনেট আসনের মধ্যে আটটিতে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপন ব্যয় ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জর্জিয়ার সিনেট নির্বাচনও এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক কলিন্সের বিরুদ্ধে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন। সিএনএনের বিশ্লেষণে অসফকে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে দেখা হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যয়ও রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে এসব অঙ্গরাজ্যের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সিএনএনের তালিকাটি বর্তমান জরিপ, তহবিল সংগ্রহ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি বিশ্লেষণ, নির্বাচনের নিশ্চিত ফলাফলের পূর্বাভাস নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অস্ত্রধারী এক ব্যক্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা অতর্কিত গুলির মুখে পড়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে পশ্চিম ফিলাডেলফিয়ায় এ ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা শেন সাইবার নিহত হন। তাঁর সহকর্মী ১২ বার গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তার অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন। পুলিশ কমিশনার কেভিন বেথেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে নর্থ ৫২তম স্ট্রিটের একটি বাড়ির বারান্দায় অস্ত্রধারী ব্যক্তি থাকার খবর আসে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছান। বারান্দার কাছে যাওয়ার পরই তাঁরা গুলির মুখে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুরুতর আহত দুই কর্মকর্তাকে পেন প্রেসবিটারিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। ৪০ বছর বয়সী সাইবারের শরীরে তিনটি গুলি লাগে। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তিনি ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগে ১০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। কমিশনার বেথেল জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে সাইবারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে তাঁর পাশে থাকতে পেরেছিলেন। তিনি সাত বছরের এক ছেলে ও তিন বছরের এক মেয়েকে রেখে গেছেন। সাইবারের সঙ্গে থাকা ৩৩ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা ১২ বার গুলিবিদ্ধ হন। তিনিও পাঁচ সন্তানের বাবা। শনিবার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলা হলেও চিকিৎসা চলছিল। আহত এই পুলিশ কর্মকর্তার নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। প্রাথমিক হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি গলিপথে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে আসা আরও নয়জন পুলিশ কর্মকর্তার দিকেও গুলি ছোড়া হয়; তবে তাঁদের কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। আশপাশে তল্লাশির পর একটি গাছ থেকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগান ও একটি শটগান উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তি ৩৫ বছর বয়সী এরিক লুইস। জেলা অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, সাইবারের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আহত কর্মকর্তা এবং আরও নয়জন পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। লুইসকে জামিন ছাড়া আটক রাখা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলাডেলফিয়ার পানি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার বেথেল সাইবারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো তাঁর স্মরণে অঙ্গরাজ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পেনসিলভানিয়ার পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সমকামী নন এমন ব্যক্তিদের সমকামী পরিচয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের জন্য ভুয়া প্রমাণ তৈরিতে সহায়তার অভিযোগে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সংগঠন ‘আপনজন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার লন্ডনে অভিযানের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। ৪২ বছর বয়সী এই ট্রান্স নারী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর সংগঠন কোনো ভুয়া কাগজপত্র দেয়নি। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ, একটি চক্র বাংলাদেশি পুরুষদের আশ্রয় আবেদনের পক্ষে সাজানো ছবি, সমর্থনপত্র ও সম্পর্কের ভুয়া বিবরণ সরবরাহ করত। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রমাণ তৈরির জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আশ্রয় আবেদন এখন তদন্তের আওতায়। বিবিসিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্তবিষয়ক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টার বলেন, আশ্রয় আবেদনের নথিতে একই ধরনের কিছু তথ্য বারবার দেখতে পেয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কয়েক মাসের তদন্তের পর অভিযান চালানো হয়। সন্দেহজনক প্রমাণের মধ্যে ‘আপনজন’-এর সমর্থনপত্র, সমকামী পরিচয় বোঝাতে তোলা ছবি এবং একই লিঙ্গের ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের দাবি করে লেখা চিঠি রয়েছে বলে জানান তিনি। এগুলো ভুয়া কি না, সেটিই তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে অবস্থান না করার সন্দেহে আরও একজনকে আটক করা হয়। অভিযানে ফোন, গয়না ও কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেন কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার হওয়া প্রথম দুজনের একজন সাজ্জাদ মিয়া। