সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। ছবি: সংগৃহীত
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অগ্রগতির অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানাম সাঈদ। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি বক্তব্য শেয়ার করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, রোবটকে কেন খনি, তেলক্ষেত্র, বিষাক্ত রাসায়নিকের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কিংবা সমুদ্র থেকে প্লাস্টিক পরিষ্কারে আরও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে না, অথচ তারা ইমেইল লেখা ও পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরির মতো কাজ করছে।   সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যে মূলত প্রযুক্তি উন্নয়নের বর্তমান দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মানুষের জন্য বিপজ্জনক ও কঠিন কাজগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার পরিবর্তে কেন এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে, যেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং আগে থেকেই মানুষ সহজে করতে পারছে।   তবে বক্তব্যটি সানাম সাঈদের নিজের লেখা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কথাগুলো শেয়ার করেছেন। ফলে এটিকে তার সরাসরি উদ্ধৃতি বা নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের বদলে, প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে একটি মতামতের সঙ্গে তার একাত্মতা বা আগ্রহের প্রকাশ হিসেবেই দেখা নিরাপদ।   সানামের শেয়ার করা এই প্রশ্নটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইমেইল লেখা, নথির খসড়া তৈরি, প্রেজেন্টেশন বানানো, ছবি তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অফিসকেন্দ্রিক কাজে এআই টুলের ব্যবহার এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এআই মানুষের সৃজনশীল ও প্রশাসনিক কাজ প্রতিস্থাপন করবে কি না, সেই আলোচনা বিশ্বজুড়েই চলছে।   তবে বাস্তবতা হলো, রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ইতোমধ্যেই খনি ও তেল-গ্যাস খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিন্টো পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন খনিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাক, ড্রিল ও চালকবিহীন ভারী ট্রেন ব্যবহার করছে। তাদের গুদাই-দারি খনিতে রোবোটিক নমুনা পরীক্ষাগারও রয়েছে এবং অনেক যন্ত্রপাতি দূর থেকে পরিচালনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রেখে নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়ানো।   তেল ও গ্যাস খাতেও রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট দীর্ঘদিন ধরে গভীর সমুদ্রের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শেল জানিয়েছে, তাদের গভীর সমুদ্রের কার্যক্রমে সাবসি সিস্টেম ও রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি অফশোর তেল ট্যাংক পরিদর্শনেও রোবট ব্যবহার করেছে, যাতে মানুষের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ার প্রয়োজন কমে।   সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলাতেও এআই ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রকল্প রয়েছে। দ্য ওশান ক্লিনআপ নামের সংস্থা জাহাজে বসানো এআইচালিত ক্যামেরার মাধ্যমে সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক শনাক্ত ও মানচিত্র তৈরি করছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্লাস্টিক জমার এলাকা আরও দ্রুত শনাক্ত করার উদ্যোগ নেয়। তাদের ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তির কিছু সংস্করণ নদী থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।   এ কারণে সানাম সাঈদের শেয়ার করা বক্তব্যটি প্রযুক্তির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে একটি বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরলেও, রোবট ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিবেশগত কাজে একেবারেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং এসব ক্ষেত্রে রোবট ও এআইয়ের ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে জেনারেটিভ এআইয়ের দ্রুত বিস্তার এবং অফিসকেন্দ্রিক কাজে এর ব্যাপক উপস্থিতি সেই প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে এনেছে।   সানাম সাঈদ পাকিস্তানের পরিচিত অভিনেত্রী, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সমসাময়িক বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া বা বিভিন্ন বক্তব্য শেয়ার করতেও তাকে দেখা যায়। এবার এআই ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তার শেয়ার করা পোস্টও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:২০
ফোর্ট হুড কা ণ্ডে নিদাল হাসানের সাজা কার্যকরের অনুমোদন
ফোর্ট হুডের আলোচিত হা ম লা, ফা য়া রিং স্কোয়াডে নিদাল হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ডে অনুমোদন ট্রাম্পের

২০০৯ সালের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হা ম লা চালিয়ে ১৩ জনকে হ ত্যা র দায়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড পাওয়া সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের সাজা ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এখন সাজা কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও তাৎক্ষণিকভাবে সাজা কার্যকর হচ্ছে না।   নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং মেজর পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গু লি চালান। এতে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নি হ ত হন। আ হ ত হন আরও ৩২ জন। ঘটনাস্থলে পুলিশের গু লিতে হাসানও আ হ ত হন এবং পরে আংশিকভাবে প ক্ষা ঘা তগ্রস্ত হয়ে পড়েন।   ২০১৩ সালে সামরিক আদালতের জুরি তাকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা ও হ ত্যা চেষ্টার মোট ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এবং হা ম লার দায় অস্বীকার করেননি।   আদালতে হাসান বলেছিলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন ঠেকানো এবং বিদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ করতেই তিনি হা ম লা চালিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্য আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।   পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ড ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের সুপারিশ করেন এবং ট্রাম্প তা অনুমোদন করেন।   মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর অত্যন্ত বিরল। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে সেনাসদস্য জন বেনেটের সাজা কার্যকর করেছিল। তাকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়। আর সামরিক ফা য়া রিং স্কোয়াডে সর্বশেষ পরিচিত সাজা কার্যকরের ঘটনা ঘটে ১৯৪৫ সালে।   ট্রাম্পের অনুমোদনের পরও হাসানের সামনে আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে। সামরিক মৃত্যুদণ্ডের মামলায় পরবর্তী আইনি আবেদন এবং ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। ফলে সাজা কার্যকরের সময়সূচি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করতে পারে।   বর্তমানে হাসান কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থের সামরিক কারাগারে রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সামরিক মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা চারজন বন্দির একজন।   মার্কিন আর্মির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ৬০ দিনের আগে সাজা কার্যকর করা যাবে না। সাধারণভাবে ১৫০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার কাঠামো রয়েছে। তবে আদালতে নতুন আবেদন হলে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে।   হাসানের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর একটি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার ১৬ বছর পর ট্রাম্পের অনুমোদনে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর থাকবে সাজা কার্যকরের দিন-স্থান নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য নতুন আইনি পদক্ষেপের দিকে।   সাজা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর কোনো মার্কিন সেনাসদস্যের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৯:১০
ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর সম্ভাবনা
খাদ্য ভর্তুকি ও নগদ সহায়তার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমানোর বড় সুযোগ দেখছে বিশ্বব্যাংক

একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচিকে একত্র করা, বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচিগুলোতে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে দেশে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের নতুন ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, সীমিত সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে সহায়তার অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা আরও নির্দিষ্টভাবে দরিদ্র এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি।   বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগের গতি এখন অনেকটাই কমে গেছে। রপ্তানিতেও আগের গতি নেই। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমছে এবং ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়ছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণ বিতরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি রাজস্ব আদায় কম থাকায় বড় সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   তবে এসব চাপের মধ্যেও দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকায় এই স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসম বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।   তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারও দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। তার মতে, এ ক্ষেত্রে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই এবং এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রায় থমকে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক নারী চাকরি হারিয়েছেন।   ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।   রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বব্যাপী অন্যতম সর্বনিম্ন। এর ফলে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে সরকারের ব্যয়ের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থাকা রাজস্ব ঘাটতি ২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।   বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতার বাইরে রয়েছে।   বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে উপকারভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি আরও উন্নত করা গেলে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে এসব কর্মসূচির কার্যকারিতা অনেক বাড়ানো সম্ভব। সীমিত সরকারি অর্থ যেন প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, সে জন্য আরও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।   এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে কারা প্রকৃতভাবে সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে থাকা ঘাটতি কমানো সহজ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।   ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক প্রতিবেদন ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’-এর পরিপূরক হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের পাশাপাশি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাবনা এবং নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।   বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এ বছর এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিকূলতার কারণে ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।   দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহানেস জুট বলেন, বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া উল্লেখযোগ্য স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে এবং তরুণদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করতে প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।   বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন থেকে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য দক্ষতা, অবকাঠামো এবং সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরিতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। যদিও উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এ অঞ্চলে এআই ব্যবহারের হার এখনও কম, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নতুন বাজার ও ব্যবসার সুযোগ তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। একইভাবে সরকারগুলোও জনসেবা উন্নত করা এবং সম্মুখসারির কর্মীদের সক্ষমতা বাড়াতে এআই ব্যবহার করছে।   এর উদাহরণ হিসেবে ভারতে ক্ষুদ্র কৃষকদের কাছে এআইভিত্তিক নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া এবং বাংলাদেশে এআইয়ের সহায়তায় উন্নত রেটিনাল স্ক্রিনিংয়ের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।   বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসোর্গে বলেন, এআই গ্রহণের মাধ্যমে শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানির পরিধি ও সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনসেবার মান উন্নত করার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে এআই ব্যবহারের পথে থাকা মৌলিক ও অবকাঠামোগত ঘাটতিগুলো আগে দূর করতে হবে।   সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক একদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং অন্যদিকে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই সহায়তা যেন প্রকৃত প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৪৫
মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা
মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে একটি নির্বাচনী সমাবেশে এল-সাইদের সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি। মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে দলটির প্রার্থীদের প্রতি বড় ধরনের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবরের ওই সমাবেশে ওবামার সঙ্গে থাকবেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতা। অনুষ্ঠানটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট দেওয়ার শুরুর দিনেই হওয়ার কথা রয়েছে।   এল-সায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামার অংশগ্রহণের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবর শনিবার ডেট্রয়েটে প্রচারে তার সঙ্গে থাকবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় পরে জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকলেও এটি উন্মুক্ত আসন। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লড়ছেন এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। নভেম্বরের নির্বাচনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এল-সায়েদ আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মডারেট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে খুব অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলটির প্রার্থী হন। প্রাইমারি শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টা করছেন। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসও ডেট্রয়েটে এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।   ওবামার অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মিশিগানের সিনেট লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব কম দেখা গেছে। ফক্স নিউজের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জরিপটিতে ১ হাজার ২৮ জন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং সম্ভাব্য ভোটারদের ক্ষেত্রে নমুনা ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।   মারিস্ট ইউনিভার্সিটির আরেক জরিপে এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এই জরিপ ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ২৩৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। আবার ট্রাফালগার গ্রুপের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের জরিপে এল-সায়েদ ৪৭ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পান।   তবে জরিপের ফলাফলকে নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখা যায় না। বিভিন্ন জরিপে নমুনা, ভোটার বাছাই এবং পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য শুধু নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থানের একটি চিত্র তুলে ধরে।   এল-সায়েদের প্রচারে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সুযোগ এমন মানুষের দিকে বেশি যাচ্ছে, যারা ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে সফল। তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।   অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার সঙ্গে বামঘেঁষা অনলাইন ব্যক্তিত্ব হাসান পাইকার সম্পর্ককে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এল-সায়েদ পাইকারকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিশাল অনুসারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর আগ্রহের কথাও বলেছেন। রজার্সের প্রচারে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।   এল-সায়েদ প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোরও চেষ্টা করছেন। তার প্রচারে দলের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত নেতাদের অংশগ্রহণ সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। ওবামার পাশাপাশি কমালা হ্যারিসের আগের প্রচারও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।   ওবামার জন্যও মিশিগান অপরিচিত রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডেট্রয়েটে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এবার ২৪ অক্টোবরের সমাবেশটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট শুরুর সঙ্গে মিলছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে।   এদিকে মিশিগানে গভর্নর নির্বাচনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন রিপাবলিকান প্রার্থী জন জেমসের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২৪ অক্টোবরের সমাবেশে বেনসনের উপস্থিতি থাকায় ওবামার সফর শুধু সিনেট নয়, অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।   নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওবামা আরও বেশি নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেট ও গভর্নর প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন রেকর্ড করেছেন এবং সামনে আরও প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৩৫
টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ
টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ, আবেদন করতে পারবেন কৃষিবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটিতে ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারের জন্য পিএইচডি পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে এই গবেষণা সহকারী পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থী টেকসই ও অর্গানিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার মূল বিষয় হবে অর্গানিক তরমুজ উৎপাদন ব্যবস্থায় অ্যানেরোবিক সয়েল ডিসইনফেস্টেশন বা অক্সিজেন সীমিত করে মাটিতে রোগজীবাণু ও আগাছা নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি। একই সঙ্গে বায়োডিগ্রেডেবল মালচ ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পুষ্টিচক্র, মাটির জৈবিক কার্যক্রম, আগাছার উদ্ভব ও দমন, মাটির স্বাস্থ্য এবং ফসলের উৎপাদনশীলতায় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে গবেষণা করা হবে।   এই গবেষণায় মাঠপর্যায়ের কাজের পাশাপাশি ল্যাবরেটরিভিত্তিক গবেষণাও থাকবে। ফলে আগাছাবিজ্ঞান, মাটির উর্বরতা, মাটির জীববিজ্ঞান, টেকসই কৃষি এবং অর্গানিক ফসল উৎপাদনের একাধিক ক্ষেত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের মাঠপর্যায়ের গবেষণা, মাটি ও উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ, ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   আবেদনকারীদের এগ্রোনমি, উইড সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স, হর্টিকালচার, ক্রপ সায়েন্স অথবা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।   পদটি টেক্সাসের লাবক শহরে অবস্থিত টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স বিভাগে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর গবেষণা কার্যক্রম ২০২৭ সালের স্প্রিং সেমিস্টারে শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স পিএইচডি প্রোগ্রামের ২০২৭ স্প্রিং সেমিস্টারের আবেদন সময়সীমা ১৫ অক্টোবর ২০২৬।   প্ল্যান্ট অ্যান্ড সয়েল সায়েন্সে পিএইচডি প্রোগ্রামে মোট ৭২ ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে স্নাতক ডিগ্রির পর ৬০ ক্রেডিট আওয়ার গ্র্যাজুয়েট কোর্সওয়ার্ক এবং ১২ ক্রেডিট আওয়ার গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভের জন্য নির্ধারিত। শিক্ষার্থীরা ক্রপ প্রোটেকশন, ক্রপ সায়েন্স, সয়েল সায়েন্স এবং ফাইবারস অ্যান্ড বায়োপলিমারসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়নের সুযোগ পান।   গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহীদের জীবনবৃত্তান্ত, অনানুষ্ঠানিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, গবেষণার আগ্রহ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং তিনজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনপত্র সরাসরি সংশ্লিষ্ট গবেষকের কাছে ইমেইলে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে।   প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পদটিকে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট মাসিক স্টাইপেন্ড, টিউশন ওয়েভার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তাই আবেদন করার আগে অর্থায়নের পূর্ণ শর্ত, সহকারী পদের মেয়াদ এবং টিউশন সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট গবেষক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের গবেষণা সহকারী পদ যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। তবে শুধু গবেষণা সহকারী পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামের একাডেমিক ভর্তি শর্তও পূরণ করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।   বিশেষ করে যারা এগ্রোনমি, সয়েল সায়েন্স, ক্রপ সায়েন্স, হর্টিকালচার বা আগাছাবিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন এবং টেকসই কৃষি, অর্গানিক উৎপাদন ব্যবস্থা বা মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী, তাদের জন্য এই সুযোগটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবেদনকারীদের জীবনবৃত্তান্ত ও গবেষণার আগ্রহের বিবরণ প্রস্তুতের সময় পূর্বের গবেষণার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ, ল্যাবরেটরি দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৫৩
এআই অনুসন্ধান ঘিরে বেঙ্গালুরুর চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কাণ্ড
লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হ ত্যা র ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ হ ত্যা কাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে আ ক্র ম ণ ও অক্ষম করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তার ল্যাপটপের অনুসন্ধান ইতিহাস পরীক্ষা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কে আর পুরম এলাকার সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে। নি হ তরা হলেন কেনেথের লিভ ইন পার্টনার শ্বেতা সোমাসুন্দরের বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া। তিনজনই ধারালো অ স্ত্রের আঘাতে নি হ ত হন। মামলায় কেনেথ ও শ্বেতা দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।   ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বেঙ্গালুরু পুলিশ আদালতে ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনেথের ল্যাপটপে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অনুসন্ধানের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।   পুলিশের দাবি, কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করে কাউকে প্রা ণ ঘা তীভাবে আ ক্র ম ণ করা, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন করা, একাধিক ব্যক্তিকে অক্ষম করা এবং হা ম লার পরিস্থিতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ইতিহাসে ব্যবহৃত প্রা ণ ঘা তী অ স্ত্র সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী জানিয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার সময় কেনেথের ল্যাপটপে থাকা গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রশ্নগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা তাই এখন পর্যন্ত মূলত তার করা অনুসন্ধানগুলোকে ডিজিটাল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   এর আগে জুলাই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কেনেথ কয়েক মাস ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ ত্যা কাণ্ড এবং পরে প্রমাণ গোপন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে র ক্তের দাগ পরিষ্কার করা যায়, ম র দে হ সরানো বা গোপন করা যায় এবং পরিকল্পিত ক্লাউড কিচেনের জন্য তৈরি একটি চুল্লি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এমন বিষয়ও তার অনুসন্ধানে ছিল বলে তখন দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা।   মামলার সাম্প্রতিক চার্জশিটে আর্থিক বিরোধকেও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতা এক বছরের মধ্যে কেনেথের জন্য মোট প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসার জন্য ৩০ লাখ রুপির ঋণ, দুটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ছিল।   ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় একটি ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর পরই তার পরিবার বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়টি জানতে পারে। চার্জশিট অনুযায়ী, এ নিয়ে শ্বেতার বাবা-মা ও কেনেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সোমাসুন্দর কেনেথের কাছে অর্থের ব্যবহার এবং ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ, ২২ জুন রাতে সেই বিরোধের পর শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়ার ওপর হা ম লা চালান কেনেথ। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় সোমাসুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যদের কাছে ভেতরে তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হা ম লার কথা জানান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃ ত্যু হয়। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াকেও একাধিক ধারালো অ স্ত্রের আঘাতসহ পাওয়া যায় এবং তারা মা রা যান।   আদালতে রেকর্ড করা শ্বেতার বক্তব্যও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে তার বাবা-মা ও বোনকে আ ক্র ম ণের অভিযোগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেনেথ ও শ্বেতাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।   তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়ার মিশ্রণ থাকা একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সাইদুলু আদাভাত জানিয়েছেন, বোতলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাপটপে পাওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের এই আলামতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।   ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জুন পুদুচেরি থেকে শ্বেতাকে গ্রে প্তা র করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যে কেনেথকেও গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ করা হয়।   এই মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারীরা এখনো বলেননি যে কোনো এআই ব্যবস্থা হ ত্যা কাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বা অ প রা ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি অ প রা ধের আগে কী ধরনের তথ্য খুঁজেছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানগুলো পরিকল্পিত হ ত্যা র অভিযোগের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত।   বেঙ্গালুরু পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটের ভিত্তিতে এখন আদালতেই নির্ধারিত হবে ডিজিটাল অনুসন্ধান, আর্থিক বিরোধ, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:১৬
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে এটিঅ্যান্ডটি সংযোগ সমস্যা
আইফোনের নতুন মডেল কিনেছেন, কিন্তু শিগগিরই বদলাতে হতে পারে ফোন!

নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কিনেছেন এমন কিছু গ্রাহকের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত অল্পসংখ্যক আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে সেলুলার সংযোগ হারানোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, সমস্যার কারণে আক্রান্ত ফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ফোন কল করা, বার্তা পাঠানো কিংবা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগ্রস্ত ফোন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।   অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের একটি ছোট অংশকে প্রভাবিত করছে। অর্থাৎ নতুন এই মডেলের সব ফোনে এমন সমস্যা হচ্ছে না। এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা নির্দিষ্ট কিছু ডিভাইসেই মূলত সমস্যাটি দেখা গেছে। আক্রান্ত ফোনে কখনো পুরোপুরি, আবার কখনো বিরতিতে নেটওয়ার্ক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফোনের স্ক্রিনে ‘এসওএস’ দেখাতে পারে।   অ্যাপল ইতোমধ্যে সমস্যাটি ঠেকাতে সফটওয়্যার আপডেট দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ২৭.০.১ প্রকাশ করেছে এবং নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের এই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দিয়েছে। অ্যাপলের নিজস্ব আপডেট নোটে আইওএস ২৭.০.১-এর বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।   এর পাশাপাশি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের জন্য ক্যারিয়ার সেটিংস আপডেটও দেওয়া হয়েছে। অ্যাপল জানিয়েছে, এই আপডেট আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হবে। লক্ষ্য হলো নতুন করে যাতে একই সমস্যায় আরও ব্যবহারকারী আক্রান্ত না হন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফটওয়্যার আপডেট সব আক্রান্ত ফোনের সমস্যা সমাধান করবে—এমনটা অ্যাপল বলেনি। যেসব আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ইতোমধ্যে এই সমস্যার কারণে সেলুলার সেবা হারিয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে অ্যাপল নিশ্চিত করেছে।   এটিঅ্যান্ডটিও বিষয়টি স্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অ্যাপলের সঙ্গে কাজ করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   তাই আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো ফোনে সর্বশেষ সফটওয়্যার আপডেট ইনস্টল করা। স্বাভাবিকভাবে ফোনে নেটওয়ার্ক কাজ করলে আপডেট করে নেওয়াই অ্যাপলের পরামর্শ। আর যদি ফোনে এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্ক সংযোগের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথমে মোবাইল সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে এরপর অ্যাপল সাপোর্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।   নতুন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের বাজারমূল্যও কম নয়। এটিঅ্যান্ডটির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ২৫৬ গিগাবাইট সংস্করণের খুচরা মূল্য ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে শুরু। ৫১২ গিগাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৪৯৯ ডলার, ১ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার এবং ২ টেরাবাইট সংস্করণের দাম ২ হাজার ৪৯৯ ডলার।   আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬.৯ ইঞ্চির ডিসপ্লে, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবস্থা এবং এ২০ প্রো চিপ রয়েছে। অ্যাপলের নতুন প্রিমিয়াম আইফোন সিরিজের অংশ হিসেবে এটি বাজারে এসেছে। তবে নতুন ডিভাইসটির এই সংযোগ সমস্যা বিশেষ করে এটিঅ্যান্ডটি গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   অ্যাপলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সমস্যা নির্দিষ্ট সংখ্যক ফোনে সীমাবদ্ধ। তাই শুধু আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স ব্যবহার করছেন বলেই ফোন বদলাতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা নেই। বরং ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে কি না এবং সেটি এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যাগ্রস্ত ফোনের ক্ষেত্রে অ্যাপল বা এটিঅ্যান্ডটির মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৮:৮
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ক্যাটারিং ব্যবসার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন কিংবা অফিস পার্টিতে বিরিয়ানি, কাবাব, রোস্টসহ দেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। অনেকেই পরিচিতজনের অর্ডার নিয়ে নিজের বাসার রান্নাঘর থেকেই ছোট পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। তবে মাংস, মাছ বা এমন খাবার, যেগুলো নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেগুলো নিউইয়র্কের সাধারণ হোম প্রসেসর ছাড়ের আওতায় পড়ে না। ফলে নিয়মিত ক্যাটারিং ব্যবসা করতে চাইলে শুরুতেই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামো, অনুমোদিত রান্নাঘর, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমতি এবং করসংক্রান্ত নিয়ম বুঝে এগোতে হবে।   প্রথমেই ব্যবসার আইনি কাঠামো ঠিক করতে হবে। কেউ একক মালিকানা, অংশীদারি ব্যবসা বা এলএলসি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। এলএলসি করলে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে ‘আর্টিকেলস অব অর্গানাইজেশন’ জমা দিতে বর্তমানে ২০০ ডলার ফাইলিং ফি লাগে। নিউইয়র্কে অধিকাংশ নতুন এলএলসিকে প্রতিষ্ঠার পর নির্ধারিত দুটি সংবাদপত্রে টানা ছয় সপ্তাহ নোটিশ প্রকাশ করতে হয়। এরপর ১২০ দিনের মধ্যে ‘সার্টিফিকেট অব পাবলিকেশন’ জমা দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট জমার সরকারি ফি ৫০ ডলার। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের খরচ কাউন্টি ও পত্রিকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ খাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না।   এরপর ব্যবসার জন্য আইআরএস থেকে ‘ইআইএন’ নেওয়া যায়। কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক কাজে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু এলএলসি করলেই ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবসার কাঠামো, চুক্তি, বীমা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যাটারিং ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় খাবার তৈরি হবে। নিউইয়র্ক স্টেটের ‘হোম প্রসেসর এক্সেম্পশন’ নির্দিষ্ট কিছু অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির খাবারের জন্য প্রযোজ্য। কিছু বেকড পণ্য, ক্যান্ডি, গ্র্যানোলা বা এ ধরনের অনুমোদিত খাবার ঘরে তৈরি করা গেলেও মাংস, মাছ, পোলট্রি এবং যেসব খাবার ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় নেই।   ফলে বিরিয়ানি, মাংসের কারি, রোস্ট বা কাবাবের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাটারিং মেনু বাসার রান্নাঘরে তৈরি করে সাধারণ হোম প্রসেসর অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।   এ ধরনের ব্যবসার জন্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক বা শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করা একটি প্রচলিত পথ। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করেও খাবারের ব্যবসা চালাতে ‘ফুড সার্ভিস এস্টাবলিশমেন্ট পারমিট’ প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ লাভজনক খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পারমিটের বর্তমান বার্ষিক ফি ২৮০ ডলার। শেয়ার্ড কিচেনে জায়গা ভাড়া নিয়ে কাজ করা শেফ বা রাঁধুনির ক্ষেত্রেও ২৮০ ডলারের পারমিট ফি প্রযোজ্য বলে সিটির আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে।   একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ রয়েছে, পারমিট তখনও হাতে না এলেও। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্যবিধির অন্য শর্তগুলো উপেক্ষা করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধির সব শর্ত পূরণ করতে হবে। ২২ দিনের আগেই ব্যবসা চালু করতে চাইলে প্রি-অপারেটিং ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়।   খাবার তৈরির সময় একজন যোগ্য ‘ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট’ধারী ব্যক্তির উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন ‘ফুড প্রোটেকশন কোর্স’ বিনামূল্যে করা যায়। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে প্রায় ২৪ ডলার ফি রয়েছে এবং পরীক্ষা সরাসরি নির্ধারিত কেন্দ্রে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাবার তৈরির কার্যক্রম তদারকি করবেন, তাকে প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুতির কাজের ওপর নজর রাখতে হয়।   করসংক্রান্ত বিষয়ও শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসা করযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তাদের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স থেকে ‘সার্টিফিকেট অব অথরিটি’ নিতে হয়। সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করার অন্তত ২০ দিন আগে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়।   ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয় এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ খরচ করের আওতায় পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখানো সার্ভিস চার্জ বা অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও পুরো ক্যাটারিং বিলের করযোগ্য অংশ হতে পারে।   কর্মী থাকলে বীমার নিয়মও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি পারমিট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যবসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কার্স কমপেনসেশন’, ‘ডিসঅ্যাবিলিটি’ এবং ‘পেইড ফ্যামিলি লিভ’ কভারেজের প্রমাণ দিতে হয়। তবে সব ব্যবসার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে কভারেজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হলে নির্ধারিত এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারে। ফলে কর্মী নেই এমন ছোট ব্যবসা এবং কর্মীসহ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক হবে না।   অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের পরিকল্পনা থাকলে আলাদা লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট লিকার অথরিটির ‘অফ-প্রিমাইসেস ক্যাটারিং এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স’-এর বর্তমান ফি নিউইয়র্ক, কিংস, ব্রঙ্কস ও কুইন্স কাউন্টিতে ৩ হাজার ১০২ ডলার। এর মধ্যে ২০০ ডলারের ফাইলিং ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি ব্যবসার কার্যক্রম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।   কর্মী নিয়োগ করলে বেতনের নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। হসপিটালিটি শিল্পের যোগ্য খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নগদ মজুরি ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৫ ডলার টিপ ক্রেডিট মিলিয়ে ১৭ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পূরণ করা যায়। তবে টিপ পেলেই সব কর্মীর ক্ষেত্রে এই কম নগদ মজুরি প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।   আরেকটি পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্যিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। নিউইয়র্ক সিটির ‘কমার্শিয়াল ওয়েস্ট জোনস’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় চালু হচ্ছে। কোনো এলাকার বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সেখানকার ব্যবসাকে ওই জোনের অনুমোদিত বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুরো শহরের সব জোন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ব্যবসার ঠিকানা কোন জোনে পড়ছে এবং সেখানে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করতে সবার জন্য একই ধরনের নির্দিষ্ট মোট খরচ নেই। এলএলসি ফাইলিং, প্রকাশনা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, কিচেন ভাড়া, বীমা, বর্জ্য সংগ্রহ, কর্মী এবং প্রয়োজন হলে অ্যালকোহল লাইসেন্সের কারণে বাজেট দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক হাজার ডলারের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজকে সরকারি বাধ্যতামূলক খরচ হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে প্রতিটি খাত আলাদাভাবে হিসাব করাই নিরাপদ।   বাংলাদেশি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে ছোট পরিসরে শুরু করতে চাইলে আগে বৈধ কিচেন ও প্রয়োজনীয় পারমিট নিশ্চিত করে সীমিত মেনু দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। মেনুতে প্রতি ট্রে বা প্রতি ব্যক্তির দাম, সর্বনিম্ন অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ এবং কতজনের খাবার হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলে গ্রাহকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একই সঙ্গে প্রতিটি অর্ডারের চালান, বিক্রয় কর এবং ব্যবসার আয়-ব্যয়ের রেকর্ড নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসার রান্নাঘর থেকে পরিচিতজনকে খাবার দেওয়া আর নিয়মিত বাণিজ্যিক ক্যাটারিং পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। অর্ডার বড় হওয়ার আগেই ব্যবসার কাঠামো, অনুমোদিত কিচেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট, বিক্রয় করের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় বীমা গুছিয়ে নিলে পরে জরিমানা বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।   তবে নিয়ম ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৫৬
নিয়াদোল নিয়ুনের অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত
অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ ১৫০,০০০ লাখ ডলার সহায়তা চান শরণার্থী

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানানোর পর এবার ১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন আইনজীবী ও শরণার্থী অধিকারকর্মী নিয়াদোল নিয়ুন। নিজের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে তিনি অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।   গোফান্ডমিতে প্রকাশিত আবেদনে নিয়ুন জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে দীর্ঘ সময় আয় বন্ধ থাকায় তার মর্টগেজের বকেয়া, গৃহস্থালি বিল এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ জমে গেছে। এমনকি বর্তমানে গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের ব্যয় বহন করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সময়ে একটি পেশাগত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছেন তিনি, যার বিস্তারিত আপাতত প্রকাশ করতে চান না। এই প্রক্রিয়া তার ওপর আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলেও জানিয়েছেন নিয়ুন।   তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগ্রহ করা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৫০ হাজার ডলার মর্টগেজের বকেয়া, জমে থাকা গৃহস্থালি বিল, ইউটিলিটি এবং গাড়ির ইন্স্যুরেন্সসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা হবে। বাকি ১ লাখ ডলার ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খরচের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে চলমান পেশাগত পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার আইনি ব্যয়ে তা ব্যবহার করা হবে বলে তহবিল সংগ্রহের পাতায় জানানো হয়েছে।   নিয়ুনের এই তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে মূলত তার সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে। চলতি বছরের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করছেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালে মানবাধিকার ও শরণার্থী নারীদের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া মেডেল ফেরত দেওয়ার উদ্যোগও নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি জানান, পদক থেকে তার পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।   ১৯৮৭ সালে ইথিওপিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া নিয়ুনের পরিবার দ্বিতীয় সুদানি গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়েছিল। শৈশবের একটি বড় সময় তিনি কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে কাটান। ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসিত হন। পরে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন থেকে আইন বিষয়ে জুরিস ডক্টর সম্পন্ন করেন। ধীরে ধীরে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় মানবাধিকার, শরণার্থী অধিকার, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ইস্যুতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।   অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ুন প্রকাশ্যে দ্বিধা ও হতাশার কথা বলেছেন। সেপ্টেম্বরে এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি অস্ট্রেলিয়াকে ভালোবাসেন, কিন্তু দেশটিকে আর নিজের ঘর বলে অনুভব করছেন না। এসব বক্তব্যের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ও ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের পূর্ববর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো নিয়ুনের নিজস্ব দাবি এবং সেগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান রয়েছে। তাই অভিযোগগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে নয়, তার প্রকাশ্য বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে নিয়ুন ওয়ার্কসেফ ভিক্টোরিয়ার অর্থায়নে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব ঘটনার পর ২০২৫ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এসব অভিজ্ঞতার প্রভাব নিজের জীবন ও অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সিদ্ধান্তের ওপর পড়েছে বলে তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে এটিও বলেছেন যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পুরো অস্ট্রেলিয়াকে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং দেশটির মানুষ ও সুযোগের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা রয়েছে।   নিয়ুনের নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়টি এখনো সম্পন্ন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে কেউ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে চাইলে তাকে অন্য একটি দেশের নাগরিক হতে হয় অথবা আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হয়। নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট নবায়ন, বিদেশ থেকে ভিসা ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা এবং বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার কনস্যুলার সহায়তার মতো সুবিধা আর পান না।   অন্যদিকে, তহবিল সংগ্রহের আবেদনে নিয়ুন বলেছেন, তার লক্ষ্য এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পাওয়া এবং ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থেকে নিজের পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেওয়া। যারা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারবেন না, তাদেরও তহবিল সংগ্রহের তথ্য শেয়ার করে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার পক্ষে কাউকে যোগাযোগ বা মুখোমুখি না করতে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা যেন সম্মানজনক ও তার প্রকাশ্যে দেওয়া তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেই অনুরোধও করেছেন নিয়ুন।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:২৬
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে থাকা অদাবিকৃত টাকা খুঁজে পাওয়ার সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে টাকা পড়ে আছে অথচ জানেন না, খুঁজে দেখবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজের সময় কোনো পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ রেখে এসেছেন কি না, তা হয়তো আপনার জানা নেই। এমনকি বহু বছর আগে ঠিকানা বদলানোর কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও সেই অর্থ আপনার নামে থেকে যেতে পারে। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতি সাতজনের একজনের নামে কোনো না কোনো অদাবিকৃত সম্পদ থাকতে পারে।   অদাবিকৃত সম্পদ বলতে এমন টাকা বা সম্পদকে বোঝায়, যার মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার যোগাযোগ থাকে না। নির্দিষ্ট সময় ধরে মালিকের পক্ষ থেকে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রকৃত মালিক চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা ফেরত নেওয়ার সুযোগ পান।   এই সম্পদের ধরনও অনেক রকম হতে পারে। কারও পুরোনো চাকরির বেতন হয়তো নগদায়ন করা হয়নি। কারও ভুলে যাওয়া ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তির নামে থাকতে পারে শেয়ার, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সেবার জন্য জমা রাখা অর্থ, কর ফেরতের টাকা কিংবা বীমা পলিসি থেকে পাওনা অর্থ।   শুধু নগদ অর্থ নয়, নিরাপদ আমানত বাক্সে থাকা কিছু সম্পদও অদাবিকৃত সম্পদের আওতায় পড়তে পারে। ফলে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না খুঁজতে গেলে শুধু ব্যাংক হিসাবের কথা মাথায় রাখলেই হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর অদাবিকৃত সম্পদের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন রাজ্য ৪৪৯ কোটি ডলারের বেশি অদাবিকৃত সম্পদ মালিকদের ফেরত দিয়েছে। একই সময়ে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ অদাবিকৃত অবস্থায় রয়ে গেছে।   তবে কারও নামে অদাবিকৃত অর্থ থাকলেই সেখানে বড় অঙ্কের টাকা থাকবে—এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিমাণ খুব কম হতে পারে, আবার কারও নামে একাধিক সম্পদও থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো, অনেক মানুষ জানেনই না যে তাদের নামে কোনো অর্থ বা সম্পদ আটকে আছে।   বিশেষ করে যারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন বা ব্যবসা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে একাধিক জায়গায় খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ একজন ব্যক্তির নামে এক রাজ্যে থাকা সম্পদ অন্য রাজ্যের রেকর্ডে থাকতে পারে। তাই বর্তমানে যেখানে থাকছেন শুধু সেই রাজ্যে নয়, আগে যেসব রাজ্যে বসবাস বা কাজ করেছেন, সেসব জায়গাতেও খোঁজ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সরকারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ অদাবিকৃত অর্থ রাজ্য সরকারগুলোর কাছে থাকে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব অদাবিকৃত সম্পদ কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে নিজের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খোঁজ করা যায়।   এই অনুসন্ধানের জন্য সাধারণত কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না বিনা খরচে যাচাই করা যায়। কারও নামে সম্পদ পাওয়া গেলে সেটি দাবি করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।   তবে সব ধরনের পাওনা অর্থ একই জায়গায় পাওয়া যাবে না। পুরোনো বেতন, পেনশন, কর ফেরত, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের অর্থ, সঞ্চয়পত্র কিংবা বিনিয়োগের অর্থের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থায় খোঁজ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ আপনার নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না যাচাই করার সময় সম্পদের ধরন অনুযায়ী সঠিক সরকারি দপ্তর বা ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা জরুরি।   যারা যুক্তরাষ্ট্রে আগে বসবাস করেছেন কিন্তু পরে অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে চলে গেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঠিকানা পরিবর্তনের পর পুরোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই সম্পদ অদাবিকৃত হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে চলে যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে পুরোনো ঠিকানা, আগের কর্মস্থল, ব্যাংক হিসাব এবং বসবাসের ইতিহাস মনে করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সরকারি অদাবিকৃত সম্পদের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে দেখা যেতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে এমন সম্পদ থাকার সম্ভাবনাও থাকলে তারাও একইভাবে যাচাই করতে পারেন।   তবে অনলাইনে অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার সময় সতর্ক থাকাও জরুরি। সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আগে টাকা চায় কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে যাচাই ছাড়া সেখানে তথ্য দেওয়া উচিত নয়। অদাবিকৃত সম্পদ খোঁজার সরকারি ব্যবস্থা বিনা খরচে ব্যবহার করা যায়।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জন্য নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না একবার যাচাই করে দেখা অযৌক্তিক নয়। পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ বা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ ভুলে যাওয়া বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রাজ্যের কাছে পড়ে থাকতে পারে। আপনার নামে এমন কোনো অর্থ আছে কি না, তা সরকারি ব্যবস্থায় বিনা খরচে খুঁজে দেখা সম্ভব।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৩২
কেফিয়েহ পোশাকে ফিলিস্তিনি শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা বেলার
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ফ্যাশনের মাধ্যমে নিজের ফিলিস্তিনি শিকড়কে সামনে এনেছিলেন সুপারমডেল বেলা হাদিদ। ২০২৪ সালের ২৩ মে ফ্রান্সের কানে তাকে লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি একটি ভিনটেজ পোশাকে দেখা যায়। ফিলিস্তিনি পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত কেফিয়েহর এই ব্যবহার তার পোশাকটিকে কেবল একটি ফ্যাশন মুহূর্তে সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের দৃশ্যমান প্রকাশে পরিণত করেছিল।   ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলা হাদিদের পরা পোশাকটি ডিজাইনার মাইকেল অ্যান্ড হুশির তৈরি। পোশাকটির নকশা করা হয়েছিল ২০০১ সালে। লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাকটিতে ছিল সরু স্ট্র্যাপ এবং অসমান হেমলাইন। বহু বছর আগের এই ডিজাইন বেলা হাদিদের মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক ফ্যাশন আলোচনায় উঠে আসে।   দ্য গার্ডিয়ানও সে সময় জানায়, কান চলচ্চিত্র উৎসব চলাকালে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বেলাকে লাল ও সাদা কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাক পরে হাঁটতে দেখা যায়। পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ফ্যাশন সাময়িকীগুলো তার এই উপস্থিতিকে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করে।   কেফিয়েহ মধ্যপ্রাচ্যের একটি ঐতিহ্যবাহী মাথার কাপড় হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি ফিলিস্তিনি জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কালো সাদা এবং লাল সাদা নকশার কেফিয়েহ বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি সংস্কৃতি ও সংহতির সঙ্গে পরিচিত। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত কান উৎসবে কেফিয়েহ দিয়ে তৈরি পোশাকে বেলা হাদিদের উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক নজর কাড়ে।   বেলা হাদিদের বাবা মোহাম্মদ হাদিদ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। বেলাও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে নিজের ফিলিস্তিনি পারিবারিক শিকড়ের কথা বলেছেন। ভোগ তার ২০২৪ সালের এই পোশাককে সেই ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে। কানের মতো বিশ্বব্যাপী প্রচার পাওয়া আয়োজনে এমন একটি পোশাক পরার কারণে মুহূর্তটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংবাদে ছড়িয়ে পড়ে।   পোশাকটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর ভিনটেজ পরিচয়। নতুন করে তৈরি কোনো পোশাকের পরিবর্তে দুই দশকেরও বেশি পুরোনো মাইকেল অ্যান্ড হুশি ডিজাইন বেছে নিয়েছিলেন বেলা। ২০২৪ সালের কান উৎসবে তিনি আরও কয়েকটি আর্কাইভাল ও ভিনটেজ ডিজাইনের পোশাক পরেছিলেন। তবে কেফিয়েহ পোশাকটি তার ফিলিস্তিনি পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় সবচেয়ে আলোচিত লুকগুলোর একটি হয়ে ওঠে।   কান চলচ্চিত্র উৎসব বহু বছর ধরেই শুধু সিনেমা নয়, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনেরও অন্যতম বড় মঞ্চ। তারকাদের পোশাক প্রায়ই সামাজিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ব্যক্তিগত বার্তা বহন করে। বেলা হাদিদের ২০২৪ সালের কেফিয়েহ পোশাক সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, যেখানে ভিনটেজ ফ্যাশনের সঙ্গে মিলেছিল তার ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যের দৃশ্যমান প্রকাশ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:২০
সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা
ক্যান্সারের ১২ শতাংশের পেছনে এই সংক্রমণ, নতুন গবেষণায় চমকে দেওয়ার মতো তথ্য

বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের একটি বড় অংশের পেছনে রয়েছে এমন কিছু সংক্রমণ, যেগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। নতুন এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৩ লাখ নতুন ক্যান্সারের ঘটনা বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে হয়েছে। এই সংখ্যা ওই বছরে শনাক্ত হওয়া মোট নতুন ক্যান্সারের প্রায় ১২ শতাংশ। অর্থাৎ বিশ্বে প্রায় প্রতি আটটি নতুন ক্যান্সারের একটি সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত।   আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা বা আইএআরসির এই গবেষণাটি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দ্য ল্যানসেট অনকোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ২০২৪ সালের বৈশ্বিক ক্যান্সার পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে—এমন ১২টি সংক্রমণকারী এজেন্টের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণাটি আইএআরসির গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া ১২টি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি বা এইচ পাইলোরি, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, এপস্টেইন-বার ভাইরাস বা ইবিভি, কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস, শিস্টোসোমা হেমাটোবিয়াম, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস টাইপ-১, অপিসথোরকিস ভিভেরিনি, ক্লোনোরকিস সিনেনসিস, মার্কেল সেল পলিওমাভাইরাস এবং এইচআইভি।   তবে সব সংক্রমণের ভূমিকা সমান নয়। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে এইচ পাইলোরির। ২০২৪ সালে এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে আনুমানিক ৭ লাখ ৬০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে বলে হিসাব করা হয়েছে। এরপর রয়েছে এইচপিভি, যার সঙ্গে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার নতুন ক্যান্সারের ঘটনা সম্পর্কিত ছিল। হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার, এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ক্যান্সারের ঘটনা যুক্ত ছিল।   অর্থাৎ এই পাঁচটি সংক্রমণ—এইচ পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি, এপস্টেইন-বার ভাইরাস এবং হেপাটাইটিস সি—মিলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় পুরো বোঝার জন্য দায়ী। গবেষণার এই ফলাফল দেখাচ্ছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাপন ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিকে নজর দিলেই হবে না; কিছু নির্দিষ্ট সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় অঞ্চলভেদেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় বোঝা ছিল পূর্ব এশিয়ায়। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার এমন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে, যা বিশ্বব্যাপী সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের প্রায় ৪২ শতাংশ। পূর্ব এশিয়ায় এইচ পাইলোরি ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝায় বড় ভূমিকা রেখেছে।   সাব-সাহারান আফ্রিকাতেও সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি ছিল। সেখানে এইচপিভি ও কাপোসি সারকোমা-সংশ্লিষ্ট হারপিসভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এইচআইভিও ওই অঞ্চলের সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দেশেই সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের তিন-চতুর্থাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে। টিকা, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ সব জায়গায় সমান না হওয়ায় এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে বলে গবেষণার ফলাফলে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   এপস্টেইন-বার ভাইরাসের বিষয়টিও গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক হিসাব অনুযায়ী এটি চতুর্থ বৃহত্তম সংক্রমণকারী কারণ। গবেষণায় সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যান্সারের একটি অংশের সম্পর্কও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগে যেসব হিসাব করা হয়েছিল, নতুন গবেষণায় তার তুলনায় সংক্রমণ ও ক্যান্সারের সম্পর্কের আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফলাফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের একটি বড় অংশ প্রতিরোধের সুযোগ রয়েছে। এইচপিভি ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকা রয়েছে। এইচ পাইলোরি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং এইচআইভি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এইচপিভি-সম্পর্কিত কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিংও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে এসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। অর্থের অভাব, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য কাঠামোগত বাধার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় টিকা, পরীক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকরা বিশেষ করে এপস্টেইন-বার ভাইরাসের মতো সংক্রমণের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর টিকা নেই। তাই ভবিষ্যতে নতুন টিকা ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সংক্রমণজনিত ক্যান্সারের বৈশ্বিক বোঝা আরও কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তবে গবেষণার এই ফলাফলকে এমনভাবে দেখা ঠিক হবে না যে ক্যান্সারের বেশিরভাগ ঘটনাই সংক্রমণের কারণে হয়। গবেষণাটি নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংক্রমণের ভূমিকা বিশ্লেষণ করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্যান্সারের আরও অনেক কারণ ও ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। গবেষণার মূল বার্তা হলো, ক্যান্সার প্রতিরোধের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে পরিচিত ক্যান্সারসৃষ্টিকারী সংক্রমণগুলোকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৯
ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন সময়সূচি
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম

ভারতীয় ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য নতুন সময়সূচি ও নিয়ম জানিয়েছে ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার বা আইভ্যাক। নতুন ব্যবস্থায় পরবর্তী দুই সপ্তাহের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খোলা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে স্লটের প্রাপ্যতার ওপর পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে।   আইভ্যাকের বর্তমান অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার অথবা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে খোলা হয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনে স্লট চালু হলেও সব আবেদনকারীর জন্য সব সময় স্লট পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সংশ্লিষ্ট মিশন ও ভিসা ক্যাটাগরিতে কতগুলো স্লট রয়েছে, তার ওপর বুকিংয়ের সুযোগ নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বুকিং খোলা থাকবে। আর শনিবার বুকিং করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অবশ্যই স্লটের প্রাপ্যতা থাকতে হবে।   আইভ্যাক স্পষ্ট জানিয়েছে, যেদিন বুকিং করা হচ্ছে, সেদিনের জন্য কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে না। আবেদনকারীরা কেবল বুকিংয়ের সময় খোলা থাকা দুই সপ্তাহের চক্রের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনো তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন। কোন তারিখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, তা স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের আগে আবেদনকারীদের অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করে তৈরি করা ওয়েবফাইল প্রস্তুত রাখতে হবে। আইভ্যাকের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় আপলোড করা ওয়েবফাইল ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হলে গ্রহণ করা হবে না। বুকিংয়ের সময় প্রথমে প্রধান আবেদনকারীর ওয়েবফাইল আপলোড করতে হয়। প্রয়োজন হলে পরে অন্যান্য আবেদনকারীর ওয়েবফাইলও যুক্ত করা যায়।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় আইভ্যাক সেন্টার নির্বাচন, উপলভ্য তারিখ বাছাই এবং এরপর অর্থ পরিশোধের ধাপ রয়েছে। বুকিং সফলভাবে সম্পন্ন হলে আবেদনকারীকে ইনভয়েস ডাউনলোড করতে হবে। নির্ধারিত সেন্টার ও উপলভ্য তারিখ সিস্টেমে দেখানোর পর আবেদনকারী সেখান থেকে উপযুক্ত তারিখ নির্বাচন করতে পারবেন।   বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পর্যটন, চিকিৎসা, ব্যবসা, পারিবারিক, শিক্ষার্থী, কাজ, সাংবাদিক, ট্রানজিট, কূটনৈতিক ও অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে। তবে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া স্লটের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সফলভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর সেটি পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগ নেই। অন্য তারিখে আবেদন জমা দিতে চাইলে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। একইভাবে একজনের নামে বুক করা অ্যাপয়েন্টমেন্ট অন্য ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।   অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ে কোনো সমস্যা হলে কিছু ক্ষেত্রে আপলোড করা ওয়েবফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বুকিং করতে হলে প্রয়োজনীয় ওয়েবফাইল আবার আপলোড করতে হবে। আইভ্যাকের নির্দেশনায় স্লট না পাওয়া বা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার মতো বিষয়গুলোও বুকিং সম্পন্ন না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইভ্যাক আবেদনকারীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য এজেন্ট, দালাল, মধ্যস্থতাকারী বা অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শও দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা প্রতারণার অংশ হতে পারে।   তাই ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইভ্যাকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় প্রবেশ করে স্লটের প্রাপ্যতা যাচাই করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে নতুন স্লট খোলার বিষয়টি মাথায় রেখে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওয়েবফাইল আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে স্লট পাওয়া যাবে কি না, তা আগে থেকে নিশ্চিত নয়; এটি সংশ্লিষ্ট মিশন, ভিসা ক্যাটাগরি ও উপলভ্য স্লটের ওপর নির্ভর করবে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৫৮
স্কুলের ডিভাইস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মুখে শিক্ষক
স্কুলের ডিভাইসে পর্ণো গ্রাফি দেখার অভিযোগে শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ

ইংল্যান্ডে স্কুলের কাজের ইমেইল অ্যাকাউন্টে পর্ণো গ্রাফি ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ এবং কর্মঘণ্টায় স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে এসব ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঘটনায় এক শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   নিষিদ্ধ ওই শিক্ষকের নাম উইলিয়াম শ্যাপার। তার বয়স ৪৯ বছর। তিনি লন্ডনের এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুলে ২০০৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন। স্কুলের ইন্টারনেট মনিটরিং ব্যবস্থায় অনুপযুক্ত কিছু উপকরণ শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।   তদন্তে দেখা যায়, শ্যাপার স্কুলের কাজের ডিভাইস ব্যবহার করে একাধিকবার পর্ণো গ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এসব ঘটনার কয়েকটি ঘটেছিল স্কুল চলাকালীন কর্মঘণ্টায়।   তদন্তে আরও জানা যায়, তার স্কুলের Outlook 365 অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পর্ণো গ্রাফিক ও যৌ ন উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছিল।   বিষয়টি ধরা পড়ার পর শ্যাপার তার ব্রাউজারের ইন্টারনেট হিস্ট্রি ম্যানুয়ালি মুছে ফেলার চেষ্টা করেন। কীভাবে এসব তথ্য মুছে ফেলা যায়, সে বিষয়ে তিনি একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।   ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন শ্যাপার প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ধরনের কাজ করবেন না। তবে একই দিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তিনি আংশিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেন।   শ্যাপার দাবি করেছিলেন, তিনি এসব উপকরণ দেখার সময় কোনো শিশু তাকে দেখে ফেলেনি। পেশাগত আচরণবিষয়ক প্যানেলও এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেনি।   তবে প্যানেল মনে করে, কোনো শিক্ষার্থী সরাসরি বিষয়টি না দেখলেও স্কুলের ডিভাইস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পর্ণো গ্রাফি ধরনের উপকরণে প্রবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়।   প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্যাপার স্কুলের ডিভাইস ব্যবহার করে অত্যন্ত অনুপযুক্ত উপকরণে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অসত্য তথ্যও দিয়েছিলেন। এসব কারণে তার আচরণ শিক্ষক পেশার প্রত্যাশিত মানদণ্ড থেকে গুরুতরভাবে বিচ্যুত হয়েছে বলে মনে করে প্যানেল।   প্যানেল তার আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য পেশাগত আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, স্কুলের ডিভাইস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে এ ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   শ্যাপার প্যানেলের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে প্যানেল মনে করেছে, তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এই আচরণের সম্ভাব্য প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এলথাম কলেজ জুনিয়র স্কুল তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরে বিষয়টি ইংল্যান্ডের শিক্ষক পেশা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যায়।   পেশাগত আচরণবিষয়ক শুনানিতে শ্যাপারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হয়। সিদ্ধান্তে তাকে ইংল্যান্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষকতা থেকে নিষিদ্ধ করার কথা জানানো হয়।   এই নিষেধাজ্ঞার ফলে শ্যাপার ইংল্যান্ডের কোনো স্কুল, ষষ্ঠ-ফর্ম কলেজ, সংশ্লিষ্ট যুব আবাসন বা শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।   তবে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে এমন নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্যাপার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৮ থেকে তার বিরুদ্ধে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাতিলের আবেদন করতে পারবেন।   তবে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে।   পুরো ঘটনায় স্কুলের ডিভাইসের ব্যবহার, কর্মঘণ্টায় অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ এবং পরে তথ্য গোপনের চেষ্টাকে গুরুতর পেশাগত আচরণ হিসেবে বিবেচনা করেছে প্যানেল। এসব কারণেই শিক্ষক হিসেবে তার ওপর অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:৪২
মন্টিনেগ্রোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন সুযোগ
পর্যটন, নির্মাণ ও চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশ থেকে ৫০ হাজার কর্মী নেবে মন্টিনেগ্রো

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য গোরদান স্তোয়োভিচ। পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   ৫ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।   বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার, সংসদীয় কূটনীতি বাড়ানো, প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-মন্টিনেগ্রো পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।   দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং বিদ্যমান বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   মন্টিনেগ্রো একটি আমদানিনির্ভর দেশ উল্লেখ করে গোরদান স্তোয়োভিচ বলেন, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি বাড়াতে পারে তার দেশ।   বাংলাদেশে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক খাদ্য, পরিবেশবান্ধব পর্যটন, তৈরি পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো খাতে বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।   এর পরিপ্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে মন্টিনেগ্রোর বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান গোরদান স্তোয়োভিচ। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও যৌথ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।   বৈঠকে শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, মানব চলাচল ও অভিবাসন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসন বাড়াতে সরকার কাজ করছে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী, প্রকৌশলী, নির্মাণশ্রমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্টিনেগ্রোর পার্লামেন্ট সদস্য জানান, তার দেশে প্রতি বছর ৫০ হাজারের বেশি দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমবাজারের এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, নির্মাণ, আতিথেয়তা ও চিকিৎসাসেবার মতো খাতে জি-টু-জি চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব জানান।   বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে মন্টিনেগ্রোর অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারেন, সে জন্য ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শ্রমিকদের চলাচলসংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার ওপরও দুই পক্ষ গুরুত্ব দেয়।   এ ছাড়া বাল্টিক অঞ্চলসহ ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মন্টিনেগ্রোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা মনে করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মন্টিনেগ্রোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও জনশক্তি সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:২৫
চোখের যত্নে প্রতিদিনের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিনের যে ৭টি অভ্যাস নীরবে চোখের দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস ধীরে ধীরে চোখের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের বিভিন্ন সমস্যা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে। তবে কিছু অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখলে এসব সমস্যার অগ্রগতি ধীর করা এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় সহায়তা করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাঙ্গোন হেলথের চক্ষুবিদ্যার অধ্যাপক ড. ডগলাস লাজারো।   লাজারোর মতে, বংশগত কারণ ও বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের বড় কারণ হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষ করে সাতটি অভ্যাসের কথা উল্লেখ করেছেন।   এর মধ্যে প্রথমটি হলো রোদে বের হলে চোখের সুরক্ষা না নেওয়া। দীর্ঘ সময় অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়া ছানি পড়ার অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। লাজারো জানিয়েছেন, তাঁর নিজের চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় তিন দশক আগের তুলনায় এখন পাঁচ থেকে ১০ বছর আগেই ছানি দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শের সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উজ্জ্বল রোদে সানগ্লাস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   দ্বিতীয় অভ্যাস হলো কম আলোয় পড়াশোনা বা বই পড়া। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে চোখে চাপ বাড়তে পারে এবং কোনো কিছুর ওপর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে অল্প আলো থেকে উজ্জ্বল আলোতে বা উজ্জ্বল পরিবেশ থেকে অন্ধকারে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   তৃতীয় বিষয়টি হলো অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস। পুষ্টিকর খাবার ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে, আর এসব রোগ চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। লাজারোর মতে, উচ্চ কোলেস্টেরল ও উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যাকে আরও খারাপ করতে পারে। চোখের স্বাস্থ্যের সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা চলছে, যদিও এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।   চতুর্থ অভ্যাস হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার সমস্যা বা ড্রাই আই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। এতে চোখ লাল, চুলকানি ও অস্বস্তি হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাইরে থাকার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো। এতে চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ কর্নিয়া আর্দ্র রাখতে সহায়তা করতে পারে।   পঞ্চম অভ্যাস হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন লাজারো। এ ধরনের ঘুমের সমস্যার সঙ্গে গ্লুকোমা এবং চোখের কিছু রক্তনালিসংক্রান্ত সমস্যার বেশি উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। রাতে রক্তসঞ্চালনে ওঠানামার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া চোখের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁর মত।   ষষ্ঠ অভ্যাস হলো বারবার চোখ ঘষা। লাজারোর মতে, চোখ ঘষার অভ্যাস কেরাটোকোনাসের একটি ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেরাটোকোনাস এমন একটি চোখের সমস্যা, যেখানে কর্নিয়া ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতি হারিয়ে সামনে দিকে উঁচু হয়ে শঙ্কুর মতো আকৃতি নিতে পারে। চোখ ঘষার অভ্যাস সরাসরি এ রোগ সৃষ্টি করে কি না, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পুরোপুরি একমত না থাকলেও বারবার চোখ ঘষলে কর্নিয়ার আকৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই এ অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন লাজারো।   সপ্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত চোখ পরীক্ষা না করানো। গ্লুকোমা অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষা করানো রোগটি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম উপায় বলে জানিয়েছেন লাজারো। তিনি গ্লুকোমাকে এমন একটি রোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দৃষ্টিশক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এর প্রকোপও বাড়তে পারে।   লাজারো প্রাপ্তবয়স্কদের বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। শুধু কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা শুরু হওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে নিয়মিত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। মধ্যবয়সে প্রেসবায়োপিয়া নামের একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কাছের জিনিসে ফোকাস করতে সমস্যা হতে পারে এবং অনেকের পড়ার চশমার প্রয়োজন হয়।   তিনি আরও জানিয়েছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষার সময় চোখের পাতায় ত্বকের ক্যানসার ও টিউমারের মতো সমস্যাও পরীক্ষা করা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত রোদে থাকার সঙ্গে ছানি ও ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের পাশাপাশি চোখের পাতার কিছু ক্যানসারের সম্পর্কও থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই তা অপসারণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।   চোখের রোগের ক্ষেত্রে বয়স ও বংশগতির মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, রোদে চোখের সুরক্ষা, পর্যাপ্ত আলোয় পড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা এবং নিয়মিত পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো চোখের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৬:১২
দিল্লির পাঁচ তারকা হোটেল ঘিরে নারীর অভিযোগ
জরুরি প্রয়োজনে পাঁচ তারকা হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে না দেওয়ার লাইভে এসে নারীর ক্ষোভ

জরুরি প্রয়োজনে শৌচাগার ব্যবহার করতে চাইলেও দিল্লির একটি পাঁচ তারকা হোটেল তাঁকে অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি শাংরি-লা ইরোস নিউ দিল্লি হোটেলের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ঘটনাটি নিয়ে ভারতে আলোচনা শুরু হলেও ভিডিওতে হোটেলকর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন দেখা যায় না। ফলে ঠিক কী কারণে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ভিডিওটি ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। পোস্টদাতা প্রশ্ন তোলেন, হোটেলে থাকার জন্য নিবন্ধিত না হলেই জরুরি প্রয়োজনে কাউকে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না কেন। পোস্টে ভারতের ১৮৬৭ সালের সরাই আইনের কথাও উল্লেখ করা হয়।   তবে ওই আইনের উল্লেখ করে যে কেউ যেকোনো হোটেলের শৌচাগার ব্যবহার করতে পারেন, এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত হয় না। সরাই আইনের ৭(২) ধারায় ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ বলতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা তাঁর অনুমোদিত ব্যক্তির পরিদর্শনের জন্য প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ধারাটিতে সাধারণ মানুষের হোটেলের শৌচাগার ব্যবহারের সরাসরি অধিকার লেখা নেই। অন্য কোনো স্থানীয় নিয়ম এই হোটেলে প্রযোজ্য কি না, সেটিও এই ভিডিও থেকে নির্ধারণ করা যায় না।   অনলাইনে প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। অনেকে বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে শৌচাগার ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত। অন্যরা হোটেলের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলেছেন। কেউ কেউ নারীর বর্ণনা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন। তবে এসব মন্তব্য ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল, তার প্রমাণ নয়।   ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, তারা অভিযোগের বিষয়ে হোটেলের বক্তব্য চেয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব জানানো হয়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নারীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৫২
সাইবেরিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমেরিকা
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকর্মীর মৃ ত্যুর পর রাশিয়াকে সহায়তার কথা বলেছেন ট্রাম্প

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মৃ ত্যুর পর দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সমস্যায় পড়লে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ওই কর্মী প্লেগে আ ক্রা ন্ত হয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি রুশ কর্তৃপক্ষ।   ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী নিউমোনিয়ায় মৃ ত্যু বরণ করেছেন। তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়নি।   সাইবেরিয়ার ওই ঘটনার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে রাশিয়াকে সহায়তা করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টির ওপর নজর রাখছে। তবে ট্রাম্পের সহায়তার প্রস্তাবের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।   রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মীর মৃ ত্যুর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারের কাজের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাগারে জীবাণু ব্যবস্থাপনার সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তার পক্ষেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মাত্রা আবার মূল্যায়ন করা হবে।   রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্লেগ নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মীর মৃ ত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কর্মীর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।   তবে রুশ কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মীর মৃ ত্যু প্লেগ সংক্রমণের কারণে হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। একইভাবে গবেষণাগারে কোনো দুর্ঘটনা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, এমন দাবিরও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প ও রুবিও। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নও পরিবর্তন করা হতে পারে।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৪৩
নিউইয়র্কে ১০ হাজারের বেশি শিশুর জন্য চাইল্ড কেয়ার সহায়তা
নিউইয়র্কে অপেক্ষমাণ ১০ হাজারের বেশি শিশুকে চাইল্ড কেয়ার ভাউচার দেবে সিটি

নিউইয়র্ক সিটির চাইল্ড কেয়ার ভাউচারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। সোমবার, ৫ অক্টোবর সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী কয়েক সপ্তাহে তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে আবেদনের আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পর তারা বিনা খরচে শিশুর যত্নের জন্য ভাউচার পাবে। ফলে ঘোষণাটি এলেও সব শিশু এখনই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি বা সেবায় ভর্তি হয়নি।   চাইল্ড কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের এই ভাউচার ছয় সপ্তাহ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৯ বছর পর্যন্ত। ভাউচার পাওয়া পরিবার তাদের পছন্দের অংশগ্রহণকারী সেবাদাতার কাছে শিশুকে রাখতে পারবে। সিটি সম্প্রতি ভাউচার পাওয়া পরিবারগুলোর নিজস্ব খরচের অংশও তুলে দিয়েছে।   সিটির শিশু সেবা সংস্থা এসিএস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৩০০ শতাংশের নিচে আয়ের পরিবার, বাসস্থানহীন পরিবার এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পরিবারগুলোকে আগামী কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ পাঠানো হবে। তাই এখনো আমন্ত্রণ না পাওয়া পরিবারের আবেদন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ আসতে সময় লাগতে পারে।   মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্কে চাইল্ড কেয়ার খাতে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দের মধ্যে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার ভাউচার কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত। সিটি কর্তৃপক্ষ শিশুদের যত্নের সেবাদাতাদের খোঁজার মানচিত্রেও নতুন সুবিধা যুক্ত করেছে। সেখানে কোন লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ভাউচার গ্রহণ করে, তা পরিবারগুলো দেখতে পারবে।   অপেক্ষমাণ তালিকার সংকট অবশ্য এই ঘোষণায় পুরোপুরি কাটছে না। শিক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম চকবিটের হিসাবে, গত মাসে তালিকায় প্রায় ৩০ হাজার শিশু ছিল। প্রথম দফায় ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সহায়তা দেওয়া হলেও আরও প্রায় ২০ হাজার শিশু অপেক্ষায় থাকতে পারে। ‘টু-কে’ নামে দুই বছর বয়সীদের জন্য সিটির আলাদা বিনা খরচের কর্মসূচি রয়েছে; নতুন ভাউচার ঘোষণা সেই কর্মসূচি থেকে পৃথক।   সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের কার্যালয় ও চকবিট।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৩৪
উচ্চ ভবনে কাজের সময় ব্যবহৃত নিরাপত্তার দড়ি কেটে ফেললেন বৃদ্ধ
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী কমানোর বড় পরিকল্পনা বিরোধী জোটের, পরিবর্তনের প্রস্তাব শিক্ষার্থী ভিসায়

ক্ষমতায় গেলে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী লিবারেল ও ন্যাশনাল দলের জোট। মঙ্গলবার ঘোষিত প্রস্তাবে প্রথম দুই বছর বছরে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখে নামানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর একে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন কমানোর সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা বলে দাবি করেছেন।   নিট অভিবাসন বলতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে আসা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যার পার্থক্য বোঝায়। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আগের ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০। বিরোধী জোটের পরিকল্পনায় প্রথম দুই বছর তা বছরে ১ লাখ এবং চতুর্থ বছরে ১ লাখ ৬০ হাজারে রাখার কথা বলা হয়েছে।   জোটের প্রকাশিত নীতিপত্রে চার বছরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা অস্থায়ী ভিসাধারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। সংখ্যাটি চার বছরে দেওয়া নতুন ভিসা কমানোর হিসাব নয়। নীতিপত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি বছরে ২ লাখ ৪০ হাজারে সীমিত করা এবং টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা কর্মসূচি বন্ধের প্রস্তাবও আছে। তবে পিএইচডি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অধ্যয়নরত এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর জন্য পড়াশোনার পর থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।   মানবিক ভিসার বার্ষিক সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে ১০ হাজার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। একই সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে তারা। নীতিপত্র অনুযায়ী, এই পরিকল্পনায় পারিবারিক পুনর্মিলনের ভিসায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব নেই।   টেইলরের দাবি, অভিবাসীর সংখ্যা কমলে আবাসন, স্কুল, সড়ক ও অন্যান্য সেবার ওপর চাপ কমবে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য তাঁর জোটকে আগে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে বা কাজ করতে আগ্রহীদের জন্য মঙ্গলবারের ঘোষণায় ভিসার নিয়ম এখনই বদলে যায়নি।   সূত্র: বিরোধী জোটের নীতিপত্র, এএফপি ও রয়টার্স।

প্রকাশ : অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:২৫