সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি
দুই দেশের পাসপোর্ট আছে? যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতে যে নিয়ম ভুললেই বিপত্তি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে এমন পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্তৃপক্ষের পুরোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই তার ইউএস পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে।   অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট থাকলেও এই নিয়মের কোনো পরিবর্তন হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি কোনো নতুন আইন বা বিধিনিষেধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের কাছেই দুই দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান মার্কিন নাগরিক হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাকে মার্কিন পাসপোর্টই ব্যবহার করতে হবে।   তবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব ইমিগ্রেশন আইন ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই একই নিয়ম মার্কিন নাগরিক শিশুদের ক্ষেত্রেও সমভাবে কার্যকর। কোনো শিশু দ্বৈত নাগরিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের জন্য তার বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক।   দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএ (ESTA) নিয়েও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দ্বৈত নাগরিকরা দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইএসটিএ বা মার্কিন ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুবিধা নিতে পারবেন না।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ কোনো দ্বৈত নাগরিকের ইএসটিএ শনাক্ত করলে তা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে দিতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগেই নিজেদের এবং সন্তানদের মার্কিন পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করে প্রয়োজনে তা নবায়ন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৩:৪০
নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে
নিউইয়র্কে ৭ কোটি ডলারের জাল নোট চক্রের দুই হোতার বাড়ি নিলামে, ২৫ কোটির বাড়ি বিক্রি শুরু ৯ কোটিতে

নিউইয়র্কের ফরেস্ট হিলসে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল বাড়ি আগামী ২৩ অক্টোবর নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বাড়িটির মালিক দুই ভাই এডুয়ার্ড ও আরকাডি ব্যাঙ্গিয়েভ, যারা একসময় ৭ কোটি ডলারের বিশাল আন্তর্জাতিক জাল নোট চক্রের সাথে জড়িত ছিলেন। আড়াই মিলিয়ন বা প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের এই বাড়িটির নিলাম শুরু হবে ৯ লাখ ডলার বা প্রায় ৯ কোটি টাকা থেকে। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে ভাইরা বাড়িটি যে দামে কিনেছিলেন, এটি তার চেয়ে মাত্র ৫০ হাজার ডলার বেশি।   ১৯৩০ সালে নির্মিত ৩,৫৭২ বর্গফুটের এই দোতলা বাড়িটিতে রয়েছে পাঁচটি বেডরুম, সাড়ে চারটি বাথরুম, একটি ঢাকা বারান্দা, সনা এবং দুটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ। এছাড়াও এর বেসমেন্টে অতিরিক্ত একটি বেডরুম ও বাথরুম রয়েছে। প্রায় ৫ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তিটি ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অধীনে 'যেমন আছে তেমন' বা 'অ্যাজ-ইজ' শর্তে বিক্রি করা হবে।   বাড়িটির পেছনে রয়েছে জালিয়াতি ও অপরাধের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ২০০৩ সালে ব্যাঙ্গিয়েভ ভাইরা ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বাড়িটি কেনেন। ২০০৪ সাল থেকে তারা জাল নোট তৈরি ও বিতরণের এক বিশাল চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এসব উচ্চমানের জাল নোট যন্ত্রপাতি বহনকারী শিপিং কন্টেইনারে লুকিয়ে পাচার করা হতো।   জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, তাদের এই চক্র প্রতি তিন মাসে প্রায় ৩০ লাখ ডলারের জাল নোট যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসত এবং বিশ্বব্যাপী ৮ কোটি ডলারেরও বেশি জাল নোট ধরা পড়েছিল বা ছড়িয়ে পড়েছিল।   এই ভাইদের লং আইল্যান্ডে একটি গয়নার দোকান এবং ম্যানহাটনে সোনার ব্যবসা ছিল, যা দিয়ে তারা এই জাল নোট চক্রের অর্থায়ন করতেন। ২০১৫ সালে তারা অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তাদের এই অপরাধের সূত্র ধরেই ফরেস্ট হিলসের বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।   তবে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলেছে। এর আগে ১০ লাখ ডলারের একটি আলাদা গয়না জালিয়াতির মামলাতেও বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ভাইদের পাশাপাশি তাদের বোন ইলানা এবং এডুয়ার্ডের স্ত্রী ইরিনাও এই বাড়ির মালিকানার দাবিদার ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত সরকারের অনুকূলে বাড়ির দুই-তৃতীয়াংশ মালিকানা রায় দেয় এবং অবশেষে এটি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   আগামী ১১ ও ১৮ অক্টোবর বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং নিলামে অংশ নিতে হলে দেড় লাখ ডলার আমানত জমা দিতে হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৩:২৩
জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমাদ মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল ১১ অক্টোবর, সবাইকে আমন্ত্রণ

জর্জিয়ার লিলবার্নে আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘আমাদ (মামু) মেমোরিয়াল সকার টুর্নামেন্ট ২০২৬’ এর ফাইনাল। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার আয়োজনে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে উৎসাহ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মাঠে এসে ফাইনাল উপভোগ করার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল পর্বে প্রথম ম্যাচে বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে এএফসি ও মিডটাউন টার্ফ টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বিকেল সাড়ে ৫টায় খেলবে রেবেলস এফসি ও বিডি ইউনাইটেড। এই দুই ম্যাচের বিজয়ী দল সন্ধ্যা ৭টায় ফাইনালে মুখোমুখি হবে। ফলে দিনব্যাপী ফুটবল আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিলবার্নে জমবে বাংলাদেশি কমিউনিটির মিলনমেলা।   আয়োজকদের মতে, এই ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে তরুণ ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, তাদের মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা এবং বিভিন্ন পরিবারের ও কমিউনিটির মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে এসব আয়োজন। মাঠে একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যেও কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ে।   সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্রীড়াভিত্তিক আয়োজন ঘিরে মানুষের আগ্রহও দেখা গেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত সাকিব আলী স্মৃতি মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলাগুলো উপভোগ করেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন এবং আয়োজন নিয়ে নিজেদের মতামতও শেয়ার করেন। ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঘিরে তৈরি হওয়া এই অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে একসঙ্গে হওয়ার আগ্রহের বিষয়টিও সামনে এনেছে।   ফুটবলের এই আয়োজন সেই কমিউনিটি সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকছে এই টুর্নামেন্টে।   টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, লিলবার্নের হারমনি গ্রোভ পার্কে। ঠিকানা ১১৯ হারমনি গ্রোভ রোড, লিলবার্ন, জর্জিয়া। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। দর্শকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে আয়োজকদের প্রচারপত্রে জানানো হয়েছে।   জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া ও বাংলাদেশ স্পোর্টস ফেডারেশন অব জর্জিয়ার এই আয়োজন তাই শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ হিসেবেও এই আয়োজনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৩:৪
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে সফল ব্যবসা শুরু করেছেন ইথান আলেকজান্ডার। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১৬ বছরেই ব্যবসা শুরু করে মাসে ২৫ হাজার ডলার আয় মার্কিন কিশোরের