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন পর্যালোচনা করছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, সন্দেহজনক আবেদনগুলোর কোনো কোনোটি আগে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। তবে পর্যালোচনাধীন সব আবেদন ভুয়া, এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আবেদনকারীদের যৌন পরিচয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও তার পক্ষে তৈরি করা প্রমাণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না। বাংলাদেশে যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সাজ্জাদ মিয়া ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান। পরে তিনি বাংলাদেশি এলজিবিটি ব্যক্তিদের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘আপনজন’ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাউকে সমর্থনপত্র দেওয়ার আগে সংগঠনটি ছয় মাস ধরে তাঁর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। তাঁর দাবি, সংগঠনটি প্রকৃত সহায়তাপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায় এবং অর্থের বিনিময়ে ভুয়া প্রমাণ দেয় না। অভিযানে জব্দ হওয়া অর্থ ও গয়না সম্পর্কেও সাজ্জাদ মিয়া নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, অর্থটি বাড়িভাড়ার জন্য রাখা ছিল এবং গয়নাগুলো তাঁর বোনের। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে। খবর প্রকাশের পর প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেছেন। এই তদন্তের আগে কয়েকটি আশ্রয় মামলায় ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। যুক্তরাজ্যের একটি অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের রায়ে একজন আবেদনকারীর জমা দেওয়া ছবিকে সাজানো বলে বর্ণনা করা হয়। ওই মামলায় বিচারক আবেদনকারীর বক্তব্যের অসংগতিসহ অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করেছিলেন। রায়টি নির্দিষ্ট সেই আশ্রয় আবেদনসংক্রান্ত; সাজ্জাদ মিয়ার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের নিষ্পত্তি নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির পৃথক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কিছু আইনবিষয়ক পরামর্শদাতা ও মধ্যস্থতাকারী আশ্রয়প্রার্থীদের সমকামী পরিচয়ে আবেদন করতে ভুয়া বিবরণ ও প্রমাণ জোগাড়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সেই অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মে মাসে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ‘আপনজন’-কে ঘিরে বর্তমান তদন্তটি আলাদা বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি আশ্রয় আবেদন আবেদনকারীর নিজস্ব পরিস্থিতি ও উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হয়। ‘আপনজন’-সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো পুনরায় পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।
সৌদি আরবে প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পাওয়া বিদেশিরা পরিবারের সঙ্গে বসবাস, বেসরকারি খাতে চাকরি বদল এবং নির্দিষ্ট শর্তে সম্পত্তি কেনাসহ ১০ ধরনের অধিকার ও সুবিধা পান। দেশটির প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি আইনে এসব সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে। ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সুবিধাগুলোর তালিকা তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যম লেজিট। এটি সৌদিতে থাকা সব বিদেশির জন্য নতুন কোনো ঘোষণা নয়; সুবিধাগুলো প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি অনুমতিপ্রাপ্তদের জন্য প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সৌদি আরবে থাকতে পারেন। বিধি মেনে আত্মীয়দের জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গৃহকর্মী নিয়োগের সুযোগও রয়েছে। পরিবারের আওতায় স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন; সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত শর্ত প্রযোজ্য। সম্পত্তির ক্ষেত্রে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত জায়গা কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে মক্কা, মদিনা ও সীমান্ত এলাকায় সম্পত্তির মালিকানার ওপর বিধিনিষেধ আছে। মক্কা ও মদিনায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সর্বোচ্চ ৯৯ বছর পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার পাওয়া যেতে পারে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সৌদি আইনে অনুমোদিত অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রাখার সুযোগও রয়েছে। প্রিমিয়াম রেসিডেন্সিধারী এবং যোগ্য পরিবারের সদস্যরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ ও ওই খাতের মধ্যে চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন। তবে সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত পেশায় এই সুযোগ প্রযোজ্য নয়। চাকরিসংক্রান্ত প্রযোজ্য ফি ও অন্যান্য নিয়মও মানতে হবে। যাতায়াতের সুবিধার মধ্যে রয়েছে আলাদা এক্সিট বা পুনঃপ্রবেশ ভিসা ছাড়াই সৌদি আরব ত্যাগ ও সেখানে ফিরে আসার অধিকার। সৌদির প্রবেশ ও বের হওয়ার পয়েন্টে নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত লেন ব্যবহারের সুযোগও তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আইন মেনে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যায়। প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি পেতে আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। সৌদি আইনে বৈধ পাসপোর্ট, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, অপরাধের রেকর্ড না থাকার প্রমাণ এবং নির্ধারিত স্বাস্থ্য প্রতিবেদনসহ কয়েকটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ আছে। অনুমোদনের পর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের শর্তও পূরণ করতে হয়।
