- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অবস্থিত কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের তহবিল থেকে অন্তত ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক দম্পতি নাদিম সারোয়ার ও ইয়াসমিন সারোয়ার। নাদিম সারোয়ার ইতোমধ্যে কলেজের অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন সারোয়ার নিজের বিরুদ্ধে আনা নয়টি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মারথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে বিচার মোকাবিলা করছেন। মঙ্গলবার আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ করে, একসময় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এ লেভেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করেছিলেন সারোয়ার দম্পতি। প্রসিকিউটর মার্ক কটার কেসি জুরিদের বলেন, তারা কলেজের তহবিলকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত পিগি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাদিম সারোয়ার গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ পাউন্ড চুরির দায় স্বীকার করেন। একই মামলায় কলেজের সাবেক হিসাবরক্ষক রাগু শিবাপালান অডিট রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধও স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা পরে ঘোষণা করা হবে। তবে ইয়াসমিন সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তিনি কলেজের পরিচালক ও ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই লেনদেনের তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মচারী হিসেবে চুরি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা স্থানান্তরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সাউথ ওয়েলস পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত সন্দেহভাজন বহু মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। তখন নাদিম ও ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এবং রাগু শিবাপালানের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব তৈরির অভিযোগ আনা হয়। কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। ইয়াসমিন সারোয়ার প্রথমে নিজের বাড়িতে এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। পরে সেই কার্যক্রমই বড় হয়ে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সফল স্বাধীন সিক্সথ ফর্ম কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে বিবিসির ‘ব্রিটেনস ব্রেইনিয়েস্ট স্কুল’ তথ্যচিত্রেও কলেজটি স্থান পায়। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও ট্রাস্টি ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের নামে থাকা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য অ্যাকাউন্টেও শিক্ষার্থীদের ফি জমা নেওয়া হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়। আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবহার করে কার্ডিফে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারাধীন মামলার অংশ এবং আদালত এখনো সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাদিম সারোয়ারের দায় স্বীকারের ফলে ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের অন্তত একটি অংশ এখন আর শুধু অভিযোগের পর্যায়ে নেই। তবে ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তার দোষ বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে। এদিকে কলেজটির বর্তমান পরিচালনা ও মালিকানা আগের সময়ের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিচার মূলত প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা পর্বের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই চলছে।
সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ করা হবিগঞ্জের মাধবপুরের রেহেনা খাতুনকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে ফেরানোর প্রস্তুতিও চলছে। রেহেনা খাতুন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর আশায় তিনি গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর কাজের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে পরিবারের কাছে গোপনে ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি। ওই ভিডিও বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং তার বেতনও পরিশোধ করা হয়নি। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও তাকে সহজে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ শুরু হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, তাকে দেশে ফেরানোর জন্য বিমানের টিকিট কেনা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশে ফেরানো হতে পারে। তবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি এগোলেও রেহেনার বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী আলী আহমদ। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর পাওনা অর্থ আদায়ের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। রেহেনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। রেহেনার ঘটনা প্রথম আলোচনায় আসে যখন সৌদি আরব থেকে তার পাঠানো ভিডিও পরিবারের হাতে পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, সৌদিতে যাওয়ার পর তাকে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, তাকে দেশে ফিরতে হলে কয়েক লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো বিষয়ে সৌদি নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রেহেনাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং তার বেতন-ভাতাসহ আর্থিক পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। দেশে ফেরার পর তার কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেলে সৌদিতে তিনি ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। সূত্র: আরটিভি
ইরাকের সাবেক স্বর্ণকার ও ক্যালিগ্রাফার আলি জামান ছয় বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে হাতে লিখে তৈরি করেছেন বিশাল আকারের একটি পবিত্র কোরআন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তৈরি এই অনুলিপির প্রতিটি অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ মিটার এবং প্রস্থ দেড় মিটার। আকার ও নির্মাণশৈলীর কারণে কাজটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, আলি জামানের তৈরি সম্পূর্ণ কোরআনটি ৩০২টি দুই পাশে লেখা বড় শিট বা স্ক্রল নিয়ে গঠিত। প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৫ ফুট। পাশাপাশি রাখা হলে একটি খোলা অংশ প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত জায়গা নেয়। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়ার রাণিয়া এলাকায় ১৯৭১ সালে জন্ম আলি জামানের। জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করলেও ছোটবেলা থেকেই আরবি ক্যালিগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ২০১৩ সালে জুয়েলারির কাজ ছেড়ে পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফিতে মনোযোগ দেন তিনি। ২০১৭ সালে পরিবার নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলে যান আলি জামান। ইসলামী ক্যালিগ্রাফির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকা শহরটিতেই নিজের শিল্পচর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে ছোট আকারের একটি বড় কোরআন অনুলিপির কাজও করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিসরের একটি কোরআন তৈরির পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রয়োজনীয় উপকরণ, মাপ ও নকশা নিয়ে প্রস্তুতির পর ২০২০ সালের দিকে মূল কাজ শুরু করেন। এরপর টানা ছয় বছর ধরে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যয় করে তিনি প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, আলি জামান আধুনিক প্রিন্টিং বা ডিজিটাল প্রযুক্তির পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর তিনি হাতে লিখেছেন প্রচলিত কামিশ বা রিড পেন ব্যবহার করে। লেখার জন্য বেছে নিয়েছেন ইসলামী ক্যালিগ্রাফির পরিচিত থুলুথ লিপি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, লেখার জন্য ব্যবহৃত বড় শিটগুলোও বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। এগুলো তৈরিতে ডিম, কর্নস্টার্চ ও অ্যালামের মতো ঐতিহ্যবাহী উপাদানের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। ফলে শিটগুলো সাধারণ কাগজের তুলনায় মোটা এবং অনেকটা পার্চমেন্টের মতো। ইস্তাম্বুলের ফাতিহ এলাকার মিহরিমাহ সুলতান মসজিদের একটি ছোট কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করেছেন আলি জামান। তার দৈনন্দিন রুটিন শুরু হতো ফজরের নামাজের পর। খাবার ও নামাজের বিরতি ছাড়া দিনের বড় অংশ তিনি ক্যালিগ্রাফির কাজে কাটাতেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। কাজটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতে লেখা কোরআনের দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্বীকৃতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিতভাবে বিশ্বরেকর্ডধারী কোরআন বলা ঠিক হবে না। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা অনুযায়ী, দীর্ঘতম হাতে লেখা কোরআন স্ক্রলের রেকর্ড ভারতের কেরালার জাসীম মোহাম্মদের নামে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার কালিকটে তিনি ১ হাজার ১০৬ মিটার দীর্ঘ হাতে লেখা কোরআন স্ক্রল তৈরি করে রেকর্ডটি অর্জন করেন। তবে জাসীম মোহাম্মদের কাজটি দীর্ঘ স্ক্রলের রেকর্ড, আর আলি জামানের কাজটি বিশাল আকারের পৃথক হাতে লেখা শিট দিয়ে তৈরি। ফলে দুটি কাজের ধরন আলাদা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো আলি জামানের সৃষ্টিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হাতে লেখা কোরআন হিসেবে উল্লেখ করেছে। ছয় বছরের কাজ শেষ হওয়ার পর আলি জামান বলেছেন, জীবদ্দশায় এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারাকে তিনি বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। ভবিষ্যতে তার তৈরি কোরআনটি এমন কোনো জাদুঘর বা স্থানে প্রদর্শিত হোক, যেখানে মানুষ ইসলামী ক্যালিগ্রাফির এই কাজ কাছ থেকে দেখতে পারবেন, এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি।
কানাডার ক্যালগেরিতে সড়ক পার হওয়া এক পথচারীর সঙ্গে তর্কের জেরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। তবে ক্যালগেরি পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পূর্ণ বিবরণ বা গ্রেফতার হওয়া নারীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। প্রকাশিত ভিডিও ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি গাড়ি পথচারীকে রাস্তা পার হওয়ার সময় যথাযথভাবে অগ্রাধিকার না দেওয়ার অভিযোগ থেকে। এরপর ওই পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। এতে গাড়িটির যাত্রী আসনে থাকা নারী বের হয়ে তার দিকে এগিয়ে যান। ভিডিওতে ওই নারীকে পথচারীর ভিডিও ধারণে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “ভিডিও করা বৈধ নয়।” এরপর তিনি পথচারীর ফোনের দিকে হাত বাড়ান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একসময় তিনি ওই ব্যক্তির ব্যাকপ্যাক ধরে টানার চেষ্টা করেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। সংঘর্ষের কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে গ্রেফতার করে। তবে তাকে ঠিক কোন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ দেওয়া হয়েছে কি না অথবা আদালতে হাজির করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এবং গাড়িটির বৈধ ইন্স্যুরেন্স ছিল না। তবে এই দাবির বিষয়ে ক্যালগেরি পুলিশের কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো অনলাইনে প্রচারিত দাবির পর্যায়েই রয়েছে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমক্ষে ভিডিও ধারণের আইনগত সীমা, পথচারীর অধিকার এবং ছোটখাটো ট্রাফিক বিরোধ কীভাবে দ্রুত শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কানাডায় জনসমক্ষে কারও ভিডিও ধারণ সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি নয়। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, হয়রানি, নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে ভাইরাল ভিডিওর একটি ছোট অংশ দেখে কোনো পক্ষের আইনগত দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ক্যালগেরি পুলিশের নিজস্ব নীতিতেও জনসমক্ষে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ও তদন্তের মতো ঘটনায় পুলিশ অফিসাররা বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করেন, যা পরবর্তী তদন্তে প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ তদন্তের ফল, সম্ভাব্য চার্জ এবং সংশ্লিষ্টদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অতিরিক্ত দাবিগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি, পাবলিক স্কুল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে এখনো আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বুধবার, ৭ অক্টোবর সরকারি চাকরির পোর্টাল, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যারিয়ার পেজে সক্রিয় রয়েছে বেশ কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে কারেকশন অফিসার, পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান, স্কুল এইড এবং রিটেইল ও ফুড সার্ভিস খাতের চাকরিও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, কারেকশন অফিসার পদে পরীক্ষা নম্বর ৭৩০২-এর জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এ পরীক্ষায় আবেদন ফি রাখা হয়নি। প্রার্থীদের যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির কারেকশন ফ্যাসিলিটিতে নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দিদের তত্ত্বাবধান এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এই পদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদেও আবেদন চলছে। পরীক্ষা নম্বর ৭৩০৭-এর জন্য আবেদন করার শেষ দিন ১৩ অক্টোবর। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা মূলত ৯১১ কল গ্রহণ, জরুরি তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ রিসোর্স ডিসপ্যাচের মতো দায়িত্ব পালন করেন। এই পদের বর্তমান প্রারম্ভিক বেতন বছরে ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদন ফি ৬৮ ডলার হলেও নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীরা ফি মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন। ডিসিএএসের চলমান ওপেন কম্পিটিটিভ পরীক্ষার তালিকায় আরও কয়েকটি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ অফিসার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের স্পেশাল অফিসার পদও রয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদনের সময়সীমা পদভেদে আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নোটিস অব এক্সামিনেশন ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসেও স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগ চলছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ব্রঙ্কস, কুইন্স, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলে স্কুল এইডসহ একাধিক পদ তালিকাভুক্ত রয়েছে। ব্রঙ্কসের ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারে স্কুল এইড পদে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভালো উপস্থিতির রেকর্ড, সময়ানুবর্তিতা, স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার যোগ্যতা থাকতে হবে। এই স্কুল এইড পদে সাধারণত শিক্ষকদের অশিক্ষণমূলক কাজে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও ছুটির সময় তদারকি, লাঞ্চরুমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং সাধারণ ক্লারিক্যাল কাজে সহায়তার মতো দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের সুযোগ রয়েছে। পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হতে পারে এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বেসরকারি খাতেও নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। বুধবার সকালে ম্যানহাটনের ১০১ লিবার্টি স্ট্রিটে ইটালি ডাউনটাউনে নতুন ইটালি ক্যাফের জন্য ওপেন হায়ারিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টিম মেম্বার, প্রেপ কুক এবং ক্যাফে লিড পদে কর্মী নিচ্ছে। ইটালির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টিম মেম্বার পদে ঘণ্টায় ১৭ থেকে ১৮ ডলার এবং টিপস, প্রেপ কুক পদে ঘণ্টায় ১৭ থেকে ১৯ ডলার এবং ক্যাফে লিড পদে ঘণ্টায় ২২ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নিউইয়র্ক ক্যারিয়ার পেজে বর্তমানে আরও বেশ কিছু পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। রিটেইল খাতেও নিয়োগ রয়েছে। ওয়েগম্যানসের নিউইয়র্ক সিটি লোকেশনে কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েট, ফুড সার্ভিস ওয়ার্কার, ডিশওয়াশার, সুশি কুক, লাইন কুক এবং স্টোর সিকিউরিটি স্পেশালিস্টসহ বিভিন্ন পদের বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে পার্ট টাইম এবং কিছু ক্ষেত্রে ফুল টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারও বিনামূল্যে সহায়তা দিয়ে থাকে। এখানে চাকরি খোঁজা, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্পর্কে সহায়তা পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির চাকরির জন্য সরকারি জব পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিসিএএসের আলাদা আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। চাকরির বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ও স্ট্যাটাস দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পদের ডেডলাইন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া উচিত।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুয়া সমকামী পরিচয় দেখিয়ে অ্যাসাইলাম পেতে সহায়তার অভিযোগে একটি সন্দেহভাজন চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে ব্রিটিশ হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রতারণা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নিয়ে তাদের অ্যাসাইলাম আবেদনের পক্ষে ভুয়া বা সাজানো প্রমাণ তৈরিতে সহায়তা করত বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জাল নথি, সাজানো ছবি এবং সমলিঙ্গের সম্পর্কের পক্ষে তৈরি করা চিঠিসহ বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার এবং কয়েক হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি। হোম অফিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টারের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সন্দেহভাজন এসব আবেদনের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি কমিউনিটির এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফস্টারের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে ১ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ভুয়া চিঠি ও অন্যান্য নথি সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। হোম অফিসের অ্যাসাইলাম কেসওয়ার্কাররা একাধিক আবেদনের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক মিল শনাক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করেন। এখন ‘আপনজন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শতাধিক অ্যাসাইলাম আবেদন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, সন্দেহভাজন ভুয়া প্রমাণের ভিত্তিতে করা কয়েকটি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদনও পেয়ে থাকতে পারে। ফলে শুধু চলমান আবেদন নয়, আগে নিষ্পত্তি হওয়া কিছু মামলাও নতুন করে যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। যুক্তরাজ্যের কয়েকটি ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল মামলাতেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের যৌন পরিচয়সংক্রান্ত দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক একটি মামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিজেকে সমকামী দাবি করে দেশে ফেরত গেলে ঝুঁকির মুখে পড়বেন বলে অ্যাসাইলাম চেয়েছিলেন। হোম অফিস তার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা গ্রহণ করেনি এবং ট্রাইব্যুনালও মামলার তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। তবে প্রতিটি অ্যাসাইলাম আবেদন আলাদাভাবে তার নিজস্ব তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়। এ ঘটনার পেছনে চলতি বছরের এপ্রিলে বিবিসির একটি গোপন অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওই অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠে, কিছু ইমিগ্রেশন পরামর্শক ও মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভুয়া সমকামী পরিচয় তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সাজানো ছবি, সংগঠনের সমর্থনপত্র এবং অন্যান্য নথি তৈরি করে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাসাইলাম কেস দাঁড় করানোর কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে। সে সময় ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অ্যাসাইলাম ব্যবস্থার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। যৌন পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে প্রকৃত নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য থাকা সুরক্ষা ব্যবস্থার অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। ব্রিটিশ হোম অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে করা অ্যাসাইলাম আবেদন অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এবং প্রতিটি ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। কেবল নিজেকে সমকামী হিসেবে পরিচয় দিলেই কোনো আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। আবেদনকারীর বক্তব্য, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, দেশে ফিরে গেলে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সামগ্রিক তথ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ২০২৬ সালের বাংলাদেশবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলজিবিটি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সামাজিক বৈষম্য, হয়রানি বা অরাষ্ট্রীয় পক্ষের কাছ থেকে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ কারণে ভুয়া আবেদন ও সংগঠিত প্রতারণার অভিযোগকে প্রকৃত যৌন সংখ্যালঘু আশ্রয়প্রার্থীদের বৈধ দাবির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্যের আইনে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণামূলক নথি ব্যবহার গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রতারণামূলক মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অপরাধ ক্রাউন কোর্টে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। লন্ডনে মঙ্গলবারের অভিযানের পর এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য সন্দেহভাজন চক্রটির কার্যক্রমের পরিধি, কতজন আবেদনকারী এর মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো আবেদন ভুয়া প্রমাণের ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছিল কি না তা নির্ধারণ করা। শতাধিক আবেদন পর্যালোচনার ফলেই এই অভিযোগের প্রকৃত ব্যাপ্তি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
হাসপাতালের বিছানায় বসে ল্যাপটপে শিক্ষার্থীদের গ্রেডের কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের শিক্ষক আলেহান্দ্রো নাভারো। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি প্রতিবেদনের নম্বর প্রস্তুত করার চিন্তা ছিল তাঁর। মেয়ে সান্দ্রা ভেনেগাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ছবিটি তোলার পরদিনই মারা যান তিনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ছবিটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ডেল রিও শহরের এই গণিত শিক্ষকের বয়স ছিল ৬৬ বছর। সান্দ্রা জানান, হাসপাতালে যেতে হবে জেনেই তাঁর বাবা ল্যাপটপ ও চার্জার সঙ্গে নিয়েছিলেন। অসুস্থতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের গ্রেডের অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। সান্দ্রার বর্ণনা অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা নাভারোর পরীক্ষা করছিলেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর ঝুঁকি নিয়ে কথা বলছিলেন। তিনি তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আবার গ্রেডের কাজে ফিরে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় বাবার সেই মুহূর্তের ছবিটি সান্দ্রা ফেসবুকে প্রকাশ করেন ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ছবির সঙ্গে দেওয়া লেখায় সান্দ্রা শুধু বাবার দায়িত্ববোধের কথাই বলেননি, শিক্ষকতার বাইরে পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজনও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাবার বাড়িতে শেষবার দেখা করতে গিয়ে যে দুই ঘণ্টা কাটিয়েছিলেন, তখনও তাঁর বাবা কাজ করছিলেন। এখন তাঁর মনে হয়, ল্যাপটপ বন্ধ করে সেই সময়টা একসঙ্গে কাটাতে পারলে ভালো হতো। শিক্ষকদের কাজের মূল্য দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কর্মঘণ্টার সীমা বজায় রাখতে পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করার আহ্বান জানান সান্দ্রা। শিক্ষকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, কর্মক্ষেত্রে কাউকে দিয়ে আপনার জায়গা পূরণ করা গেলেও পরিবারে তা সম্ভব নয়। বাবার শেষ সময়ের ছবির সঙ্গে তিনি রেখে যান কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে এই কথাটিও। সূত্র: ইউনিভিশন, এল ইউনিভার্সো
ক্যালিফোর্নিয়ার নিউয়ার্কে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ও মৃত্যুর ঘটনা কমাতে ট্রাফিক নজরদারি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াবে পুলিশ। এ জন্য অঙ্গরাজ্যের অফিস অব ট্রাফিক সেফটি থেকে অনুদান পেয়েছে নিউয়ার্ক পুলিশ বিভাগ। অনুদানের পরিমাণ জানানো হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় মদ বা মাদকের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তে ডিইউআই চেকপয়েন্ট ও টহল পরিচালনা করা হবে। গাড়ি চালানোর সময় হাতে ফোন ব্যবহারসংক্রান্ত ক্যালিফোর্নিয়ার আইন ভঙ্গ করলেও নজরদারির আওতায় পড়বেন চালকেরা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এমন চালনার দিকেও নজর দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, পথের অগ্রাধিকার না দেওয়া, স্টপ সাইন বা লাল বাতি অমান্য করা এবং ভুলভাবে মোড় নেওয়া বা লেন বদলানো। হাঁটা ও সাইকেল চালানো মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে এমন আচরণের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাবে পুলিশ। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী পুলিশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ অভিযান, কমিউনিটিতে ট্রাফিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা এবং চালকের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য অফিসারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশ সার্জেন্ট কার্ল ফ্রেডস্ট্রম বলেছেন, শিক্ষা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বিপজ্জনক চালনা কমিয়ে সড়ক নিরাপদ করাই তাঁদের লক্ষ্য। নিউয়ার্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি চলবে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া অফিস অব ট্রাফিক সেফটি অনুদানের অর্থ দিচ্ছে।
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের বড় উদ্বেগ এখন প্রপার্টি ট্যাক্সের চেয়ে হোম ইন্স্যুরেন্স। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ফ্লোরিডার এক জরিপে ৬৩ শতাংশ বাড়ির মালিক ইন্স্যুরেন্সকে বেশি উদ্বেগের কারণ বলেছেন। প্রপার্টি ট্যাক্সের কথা বলেছেন ৩৬ শতাংশ। নভেম্বরে প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব নিয়ে ভোটের আগে এই ফল প্রকাশিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টির পাবলিক ওপিনিয়ন রিসার্চ ল্যাব ১৬ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ফ্লোরিডার ১ হাজার ৫১১ জন বাড়ির মালিকের ওপর অনলাইনে জরিপটি চালায়। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের বাড়ির ইন্স্যুরেন্স ছিল। তাই ফলটি ইন্স্যুরেন্স থাকা বাড়ির মালিকদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরে। জরিপে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যেও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে উদ্বেগ বেশি দেখা গেছে। শুধু প্রিমিয়ামের খরচ নয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বদলানোর অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে জরিপে। অংশগ্রহণকারীদের ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তাঁরা অন্তত একবার কোম্পানি বদলেছেন। যাঁরা বদলেছেন, তাঁদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বলেছেন, আগের কোম্পানি তাঁদের পলিসি বন্ধ করে দিয়েছে অথবা কোম্পানিটি ফ্লোরিডায় কার্যক্রম বন্ধ করেছে। একই বাড়িতে অন্তত পাঁচ বছর ধরে বসবাস করছেন এমন মালিকদের ৪৭ শতাংশের ভাষ্য, ওই সময়ে তাঁদের বার্ষিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম করেছেন এমন ২৬১ জনের মধ্যে ৪৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের ক্লেইম প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। জরিপে পাওয়া এসব তথ্য অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া উত্তরভিত্তিক। ইন্স্যুরেন্স পরিস্থিতি শিগগির সহজ হবে বলেও বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী মনে করছেন না। জরিপে ৫৫ শতাংশ বলেছেন, বাজারের উন্নতির কোনো লক্ষণ তাঁরা দেখছেন না; আরও ২৬ শতাংশের ধারণা, পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে ১৮ শতাংশ মনে করেন, বাজারের উন্নতি হচ্ছে এবং প্রিমিয়াম কমতে পারে। ফ্লোরিডায় আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৩’ নামে প্রপার্টি ট্যাক্সসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করছাড় বাড়বে। তবে জরিপের ফল বলছে, কর নিয়ে এই আলোচনা চললেও অংশগ্রহণকারী বাড়ির মালিকদের কাছে ইন্স্যুরেন্সই বেশি উদ্বেগের বিষয়।
বেসামরিক কয়েকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ রুপি নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক সুবেদারের জেনারেল কোর্ট মার্শালে বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তাঁকে দেওয়া অভিযোগপত্রে প্রতারণার ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অভিযোগপত্রের তথ্য তুলে ধরে এ খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ওই সুবেদার সেনাবাহিনীর ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের ৩০৪ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানিতে কর্মরত। অভিযোগের সময় তিনি সেখানকার কারিগরি সরঞ্জাম বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনি অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি অভিযোগে ২০২৩ সালের মে মাসে গুয়াহাটিতে ১৫ লাখ রুপি নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষয়টি ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে সেনা আইনের ৬৯ ধারায় ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। ৭১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল এন এস সোহাল জেনারেল কোর্ট মার্শালে বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতের সেনা আইনের ওই ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে বেসামরিক অপরাধের অভিযোগেও সেনাসদস্যের সামরিক আদালতে বিচারের বিধান রয়েছে। অর্থের হিসাবে একটি অসংগতি রয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে মোট ৫১ লাখ ৪৪ হাজার রুপি বলা হলেও সেখানে উল্লেখ করা ছয়টি অঙ্ক যোগ করলে হয় ৫১ লাখ ৪২ হাজার রুপি। তাই অভিযোগের মোট অর্থ এখানে প্রায় ৫১ লাখ রুপি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিচার শেষে কোনো রায় ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিউ জার্সিতে ফেডারেল এজেন্ট সেজে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতারকেরা। ফোনের স্ক্রিনে সরকারি অফিসের নম্বর দেখানোর পাশাপাশি তারা ব্যবহার করছে প্রকৃত এজেন্টদের নাম। এই কৌশল নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সতর্ক করেছে এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। এফবিআই জানিয়েছে, প্রতারকেরা নিজেদের এফবিআই, মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ কিংবা সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কলার আইডিতে সংস্থার আসল নম্বর দেখানো হচ্ছে। কেউ অফিসে ফোন করে উল্লেখ করা এজেন্টের নাম জানতে চাইলে জানতে পারেন, ওই নামে সত্যিই একজন কর্মী আছেন। কিন্তু তাতে আগের ফোনটি তাঁর কাছ থেকেই এসেছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। একটি ঘটনায় ভিডিও কলের পেছনের দৃশ্যও এফবিআই অফিসের মতো সাজানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে টেবিল, এফবিআইয়ের প্রতীক এবং স্যুট পরা একজনকে দেখা যায়। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল পরিচয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। এফবিআইয়ের পরামর্শ, এমন ফোন পেলে প্রতারকের দেওয়া নম্বর ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর নিজে খুঁজে যোগাযোগ করতে হবে। শুধু ওই নামে এজেন্ট কাজ করেন কি না, তা জেনে থামলে চলবে না; তিনি সত্যিই ফোন করেছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা পাঠাতে নিষেধ করেছে সংস্থাটি। সমস্যাটির পরিসরও বড়। এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণার প্রায় ৬১ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে জানানো মোট আর্থিক ক্ষতি ১৬০ কোটি ডলারের বেশি। সংখ্যাটি সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগের, শুধু নিউ জার্সির নতুন কৌশলটির নয়।
স্বামীর সঙ্গে তর্কের পর তাঁর কাছ থেকে একটি চ্যাটজিপিটি কথোপকথন পান লিজা ভিলনিটস। স্বামী নিজের রাগ ও কথার সুর সামলাতে সেখানে পরামর্শ চেয়েছিলেন। বিষয়টি প্রথমে লিজাকে বিরক্ত করলেও পুরো কথোপকথন পড়ার পর তিনি স্বামীর উদ্যোগটিকে ভিন্নভাবে দেখতে শুরু করেন। মঙ্গলবার বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় তিনি এ কথা জানিয়েছেন। লিজার বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর স্বামী চ্যাটজিপিটিকে জানান, কিছু পরিস্থিতিতে তিনি দ্রুত মেজাজ হারান এবং এমন কথা বলে ফেলেন, যা পরে বলা উচিত হয়নি বলে মনে হয়। এমন ছয়টি পরিস্থিতি চিহ্নিত করে প্রতিক্রিয়া বদলানোর উপায় জানতে চান তিনি। জবাবে চ্যাটজিপিটি তাঁকে কথার সুর নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ দিনের একটি পরিকল্পনা দেয়। প্রথমে লিজার মনে হয়েছিল, স্বামী নিজের আচরণ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার পরিবর্তে তৈরি করা উত্তর খুঁজছেন। কিন্তু কথোপকথনটি পড়তে গিয়ে তিনি দেখেন, স্বামী কোন পরিস্থিতিতে কেন উত্তেজিত হন, তা বোঝার চেষ্টাও সেখানে রয়েছে। চ্যাটজিপিটির দেওয়া ব্যাখ্যাগুলো তাঁকে নিজেদের কথাবার্তার কিছু পুরোনো ধরন নিয়েও ভাবিয়েছে বলে লেখেন তিনি। পরিকল্পনায় উত্তেজনা তৈরি করা পরিস্থিতি চেনা, সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে প্রশ্ন করা এবং শান্তভাবে কথা বলার মতো পরামর্শ ছিল। পরে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। লিজার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্বামীর নিজের আচরণে সমস্যা স্বীকার করা এবং তা বদলাতে সাহায্য চাওয়ার উদ্যোগটি। এটি একটি দম্পতির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। লিজা তাঁর লেখায় দাবি করেননি যে চ্যাটজিপিটি দাম্পত্য সমস্যার নিশ্চিত সমাধান দিয়েছে। তবে তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কথোপকথন তাঁদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে সাহায্য করেছে। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
যুক্তরাষ্ট্রে অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-তে থাকা ২ কোটি ৮ লাখ মানুষ অক্টোবরে একবারের জন্য ৯০ ডলার করে পাবেন। তবে পার্ট বি-তে নথিভুক্ত প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৪ কোটি এই অর্থ পাবেন না। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৯০ ডলার দেওয়া হচ্ছে অক্টোবরের পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে। পার্ট বি-তে চিকিৎসকের সেবা, হাসপাতালের বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ও কিছু প্রতিরোধমূলক সেবা অন্তর্ভুক্ত। এটি মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট বৃদ্ধি নয়; অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। মেডিকেয়ার পরিচালনাকারী সরকারি সংস্থা সিএমএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি-র যোগ্য সদস্যরা অর্থ পাবেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ প্ল্যানে থাকা ব্যক্তিরা এই অর্থের আওতায় নেই। যাঁদের পার্ট বি প্রিমিয়াম মেটাতে মেডিকেইড সহায়তা দেয়, যাঁরা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকেন, তাঁরাও যোগ্য নন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের মাধ্যমে ৮ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে ৯০ ডলার জমা হওয়ার কথা। অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কাগজের চেক পৌঁছাবে। চেকের সঙ্গে থাকা বার্তায় এটি মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে অক্টোবরের প্রিমিয়াম খরচ কমানোর অর্থ বলে উল্লেখ থাকবে। এই এককালীন অর্থ চলতি বছরের প্রিমিয়াম বৃদ্ধির পুরোটা মেটায় না। সিএমএসের হিসাবে, ২০২৬ সালে পার্ট বি-র সাধারণ মাসিক প্রিমিয়াম ১৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ২০২ ডলার ৯০ সেন্ট হয়েছে। অর্থাৎ মাসে ১৭ ডলার ৯০ সেন্ট বেশি দিতে হচ্ছে। নিজের যোগ্যতা জানতে 1-800-MEDICARE নম্বরে ফোন করা যাবে। অর্থ পাঠানোর অবস্থা জানতে ১৫ অক্টোবর থেকে সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের 1-800-772-1213 নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে সিএমএস। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিএমএস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিইবিরোধী বিক্ষোভকারীদের তদন্ত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এফবিআইকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির সাবেক কর্মকর্তা জিল ফিল্ডস। ২০২৫ সালের ঘটনার বিষয়ে তাঁর দেওয়া অভিযোগ ৬ অক্টোবর প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাডিয়া। অভিযোগটি ঘিরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের তদন্ত করার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এফবিআইয়ের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ফিল্ডসের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলহামব্রা এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে বাসিন্দাদের সতর্ক করছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তাঁদের একটি ভিডিও ট্রাম্প দেখার পর বিক্ষোভকারীদের তদন্ত ও গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিলেন বলে ফিল্ডসকে জানানো হয়। তাঁর অভিযোগে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ আসে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিডিওটি নিয়ে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর এফবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট দল সিদ্ধান্ত নেয়, ভিডিও করা, মেগাফোন ব্যবহার ও মৌখিক প্রতিবাদ গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার পর্যায়ে যায়নি। দলটি তদন্ত না খোলার সুপারিশ করেছিল। ফিল্ডস জানিয়েছেন, পরে তাঁকে বিষয়টি থেকে সরিয়ে দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ পর্যন্ত খোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না। ফিল্ডস আরও অভিযোগ করেছেন, এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল ভবনগুলোর সামনে আইসিই ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমিল বোভ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভগুলোর বিষয়ে এফবিআই একটি মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে। কোনো অপরাধ বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য ছাড়াই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে ফিল্ডসের দাবি। সিনেটর পাডিয়া এফবিআই পরিচালক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এসব কার্যক্রমের ভিত্তি, পরিধি এবং কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে জবাব চেয়েছেন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের মন্তব্যের অনুরোধে এফবিআই ও বিচার বিভাগ তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। ফিল্ডসের অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিল চেয়ে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর দেওয়া ঘোষণায় বিভাগটি জানায়, নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন, ভুল পরিচয় ব্যবহার বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাগুলোর কয়েকটিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে সংঘটিত অপরাধের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। অন্য মামলাগুলোতে আগের পরিচয়, অভিবাসন ইতিহাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনে বেআইনিভাবে অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে নাগরিকত্ব অর্জিত হলে তা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারে সরকার। প্রকাশিত তালিকায় চীনে জন্ম নেওয়া সাবেক মার্কিন নৌসেনা জিনচাও ওয়েইয়ের নাম রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তিসংক্রান্ত অপরাধে তাঁর সাজা হয়েছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে শুরু হওয়া কর্মকাণ্ড তিনি আবেদন করার সময় গোপন করেছিলেন। নেপালে জন্ম নেওয়া দিব্যা ভাট্টারাইয়ের বিরুদ্ধেও নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়ায় অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই উদ্যোগকে আধুনিক সময়ে নাগরিকত্ব বাতিলের সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। বিভাগটির আগের একটি নির্দেশনায়ও আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালনার কথা বলা হয়েছিল। সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাকসেস ক্লিয়ারিংহাউসের হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১০৫টি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাইয়ে হয়েছে অন্তত ৫০টি। নতুন ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল, যখন এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়ছে। তবে বিচার বিভাগের মামলা দায়েরের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রতিটি মামলায় সরকারের আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন থাকবে। বিচার বিভাগও তার ঘোষণায় জানিয়েছে, নতুন মামলাগুলোতে উত্থাপিত দাবি এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।
ফ্রান্সে স্কুলের পরিবেশ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইসলাম ও অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণ-অভিবাসন’। তবে বিক্ষোভকারীদের প্রকাশিত দাবিতে ধর্ম বা অভিবাসনের বিষয়টি নেই। পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিক্ষোভটি স্কুল নিয়ে নয়; তাঁর ভাষায়, ইসলাম ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষকসংকট, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা, দীর্ঘ স্কুলসময় এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব। প্যারিসের একটি স্কুল ঘিরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া আন্দোলন পরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরাও রাস্তায় নামেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সেদিন দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন; তাঁদের মধ্যে প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৫৬ হাজার। অধিকাংশ জায়গায় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন ৮৯১টি স্কুলে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিল। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, স্কুলের দীর্ঘ সময়সূচি পর্যালোচনা এবং পুরোনো ভবন মেরামতের বিষয়গুলো দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতেই ফ্রান্সের আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য দিলেন।
অধিকৃত ফিলিস্তিনের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীরা অন্তত ২৬ বার অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। একই সময়ে মসজিদটিতে অন্তত ১৫০ বার আজান দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্ম ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইহুদি ছুটির দিনগুলোর অজুহাতে হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদও মোট ছয় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল দখলদার কর্তৃপক্ষ। অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক অভিযান, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটেই মুসলিমদের এই স্পর্শকাতর পবিত্র স্থানগুলোতে চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা (WAFA) জানায়, আল-আকসা প্রাঙ্গণে নিয়মিত ইহুদিদের ধর্মীয় আচার ও প্রকাশ্য প্রার্থনার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ অনুযায়ী, এই চত্বরে কেবল মুসলিমদেরই নামাজ আদায়ের অধিকার রয়েছে এবং অমুসলিমরা নির্দিষ্ট সময়ে কেবল পরিদর্শনের জন্য প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু উগ্র ডানপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো এখন সেখানে শনিবারও প্রবেশের অধিকার দাবি করছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই ধরনের বেপরোয়া দাবির মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র আল-আকসা প্রাঙ্গণের স্থান ও সময় ভাগ করে এক নতুন ও বিতর্কিত বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে, হেবরনের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদেও বিধিনিষেধের মাত্রা তীব্রতর করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে এক চরমপন্থী ইহুদির গুলিতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার পর থেকে এই মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদিদের আলাদা অংশে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ইউনেস্কোর ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই অঞ্চলের মসজিদটির পূর্ব প্রবেশদ্বার এবং জানালাগুলো ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু আল-আকসা বা ইব্রাহিমি মসজিদই নয়, সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম তীরের অন্যান্য মুসলিম উপাসনালয়গুলোতেও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েলিরা। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুসের ইমাদ আল-দিন জেঙ্গি মসজিদে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয় ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা। এছাড়া মাদানার একটি নতুন মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয় এবং জেরিকোর আল-জিফতলিক এলাকার আল-দুআইসাত নামাজ কক্ষটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে প্রকৌশল শিক্ষার যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এবার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে (এডব্লিউএস) প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬ ব্যাচের এই অ্যালামনাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় পিএইচডি করছেন। একই সঙ্গে এডব্লিউএসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শুরু করেছেন পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়। রুয়েট থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান আকিব। সেখানে দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। দেশে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ এগিয়ে যায় বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে। মাস্টার্সে পড়াশোনার সময় একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও অবদানের জন্যও স্বীকৃতি পান আকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘দ্য এডওয়ার্ড এল. জুনিয়র অ্যান্ড রুথ এস. হেনেসি ডিস্টিংগুইশড স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘দ্য ভাইস অ্যাডমিরাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার যাত্রায় এই দুটি অর্জন তাঁর একাডেমিক ও নেতৃত্বের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। মাস্টার্স শেষ করেই উচ্চশিক্ষার পথ থামাননি আকিব। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন তিনি। উচ্চতর গবেষণার এই পর্যায়ে থাকার মধ্যেই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে পেশাগত ক্যারিয়ারও শুরু করেছেন রুয়েটের সাবেক এই শিক্ষার্থী। অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে এনডিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন আকিব জাবেদ। এর মধ্য দিয়ে একদিকে পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে পেশাগত অভিজ্ঞতা, দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে শুরু হওয়া আকিবের পথচলায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। দেশে প্রকৌশল শিক্ষার ভিত্তি তৈরি, এরপর যুক্তরাষ্ট্রে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স, একাডেমিক ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি, পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা এবং সবশেষে এডব্লিউএসের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পেশাগত ক্যারিয়ার। এই ধারাবাহিকতা তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে রুয়েটের ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অ্যালামনাই হিসেবে এডব্লিউএসে আকিবের যোগদান বিভাগের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। দেশের প্রকৌশল শিক্ষা থেকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পৌঁছানোর তাঁর এই পথচলা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনেও নতুন সম্ভাবনার উদাহরণ তুলে ধরছে। আকিব জাবেদের বর্তমান যাত্রায় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত সাফল্য একই জায়গায় এসে মিলেছে। রুয়েটের শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু হওয়া সেই পথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা এবং অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের পেশাগত অঙ্গনে পৌঁছেছে। তাঁর এই পথচলা শুধু একজন প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার অগ্রগতির গল্প নয়। রুয়েটসহ বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সম্ভাবনার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় খেলার মাঠের স্লাইডে জামা আটকে শ্বাসরোধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মা এস্তেফানিয়া ভালাদারেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লোকাল ১০’-কে জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ামির শেনানডোহ পার্কে খেলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁর ছেলে ওলভিন ড্যানিয়েল ক্যাব্রেরা ভালাদারেস। ঘটনার দিন ওলভিনের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও সে ক্লাসে না গিয়ে স্কুটার চালিয়ে পার্কে ঘুরতে চলে যায়। এস্তেফানিয়া জানান, ওই দিনই সন্তানদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা এক ব্যক্তি স্লাইডের একটি স্ক্রুর সাথে ওলভিনকে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, স্লাইডের একটি আলগা স্ক্রুর সাথে ওলভিনের জামা পেঁচিয়ে গেছে এবং কলারটি গলায় শক্তভাবে চেপে বসে তার শ্বাসরোধ হয়ে পড়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা এক সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গত ১ অক্টোবর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। নগর প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর পরদিন অ-ফৌজদারি তদন্তের স্বার্থে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরদিনই স্লাইডটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শোকাহত মা এস্তেফানিয়া অন্যান্য অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, শিশুদের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, যেন কোনো পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।
ইরানকে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান তাদের ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেই এই অর্থ হস্তান্তর করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মূলত ইরানকে রাশিয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুত ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার ঋণ প্যাকেজের প্রথম কিস্তি। তবে ঋণের অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে লেনদেনটি বর্তমানে আটকে আছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ ব্যয়ের খাত নিয়ে ইরানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানি করার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল মন্ত্রণালয় তাদের শিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। আবার কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক। এমন বহুমুখী দাবির কারণে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইরান সরকার এবং এর ফলেই রাশিয়াকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা। পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়া তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত জুনে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান। সেসময় দেশটির একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন যে, তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে মস্কো, যার বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ। বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (VTB) ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এছাড়াও, ইরানকে অর্থ স্থানান্তরে ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।