- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রে বাসা বদলানোর পর শুধু ইউএস পোস্টাল সার্ভিস বা ইউএসপিএসে নতুন ঠিকানা জানালেই সব সরকারি নথি আপডেট হয় না। ইমিগ্রেশন, ড্রাইভার লাইসেন্স, ট্যাক্স ও সরকারি সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আলাদাভাবে জানাতে হতে পারে। বিশেষ করে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের জন্য ইউএসসিআইএসে ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কার কোথায় তথ্য আপডেট করতে হবে, তা নির্ভর করে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, বসবাসের স্টেট, গাড়ির মালিকানা, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং ভোটার হিসেবে যোগ্যতার ওপর। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে আবার আলাদা সময়সীমা ও পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। ইউএসপিএসের চেঞ্জ অব অ্যাড্রেস সেবা মূলত পুরোনো ঠিকানায় আসা উপযুক্ত চিঠিপত্র নতুন ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা। বাসা বদলানোর সময় অনলাইনে অথবা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই সেবার আবেদন করা যায়। কিন্তু মেইল ফরওয়ার্ডিং চালু করার অর্থ এই নয় যে ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা সব সরকারি সংস্থার রেকর্ডে নতুন ঠিকানা পৌঁছে গেছে। ইউএসসিআইএস এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইউএসপিএসে ঠিকানা পরিবর্তন করলে ইউএসসিআইএসের রেকর্ড বদলায় না। ইউএসপিএস ইউএসসিআইএসের চিঠিও নতুন ঠিকানায় ফরওয়ার্ড করে না। তাই ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত নোটিশ ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার জন্য দুই সংস্থার কাছেই ঠিকানা বর্তমান রাখা প্রয়োজন। ইমিগ্রেশন আইনের নিবন্ধন বিধানের আওতায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ইউএসসিআইএসকে নতুন ঠিকানা জানাতে হয়। গ্রিন কার্ডধারীরাও সাধারণভাবে এই নিয়মের আওতায় পড়েন। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যায়। আবেদন বা পিটিশন বিচারাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মামলার তথ্যও যথাযথভাবে আপডেট হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে। ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা থাকলে শুধু ইউএসসিআইএসে ঠিকানা বদলানো যথেষ্ট নয়। বিচার বিভাগের ইমিগ্রেশন পর্যালোচনা দপ্তর ইওআইআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য পরিবর্তনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোর্ট কিংবা বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসকে জানাতে হবে। কোর্টের জন্য ইওআইআর ৩৩/আইসি এবং আপিল বোর্ডের জন্য ইওআইআর ৩৩/বিআইএ ফর্ম ব্যবহার করতে হয়। ঠিকানা আপডেট না হলে কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ মিস হতে পারে। তবে ঠিকানা পরিবর্তন না জানালেই সব ইমিগ্রেশন মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যায়, এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। মামলার ধরন, নোটিশ এবং পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর ফলাফল নির্ভর করে। তাই বিচারাধীন মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ম আলাদাভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তনের সময়সীমা স্টেটভেদে ভিন্ন। নিউইয়র্কে বাসা বদলানোর ১০ দিনের মধ্যে ডিএমভিতে ড্রাইভার লাইসেন্স, লার্নার পারমিট, নন ড্রাইভার আইডি এবং গাড়ির রেকর্ডের ঠিকানা আপডেট করতে হয়। ইউএসপিএসে পরিবর্তন করলে ডিএমভির রেকর্ড বদলায় না। তবে নতুন ঠিকানা দিয়ে লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নতুন কপি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিউইয়র্ক ডিএমভির বর্তমান নির্দেশনায় অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সেবা সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় ডিএমভি অফিসে গিয়ে অথবা এমভি ২৩২ ফর্ম ডাকযোগে পাঠিয়ে পরিবর্তন জানানো যায়। ট্রাফিক ভায়োলেশনস ব্যুরোর টিকিটের ঠিকানা আবার আলাদাভাবে আপডেট করতে হতে পারে। ট্যাক্সসংক্রান্ত চিঠিপত্র পাওয়ার জন্য আইআরএসের কাছেও সঠিক ঠিকানা থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত মেইলিং অ্যাড্রেস পরিবর্তনের ফর্মটির নম্বর ৮৮২২, ৮৮২ নয়। এই ফর্ম পাঠানো ছাড়াও নতুন ট্যাক্স রিটার্নে নতুন ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত বিবৃতি এবং আইআরএস অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে পরিবর্তন জানানো যায়। ফলে সবার জন্য শুধু একটি ফর্ম পাঠানোই একমাত্র উপায় নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়মও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁরা সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট, সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই এবং মেডিকেয়ার গ্রহণ করেন না, তাঁদের শুধু বাসা বদলানোর কারণে এসএসএতে ঠিকানা পরিবর্তন জানাতে হয় না। সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে বেনিফিটের ধরন অনুযায়ী অনলাইন অ্যাকাউন্ট, ফোন বা সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে তথ্য আপডেট করতে হতে পারে। ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা পরিবর্তন প্রযোজ্য যোগ্য ভোটারদের জন্য। নতুন ঠিকানায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টেটের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন আপডেট করতে হবে। অন্য স্টেটে চলে গেলে নতুন স্টেটে রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন হতে পারে। এই বিষয়টি সব অভিবাসীর জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়। পাশাপাশি ব্যাংক, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি, গাড়ি ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স, কর্মস্থল এবং সন্তানের স্কুলে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড আলাদা হওয়ায় একটি জায়গায় পরিবর্তন করলে অন্য সব জায়গায় তা কার্যকর হয় না। বাসা বদলানোর পর কোন প্রতিষ্ঠানে কী তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং তার কনফার্মেশন পাওয়া গেছে কি না, তা সংরক্ষণ করলে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নোটিশ মিস হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'। নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বর্তমান মোদি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। দেশজুড়ে ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে যখন বিরোধী দলগুলো ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন তীব্রতর করছে, ঠিক তখনই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদেরই পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সরকার ভয় পাচ্ছে। আর সেই ভীতি থেকেই রাজধানী দিল্লি ও মুম্বাইসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মতো দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিরোধী সংসদ সদস্যদের আটকের ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, কোনো ধরনের পুলিশি বাধাই তাদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে থামাতে পারবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী সোমবার দিল্লিতে একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে 'ইন্ডিয়া' জোট। এর আগে বিরোধী নেতারা ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের উদ্বেগের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলগুলোর এই আন্দোলন সর্বস্তরে অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন কে সি বেণুগোপাল। আগামী দিনে এই দাবির সপক্ষে দেশের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গেও বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে, যা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তির গুলিতে আহত হয়েছেন এক আইসিই এজেন্ট। ডেভিড গঞ্জালেজ নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ফেডারেল এজেন্টকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে ইস্ট ডাডলি অ্যাভিনিউ ও নর্থ ব্রডওয়ে স্ট্রিটের কাছে একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ফ্রেসনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, গঞ্জালেজ টেক্সাসের বাসিন্দা এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়ির এক নারী বাসায় ফিরে সামনের লনে গঞ্জালেজকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তাঁর ৭২ বছর বয়সী বাবাকে জানান। এরপর বাবা বাইরে গিয়ে গঞ্জালেজকে বাড়ির জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর গঞ্জালেজকে মদ্যপ ও উত্তেজিত বলে মনে হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেন। বাবাকে রক্ষা করতে মেয়ে এগিয়ে গেলে তাঁকেও আক্রমণ করেন গঞ্জালেজ। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গঞ্জালেজকে লক্ষ্য করে একবার গুলি করেন। গুলিটি তাঁর পেটের অংশে লাগে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীর প্রেমিক ঘটনাস্থলে এসে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরান। তিনি একজন পুলিশ অফিসার এবং তখন ডিউটির বাইরে ছিলেন। ভোর ৩টা ১৯ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার বিষয়ে একাধিক নাইন ওয়ান ওয়ান কল পায় ফ্রেসনো পুলিশ। অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরানো ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এবিসি৩০-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে গঞ্জালেজের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ের হামলা বা ফেলনি অ্যাসল্টের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে, গুলি চালানো ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধভাবে ছিল। টেক্সাসের ওই এজেন্ট কেন ফ্রেসনোর এই আবাসিক এলাকায় ছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন অভিযানের অংশ ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি। সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফেলো নির্বাচিত হয়েছেন। নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা ও কম্পিউটার ব্যবহারের সচেতনতা প্রসারে অবদানের জন্য তাঁকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে সংস্থাটি। এপিএসের ফোরাম অন ইন্টারন্যাশনাল ফিজিকসের ঘোষণায় ২০২৬ সালের ফেলো হিসেবে অধ্যাপক বসাকের নাম রয়েছে। নির্বাচনের কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, নিউক্লিয়াসগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বোঝার বিভব ব্যবহার করে নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা এবং গবেষণার সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে কর্মরত থেকে গবেষণা করে এপিএস ফেলো নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যাপক বসাকই প্রথম। এই দাবিটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এপিএসের প্রকাশিত ঘোষণায় বসাককে বাংলাদেশের প্রথম ফেলো হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পদার্থবিজ্ঞানের উদ্ভাবনী প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এপিএস ফেলোশিপ দেওয়া হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর শিক্ষার্থী সদস্যদের বাদ দিয়ে মোট সদস্যের সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এই সম্মানের জন্য নির্বাচিত হতে পারেন। ফলে ফেলো নির্বাচন একটি সীমিত ও প্রতিযোগিতামূলক স্বীকৃতি। অধ্যাপক বসাকের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রধান কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৩ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির জীবনী অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাঁকে আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। দেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও কাজ করেছেন এই বিজ্ঞানী। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ফেলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন তিনি। কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং সাউদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটির কার্বনডেল ক্যাম্পাসে ভিজিটিং গবেষণা অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে তাঁর ১০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। নিউক্লীয় ও পরমাণু পদার্থবিজ্ঞান তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি যৌথ গবেষণা প্রকল্পেও বাংলাদেশের প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। গবেষণার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক বসাক। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান, ভৌতবিজ্ঞান অনুষদের প্রথম ডিন এবং কম্পিউটার সেন্টারের প্রথম পরিচালক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। এই অর্জন নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে গবেষণার মূল্যায়ন প্রসঙ্গও তুলেছেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। তাঁর বক্তব্য, শুধু সাইটেশন বা গবেষণাপত্রের সংখ্যা দিয়ে একজন গবেষকের অবদান বিচার করা যথেষ্ট নয়। কাজের মৌলিকত্ব, মান এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অধ্যাপক বসাককে জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন কামরুল হাসান মামুন। এপিএসের এবারের স্বীকৃতিতে বসাকের গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা, বিজ্ঞানশিক্ষা এবং গবেষণার সক্ষমতা গড়ে তোলার অবদান স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই বিজ্ঞানীর কর্মজীবনের একাধিক দিককে আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান সমাজের সামনে তুলে ধরেছে এই ফেলোশিপ।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের মরুভূমিতে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু হয়েছে। স্টার্লিং নামের এই প্রকল্প থেকে বছরে ১ দশমিক ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ কেনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে টেসলা। প্রকল্পটি ২০২৮ সালে চালু হওয়ার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ৬ অক্টোবর প্রকল্পটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে কনটুরগ্লোবাল। যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভি কাউন্টিতে লেক হাভাসু সিটির প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই প্রকল্পের আওতায় মরুভূমির দুই হাজার একরেরও বেশি জমি ব্যবহৃত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এখানে বড় আকারের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পে সাত লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্যানেলগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ৫০৯ মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ রূপান্তরের পর গ্রিডে সরবরাহযোগ্য ক্ষমতা হবে ৪৫০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে তিন শতাধিক ব্যাটারি সংরক্ষণ কনটেইনার। ব্যাটারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা হবে ৩৬০ মেগাওয়াট। এতে প্রায় ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করা যাবে, যা পূর্ণ ক্ষমতায় প্রায় চার ঘণ্টা সরবরাহ করা সম্ভব। কনটুরগ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি একসঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে দিনে সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। ব্যাটারিতে ব্যবহার করা হবে লিথিয়াম আয়রন ফসফেট প্রযুক্তি, তরল শীতলীকরণ এবং সমন্বিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেসলার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ কিনবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নবায়নযোগ্য জ্বালানির সনদও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রত্যাশিত বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ। চালু হলে স্টার্লিং হবে কনটুরগ্লোবালের বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প। প্রকল্পটি ওয়েস্টার্ন এরিয়া পাওয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হবে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ বাজারে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য সঞ্চালন অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্মাণকাজে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কর্মীর কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয় কর্মীরা ভূমি উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ ও প্রকল্প এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার কাজ করবেন। ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে ৫ দশমিক ২ মাইল বা প্রায় ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন প্রবেশসড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বেসরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্মাণকালে বিনিয়োগের অর্থায়নে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে ঋণও নিশ্চিত করেছে কনটুরগ্লোবাল। সূত্র: ইলেকট্রেক
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত সুপারভাইজার খুঁজে পাওয়া বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যাঁরা বৃত্তি বা আর্থিক সহায়তা নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চান, তাঁদের অনেকেই শুধু গুগল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করেন। অথচ পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইন ব্যবহার করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক এবং অর্থায়নসহ গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব। উচ্চশিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল হাকিম তিস্তি লিংকডইনের মাধ্যমে মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার খোঁজার কয়েকটি কার্যকর কৌশল তুলে ধরেছেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু অধ্যাপকদের খুঁজে বের করাই যথেষ্ট নয়। নিজের শিক্ষাগত ও গবেষণাসংক্রান্ত পরিচিতি তৈরি, গবেষণার সঙ্গে মিল খোঁজা এবং সঠিকভাবে যোগাযোগ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই নিজের লিংকডইন পরিচিতি পেশাদারভাবে সাজাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগের আগে শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা জরুরি। একটি ভালো পরিচিতিমূলক ছবি, আকর্ষণীয় সংক্ষিপ্ত পরিচয়, শিক্ষাগত তথ্য, গবেষণা প্রকল্প, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং প্রাসঙ্গিক দক্ষতা যুক্ত করতে হবে। যেমন, কোনো শিক্ষার্থী যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে পিএইচডি করতে চান, তাহলে নিজের পরিচিতিতে উল্লেখ করতে পারেন, তিনি জিনতত্ত্ব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জীবতথ্যবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী এবং এসব বিষয়ে পিএইচডি করার পরিকল্পনা করছেন। এতে পরিচিতি দেখেই সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক শিক্ষার্থীর গবেষণার