নিউইয়র্ক সিটির কারা বিভাগে কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সিটি সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘কারেকশন অফিসার’ পদে আবেদন গ্রহণ চলছে। পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে কোনো ফি লাগবে না। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে। লিখিত বহুনির্বাচনী পরীক্ষা ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ পদে প্রাথমিক বার্ষিক বেতন ৫৬ হাজার ৮৩৮ ডলার। চাকরির সাড়ে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে মূল বেতন বেড়ে বছরে ১ লাখ ৯ হাজার ৩৫২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর পাশাপাশি বছরে ১ হাজার ১০০ ডলারের পোশাক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী অতিরিক্ত বেতন পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে বেতনের হার পরিবর্তন হতে পারে। কারা আবেদন করতে পারবেন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যোগ্যতার জন্য একাধিক পথ রয়েছে। স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩৯ সেমিস্টার ক্রেডিট সম্পন্ন করা প্রার্থীরা আবেদনযোগ্য হতে পারেন। এ ছাড়া চার বছরের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে অন্তত এক বছরের সন্তোষজনক পূর্ণকালীন বেতনভুক্ত সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও যোগ্যতা পূরণ হতে পারে। সামরিক বাহিনীতে সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব পালন, সমাজসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। বয়স, নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ১৭ বছর হতে হবে। তবে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। চাকরিতে যোগদানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি অথবা নাসাউ, ওয়েস্টচেস্টার, সাফোক, অরেঞ্জ, রকল্যান্ড কিংবা পাটনাম কাউন্টির বাসিন্দা হতে হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের শিক্ষানবিশ চালকের অনুমতিপত্র নিয়োগের সময় থাকতে হবে এবং প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বৈধ চালকের লাইসেন্স অর্জন করতে হবে। পরীক্ষা ও নিয়োগপ্রক্রিয়া কম্পিউটারে বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। উত্তীর্ণ হতে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। পরীক্ষায় যুক্তি বিশ্লেষণ, গণিত, তথ্য মনে রাখা, সমস্যা শনাক্ত করা এবং ইংরেজি পড়া ও লেখার দক্ষতা যাচাই করা হতে পারে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নম্বরের ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান দেওয়া হবে; সেই তালিকা থেকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হবে। শারীরিক সক্ষমতা, চিকিৎসা ও মানসিক মূল্যায়ন এবং পটভূমি যাচাইয়ের শর্তও রয়েছে। যেভাবে আবেদন করবেন আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অনলাইন পরীক্ষার আবেদনব্যবস্থায় গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার সময় পরীক্ষার নম্বর ৭৩০২ নির্বাচন করতে হবে এবং ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘নো ফি’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬। বিস্তারিত যোগ্যতা ও শর্তাবলি পড়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবেদনের সরকারি ওয়েবসাইট: nyc.gov/examsforjobs।
চীনের শানসি প্রদেশের ইউনগাং গুহামন্দিরে শৌচাগারের প্রতিটি কক্ষের বাইরে ডিজিটাল টাইমার বসানো হয়েছে। কেউ ভেতরে ঢুকলে টাইমার চালু হয় এবং তিনি কতক্ষণ ধরে কক্ষটি ব্যবহার করছেন, তা বাইরে থাকা অন্যরাও দেখতে পান। ২০২৪ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। কক্ষ খালি থাকলে ডিসপ্লেতে সবুজ সংকেত দেখা যায়। ব্যবহার শুরু হলে সেটি লাল হয়ে যায় এবং সময় গণনা শুরু হয়। এতে অপেক্ষায় থাকা দর্শনার্থীরা কোন কক্ষ খালি, তা সহজে বুঝতে পারেন। পর্যটনকেন্দ্রটির কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলানো এবং কেউ অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ভেতরে থাকলে তাঁর সহায়তা প্রয়োজন কি না, তা বোঝার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে শৌচাগার ব্যবহারের কোনো সময়সীমা নেই; নির্দিষ্ট সময় পার হলে কাউকে বের করে দেওয়াও হয় না। টাইমার নিয়ে দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ খালি কক্ষ শনাক্ত করার সুবিধার কথা বলছেন। আবার ব্যক্তিগত একটি কাজের সময় সবার সামনে প্রদর্শিত হওয়ায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার সুযোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২০২৭ সালে এই সেবা শুরু এবং বছরের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মার্কিন নাগরিককে অনলাইনে পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের জন্য নতুন নকশার পাসপোর্টও দেখিয়েছেন তিনি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি সেবা ডিজিটাল করার উদ্যোগসংক্রান্ত অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ঘরে বসেই আবেদন, ছবি আপলোড ও ফি পরিশোধ করা যাবে। বর্তমানে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্কদের মার্কিন পাসপোর্টের আবেদন করতে অনুমোদিত আবেদন গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে হয়। আবেদনপত্র পূরণ করে প্রিন্ট করা, নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পরিচয়পত্র জমা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সামনে আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া রয়েছে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নিয়মই কার্যকর থাকছে। রুবিওর দেখানো অনলাইন আবেদনপ্রক্রিয়ায় সরকারি অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর আবেদনকারীর আগে থেকে সংরক্ষিত কিছু তথ্য ব্যবহার করা যাবে। ফোনে ছবি তুলে কিংবা ডিভাইস থেকে ছবি আপলোড করে অনলাইনে ফি পরিশোধের ব্যবস্থাও থাকবে। আবেদনের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য ডেলিভারির সময় দেখানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি। পাসপোর্টের নতুন নকশায় প্রচ্ছদের ঈগল ও জাতীয় প্রতীক আরও বড় এবং স্পষ্টভাবে রাখা হচ্ছে। ভেতরের পাতায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও ন্যাশনাল ডিজাইন স্টুডিও যৌথভাবে এই নকশা তৈরি করেছে বলে জানান রুবিও। এদিকে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য অনলাইনে পাসপোর্ট নবায়নের সুবিধা ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স অন্তত ২৫ বছর হতে হবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার সময় তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা ভূখণ্ডে অবস্থান করতে হবে। নবায়নের জন্য আগের পাসপোর্টটি ১০ বছর মেয়াদি হতে হবে। সেটির মেয়াদ শেষ হতে এক বছর বা কম বাকি থাকতে হবে, অথবা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাঁচ বছরের কম সময় পার হতে হবে। নামসহ ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে কিংবা পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই অনলাইন সুবিধা ব্যবহার করা যায় না। অনলাইন নবায়নে দ্রুত সেবা নেওয়ার সুযোগ নেই। আবেদন জমা দেওয়ার পর অন্তত ছয় সপ্তাহ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিকল্পনা না থাকার শর্তও রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নবায়নের আবেদন জমা হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়, ফলে সেটি দিয়ে আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা যায় না।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশেষ করে তেল স্থাপনা, শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার প্রভাব যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বহু বছর ধরে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রোববার ১১ অক্টোবর তেহরানে পরিবেশ ধ্বংস ও যুদ্ধাপরাধবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন আরাঘচি। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতিকে মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। আরাঘচি বলেন, যুদ্ধের সময় পানি, মাটি, বাতাস, বন, কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের যে ক্ষতি হয়, তা লড়াই থামলেই শেষ হয়ে যায় না। এসব ক্ষতির প্রভাব বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইরানের পাশাপাশি গাজা ও লেবাননের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ইরানে তেল স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ইউএনইপির মার্চ মাসের বিবৃতির কথা তুলে ধরেন আরাঘচি। নূর নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে ‘কালো বৃষ্টি’র প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। ইউএনইপি গত ১৩ মার্চ জানিয়েছিল, দূর থেকে পর্যবেক্ষণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তেহরানসহ শহর ও শহরসংলগ্ন এলাকায় তেল স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জ্বলন্ত তেলের ধোঁয়ায় থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক শ্বাসের সঙ্গে শিশুদের শরীরেও প্রবেশ করছে বলে উদ্বেগ জানায় সংস্থাটি। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত আগুনের দূষণ মাটি ও পানিতে ছড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছাতে পারে। ফসলেও দূষক জমা হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এসব ছিল সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সংস্থাটির মার্চের মূল্যায়ন। সম্মেলনে আরাঘচি যুদ্ধের পরিবেশগত ক্ষতি স্বাধীনভাবে নথিবদ্ধ করা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মূল্যায়ন, ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ব্যাপক পরিবেশ ধ্বংস বা ‘ইকোসাইডকে’ পৃথক আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে আইনি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনায় ইরানের সমর্থনও জানান তিনি।
ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ট্র্যাক্টর কেনার জন্য ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠিয়ে প্রতারণার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার ডোনা শাক। ঘটনাটি ফেসবুকে জানাতে গিয়ে তিনি গুগলে পাওয়া একটি ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বরে ফোন করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই দ্বিতীয়বার প্রতারণার শিকার হয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে ফেলেন তিনি। ল্যাংকাস্টার কাউন্টির ডোনা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউজিএএলকে জানান, মার্কেটপ্লেসে একটি ছোট ট্র্যাক্টরের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই বিক্রেতা তাঁর পরিবারের দুজনের ফেসবুক ফ্রেন্ড ছিলেন। তাই ২০০ ডলার অগ্রিম পাঠান। কিছুক্ষণ পর বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং তাঁর প্রোফাইলও আর দেখা যায়নি। অভিযোগ জানাতে ফেসবুকের কাস্টমার সার্ভিস নম্বর খুঁজে ফোন করলে এক ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দেন। ডোনার দাবি, ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, বিক্রেতা হয়তো তাঁর ফোনের তথ্যেও প্রবেশ করতে পেরেছেন। অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা ও কার্ডগুলো বাতিল করার কথা বলে তিনি ডোনার সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চান। ডোনা ১৩টি অ্যাকাউন্টের তথ্য দেন। পরে বুঝতে পারেন, নম্বরটি ভুয়া ছিল। ডোনা এখন সংশ্লিষ্ট কার্ডগুলোর পরিবর্তে নতুন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো অঙ্ক নিশ্চিত করা হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন সতর্ক করেছে, সার্চ রেজাল্টে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাস্টমার সার্ভিস নম্বর দেখাতে পারে প্রতারকেরা। কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানাতে হলে সরাসরি তার অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে দেওয়া যোগাযোগের ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ সংস্থাটির। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা আর্থিক তথ্য প্রতারকের হাতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে দ্রুত জানানো এবং পরিচয় চুরির ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
ব্রিটেনের ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নতুন প্রধান ক্লিনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি। ৬ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে পদটিতে থাকা অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। সংস্থাটির চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন অধ্যাপক মারিয়াম। রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গবেষণার ফল চিকিৎসায় কাজে লাগানোর উদ্যোগে ভূমিকা থাকবে তাঁর। চিকিৎসা গবেষণায় নতুন কর্মী তৈরির পাশাপাশি ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। অধ্যাপক মারিয়াম ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্যানসার ইনস্টিটিউটে ক্যানসার জিনোমিকস ও মেটাস্ট্যাসিসের অধ্যাপক। তিনি বক্ষসংক্রান্ত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ক্যানসার সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়, শরীরের অন্য অংশে ছড়ায় এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয়। ফুসফুসের ক্যানসারের পরিবর্তন নিয়ে বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প ট্রেসারএক্সে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকল্পটিতে টিউমারের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা এবং রোগ শনাক্তের পর থেকে রোগীদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যানসারের বিকাশ বোঝার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ শনাক্ত করা এবং রোগীভেদে আরও উপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করা। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেছেন, রোগীর অসুস্থতার বিভিন্ন পর্যায়ে টিউমার পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক মারিয়াম ও তাঁর সহকর্মীরা ক্যানসারের পরিবর্তনশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক মারিয়াম একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যানসারের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর ইউরোপীয় অনুদান পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক দলেও তিনি যুক্ত ছিলেন। নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক মারিয়াম বলেছেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস গবেষণার ফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার কাজ আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সেন্টের একটি নিকেল মুদ্রা তৈরি ও বাজারে সরবরাহ করতে সর্বশেষ প্রকাশিত সরকারি হিসাবে খরচ হয়েছে ১৩ দশমিক ৩১ সেন্ট। মুদ্রাটির মূল্যমানের চেয়ে এই ব্যয় ৮ দশমিক ৩১ সেন্ট বেশি। উৎপাদন খরচ কমাতে নিকেলের ধাতব উপাদান বদলানোর সুযোগ রেখেছে কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিল। তবে নিকেল মুদ্রা বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মিন্টের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা ২০ বছর ধরে নিকেল তৈরির খরচ এর পাঁচ সেন্ট মূল্যমানের চেয়ে বেশি। কংগ্রেসের আলোচনায় এখন এই ব্যয় কমানোর উপায় হিসেবে মুদ্রাটির গঠন পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামের বিলে বর্তমানে ব্যবহৃত তামা ও নিকেলের সংকর ধাতুর পাশাপাশি ভেতরে জিঙ্ক এবং বাইরে নিকেলের আবরণযুক্ত মুদ্রা তৈরির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নতুন উপাদান ব্যবহার করতে হলে আগে পরীক্ষা করে দেখতে হবে, তাতে উৎপাদন খরচ কমে কি না এবং কয়েন গ্রহণকারী যন্ত্রগুলোর ব্যবহারে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয় কি না। ফলে বিল পাস হওয়া মানেই নতুন ধরনের নিকেল বাজারে আসছে, এমন নয়। বিলটির প্রধান লক্ষ্য এক সেন্টের পেনি মুদ্রার উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তকে আইনি ভিত্তি দেওয়া। মার্কিন মিন্ট সাধারণ লেনদেনের জন্য নতুন পেনি তৈরি ইতোমধ্যে স্থগিত করেছে। তবে মানুষের কাছে থাকা পেনি এখনো বৈধ এবং কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। পেনির সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে বিলটিতে নগদ লেনদেনের জন্যও একটি বিধান রাখা হয়েছে। কোনো লেনদেনে ঠিক পরিমাণ খুচরা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হলে মোট অঙ্ক নিকটতম পাঁচ সেন্টে সমন্বয় করা যাবে। কার্ড, চেক বা ইলেকট্রনিক পেমেন্টে এই সমন্বয়ের বিধান প্রযোজ্য হবে না। বিলের ভাষা অনুযায়ী, সব নগদ লেনদেনে মূল্য সমন্বয় করা বাধ্যতামূলকও নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ১৪ সেপ্টেম্বর এবং সিনেট ২৮ সেপ্টেম্বর বিলটি পাস করেছে। সর্বশেষ পাওয়া আইনপ্রণয়নসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। তাই নিকেলের উপাদান বদলানো কিংবা নগদ লেনদেনে বিলের নতুন বিধান চালু হওয়ার বিষয়টি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণ নথিভুক্ত করার নিয়ম বদলাচ্ছে। নতুন নিয়মে ১০ ধরনের ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণের তালিকা থেকে সরিয়ে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হবে। এতে ওই সব কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। এত দিন এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণে দীর্ঘ বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিল হলে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী যাত্রীরা বিভিন্ন সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ১০টি কারণ সেই শ্রেণিতে গণনা করা হবে না। পরিবহন বিভাগ বলছে, এর ফলে সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এমন ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে। তবে কতজন যাত্রী প্রভাবিত হবেন বা সুবিধার পরিমাণ কতটা কমবে, সে হিসাব তাদের কাছে নেই। নতুন শ্রেণিতে থাকছে যাত্রীর মৃত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কারের প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজের ক্ষতি, এয়ারলাইনস বা তার ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ব্যাগেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং নির্দিষ্ট শর্তে সাইবার হামলা। সরকারি ব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত ত্রুটি সরাসরি নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনায় বাধা দিলেও সেটি এই শ্রেণিতে পড়বে। এ ছাড়া জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে ব্রেক অতিরিক্ত গরম হওয়া, ফ্লাইটের আগে সমাধান করতেই হবে এমন অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ, এয়ারলাইনসের দায় ছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, বিশৃঙ্খল যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া এবং আগ্নেয়গিরির ছাই বা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হওয়াও তালিকায় রয়েছে। সব ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না; নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য খাবার ও হোটেলের ব্যবস্থা আর টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করলে বা সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনলে যাত্রী বিকল্প ফ্লাইট কিংবা ভাউচার গ্রহণ না করে রিফান্ড নিতে পারেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, তার ওপর এই রিফান্ডের অধিকার নির্ভর করে না। পরিবহন বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ যাত্রায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রায় অন্তত ছয় ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য বিলম্বের মধ্যে পড়ে। তবে পরিবর্তিত বা বিকল্প ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে সাধারণত পুরো টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইনের নির্দেশনা কার্যকর করতেই পরিবহন বিভাগ এই শ্রেণিবিন্যাস বদলাচ্ছে। ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীরা এয়ারলাইনসের কাছে বিলম্বের কারণ জানতে এবং কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিস নীতিতে খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধার কী অঙ্গীকার রয়েছে, তা দেখতে পারেন।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার ১১ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় আরও অনেকে আহত হয়েছেন; তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি ছাড়াও সৌদি আরবসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতেও মিশন কাজ করছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বড়দিনের আগের রাতে গির্জায় প্রার্থনারত খ্রিস্টানদের রক্ষা করতে বোমা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম যুবক রিয়ান্তো। কিন্তু সেটি নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার আগেই বিস্ফোরণ ঘটে। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পূর্ব জাভার মোজোকার্তো শহরের এবেন হায়েজার গির্জায় প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সী এই স্বেচ্ছাসেবক। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আত্মত্যাগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর ঘটনা স্মরণ করা হয়। রিয়ান্তো ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম সংগঠন নাহদাতুল উলামার যুব সংগঠন আনসরের স্বেচ্ছাসেবী শাখা বানসারের সদস্য। বড়দিনের প্রার্থনায় নিরাপত্তায় সহায়তা করতে তিনি অন্য সদস্যদের সঙ্গে গির্জায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় ধর্মীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মোজোকার্তোর বিভিন্ন গির্জায় বানসারের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। দ্য জাকার্তা পোস্টের ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গির্জার সামনে একটি বিস্ফোরকভর্তি প্যাকেট পাওয়া যায়। তখন ভেতরে কয়েকশ মানুষ বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে বিপদ সরাতে রিয়ান্তো প্যাকেটটি তুলে দূরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি সেটি ফেলে দেওয়ার আগেই বিস্ফোরিত হয়। রিয়ান্তোর মৃত্যু তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি ছিলেন সাত ভাইবোনের মধ্যে বড়। গির্জার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁর প্রাণ হারানোর ঘটনা ইন্দোনেশিয়ায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে। ঘটনার বহু বছর পরও তাঁকে স্মরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০১৯ সালে তাঁর পরিবারের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। ২০২৪ সালে ঘটনার ২৪ বছর পূর্তিতেও মোজোকার্তোয় আনসর ও গুসদুরিয়ান সংগঠনের সদস্যরা তাঁর কবর পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানান। নাহদাতুল উলামার প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্য ধর্মের মানুষের জীবন রক্ষায় রিয়ান্তোর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসকসহ লাইসেন্সধারী স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী রয়েছেন ৯০ জন। পৃথক ঘটনায় নিউ ইয়র্কের কুইন্সে চিকিৎসা না দিয়েও মেডিকেইডে বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের ঘোষণা অনুযায়ী, এসব অভিযোগ বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। পুরো অর্থকে ইতোমধ্যে আত্মসাৎ করা অর্থ কিংবা অভিযুক্ত সবাইকে একই চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। সরকারি হিসাবে অভিযুক্তের সংখ্যা ৪৫৫ জন। তাই পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার এবং ৯০ জনই চিকিৎসক, এমন তথ্য এই ঘোষণার সঙ্গে মেলে না। জাতীয় অভিযানের মধ্যে মেডিকেইডে ৫১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ২৯৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য, এসব জালিয়াতি সরকারি অর্থের ক্ষতির পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয় গত ২৮ সেপ্টেম্বর কুইন্সের ডেন্টিস্ট সুলেমান নাসিমীর গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। নাসাউ কাউন্টির হিক্সভিলের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী নাসিমী ‘টুথ ফ্রেশ মেডোজ’ নামে একটি ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালনা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নাসিমী অন্তত ৩৫ জন মেডিকেইড সুবিধাভোগীর নামে এমন দন্তচিকিৎসার বিল জমা দেন, যা তিনি করেননি। রুট ক্যানাল ও দাঁতে ক্রাউন বসানোর মতো চিকিৎসার ভুয়া বিলের মাধ্যমে তিন লাখ ডলারের বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইউরোপে ছুটিতে থাকার সময়ও চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। এই বিলিংয়ের কারণে কয়েকজন রোগী পরে অন্য ডেন্টিস্টের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনুমোদন পাননি বলে অভিযোগ। মেডিকেইডের রেকর্ডে তাঁদের সেই চিকিৎসা আগেই নেওয়া হয়েছে বলে দেখানো ছিল। তবে নাসিমীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো এaখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এর মধ্যে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ও রোগী পরিবহন সংস্থার মালিকও রয়েছেন। মেডিকেইড সেবাদাতার বিরুদ্ধে জালিয়াতির তথ্য থাকলে নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের মেডিকেইড ফ্রড কন্ট্রোল ইউনিটে অভিযোগ জানানো যায়। এ জন্য হটলাইন নম্বর ৮০০ ৭৭১ ৭৭৫৫।
হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত ফ্লোরিডা, আলাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঝড় দুর্বল হয়ে পড়লেও দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, দমকা বাতাস ও টর্নেডোর ঝুঁকি অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বাড়ির ওপর গাছ পড়ে। ইসাইয়াস স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আঘাত হানে। তখন এটি ক্যাটাগরি ২ মাত্রার হারিকেন ছিল। স্থলভাগে ঢোকার পর ঝড়টি দুর্বল হতে থাকে। তবে আলাবামার দক্ষিণাঞ্চল, ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল এবং জর্জিয়ার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়ে যায়। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ারআউটেজের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে ফ্লোরিডায় প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, আলাবামায় ১ লাখ ৯০ হাজার, জর্জিয়ায় ৪৩ হাজার এবং মিসিসিপিতে ১৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এই সংখ্যা বিদ্যুৎ সংযোগের হিসাব, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মোট সংখ্যা নয়। আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের তারের কারণে সড়কে চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউন্টির সব সড়ক বন্ধ থাকবে। এলাকাটিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি ছিল। ফ্লোরিডায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড় মোকাবিলায় প্রায় ১৬ হাজার বিদ্যুৎকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় হাইওয়ে, সেতু ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ চললেও পেনসাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক গ্রেট উমাইয়া মসজিদ দীর্ঘ ১৩ বছর পর আবার মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর সংস্কার ও পুনর্বাসনের কাজ শেষে মসজিদটির আনুষ্ঠানিক পুনরুদ্বোধন হয়। গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই স্থাপনা ফিরে পাওয়ার মধ্য দিয়ে আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র আবার সচল হলো। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল গারিব, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। গভর্নর বলেন, বহু বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর মসজিদটিকে নগরবাসীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের সময় এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও স্থাপত্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আল গারিব মসজিদটির দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, উমাইয়া আমল থেকে এটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অংশ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলেম, ধর্মীয় বক্তা ও চিন্তাবিদদের মিলনস্থল হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও মসজিদটির ভূমিকা স্মরণ করেন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আলেপ্পোয় সংঘর্ষের সময় মসজিদ ও আশপাশের এলাকা যুদ্ধের সম্মুখভাগে পরিণত হয়। গোলাবর্ষণ ও অগ্নিকাণ্ডে নামাজের কক্ষ, বারান্দা, প্রবেশপথ এবং স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভেঙে পড়ে ঐতিহাসিক মিনারটি। সেটি ধ্বংসের দায় নিয়ে তৎকালীন সরকারি বাহিনী ও বিরোধী পক্ষ পরস্পরকে অভিযুক্ত করেছিল। মসজিদটির সংস্কার অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হয়নি। ইউনেসকোর কাছে জমা দেওয়া পুরোনো নথিতেও ধ্বংসাবশেষ সরানো, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করা এবং মিনারের পাথর সংরক্ষণের কাজের বিবরণ রয়েছে। ফলে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগকে শুধু ২০২৪ সালের পরের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সিরীয় সংবাদমাধ্যম এনাব বালাদির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আলেপ্পোর ওয়াকফ অধিদপ্তর নিজের তত্ত্বাবধানে সংস্কারকাজ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেয়। সর্বশেষ কাজের মধ্যে ছিল বারান্দা, আঙিনার পাথরের মেঝে, পানীয় জলের ব্যবস্থা ও অজুখানা সংস্কার। মিনার পুনর্নির্মাণে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা মূল পাথরের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত প্রাচীন আলেপ্পো নগরীর অন্যতম প্রধান নিদর্শন। পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল রিফাই জানান, ওয়াকফ মন্ত্রণালয় মসজিদগুলোতে কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় পাঠচক্র আয়োজনের কর্মসূচি প্রস্তুত করেছে। আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশোও আশা প্রকাশ করেন, পুনরায় চালু হওয়া উমাইয়া মসজিদ ইবাদতের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা ফিরে পাবে।
যুক্তরাজ্যের আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে পিএইচডি শুরু করতে আগ্রহীদের জন্য ফান্ডিংসহ গবেষণার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল কলেজের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আবেদনকারীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচিত গবেষকদের টিউশন ফি, জীবনযাপনের জন্য বার্ষিক অনুদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলটাইম গবেষকদের তিন বছরের এবং পার্টটাইম গবেষকদের ছয় বছরের টিউশন ফি বহন করবে স্টুডেন্টশিপ। ফুলটাইম গবেষকদের জন্য বছরে প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড করমুক্ত মেইনটেন্যান্স গ্র্যান্ট এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ৯০০ পাউন্ডের সহায়তা উল্লেখ রয়েছে। প্রচারিত তথ্যে বার্ষিক অনুদান প্রায় ২২ হাজার পাউন্ড বলা হলেও বর্তমান আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় অঙ্কটি প্রায় ২১ হাজার পাউন্ড। যেসব প্রকল্পে পার্টটাইম সুযোগ রয়েছে, সেখানে পড়াশোনার সময় ও ফান্ডিং ফুলটাইমের ৫০ শতাংশ হারে নির্ধারিত হবে। এই সুযোগ ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে গবেষণার জন্য। তবে প্রচারিত পোস্টে ১৩০টি স্টুডেন্টশিপের কথা বলা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রতিযোগিতার ঘোষণায় মোট সংখ্যাটি নিশ্চিত করা হয়নি। সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফার্স্ট ক্লাস অথবা আপার সেকেন্ড ক্লাস, অর্থাৎ ২:১ অনার্স ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। সমমানের আন্তর্জাতিক যোগ্যতাও বিবেচিত হতে পারে। লোয়ার সেকেন্ড ক্লাস বা ২:২ অনার্সের সঙ্গে মাস্টার্সে ডিস্টিংকশন থাকলে আবেদন বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে। ২০২৭ সালের ভর্তির আবেদন ৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে। শেষ সময় ৮ জানুয়ারি ২০২৭, যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৪টা। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি একই দিন রাত ১০টা। তবে যোগ্যতার অংশে ডিগ্রি অর্জনের সময় হিসেবে এখনো সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেখা রয়েছে। তাই যাঁদের ডিগ্রি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট সময়সীমা ডক্টরাল কলেজের কাছে নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে চাওয়া ডিগ্রি সার্টিফিকেট, গবেষণা প্রস্তাব, সিভি এবং প্রয়োজনে একাডেমিক লেখার নমুনাসহ সব নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি বাদ থাকলে আবেদন সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রকল্পের বিবরণে উল্লেখ করা সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও রয়েছে। প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকে মাঝামাঝি সময়ে ইন্টারভিউ এবং ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ফল জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্টুডেন্টশিপ শুরু হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৭। নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে, যেখানে আবেদনকারীর যোগ্যতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার আগ্রহ বিবেচনা করা হবে।
ভারতে কাপড় ইস্ত্রির ব্যবসা থেকে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি আয় করেন বলে দাবি করেছেন অরুণ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৮০ থেকে ৯০ হাজার রুপি থাকে। দুই কর্মীকে মাসিক ২০ হাজার রুপি করে বেতন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ভিত্তি করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নবভারত টাইমস ৮ অক্টোবর এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি ‘টু জেনারেশনস ওয়ান ভ্লগ’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অরুণ জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি পোশাক ইস্ত্রি করেন এবং প্রতিটির জন্য ৮ রুপি নেন। এই হিসাবে দৈনিক আয় দাঁড়ায় ৪ হাজার রুপি। তবে দৈনিক কাজের পরিমাণ ও মাসিক আয়ের দাবির মধ্যে হিসাবের অমিল রয়েছে। প্রতিদিন ৫০০টি পোশাক ৮ রুপি করে ইস্ত্রি করলে ৩০ দিনে মোট আয় হয় ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির অঙ্কটি কীভাবে আসে, প্রতিবেদনে তার ব্যাখ্যা নেই। ফলে তাঁর উল্লেখ করা মাসিক আয়কে নিশ্চিত হিসাব হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। অরুণের বক্তব্য অনুযায়ী, কাজটি তিনি একা করেন না। তাঁর সঙ্গে আরও দুইজন কাজ করেন। তিনি জানান, প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের ইস্ত্রি দিয়ে কাজ করতে হয়, যা শারীরিক পরিশ্রমের। আগ্রহীরা কাজটি শিখতে পারেন বলেও ভিডিওতে উল্লেখ করেন তিনি। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ছোট ব্যবসার আয় ও চাকরির বেতনের তুলনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আয়, খরচ ও কর্মীদের বেতনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যনির্ভর।
ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজে যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে সেটির চলাচলক্ষমতা অচল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার, ১০ অক্টোবর পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশান মলিকা নামের জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত জাহাজটি একটি ইরানি বন্দর ছেড়ে আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলছিল। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম গোলাবারুদ ব্যবহার করে জাহাজটির পেছনের অংশে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজের চালনাব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। হামলায় জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ফলে সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা ও অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টার বিষয়ে জাহাজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আবার কার্যকর করা হয়। এরপর তিন মাসে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করা হয়েছে এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোপন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের ১০টি ট্যাংকার ধ্বংস করার দাবিও করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব সংখ্যা সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া তথ্য। সর্বশেষ হামলার ঘটনাটিকে তারা অবরোধ কার্যকর রাখার অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে চলাচলকারী নাবিকদের অবরোধসংক্রান্ত সতর্কবার্তা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড। পাশাপাশি নৌযান চলাচলের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচারিত বার্তা পর্যবেক্ষণ এবং রেডিওর ১৬ নম্বর চ্যানেলে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ট্যাংকার হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল দুই মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশের সমপরিমাণ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।