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইথান আলেকজান্ডার। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং পরিবারের গ্যারেজ পরিণত হয় পণ্যের গুদামে। তবে এখানে ২৫ হাজার ডলার তাঁর নিট লাভ নয়; এটি এক মাসে পণ্য বিক্রি থেকে আসা মোট অর্থ বা রেভিনিউ। গত বছর তাঁর মোট বিক্রিও প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল।   বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইথান বলেন, ২০২৫ সালে হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অনলাইনে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রির ধারণাটি তাঁর মাথায় আসে। প্রতি বছর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি বিনিয়োগ হিসাব থেকে তিনি ৫০০ ডলার পেতেন। সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয় তাঁর ব্যবসার পথচলা।   ইনস্টাগ্রামে অনলাইন রিসেলিং নিয়ে একটি ভিডিও দেখার পর বিষয়টিতে আগ্রহী হন ইথান। হাতে থাকা ৫০০ ডলার দিয়ে একজনের কাছ থেকে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির কৌশল শেখেন। খুব বেশি গবেষণা ছাড়াই ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।   শুরুতেই অপ্রত্যাশিত সাড়া পান ইথান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসেই প্রায় ১০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেন। কয়েক মাস পর আগস্টে মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।   তাঁর ব্যবসার কৌশল ছিল প্রতিটি পণ্যে তুলনামূলক কম লাভ রেখে বেশি পরিমাণে বিক্রি করা। সাধারণত একটি পণ্যে ২ থেকে ৪ ডলার লাভ রাখতেন। তাই বড় অঙ্কের বিক্রি হলেও পুরো অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত আয় বা লাভ ছিল না।   ইথানের প্রথম বিক্রি করা পণ্য ছিল লন্ড্রি ডিটারজেন্ট। ওয়ালমার্ট থেকে কিনে অ্যামাজনে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দামে সেটি বিক্রি করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে লাভজনক পণ্য খুঁজতে অ্যামাজন বিক্রেতাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করেন।   ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির গ্যারেজ কার্যত গুদামে পরিণত হয়। গ্রেটার কানসাস সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ালমার্টে নিজের ট্রাক নিয়ে ঘুরে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতেন। দিনের বেলা পণ্য সংগ্রহের পর গভীর রাত পর্যন্ত সেগুলো প্যাক করতেন এবং পরদিন পোস্ট অফিসে পাঠাতেন।   ব্যবসার পরিধি একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে কোনো কোনো মাসে শুধু পণ্য কিনতেই প্রায় ৪৫ হাজার ডলার খরচ করতেন ইথান। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথম দিকে মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। বড় অঙ্কের লেনদেন বারবার সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পরে নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হয় তাঁকে।   কাজের চাপ সামলাতে কয়েকজনকে পণ্য প্যাক করার জন্য নিয়োগও দিয়েছিলেন। তবে একজন ভুল পণ্যে ভুল লেবেল লাগিয়ে দেওয়ায় তাঁর কয়েক হাজার ডলার ক্ষতি হয়। ব্যবসার মাধ্যমে লাভের পাশাপাশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ঝুঁকিও শেখেন তিনি।   এই সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত জীবনেও মূল্য দিতে হয়েছে ইথানকে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, নিজের বাড়িতেই কার্যত একটি গুদামের চাকরি করছিলেন তিনি।   ইথানের মা নিজেও স্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং ব্যবসায়িক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে মায়ের পরামর্শ তাঁর কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন ইথান।   তবে দ্রুত বড় হওয়া ব্যবসা শেষ পর্যন্ত পড়াশোনার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে থাকায় ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন।   ইথানের মতে, অ্যামাজনে বিক্রির গতি ধরে রাখতে নিয়মিত নতুন পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রি চালিয়ে যেতে হতো। ফলে ব্যবসাটি শুধু অল্প সময় দিয়ে ছোট পরিসরে চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।   ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের কিছু অংশ পোশাক ও মেটার স্মার্ট গ্লাসের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কিনতে ব্যয় করেছেন তিনি। তবে বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।   বর্তমানে ইথানের বয়স ১৮ বছর। তিনি হাইস্কুলের শেষ বর্ষে প্রবেশ করছেন এবং কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর বাবা-মা আগে থেকেই তাঁর উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেখেছেন।   নিজের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার পরও উচ্চশিক্ষা বাদ দিতে চান না ইথান। তবে ব্যবসায়িক শিক্ষা নিতে গিয়ে বাস্তব ব্যবসা পরিচালনা করে ইতোমধ্যে যা শিখেছেন, তার চেয়ে কতটা নতুন কিছু শিখতে পারবেন, সেটি নিয়ে তাঁর কৌতূহল রয়েছে।   ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অবশ্য তিনি নিশ্চিত। আবারও উদ্যোক্তা হতে চান ইথান। ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি তাঁকে বিক্রি, পণ্য নির্বাচন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে।   তাঁর গল্পে ২৫ হাজার ডলারের মাসিক অঙ্কটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেও সেটি নিট লাভের হিসাব নয়। এটি মাসিক মোট বিক্রি। পণ্য কেনা, কর্মী ও ব্যবসার অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর প্রকৃত লাভ কত ছিল, বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১২:৫৪
আটলান্টায় আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় ডিসেম্বরে আবারও কনস্যুলার সেবা, জানালেন সমিতির সভাপতি আরিফিন বাবুল

জর্জিয়া ও পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য আবারও কনস্যুলার সেবা নিয়ে আসছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর আটলান্টায় এই কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেবার তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। জর্জিয়া বা পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত যেসব বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী, তাদের নির্ধারিত তারিখ দুটি ক্যালেন্ডারে রেখে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আরিফিন বাবুল আমেরিকা বাংলাকে জানান, কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত দিনে যথাসময়ে সেবাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আসার পাশাপাশি আয়োজকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের সহযোগিতায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।   এবারের আয়োজনে শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আরিফিন বাবুল জানান, কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেবা গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেবাপ্রত্যাশীদেরও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।     কনস্যুলার সেবা অনুষ্ঠিত হবে 3150 Holcomb Bridge Road, 1st Floor, Norcross, GA 30071 ঠিকানায়। আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর দুই দিন সেখানে মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সেবা দেওয়া হবে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা এই আয়োজনে পাওয়া যাবে না। এনআইডি সেবার জন্য সংশ্লিষ্টদের মায়ামিতে অবস্থিত কনস্যুলেটে যেতে হবে।   জর্জিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডা থেকেও বাংলাদেশিরা এই কনস্যুলার সেবা নিতে পারবেন বলে জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুল। তিনি বলেন, এসব অঙ্গরাজ্য থেকে যারা আটলান্টায় এসে কনস্যুলার সেবা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য মায়ামি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তথ্য ভালোভাবে দেখে প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন। নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সেবাকেন্দ্রে আসার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনস্যুলার সেবার বিস্তারিত প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। তাই সেবা নিতে আগ্রহীদের এখন থেকেই ১২ ও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ নিজেদের ক্যালেন্ডারে রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সেবা গ্রহণ করলে পুরো কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।   কনস্যুলার সেবা আয়োজনসংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরিফিন বাবুলের সঙ্গে 404-552-3241 নম্বরে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান শান্তর সঙ্গে 404-542-0717 নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জর্জিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিদের নির্ধারিত দুই দিন মনে রাখার এবং কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১২:৪৩
পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির নেতার সঙ্গে বিয়েতে বসা প্রতারক সেই নববধূর বিয়ের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি কর্মকর্তা সেজে বিয়ে, ১৪ ভরি স্বর্ণ-নগদ নিয়ে উধাও নববধূ

