- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ধরা যাক, নেভিন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার এক সাবেক কর্মস্থল থেকে ভুলবশত ৬০০ ডলার জমা হয়েছে। কিন্তু টাকাটি অ্যাকাউন্টে আসার পর পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোপে) তার বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিল পরিশোধে খরচ হয়ে যায়। নেভিনের অজান্তেই টাকাগুলো অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হয়। তবে আসল বিপত্তি বাধে তখন, যখন তার সাবেক নিয়োগকর্তা যোগাযোগ করে সেই টাকাটি ফেরত চান। এখন প্রশ্ন হলো, নেভিন কি সত্যিই এই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য, যদিও সে ইতোমধ্যেই তা নিজের বিল পরিশোধে খরচ করে ফেলেছে? দুর্ভাগ্যবশত, আইন বিশেষজ্ঞদের মতে এই প্রশ্নের উত্তর হলো— হ্যাঁ, তাকে অবশ্যই ওই অর্থ ফেরত দিতে হবে। আইন অনুযায়ী, নেভিনের সাবেক নিয়োগকর্তা চাইলেই এই টাকা ফেরত নেওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। তবে ‘ন্যাশনাল অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস অ্যাসোসিয়েশন’ (NACHA)-এর নিয়ম অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভুল করে টাকা পাঠানোর পাঁচ ব্যাংকিং কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগকর্তাকে পুরো টাকাটি ফেরত নেওয়ার (রিভার্সাল) উদ্যোগ নিতে হবে এবং প্রাপককে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু প্রাপকের অ্যাকাউন্টে যদি পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে, অর্থাৎ ব্যালেন্স যদি ৬০০ ডলারের নিচে নেমে যায়, তবে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই রিভার্সাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না। যেহেতু নেভিন ইতোমধ্যেই বিল পরিশোধে কিছু অর্থ খরচ করে ফেলেছেন, তাই ব্যাংক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়ার সুযোগটি এক্ষেত্রে কাজ করবে না এবং রিভার্সালটি অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে বাতিল হয়ে যাবে। তবে অ্যাকাউন্টে অর্থ না থাকার মানে এই নয় যে নেভিন আইনি জটিলতা থেকে বেঁচে গেছেন এবং ওই টাকা চিরতরে নিজের বলে দাবি করতে পারবেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের কর্মসংস্থান ও নাগরিক অধিকার বিষয়ক আইনজীবী ভি. জেমস ডি-সিমোন সতর্ক করে জানিয়েছেন, টাকা খরচের কারণ যাই হোক না কেন, সেটি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে। এমনকি কিছু অঙ্গরাজ্যে এমন ভুলবশত পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য ফৌজদারি মামলাও হতে পারে। ‘লইয়ার্স ফর জাস্টিস’-এর সিইও এডউইন আইওয়াজিয়ানও দ্রুত এই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই ব্যাংক এবং সাবেক নিয়োগকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এই টাকা কখনোই তার নিজস্ব ছিল না।
রাতে দেরি করে খাবার খাওয়া বা ঘুমাতে যাওয়ার পর নাশতা করার অভ্যাস যকৃতের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রায় দুই লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা এমন সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতের খাবারের পর কিংবা ঘুমানোর সময়ের কাছাকাছি আবার খাবার খান, তাঁদের যকৃতে চর্বি জমার রোগ এবং লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ক্লিনিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি-তে। এতে তিনটি বড় গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যকৃতের রোগের ঝুঁকি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে রাতে খাবার খেলেই কারও যকৃতের রোগ হবে। গবেষণাটি মূলত খাদ্য গ্রহণের সময় ও রোগের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক চিহ্নিত করেছে। গবেষণার প্রধান লেখক রবার্ট উইলেচানস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির যকৃতের রোগ বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে যকৃতের কার্যক্রমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই খাবারের ধরন বা উপাদান পরিবর্তন না করেও কখন খাবার খাওয়া হচ্ছে, তা পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব কি না, সেটি নিয়ে গবেষকেরা আগ্রহী। গবেষণায় বিশেষভাবে দুটি রোগের ঝুঁকির বিষয় উঠে এসেছে। এর একটি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা এমএএসএলডি। এ রোগে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে। অন্যটি হলো লিভার সিরোসিস, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণে যকৃতের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। সিরোসিস গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকেরা তিনটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য ব্যবহার করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নার্সেস হেলথ স্টাডি, নার্সেস হেলথ স্টাডি-টু এবং হেলথ প্রফেশনালস ফলো-আপ স্টাডি। এসব গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৫৫ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁদের খাদ্য গ্রহণের অভ্যাসের সঙ্গে যকৃতের রোগের সম্পর্ক খতিয়ে দেখেন গবেষকেরা। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, রাতে দেরি করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এমএএসএলডি ও সিরোসিসের ঝুঁকি বেশি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়েও এই সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় বয়স, শরীরের ওজন, দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রম, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গড়ে ১৬ বছর পর্যবেক্ষণকালে ৪ হাজার ৪৭৭ জনের এমএএসএলডি এবং ৩১২ জনের সিরোসিস শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এসব ফলাফল থেকে গবেষকেরা মনে করছেন, খাবারের সময় যকৃতের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যকৃতে চর্বি জমার রোগে আক্রান্ত হলেই যে সবার সিরোসিস হবে, এমন নয়। প্রধান গবেষক উইলেচানস্কি জানিয়েছেন, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলক অল্পসংখ্যক মানুষের রোগ গুরুতর পর্যায়ে গিয়ে সিরোসিসে রূপ নেয়। তাই গবেষণার ফলাফলকে আতঙ্কের কারণ হিসেবে না দেখে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত। গবেষকেরা মনে করছেন, ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই দিনের ক্যালরি গ্রহণ শেষ করার অভ্যাস উপকারী হতে পারে। অর্থাৎ রাতের খাবারের পর অপ্রয়োজনে বারবার নাশতা করা বা ঘুমাতে যাওয়ার পর খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমানো নিয়ে ভাবা যেতে পারে। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ঘুম ও জৈবিক ছন্দবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু ম্যাকহিলও খাবার গ্রহণের সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ঘুম, খাবার এবং ব্যায়াম—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি যখন ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়, তখন খাবার গ্রহণ করলে শরীরের খাদ্য বিপাকের দক্ষতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং যকৃতের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়ি দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম ও জেগে থাকার সময়ের পাশাপাশি বিপাকপ্রক্রিয়াতেও এই ছন্দের প্রভাব রয়েছে। রাতের শিফটে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কাজ, ঘুম ও খাবারের সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাবারের সময় নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে বর্তমান গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলে কে কখন কী পরিমাণ খাবার খেয়েছেন, সে বিষয়ে তথ্যের নির্ভুলতা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, এ ধরনের পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা থেকে দেরিতে খাবার খাওয়াই সরাসরি যকৃতের রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষকেরা এখন খাবারের সময় পরিবর্তন করলে যকৃতের স্বাস্থ্যে বাস্তবে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা পরীক্ষা করতে আরও গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। এ গবেষণায় সরাসরি খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস পর্যবেক্ষণ করে আগে খাবার খাওয়ার ফলে যকৃতের চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যসূচকে উন্নতি হয় কি না, তা যাচাই করা হবে। সব মিলিয়ে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সুস্থ থাকতে শুধু কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিই নয়, কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিয়মিত রাতে দেরি করে নাশতা করার অভ্যাস থাকলে খাবারের সময় নিয়ে সচেতন হওয়া যেতে পারে। তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সম্পর্কচ্ছেদ বা ব্রেকআপ করতে চাওয়ায় প্রেমিককে ঘরে আটকে রেখে মারধর এবং কামড় দেওয়ার অভিযোগে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্সিয়া স্যাংগ্রোনিস (৩৮) নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুরুতর শারীরিক আঘাত বা ‘অ্যাগ্রাভেটেড ব্যাটারি’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই যুবক স্যাংগ্রোনিসের বাড়িতে রাত কাটান। সেখানে ওই যুবকের আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে অনীহা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ভুক্তভোগী যুবক জানান, এই বিষয়টি নিয়ে কথা উঠলেই স্যাংগ্রোনিস ক্ষিপ্ত ও মারমুখী হয়ে ওঠেন। এরপর সকালে যুবকটি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে স্যাংগ্রোনিস দরজার সামনে দাঁড়িয়ে তার পথ আটকে দেন। যুবকটি দরজার হাতল ধরে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্যাংগ্রোনিস তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরেন এবং দরজার কাছ থেকে টেনেহিঁচড়ে দূরে সরিয়ে তার হাতে একাধিকবার কামড় দেন। কোনোমতে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে রাস্তায় টহলরত হিয়ালিয়া পুলিশ বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে থামিয়ে নিজের ওপর হওয়া এই নির্যাতনের কথা জানান ওই যুবক। পরে অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক টেকনিশিয়ান ভুক্তভোগীর শরীরের আঘাতের ছবি তোলেন। সেখানে তার বাঁ হাতে অন্তত তিনটি আলাদা কামড়ের দাগ এবং শরীর ও মুখে একাধিক আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর স্যাংগ্রোনিসের নিয়োগকর্তা ‘নর্থ বে ভিলেজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট’ তাকে নিয়ম অনুযায়ী সবেতনে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। বর্তমানে এক হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকলেও, আদালতের বিচারক তাকে ভুক্তভোগী যুবকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বারবার বর্ণবাদী অপমানের শিকার হওয়া এক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষক আদালতের রায়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। রবার্ট বেন্ডার নামের ওই শিক্ষক অভিযোগ করেছিলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ফেডারেল আদালতের জুরি তাঁর পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, শিক্ষার্থীদের আচরণগত সমস্যার ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য মেরি স্যুর ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি আইওয়ার অটুমওয়া শহরের ইভান্স মিডল স্কুলের। রবার্ট বেন্ডার ২০২১ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বিশেষ শিক্ষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো। পাশাপাশি তিনি স্কুলের জুনিয়র ভার্সিটি ছেলেদের বাস্কেটবল দলের কোচ হিসেবেও কাজ করতেন। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বর্ণবাদী হয়রানির শিকার হতে শুরু করেন বেন্ডার। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষকদের সামনে তাঁকে কৃষ্ণাঙ্গদের উদ্দেশে ব্যবহৃত অত্যন্ত অবমাননাকর একটি বর্ণবাদী শব্দ দিয়ে সম্বোধন করে। কিন্তু উপস্থিত সহকর্মীরা তখন কোনো হস্তক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর আরেক শিক্ষার্থী একই ধরনের বর্ণবাদী শব্দ বারবার ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করে। বেন্ডার বিষয়টি স্কুলের অধ্যক্ষ জেরি মিলার এবং সহকারী অধ্যক্ষ ডানা ওয়ারনেকেকে জানান। ওই শিক্ষার্থীকে অর্ধদিবস অথবা এক দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ হয়নি। বেন্ডারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই শিক্ষার্থীরা তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করত। কখনো অন্য শিক্ষক কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সামনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি তাঁর কাছে বর্ণবাদী বার্তা লেখা ছোট কাগজও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বেন্ডার স্কুল ডিস্ট্রিক্টের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডেভিড হারপারের কাছে অভিযোগ করেন। হারপার তাঁকে আশ্বস্ত করেন, এ ধরনের আচরণ সহ্য করা হবে না। কিন্তু বেন্ডারের দাবি, যথাযথ শাস্তির অভাবে শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হয়ে একই ধরনের আচরণ চালিয়ে যায়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এক শিক্ষার্থী বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করায় তাকে সাময়িকভাবে আলাদা বসিয়ে রাখার শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় শিক্ষার্থীটির তদারকির দায়িত্বও দেওয়া হয় বেন্ডারকে। অভিযোগ অনুযায়ী, শাস্তি চলাকালেও ওই শিক্ষার্থী তাঁকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করতে থাকে। শিক্ষার্থীদের শাস্তিসংক্রান্ত নথি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বেন্ডার। তাঁর অভিযোগ, এক শিক্ষার্থী মারামারি, অশালীন ভাষা ব্যবহার, নির্দেশ অমান্য এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে একাধিকবার শাস্তি পেয়েছিল। অথচ বর্ণবাদী হয়রানির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই আচরণের উল্লেখ তার শাস্তির নথিতে ছিল না। ২০২২ সালের মার্চে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুলবাসের স্টপেজের কাছে বেন্ডারকে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করে অপমান করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন অধ্যক্ষ জেরি মিলারের সামনেও একই আচরণ করে ওই শিক্ষার্থী। অধ্যক্ষ ঘটনাটি শুনেছেন বলে স্বীকার করলেও অতিরিক্ত শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মিলারের ব্যাখ্যা ছিল, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রতিটি দিন নতুনভাবে শুরু করার সুযোগ দেওয়া হয়। আগের দিনের আচরণের জন্য পরদিন একইভাবে শাস্তি বহাল রাখা হয় না। তবে এর এক সপ্তাহ পর অধ্যক্ষ ও অন্য কর্মীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করায় আরেক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই দুই ঘটনার মধ্যে শাস্তির পার্থক্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। বেন্ডারের অভিযোগ ছিল, স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য নিয়মভঙ্গের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের ক্ষেত্রে একই গুরুত্ব দেয়নি। এদিকে বেন্ডারকে পরবর্তী সময়ে অন্য ধরনের শিক্ষাদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর বর্ণবাদী হয়রানির অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট প্রতিশোধমূলক উদ্দেশ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দক্ষতা উন্নত করতেই তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বেন্ডার অটুমওয়া হাই স্কুলে বদলি হন। এরপর ২০২৩ সালের জুনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী হয়রানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে যুক্তি দেয়, আচরণগত সমস্যাযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সহায়তা ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। সব ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যথাযথ নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক স্টিফেন এইচ লোচার মামলাটি খারিজ করার জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে জুরি যুক্তিসংগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হতে