সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৯:৫৩
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

 

 কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।

 

ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে।

 

ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন। 

 

ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে। 

 

ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়। 

 

ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

 

ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

 

নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে। 

 

ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়। 

 

সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে। 

 

ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

 

পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল সার্টিফায়েড মুরগির খাবার পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের স্কুলে হালাল মাংস পরিবেশন নিয়ে বিতর্ক, আপত্তি খ্রিস্টান অভিভাবকদের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের খাবারে হালাল সার্টিফায়েড মুরগির মাংস পরিবেশন নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নর্থ টেক্সাসের ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট স্বীকার করেছে, তাদের বিভিন্ন স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় হালাল মুরগির প্যাটি পরিবেশন করা হয়েছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের আপত্তির পর চলতি বছরের এপ্রিলে খাবারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের পাশাপাশি খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে খাবারের তথ্য জানানো এবং বিকল্প দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডালাস এক্সপ্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইলি ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্ট তাদের প্রাথমিক, ইন্টারমিডিয়েট ও জুনিয়র হাই স্কুলে হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি পরিবেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্য ক্রয়ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্যটি সরবরাহ করা হয়েছিল। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বিশেষভাবে খাবারটি নির্বাচন করা হয়নি।   স্কুল ডিস্ট্রিক্টের বক্তব্য অনুযায়ী, হালাল মুরগির প্যাটির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। তবে অভিভাবক ও করদাতাদের মতামতের পর এপ্রিলে পণ্যটি সরিয়ে সাধারণ চিকেন প্যাটি পরিবেশন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আগে প্রকাশিত খাবারের তালিকায় পণ্যটি কীভাবে পরিবেশন করা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছিল বলেও স্বীকার করেছে স্কুল ডিস্ট্রিক্ট।   এদিকে সেন্ট্রাল টেক্সাসের হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টেও একই ধরনের বিষয় সামনে এসেছে। গত ২০ এপ্রিল স্কুল বোর্ডের একটি কর্মশালায় পুষ্টিবিষয়ক একজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের ক্যাফেটেরিয়ায় পরিবেশিত বেশ কিছু খাবার হালাল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগে সেগুলোর হালাল পরিচয় সম্পর্কে জানত না।   তবে হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ওই কর্মকর্তা কোন কোন খাবারের কথা বলেছিলেন, তা নির্দিষ্ট করেননি। ফলে সেগুলোর মধ্যে ইসলামি নিয়মে জবাই করা পশুর মাংস ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ঘটনায় খাবারের সার্টিফিকেশন সম্পর্কে প্রশাসনের সচেতনতা এবং অভিভাবকদের তথ্য জানার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   হালাল একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ ইসলামি বিধান অনুযায়ী অনুমোদিত। খাদ্যের ক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের মধ্যে উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি এবং মাংসের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট ধর্মীয় শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। টেক্সাসের আইনেও ইসলামি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুত ও পরিবেশিত খাবারকে হালাল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের হালাল সার্টিফিকেশন সংস্থা হালাল ট্রানজ্যাকশনস অব ওমাহার তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি নিয়মে পশু জবাইয়ের সময় নির্দিষ্ট ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিসমিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার। তবে সব হালাল সার্টিফায়েড খাবারের ক্ষেত্রে পশু জবাইয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। শাকসবজি, শস্যসহ বিভিন্ন খাবারও হালাল হতে পারে।   