ভারতের পাঞ্জাবে নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আম আদমি পার্টির এক নেতাকে বিয়ে করার পর ১৪ তোলা স্বর্ণালংকার ও এক লাখ রুপি নগদ নিয়ে নববধূ উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই নারীর বিরুদ্ধে নিজের বয়স পরিবর্তন, আগের বিয়ে ও সন্তান থাকার তথ্য গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় প্রতিষ্ঠায় জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনায় ওই নারী ও তাঁর পাঁচ স্বজনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ফতেহগড় সাহিব পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগকারী ৩৩ বছর বয়সী অমরিন্দর সিং মান্ডোফাল আম আদমি পার্টির পাঞ্জাব শাখার যুগ্ম সম্পাদক, জেলা পরিষদ সদস্য এবং সিরহিন্দ মার্কেট কমিটির চেয়ারম্যান। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ওই নারীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়েতে পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার, একজন মন্ত্রীসহ আম আদমি পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, বিয়ের আগে নারী নিজেকে পাঞ্জাব সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। প্রথমে জালন্ধরে কর্মরত থাকার কথা জানান এবং পরে মোহালিতে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন বলে দাবি করেন। নিজের পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করতে জাল সরকারি পদায়নের আদেশ পাঠানো এবং ইনস্টাগ্রামেও নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   পুলিশের কাছে করা অভিযোগে মান্ডোফাল আরও জানিয়েছেন, নারীর পরিবার তাঁদের তারন তারনে ৪০ একর জমি থাকার দাবি করেছিল। একই সঙ্গে তাঁর বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন বলে জানানো হয়। এমনকি বিয়ের আমন্ত্রণপত্রেও তাঁদের নামের আগে ‘লেট’ লেখা হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, নারীর মা জীবিত। বিয়ের পর সরকারি দায়িত্বের কথা বলে স্ত্রী বারবার বাড়ির বাইরে যাওয়ায় তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে নারী দাবি করেন, তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মান্ডোফাল সেই বরখাস্তের সরকারি নথি দেখতে চাইলে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত ২৭ আগস্ট ওই নারী বৈবাহিক বাড়ি ছেড়ে চলে যান। মান্ডোফালের অভিযোগ, যাওয়ার সময় তিনি ১৪ তোলা স্বর্ণালংকার এবং এক লাখ রুপি নগদ সঙ্গে নিয়ে যান। এরপর স্ত্রীর পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে আরও অসঙ্গতি পাওয়ার দাবি করেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দশম শ্রেণির সনদ, প্যান কার্ডসহ বিভিন্ন নথিতে নারীর জন্মতারিখ ১৮ জুন ১৯৯২ দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মূল নথিতে জন্মতারিখ ১৮ জুন ১৯৮০ বলে দাবি করা হয়েছে।   এখানেই শেষ নয়। মান্ডোফালের দাবি, ওই নারী ২০০৭ সালে অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁর ১৮ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। আগের বিয়ের বিষয়টি তাঁর কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। ওই বিয়ে নিয়ে ৩৫ লাখ রুপিতে আদালতের বাইরে বিচ্ছেদ সমঝোতা হয়েছিল বলেও তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে আগের বিয়ে, সন্তান, জন্মতারিখ এবং আর্থিক সমঝোতার এসব তথ্য অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে এসেছে এবং তদন্তে সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।   মান্ডোফালের আরও অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ৫০ লাখ রুপি দাবি করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে আদালতের বাইরে সমঝোতায় রাজি না হলে তাঁর বিরুদ্ধে যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতার মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে এফআইআর করেছে ফতেহগড় সাহিব পুলিশ।   থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রুপিন্দর সিং জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় মান্ডোফালের স্ত্রী, তাঁর ভাই, মা, ভাবি, এক আত্মীয় এবং গ্রামের সাবেক এক সরপঞ্চকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে।   অভিযুক্ত নারী কিংবা তাঁর পরিবারের বক্তব্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, নথি জাল করা, আগের বিয়ে ও সন্তান থাকার তথ্য গোপন এবং ১৪ তোলা স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১২:৬
দিল্লিতে পুলিশের বাসে করে হেফাজতে নেওয়ার সময় হাত নেড়ে হাসছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ছবি: সংগৃহীত
৯ ঘণ্টার বিক্ষোভের পর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রায় ৯ ঘণ্টার বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় কংগ্রেসের আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকেও আটক করা হয়।   ভোটার তালিকা সংশোধনের একটি বিশেষ কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। পরে তাঁরা আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান নেন।   বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কার্যক্রম ঘিরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে তারা। তবে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে এসব বক্তব্য বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ হিসেবেই এসেছে।   বিক্ষোভ চলাকালে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সরকার দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা জানান, নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এবং তাঁদের দাবি নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।   পুলিশের বাধার পর আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হয়। প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর রাতে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ।   এদিকে বিক্ষোভের মধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ফ্যাক্ট চেক ইউনিট সেই দাবি অস্বীকার করেছে।   পিআইবি জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বানোয়াট। একই সঙ্গে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।   ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই মঙ্গলবারের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল আটকে দেওয়ার পর আকাশবাণী ভবনের সামনে দীর্ঘ অবস্থান এবং পরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কয়েকজন নেতাকে আটকের ঘটনায় কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় আসে।   সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:৫০
নিউইয়র্কের সাবওয়ে স্টেশনে গিটার বাজিয়ে অভিনব উপায়ে করপোরেট চাকরি খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজিয়ে চাকরির খোঁজে বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ট্রেন স্টেশনে গিটার হাতে গান পরিবেশন করে আর্থিক সহায়তা ও করপোরেট চাকরির সুযোগ খুঁজছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। তাঁর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি অনলাইনে আলোচনায় এসেছে। তবে ওই তরুণের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তিনি ঠিক কোন স্টেশনে গান পরিবেশন করছিলেন, তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টে দেখা যায়, গিটার বাজিয়ে নিজের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন। পোস্টে তাঁকে বাংলাদেশি গিটারিস্ট হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে, জীবনের বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি একটি করপোরেট চাকরির সুযোগ পাওয়ার আশায় তিনি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।   নিউইয়র্কের ব্যস্ত ট্রেন ও সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে সংগীত পরিবেশন নতুন কোনো ঘটনা নয়। শহরের বিভিন্ন স্টেশনে নিয়মিত শিল্পীদের গান, গিটার, বেহালা, ড্রামসহ নানা ধরনের পরিবেশনা দেখা যায়। অনেক শিল্পী পথচারীদের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থ গ্রহণ করেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের সংগীত প্রতিভা পরিচিত করানোর মাধ্যম হিসেবেও এসব জায়গাকে ব্যবহার করেন।   তবে আলোচিত বাংলাদেশি তরুণের ঘটনাটি অন্য কারণে নজর কেড়েছে। প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর লক্ষ্য শুধু সংগীত পরিবেশন করে অর্থ সংগ্রহ নয়। একই সঙ্গে তিনি একটি পেশাগত সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করছেন। ফলে ঘটনাটি একজন প্রবাসীর কর্মসংস্থান খোঁজার সংগ্রাম এবং নিজের দক্ষতাকে ব্যবহার করে মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে নতুন অভিবাসীদের অনেকেই নিজের শিক্ষা ও আগের কর্মঅভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পেতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেন। ভাষা, স্থানীয় অভিজ্ঞতা, পেশাগত যোগাযোগ এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে সেই পথকে কঠিন করে তুলতে পারে। তবে আলোচিত গিটারিস্টের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে তিনি বর্তমানে চাকরি খুঁজছেন বা তাঁর পেশাগত পটভূমি কী, সে বিষয়ে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন বলে বিভিন্ন পোস্টে দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁর সংগীত প্রতিভার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব প্রতিক্রিয়ার সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   এ ধরনের ঘটনায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগে পরিচয় ও অনুদান গ্রহণের মাধ্যম যাচাই করার পরামর্শই সাধারণভাবে প্রযোজ্য। বিশেষ করে ভাইরাল পোস্টের সঙ্গে দেওয়া কোনো পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য ব্যবহার করার আগে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কি না নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী। ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, পরিবহন, সরকারি চাকরি এবং করপোরেট খাতসহ বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ রয়েছে। এর পাশাপাশি নতুন অভিবাসীদের চাকরি খোঁজা ও পেশাগতভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামের ঘটনাও প্রায়ই সামনে আসে।   নিউইয়র্কের ট্রেন স্টেশনে গিটার বাজানো এই বাংলাদেশি তরুণের ঘটনাটি তাই শুধু একটি সংগীত পরিবেশনের ভিডিও হিসেবে নয়, বরং জীবিকার সন্ধানে নিজের প্রতিভাকে সামনে আনার একটি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা হিসেবেও মানুষের নজর কাড়ছে। তাঁর পরিচয় ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার হবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:৩৭
আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অধ্যাপক মালবিকা সরকার। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে হার্ভার্ড, এখন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মালবিকা সরকার

বাংলাদেশের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষক অধ্যাপক মালবিকা সরকার আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততা বিভাগের সহযোগী ডিন এবং আচরণগত ও সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাস্তবায়নবিজ্ঞান, মিশ্র পদ্ধতির গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োগ তাঁর কাজের প্রধান ক্ষেত্র।   বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা দিয়ে তাঁর পেশাগত পথচলা শুরু। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর তিনি জনস্বাস্থ্যের দিকে মনোনিবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এর আগে সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে লিঙ্গ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণও নেন তিনি।   পেশাজীবনের শুরুতে বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন মালবিকা সরকার। কমিউনিটি পর্যায়ে চিকিৎসা, প্রজননস্বাস্থ্য এবং নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে বাস্তবায়নবিজ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়।   মালবিকা সরকার দীর্ঘ সময় ব্র্যাকের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর তিন দশকের বেশি সময়ের জনস্বাস্থ্য ক্যারিয়ারে প্রায় এক দশক তিনি ব্র্যাকের কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ও সাব সাহারান আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, প্রজননস্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তাঁর গবেষণার বিস্তৃতি রয়েছে।   বাংলাদেশে ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথে তিনি অধ্যাপক ও সহযোগী ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্বও পালন করেন। একই সঙ্গে গবেষণার ফল কীভাবে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যনীতি ও মাঠপর্যায়ের সেবায় প্রয়োগ করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি বাস্তবায়নবিজ্ঞান ও সম্প্রসারণ বিষয়ক একটি বিশেষায়িত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   ২০২৩ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে যোগ দেওয়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক গবেষণা ও শিক্ষাদানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবায়নবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব তৈরির কাজেও তিনি যুক্ত।   ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মালবিকা সরকার ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথের সহযোগী ডিন ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। এই পদে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য কৌশল এগিয়ে নেওয়া, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।   ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে মালবিকা সরকার গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্পে এক কোটির বেশি মার্কিন ডলারের অনুদান সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর ১৫৫টির বেশি পিয়ার রিভিউড গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের একটি তথ্যে তাঁর ১৫৮টি গবেষণা প্রবন্ধ এবং সাতটি বইয়ের অধ্যায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশ্বজনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক পর্ষদের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশনস এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক ও নেতৃত্বের ভূমিকায় তিনি কাজ করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এইচআরপি অ্যালায়েন্সের গবেষণা সক্ষমতা উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।   বিশ্বজনস্বাস্থ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে উইমেন ইন গ্লোবাল হেলথ তাঁকে ‘হিরোইন অব হেলথ’ সম্মাননায় ভূষিত করে। নারীর স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য গবেষণা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়।   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসাশিক্ষা থেকে শুরু করে হার্ভার্ড ও হাইডেলবার্গে উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশে ব্র্যাকের জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং বর্তমানে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও নেতৃত্ব, মালবিকা সরকারের পেশাগত পথচলা বাংলাদেশের একজন চিকিৎসক ও গবেষকের বিশ্বজনস্বাস্থ্য অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।   সূত্র: পাবলিকিয়ান

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:২৪
অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অপারেশনের সময় টিকটকে নাচের ভিডিও, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত

অপারেশন টেবিলে রোগী, আর পাশে চিকিৎসক কখনো গান গাইছেন, কখনো নাচছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসক উইন্ডেল ডেভিস বুটের এমন একাধিক ভিডিও ২০১৮ সালে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, নাচতে নাচতে অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর এক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এই দাবিটি সঠিক নয়। তাঁর এক রোগী স্থায়ীভাবে গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন, আর অন্য এক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড তাঁর মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে।    উইন্ডেল ডেভিস বুটে জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকার লিলবার্নে কসমেটিক সার্জারি করতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি বোর্ড সার্টিফায়েড প্লাস্টিক সার্জন ছিলেন না। আটলান্টা জার্নাল কনস্টিটিউশনের অনুসন্ধানে বলা হয়, তিনি আমেরিকান বোর্ড অব ডার্মাটোলজির মাধ্যমে ডার্মাটোলজিতে বোর্ড সার্টিফায়েড ছিলেন।    ঘটনাটি আলোচনায় আসে তাঁর ক্লিনিক থেকে প্রকাশ করা একাধিক ভিডিওর কারণে। ভিডিওগুলোতে তাঁকে অস্ত্রোপচার চলাকালে গান গাইতে, নাচতে এবং ক্যামেরার সামনে অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। কিছু ভিডিওতে রোগীর শরীরও দৃশ্যমান ছিল। এগুলো টিকটকের জন্য তৈরি হয়েছিল, এমন দাবিরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওগুলো তাঁর ক্লিনিকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারণার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।    সবচেয়ে আলোচিত রোগীদের একজন ছিলেন আইসিলমা কর্নেলিয়াস। কসমেটিক সার্জারির পর তাঁর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর মস্তিষ্কের ক্ষতির শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তাঁকে সার্বক্ষণিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। চিকিৎসক বুটে অবশ্য আদালতের নথিতে দাবি করেছিলেন, রোগীর জটিলতা তাঁর চিকিৎসার ত্রুটির কারণে হয়নি।    এই ঘটনাসহ একাধিক রোগীর অভিযোগ সামনে আসার পর চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, নিরাপত্তা মান না মানা এবং রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন সাবেক রোগী মামলা করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ অস্ত্রোপচারের পর বিকৃতি, সংক্রমণ বা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ তোলেন।    তবে জর্জিয়া মেডিকেল বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ আসে ২০১৮ সালের মে মাসের শেষ দিকে আরেক রোগীর গুরুতর জটিলতার পর। ওই নারী বুটের কাছে লাইপোসাকশন, ব্রেস্ট অগমেন্টেশন এবং ব্রাজিলিয়ান বাট লিফট করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শ্বাসকষ্ট এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর একটি ফুসফুস ধসে পড়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অ্যানিমিয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন।    এরপর ২০১৮ সালের ৭ জুন জর্জিয়া কম্পোজিট মেডিকেল বোর্ড বুটের মেডিকেল লাইসেন্স জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করে। বোর্ডের আদেশে বলা হয়, তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বোর্ড আরও জানায়, সর্বশেষ রোগীর চিকিৎসা ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা মান পূরণ করেনি এবং এর আগেও একই ধরনের সমস্যা দেখা গেছে।    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাঁর লাইসেন্স কেবল অপারেশনের সময় নাচার কারণে স্থগিত করা হয়নি। বোর্ডের সিদ্ধান্তে মূলত রোগীদের চিকিৎসা, গুরুতর জটিলতা এবং একাধিক ঘটনায় চিকিৎসার ন্যূনতম মান বজায় না রাখার অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। নাচ ও গান করার ভিডিওগুলো অবশ্য তাঁর পেশাগত আচরণ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১১:৭
সিরাজগঞ্জে অসহায় ও দরিদ্র ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
দুর্গম চর থেকে গ্রামগঞ্জ, ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ সিরাজগঞ্জের মামুন

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ জন অসহায়, দরিদ্র ও অভিভাবকহীন মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনায় এসেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতজনদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ করে যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মেয়েদের বিয়ের আয়োজন করে দিচ্ছেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাঁকে ১৫৬ মেয়ের ‘বাবা’ বলে ডাকেন।    মামুন বিশ্বাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারছিল না, তাদের জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর সেই অর্থ দিয়ে বিয়ের প্রয়োজনীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। এভাবে এখন পর্যন্ত ১৫৬টি মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন মামুন। ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন তিনি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।    এর ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর কামারখন্দের জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন মামুন বিশ্বাস। আর্থিক সংকটের কারণে এর আগে একাধিকবার সুচিত্রার বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। পরে মামুনের উদ্যোগে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সুচিত্রার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।    শুধু নিজ এলাকার মধ্যেই তাঁর এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল, চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। বিয়ের পরও তাঁদের নিজের মেয়ের মতো দেখেন বলে জানিয়েছেন মামুন। আর এই সম্পর্ক থেকেই স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর ‘বাবা’ পরিচিতি তৈরি হয়েছে।    তবে এতগুলো বিয়ের কৃতিত্ব একা নিজের বলে মনে করেন না মামুন বিশ্বাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মানবিক কাজের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ফেসবুক বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। তিনি মূলত মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন পৌঁছে দেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া সহযোগিতা একত্র করে প্রয়োজনমতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতেও আরও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।    মামুনের সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু মেয়েদের বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই সীমিত নয়। জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ এবং গবাদিপশু কিংবা দোকান দিয়ে পরিবারকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। নিজের গ্রামে পাখির জন্য একটি অভয়াশ্রমও গড়ে তুলেছেন মামুন বিশ্বাস।    প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ১৫৬টি বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি মামুন বিশ্বাস এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি বিয়ের আলাদা নথি বা সরকারি কোনো তালিকার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিক আতিয়া ও সুচিত্রার বিয়েসহ তাঁর কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন উদাহরণ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।   ৩৮ বছর বয়সে ১৫৬ মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে মামুন বিশ্বাস এখন সিরাজগঞ্জের পরিচিত সমাজকর্মীদের একজন। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের পাশে অভিভাবকের ভূমিকায় দাঁড়ানোর এই উদ্যোগই তাঁকে স্থানীয় মানুষের কাছে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, মানবিক কাজে মানুষের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।   সূত্র: ইত্তেফাক

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:৪৯
জাপানের বিজ্ঞানীরা রোবটের শরীরে ব্যবহারের জন্য মানুষের মতো ক্ষত সারাতে সক্ষম চামড়া তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত

মানুষের মতো নরম, নমনীয় এবং ক্ষত সারাতে সক্ষম চামড়া এবার রোবটের শরীরেও ব্যবহারের পথ দেখিয়েছেন জাপানের বিজ্ঞানীরা। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শোজি তাকেউচির নেতৃত্বে গবেষকেরা মানবকোষ ও কোলাজেন দিয়ে তৈরি জীবন্ত ত্বক একটি তিন জোড়ার রোবটিক আঙুলের গায়ে সফলভাবে বসিয়েছেন। আঙুলটি বাঁকালে ত্বকও স্বাভাবিকভাবে নড়ে এবং কেটে গেলে কোলাজেন শিটের সহায়তায় প্রায় সাত দিনের মধ্যে ক্ষতস্থান জোড়া লাগতে শুরু করে।   গবেষণাটি ২০২২ সালে প্রকাশিত হলেও জীবন্ত টিস্যু দিয়ে তৈরি রোবোটিক কাভারিং নিয়ে আলোচনায় এটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকেরা প্রথমে রোবটের আঙুলের চারপাশে কোলাজেন ও মানব ত্বকের ডার্মাল কোষ ব্যবহার করে একটি স্তর তৈরি করেন। এরপর এর ওপর কেরাটিনোসাইট যোগ করে মানুষের ত্বকের বাইরের স্তরের মতো আরেকটি স্তর গড়ে তোলা হয়।   এই পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো, ত্বকটি আলাদা করে তৈরি করে পরে রোবটের গায়ে জোড়া লাগানো হয়নি। বরং রোবটের আঙুলের চারপাশেই সরাসরি ত্বকটি গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে আঙুলের বাঁক, খাঁজ ও জোড়াগুলোর সঙ্গে ত্বকটি ঘনিষ্ঠভাবে মানিয়ে যায় এবং নড়াচড়ার সময় সহজে ছিঁড়ে যায় না।   গবেষণায় ব্যবহৃত রোবটিক আঙুলটি তিনটি জোড়াসম্পন্ন। একটি মোটর ও তারের সাহায্যে এটি বাঁকানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, জীবন্ত ত্বক দিয়ে ঢাকার পরও আঙুলটি জোড়াগুলো নড়াতে পারছে এবং ত্বক তার সঙ্গে নমনীয়ভাবে প্রসারিত হচ্ছে।   সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ত্বকের ক্ষত সারানোর পরীক্ষা। গবেষকেরা স্ক্যালপেল দিয়ে ত্বকের ডার্মাল স্তরে একটি ক্ষত তৈরি করেন। পরে সেই জায়গায় পাতলা কোলাজেন শিট লাগিয়ে দেন। প্রায় সাত দিন কালচারের পর দেখা যায়, আশপাশের ত্বকের কোষ কোলাজেন শিটের মধ্যে প্রবেশ করেছে এবং ক্ষতস্থানের সংযোগ শক্তিশালী হয়েছে। এরপর রোবটিক আঙুলটি আবার আগের মতো বাঁকানো সম্ভব হয়।   তবে এটিকে মানুষের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ক্ষত নিরাময় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। গবেষণায় ক্ষতস্থানে কোলাজেন শিট বসিয়ে দিতে হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পুষ্টিসমৃদ্ধ তরল পরিবেশে চালানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে এই ত্বক শরীরের মানুষের ত্বকের মতো খোলা বাতাসে দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকতে পারে না।   এটাই প্রযুক্তিটির বড় সীমাবদ্ধতা। বর্তমান সংস্করণে ত্বকের ভেতরে রক্তনালি বা এমন কোনো সঞ্চালন ব্যবস্থা নেই, যা নিয়মিত পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। ফলে জীবন্ত অবস্থায় রাখতে এটিকে বিশেষ কালচার মিডিয়ামের মধ্যে রাখতে হয়। গবেষকেরা ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে পুষ্টি সরবরাহের জন্য ক্ষুদ্র চ্যানেল তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।   অধ্যাপক শোজি তাকেউচির দল দীর্ঘদিন ধরে বায়োহাইব্রিড রোবোটিকস নিয়ে কাজ করছে। এই ক্ষেত্রটিতে জীবন্ত কোষ ও টিস্যুকে যান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে এমন প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়, যা প্রচলিত রোবটের তুলনায় বেশি নমনীয় ও মানুষের শরীরের বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি হতে পারে।   গবেষকদের লক্ষ্য শুধু রোবটকে মানুষের মতো দেখতে করা নয়। ভবিষ্যতে ত্বকের মধ্যে সংবেদনশীল কোষ, চুলের ফলিকল, ঘামগ্রন্থিসহ আরও জটিল উপাদান যুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা দেখছেন। এতে কোনো রোবট স্পর্শ অনুভব করা, তাপমাত্রা বুঝতে পারা কিংবা নিজের বাইরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মেরামত করার মতো সক্ষমতার দিকে এগোতে পারে।   এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট, চিকিৎসা গবেষণা, ওষুধ ও প্রসাধনী পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে এমন রোবটের ক্ষেত্রে নরম ও নমনীয় বহিরাবরণ নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।   তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ের। মানুষের মতো পূর্ণাঙ্গ ত্বক, দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার ক্ষমতা কিংবা স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্ষত নিরাময়ের পর্যায়ে প্রযুক্তিটি পৌঁছায়নি। তারপরও মানুষের জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি ত্বক একটি চলমান রোবটের গায়ে বসানো এবং ক্ষত সারানোর সক্ষমতা দেখাতে পারা ভবিষ্যতের বায়োহাইব্রিড রোবট তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:৩৬
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও সকালে সন্তানদের জন্য স্কুল লাঞ্চ তৈরি করছেন বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরথ। ছবি: সংগৃহীত
নোবেল জয়ের খবরের পরও সন্তানের স্কুল লাঞ্চ বানালেন স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার ফিরে গেলেন প্রতিদিনের পারিবারিক দায়িত্বে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কার্ল ডাইসেরথ ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরও সকালে নিজের সন্তানদের জন্য স্কুল লাঞ্চ তৈরি করেছেন। বিশ্বজুড়ে সম্মান পাওয়ার সেই ব্যস্ত সকালেও বাবার দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি।   ৫ অক্টোবর নোবেল অ্যাসেম্বলি ঘোষণা করে, কার্ল ডাইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগেম্যান এবং গিওর্গ নাগেল যৌথভাবে ২০২৬ সালের ফিজিওলজি বা মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন। আলোকসংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল এবং অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের স্বীকৃতিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।   ডাইসেরথ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এবং সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক। তিনি হাওয়ার্ড হিউজ মেডিকেল ইনস্টিটিউটের একজন গবেষকও। তাঁর গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র অপটোজেনেটিকস বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছে।   অপটোজেনেটিকস এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে জীবন্ত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যক্রম চালু বা বন্ধ করা যায়। এই পদ্ধতি গবেষকদের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষ কীভাবে আচরণ, অনুভূতি ও বিভিন্ন স্নায়বিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে, তা আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিয়েছে।   নোবেল জয়ের খবরটি ডাইসেরথ পান ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ডে নিজের বাড়িতে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৭ মিনিটে নোবেল কমিটির প্রথম ফোনটি তিনি ধরতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্ত্রী মিশেল মঞ্জে ডাইসেরথের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানতে পারেন, স্টকহোম থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হচ্ছে।   হঠাৎ এত বড় খবর শুনে কিছু সময় কথা বলতেই পারছিলেন না বলে পরে জানিয়েছেন ডাইসেরথ। এরপর শুরু হয় একের পর এক ফোনকল, সাক্ষাৎকার ও অভিনন্দনের বার্তা। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে হয় তাঁকে।   কিন্তু সকাল হওয়ার পর তিনি স্ট্যানফোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে প্রায় এক ঘণ্টার বিরতি চান। কারণ তখন তাঁর সন্তানদের ঘুম থেকে ওঠার সময় হয়ে গেছে এবং স্কুলে যাওয়ার আগে তাদের লাঞ্চ তৈরি করতে হবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নোবেল জয়ের সকালেও ডাইসেরথ প্রতিদিনের মতো সন্তানদের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন। স্ট্যানফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাড়িতে থাকা তিন সন্তানের জন্য তিনি মোট ছয়টি স্যান্ডউইচ তৈরি করেন। সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিটির উপকরণও ছিল আলাদা।   ডাইসেরথের পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাঁর ১০ বছর বয়সী মেয়ে সোফি বাবার নোবেল জয়ের খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ১৩ বছর বয়সী মেয়ে এমাও বাবাকে অভিনন্দন জানায়। তাঁদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে হাডসন বাবাকে অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বড় ছেলে আলেকজান্ডার বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।   ডাইসেরথের স্ত্রী মিশেল মঞ্জে ডাইসেরথ নিজেও স্ট্যানফোর্ডের একজন বিজ্ঞানী ও শিশু নিউরো অনকোলজিস্ট। নোবেল জয়ের খবর পাওয়ার সেই সকালে পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়ার কিছু মুহূর্ত স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশ করেছে।   কার্ল ডাইসেরথের জন্ম ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিক্যাল সায়েন্সেসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে স্ট্যানফোর্ড থেকে নিউরোসায়েন্সে পিএইচডি এবং মেডিকেল ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে তিনি স্ট্যানফোর্ডে নিজের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন।   নোবেল পুরস্কারের আগে তিনি লাস্কার বেসিক মেডিকেল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড, কিয়োটো প্রাইজ, ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন লাইফ সায়েন্সেস, জাপান প্রাইজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।   ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। তিন বিজয়ী এই অর্থ সমানভাবে ভাগ করে নেবেন।   তবে নোবেল জয়ের সকালটির সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে তাঁর গবেষণাগার বা পুরস্কারের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্ত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও সন্তানদের স্কুলের খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে ফিরে যাওয়া ডাইসেরথের সেই মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:২৯
সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে থাকা সত্ত্বেও নিজের মেধা ও গবেষণা দিয়ে হার্ভার্ডে সুযোগ পেয়েছেন রেজাউল করিম রিপন। ছবি: সংগৃহীত
৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়েই হার্ভার্ডে, গবেষণায় পথ খুলেছেন জাবির রিপন

সিজিপিএ ৩.৫-এর নিচে হলে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কঠিন, এমন ধারণা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যেই রয়েছে। সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের গবেষণা ও একাডেমিক কাজ দিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম রিপন। স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। সেই ফলাফল নিয়েই তিনি হার্ভার্ডে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পান।    ২০২৩ সালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রিপনের এই পথচলার বিস্তারিত উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষ শেষ করার সময় তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৪৬। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের আগে তিনি কোনো ভাষা দক্ষতা পরীক্ষাতেও অংশ নেননি। তারপরও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশিত কাজ তাঁর উচ্চশিক্ষার প্রোফাইলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের সুযোগ পান।    রিপনের গল্প অবশ্য শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়ে হার্ভার্ডে পৌঁছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই তিনি গবেষণায় সক্রিয় হন। জনস্বাস্থ্য, রোগের বৈশ্বিক বোঝা, সামাজিক ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণায় তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফেসবুক আসক্তি নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায়ও তিনি গবেষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সেখানে তাঁর পরিচয় ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষক হিসেবে।    বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেটেও প্রকাশিত গবেষণায় তাঁর নাম রয়েছে। ২০২১ সালে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডির অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রকোপ এবং এর কারণে মানুষ কত বছর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে, তা নিয়ে দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি বড় আন্তর্জাতিক গবেষণায় রেজাউল করিম রিপন অবদান রাখেন। গবেষণাটিতে বিশ্বের বহু দেশের বিপুলসংখ্যক গবেষক অংশ নিয়েছিলেন।    হার্ভার্ডে যাওয়ার পরও তাঁর গবেষণার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় তাঁর পরিচয়ের সঙ্গে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উভয়ের নাম যুক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের হৃদরোগ ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ে করা সেই গবেষণায় তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং গবেষণাপত্র তৈরিসহ একাধিক ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেন।    পরবর্তী বছরগুলোতেও তাঁর গবেষণা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জ্যামা নেটওয়ার্ক ওপেনে নারীদের শরীরে পিএফএএস নামের রাসায়নিকের সংস্পর্শ ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণার প্রথম লেখক ছিলেন রিপন। সেখানে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজির গবেষক হিসেবে। গবেষণাটিতে তথ্যের যথার্থতা ও বিশ্লেষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল।    ২০২৬ সালেও তাঁর গবেষণার ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকার কিশোরীদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যানসার, এইচপিভি এবং এইচপিভি ভ্যাকসিন সম্পর্কে জ্ঞান ও টিকা নেওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি প্রথম লেখক। ওই গবেষণাতেও তাঁর প্রতিষ্ঠান হিসেবে হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বছর পরিবেশে থাকা পিএফএএস রাসায়নিক এবং হৃদরোগের সম্পর্ক নিয়ে আরেকটি আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও তিনি কাজ করেছেন।    রিপনের পথচলা উচ্চশিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সিদ্ধান্ত কেবল একটি সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, নিজের আগ্রহের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কাজ এবং একটি শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইলও আবেদনকে আলাদা করে তুলতে পারে।   তবে তাঁর সাফল্যকে কম সিজিপিএ থাকলেই হার্ভার্ড বা অন্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ভর্তি প্রক্রিয়া আলাদা এবং আবেদনকারীর সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। রিপনের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে, তা হলো স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা।   জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে হার্ভার্ডের জনস্বাস্থ্য গবেষণায় পৌঁছানো রেজাউল করিম রিপনের পথচলা তাই শুধু ৩.৪৬ সিজিপিএর গল্প নয়। এটি একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষতা ও ধারাবাহিক কাজ কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথকে শক্তিশালী করতে পারে, তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সূত্র: দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:১১
প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণ এখনো অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে

আধুনিক বিশ্বে বিমান ভ্রমণকে অনেকের কাছে স্বাভাবিক যাতায়াতের মাধ্যম মনে হলেও বৈশ্বিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখনো পৃথিবীর তুলনামূলক ছোট একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষ জীবনে অন্তত একবার বিমানে ভ্রমণ করেছেন। সেই হিসাবে পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের এখনো বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। অর্থনৈতিক সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান পরিবহনের সুযোগের পার্থক্য এই বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত।   বিমান চলাচল নিয়ে এর আগের একটি বহুল উদ্ধৃত গবেষণাতেও বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছিল। ২০২০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা হিসাব করেছিলেন, সে বছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।   আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল আরও কম। গবেষণাটির হিসাবে, ২০১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটন এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণকে যতটা সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে, বৈশ্বিক জনসংখ্যার হিসাবে সেই অভিজ্ঞতা আসলে খুব অল্প মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।   তবে একটি নির্দিষ্ট বছরে কত শতাংশ মানুষ বিমানে ভ্রমণ করেছেন এবং জীবনে কখনো বিমানে চড়েছেন কি না, এই দুটি হিসাব এক নয়। ২০১৮ সালে প্রায় ১১ শতাংশ মানুষের বিমান ভ্রমণের তথ্যের অর্থ এই নয় যে বাকি ৮৯ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো বিমানে ওঠেননি। জীবদ্দশায় বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার হিসাব আলাদা।   বিমান চলাচলের আরেকটি বড় বৈষম্য দেখা যায় ঘনঘন ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে। আগের গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিল, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল থেকে তৈরি কার্বন নিঃসরণের ৫০ শতাংশের বেশি অংশের জন্য দায়ী।   অর্থাৎ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনে কখনো বিমানে না চড়লেও ছোট একটি জনগোষ্ঠী বছরে একাধিকবার কিংবা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করছে। ফলে বিমান খাতের পরিবেশগত প্রভাবও বিশ্বের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে নেই।   বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মানুষের মধ্যে বিমান ভ্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের কারণে এসব দেশের একটি অংশের মানুষের কাছে বছরে একাধিকবার বিমানে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা।   অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিমানের টিকিট এখনো বড় ব্যয়। শুধু টিকিটের মূল্য নয়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খরচ, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য ব্যয় এবং অনেক অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিমান যোগাযোগ না থাকাও বিমান ভ্রমণের সুযোগকে সীমিত করতে পারে।   এ কারণেই বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিমানযাত্রা হলেও সেই সংখ্যা দেখে কতজন আলাদা মানুষ বিমানে চড়ছেন, তা বোঝা যায় না। একজন নিয়মিত যাত্রী বছরে বহুবার বিমান ভ্রমণ করতে পারেন এবং প্রতিটি যাত্রাই মোট যাত্রী চলাচলের হিসাবে আলাদাভাবে যুক্ত হয়।   উদাহরণ হিসেবে একজন ব্যবসায়ী বা নিয়মিত পর্যটক বছরে ১০ বার বিমানে ভ্রমণ করলে মোট যাত্রার হিসাবে ১০টি ভ্রমণ যোগ হবে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা একজন মানুষ হয়তো পুরো জীবনেই একবারও বিমানে ওঠার সুযোগ পাননি। ফলে মোট ফ্লাইট বা মোট যাত্রীযাত্রার সংখ্যা দিয়ে বিমান ভ্রমণ কত মানুষের নাগালে পৌঁছেছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।   গবেষণায় বিমান ভ্রমণের সঙ্গে আয় ও সম্পদের সম্পর্কও সামনে এসেছে। উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত বিমান ভ্রমণের প্রবণতা বেশি হওয়ায় বিমান চলাচল থেকে তৈরি পরিবেশগত প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি কেন্দ্রীভূত।   বিশ্বের শীর্ষ ঘনঘন বিমানযাত্রীদের ছোট একটি অংশের ভ্রমণের কারণেই যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের মোট কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বিমান খাতের অর্ধেকের বেশি কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক থাকার হিসাব এই বৈষম্যের মাত্রা তুলে ধরে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কখনো বিমানে চড়েননি” দাবিটিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বর্তমান সরাসরি হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষের জীবনে বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের কখনো বিমানে না চড়ার হিসাবকে সমর্থন করে।   এ তথ্য এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা সামনে আনে, যেখানে বিমান প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও এর ব্যবহার এখনো মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। বিশ্বের একটি অংশের কাছে বিমান ভ্রমণ দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি এখনো অনভিজ্ঞ একটি বিষয়।   একই সঙ্গে বিমান চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনাতেও এই বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা কখনো বিমানে ওঠেননি, তাঁরাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারেন। অথচ যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে তুলনামূলকভাবে ছোট একটি নিয়মিত যাত্রীগোষ্ঠীর ভ্রমণ থেকে।   সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের আকাশে হাজার হাজার বিমান চললেও বিমান ভ্রমণ এখনো সর্বজনীন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠেনি। গবেষণার হিসাবে, পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অন্যদিকে যারা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করেন, তাঁদের মধ্যেও খুব ছোট একটি অংশ বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:০
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ‘প্লেগে দ্বিতীয় মৃত্যুর’ দাবি, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে সম্ভাব্য প্লেগ সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবার দ্বিতীয় একজনের মৃত্যুর দাবি সামনে এসেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাড জানিয়েছে, ইরকুতস্ক ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে এক ব্যক্তি মারা গেছেন এবং তার মৃত্যুর কারণ প্লেগ হতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কিংবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই দ্বিতীয় মৃত্যুকে প্লেগজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বরং রাশিয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছে, ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ রোগী শনাক্ত হয়নি।   ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ শুরু হয় ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২৮ বছর বয়সী কর্মী দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর। বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি গবেষণাগারে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন। তবে এই দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   রুশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, শিপিলোভা অজানা উৎসের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা রসপোত্রেবনাদজর জানিয়েছে, তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বিপজ্জনক সংক্রামক রোগের জীবাণু পাওয়া যায়নি এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।   মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানায়, রাশিয়া তাদের কাছে ইরকুতস্কে কোনো নিশ্চিত প্লেগ সংক্রমণ নেই বলে জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ার বলেন, মৃত কর্মীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের নমুনায় বিপজ্জনক সংক্রামক জীবাণু শনাক্ত হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   তবে শিপিলোভার নিজের নমুনায় প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল কি না কিংবা তার ক্ষেত্রে প্লেগকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবি ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিল্যাড জানিয়েছে, কয়েকটি রুশ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রকাশিত খবর পরে আর দেখা যায়নি। তবে ওই প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের ৬০ জনের বেশি কর্মীকেও কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে রাখা হয়।   ইরকুতস্কের কয়েকটি হাসপাতাল এবং মাতৃসেবা প্রতিষ্ঠানেও বাড়তি স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু হয়েছে। দ্য মস্কো টাইমস জানিয়েছে, একটি মাতৃসেবা কেন্দ্রে রোগীদের সম্ভাব্য প্লেগ সংস্পর্শ নিয়ে প্রশ্নপত্র পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   রসপোত্রেবনাদজর মঙ্গলবার ইরকুতস্ক অঞ্চলে কঠোর স্যানিটারি বিধিনিষেধ জারির খবরও অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দাবি সত্য নয় এবং অঞ্চলের মহামারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   ঘটনার পর প্রতিবেশী কয়েকটি দেশও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে। কিরগিজস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্তের স্যানিটারি ও কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের পাশাপাশি যানবাহন ও পণ্য পরিবহনেও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। কাজাখস্তানও রাশিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।   প্লেগ ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এর নিউমোনিক ধরন ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং দ্রুত চিকিৎসা না হলে গুরুতর হতে পারে। তবে আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হলে রোগটির চিকিৎসা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিউমোনিক প্লেগ সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং সংক্রমিত শ্বাসতন্ত্রের ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।   বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্কে প্লেগের প্রাদুর্ভাব বা দ্বিতীয় প্লেগজনিত মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। ফলে দ্বিতীয় মৃত্যুর দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উভয়ই এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:৪০
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে।   সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে।   তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ।   সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে।   তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো।   তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে।   সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।   এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:২০
ফোর্ট হুড কা ণ্ডে নিদাল হাসানের সাজা কার্যকরের অনুমোদন
ফোর্ট হুডের আলোচিত হা ম লা, ফা য়া রিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ডে অনুমোদন ট্রাম্পের

২০০৯ সালের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হা ম লা চালিয়ে ১৩ জনকে হ ত্যা র দায়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড পাওয়া সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের সাজা ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এখন সাজা কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও তাৎক্ষণিকভাবে সাজা কার্যকর হচ্ছে না।   নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং মেজর পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গু লি চালান। এতে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নি হ ত হন। আ হ ত হন আরও ৩২ জন। ঘটনাস্থলে পুলিশের গু লিতে হাসানও আ হ ত হন এবং পরে আংশিকভাবে প ক্ষা ঘা তগ্রস্ত হয়ে পড়েন।   ২০১৩ সালে সামরিক আদালতের জুরি তাকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা ও হ ত্যা চেষ্টার মোট ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এবং হা ম লার দায় অস্বীকার করেননি।   আদালতে হাসান বলেছিলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন ঠেকানো এবং বিদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ করতেই তিনি হা ম লা চালিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্য আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।   পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ড ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের সুপারিশ করেন এবং ট্রাম্প তা অনুমোদন করেন।   মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর অত্যন্ত বিরল। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে সেনাসদস্য জন বেনেটের সাজা কার্যকর করেছিল। তাকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়। আর সামরিক ফা য়া রিং স্কোয়াডে সর্বশেষ পরিচিত সাজা কার্যকরের ঘটনা ঘটে ১৯৪৫ সালে।   ট্রাম্পের অনুমোদনের পরও হাসানের সামনে আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে। সামরিক মৃত্যুদণ্ডের মামলায় পরবর্তী আইনি আবেদন এবং ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। ফলে সাজা কার্যকরের সময়সূচি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করতে পারে।   বর্তমানে হাসান কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থের সামরিক কারাগারে রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সামরিক মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা চারজন বন্দির একজন।   মার্কিন আর্মির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ৬০ দিনের আগে সাজা কার্যকর করা যাবে না। সাধারণভাবে ১৫০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার কাঠামো রয়েছে। তবে আদালতে নতুন আবেদন হলে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।   হাসানের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর একটি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার ১৬ বছর পর ট্রাম্পের অনুমোদনে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর থাকবে সাজা কার্যকরের দিন-স্থান নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য নতুন আইনি পদক্ষেপের দিকে।   সাজা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর কোনো মার্কিন সেনাসদস্যের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:১০
ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাবনা
খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর বড় সুযোগ দেখছে বিশ্বব্যাংক

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিকে একত্র করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোতে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে সহায়তার অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা আরও নির্দিষ্টভাবে দরিদ্র এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি।   বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগের গতি এখন অনেকটাই কমে গেছে। রপ্তানিতেও আগের গতি নেই। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণ বিতরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম থাকায় বড় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   তবে এসব চাপের মধ্যেও দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকায় এই স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।   তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই এবং এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।   ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয়ের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা রাজস্ব ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।   বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে।   বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। সীমিত সরকারি অর্থ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, সে জন্য আরও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।   এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে কারা প্রকৃতভাবে সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে থাকা ঘাটতি কমানো সহজ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।   ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর পরিপূরক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।   বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এ বছর এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিকূলতার কারণে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।   দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে এবং তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করতে প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।   বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন থেকে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দক্ষতা, অবকাঠামো এবং সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। যদিও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এ অঞ্চলে এআই ব্যবহারের হার এখনও কম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নতুন বাজার ও ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে সরকারগুলোও জনসেবা উন্নত করা এবং সম্মুখসারির কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে।   এর উদাহরণ হিসেবে ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশে এআইয়ের সহায়তায় উন্নত রেটিনাল স্ক্রিনিংয়ের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।   বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে বলেন, এআই গ্রহণের মাধ্যমে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির পরিধি ও সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মান উন্নত করার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে এআই ব্যবহারের পথে থাকা মৌলিক ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো আগে দূর করতে হবে।   সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং অন্যদিকে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন প্রকৃত প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৪৫
মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা
মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে একটি নির্বাচনী সমাবেশে এল-সাইদের সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি। মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে দলটির প্রার্থীদের প্রতি বড় ধরনের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবরের ওই সমাবেশে ওবামার সঙ্গে থাকবেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতা। অনুষ্ঠানটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট দেওয়ার শুরুর দিনেই হওয়ার কথা রয়েছে।   এল-সায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামার অংশগ্রহণের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবর শনিবার ডেট্রয়েটে প্রচারে তার সঙ্গে থাকবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় পরে জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকলেও এটি উন্মুক্ত আসন। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লড়ছেন এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। নভেম্বরের নির্বাচনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এল-সায়েদ আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মডারেট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে খুব অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলটির প্রার্থী হন। প্রাইমারি শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টা করছেন। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসও ডেট্রয়েটে এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।   ওবামার অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মিশিগানের সিনেট লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব কম দেখা গেছে। ফক্স নিউজের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জরিপটিতে ১ হাজার ২৮ জন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং সম্ভাব্য ভোটারদের ক্ষেত্রে নমুনা ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।   মারিস্ট ইউনিভার্সিটির আরেক জরিপে এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এই জরিপ ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ২৩৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। আবার ট্রাফালগার গ্রুপের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের জরিপে এল-সায়েদ ৪৭ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পান।   তবে জরিপের ফলাফলকে নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখা যায় না। বিভিন্ন জরিপে নমুনা, ভোটার বাছাই এবং পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য শুধু নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থানের একটি চিত্র তুলে ধরে।   এল-সায়েদের প্রচারে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সুযোগ এমন মানুষের দিকে বেশি যাচ্ছে, যারা ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে সফল। তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।   অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার সঙ্গে বামঘেঁষা অনলাইন ব্যক্তিত্ব হাসান পাইকার সম্পর্ককে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এল-সায়েদ পাইকারকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিশাল অনুসারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর আগ্রহের কথাও বলেছেন। রজার্সের প্রচারে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।   এল-সায়েদ প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোরও চেষ্টা করছেন। তার প্রচারে দলের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত নেতাদের অংশগ্রহণ সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। ওবামার পাশাপাশি কমালা হ্যারিসের আগের প্রচারও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।   ওবামার জন্যও মিশিগান অপরিচিত রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডেট্রয়েটে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এবার ২৪ অক্টোবরের সমাবেশটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট শুরুর সঙ্গে মিলছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে।   এদিকে মিশিগানে গভর্নর নির্বাচনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন রিপাবলিকান প্রার্থী জন জেমসের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২৪ অক্টোবরের সমাবেশে বেনসনের উপস্থিতি থাকায় ওবামার সফর শুধু সিনেট নয়, অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।   নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওবামা আরও বেশি নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেট ও গভর্নর প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন রেকর্ড করেছেন এবং সামনে আরও প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৩৫