এবং তা অব্যাহত থাকতে দিয়েছিল। বিচার শুরুর আগে বেন্ডার বৈষম্য ও প্রতিশোধমূলক আচরণসংক্রান্ত পৃথক দাবিগুলো প্রত্যাহার করেন। ফলে মূল বিচারিক কার্যক্রমে বর্ণবাদী হয়রানির কারণে প্রতিকূল কর্মপরিবেশ তৈরি হওয়ার অভিযোগ গুরুত্ব পায়। চার দিন ধরে সাক্ষ্য গ্রহণের পর জুরি প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেন। এরপর বেন্ডারকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১০০ ডলার করে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিচারক লোচার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ কিংবা বেপরোয়া উদাসীনতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বেন্ডারের পক্ষে দেওয়া ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারের মূল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকে। আইওয়ার এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী আচরণের পাশাপাশি অভিযোগ পাওয়ার পর স্কুল প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও আদালতে গুরুত্ব পেয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, শাস্তিসংক্রান্ত নথি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ পর্যালোচনার পর জুরি শিক্ষকের পক্ষে ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
আগামী ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে নিদাল হাসানের। ২০০৯ সালে এই সেনাঘাঁটিতেই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করেছিলেন তৎকালীন এই আর্মি সাইকিয়াট্রিস্ট। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন তার এই দণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে, যা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সরকার। তবে এমন ভয়াবহ একটি দৃশ্য লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন সেদিন হাসানের ৭টি গুলি খেয়েও প্রাণে বেঁচে ফেরা সাবেক আর্মি স্টাফ সার্জেন্ট আলোনজো লান্সফোর্ড। তিনি এই দণ্ড কার্যকরের পক্ষে থাকলেও, এটিকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত বিনোদনে পরিণত করার ঘোর বিরোধী। লান্সফোর্ড নিজে আগামী ডিসেম্বরে হাসানের মৃত্যুদণ্ড দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমনকি তিনি মনে করেন, নিহতের স্বজন বা ভুক্তভোগীদেরই এই দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কোনো বিনোদনের বিষয় নয়। লান্সফোর্ড বলেন, "এটি এমন কোনো ঘটনা নয় যে আপনি পপকর্ন হাতে নিয়ে বসে একটি মৃত্যুদণ্ড উপভোগ করবেন। মানুষের মাংস, রক্ত ও বারুদের গন্ধের মধ্যে মহিমান্বিত করার মতো কিছু নেই।" তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো দেশ নয় যেখানে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা করাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। যারা সেদিন জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়াকে উৎসব বা বিনোদনে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তিনি। ৮৬ বছরের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা সাধারণ মানুষের দেখা উচিত। অন্যদিকে, খোদ রিপাবলিকান নেতারাই এই প্রকাশ্য সম্প্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মার্কিন সিনেটর থম টিলিস এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কট এটিকে জিহাদি ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি ক্যাথলিক বিশপদের সংগঠনও এই ঘটনাকে ‘মৃত্যুর সংস্কৃতির বর্বরোচিত প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই মৃত্যুদণ্ডের ভিডিও ফুটেজ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের নিজেদের প্রোপাগান্ডা ছড়াতে ব্যবহার করতে পারে। নিজের দীর্ঘ মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে লান্সফোর্ড জানান, নিজের মানসিক শান্তির জন্যই তিনি ঘাতককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঠিক আগে হাসানের চোখের দিকে তাকিয়ে তিনি শুধু একটি কথাই বলতে চান— "তুমি ব্যর্থ হয়েছ।" লান্সফোর্ডের আশা, মৃত্যুর আগমুহূর্তে অন্তত হাসান নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হবেন এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের খাবারে হালাল সার্টিফায়েড মুরগির মাংস পরিবেশন নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নর্থ টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট স্বীকার করেছে, তাদের বিভিন্ন স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল মুরগির প্যাটি পরিবেশন করা হয়েছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের আপত্তির পর চলতি বছরের এপ্রিলে খাবারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে খাবারের তথ্য জানানো এবং বিকল্প দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডালাস এক্সপ্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইলি ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের প্রাথমিক, ইন্টারমিডিয়েট ও জুনিয়র হাই স্কুলে হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি পরিবেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য ক্রয়ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বিশেষভাবে খাবারটি নির্বাচন করা হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য অনুযায়ী, হালাল মুরগির প্যাটির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের মতামতের পর এপ্রিলে পণ্যটি সরিয়ে সাধারণ চিকেন প্যাটি পরিবেশন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আগে প্রকাশিত খাবারের তালিকায় পণ্যটি কীভাবে পরিবেশন করা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছিল বলেও স্বীকার করেছে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট। এদিকে সেন্ট্রাল টেক্সাসের হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টেও একই ধরনের বিষয় সামনে এসেছে। গত ২০ এপ্রিল স্কুল বোর্ডের একটি কর্মশালায় পুষ্টিবিষয়ক একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের ক্যাফেটেরিয়ায় পরিবেশিত বেশ কিছু খাবার হালাল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগে সেগুলোর হালাল পরিচয় সম্পর্কে জানত না। তবে হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওই কর্মকর্তা কোন কোন খাবারের কথা বলেছিলেন, তা নির্দিষ্ট করেননি। ফলে সেগুলোর মধ্যে ইসলামি নিয়মে জবাই করা পশুর মাংস ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ঘটনায় খাবারের সার্টিফিকেশন সম্পর্কে প্রশাসনের সচেতনতা এবং অভিভাবকদের তথ্য জানার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হালাল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ইসলামি বিধান অনুযায়ী অনুমোদিত। খাদ্যের ক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের মধ্যে উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি এবং মাংসের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট ধর্মীয় শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। টেক্সাসের আইনেও ইসলামি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুত ও পরিবেশিত খাবারকে হালাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সার্টিফিকেশন সংস্থা হালাল ট্রানজ্যাকশনস অব ওমাহার তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি নিয়মে পশু জবাইয়ের সময় নির্দিষ্ট ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। তবে সব হালাল সার্টিফায়েড খাবারের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। শাকসবজি, শস্যসহ বিভিন্ন খাবারও হালাল হতে পারে। ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে সরবরাহ করা মুরগির প্যাটি তৈরি করেছিল গোল্ড ক্রিক ফুডস। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির জন্য হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি বাজারজাত করে। তবে ওয়াইলির স্কুলগুলোতে পরিবেশিত নির্দিষ্ট প্যাটিগুলোর মাংস কী পদ্ধতিতে জবাই করা পশু থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এই বিতর্কে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও মতভিন্নতা দেখা গেছে। দ্য চিলড্রেনস ব্রেড ডেলিভারেন্স মিনিস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা যাজক মিগুয়েল বুস্টিলোস মনে করেন, খ্রিস্টানদের হালাল খাবার নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইসলামি ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে জবাই করা পশুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক মন্তব্যে বুস্টিলোস জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামি ধর্মীয় নিয়মে জবাই করা গরু, ভেড়া কিংবা মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে জেনে খাওয়া এবং না জেনে এমন খাবার গ্রহণ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদ ও যাজক জন পাইপারের অবস্থান ভিন্ন। তাঁর মতে, খ্রিস্টানরা সাধারণভাবে হালাল মাংস খেতে পারেন। কারণ কোনো খাবার গ্রহণ করা মানেই অন্য ধর্মের উপাসনায় অংশ নেওয়া নয়। এ বিষয়ে তিনি বাইবেলের বিভিন্ন নির্দেশনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। ফলে খ্রিস্টানদের মধ্যে হালাল মাংস গ্রহণের বিষয়ে একক অবস্থান নেই। কেউ ধর্মীয় কারণে তা এড়িয়ে চলতে চান, আবার অন্যরা হালাল খাবার গ্রহণকে নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন না। এই মতভিন্নতার কারণে স্কুলের খাবার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশের দাবি সামনে এসেছে। এদিকে টেক্সাসের আইনসভায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও উঠেছিল। ২০২৫ সালে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সুলেমান লালানি দুটি বিল উত্থাপন করেন। একটি প্রস্তাবে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের অনুরোধে সরকারি স্কুলে হালাল সকালের খাবার কিংবা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়। অন্য প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার কাউন্টি ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলোর জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে দুটি প্রস্তাবের কোনোটিই আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবগুলোতে সব শিক্ষার্থীকে হালাল খাবার খাওয়ানো কিংবা অন্য খাবারের বিকল্প বন্ধ করার কথা ছিল না। টেক্সাসের বিদ্যমান আইনে হালাল ও নন-হালাল মাংস বিক্রি করা খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে। তবে সরকারি স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের তালিকায় একই ধরনের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ওয়াইলি ও হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে খ্রিস্টান শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে হালাল মাংস খাওয়ানো হয়েছে কিংবা তাঁদের বিকল্প খাবার দেওয়া হয়নি। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, স্কুলে পরিবেশিত খাবারের ধর্মীয় সার্টিফিকেশন সম্পর্কে অভিভাবকেরা কতটা তথ্য পাচ্ছেন। টেক্সাসের এই ঘটনায় একদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পরিবারের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে খাবারের তথ্য পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা নিয়েই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস
জাপানের মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ক্রিসপার ক্যাস৯ জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাউন সিনড্রোম থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া মানবকোষে অতিরিক্ত ২১ নম্বর ক্রোমোজোম সরাতে সক্ষম হয়েছেন। রিয়োতারো হাশিজুমের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পিএনএএস নেক্সাস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এটি শরীরের বাইরে পরীক্ষাগারে কোষের ওপর পরিচালিত গবেষণা। কোনো মানুষের শরীরে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসা করা হয়নি। ট্রাইসোমি ২১ অবস্থায় সাধারণ দুটি কপির পরিবর্তে কোষে ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের তিনটি কপি থাকে। এই অতিরিক্ত জিনগত উপাদান ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিকাশগত পার্থক্য ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ। গবেষকেরা আলাদা কোনো জিনের পরিবর্তন করার পরিবর্তে তিনটি ক্রোমোজোমের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি কপি সরানোর পদ্ধতি পরীক্ষা করেছেন। মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম অপসারণের হার সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। এই হার পরীক্ষাগারের কোষে পাওয়া ফলাফল। এটি মানুষের চিকিৎসায় সাফল্যের হার নয় এবং পরীক্ষার সব কোষ থেকেই অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সরানো সম্ভব হয়নি। গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে ডাউন সিনড্রোম থাকা ব্যক্তির ত্বক থেকে নেওয়া ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ এবং সেগুলো থেকে তৈরি আইপিএস কোষ। আইপিএস হলো পরীক্ষাগারে পুনঃপ্রোগ্রাম করা এমন স্টেম সেল, যা বিভিন্ন ধরনের কোষে পরিণত হতে পারে। গবেষকেরা জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ক্রোমোজোম কপিকে শনাক্ত করার উপযোগী নির্দেশক তৈরি করেন। এরপর ক্রিসপার ক্যাস৯ ব্যবস্থার সাহায্যে সেই ক্রোমোজোমের একাধিক স্থানে কাটার মাধ্যমে সেটি অপসারণের চেষ্টা করেন। পদ্ধতিটির বিশেষ দিক হলো তিনটি কপির সবগুলোকে নির্বিচারে লক্ষ্য না করে নির্দিষ্ট একটি কপিকে লক্ষ্যবস্তু করা। গবেষণাপত্রে এই কৌশলকে অ্যালিল স্পেসিফিক পদ্ধতি বলা হয়েছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, স্টেম সেলের পাশাপাশি পরিণত ফাইব্রোব্লাস্ট এবং বিভাজন না হওয়া কোষেও এই কৌশলে ক্রোমোজোম অপসারণ সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সরানো কোষে কিছু কার্যগত পরিবর্তনও পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব কোষে জিনের সক্রিয়তার ধরন, কোষের বৃদ্ধির গতি এবং ক্ষতিকর সক্রিয় অক্সিজেন মোকাবিলার সক্ষমতা স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরেছে। তবে কোষের এই পরিবর্তন থেকে মানুষের বিকাশগত বৈশিষ্ট্য বা স্বাস্থ্যগত জটিলতা একইভাবে বদলে যাবে, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা ক্রোমোজোমটি অপসারিত না হলে সেটিতে ডিএনএর অংশ বাদ পড়া, যুক্ত হওয়া কিংবা উল্টোভাবে বিন্যস্ত হওয়ার মতো পরিবর্তন ঘটতে পারে। ডিএনএর দুই সুতো কাটার সঙ্গে এসব ঝুঁকি সম্পর্কিত। গবেষকেরা তাই ভবিষ্যতে ক্রোমোজোম না কেটে সেটি অপসারণের আরও নিরাপদ পদ্ধতি তৈরির প্রয়োজন তুলে ধরেছেন। এই কাজকে ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সরানোর ঘটনা বলা যথাযথ নয়। গবেষণাপত্রেই ক্রিসপার ব্যবহার করে পুরো ক্রোমোজোম অপসারণের আগের গবেষণার উল্লেখ রয়েছে। নতুন গবেষণার গুরুত্ব হলো মানব ট্রাইসোমি ২১ কোষে নির্দিষ্ট একটি ক্রোমোজোম কপিকে বেছে অপসারণের কৌশল এবং তার কার্যকারিতা দেখানো। মিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, এটি কোষ পর্যায়ে একটি ধারণার কার্যকারিতা প্রমাণের গবেষণা। ফলাফল ভবিষ্যতে ডাউন সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে গবেষণায় সহায়তা করতে পারে। তবে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে পদ্ধতিটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমানে এই গবেষণাকে ডাউন সিনড্রোম সারানোর চিকিৎসা হিসেবে উপস্থাপন করার ভিত্তি নেই।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখেরতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতেরা তাঁকে মারধর ও গালাগাল করলে তিনি অনুরোধ করেন, প্রয়োজনে বেঁধে রাখলেও যেন তাঁকে অপমান করা না হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দেশযোগ জানিয়েছে, বাড়িতে ঢুকে ডাকাত দলের সদস্যরা মতিন উল্লাহকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে একজন জানতে চায়, অবসর নেওয়ার সময় পাওয়া টাকা তিনি কোথায় রেখেছেন। তখন তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমাকে বেঁধে রাখুন, কিন্তু অপমান করবেন না।’ ওই প্রতিবেদনে মতিন উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে ছিলেন। ডাকাতেরা তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে অন্য কক্ষগুলোতে তল্লাশি ও লুটপাট চালায়। তারা চলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে যান। পরে তাঁদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পুলিশকে খবর দেন। ঢাকা পোস্টকে মতিন উল্লাহ জানিয়েছেন, মুখোশ পরা একদল ব্যক্তি খুন্তি ও শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে। এরপর তাঁকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ওয়াইফাই রাউটার এবং সিসিটিভির যন্ত্রপাতি রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে মনিটর ও হার্ডডিস্কও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাব পরিবারের দেওয়া। মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকা পোস্টকে বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শনিবার বিকেলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখনো মামলা হয়নি। মতিন উল্লাহ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সঙ্গে ভয়াবহ মারামারিতে জড়িয়েছেন দুই ‘নকল’ শোগার্ল। ছবি তোলার পর জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা দাবি করে এক পর্যটককে পায়ের হাই-হিল জুতো দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক নারী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্ট্রিপ এলাকার প্ল্যানেট হলিউড রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর বাইরে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জেনিফার অরটিজ এবং ম্যাগদালেনা রোমেরো নামের ওই দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অতর্কিত হামলায় নর্থ ক্যারোলিনা থেকে আসা এক পুরুষ ও এক নারী পর্যটক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পর্যটকরা পালকযুক্ত শোগার্লের পোশাক পরা তিন নারীর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ২০ ডলার বকশিশ দিয়েছিলেন। কিন্তু জেনিফার অরটিজ তাদের পিছু নেন এবং ৬০ থেকে ১৮০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি টাকা দাবি করতে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি মুহূর্তেই সহিংস রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাস ভেগাস বুলেভার্ডে উপস্থিত শত শত হতবাক মানুষের সামনেই পর্যটকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন ওই নারীরা। অরটিজ তার পায়ের হাই-হিল জুতো খুলে এক পুরুষ পর্যটককে ২২ বারেরও বেশি আঘাত করেন, যার ফলে তার কপালে প্রায় দুই ইঞ্চি গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, রোমেরো নারী পর্যটককে মাটিতে ফেলে তার চুল ধরে টানেন এবং মুখে ও মাথায় এলোপাতাড়ি ঘুষি মারতে থাকেন। মারামারির পর আহত পর্যটকদের ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তারা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অরটিজ এবং রোমেরোকে গ্রেপ্তার করে ক্লার্ক কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত নারীদের দাবি, পর্যটকরাই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এদিকে, অরটিজের বিরুদ্ধে এর আগেও একই স্থানে অন্য এক পর্যটকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুরূপ একটি সংঘর্ষে জড়ানোর রেকর্ড রয়েছে। আগামী ৩ ডিসেম্বর আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। শনিবার, ১০ অক্টোবর বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে তিনি বলেছেন, মানুষের মর্যাদার ওপর আঘাত হওয়ায় এই শাস্তি অগ্রহণযোগ্য। তবে তাঁর বক্তব্যে হাসানের নাম কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সম্প্রচার পরিকল্পনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না। ভ্যাটিকান নিউজ জানিয়েছে, নিজের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বার্তায় পোপ বলেন, মৃত্যুদণ্ডের আশ্রয় না নিয়েও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যকর কারাব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া যায়। একই সঙ্গে অপরাধে দোষী ব্যক্তিদের সংশোধন ও নতুনভাবে জীবন গড়ার সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই পোপের বার্তাটি এসেছে পেন্টাগনের ঘোষণার দুই দিন পর। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর পেন্টাগন জানায়, হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে তাঁর দণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যেতে পারে বলে ভ্যাটিকান নিউজ উল্লেখ করেছে। হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোর্ট হুডে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পেন্টাগনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নজিরবিহীন সরাসরি সম্প্রচার। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করারও প্রথম ঘটনা হবে এটি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সম্প্রচার পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি রয়েছে, তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন। পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে বলেছেন, বিস্তারিত পরে জানানো হবে। হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমোদন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন বলেও পেন্টাগন জানিয়েছে। পোপের শনিবারের বার্তার আগেই এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলেন ভ্যাটিকানের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রোমে একটি অনুষ্ঠানের পাশে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মৃত্যুকে প্রদর্শনীর বিষয়ে পরিণত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী যতই দোষী হোন, তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অন্য পথ রয়েছে। পারোলিন আরও বলেন, ক্যাথলিক চার্চ মৃত্যুদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই শাস্তি মানুষের মর্যাদার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যকর নয় বলে চার্চ মনে করে। সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সময়ে এমন পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্দেশ্য কী। ভ্যাটিকান নিউজের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত পরিকল্পনার সরাসরি বিরোধিতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, হাসানের অপরাধ কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। তবে তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে তিনি মৃত্যুর সংস্কৃতির বর্বর প্রসার হিসেবে বর্ণনা করেন। এমন সম্প্রচার দেশের নৈতিক ভিত্তিকে আরও দুর্বল করবে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, পেন্টাগনের সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি জানেন না। সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না বলেও জানান। তবে হাসানের অপরাধের গুরুত্ব তুলে ধরে ভ্যান্স বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিষয়টি যেন আড়ালে চলে না যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে বা বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানাননি। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ দেওয়া হবে কি না এবং সম্প্রচারের বিস্তারিত ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়েও পেন্টাগন তখন তথ্য প্রকাশ করেনি। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে পোপ লিওর বক্তব্য ক্যাথলিক চার্চের বিদ্যমান শিক্ষার ধারাবাহিকতা। ২০১৮ সালে পোপ ফ্রান্সিস চার্চের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সংশোধন করে সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। শনিবারের বার্তায় লিও সেই অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ফলে পোপের বক্তব্যকে হাসানের নির্দিষ্ট মামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য হিসেবে না দেখে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে চার্চের সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বোঝা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইরি শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় দুই শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে পেরি স্ট্রিট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সিবিএস-এর অধিভুক্ত সংবাদমাধ্যম ‘ইরি নিউজ নাও’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ব্যক্তি রাস্তায় এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর একটি বাড়িতে প্রবেশ করেছে— প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছে রাস্তা থেকে প্রথমে দুই নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই বাড়ির ভেতর থেকে আরও বেশ কয়েকজনের লাশ পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন হামলাকারী নিজেও নিজের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে হামলাকারী নিজেও অন্তর্ভুক্ত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বন্দুকধারীর মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার জন্য আপাতত আর কোনো হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরি পুলিশের প্রধান রিক লোরাহ এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, এত বড় ট্র্যাজেডি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। নিহতদের এবং তাদের স্বজনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পুলিশ এখনই তদন্তের বিস্তারিত বা হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য বা জল্পনা-কল্পনা করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ উদ্ঘাটনে নিরলসভাবে কাজ করছেন। এদিকে, ইরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিন এবং নগর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে শহরবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এই ভয়াবহ ঘটনার পর শনিবার সকালে পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরোও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি মেয়র ডেভলিনের সাথে কথা বলে তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং রাজ্যের নিহত ৯ নাগরিকের স্বজন ও পুরো ইরি সম্প্রদায়ের জন্য প্রার্থনা করার কথা উল্লেখ করেন।
ইরাক যুদ্ধের ইতিহাসে ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবরের দিনটি এক চরম আত্মত্যাগের সাক্ষী হয়ে আছে। সালাহ আদ-দিন প্রদেশে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা আইইডি (IED) বিস্ফোরণে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্র্যাডলি ফাইটিং ভেহিকল সেদিন ভয়াবহভাবে আগুনে জ্বলে ওঠে। গাড়ির ভেতরে থাকা সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস আলউইন ক্যাশের শরীরেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তিনি বারবার সেই জ্বলন্ত গাড়ির ভেতরে ফিরে যান এবং ছয়জন মার্কিন সৈন্য ও একজন ইরাকি দোভাষীসহ মোট সাতজনকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে নিরাপদে বের করে আনেন। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর দেখা যায়, ক্যাশের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রায় পুড়ে গেছে। ভয়াবহ এই শারীরিক অবস্থা সত্ত্বেও নিজের চিকিৎসা নেওয়ার আগে সহযোদ্ধাদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকি মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, "আমার ছেলেরা কেমন আছে?" মর্মান্তিক ওই ঘটনার ঠিক তিন সপ্তাহ পর, ২০০৫ সালের ৮ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুরুতে তাকে ‘সিলভার স্টার’ পদক দেওয়া হলেও, তার এই অসামান্য আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে দীর্ঘ ১৬ বছর। অবশেষে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘মেডেল অব অনার’ প্রদান করেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়ে সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস আলউইন ক্যাশ সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা সামরিক ইতিহাসে চিরকাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে অনুমোদন ছাড়া বেজমেন্ট, অ্যাটিক বা গ্যারেজকে আলাদা অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়ে ভাড়া দিলে বাড়ির মালিককে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং ভাড়াটিয়াকে বাসস্থান ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস বা ডিওবির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পারমিট ও অনুমোদন ছাড়া বাড়িতে অতিরিক্ত আবাসিক ইউনিট তৈরি করা ইলিগ্যাল কনভার্সন। তবে বিদ্যমান কিছু বেজমেন্ট ও সেলার অ্যাপার্টমেন্ট বৈধ করার পাইলট কর্মসূচি থাকলেও তা সব এলাকার সব বাড়ির জন্য প্রযোজ্য নয়। ডিওবি জানিয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করে পৃথক আবাসিক ইউনিট তৈরি করা কিংবা অনুমতি ছাড়া বেজমেন্ট, অ্যাটিক বা গ্যারেজে অ্যাপার্টমেন্ট যোগ করা অবৈধ পরিবর্তনের উদাহরণ। এসব ইউনিটে বিল্ডিং ও ফায়ার কোড অনুসরণ না করা হলে বাসিন্দাদের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার করতে আসা কর্মীদেরও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে শুধু রান্নাঘর, বাথরুম বা আলাদা দরজা থাকলেই কোনো জায়গা বৈধ অ্যাপার্টমেন্ট হয়ে যায় না। ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার মিল থাকতে হয়। ইলিগ্যাল কনভার্সনের ক্ষেত্রে ক্লাস ওয়ান বা তাৎক্ষণিকভাবে বিপজ্জনক ভায়োলেশন দেওয়া হতে পারে। ডিওবির নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের ভায়োলেশনে সাধারণ জরিমানার পাশাপাশি অবৈধ অবস্থা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এক হাজার ডলার অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের সুযোগ রয়েছে। হিয়ারিং কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের জন্য এই অতিরিক্ত জরিমানা দিতে পারেন, যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাই সব অবৈধ বেজমেন্টের জরিমানা নির্দিষ্টভাবে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার বলা যথাযথ নয়। পারমিট ছাড়া নির্মাণকাজের জরিমানা আবার আলাদা। সিটির নিয়ম অনুযায়ী, এক বা দুই পরিবারের বাড়িতে অনুমতি ছাড়া কাজ করলে সংশ্লিষ্ট পারমিট ফির ছয় গুণ হিসাবে জরিমানা নির্ধারিত হয়। এর সর্বনিম্ন পরিমাণ ৬০০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার। অন্য ধরনের ভবনে পারমিট ছাড়া কাজের জন্য পারমিট ফির ২১ গুণ হিসাবে জরিমানা হতে পারে, যার সীমা ছয় হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার। এগুলো অনুমতি ছাড়া কাজের জরিমানা; অবৈধ আবাসিক ব্যবহার বা অন্য ভায়োলেশনের দায়ও পৃথকভাবে যুক্ত হতে পারে। তবে ভায়োলেশন দেওয়া হলেই প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টপ ওয়ার্ক অর্ডার এবং ভ্যাকেট অর্ডার একসঙ্গে কার্যকর হয় না। ডিওবির পরিদর্শকেরা অনিরাপদ কাজ বা পরিস্থিতি শনাক্ত করলে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা কোড না মানা এবং তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে বাসস্থান খালি করার ভ্যাকেট অর্ডার দেওয়া হতে পারে। পারমিট ছাড়া কাজের কারণে স্টপ ওয়ার্ক অর্ডার জারি হলে নতুন পারমিট পেলেও আদেশ প্রত্যাহারের আগে কাজ শুরু করা যায় না। বিদ্যমান অবৈধ বেজমেন্ট ও সেলার অ্যাপার্টমেন্ট বৈধ করার জন্য ২০২৪ সালের লোকাল ল ১২৬ অনুযায়ী একটি সীমিত পাইলট কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত এটিআর বলতে বোঝায় অথরাইজেশন ফর টেম্পোরারি রেসিডেন্স, অর্থাৎ সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমোদন। এটি এডিইউ বা অতিরিক্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ আবাসিক ইউনিটের নাম নয়। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অ্যাডামস প্রশাসন এই পাইলট বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে। কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিলের আগে বিদ্যমান থাকতে হবে। সেটি নির্ধারিত কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে অবস্থিত এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন হতে হবে। বন্যাপ্রবণ এলাকার সম্পত্তি এই পাইলটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয় বলে ডিওবি জানিয়েছে। আবেদন করার নির্ধারিত শেষ সময় ২০২৯ সালের ২০ এপ্রিল। ফলে ওই সময়ের মধ্যে আবেদন করলেই যেকোনো অবৈধ বেজমেন্ট জরিমানা ছাড়া বৈধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্ধারিত এলাকার মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯, ১০, ১১ ও ১২; ব্রুকলিনের ৪, ১০, ১১ ও ১৭; ম্যানহাটনের ২, ৩, ৯, ১০, ১১ ও ১২ এবং কুইন্সের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ২। ডিওবির প্রকাশিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এটিআর আবেদন এখনো গ্রহণ করা হচ্ছে না। আবেদন গ্রহণ শুরু হলে ডিওবি নাউ ব্যবস্থায় তা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং আগে বিস্তারিত সার্ভিস নোটিশ প্রকাশ করা হবে। নতুন এডিইউ নির্মাণের আবেদনপ্রক্রিয়া এবং পুরোনো অবৈধ বেজমেন্টের এটিআর আবেদনপ্রক্রিয়া পৃথক। যোগ্য ইউনিট কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হলে দশ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রযোজ্য বিল্ডিং কোড, জোনিং ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে স্প্রিংকলার ও বন্যার পানি শনাক্ত করার সেন্সরের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু দশ বছরের শেষ সময়ের অপেক্ষা করার সুযোগ নেই; মধ্যবর্তী নির্ধারিত সময়সীমাও মানতে হবে। প্রয়োজনীয় কাজ ও পরিদর্শন শেষে সংশোধিত সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি নিতে হবে। নির্ধারিত ধাপ পূরণ না হলে সাময়িক অনুমোদন বাতিল এবং আবার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্য ভবনের সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি এবং ডিওবির রেকর্ডে অনুমোদিত ব্যবহার দেখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ১৯৩৮ সালের আগে নির্মিত কিছু ভবনে এই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়, যদি পরবর্তী পরিবর্তনে ব্যবহার, বের হওয়ার পথ বা অকুপেন্সি বদলে না থাকে। এমন ভবনের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে লেটার অব নো অবজেকশন প্রযোজ্য হতে পারে। বেজমেন্ট ভাড়া দেওয়া বা নতুন ইউনিট তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট নথি, জোনিং ও পারমিটের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করলে মালিক ও ভাড়াটিয়া দুপক্ষই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে সম্প্রচার নিয়ে সংশয় উঠে এলেও তিনি হাসানের অপরাধের গুরুত্ব মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ঘটনা যেন আড়ালে না পড়ে। হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাসংক্রান্ত ভবনে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ওই ঘাঁটিতেই ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডাম টেলে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে শুক্রবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও সম্প্রচারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট সমর্থন জানাননি। সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখানোর বিরোধিতা করেছেন। একই দলের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কটও বলেছেন, তিনি হাসানের মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন, কিন্তু তা সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে নন। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি পেন্টাগনকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর জন কার্টিস প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সম্প্রচার সহিংস দৃশ্যকে বিনোদন হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এই মন্তব্য কার্টিসের, ভ্যান্সের নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের সভাপতি আর্চবিশপ পল এস. কোকলিও সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। ফলে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ছয় দশকের বেশি সময় পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ হওয়া এবং তা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। এ ছাড়া বেসামরিক ফেডারেল আদালতে আইনি আবেদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সম্প্রচারের ঘোষণা থাকলেও ভ্যান্স ও ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ফুটবল মাঠে চলছিল টানটান উত্তেজনার এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। খেলার মাঝপথেই গোলরক্ষকের সজোরে লাথি মারা বল আচমকা আঘাত করে বসে উড়ন্ত একটি সিগাল পাখিকে। প্রচণ্ড আঘাতে মুহূর্তের মধ্যেই মাঠে আছড়ে পড়ে পাখিটি, নিস্তেজ হয়ে যায় তার শরীর। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি ইস্তাম্বুল ইয়ুরদুম স্পোরের অধিনায়ক গানি চাতান। খেলা থামিয়ে সরাসরি ছুটে যান আহত পাখিটির কাছে। মুমূর্ষু পাখিটিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টায় তিনি মাঠের মধ্যেই তার বুকের ওপর বারবার চাপ দিয়ে সিপিআর বা জরুরি পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া শুরু করেন। অধিনায়কের এই নিরলস প্রচেষ্টার ফলও মেলে হাতেনাতে। কিছুক্ষণ সিপিআর দেওয়ার পর নিস্তেজ পাখিটির পা নড়তে শুরু করে এবং সেটি ধীরে ধীরে সাড়া দিতে থাকে। প্রাণ ফিরে পাওয়া আহত পাখিটিকে এরপর মাঠের পাশে নিয়ে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের হাতে তুলে দেন গানি চাতান। পরীক্ষা করে দেখা যায়, বলের আঘাতে পাখিটি তার ডানায় বেশ চোট পেয়েছে। পেশায় একজন হিসাবরক্ষক এবং ফুটবল দলের অধিনায়ক গানি চাতান কোনো চিকিৎসাকর্মী নন। তা সত্ত্বেও বিপদে পড়া একটি অসহায় প্রাণকে বাঁচাতে তিনি যেভাবে সাহসিকতা ও মমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা রীতিমতো প্রশংসায় ভাসছে। সেদিন তার দল ফুটবল ম্যাচে পরাজিত হলেও, একটি নিরীহ প্রাণ বাঁচিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের হৃদয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। প্রাণীর প্রতি তার এই অসামান্য ভালোবাসা ও সহমর্মিতার স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘পেটা’ (PETA) তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘হিরো টু অ্যানিম্যালস’ সম্মাননায় ভূষিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিকত্ব অর্জনের সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, মিথ্যা বক্তব্য এবং বেআইনিভাবে ইমিগ্রেশন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এসব মামলা করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ তাঁদের নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, এমন নয়। সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত ঘোষণায় বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২১ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। সংস্থাটি একে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে একটি নির্দিষ্ট সময়পর্বে সর্বাধিক নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা দায়েরের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মামলাগুলোর মধ্যে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করা, হত্যাকাণ্ড, যৌন অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা এবং পরিচয় ও বিয়েসংক্রান্ত ইমিগ্রেশন জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন অথবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। বিচার বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা উপস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা যেতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। ঘোষণায় বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগমাত্র। এসব দাবির বিষয়ে এখনো দায় নির্ধারণ হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারের বক্তব্য এবং আদালতে প্রমাণিত সিদ্ধান্তকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। এবারের উদ্যোগের আগেও একই ধরনের মামলা দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে বিচার বিভাগ। গত ২০ জুলাই ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করার কথা জানায় সংস্থাটি। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫টি মামলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সময় বিচার বিভাগ জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে মোট ১২৩টি দেওয়ানি ডিন্যাচারালাইজেশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণাটি নির্দিষ্ট ৪০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনসংক্রান্ত। তাঁদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না এবং সরকারের অভিযোগ প্রমাণিত হয় কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে আদালতে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ৭২ বছর বয়সী বুকস্টোর মালিক ভিকি টিটকম্বের কাছে ২০২৫ সালের মার্চ মাসটি ছিল আর দশটা সাধারণ সময়ের মতোই। ছেলেকে দেখতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার আগে 'ম্যাস জেনারেল ব্রিগ্যাম' হাসপাতালে একটি রুটিন হার্ট স্ক্যান করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সাধারণ পরীক্ষাতেই তার অগ্ন্যাশয়ে (প্যানক্রিয়াস) একটি অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, যা পরে অন্যতম প্রাণঘাতী অগ্ন্যাশয় ক্যানসার হিসেবে শনাক্ত হয়। এর আগে ২০১২ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও এবার তিনি ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং ইন্টারনেটে এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে পড়াশোনা করা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখেন। অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সাধারণত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার পরই ধরা পড়ে, ফলে এর পাঁচ বছর মেয়াদি বেঁচে থাকার হার মাত্র ১৩ শতাংশ। তবে ভিকির ক্ষেত্রে রুটিন পরীক্ষার কারণে রোগটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছিল। একইসঙ্গে তার শরীরে স্তনের ক্যানসার এবং ডিম্বাশয়ে একটি টিউমারও ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ের টিউমারটি অপসারণ করেন, যা পরবর্তীতে নিরীহ (বিনাইন) বলে প্রমাণিত হয়। এরপর ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ক্ল্যান্সির তত্ত্বাবধানে তার অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ক্যানসারের মূল চিকিৎসা শুরু হয়। টিউমারটিকে সঙ্কুচিত করার লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে তাকে নিবিড় কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশনের পর টিউমারের আকার ছোট হয়ে এলে গত বছরের নভেম্বরে ‘বিশ্ব অগ্ন্যাশয় ক্যানসার দিবসে’ ভিকির শরীরে জটিল 'হুইপেল' (Whipple) সার্জারি করা হয়। রোবোটিক পদ্ধতিতে করা এই আধুনিক অস্ত্রোপচারটি সফল হয় এবং মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান। ক্যানসার যেন ফিরে আসতে না পারে সে জন্য সতর্কতা হিসেবে তাকে আরও দুই মাস কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ এক বছরের লড়াই শেষে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে চিকিৎসকরা ভিকিকে সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে ক্যানসারকে জয় করে আবারও স্বাভাবিক ও হাসিখুশি জীবনে ফিরেছেন ভিকি টিটকম্ব। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি নিজের বুকস্টোর সামলাতে আবারও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের এই ভয়াবহ কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অগ্ন্যাশয় ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করছেন এই বৃদ্ধা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, "১০ বছর আগে ক্যানসার ধরা পড়লে হয়তো এর পরিণতি ভিন্ন হতো। আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করি, কারণ ভাগ্য সত্যিই সবকিছু বদলে দেয়।"
ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার কঠিন সময়েই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ হারাচ্ছেন কিছু রোগী। যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্ট সতর্ক করেছে, কাছের মানুষের এভাবে দূরে সরে যাওয়া রোগীদের একা রোগ মোকাবিলা করার অনুভূতি তৈরি করছে। সংস্থাটি এই অভিজ্ঞতাকে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ হিসেবে উল্লেখ করে রোগীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ম্যাকমিলানের উদ্যোগে ইউগভ পরিচালিত যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০০ প্রাপ্তবয়স্কের জরিপে ২৬ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিচিত ক্যানসার রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাঁদের অসুবিধা হয়েছে। এর মধ্যে কী বলবেন বুঝতে না পারা, রোগের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া, দেখা বা কথা বলা কমিয়ে দেওয়া এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি যোগাযোগ হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে ২৬ শতাংশ মানুষ ক্যানসার রোগীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। ক্যানসারের কথা জানানোর পর পরিবার বা বন্ধুদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত যোগাযোগ ও সহায়তা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা বোঝাতে ‘ক্যানসার ঘোস্টিং’ কথাটি ব্যবহার করা হয়। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটিতেও রোগীরা এ নিয়ে কথা বলেছেন। কেউ জানিয়েছেন, পরিচিতদের বার্তা আসা বন্ধ হয়ে গেছে; কেউ দৈনন্দিন আড্ডা ও বন্ধুর সঙ্গ হারানোর কষ্ট তুলে ধরেছেন। এটি সামাজিক অভিজ্ঞতা বোঝানোর একটি শব্দ। এডিনবরার অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মী লিসা ওয়াকার এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ৬১ বছর বয়সী এই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানসার ধরা পড়ার পর কয়েক দশকের পরিচিত কিছু বন্ধু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো, তাঁদের দূরে সরে যাওয়া তাঁকে নিজের বন্ধুত্বগুলো নিয়েও প্রশ্ন করতে বাধ্য করেছিল। হ্যাম্পশায়ারের ৩৮ বছর বয়সী মানবসম্পদ পেশাজীবী মেভ গাজানফারও জানিয়েছেন, রোগ শনাক্ত হওয়ার পর ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুত্ব হারিয়েছেন তিনি। শুরুতে বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং বিভ্রান্ত করেছে। পরে তিনি নিজের চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ম্যাকমিলান বলছে, রোগীর পাশে থাকতে সব সময় নিখুঁত কোনো কথা বলার প্রয়োজন নেই। সংস্থাটির পরামর্শ, ছোট একটি বার্তা পাঠানো, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া কিংবা রোগীর ইচ্ছা অনুযায়ী চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সঙ্গে যাওয়াও সহায়তার উপায় হতে পারে। ম্যাকমিলানের অনলাইন কমিউনিটির আলোচনায় খাবার পৌঁছে দেওয়া, একসঙ্গে চা খাওয়া এবং ক্যানসারের বাইরেও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে কথা বলার মতো সহায়তার উদাহরণ উঠে এসেছে। ম্যাকমিলানের সাপোর্ট লাইনের বিশেষজ্ঞ সিয়ান রবিনসন ব্রাউনের বক্তব্য, ক্যানসার নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবু সহানুভূতির সঙ্গে শোনা, রোগীর চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘ফেয়ার ক্যানসার কেয়ার’ প্রচারণার অংশ হিসেবে সংস্থাটি তাই কাছের কারও ক্যানসার ধরা পড়লে নীরব হয়ে যোগাযোগ বন্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে। ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন। ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়। ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে। ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে। ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বর্তমান মোদি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দেশজুড়ে ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে যখন বিরোধী দলগুলো ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন তীব্রতর করছে, ঠিক তখনই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে। আর সেই ভীতি থেকেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মতো দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিরোধী সংসদ সদস্যদের আটকের ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পুলিশি বাধাই তাদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে 'ইন্ডিয়া' জোট। এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। আগামী দিনে এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।