আগ্রহ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা। শুধু অধ্যাপক লিখে খোঁজার পরিবর্তে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ, নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিয়োগ, সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি, গবেষণা সহকারী নিয়োগ এবং গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থী নেওয়ার মতো বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে হবে। এসব শব্দের সঙ্গে নিজের বিষয় বা গবেষণার ক্ষেত্র যুক্ত করলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হয়। যেমন, জীবতথ্যবিজ্ঞানে পিএইচডির সুযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডি কিংবা জিনতত্ত্বে গবেষণার সুযোগ খুঁজতে পারেন। একইভাবে প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, ব্যবসায় শিক্ষা বা অন্য যেকোনো বিষয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্র অনুযায়ী অনুসন্ধান করতে পারবেন। লিংকডইনে অনুসন্ধানের সময় বিভিন্ন বাছাইয়ের সুবিধা ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষকদের পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যায়। অন্যদিকে প্রকাশিত পোস্ট অনুসন্ধান করলে গবেষণার সুযোগ বা আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য কিংবা অন্য কোনো দেশের অবস্থান নির্বাচন করেও অনুসন্ধানের পরিধি সীমিত করা সম্ভব। অনেক অধ্যাপক তাঁদের গবেষণাগারে নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থী নেওয়ার ঘোষণা সরাসরি লিংকডইনে প্রকাশ করেন। কেউ কেউ গবেষণা প্রকল্পে সহকারী নিয়োগের তথ্যও জানান। তাই শুধু অধ্যাপকদের পরিচিতি দেখার পরিবর্তে তাঁদের সাম্প্রতিক পোস্ট ও গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করা উপকারী। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অধ্যাপকের গবেষণা ও নিজের আগ্রহের মধ্যে মিল খুঁজে বের করা। কোনো অধ্যাপককে বার্তা পাঠানোর আগে তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, কোন বিভাগে গবেষণা করছেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক প্রকাশনাগুলো কী বিষয়ে, তা ভালোভাবে দেখতে হবে। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছেন কি না এবং তাঁর গবেষণাগারে নতুন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট, অধ্যাপকের গবেষণাগারের তথ্য এবং সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র থেকে তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ লিংকডইনের পরিচিতিতে সব সময় গবেষণার সর্বশেষ তথ্য বা নতুন শিক্ষার্থী নেওয়ার সুযোগ উল্লেখ নাও থাকতে পারে। উপযুক্ত অধ্যাপক খুঁজে পাওয়ার পর প্রথমেই বড় বার্তা পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং সংক্ষিপ্ত ও পেশাদারভাবে যোগাযোগের অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে। সেখানে নিজের পরিচয়, গবেষণার আগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের কাজের প্রতি আগ্রহের কথা জানানো যথেষ্ট। যেমন, কোনো অধ্যাপক যদি জিনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করেন, তাহলে তাঁকে জানানো যেতে পারে যে শিক্ষার্থী তাঁর গবেষণা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাঁকে সুপারভাইজার হিসেবে নিয়ে পিএইচডি করার সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করতে চান। প্রথম বার্তাটি এমনভাবে লিখতে হবে, যাতে অধ্যাপক সহজেই বুঝতে পারেন কেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যোগাযোগের অনুরোধ গ্রহণ করার পর পরবর্তী বার্তায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশিত গবেষণাপত্র এবং কাঙ্ক্ষিত মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের কথা সংক্ষেপে জানানো যেতে পারে। বিশেষ করে অধ্যাপকের সাম্প্রতিক কোনো গবেষণার সঙ্গে নিজের আগ্রহের মিল থাকলে সেটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বিবরণসংবলিত জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যেতে পারে। তবে অধ্যাপকের বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ইমেইল ঠিকানা পাওয়া গেলে সেখানেও যোগাযোগ করা কার্যকর পদ্ধতি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ভর্তির জন্য আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে কোনো অধ্যাপক আগ্রহ দেখালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। এদিকে মাস্টার্স ও পিএইচডির আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ ও শিক্ষাক্রমভেদে আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে শিক্ষকতা সহকারী, গবেষণা সহকারী কিংবা বিশেষ গবেষণা বৃত্তির মাধ্যমে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার খরচের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে একই ধরনের আর্থিক সহায়তা থাকে না। তাই কোনো শিক্ষাক্রমে অর্থায়নের সুযোগ থাকলে শিক্ষাব্যয় কতটা বহন করা হবে, মাসিক বা বার্ষিক ভাতা কত, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা রয়েছে কি না এবং কত বছর পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া উচিত। আবদুল হাকিম তিস্তির পরামর্শ অনুযায়ী, সুপারভাইজার খোঁজার সময় একটি সাধারণ ভুল হলো একই বার্তা অসংখ্য অধ্যাপকের কাছে পাঠানো। এতে শিক্ষার্থীর প্রকৃত গবেষণার আগ্রহ বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে। বরং প্রতিটি অধ্যাপকের গবেষণা সম্পর্কে জেনে আলাদাভাবে বার্তা তৈরি করা ভালো। এ ছাড়া প্রথম যোগাযোগেই শুধু বৃত্তি চাওয়ার পরিবর্তে নিজের গবেষণার দক্ষতা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারে কীভাবে অবদান রাখতে পারবেন, তা তুলে ধরা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগের ভাষা সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও পেশাদার হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, লিংকডইন ব্যবহার করে কোনো অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেই ভর্তি বা আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যোগ্যতা, গবেষণার বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য, অর্থায়নের প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর চূড়ান্ত সুযোগ নির্ভর করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য লিংকডইন হতে পারে গবেষকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং নতুন সুযোগ সম্পর্কে জানার একটি অতিরিক্ত মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ভর্তি নির্দেশনা ও গবেষণাগারের তথ্যের সঙ্গে লিংকডইন ব্যবহার করলে উপযুক্ত সুপারভাইজার এবং সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও গোছানো ও কার্যকর হতে পারে।
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ছুটির দিনেও মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারে হাজির হয়ে প্রশংসিত হয়েছেন সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই। কোনো মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা কিংবা প্রচলিত প্রস্তুতি ছাড়াই জরুরি সংবাদ নিয়ে দর্শকদের সামনে আসেন তিনি। দুর্যোগের মুহূর্তে নিজের সাজসজ্জার চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন এই সাংবাদিক। ঘটনাটি গত ১৮ এপ্রিলের। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জাপানের নাগানো প্রিফেকচারের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮ কিলোমিটার গভীরে। নাগানোর ওমাচি শহরে জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের স্কেলে সর্বোচ্চ ৫ প্লাস মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সময় জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের নাগানো কেন্দ্রের সংবাদ উপস্থাপিকা সায়াকা ইনাই ছুটিতে ছিলেন। কিন্তু ভূমিকম্পের খবর পাওয়ার পর দ্রুত কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্র ১১ মিনিট পর দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে তাঁকে টেলিভিশনের পর্দায় ভূমিকম্পসংক্রান্ত তথ্য জানাতে দেখা যায়। এত অল্প সময়ের মধ্যে সম্প্রচারে অংশ নেওয়ায় স্বাভাবিক প্রস্তুতির সুযোগ পাননি সায়াকা। সাধারণত টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপনার আগে মেকআপ, চুলের সাজসজ্জা ও পোশাকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন তিনি এসবের অপেক্ষা করেননি। সাধারণ পোশাকের ওপর স্যুটের জ্যাকেট পরে, চুল বেঁধে এবং কালো ফ্রেমের চশমা পরেই সংবাদ উপস্থাপন করেন। তাঁর এই উপস্থিতি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। নিয়মিত সম্প্রচারে যে সাজসজ্জায় তাঁকে দেখা যায়, সেদিনের উপস্থিতি ছিল তার থেকে আলাদা। তবে দর্শকদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত দায়িত্ব পালনের বিষয়টি। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর ২২ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটির দিনে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারে ফিরে আসার ঘটনায় সায়াকার পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতির পাশাপাশি দুর্যোগের সময় সংবাদ পরিবেশনের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচিত হয়। এদিকে ভূমিকম্পের পর জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠানের সূচিতে পরিবর্তন আনে। চলমান অনুষ্ঠান বন্ধ করে ভূমিকম্পের খবর, পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা সম্প্রচার করা হয়। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছিল, ১৮ এপ্রিলের প্রথম ভূমিকম্পটির পর একই দিন দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটে নাগানোর উত্তরাঞ্চলে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। ওই ভূমিকম্পেও বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। প্রথম ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে জানায়, কম্পন অনুভূত এলাকাগুলোতে ভূমিধস ও পাথরধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক দিন আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে প্রথম ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো আশঙ্কা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সংবাদ সম্প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া দুর্যোগ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোথায় কম্পন অনুভূত হয়েছে, নতুন কোনো সতর্কতা জারি হয়েছে কি না এবং বাসিন্দাদের কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, এসব তথ্য জানাতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সায়াকা ইনাইয়ের ঘটনাটি সেই দায়িত্ব পালনের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ছুটির দিনে কর্মস্থলে ফিরে এসে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ছাড়াই সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে একজন সাংবাদিকের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের কয়েক মাস পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সেই সম্প্রচারের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসছে। সাংবাদিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে অনেকেই তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করছেন।
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও ‘গ্রে-জোন’ চাপের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার কড়া ঘোষণা দিয়েছে তাইওয়ান। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাইপেতে আয়োজিত তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষায় তাদের এই বিনিয়োগ বাড়ানোর মূল লক্ষ্য কোনোভাবেই যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়, বরং যেকোনো মূল্যে যুদ্ধ প্রতিহত করা। পাশাপাশি আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে তারা সংলাপের পথ বন্ধ করে দিচ্ছেন; বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে যেন সম্মানজনক সংলাপ নিশ্চিত করা যায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই তাইওয়ান তার সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে লাই চিং-তে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাইওয়ান প্রণালিতে বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে লাইয়ের সরকার বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় বেইজিং তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট লাই বলেন, তাইওয়ান প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিতে চীন ধারাবাহিকভাবে যে চাপ প্রয়োগ করছে, তা কেবল তাইওয়ানের নিরাপত্তার বিষয় নয়। বরং এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যই একটি বড় পরীক্ষা যে, বলপ্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে আসলেই উপেক্ষা করা যায় কি না। ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, তাইওয়ান সবসময় শান্তিতে বিশ্বাসী, তবে তারা কখনোই নিজেদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ে তারা আগ্রহী হলেও, কোনোভাবেই তাদের অধীনতা মেনে নেওয়া হবে না। দায়িত্বশীল ও সুদৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে তাইওয়ান প্রণালি এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রেসিডেন্ট লাই।
কানাডায় পাসপোর্ট ও নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্রের ছবিতে ধর্মীয় কারণে হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশটির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্টের ছবির জন্য হিজাব খুলতে হয় না। তবে ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা চলবে না। কানাডা সরকারের প্রকাশিত পাসপোর্ট ছবির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা চিকিৎসাগত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখার পোশাক পরা গ্রহণযোগ্য। তবে মাথার পোশাক যেন মুখের ওপর কোনো ছায়া তৈরি না করে এবং ব্যক্তির মুখের স্বাভাবিক গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, হিজাব পরা অবস্থায় ছবি তোলার সময় চোখ, নাক, মুখ, চিবুক এবং মুখের দুই পাশ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। হিজাব বা স্কার্ফ এমনভাবে পরতে হবে, যাতে মুখের কোনো অংশ আড়াল না হয়। বিশেষ করে চোখ খোলা রাখা, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং স্বাভাবিক মুখভঙ্গি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কানাডার পাসপোর্ট ছবির ক্ষেত্রে আরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছবির মাপ হতে হবে ৫০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৭০ মিলিমিটার লম্বা। চিবুক থেকে মাথার স্বাভাবিক ওপরের অংশ পর্যন্ত উচ্চতা থাকতে হবে ৩১ থেকে ৩৬ মিলিমিটারের মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা হালকা রঙের হতে হবে। পাশাপাশি মুখে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত আলো, ছায়া কিংবা আলোর প্রতিফলন থাকা যাবে না। ছবিতে আবেদনকারীর মুখ ও কাঁধ ক্যামেরার দিকে সোজা রাখতে হবে। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে ছবি তুলতে হবে। চোখ খোলা এবং মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কানাডার পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া ছবি আবেদন করার আগের ছয় মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে, যাতে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার সঙ্গে ছবির মিল থাকে। সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ টুপি কিংবা মাথা ঢাকার অন্যান্য পোশাক পাসপোর্টের ছবিতে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার সুযোগ থাকলেও শুধু ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ক্ষেত্রে একই ছাড় প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়া কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে জমা দেওয়া ছবি অবশ্যই আসল ও অপরিবর্তিত হতে হবে। ছবি তোলার পর ফিল্টার ব্যবহার, মুখের গঠন পরিবর্তন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সংশোধন করা যাবে না। এমনকি ছবি আরও সুন্দর করার জন্য ডিজিটাল এডিট করলেও তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পেশাদার ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার নির্দেশনা রয়েছে। শুধু পাসপোর্ট নয়, কানাডার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর কার্ডের ছবির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে সাদা রঙের হিজাব বা হেডস্কার্ফ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিশে গেলে ছবি গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্থক্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদনের জন্য বায়োমেট্রিক ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন আবেদনকারীরা প্রয়োজনে একই লিঙ্গের কর্মীর মাধ্যমে ছবি তোলার অনুরোধ করতে পারেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন। তবে কানাডার সব ধরনের সরকারি পরিচয়পত্রের জন্য একটিমাত্র নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ড্রাইভার লাইসেন্স এবং প্রদেশভিত্তিক অন্যান্য আইডি কার্ডের ছবির শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই কোনো পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। কানাডা সরকারের এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। ফলে হিজাব পরা কোনো নারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে হিজাব না খুলেই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য ছবি জমা দিতে পারবেন। উল্লেখ্য, এটি কানাডায় নতুন করে ঘোষণা করা কোনো সুবিধা নয়। ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরে পাসপোর্টের ছবি তোলার সুযোগ দেশটির বিদ্যমান সরকারি নিয়মেরই অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের ছোট দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যতের বিকল্প হিসেবে ইউরোপের একটি দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করছেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৩ হাজার ৫৭৪ জনের নাম নতুন করে লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে সরকারি নিবন্ধনে যুক্ত হয়েছে। দেশটির নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে এই হিসাবের সবাই নতুন আবেদন করে নাগরিকত্ব পাননি। তাঁদের অনেকেই পারিবারিক বংশসূত্রের কারণে আগে থেকেই দেশটির আইনে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। অন্যদিকে লুক্সেমবার্গের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬৫৭ জন আমেরিকান আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। দুই ধরনের হিসাবের পার্থক্যের কারণ হলো, একটি পরিসংখ্যানে আগে থেকেই আইনগতভাবে নাগরিকত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের নিবন্ধনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যটিতে শুধু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের গণনা করা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে প্রকাশিত নতুন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৯০ জনে। তুলনায় প্রতিবেশী জার্মানিতে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা ২২ হাজার ৯২৫ জন। শুধু ৩০ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লুক্সেমবার্গের নাগরিকের সংখ্যা আরও ৯৫২ জন বেড়েছে। নাগরিকত্ব গ্রহণের এই প্রবণতার পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, জীবনযাত্রার মান এবং ইউরোপে বসবাসের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে উদ্বিগ্ন কিছু আমেরিকান ইউরোপীয় নাগরিকত্বকে ভবিষ্যতের জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করছেন। কলোরাডোর ডেনভারে বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডি তাঁদের একজন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ইউরোপে বসবাসের ইচ্ছা ছিল। পরে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর পূর্বপুরুষদের একজন লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। উনিশ শতকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শিকাগো এবং পরে মিনেসোটা, আইওয়া ও কানসাসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। বংশপরিচয়ের নথিপত্র সংগ্রহ করতে ক্যাসিডির প্রায় এক বছর সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পান। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে যান। নিউজউইককে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে উদ্বেগ তাঁর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। তবে পরে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং ইউরোপের কোন দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির পূর্বপুরুষ থাকার বিষয়টি অনেক আমেরিকানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির নাগরিকত্ব আইনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে কয়েক প্রজন্ম আগের পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতেও নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব। তবে শুধু পরিবারের কেউ একসময় লুক্সেমবার্গে বসবাস করেছেন, এমন তথ্য থাকলেই নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট আইনের শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয়। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা পরামর্শক ড্যানিয়েল অ্যাটজ নিউজউইককে জানান, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও আমেরিকানদের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বেড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আগ্রহ আরও অনেক বেশি হয়েছে। অ্যাটজ নিজেও পারিবারিক বংশসূত্রের মাধ্যমে ২০১৪ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর প্রপিতামহী মার্গারিট ক্রুখটেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে চলে আসেন। নাগরিকত্বের আবেদন করতে গিয়ে তিনি ইউরোপে বসবাসকারী দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপন করেন। বর্তমানে অ্যাটজ একটি নাগরিকত্ব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আমেরিকানদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে গত বছর তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যা ২ জন থেকে বাড়িয়ে ১৫ জন করতে হয়েছে। তবে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়া মানেই যে আমেরিকানরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন, এমন নয়। অ্যাটজের মতে, তাঁর কাছে সহায়তা নেওয়া ব্যক্তিদের খুব অল্প অংশেরই লুক্সেমবার্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে। অনেকেই দেশটির পাসপোর্টকে ইউরোপে ভবিষ্যতে বসবাস ও কাজের সুযোগ তৈরির মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। এর একটি বড় কারণ হলো, লুক্সেমবার্গ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে অন্যান্য সদস্যদেশে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান, যদিও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক নিয়ম ও শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে শুধু লুক্সেমবার্গ নয়, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগালের মতো দেশেও বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে লুক্সেমবার্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি। দেশটিতে পণ্য ও সেবার ভোক্তামূল্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তুলনামূলক সীমিত। এসব কারণে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অনেকে লুক্সেমবার্গের পরিবর্তে ইউরোপের অন্য দেশে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। এদিকে লুক্সেমবার্গ সরকারের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা স্টেটেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৮ হাজার ২২৩ জন বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৪১৫। অর্থাৎ এক বছরে নাগরিকত্ব অর্জনের সংখ্যা বেড়েছে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। নতুন নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৪৪ জন বিশেষ যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায়, ১ হাজার ২৯৮ জন সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এবং ৩৮১ জন নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লুক্সেমবার্গের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৯৬ জন ছিলেন আমেরিকান। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানেও দেশটির নাগরিকত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তবে নাগরিকত্বের নিয়ম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। লুক্সেমবার্গের ২০১৭ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৮৯ অনুচ্ছেদের অধীনে ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারিতে লুক্সেমবার্গের নাগরিক ছিলেন, এমন পূর্বপুরুষের বংশধরদের জন্য বিশেষ নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নতুন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বংশসূত্রে বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পাওয়ার সব সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির প্রচলিত আইনে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের অন্যান্য পথ এখনো চালু রয়েছে। আবেদনকারীর পারিবারিক ইতিহাস, জন্মসংক্রান্ত তথ্য ও আইনি যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হয়। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমেরিকানদের মধ্যে দ্বিতীয় নাগরিকত্বের এই আগ্রহ শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া নয়। ইউরোপে বসবাসের সুযোগ, পরিবারের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়গুলোও তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অনেক আমেরিকান এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে প্রস্তুত নন। বরং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে অন্য দেশে বসবাসের আইনি সুযোগ নিশ্চিত রাখতে চাইছেন। লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাওয়ার লেক শহরে এক চালককে নিজ বাড়ির আঙিনায় আটকে হেনস্তা এবং গলা চেপে ধরার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান অ্যারন বার্লেসন এবং অন্য এক কর্মকর্তা সাদা পোশাকে কেন্ড্রিক বেটস নামের ওই চালককে হাতকড়া পরিয়ে তার পিকআপ ট্রাকের সাথে চেপে ধরে রেখেছেন। একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান তার ক্ষমতা জাহির করে বলেন, "আমি পুলিশ প্রধান, তাই আমার সঙ্গেই বোঝাপড়া করো।" সামান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেন্ড্রিক বেটসের স্ত্রী হেইলি শেলবার্নের ধারণ করা ভিডিওতে পুরো ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে। হেইলির দাবি, তার স্বামী দুটি স্টপ সাইন অমান্য করেছেন—এমন অভিযোগে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই বেটস তার গাড়ি পার্ক করে ফেলেছিলেন। তাছাড়া সাদা পোশাকে থাকা ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ধরনের ইমার্জেন্সি লাইট ছাড়াই সাধারণ গাড়িতে করে সেখানে আসেন এবং নিজেদের পরিচয় না দিয়েই বেটসকে হাতকড়া পরিয়ে ফেলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ প্রধান জোরপূর্বক বেটসের পকেটে হাত দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স বের করার চেষ্টা করছেন, যার তীব্র প্রতিবাদ জানান বেটস। একপর্যায়ে পুলিশ প্রধান বেটসের গলা চেপে ধরলে তার স্ত্রী চিৎকার করে বাধা দেন এবং আরও পুলিশ ডাকার কথা বলেন। এই ঘটনার পর বেটসকে গ্রেপ্তার করা না হলেও তাকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দুটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বেটস এরই মধ্যে সাওয়ার লেক পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং আইনি লড়াইয়ের জন্য ‘গোফান্ডমি’-এর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন। বিতর্কের মুখে সাওয়ার লেক নগর কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের টহল থেকে সরিয়ে আপাতত দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন তদন্তের জন্য টেক্সাস রেঞ্জার্স ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। টেক্সাসের আইন অনুযায়ী পুলিশ লাইসেন্স দেখতে চাইতে পারে, তবে চালকের অনুমতি ছাড়া জোর করে পকেটে হাত দেওয়া বা হাতকড়া পরানো অবস্থায় এমন শারীরিক বলপ্রয়োগ কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন ও নির্বিচার ধরপাকড়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কনট্যুর প্লেস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতার কাজ করা ২৯ বছর বয়সী তরুণ সন্তোষ কুমার রাজপথে এমন পুলিশি বাধার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেছেন, সাধারণ মানুষের ওপর মোদি সরকারের বর্তমান ভূমিকা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তরুণদের ওপর সরকারের এই দমনপীড়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্তোষ জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জোরপূর্বক কখনোই আন্দোলন থামিয়ে রাখতে পারবে না। পুলিশ রাস্তা থেকে ১০ জনকে আটক করলে সেখানে মুহূর্তের মধ্যেই আরও ৫০ জন তরুণ এসে যোগ দিচ্ছেন। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে এক স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাধারণ জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে বলেই এমন দমননীতির আশ্রয় নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভারতীয়দেরও একইভাবে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সন্তোষ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচারী শাসনের সময় শেষ হয়ে এসেছে এবং এই সরকার আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত কোনোভাবেই টিকবে না। তিনি বলেন, এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার। ওই দুই দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয়দের নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বয়ংক্রিয় রোবটের মাধ্যমে জলপরিবেশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩৯ ডলারের অনুদান পেয়েছেন ড. তৌহিদুল আলম। তিনি লামার ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। দুই বছরের এই গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ অক্টোবরের ঘোষণা অনুযায়ী, এনএসএফের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনিশিয়েশন’ কর্মসূচির আওতায় অনুদানটি দেওয়া হয়েছে। গবেষণার মেয়াদ গত ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং চলবে ২০২৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। গবেষণায় পানির ওপর চলাচলকারী একাধিক স্বয়ংক্রিয় রোবটকে সীমিত শক্তি, কম্পিউটিং সক্ষমতা ও যোগাযোগ সুবিধার মধ্যেও সমন্বিতভাবে কাজ করানোর পদ্ধতি তৈরি করা হবে। লক্ষ্য হলো কম খরচে পানির পরিবর্তিত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নদী, হ্রদ ও উপকূলীয় জলাশয়ে তেল ছড়িয়ে পড়া, রাসায়নিক দূষণ এবং ক্ষতিকর শৈবালের বিস্তারে কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বিরতি দিয়ে হাতে নমুনা সংগ্রহ করলে এসব পরিবর্তন ধরা না-ও পড়তে পারে। প্রকল্পে পানির মান নির্ণয়ের সেন্সর ব্যবহার করে কম্পিউটার সিমুলেশন ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানির নমুনা সংগ্রহের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। গবেষণা সফল হলে পরিবেশ পর্যবেক্ষণে সময়, ব্যয় ও মানুষের শ্রম কমানোর পাশাপাশি দূষণ শনাক্ত ও অনুসরণে সহায়তা করতে পারে বলে আশা করছেন আলম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুওজুন জুয়ান (৬৬) এবং সিলভিয়া ঝাং (৩৯) নামের এই দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, তথ্য গোপন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হচম্যান এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও ঘৃণ্য' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, যাদের ওপর শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছিল, তাদের হাতেই অবুঝ শিশুরা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যদিও আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সিলভিয়া ঝাং তার দুই মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে এই ভয়াবহ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে প্রচণ্ড জোরে ঝাঁকানো ও আঘাত করা হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই দম্পতি শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে দুই দিন দেরি করেছিলেন এবং খাট থেকে পড়ে যাওয়ার মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দুই মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে। এছাড়া অন্য কয়েকটি বাড়ি থেকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত আরও ছয়টি শিশু উদ্ধার করা হয়, ফলে ভুক্তভোগী শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ। বিলাসবহুল ওই প্রাসাদের ভেতরে তিনটি 'লার্নিং সেন্টার' তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না রেখেই শিশুদের মারধর করার জন্য আয়াদের নির্দেশ দিতেন ওই দম্পতি। এমনকি জুয়ান নিজে এক শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন এবং শাস্তিস্বরূপ আরেক ছেলেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কোয়াট বা 'হর্স স্ট্যান্স' পজিশনে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। জানা গেছে, এই দম্পতি নিজেদের বাড়ি থেকেই 'ফিউচার স্প্রিং সারোগেসি' নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সারোগেট মায়েদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সন্তান জন্মদানে যুক্ত করতেন। তদন্তে ওই দম্পতির বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তাদের বাড়ি থেকে আয়াদের বেতন দেওয়ার নগদ অর্থ, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট, ২০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রায় ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আয়া চুনমেই লি-র বিরুদ্ধে মারাত্মক শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও তিনি এরই মধ্যে চীনে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস উদ্ধারকৃত ২১টি শিশুর চিকিৎসা, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও আইনি অভিভাবকত্বের বিষয়টি তদারকি করছে। একই সাথে অভিযুক্ত জুয়ানের অতীতের অবৈধ ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও নতুন করে খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের পেছনের একটি চাকা উড্ডয়নের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি বার্তা দেওয়ার পর উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। বিমান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদ রয়েছেন। বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাভিশন জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ ফ্লাইট পরিচালনা করছিল। এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-একেই। কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পরপরই একটি চাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার তথ্য পেয়ে ঢাকার টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান পাইলট। জরুরি অবতরণের আগে জ্বালানি কমিয়ে উড়োজাহাজের ওজন হ্রাস এবং বিমানবন্দরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য পাইলটকে আকাশে চক্কর দিতে হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে কয়েকবার চক্কর দেয়। এ সময় এটি প্রায় ৬ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ১৮৮ নট গতিতে উড়ছিল। ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়। ওই সময়ে সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রানওয়েতে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধার ও জরুরি সেবার দল প্রস্তুত রাখা হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে পাইলট উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করান।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে ৭০ বছর বয়সী ড্যানিয়েল এম. ওয়ালারের বিরুদ্ধে দুটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। নর্থ ব্র্যাডকের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তারের পর গত ২ অক্টোবর অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। পিটসবার্গের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওয়ালার অন্য একজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য নিযুক্ত প্রতিনিধি ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত তিনি ওই ব্যক্তির কল্যাণে ব্যয় করার পরিবর্তে অন্য উদ্দেশ্যে অর্থ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ চুরি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে সুবিধার অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যাঁরা নিজের সুবিধার অর্থ পরিচালনা করতে সক্ষম নন, তাঁদের জন্য একজন ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ পেই’ নিয়োগ করা হয়। এই প্রতিনিধি সুবিধাভোগীর পক্ষে অর্থ গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা করেন। সাধারণত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়; প্রয়োজন হলে যোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ করা হয়। এ ধরনের প্রতিনিধিকে অর্থ কীভাবে ব্যয় বা সঞ্চয় করা হয়েছে, তার রেকর্ড রাখতে হয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চাইলে সেই রেকর্ড পর্যালোচনার জন্য দিতে হয়। ওয়ালারের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীর স্বার্থে অর্থ ব্যবহার করেননি। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল মামলাটির তদন্ত করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অপব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অর্থের মোট পরিমাণ বা সুবিধাভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ চুরির অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার জরিমানাও হতে পারে। ওয়ালারের বিরুদ্ধে এখনো অভিযোগের বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়। সূত্র: পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় ও সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
চীনের অর্থনীতির গতি কমে যাওয়া, ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি এবং টোকিও–বেইজিংয়ের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনে নিজেদের কার্যক্রম সংকুচিত করছে জাপানি কোম্পানিগুলো। জাপানের করপোরেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেইকোকু ডেটাব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে চীনে ব্যবসায়িক উপস্থিতি থাকা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নেমেছে ১০ হাজার ১১৮টিতে। ২০১০ সালে এ তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন সংখ্যা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুনের আগের জরিপের তুলনায় চীনে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা কমেছে ২২ শতাংশ। আর ২০১২ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় তা প্রায় ৩০ শতাংশ কম। একসময় উৎপাদন ও বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত চীনের বাজারে এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নতুন করে মূল্যায়ন করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক জেরেমি চ্যানের মতে, যেসব জাপানি কোম্পানি আগে থেকেই চীনে ব্যবসার পরিসর কমানোর পরিকল্পনা করছিল, দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির পর তারা বাজার ছাড়ার বিষয়টি আরও জরুরিভাবে বিবেচনা করছে। তাঁর ভাষ্য, জাপানি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কর্মীদের মধ্যে চীনে স্বাগত না পাওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। টেইকোকু ডেটাব্যাংকের মূল্যায়নে, এই প্রবণতা আরও জোরালো হতে পারে। শুল্কসংক্রান্ত ঝুঁকি, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা জাপানি কোম্পানিগুলোর মুনাফার ওপর চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ যুক্ত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম ছোট করছে কিংবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে কিছু কোম্পানি পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন না করেও চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে। গত দুই বছরে নতুন করে ১ হাজার ২২১টি জাপানি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সহযোগী কোম্পানি, কারখানা বা প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছে। একই সময়ে ৪ হাজার ১৩৭টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়েছে অথবা তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে টেইকোকুর জরিপে উল্লেখ রয়েছে। নতুন প্রবেশের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চীনে জাপানি ব্যবসার সামগ্রিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাপান ও চীনের সম্পর্কের অবনতির পেছনে তাইওয়ান ইস্যুও রয়েছে। সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছিলেন, চীন তাইওয়ানে আক্রমণ করলে জাপান সামরিকভাবে জড়িত হতে পারে। এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চাপ বেড়েছে। বেইজিং জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফুজিৎসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান নীতি অর্থনীতিবিদ মার্টিন শুলজ বলেন, মার্কিন শুল্ক, চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে জনমত এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বাজারও জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প খুঁজতে উৎসাহিত করছে। তাঁর মতে, চীনে বিনিয়োগ একসঙ্গে একাধিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জাপানি কোম্পানিগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মোনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ পরিচালক জেসপার কল। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, টোপিক্স সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মুনাফায় চীনের অবদান ২০২০ সালের ২৩ শতাংশ থেকে চলতি বছরে ১৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। কলের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শিল্প উৎপাদন বাড়াতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয়ভাবে আকৃষ্ট করছে। অন্যদিকে চীন এমন একটি উৎপাদনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে পণ্য চীনে তৈরি হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও চীনা হবে। এই পরিবর্তন জাপানি কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার কৌশলকে প্রভাবিত করছে। চীনে কর্মী পাঠানোর বিষয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে গত আগস্টে কয়েকজন জাপানি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা ব্যবসায়িক ঝুঁকির পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে এনেছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনেও চীনে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর অনাগ্রহ বাড়ার কথা উঠে এসেছে। তবে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং বলেছেন, তাঁর দেশ জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা বিকাশ এবং বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে স্বাগত জানায়। জাপানি একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সব ধরনের জাপানি প্রতিষ্ঠানের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি এক নয়। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেই কোগার মতে, গাড়ি নির্মাতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং রপ্তানিনির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনে কার্যক্রম কমানোর সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম কোম্পানিগুলো সেখানে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন তিনি। সূত্র: সিএনবিসি ও টেইকোকু ডেটাব্যাংক।
মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের একটি অংশ ২০২৭ সালে চালুর লক্ষ্য থাকলেও জাপানের নতুন প্রজন্মের শিনকানসেন ট্রেন তখন পাওয়া যাবে না। এ কারণে শুরুতে ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশ এ ব্যবস্থায় সম্মত হয়েছে। ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের নির্মাণ, ট্রেন সরবরাহ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে দুই দেশের মধ্যে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, জাপান ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে ই১০ সিরিজের ট্রেন সরবরাহ করবে। ট্রেনটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। তাই রেলপথের প্রথম অংশ প্রস্তুত হলে ভারতীয় ট্রেন দিয়ে যাত্রীসেবা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহের সময় নিয়ে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, জাপান ২০৩৪ সালের আগে ই১০ ট্রেন দিতে পারবে না, এমন তথ্য স্পষ্ট হওয়ার পর নিজস্ব ট্রেন ও আন্তর্জাতিক মানের সিগন্যাল ব্যবস্থা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাপানি পক্ষ তখনো ট্রেন, সিগন্যাল এবং পরিচালনা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সরবরাহ প্রস্তাব দিতে পারেনি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা। গত জুলাইয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় পক্ষের সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার সমস্যায় কাজ এগোয়নি। এটি মাকিহারার অভিযোগ; ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং দ্রুত রেলসেবা চালুর অভিন্ন লক্ষ্য অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রথম ভারতীয় বুলেট ট্রেন তৈরি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিইএমএল। ‘বি২৮’ নামের এই ট্রেনের নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার, আর যাত্রীসেবায় পরিচালনার নির্ধারিত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার। বাণিজ্যিক চলাচলের অনুমোদনের আগে ট্রেনটিকে পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক চলাচলের ধাপ পার হতে হবে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুজরাটের সুরাট থেকে ভাপি অংশে ২০২৭ সালের শেষ দিকে সেবা শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্প শেষ করার প্রত্যাশিত সময় ২০২৯ সাল। শুরুতে ভারতীয় ট্রেন ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক হাইস্পিড রেল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মাসাফুমি শুকুরি। প্রকল্পটি প্রথমে ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। তবে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও করোনাভাইরাস মহামারিতে কাজ ব্যাহত হয়। শুকুরির মতে, ভারতের প্রথম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের মতো বড় উদ্যোগ মূল্যায়নের সময় এসব বাধা বিবেচনা করা প্রয়োজন। মাকিহারার সমালোচনার বিপরীতে তিনি বলেছেন, এত দীর্ঘ নতুন রেলপথ অল্প কয়েক বছরে তৈরি করা সহজ নয়। মুম্বাই–আহমেদাবাদ প্রকল্পে জাপান শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, ঋণও দিচ্ছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি বা জাইকার প্রকাশিত একটি ঋণচুক্তিতে বার্ষিক সুদ শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, পরিশোধের মেয়াদ ৫০ বছর এবং প্রথম ১৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডের উল্লেখ রয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই রেলপথের উদ্দেশ্য দুই শহরের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরা আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। জেলার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় স্যুটটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই সংযোগ সামনে আসে। গত ৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন ট্রাম্প। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের ধরন এবং স্যুটের ব্র্যান্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মার্কিন পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জস এ ব্যাংকের স্যুট পরার বিষয়টি সামনে আসার পর সেটির উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত ৮ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের স্যুটের উৎপাদনস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, স্যুটটি সম্ভবত চীন অথবা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো কারখানার নাম নিশ্চিত করা হয়নি। এরপর শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির জানান, ট্রাম্পের পরা নেভি ব্লু স্যুটটি তাঁদের কারখানাতেই তৈরি হয়েছে। শরীফ জহিরের মতে, বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে তৈরি সাশ্রয়ী দামের স্যুট পরা দেশের পোশাকশিল্পের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আন্তর্জাতিক মানের পোশাক তৈরিতে দেশের সক্ষমতার প্রতিফলন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেড দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় স্যুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ও রোমানিয়ার যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানায় আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পুরুষদের স্যুট, ব্লেজার, ফরমাল ট্রাউজার, ওয়েস্টকোট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রায় ৫০ লাখ পিস পুরুষদের পোশাক উৎপাদন করে। কারখানাটিতে অত্যাধুনিক কাটিং মেশিন, বিশেষায়িত সেলাই ও প্রেসিং যন্ত্রপাতি এবং স্বয়ংক্রিয় পণ্য পরিবহনব্যবস্থা রয়েছে। এসব প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদমজীর কারখানাটির আয়তন প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। এখানে কাপড় কাটা থেকে শুরু করে সেলাই, প্রেসিং, ফিনিশিং এবং প্যাকেজিংয়ের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে পোশাক উৎপাদনের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার লিমিটেডের কারখানায় প্রায় ৪ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা শুধু ট্রাম্পের স্যুট তৈরির দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্র্যান্ড ও পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফরমাল পোশাক তৈরি করছে কারখানাটি। বিশেষ করে স্যুটের মতো তুলনামূলক জটিল ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ার একটি উদাহরণ এই প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে মূলত টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য সাধারণ পোশাক রপ্তানির জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্যুট, ব্লেজার এবং বিশেষায়িত ফরমাল পোশাকের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরিতেও বিনিয়োগ বাড়ছে। আদমজীর ইউনিভার্সাল মেনসওয়্যার সেই পরিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এদিকে ট্রাম্পের স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতির প্রেক্ষাপটেও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং আমেরিকান পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরা স্যুট বাংলাদেশে তৈরি হওয়ার দাবি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বিদেশি উৎপাদনকারীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প নিজে স্যুটটির উৎপাদনস্থান সম্পর্কে জানতেন কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাঁর দপ্তর থেকেও স্যুটটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাক বিশ্বের একাধিক দেশে উৎপাদিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হলেও উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হয় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কারখানায়। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকবাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার ফলে নতুন করে সামনে এসেছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কর্মরত দক্ষ শ্রমিকদের অবদান। বিশেষ করে স্যুটের মতো পোশাক তৈরিতে নিখুঁত কাটিং, সেলাই, ফিটিং ও ফিনিশিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজগুলোতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়। আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। একসময় এখানে ছিল ঐতিহাসিক আদমজী পাটকল। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিষ্ঠান সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করছে। নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় তৈরি স্যুট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার দাবি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক সংযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনা দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলোর পণ্য উৎপাদনের নেপথ্যে বাংলাদেশের শ্রমিক ও কারখানাগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আলোচিত নেভি ব্লু স্যুটের নেপথ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের আদমজীর দক্ষ কারিগরদের শ্রম। আর সেই সূত্রেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত একটি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম।
খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় এক পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার পর রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বিবেচনায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই নির্দেশনা জারি করা হয়। বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্দেশনাপত্রে উল্লেখ করা হয়, খুলনার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বর্তমানে বিশেষ অভিযান চলছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অভিযানের সময় কিংবা দায়িত্ব শেষে ফেরার পথে যাতে কোনো পুলিশ সদস্য নিরাপত্তাঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলায় একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিট ইনচার্জদের সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের নির্দেশনার অনুলিপি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা, ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ লাইন্স, রিজার্ভ অফিস, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও থানায় পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে একই নিরাপত্তা নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে। মূলত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই দিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী সড়কের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে হামলার শিকার হন জেলা পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম রূপসা এলাকায় বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে শহরে ফিরছিলেন। সে সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে একদল ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাইকারীরা প্রথমে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন তিনি। হামলাকারীরা তাঁর দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহ আলমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আহত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান, বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে একজন পুলিশ সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এ কারণেই জেলার পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে কিংবা রাতে চলাচলের সময় যাতে কেউ একই ধরনের হামলার শিকার না হন, সেটিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুলনার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধীদের তৎপরতা মোকাবিলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাকে চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর খুলনা জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করার কথা জানায়। সাম্প্রতিক কয়েকটি অপরাধ, বিশেষ করে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই ৯৫ জনকে আটক ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল জেলা পুলিশ। পুলিশের চলমান অভিযানের মধ্যেই একজন পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অভিযান শেষে সদস্যদের নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা এবং একা চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক হয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। তবে নতুন নির্দেশনাটি সাধারণ মানুষের রাতের চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। এটি মূলত খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের জন্য জারি করা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নির্দেশনা। বিশেষ অভিযান ও অন্যান্য দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যরা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ সদস্যদের রাতের বেলায় একা চলাচল না করার এই নির্দেশনা খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক