- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় খেলার মাঠের স্লাইডে জামা আটকে শ্বাসরোধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মা এস্তেফানিয়া ভালাদারেস স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘লোকাল ১০’-কে জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ামির শেনানডোহ পার্কে খেলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় তাঁর ছেলে ওলভিন ড্যানিয়েল ক্যাব্রেরা ভালাদারেস। ঘটনার দিন ওলভিনের স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও সে ক্লাসে না গিয়ে স্কুটার চালিয়ে পার্কে ঘুরতে চলে যায়। এস্তেফানিয়া জানান, ওই দিনই সন্তানদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা এক ব্যক্তি স্লাইডের একটি স্ক্রুর সাথে ওলভিনকে আটকে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। উদ্ধারের সময় দেখা যায়, স্লাইডের একটি আলগা স্ক্রুর সাথে ওলভিনের জামা পেঁচিয়ে গেছে এবং কলারটি গলায় শক্তভাবে চেপে বসে তার শ্বাসরোধ হয়ে পড়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। টানা এক সপ্তাহ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গত ১ অক্টোবর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। নগর প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাটি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর পরদিন অ-ফৌজদারি তদন্তের স্বার্থে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও পরদিনই স্লাইডটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। শোকাহত মা এস্তেফানিয়া অন্যান্য অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, শিশুদের খেলার মাঠে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, যেন কোনো পরিবারকে এমন হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।
ইরানকে ১০০ কোটি বা এক বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান তাদের ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেই এই অর্থ হস্তান্তর করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি মূলত ইরানকে রাশিয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুত ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলার ঋণ প্যাকেজের প্রথম কিস্তি। তবে ঋণের অর্থ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঠিক কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের জেরে লেনদেনটি বর্তমানে আটকে আছে। ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থ ব্যয়ের খাত নিয়ে ইরানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। দেশটির পরিকল্পনা ও বাজেট সংস্থা ঋণের অর্থ দিয়ে যানবাহন আমদানি করার পক্ষে মত দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল মন্ত্রণালয় তাদের শিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য এই অর্থ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে। আবার কৃষি মন্ত্রণালয় চায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে সম্পূর্ণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক। এমন বহুমুখী দাবির কারণে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইরান সরকার এবং এর ফলেই রাশিয়াকে অর্থ স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি তারা। পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়া তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত জুনে ব্যাংকিং ও মুদ্রা সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে রুবলভিত্তিক বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ইরান। সেসময় দেশটির একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন যে, তেহরানকে ২০ বিলিয়ন ডলারের রুবলভিত্তিক ঋণ দিতে পারে মস্কো, যার বার্ষিক সুদের হার হতে পারে ৬ শতাংশ। বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেহরানের ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের সঙ্গে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ভিটিবি ব্যাংকের (VTB) ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ ছিল, ব্যাংকটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাংকিং সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। এছাড়াও, ইরানকে অর্থ স্থানান্তরে ও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার অভিযোগে বিভিন্ন আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে নারীদের অস্ত্র চালনা এবং শহরভিত্তিক যুদ্ধের (আরবান ওয়ারফেয়ার) প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান। সম্প্রতি ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তেহরানের উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ইউনিফর্ম পরিহিত নারীরা অ্যাসল্ট রাইফেল চালানো শিখছেন। আয়োজকদের মতে, এই প্রশিক্ষণ কোর্সে শহর রক্ষার কৌশল, কালাশনিকভ থেকে শুরু করে ড্রাগনভ স্নাইপার রাইফেল, আরপিজি (RPG) এবং কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ-প্রতিরক্ষা লঞ্চার ব্যবহারের পাশাপাশি নারীদের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা উদ্ধারকাজ, অগ্নিনির্বাপণ ও নেভিগেশন মডিউল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমা হামলার পর ইরানে 'জান-ফাদা' বা 'যারা জীবন উৎসর্গ করে' নামের একটি গণ-জমায়েত আন্দোলন শুরু হয়, আর এই প্রশিক্ষণ মূলত তারই একটি অংশ। এই প্রচারণার মুখপাত্র সাসান জারে জানান, বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর অধীনে এই সামরিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। 