ওয়াইলি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে সরবরাহ করা মুরগির প্যাটি তৈরি করেছিল গোল্ড ক্রিক ফুডস। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্কুল মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির জন্য হালাল সার্টিফায়েড চিকেন প্যাটি বাজারজাত করে। তবে ওয়াইলির স্কুলগুলোতে পরিবেশিত নির্দিষ্ট প্যাটিগুলোর মাংস কী পদ্ধতিতে জবাই করা পশু থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   এই বিতর্কে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেও মতভিন্নতা দেখা গেছে। দ্য চিলড্রেনস ব্রেড ডেলিভারেন্স মিনিস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা যাজক মিগুয়েল বুস্টিলোস মনে করেন, খ্রিস্টানদের হালাল খাবার নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ইসলামি ধর্মীয় বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে জবাই করা পশুর মাংস খাওয়ার বিষয়ে নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক মন্তব্যে বুস্টিলোস জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইসলামি ধর্মীয় নিয়মে জবাই করা গরু, ভেড়া কিংবা মুরগির মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে জেনে খাওয়া এবং না জেনে এমন খাবার গ্রহণ করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদ ও যাজক জন পাইপারের অবস্থান ভিন্ন। তাঁর মতে, খ্রিস্টানরা সাধারণভাবে হালাল মাংস খেতে পারেন। কারণ কোনো খাবার গ্রহণ করা মানেই অন্য ধর্মের উপাসনায় অংশ নেওয়া নয়। এ বিষয়ে তিনি বাইবেলের বিভিন্ন নির্দেশনার ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।   ফলে খ্রিস্টানদের মধ্যে হালাল মাংস গ্রহণের বিষয়ে একক অবস্থান নেই। কেউ ধর্মীয় কারণে তা এড়িয়ে চলতে চান, আবার অন্যরা হালাল খাবার গ্রহণকে নিজেদের বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করেন না। এই মতভিন্নতার কারণে স্কুলের খাবার সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশের দাবি সামনে এসেছে।   এদিকে টেক্সাসের আইনসভায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবারের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও উঠেছিল। ২০২৫ সালে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সুলেমান লালানি দুটি বিল উত্থাপন করেন। একটি প্রস্তাবে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের অনুরোধে সরকারি স্কুলে হালাল সকালের খাবার কিংবা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়।   অন্য প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট জনসংখ্যার কাউন্টি ও আশপাশের এলাকার স্কুলগুলোর জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে দুটি প্রস্তাবের কোনোটিই আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবগুলোতে সব শিক্ষার্থীকে হালাল খাবার খাওয়ানো কিংবা অন্য খাবারের বিকল্প বন্ধ করার কথা ছিল না।   টেক্সাসের বিদ্যমান আইনে হালাল ও নন-হালাল মাংস বিক্রি করা খুচরা ব্যবসায়ীদের পণ্য যথাযথভাবে চিহ্নিত করার নিয়ম রয়েছে। তবে সরকারি স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের তালিকায় একই ধরনের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা ওই আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   ওয়াইলি ও হেইস স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রকাশিত তথ্য থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে খ্রিস্টান শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে হালাল মাংস খাওয়ানো হয়েছে কিংবা তাঁদের বিকল্প খাবার দেওয়া হয়নি। বিতর্কের মূল বিষয় হলো, স্কুলে পরিবেশিত খাবারের ধর্মীয় সার্টিফিকেশন সম্পর্কে অভিভাবকেরা কতটা তথ্য পাচ্ছেন।   টেক্সাসের এই ঘটনায় একদিকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় খাদ্যচাহিদা পূরণের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী পরিবারের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের কাছে খাবারের তথ্য পরিষ্কারভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং বিকল্প খাবারের ব্যবস্থা রাখা নিয়েই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: ডালাস এক্সপ্রেস

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১২:১৬
লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ নিয়ে বিরোধ, হাই-হিল দিয়ে পর্যটককে পিটিয়ে গ্রেপ্তার দুই নারী

লাস ভেগাসে মাত্র ২০ ডলার বকশিশ নিয়ে বিরোধ, হাই-হিল দিয়ে পর্যটককে পিটিয়ে গ্রেপ্তার দুই নারী

বিশ্ব মৃত্যুদণ্ডবিরোধী দিবসে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার মধ্যে পোপ বললেন ‘মৃত্যুদণ্ড অগ্রহণযোগ্য’

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে দুই শিশুসহ ৯ জন নিহত

নিউইয়র্ক সিটিতে অনুমোদন ছাড়া বেজমেন্ট বা গ্যারেজ ভাড়া দিলে থাকছে জরিমানা ও আইনি ঝুঁকির আশঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অবৈধ বেজমেন্ট ভাড়ায় বড় জরিমানা, বৈধ করার সুযোগ রয়েছে শর্তসাপেক্ষে

নিউইয়র্ক সিটিতে অনুমোদন ছাড়া বেজমেন্ট, অ্যাটিক বা গ্যারেজকে আলাদা অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়ে ভাড়া দিলে বাড়ির মালিককে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং ভাড়াটিয়াকে বাসস্থান ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস বা ডিওবির নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পারমিট ও অনুমোদন ছাড়া বাড়িতে অতিরিক্ত আবাসিক ইউনিট তৈরি করা ইলিগ্যাল কনভার্সন। তবে বিদ্যমান কিছু বেজমেন্ট ও সেলার অ্যাপার্টমেন্ট বৈধ করার পাইলট কর্মসূচি থাকলেও তা সব এলাকার সব বাড়ির জন্য প্রযোজ্য নয়।    ডিওবি জানিয়েছে, একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাগ করে পৃথক আবাসিক ইউনিট তৈরি করা কিংবা অনুমতি ছাড়া বেজমেন্ট, অ্যাটিক বা গ্যারেজে অ্যাপার্টমেন্ট যোগ করা অবৈধ পরিবর্তনের উদাহরণ। এসব ইউনিটে বিল্ডিং ও ফায়ার কোড অনুসরণ না করা হলে বাসিন্দাদের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার করতে আসা কর্মীদেরও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে শুধু রান্নাঘর, বাথরুম বা আলাদা দরজা থাকলেই কোনো জায়গা বৈধ অ্যাপার্টমেন্ট হয়ে যায় না। ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় নথির সঙ্গে বাস্তব অবস্থার মিল থাকতে হয়।    ইলিগ্যাল কনভার্সনের ক্ষেত্রে ক্লাস ওয়ান বা তাৎক্ষণিকভাবে বিপজ্জনক ভায়োলেশন দেওয়া হতে পারে। ডিওবির নির্দেশনা অনুযায়ী, এ ধরনের ভায়োলেশনে সাধারণ জরিমানার পাশাপাশি অবৈধ অবস্থা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন এক হাজার ডলার অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের সুযোগ রয়েছে। হিয়ারিং কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের জন্য এই অতিরিক্ত জরিমানা দিতে পারেন, যার পরিমাণ ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাই সব অবৈধ বেজমেন্টের জরিমানা নির্দিষ্টভাবে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলার বলা যথাযথ নয়।    পারমিট ছাড়া নির্মাণকাজের জরিমানা আবার আলাদা। সিটির নিয়ম অনুযায়ী, এক বা দুই পরিবারের বাড়িতে অনুমতি ছাড়া কাজ করলে সংশ্লিষ্ট পারমিট ফির ছয় গুণ হিসাবে জরিমানা নির্ধারিত হয়। এর সর্বনিম্ন পরিমাণ ৬০০ ডলার এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার। অন্য ধরনের ভবনে পারমিট ছাড়া কাজের জন্য পারমিট ফির ২১ গুণ হিসাবে জরিমানা হতে পারে, যার সীমা ছয় হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার। এগুলো অনুমতি ছাড়া কাজের জরিমানা; অবৈধ আবাসিক ব্যবহার বা অন্য ভায়োলেশনের দায়ও পৃথকভাবে যুক্ত হতে পারে।    তবে ভায়োলেশন দেওয়া হলেই প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টপ ওয়ার্ক অর্ডার এবং ভ্যাকেট অর্ডার একসঙ্গে কার্যকর হয় না। ডিওবির পরিদর্শকেরা অনিরাপদ কাজ বা পরিস্থিতি শনাক্ত করলে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিতে পারেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা কোড না মানা এবং তাৎক্ষণিক বিপদ থাকলে বাসস্থান খালি করার ভ্যাকেট অর্ডার দেওয়া হতে পারে। পারমিট ছাড়া কাজের কারণে স্টপ ওয়ার্ক অর্ডার জারি হলে নতুন পারমিট পেলেও আদেশ প্রত্যাহারের আগে কাজ শুরু করা যায় না।    বিদ্যমান অবৈধ বেজমেন্ট ও সেলার অ্যাপার্টমেন্ট বৈধ করার জন্য ২০২৪ সালের লোকাল ল ১২৬ অনুযায়ী একটি সীমিত পাইলট কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত এটিআর বলতে বোঝায় অথরাইজেশন ফর টেম্পোরারি রেসিডেন্স, অর্থাৎ সাময়িকভাবে বসবাসের অনুমোদন। এটি এডিইউ বা অতিরিক্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ আবাসিক ইউনিটের নাম নয়। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন অ্যাডামস প্রশাসন এই পাইলট বাস্তবায়নের প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে।    কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপার্টমেন্ট ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিলের আগে বিদ্যমান থাকতে হবে। সেটি নির্ধারিত কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে অবস্থিত এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন হতে হবে। বন্যাপ্রবণ এলাকার সম্পত্তি এই পাইলটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য নয় বলে ডিওবি জানিয়েছে। আবেদন করার নির্ধারিত শেষ সময় ২০২৯ সালের ২০ এপ্রিল। ফলে ওই সময়ের মধ্যে আবেদন করলেই যেকোনো অবৈধ বেজমেন্ট জরিমানা ছাড়া বৈধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।    নির্ধারিত এলাকার মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯, ১০, ১১ ও ১২; ব্রুকলিনের ৪, ১০, ১১ ও ১৭; ম্যানহাটনের ২, ৩, ৯, ১০, ১১ ও ১২ এবং কুইন্সের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ২। ডিওবির প্রকাশিত প্রশ্নোত্তরে বলা হয়েছে, এটিআর আবেদন এখনো গ্রহণ করা হচ্ছে না। আবেদন গ্রহণ শুরু হলে ডিওবি নাউ ব্যবস্থায় তা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং আগে বিস্তারিত সার্ভিস নোটিশ প্রকাশ করা হবে। নতুন এডিইউ নির্মাণের আবেদনপ্রক্রিয়া এবং পুরোনো অবৈধ বেজমেন্টের এটিআর আবেদনপ্রক্রিয়া পৃথক।    যোগ্য ইউনিট কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হলে দশ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রযোজ্য বিল্ডিং কোড, জোনিং ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে স্প্রিংকলার ও বন্যার পানি শনাক্ত করার সেন্সরের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু দশ বছরের শেষ সময়ের অপেক্ষা করার সুযোগ নেই; মধ্যবর্তী নির্ধারিত সময়সীমাও মানতে হবে। প্রয়োজনীয় কাজ ও পরিদর্শন শেষে সংশোধিত সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি নিতে হবে। নির্ধারিত ধাপ পূরণ না হলে সাময়িক অনুমোদন বাতিল এবং আবার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।    বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়ের জন্য ভবনের সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি এবং ডিওবির রেকর্ডে অনুমোদিত ব্যবহার দেখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ১৯৩৮ সালের আগে নির্মিত কিছু ভবনে এই সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক নয়, যদি পরবর্তী পরিবর্তনে ব্যবহার, বের হওয়ার পথ বা অকুপেন্সি বদলে না থাকে। এমন ভবনের বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে লেটার অব নো অবজেকশন প্রযোজ্য হতে পারে। বেজমেন্ট ভাড়া দেওয়া বা নতুন ইউনিট তৈরির আগে সংশ্লিষ্ট নথি, জোনিং ও পারমিটের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করলে মালিক ও ভাড়াটিয়া দুপক্ষই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১০:৫৮
সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না ভ্যান্স, ঘোর আপত্তি

ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত

ন্যাচারালাইজড আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিল ট্রাম্প প্রশাসন, ৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি

যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট স্ক্যান করতে গিয়ে ক্যানসার শনাক্ত, এক বছরের লড়াই শেষে সুস্থ ৭২ বছরের ভিকি

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএসপিএসে তথ্য দিলেই সব নথি আপডেট হয় না। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ঠিকানা বদলালে ইউএসসিআইএসে জানানোর সময়সীমা ১০ দিন, জেনে নিন নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।    কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।   ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে।   ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন।    ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে।    ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়।    ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।   ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।   নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে।    ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়।    সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে।    ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়।   পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ৯:৫৩
ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের গুলিতে আহত আইসিই এজেন্ট ডেভিড গঞ্জালেজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাবা ও মেয়েকে মারধর আইসিই এজেন্টকে গুলি করলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অ্যারিজোনার মরুভূমিতে বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, উৎপাদনের ৯০ শতাংশ কিনবে টেসলা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে যাওয়ার পরিকল্পনায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন হাজারো আমেরিকান

0 Comments