'জাতীয় প্রতিরোধ' ব্যাটালিয়নে তালিকাভুক্তি উন্মুক্ত করার মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন করেন, যা প্রথম ১,০০০ ইউনিট দ্রুত পূর্ণ করে ফেলে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আরও ১,০০০ ইউনিটের অনুমোদন দেয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে না আসা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্প্রতি এক বার্তায় বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। রেড ক্রিসেন্টের সাথে সমন্বয় করে ১০ হাজার এলাকা-ভিত্তিক ত্রাণ ও উদ্ধার ইউনিট গঠনেরও পরিকল্পনা করছেন আয়োজকরা, যেখানে স্বেচ্ছাসেবকদের বড় একটি অংশই নারী। তেহরানের ইমাম হোসেন স্কোয়ারে প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হয়েছে এবং রাজধানীসহ অন্যান্য প্রাদেশিক কেন্দ্রগুলোতে বাসিজ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর পরিচালনায় অন্তত ১৪টি কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মুখপাত্র জারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু বিদেশি নাগরিকও ইরানিদের পাশে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তেহরানের একটি কেন্দ্রে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। ১৯৮০ সালে ইরাকের আগ্রাসনের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি যে 'দুই কোটি মানুষের সেনাবাহিনী' গঠনের ডাক দিয়েছিলেন, বর্তমানের এই উদ্যোগটিকে কর্মকর্তারা তারই পুনর্জাগরণ হিসেবে অভিহিত করছেন। ইরানের সামরিক কমান্ডারদের নতুন সতর্কবার্তার মাঝেই এই বিশাল জমায়েত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই আগুন সবাইকে গ্রাস করবে এবং মার্কিন স্বার্থে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আঘাত হানা হবে। সেনাবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আমির হাতামিও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং যেকোনো নতুন হামলার চরম ও ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি তেহরানের কূটনীতিকরা আলোচনা পুনরায় শুরু করারও জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সামরিক পন্থায় এই সংঘাতের কোনো সমাধান নেই। তবে শর্ত পূরণ হলে এবং বৈরী পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হলে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে পারে বলেও জানান তিনি। এর মাঝেই কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই পদত্যাগ করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ, যা মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে হোয়াইট হাউসে ‘গোল্ড স্টার’ পরিবারগুলোর জন্য আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন ইরান যুদ্ধে নিহত বেশিরভাগ সেনার স্বজনরা। গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় সেনার পরিবারের মাত্র একজন সদস্য মঙ্গলবারের এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ ওই হামলায় বেঁচে ফেরা সেনারা এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ওই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৯ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাতে নিহত প্রায় ৪০ জন সেনাকে সম্মান জানাতে হোয়াইট হাউস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তবে কুয়েতে হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের কাছ থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় গোল্ড স্টার পরিবারগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। নিহত মাস্টার সার্জেন্ট নিকোল এম. আমোরের স্বামী জোই আমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, হামলার আগে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং কেন ছয়জন সেনাকে প্রাণ হারাতে হলো, সে বিষয়ে তিনি এখন মার্কিন জনগণের কাছে স্বচ্ছতার দাবি জানাচ্ছেন। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জুনে তদন্ত শেষ হলেও সংবেদনশীল তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ চলায় তারা এখনো পরিবারগুলোকে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। স্বজনদের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পেছনে দেরিতে দাওয়াত পাওয়া এবং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোয় অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বা সময়মতো ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারেনি। অন্যদিকে, নিহত মেজর অ্যালেক্স ক্লিনার-এর স্ত্রী লিবি ক্লিনার জানান, দেরিতে দাওয়াত পাওয়ায় তিনি শিশুদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার সময় পাননি। তবে তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে, যে প্রশাসন সেনাদের জীবনের বিষয়ে এত খামখেয়ালি আচরণ করে, তিনি তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগ্রহী নন। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘ছোটখাটো ভ্রমণ’ এবং ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন, যা অনেক পরিবারের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়েও পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা গেছে। নিহত চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার রবার্ট মারজানের স্ত্রী টিনা মারজান জানিয়েছেন, তিনি বা তাঁর সন্তানরা কোনো আমন্ত্রণ পাননি। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, যারা আগে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেছিলেন, তাদের সাথে তারা নতুন করে যোগাযোগ করেনি। অন্যদিকে, নিহত মেজর কোডি খোর্ক-এর মা ডোনা বুরহানস নিজেকে ট্রাম্পের সমর্থক দাবি করলেও, বারবার শোকের স্মৃতি মনে করাটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। সার্বিকভাবে, শহীদ সেনাদের সম্মান জানানোর এই আয়োজনটি শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব ও অবহেলার এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবেই সামনে এসেছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বসবাস ও কাজের সুবাদে পরিচিত খোকনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্বজন, পরিচিতজন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খোকন কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে তিনি কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে নিয়মিত চলাফেরা করায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ। গত তিন দিন ধরে খোকন কর্মস্থলেও যাননি। সাধারণত নিয়মিত কাজে উপস্থিত থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তির হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে তাঁর পরিচিতজনেরা খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁর কিউ গার্ডেনসের বাসায়ও পুলিশ যায় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পুলিশ বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেও খোকনের সন্ধান পায়নি। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, কোথায় থাকতে পারেন কিংবা তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি। খোকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদনে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা জেলা সোসাইটির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের একটি প্রকাশ্য তালিকায় তাঁকে মাগুরা জেলা সোসাইটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুজ্জামান বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে খোকনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কমিউনিটিতে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি হয়তো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে থাকতে পারেন। তবে আইসিইর হাতে তাঁকে আটক করা হয়েছে এমন কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত আশঙ্কা বা গুঞ্জনের মধ্যেই রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিচিতজনেরা কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খোকনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই পরিচিত বাংলাদেশির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজন ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এখন পর্যন্ত কাজী আজিজুল হক খোকনের নিখোঁজের কারণও স্পষ্ট নয়। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আটক, অপহরণ বা অন্য কোনো ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।
নিউইয়র্কে অন্য এক চালকের কাছে টিএলসি-সংশ্লিষ্ট গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মালিক। ওই চালক নিয়মিত টোল পরিশোধ না করায় গাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-জেডপাস টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। পরে গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান বলে মালিকের অভিযোগ। এরপর থেকে ওই চালকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মালিকের ভাষ্য, গাড়ি নেওয়ার সময় চালক তাকে বলেছিলেন, ই-জেডপাসের সঙ্গে তার একটি পেমেন্ট প্ল্যান রয়েছে এবং টোলের বকেয়া তিনি ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মালিক গাড়িটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শুধু ই-জেডপাস নয়, এমটিএ এবং পোর্ট অথরিটির কাছেও টোল ও ভায়োলেশন বাবদ বকেয়া জমেছে। বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মালিকের দাবি, গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার প্রায় এক মাস পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান। এরপর চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মালিকের কাছে টোল, ভায়োলেশন এবং সাসপেনশন সংক্রান্ত ইমেইল নোটিশ রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব নোটিশের মাধ্যমে বকেয়ার পরিমাণ এবং গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তবে এই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চালকের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং চালকের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি নিউইয়র্কের টিএলসি গাড়ির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে এনেছে। অন্য চালকের কাছে গাড়ি বা টিএলসি-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পর টোল ও ভায়োলেশন নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নজরদারির বাইরে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতে পারে। চালক গাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্টের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে যেতে পারে মালিকের ওপর। মালিকের দাবি অনুযায়ী, এখন তাকে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারের টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া নিয়ে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া গাড়িটি কীভাবে আবার বৈধভাবে রাস্তায় নামানো যাবে, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলে টিএলসি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে স্পষ্ট চুক্তি, টোল পেমেন্টের নিয়মিত হিসাব এবং ভায়োলেশন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ফের একটি হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা বা উইপো (WIPO)-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৩৯টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশসহ নানা সূচক বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যা প্রতিবেশী দেশ নেপালেরও নিচে। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত, বৈশ্বিক তালিকায় যাদের অবস্থান ৩৮তম। ভারতের পর এই অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে রয়েছে ভুটান (৭৪তম), শ্রীলঙ্কা (৯৪তম), পাকিস্তান (৯৫তম) এবং নেপাল (১০৪তম)। পরিসংখ্যানটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশের সামনে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। তবে সার্বিক চিত্রে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সম্ভাবনার জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, কৃষি প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করছে। বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে, তখন উদ্ভাবনের এই দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে টপকে যেতে বাংলাদেশকে আরও সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর (CIA) সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রাশ সরকারি তহবিল তছরুপের কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রড বা তারবার্তায় জালিয়াতির একটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। ভুয়া গোপন প্রজেক্টের নামে সরকারের প্রায় ২০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সোনার বার কিনেছিলেন তিনি। আদালতের কাছে দোষ স্বীকারের চুক্তি অনুযায়ী, রাশ এখন অন্তত ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮টি সোনার বার, ফ্লোরিডায় ৪টি বিলাসবহুল বাড়ি, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৩৫টি দামি ঘড়ি। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রাশ একটি ভুয়া 'ক্লাসিফায়েড প্রোগ্রাম' বা গোপন প্রকল্পের গল্প সাজিয়েছিলেন। এরপর একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার সরিয়ে নেন এবং তা দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন, যা তিনি পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অন্যদিকে, সোনার বারগুলো কেনার জন্য তিনি ঠিকাদারদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভুয়া 'সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রম'-এর কথা বলেছিলেন। গত মে মাসে ডেভিড রাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআই (FBI) এজেন্টরা ৪০ মিলিয়ন বা চার কোটি ডলারের সোনার বার, ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়িগুলো উদ্ধার করে। মূলত সিআইএ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি ধরা পড়ার পর তারা বিষয়টি এফবিআইকে জানায়। শুনানিকালে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে একজন 'চরম প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ, তিনি নিজের প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কাছে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এই বিশাল জালিয়াতির ছক কষেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ‘এফ-১’ (F-1) ভিসার আবেদনকারী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী দালাল বা এজেন্টের চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি রেডিট (Reddit) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য তার এজেন্ট অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি (প্রায় ২৩০ ডলার) দাবি করে। কিন্তু এই অন্যায্য অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই এজেন্ট তার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয়। রেডিটের ওই পোস্ট অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর ‘আই-২০’ (I-20) ফর্মে ক্লাস শুরুর তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট, ২০২৬। তবে এর আগে ইন্টারভিউয়ের কোনো স্লট না পাওয়ায় এজেন্ট তাকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনে ভর্তির পরামর্শ দেয়। পরে হঠাৎ করেই ওই এজেন্ট জানায় যে, ১৯ অক্টোবরের জন্য একটি ইন্টারভিউ স্লট পাওয়া গেছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি দিতে হবে। এটি সরকারি কোনো ফি কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এজেন্ট সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয় এবং শিক্ষার্থী এর কনফার্মেশনও পান। বর্তমানে মার্কিন ভিসা পোর্টালে তার আবেদনটি ‘ওপেন’ দেখালেও মুম্বাইয়ের জন্য কোনো স্লট খালি নেই। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, এফ, এম এবং জে ভিসার জন্য সরকারি আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের ‘সেভিস’ (SEVIS) ফি দিতে হলেও ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি’ নামে ২৩০ ডলারের কোনো সরকারি চার্জ নেই। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) আবেদনকারীদের সতর্ক করে আসছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা বা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রতারক চক্র। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এখন নিজে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, নাকি নতুন আই-২০ ফর্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
ফ্লোরিডার নেপলসে টার্গেট স্টোরের সেলফ-চেকআউট ব্যবহার করে বারবার চুরির দায়ে নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী কিম্বার্লি ম্যাকডোনেল। টার্গেটে ১৮ বার কেনাকাটা করতে গিয়ে তিনি ১৫১টি পণ্যের বিল পরিশোধ করেননি, যার মোট মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৪৭২ ডলার। সম্প্রতি 'পুলিশ এনকাউন্টারস টিভি' নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তার গ্রেপ্তারের বডি-ক্যামেরা ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সেটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকডোনেল আড়াই ডলারের কোমল পানীয় থেকে শুরু করে প্রায় আটশ ডলারের ম্যাট্রেস পর্যন্ত চুরি করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সেলফ-চেকআউটে কিছু পণ্যের বারকোড স্ক্যান না করেই ইচ্ছা করে সেগুলো নিয়ে তার এসইউভিতে করে চলে যেতেন। এমনকি কোনো কোনো দিন চুরির সময় তার সাথে একটি শিশুও উপস্থিত ছিল। টানা দুই মাস ধরে চলা এই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি গ্র্যান্ড থেফটের অভিযোগ আনা হয়। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, সাড়ে সাতশ থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের পণ্য চুরির অপরাধ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তবে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে। ম্যাকডোনেলকে তার কর্মস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করে। সহকর্মীদের সামনে যাতে তাকে লজ্জিত হতে না হয়, সেজন্য পুলিশ তাকে আড়ালে ডেকে নেয়। শুধু তাই নয়, তাকে অসুস্থ সন্তান ও স্বামীর সাথে ফোনে কথা বলার এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রেও তার সুবিধা বিবেচনা করে পুলিশ। তার শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের বিপরীতে পুলিশের এমন নমনীয়তা দেখে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অনেকেই পুলিশের এই ‘ভিআইপি’ সেবার সমালোচনা করে একে লিমুজিন রাইডের সাথে তুলনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবলই পুলিশের পেশাদারিত্ব হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলগুলোতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড প্রায় ১২ হাজার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে একক কোনো শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ। মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পেন আমেরিকা’ (PEN America)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন “ব্যান্ড ইন দ্য ইউএসএ”-তে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৯৮২টি বই নিষিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে, যা ৭ হাজার ৩৭০টি আলাদা বই এবং চার হাজারের বেশি লেখক, চিত্রশিল্পী ও অনুবাদককে প্রভাবিত করেছে। ২০২১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৪ হাজার বই নিষিদ্ধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশটিতে বই নিষিদ্ধের প্রবণতা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ বছর সবচেয়ে বেশি বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। রাজ্যটিতে ৮ হাজার ১০০টিরও বেশি বই লাইব্রেরি ও পাঠ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মূলে রয়েছে সেখানকার বিতর্কিত ‘এসবি১৩’ (SB13) আইন। এর আগের তিন বছর এই তালিকার শীর্ষে ছিল ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ ও অধিকারকর্মীদের চাপের মুখে এবার মোট ১১৪টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্কুল প্রশাসনগুলো এখন কোন বই বাতিল করা হবে তা নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত একাধিক বই স্ক্যান ও চিহ্নিত করার সুবিধার কারণেই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা এতো নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিষিদ্ধের এই তালিকায় টানা দ্বিতীয় বছরের মতো শীর্ষে রয়েছেন প্রখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং; তার বই মোট ৩১২ বার বিভিন্ন স্কুল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একক বই হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ হয়েছে নেপালের এক কিশোরীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রির বাস্তব কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘সোল্ড’। এছাড়া মার্গারেট অ্যাটউডের ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’, ধর্ষণের ট্রমা নিয়ে লেখা ‘স্পিক’ এবং মাদকাসক্তি নিয়ে রচিত ‘ক্র্যাঙ্ক’-এর মতো জনপ্রিয় বইগুলো বারবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। এমনকি ১৯ শতকের বিশ্বখ্যাত ধ্রুপদী উপন্যাস ‘জেন আয়ার’ এবং জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ‘টোকিও ঘুল’-এর মতো জনপ্রিয় রচনাও বাদ পড়েনি। বর্ণবাদ, যৌনতা ও জেন্ডার পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো থাকার কারণেই মূলত এসব বই সরানো হচ্ছে, যার তীব্র সমালোচনা করে বাকস্বাধীনতাকামীরা বলছেন, এটি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও জানার পরিধিকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করছে।
শ্রেণিকক্ষে তীব্র শিক্ষক সংকট, স্কুলের সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফ্রান্সে টানা দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং প্রায় দুই হাজার স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিতর্কিত দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, এই বিক্ষোভ মূলত ফ্রান্সে মুসলিমদের দেশ দখলের অপচেষ্টা মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্টে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ফ্রান্সে বর্তমানে যা ঘটছে তা অনিয়ন্ত্রিত ব্যাপক অভিবাসনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো সাধারণ স্কুলের সমস্যা কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; বরং এটি ইসলামের বিষয়, যা একসময়ের মহান রাষ্ট্র ফ্রান্সকে দখল করার চেষ্টা করছে। ব্যাপক অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার কারণেই ফ্রান্সে আজ এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে ফরাসি প্রশাসন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকুরমু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ ক্লাস সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, দুপুরের খাবারের সময় বাড়ানো, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কার এবং সর্বোপরি শিক্ষা খাতের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করা।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত নগরজীবন পেছনে ফেলে ইতালির সিসিলির এক শান্ত পাহাড়ি গ্রামে মাত্র ৬৫ হাজার ডলারে বাড়ি কিনে স্থায়ী হয়েছেন এক মার্কিন দম্পতি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই সম্পত্তি কেনার আগে তারা কখনো নিজের চোখে সেটি দেখেননি। ২০২০ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাসকালে তারা সিসিলির মেলিল্লি গ্রামে এই বাড়িটি কেনার দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় একটি সিসিলিয়ান-ব্রিটিশ দম্পতির সহায়তায় সাতটি প্রপার্টি দেখার পর ঐতিহাসিক এলাকার এই দুই বেডরুমের বাড়িটি তাদের মন কাড়ে। তৎকালীন বাজারদর অনুযায়ী ৫৭ হাজার ইউরো বা প্রায় ৬৫ হাজার মার্কিন ডলারে কেনা এই বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল এর ছাদের বড় টেরেস। সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর ও মাউন্ট এটনার অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বাড়িটিতে শুধু রান্নাঘরটি নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন ছিল। ২০২২ সালে প্রথমবার সেখানে গিয়ে এই দম্পতি মুগ্ধ হয়ে যান। নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টের তুলনায় এই প্রশস্ত বাড়ি, গ্রামের শান্ত পরিবেশ, স্থানীয়দের আন্তরিকতা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। সিসিলিতে দুই মাস কাটানোর পর তারা নিউইয়র্কে ফিরে গেলেও সেখানকার যান্ত্রিক জীবনের সাথে আর নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেননি। অবশেষে প্রায় এক বছর ধরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা পাকাপাকিভাবে সিসিলিতেই পাড়ি জমান। বর্তমানে মেলিল্লি গ্রামেই বসবাস করছেন এই দম্পতি, আর নিউইয়র্কের কোলাহল ছেড়ে ইতালির এই শান্ত পাহাড়ি জনপদকেই বেছে নিয়েছেন নিজেদের স্বপ্নের নতুন ঠিকানা হিসেবে।
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য দিবালোকে হোসে মার্সেডিজ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছিনতাইকারীরা। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে নরউড এলাকার রোচ্যাম্বো অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট ২০৮ স্ট্রিটে এই ঘটনা ঘটে। মার্সেডিজ যখন তার গাড়ির ডিকি থেকে জিনিসপত্র বের করছিলেন, তখন ই-বাইকে করে আসা দুই ছিনতাইকারী তার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তারা ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সাতবার ছুরিকাঘাত করে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফুটপাতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এই নির্মম হামলার সাথে জড়িত দুই অভিযুক্তই ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ২৫ বছর বয়সী ডি'অ্যাঞ্জেলো ক্যারাবালোকে হামলাকারী এবং ২৪ বছর বয়সী স্নাইডার মেজিয়াকে ই-বাইক চালক হিসেবে শনাক্ত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, মেজিয়া ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং ক্যারাবালো ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যারিজোনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। বর্ডার পেট্রোল তাদের আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। এমনকি অতীতে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং হত্যার হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইসিই (ICE)-এর নির্দেশিকা উপেক্ষা করে তাদের জামিনে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিনক্টে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। গত সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি উপস্থিত সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে থাম্বস আপ দেখিয়ে তার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়েছিলেন নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ। এদিকে, অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ার নিয়মে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত পুলিশ কর্মকর্তার চাচা রিকার্ডো মার্সেডিজ। তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরে ঠিকই, কিন্তু বিচার ব্যবস্থা তাদের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় আচরণ করে পুনরায় রাস্তায় ছেড়ে দিচ্ছে। বিচার ব্যবস্থার এই দুর্বলতার দ্রুত অবসান এবং অপরাধীদের প্রতি আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্ক শহরের মতো একটি ব্যস্ত নগরীতে সাবওয়েতে যাতায়াতের জন্য কত রাতকে 'অতিরিক্ত রাত' বলা যায়—এমন প্রশ্নে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। টিকটক ব্যবহারকারী বেকা তার এক ভিডিওতে জানতে চান, নিউইয়র্কে বসবাসকারী যাত্রীদের জন্য রাতে সাবওয়ে ব্যবহারের সর্বশেষ সময় কোনটি। বেকা নিজে শনিবার মধ্যরাতের পর সাবওয়েতে যাতায়াত করাকে নিরাপদ মনে করেন। তিনি জানান, এলাকা, গন্তব্য এবং স্টেশন থেকে বাসার দূরত্বের মতো বিষয়গুলো রাতে সাবওয়েতে যাতায়াতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। যদিও মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি অনিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই বিতর্কে নেটিজেনরা বিভিন্ন ধরনের মতামত দিয়েছেন। একা যাতায়াতকারী অনেক নারীর মতে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সাবওয়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে দলবেঁধে থাকলে যে কোনো সময়ই সাবওয়েতে ওঠা যায় বলে মনে করেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, ভিন্ন মতও রয়েছে। একজন নারী মন্তব্য করেছেন যে, তিনি সাবওয়ের চেয়ে উবার বা অন্যান্য রাইড-শেয়ারিং চালকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয়ে বেশি থাকেন, তাই দিন বা রাতের যে কোনো সময় তিনি সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাসকারী এক বাসিন্দা তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, রাতে একা যাতায়াতের ক্ষেত্রে পাগল বা ভবঘুরেদের চেয়েও সেইসব পুরুষদের বেশি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন যারা নির্জন পরিবেশে নারীদের একা পেয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। সাবওয়েতে নিরাপত্তার কৌশল হিসেবে অনেকে রাত ১১টার পর ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়ানোর এবং সবসময় ট্রেনের মাঝখানের বগিতে অপারেটরের কাছাকাছি বসার পরামর্শ দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের এই বিতর্কের পেছনে থাকা নিরাপত্তা শঙ্কাগুলোর বাস্তব ভিত্তিও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক ট্রানজিটে বছরে গড়ে দুটি খুনের ঘটনা ঘটলেও, ২০২০ সালের পর থেকে এই সংখ্যা বেড়ে গড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় সাবওয়েতে গুরুতর হামলার ঘটনা ১০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে 'জে (J) ট্রেন'-এর নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহেই এই ট্রেনে মেসিয়াস লোজানো নামের ৫৯ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিক এক 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত' ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে নিহত হন, যা এই বছর সাবওয়ে সিস্টেমে ঘটা ষষ্ঠ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে তিন সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তার নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ৪১ বছর বয়সী এপ্রিল বারলো সেলিও নামের ওই নারীকে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পাইনভিলের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরদিন চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে এক ভয়ংকর বিষয় আবিষ্কার করেন—নিহত নারী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, কিন্তু তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানটি গায়েব! পরবর্তীতে তদন্তকারীরা সেলিওর বাড়িতে পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে ভ্রূণের কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেন। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিমার্কাস কেনেথ জনসন-রাইট নামের এক দাগি আসামিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে আগে থেকেই সহিংস অপরাধের লম্বা রেকর্ড এবং বেশ কয়েকটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ প্রাথমিকভাবে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে এবং পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। অবশেষে হত্যাস্থল থেকে প্রায় আড়াইশ মাইল দূরে টেনেসির ক্লার্কসভিল এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে এই মামলার সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী বা তার অনাগত সন্তানকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। সন্দেহভাজনের সাথে নিহতের কী সম্পর্ক ছিল তা স্পষ্ট না করা হলেও, জনসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত হত্যার ধারাও রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সশস্ত্র ডাকাতি, অপহরণ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতার একাধিক পরোয়ানা ছিল। এদিকে, নিহত সেলিওর তিন সন্তানের সহায়তার জন্য একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজ খুলেছেন তার বোন আমান্ডা ডি পাজ। শোকাহত বোন জানান, সেলিও অত্যন্ত স্নেহময়ী একজন মানুষ ছিলেন এবং ভালোবাসার মানুষদের জন্য তিনি সবকিছু করতে পারতেন। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন জনসনকে বর্তমানে টেনেসির মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে এবং তাকে কেন্টাকিতে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে এমন পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পুরোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই তার ইউএস পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট থাকলেও এই নিয়মের কোনো পরিবর্তন হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি কোনো নতুন আইন বা বিধিনিষেধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের কাছেই দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান মার্কিন নাগরিক হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে। তবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব ইমিগ্রেশন আইন ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই একই নিয়ম মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর। কোনো শিশু দ্বৈত নাগরিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের জন্য তার বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA) নিয়েও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্বৈত নাগরিকরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইএসটিএ বা মার্কিন ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা নিতে পারবেন না। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কোনো দ্বৈত নাগরিকের ইএসটিএ শনাক্ত করলে তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগেই নিজেদের এবং সন্তানদের মার্কিন পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করে প্রয়োজনে তা নবায়ন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের ফরেস্ট হিলসে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বাড়ি আগামী ২৩ অক্টোবর নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বাড়িটির মালিক দুই ভাই এডুয়ার্ড ও আরকাডি ব্যাঙ্গিয়েভ, যারা একসময় ৭ কোটি ডলারের বিশাল আন্তর্জাতিক জাল নোট চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। আড়াই মিলিয়ন বা প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের এই বাড়িটির নিলাম শুরু হবে ৯ লাখ ডলার বা প্রায় ৯ কোটি টাকা থেকে। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ভাইরা বাড়িটি যে দামে কিনেছিলেন, এটি তার চেয়ে মাত্র ৫০ হাজার ডলার বেশি। ১৯৩০ সালে নির্মিত ৩,৫৭২ বর্গফুটের এই দোতলা বাড়িটিতে রয়েছে পাঁচটি বেডরুম, সাড়ে চারটি বাথরুম, একটি ঢাকা বারান্দা, সনা এবং দুটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ। এছাড়াও এর বেসমেন্টে অতিরিক্ত একটি বেডরুম ও বাথরুম রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তিটি ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অধীনে 'যেমন আছে তেমন' বা 'অ্যাজ-ইজ' শর্তে বিক্রি করা হবে। বাড়িটির পেছনে রয়েছে জালিয়াতি ও অপরাধের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০০৩ সালে ব্যাঙ্গিয়েভ ভাইরা ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বাড়িটি কেনেন। ২০০৪ সাল থেকে তারা জাল নোট তৈরি ও বিতরণের এক বিশাল চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এসব উচ্চমানের জাল নোট যন্ত্রপাতি বহনকারী শিপিং কন্টেইনারে লুকিয়ে পাচার করা হতো। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, তাদের এই চক্র প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩০ লাখ ডলারের জাল নোট যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসত এবং বিশ্বব্যাপী ৮ কোটি ডলারেরও বেশি জাল নোট ধরা পড়েছিল বা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ভাইদের লং আইল্যান্ডে একটি গয়নার দোকান এবং ম্যানহাটনে সোনার ব্যবসা ছিল, যা দিয়ে তারা এই জাল নোট চক্রের অর্থায়ন করতেন। ২০১৫ সালে তারা অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তাদের এই অপরাধের সূত্র ধরেই ফরেস্ট হিলসের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। এর আগে ১০ লাখ ডলারের একটি আলাদা গয়না জালিয়াতির মামলাতেও বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ভাইদের পাশাপাশি তাদের বোন ইলানা এবং এডুয়ার্ডের স্ত্রী ইরিনাও এই বাড়ির মালিকানার দাবিদার ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত সরকারের অনুকূলে বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ মালিকানা রায় দেয় এবং অবশেষে এটি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১১ ও ১৮ অক্টোবর বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং নিলামে অংশ নিতে হলে দেড় লাখ ডলার আমানত জমা দিতে হবে।
জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাঠে এসে ফাইনাল উপভোগ করার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বে প্রথম ম্যাচে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে এএফসি ও মিডটাউন টার্ফ টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল সাড়ে ৫টায় খেলবে রেবেলস এফসি ও বিডি ইউনাইটেড। এই দুই ম্যাচের বিজয়ী দল সন্ধ্যা ৭টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ফলে দিনব্যাপী ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিলবার্নে জমবে বাংলাদেশি কমিউনিটির মিলনমেলা। আয়োজকদের মতে, এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে তরুণ ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, তাদের মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন পরিবারের ও কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে এসব আয়োজন। মাঠে একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যেও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্রীড়াভিত্তিক আয়োজন ঘিরে মানুষের আগ্রহও দেখা গেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত সাকিব আলী স্মৃতি মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলাগুলো উপভোগ করেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং আয়োজন নিয়ে নিজেদের মতামতও শেয়ার করেন। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে হওয়ার আগ্রহের বিষয়টিও সামনে এনেছে। ফুটবলের এই আয়োজন সেই কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে এই টুর্নামেন্টে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, লিলবার্নের হারমনি গ্রোভ পার্কে। ঠিকানা ১১৯ হারমনি গ্রোভ রোড, লিলবার্ন, জর্জিয়া। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দর্শকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে আয়োজকদের প্রচারপত্রে জানানো হয়েছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার এই আয়োজন তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও এই আয়োজনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইথান আলেকজান্ডার। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং পরিবারের গ্যারেজ পরিণত হয় পণ্যের গুদামে। তবে এখানে ২৫ হাজার ডলার তাঁর নিট লাভ নয়; এটি এক মাসে পণ্য বিক্রি থেকে আসা মোট অর্থ বা রেভিনিউ। গত বছর তাঁর মোট বিক্রিও প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল। বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইথান বলেন, ২০২৫ সালে হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অনলাইনে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রির ধারণাটি তাঁর মাথায় আসে। প্রতি বছর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি বিনিয়োগ হিসাব থেকে তিনি ৫০০ ডলার পেতেন। সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয় তাঁর ব্যবসার পথচলা। ইনস্টাগ্রামে অনলাইন রিসেলিং নিয়ে একটি ভিডিও দেখার পর বিষয়টিতে আগ্রহী হন ইথান। হাতে থাকা ৫০০ ডলার দিয়ে একজনের কাছ থেকে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির কৌশল শেখেন। খুব বেশি গবেষণা ছাড়াই ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শুরুতেই অপ্রত্যাশিত সাড়া পান ইথান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসেই প্রায় ১০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেন। কয়েক মাস পর আগস্টে মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। তাঁর ব্যবসার কৌশল ছিল প্রতিটি পণ্যে তুলনামূলক কম লাভ রেখে বেশি পরিমাণে বিক্রি করা। সাধারণত একটি পণ্যে ২ থেকে ৪ ডলার লাভ রাখতেন। তাই বড় অঙ্কের বিক্রি হলেও পুরো অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত আয় বা লাভ ছিল না। ইথানের প্রথম বিক্রি করা পণ্য ছিল লন্ড্রি ডিটারজেন্ট। ওয়ালমার্ট থেকে কিনে অ্যামাজনে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দামে সেটি বিক্রি করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে লাভজনক পণ্য খুঁজতে অ্যামাজন বিক্রেতাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করেন। ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির গ্যারেজ কার্যত গুদামে পরিণত হয়। গ্রেটার কানসাস সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ালমার্টে নিজের ট্রাক নিয়ে ঘুরে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতেন। দিনের বেলা পণ্য সংগ্রহের পর গভীর রাত পর্যন্ত সেগুলো প্যাক করতেন এবং পরদিন পোস্ট অফিসে পাঠাতেন। ব্যবসার পরিধি একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে কোনো কোনো মাসে শুধু পণ্য কিনতেই প্রায় ৪৫ হাজার ডলার খরচ করতেন ইথান। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথম দিকে মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। বড় অঙ্কের লেনদেন বারবার সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পরে নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হয় তাঁকে। কাজের চাপ সামলাতে কয়েকজনকে পণ্য প্যাক করার জন্য নিয়োগও দিয়েছিলেন। তবে একজন ভুল পণ্যে ভুল লেবেল লাগিয়ে দেওয়ায় তাঁর কয়েক হাজার ডলার ক্ষতি হয়। ব্যবসার মাধ্যমে লাভের পাশাপাশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ঝুঁকিও শেখেন তিনি। এই সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত জীবনেও মূল্য দিতে হয়েছে ইথানকে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, নিজের বাড়িতেই কার্যত একটি গুদামের চাকরি করছিলেন তিনি। ইথানের মা নিজেও স্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং ব্যবসায়িক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে মায়ের পরামর্শ তাঁর কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন ইথান। তবে দ্রুত বড় হওয়া ব্যবসা শেষ পর্যন্ত পড়াশোনার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে থাকায় ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। ইথানের মতে, অ্যামাজনে বিক্রির গতি ধরে রাখতে নিয়মিত নতুন পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রি চালিয়ে যেতে হতো। ফলে ব্যবসাটি শুধু অল্প সময় দিয়ে ছোট পরিসরে চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের কিছু অংশ পোশাক ও মেটার স্মার্ট গ্লাসের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কিনতে ব্যয় করেছেন তিনি। তবে বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে ইথানের বয়স ১৮ বছর। তিনি হাইস্কুলের শেষ বর্ষে প্রবেশ করছেন এবং কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর বাবা-মা আগে থেকেই তাঁর উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেখেছেন। নিজের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার পরও উচ্চশিক্ষা বাদ দিতে চান না ইথান। তবে ব্যবসায়িক শিক্ষা নিতে গিয়ে বাস্তব ব্যবসা পরিচালনা করে ইতোমধ্যে যা শিখেছেন, তার চেয়ে কতটা নতুন কিছু শিখতে পারবেন, সেটি নিয়ে তাঁর কৌতূহল রয়েছে। ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অবশ্য তিনি নিশ্চিত। আবারও উদ্যোক্তা হতে চান ইথান। ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি তাঁকে বিক্রি, পণ্য নির্বাচন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তাঁর গল্পে ২৫ হাজার ডলারের মাসিক অঙ্কটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেও সেটি নিট লাভের হিসাব নয়। এটি মাসিক মোট বিক্রি। পণ্য কেনা, কর্মী ও ব্যবসার অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর প্রকৃত লাভ কত ছিল, বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার